সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আন্তর্জাতিক

লন্ডনে ম্যাকলেমোরের কনসার্ট ঘিরে বিতর্ক, অর্থ পাবে ৭ অক্টোবরের হা ম লাকে সমর্থনকারী সংগঠন

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: অক্টোবর ১৮, ২০২৬ ৭:৪৮
লন্ডনে ম্যাকলেমোরের কনসার্ট ঘিরে বিতর্ক, অর্থ পাবে ৭ অক্টোবরের  হা ম লাকে সমর্থনকারী সংগঠন
লন্ডনে ম্যাকলেমোরের কনসার্ট ঘিরে বিতর্ক, অর্থ পাবে ৭ অক্টোবরের হা ম লাকে সমর্থনকারী সংগঠন

বিখ্যাত র‍্যাপার ম্যাকলেমোরের আসন্ন যুক্তরাজ্য ট্যুরের আয়ের একটি অংশ এমন একটি গোষ্ঠীর তহবিলে যাচ্ছে, যারা ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামাসের জিম্মি করার ঘটনাকে 'বৈধ' এবং 'কার্যকর' বলে আখ্যায়িত করেছিল। দ্য জিউইশ ক্রনিকলের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী ৩০ অক্টোবর লন্ডনের ১২ হাজার ৫০০ দর্শক ধারণক্ষমতার ওয়েম্বলি অ্যারেনায় ম্যাকলেমোরের একটি কনসার্ট অনুষ্ঠিত হবে।

 

লাইভ নেশন পরিচালিত এই কনসার্টের আয় থেকে 'প্যালেস্টাইন ইয়ুথ মুভমেন্ট'সহ বেশ কয়েকটি সংগঠনকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। প্যালেস্টাইন ইয়ুথ মুভমেন্টের যুক্তরাজ্যের মুখপাত্র জেনিন হুরানি ৭ অক্টোবরের হামলা ও জিম্মি করার ঘটনাকে প্রকাশ্যে সমর্থন করেছিলেন এবং সংগঠনটি এই হত্যাযজ্ঞকে 'কারাগার ভাঙার' (prison break) সমতুল্য বলে মন্তব্য করেছিল।

 

এই পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেছে দ্য জিউইশ লিডারশিপ কাউন্সিল (জেএলসি)। তারা সতর্ক করে বলেছে, কনসার্টের আয়ের মাধ্যমে প্যালেস্টাইন ইয়ুথ মুভমেন্টকে অর্থায়ন করার অর্থ হলো ইহুদি সম্প্রদায়ের ওপর সহিংসতাকে পরোক্ষভাবে বৈধতা দেওয়া।

 

জেএলসি কনসার্ট আয়োজক প্রতিষ্ঠান লাইভ নেশনের কাছে তাদের যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া জনসমক্ষে প্রকাশের দাবি জানিয়েছে। একইসঙ্গে ইহুদি কর্মী ও দর্শকদের সুরক্ষায় কী ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তা স্পষ্ট করারও আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।

 

উল্লেখ্য, বেঞ্জামিন হ্যাগারটি, যিনি সংগীতাঙ্গনে ম্যাকলেমোর নামেই বেশি পরিচিত, সম্প্রতি পপ তারকা অ্যাড শিরানের মার্কিন ট্যুর থেকে বাদ পড়েছেন। গত সেপ্টেম্বরে নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে দুটি পারফরম্যান্সের সময় তিনি মঞ্চে দাঁড়িয়ে 'ফ্রি প্যালেস্টাইন' স্লোগান দেন এবং ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গণহত্যা ও বর্ণবাদের অভিযোগ তোলেন।

 

যদিও ইসরায়েল সরকার এসব অভিযোগ দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করে আসছে। তার এই মন্তব্যের পর জিলেট স্টেডিয়ামের মালিক রবার্ট ক্রাফটসহ বেশ কয়েকজন ভেন্যু মালিক আয়োজকদের জানিয়ে দেন যে তারা ম্যাকলেমোরকে তাদের ভেন্যুতে পারফর্ম করতে দেবেন না। ফলশ্রুতিতে আয়োজক সংস্থা মেসিনা ট্যুরিং গ্রুপ তাকে ট্যুর থেকে বাদ দিতে বাধ্য হয়।

