আন্তর্জাতিক

ইরানের ৫ কূটনীতিককে বহিষ্কার, দেশ ছাড়তে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম সৌদির

ইসমাইল হোসাইন প্রকাশ: মার্চ ২১, ২০২৬ ১৮:৫২
সৌদি আরবে ইরানের রাষ্ট্রদূত আলিরেজা এনায়াতি
সৌদি আরবে ইরানের রাষ্ট্রদূত আলিরেজা এনায়াতি

মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে আবারও অস্থিরতার কালো মেঘ। দীর্ঘস্থায়ী উত্তেজনার পারদ চড়িয়ে এবার ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর কূটনৈতিক পদক্ষেপ গ্রহণ করল সৌদি আরব। ইরানের সামরিক অ্যাটাশে-সহ মোট পাঁচজন দূতাবাস কর্মীকে ‘অবাঞ্ছিত’ ঘোষণা করে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সৌদি আরব ত্যাগের নির্দেশ দিয়েছে রিয়াদ।


শনিবার সৌদি আরবের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত এক জরুরি বিবৃতিতে এই চাঞ্চল্যকর সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। রিয়াদের অভিযোগ, ইরান ধারাবাহিকভাবে সৌদি আরবের সার্বভৌমত্ব, অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। এই ধরনের কর্মকাণ্ড আন্তর্জাতিক আইন এবং কূটনৈতিক শিষ্টাচারের চরম লঙ্ঘন বলে দাবি করেছে সৌদি কর্তৃপক্ষ।


বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয় যে, শুধু সৌদি আরব নয়, বরং গাল্ফ কোঅপারেশন কাউন্সিল (GCC) ভুক্ত অন্যান্য দেশসহ বিভিন্ন আরব ও মুসলিম রাষ্ট্রে ইরানের ‘আগ্রাসী’ আচরণ উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সৌদি প্রশাসনের দাবি, ইরানের এই ভূমিকা বেইজিং চুক্তির শর্ত এবং জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবনাগুলোর সরাসরি বরখেলাপ।


বহিষ্কৃতদের তালিকায় রয়েছেন ইরানের প্রধান সামরিক অ্যাটাশে, সহকারী সামরিক অ্যাটাশে এবং আরও তিনজন উচ্চপদস্থ কূটনীতিক। সৌদি প্রশাসন সাফ জানিয়ে দিয়েছে, এই ধরনের উসকানিমূলক আচরণ অব্যাহত থাকলে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক চূড়ান্ত অবনতির দিকে যাবে। এমনকি জাতিসংঘ সনদের ৫১ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নিজেদের আত্মরক্ষার পূর্ণ অধিকার প্রয়োগ করারও হুঁশিয়ারি দিয়েছে রিয়াদ।


বিশ্লেষকদের মতে, আমেরিকা ও ইসরায়েলকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে যখন নতুন করে যুদ্ধের দামামা বাজছে, ঠিক সেই মুহূর্তে সৌদি-ইরান সম্পর্কের এই বৈরিতা পুরো অঞ্চলের কূটনৈতিক ভারসাম্যকে বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যুর পর বাবারও মরদেহ উদ্ধার , একসঙ্গে দাফন করা হবে বাবা-মেয়েকে

অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে ছয় বছরের এক শিশুকন্যা ও তার বাবার মৃত্যুকে ঘিরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে। পুলিশ জানিয়েছে, পারামাট্টা নদীতে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক ঘটনায় ৪৭ বছর বয়সী মওলিক ধান্ধুকিয়া এবং তার ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার পর তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।   স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত শনিবার সিডনির কনকর্ড এলাকার কাছে একটি নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। তার সঙ্গে ছিলেন ছয় বছর বয়সী কন্যা। কিছু সময় পর নদীতে জরুরি পরিস্থিতির খবর পেয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে পুলিশ ও জরুরি সেবা সংস্থাগুলো।   আরও পড়ুন...টেক্সাসে স্বামীর গুলিতে স্ত্রী নিহত, পরে পুলিশের গুলিতে স্বামী নিহত; দুই শিশুকে   পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দুপুরের কিছু আগে মওলিক ধান্ধুকিয়ার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর প্রায় সাত ঘণ্টা ধরে শিশুটির সন্ধানে ব্যাপক অনুসন্ধান চালানো হয়। উদ্ধারকারীরা শেষ পর্যন্ত বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শিশুকন্যার মরদেহ নদী থেকে উদ্ধার করেন। ঘটনার তদন্তে সহায়তার জন্য আশপাশের বিভিন্ন সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। স্থানীয় একটি স্থাপনার সিসিটিভি ফুটেজও তদন্তকারীদের হাতে এসেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।   এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক শোকবার্তায় জানানো হয়েছে, আগামী শুক্রবার রাউস হিলের ক্যাসেলব্রুক ক্রেমেটোরিয়ামে বাবা ও মেয়ের যৌথ শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হবে। শোকবার্তায় লেখা হয়েছে, “দুই কোমল ও সদয় আত্মা, যারা চিরকাল আমাদের হৃদয়ে বেঁচে থাকবে। তাদের আত্মার শান্তি কামনা করছি।” তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার আগে কয়েক দফা নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। একবার তার স্ত্রী প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়াও তার সঙ্গে ছিলেন বলে জানা গেছে।   আরও পড়ুন...টেক্সাসে বিস্ফোরণের আগুনে পুড়েও বাড়ি ও নাতি-নাতনিদের বাঁচালেন এক সাহসী দাদা   পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করেছে, যা তদন্তের অংশ হিসেবে পরীক্ষা করা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত এর বিষয়বস্তু প্রকাশ করা হয়নি। কেন এমন ঘটনা ঘটল, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে মৃত্যুর প্রায় দুই সপ্তাহ আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীর্ঘ একটি পোস্ট করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। সেখানে তিনি ২০০৫ সালে জিমে ব্যায়াম করার সময় ঘাড়ে পাওয়া আঘাতের কারণে দীর্ঘদিন ধরে ভোগা শারীরিক সমস্যার কথা উল্লেখ করেছিলেন।   ওই পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, ঘাড়ের দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা তার জীবনের অনেক সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এমআরআই পরীক্ষায় তার মেরুদণ্ডের ঘাড়ের অংশে স্নায়ুর ওপর চাপের বিষয়টি ধরা পড়ে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। মওলিক ধান্ধুকিয়া পেশাগত জীবনে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কাজ করতেন। ২০২২ সাল থেকে তিনি সাউথ ইস্টার্ন সিডনি লোকাল হেলথ ডিস্ট্রিক্টে অ্যাপ্লিকেশন সাপোর্ট বিশ্লেষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এর আগে অস্ট্রেলিয়া ও ভারতে বিভিন্ন সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন।   এই ঘটনার পর পরিবারটির জন্য সহায়তা তহবিলও গঠন করেছেন স্বজন ও পারিবারিক বন্ধুরা। তহবিল সংগ্রহের আহ্বানে বলা হয়েছে, প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়া একসঙ্গে তার স্বামী ও একমাত্র কন্যাকে হারিয়েছেন। এই কঠিন সময়ে তাকে আর্থিক ও মানসিক সহায়তা দেওয়ার জন্য সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে।   ▶️ ট্রাম্পের লাখ ডলারের এইচ-১বি ভিসা ফি অবৈধ ঘোষণা মার্কিন আদালতের   তহবিলের অর্থ শেষকৃত্যের ব্যয়, ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা এবং নিকট আত্মীয়দের যাতায়াত ও আবাসন খাতে ব্যবহার করা হবে বলে জানানো হয়েছে। নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশের সুপারিনটেনডেন্ট ক্রিস্টিন ম্যাকডোনাল্ড ঘটনাটিকে “পরিবার ও সমাজের জন্য এক গভীর ট্র্যাজেডি” হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, “এটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক একটি ঘটনা। আমরা সব দিক থেকে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছি এবং কোনো সম্ভাবনাই উপেক্ষা করা হবে না।” পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পেছনে পারিবারিক সহিংসতার কোনো উপাদান ছিল কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়নি।   ঘটনার পর পুরো এলাকায় শোকের আবহ বিরাজ করছে। বাবা ও মেয়ের একসঙ্গে শেষকৃত্যের খবর আরও আবেগঘন পরিবেশ তৈরি করেছে। স্বজন ও পরিচিতজনরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের স্মরণ করে শোক প্রকাশ করছেন।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

Advertisement

আন্তর্জাতিক

View more
ছবি: নিউইয়র্ক পোস্ট
মাথার ওপর ক্ষেপণাস্ত্র আর আইরন ডোমের গর্জন, অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইয়ে ইসরাইল

