প্রতিরক্ষা চুক্তির অধীনে সৌদি আরবে পাকিস্তানের যুদ্ধবিমান মোতায়েন; মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে ‘আয়রন এসকর্ট’
কৌশলগত প্রতিরক্ষা সহযোগিতার অংশ হিসেবে সৌদি আরবে অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমানের বহর পাঠিয়েছে পাকিস্তান। শনিবার (১১ এপ্রিল) সৌদি আরবের কিং আব্দুল আজিজ বিমান ঘাঁটিতে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর একটি দল অবতরণ করেছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা জানিয়েছে, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত ‘কৌশলগত পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তির’ আওতায় এই মোতায়েন সম্পন্ন হলো।
সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ভ্রাতৃপ্রতিম দুই দেশের সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে যৌথ সামরিক সমন্বয় বৃদ্ধি এবং অপারেশনাল কার্যক্রমের মানোন্নয়নই এই মিশনের মূল লক্ষ্য। উল্লেখ্য, এই চুক্তির অন্যতম প্রধান শর্ত হলো—যেকোনো একটি দেশের ওপর আক্রমণ হলে তা উভয় দেশের ওপর আক্রমণ হিসেবে গণ্য হবে।
এদিকে, মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের এই সামরিক তৎপরতা ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছে। ইসলামাবাদে অনুষ্ঠেয় ইরান-যুক্তরাষ্ট্র শান্তি আলোচনায় যোগ দিতে আসা ইরানি প্রতিনিধি দলকে নিরাপত্তা দিতে আকাশসীমায় বিশেষ ‘আয়রন এসকর্ট’ বা কড়া সামরিক পাহারা বসিয়েছে পাকিস্তান। তেহরান থেকে ইসলামাবাদ আসার পথে ইরানি প্রতিনিধি দল যেন ইসরায়েলি হামলার শিকার না হয়, তা নিশ্চিত করতে জেএফ-১৭ থান্ডার এবং এফ-১৬ যুদ্ধবিমানগুলো পারস্য উপসাগরীয় এলাকায় টহল দিচ্ছে।
শুক্রবার সকাল থেকেই সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং ইরানের বন্দর আব্বাসের আকাশসীমায় পাকিস্তানের এই শক্তিশালী বিমান বহর সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। শান্তি আলোচনায় কোনো ধরনের নাশকতা এড়াতেই পাকিস্তান এই নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আন্তর্জাতিক
View moreযুক্তরাষ্ট্রের অত্যাধুনিক পঞ্চম প্রজন্মের ‘এফ-৩৫’ স্টিল্থ যুদ্ধবিমান ভারতে এসে পৌঁছালেও সেগুলোর ধারেকাছেও কাউকে ঘেঁষতে দেওয়া হচ্ছে না—সম্প্রতি এমনই এক রসাত্মক ও আক্ষেপের সুরে মন্তব্য করেছেন ভারতীয় বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল এ পি সিং। রাজস্থানের যোধপুরে সদ্য সমাপ্ত আন্তর্জাতিক বিমান মহড়া ‘তরঙ্গ শক্তি’-র সমাপনী দিনের এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই মন্তব্য করেন। এই মহড়ায় অংশ নিতে প্রথমবারের মতো ভারতের মাটিতে অবতরণ করে যুক্তরাষ্ট্রের ছয়টি অত্যাধুনিক এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান। মহড়ার শেষ দিনে মার্কিন প্রশান্ত মহাসাগরীয় বিমানবাহিনীর কমান্ডার জেনারেল কেভিন স্নাইডারের সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেন ভারতীয় বিমানপ্রধান। সেখানে সাংবাদিকরা জানতে চান, যুক্তরাষ্ট্র তাদের এই পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান ভারতের কাছে বিক্রির কোনো আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দিয়েছে কি না। জবাবে পাশে থাকা মার্কিন কমান্ডারের দিকে তাকিয়ে হাস্যরসের সুরে এয়ার চিফ মার্শাল এ পি সিং বলেন, মার্কিন বাহিনী তো ভারতীয়দের এই বিমানের ধারেকাছেও যেতে দেয় না, সেখানে বিক্রির প্রস্তাব তো অনেক দূরের কথা! তবে