 

ম্যাকলেমোরকে বাদ দেওয়ার এই সিদ্ধান্তকে জোরালোভাবে স্বাগত জানিয়েছে ইসরায়েলি-আমেরিকান কাউন্সিল। তারা একে 'ইহুদি-বিদ্বেষী বক্তব্য' থেকে হাজার হাজার দর্শককে বাঁচানোর একটি সঠিক পদক্ষেপ বলে মন্তব্য করেছে। সংগঠনটির মতে, বাকস্বাধীনতার অধিকার থাকলেও মঞ্চে দাঁড়িয়ে বিদ্বেষ ছড়ানোর কোনো অধিকার তার নেই।

 

তবে মার্কিন ট্যুর থেকে বাদ পড়ার পর ম্যাকলেমোর দমে যাননি, বরং নিজস্ব উদ্যোগে 'ম্যাকলেমোর অ্যান্ড ফ্রেন্ডস — ফ্রি প্যালেস্টাইন ট্যুর' নামের এই নতুন কনসার্ট সিরিজের ঘোষণা দিয়েছেন, যা এখন নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আন্তর্জাতিক

View more
কানাডার সামরিক ঘাঁটিতে ভ য়াবহ বি স্ফোরণ ও অ গ্নিকাণ্ড,  নি হত অন্তত ৭
কানাডার সামরিক ঘাঁটিতে ভ য়াবহ বি স্ফোরণ ও অ গ্নিকাণ্ড, নি হত অন্তত ৭

কানাডার আলবার্টা প্রদেশের একটি অন্যতম প্রধান সামরিক ঘাঁটিতে সরাসরি গোলাবর্ষণ প্রশিক্ষণের সময় গ্যাস পাইপলাইনে আঘাত লেগে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। 'কানাডিয়ান ফোর্সেস বেস ওয়েনরাইট' নামের এই প্রশিক্ষণকেন্দ্রে ঘটা এই দুর্ঘটনায় অন্তত সাতজনের প্রাণহানির পাশাপাশি বহু মানুষ আহত হয়েছেন বলে একাধিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে নিশ্চিত করা হয়েছে।   শনিবার ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক ঘটনাকে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি একটি 'গুরুতর ঘটনা' হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ডেভিড ম্যাকগিন্টি এই দুর্ঘটনায় হতাহতের বিষয়টি নিশ্চিত করলেও, পরিস্থিতি অত্যন্ত 'সক্রিয় ও স্পর্শকাতর' হওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে পূর্ণাঙ্গ পরিসংখ্যান বা দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ প্রকাশ করেননি। বর্তমানে কানাডার সামরিক বাহিনী ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিবিড়ভাবে কাজ করছে।   অগ্নিকাণ্ডের পরপরই প্রায় ১০০ কিলোমিটার বেগে বয়ে যাওয়া প্রবল বাতাসের কারণে আগুন দ্রুত সামরিক ঘাঁটির সীমানাপ্রাচীর পেরিয়ে বিস্তীর্ণ এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। তবে স্থানীয় অগ্নিনির্বাপণকর্মীরা আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়েছেন। এই আকস্মিক বিপর্যয়ে বিপুলসংখ্যক আহতের চাপে এডমন্টনের রয়্যাল আলেকজান্দ্রা হাসপাতালে জরুরি অবস্থা বা 'কোড অরেঞ্জ' ঘোষণা করা হয়েছে।   হাসপাতালটির জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ওয়ারেন থিরস্ক পরিস্থিতিকে একটি ভয়াবহ দুর্যোগ হিসেবে বর্ণনা করে জানান, এমন বিপুল রোগীর চাপ এডমন্টনের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার স্বাভাবিক ধারণক্ষমতার বাইরে এবং গত ১৫ থেকে ২৫ বছরে এমন মাত্রার সংকট আর দেখা যায়নি।   এই মর্মান্তিক ঘটনায় শুধু সামরিক বাহিনীই নয়, স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝেও গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ওয়েনরাইট শহরের মেয়র ব্রুস পিউ দিনটিকে তার সম্প্রদায়ের জন্য একটি 'ভারী ও শোকাবহ দিন' উল্লেখ করে জানান, সামরিক সদস্যদের সঙ্গে স্থানীয়দের জীবন গভীরভাবে জড়িত।   আলবার্টার প্রিমিয়ার ড্যানিয়েল স্মিথ এই অগ্নিকাণ্ডকে 'গুরুতর ও মর্মান্তিক' বলে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। ইতিমধ্যে উদ্ধার ও জরুরি চিকিৎসায় সহায়তা করতে সাসকাচোয়ান এবং ব্রিটিশ কলাম্বিয়াসহ প্রতিবেশী প্রদেশগুলোও দ্রুত সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। প্রায় ৬৯০ জন সামরিক ও ৩০০ জন বেসামরিক কর্মী অধ্যুষিত এই ঘাঁটির ইতিহাসে একে অন্যতম ভয়াবহ এক গণহতাহতের ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

