- প্রচ্ছদ
- Latest news
Today latest news
20 News
একসময় ডায়রিয়া ও কলেরায় শরীর থেকে অতিরিক্ত পানি ও লবণ বেরিয়ে যাওয়ার ফলে অসংখ্য মানুষ, বিশেষ করে শিশুরা অকালে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ত। সেসময় রোগীদের হাসপাতালে নিয়ে শিরায় স্যালাইন দেওয়াই ছিল পানিশূন্যতা রোধের প্রধান চিকিৎসা ব্যবস্থা। কিন্তু লবণ, চিনি ও বিশুদ্ধ পানির সঠিক মাত্রার মিশ্রণে তৈরি মুখে খাওয়ার স্যালাইন বা ওরাল রিহাইড্রেশন সলিউশন (ওআরএস) চিকিৎসাবিজ্ঞানের এই কঠিন পরিস্থিতিকে পুরোপুরি বদলে দেয় এবং এক অভাবনীয় বৈপ্লবিক পরিবর্তন নিয়ে আসে। খাবার স্যালাইনের এই সহজ চিকিৎসাপদ্ধতির উন্নয়ন এবং বাংলাদেশে এর সফল প্রয়োগের পেছনে ডা. রফিকুল ইসলামসহ একাধিক দেশীয় গবেষকের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। পরবর্তীতে বাংলাদেশের এই যুগান্তকারী গবেষণা এবং মাঠপর্যায়ের বাস্তব অভিজ্ঞতা বিশ্বজুড়ে ওআরএস ব্যবহারে বড় ধরনের ভূমিকা পালন করে। এই পদ্ধতিটি এতটাই কার্যকর ও সহজলভ্য যে, গুরুতর পানিশূন্যতার অনেক ক্ষেত্রে রোগীকে হাসপাতালে না নিয়েও খুব দ্রুত মুখে তরল এবং লবণ-চিনির মিশ্রণ খাইয়ে প্রাথমিক বিপদ থেকে রক্ষা করা সম্ভব হয়। এই সহজ অথচ কার্যকরী সমাধানটির চূড়ান্ত স্বীকৃতি মিলেছিল আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও। ১৯৭৮ সালে বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী ও মর্যাদাপূর্ণ চিকিৎসাবিজ্ঞান সাময়িকী ‘দ্য ল্যানসেট’ ওরাল রিহাইড্রেশন থেরাপিকে "বিংশ শতাব্দীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উদ্ভাবন" হিসেবে আখ্যায়িত করেছিল। আজ আমাদের ঘরে ঘরে যে খাবার স্যালাইনকে আমরা খুব সাধারণ একটি পানীয় বলে মনে করি, সেটিই একসময় বিশ্ব চিকিৎসাবিজ্ঞানে বিপ্লব ঘটিয়েছিল। স্বল্প খরচে কোটি কোটি মানুষের জীবন বাঁচানোর এই জাদুকরী সমাধানের পেছনে বাংলাদেশের গবেষণার অসামান্য অবদান তাই আমাদের জন্য সত্যিই এক বিরাট গর্বের বিষয়।
নিউইয়র্ক শহরের ম্যানহাটনে ম্যানহোলের ঢাকনা সরিয়ে সুয়ারেজ লাইনে নেমে সোনা ও মূল্যবান ধাতু খোঁজার অভিযোগে দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অদ্ভুত এই কাণ্ডের দায়ে গত বৃহস্পতিবার কেভিন রদ্রিগেজ (২৬) এবং স্যামুয়েল রেভেরন (২৫) নামের ওই দুই ভেনেজুয়েলান নাগরিককে কুইন্স এলাকায় তাদের বাড়ির কাছ থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। ম্যানহাটনের আপার ইস্ট সাইডের লোউস রিজেন্সি নিউইয়র্ক হোটেলের ঠিক পাশেই বুধবার ভোরে তারা এই ভূগর্ভস্থ অভিযানে নেমেছিলেন। শহরের ভূগর্ভস্থ সুয়ারেজ ব্যবস্থা থেকে আচমকা মানুষের বেরিয়ে আসার এই ঘটনাগুলো নিউইয়র্কে ‘মোল পিপল’ রহস্য হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। তদন্তকারীদের জিজ্ঞাসাবাদে স্যামুয়েল রেভেরন স্বীকার