পরক্ষণেই নিজের মন্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি জানান, কথাটি নিছকই কৌতুকচ্ছলে বলা হয়েছে এবং এটিকে গুরুতরভাবে নেওয়ার কিছু নেই। তিনি স্বীকার করেন যে, যেকোনো দেশই তাদের সংবেদনশীল ও গোপনীয় সামরিক প্রযুক্তির সুরক্ষার স্বার্থে এমন কঠোর গোপনীয়তা বজায় রাখে, এমনকি ভারতও নিজেদের সব প্রযুক্তি অন্যদের সাথে ভাগ করে নেয় না। এ প্রসঙ্গে মার্কিন কমান্ডার জেনারেল কেভিন স্নাইডার জানান, এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানের প্রযুক্তি বা তথ্য কোন দেশের সাথে কতটুকু আদান-প্রদান করা যাবে, তা ওয়াশিংটনের সুনির্দিষ্ট কিছু প্রতিরক্ষা নির্দেশিকা ও গাইডলাইনের ওপর নির্ভর করে। বর্তমানে ভারত নিজস্ব প্রযুক্তিতে পঞ্চম প্রজন্মের আধুনিক যুদ্ধবিমান তৈরির কাজ চালিয়ে যাচ্ছে, তবে সেটি পুরোপুরি প্রস্তুত হতে আরও বেশ কিছুটা সময় লাগবে। এদিকে প্রতিবেশী চীনের হাতে থাকা জে-২০ ও জে-৩৫ যুদ্ধবিমান এবং পাকিস্তানের সম্ভাব্য নতুন বিমান সংগ্রহের কারণে আঞ্চলিক নিরাপত্তার ভারসাম্য বজায় রাখা ভারতের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই অন্তর্বর্তীকালীন ঘাটতি মেটাতে বিকল্প ব্যবস্থার কথা ভাবছে নয়াদিল্লি। ভারতীয় বিমানপ্রধান জানিয়েছেন, রাশিয়া ইতিমধ্যে তাদের পঞ্চম প্রজন্মের ‘সুখোই-৫৭’ যুদ্ধবিমান বিক্রির প্রস্তাব দিলেও ভারত সরকার এখনো এ বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি।
জিবুতির উপকূলে অভিবাসীবাহী নৌকা ডুবে নিহত ১৩৯, নিখোঁজ বহু মানুষ, চলছে উদ্ধার তৎপরতা
রাশিয়া থেকে ডিজেল কেনার চুক্তির ঘোষণা ট্রাম্পের, ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে নতুন বিতর্ক
রাশিয়া-চীনের বিরুদ্ধে সমুদ্রতলের ক্যাবল কাটার অভিযোগ, অচল হতে পারে বিশ্ব ইন্টারনেট
তুরস্কে ১৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছে দেশটির সরকার। নতুন বিধিমালা অনুযায়ী, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলো ১৫ বছর পূর্ণ হয়নি এমন শিশুদের সেবা দিতে পারবে না। একই সঙ্গে ১৫ বছর বা তার বেশি বয়সী অপ্রাপ্তবয়স্কদের জন্য বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা এবং অভিভাবকদের নিয়ন্ত্রণের সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা, ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা এবং শারীরিক ও মানসিক বিকাশের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে এই নিয়ম জারি করা হয়েছে। শনিবার (১০ অক্টোবর) তুরস্কের সরকারি গেজেটে নতুন বিধিমালাটি প্রকাশ করা হয়। আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশটির সাইবার সিকিউরিটি ডিরেক্টরেট এই বিধিমালা জারি করেছে। এতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলো ১৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের নিজেদের প্ল্যাটফর্মে সেবা দিতে পারবে না। নতুন নিয়মের আওতায় সোশ্যাল মিডিয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর ব্যবহারকারীর বয়স যাচাইয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। কোনো শিশু নির্ধারিত বয়সসীমা পূরণ করেছে কি না, তা নিশ্চিত করতে হবে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে। তবে বয়স যাচাইয়ের নামে ব্যবহারকারীর অপ্রয়োজনীয় ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করা যাবে না। বিধিমালায় বলা হয়েছে, বয়স যাচাইয়ের ক্ষেত্রে এমন প্রযুক্তি ব্যবহারকে অগ্রাধিকার দিতে হবে, যা ব্যবহারকারীর