মিডল ইস্ট বা মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে চরম উত্তেজনার পারদ নতুন করে চড়তে শুরু করেছে। লেবাননে হিজবুল্লাহর শক্তিশালী ঘাঁটি বৈরুতের দাহিয়েহ এলাকায় ইসরাইলি হামলার পর তেহরান ও তার মিত্রদের পক্ষ থেকে একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে চরম প্রতিশোধের হুঁশিয়ারি দেওয়া হচ্ছে। সম্প্রতি ইরান থেকে ইসরাইলকে লক্ষ্য করে ঝাঁকে ঝাঁকে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে, যা গত এপ্রিলের যুদ্ধবিরতির পর প্রথম কোনো সরাসরি বড় আঘাত।   ইরান এই হামলাকে "এক সপ্তাহের টানা ধারাবাহিক অভিযান"-এর সূচনা বলে ঘোষণা করেছে। একই সময়ে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের পক্ষ থেকেও ইসরাইলি ভূখণ্ডে রকেট হামলা চালানো হয়েছে। তবে ইসরাইলের অত্যাধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা 'আইরন ডোম' অধিকাংশ ক্ষেপণাস্ত্র মাঝ আকাশেই ধ্বংস করে দিতে সক্ষম হচ্ছে। ক্ষেপণাস্ত্রের এই গর্জন আর সাইরেনের আওয়াজের মধ্যেই ইসরাইলের সাধারণ মানুষকে জীবন বাঁচাতে প্রতিনিয়ত বোমা আশ্রয়কেন্দ্র বা বাঙ্কারে ছুটতে দেখা যাচ্ছে।   আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর মাঠপর্যায়ের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে ইসরাইলের ভেতরের এক অদ্ভুত বৈপরীত্যের চিত্র। একদিকে মাথার ওপর উড়ে যাচ্ছে রকেট ও ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র, অন্যদিকে শহরের রেস্তোরাঁ, খেলার মাঠ বা সমুদ্র সৈকতে নাগরিকদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রাও সচল রয়েছে। তবে এই স্বাভাবিকতার আড়ালে লুকিয়ে আছে এক গভীর আতঙ্ক।   তেল আবিব বা জেরুজালেমের প্রতিটি আধুনিক ভবনে এখন বাধ্যতামূলকভাবে বোমা আশ্রয়কেন্দ্র বা বাঙ্কার তৈরি করা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা সাইরেন বাজার সাথে সাথে অত্যন্ত অভ্যস্ততার সাথে আশ্রয়কেন্দ্রে চলে যান। অনেকে একে আমেরিকার 'তুষারপাতের দিন'-এর সাথে তুলনা করে কৌতুকচ্ছলে 'মিসাইল ডে' বা ক্ষেপণাস্ত্রের দিন বলে অভিহিত করছেন। বিশ্ববাসীর চোখে ইসরাইলকে একটি অত্যন্ত শক্তিশালী ও আগ্রাসী সামরিক শক্তি মনে হলেও, দেশটির সাধারণ নাগরিক ও কর্তাব্যক্তিরা নিজেদের এই যুদ্ধকে 'অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই' হিসেবে দেখছেন। ইসরাইলি কর্মকর্তাদের দাবি, ইরান, হিজবুল্লাহ, হামাস ও হুথিদের মতো চতুর্মুখী হুমকির মুখে তাদের এই সামরিক অভিযান কোনো নতুন অঞ্চল দখল বা শাসন পরিবর্তনের জন্য নয়, বরং নিজেদের নাগরিকদের সুরক্ষার জন্য একটি প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা। দেশটির উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী শ্যারেন হাস্কেল স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, দশকের পর দশক ধরে আলোচনার চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর এখন কেবল ক্ষেপণাস্ত্রের ভাষাই একমাত্র কার্যকর মাধ্যম হয়ে দাঁড়িয়েছে।   বিশেষ করে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামাসের নজিরবিহীন হামলার পর থেকে ইসরাইলের কৌশলগত চিন্তাভাবনায় আমূল পরিবর্তন এসেছে। আগে যেখানে কেবল প্রতিরক্ষামূলক অবস্থানে থাকা হতো, এখন সেখানে শত্রুর ঘরে আঘাত হানার নীতি বা 'অক্টোপাস ডকট্রিন' অনুসরণ করা হচ্ছে, যেখানে ইরানকে এই সব প্রক্সি গোষ্ঠীর মূল চালিকাশক্তি বা অক্টোপাসের মাথা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এদিকে, গাজায় ২০২৫ সালের অক্টোবর থেকে একটি আনুষ্ঠানিক যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও প্রতিনিয়ত তা লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠছে। অন্যদিকে লেবাননে ইসরাইলি আগ্রাসন নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে, বিশেষ করে মার্কিন প্রশাসনের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে আরও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, লেবাননে নির্বিচারে বহুতল ভবন ধ্বংস করার নীতি যুক্তরাষ্ট্রের সাথে ইরানের সম্ভাব্য বড় শান্তি চুক্তিকে বাধাগ্রস্ত করছে।   তবে নেতানিয়াহু সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, মার্কিন-ইরান চুক্তি যাই হোক না কেন, দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইসরাইলি বাহিনী যতদিন প্রয়োজন লেবাননের সীমান্ত নিরাপত্তা জোনে অবস্থান করবে। এই জটিল পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফিরিয়ে আনার কূটনৈতিক প্রচেষ্টা কতটুকু সফল হবে, তা নিয়ে গভীর সংশয় রয়েই গেছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ২১, ২০২৬ ১৯:০
গাজায় সাংবাদিকদের ওপর হামলা l ছবি: সংগৃহীত

