দুবাইয়ে ১ কোটি ৬৭ লাখ ডলারের ব্যাংক জালিয়াতির মামলায় কলম্বিয়ায় আটক ইসরায়েলি-মেক্সিকান ‘দ্য ব্যাংকার’
দুবাইয়ে ব্যাংক জালিয়াতির মামলায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের অনুরোধে ইন্টারপোলের রেড নোটিশ জারির পর কলম্বিয়ায় আটক হয়েছেন ইসরায়েলি ও মেক্সিকান নাগরিক মিখায়েল মেজরাহি। ৬১ বছর বয়সী মেজরাহি ‘এল বানকেরো’ বা ‘দ্য ব্যাংকার’ নামেও পরিচিত। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) বোগোতার এল দোরাদো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাঁকে আটক করে কলম্বিয়ার পুলিশ।
কলম্বিয়ার পুলিশ ও অভিবাসন কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সংযুক্ত আরব আমিরাতে প্রতারণা, অর্থ পাচার এবং জাল নথি ব্যবহারসংক্রান্ত মামলায় মেজরাহির বিরুদ্ধে দেওয়া সাজা কার্যকর করতে তাঁকে খোঁজা হচ্ছিল। দুবাইয়ের তদন্তকারীদের অভিযোগ, তিনি এমন একটি আন্তর্জাতিক চক্রের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, যেটি ব্যাংক অব খার্তুমের ৬ কোটি ১৪ লাখ ৪০ হাজার দিরহাম, প্রায় ১ কোটি ৬৭ লাখ মার্কিন ডলার, জালিয়াতি করেছে।
তদন্তকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, চক্রটির সদস্যরা নিজেদের বড় বিনিয়োগকারী ও বৈধ বাণিজ্যিক প্রকল্পের প্রতিনিধি হিসেবে পরিচয় দিতেন। ব্যাংক গ্যারান্টি, চুক্তিপত্র ও আর্থিক নথি ব্যবহার করে তাঁরা লেনদেনকে বিশ্বাসযোগ্যভাবে উপস্থাপন করতেন। এসব নথি জাল ছিল বলে অভিযোগ করেছে কলম্বিয়ার পুলিশ।
পুলিশের দাবি, অর্থের একটি অংশ মেজরাহির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের হিসাবে পাঠানো হয়। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ডব্লিউওয়াইবি এজি জেনারেল ট্রেডিংয়ের নাম উল্লেখ করেছে কর্তৃপক্ষ। পরে ভুয়া অর্থ স্থানান্তরের নির্দেশ পাঠিয়ে সময় নেওয়া এবং অর্থ বিদেশে সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে চক্রটির বিরুদ্ধে। এসব বিবরণ তদন্তকারী কর্তৃপক্ষের ভাষ্য; সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
কলম্বিয়ার অপরাধ তদন্ত ও ইন্টারপোল শাখা, ডিজিন, দেশটির অভিবাসন কর্তৃপক্ষের সহায়তায় বিমানবন্দরে অভিযান চালায়। আটকের পর মেজরাহিকে কলম্বিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেলের দপ্তরের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তাঁকে সংযুক্ত আরব আমিরাতে প্রত্যর্পণ করা হবে কি না, তা নির্ধারণে কূটনৈতিক ও বিচারিক প্রক্রিয়া বাকি রয়েছে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আন্তর্জাতিক
