সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আন্তর্জাতিক

যুক্তরাষ্ট্রে হৃদরোগ গবেষণায় নজর কাড়লেন ভারতীয় শিক্ষার্থী, সুযোগ পেলেন সম্মানজনক কর্মসূচিতে

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: অক্টোবর ১৭, ২০২৬ ১০:৫১
যুক্তরাষ্ট্রে হৃদরোগ গবেষণায় নজর কাড়লেন ভারতীয় শিক্ষার্থী, সুযোগ পেলেন সম্মানজনক কর্মসূচিতে
যুক্তরাষ্ট্রে হৃদরোগ গবেষণায় নজর কাড়লেন ভারতীয় শিক্ষার্থী, সুযোগ পেলেন সম্মানজনক কর্মসূচিতে

পরিবারের এক সদস্যের হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা বদলে দিয়েছিল তাঁর জীবনের লক্ষ্য। সেই কষ্টদায়ক অভিজ্ঞতা থেকে অনুপ্রাণিত হয়েই এখন যুক্তরাষ্ট্রে হৃদরোগ গবেষণায় কাজ করছেন ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাস অ্যাট আর্লিংটন (ইউটিএ)-এর তৃতীয় বর্ষের (জুনিয়র) ভারতীয় শিক্ষার্থী রুষিকা মুরাদি।

 

সম্প্রতি লয়োলা ইউনিভার্সিটি শিকাগোর অত্যন্ত সম্মানজনক ‘কার্ডিও-সার্ফ’ (Cardio-SURPh) গ্রীষ্মকালীন গবেষণা কর্মসূচির জন্য সারা যুক্তরাষ্ট্র থেকে নির্বাচিত মাত্র পাঁচজন শিক্ষার্থীর মধ্যে তিনি একজন হিসেবে নিজের জায়গা করে নিয়েছেন। এই কর্মসূচির মাধ্যমে তিনি অভিজ্ঞ গবেষক ও পেশাদারদের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে কার্ডিওভাসকুলার বা হৃদরোগ গবেষণায় হাতেকলমে কাজ করার অমূল্য সুযোগ পেয়েছেন।

 

ভারতের নান্দেড় শহরে বেড়ে ওঠা রুষিকার হৃদরোগ বিজ্ঞানের প্রতি আগ্রহ তৈরি হয়েছিল ছোটবেলাতেই। পরবর্তীতে পরিবারের এক সদস্যের হৃদরোগে ভোগার অভিজ্ঞতা তাঁকে এই জটিল সমস্যা সমাধানের অংশ হতে আরও দৃঢ়প্রতিজ্ঞ করে তোলে। রুষিকা জানান, ঠিক সেই মুহূর্তেই তিনি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন যে এটি এমন একটি সমস্যা, যার সমাধানে তিনি কাজ করতে চান।

 

ইউটিএ-তে ভর্তি হওয়ার পর তিনি শ্রেণিকক্ষের বাইরের বিভিন্ন স্বাস্থ্যসেবা ও ইন্টার্নশিপ প্রোগ্রামে যুক্ত হন। লয়োলার গ্রীষ্মকালীন কর্মসূচিতে তিনি হার্ট ফেইলিউরের বিভিন্ন গবেষণা মডেল নিয়ে কাজ করে নিজের প্রায়োগিক দক্ষতা আরও শাণিত করেছেন।

 

গবেষণার এই যাত্রা রুষিকাকে নিয়ে গেছে বোস্টনের বিশ্বখ্যাত হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে। সেখানে তিনি নিজের গবেষণার অভিজ্ঞতার ওপর একটি ‘লাইটনিং টক’ বা সংক্ষিপ্ত বক্তব্য উপস্থাপন করেন। এর পরপরই তিনি আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশনের (এএইচএ) বেসিক কার্ডিওভাসকুলার সায়েন্সেস সায়েন্টিফিক সেশনসে অংশ নিয়ে নিজের গবেষণাপত্রটি পুনরায় উপস্থাপন করার দারুণ এক সুযোগ পান। হার্ভার্ডের ওই সফর এবং বৈজ্ঞানিক সম্মেলনে অংশগ্রহণকে নিজের গ্রীষ্মকালীন অভিজ্ঞতার সবচেয়ে বড় অর্জন হিসেবে দেখেন এই অদম্য তরুণী।