প্রকাশ: অক্টোবর ১৮, ২০২৬ ৮:৯
লন্ডনে ম্যাকলেমোরের কনসার্ট ঘিরে বিতর্ক, অর্থ পাবে ৭ অক্টোবরের  হা ম লাকে সমর্থনকারী সংগঠন

লন্ডনে ম্যাকলেমোরের কনসার্ট ঘিরে বিতর্ক, অর্থ পাবে ৭ অক্টোবরের হা ম লাকে সমর্থনকারী সংগঠন

আলাস্কায় তুষারধসের ৫০ ঘণ্টা পর জীবিত উদ্ধার কুকুর, পথ দেখাল এয়ারট্যাগ

আলাস্কায় তুষারধসের ৫০ ঘণ্টা পর জীবিত উদ্ধার কুকুর, পথ দেখাল এয়ারট্যাগ

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ড পেলেন চিত্রনায়িকা মৌসুমী

তিন বছরের অপেক্ষা শেষে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ড পেলেন চিত্রনায়িকা মৌসুমী

মেহরদাদ আখলাগিকে প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে অনুমোদন
মেহরদাদ আখলাগিকে নতুন প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে অনুমোদন দিল ইরানের সংসদ

ইরানের নতুন প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে মেহরদাদ আখলাগি কেতাবচিকে অনুমোদন দিয়েছে দেশটির সংসদ। রোববার, ১৮ অক্টোবর আইনপ্রণেতারা তাঁকে আস্থাভোট দেন বলে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের বরাতে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি। তাঁর নিয়োগের মধ্য দিয়ে কয়েক মাস ধরে ভারপ্রাপ্ত মন্ত্রীর নেতৃত্বে চলা মন্ত্রণালয়ে নতুন পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রী এলেন।    আখলাগি ইরানের প্রতিরক্ষা খাতের অভিজ্ঞ কর্মকর্তা। তিনি দেশটির মহাকাশ ও ক্ষেপণাস্ত্রশিল্পে জ্যেষ্ঠ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। নতুন দায়িত্বে তাঁকে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদন ও সংগ্রহসংক্রান্ত কার্যক্রম তদারক করতে হবে। প্রতিরক্ষা খাতে সংশ্লিষ্টতার কারণে তাঁর ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স।    প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান অক্টোবরের শুরুতে আখলাগির নাম সংসদে পাঠান। ইরানের সংবাদ সংস্থা তাসনিম জানায়, স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফকে দেওয়া চিঠিতে তাঁর যোগ্যতা ও প্রস্তাবিত কর্মপরিকল্পনা পর্যালোচনার অনুরোধ করেন প্রেসিডেন্ট। সংসদীয় বিধি অনুযায়ী, আস্থাভোটের আগে সংশ্লিষ্ট কমিশনে মনোনীত ব্যক্তির পরিকল্পনা পর্যালোচনার ব্যবস্থা রয়েছে।    সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী আজিজ নাসিরজাদেহ গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় নিহত হওয়ার পর মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব পান মাজিদ ইবনে আল-রেজা। এবার তাঁর স্থলাভিষিক্ত হলেন আখলাগি।    আইনপ্রণেতাদের সামনে উপস্থাপিত পরিকল্পনায় আখলাগি সামরিক শিল্পের অবকাঠামো পুনর্গঠন, প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির উন্নয়ন ত্বরান্বিত করা এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।    সূত্র: রয়টার্স

