সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আন্তর্জাতিক

পোষা টিকটিকিকে খাওয়ানোর অজুহাতে ৬৪ বার ঘাঁটি ত্যাগ, দক্ষিণ কোরিয়ার সেনা কর্মকর্তার শাস্তি বহাল

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: অক্টোবর ১৭, ২০২৬ ১৩:১২
টিকটিকিকে খাওয়ানোর অজুহাতে ঘাঁটি ছাড়তেন সেনা কর্মকর্তা
টিকটিকিকে খাওয়ানোর অজুহাতে ঘাঁটি ছাড়তেন সেনা কর্মকর্তা

পোষা টিকটিকিকে খাবার দেওয়া এবং নিজের গাড়ি ধোয়ার মতো কারণ দেখিয়ে বারবার সেনা ঘাঁটি ছেড়ে বাইরে চলে যেতেন দক্ষিণ কোরিয়ার এক সেনা কর্মকর্তা। অনুমতি ছাড়া কর্মস্থল ত্যাগের পাশাপাশি অধীনস্থ সেনাদের ছুটির আবেদন আটকে রাখা এবং দুর্ব্যবহারের অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। এসব অভিযোগে দুই মাসের জন্য সাময়িক বরখাস্ত হওয়ার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আদালতে গিয়েও শেষ পর্যন্ত জয় পাননি তিনি। তাঁর শাস্তি বহাল রেখেছেন দক্ষিণ কোরিয়ার বুসান জেলা আদালত।
 

আদালত বৃহস্পতিবার জানিয়েছেন, সংশ্লিষ্ট ইউনিট কমান্ডারের বিরুদ্ধে ওই কর্মকর্তার দায়ের করা মামলা খারিজ করা হয়েছে। সামরিক দায়িত্ব পালনে অবহেলা এবং অনুমতি ছাড়া কর্মস্থল ত্যাগের অভিযোগে তাঁকে দুই মাসের জন্য বরখাস্ত করা হয়েছিল। সেই শাস্তির সিদ্ধান্ত বাতিল চেয়েই আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন তিনি।


মামলার শুনানিতে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ১০ মাসে কর্মদিবসের সময় মোট ৬৪ বার সেনা ঘাঁটি থেকে গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে যান ওই কর্মকর্তা। কিন্তু এসব ক্ষেত্রে তিনি আগে থেকে ছুটির আবেদন করেননি। এমনকি ঘাঁটি ছেড়ে যাওয়ার বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কমান্ডারকেও জানাননি। ঘাঁটির প্রবেশ ও বের হওয়ার রেকর্ড পর্যালোচনা করে এসব ঘটনার তথ্য পাওয়া যায়।


দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় কেন তিনি ঘাঁটি ছেড়ে বাইরে যেতেন, সে বিষয়েও আদালতে সাক্ষ্য দেওয়া হয়। একজন গার্ড কমান্ডার জানান, ওই কর্মকর্তা বিভিন্ন সময়ে নিজের অনুপস্থিতির কারণ হিসেবে বলতেন, ‘আমাকে আমার টিকটিকিকে খাবার দিতে হবে’ অথবা ‘আমার গাড়ি ধুতে হবে’। এসব ব্যক্তিগত কাজের জন্য অনুমতি না নিয়ে বারবার ঘাঁটি ছেড়ে যাওয়ার বিষয়টি তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে ওঠে।


তবে মামলাটি শুধু অনুমতি ছাড়া ঘাঁটি ত্যাগের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। অধীনস্থ সেনাদের সঙ্গে তাঁর আচরণ এবং তাঁদের ছুটির আবেদন নিয়ে দীর্ঘসূত্রতার বিষয়টিও আদালতের বিবেচনায় আসে।


আদালতের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৪ সালের নভেম্বর পর্যন্ত ওই কর্মকর্তা তাঁর অধীনে থাকা ২৬ জন সেনাসদস্যের মোট ৬৯৮টি বাইরে যাওয়া, রাতে বাইরে অবস্থান এবং ছুটির আবেদন অনুমোদনে দেরি করেন। এসব আবেদনের অনুমোদন আটকে থাকায় সংশ্লিষ্ট সেনাসদস্যরা সামরিক বাহিনীর সহায়তায় ট্রেনের টিকিট সংগ্রহ করতে পারেননি। ফলে যাতায়াতের খরচ তাঁদের নিজেদের পকেট থেকে বহন করতে হয়েছে।


