ভারত–যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য চুক্তি প্রায় চূড়ান্ত, মুম্বাইয়ে রুবিওর বড় ঘোষণা
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ২০ অক্টোবর মুম্বাইয়ে সাংবাদিকদের বলেন, ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি বাস্তবায়নের আগে যতটা কাছাকাছি পৌঁছানো সম্ভব, বর্তমানে প্রায় সেই পর্যায়ে রয়েছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, বাকি বিষয়গুলো দ্রুত সমাধান করা গেলে শিগগিরই চুক্তি নিয়ে অগ্রগতি ঘোষণা করা সম্ভব হতে পারে। তবে চুক্তি স্বাক্ষরের নির্দিষ্ট তারিখ এখনো নিশ্চিত করা হয়নি।
ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর ও রুবিওর বৈঠকে বাণিজ্যের পাশাপাশি জ্বালানি, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতার বিষয়ও আলোচনায় আসে। দুই দেশের সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ এই আলোচনায় আঞ্চলিক জ্বালানি নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদারের বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে।
এই চুক্তি নিয়ে আলোচনার পেছনে রয়েছে দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের শুল্কবিরোধ ও বাজারে প্রবেশাধিকার নিয়ে মতপার্থক্য। ২০২৫ সালের আগস্টে বাণিজ্য আলোচনা ভেঙে পড়ার পর যুক্তরাষ্ট্র ভারতের অধিকাংশ পণ্যের ওপর সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছিল। পরে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে সম্মত কাঠামোর আওতায় অধিকাংশ ভারতীয় পণ্যের শুল্কহার ১৮ শতাংশে নামিয়ে আনার কথা জানানো হয়। কিন্তু এই সমঝোতার পরও চূড়ান্ত চুক্তি নিয়ে আলোচনা থেমে থেমে এগিয়েছে।
ভারতের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি হলো যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা নিশ্চিত করা। ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়াল ১৫ অক্টোবর জানিয়েছিলেন, চুক্তির প্রথম পর্যায়ের আইনি খসড়া তৈরির কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। তবে বাংলাদেশ, ভিয়েতনাম ও ইন্দোনেশিয়ার মতো প্রতিদ্বন্দ্বী দেশের তুলনায় ভারতীয় রপ্তানিকারকেরা যেন শুল্কের ক্ষেত্রে পিছিয়ে না পড়েন, তা নিশ্চিত করতে চায় নয়াদিল্লি।
অন্যদিকে, রাশিয়ার কাছ থেকে ভারতের জ্বালানি তেল কেনা ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ জটিলতা। ইউক্রেন যুদ্ধের পর থেকে ভারত তুলনামূলক কম দামে রুশ অপরিশোধিত তেল কিনে আসছে। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এ নিয়ে চাপ থাকলেও ভারতের অবস্থান হলো, দেশের বিপুল জ্বালানি চাহিদা, সরবরাহের স্থিতিশীলতা এবং মূল্য নিয়ন্ত্রণের বিষয় বিবেচনা করে তেল আমদানির উৎস নির্ধারণ করতে হয়।
রয়টার্সের ২০ অক্টোবরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি রুশ তেল কেনার কারণে কয়েকটি দেশের ওপর সম্ভাব্য অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের বিধান প্রয়োগে ছাড় দিয়েছেন। এই পদক্ষেপ ভারত–যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য চুক্তির পথে একটি বাধা কমাতে পারে। তবে রাশিয়ার তেল আমদানি নিয়ে দুই দেশের নীতিগত পার্থক্য পুরোপুরি মিটে গেছে—এমন কোনো নিশ্চিত তথ্য নেই।
রুবিওর ভারত সফরে জ্বালানি সহযোগিতাও বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। তিনি গুজরাটের জামনগরে রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের তেল শোধনাগার পরিদর্শন এবং প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করবেন বলে জানানো হয়েছে। ভেনেজুয়েলার অপরিশোধিত তেল আরও বেশি পরিশোধন এবং দেশটিতে তেল উৎপাদনের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা করতে চান তিনি। এই উদ্যোগ জ্বালানি সরবরাহের বিকল্প উৎস বাড়ানো এবং দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক সম্প্রসারণের বৃহত্তর প্রচেষ্টার অংশ।
ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চুক্তি হলে দুই দেশের ব্যবসায়ী, রপ্তানিকারক ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের জন্য বাজারে প্রবেশাধিকার এবং শুল্কসংক্রান্ত অনিশ্চয়তা কমার সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে চুক্তির চূড়ান্ত শর্ত, কোন পণ্যে কী ধরনের সুবিধা থাকবে এবং কখন তা কার্যকর হবে—এসব বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসা পর্যন্ত নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাবে না।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আন্তর্জাতিক
View moreযুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ২০ অক্টোবর মুম্বাইয়ে সাংবাদিকদের বলেন, ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি বাস্তবায়নের আগে যতটা কাছাকাছি পৌঁছানো সম্ভব, বর্তমানে প্রায় সেই পর্যায়ে রয়েছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, বাকি বিষয়গুলো দ্রুত সমাধান করা গেলে শিগগিরই চুক্তি নিয়ে অগ্রগতি ঘোষণা করা সম্ভব হতে পারে। তবে চুক্তি স্বাক্ষরের নির্দিষ্ট তারিখ এখনো নিশ্চিত করা হয়নি। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর ও রুবিওর বৈঠকে বাণিজ্যের পাশাপাশি জ্বালানি, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতার বিষয়ও আলোচনায় আসে। দুই দেশের সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ এই আলোচনায় আঞ্চলিক জ্বালানি নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদারের বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে। এই চুক্তি নিয়ে আলোচনার পেছনে রয়েছে দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের শুল্কবিরোধ ও বাজারে প্রবেশাধিকার নিয়ে মতপার্থক্য। ২০২৫ সালের আগস্টে বাণিজ্য আলোচনা ভেঙে পড়ার পর যুক্তরাষ্ট্র ভারতের অধিকাংশ পণ্যের ওপর সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছিল। পরে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে সম্মত কাঠামোর আওতায় অধিকাংশ ভারতীয় পণ্যের শুল্কহার ১৮ শতাংশে নামিয়ে আনার কথা জানানো হয়। কিন্তু এই সমঝোতার পরও চূড়ান্ত চুক্তি নিয়ে আলোচনা থেমে থেমে এগিয়েছে। ভারতের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি হলো যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা নিশ্চিত করা। ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়াল ১৫ অক্টোবর জানিয়েছিলেন, চুক্তির প্রথম পর্যায়ের আইনি খসড়া তৈরির কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। তবে বাংলাদেশ, ভিয়েতনাম ও ইন্দোনেশিয়ার মতো প্রতিদ্বন্দ্বী দেশের তুলনায় ভারতীয় রপ্তানিকারকেরা যেন শুল্কের ক্ষেত্রে পিছিয়ে না পড়েন, তা নিশ্চিত করতে চায় নয়াদিল্লি। অন্যদিকে, রাশিয়ার কাছ থেকে ভারতের জ্বালানি তেল কেনা ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ জটিলতা। ইউক্রেন যুদ্ধের পর থেকে ভারত তুলনামূলক কম দামে রুশ অপরিশোধিত তেল কিনে আসছে। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এ নিয়ে চাপ থাকলেও ভারতের অবস্থান হলো, দেশের বিপুল জ্বালানি চাহিদা, সরবরাহের স্থিতিশীলতা এবং মূল্য নিয়ন্ত্রণের বিষয় বিবেচনা করে তেল আমদানির উৎস নির্ধারণ করতে হয়। রয়টার্সের ২০ অক্টোবরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি রুশ তেল কেনার কারণে কয়েকটি দেশের ওপর সম্ভাব্য অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের বিধান প্রয়োগে ছাড় দিয়েছেন। এই পদক্ষেপ ভারত–যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য চুক্তির পথে একটি বাধা কমাতে