প্রকাশ: অক্টোবর ১৮, ২০২৬ ৬:১১
ভারতীয় উড়োজাহাজের জন্য আকাশসীমায় নিষেধাজ্ঞা বাড়াল পাকিস্তান

ভারতীয় উড়োজাহাজের জন্য আকাশসীমায় নিষেধাজ্ঞা ২৪ নভেম্বর পর্যন্ত বাড়াল পাকিস্তান

ইহুদিদের সহ্য করতে পারিনা, তাদের প্রবেশ নিষিদ্ধের নোটিশ

ইহুদিদের সহ্য করতে পারিনা, তাদের প্রবেশ নিষিদ্ধের নোটিশ, জার্মান দোকানমালিকের  কারাদণ্ড স্থগিত

প্যারিসে বিক্ষোভের মধ্যে বাংলাদেশি মালিকানাধীন অন্তত আটটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে লুটপাট

"আমাদের উঠে দাঁড়ানোর মতো সম্বল নেই" প্যারিসে ৮ বাংলাদেশি দোকানে লুটপাট, ৭ লাখ ইউরো ক্ষতি

রুশ-নিয়ন্ত্রিত ওলেশকিতে খাবার ও ওষুধের সংকট
খাবারের অভাবে চরম দুর্দশায় ওলেশকির বাসিন্দারা, শহরটিকে ‘মৃ ত্যুফাঁদ’ বললেন ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে থাকা ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় ওলেশকি শহরে খাদ্য ও ওষুধের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। শহরটির বাসিন্দারা অনাহার ও চিকিৎসাসংকটের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা। শনিবার, ১৭ অক্টোবর তিনি শহরটিকে ‘মৃ ত্যুফাঁদ’ হিসেবে বর্ণনা করে বাসিন্দাদের নিরাপদে সরিয়ে নিতে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর জরুরি সহায়তা চেয়েছেন।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় সিবিহা বলেন, রুশ দখলদার বাহিনী ওলেশকিকে এমন এক পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দিচ্ছে, যেখানে বাসিন্দাদের বেঁচে থাকাই কঠিন হয়ে পড়েছে। তাঁর অভিযোগ, শহরের হাসপাতালে ওষুধ শেষ হয়ে গেছে। রাস্তায় এবং বাড়ির ভেতরে বহু মানুষের মর দেহ পড়ে থাকলেও সেগুলো দাফন করতে বাসিন্দাদের বাধা দেওয়া হচ্ছে। খাদ্যসংকটের ভয়াবহতা তুলে ধরে সিবিহা বলেন, অনেক পরিবার বাগানে অবশিষ্ট থাকা শাকসবজি, সংরক্ষিত খাবার এমনকি শামুক খেয়েও বেঁচে থাকার চেষ্টা করছে। তাঁর ভাষ্য, ইউক্রেন বারবার নিরাপদে বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়া এবং মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। এসব আবেদন আর উপেক্ষা করা উচিত নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি। ওলেশকির পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও উদ্বেগ বাড়ছে। শহরটিতে যুদ্ধের আগে প্রায় ২৪ হাজার মানুষ বসবাস করতেন। কিন্তু বর্তমানে সেখানে প্রায় ১ হাজার ৭০০ বাসিন্দা রয়েছেন, যাঁদের মধ্যে ৪৭টি শিশু রয়েছে। ইউক্রেনে জাতিসংঘের মানবাধিকার পর্যবেক্ষণ মিশনের প্রধান ড্যানিয়েল বেল এই জনসংখ্যার তথ্য জানিয়েছেন। শহরটির অবস্থানও মানবিক সংকটকে আরও জটিল করে তুলেছে। দক্ষিণ ইউক্রেনের খেরসন অঞ্চলে নিপ্রো নদীর পূর্ব তীরে অবস্থিত ওলেশকি। ২০২২ সালে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আক্রমণ শুরুর পরপরই অঞ্চলটির বড় অংশ রুশ বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। পরে ইউক্রেনীয় বাহিনী পাল্টা অভিযানে খেরসন শহরসহ বেশ কিছু এলাকা পুনর্দখল করে। তবে ওলেশকি এখনো রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। শহরটিতে খাবার ও চিকিৎসাসামগ্রীর সংকটের কথা রাশিয়াও এর আগে স্বীকার করেছে। সেপ্টেম্বরে