View moreকয়েক বছর ধরে অভিবাসী ও অস্থায়ী বাসিন্দার সংখ্যা কমানোর পর কানাডা ভবিষ্যতে আবার জনসংখ্যা ‘নিয়ন্ত্রিতভাবে’ বাড়াতে পারে। প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি এক সাক্ষাৎকারে এ সম্ভাবনার কথা বলেছেন। তবে অভিবাসী গ্রহণের নতুন সংখ্যা বা পরিবর্তনের সময় তিনি ঘোষণা করেননি। গত ২৭ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের সাক্ষাৎকারে কার্নি বলেন, আগের তুলনায় অভিবাসনব্যবস্থা এখন সরকারের নিয়ন্ত্রণে এসেছে। তাঁর মতে, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ও অস্থায়ী কর্মীর সংখ্যা দ্রুত বাড়ার পর আবাসন এবং অন্যান্য অবকাঠামোর ওপর চাপ তৈরি হয়েছিল। এখন প্রশ্ন হলো, কখন থেকে আবার নিয়ন্ত্রিত হারে জনসংখ্যা বৃদ্ধি শুরু করা যায়। কানাডা সরকার চলতি শরতে ২০২৭ থেকে ২০২৯ সালের নতুন অভিবাসন লক্ষ্যমাত্রা প্রকাশের প্রস্তুতি নিচ্ছে। বর্তমানে কার্যকর পরিকল্পনায় প্রতিবছর ৩ লাখ ৮০ হাজার নতুন স্থায়ী বাসিন্দা গ্রহণের লক্ষ্য রয়েছে। নতুন অস্থায়ী বাসিন্দা, অর্থাৎ মূলত শিক্ষার্থী ও কর্মীদের আগমনের লক্ষ্য ২০২৬ সালে ৩ লাখ ৮৫ হাজার এবং ২০২৭ ও ২০২৮ সালে প্রতিবছর ৩ লাখ ৭০ হাজার। নতুন পরিকল্পনা প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত এসব লক্ষ্য পরিবর্তিত হয়েছে বলা যাবে না। অভিবাসন নিয়ে নতুন আলোচনার পেছনে রয়েছে জনসংখ্যা বৃদ্ধির গতি কমে যাওয়া। স্ট্যাটিসটিকস কানাডার হিসাবে, ২০২৬ সালের ১ জুলাই দেশটির জনসংখ্যা ছিল প্রায় ৪ কোটি ১৮ লাখ, যা আগের বছরের তুলনায় বেড়েছে মাত্র শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ। একই সময়ে অস্থায়ী বাসিন্দার সংখ্যা ছিল প্রায় ২৭ লাখ ৮০ হাজার, মোট জনসংখ্যার ৬ দশমিক ৭ শতাংশ। সরকার ২০২৭ সালের শেষ নাগাদ এই হার ৫ শতাংশের নিচে নামাতে চায়। তবে সংখ্যা আবার বাড়ানো উচিত কি না, তা নিয়ে ভিন্ন মত রয়েছে। গবেষণাপ্রতিষ্ঠান সি ডি হাও ইনস্টিটিউটের অভিবাসন লক্ষ্যমাত্রা কাউন্সিল ২০২৭ সালের পর স্থায়ী বাসিন্দা গ্রহণের লক্ষ্য ধাপে ধাপে কমানোর সুপারিশ করেছে। অন্যদিকে ওয়াটারলু বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির অধ্যাপক মিকাল স্কুটেরুড নিউজউইককে বলেছেন, সরকার সংখ্যা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিলেও তার বাস্তব প্রভাব ২০২৯ সালের আগে দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা কম। এটি তাঁর মূল্যায়ন, সরকারের ঘোষিত সময়সূচি নয়। বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ও অভিবাসনপ্রত্যাশীদের জন্য আপাতত মূল বিষয় হলো, কার্নির বক্তব্যে নতুন ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের সুযোগ ঘোষণা করা হয়নি। কোন শ্রেণিতে কতজনকে নেওয়া হবে, তা জানতে নতুন সরকারি পরিকল্পনার জন্য অপেক্ষা করতে হবে।
গাজায় ইনসুলিন-সংকট, ডায়াবেটিসে আক্রান্ত শিশুদের জীবনঝুঁকির সতর্কতা
দুবাইয়ে ১ কোটি ৬৭ লাখ ডলারের ব্যাংক জালিয়াতির মামলায় কলম্বিয়ায় আটক ইসরায়েলি-মেক্সিকান ‘দ্য ব্যাংকার’
প্রাপ্তবয়স্ক স্বামীর সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদ চাইতে একাই আদালতে হাজির ১০ বছরের নুজুদ
