সোশ্যাল সিকিউরিটির প্রায় ৫ কোটি রেকর্ড সংশোধনের কথা জানাল যুক্তরাষ্ট্র
যুক্তরাষ্ট্রের সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বরের তথ্যভান্ডারে প্রায় ৫ কোটি রেকর্ড সংশোধনের কথা জানিয়েছে সোশ্যাল সিকিউরিটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এসএসএ)। মৃত্যুর তারিখ ও নাগরিকত্বের তথ্য হালনাগাদের এই কার্যক্রমকে সংস্থাটির ইতিহাসে সবচেয়ে বড় পরিসরের রেকর্ড সংশোধন উদ্যোগ বলা হচ্ছে।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এসএসএ জানিয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসনের দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে এই কার্যক্রম চলছে। সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে পরিচয় যাচাই এবং ভুল ব্যক্তির কাছে অর্থ পরিশোধ ঠেকাতে তথ্যভান্ডারের নির্ভুলতা বাড়ানো এর উদ্দেশ্য।
কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ১ কোটি ৭০ লাখ রেকর্ডে মৃত্যুর তারিখ যুক্ত করা হয়েছে। এসব রেকর্ডে আগে এই তথ্য ছিল না। সংস্থাটির নিজস্ব ব্যবস্থা ও মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্য ব্যবহার করে সেগুলো হালনাগাদ করা হয়েছে।
পাশাপাশি নাগরিকত্বের তথ্য অনুপস্থিত ছিল, এমন প্রায় ২ কোটি ৫০ লাখ রেকর্ড হালনাগাদ করেছে এসএসএ। এ কাজে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের পরিচয় ও যোগ্যতা যাচাইয়ের ব্যবস্থা ‘সেভ’ থেকে পাওয়া তথ্য ব্যবহার করা হয়েছে। আরও ৮৫ লাখ রেকর্ডে নাগরিকত্বের ভুল তথ্য সংশোধনের কাজ চলছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
এসএসএর কমিশনার ফ্র্যাঙ্ক বিসিগনানো বলেছেন, সরকারি সেবার যথাযথ ব্যবস্থাপনার জন্য সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বরের তথ্য নির্ভুল থাকা প্রয়োজন। কেন্দ্রীয় সরকার ও অঙ্গরাজ্যগুলোর বিভিন্ন সংস্থা পরিচয় যাচাইয়ে এই রেকর্ড ব্যবহার করে।
ভবিষ্যতে হাতে তথ্য প্রবেশ করানোর সময় ভুল কমাতে অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণও জোরদার করা হয়েছে। এসএসএর ভাষ্য, সঠিক তথ্য সংরক্ষণ সরকারি কর্মসূচিতে প্রতারণা প্রতিরোধ এবং প্রাপ্য ব্যক্তির কাছে সুবিধা পৌঁছানোর ব্যবস্থা শক্তিশালী করবে।
সূত্র: সোশ্যাল সিকিউরিটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশন ও কেটিভিইউ ফক্স ২
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচন ঘিরে সিনেটের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আসনে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা নতুন করে আলোচনায় এসেছে। জর্জিয়ায় জন অসফ, টেক্সাসে জেমস তালারিকো এবং মিশিগানে আবদুল এল-সাইয়েদের মতো প্রার্থীদের ঘিরে সমর্থকদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। তাঁদের ধর্মীয় পরিচয়, রাজনৈতিক অবস্থান এবং সাধারণ মানুষের স্বার্থকে সামনে রেখে দেওয়া বার্তা নির্বাচনী আলোচনায় জায়গা করে নিয়েছে। তবে নির্বাচনী জরিপে এগিয়ে থাকা মানেই জয় নিশ্চিত নয়। ভোটের দিন উপস্থিতি, নির্বাচনী প্রচারের গতি এবং শেষ মুহূর্তের জনমত—সবকিছুই ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে। তাই এসব প্রতিদ্বন্দ্বিতার গুরুত্ব বুঝতে প্রার্থীদের বক্তব্যের পাশাপাশি নির্বাচনী পরিস্থিতি ও জরিপের