ক্রেমলিন জানায়, ওলেশকিতে খাদ্য ও ওষুধ সরবরাহে গুরুতর সমস্যা রয়েছে। তবে রুশ সামরিক বাহিনী পরিস্থিতি সমাধানে কাজ করছে বলেও দাবি করা হয়। অন্যদিকে, ইউক্রেনীয় বাহিনী ড্রোনের মাধ্যমে শহরটিতে খাবার ও ওষুধ পৌঁছানোর চেষ্টা করেছে। সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে এক অভিযানে ভারী মালামাল বহনে সক্ষম ড্রোন ব্যবহার করে প্রায় চার টন খাদ্য ও চিকিৎসাসামগ্রী শহরের বিভিন্ন স্থানে পৌঁছে দেওয়া হয় বলে ইউক্রেনীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন। তবে বিচ্ছিন্নভাবে এসব সরবরাহ পৌঁছালেও তা দীর্ঘস্থায়ী সংকট মোকাবিলায় যথেষ্ট কি না, তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। এদিকে, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ১৬ অক্টোবর পোপ লিওর সঙ্গে আলোচনায় ওলেশকিতে জরুরি সরবরাহ পৌঁছাতে সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দেন। পোপ শহরটির বেসামরিক মানুষের জন্য খাদ্য ও মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর ব্যবস্থা করতে রাশিয়ার প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন। পুতিনের প্রতিশ্রুতিকে সম্ভাব্য সহায়তা উদ্যোগের গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হলেও বাস্তবে নিরাপদ সরবরাহ ও সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা কত দ্রুত কার্যকর হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাতিসংঘ, আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটি এবং অন্যান্য মানবিক সংস্থাকে দ্রুত নিরাপদে মানুষ সরিয়ে নেওয়ার পথ তৈরি ও জরুরি সহায়তা পৌঁছানোর ব্যবস্থা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি চলতি সপ্তাহে ওলেশকির পরিস্থিতিকে ‘গণহত্যা’ বলে বর্ণনা করেছেন। এটি তাঁর অভিযোগ; স্বাধীনভাবে আইনি সিদ্ধান্ত হিসেবে প্রতিষ্ঠিত কোনো ঘোষণা নয়। ওলেশকির সংকটের পাশাপাশি খেরসন অঞ্চলেও সহিংসতা অব্যাহত রয়েছে। স্থানীয় কৌঁসুলিদের বরাতে জানা গেছে, শনিবার নিপ্রো নদীর অপর তীরে অবস্থিত খেরসন শহরে রুশ বাহিনী আকাশ থেকে বোমা নিক্ষেপ করে। এতে একজন অ্যাম্বুলেন্সচালক প্রাণ হারান এবং আরও ৪০ জন আহত হন। সব মিলিয়ে ওলেশকিতে খাদ্য, ওষুধ ও নিরাপদে সরে যাওয়ার সুযোগের অভাব একটি বড় মানবিক সংকটে রূপ নিয়েছে। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সহায়তা এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে সমঝোতা ছাড়া সেখানকার বেসামরিক মানুষের দুর্দশা কমানো কঠিন হতে পারে।

প্রকাশ: অক্টোবর ১৭, ২০২৬ ২০:৪৫
রিয়াদে সম্ভাব্য বিপদের সতর্কবার্তা জারি

হুথিদের হা মলার উত্তেজনার মধ্যে রিয়াদে জরুরি সতর্কবার্তা, নিরাপদ স্থানে থাকার নির্দেশ বাসিন্দাদের

প্যারিসে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে জলকামান পুলিশের

প্যারিসসহ ফ্রান্সের বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ, গ্রে প্তার ৪০০ জনের বেশি

পশ্চিম তীরে হামলার পর ঘটনাস্থলে মুখোশধারী বসতি স্থাপনকারীরা

ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরে কূটনীতিকদের লক্ষ্য করে হামলা, ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের নিয়ে নতুন বিতর্ক

0 Comments