ইয়েমেনের হুতিদের সঙ্গে সংঘাতের মধ্যে সৌদি আরবকে ইসরায়েল অনেক সহায়তা করেছে বলে দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন। তবে ইসরায়েল কী ধরনের সহায়তা দিয়েছে, তা স্পষ্ট করেননি তিনি। টাইমস অব ইসরায়েলের প্রতিবেদন অনুযায়ী, হুতিদের মোকাবিলায় ইসরায়েলের সহায়তার প্রস্তাব সৌদি আরবের গ্রহণ করা উচিত কি না, সাংবাদিকেরা ট্রাম্পের কাছে জানতে চান। জবাবে তিনি সম্মতি জানান এবং সৌদি আরব সেই সহায়তা গ্রহণ করবে বলে আশা প্রকাশ করেন। একই আলাপে সৌদি আরবের সঙ্গে ইসরায়েলের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নিয়েও আশাবাদ জানান ট্রাম্প। আব্রাহাম চুক্তির আওতায় সেই সম্ভাবনা আবার আলোচনায় এসেছে কি না, এমন প্রশ্নে তাঁর বক্তব্য ছিল, আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে এখন সম্ভাবনা বেশি হতে পারে। তবে ট্রাম্পের মন্তব্য থেকে হুতিদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সৌদি আরবকে ইসরায়েল ইতিমধ্যে সরাসরি সহায়তা দিয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। টাইমস অব ইসরায়েলও প্রতিবেদনে এই অস্পষ্টতার বিষয়টি উল্লেখ করেছে। ফলে তাঁর বক্তব্যকে নির্দিষ্ট কোনো সামরিক সহযোগিতার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হিসেবে দেখা যাচ্ছে না। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ওয়াইনেট জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সংঘাত বেড়ে যাওয়ার পর ইসরায়েল হুতিদের বিরুদ্ধে সরাসরি সামরিক অভিযানে অংশ নেয়নি। তবে আঞ্চলিক কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে সংবাদমাধ্যমটি জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের মাধ্যমে সৌদি আরবকে ইসরায়েলি গোয়েন্দা তথ্য দেওয়ার বিষয়ে সেপ্টেম্বরে খবর পাওয়া গিয়েছিল। এটি সূত্রনির্ভর তথ্য, ট্রাম্প তাঁর বক্তব্যে এমন কোনো ব্যবস্থার বিস্তারিত জানাননি। ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে ২০২০ সালে আব্রাহাম চুক্তির মাধ্যমে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইনসহ কয়েকটি দেশের সঙ্গে ইসরায়েলের সম্পর্ক স্বাভাবিক হয়। সৌদি আরবকে এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত করার চেষ্টা চললেও রিয়াদ ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সুস্পষ্ট পথ তৈরির শর্ত বজায় রেখেছে। ট্রাম্পের আশাবাদের পাশাপাশি এই শর্তও দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে রয়েছে।
জার্মানির বিমানবন্দরে যাত্রীর স্যুটকেসে মিলল ৩৭টি বিষধর সাপ ও ৫৫টি টিকটিকি, হতবাক কর্মকর্তারা
কানাডায় এক্সপ্রেস এন্ট্রিতে বড় পরিবর্তন, বাড়তি সুবিধা পাবেন ভারতীয় পেশাজীবীরা
ইসরায়েলি বসতিস্থাপনকারীদের বর্বরোচিত হা মলায় গুরুতর আ হত মার্কিন সাংবাদিক
