আন্তর্জাতিক

ইসরায়েলি আকাশ এখন অরক্ষিত, পরবর্তী পদক্ষেপের সময় এসেছে: ইরানি স্পিকার

ইসমাইল হোসাইন প্রকাশ: মার্চ ২২, ২০২৬ ২:৩৭
ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের কালিবফ
ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের কালিবফ

ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের কালিবফ বলেছেন, ইসরায়েলি বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এখন পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে এবং তাদের আকাশসীমা বর্তমানে সম্পূর্ণ অরক্ষিত। ডিমোনা পরমাণু কেন্দ্রের মতো উচ্চ সুরক্ষিত এলাকায় ইরানের সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা প্রতিহত করতে ইসরায়েলের ব্যর্থতাকে যুদ্ধের একটি ‘নতুন পর্যায়’ হিসেবে অভিহিত করেছেন তিনি।


আজ রবিবার (২২ মার্চ) এক বিবৃতিতে কালিবফ বলেন, "ইসরায়েলি শাসনামল যদি ডিমোনার মতো স্পর্শকাতর এবং সুরক্ষিত এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র আটকাতে ব্যর্থ হয়, তবে এটি মানতে হবে যে যুদ্ধের মোড় ঘুরে গেছে। এটি এখন প্রমাণিত যে ইসরায়েলের আকাশ কার্যত অরক্ষিত।"


ইরানি স্পিকার আরও ইঙ্গিত দেন যে, বর্তমান পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে ইরান এখন তার পরবর্তী কৌশলগত পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়নের দিকে এগোবে। তিনি বলেন, "ইসরায়েলি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার অসারতা স্পষ্ট হয়ে যাওয়ার পর, এখন আমাদের পরবর্তী পূর্ব-পরিকল্পিত কৌশলগুলো প্রয়োগ করার সময় এসেছে।"


উল্লেখ্য, গত কয়েক দিনে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করেছে। ইরানের আইআরজিসি (IRGC) অ্যারোস্পেস ফোর্সের প্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাজিদ মুসাভি দাবি করেছেন, ইরান এখন দখলকৃত অঞ্চলের আকাশে পূর্ণ আধিপত্য বিস্তার করেছে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আগামীতে নতুন প্রযুক্তির ক্ষেপণাস্ত্র এবং উৎক্ষেপণ পদ্ধতি ব্যবহার করা হবে, যা ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের হতবাক করে দেবে।


ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী, ডিমোনা ও আরদ অঞ্চলে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ১০০ জন আহত হয়েছেন এবং বেশ কিছু অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইসরায়েলি বিমান বাহিনী এবং প্রতিরক্ষা বিভাগ তদন্ত করছে কেন তাদের মাল্টি-লেয়ারড প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এই ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রগুলো শনাক্ত বা ধ্বংস করতে ব্যর্থ হলো।


বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের এই ক্রমবর্ধমান সংঘাত এখন এক বিপজ্জনক মোড়ে দাঁড়িয়েছে। কালিবফের এই বক্তব্য তেহরানের পক্ষ থেকে বড় ধরনের কোনো সামরিক অভিযানের আগাম সতর্কবার্তা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যুর পর বাবারও মরদেহ উদ্ধার , একসঙ্গে দাফন করা হবে বাবা-মেয়েকে

অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে ছয় বছরের এক শিশুকন্যা ও তার বাবার মৃত্যুকে ঘিরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে। পুলিশ জানিয়েছে, পারামাট্টা নদীতে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক ঘটনায় ৪৭ বছর বয়সী মওলিক ধান্ধুকিয়া এবং তার ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার পর তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।   স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত শনিবার সিডনির কনকর্ড এলাকার কাছে একটি নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। তার সঙ্গে ছিলেন ছয় বছর বয়সী কন্যা। কিছু সময় পর নদীতে জরুরি পরিস্থিতির খবর পেয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে পুলিশ ও জরুরি সেবা সংস্থাগুলো।   আরও পড়ুন...টেক্সাসে স্বামীর গুলিতে স্ত্রী নিহত, পরে পুলিশের গুলিতে স্বামী নিহত; দুই শিশুকে   পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দুপুরের কিছু আগে মওলিক ধান্ধুকিয়ার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর প্রায় সাত ঘণ্টা ধরে শিশুটির সন্ধানে ব্যাপক অনুসন্ধান চালানো হয়। উদ্ধারকারীরা শেষ পর্যন্ত বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শিশুকন্যার মরদেহ নদী থেকে উদ্ধার করেন। ঘটনার তদন্তে সহায়তার জন্য আশপাশের বিভিন্ন সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। স্থানীয় একটি স্থাপনার সিসিটিভি ফুটেজও তদন্তকারীদের হাতে এসেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।   এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক শোকবার্তায় জানানো হয়েছে, আগামী শুক্রবার রাউস হিলের ক্যাসেলব্রুক ক্রেমেটোরিয়ামে বাবা ও মেয়ের যৌথ শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হবে। শোকবার্তায় লেখা হয়েছে, “দুই কোমল ও সদয় আত্মা, যারা চিরকাল আমাদের হৃদয়ে বেঁচে থাকবে। তাদের আত্মার শান্তি কামনা করছি।” তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার আগে কয়েক দফা নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। একবার তার স্ত্রী প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়াও তার সঙ্গে ছিলেন বলে জানা গেছে।   আরও পড়ুন...টেক্সাসে বিস্ফোরণের আগুনে পুড়েও বাড়ি ও নাতি-নাতনিদের বাঁচালেন এক সাহসী দাদা   পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করেছে, যা তদন্তের অংশ হিসেবে পরীক্ষা করা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত এর বিষয়বস্তু প্রকাশ করা হয়নি। কেন এমন ঘটনা ঘটল, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে মৃত্যুর প্রায় দুই সপ্তাহ আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীর্ঘ একটি পোস্ট করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। সেখানে তিনি ২০০৫ সালে জিমে ব্যায়াম করার সময় ঘাড়ে পাওয়া আঘাতের কারণে দীর্ঘদিন ধরে ভোগা শারীরিক সমস্যার কথা উল্লেখ করেছিলেন।   ওই পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, ঘাড়ের দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা তার জীবনের অনেক সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এমআরআই পরীক্ষায় তার মেরুদণ্ডের ঘাড়ের অংশে স্নায়ুর ওপর চাপের বিষয়টি ধরা পড়ে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। মওলিক ধান্ধুকিয়া পেশাগত জীবনে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কাজ করতেন। ২০২২ সাল থেকে তিনি সাউথ ইস্টার্ন সিডনি লোকাল হেলথ ডিস্ট্রিক্টে অ্যাপ্লিকেশন সাপোর্ট বিশ্লেষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এর আগে অস্ট্রেলিয়া ও ভারতে বিভিন্ন সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন।   এই ঘটনার পর পরিবারটির জন্য সহায়তা তহবিলও গঠন করেছেন স্বজন ও পারিবারিক বন্ধুরা। তহবিল সংগ্রহের আহ্বানে বলা হয়েছে, প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়া একসঙ্গে তার স্বামী ও একমাত্র কন্যাকে হারিয়েছেন। এই কঠিন সময়ে তাকে আর্থিক ও মানসিক সহায়তা দেওয়ার জন্য সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে।   ▶️ ট্রাম্পের লাখ ডলারের এইচ-১বি ভিসা ফি অবৈধ ঘোষণা মার্কিন আদালতের   তহবিলের অর্থ শেষকৃত্যের ব্যয়, ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা এবং নিকট আত্মীয়দের যাতায়াত ও আবাসন খাতে ব্যবহার করা হবে বলে জানানো হয়েছে। নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশের সুপারিনটেনডেন্ট ক্রিস্টিন ম্যাকডোনাল্ড ঘটনাটিকে “পরিবার ও সমাজের জন্য এক গভীর ট্র্যাজেডি” হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, “এটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক একটি ঘটনা। আমরা সব দিক থেকে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছি এবং কোনো সম্ভাবনাই উপেক্ষা করা হবে না।” পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পেছনে পারিবারিক সহিংসতার কোনো উপাদান ছিল কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়নি।   ঘটনার পর পুরো এলাকায় শোকের আবহ বিরাজ করছে। বাবা ও মেয়ের একসঙ্গে শেষকৃত্যের খবর আরও আবেগঘন পরিবেশ তৈরি করেছে। স্বজন ও পরিচিতজনরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের স্মরণ করে শোক প্রকাশ করছেন।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

Advertisement

আন্তর্জাতিক

View more
রাজ্যের নবনির্বাচিত সরকারের প্রথম বাজেট পেশ হতে চলেছে বিধানসভায় l কোলাজ আমেরিকা বাংলা
বাজেটের আগে বাংলার জন্য মোদির ‘মেগা উপহার’, ৬০ হাজার কোটি টাকার বরাদ্দ ঘিরে জোর আলোচনা

