সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

Today latest news

20 News
হরমুজ নিয়ে ট্রাম্পের মানচিত্রের জবাবে ক্যালিফোর্নিয়াকে ইরানের ‘নতুন ভূখণ্ড’ হিসেবে দেখানো হয়েছে।
হরমুজ নিয়ে ট্রাম্পের মানচিত্রের জবাবে ক্যালিফোর্নিয়াকে নিজেদের চিহ্নিত করল ইরান

হরমুজ প্রণালিকে ‘যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভূখণ্ড’ হিসেবে দেখিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পোস্ট করা মানচিত্রের জবাবে ক্যালিফোর্নিয়াকে নিজেদের ভূখণ্ড হিসেবে চিহ্নিত করে পাল্টা মানচিত্র প্রকাশ করেছে ইরানের একটি সরকারি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্ট। ১৮ আগস্ট প্রকাশিত ওই পোস্টে ক্যালিফোর্নিয়াকে ‘ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের নতুন ভূখণ্ড’ বলে উল্লেখ করা হয়।   ১৮ আগস্ট ট্রাম্প তাঁর ট্রুথ সোশ্যাল অ্যাকাউন্টে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে একটি মানচিত্র প্রকাশ করেন। ছবিতে প্রণালিটির ওপর ‘NEW U.S. Territory’ লেখা ছিল। পরে হোয়াইট হাউসের সরকারি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্টেও ট্রাম্পের পোস্টটি শেয়ার করা হয়।   এর জবাবে ‘Iran in Hyderabad’ নামে ইরানের সরকারি অ্যাকাউন্ট যুক্তরাষ্ট্রের একটি মানচিত্র প্রকাশ করে, যেখানে ক্যালিফোর্নিয়াকে নীল রঙে আলাদা করে দেখানো হয়। ছবির ওপর লেখা ছিল, ‘NEW TERRITORY OF ISLAMIC REPUBLIC OF IRAN’। পোস্টটির ভাষা ও সময় বিবেচনায় এটি ট্রাম্পের হরমুজ-সংক্রান্ত মানচিত্রের পাল্টা প্রতিক্রিয়া হিসেবে প্রকাশ করা হয়েছিল; ক্যালিফোর্নিয়া নিয়ে ইরানের আনুষ্ঠানিক ভূখণ্ড দাবি হিসেবে এটিকে উপস্থাপন করা হয়নি।   এর কয়েক দিন আগে ট্রাম্প বলেছিলেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শেষ হলে হরমুজ প্রণালিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড হিসেবে ঘোষণা করবেন। ১৮ আগস্ট তিনি ওই বক্তব্যের পরই মানচিত্রটি প্রকাশ করেন।   ট্রাম্পের পোস্টের জবাবে ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানান। হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ও সেখানে নৌ চলাচল নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনার মধ্যেই দুই পক্ষের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাল্টাপাল্টি মানচিত্র প্রকাশের ঘটনা ঘটে।  

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬ ৮:৪৮
স্বামীকে ফেন্টানিল মিশিয়ে হ ত্যার দায়ে কৌরি রিচিনসের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
স্বামীকে বি ষ মিশিয়ে হ ত্যা! শিশুদের সঙ্গে শোক সামলানোর অভিজ্ঞতা নিয়ে লিখেছিলেন বই

যুক্তরাষ্ট্রের ইউটাহ অঙ্গরাজ্যে স্বামী এরিক রিচিনসকে ফেন্টানিল মিশিয়ে হ ত্যার দায়ে কৌরি রিচিনসকে প্যারোলের সুযোগ ছাড়া যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। ২০২৬ সালের মার্চে জুরি তাঁকে গুরুতর হ ত্যা, হ ত্যা চেষ্টা, জা লিয়া তি ও বীমা-সংক্রান্ত দুটি প্র তারণাসহ মোট পাঁচটি অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে। ১৩ মে আদালত তাঁর সাজার ঘোষণা দেয়।   ৩৫ বছর বয়সী কৌরি রিচিনসের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, ২০২২ সালের ৪ মার্চ পার্ক সিটির কাছে তাঁদের বাড়িতে স্বামী এরিকের পানীয় মস্কো মিউলে প্রাণঘাতী মাত্রার ফেন্টানিল মিশিয়ে দেন তিনি। ৩৯ বছর বয়সী এরিককে পরে বিছানায় মৃ ত অবস্থায় পাওয়া যায়। ময়নাতদন্তে তাঁর শরীরে ফেন্টানিলের মাত্রা প্রাণঘাতী মাত্রার প্রায় পাঁচ গুণ ছিল বলে আদালতের নথিতে উল্লেখ করা হয়।   বিচারে আরও উঠে আসে, স্বামীর মৃ ত্যুর কয়েক সপ্তাহ আগে তাঁকে হ ত্যার আরেকটি চেষ্টা করা হয়েছিল বলে অভিযোগ। প্রসিকিউটরদের দাবি, ভ্যালেন্টাইনস ডের সময় এরিককে ফেন্টানিল মেশানো একটি স্যান্ডউইচ দেওয়া হয়েছিল। ওই ঘটনায়ও কৌরিকে হ ত্যা চেষ্টার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে জুরি।   প্রসিকিউটররা দাবি করেন, আর্থিক লাভই ছিল হ ত্যার অন্যতম উদ্দেশ্য। তাঁদের বক্তব্য অনুযায়ী, কৌরি আর্থিক সংকটে ছিলেন এবং স্বামীর জীবনবীমা ও সম্পত্তি থেকে অর্থ পাওয়ার প্রত্যাশা করছিলেন। বিচারে স্বামীর নামে বীমা পলিসি এবং তাঁর মৃ ত্যুর পর বীমার অর্থ পাওয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত প্র তারণার বিষয়ও উঠে আসে।   তবে কৌরি শুরু থেকেই নিজেকে নির্দোষ দাবি করে আসছেন। সাজা ঘোষণার দিন আদালতে বক্তব্য দেওয়ার সময়ও তিনি বলেন, তিনি তাঁর স্বামীকে হ ত্যা করেননি। তাঁর আইনজীবীরা জানিয়েছেন, দোষী সাব্যস্ত হওয়ার রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা হবে।   এই মামলাটি আলোচনায় আসে আরেকটি কারণে। এরিকের মৃ ত্যুর পর কৌরি ‘Are You With Me?’ নামে শিশুদের একটি বই প্রকাশ করেন। বইটিতে প্রিয়জনকে হারানোর পর শোক সামলানোর বিষয় তুলে ধরা হয়। বইটির প্রচারের সময় কৌরি তাঁর তিন সন্তান কীভাবে বাবাকে হারানোর শোক সামলাচ্ছিল, সে বিষয়েও কথা বলেছিলেন।   ২০২৩ সালে কৌরিকে গ্রে প্তার করা হয়। এরপর বইটি এবং তাঁর পারিবারিক পরিস্থিতি ব্যাপকভাবে আলোচনায় আসে। মামলার বিচার চলাকালে প্রসিকিউশন তাঁর প্রকাশিত বই এবং স্বামীর মৃ ত্যুর ঘটনাকে ঘিরে তাঁর বিভিন্ন বক্তব্যও আদালতে উপস্থাপন করে।   ১৩ মে সাজা ঘোষণার শুনানিতে এরিকের পরিবারের সদস্যরা আদালতে বক্তব্য দেন। তাঁদের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সাজা চাওয়া হয়। কৌরির তিন সন্তানের পক্ষ থেকেও আদালতে বক্তব্য উপস্থাপন করা হয়। তাঁদের বক্তব্যে মাকে হারানোর পাশাপাশি বাবাকে হারানোর পর পরিবারের ওপর পড়া প্রভাবের কথা উঠে আসে।   সব বক্তব্য শোনার পর বিচারক রিচার্ড ম্রাজিক কৌরিকে প্যারোলের সুযোগ ছাড়া যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। হ ত্যা চেষ্টা, জা লিয়া তি ও বীমা-প্র তারণার অভিযোগে পাওয়া অন্যান্য সাজাগুলোও ধারাবাহিকভাবে কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়। কৌরির আইনজীবীরা জানিয়েছেন, আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের প্রক্রিয়া চালিয়ে যাবেন।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬ ৮:১১
গ্রেটার নয়ডায় যাত্রীবাহী বাসে আ গুনে মা ও ছেলের ম র্মা ন্তিক মৃ ত্যু
মাকে বাঁচাতে জ্ব ল ন্ত বাসে রয়ে গেলেন ছেলে, আ গু নে দুজনেরই মৃ ত্যু

নয়জনের মধ্যে রয়েছেন সুনীতা গুপ্ত ও তাঁর ছেলে শশাঙ্ক গুপ্ত। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, আ গু ন ছড়িয়ে পড়ার সময় অসুস্থ মাকে নিয়ে বের হওয়ার চেষ্টা করেছিলেন শশাঙ্ক। মাকে রেখে একা বাস থেকে নেমে যাননি তিনি।   বুধবার গভীর রাতে দিল্লি থেকে উত্তর প্রদেশের মহোবার পথে থাকা বাসটিতে আ গু ন লাগে। শশাঙ্ক গুরুগ্রামে ইন্ডিগোর প্রকৌশলী হিসেবে কাজ করতেন। হাঁটুর চি কি ৎসার জন্য সুনীতা ছেলের কাছে ছিলেন। মাকে নিয়ে বাড়ি ফেরার সময় তাঁরা এই দু র্ঘ ট নার শি কা র হন। বাসে ধোঁয়া ও আ গু ন ছড়িয়ে পড়লে যাত্রীরা দ্রুত বের হওয়ার চেষ্টা করেন। পরিবারের সদস্যদের বক্তব্য অনুযায়ী, হাঁটুর সমস্যার কারণে সুনীতা দ্রুত চলতে পারছিলেন না। তাঁকে নিয়ে বের হওয়ার চেষ্টা করতে গিয়ে শশাঙ্কও বাসের ভেতর আ ট কে পড়েন। দুজনের শেষ মুহূর্তের কথোপকথন নিয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদনে ভিন্ন বিবরণ পাওয়া গেছে। শুক্রবার পরিবারের সদস্যরা সুনীতা ও শশাঙ্কের ম র দে হ শনাক্ত করেন। দু র্ঘ ট নাটি কীভাবে ঘটল, বাসে আ গু ন কীভাবে শুরু হয়েছিল এবং নিরাপত্তাব্যবস্থায় কোনো ত্রুটি ছিল কি না—এসব বিষয় খতিয়ে দেখতে ত দ ন্ত চলছে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬ ৮:২
নভেম্বরে বরফঢাকা পাহাড় থেকে রোদঝলমলে সমুদ্রসৈকত—ভ্রমণের জন্য রয়েছে নানা গন্তব্য।
বরফ, সমুদ্র নাকি মরুভূমির উষ্ণতা? নভেম্বরে ঘুরতে যাওয়ার ৫ দারুণ গন্তব্য