পারে। তবে রাশিয়ার তেল আমদানি নিয়ে দুই দেশের নীতিগত পার্থক্য পুরোপুরি মিটে গেছে—এমন কোনো নিশ্চিত তথ্য নেই। রুবিওর ভারত সফরে জ্বালানি সহযোগিতাও বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। তিনি গুজরাটের জামনগরে রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের তেল শোধনাগার পরিদর্শন এবং প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করবেন বলে জানানো হয়েছে। ভেনেজুয়েলার অপরিশোধিত তেল আরও বেশি পরিশোধন এবং দেশটিতে তেল উৎপাদনের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা করতে চান তিনি। এই উদ্যোগ জ্বালানি সরবরাহের বিকল্প উৎস বাড়ানো এবং দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক সম্প্রসারণের বৃহত্তর প্রচেষ্টার অংশ। ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চুক্তি হলে দুই দেশের ব্যবসায়ী, রপ্তানিকারক ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের জন্য বাজারে প্রবেশাধিকার এবং শুল্কসংক্রান্ত অনিশ্চয়তা কমার সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে চুক্তির চূড়ান্ত শর্ত, কোন পণ্যে কী ধরনের সুবিধা থাকবে এবং কখন তা কার্যকর হবে—এসব বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসা পর্যন্ত নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাবে না।
মোদির বাসভবনের পাশের ঐতিহাসিক মসজিদ ছয় দিনের মধ্যে খালি করার নির্দেশ
হিজাব পড়ার জন্য ছাড়াতে হলো ২১ বছরের শিক্ষকতা, শিক্ষিকাকে অশ্রুসিক্ত বিদায় দিলেন ছাত্ররা
সৌদি আরবে ভিক্ষাবৃত্তির অভিযোগে বাংলাদেশ ও ভারতের চার নাগরিক গ্রেপ্তার
ফ্রান্সের পোশাকের দোকান পিমকির সামনে এক নারীর কাছ থেকে কাপড় নিয়ে দোকানে ফিরিয়ে দেওয়ার একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওটিকে লুটপাটের ঘটনার দৃশ্য হিসেবে প্রচার করা হচ্ছে। তবে এটি ঠিক কবে এবং কোন শহরে ধারণ করা হয়েছে, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ফরাসি সংবাদমাধ্যম ল্য ত্রিবুনাল দ্য নেটের ১৯ অক্টোবরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভিডিওটি ১৮ অক্টোবর এক্সে ছড়ানো হয়। সেখানে ক্ষতিগ্রস্ত একটি পিমকি দোকানের সামনে এক নারীকে বেশ কিছু পোশাক নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। তাঁর সঙ্গে শিশু ও একটি বেবি স্ট্রলারও ছিল। প্রতিবেদনটির বর্ণনা অনুযায়ী, এক ব্যক্তি এগিয়ে এসে ওই নারীর হাত থেকে পোশাকগুলো নিয়ে নেন। এরপর ফুটপাতে পড়ে থাকা কাপড়ও তুলে দোকানের দিকে যান এবং সেগুলো ভেতরে ফিরিয়ে দেন। অনলাইনে অনেকেই ওই ব্যক্তিকে নারীর স্বামী বলে উল্লেখ করছেন। ভিডিওতে শোনা রুশ ভাষার মন্তব্যেও তাঁকে স্বামী বলা হয়েছে বলে জানিয়েছে ফরাসি সংবাদমাধ্যমটি। তবে ভিডিওটি ছড়ানো পোস্টে শুধু একজন পুরুষের কথা বলা হয়েছে। তাঁদের পরিচয় বা পারস্পরিক সম্পর্ক নিশ্চিত হয়নি। টাইমস অব ইন্ডিয়াও ২০ অক্টোবর ভিডিওটি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। সেখানে ঘটনাটিকে ফ্রান্সে বিক্ষোভ ও দোকান লুটপাটের প্রেক্ষাপটে তুলে ধরা হয়েছে। তবে ভিডিওটির নির্দিষ্ট স্থান ও ধারণের সময় সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য দেওয়া হয়নি। ফলে এটিকে প্যারিসে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক বিক্ষোভের দৃশ্য হিসেবে নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। ঘটনার পর ওই নারী বা পুরুষের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না, তা প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ নেই। পোশাক ফিরিয়ে দেওয়ার দৃশ্যটি আলোচনায় এলেও তাঁদের উদ্দেশ্য বা ঘটনার আগের পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
ক্রুজ জাহাজ থেকে সমুদ্রে পড়ে গিয়ে ২০ ঘণ্টা ভেসে থাকার পর জীবিত উদ্ধার নারী!