সম্পূর্ণ পরিচয় প্রকাশ না করেই তাঁর বয়স নির্ধারিত সীমার মধ্যে রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করতে পারে। অর্থাৎ শুধু বয়স যাচাইয়ের জন্য প্রত্যেক ব্যবহারকারীর বিস্তারিত ব্যক্তিগত পরিচয় সংগ্রহ করা বাধ্যতামূলক নয়। একই সঙ্গে যাচাইয়ের পদ্ধতি যেন কোনো ব্যবহারকারীর প্রতি বৈষম্যমূলক না হয়, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে। তবে ১৫ বছর পূর্ণ হয়েছে কিন্তু এখনো প্রাপ্তবয়স্ক হয়নি, এমন কিশোর-কিশোরীদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়নি। তাঁদের ক্ষেত্রে বয়স অনুযায়ী আলাদা সেবা এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে এসব ব্যবহারকারীর সর্বোত্তম স্বার্থ বিবেচনায় রেখে সেবা পরিচালনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে অপ্রাপ্তবয়স্ক ব্যবহারকারীদের শারীরিক, মানসিক, মনস্তাত্ত্বিক, সামাজিক ও আবেগগত বিকাশের বিষয়টি গুরুত্ব দিতে হবে। অনলাইন প্ল্যাটফর্মের কার্যক্রম এবং ব্যবহারকারীদের সামনে কী ধরনের কনটেন্ট তুলে ধরা হচ্ছে, সে বিষয়ে শিশুদের নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে। নতুন বিধিমালায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যালগরিদম নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলোর বয়স যাচাইয়ের পদ্ধতি, অ্যালগরিদমের কাঠামো এবং শিশুদের জন্য নির্ধারিত সেবার নীতিমালা পরিষ্কার ও যাচাইযোগ্য হতে হবে। ব্যবহারকারী, অভিভাবক এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষ যেন এসব ব্যবস্থা পরীক্ষা ও মূল্যায়ন করতে পারে, সেই সুযোগ রাখতে হবে। অভিভাবকদের জন্য সহজ ও ব্যবহারবান্ধব নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা তৈরির নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে সন্তানদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নিরাপত্তা সুবিধা ব্যবহার করতে পারবেন অভিভাবকেরা। তবে প্রকাশিত প্রতিবেদনে অভিভাবকদের জন্য নির্দিষ্ট কোন কোন প্রযুক্তিগত নিয়ন্ত্রণ সুবিধা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, তার বিস্তারিত তালিকা উল্লেখ করা হয়নি। বিধিমালার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা। শিশুদের বয়স যাচাইয়ের জন্য এমন পদ্ধতি ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে, যাতে প্রয়োজনের অতিরিক্ত তথ্য সংগ্রহ না করেও নির্ধারিত বয়সসীমা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়। একই সঙ্গে যাচাইয়ের ব্যবস্থাগুলো নির্ভরযোগ্য, পরীক্ষাযোগ্য এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জবাবদিহিমূলক হতে হবে। তুরস্কের পার্লামেন্ট চলতি বছরের এপ্রিলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসংক্রান্ত নতুন আইন পাস করেছিল। সেই আইনের অধীনেই শনিবারের বিধিমালা প্রকাশ করা হয়েছে। অর্থাৎ এটি সম্পূর্ণ নতুন কোনো পৃথক আইন নয়; বরং আগে পাস হওয়া আইনের আওতায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পরিচালনার শর্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন নিয়মের ফলে তুরস্কে সেবা প্রদানকারী সোশ্যাল মিডিয়া প্রতিষ্ঠানগুলোকে বয়সভিত্তিক প্রবেশাধিকার এবং অপ্রাপ্তবয়স্কদের নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে। তবে বিধিমালা অমান্য করলে ঠিক কত টাকা জরিমানা কিংবা কী ধরনের শাস্তি হতে পারে, সে বিষয়ে আনাদোলু এজেন্সির প্রকাশিত