মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের দামামা আরও প্রকট করে ইসরায়েলের অভ্যন্তরে নজিরবিহীন ও ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। দক্ষিণ ইসরায়েলের গুরুত্বপূর্ণ শহর আরাদ এবং পারমাণবিক গবেষণাকেন্দ্র সংলগ্ন ডিমোনা এলাকায় ইরানের শক্তিশালী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ব্যাপক প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।
সবশেষ তথ্য অনুযায়ী, আরাদ শহরে হামলায় অন্তত ৬ জন নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন আরও ৮৮ জন। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম দ্য টাইমস অব ইসরায়েল ও আরুতজ শেভার প্রতিবেদন অনুযায়ী, আরাদ শহরের কেন্দ্রস্থলে একটি ঘনবসতিপূর্ণ আবাসিক এলাকায় ইরানের একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সরাসরি আঘাত হানে। এতে মুহূর্তেই ধসে পড়ে অন্তত ২০টি ভবন।
স্থানীয় অ্যাম্বুলেন্স সেবা বিভাগ জানিয়েছে, আহতদের মধ্যে অন্তত ১০ জনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক, যার মধ্যে পাঁচ বছর বয়সী এক কন্যাশিশুও রয়েছে। হামলার ভয়াবহতায় স্থানীয় হাসপাতালগুলোতে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে।
অন্যদিকে, ইসরায়েলের স্পর্শকাতর এলাকা ডিমোনাতেও হামলা চালিয়েছে তেহরান। এখানে ইসরায়েলের পারমাণবিক গবেষণাকেন্দ্র অবস্থিত হওয়ায় উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে বিশ্বজুড়ে। যদিও আন্তর্জাতিক পরমাণু সংস্থা নিশ্চিত করেছে যে, গবেষণাকেন্দ্রটি বর্তমানে নিরাপদ রয়েছে, তবে পার্শ্ববর্তী এলাকায় একাধিক ভবন ধ্বংসের খবর পাওয়া গেছে।
এই হামলার পর ইসরায়েলের গর্বিত আকাশপ্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন উঠেছে। সামরিক বাহিনী স্বীকার করেছে যে, আরাদ অভিমুখে আসা ক্ষেপণাস্ত্রটি ধ্বংস করতে পর পর দুটি প্রচেষ্টা চালানো হলেও তা ব্যর্থ হয়। কেন ইন্টারসেপ্টরগুলো কাজ করেনি, তা নিয়ে ইতিমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে ইসরায়েলি বিমানবাহিনী।
হামলার পর প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু উদ্ধার তৎপরতা জোরদার করার নির্দেশ দিয়েছেন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ইসরায়েল জুড়ে রবি ও সোমবার সমস্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সশরীর ক্লাস বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে দেশটির শিক্ষা মন্ত্রণালয়। বর্তমানে পুরো অঞ্চলজুড়ে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে। সূত্র: ABC News
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস
ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের কালিবফ বলেছেন, ইসরায়েলি বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এখন পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে এবং তাদের আকাশসীমা বর্তমানে সম্পূর্ণ অরক্ষিত। ডিমোনা পরমাণু কেন্দ্রের মতো উচ্চ সুরক্ষিত এলাকায় ইরানের সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা প্রতিহত করতে ইসরায়েলের ব্যর্থতাকে যুদ্ধের একটি ‘নতুন পর্যায়’ হিসেবে অভিহিত করেছেন তিনি। আজ রবিবার (২২ মার্চ) এক বিবৃতিতে কালিবফ বলেন, "ইসরায়েলি শাসনামল যদি ডিমোনার মতো স্পর্শকাতর এবং সুরক্ষিত এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র আটকাতে ব্যর্থ হয়, তবে এটি মানতে হবে যে যুদ্ধের মোড় ঘুরে গেছে। এটি এখন প্রমাণিত যে ইসরায়েলের আকাশ কার্যত অরক্ষিত।" ইরানি স্পিকার আরও ইঙ্গিত দেন যে, বর্তমান পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে ইরান এখন তার পরবর্তী কৌশলগত পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়নের দিকে এগোবে। তিনি বলেন, "ইসরায়েলি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার অসারতা স্পষ্ট হয়ে যাওয়ার পর, এখন আমাদের পরবর্তী পূর্ব-পরিকল্পিত কৌশলগুলো প্রয়োগ করার সময় এসেছে।" উল্লেখ্য, গত কয়েক দিনে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করেছে। ইরানের আইআরজিসি (IRGC) অ্যারোস্পেস ফোর্সের প্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাজিদ মুসাভি দাবি করেছেন, ইরান এখন দখলকৃত অঞ্চলের আকাশে পূর্ণ আধিপত্য বিস্তার করেছে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আগামীতে নতুন প্রযুক্তির ক্ষেপণাস্ত্র এবং উৎক্ষেপণ পদ্ধতি ব্যবহার করা হবে, যা ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের হতবাক করে দেবে। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী, ডিমোনা ও আরদ অঞ্চলে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ১০০ জন আহত হয়েছেন এবং বেশ কিছু অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইসরায়েলি বিমান বাহিনী এবং প্রতিরক্ষা বিভাগ তদন্ত করছে কেন তাদের মাল্টি-লেয়ারড প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এই ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রগুলো শনাক্ত বা ধ্বংস করতে ব্যর্থ হলো। বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের এই ক্রমবর্ধমান সংঘাত এখন এক বিপজ্জনক মোড়ে দাঁড়িয়েছে। কালিবফের এই বক্তব্য তেহরানের পক্ষ থেকে বড় ধরনের কোনো সামরিক অভিযানের আগাম সতর্কবার্তা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের দামামা আরও প্রকট করে ইসরায়েলের অভ্যন্তরে নজিরবিহীন ও ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। দক্ষিণ ইসরায়েলের গুরুত্বপূর্ণ শহর আরাদ এবং পারমাণবিক গবেষণাকেন্দ্র সংলগ্ন ডিমোনা এলাকায় ইরানের শক্তিশালী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ব্যাপক প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। সবশেষ তথ্য অনুযায়ী, আরাদ শহরে হামলায় অন্তত ৬ জন নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন আরও ৮৮ জন। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম দ্য টাইমস অব ইসরায়েল ও আরুতজ শেভার প্রতিবেদন অনুযায়ী, আরাদ শহরের কেন্দ্রস্থলে একটি ঘনবসতিপূর্ণ আবাসিক এলাকায় ইরানের একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সরাসরি আঘাত হানে। এতে মুহূর্তেই ধসে পড়ে অন্তত ২০টি ভবন। স্থানীয় অ্যাম্বুলেন্স সেবা বিভাগ জানিয়েছে, আহতদের মধ্যে অন্তত ১০ জনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক, যার মধ্যে পাঁচ বছর বয়সী এক কন্যাশিশুও রয়েছে। হামলার ভয়াবহতায় স্থানীয় হাসপাতালগুলোতে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে। অন্যদিকে, ইসরায়েলের স্পর্শকাতর এলাকা ডিমোনাতেও হামলা চালিয়েছে তেহরান। এখানে ইসরায়েলের পারমাণবিক গবেষণাকেন্দ্র অবস্থিত হওয়ায় উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে বিশ্বজুড়ে। যদিও আন্তর্জাতিক পরমাণু সংস্থা নিশ্চিত করেছে যে, গবেষণাকেন্দ্রটি বর্তমানে নিরাপদ রয়েছে, তবে পার্শ্ববর্তী এলাকায় একাধিক ভবন ধ্বংসের খবর পাওয়া গেছে। এই হামলার পর ইসরায়েলের গর্বিত আকাশপ্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন উঠেছে। সামরিক বাহিনী স্বীকার করেছে যে, আরাদ অভিমুখে আসা ক্ষেপণাস্ত্রটি ধ্বংস করতে পর পর দুটি প্রচেষ্টা চালানো হলেও তা ব্যর্থ হয়। কেন ইন্টারসেপ্টরগুলো কাজ করেনি, তা নিয়ে ইতিমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে ইসরায়েলি বিমানবাহিনী। হামলার পর প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু উদ্ধার তৎপরতা জোরদার করার নির্দেশ দিয়েছেন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ইসরায়েল জুড়ে রবি ও সোমবার সমস্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সশরীর ক্লাস বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে দেশটির শিক্ষা মন্ত্রণালয়। বর্তমানে পুরো অঞ্চলজুড়ে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
দীর্ঘ টানাপোড়েনের পর অবশেষে ইরানে হামলার জন্য ব্রিটিশ সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে যুক্তরাজ্য। শুক্রবার (২০ মার্চ) ডাউনিং স্ট্রিটের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন ঘটানো ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনাগুলো ধ্বংসে মার্কিন বাহিনীকে এই ঘাঁটিগুলো ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে গ্লুচেস্টারশায়ারের আরএএফ ফেয়ারফোর্ড (RAF Fairford) এবং ভারত মহাসাগরে অবস্থিত যৌথ ঘাঁটি ডিয়েগো গার্সিয়া (Diego Garcia) ব্যবহারের পথ এখন ওয়াশিংটনের জন্য উন্মুক্ত। শুরুতে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার এই যুদ্ধে সরাসরি জড়াতে অনীহা প্রকাশ করেছিলেন এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনুরোধ ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, যেকোনো সামরিক পদক্ষেপের আগে তার আইনি ভিত্তি নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। তবে মধ্যপ্রাচ্যে ব্রিটিশ মিত্রদের ওপর ইরানের সাম্প্রতিক হামলার পর স্টারমার তার অবস্থান পরিবর্তন করেন। ডাউনিং স্ট্রিট এই সিদ্ধান্তকে অঞ্চলের ‘যৌথ আত্মরক্ষা’ এবং বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেছে। এই সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ এক পোস্টে তিনি বলেন, স্টারমার ব্রিটিশ জনগণের ইচ্ছাকে উপেক্ষা করে এই ‘আগ্রাসনে’ সহায়তা করছেন এবং এর মাধ্যমে ব্রিটিশ নাগরিকদের জীবনকেই বিপদে ফেলছেন। তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, ইরান তার আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগ করবে। অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই অনুমতি আসায় সন্তোষ প্রকাশ করলেও ব্রিটিশ সরকারের দেরি হওয়া নিয়ে সমালোচনা করেছেন। তিনি মন্তব্য করেন, যুক্তরাজ্যের আরও অনেক আগেই এই পদক্ষেপ নেওয়া উচিত ছিল। তবে ব্রিটেনের অভ্যন্তরীণ জনমত এখনো এই যুদ্ধের বিপক্ষে। সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, প্রায় ৫৯ শতাংশ ব্রিটিশ নাগরিক ইরানে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার বিরোধিতা করছেন।