উগান্ডার রাজধানী কাম্পালা থেকে প্রায় ৮০ কিলোমিটার দূরে জিনজা জেলার সবুজ ঘাসে ঘেরা এক পল্লী অঞ্চলে দেখা মিলল এক অভাবনীয় দৃশ্যের। হাতে ক্রিকেট ব্যাট, পরনে গোড়ালি সমান লম্বা পোশাক, আর চোখেমুখে অদম্য জেদ—এ যেন বয়সকে বুড়ো আঙুল দেখানোর এক জীবন্ত উৎসব। ৫০ থেকে শুরু করে ৯০ বছর বয়সী একদল নারী মেতে উঠেছেন ক্রিকেটের উন্মাদনায়, যাদের এখন সবাই একনামে চেনেন ‘ক্রিকেট গ্র্যানিজ’ বা ‘ক্রিকেট দাদি-নানি’ হিসেবে।
অধিকাংশের পায়ে জুতো নেই, নেই কোনো আধুনিক স্পোর্টস গিয়ার, কিন্তু তাদের একেকটি শট আর রানের জন্য ক্ষিপ্র দৌড় হার মানাবে যেকোনো তরুণকেও। সমাজ ও বার্ধক্যের চিরাচরিত ধারণা ভেঙে এই নারীরা প্রমাণ করছেন যে, জীবন কেবল বয়ে চলাই নয়, বরং জীবনের প্রতিটি মুহূর্তকে উপভোগ করাই আসল সার্থকতা।
ক্রিকেট যখন মহৌষধ
শুরুতে ক্রিকেট সম্পর্কে বিন্দুমাত্র ধারণা না থাকলেও, আজ এটিই তাদের বার্ধক্যজনিত অসুস্থতা, মানসিক অবসাদ এবং একাকিত্ব কাটানোর প্রধান হাতিয়ার। ৭২ বছর বয়সী জেনিফার ওয়াইবি নানিয়োঙ্গা, যিনি ২৯ জন নাতি-নাতনির দাদি, তিনি উচ্ছ্বাসের সাথে জানান, নিয়মিত ক্রিকেট খেলার সুবাদে তার দীর্ঘদিনের পায়ের ব্যথা উধাও হয়েছে। গত এক বছরে তাকে একবারও পিঠের ব্যথার জন্য ক্লিনিকের বারান্দায় পা রাখতে হয়নি।
শিশুদের জন্য শুরু, দাদিদের হাতে শেষ
২০২৫ সালে কিভুবুকা গ্রামে মাত্র ১০ জন নারীকে নিয়ে এই পথচলা শুরু হয়েছিল। মজার বিষয় হলো, কোচ অ্যারন কুসাসিরা শুরুতে শিশুদের জন্য এই প্রশিক্ষণ শুরু করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু অভিভাবকরা খেলাধুলা সম্পর্কে সচেতন না হওয়ায় শিশুদের মাঠে পাঠাতে রাজি হচ্ছিলেন না। আর তখনই কোচ সিদ্ধান্ত নেন বড়দেরও খেলার মাঠে নামানোর। আজ সেই উদ্যোগ এক বিশাল আন্দোলনে রূপ নিয়েছে।
২৬ বছর বয়সী কোচ কুসাসিরা বলেন, খেলাচ্ছলে জগিং আর স্ট্রেচিং তাদের শরীরকে সচল রাখছে, যা কোনো জিম বা ওষুধের চেয়েও বেশি কার্যকর।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে দেওয়া চ্যালেঞ্জ
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) তথ্যমতে, অলস জীবনযাপন এবং শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা অসংক্রামক ব্যাধিতে মৃত্যুর অন্যতম কারণ। এর ফলে বিশ্বজুড়ে জনস্বাস্থ্য খাতে প্রতি বছর ব্যয় হয় প্রায় ২ হাজার ৭০০ কোটি ডলার। উগান্ডার এই প্রত্যন্ত অঞ্চলের দাদিরা যেন তাদের প্রতিটি বাউন্ডারিতে সেই বিশাল পরিসংখ্যানকেই চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিচ্ছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আন্তর্জাতিক