কলকাতা: রাজ্যের নবনির্বাচিত বিজেপি সরকার সোমবার বিধানসভায় তাদের প্রথম বাজেট পেশ করতে চলেছে। এই বাজেটকে ঘিরে সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রত্যাশা ক্রমশ বাড়ছে। বিশেষ করে মহার্ঘ ভাতা (ডিএ) নিয়ে বড় কোনও ঘোষণা আসতে পারে বলে জল্পনা চলছে। পাশাপাশি একগুচ্ছ নতুন প্রকল্প ও উন্নয়নমূলক কর্মসূচির ঘোষণাও আসতে পারে বলে রাজনৈতিক মহলের ধারণা।   এই আবহেই বাংলার প্রতি কেন্দ্রীয় সরকারের বিশেষ সহায়তার বার্তা সামনে এসেছে। পশ্চিমবঙ্গের উন্নয়নের জন্য ৬০ হাজার কোটি টাকার বরাদ্দ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। শুধু তাই নয়, গত দেড় মাসে রাজ্যের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক খাতে কেন্দ্র কত অর্থ বরাদ্দ করেছে, সেই হিসাবও তুলে ধরেছেন তিনি।   শনিবার ছিল পশ্চিমবঙ্গ দিবস। এ উপলক্ষে রাজ্যজুড়ে বিশেষ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। তারকেশ্বরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। পশ্চিমবঙ্গ দিবস উপলক্ষে রাজ্যের মানুষের উদ্দেশে শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি একটি আবেগঘন বার্তা দেন। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর উদ্দেশে লেখা পাঁচ পাতার চিঠিতে বাংলার উন্নয়ন, সমৃদ্ধি ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার নানা দিক তুলে ধরেন তিনি। একই সঙ্গে বাংলার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও জাতীয় জীবনে রাজ্যের অবদানের কথাও উল্লেখ করেন।   চিঠিতে প্রধানমন্ত্রী লেখেন, “কেন্দ্রীয় সরকার পশ্চিমবঙ্গকে সম্ভাব্য সব ধরনের সহযোগিতা করবে। জল জীবন মিশন এবং পরিকাঠামো উন্নয়নসহ অতীতে আটকে থাকা বিভিন্ন প্রকল্পকে দ্রুত এগিয়ে নিতে প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে। রেলের উন্নয়নের জন্য প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে এবং আরও ৬০ হাজার কোটি টাকার বরাদ্দ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।”   তিনি আরও বলেন, “আমি আত্মবিশ্বাসী যে আগামী দিনে পশ্চিমবঙ্গের উন্নয়নের যাত্রা আরও বেশি গতিতে এগিয়ে যাবে। এখনও অনেক কাজ বাকি রয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী ও আধুনিক ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে হবে। এর জন্য বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনা, শিল্পোন্নয়ন ত্বরান্বিত করা, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পকে সহায়তা করা এবং পণ্য পরিবহন ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে উদ্যোক্তাদের জন্য এমন পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে, যেখানে তারা হয়রানি বা অনিশ্চয়তার মুখোমুখি না হয়ে সহযোগিতা পাবেন।”   প্রধানমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, পশ্চিমবঙ্গ আগামী দিনে মৎস্যচাষ, উৎপাদন, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ, বন্দরভিত্তিক উন্নয়ন, বস্ত্রশিল্প, পর্যটন এবং ডিজিটাল অর্থনীতির অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠতে পারে। তাঁর মতে, রাজ্যের কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থান একে বাণিজ্য ও আঞ্চলিক সংযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বারে পরিণত করতে সক্ষম।   চিঠিতে তিনি আরও উল্লেখ করেন, “যেখানেই বিজেপি সরকার রয়েছে, সেখানে পরিশ্রমী কৃষকরাই নীতিনির্ধারণের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকেন। আমি নিশ্চিত, পশ্চিমবঙ্গও এর ব্যতিক্রম হবে না।”   উল্লেখ্য, বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারের সময় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বারবার ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকারের সুফলের কথা তুলে ধরেছিলেন। তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, রাজ্যের উন্নয়নে কেন্দ্র সব ধরনের সহযোগিতা করবে। সেই প্রেক্ষাপটেই পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার গঠনের পর কেন্দ্রীয় সহায়তা ও উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

কলকাতা প্রতিনিধি প্রকাশ: জুন ২১, ২০২৬ ১৪:১৮
ছবিঃ কোলাজ আমেরিকা বাংলা

ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের জোটে ফাটল ধরাতে ইরানের নতুন কৌশল