সামরিক বাহিনীতে নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী ছুটি বা বাইরে যাওয়ার অনুমতি পাওয়া সদস্যদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে যাতায়াতের ক্ষেত্রে সামরিক বাহিনীর সহায়তা পাওয়ার সুযোগ থাকলে অনুমোদন সময়মতো না হওয়ায় ব্যক্তিগত খরচ বেড়ে যেতে পারে। আদালতে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, ওই কর্মকর্তার আবেদনের অনুমোদন দিতে দেরি করার কারণে তাঁর অধীনস্থ একাধিক সেনাসদস্যকে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়।


অধীনস্থ সেনাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগও ছিল গুরুতর। আদালতে বলা হয়, ছুটির আবেদন অনুমোদনের জন্য সেনাসদস্যরা তাঁর কাছে গেলে তিনি একপর্যায়ে বলতেন, ‘এটা কি কোনো সমাজসেবা কেন্দ্র? চলে যাও।’


এ ছাড়া পিঠের ব্যথার কারণে অন্য ইউনিটে বদলি হওয়ার আবেদন জানানো এক সেনাসদস্যের সঙ্গেও তিনি দুর্ব্যবহার করেন বলে অভিযোগ ওঠে। ওই সেনাসদস্যকে তিনি মানসিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে সামরিক বাহিনী থেকে অব্যাহতি নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন বলে আদালতের তথ্যে উঠে আসে।


নতুন যোগ দেওয়া সেনাসদস্যের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রেও তাঁর আচরণ নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। ইউনিটে যোগ দেওয়ার পর একজন সেনাসদস্যের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে কথা বলতে তিনি ৫০ দিন সময় নেন। এত দিন পর সাক্ষাতের সময় ওই সেনাসদস্যকে তিনি প্রশ্ন করেন, ‘তুমি কে?’


এসব ঘটনা বিবেচনায় নিয়ে আদালত মনে করেন, ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো সামরিক বাহিনীর শৃঙ্খলা ও দায়িত্ব পালনের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। একজন কর্মকর্তার ব্যক্তিগত কাজের জন্য অনুমতি ছাড়া কর্মস্থল ত্যাগ করা, অধীনস্থদের ছুটির আবেদন আটকে রাখা এবং তাঁদের সঙ্গে অসম্মানজনক আচরণ করা সামরিক ব্যবস্থাপনার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।


আদালত আরও উল্লেখ করেন, সামরিক বাহিনীর শৃঙ্খলাবিধি অনুযায়ী তাঁর অসদাচরণের জন্য আরও কঠোর শাস্তিও দেওয়া সম্ভব ছিল। অপরাধের মাত্রা বিবেচনায় তাঁকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করার সুযোগ ছিল। একাধিক বিধি লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে সামরিক বাহিনী থেকে বহিষ্কারের মতো কঠোর ব্যবস্থাও নেওয়া যেতে পারে।


দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক শৃঙ্খলাবিধিতে চাকরি থেকে বরখাস্ত এবং বাহিনী থেকে বহিষ্কার—দুটিই সামরিক চাকরির অবসান ঘটাতে পারে। তবে বাহিনী থেকে বহিষ্কারের শাস্তি তুলনামূলকভাবে কঠোর এবং এর ফলে অবসরকালীন সুবিধাও কমে যেতে পারে।


আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে দেওয়া দুই মাসের সাময়িক বরখাস্তের শাস্তি বিধিমালায় অনুমোদিত সর্বোচ্চ শাস্তির তুলনায় অনেক কম। তাই তাঁর ব্যক্তিগত অসুবিধার চেয়ে সামরিক বাহিনীর শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং প্রতিষ্ঠানের প্রতি জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনার স্বার্থকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।