View moreইসরাইলের কিশোর ও তরুণ সমাজের মধ্যে ত্বক তামাটে বা ব্রোঞ্জ কালার করার এক বিপজ্জনক প্রবণতা দেখা দিয়েছে। ১৯৯২ সালে বিজ্ঞানীরা সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মির ক্ষতিকর প্রভাব থেকে মানুষকে সতর্ক করার উদ্দেশ্যে যে ‘ইউভি ইনডেক্স’ বা সূচক তৈরি করেছিলেন, তরুণরা আজ সেটিকে সম্পূর্ণ ভিন্ন উদ্দেশ্যে ব্যবহার করছে। সতর্ক হওয়ার বদলে তারা এই সূচকটিকে দ্রুত গায়ের রং পরিবর্তন করার হাতিয়ার হিসেবে বেছে নিয়েছে। সম্প্রতি ইসরাইলে তাপমাত্রা ৮২ ডিগ্রি ফারেনহাইটে পৌঁছালে আবহাওয়া অধিদপ্তর সর্বোচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ সময়ে রোদে না যাওয়ার পরামর্শ দেয়। কিন্তু ঠিক সেই সময়েই ১৬ বছর বয়সি আবিগেইল ওয়লফের মতো অসংখ্য তরুণী সৈকতে ছুটে যায়। আবিগেইল জানান, ইউভি ইনডেক্সে ১০ বা ১১ দেখলে তিনি ভালো ট্যান বা ত্বকে তামাটে ভাব পাওয়ার জন্য অন্তত ৪০ মিনিট কড়া রোদে অবস্থান করেন। এই বিপজ্জনক প্রবণতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ইসরাইলের প্রধান স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান ‘ক্লেলিত হেলথ সার্ভিসেস’-এর সিনিয়র পেডিয়াট্রিক ডার্মাটোলজিস্ট ডা. ইফ্রাত বার-ইলান। তিনি জানান, বিগত দুই বছর ধরে তরুণদের মধ্যে এই প্রবণতা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্যঝুঁকি বা ভবিষ্যতে ক্যানসার হওয়ার সম্ভাবনার কথা না ভেবে তারা কেবল তাৎক্ষণিক ‘গ্লো’ পেতে চায়। মূলত অতিবেগুনি রশ্মির মধ্যে থাকা ইউভিএ রশ্মি ত্বককে কালচে করে এবং স্বল্প তরঙ্গদৈর্ঘ্যের ইউভিবি রশ্মি ত্বকের উপরের স্তর পুড়িয়ে ডিএনএ-এর মারাত্মক ক্ষতি করে। এর ফলে অকাল বার্ধক্য ও বলিরেখা পড়ার পাশাপাশি নিশ্চিত ক্যানসারের ঝুঁকি তৈরি হয়। অধিকাংশ অভিভাবক চিন্তিত হয়ে সন্তানদের চিকিৎসকের কাছে নিয়ে গেলেও কিশোর-কিশোরীরা ভবিষ্যতে কী হবে, তা নিয়ে মোটেও চিন্তিত নয়। চিকিৎসকদের মতে, ত্বকের ক্যানসারের ক্ষেত্রে বেসাল সেল এবং স্কোয়ামাস সেল কার্সিনোমা প্রাথমিক অবস্থায় ধরা পড়লে তা নিরাময় সম্ভব। তবে মেলানোমার মতো মারাত্মক ক্যানসার পিগমেন্ট কোষে শুরু হয়ে যদি ফুসফুস, লিভার বা মস্তিষ্কে ছড়িয়ে পড়ে, তবে তা প্রাণঘাতী হতে পারে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যানুযায়ী, মেলানোমা আক্রান্ত দেশের তালিকায় ৩০টি দেশের মধ্যে ইসরাইলের অবস্থান ২৩তম। তবে প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্ত হওয়ার কারণে সেখানে মৃত্যুর হার