নভেম্বর মাস অনেকের কাছেই ভ্রমণের আদর্শ সময়। ইউরোপের উঁচু পাহাড়ি এলাকায় শুরু হয় স্কি মৌসুম, আবার বিশ্বের অন্য প্রান্তে তখন থাকে আরামদায়ক উষ্ণ আবহাওয়া। কেউ যদি বরফে স্কি করতে চান, কেউ হয়তো সমুদ্রসৈকতে বসে সূর্য উপভোগ করতে চান, আবার কেউ চাইতে পারেন উৎসবের আমেজে ঘুরে বেড়াতে। নভেম্বরের ছুটির জন্য তাই একাধিক ধরনের গন্তব্য বেছে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।   ফ্রান্সের তিঁন ও ভাল ক্লারে নভেম্বরের শেষ দিকে স্কি মৌসুম শুরুর অন্যতম আকর্ষণীয় গন্তব্য হতে পারে। তিঁনের সবচেয়ে উঁচু গ্রাম ভাল ক্লারে আগামী ২৮ নভেম্বর থেকে স্কি মৌসুম শুরু হওয়ার কথা। উঁচু অবস্থানের কারণে এখানে বরফ পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি এবং গ্রঁদ মত হিমবাহের কাছেও সহজে যাওয়া যায়। স্কি করার পাশাপাশি পাহাড়ি পরিবেশ উপভোগ করতে চান এমন ভ্রমণপ্রেমীদের জন্য এটি বিশেষ আকর্ষণীয়।   ভাল ক্লারের চার তারকা ইয়ন্সিও আবাসনে এক সপ্তাহের জন্য দুই বেডরুমের অ্যাপার্টমেন্টে চারজন থাকার ভাড়া ২৮ নভেম্বর থেকে ২ হাজার ৪০৪ পাউন্ড থেকে শুরু হচ্ছে। এতে একটি গাড়ির জন্য লে শাটল ক্রসিংও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। আবাসনটিতে রয়েছে উত্তপ্ত ইনডোর সুইমিংপুল, যা পাহাড়ে সময় কাটানোর পর আরাম করার সুযোগ দেবে।   যারা বরফের বদলে উষ্ণ আবহাওয়া পছন্দ করেন, তাদের জন্য মরক্কোর মারাকেশ হতে পারে ভিন্ন অভিজ্ঞতা। নভেম্বরেও সেখানে তাপমাত্রা ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আশপাশে থাকতে পারে। মারাকেশের ক্লাব মেড লা পালমেরিতে থাকলে শান্ত ও সবুজ পরিবেশের পাশাপাশি শহরের প্রাণবন্ত জীবন এবং ঐতিহাসিক মদিনা ঘুরে দেখার সুযোগ পাওয়া যাবে। ২৮ নভেম্বরের যাত্রার জন্য সাত রাতের সর্বসমেত প্যাকেজের দাম শুরু হচ্ছে জনপ্রতি ১ হাজার ২২ পাউন্ড থেকে। তবে ফ্লাইট ও বিমানবন্দর থেকে যাতায়াতের খরচ আলাদা।   ভারতের গোয়াও নভেম্বরের ভ্রমণের জন্য জনপ্রিয় একটি বিকল্প। সমুদ্রসৈকত, নরম বালু আর সূর্যাস্ত উপভোগ করতে চাইলে বেনাউলিম বিচের কাছে অর্কিড পাসারোস নামের প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য নির্ধারিত একটি বিলাসবহুল হোটেলে থাকা যেতে পারে। ১১ নভেম্বরের যাত্রায় ১০ রাতের প্যাকেজের দাম জনপ্রতি ১ হাজার ৪৮৭ পাউন্ড থেকে শুরু। এতে ফ্লাইট, যাতায়াত ও সকালের নাশতা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।   সমুদ্রপথে ভ্রমণ করতে চাইলে ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জও আকর্ষণীয় হতে পারে। ২৬ নভেম্বর তেনেরিফ থেকে শুরু হওয়া ১১ রাতের একটি ক্রুজে ফুয়ের্তেভেনতুরা, মাদেইরা, লা পালমা, এল হিয়েরো ও লা গোমেরা ঘুরে আবার তেনেরিফে ফেরা যাবে। ১৪৮ যাত্রী ধারণক্ষমতার চার মাস্তুলের উইন্ড স্পিরিট ইয়টে এই যাত্রার আয়োজন করা হয়েছে। জনপ্রতি ১ হাজার ৭৭৯ পাউন্ড থেকে শুরু হওয়া প্যাকেজে ফ্লাইট, এক রাতের হোটেল, ১০ রাতের পূর্ণ খাবার, যাতায়াত ও বন্দর ফি অন্তর্ভুক্ত।   যারা একটু বেশি বিলাসী অভিজ্ঞতা চান, তাদের জন্য সেশেলস কিংবা ভেনিস হতে পারে পছন্দের গন্তব্য। সেশেলসের বালুকাবেলায় আরামদায়ক সময় কাটানোর পাশাপাশি ভেনিসে খাল, স্থাপত্য ও ঐতিহাসিক পরিবেশ উপভোগ করা যায়। এমনকি ভেনিস থেকে বিখ্যাত ভেনিস সিম্পলন-ওরিয়েন্ট-এক্সপ্রেসে ভ্রমণের সুযোগও রয়েছে।   নভেম্বরে ভ্রমণের ক্ষেত্রে তাই এক ধরনের গন্তব্যেই সীমাবদ্ধ থাকার প্রয়োজন নেই। পাহাড়ে বরফ, মরক্কোয় উষ্ণ আবহাওয়া, গোয়ার সমুদ্রসৈকত কিংবা ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জের ক্রুজ—ভ্রমণের ধরন অনুযায়ী বেছে নেওয়া যেতে পারে পছন্দের জায়গা। তবে যাত্রার আগে আবাসন, ফ্লাইট, আবহাওয়া এবং ভিসাসহ প্রয়োজনীয় শর্তগুলো যাচাই করে পরিকল্পনা করা জরুরি।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬ ৭:৫৬
বাংলাদেশি ড্রাইভিং লাইসেন্স নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে গাড়ি চালানোর নিয়ম স্টেটভেদে ভিন্ন।
বাংলাদেশি লাইসেন্সে যুক্তরাষ্ট্রে গাড়ি চালানো যাবে? স্টেটভেদে জেনে নিন নিয়ম

যুক্তরাষ্ট্রে বেড়াতে আসা বাংলাদেশিরা বৈধ বাংলাদেশি ড্রাইভার লাইসেন্স দিয়ে কিছু স্টেটে গাড়ি চালাতে পারেন। তবে সারা দেশে একই সময়সীমা প্রযোজ্য নয়। ভিজিটর হিসেবে এসেছেন, নাকি ওই স্টেটের বাসিন্দা হয়েছেন, তার ওপরও নিয়ম বদলায়।   নিউইয়র্ক স্টেট ডিএমভি জানিয়েছে, অন্য দেশের বৈধ লাইসেন্সধারী ভিজিটর নিউইয়র্কে গাড়ি চালাতে পারেন। এ ক্ষেত্রে ভিজিটরদের জন্য নির্দিষ্ট ‘১২ মাসের’ সীমা ডিএমভির নির্দেশনায় নেই। তবে নিউইয়র্কের বাসিন্দা হলে ৩০ দিনের মধ্যে সেখানকার ড্রাইভার লাইসেন্স নিতে হবে।   ক্যালিফোর্নিয়ায় ১৮ বছরের বেশি বয়সী ভিজিটর নিজ দেশের বৈধ লাইসেন্স দিয়ে গাড়ি চালাতে পারেন। কিন্তু ক্যালিফোর্নিয়ার বাসিন্দা হলে ১০ দিনের মধ্যে স্টেটের লাইসেন্স নিতে হয়। টেক্সাসের নির্দেশনায় বিদেশি লাইসেন্স ব্যবহারের সর্বোচ্চ মেয়াদ এক বছর অথবা টেক্সাসের বাসিন্দা হওয়া পর্যন্ত, যেটি আগে ঘটে। নতুন বাসিন্দাকে সেখানে ৯০ দিনের মধ্যে টেক্সাসের লাইসেন্সের জন্য আবেদন করতে হয়।   ইন্টারন্যাশনাল ড্রাইভিং পারমিট বা আইডিপি নিয়েও বিভ্রান্তি আছে। নিউইয়র্কে বিদেশি লাইসেন্সের সঙ্গে আইডিপি বাধ্যতামূলক নয়, তবে লাইসেন্সের তথ্য বুঝতে এটি সহায়ক বলে জানিয়েছে ডিএমভি। আইডিপি মূল ড্রাইভার লাইসেন্সের বিকল্প নয়। বাংলাদেশে আইডিপি ইস্যুর অনুমোদিত প্রতিষ্ঠান অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ।   তাই ‘বাংলাদেশি লাইসেন্সে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ১২ মাস গাড়ি চালানো যায়’ কিংবা ‘আইডিপি না থাকলে কোনো ভাড়ার গাড়ি পাওয়া যায় না’—এমন একক নিয়ম ধরে নেওয়া ঠিক হবে না। গাড়ি চালানোর আগে সংশ্লিষ্ট স্টেটের ডিএমভির নিয়ম এবং গাড়ি ভাড়া নিলে ওই প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্সসংক্রান্ত শর্ত দেখে নেওয়াই নিরাপদ।   সূত্র: আইবিএল ইন্টারন্যাশনাল

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬ ৭:৩৭
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের বেসামরিক সহযোগিতা চুক্তি। ছবি: সংগৃহীত
পারমাণবিক শক্তিতে নতুন অধ্যায়, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের বেসামরিক সহযোগিতা চুক্তি

বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র শান্তিপূর্ণভাবে পারমাণবিক শক্তির ব্যবহার এবং বেসামরিক পারমাণবিক প্রযুক্তিতে সহযোগিতা বাড়াতে একটি কৌশলগত সমঝোতা স্মারক (MoU) সই করেছে। ২৫ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে দুই দেশের মধ্যে এ সমঝোতা সই হয়।   বাংলাদেশের পক্ষে প্রধানমন্ত্রীর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসাদ এবং যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, জ্বালানি ও পরিবেশবিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি জ্যাকব হেলবার্গ এতে স্বাক্ষর করেন।   নতুন এই সমঝোতার মূল লক্ষ্য হলো শান্তিপূর্ণ কাজে পারমাণবিক প্রযুক্তির ব্যবহার, পারমাণবিক নিরাপত্তা, সুরক্ষা, আন্তর্জাতিক সেফগার্ড ও পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধে সহযোগিতা জোরদার করা। দুই দেশই বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ও সুরক্ষা মান অনুসরণের বিষয়ে একমত হয়েছে।   সমঝোতা অনুযায়ী, পারমাণবিক শক্তি দুই দেশের জ্বালানি চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র স্বীকৃতি দিয়েছে। একই সঙ্গে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের কৌশলগত গুরুত্ব এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার সঙ্গে জ্বালানি নিরাপত্তার সম্পর্কের বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে।   বাংলাদেশ বর্তমানে দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জ্বালানির উৎস বহুমুখীকরণের চেষ্টা করছে। এরই অংশ হিসেবে দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রূপপুরে দুটি ১২০০ মেগাওয়াটের ইউনিট নির্মাণ করা হচ্ছে। পারমাণবিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতাও বাড়াতে চাইছে ঢাকা।   নতুন সমঝোতায় পারমাণবিক নিরাপত্তা ও সুরক্ষার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (IAEA)-এর সেফগার্ড ব্যবস্থার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। দুই দেশই পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধসংক্রান্ত চুক্তি বা NPT-এর সদস্য এবং উভয়েরই IAEA safeguards agreement ও Additional Protocol কার্যকর রয়েছে বলে সমঝোতায় উল্লেখ করা হয়েছে।   তবে এটিকে সরাসরি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ বা পারমাণবিক জ্বালানি সরবরাহের চুক্তি হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এটি মূলত দুই দেশের মধ্যে বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতার একটি কাঠামো তৈরির সমঝোতা। যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ম অনুযায়ী, আনুষ্ঠানিক ‘123 Agreement’ হলে সেটি পারমাণবিক উপকরণ, জ্বালানি, রিঅ্যাক্টর ও সরঞ্জাম স্থানান্তরের জন্য আইনি কাঠামো তৈরি করতে পারে; কিন্তু MoU নিজে সেই ধরনের স্থানান্তরের অনুমতি দেয় না।   বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে এর আগে বৃহত্তর জ্বালানি সহযোগিতা নিয়েও সমঝোতা হয়েছিল। চলতি বছরের মে মাসে দুই দেশ দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা ও উৎস বহুমুখীকরণ নিয়ে একটি কৌশলগত জ্বালানি সহযোগিতা সমঝোতা সই করে। নতুন চুক্তিটি বিশেষভাবে বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতাকে কেন্দ্র করে।   নতুন এই সমঝোতা এমন সময়ে হলো, যখন বাংলাদেশের জ্বালানি চাহিদা বাড়ছে এবং দীর্ঘমেয়াদি বিদ্যুৎ উৎপাদনে পারমাণবিক শক্তির গুরুত্বও বাড়ছে। ফলে পারমাণবিক নিরাপত্তা, প্রযুক্তি, দক্ষতা উন্নয়ন ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক আরও বিস্তৃত হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।   তবে রূপপুর প্রকল্পের বিদ্যমান প্রযুক্তি ও সরবরাহ কাঠামো এবং নতুন মার্কিন সহযোগিতার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। রূপপুর প্রকল্পে রুশ প্রযুক্তি ব্যবহৃত হচ্ছে। চলতি বছরের বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য চুক্তিতেও ভবিষ্যৎ পারমাণবিক রিঅ্যাক্টর, ফুয়েল রড ও সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম কেনার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থসংক্রান্ত একটি বিধান রাখা হয়েছে।   নতুন সমঝোতাটি বাংলাদেশের পারমাণবিক কর্মসূচিতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সহযোগিতার একটি নতুন ভিত্তি তৈরি করেছে। এর বাস্তব প্রভাব নির্ভর করবে ভবিষ্যতে দুই দেশ কী ধরনের প্রযুক্তিগত, নিরাপত্তা, প্রশিক্ষণ ও বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতামূলক কর্মসূচি গ্রহণ করে তার ওপর।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬ ৭:৩০
একসময় মুরগিকে ভয় পেলেও এখন শরীরে ৪৩টি মুরগির ট্যাটু অ্যাশলি উডসের
ভয় থেকে ভালোবাসা, শরীরে ৪৩ মুরগির ট্যাটু করে বিশ্বরেকর্ড অ্যাশলির

একসময় মুরগি তো দূরের কথা, প্রায় সব ধরনের পাখিকেই ভয় পেতেন যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনার অ্যাশলি উডস। অথচ সেই ভয়ই একসময় এমন ভালোবাসায় পরিণত হবে যে নিজের শরীরে একে একে ৪৩টি মুরগির ট্যাটু করাবেন—তা তিনি নিজেও হয়তো কল্পনা করেননি। এখন মুরগিই তার জীবনের অন্যতম বড় অংশ, আর শরীরজুড়ে থাকা এসব ট্যাটু হয়ে উঠেছে তার স্মৃতি, রসবোধ ও প্রিয় প্রাণীগুলোর প্রতি ভালোবাসার প্রতীক।   অ্যারিজোনার প্রেসকট ভ্যালির বাসিন্দা অ্যাশলির জীবনে পরিবর্তন শুরু হয় যখন তিনি ফ্লাফি বা তুলতুলে পালকের জন্য পরিচিত স্যালমন ফাভেরোলস জাতের মুরগি পালন শুরু করেন। প্রথমদিকে মুরগি পালনের বিষয়টি ছিল একেবারেই সাধারণ একটি অভিজ্ঞতা। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই পাখিগুলোর অদ্ভুত স্বভাব, মজার শব্দ এবং ছোটাছুটির ধরন অ্যাশলিকে আকৃষ্ট করতে শুরু করে। যেসব প্রাণীকে একসময় ভয় পেতেন, ধীরে ধীরে সেগুলোর সঙ্গেই তার তৈরি হয় গভীর এক সম্পর্ক।   মুরগির প্রতি অ্যাশলি ও তার পরিবারের ভালোবাসা সময়ের সঙ্গে আরও বেড়ে যায়। একপর্যায়ে তারা ১০০টিরও বেশি মুরগির যত্ন নেন। ফলে মুরগিগুলো শুধু বাড়ির পোষা প্রাণী বা খামারের অংশ হয়ে থাকেনি, বরং পরিবারের দৈনন্দিন জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে ওঠে। প্রতিটি মুরগির আলাদা স্বভাব ও আচরণ অ্যাশলির কাছে আলাদা কোনো গল্পের মতো মনে হতে থাকে।   অন্যদিকে অ্যাশলির আগে থেকেই ট্যাটুর প্রতি আগ্রহ ছিল। মুরগির প্রতি নতুন এই ভালোবাসা এবং ট্যাটুর শখ—দুই বিষয়কে একসঙ্গে মিলিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। তার প্রথম মুরগির ট্যাটুটিও ছিল বেশ ব্যতিক্রমী। সেখানে দেখা যায়, অ্যারিজোনার মরুভূমির পটভূমিতে একটি মুরগিকে এলিয়েনরা তুলে নিয়ে যাচ্ছে। মজার ও কল্পনাপ্রবণ সেই নকশা থেকেই শুরু হয় তার মুরগির ট্যাটুর দীর্ঘ যাত্রা।   এরপর একে একে শরীরে জায়গা পেতে থাকে আরও নানা ধরনের মুরগির নকশা। কোনো ট্যাটুতে দেখা যায় জনপ্রিয় চরিত্র চিকেন লিটলকে, আবার কোনো নকশায় রয়েছে কার্টুন চরিত্র ফগহর্ন লেঘর্ন। এমনকি সানগ্লাস পরা মুরগির মতো হাস্যরসাত্মক নকশাও রয়েছে তার শরীরে। প্রতিটি ট্যাটুর নকশায় মুরগিকে ঘিরে অ্যাশলির নিজস্ব রসবোধ এবং ব্যক্তিগত পছন্দের ছাপ রয়েছে।   মুরগির ট্যাটুর সংখ্যা বাড়তে বাড়তে শেষ পর্যন্ত তা একটি বিশ্বরেকর্ডের পর্যায়ে পৌঁছে যায়। ২০২৬ সালের মার্চে অ্যাশলি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি পান একজন নারীর শরীরে সবচেয়ে বেশি মুরগির ট্যাটু থাকার জন্য। তার শরীরে তখন মোট ৪৩টি মুরগির ট্যাটু ছিল। এই স্বীকৃতি তাকে মুরগিপ্রেমী হিসেবে যেমন আলাদা পরিচিতি দিয়েছে, তেমনি তার অস্বাভাবিক শখকেও বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরেছে।   তবে অ্যাশলির কাছে এসব ট্যাটু শুধু রেকর্ড গড়ার বিষয় নয়। প্রতিটি নকশার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে কোনো না কোনো স্মৃতি, মজার ঘটনা কিংবা তার জীবনে মুরগিগুলোর বিশেষ ভূমিকা। যে প্রাণীকে একসময় ভয় পেতেন, সেই মুরগিই এখন তার জীবনের এমন এক অংশ হয়ে উঠেছে, যাকে তিনি শরীরে স্থায়ীভাবে ধরে রাখতে চেয়েছেন।   অ্যাশলির গল্প তাই শুধু অদ্ভুত একটি ট্যাটু রেকর্ডের গল্প নয়। এটি বরং কীভাবে ভয় ধীরে ধীরে পরিচয়, পরিচয় থেকে ভালোবাসা এবং সেই ভালোবাসা শেষ পর্যন্ত জীবনের একটি বিশেষ অংশে পরিণত হতে পারে—তারই এক মজার উদাহরণ। একসময় পাখি দেখলেই আতঙ্কিত হওয়া সেই নারী এখন ৪৩টি মুরগির ট্যাটু নিয়ে নিজের এই অদ্ভুত ভালোবাসার গল্পই বহন করছেন।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬ ৭:২৫
মাত্র ৬ বছর বয়সে রুবিকস কিউব সমাধানে বিশ্বরেকর্ড গড়েছে লিয়ান ইউনঝি
৬ বছরের মেয়ের অবিশ্বাস্য কাণ্ড, রুবিকস কিউব মেলালেন ৪ সেকেন্ডের একটু বেশি সময়ে

