সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আন্তর্জাতিক

৯ বছর বয়সে চাঁদে মানুষের প্রথম পদক্ষেপ দেখেছিলেন, সেই নায়কের বাড়ি বাঁচাতে দিলেন ৪ লাখ ডলার

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: অক্টোবর ২৪, ২০২৬ ৯:৫৯
৯ বছর বয়সে চাঁদে মানুষের প্রথম পদক্ষেপ দেখেছিলেন, সেই নায়কের বাড়ি বাঁচাতে দিলেন ৪ লাখ ডলার
৯ বছর বয়সে চাঁদে মানুষের প্রথম পদক্ষেপ দেখেছিলেন, সেই নায়কের বাড়ি বাঁচাতে দিলেন ৪ লাখ ডলার

১৯৬৯ সালে মাত্র ৯ বছর বয়সে টেলিভিশনের পর্দায় নীল আর্মস্ট্রংয়ের ঐতিহাসিক চন্দ্রজয় দেখেছিলেন কেন শ্রেইবার। সেই স্মৃতি তাকে এতটাই অনুপ্রাণিত করেছিল যে, দশকের পর দশক পেরিয়ে এসে প্রিয় মহাকাশচারীর শৈশবের স্মৃতিবিজড়িত বাড়িটি সংরক্ষণের জন্য তিনি একাই ৪ লাখ মার্কিন ডলার দান করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস নিবাসী এই অবসরপ্রাপ্ত সামরিক ও বাণিজ্যিক পাইলটের অর্থায়নেই বাড়িটি কিনে নেওয়ার সুযোগ পেয়েছে 'অগ্লাইজ কাউন্টি হিস্টোরিক্যাল সোসাইটি'।

 

ওহাইও অঙ্গরাজ্যের ওয়াপাকোনেটায় অবস্থিত আর্মস্ট্রংয়ের পুরোনো বাড়িটি ২০২৬ সালের আগস্ট মাসে বিক্রির জন্য তালিকাভুক্ত করা হয়। কিন্তু ঐতিহাসিক এই স্থাপনাটি সংরক্ষণে কেউ এগিয়ে না আসায় শ্রেইবার নিজেই দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

 

শুরুতে বন্ধুদের কাছে অনুদান চাইলেও পরে বাবার দেওয়া 'জীবনে নিজের একটি চিহ্ন রেখে যাওয়ার' উপদেশ স্মরণ করে তিনি পুরো ৪ লাখ ডলার নিজেই পরিশোধ করেন। গত গ্রীষ্মে বাড়িটি ঘুরে দেখার অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, "সেখানে গেলে মনে হচ্ছিল নীল আর্মস্ট্রংয়ের আত্মাই যেন উপস্থিত। আমি কল্পনা করতে পারছিলাম তিনি সিঁড়ি দিয়ে দৌড়ে ওঠানামা করছেন।"

 

ইতিহাস বলছে, এই বাড়ির ডাইনিং রুমেই ভবিষ্যতের বিখ্যাত এই মহাকাশচারী মডেল প্লেন তৈরি করতেন। এমনকি নিজের নকশা পরীক্ষা করার জন্য বেসমেন্টে একটি উইন্ড টানেলও বানিয়েছিলেন তিনি। এই বাড়িতে বসবাসকালীন মাত্র ১৬ বছর বয়সেই আর্মস্ট্রং তার প্রথম একক উড্ডয়ন সম্পন্ন করেন এবং পাইলট লাইসেন্স অর্জন করেন।

 

গত ১৯ অক্টোবর বাড়িটির মালিকানা আনুষ্ঠানিকভাবে অগ্লাইজ কাউন্টি হিস্টোরিক্যাল সোসাইটির কাছে হস্তান্তর করা হয়। সংস্থাটির পরিচালক র‍্যাচেল বারবার জানিয়েছেন, ১৯৪৪ সালে আর্মস্ট্রং পরিবার বাড়িটি কিনেছিল। তাই তারা বাড়িটিকে ১৯৪০-এর দশকের আদলে সংস্কার করার পরিকল্পনা করেছেন। আগামী তিন বছরের মধ্যে এটি জনসাধারণের পরিদর্শনের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