তুলনামূলক কম। এত ঝুঁকির পরেও তরুণদের রোদ পোহানোর নেশা কোনোভাবেই কমছে না। হাইফা সৈকতে ১০ ইউভি ইনডেক্সের প্রখর রোদে শুয়ে থাকা মিশল পেরেজ নামের এক তরুণী অকপটে স্বীকার করেন যে, তিনি জেনেশুনেই নিজের জীবন ঝুঁকিতে ফেলছেন। চিকিৎসকরা বারবার সানস্ক্রিন, টুপি ও চশমা ব্যবহারের পরামর্শ দিলেও অনেক তরুণ তা মানতে নারাজ। শোন ব্রেনার নামের আরেক তরুণের দাবি, সানস্ক্রিনের রাসায়নিক উপাদান রোদের চেয়েও বেশি ক্ষতিকর। তবে ডা. বার-ইলান স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, অনুমোদিত সানস্ক্রিন স্বাস্থ্যের জন্য মোটেও ক্ষতিকর নয়, বরং অপরিকল্পিত ইউভি রশ্মিই ত্বকের ক্ষতি ও ক্যানসারের প্রধান কারণ।
ধরপাকড় ও সহিংসতার মুখে দেশ ছাড়লেন ১ লাখ ৭৮ হাজার অভিবাসী
সৌদি-পাকিস্তান-তুরস্কের ঐতিহাসিক প্রতিরক্ষা চুক্তি, হামলা হলে একসঙ্গে লড়বে তিন দেশ
হরমুজ প্রণালিতে আমিরাতের জাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, ইরানকে দায়ী করে সৌদির কড়া বার্তা
অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের ওপর বসতি স্থাপনকারীদের হামলা, সম্পত্তি ধ্বংস ও বাস্তুচ্যুতির ঘটনা চলতি বছরে আরও বেড়েছে। জাতিসংঘের মানবিক বিষয়ক সমন্বয় দপ্তর ওসিএইচএ’র সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের শুরু থেকে পশ্চিম তীরজুড়ে ১ হাজার ৩৩০টির বেশি বসতি স্থাপনকারী-সংশ্লিষ্ট হামলার ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। এসব ঘটনা ঘটেছে প্রায় ২৫০টি ফিলিস্তিনি সম্প্রদায়ে গড়ে প্রতিদিন ছয়টিরও বেশি হামলার ঘটনা। এই পরিস্থিতির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে বাস্তুচ্যুতি। ২০২৩ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের ৬ জুলাই পর্যন্ত পশ্চিম তীরের ১২৩টি ফিলিস্তিনি সম্প্রদায় পুরোপুরি বা আংশিকভাবে বাস্তুচ্যুত হয়েছে। এর মধ্যে ৪৭টি সম্প্রদায় পুরোপুরি জনশূন্য হয়ে পড়েছে। এই সময়ে ৬ হাজার ২০০-এর বেশি ফিলিস্তিনি ঘরবাড়ি হারিয়েছেন, যাদের মধ্যে ৩ হাজারের বেশি শিশু। শুধু ২০২৬ সালেই বাস্তুচ্যুত হয়েছেন ২ হাজার ৩০০-এর বেশি মানুষ। হামলার প্রভাব শুধু বাড়িঘরেই সীমাবদ্ধ নেই। পানি সরবরাহের ব্যবস্থা, কৃষিজমি, জীবিকার অবকাঠামো, স্কুল ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। চলতি বছরে বসতি স্থাপনকারীদের হামলায় প্রায় ১৬০টি পানি ও স্যানিটেশন অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত, ধ্বংস বা দখল হয়েছে। এর মধ্যে পানির ট্যাংকই অর্ধেকের বেশি। জাতিসংঘ বলছে, বসতি স্থাপনকারীদের