গাজায় সাংবাদিকদের ওপর হামলা বন্ধে আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপের আহ্বান আল জাজিরার

মার্কিন কংগ্রেসওম্যান ইলহান ওমর ও তাঁর স্বামী টিম মাইনেট l ছবি: সংগৃহীত

কোটিপতি থেকে রাতারাতি ‘আয় শূন্য’! ইলহান ওমরের স্বামীর আর্থিক হিসাবে বড় গরমিল

ছবিঃ কোলাজ আমেরিকা বাংলা

হিজবুল্লাহকে থামান, নইলে ইরানে আরও ভয়াবহ হামলা করব—ট্রাম্পের চরম হুঁশিয়ারি

উইঙ্গার জেরেমি ডোকু l ছবি: সংগৃহীত
বিশ্বকাপের মাঝপথে পরিবারকে বেছে নেওয়া ডোকু, ফুটবল বিশ্বে নতুন বিতর্ক

২০২৬ বিশ্বকাপের মাঝপথে বেলজিয়ামের তারকা উইঙ্গার জেরেমি ডোকুর একটি ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক ফুটবল অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। প্রথম সন্তানের জন্মের সময় স্ত্রীর পাশে থাকার জন্য তিনি সাময়িকভাবে জাতীয় দলের ক্যাম্প ছেড়েছেন, যা নিয়ে সমর্থন ও সমালোচনা—দুই ধরনের প্রতিক্রিয়াই দেখা যাচ্ছে।   বেলজিয়াম ফুটবল ফেডারেশনের অনুমতি নিয়েই ডোকু স্বল্প সময়ের জন্য ক্যাম্প ত্যাগ করেন। ফেডারেশন সূত্রে জানা যায়, খেলোয়াড়ের যাতায়াত ও দ্রুত প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করতে আগেভাগেই প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল।   তবে বিষয়টি সামনে আসার পর ইউরোপীয় ক্রীড়ামাধ্যমগুলোতে বিতর্ক শুরু হয়। সমালোচকদের একটি অংশের দাবি, বিশ্বকাপের মতো মর্যাদাপূর্ণ আসরে খেলোয়াড়দের পূর্ণ মনোযোগ দলের ওপর থাকা উচিত। তাদের মতে, টুর্নামেন্ট চলাকালে ক্যাম্প ত্যাগ করা দলীয় প্রস্তুতি ও মনোসংযোগের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।   অন্যদিকে ডোকুর সমর্থকেরা বলছেন, সন্তানের জন্ম একজন মানুষের জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। আধুনিক ক্রীড়াঙ্গনে খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত ও পারিবারিক দায়িত্বকেও ক্রমশ বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ফলে পরিবারের পাশে থাকার সিদ্ধান্তকে অনেকেই মানবিক ও স্বাভাবিক বলে মনে করছেন।   ফরাসি সংবাদমাধ্যম ‘লেকিপ’-এর এক টেলিভিশন আলোচনায় ডোকুর সিদ্ধান্ত নিয়ে তীব্র সমালোচনা করা হয়। সেখানে মন্তব্য করা হয়, বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের সুযোগকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত ছিল। ওই মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন বিতর্কের জন্ম দেয়।   এরপর অসংখ্য ফুটবল সমর্থক ডোকুর পক্ষে অবস্থান নেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই লিখেছেন, একজন খেলোয়াড়ের পেশাদার পরিচয়ের পাশাপাশি তার পারিবারিক দায়িত্বও রয়েছে, যা অস্বীকার করা যায় না।   ডোকু বেলজিয়ামের হয়ে বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে মিশরের বিপক্ষে শুরুর একাদশে ছিলেন এবং ৮৬ মিনিট পর্যন্ত খেলেন। তবে পারিবারিক কারণে সাময়িক অনুপস্থিতির ফলে ইরানের বিপক্ষে দলের পরবর্তী ম্যাচে তার অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।   ডোকুর এই সিদ্ধান্ত ঘিরে চলমান আলোচনা বিশ্বকাপের গণ্ডি ছাড়িয়ে পেশাদার ক্রীড়াবিদদের ব্যক্তিগত জীবন, পারিবারিক দায়িত্ব এবং আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার চাপের মধ্যে ভারসাম্য নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ২১, ২০২৬ ১৪:২৭
রাজ্যের নবনির্বাচিত সরকারের প্রথম বাজেট পেশ হতে চলেছে বিধানসভায় l কোলাজ আমেরিকা বাংলা