স্পেনের প্রধানমন্ত্রীর ও তার স্ত্রী l ছবি: সংগৃহীত

দুর্নীতির অভিযোগে বিচারের মুখে স্পেনের প্রধানমন্ত্রীর স্ত্রী, পাসপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ

ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান, কাতারে অবরুদ্ধ ৬ বিলিয়ন ডলার ফেরত পাচ্ছে ইরান

ছবি: সংগৃহীত
৫০ বছরে প্রথমবার ভিসা ফি বাড়াল জাপান, খরচ বাড়বে ৫ গুণ

বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ অর্থনৈতিক ও উন্নত প্রযুক্তির দেশ জাপান দীর্ঘ প্রায় ৫০ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো বিদেশি নাগরিকদের জন্য ভিসা ফি এক ধাক্কায় বিপুল পরিমাণে বাড়ানোর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। আগামী মাস অর্থাৎ জুলাই মাসের শুরু থেকেই আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অত্যন্ত কার্যকর এই নতুন নিয়মটি পুরোপুরি বলবৎ হবে বলে দেশটির সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে। গত শুক্রবার (১৯ জুন) জাপানের মন্ত্রিসভার এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এই ফি পরিবর্তনের প্রস্তাবটির চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।   আগামী ১ জুলাই বা তারপরে দেশটির দূতাবাসে জমা দেওয়া সমস্ত নতুন ভিসা আবেদনের ক্ষেত্রে বর্ধিত এই নতুন ফি কাঠামো বাধ্যতামূলকভাবে কার্যকর হবে।   আন্তর্জাতিক প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্টের এক বিশেষ প্রতিবেদন থেকে জাপানের এই বড় ধরণের নীতি পরিবর্তনের তথ্যটি নিশ্চিত করা হয়েছে। নতুন ফি কাঠামোর বিবরণ অনুযায়ী, এখন থেকে একবার প্রবেশের বা সিঙ্গেল এন্ট্রি ভিসার খরচ ৩,০০০ জাপানি ইয়েন থেকে এক লাফে ৫ গুণ বেড়ে সরাসরি ১৫,০০০ জাপানি ইয়েন করা হয়েছে। অন্যদিকে, ব্যবসায়িক বা পর্যটনসহ বিভিন্ন কারণে যারা একাধিকবার প্রবেশের বা মাল্টিপল এন্ট্রি ভিসার আবেদন করবেন, তাদের খরচ পূর্বের ৬,০০০ জাপানি ইয়েন থেকে দ্বিগুণ বেড়ে এখন থেকে ৩০,০০০ জাপানি ইয়েন নির্ধারিত হবে, যা বিদেশি পর্যটক ও অভিবাসীদের পকেটে বড় চাপ সৃষ্টি করবে।   গত শুক্রবার টোকিওতে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে জাপানের বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী তোশিমিতসু মোতেগি এই ফি বৃদ্ধির সুনির্দিষ্ট কারণ ব্যাখ্যা করে বলেন, জাপানের বর্তমান ভিসা ফি কাঠামোটি সুদীর্ঘকাল পূর্বে অর্থাৎ ১৯৭৮ সালে নির্ধারণ করা হয়েছিল। বিগত পাঁচ দশকে বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি এবং আন্তর্জাতিক বাজারে মুদ্রার বিনিময় হারের ব্যাপক ওঠানামা বিবেচনায় নিয়ে আমরা সম্প্রতি দীর্ঘ সময় পর এটি সংশোধন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তিনি আরও আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, বিভিন্ন অর্থনৈতিক বিষয় সতর্কতার সঙ্গে বিবেচনা করার পরই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং এর ফলে জাপানে বিদেশি পর্যটকের আগমনে কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না।   