 

নিজের লিংকডইন প্রোফাইলের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সাল থেকে ইউটিএ-তে জীববিজ্ঞানে স্নাতক (বিএসসি) করছেন রুষিকা মুরাদি। এর আগে ২০২২ সালের জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত ভারতের ‘ন্যাশনাল সার্ভিস স্কিম’-এর অধীনে স্বাস্থ্য সচেতনতা ক্যাম্প, পরিবেশ পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও শিক্ষামূলক কর্মশালার মতো বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী কার্যক্রমেও যুক্ত ছিলেন তিনি।

 

আগামী ২০২৮ সালের মে মাসে স্নাতক সম্পন্ন করার লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যাওয়া রুষিকা ভবিষ্যতে কার্ডিওভাসকুলার গবেষণায় আরও বেশি সময় দিতে চান। নিজের এই সফল যাত্রায় সার্বিক সহায়তার জন্য ইউটিএ কর্তৃপক্ষ এবং বিশেষ করে অধ্যাপক লরা মাইডলার্জের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন তিনি।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আন্তর্জাতিক

View more
টেসলা রোডস্টারের ওপর দিয়ে উড়ল আলেফ, উড়ন্ত গাড়ির বাজারে নতুন প্রতিদ্বন্দ্বী
টেসলা রোডস্টারের ওপর দিয়ে উড়ল আলেফ, উড়ন্ত গাড়ির বাজারে নতুন প্রতিদ্বন্দ্বী

ভবিষ্যৎ প্রযুক্তির বাজারে এলন মাস্ককে সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানিয়ে উড়ন্ত গাড়ির দুনিয়ায় ব্যাপক সাড়া ফেলেছে ক্যালিফোর্নিয়াভিত্তিক প্রতিষ্ঠান আলেফ অ্যারোনটিক্স। সম্প্রতি প্রকাশিত একটি রোমাঞ্চকর ভিডিওতে দেখা যায়, টেসলা রোডস্টারের ঠিক ওপর দিয়ে সফলভাবে উড়ে যাচ্ছে আলেফের একটি গাড়ি।   এই অভাবনীয় সাফল্যের পর টেসলাকে উড়ন্ত গাড়ির বাজারে স্বাগত জানিয়ে আলেফের প্রধান নির্বাহী জিম দুখভনি কিছুটা রসিকতা করেই বলেন, গত এগারো বছর ধরে এই প্রতিযোগিতায় তারা একাই রাজত্ব করছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের অটোমোবাইল সাময়িকী ‘ইলেকট্রেক’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্প্রতি আলেফ তাদের এক হাজারতম সফল টেস্ট ফ্লাইট সম্পন্ন করেছে, আর ঐতিহাসিক সেই উড্ডয়নের মুহূর্তেই নিচে রাখা ছিল একটি টেসলা রোডস্টার।   উড়ন্ত গাড়ির বাজারে টেসলার মতো আন্তর্জাতিক জায়ান্টের আগমনকে অত্যন্ত ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন জিম দুখভনি। তাঁর মতে, নতুন প্রতিদ্বন্দ্বী এলে উড়ন্ত গাড়ির জন্য সম্পূর্ণ নতুন একটি বাজার তৈরি হবে, এভিয়েশন খাত নিয়ে থাকা প্রচলিত মিথগুলো ভেঙে যাবে এবং আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের নজর এই উদীয়মান প্রযুক্তির দিকে আরও বেশি আকৃষ্ট হবে।   বাহ্যিক পার্থক্য থাকলেও টেসলা রোডস্টার এবং আলেফের গাড়ির মধ্যে বেশ কিছু মৌলিক মিল রয়েছে। দুটি বাহনই পুরোপুরি বিদ্যুৎচালিত এবং অল-হুইল ড্রাইভ ব্যবস্থাসম্পন্ন। মজার বিষয় হলো, উভয় প্রতিষ্ঠানেরই শুরুর দিকের অন্যতম ভেঞ্চার ক্যাপিটালিস্ট বা বিনিয়োগকারী হলেন একই ব্যক্তি—টিম ড্রেপার।   তবে প্রকৌশল ও গঠনশৈলীর দিক থেকে দুটি বাহন সম্পূর্ণ আলাদা। আলেফ তাদের গাড়িতে ব্যবহার করছে ডিস্ট্রিবিউটেড ইলেকট্রিক প্রপালশন বা ডিইপি প্রযুক্তি, অন্যদিকে টেসলা রোডস্টারে যুক্ত করা হচ্ছে বিশেষ ধরনের থ্রাস্টার। আলেফের পুরো বডিটি এরোডাইনামিক ডানার মতো কাজ করে এবং ভেতরে রয়েছে একটি স্বয়ংক্রিয় ঘূর্ণায়মান ক্যাবিন। আকাশে ওঠার সময় চাপযুক্ত গ্যাসের বদলে এটি পারিপার্শ্বিক বাতাস ব্যবহার করে।   এছাড়া চরম জরুরি পরিস্থিতিতে যাত্রীদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তার জন্য পুরো গাড়িটির সঙ্গে যুক্ত থাকছে একটি বিশেষ ব্যালিস্টিক প্যারাসুট। সাধারণ এভিটিওএল (eVTOL) বা এয়ার ট্যাক্সির সঙ্গে আলেফের মূল তফাৎ হলো, এটি কোনো জটিল রানওয়ে ছাড়াই শহরের সাধারণ রাস্তায় স্বাভাবিকভাবে চলাচলের পাশাপাশি পার্কিং স্পেসেও পার্ক করা যাবে।   প্রাথমিক ধারণা প্রকাশের দীর্ঘ বছর পর ২০২২ সালে আলেফ তাদের পূর্ণাঙ্গ ‘মডেল এ’ প্রোটোটাইপ উন্মোচন করে। প্রতিষ্ঠানটির দেওয়া তথ্যমতে, এক চার্জে গাড়িটি রাস্তায় ২২০ মাইল এবং শূন্যে ১১০ মাইল পর্যন্ত পাড়ি দিতে সক্ষম। এরই মধ্যে ২০২৩ সালে মার্কিন ফেডারেল এভিয়েশন অথরিটি (এফএএ) থেকে বিশেষ উড্ডয়নযোগ্যতার অনুমোদন পেয়ে ইতিহাস গড়েছে আলেফ, যা মার্কিন সরকারের স্বীকৃতি পাওয়া বিশ্বের প্রথম উড়ন্ত গাড়ি।   অন্যদিকে, টেসলা রোডস্টারকে আকাশে ওড়াতে হলে এখনো এফএএ-এর দীর্ঘ আইনি ও কারিগরি অনুমোদন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে, যা সম্পন্ন হতে আরও কয়েক বছর সময় লেগে যেতে পারে বলে ধারণা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