সীমাবদ্ধতাও বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন। যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। আগামী ৩ নভেম্বরের নির্বাচনে সিনেটের ১০০টি আসনের মধ্যে ৩৫টি আসনে ভোট হবে। রিপাবলিকানদের বর্তমান সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখার লড়াইয়ের বিপরীতে ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসের উচ্চকক্ষে ক্ষমতার ভারসাম্য বদলানোর চেষ্টা করছে। এই প্রেক্ষাপটে জর্জিয়া, টেক্সাস ও মিশিগানের নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতা বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে। জর্জিয়ার বর্তমান সিনেটর জন অসফ ইহুদি। টেক্সাসে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জেমস তালারিকো খ্রিষ্টান এবং ধর্মতত্ত্ব নিয়ে পড়াশোনা করেছেন; তিনি যাজক হওয়ার প্রশিক্ষণও নিয়েছিলেন। অন্যদিকে মিশিগানের ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আবদুল এল-সাইয়েদ মুসলিম। ভিন্ন ধর্মীয় পরিচয়ের এই তিন প্রার্থীকে ঘিরে প্রচারমূলক আলোচনায় সংবিধান, নাগরিক অধিকার এবং সাধারণ মানুষের স্বার্থের বিষয়গুলো সামনে আনা হচ্ছে। সমর্থকদের প্রচারবার্তার মূল বক্তব্য হলো, ধর্মীয় পরিচয় ভিন্ন হলেও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ও সংবিধানের প্রতি অঙ্গীকার এবং সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নের প্রশ্নে রাজনৈতিক ঐকমত্য তৈরি করা সম্ভব। তাঁদের বক্তব্যে বড় ব্যবসায়ী ও ধনকুবেরদের স্বার্থের বিপরীতে সাধারণ মানুষের প্রয়োজনকে অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে। তবে এটি মূলত রাজনৈতিক প্রচারের একটি বার্তা। নির্বাচনে এর প্রভাব কতটা পড়বে, তা নির্ভর করবে ভোটারদের অগ্রাধিকার, প্রার্থীদের নীতি এবং নির্বাচনী প্রচারের ওপর। জর্জিয়ায় নিজের সিনেট আসন ধরে রাখতে লড়ছেন ডেমোক্র্যাট জন অসফ। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রিপাবলিকানদের লক্ষ্য গুরুত্বপূর্ণ এই অঙ্গরাজ্যে আসনটি নিজেদের দখলে নেওয়া। সাম্প্রতিক বিভিন্ন জরিপে অসফ এগিয়ে থাকলেও জরিপের ফলকে চূড়ান্ত নির্বাচনী ফল হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। জরিপের সময়, নমুনা এবং ভোটার উপস্থিতির মতো বিষয় ফলাফলে পার্থক্য তৈরি করতে পারে। টেক্সাসের সিনেট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট জেমস তালারিকো ও রিপাবলিকান কেন প্যাক্সটনের প্রতিদ্বন্দ্বিতা বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। ঐতিহাসিকভাবে রিপাবলিকানদের শক্ত অবস্থানের কারণে অঙ্গরাজ্যটিতে ডেমোক্র্যাটদের জন্য সিনেট আসন জয় করা কঠিন বলে বিবেচিত হয়ে এসেছে। তবে অক্টোবরের কয়েকটি জরিপে তালারিকোকে প্যাক্সটনের কাছাকাছি বা সামান্য এগিয়ে দেখা গেছে। কিছু জরিপে দুই প্রার্থীর মধ্যে ব্যবধান খুবই কম। ফলে টেক্সাসের লড়াইকে এখনো প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হিসেবেই দেখা হচ্ছে। মিশিগানে ডেমোক্র্যাট আবদুল এল-সাইয়েদ ও রিপাবলিকান মাইক রজার্সের লড়াইও সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। অক্টোবরের বিভিন্ন জরিপে এল-সাইয়েদকে সামান্য ব্যবধানে এগিয়ে দেখা গেছে। তবে ব্যবধান অনেক ক্ষেত্রেই জরিপের ত্রুটিসীমার মধ্যে থাকায় ফলাফল