জাপানের স্থানীয় সংবাদমাধ্যম দ্য জাপান টাইমসের এক প্রতিবেদনে কর্মকর্তাদের বরাতে জানানো হয়েছে, গত মাসে দেশটির পার্লামেন্টে অনুমোদিত একটি বিশেষ আইনের সূত্র ধরেই মূলত এই ফি বৃদ্ধি করা হচ্ছে। ওই নতুন আইনটি সরকারের জন্য অভিবাসন-সংক্রান্ত বিভিন্ন ধরনের ফি বাড়ানোর আইনি সুযোগ তৈরি করেছে। বর্তমানে জাপানে বিদেশি নাগরিকদের সংখ্যা অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে সামগ্রিক অভিবাসন ব্যবস্থাপনা, নিরাপত্তা ও সেবার মান উন্নয়নের ব্যয় পূর্বের তুলনায় অনেক বেড়েছে। নতুন এই ফি থেকে আসা অতিরিক্ত রাজস্ব মূলত সেই বর্ধিত ব্যয় মেটাতে সরকারকে সরাসরি সহায়তা করবে।   ভিসা ফি বৃদ্ধির পাশাপাশি জাপানে আবাসিক মর্যাদা পরিবর্তন এবং ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর সাথে সম্পর্কিত ফি-র সর্বোচ্চ সীমাও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করা হবে। একইসঙ্গে দেশটিতে স্থায়ী আবাসন বা পার্মানেন্ট রেসিডেন্সির আবেদন ফি-র সর্বোচ্চ সীমাও এক ধাক্কায় অনেক বাড়ানো হবে। সরকার আবাসিক মর্যাদা পরিবর্তন ও অবস্থানের মেয়াদ বৃদ্ধির আবেদন ফি আবেদনের ধরন অনুযায়ী ১০,০০০ ইয়েন থেকে সর্বোচ্চ ৭০,০০০ ইয়েনের মধ্যে নির্ধারণের নতুন প্রস্তাব দিয়েছে। এছাড়া স্থায়ী আবাসনের জন্য আবেদন ফি ১০,০০০ জাপানি ইয়েন থেকে বাড়িয়ে সর্বোচ্চ ২ লাখ জাপানি ইয়েন পর্যন্ত করা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।   জাপানের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম নিপ্পন-এর এক বিশেষ অর্থনৈতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৭ সালের মার্চ মাসে শেষ হওয়া জাপানের চলতি অর্থবছরের আগেই সরকার এই সমস্ত কাঠামোগত পরিবর্তন সম্পূর্ণ কার্যকর করতে চায়। সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই খাত থেকে সংগৃহীত অতিরিক্ত তহবিল অভিবাসন আবেদন প্রক্রিয়া দ্রুত পরিচালনায় সহায়তা করবে, দেশটিতে জাপানি ভাষা শিক্ষা কর্মসূচি আরও সম্প্রসারণ করবে এবং একই সাথে ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও যারা অবৈধভাবে অবস্থান করছেন, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা জোরদার করতে বড় ভূমিকা রাখবে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ জাপানে বিদেশি বাসিন্দার সংখ্যা রেকর্ড ৪১ লাখ ৩০ হাজারে পৌঁছেছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ২১, ২০২৬ ১৩:৭
ছবি: সংগৃহীত