প্রকাশ: অক্টোবর ১৭, ২০২৬ ১২:১০
ভারতের দিল্লিতে গ্রেপ্তারের এক দিন পর শর্তসাপেক্ষে জামিন পেয়েছেন সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে। ছবি: সংগৃহীত

আগামী এক বছর শান্তি বজায় রাখার শর্তে মুক্তি পেলেন সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে

মেক্সিকোতে পিকআপ ট্রাকের যন্ত্রাংশ চুরি করতে গিয়ে তিন সার্ফারকে হ ত্যা, আসামির ১৫৮ বছরের জেল

মেক্সিকোতে পিকআপ ট্রাকের যন্ত্রাংশ চুরি করতে গিয়ে তিন সার্ফারকে হ ত্যা, আসামির ১৫৮ বছরের জেল

যুক্তরাষ্ট্রে হৃদরোগ গবেষণায় নজর কাড়লেন ভারতীয় শিক্ষার্থী, সুযোগ পেলেন সম্মানজনক কর্মসূচিতে

যুক্তরাষ্ট্রে হৃদরোগ গবেষণায় নজর কাড়লেন ভারতীয় শিক্ষার্থী, সুযোগ পেলেন সম্মানজনক কর্মসূচিতে

অ্যাস্ট্রাজেনেকার কোভিডের টিকার ট্রায়ালে অংশ নিয়ে বিরল স্নায়বিক রোগে আক্রান্ত হলেও সরকারি সহায়তা পাননি ব্রিটিশ নার্স। ছবি: সংগৃহীত
'যথেষ্ট অক্ষম নন’, কোভিড টিকা পরীক্ষায় অংশ নিয়ে অসুস্থ নার্স, অক্ষমতার শর্তে মেলেনি সহায়তা