আদালত বলেন, সামরিক প্রতিষ্ঠানের শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা, নিয়মকানুন বজায় রাখা এবং সামরিক বাহিনীর প্রতি জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধারের মতো জনস্বার্থকে ওই কর্মকর্তার ব্যক্তিগত ক্ষতির চেয়ে কম গুরুত্বপূর্ণ বলা যায় না।


সব মিলিয়ে, পোষা প্রাণীকে খাবার দেওয়া বা গাড়ি ধোয়ার মতো ব্যক্তিগত কাজের জন্য অনুমতি ছাড়া ঘাঁটি ত্যাগ, অধীনস্থদের ছুটির আবেদন আটকে রাখা এবং দুর্ব্যবহারের অভিযোগের পরও শাস্তি বাতিলের আবেদন করে সফল হতে পারেননি দক্ষিণ কোরিয়ার ওই সেনা কর্মকর্তা। আদালতের রায়ে তাঁর দুই মাসের সাময়িক বরখাস্তের সিদ্ধান্ত বহাল থাকল।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আন্তর্জাতিক

View more
ফ্রান্সে দ্রব্যমূল্যের প্রতিবাদে পুলিশের সঙ্গে সং ঘর্ষ, আটক আড়াই শতাধিক
ফ্রান্সে দ্রব্যমূল্যের প্রতিবাদে পুলিশের সঙ্গে সং ঘর্ষ, আটক আড়াই শতাধিক

জীবনযাত্রার অসহনীয় ব্যয় এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ার প্রতিবাদে তীব্র আন্দোলনে ফুঁসে উঠেছে ফ্রান্স। রাজধানী প্যারিসসহ দেশটির বড় বড় শহরগুলোতে শনিবার রাজপথে নেমে এসেছেন হাজারো মানুষ। চলমান এই বিক্ষোভে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি একাত্মতা প্রকাশ করেছেন ছাত্র, শিক্ষক ও বিভিন্ন ট্রেড ইউনিয়নের সদস্যরা।   দীর্ঘ বিরতির পর আবারও মাঠে নেমেছেন ‘ইয়েলো ভেস্ট’ আন্দোলনের কর্মীরা, যা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে। সব পক্ষের এই সম্মিলিত প্রতিবাদ ফরাসি সরকারের ওপর নতুন করে প্রবল চাপ সৃষ্টি করেছে।   শনিবার প্যারিসের প্লেস দে লা রিপাবলিক চত্বর ও এর আশপাশের এলাকায় মুখোশ পরা বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের ব্যাপক ধাওয়াধাওয়ি ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দাঙ্গা পুলিশকে বাধ্য হয়ে এলোপাতাড়ি টিয়ার গ্যাস ও স্টান গ্রেনেড নিক্ষেপ করতে হয়। শুধু প্যারিস নয়, দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর মার্সেইতে বিক্ষোভকারীরা টাউন হল চত্বরে ব্যাপক ভাঙচুর চালায় এবং লিঁও শহরে একটি পর্যটন অফিসে আগুন ধরিয়ে দেয়।   দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, শনিবার দুপুরের মধ্যেই দেশজুড়ে ১৪০টিরও বেশি স্থানে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে এবং সহিংসতায় জড়িত থাকার অভিযোগে আড়াইশর বেশি মানুষকে পুলিশ আটক করেছে।   বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান সময়টি ফ্রান্সের জন্য একটি অত্যন্ত সংকটময় মুহূর্ত। একদিকে ফরাসি সরকার ক্রমবর্ধমান জাতীয় ঋণ ও বিশাল বাজেট ঘাটতি সামাল দিতে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছে, অন্যদিকে চড়া কর ও লাগামহীন দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে সাধারণ মানুষ পিষ্ট হয়ে দিশাহারা হয়ে পড়েছেন।   এর আগে স্কুলের অনুন্নত অবস্থা ও শিক্ষক সংকটের প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরাও ব্যাপক আন্দোলন করেছিল। রাজনৈতিক গবেষকরা মনে করছেন, বিভিন্ন মহলের পুঞ্জীভূত ক্ষোভেরই চূড়ান্ত বিস্ফোরণ ঘটেছে এই রাজপথের আন্দোলনে এবং ফরাসি জনগণ এখন নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন। উদ্ভূত এই উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে দেশের মানুষের ক্ষোভের বিষয়টি মাথায় রেখে প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ সবাইকে শান্ত থাকার এবং যেকোনো ধরনের ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।

