কানাডায় এক্সপ্রেস এন্ট্রিতে বড় পরিবর্তন, বাড়তি সুবিধা পাবেন ভারতীয় পেশাজীবীরা
কানাডার নতুন অভিবাসন নিয়মে দেশটিতে কর্মরত দক্ষ ভারতীয় পেশাজীবীরা বড় ধরনের সুবিধা পেতে যাচ্ছেন। এক্সপ্রেস এন্ট্রি সিস্টেমে আনা নতুন পরিবর্তনের ফলে এখন থেকে উচ্চ বেতনের পেশায় কানাডীয় কাজের অভিজ্ঞতা এবং জব অফার বা চাকরির প্রস্তাবের ওপর অধিক গুরুত্ব দেওয়া হবে। গত ১৬ অক্টোবর কানাডার ইমিগ্রেশন, রিফিউজিস অ্যান্ড সিটিজেনশিপ (আইআরসিসি) ঘোষিত এই পরিবর্তনগুলো আগামী ৩ নভেম্বর থেকে কার্যকর হবে। দীর্ঘকাল ধরে স্থায়ী বসবাসের (পিআর) আবেদনকারীদের মধ্যে ভারতীয়রাই সংখ্যাগরিষ্ঠ, ফলে নতুন এই নিয়মের অধীনে তাদের সম্ভাবনা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিশেষ করে যারা সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং, তথ্যপ্রযুক্তি, স্বাস্থ্যসেবা এবং অন্যান্য ইঞ্জিনিয়ারিং খাতে কানাডায় কাজ করছেন, তারা এই নিয়মে অতিরিক্ত পয়েন্ট পাবেন। অন্যদিকে, কানাডার বাইরে বসবাসকারী যেসব আবেদনকারীর স্থানীয় কাজের অভিজ্ঞতা বা যোগ্য জব অফার নেই, তাদের জন্য প্রতিযোগিতা আরও কঠিন হয়ে উঠবে।
নতুন নিয়মের অধীনে, প্রার্থীরা উচ্চ বেতনের পেশায় যোগ্য কাজের অভিজ্ঞতার জন্য কানাডিয়ান কাজের মেয়াদভিত্তিক পয়েন্টের বাইরেও সর্বোচ্চ ৭০টি অতিরিক্ত পয়েন্ট অর্জন করতে পারবেন। আর একটি উচ্চ বেতনের যোগ্য জব অফার থাকলে মিলতে পারে সর্বোচ্চ ১০০ পয়েন্ট। তবে প্রার্থীরা কেবল যোগ্য কাজের অভিজ্ঞতা অথবা জব অফার—এই দুটির মধ্যে যেটিতে বেশি পয়েন্ট পাবেন, সেটিই তাদের স্কোরে যোগ হবে; একসঙ্গে দুটির পয়েন্ট দাবি করা যাবে না।
কানাডার অভিবাসন মন্ত্রী লেনা মেটলেজ ডিয়াব জানিয়েছেন, কানাডায় সফল হওয়ার জন্য সবচেয়ে যোগ্য দক্ষ নতুনদের বেছে নেওয়া, দেশীয় শ্রমশক্তিকে পরিপূরক করতে সক্ষম কর্মীদের আকৃষ্ট করা এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে সহায়তা করার লক্ষ্যেই এই পরিবর্তনগুলো আনা হয়েছে। স্বাস্থ্যসেবা, ইঞ্জিনিয়ারিং, প্রযুক্তি, শিক্ষা এবং দক্ষ ট্রেডসহ অন্যান্য বেশ কিছু খাতের নির্দিষ্ট পেশাগুলো এই নতুন নিয়মের আওতায় পড়বে। কোনো পেশার জাতীয় মধ্যম মজুরি যদি কানাডিয়ান শ্রমশক্তির মধ্যম মজুরির অন্তত ১.৩ গুণ হয়, তবে সেটি উচ্চ বেতনের পেশা হিসেবে বিবেচিত হবে।
কাজের অভিজ্ঞতার ক্ষেত্রে, যেসব প্রার্থী যোগ্য পেশায় অন্তত ১২ মাস বা ১ হাজার ৫৬০ ঘণ্টা কাজ করেছেন, তারা মজুরির হারের ওপর ভিত্তি করে ২০, ৪০ বা ৭০টি অতিরিক্ত পয়েন্ট পেতে পারেন। যে পেশাগুলোর মধ্যম মজুরি জাতীয় মধ্যম মজুরির অন্তত দ্বিগুণ, সেসব ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ বোনাস পয়েন্ট প্রযোজ্য হবে।