মাত্র ৬ বছর বয়সেই রুবিকস কিউব সমাধানে বিশ্বরেকর্ড গড়ে তাক লাগিয়ে দিয়েছে চীনের লিয়ান ইউনঝি। আরও অবাক করার মতো বিষয় হলো, মাত্র তিন দিনের ব্যবধানে নিজের গড়া বিশ্বরেকর্ডই দুবার ভেঙেছে এই খুদে প্রতিভা। সেপ্টেম্বরের দুটি ওয়ার্ল্ড কিউব অ্যাসোসিয়েশন বা ডব্লিউসিএ অনুমোদিত প্রতিযোগিতায় ৩×৩ রুবিকস কিউবের গড় সময়ে এই রেকর্ড গড়ে সে।   প্রথমবার উহানে অনুষ্ঠিত একটি প্রতিযোগিতায় পাঁচবার কিউব সমাধানের গড় সময় ছিল ৪ দশমিক ৫২ সেকেন্ড। এর মাত্র তিন দিন পর গুয়াংজুর আরেকটি ডব্লিউসিএ অনুমোদিত প্রতিযোগিতায় নিজের রেকর্ড আরও কমিয়ে আনে লিয়ান। সেখানে পাঁচটি সমাধানের গড় সময় দাঁড়ায় মাত্র ৪ দশমিক ২৭ সেকেন্ডে। এই পারফরম্যান্সের মাধ্যমে সে প্রথম নারী স্পিডকিউবার হিসেবে ৪ দশমিক ৫ সেকেন্ডের নিচে গড় সময় অর্জন করে।   ৪ দশমিক ২৭ সেকেন্ডের সময়টি কোনো একটি কিউব সমাধানের সময় নয়; এটি পাঁচটি চেষ্টার গড়। গুয়াংজুর প্রতিযোগিতায় লিয়ানের পাঁচটি সমাধানের মধ্যে দ্রুততমটি ছিল ৪ দশমিক ০২ সেকেন্ড। প্রতিযোগিতার নিয়ম অনুযায়ী পাঁচটি চেষ্টার মধ্যে সবচেয়ে দ্রুত ও সবচেয়ে ধীর সময় বাদ দিয়ে বাকি তিনটির ভিত্তিতে গড় হিসাব করা হয়।   চীনের সিচুয়ান প্রদেশের ছেংদু শহরের বাসিন্দা লিয়ান ছোট বয়স থেকেই রুবিকস কিউব নিয়ে চর্চা শুরু করে। চার বছর বয়সে প্রথম কিউব সমাধানের চেষ্টা করার সময় তার প্রায় ৯০ সেকেন্ড লাগত। পরে নিয়মিত অনুশীলন ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তার দক্ষতা দ্রুত বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে তার বাবা-মা তাকে পেশাদার কোচের কাছ থেকে প্রশিক্ষণ নেওয়ার জন্য সাংহাইয়েও নিয়ে যান।   বর্তমানে লিয়ান রুবিকস কিউব সমাধানের ১ হাজার ৩০০টিরও বেশি অ্যালগরিদম আয়ত্ত করেছে বলে তার পরিবার জানিয়েছে। প্রতিদিন প্রায় দুই থেকে তিন ঘণ্টা অনুশীলন করে সে। শুরুতে রুবিকস কিউব ছিল তার নাচ ও সংগীতের মতো অন্যান্য অতিরিক্ত কার্যক্রমের একটি। পরে এই খেলায় তার বিশেষ দক্ষতা দেখে পরিবার এটিতে আরও বেশি মনোযোগ দেয়।   লিয়ানের মা লিন ইয়াংসি জানিয়েছেন, রুবিকস কিউব নিয়ে অনুশীলন শুধু দ্রুত কিউব মেলানোর দক্ষতাই বাড়ায়নি, মেয়ের আত্মবিশ্বাসও বাড়িয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিয়ান আগে তুলনামূলকভাবে অন্তর্মুখী ছিল, কিন্তু প্রতিযোগিতা ও অনুশীলনের মাধ্যমে এখন অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠেছে।   রুবিকস কিউব সমাধানে শুধু মুখস্থ সূত্র জানলেই হয় না—দ্রুত সমাধানের জন্য পরিস্থিতি বুঝে যুক্তি প্রয়োগ করাও প্রয়োজন। লিয়ানের মা মনে করেন, এই চর্চা মনোযোগ, স্মৃতি, যৌক্তিক চিন্তা ও স্থানিক ধারণা তৈরিতে সহায়তা করতে পারে। মাত্র ছয় বছর বয়সে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় এমন পারফরম্যান্সের পর লিয়ান এখন স্পিডকিউবিংয়ের বিশ্বে ব্যাপক আলোচনায় এসেছে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬ ৭:১৪
প্রতীকী ছবি: সংগৃহীত
বারবার পিপাসা ও প্রস্রাবের চাপ, শরীরে লুকিয়ে থাকতে পারে যে রোগ

বারবার পানি খেতে ইচ্ছা করা, স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি প্রস্রাব হওয়া কিংবা রাতে ঘন ঘন প্রস্রাবের জন্য ঘুম ভেঙে যাওয়া অনেকেই সাধারণ সমস্যা হিসেবে দেখেন। তবে এসব লক্ষণ কখনো কখনো শরীরের গুরুত্বপূর্ণ কোনো সমস্যার ইঙ্গিত দিতে পারে। এর মধ্যে একটি বিরল রোগ হলো ডায়াবেটিস ইনসিপিডাস।   চিকিৎসাবিজ্ঞানের তথ্য অনুযায়ী, ডায়াবেটিস ইনসিপিডাস সাধারণ ডায়াবেটিস বা টাইপ-১ ও টাইপ-২ ডায়াবেটিসের মতো নয়। দুটি রোগের নামের মধ্যে ‘ডায়াবেটিস’ শব্দটি থাকলেও তাদের কারণ ও চিকিৎসা আলাদা।   ডায়াবেটিস ইনসিপিডাস কী? ডায়াবেটিস ইনসিপিডাস একটি বিরল হরমোনজনিত সমস্যা। এতে শরীরের পানি নিয়ন্ত্রণের স্বাভাবিক ব্যবস্থা ব্যাহত হয় এবং কিডনি অতিরিক্ত পানি প্রস্রাবের মাধ্যমে বের করে দেয়।   এ রোগে ভ্যাসোপ্রেসিন বা অ্যান্টিডায়ুরেটিক হরমোনের ঘাটতি হতে পারে। আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে শরীরে হরমোন পর্যাপ্ত থাকলেও কিডনি সেটির প্রতি সঠিকভাবে সাড়া দেয় না। প্রধান লক্ষণ কী? ডায়াবেটিস ইনসিপিডাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দুটি লক্ষণ হলো অতিরিক্ত প্রস্রাব এবং তীব্র পিপাসা।রোগীর দিনে ও রাতে বারবার প্রস্রাব হতে পারে।সাধারণত প্রস্রাবের পরিমাণও অনেক বেশি হয় এবং প্রস্রাব বেশ হালকা বা পানির মতো হতে পারে। গুরুতর ক্ষেত্রে দিনে প্রায় ২০ লিটার পর্যন্ত প্রস্রাব হতে পারে।   এর ফলে শরীর থেকে অতিরিক্ত পানি বেরিয়ে যাওয়ায় রোগীর বারবার পানি খেতে ইচ্ছা করে। অনেক সময় প্রচুর পানি পান করার পরও পিপাসার অনুভূতি পুরোপুরি কমে না।রাতে বারবার প্রস্রাব ও পানি পান করতে গিয়ে ঘুমের ব্যাঘাত ঘটতে পারে। দীর্ঘদিন এমন চললে ক্লান্তি ও দৈনন্দিন কাজে মনোযোগের সমস্যা দেখা দিতে পারে।   কেন হয়?   ডায়াবেটিস ইনসিপিডাসের কারণ একাধিক হতে পারে।মস্তিষ্কের হাইপোথ্যালামাস বা পিটুইটারি গ্রন্থির সমস্যা, মাথায় গুরুতর আঘাত, মস্তিষ্কের অস্ত্রোপচার, কিছু টিউমার, প্রদাহ বা সংক্রমণের কারণে ভ্যাসোপ্রেসিনের ঘাটতি হতে পারে।   অন্যদিকে কিডনি ভ্যাসোপ্রেসিনের প্রতি সঠিকভাবে সাড়া না দিলেও এ সমস্যা হতে পারে। কিছু ওষুধ, রক্তে ক্যালসিয়ামের মাত্রা বেশি হওয়া, পটাশিয়ামের মাত্রা কমে যাওয়া এবং কিছু কিডনি-সংক্রান্ত সমস্যাও এর সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।   সাধারণ ডায়াবেটিসের সঙ্গেও মিল রয়েছে বারবার পিপাসা ও প্রস্রাব হওয়া শুধু ডায়াবেটিস ইনসিপিডাসের লক্ষণ নয়। টাইপ-১ বা টাইপ-২ ডায়াবেটিসেও রক্তে অতিরিক্ত গ্লুকোজের কারণে ঘন ঘন প্রস্রাব ও অতিরিক্ত পিপাসা হতে পারে। তাই শুধু লক্ষণ দেখে রোগ নির্ণয় করা ঠিক নয়।এ কারণে দীর্ঘদিন ধরে অস্বাভাবিক পিপাসা, ঘন ঘন প্রস্রাব, অতিরিক্ত ক্লান্তি, অকারণে ওজন কমে যাওয়া বা ঝাপসা দেখার মতো সমস্যা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে রক্তে শর্করা পরীক্ষা করানোও গুরুত্বপূর্ণ।   কীভাবে রোগ নির্ণয় করা হয়?   চিকিৎসক প্রথমে রোগীর উপসর্গ ও চিকিৎসার ইতিহাস জানতে চান। এরপর প্রয়োজন অনুযায়ী প্রস্রাব ও রক্ত পরীক্ষা করা হয়।রক্তে সোডিয়ামসহ বিভিন্ন উপাদানের মাত্রা এবং প্রস্রাব কতটা পাতলা বা ঘন তা পরীক্ষা করা হতে পারে। প্রয়োজনে চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে ওয়াটার ডিপ্রাইভেশন টেস্ট করা হয়। এ পরীক্ষায় নির্দিষ্ট সময় তরল গ্রহণ বন্ধ রেখে শরীরের ওজন, প্রস্রাবের পরিমাণ এবং রক্ত ও প্রস্রাবের পরিবর্তন পর্যবেক্ষণ করা হয়।কিছু ক্ষেত্রে মস্তিষ্কের হাইপোথ্যালামাস বা পিটুইটারি গ্রন্থিতে কোনো সমস্যা আছে কি না দেখতে এমআরআই করা হতে পারে।   চিকিৎসা কী?   চিকিৎসা নির্ভর করে রোগের ধরন ও কারণের ওপর।কেন্দ্রীয় ধরনের ডায়াবেটিস ইনসিপিডাসে শরীরে কমে যাওয়া হরমোনের বিকল্প হিসেবে ডেসমোপ্রেসিন ব্যবহার করা হতে পারে। এটি ট্যাবলেট, নাকের স্প্রে বা নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে ইনজেকশনের মাধ্যমে দেওয়া যায়।কিডনি ভ্যাসোপ্রেসিনে সাড়া না দিলে চিকিৎসা পদ্ধতি ভিন্ন হয়। কারণ অনুযায়ী ওষুধ পরিবর্তন, পর্যাপ্ত তরল গ্রহণ, খাদ্যে লবণ ও প্রোটিন কমানো কিংবা নির্দিষ্ট ওষুধ ব্যবহারের প্রয়োজন হতে পারে। তবে এসব পরিবর্তন চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া করা উচিত নয়।   পানিশূন্যতা সবচেয়ে বড় ঝুঁকি ডায়াবেটিস ইনসিপিডাসে অতিরিক্ত প্রস্রাবের কারণে শরীরে পানি ও ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে। পর্যাপ্ত পানি না পেলে দ্রুত পানিশূন্যতা দেখা দিতে পারে।মুখ শুকিয়ে যাওয়া, মাথা ঘোরা, দুর্বলতা, অতিরিক্ত ক্লান্তি, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া বা বিভ্রান্তির মতো লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া জরুরি। গুরুতর পানিশূন্যতা জীবনঝুঁকিও তৈরি করতে পারে। কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন?   স্বাভাবিকের তুলনায় হঠাৎ প্রস্রাবের পরিমাণ বেড়ে গেলে, সারাক্ষণ পিপাসা লাগলে, রাতে বারবার প্রস্রাবের জন্য ঘুম ভেঙে গেলে কিংবা প্রচুর পানি পান করেও পিপাসা কম না হলে বিষয়টি অবহেলা করা উচিত নয়।কারণ এসব লক্ষণের পেছনে ডায়াবেটিস ইনসিপিডাস ছাড়াও ডায়াবেটিস মেলিটাসসহ বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে। তাই নিজে থেকে কোনো হরমোন বা ওষুধ শুরু না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করানোই নিরাপদ।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬ ৭:৬
হরমুজ প্রণালির নাম নিজের নামে ‘ট্রাম্প স্ট্রেইট’ করার প্রস্তাব দিয়েছেন ট্রাম্প
ইরানকে খোঁচা দিয়ে হরমুজ প্রণালির নতুন নাম দিলেন ট্রাম্প!