হামলায় হতাহতের ঘটনাও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২০ জুলাই পর্যন্ত ২০২৬ সালে এ ধরনের হামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ঘটনায় ১৮ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যেখানে ২০২৫ সালের পুরো বছরে নিহতের সংখ্যা ছিল ১৭। নিহতদের মধ্যে ১২ জনকে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীরা হত্যা করেছে বলে ওসিএইচএ জানিয়েছে; তিনজন ইসরায়েলি বাহিনীর হাতে নিহত এবং আরও তিনজনের ক্ষেত্রে দায় কার, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। চলতি বছর এখন পর্যন্ত প্রায় ৮৮০ ফিলিস্তিনি বসতি স্থাপনকারী-সংশ্লিষ্ট হামলায় আহত হয়েছেন। এর মধ্যে প্রায় ৭২০ জন সরাসরি বসতি স্থাপনকারীদের হামলায় আহত হয়েছেন। সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোতেও পরিস্থিতির ভয়াবহতা স্পষ্ট হয়েছে। রামাল্লার পূর্বে দেইর জারির গ্রামে জুলাইয়ের মাঝামাঝি বসতি স্থাপনকারীদের হামলায় দুই ফিলিস্তিনি নিহত ও আরও কয়েকজন আহত হন। আবার নাবলুসের দক্ষিণে তেল গ্রামে প্রায় ৪০ জন মুখোশধারী বসতি স্থাপনকারী একটি ফিলিস্তিনি বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয় বলে ওসিএইচএ জানিয়েছে। পরিবারটি আগুনে বাড়িটি সম্পূর্ণ ধ্বংস হওয়ার কয়েক মিনিট আগে পালিয়ে যায় এবং পাঁচজন বাস্তুচ্যুত হন। পশ্চিম তীরের বেদুইন ও পশুপালননির্ভর সম্প্রদায়গুলো সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। হামলা, জমিতে প্রবেশের বাধা, বাড়িঘর ও অবকাঠামো ধ্বংস এবং পানির উৎসে প্রবেশের সীমাবদ্ধতা তাদের জীবনযাত্রাকে আরও কঠিন করে তুলছে। জাতিসংঘের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, পরিস্থিতি শুধু তাৎক্ষণিক নিরাপত্তা সংকট তৈরি করছে না; বারবার বাস্তুচ্যুতি ও জীবিকার অবকাঠামো হারানোর কারণে এসব সম্প্রদায়ের দীর্ঘমেয়াদি টিকে থাকার সক্ষমতাও দুর্বল হয়ে পড়ছে।
৩০ বছর পর এভারেস্ট থেকে বাড়ি ফিরছে ‘গ্রিন বুটস’, পরিচয় মিলেছে ভারতীয় পর্বতারোহীর
ক্যানসারের উচ্চ ঝুঁকিতে ইসরায়েলিরা
সেনজেন চুক্তি স্থগিতের জেরে ইতালিকে পাল্টা ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি স্পেনের