অ্যাস্ট্রাজেনেকার কোভিড টিকার পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার পর বিরল স্নায়বিক রোগে আক্রান্ত হওয়া এক ব্রিটিশ নার্স সরকারি আর্থিক সহায়তা পাননি। তাঁর শারীরিক অবস্থার উন্নতি হওয়ায় তিনি কর্মসূচির নির্ধারিত অক্ষমতার সীমা পূরণ করেননি বলে জানানো হয়েছে। তবে তাঁর দাবি, হাতে দুর্বলতা ও ব্যথাসহ অসুস্থতার কিছু প্রভাব এখনো রয়ে গেছে।   ১৬ অক্টোবর প্রকাশিত দ্য টেলিগ্রাফের প্রতিবেদনে বলা হয়, ৪৪ বছর বয়সী মেরি-ক্লেয়ার হয়েল ২০২০ সালে স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে টিকার পরীক্ষায় অংশ নেন। দ্বিতীয় ডোজ নেওয়ার দুই সপ্তাহ পর তাঁর ট্রান্সভার্স মায়েলাইটিস ধরা পড়ে। এটি মেরুরজ্জুর প্রদাহজনিত একটি রোগ।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, অসুস্থতার তীব্র পর্যায়ে হয়েল হাত স্বাভাবিকভাবে ব্যবহার করতে পারতেন না। পরে তাঁর শারীরিক সক্ষমতার বড় অংশ ফিরে আসে। সেই উন্নতির কারণে ভ্যাকসিন ড্যামেজ পেমেন্ট স্কিমের আওতায় অর্থ পাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় অন্তত ৬০ শতাংশ অক্ষমতার শর্ত তিনি পূরণ করেননি।   হয়েলের ভাষ্য, তাঁর জমা দেওয়া চিকিৎসার নথির ভিত্তিতে মূল্যায়নকারীরা টিকার সঙ্গে অসুস্থতার সম্পর্ক স্বীকার করেছিলেন। তবে বর্তমান অক্ষমতার মাত্রার কারণে আবেদন প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি নির্দিষ্ট সীমার বদলে ক্ষতির মাত্রা অনুযায়ী অর্থ দেওয়ার ব্যবস্থা চান। এই মূল্যায়নের বিবরণ তাঁর বক্তব্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে।    যুক্তরাজ্যের সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, নির্দিষ্ট টিকার কারণে গুরুতর অক্ষমতা তৈরি হলে যোগ্য আবেদনকারী এককালীন করমুক্ত এক লাখ ২০ হাজার পাউন্ড পেতে পারেন। এ জন্য টিকার সঙ্গে অক্ষমতার কার্যকারণ সম্পর্ক এবং অন্তত ৬০ শতাংশ অক্ষমতা প্রতিষ্ঠিত হতে হয়।   সরকার এই ব্যবস্থাকে পূর্ণ ক্ষতিপূরণ কর্মসূচি হিসেবে বর্ণনা করে না। এটি নির্দিষ্ট শর্তে দেওয়া এককালীন আর্থিক সহায়তা। আবেদন প্রত্যাখ্যান হলে সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করার সুযোগও রয়েছে।    অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকার সঙ্গে ট্রান্সভার্স মায়েলাইটিসের সম্ভাব্য সম্পর্ক নিয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থাও পর্যালোচনা করেছে। ইউরোপীয় ওষুধ সংস্থা ২০২২ সালের জানুয়ারিতে ভ্যাক্সজেভরিয়া এবং জ্যানসেনের কোভিড টিকার পর অত্যন্ত বিরল এই রোগের প্রতিবেদনের বিষয়ে পণ্যের তথ্যে সতর্কতা যুক্ত করার সুপারিশ করে। তবে কোনো ব্যক্তির অসুস্থতার কারণ নির্ধারণে তাঁর চিকিৎসার ইতিহাস ও পরীক্ষার ফল আলাদাভাবে মূল্যায়ন প্রয়োজন।

প্রকাশ: অক্টোবর ১৭, ২০২৬ ৯:৪২
ইয়েমেনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় ধামার প্রদেশে আবাসিক বাড়িতে বিমান হামলায় তিন শিশু নিহত

ইয়েমেনে বিমান হামলায় তিন শিশু নিহত, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে বাড়ছে উত্তেজনা