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছেন। এবার বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথের নাম নিজের নামে বদলে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি। ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প একটি মানচিত্র শেয়ার করেন, যেখানে হরমুজ প্রণালিকে নিজের নামের সঙ্গে যুক্ত করে দেখানো হয়েছে। তাঁর প্রস্তাবিত নাম—‘ট্রাম্প স্ট্রেইট’।   ট্রাম্পের এই পোস্ট আসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাত এবং হরমুজ প্রণালি নিয়ে তীব্র উত্তেজনার মধ্যেই। পোস্টে তিনি দাবি করেন, জলপথটি এখন যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এরপর প্রশ্ন তোলেন, হরমুজ প্রণালির নাম পরিবর্তন করে ‘ট্রাম্প স্ট্রেইট’ করা উচিত কি না। তাঁর বক্তব্যের সঙ্গে থাকা মানচিত্রে নতুন নামটি স্পষ্টভাবে দেখানো হয়।   এর আগে আগস্টেও ট্রাম্প হরমুজ প্রণালিকে ‘নতুন মার্কিন ভূখণ্ড’ হিসেবে দেখানো একটি মানচিত্র প্রকাশ করেছিলেন। একই সময়ে তিনি জলপথটির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার কথা বলেছিলেন। তবে হরমুজ প্রণালি কোনো একক দেশের মালিকানাধীন নয়। এটি ইরান ও ওমানের মধ্য দিয়ে যাওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক নৌপথ, যার মাধ্যমে বিশ্বের বিপুল পরিমাণ জ্বালানি পরিবহন করা হয়।   হরমুজ প্রণালির গুরুত্ব মূলত এর ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে। পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরের মধ্যে সংযোগ তৈরি করা এই সরু জলপথ দিয়ে তেল ও গ্যাস পরিবহনের বড় অংশ বিশ্বের বিভিন্ন বাজারে যায়। ফলে এখানে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হলে শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, বিশ্বজুড়েই জ্বালানি সরবরাহ ও দামের ওপর প্রভাব পড়তে পারে।   সাম্প্রতিক সময়ে হরমুজে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহে এক সপ্তাহান্তে মাত্র ১৭টি পণ্যবাহী জাহাজ প্রণালিটি অতিক্রম করে, যেখানে সংঘাতের আগে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১২৫টি বড় বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল করত। কিছু জাহাজ নিরাপত্তাজনিত কারণে স্বয়ংক্রিয় অবস্থান শনাক্তকরণ ব্যবস্থা বন্ধ রেখেও চলাচল করছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   হরমুজ নিয়ে ট্রাম্পের সর্বশেষ মন্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগেরও চেষ্টা চলছে। ইরান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র সামরিক চাপ কমালে এবং ইরানের বন্দরগুলোর ওপর অবরোধ তুলে নিলে তারা কয়েক দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি আবার খুলে দেওয়ার বিষয়ে প্রস্তুত। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সময় নিউইয়র্কে ইরানি প্রতিনিধিরাও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার উদ্যোগ নিয়েছেন।   তবে ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ‘ট্রাম্প স্ট্রেইট’ নামটি এখনো আন্তর্জাতিকভাবে হরমুজ প্রণালির সরকারি নাম হয়ে যায়নি। কোনো জলপথের নাম নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব সরকারি ব্যবহারে পরিবর্তন আনা হলেও তা অন্য দেশ বা আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোকে একই নাম ব্যবহার করতে বাধ্য করে না। হরমুজ প্রণালি বর্তমানে আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত নামেই রয়েছে।   ট্রাম্পের এই পদক্ষেপকে অনেকেই ইরানের প্রতি রাজনৈতিক বার্তা হিসেবে দেখছেন। তবে সরাসরি নাম পরিবর্তনের চেয়ে তাঁর পোস্টে মূলত জলপথটির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণের দাবি এবং ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটই বেশি গুরুত্ব পেয়েছে। একই সঙ্গে হরমুজ দিয়ে জাহাজ চলাচল কমে যাওয়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগও অব্যাহত রয়েছে।   ফলে ‘ট্রাম্প স্ট্রেইট’ নামটি এখনই হরমুজ প্রণালির আনুষ্ঠানিক নতুন নাম নয়; এটি ট্রাম্পের দেওয়া একটি প্রস্তাব ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা নাম। তবে হরমুজকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা, জাহাজ চলাচলে বাধা এবং বিশ্ব জ্বালানি বাজারের ওপর সম্ভাব্য প্রভাবের কারণে তাঁর এই পোস্ট নতুন করে আন্তর্জাতিক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬ ৭:৩
বছর শেষ হওয়ার আগেই শুরু হোক নতুন কিছু করার ৩০ দিনের চ্যালেঞ্জ
২০২৬ শেষ হতে ৯৭ দিন, ৩০ দিনের এই অভ্যাসেই বদলাতে পারে আপনার জীবন

২০২৬ শেষ হতে বাকি আর মাত্র ৯৭ দিন। বছরের শুরুতে করা অনেক পরিকল্পনা হয়তো এখনো তালিকাতেই পড়ে আছে। নতুন কোনো অভ্যাস শুরু করা, দীর্ঘদিন ধরে ফেলে রাখা কাজ শেষ করা কিংবা নিজের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা ভেবেও অনেকেই তা শুরু করতে পারেননি। তবে বছরের শেষ তিন মাসকে কাজে লাগাতে চাইলে এখনো যথেষ্ট সময় আছে।   একটি বড় লক্ষ্য পূরণ করতে সবসময় পুরো বছর অপেক্ষা করতে হয় না। বরং লক্ষ্যকে ছোট ছোট ধাপে ভাগ করে প্রতিদিন নির্দিষ্ট কিছু কাজ করার অভ্যাস তৈরি করলে অল্প সময়ের মধ্যেই পরিবর্তন চোখে পড়তে পারে। এ ক্ষেত্রে প্রথম ৩০ দিনকে একটি আলাদা চ্যালেঞ্জ হিসেবে নেওয়া যেতে পারে। এই সময়ের মধ্যে একটি নির্দিষ্ট অভ্যাস গড়ে তোলার দিকে মনোযোগ দিলে পরবর্তী দিনগুলোতে সেটি ধরে রাখা তুলনামূলক সহজ হতে পারে।   প্রথমেই ঠিক করুন, বছরের শেষ হওয়ার আগে আপনি আসলে কোন একটি বিষয় পরিবর্তন করতে চান। সেটি হতে পারে প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে ওঠার সময় ঠিক করা, নিয়মিত ব্যায়াম করা, বই পড়া, নতুন কোনো দক্ষতা শেখা, অর্থ সঞ্চয় করা কিংবা দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ শেষ করা। একসঙ্গে অনেক কিছু শুরু না করে একটি বিষয়কে অগ্রাধিকার দেওয়াই কার্যকর হতে পারে।   এরপর লক্ষ্যটিকে ৩০ দিনের ছোট পরিকল্পনায় ভাগ করুন। প্রতিদিনের কাজ যেন সহজ এবং বাস্তবসম্মত হয়। যেমন, প্রতিদিন ২০ মিনিট হাঁটা, ১০ পৃষ্ঠা বই পড়া, এক ঘণ্টা কোনো নতুন দক্ষতা শেখা অথবা প্রতিদিন নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ সঞ্চয় করা। কাজ যত সহজে দৈনন্দিন রুটিনে যুক্ত করা যাবে, সেটি নিয়মিত করার সম্ভাবনাও তত বাড়বে।   ৩০ দিনের মধ্যে কোনো দিন পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ না হলেও হতাশ হওয়ার প্রয়োজন নেই। একটি দিন বাদ পড়াকে পুরো পরিকল্পনার ব্যর্থতা হিসেবে না দেখে পরের দিন আবার শুরু করা গুরুত্বপূর্ণ। কারণ নতুন অভ্যাস তৈরি করার ক্ষেত্রে ধারাবাহিকতা অনেক সময় একদিনে অনেক বেশি কাজ করার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।   প্রথম ৩০ দিন শেষ হলে নিজের অগ্রগতি পর্যালোচনা করুন। কী করতে পেরেছেন, কোথায় সমস্যা হয়েছে এবং পরবর্তী ৬৭ দিনে কীভাবে আরও এগোনো যায়—এসব লিখে নিন। বছরের শেষ পর্যন্ত থাকা ৯৭ দিনকে তাই শুধু ক্যালেন্ডারের বাকি সময় হিসেবে না দেখে পরিবর্তনের জন্য একটি সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে।   ২০২৬ শেষ হওয়ার আগে সব লক্ষ্য পূরণ করা সম্ভব নাও হতে পারে। তবে আজ একটি ছোট পরিবর্তন শুরু করলে বছরের শেষ নাগাদ অন্তত একটি গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় দৃশ্যমান অগ্রগতি তৈরি করা সম্ভব। তাই অপেক্ষা না করে আজকের দিনটিকেই ৩০ দিনের নতুন যাত্রার প্রথম দিন হিসেবে শুরু করা যেতে পারে।  

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬ ৬:৪৪
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে রিপাবলিকান সিনেটর থম টিলিস
‘ট্রাম্পের আনুগত্যের পরীক্ষা থেকে বের হতে হবে’, হোয়াইট হাউসকে রিপাবলিকান সিনেটরের বার্তা