স্টেফানি ম্যাটোর কাছে জেড ঠিক কে, তা এক শব্দে প্রকাশ করা বেশ কঠিন। তিনি জেডের মা নন, খালাও নন, আবার নিছক কোনো পারিবারিক বন্ধুও নন। ২০১২ সালে নিজের পড়াশোনার খরচ জোগাতে ডিম্বাণু দান করেছিলেন স্টেফানি। সেই ডিম্বাণু থেকেই জন্ম নেয় ফ্রান্সের এক সমকামী দম্পতির মেয়ে জেড, যার বয়স এখন ১১ বছর। তবে কেবল ডিম্বাণু দানের চুক্তিতেই এই গল্প শেষ হয়নি; বরং আটলান্টিক মহাসাগর পেরিয়ে এই দাতা ও গ্রহীতা পরিবারের মধ্যে গড়ে উঠেছে এক অবিচ্ছেদ্য ও আবেগময় সম্পর্ক। বর্তমানে ৩৬ বছর বয়সী ফুল-টাইম কনটেন্ট ক্রিয়েটর স্টেফানি জানান, তরুণ বয়সে কেবল আর্থিক প্রয়োজনে তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তিনি ভেবেছিলেন সফলভাবে ডিম্বাণু দানের পর সবার পথ আলাদা হয়ে যাবে। কিন্তু জেডের বাবা ভিনসেন্ট ও জুলিয়েনের সঙ্গে তার সম্পর্ক সম্পূর্ণ ভিন্ন রূপ নেয়। ফ্রান্সে সারোগেসি নিষিদ্ধ হওয়ায় এই ফরাসি দম্পতি যুক্তরাষ্ট্রে এসে কানেকটিকাটের একটি ফার্টিলিটি এজেন্সির মাধ্যমে স্টেফানিকে নির্বাচন করেন। সন্তান জন্মের আগে থেকেই তাদের মধ্যে চমৎকার বোঝাপড়া তৈরি হয়, যা পরে নিয়মিত ভিডিও কল ও দেখাসাক্ষাতের মাধ্যমে আরও গভীর হয়। সম্প্রতি জেডের ইংরেজি ভাষা চর্চার জন্য ভিনসেন্ট ও জুলিয়েন স্টেফানির কাছে যুক্তরাষ্ট্রে একটি ভালো 'হোস্ট ফ্যামিলি' বা আশ্রয়দাতা পরিবারের সন্ধান চাইলে স্টেফানি নিজেই জেডকে নিজের কাছে রাখার আগ্রহ প্রকাশ করেন। এরপর কানেকটিকাটে স্টেফানির বাড়িতে দুই সপ্তাহ কাটিয়ে যায় ফরাসি কিশোরী জেড। স্টেফানি, তার প্রেমিক এবং মায়ের সঙ্গে দারুণ সময় কাটিয়েছে জেড। তারা একসঙ্গে বেকিং করেছেন, ভয়ের সিনেমা দেখেছেন, নিউইয়র্ক শহর ঘুরে বেড়িয়েছেন এবং দীর্ঘ সময় গল্প করেছেন। জেডের বাবা ভিনসেন্ট জানান, তারা কখনোই জেডের জন্মের ইতিহাস গোপন করেননি। স্টেফানির সঙ্গে যোগাযোগ রাখাটাকে তারা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মনে করেছেন, যাতে জেড নিজের শেকড় ও স্বাস্থ্যগত কোনো তথ্য সম্পর্কে জানতে চাইলে সহজেই তা পেতে পারে। প্রজনন আইন বিশেষজ্ঞ মেলিসা ব্রিসম্যানের মতে, সমকামী দম্পতিদের ক্ষেত্রে দাতার সঙ্গে এমন সম্পর্ক বজায় রাখা তুলনামূলকভাবে বেশ সাধারণ ঘটনা। তাছাড়া বর্তমানে উন্নত ডিএনএ পরীক্ষার যুগে দাতার পরিচয় পুরোপুরি গোপন রাখাও প্রায় অসম্ভব। তবে স্টেফানি ও জেডের পরিবারের এই গল্পটি কেবল আইনি পরিচয় বা চুক্তির মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। স্টেফানি একসময় ভেবেছিলেন তিনি কেবল অন্য কাউকে একটি পরিবার গড়তে সাহায্য করছেন, কিন্তু বিনিময়ে তিনি নিজেই পরম মমতায় ভরা নতুন এক পরিবারের অংশ হয়ে গেছেন।
থাইল্যান্ডে দাদা-দাদিকে হত্যার পর স্কুলে কিশোর বন্দুকধারীর তাণ্ডব, শিক্ষক-ছাত্রসহ প্রাণ গেল ৭ জনের
সামরিক ঘাঁটিতে আবাসন পরিকল্পনা ঘিরে ব্রিটিশ শহরে খুঁজে খুঁজে আশ্রয়প্রার্থীদের বাড়িতে হা মলা