এর পাশাপাশি, প্রার্থীরা কানাডায় তাদের দক্ষ কাজের অভিজ্ঞতার মেয়াদের জন্যও পয়েন্ট পাওয়া অব্যাহত রাখবেন। যোগ্য অভিজ্ঞতাসম্পন্ন কোনো প্রার্থীর যদি সঙ্গী বা জীবনসঙ্গী না থাকে, তবে তিনি ৫ বছর বা তার বেশি কাজের জন্য সর্বোচ্চ ৮০ পয়েন্ট এবং সঙ্গী থাকলে সর্বোচ্চ ৭০ পয়েন্ট অর্জন করতে পারবেন।
অন্যদিকে, যোগ্য উচ্চ বেতনের পেশায় জব অফারের ক্ষেত্রে মজুরির স্তরের ওপর নির্ভর করে ৫০, ৭০ বা ১০০ পয়েন্ট যুক্ত হবে। যোগ্য বিবেচিত হওয়ার জন্য চাকরির প্রস্তাবটিকে অবশ্যই বেতনভুক্ত, পূর্ণকালীন এবং দক্ষ পেশায় নিরবচ্ছিন্ন হতে হবে। সেইসঙ্গে প্রার্থীর স্থায়ী বাসিন্দা হওয়ার পর কাজ অন্তত এক বছর চলবে বলে প্রত্যাশিত হতে হবে। অভিবাসন বিভাগ এই অফারের সত্যতা এবং নিয়োগকর্তার প্রতিশ্রুতি পূরণের সক্ষমতা যাচাই করবে।
এই পরিবর্তনের আরেকটি বড় দিক হলো, কমপ্রিহেনসিভ র্যাঙ্কিং সিস্টেমের (সিআরএস) অধীনে পয়েন্ট অর্জনের ক্ষেত্রে যোগ্য জব অফারের জন্য এখন থেকে আর লেবার মার্কেট ইমপ্যাক্ট অ্যাসেসমেন্ট (LMIA) বা এলএমআইএ-র প্রয়োজন হবে না। সাধারণত বিদেশি কর্মী নিয়োগের ফলে কানাডিয়ান শ্রমবাজারে কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না—এটি প্রমাণ করতে নিয়োগকর্তাদের এলএমআইএ সংগ্রহ করতে হয়।
আগামী ৩ নভেম্বর থেকে, যোগ্য জব অফারের জন্য সিআরএস পয়েন্ট পেতে কিংবা কানাডার ফেডারেল স্কিলড ওয়ার্কার প্রোগ্রাম এবং ফেডারেল স্কিলড ট্রেডস প্রোগ্রামের নির্দিষ্ট যোগ্যতা পূরণের জন্য এলএমআইএ নথির আর দরকার হবে না। তবে এর মানে এই নয় যে সব জব অফারই অতিরিক্ত পয়েন্টের যোগ্য হবে; কেবল যোগ্য উচ্চ বেতনের পেশার অফারগুলোই এই নতুন সিআরএস পয়েন্ট পাবে।
ইতিমধ্যে যাদের এক্সপ্রেস এন্ট্রি প্রোফাইল রয়েছে, নতুন নিয়মের অধীনে তাদের স্কোর স্বয়ংক্রিয়ভাবে পুনরায় হিসাব করা হবে। এই প্রক্রিয়ায় প্রায় দুই সপ্তাহ সময় লাগতে পারে এবং এই সময়ে ইনভাইটেশন রাউন্ড বা আমন্ত্রণ পর্ব স্থগিত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। যেসব প্রার্থী তাদের যোগ্য জব অফারের জন্য পয়েন্ট পেতে আগ্রহী, তাদেরকে আগামী ৩ নভেম্বরের আগেই নিজেদের প্রোফাইলে প্রয়োজনীয় তথ্য হালনাগাদ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আন্তর্জাতিক
View moreজার্মানির কোলন বন বিমানবন্দরে এক মেক্সিকান যাত্রীর স্যুটকেস থেকে অত্যন্ত অভিনব কায়দায় লুকিয়ে রাখা ৯২টি জীবন্ত সরীসৃপ উদ্ধার করেছেন শুল্ক কর্মকর্তারা। আপনার দেওয়া তথ্যে ৯২টি সাপ ও ৫৫টি টিকটিকির কথা বলা হলেও, আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন যাচাই করে দেখা গেছে স্যুটকেসটিতে মূলত ৩৭টি বিষধর সাপ এবং ৫৫টি টিকটিকিসহ সর্বমোট ৯২টি