কানাডার অভিবাসন নীতির কারণে ফেরত পাঠানো হচ্ছে আশ্রয়প্রার্থীদের, চরম সমালোচনায় সরকার

ছবি: সংগৃহীত

সুইজারল্যান্ডে মুখোমুখি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান, হরমুজ প্রণালি নিয়ে আলোচনা শুরু

ছবি: সংগৃহীত

গাজায় ইসরায়েলি হামলায় আল জাজিরার ক্যামেরাপারসনসহ নিহত ৬

জুরিখ বিমানবন্দর | ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংলাপের কারণে সুইজারল্যান্ডের জুরিখ বিমানবন্দরে বিমান চলাচল ব্যাহত

সুইজারল্যান্ডের বার্গেনস্টক রিসোর্টে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উচ্চপর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক শান্তি সংলাপের জেরে আকাশসীমায় জরুরি ‘নো-ফ্লাই জোন’ বা বিমান চলাচল নিষিদ্ধ এলাকা ঘোষণা করা হয়েছে। এই আকস্মিক নির্দেশনার কারণে দেশটির বিমান ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ সংস্থা ‘স্কাইগাইড’-এর প্রযুক্তিগত ব্যবস্থায় বড় ধরণের ত্রুটি দেখা দেয়, যার ফলে সুইজারল্যান্ডের অন্যতম প্রধান ও ব্যস্ততম জুরিখ বিমানবন্দরে বিমান ওঠানামা ও সামগ্রিক কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। রোববার (২১ জুন) সুইজারল্যান্ডের স্থানীয় সংবাদমাধ্যম সুইসইনফোর বরাতে বিমান ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠান স্কাইগাইড আনুষ্ঠানিকভাবে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।   স্কাইগাইড তাদের বিবৃতিতে জানিয়েছে, শনিবার রাতে অত্যন্ত আকস্মিক ও শেষ মুহূর্তে বার্গেনস্টক রিসোর্টে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের কারিগরি সংলাপ আয়োজনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। এই শেষ মুহূর্তের সিদ্ধান্তের পরই অত্যন্ত জরুরি ভিত্তিতে ওই অঞ্চলের আকাশসীমা সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ বা নো-ফ্লাই জোন হিসেবে সক্রিয় করা হয়। এই আকস্মিক সক্রিয়করণের ফলে সুইজারল্যান্ডের ডুবেনডর্ফ নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র এবং জুরিখ বিমানবন্দরের নিয়ন্ত্রণ টাওয়ারের মূল রাডার সিস্টেমে একটি বড় ধরণের কারিগরি জটিলতা ও গোলযোগের সৃষ্টি হয়, যা পুরো বিমান চলাচল ব্যবস্থাকে স্থবির করে দেয়।   এই অনাকাঙ্ক্ষিত প্রযুক্তিগত দুর্ঘটনার কারণে বিমান ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ সংস্থা স্কাইগাইড বাধ্য হয়ে রাজধানী বার্নের পূর্বাঞ্চলের সম্পূর্ণ আকাশসীমা বেশ কয়েক ঘণ্টার জন্য পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়। জুরিখ বিমানবন্দরের একজন অফিশিয়াল মুখপাত্র জানিয়েছেন, এই জটিলতার কারণে রোববার সকালের একটি বড় অংশ জুড়ে বিমানবন্দরটি থেকে কোনো বিমানের উড্ডয়ন বা টেক-অফ করা সম্ভব হয়নি। তবে সকাল পৌনে সাতটা পর্যন্ত পূর্বনির্ধারিত কিছু বিমানের অবতরণ বা ল্যান্ডিং প্রক্রিয়া সচল ছিল। অবশ্য যে সমস্ত বিমান ইতিমধ্যে বিমানবন্দরের কাছাকাছি চলে এসেছিল, সেগুলোকে এই নিষেধাজ্ঞার আওতামুক্ত রেখে নিরাপদে নামার অনুমতি দেওয়া হয়।   বিবৃতিতে স্কাইগাইড আরও উল্লেখ করেছে যে, জুরিখ বিমানবন্দরে বিমান চলাচল সাময়িকভাবে থমকে গেলেও এবং রাডার সিস্টেমে ত্রুটি দেখা দিলেও আকাশসীমার সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা সব সময়ের জন্য সম্পূর্ণ নিশ্চিত ছিল। পরবর্তীতে কারিগরি ত্রুটি কাটিয়ে ওঠার পর সকাল পৌনে আটটা থেকে আকাশপথে বিমান চলাচল পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করে এবং বর্তমানে বিমানবন্দরের সমস্ত কার্যক্রম সম্পূর্ণ পূর্বের নিয়মে ফিরে এসেছে। তবে বাড়তি সতর্কতা হিসেবে আগামী সোমবার সকাল আটটা পর্যন্ত ওই আকাশসীমার ওপর দিয়ে অন্য দেশের বিমান চলাচলের ক্ষমতা সামান্য হ্রাস করে রাখা হবে, যার প্রভাব খুবই সামান্য হবে।   উল্লেখ্য, মধ্যপ্রাচ্যে বিগত কয়েক মাস ধরে চলমান ভয়াবহ সশস্ত্র সংঘাতের অবসান ঘটাতে এবং বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান রুট হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করার লক্ষ্যে গত বুধবার একটি ঐতিহাসিক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। সেই সমঝোতার আলোকেই এই চূড়ান্ত কারিগরি সংলাপে অংশ নিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল সুইজারল্যান্ডে এসে পৌঁছেছেন। পাকিস্তানের বিশেষ মধ্যস্থতায় বার্গেনস্টকের এই সংলাপে মার্কিন প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন আমেরিকার ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং ইরানের পক্ষে নেতৃত্ব দিচ্ছেন দেশটির পার্লমেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ২১, ২০২৬ ১০:৫৮
ছবি: সংগৃহীত

সুইজারল্যান্ডে শুরু হলো যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের বহুল প্রতীক্ষিত ঐতিহাসিক কারিগরি সংলাপ

ছবি: সংগৃহীত

কানাডায় মসজিদের বাইরে ইমামের ওপর হামলা, চরম শঙ্কায় মুসলিমরা

ছবিঃ কোলাজ আমেরিকা বাংলা

স্কটল্যান্ডের এডিনবরায় মুসলিমদের ওপর হামলা, আহত ৫—কড়া প্রতিক্রিয়া ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর

0 Comments