 

এর আগে দীর্ঘ প্রায় চার দশক বাড়িটির মালিক ছিলেন কারেন মাইকসেল নামের ৮২ বছর বয়সী এক অবসরপ্রাপ্ত ইতিহাস শিক্ষক। ১৯৮৮ সালে বাড়িটি কেনার পর থেকেই তিনি আর্মস্ট্রং পরিবারের স্মৃতিগুলো সযত্নে ধরে রাখার চেষ্টা করেছেন। তার মালিকানাধীন সময়ে বাজ অলড্রিনসহ মোট নয়জন মহাকাশচারী বাড়িটি পরিদর্শন করেন।

 

২০১২ সালে আর্মস্ট্রংয়ের মৃত্যুর কয়েক বছর পর অলড্রিন যখন তার পুরোনো শোবার ঘরে প্রবেশ করেন, তখন আবেগে তার চোখ দিয়ে জল গড়িয়ে পড়েছিল। বর্তমানে ওই কক্ষে চন্দ্রজয়ের বিভিন্ন শিল্পকর্ম এবং পরিদর্শনকারী মহাকাশচারীদের স্বাক্ষরিত ছবি সংরক্ষিত রয়েছে।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আন্তর্জাতিক

View more
ক্যানসারের নতুন টিকায় সাফল্য, রোগ ফিরে আসা ও মৃ ত্যুর ঝুঁকি কমেছে ৪২ শতাংশ
ক্যানসারের নতুন টিকায় সাফল্য, রোগ ফিরে আসা ও মৃ ত্যুর ঝুঁকি কমেছে ৪২ শতাংশ

ত্বকের মারাত্মক ক্যানসার মেলানোমার চিকিৎসায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে পরীক্ষামূলক একটি কাস্টমাইজড টিকা। সাম্প্রতিক এক ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে দেখা গেছে, ক্যানসার অপসারণের অস্ত্রোপচারের পর প্রচলিত ইমিউনোথেরাপির পাশাপাশি এই টিকা প্রয়োগ করলে রোগটি ফিরে আসা বা মৃত্যুর ঝুঁকি প্রায় ৪২ শতাংশ পর্যন্ত কমে যায়।   শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) অস্ট্রেলিয়ার সংবাদমাধ্যমসহ আন্তর্জাতিক গবেষণাপত্রে চিকিৎসা বিজ্ঞানের এই যুগান্তকারী সাফল্যের তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।   সাধারণ টিকার মতো রোগ প্রতিরোধের জন্য নয়, বরং ক্যানসারে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার উদ্দেশ্যেই বিশেষ এই টিকাটি তৈরি করা হয়েছে। প্রতিটি রোগীর টিউমারের জেনেটিক বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ করে সম্পূর্ণ আলাদাভাবে এটি প্রস্তুত করা হয়। এর মূল লক্ষ্য হলো রোগীর শরীরের নিজস্ব রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে ক্যানসার কোষ শনাক্ত ও ধ্বংস করতে সহায়তা করা, যাতে অস্ত্রোপচারের পর অবশিষ্ট থাকা আণুবীক্ষণিক ক্যানসার কোষগুলো নির্মূল করা সম্ভব হয়।   গবেষকেরা জানিয়েছেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ১ হাজার ১৩৭ জন উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ মেলানোমা ক্যানসার রোগীকে নিয়ে বড় পরিসরে এই টিকার পরীক্ষামূলক প্রয়োগ চালানো হয়েছিল। চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা মনে করছেন, মেলানোমার চিকিৎসায় এই সাফল্য ভবিষ্যতে অন্যান্য জটিল ক্যানসারের চিকিৎসায়ও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। তবে টিকাটির দীর্ঘমেয়াদি কার্যকারিতা ও নিরাপত্তা সম্পর্কে শতভাগ নিশ্চিত হতে আরও বিস্তর গবেষণার কাজ চলমান রয়েছে।

প্রকাশ: অক্টোবর ২৪, ২০২৬ ১১:১৫
মার্কিন নাগরিকদের ওপর হা মলার আশঙ্কা, মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশ থেকে কর্মী সরাচ্ছে ওয়াশিংটন