সরীসৃপ ছিল। ৪৫ বছর বয়সী অভিযুক্ত ওই ব্যক্তি পেশায় একজন অগ্নিনির্বাপক কর্মী এবং তিনি মেক্সিকো থেকে ইস্তাম্বুল হয়ে জার্মানিতে পৌঁছেছিলেন। বিমানবন্দরে তার আচরণ সন্দেহজনক মনে হলে তল্লাশি চালান কর্মকর্তারা। এ সময় মাদক পরীক্ষায় তার শরীরে কোকেনের উপস্থিতিও পাওয়া যায়। মাদক পরীক্ষায় পজিটিভ হওয়ার পর শুল্ক কর্মকর্তারা ওই যাত্রীর স্যুটকেস তল্লাশি করে রীতিমতো চমকে যান। সেখানে প্লাস্টিকের পাত্র, শ্যাম্পুর খালি বোতল, প্রসাধনীর কৌটা এবং মোজার ভাঁজে অত্যন্ত সুকৌশলে প্রাণীগুলোকে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। বিমানবন্দরের শুল্ক কার্যালয়ের এক মুখপাত্র জানান, দীর্ঘ কর্মজীবনে এমন অভিনব পন্থায় ভয়ংকর বন্যপ্রাণী পাচারের ঘটনা তারা আগে কখনো দেখেননি। ছোট পাত্রে অক্সিজেনের অভাবে এবং দীর্ঘ ভ্রমণের কারণে বেশ কয়েকটি প্রাণী মারা যায়। তবে জীবিত প্রাণীগুলোকে দ্রুত উদ্ধার করে নিরাপদ আশ্রয়ে পাঠিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে আটক ওই মেক্সিকান নাগরিক জানান, পরিচিত এক ব্রাজিলীয় ব্যক্তির অনুরোধে তিনি প্রাণীগুলোকে ইউরোপে নিয়ে আসছিলেন। তবে এমন গুরুতর অপরাধের কারণে জার্মান কর্তৃপক্ষ তাকে সে দেশে প্রবেশের অনুমতি দেয়নি। বন্যপ্রাণী চোরাচালান ও মাদক সেবনের দায়ে তাকে সরাসরি ‘নিরাপত্তাঝুঁকি’ হিসেবে চিহ্নিত করে ইস্তাম্বুলগামী একটি ফিরতি ফ্লাইটে জোরপূর্বক ফেরত পাঠানো হয়েছে।
কানাডায় এক্সপ্রেস এন্ট্রিতে বড় পরিবর্তন, বাড়তি সুবিধা পাবেন ভারতীয় পেশাজীবীরা
ইসরায়েলি বসতিস্থাপনকারীদের বর্বরোচিত হা মলায় গুরুতর আ হত মার্কিন সাংবাদিক
বিশ্বভ্রমণের স্বপ্ন এবার চাকরিতে বদলানোর সুযোগ, পারিশ্রমিক ১ কোটি ২৩ লাখ টাকা
তুরস্কের ঐতিহাসিক ভান দুর্গের চূড়ায় প্রতিদিন এক অন্যরকম দৃশ্যের অবতারণা করেন সিবগাতুল্লাহ বিলমেজ নামের এক অদম্য ইমাম। খাড়া ও দুর্গম পাহাড়ি পথ পাড়ি দিয়ে তিনি পৌঁছে যান উসমানীয় আমলের সুলাইমান খান মসজিদে। সেখানে আজান দেওয়া ও নামাজের ইমামতি করার পাশাপাশি তুরস্কসহ বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে আসা দর্শনার্থীদের সেবা দেওয়াই এই সাহসী তুর্কি ইমামের প্রতিদিনের মূল কাজ। গত পাঁচ মাস ধরে ঐতিহাসিক এই মসজিদটির ভারপ্রাপ্ত ইমাম হিসেবে অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করছেন সিবগাতুল্লাহ। আতাতুর্ক সাংস্কৃতিক উদ্যান থেকে শুরু করে পাথুরে দুর্গের চূড়ায় পৌঁছাতে প্রতিদিন তাঁকে প্রায় পাঁচ হাজার সিঁড়ি ভাঙতে হয়। ধর্মবিষয়ক অধিদপ্তর এবং স্থানীয় মুফতি কার্যালয়ের অধীনে কাজের পূর্ব অভিজ্ঞতা থাকা এই ইমাম তাঁর বর্তমান দায়িত্ব নিয়ে দারুণ সন্তুষ্ট। প্রতিদিন জোহরের আগেই পাহাড়ি