নিয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। বর্তমানে সিনেটে রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে। ডেমোক্র্যাটরা নিয়ন্ত্রণ নিতে চাইলে একাধিক প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসনে জয় পেতে হবে। সিনেটের নিয়ন্ত্রণ বদলালে আইন প্রণয়ন, সরকারি নীতির ওপর নজরদারি, তদন্ত এবং প্রেসিডেন্টের প্রশাসনের জবাবদিহি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক সমীকরণ পাল্টে যেতে পারে। তবে কেবল সিনেটের নিয়ন্ত্রণ পেলেই সব নীতি পরিবর্তন করা সম্ভব হবে না; আইন পাসের নিয়ম, প্রেসিডেন্টের ভেটো এবং অন্যান্য সাংবিধানিক সীমাবদ্ধতাও গুরুত্বপূর্ণ থাকবে। নির্বাচনী প্রচারে আশাবাদী বার্তা থাকলেও ডেমোক্র্যাটদের জন্য আত্মতুষ্টির সুযোগ নেই। সামান্য ব্যবধানের জরিপ নির্বাচনের দিন বদলে যেতে পারে। ভোটার নিবন্ধন, আগাম ভোট, নির্বাচনী প্রচারের কার্যকারিতা এবং ভোটকেন্দ্রে সমর্থকদের উপস্থিতি—সবই গুরুত্বপূর্ণ। শেষ পর্যন্ত তিন প্রার্থীর ধর্মীয় পরিচয়ের চেয়ে তাঁদের নীতি, রাজনৈতিক অবস্থান এবং ভোটারদের কাছে পৌঁছানোর সক্ষমতাই নির্বাচনে কতটা প্রভাব ফেলবে, সেটিই বড় প্রশ্ন। ৩ নভেম্বরের ভোট যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটের নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি দেশটির রাজনৈতিক অগ্রাধিকার ও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের ওপর কংগ্রেসের নজরদারির ভবিষ্যৎও নির্ধারণে ভূমিকা রাখবে।
জর্জিয়া থেকে উইসকনসিন, গভর্নর নির্বাচনে কোন ইস্যুতে মুখোমুখি ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান প্রার্থীরা
এক দশকেরও বেশি সময় ধরে ভুয়া বিয়ের ব্যবসা, বছরে লাখ লাখ ডলার আয়ের অভিযোগ
সোশ্যাল সিকিউরিটির প্রায় ৫ কোটি রেকর্ড সংশোধনের কথা জানাল যুক্তরাষ্ট্র
মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় সৌদি আরব থেকে মার্কিন কূটনীতিক ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ইয়েমেনের হু থি গোষ্ঠীর হা ম লা এবং ইরানের সঙ্গে নতুন করে সা মা রি ক সংঘাত শুরু হওয়ার আশঙ্কায় এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। একই সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সে না র উপস্থিতি কমানো হচ্ছে বলেও বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, আনুষ্ঠানিকভাবে কর্মী সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ আপাতত সৌদি আরবের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের এই পদক্ষেপ এমন এক সময়ে এসেছে, যখন সৌদি আরবে বেসামরিক স্থাপনায় হু থি দের হা ম লা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। সাম্প্রতিক হা ম লায় বিমানবন্দর ও গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। সৌদি আরবের বিভিন্ন স্থানে হা ম লার কারণে প্রা ণ হা নি, আহত হওয়ার ঘটনা এবং বিমান চলাচলে বিঘ্নের আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র টমি পিগট জানিয়েছেন, সৌদি আরবে জরুরি দায়িত্বে নিয়োজিত নন—এমন মার্কিন সরকারি কর্মী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের চলে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ইরান-সমর্থিত হু থি রা সৌদি আরবে বেসামরিক