যুক্তরাষ্ট্রের রিপাবলিকান সিনেটর থম টিলিস বলেছেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে কোনো বিষয়ে মতবিরোধ থাকলেই কোনো রিপাবলিকানকে ‘অবিশ্বস্ত’ হিসেবে দেখা উচিত নয়। উত্তর ক্যারোলাইনার এই সিনেটর বলেন, হোয়াইট হাউসের কিছু কর্মকর্তা ট্রাম্পের প্রতি আনুগত্যের বিষয়টিকে অতিরিক্ত গুরুত্ব দিচ্ছেন এবং দলের সদস্যদের নীতিগত মতপার্থক্য মেনে নেওয়া উচিত।   বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় টিলিস বলেন, প্রেসিডেন্টের সঙ্গে একটি বিষয়ে মতপার্থক্য হলেই কাউকে অবিশ্বস্ত হিসেবে চিহ্নিত করার প্রবণতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। তিনি দাবি করেন, গুরুত্বপূর্ণ ভোটের ক্ষেত্রে তিনি ৯০ শতাংশের বেশি সময় ট্রাম্পকে সমর্থন করেছেন। তবে অন্য রিপাবলিকানদের কোনো বিষয়ে ভিন্নমত থাকলে সেটি প্রকাশ করার সুযোগ থাকা উচিত বলেও তিনি জানান।   টিলিস আরও বলেন, হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তাদের ‘আনুগত্যের পরীক্ষা’ বা সব বিষয়ে নিখুঁতভাবে একমত হওয়ার প্রত্যাশা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি প্রেসিডেন্টকে খুশি করার জন্য সিনেটে নেই; বরং উত্তর ক্যারোলাইনার যেসব মানুষ তাকে ভোট দিয়েছেন, তাদের প্রতিনিধিত্ব করতেই তিনি সেখানে রয়েছেন।   ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের বিষয়টিকেও উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেন টিলিস। তার মতে, কোনো রিপাবলিকান যদি এই যুদ্ধের বিষয়ে প্রশাসনের নীতির সঙ্গে ভিন্নমত পোষণ করেন, তাহলে সেটিকে দলীয় অবিশ্বস্ততা হিসেবে দেখা উচিত নয়।   টিলিসের এই বক্তব্য তার সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনের কয়েক মাসের প্রকাশ্য মতপার্থক্যের ধারাবাহিকতায় এসেছে। এর আগে তিনি প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের সমালোচনা করেছেন এবং ইরান যুদ্ধ পরিচালনা নিয়ে তার ওপর আস্থা হারানোর কথা জানিয়েছিলেন। ইরান যুদ্ধ নিয়ে কংগ্রেসের অনুমোদনের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কেও টিলিসসহ কয়েকজন রিপাবলিকান সিনেটর অবস্থান নিয়েছেন।   চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সাম্প্রতিক যুক্তরাষ্ট্র সফর নিয়েও টিলিস ট্রাম্পের সমালোচনা করেছেন। তিনি ট্রাম্পের শিকে দেওয়া উষ্ণ অভ্যর্থনাকে প্রশ্ন করে বলেন, চীনের মতো দেশের নেতাদের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের পাশাপাশি তাদের কর্মকাণ্ডের জবাবদিহিও নিশ্চিত করা প্রয়োজন।   টিলিস ২০২৬ সালের নির্বাচনে পুনর্নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত আগেই জানিয়েছেন। এরপর থেকে ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন নীতি ও কর্মকর্তাদের নিয়ে তার প্রকাশ্য সমালোচনা আরও স্পষ্ট হয়েছে।   টিলিসের সর্বশেষ বক্তব্যে তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট ও প্রশাসনের সঙ্গে সত্য কথা বলাই এক ধরনের আনুগত্য। তার মতে, কোনো বিষয়ে নীতিগতভাবে ভিন্নমত প্রকাশ করা এবং প্রেসিডেন্টের প্রতি অবিশ্বস্ত হওয়া—দুটি বিষয়কে এক করে দেখা উচিত নয়।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬ ৬:২৭
ডা. ইদ্রিস ইভান্স ও তার স্ত্রীকে ঘুমের মধ্যে ছুরিকাঘাত করা হয়
‘আমি ঈশ্বর’ দাবি করা ব্যক্তির ছু রিকাঘাতে শিশু চিকিৎসকের প্রাণহানি, আহত স্ত্রীও

যুক্তরাষ্ট্রের পিটসবার্গে নিজ বাড়িতে স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে ঘুমিয়ে ছিলেন শিশু চিকিৎসক ডা. ইদ্রিস ইভান্স। ভোররাতে হঠাৎ এক ব্যক্তি বাড়িতে ঢুকে রান্নাঘরের ছু রি দিয়ে তাদের ওপর হা ম লা চালায়। গুরুতর আ হ ত হয়ে পরে ৪৬ বছর বয়সী এই চিকিৎসকের মৃ ত্যু হয়। হা ম লায় তার স্ত্রীও গুরুতর আ হ ত হয়েছেন।   বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে পিটসবার্গের উপকণ্ঠ এজউডের একটি বাড়িতে দুইজনকে ছু রিকা ঘা তের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। সেখানে ডা. ইভান্স ও তার স্ত্রীকে একাধিক ছু রিকা ঘা তের জখমসহ উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইভান্সের মৃ ত্যু হয়। তার স্ত্রীকে সংকটাপন্ন অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।   ডা. ইদ্রিস ইভান্স ইউপিএমসি চিলড্রেনস হাসপাতাল অব পিটসবার্গের শিশুদের গুরুতর অসুস্থতার চিকিৎসক ছিলেন। তিনি পিটসবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপকও ছিলেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাকে একজন নিবেদিতপ্রাণ চিকিৎসক ও গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হিসেবে উল্লেখ করে তার মৃ ত্যুতে গভীর শোক জানিয়েছে।   আদালতের নথি অনুযায়ী, ইভান্স ও তার স্ত্রী বিছানায় ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় হা ম লাকারী তাদের ওপর ছু রি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে। ইভান্সের স্ত্রী পুলিশকে জানান, হা ম লাকারী শুধু অন্তর্বাস পরা ছিল এবং সে ‘আমি ঈশ্বর’ ধরনের কথা বলছিল। হা ম লার সময় তিনি তাদের দুই সন্তানকে দ্রুত প্রতিবেশীর বাড়িতে চলে যেতে বলেন।   পুলিশ পরে হা ম লার ঘটনায় ৩২ বছর বয়সী এলিয়াহ হেমিংওয়েকে আ ট ক করে। তদন্তকারীরা তাকে কাছের একটি বাড়ির পেছনে খুঁজে পান। তার হাতেও কাটা জখম ছিল এবং চিকিৎসার জন্য তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। পুলিশ জানিয়েছে, তার বিরুদ্ধে হ ত্যা, গুরুতর হা ম লা, বাড়িতে অবৈধভাবে প্রবেশ এবং অনধিকার প্রবেশের অভিযোগ আনা হয়েছে।   ইভান্সের স্ত্রী পুলিশকে জানান, হা ম লার সময় তার স্বামী হা ম লাকারীকে ‘এলিয়াহ’ নামে ডাকেন। তবে পুলিশ এখনো নিশ্চিত নয় যে ইভান্স ও স ন্দে হভাজন ব্যক্তির মধ্যে আগে কোনো পরিচয় বা সম্পর্ক ছিল কি না। হা ম লার উদ্দেশ্যও এখনো জানা যায়নি।   আলেঘেনি কাউন্টি পুলিশের সহকারী সুপারিনটেনডেন্ট ভিক্টর জোসেফ জানান, ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি ছিল অত্যন্ত সহিং স। শোবার ঘরের আসবাবপত্র ও আয়না ভাঙা অবস্থায় পাওয়া যায়। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার বিস্তারিত কারণ ও হা ম লার উদ্দেশ্য জানতে তদন্ত চলছে।    

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬ ৬:৫
যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্বের আবেদন ও ন্যাচারালাইজেশন প্রক্রিয়ার প্রতীকী ছবি
আমেরিকান নাগরিকত্বের আবেদনেই বড় সুবিধা, ফি দিতে হবে না যাদের

যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কিছু শ্রেণির মানুষের জন্য ফি ছাড়ের সুযোগ রয়েছে। মার্কিন নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবা বা ইউএসসিআইএস জানিয়েছে, কিছু সামরিক সদস্য ও যোগ্য সাবেক সামরিক সদস্য ন্যাচারালাইজেশনের আবেদন করার সময় নির্ধারিত ফি থেকে পুরোপুরি অব্যাহতি পেতে পারেন। বর্তমানে এন-৪০০ ন্যাচারালাইজেশন আবেদনের সাধারণ ফি ৭৬০ ডলার।   প্রথমত, যারা সক্রিয়ভাবে মার্কিন সামরিক বাহিনীতে কর্মরত এবং অভিবাসন ও জাতীয়তা আইনের ৩২৮ বা ৩২৯ ধারার অধীনে নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করেন, তাদের এন-৪০০ আবেদনের জন্য কোনো ফি দিতে হয় না। এই ক্ষেত্রে আইনের অধীনেই ফি মওকুফ হয়ে যায় এবং আলাদাভাবে ফি মওকুফের আবেদন করার প্রয়োজন নেই।   দ্বিতীয়ত, যোগ্য সাবেক সামরিক সদস্যরাও নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করলে নাগরিকত্বের আবেদন ফি থেকে পুরোপুরি অব্যাহতি পেতে পারেন। শান্তিকালীন সময়ে বা নির্ধারিত শত্রুতাপূর্ণ পরিস্থিতিতে সম্মানের সঙ্গে সামরিক বাহিনীতে দায়িত্ব পালন করা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এই সুবিধা প্রযোজ্য হতে পারে। এ জন্য সামরিক বা নৌবাহিনীতে দায়িত্ব পালনের প্রমাণ হিসেবে এন-৪২৬ ফরম জমা দিতে হয়।   ইউএসসিআইএস আরও জানিয়েছে, নির্দিষ্ট সামরিক শ্রেণির আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে নাগরিকত্ব পাওয়ার কিছু সাধারণ শর্তেও ছাড় থাকতে পারে। যেমন, নির্ধারিত শত্রুতার সময় সম্মানের সঙ্গে সামরিক দায়িত্ব পালনকারীদের ক্ষেত্রে নাগরিকত্বের আবেদনের আগে সাধারণ আবাসন বা যুক্তরাষ্ট্রে শারীরিক উপস্থিতির কিছু শর্ত প্রযোজ্য নাও হতে পারে।   তবে সামরিক সদস্যদের জন্য নির্ধারিত এই ফি ছাড়ের ক্ষেত্রে সাধারণ ফি মওকুফের জন্য ব্যবহৃত আই-৯১২ ফরম জমা দেওয়া উচিত নয়। কারণ সামরিক আইনের অধীনে যোগ্য হলে ফি ছাড় স্বয়ংক্রিয়ভাবেই প্রযোজ্য হয়।   সামরিক বাহিনীর সঙ্গে যুক্ত নন এমন ব্যক্তিদের জন্যও আর্থিক সংকটের ভিত্তিতে নাগরিকত্বের আবেদন ফি কমানোর বা পুরোপুরি মওকুফের সুযোগ রয়েছে। এ ক্ষেত্রে আই-৯১২ ফরম জমা দিতে হয়। যাদের পরিবারের আয় ফেডারেল দারিদ্র্যসীমার ১৫০ শতাংশের মধ্যে, যারা নির্দিষ্ট আয়ভিত্তিক সরকারি সুবিধা পান অথবা যারা গুরুতর আর্থিক সংকটে রয়েছেন, তারা পুরো ফি মওকুফের জন্য আবেদন করতে পারেন।   এ ছাড়া পরিবারের আয় ফেডারেল দারিদ্র্যসীমার ১৫০ শতাংশের বেশি কিন্তু ৪০০ শতাংশের মধ্যে হলে কাগজে আবেদন করার ক্ষেত্রে ৩৮০ ডলারের কমানো ফি প্রযোজ্য হতে পারে। অর্থাৎ যোগ্যতা ও আয়ের ভিত্তিতে কিছু আবেদনকারীকে পুরো ফি না দিয়ে কম ফিতে নাগরিকত্বের আবেদন করার সুযোগও রয়েছে।   তবে এসব সুবিধা পাওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট আইনি ও যোগ্যতার শর্ত পূরণ করতে হবে। বিশেষ করে সামরিক সদস্যদের অভিবাসন ও জাতীয়তা আইনের ৩২৮ বা ৩২৯ ধারার অধীনে প্রয়োজনীয় যোগ্যতা থাকতে হবে। নাগরিকত্বের আবেদন করার আগে ইউএসসিআইএসের সর্বশেষ নির্দেশনা অনুযায়ী নিজের যোগ্যতা যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ।  