পথ বেয়ে তিনি মসজিদে পৌঁছান এবং মাগরিব শেষে নিচে নেমে আসেন। তবে দুর্গম ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে এশা ও ফজরের ওয়াক্তে সেখানে সাধারণ মুসল্লিদের যাতায়াত সম্ভব হয় না বলে ওই দুই সময় জামাত অনুষ্ঠিত হয় না। ভান দুর্গের চূড়ায় অবস্থিত ঐতিহাসিক সুলাইমান খান মসজিদটির সুনির্দিষ্ট নির্মাণকাল অজানা থাকলেও, ১৫৩৪ সালে উসমানীয় সুলতান সুলাইমান দ্য ম্যাগনিফিসেন্ট এটি পুনর্নির্মাণ করেছিলেন। দীর্ঘ সময় পরিত্যক্ত থাকার পর মাত্র তিন বছর আগে এটি সংস্কার করে মুসল্লিদের জন্য পুনরায় উন্মুক্ত করা হয়। বর্তমানে এই মসজিদটি পর্যটকদের কাছে এক বিশেষ আকর্ষণ। সিবগাতুল্লাহ বিলমেজ কেবল ইমামতিই করেন না, আগত দর্শনার্থীদের আন্তরিকভাবে স্বাগত জানিয়ে প্রাচীন ভান নগরী, উরার্তু সভ্যতার ঐতিহাসিক দুর্গ ও মসজিদটির সমৃদ্ধ ইতিহাসও তুলে ধরেন। বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা নানা দেশের পর্যটকদের সাথে নিয়মিত কথা বলার সুবাদে সিবগাতুল্লাহর ইংরেজি ভাষার দক্ষতাও দারুণভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এখন তিনি অনায়াসেই বিদেশি দর্শনার্থীদের সাথে যোগাযোগ করেন এবং ইসলাম ও এর ঐতিহ্য সংক্রান্ত নানা প্রশ্নের উত্তর দেন। অক্লান্ত এই যাত্রার পর দুর্গের চূড়ায় দাঁড়িয়ে চারপাশের নয়নাভিরাম প্রাকৃতিক দৃশ্য দেখলে তাঁর সব শারীরিক ক্লান্তি দূর হয়ে যায়। দর্শনার্থীদের ভালোবাসা ও ‘আল্লাহ আপনার প্রতি সন্তুষ্ট হোন’—এমন দোয়াই তাঁর জীবনের অন্যতম সেরা প্রাপ্তি বলে মনে করেন এই নিষ্ঠাবান ইমাম।
গাজায় যে মাত্রায় ধ্বং সযজ্ঞ চালানো হয়েছে, তা যে কাউকেই ব্যথিত করবে: ওবামা
সৌদি চিকিৎসকদের নিবিড় সেবায় ধীরে ধীরে সুস্থ হচ্ছেন হুথি হামলায় আহত বাংলাদেশিরা
ক্যামেরা হাতে সংবাদ সংগ্রহ, এরপরই হামলা! পশ্চিম তীরে আহত মার্কিন আলোকচিত্রী
সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিস্তারিত তথ্য চেয়ে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়েছে জেদ্দায় বাংলাদেশ কনস্যুলেট। মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে বাংলাদেশকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি বলে প্রথম আলোকে জানিয়েছে কনস্যুলেটের একটি সূত্র। গণমাধ্যমে খবর প্রকাশের পর বিষয়টি জানতে পেরে বৃহস্পতিবার চিঠি পাঠানো হয়। ঢাকার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও জেদ্দার কনস্যুলেটের সূত্রের বরাতে প্রথম আলো জানিয়েছে, মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশি হলেন নজরুল ইসলাম ও সুইটি আখতার। শুক্রবার বিকেলে কনস্যুলেটের একটি সূত্র জানায়, সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে ঘটনার বিস্তারিত জানতে চাওয়া হয়েছে। সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতির বরাতে গালফ নিউজ জানিয়েছে, বুধবার, ১৪ অক্টোবর মক্কা অঞ্চলে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। মক্কার একটি মসজিদের ভেতরে যেসব কর্মকাণ্ডকে সৌদি কর্তৃপক্ষ ‘অনৈতিক ও অশালীন’ হিসেবে বর্ণনা করেছে, সেসব ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর তাঁদের এ দণ্ড দেওয়া হয়। প্রকাশিত বিবৃতিতে কর্মকাণ্ডের বিস্তারিত বিবরণ দেওয়া হয়নি। গালফ নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গ্রেপ্তার ও তদন্তের পর তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আদালতে পাঠানো হয়। আদালত শরিয়াহ আইনের অধীনে ‘তাআজির’ বা বিচারকের বিবেচনাধীন শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ড দেন। সৌদি মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য, অপরাধের গুরুত্ব, মসজিদের পবিত্রতা লঙ্ঘন এবং ঘটনার পরিস্থিতি বিবেচনায় এ রায় দেওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট উচ্চতর বিচারিক কর্তৃপক্ষ রায় বহাল রাখার পর রাজকীয় আদেশে তা কার্যকর করা হয়। প্রথম আলোর প্রতিবেদনে সৌদি আরবের বেসরকারি সূত্রের বরাতে বলা হয়েছে, কয়েক মাস ধরে জেদ্দার আদালতে মামলাটির বিচার চলছিল। বিচারপ্রক্রিয়ায় দুজন বাংলাদেশি দোভাষী হিসেবে সহযোগিতা করেছেন বলেও ওই সূত্র জানিয়েছে। তবে তাঁদের ভূমিকা ও অভিযুক্তদের কনস্যুলার সহায়তা পাওয়ার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনো স্পষ্ট নয়। কনস্যুলার সম্পর্কবিষয়ক ভিয়েনা সনদের ৩৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, বিদেশে আটক কোনো ব্যক্তি অনুরোধ করলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিলম্ব না করে তাঁর দেশের কনস্যুলেটকে জানাতে হয়। আটক ব্যক্তিকে এ অধিকার সম্পর্কেও অবহিত করার বিধান রয়েছে। কনস্যুলার কর্মকর্তারা তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ, সাক্ষাৎ এবং আইনি প্রতিনিধিত্বের ব্যবস্থা করতে পারেন। নজরুল ইসলাম ও সুইটি আখতার কনস্যুলেটকে জানানোর অনুরোধ করেছিলেন কি না, তাঁদের এ অধিকার সম্পর্কে জানানো হয়েছিল কি না এবং বিচারপ্রক্রিয়ায় তাঁরা কী ধরনের আইনি সহায়তা পেয়েছিলেন, তা এখনো জানা যায়নি। সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে চাওয়া বিস্তারিত তথ্য এসব প্রশ্নের উত্তর পাওয়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
অভিজিতের পর নেহা বোরাকেও আটক করল দিল্লি পুলিশ, তিরঙ্গা মিছিল ঘিরে উত্তেজনা
ইংল্যান্ডের পার্কে ভারতীয় শিক্ষার্থীদের হেনস্তার অভিযোগ, টহল বাড়াল পুলিশ