মার্কিন নাগরিকদের ওপর হা মলার আশঙ্কা, মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশ থেকে কর্মী সরাচ্ছে ওয়াশিংটন

অসুস্থতার কারণে ছুটি নেওয়ার পর চিকিৎসকের সনদ জমা দেওয়া সত্ত্বেও চাকরি হারানোর অভিযোগ তুলেছেন এক কর্মী। ছবি: সংগৃহীত

চিকিৎসকের সনদ দিয়েও অসুস্থতার ছুটির পর অফিসে গিয়ে দেখেন চাকরি নেই

যুক্তরাজ্যের বার্কশায়ারের রিডিংয়ে প্রবীণদের ফ্ল্যাটে পরিবারসহ বসবাস নিয়ে বিরোধের অবসানে বাসা ছাড়তে সমঝোতায় পৌঁছেছেন বাংলাদেশি শহিদুল হক। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাজ্যে প্রবীণদের নির্ধারিত ফ্ল্যাটে পরিবারসহ বসবাস, বাংলাদেশি শহিদুল হকের পরিবারেকে ছাড়তে হল ফ্ল্যাট

৯ বছর বয়সে চাঁদে মানুষের প্রথম পদক্ষেপ দেখেছিলেন, সেই নায়কের বাড়ি বাঁচাতে দিলেন ৪ লাখ ডলার
৯ বছর বয়সে চাঁদে মানুষের প্রথম পদক্ষেপ দেখেছিলেন, সেই নায়কের বাড়ি বাঁচাতে দিলেন ৪ লাখ ডলার

১৯৬৯ সালে মাত্র ৯ বছর বয়সে টেলিভিশনের পর্দায় নীল আর্মস্ট্রংয়ের ঐতিহাসিক চন্দ্রজয় দেখেছিলেন কেন শ্রেইবার। সেই স্মৃতি তাকে এতটাই অনুপ্রাণিত করেছিল যে, দশকের পর দশক পেরিয়ে এসে প্রিয় মহাকাশচারীর শৈশবের স্মৃতিবিজড়িত বাড়িটি সংরক্ষণের জন্য তিনি একাই ৪ লাখ মার্কিন ডলার দান করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস নিবাসী এই অবসরপ্রাপ্ত সামরিক ও বাণিজ্যিক পাইলটের অর্থায়নেই বাড়িটি কিনে নেওয়ার সুযোগ পেয়েছে 'অগ্লাইজ কাউন্টি হিস্টোরিক্যাল সোসাইটি'।   ওহাইও অঙ্গরাজ্যের ওয়াপাকোনেটায় অবস্থিত আর্মস্ট্রংয়ের পুরোনো বাড়িটি ২০২৬ সালের আগস্ট মাসে বিক্রির জন্য তালিকাভুক্ত করা হয়। কিন্তু ঐতিহাসিক এই স্থাপনাটি সংরক্ষণে কেউ এগিয়ে না আসায় শ্রেইবার নিজেই দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।   শুরুতে বন্ধুদের কাছে অনুদান চাইলেও পরে বাবার দেওয়া 'জীবনে নিজের একটি চিহ্ন রেখে যাওয়ার' উপদেশ স্মরণ করে তিনি পুরো ৪ লাখ ডলার নিজেই পরিশোধ করেন। গত গ্রীষ্মে বাড়িটি ঘুরে দেখার অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, "সেখানে গেলে মনে হচ্ছিল নীল আর্মস্ট্রংয়ের আত্মাই যেন উপস্থিত। আমি কল্পনা করতে পারছিলাম তিনি সিঁড়ি দিয়ে দৌড়ে ওঠানামা করছেন।"   ইতিহাস বলছে, এই বাড়ির ডাইনিং রুমেই ভবিষ্যতের বিখ্যাত এই মহাকাশচারী মডেল প্লেন তৈরি করতেন। এমনকি নিজের নকশা পরীক্ষা করার জন্য বেসমেন্টে একটি উইন্ড টানেলও বানিয়েছিলেন তিনি। এই বাড়িতে বসবাসকালীন মাত্র ১৬ বছর বয়সেই আর্মস্ট্রং তার প্রথম একক উড্ডয়ন সম্পন্ন করেন এবং পাইলট লাইসেন্স অর্জন করেন।   গত ১৯ অক্টোবর বাড়িটির মালিকানা আনুষ্ঠানিকভাবে অগ্লাইজ কাউন্টি হিস্টোরিক্যাল সোসাইটির কাছে হস্তান্তর করা হয়। সংস্থাটির পরিচালক র‍্যাচেল বারবার জানিয়েছেন, ১৯৪৪ সালে আর্মস্ট্রং পরিবার বাড়িটি কিনেছিল। তাই তারা বাড়িটিকে ১৯৪০-এর দশকের আদলে সংস্কার করার পরিকল্পনা করেছেন। আগামী তিন বছরের মধ্যে এটি জনসাধারণের পরিদর্শনের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে বলে আশা করা হচ্ছে।   এর আগে দীর্ঘ প্রায় চার দশক বাড়িটির মালিক ছিলেন কারেন মাইকসেল নামের ৮২ বছর বয়সী এক অবসরপ্রাপ্ত ইতিহাস শিক্ষক। ১৯৮৮ সালে বাড়িটি কেনার পর থেকেই তিনি আর্মস্ট্রং পরিবারের স্মৃতিগুলো সযত্নে ধরে রাখার চেষ্টা করেছেন। তার মালিকানাধীন সময়ে বাজ অলড্রিনসহ মোট নয়জন মহাকাশচারী বাড়িটি পরিদর্শন করেন।   ২০১২ সালে আর্মস্ট্রংয়ের মৃত্যুর কয়েক বছর পর অলড্রিন যখন তার পুরোনো শোবার ঘরে প্রবেশ করেন, তখন আবেগে তার চোখ দিয়ে জল গড়িয়ে পড়েছিল। বর্তমানে ওই কক্ষে চন্দ্রজয়ের বিভিন্ন শিল্পকর্ম এবং পরিদর্শনকারী মহাকাশচারীদের স্বাক্ষরিত ছবি সংরক্ষিত রয়েছে।