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬ ৫:৩৪
মেটার প্রধান নির্বাহী মার্ক জাকারবার্গ
মেটার শেয়ারে পতন, এক দিনেই জাকারবার্গের সম্পদ কমল ৮.৯ বিলিয়ন ডলার

মেটার প্রধান নির্বাহী মার্ক জাকারবার্গ। শুক্রবার দুপুর ২টা ৩০ মিনিটের দিকে তার আনুমানিক সম্পদের পরিমাণ কমে দাঁড়ায় ২৫৭.৫ বিলিয়ন ডলারে। একই সময়ে মেটা প্ল্যাটফর্মসের শেয়ার প্রায় ৪ শতাংশ কমে ৭৪৯.২৬ ডলারে নেমে আসে।   এই পতনের ফলে বিশ্বের শীর্ষ ধনীদের তালিকায় জাকারবার্গ চতুর্থ অবস্থান থেকে ষষ্ঠ স্থানে নেমে যান। তার ওপরে উঠে আসেন গুগলের সহপ্রতিষ্ঠাতা সের্গেই ব্রিন ও ডেল টেকনোলজিসের প্রতিষ্ঠাতা মাইকেল ডেল। শুক্রবার জাকারবার্গের ৮.৯ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ কমার পরিমাণ ছিল ওই দিনের শীর্ষ ধনীদের মধ্যে সবচেয়ে বড় দৈনিক পতন।   মেটার শেয়ারে এই পতনের পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই খাতে বিপুল বিনিয়োগ নিয়ে নতুন উদ্বেগ। গোল্ডম্যান স্যাকস সতর্ক করেছে, মেটাসহ এআই অবকাঠামোতে বড় বিনিয়োগকারী প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের বিপুল মূলধনী ব্যয় পুষিয়ে নিতে এআইভিত্তিক সেবা থেকে বছরে প্রায় ৩০০ বিলিয়ন ডলার আয় করতে হতে পারে।   শুধু বিনিয়োগের খরচ পুষিয়ে নেওয়া নয়, উল্লেখযোগ্য মুনাফা করতে হলে এই প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্মিলিত এআই সেবা থেকে বছরে প্রায় ১ ট্রিলিয়ন ডলার আয় প্রয়োজন হতে পারে বলে জানিয়েছে গোল্ডম্যান স্যাকস। এআই চিপ কেনা, ডেটা সেন্টার নির্মাণসহ বিভিন্ন খাতে এ বছর এআই হাইপারস্কেলার প্রতিষ্ঠানগুলোর মূলধনী ব্যয় প্রায় ৮০০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে। আগামী বছর তা ১.১ ট্রিলিয়ন ডলারে উঠতে পারে।   তবে এর আগে সেপ্টেম্বরজুড়ে মেটার শেয়ারে উল্লেখযোগ্য উত্থান দেখা গিয়েছিল। কোম্পানিটির শেয়ার মাসটিতে প্রায় ৩৬ শতাংশ বেড়েছিল। মেটার নতুন ব্যক্তিগত এআই সহকারী ‘Muse’ বাজারে আসার পর এ উত্থান আরও জোরালো হয়। Sensor Tower-এর তথ্য অনুযায়ী, প্রথম দুই সপ্তাহেই Muse প্রায় ২৮ লাখ বার ডাউনলোড হয়েছে।   বৃহস্পতিবার মেটার বাজারমূল্য ২ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছানোর খুব কাছাকাছি চলে গিয়েছিল। তবে শুক্রবারের পতনে সেই গতি কিছুটা থেমে যায়। এদিকে একই দিনে ডেল টেকনোলজিসের প্রতিষ্ঠাতা মাইকেল ডেলের সম্পদ ১০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি বেড়ে যায়, ফলে তিনি জাকারবার্গ ও সের্গেই ব্রিনকে পেছনে ফেলে বিশ্বের শীর্ষ ধনীদের তালিকায় ওপরে উঠে আসেন।    

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬ ৫:৯
শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক শক্তি ব্যবহারে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের সমঝোতা
শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক শক্তি ব্যবহারে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের সমঝোতা

শান্তিপূর্ণ ও বেসামরিক কাজে পারমাণবিক শক্তি ব্যবহারে সহযোগিতা বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক সই করেছে বাংলাদেশ। নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের ফাঁকে উচ্চপর্যায়ের আলোচনার পর শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) দুই দেশের প্রতিনিধিরা এই সমঝোতা স্মারকে সই করেন।    বাংলাদেশের পক্ষে প্রধানমন্ত্রীর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসাদ এবং যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, জ্বালানি ও পরিবেশবিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি অব স্টেট জেকব হেলবার্গ এতে সই করেন। মার্কিন সরকারি নথিতেও হেলবার্গের এই দায়িত্ব নিশ্চিত করা হয়েছে।    শনিবার বিএনপি মিডিয়া সেলের বিজ্ঞপ্তিতে প্রথম চুক্তিটির তথ্য জানানো হয়। পরে রেহান আসাদও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।    সমঝোতা স্মারকে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র তাদের কূটনৈতিক সম্পর্কের কৌশলগত গুরুত্ব এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তায় এর প্রভাবের বিষয়টি স্বীকার করেছে। বিশেষ করে জ্বালানি নিরাপত্তায় পারমাণবিক শক্তির সম্ভাব্য ভূমিকা দুই দেশ গুরুত্বের সঙ্গে উল্লেখ করেছে।    দুই দেশ আরও সম্মত হয়েছে, বেসামরিক পারমাণবিক খাতে যেকোনো সহযোগিতায় সর্বোচ্চ পর্যায়ের পারমাণবিক নিরাপত্তা, সিকিউরিটি, আন্তর্জাতিক সেফগার্ড এবং পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধের নীতি অনুসরণ করা হবে। বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র উভয় দেশই পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি বা এনপিটির সদস্য এবং আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার সেফগার্ড ব্যবস্থার আওতায় রয়েছে।    এই সমঝোতার ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটও রয়েছে। বিএনপি মিডিয়া সেল এটিকে ১৯৮১ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময়ে নেওয়া উদ্যোগের ধারাবাহিকতা হিসেবে উল্লেখ করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের পুরোনো চুক্তির সরকারি নথিতেও দেখা যায়, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র ১৯৮১ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর ঢাকায় শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক শক্তি ব্যবহারে সহযোগিতা চুক্তি সই করেছিল; সেটি ১৯৮২ সালের ২৪ জুন কার্যকর হয়।    সাম্প্রতিক সমঝোতার প্রক্রিয়াও কয়েক মাস ধরে এগোচ্ছিল। ইউএনবির তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক মার্কিন বিশেষ দূত সার্জিও গোরের বাংলাদেশ সফরের সময় ওয়াশিংটন বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতার একটি সমঝোতা স্মারকের প্রস্তাব দেয়। গত ৩ আগস্ট পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম জানিয়েছিলেন, বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থে হলে এ ধরনের সহযোগিতার প্রস্তাব ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করবে সরকার।    চুক্তিটি এমন সময়ে হলো, যখন বাংলাদেশ দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানির উৎস সম্প্রসারণ ও বৈচিত্র্য আনার চেষ্টা করছে। পাবনার রূপপুরে দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মিত হয়েছে এবং পারমাণবিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতাও বাড়ানোর চেষ্টা চলছে। চলতি মাসে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার সাধারণ সম্মেলনেও বাংলাদেশ শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক প্রযুক্তি, সর্বোচ্চ নিরাপত্তা মান এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রতি অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে।    তবে নতুন সমঝোতা স্মারককে এখনই নতুন মার্কিন পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের চুক্তি হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, এ ধরনের পারমাণবিক সহযোগিতা সমঝোতা স্মারক সাধারণত দুই দেশের মধ্যে বৃহত্তর কৌশলগত বেসামরিক পারমাণবিক সম্পর্কের ভিত্তি তৈরি করে এবং সরকারি, শিল্প ও গবেষণা পর্যায়ে সহযোগিতা এগিয়ে নেওয়ার কাঠামো দেয়।    বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি সহযোগিতায় এটি চলতি বছরের দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা। গত মে মাসে দুই দেশ বৃহত্তর জ্বালানি খাতে কৌশলগত সহযোগিতার আরেকটি সমঝোতা স্মারক সই করেছিল। তবে ২৫ সেপ্টেম্বরের নতুন সমঝোতা বিশেষভাবে বেসামরিক পারমাণবিক শক্তি ও এর শান্তিপূর্ণ ব্যবহারকে কেন্দ্র করে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬ ৪:৫৭
ইরানের ৭ দিনের শান্তি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান ট্রাম্পের, নির্বাচনের পর ফের হামলার আভাস
ইরানের ৭ দিনের শান্তি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান ট্রাম্পের, নির্বাচনের পর ফের হামলার আভাস

হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া এবং মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত বন্ধে ইরানের দেওয়া সাত দিনের শান্তি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প—এমন তথ্য জানিয়েছে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে পত্রিকাটি বলেছে, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের শর্ত মানবে কি না তা নিয়ে ট্রাম্প সংশয়ী এবং নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে আবার মার্কিন বোমা হামলা শুরু হতে পারে বলে সহযোগীদের জানিয়েছেন তিনি। তবে হোয়াইট হাউস এখনো প্রকাশ্যে প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যানের ঘোষণা দেয়নি।   ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি শুক্রবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সাংবাদিকদের জানান, কাতারের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে একটি ‘সুনির্দিষ্ট সাত দিনের পরিকল্পনা’ পাঠিয়েছে তেহরান। যুক্তরাষ্ট্র প্রয়োজনীয় শর্তগুলো মেনে নিলে সাত দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি খুলে স্বাভাবিক জাহাজ চলাচল ফিরিয়ে আনা সম্ভব বলে তিনি জানান। আরাঘচির ভাষায়, সিদ্ধান্ত এখন যুক্তরাষ্ট্রের হাতে।   প্রস্তাব অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানি বন্দরগুলোর ওপর নৌ অবরোধ তুলে নিতে হবে, ইরানের আটকে থাকা অর্থ ছাড় করতে হবে এবং দেশটির তেল রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞায় ছাড় দিতে হবে। একই সঙ্গে লেবাননসহ আঞ্চলিক বিভিন্ন ফ্রন্টে সংঘাত বন্ধের শর্ত রয়েছে। বিনিময়ে ইরান হরমুজ প্রণালি খুলে দেবে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বৃহত্তর আলোচনা শুরু করবে।   অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের তথ্য অনুযায়ী, পরিকল্পনাটি সাত দিনের একটি ধাপে বাস্তবায়নের প্রস্তাব দিয়েছে তেহরান। আরাঘচি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র সম্মতি দেওয়ার পর সময় গণনা শুরু হবে; প্রাথমিক পদক্ষেপগুলো কয়েক দিনের মধ্যে নেওয়ার পর ষষ্ঠ দিনে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া এবং সপ্তম দিনে পারস্পরিকভাবে সম্মত বিষয় নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে।   তবে পারমাণবিক কর্মসূচির ক্ষেত্রে বড় ধরনের ছাড় দেওয়ার ইঙ্গিত দেয়নি ইরান। একজন জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র সাত দিনের প্রস্তাব গ্রহণ করলেও ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অধিকার কিংবা উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম দেশের বাইরে পাঠানোর প্রশ্নে তেহরান নমনীয় হবে না। প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানও বলেছেন, ইরান আলোচনা করতে প্রস্তুত, কিন্তু চাপ বা জবরদস্তি মেনে নেবে না।   কূটনৈতিক প্রক্রিয়া পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে—এমনটিও এখন পর্যন্ত নিশ্চিত নয়। রয়টার্স জানিয়েছে, এর আগে একজন মার্কিন কর্মকর্তা মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ইরানের সঙ্গে আলোচনা ‘ইতিবাচক ও গঠনমূলক’ বলে বর্ণনা করেছিলেন। অন্যদিকে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রত্যাখ্যানের খবর প্রকাশের পরও তেহরান বলছে, তারা ওয়াশিংটনের আনুষ্ঠানিক জবাবের অপেক্ষায় রয়েছে।   সাত দিনের এই প্রস্তাবের পেছনে জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া সমঝোতার কাঠামোও রয়েছে। আরাঘচি বলেছেন, ওয়াশিংটনের কাছে নতুন কোনো দাবি তোলা হয়নি; যুক্তরাষ্ট্রের যেসব পদক্ষেপ চাওয়া হচ্ছে, সেগুলো আগের সমঝোতাতেই ছিল। সেই কূটনৈতিক প্রচেষ্টা শেষ পর্যন্ত যুদ্ধ থামাতে পারেনি এবং পরে আবার হামলা-পাল্টা হামলা শুরু হয়।   হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ শুধু যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের বিষয় নয়। প্রায় সাত মাসের সংঘাতে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথটিতে জাহাজ চলাচল ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়েছে। একই সময়ে ইয়েমেনে হুতিদের হামলা সৌদি আরবের জ্বালানি অবকাঠামো ও বিকল্প রেড সি রুটের নিরাপত্তা নিয়েও নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।   এর মধ্যেই ট্রাম্প চলতি সপ্তাহে জাতিসংঘে ইরানকে আরও অর্থনৈতিকভাবে বিচ্ছিন্ন করার আহ্বান জানিয়েছিলেন। তিনি একই সঙ্গে বলেছিলেন, নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর একটি চুক্তি হতে পারে বলে তিনি মনে করেন। ফলে একদিকে ইরানের সাত দিনের দ্রুত সমঝোতার প্রস্তাব, অন্যদিকে নির্বাচনের পর সম্ভাব্য চুক্তি নিয়ে ট্রাম্পের প্রকাশ্য বক্তব্য—দুই পক্ষের সময়সীমা ও শর্তে এখনো বড় ব্যবধান রয়েছে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬ ৪:২২
আওয়ামী লীগের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত বাংলাদেশ সরকারের: যুক্তরাষ্ট্র
আওয়ামী লীগের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত বাংলাদেশ সরকারের: যুক্তরাষ্ট্র

আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রমের ওপর থাকা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হবে কি না, সেই সিদ্ধান্ত বাংলাদেশ সরকারকেই নিতে হবে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ঘিরে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে চলমান বিরোধ দুই দেশ আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করবে বলে আশা প্রকাশ করেছে ওয়াশিংটন।   ২৩ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কের ফরেন প্রেস সেন্টারে ‘ইউএস পলিসি ইন সাপোর্ট অব আ স্টেবল, প্রসপারাস অ্যান্ড সভরেন সাউথ এশিয়া’ শীর্ষক অন-ব্যাকগ্রাউন্ড ব্রিফিংয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের এই অবস্থান তুলে ধরা হয়। বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল ও শ্রীলঙ্কার সাংবাদিকরা সেখানে উপস্থিত ছিলেন। ব্রিফিংয়ের আগে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক ডেপুটি অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি বেথানি মরিসন আঞ্চলিক পরিস্থিতি ও মার্কিন নীতি নিয়ে কথা বলেন।   ব্রিফিংয়ে আওয়ামী লীগের কার্যক্রমের ওপর থাকা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা উচিত কি না জানতে চাওয়া হলে মার্কিন কর্মকর্তা প্রথমে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নিয়ে মন্তব্য করতে চাননি। পরে বিষয়টি নির্দিষ্ট করে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এই সিদ্ধান্ত বাংলাদেশ সরকারকেই নিতে হবে।    বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রমের ওপর নিষেধাজ্ঞা নতুন নয়। ২০২৫ সালের মে মাসে তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতায় দলটির সব ধরনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে। পরে নির্বাচন কমিশন দলটির নিবন্ধনও স্থগিত করে। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনে দলটি অংশ নিতে পারেনি। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকারের সময়েও ওই নিষেধাজ্ঞা বহাল রয়েছে।   গত জুনেও বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আওয়ামী লীগের বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত দলটির রাজনৈতিক কার্যক্রমের ওপর নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে। দলটি রাজনৈতিক দল হিসেবে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ হবে কি না, সেটি আদালতের সিদ্ধান্তের বিষয় বলেও সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল।    শেখ হাসিনা নিয়ে বাংলাদেশ-ভারতকে আলোচনার পরামর্শ   একই ব্রিফিংয়ে ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভবিষ্যৎ নিয়েও প্রশ্ন করা হয়। মার্কিন কর্মকর্তা জানান, শেখ হাসিনার বিষয়ে কী হওয়া উচিত, তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক অবস্থান নেয়নি।   ওই কর্মকর্তা বলেন, শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্কের মধ্যে বড় ধরনের বিরোধের উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে যুক্তরাষ্ট্র বুঝতে পারছে। ওয়াশিংটনের প্রত্যাশা, ঢাকা ও নয়াদিল্লি নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে এ বিষয়ে একটি সমাধানে পৌঁছাবে।   বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কেও সাম্প্রতিক সময়ে শেখ হাসিনার অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে আছে। ডয়চে ভেলের ২৪ সেপ্টেম্বরের বিশ্লেষণেও হাসিনার ভারতে অবস্থানকে দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার পথে অন্যতম বড় বাধা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।   এর আগে আগস্টে শেখ হাসিনা রয়টার্সকে বলেছিলেন, আওয়ামী লীগের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া উচিত। তিনি ডিসেম্বরে বাংলাদেশে ফেরার পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছিলেন। বাংলাদেশ সরকার অন্যদিকে তাকে ভারত থেকে ফেরত আনার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছে।   ‘বাংলাদেশকে কোনো পক্ষ বেছে নিতে বলছে না যুক্তরাষ্ট্র’   ব্রিফিংয়ে যুক্তরাষ্ট্র, ভারত ও চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। জবাবে মার্কিন কর্মকর্তা বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থানকে জটিল উল্লেখ করে বলেন, ওয়াশিংটন বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা শক্তিশালী করতে সহযোগিতা করতে চায়।   তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে কোনো একটি শক্তিকে বেছে নিতে বলছে না; বরং দেশগুলোর সামনে নিজেদের একটি বিকল্প অংশীদার হিসেবে উপস্থাপন করতে চায়।   সূত্র: রয়টার্স, ডয়চে ভেলে

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬ ৪:৬
ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসে নিয়োগ, বেতন ৬১ হাজার টাকা
ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসে নিয়োগ, বেতন ৬১ হাজার টাকা, আবেদন শেষ ৩০ সেপ্টেম্বর

ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসে রক্ষণাবেক্ষণকর্মী হিসেবে একজন কার্পেন্টার নিয়োগের খবর জানিয়েছে কালবেলা। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, পদটিতে মাসিক বেতন ৬১ হাজার টাকা। অনলাইনে আবেদনের শেষ দিন ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬।   পদটির জন্য এসএসসি বা সমমানের শিক্ষাগত যোগ্যতা চাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ভবনের কাঠামো, সাজসজ্জার অংশ ও স্থাপনার সরঞ্জাম মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণে অন্তত তিন বছরের কাজের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।   প্রার্থীর বাংলা বলা, পড়া ও লেখায় ভালো দক্ষতা এবং ইংরেজি বলা, পড়া ও লেখায় সীমিত দক্ষতা থাকতে হবে বলে কালবেলার প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। কর্মস্থল ঢাকা; কাজটি পূর্ণকালীন।   আগ্রহীদের মার্কিন দূতাবাসের চাকরির পাতার মাধ্যমে আবেদন করতে বলা হয়েছে। তবে দূতাবাসের মূল নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি সরাসরি যাচাই করা সম্ভব হয়নি। তাই আবেদন জমা দেওয়ার আগে পদটি চালু আছে কি না, বেতন ও যোগ্যতার শর্ত এবং শেষ সময় দূতাবাসের নিয়োগ পাতায় মিলিয়ে নেওয়া জরুরি।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬ ২:৪৭
পেনসিলভানিয়ায় হামের প্রাদুর্ভাব বাড়ছে, নতুন ৫৫ জনসহ আক্রান্ত ৮৯০
পেনসিলভানিয়ায় হামের প্রাদুর্ভাব বাড়ছে, নতুন ৫৫ জনসহ আক্রান্ত ৮৯০

যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়ায় হামের সংক্রমণ বাড়ছে। রাজ্যের স্বাস্থ্য বিভাগের শুক্রবারের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, বুধবারের পর নতুন করে ৫৫ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছর রাজ্যের ৩৯টি কাউন্টিতে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮৯০। অন্তত ১৭৩ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। হামসংশ্লিষ্ট চারটি মৃত্যুর খবরও পাওয়া গেছে।   এবিসি নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সবচেয়ে বেশি সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে ল্যাঙ্কাস্টার কাউন্টিতে, ৩৫৯ জন। এরপর রয়েছে মিফলিন কাউন্টি, যেখানে আক্রান্তের সংখ্যা ১০২। রাজ্যের তথ্য অনুযায়ী, আক্রান্তদের মধ্যে ২৫ থেকে ৪৯ বছর বয়সীদের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি।   সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে টিকাদান কার্যক্রম চালাচ্ছে স্বাস্থ্য বিভাগ। এপ্রিলের শেষ দিকে প্রাদুর্ভাব শুরুর পর ১৬৫টি অস্থায়ী ক্লিনিকে পাঁচ হাজার তিনশর বেশি মানুষকে হাম, মাম্পস ও রুবেলার এমএমআর টিকা দেওয়া হয়েছে বলে বিভাগটি জানিয়েছে। আগামী সপ্তাহ ও মাসগুলোতেও আরও টিকাদান ক্লিনিক চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।   হাম অত্যন্ত সংক্রামক। সাধারণত জ্বর, কাশি, সর্দি ও চোখ লাল হওয়ার পর শরীরে র‍্যাশ দেখা দেয়। স্বাস্থ্য বিভাগ বলেছে, কেউ হামের সংস্পর্শে এসে থাকলে এবং উপসর্গ দেখা দিলে চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে। সম্ভাব্য সংক্রমণের কথা আগে জানিয়ে যোগাযোগ করলে অন্যদের সংস্পর্শে আসার ঝুঁকি কমানো যায়।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬ ২:৪১