ইরানের ২৫ বিলিয়ন ডলারের তেল আটকে দিল যুক্তরাষ্ট্র, বন্ধ আইআরজিসি সদস্যদের বেতনও

ইরানের ২৫ বিলিয়ন ডলারের তেল আটকে দিল যুক্তরাষ্ট্র, বন্ধ আইআরজিসি সদস্যদের বেতনও

ইরানের প্রযুক্তিগত উন্নয়নই শত্রুর  হা মলা ঠেকানোর অন্যতম হাতিয়ার, বললেন পেজেশকিয়ান

ইরানের প্রযুক্তিগত উন্নয়নই শত্রুর হা মলা ঠেকানোর অন্যতম হাতিয়ার, বললেন পেজেশকিয়ান

মায়ের ভিসা প্রত্যাখ্যান, অসুস্থ স্বজনকে দেখতে ব্রিটিশ শিশুর সফর অনিশ্চিত
মায়ের ভিসা প্রত্যাখ্যান, অসুস্থ স্বজনকে দেখতে ব্রিটিশ শিশুর সফর অনিশ্চিত

মায়ের ভিজিটর ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ায় থাইল্যান্ডে থাকা পাঁচ মাসের ব্রিটিশ শিশু উইলিয়াম ক্রসের যুক্তরাজ্যে পারিবারিক সফর অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। বড়দিনে অসুস্থ প্রপিতামহের সঙ্গে তার প্রথম সাক্ষাতের পরিকল্পনা ছিল।   ১৭ অক্টোবর গার্ডিয়ান জানায়, শিশুটির বাবা ম্যাথিউ ক্রস ব্রিটিশ এবং মা খিন থান্ট জিন মিয়ানমার থেকে পালিয়ে থাইল্যান্ডে আশ্রয় নিয়েছেন। হোম অফিস তাঁর আয় ও সফর শেষে ফেরার প্রমাণে সন্তুষ্ট হয়নি।   পরিবার নতুন আবেদন করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। হোম অফিস জানিয়েছে, প্রতিটি আবেদন অভিবাসন বিধি ও জমা দেওয়া প্রমাণের ভিত্তিতে বিবেচিত হয়। প্রত্যাখ্যানের সিদ্ধান্তটি শিশুটির নয়, তার মায়ের ভিসার আবেদনের বিষয়ে।    যুক্তরাজ্যের সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, স্ট্যান্ডার্ড ভিজিটর ভিসার আবেদনকারীকে দেখাতে হয় যে তিনি অনুমোদিত উদ্দেশ্যে সাময়িক সফরে যাচ্ছেন এবং সফর শেষে দেশ ছাড়বেন। নিজের ও নির্ভরশীলদের যাতায়াত, থাকা এবং অন্যান্য যুক্তিসংগত খরচ বহনের ব্যবস্থাও দেখাতে হয়।   আবেদনের সহায়ক নথি নিয়ে সরকারি নির্দেশনায় ব্যক্তিগত ও আর্থিক পরিস্থিতির প্রমাণ দেওয়ার কথা রয়েছে। অন্য কেউ খরচ বহন করলে সেই সহায়তার ধরন এবং সহায়তাকারীর সামর্থ্যের প্রমাণও প্রাসঙ্গিক। ফলে যুক্তরাজ্যে স্বজনের আমন্ত্রণ থাকলেও ভিসার অন্যান্য শর্ত পূরণের বিষয়টি আলাদাভাবে বিবেচনা করা হয়।

প্রকাশ: অক্টোবর ১৭, ২০২৬ ৮:৯
হামজা মোহাম্মদ

যুক্তরাজ্যে ব্যাংককর্মী সেজে প্রবীণ নারীদের কার্ড হাতিয়ে নেয়ায় হামজা মোহাম্মদের কারাদণ্ড

কানাডায় অভিবাসী গ্রহণ আবার বাড়ানোর ইঙ্গিত দিলেন প্রধানমন্ত্রী কার্নি

কানাডায় অভিবাসী গ্রহণ আবার বাড়ানোর ইঙ্গিত দিলেন প্রধানমন্ত্রী কার্নি

গাজায় ইনসুলিন-সংকট

গাজায় ইনসুলিন-সংকট, ডায়াবেটিসে আক্রান্ত শিশুদের জীবনঝুঁকির সতর্কতা

0 Comments