বিমানবন্দরসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে হা ম লা চালাচ্ছে। এসব ঘটনায় বেসামরিক মানুষের প্রা ণ হা নি এবং যাতায়াতে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটেছে। পিগট আরও বলেছেন, পররাষ্ট্র দপ্তরের কর্মী ও তাঁদের পরিবারের নিরাপত্তা প্রশাসনের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। তাঁদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এর আগে কয়েকজন মার্কিন কর্মকর্তার বরাতে সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছিল, পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের আরও কয়েকটি দেশে মার্কিন দূতাবাস থেকে কর্মীদের পরিবারের সদস্যদের সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। জর্ডান, কাতার ও কুয়েতে অবস্থানরত কিছু মার্কিন সে না কেও স্থানান্তর করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। তবে এসব পদক্ষেপের সবকটি বিষয়ে মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি। পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, সৌদি আরবের বাইরে অন্য দেশগুলোতে কর্মী সরানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে—এমন খবর সঠিক নয়। সৌদি আরবে মার্কিন দূতাবাসও নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করেছে। হু থি দের আরও হা ম লার আশঙ্কায় দেশটিতে থাকা মার্কিন নাগরিকদের পরিস্থিতির দিকে নজর রাখতে বলা হয়েছে। চলমান উত্তেজনার কারণে বিমানবন্দর ব্যবহারের ক্ষেত্রেও মার্কিন সরকারি কর্মীদের জন্য বিশেষ অনুমতির বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। এই পরিস্থিতির পেছনে রয়েছে ইরানকে ঘিরে বৃহত্তর সা মা রি ক উত্তেজনা। গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানবিরোধী যু দ্ধ শুরু হওয়ার পর তেহরান অঞ্চলজুড়ে মার্কিন স্থাপনায় পা ল্টা হা ম লা চালায়। সে সময় মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থান থেকে মার্কিন কূটনৈতিক কর্মীদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে তাঁদের কয়েকজনকে আবার ওই অঞ্চলে ফিরিয়ে আনা হয়। এখন নতুন করে হা ম লার আশঙ্কায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হচ্ছে। এদিকে আগামী মাসে ইরানে নতুন করে হা ম লা চালানোর সম্ভাবনাও বিবেচনা করছে ওয়াশিংটন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সে না বাহিনী ইরানে পুনরায় হা ম লার জন্য নির্দিষ্ট পরিকল্পনা তৈরি করেছে বলে সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর অভিযান শুরু হতে পারে। সম্ভাব্য অভিযানকে স্বল্প সময়ের হলেও তীব্র বলে বর্ণনা করা হয়েছে। পরিকল্পনায় ইরানের জ্বালানি অবকাঠামো, পারমাণবিক স্থাপনা এবং ক্ষে প ণা স্ত্র ও ড্রো নের মজুত লক্ষ্যবস্তু হতে পারে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বড় ধরনের আরেক দফা হা ম লার মাধ্যমে ইরানের অর্থনীতির ওপর চাপ সৃষ্টি করে তেহরানকে কূটনৈতিক সমঝোতায় রাজি করানোর চেষ্টা করা হতে পারে। তবে হা ম লা চালানোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে—এমন তথ্য নেই। ইয়েমেনে সংঘাত তীব্র হওয়ার ফলে মধ্যপ্রাচ্যের সংকট আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। হু থি দের হা ম লা সৌদি আরবের নিরাপত্তার পাশাপাশি