প্রকাশ: অক্টোবর ১৭, ২০২৬ ১৩:১৯
টিকটিকিকে খাওয়ানোর অজুহাতে ঘাঁটি ছাড়তেন সেনা কর্মকর্তা

পোষা টিকটিকিকে খাওয়ানোর অজুহাতে ৬৪ বার ঘাঁটি ত্যাগ, দক্ষিণ কোরিয়ার সেনা কর্মকর্তার শাস্তি বহাল

টেসলা রোডস্টারের ওপর দিয়ে উড়ল আলেফ, উড়ন্ত গাড়ির বাজারে নতুন প্রতিদ্বন্দ্বী

টেসলা রোডস্টারের ওপর দিয়ে উড়ল আলেফ, উড়ন্ত গাড়ির বাজারে নতুন প্রতিদ্বন্দ্বী

ভারতের দিল্লিতে গ্রেপ্তারের এক দিন পর শর্তসাপেক্ষে জামিন পেয়েছেন সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে। ছবি: সংগৃহীত

আগামী এক বছর শান্তি বজায় রাখার শর্তে মুক্তি পেলেন সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে

মেক্সিকোতে পিকআপ ট্রাকের যন্ত্রাংশ চুরি করতে গিয়ে তিন সার্ফারকে হ ত্যা, আসামির ১৫৮ বছরের জেল
মেক্সিকোতে পিকআপ ট্রাকের যন্ত্রাংশ চুরি করতে গিয়ে তিন সার্ফারকে হ ত্যা, আসামির ১৫৮ বছরের জেল

মেক্সিকোতে ছুটি কাটাতে গিয়ে ডাকাতদের হামলায় প্রাণ হারানো যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়ার তিন সার্ফারের হত্যা মামলায় তিন মেক্সিকানকে ১৫৮ বছরের বেশি কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। শুক্রবার মেক্সিকান বিচারক রাউল হার্নান্দেজ এই রায় ঘোষণা করেন। সাজাপ্রাপ্ত তিন আসামি হলেন—জেসুস জেরার্দো, ইরিনিও ফ্রান্সিসকো এবং অ্যাঞ্জেল জেসুস।   ২০২৪ সালের এপ্রিলে মেক্সিকোর বাজা ক্যালিফোর্নিয়ায় সার্ফিং ট্রিপে গিয়ে মর্মান্তিক এই হত্যাকাণ্ডের শিকার হন অস্ট্রেলিয়ার দুই ভাই জেক রবিনসন (৩০) ও ক্যালাম রবিনসন (৩৩) এবং তাঁদের মার্কিন বন্ধু কার্টার রোড (৩০)।   প্রসিকিউটর কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ২৭ এপ্রিল এনসেনাডা শহরের কাছে একটি নির্জন সৈকতে ক্যাম্পিং করার সময় এই তিন বন্ধু হামলার শিকার হন। মূলত তাঁদের পিকআপ ট্রাকের টায়ার ও অন্যান্য যন্ত্রাংশ চুরির উদ্দেশ্যেই এই হামলা চালানো হয়েছিল।   হত্যার পর প্রমাণ নষ্ট করতে আসামিরা নিহতদের তাঁবু ও ট্রাক পুড়িয়ে দেয় এবং প্রায় চার মাইল দূরের একটি দুর্গম পাহাড়ি কূপে তাঁদের মৃতদেহ লুকিয়ে রাখে। ঘটনার কয়েকদিন পর কাঠ দিয়ে ঢাকা ওই লুকানো কূপ থেকে মাথায় গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তিনজনের লাশ উদ্ধার করা হয়। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনায় জেসুস জেরার্দোর সাবেক প্রেমিকা আরি জিসেল সিলভাকেও গত নভেম্বরে ২০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে, যিনি মূলত চুরি করতে আসামিদের প্ররোচিত করেছিলেন।   আদালতে বিচারক জানান, আসামিরা পূর্বপরিকল্পিতভাবেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। রায়ে তিন আসামির প্রত্যেককে ১৫৮ বছর ৯ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হলেও, প্রসিকিউটরদের দাবি করা এক লাখ ডলারের বেশি ক্ষতিপূরণের আবেদন খারিজ করে দেওয়া হয়। ক্ষতিপূরণের বিষয়টি দেওয়ানি আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সুরাহা করার নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক।   রায়ের পর নিহত কার্টারের মা পেজ বলেন, সন্তানের মৃত্যুর কোনো প্রকৃত ন্যায়বিচার হতে পারে না, তবে এই অপরাধীরা আর কারও ক্ষতি করতে পারবে না ভেবে তাঁরা কিছুটা স্বস্তিবোধ করছেন।   নিহত রবিনসন ভাইদের মা-বাবা এই দীর্ঘ বিচার প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে অস্ট্রেলিয়া থেকে মেক্সিকোতে এসেছিলেন। আদালতে কান্নায় ভেঙে পড়ে তাঁরা জানান, জীবনের শেষ মুহূর্তগুলোতে তাঁদের সন্তানদের ওপর চরম নিষ্ঠুরতা চালানো হয়েছে। অন্যদিকে, ভিডিও লিংকের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে কার্টারের বাগদত্তা নাটালি ওয়েইর্টজও অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছিলেন, যাঁদের আর কয়েকমাস পরই বিয়ের পিঁড়িতে বসার কথা ছিল।   মেক্সিকোর বাজা ক্যালিফোর্নিয়া অঞ্চলটি মাদক চোরাকারবার ও সংঘবদ্ধ অপরাধের জন্য পরিচিত হলেও, সার্ফিংয়ের স্বর্গরাজ্য হিসেবে পরিচিত এনসেনাডায় পর্যটকদের ওপর এমন নির্মম হামলার ঘটনা বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