বাজেটের আগে বাংলার জন্য মোদির ‘মেগা উপহার’, ৬০ হাজার কোটি টাকার বরাদ্দ ঘিরে জোর আলোচনা

ছবিঃ কোলাজ আমেরিকা বাংলা

ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের জোটে ফাটল ধরাতে ইরানের নতুন কৌশল

স্পেনের প্রধানমন্ত্রীর ও তার স্ত্রী l ছবি: সংগৃহীত

দুর্নীতির অভিযোগে বিচারের মুখে স্পেনের প্রধানমন্ত্রীর স্ত্রী, পাসপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ

ছবি: সংগৃহীত
দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান, কাতারে অবরুদ্ধ ৬ বিলিয়ন ডলার ফেরত পাচ্ছে ইরান

যুক্তরাষ্ট্রের সাথে একটি প্রাথমিক চুক্তির অংশ হিসেবে কাতারে দীর্ঘদিন ধরে অবরুদ্ধ থাকা ৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিপুল সম্পদ অবশেষে ফেরত পেতে যাচ্ছে ইরান। রোববার (২১ জুন) দেশটির রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার মাধ্যম আইআরআইবি-এর সংবাদে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের বরাতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক রাজনীতির প্রেক্ষাপটে এই ঘটনাকে একটি তাৎপর্যপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।   প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান তাঁর বক্তব্যে জানিয়েছেন, আজ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে আলোচনা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। এই আলোচনা শুরু হওয়ার সাথে সাথেই কাতারে আটকে থাকা ইরানের এই ৬ বিলিয়ন ডলার অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত হবে এবং তা তেহরানে ফেরত আসবে। মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে দীর্ঘদিন ধরে এই অর্থ আটকে থাকায় ইরানের অর্থনীতিতে এর প্রভাব পড়ছিল, তাই এই অর্থ ফেরত পাওয়া তেহরানের জন্য একটি বড় স্বস্তির খবর।   তবে অবরুদ্ধ অর্থ ফেরত পাওয়ার এই সমঝোতার মধ্যেও নিজেদের পারমাণবিক কর্মসূচির বিষয়ে তেহরানের কঠোর ও নীতিগত অবস্থান পুনরায় স্পষ্ট করেছেন পেজেশকিয়ান। তিনি অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে জানান, ইরান কখনোই নিজেদের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অধিকার ত্যাগ করবে না। তিনি জোর দিয়ে বলেন, অপর পক্ষকে অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের এই বাস্তব সত্যটি মেনে নিতেই হবে।   ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ঘিরে ওয়াশিংটনসহ পশ্চিমা বিশ্বের দীর্ঘদিনের উদ্বেগের বিষয়েও সরাসরি কথা বলেছেন প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান। তিনি দ্ব্যর্থহীন ভাষায় স্পষ্ট করে জানান, পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি বা এর উন্নয়নের কোনো উদ্দেশ্য বা পরিকল্পনা ইরানের নেই। এটি কোনো নতুন বা আকস্মিক সিদ্ধান্ত নয় উল্লেখ করে তিনি জানান, বিগত বহু বছর ধরেই ইসলামিক বিপ্লবের শহীদ নেতারা পারমাণবিক অস্ত্রের বিরুদ্ধে ইরানের এই নীতিগত অবস্থান অত্যন্ত স্পষ্টভাবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে তুলে ধরেছেন।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ২১, ২০২৬ ১৩:১৮
ছবি: সংগৃহীত

৫০ বছরে প্রথমবার ভিসা ফি বাড়াল জাপান, খরচ বাড়বে ৫ গুণ

ছবি: সংগৃহীত

কানাডার অভিবাসন নীতির কারণে ফেরত পাঠানো হচ্ছে আশ্রয়প্রার্থীদের, চরম সমালোচনায় সরকার

ছবি: সংগৃহীত

সুইজারল্যান্ডে মুখোমুখি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান, হরমুজ প্রণালি নিয়ে আলোচনা শুরু

0 Comments