আঞ্চলিক জ্বালানি সরবরাহ ও বাণিজ্যেও প্রভাব ফেলতে পারে। এরই মধ্যে ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সা মা রি ক পরিকল্পনা পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলেছে। ট্রাম্প এর আগে নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ইরানে পূর্ণমাত্রার হা ম লা পুনরায় শুরু না করার কথা বলেছিলেন। তবে নির্বাচনের পর সা মা রি ক অভিযান আবার শুরু করার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেননি। ফলে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন কূটনীতিক ও সে না সদস্যদের স্থানান্তর একদিকে নিরাপত্তা-উদ্বেগের প্রতিফলন, অন্যদিকে অঞ্চলটিতে নতুন সা মা রি ক উত্তেজনা তৈরির আশঙ্কাও বাড়াচ্ছে।
পাঁচ বছর গ্রামীণ এলাকায় চিকিৎসাসেবা, বিনিময়ে বিনা খরচে পড়াশোনার সুযোগ যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়াইয়ে
টেক্সাসে ২০২৭ সাল থেকে ব্লু ক্রসের মেডিকেয়ার পরিকল্পনা বন্ধ, নতুন বিমা বেছে নিতে হবে গ্রাহকদের
তিন বছরে যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ির বিমার খরচ বেড়েছে ২৪ শতাংশ, দায়ী চরম আবহাওয়া
যুক্তরাষ্ট্রের প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাসায়নিক প্রকৌশলে পিএইচডি করেছেন। তাঁর গবেষণার উল্লেখও করেছে ২০২৪ সালের পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার প্রদানকারী কমিটি। অথচ দুই বছর ধরে চাকরির খোঁজে ২ হাজার ৩০০টির বেশি আবেদন করেও স্থায়ী কাজ পাননি ৩০ বছর বয়সী জ্যাক ওয়েইস। যুক্তরাষ্ট্রের ইউটাহ অঙ্গরাজ্যের সল্টলেক সিটির এই বাসিন্দা এখন বাবা-মায়ের বাড়িতে থাকছেন। গবেষণাগার ও জাতীয় গবেষণা প্রতিষ্ঠানের ফেলোশিপ থেকে শুরু করে সফটওয়্যার প্রকৌশলীর পদ, এমনকি খাবার তৈরির কাজেও আবেদন করেছেন তিনি। তবু অধিকাংশ ক্ষেত্রে কোনো উত্তর পাননি, আর কিছু আবেদন শেষ হয়েছে প্রত্যাখ্যানের মধ্য দিয়ে। সম্প্রতি মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে তাঁর এই দীর্ঘ চাকরির লড়াইয়ের চিত্র উঠে এসেছে। ওয়েইসের শিক্ষাজীবনের রেকর্ড ছিল বেশ উজ্জ্বল। তিনি রাইস বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সর্বোচ্চ সম্মানসূচক ফল নিয়ে স্নাতক সম্পন্ন করেন। পরে প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি করেন, যা শেষ হয় ২০২৪ সালে। তাঁর গবেষণার বিষয় ছিল বরফ তৈরির রাসায়নিক প্রক্রিয়া এবং অণুর পারস্পরিক ক্রিয়া। ২০২৪ সালের পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার ঘোষণার সময় বৈজ্ঞানিক গবেষণায় যন্ত্রশিক্ষার প্রয়োগের উদাহরণ হিসেবে তাঁর গবেষণার উল্লেখ করা হয়। তবে এই উল্লেখের অর্থ ওয়েইস নিজে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন, এমন নয়। এত ভালো শিক্ষাগত যোগ্যতা ও গবেষণার অভিজ্ঞতা থাকার পরও পছন্দের ক্ষেত্রে চাকরি না পাওয়ায় শেষ পর্যন্ত তাঁকে নিজের বিশেষায়িত ক্ষেত্রের বাইরেও কাজ খুঁজতে হয়েছে। প্রথম দিকে ওষুধশিল্পের গবেষণাগার এবং জাতীয় গবেষণাপ্রতিষ্ঠানের উচ্চতর গবেষণা বৃত্তিতে কাজ পাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন ওয়েইস। কিন্তু অধিকাংশ আবেদনের কোনো জবাব আসেনি। পরে সফটওয়্যার প্রকৌশলসহ বিভিন্ন খাতের চাকরিতে আবেদন করেন। প্রিন্সটন ও রাইস বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী এবং পরিচিতদের সঙ্গে যোগাযোগ করেও উল্লেখযোগ্য সুযোগ পাননি। একপর্যায়ে হিমায়িত কাঁকড়ার কেক তৈরি ও বিক্রি করে এমন একটি প্রতিষ্ঠানে খাবার প্রস্তুতের কাজেও আবেদন করেন তিনি। উচ্চশিক্ষিত একজন গবেষকের চাকরি খোঁজার পরিধি কতটা বিস্তৃত হতে পারে, তাঁর অভিজ্ঞতা তারই উদাহরণ। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে অবশ্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে কাজ করা একটি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানে অল্প সময়ের জন্য কাজ পেয়েছিলেন ওয়েইস। মারকর নামের প্রতিষ্ঠানটির হয়ে তিনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মডেল প্রশিক্ষণের জন্য রাসায়নিক প্রকৌশলবিষয়ক প্রশ্ন তৈরি করতেন, মডেলের উত্তর যাচাই করতেন এবং সেগুলো আরও উন্নত করতে সহায়তা করতেন। ঘণ্টাপ্রতি ৭০ ডলার পারিশ্রমিক পেলেও কাজের পরিমাণ নিয়মিত ছিল না। কোনো সপ্তাহে ২০ ঘণ্টা কাজ পেতেন, আবার কোনো সপ্তাহে তা নেমে আসত মাত্র চার ঘণ্টায়। পরে কাজ কমতে কমতে একপর্যায়ে বন্ধ হয়ে যায়। ফলে ওই সুযোগও তাঁর জন্য স্থায়ী আয়ের ব্যবস্থা করতে পারেনি। দীর্ঘদিন চাকরি না পাওয়ার অভিজ্ঞতা ওয়েইসের পরিবারকেও বিস্মিত করেছে। তাঁর বাবা জন ওয়েইস একজন চিকিৎসক। ছেলের মেধা, শিক্ষাগত যোগ্যতা ও গবেষণার অভিজ্ঞতা থাকার পরও কেন তিনি কাজ পাচ্ছেন না, তা বুঝে উঠতে পারছেন না পরিবার। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে সামগ্রিক বেকারত্বের হার তুলনামূলক কম থাকলেও চাকরিপ্রার্থীদের অনেকেই নিয়োগ পেতে সমস্যার কথা বলছেন। প্রায় ২১৮ জন চাকরিপ্রার্থীর ওপর পরিচালিত একটি জরিপে ৬১ শতাংশ উত্তরদাতা জানিয়েছেন, চাকরির আবেদন করার পর নিয়োগদাতাদের কাছ থেকে কোনো উত্তর না পাওয়ার বিষয়টি তাঁদের উদ্বিগ্ন করে। তীব্র প্রতিযোগিতা, বয়সভিত্তিক বৈষম্যের আশঙ্কা এবং নিয়োগপ্রক্রিয়ায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। এখন বিকল্প পেশার কথাও ভাবছেন ওয়েইস। আগামী নভেম্বরে আইন বিষয়ে পড়ার জন্য প্রয়োজনীয় ভর্তি পরীক্ষা দেওয়ার পরিকল্পনা করেছেন তিনি। পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়তায় এমন একটি চালকবিহীন উড়োজাহাজ তৈরির ধারণা নিয়ে কাজ করছেন, যাতে লাগানো এলইডি লেজারের সাহায্যে মির্টল স্পার্জ নামের ক্ষতিকর আগ্রাসী আগাছা ধ্বংস করা যায়। সরকারি বিভিন্ন সংস্থার কাছে নীতিমালা পরিবর্তনের প্রস্তাবও জমা দিয়েছেন তিনি। তাঁর বিশ্বাস, প্রচলিত চাকরির বাইরে নিজস্ব উদ্যোগের মাধ্যমে নিজের দক্ষতার ব্যবহার ঘটানোর সুযোগ তৈরি করা সম্ভব। দুই হাজারের বেশি আবেদন করেও স্থায়ী চাকরি না পাওয়া ওয়েইসের অভিজ্ঞতা তাই শুধু একজন গবেষকের ব্যক্তিগত সংকট নয়, বরং উচ্চশিক্ষা ও কর্মসংস্থানের মধ্যে ব্যবধান নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন তুলছে। সূত্র: দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল, দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট।
১৮ বছর বয়সে আইএস যোদ্ধাকে বিয়ে, অস্ত্র প্রশিক্ষণের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রে বিচারের মুখে মার্কিন নারী
চালক অসুস্থ হয়ে পড়ায় নিয়ন্ত্রণহীন স্কুলবাস, দ্রুত বাস থামিয়ে প্রায় ২০ শিশুকে বাঁচালেন যুবক