প্রকাশ: অক্টোবর ১৭, ২০২৬ ১১:২২
যুক্তরাষ্ট্রে হৃদরোগ গবেষণায় নজর কাড়লেন ভারতীয় শিক্ষার্থী, সুযোগ পেলেন সম্মানজনক কর্মসূচিতে

যুক্তরাষ্ট্রে হৃদরোগ গবেষণায় নজর কাড়লেন ভারতীয় শিক্ষার্থী, সুযোগ পেলেন সম্মানজনক কর্মসূচিতে

অ্যাস্ট্রাজেনেকার কোভিডের টিকার ট্রায়ালে অংশ নিয়ে বিরল স্নায়বিক রোগে আক্রান্ত হলেও সরকারি সহায়তা পাননি ব্রিটিশ নার্স। ছবি: সংগৃহীত

'যথেষ্ট অক্ষম নন’, কোভিড টিকা পরীক্ষায় অংশ নিয়ে অসুস্থ নার্স, অক্ষমতার শর্তে মেলেনি সহায়তা

ইয়েমেনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় ধামার প্রদেশে আবাসিক বাড়িতে বিমান হামলায় তিন শিশু নিহত

ইয়েমেনে বিমান হামলায় তিন শিশু নিহত, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে বাড়ছে উত্তেজনা

ইরানের ২৫ বিলিয়ন ডলারের তেল আটকে দিল যুক্তরাষ্ট্র, বন্ধ আইআরজিসি সদস্যদের বেতনও
ইরানের ২৫ বিলিয়ন ডলারের তেল আটকে দিল যুক্তরাষ্ট্র, বন্ধ আইআরজিসি সদস্যদের বেতনও

যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর সামরিক অবরোধের মুখে চরম অর্থনৈতিক সংকটে পড়েছে মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম প্রভাবশালী দেশ ইরান। এই নজিরবিহীন অবরোধের ফলে তেহরানের অন্তত ২৫ বিলিয়ন ডলার মূল্যের অপরিশোধিত তেল রপ্তানি মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হয়েছে।   আল আরাবিয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার জানিয়েছেন, মার্কিন সামরিক অবরোধ তেহরানের ওপর ব্যাপক আর্থিক চাপ সৃষ্টি করেছে। আটকে দেওয়া এই বিপুল পরিমাণ অর্থ অন্যথায় ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী এবং মার্কিন বাহিনী ও আঞ্চলিক মিত্রদের ওপর হামলার পেছনে ব্যয় করা হতো বলে দাবি করেন তিনি।   অ্যাডমিরাল কুপার জানান, মার্কিন বাহিনী অন্যান্য সরকারি সংস্থার সঙ্গে নিবিড় সমন্বয়ের মাধ্যমে ইরানের তেল রপ্তানি, ডিজিটাল অর্থায়ন এবং নিরাপত্তা বাহিনীর বেতন—এই তিনটি প্রধান ক্ষেত্রে বড় ধরনের আঘাত হেনেছে। এর আগে পরিচালিত ৩৮ দিনব্যাপী ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’সহ বর্তমান পদক্ষেপগুলো মূলত বৃহত্তর মার্কিন অভিযানেরই অংশ।   এর মূল লক্ষ্য হলো ইরানের সামরিক খাতে অর্থায়ন, অস্ত্র কারখানা পুনর্নির্মাণ এবং মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীকে সহায়তার সক্ষমতা সম্পূর্ণ পঙ্গু করে দেওয়া। তেল রপ্তানি আটকে দেওয়ার পাশাপাশি সেন্ট্রাল কমান্ড ইতিমধ্যে প্রায় ৩৫০ মিলিয়ন ডলারের ক্রিপ্টোকারেন্সি সম্পদও জব্দ করেছে। এর ফলে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে অর্থায়ন করা অথবা ধ্বংস হয়ে যাওয়া সামরিক অবকাঠামো মেরামতের সুযোগও সীমিত হয়ে এসেছে।   এই তীব্র আর্থিক চাপের কারণে ইরানের নিজস্ব নিরাপত্তা বাহিনী, বিশেষ করে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) সদস্যদের বেতন পরিশোধ করতেও হিমশিম খাচ্ছে তেহরান। বাধ্য হয়ে তেল, জ্বালানি, উৎপাদন, নির্মাণ ও নিরাপত্তা খাতসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা, পেনশন এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা সাময়িকভাবে আটকে রাখা হয়েছে। এমনকি এই সংকটের ঢেউ আছড়ে পড়েছে মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের মিত্র সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর ওপরও।   আইআরজিসির তহবিলে অর্থ জোগান নিশ্চিত করতে গিয়ে অনেক মিত্র গোষ্ঠী তাদের নিজেদের যোদ্ধাদের বেতন পর্যন্ত বন্ধ করে দিয়েছে।   অ্যাডমিরাল কুপার বিষয়টিকে ইরানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা কাঠামোর চরম আর্থিক দুর্দশা এবং মরিয়া অবস্থার প্রমাণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে জানিয়েছেন, ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধ এখনো পুরোপুরি কার্যকর রয়েছে। সামুদ্রিক পথে সব ধরনের আমদানি-রপ্তানির ওপর এই কঠোর বিধিনিষেধ বলবৎ থাকলেও, আন্তর্জাতিক নিয়মানুযায়ী কেবল মানবিক সহায়তার ক্ষেত্রে কিছুটা ছাড় দেওয়া হচ্ছে।

প্রকাশ: অক্টোবর ১৭, ২০২৬ ৯:১৬
ইরানের প্রযুক্তিগত উন্নয়নই শত্রুর  হা মলা ঠেকানোর অন্যতম হাতিয়ার, বললেন পেজেশকিয়ান

ইরানের প্রযুক্তিগত উন্নয়নই শত্রুর হা মলা ঠেকানোর অন্যতম হাতিয়ার, বললেন পেজেশকিয়ান

মায়ের ভিসা প্রত্যাখ্যান, অসুস্থ স্বজনকে দেখতে ব্রিটিশ শিশুর সফর অনিশ্চিত

মায়ের ভিসা প্রত্যাখ্যান, অসুস্থ স্বজনকে দেখতে ব্রিটিশ শিশুর সফর অনিশ্চিত

হামজা মোহাম্মদ

যুক্তরাজ্যে ব্যাংককর্মী সেজে প্রবীণ নারীদের কার্ড হাতিয়ে নেয়ায় হামজা মোহাম্মদের কারাদণ্ড

0 Comments