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ভ্রমণ করে রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা তুলে ধরার বিনিময়ে ১ লাখ ডলার বা প্রায় ১ কোটি ২৩ লাখ টাকা পারিশ্রমিক দেওয়ার লোভনীয় ঘোষণা দিয়েছে ব্রিটিশ ধনকুবের রিচার্ড ব্র্যানসনের প্রতিষ্ঠান ভার্জিন গ্রুপ। ‘হেড অব ইয়েস’ নামের ৬ মাস মেয়াদী এই বিশেষ কনটেন্ট ক্রিয়েটর কর্মসূচিটি শুরু হবে ২০২৭ সালের জানুয়ারিতে। প্রতিষ্ঠানটি এমন একজনকে খুঁজছে, যিনি নতুন সম্ভাবনাকে স্বাগত জানিয়ে নতুন অভিজ্ঞতা ও রোমাঞ্চকর অভিযানের গল্পগুলো দারুণভাবে মানুষের সামনে তুলে ধরতে পারবেন। তবে এই স্বপ্নের সুযোগ পেতে বড় মাপের ইনফ্লুয়েন্সার বা পেশাদার কনটেন্ট নির্মাতা হওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই, এমনকি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিপুলসংখ্যক অনুসারী থাকারও কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। ইনস্টাগ্রামে দেওয়া এক পোস্টে রিচার্ড ব্র্যানসন এই কর্মসূচির বিস্তারিত জানিয়ে বলেছেন, এটি কোনো লটারির পুরস্কার বা প্রচলিত চাকরি নয়, বরং যোগ্যতার ভিত্তিতে নির্বাচিত ব্যক্তির সঙ্গে ভার্জিন রেডের একটি চুক্তি হবে। এই কর্মসূচিতে কেবল যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের বাসিন্দারাই আবেদনের সুযোগ পাবেন। যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচিত প্রার্থীর জন্য পারিশ্রমিক হিসেবে বরাদ্দ থাকছে ১ লাখ ডলার এবং যুক্তরাজ্যের প্রার্থীর জন্য ৭৫ হাজার পাউন্ড। নির্বাচিত ব্যক্তিকে বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে ভ্রমণ করে ভার্জিন গ্রুপের নানা ব্র্যান্ডের সঙ্গে যুক্ত হয়ে আনন্দের মুহূর্ত, অপ্রত্যাশিত ঘটনা কিংবা অবিশ্বাস্য অভিজ্ঞতার ছোট ভিডিও, ছবি ও গল্প তৈরি করতে হবে। জীবনে সাহস করে নতুন কিছু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া কিংবা কোনো রোমাঞ্চকর অভিযানে সম্মতি দেওয়ার অভিজ্ঞতা আকর্ষণীয়ভাবে তুলে ধরতে পারলেই এখানে কাজের সুযোগ মিলতে পারে। ‘হেড অব ইয়েস’ কর্মসূচিতে অংশ নিতে আগ্রহী প্রার্থীদের নিজেদের জীবনের এমন একটি ঘটনা নিয়ে ছোট ভিডিও তৈরি করতে হবে, যেখানে কোনো নতুন সুযোগ বা অভিযানে সম্মতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত তাদের জীবনকে বদলে দিয়েছিল। এরপর সেই ভিডিওটি ইনস্টাগ্রাম, ইউটিউব অথবা টিকটকে প্রকাশ করতে হবে। ভিডিওটি প্রকাশের সময় অবশ্যই #HeadOfYes হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করতে হবে এবং @Virgin অ্যাকাউন্টকে ট্যাগ করতে হবে। ২০২৬ সালের ৯ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া এই আবেদন প্রক্রিয়া চলবে ২০২৬ সালের ২০ অক্টোবর রাত ১১টা ৫৯ মিনিট (যুক্তরাষ্ট্রের ইস্টার্ন স্ট্যান্ডার্ড টাইম) পর্যন্ত। সব প্রক্রিয়া শেষে নির্বাচিত প্রার্থী ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে পরবর্তী ছয় মাস বিশ্বভ্রমণ ও রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতার ওপর নিয়মিত কনটেন্ট তৈরির কাজ শুরু করবেন।
পাহাড়ের চূড়ায় মসজিদ, প্রতিদিন ৫ হাজার সিঁড়ি পেরিয়ে ইমামতি করেন সিবগাতুল্লাহ
গাজায় যে মাত্রায় ধ্বং সযজ্ঞ চালানো হয়েছে, তা যে কাউকেই ব্যথিত করবে: ওবামা