প্রকাশ: অক্টোবর ২৪, ২০২৬ ৯:৫৯
শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যার ঝুঁকি কমাতে গুজরাটের বীর নর্মদ সাউথ গুজরাট বিশ্ববিদ্যালয়ের হোস্টেলগুলোতে বিশেষ স্প্রিংযুক্ত সিলিং ফ্যান বসানো হচ্ছে। ছবি: সংগৃহীত

বিশ্ববিদ্যালয়ে আত্মহত্যার ঝুঁকি কমাতে বসানো হচ্ছে বিশেষ স্প্রিংযুক্ত সিলিং ফ্যান, মানসিক সেবা নিয়ে প্রশ্ন

যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পূর্ণ অর্থায়নের বৃত্তি নিয়ে পড়াশোনা করছেন বাংলাদেশের নাজিফা বিনতে হারুন। ছবি: সংগৃহীত

অক্সফোর্ডে ১৪১ দেশের মধ্যে পূর্ণ কলারশিপে অধ্যয়ন করছেন বাংলাদেশের নাজিফা বিনতে হারুন

১২ বছরের অপেক্ষার পর যমজ সন্তানের জন্ম, অস্ত্রোপচারের টেবিলেই মায়ের মৃ ত্যু

১২ বছরের অপেক্ষার পর যমজ সন্তানের জন্ম, অস্ত্রোপচারের টেবিলেই মায়ের মৃ ত্যু

স্ত্রীকে আলিঙ্গন করে এমন বিপদে পড়বেন ভাবেননি স্বামী, ভাঙল ৫টি পাঁজরের হাড়
স্ত্রীকে আলিঙ্গন করে এমন বিপদে পড়বেন ভাবেননি স্বামী, ভাঙল ৫টি পাঁজরের হাড়