প্রতিবেদনে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি। একইভাবে বর্তমানে ১৫ বছরের কম বয়সী যেসব শিশুর সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট রয়েছে, সেগুলো বন্ধ কিংবা সীমিত করার জন্য প্রতিষ্ঠানগুলো কত দিন সময় পাবে, তা-ও প্রতিবেদনে স্পষ্ট করা হয়নি। ফলে সব বিদ্যমান অ্যাকাউন্ট ইতিমধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে, এমন দাবি করার সুযোগ নেই। তুরস্কের এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে শিশুদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের ক্ষেত্রে বয়সভিত্তিক নিয়ন্ত্রণ আরও কঠোর করা হলো। নতুন ব্যবস্থায় ১৫ বছরের কম বয়সীদের জন্য সেবা বন্ধ রাখার পাশাপাশি বড় বয়সী অপ্রাপ্তবয়স্কদের নিরাপত্তা, ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা এবং অভিভাবকদের নিয়ন্ত্রণের সুযোগ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে এই নিয়ম শুধু তুরস্কের সংশ্লিষ্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম সেবার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। অন্য দেশের শিশুদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের ওপর এর সরাসরি কোনো নিষেধাজ্ঞা তৈরি হচ্ছে না। নতুন বিধিমালার বাস্তবায়ন এবং প্রতিষ্ঠানগুলোর পরবর্তী পদক্ষেপের মাধ্যমে তুরস্কে শিশুদের অনলাইন ব্যবহারে কী ধরনের পরিবর্তন আসে, তা আরও স্পষ্ট হবে। সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি
আফ্রিকা থেকে ইয়েমেন যাওয়ার পথে নৌকাডুবিতে ১০৯ অভিবাসীর মৃত্যু, নিখোঁজ শতাধিক
অস্ত্রোপচারের প্রস্তুতি নিচ্ছেন পোপ চতুর্দশ লিও, ফুসফুসে ধরা পড়েছে গুটি
ফিলাডেলফিয়ায় অস্ত্রধারীর খবরে গিয়ে অতর্কিত গুলিতে পুলিশ কর্মকর্তা নিহত, সহকর্মী ১২ বার গুলিবিদ্ধ
সমকামী নন এমন ব্যক্তিদের সমকামী পরিচয়ে যুক্তরাজ্যে আশ্রয় আবেদনের জন্য ভুয়া প্রমাণ তৈরিতে সহায়তার অভিযোগে পূর্ব লন্ডনের বাংলাদেশি সংগঠন ‘আপনজন’-এর প্রতিষ্ঠাতা সাজ্জাদ মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার লন্ডনে অভিযানের পর তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করে ছেড়ে দেওয়া হয়। ৪২ বছর বয়সী এই ট্রান্স নারী অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেছেন, তাঁর সংগঠন কোনো ভুয়া কাগজপত্র দেয়নি। যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কর্মকর্তাদের সন্দেহ, একটি চক্র বাংলাদেশি পুরুষদের আশ্রয় আবেদনের পক্ষে সাজানো ছবি, সমর্থনপত্র ও সম্পর্কের ভুয়া বিবরণ সরবরাহ করত। তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, এসব প্রমাণ তৈরির জন্য আবেদনকারীদের কাছ থেকে ১ হাজার থেকে সাড়ে ৪ হাজার পাউন্ড পর্যন্ত নেওয়া হতো বলে অভিযোগ রয়েছে। পূর্ব লন্ডনের হোয়াইটচ্যাপেলে কার্যক্রম পরিচালনাকারী ‘আপনজন’-এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিছু আশ্রয় আবেদন এখন তদন্তের আওতায়। বিবিসিকে যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অপরাধ তদন্তবিষয়ক আঞ্চলিক কর্মকর্তা ক্রিস ফস্টার বলেন, আশ্রয় আবেদনের নথিতে একই ধরনের কিছু তথ্য বারবার দেখতে পেয়ে কর্মকর্তাদের সন্দেহ হয়। কয়েক মাসের তদন্তের পর অভিযান চালানো হয়। সন্দেহজনক প্রমাণের মধ্যে ‘আপনজন’-এর সমর্থনপত্র, সমকামী পরিচয় বোঝাতে তোলা ছবি এবং একই লিঙ্গের ব্যক্তির সঙ্গে সম্পর্কের দাবি করে লেখা চিঠি রয়েছে বলে জানান তিনি। এগুলো ভুয়া কি না, সেটিই তদন্তে যাচাই করা হচ্ছে। বিবিসির তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার লন্ডনের বিভিন্ন ঠিকানায় অভিযান চালিয়ে প্রতারণা ও অভিবাসনসংক্রান্ত অপরাধের সন্দেহে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। যুক্তরাজ্যে বৈধভাবে অবস্থান না করার সন্দেহে আরও একজনকে আটক করা হয়। অভিযানে ফোন, গয়না ও কয়েক হাজার পাউন্ড নগদ অর্থ জব্দ করেন কর্মকর্তারা। গ্রেপ্তার হওয়া প্রথম দুজনের একজন সাজ্জাদ মিয়া। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ‘আপনজন’-সংশ্লিষ্ট ১০০টির বেশি আশ্রয় আবেদন পর্যালোচনা করছে। কর্মকর্তাদের ধারণা, সন্দেহজনক আবেদনগুলোর কোনো কোনোটি আগে অনুমোদনও পেয়ে থাকতে পারে। তবে পর্যালোচনাধীন সব আবেদন ভুয়া, এমন সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়নি। অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছে আবেদনকারীদের যৌন পরিচয় সম্পর্কে মিথ্যা তথ্য ও তার পক্ষে তৈরি করা প্রমাণ ব্যবহার করা হয়েছিল কি না। বাংলাদেশে যৌন পরিচয়ের কারণে নির্যাতনের আশঙ্কার কথা জানিয়ে সাজ্জাদ মিয়া ২০১৩ সালে যুক্তরাজ্যে আশ্রয় পান। পরে তিনি বাংলাদেশি এলজিবিটি ব্যক্তিদের সহায়তার উদ্দেশ্যে ‘আপনজন’ প্রতিষ্ঠা করেন। গ্রেপ্তারের পর সংবাদমাধ্যমটিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, কাউকে সমর্থনপত্র দেওয়ার আগে সংগঠনটি ছয় মাস ধরে তাঁর কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করে। তাঁর দাবি, সংগঠনটি প্রকৃত সহায়তাপ্রার্থীদের পাশে দাঁড়ায় এবং অর্থের বিনিময়ে ভুয়া প্রমাণ দেয় না। অভিযানে জব্দ হওয়া অর্থ ও গয়না সম্পর্কেও সাজ্জাদ মিয়া নিজের বক্তব্য দিয়েছেন। তাঁর দাবি, অর্থটি বাড়িভাড়ার জন্য রাখা ছিল এবং গয়নাগুলো তাঁর বোনের। তিনি জানান, জিজ্ঞাসাবাদের পর তাঁর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আনা হয়নি, তবে তাঁকে আবার জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হতে পারে। খবর প্রকাশের পর প্রাণনাশের হুমকি পেয়েছেন বলেও তিনি দাবি করেছেন। এই তদন্তের আগে কয়েকটি আশ্রয় মামলায় ‘আপনজন’-সংশ্লিষ্ট প্রমাণের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে আদালতে প্রশ্ন উঠেছিল। যুক্তরাজ্যের একটি অভিবাসন ট্রাইব্যুনালের রায়ে একজন আবেদনকারীর জমা দেওয়া ছবিকে সাজানো বলে বর্ণনা করা হয়। ওই মামলায় বিচারক আবেদনকারীর বক্তব্যের অসংগতিসহ অন্যান্য প্রমাণও বিবেচনা করেছিলেন। রায়টি নির্দিষ্ট সেই আশ্রয় আবেদনসংক্রান্ত; সাজ্জাদ মিয়ার বিরুদ্ধে চলমান তদন্তের নিষ্পত্তি নয়। চলতি বছরের এপ্রিলে বিবিসির পৃথক এক অনুসন্ধানে উঠে আসে, কিছু আইনবিষয়ক পরামর্শদাতা ও মধ্যস্থতাকারী আশ্রয়প্রার্থীদের সমকামী পরিচয়ে আবেদন করতে ভুয়া বিবরণ ও প্রমাণ জোগাড়ের প্রস্তাব দিচ্ছিলেন। সেই অনুসন্ধানের সূত্র ধরে মে মাসে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। ‘আপনজন’-কে ঘিরে বর্তমান তদন্তটি আলাদা বলে জানিয়েছে যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নীতিমালা অনুযায়ী, প্রতিটি আশ্রয় আবেদন আবেদনকারীর নিজস্ব পরিস্থিতি ও উপলব্ধ প্রমাণের ভিত্তিতে বিবেচনা করতে হয়। ‘আপনজন’-সংশ্লিষ্ট আবেদনগুলো পুনরায় পরীক্ষা এবং গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে তদন্ত এখনো চলছে।
সৌদিতে প্রিমিয়াম রেসিডেন্সিধারী বিদেশিরা পাচ্ছেন চাকরি বদল, সম্পত্তি কেনাসহ ১০ সুবিধা
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানে দীর্ঘমেয়াদি পরিবেশগত ঝুঁকি: আরাঘচি