তিন দেশে কোম্পানি চালান ১২ বছর বয়সের ৭ম শ্রেণির মানা!
ফেসবুক পোস্টে সৌদিতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত শ্রীলঙ্কান নাগরিক মুক্তি পেলেন নিজ দেশের কূটনৈতিকদের তৎপরতায়
যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়ায় দুই কারারক্ষীর ওপর হামলার ঘটনায় কানাডীয় নাগরিক আবদুলরহমান এল বাহনাসাওয়িকে আরও ৫০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। সোমবার, ১৯ অক্টোবর ঘোষিত এই সাজা তাঁর আগের ৪০ বছরের কারাদণ্ডের পর কার্যকর হবে। ফলে নিউইয়র্কে সন্ত্রাসী হামলার ষড়যন্ত্রে দণ্ডিত ২৮ বছর বয়সী বাহনাসাওয়ির মোট সাজা দাঁড়াল ৯০ বছর। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ সালের ৭ ডিসেম্বর অ্যালেনউড ফেডারেল কারাগারে হামলাটি ঘটে। নিজের সেলের স্টিলের ডেস্কের অংশ দিয়ে বানানো অস্ত্র দিয়ে এক কারারক্ষীর মাথা ও মুখে আঘাত করেন বাহনাসাওয়ি। তাঁকে সাহায্য করতে এগিয়ে আসা আরেক নারী কারারক্ষীর হাতেও আঘাত করেন তিনি। প্রথম কারারক্ষী পরে ডান চোখ হারান। হামলার পর বাহনাসাওয়িকে নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার সময় তাঁর মোজা থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করা হয়। সেখানে হামলাটি ইসলামিক স্টেটের পক্ষে চালানোর কথা লেখা ছিল। তাঁর সেলের লকারের দরজার ভেতরেও আইএসের প্রতি আনুগত্যের অঙ্গীকার পাওয়া যায় বলে জানিয়েছে বিচার বিভাগ। বাহনাসাওয়ি ২০২৫ সালের নভেম্বরে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা, কারাগারে নিষিদ্ধ সামগ্রী রাখা এবং আইএসকে সহায়তা দেওয়াসহ একাধিক অপরাধে দোষ স্বীকার করেন। মামলাটি তদন্ত করেছে এফবিআইয়ের ফিলাডেলফিয়া ফিল্ড অফিস। এর আগে ২০১৬ সালে নিউইয়র্কে আইএসের নামে বোমা হামলা ও গুলিবর্ষণের ষড়যন্ত্রে জড়িয়েছিলেন তিনি। আইএস সমর্থকের পরিচয়ে এফবিআইয়ের এক ছদ্মবেশী এজেন্ট ওই চক্রে প্রবেশ করেন। হামলার প্রস্তুতি নিতে কানাডা থেকে নিউইয়র্ক এলাকায় আসার পর ওই বছরের মে মাসে বাহনাসাওয়িকে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে তাঁর আইনজীবী অ্যান্ডি ফ্রিশ নিউইয়র্ক পোস্টের কাছে দাবি করেছেন, বাহনাসাওয়ি দীর্ঘদিন ধরে সিজোফ্রেনিয়াসহ মানসিক সমস্যায় ভুগছেন। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও ওষুধের বিষয়ে পরিবারের বারবার জানানো সত্ত্বেও কারা কর্তৃপক্ষ যথাযথ ব্যবস্থা নেয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর দাবি, চিকিৎসার ঘাটতিতে মানসিক অবস্থার অবনতি থেকেই কারাগারে হামলার ঘটনা ঘটে। রায়ের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ বিবেচনা করছে পরিবার।
রাতভর বিক্ষোভ ও লুটপাটে ফ্রান্সের ১৯ শতকের টাউন হলে আ গু ন, গ্রে প্তা র এক ব্যক্তি
ফ্রান্সে বিক্ষোভ-সহিংসতার জন্য ট্রাম্প ও ইরান যুদ্ধ দায়ী করলেন প্রেসিডেন্ট মাক্রোঁ