চীনে স্বামীর সাধারণ এক আলিঙ্গনে স্ত্রীর পাঁজরের পাঁচটি হাড় ভেঙে যাওয়ার মতো এক অদ্ভুত ও বিস্ময়কর ঘটনা ঘটেছে। দেশটির জিয়াংসু প্রদেশের এই ঘটনার একটি ভিডিও সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। ইকোনমিক টাইমসের এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, স্ত্রী ঠান্ডা লাগার কথা জানালে স্বামী ওয়াং তাকে উষ্ণতা দিতে জড়িয়ে ধরেন।   কিন্তু ঠিক তখনই হাড় ভাঙার মতো মটমট শব্দ শুনতে পান ওয়াং। মুহূর্তের মধ্যেই তীব্র ব্যথায় কুঁকড়ে বসে পড়েন তার স্ত্রী এবং ব্যথার কারণে তিনি সোজা হয়ে দাঁড়াতেও পারছিলেন না।   পরদিন সকালে স্ত্রীকে নিয়ে তড়িঘড়ি করে হাসপাতালে ছুটে যান ওয়াং। সেখানে বুকের সিটি স্ক্যান করার পর জানা যায়, তার স্ত্রীর পাঁজরের পাঁচটি হাড় সম্পূর্ণ ভেঙে গেছে এবং আরও একটিতে চিড় ধরেছে। চিকিৎসকরা পরীক্ষা করে জানান, ওই নারী মূলত অস্টিওপোরোসিস বা হাড় ক্ষয়জনিত রোগে ভুগছিলেন।   এই রোগের কারণে হাড়ের ঘনত্ব ও শক্তি মারাত্মকভাবে কমে যায়, যার ফলে সামান্য চাপেই এমন গুরুতর আঘাতের ঝুঁকি তৈরি হয়। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তরুণ বয়সে সাধারণ আলিঙ্গনে হাড় ভাঙার ঘটনা অত্যন্ত বিরল হলেও কেবল হাড় দুর্বল হওয়ার কারণেই এই দুর্ভাগ্যজনক দুর্ঘটনা ঘটেছে।   স্বামী ওয়াং জানান, তিনি একেবারেই স্বাভাবিকভাবে স্ত্রীকে জড়িয়ে ধরেছিলেন এবং এত বড় ক্ষতি হতে পারে তা ঘুণাক্ষরেও কল্পনা করেননি। তার স্ত্রীর ওজন মাত্র ৪৫ থেকে ৫০ কেজির মধ্যে। তিনি নিয়মিত কড়া ডায়েট করতেন, প্রায়ই রাতের খাবার এড়িয়ে যেতেন এবং প্রতিদিন কফি পান করতেন।   এছাড়া পরিবারের দোকানে কাজ করলেও তিনি সাধারণত রোদে খুব একটা বের হতেন না। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, ওই নারীকে বর্তমানে ওষুধ ও ব্যথা উপশমের প্যাচ দিয়ে বিশ্রামে রাখা হয়েছে। স্বস্তির বিষয় হলো, তার কোনো অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হয়নি। চিকিৎসকরা সতর্ক করে জানিয়েছেন, হাড়ের সুস্থতা বজায় রাখতে পর্যাপ্ত ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি গ্রহণ, নিয়মিত ব্যায়াম এবং উপযুক্ত পরিমাণে গায়ে রোদ লাগানো সবার জন্যই অত্যন্ত জরুরি।

প্রকাশ: অক্টোবর ২৪, ২০২৬ ৮:১
ফিলিপাইনে প্রশিক্ষণের সময় দুই বিমানের সংঘর্ষ, প্রাণ গেল ৪ পাইলটের

ফিলিপাইনে প্রশিক্ষণের সময় দুই বিমানের সংঘর্ষ, প্রাণ গেল ৪ পাইলটের

দাবি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

"২৫০ শতাংশ শুল্কের হুমকিতে ভারত ও পাকিস্তানের পারমাণবিক যুদ্ধ থামিয়েও নোবেল পেলাম না"

ব্রাজিলের উদ্যোক্তা লুয়ানা লোপেস লারা

৩০ বছরেই বিলিয়নিয়ার লুয়ানা, সম্পদ বাড়লেও দিনে কাজ করেন ১৪ ঘণ্টা

0 Comments