করেছেন যে, ড্রেনে ভেসে যাওয়া মূল্যবান ধাতু এবং সোনা খুঁজতেই তারা ম্যানহোলে প্রবেশ করেছিলেন। শুক্রবার ম্যানহাটন আদালতে এই দুই যুবকের বিরুদ্ধে অনধিকার প্রবেশ এবং ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হয়, যদিও পরে তারা আইনি নজরদারির শর্তে মুক্তি পান। জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুসহ বিশ্বের শীর্ষ নেতারা সেসময় ওই এলাকার হোটেলে অবস্থান করছিলেন। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, গ্রেপ্তারকৃতদের কোনো অসৎ উদ্দেশ্য ছিল না বা তারা কোনো ভিআইপি অতিথির জন্য হুমকিও ছিলেন না। নিউইয়র্ক পুলিশ (এনওয়াইপিডি) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ঝড়-বৃষ্টির পর সুয়ারেজ থেকে স্ক্র্যাপ মেটাল বা মূল্যবান জিনিস খোঁজার প্রবণতা বেড়েছে। তবে জাতিসংঘের অধিবেশন এবং জায়গাটির স্পর্শকাতরতার কথা বিবেচনা করে ফেডারেল অংশীদারদের সঙ্গে নিয়ে সেখানে বাড়তি নিরাপত্তা তল্লাশি চালানো হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানায়, বুধবার ভোর ৪টা ৩৫ মিনিটের দিকে ইস্ট ৬১ স্ট্রিট সংলগ্ন পার্ক অ্যাভিনিউয়ের একটি ম্যানহোল থেকে ওই দুজনসহ মোট তিনজনকে উঠে আসতে দেখা যায়। এরপর তারা দুটি গাড়িতে করে দ্রুত পালিয়ে যান। স্যামুয়েল রেভেরনকে যখন আটক করা হয়, তখন তিনি লাইসেন্স ছাড়াই গাড়ি চালাচ্ছিলেন। তার বিরুদ্ধে এর আগেও কুইন্সে একটি অপরাধের রেকর্ড রয়েছে, তবে রদ্রিগেজের এটিই প্রথম গ্রেপ্তার। আগামী ২৫ নভেম্বর তাদের পুনরায় আদালতে হাজির হওয়ার কথা রয়েছে। চলতি বছরে কুইন্স, ব্রুকলিন এবং ম্যানহাটনের পেন স্টেশন ও ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনের মতো ব্যস্ত এলাকাগুলোতেও একাধিকবার এসব রহস্যময় ‘মোল পিপল’দের সুয়ারেজ থেকে বেরিয়ে আসতে দেখা গেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তরের (পেন্টাগন) কালো তালিকাভুক্ত হওয়ার পর আইনি লড়াইয়ে বড়সড় ধাক্কা খেলো জনপ্রিয় আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) স্টার্টআপ অ্যানথ্রপিক। জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে আখ্যায়িত করে প্রতিষ্ঠানটির ওপর পেন্টাগন যে সামরিক চুক্তির নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল, তা স্থগিত করতে শুক্রবার অস্বীকৃতি জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের একটি ফেডারেল আপিল আদালত। ডিস্ট্রিক্ট অফ কলাম্বিয়া সার্কিটের ইউএস কোর্ট অফ আপিলস এই রায় প্রদান করে। পেন্টাগনের 'সাপ্লাই চেইন রিস্ক' বা সরবরাহ শৃঙ্খলের ঝুঁকি হিসেবে আখ্যায়িত করার সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে অ্যানথ্রপিক মূলত এই মামলাটি দায়ের করেছিল। স্টার্টআপটির দাবি, সামরিক চুক্তি থেকে বাদ পড়ার ফলে তাদের ব্যবসা থেকে কয়েক বিলিয়ন ডলারের ক্ষতি হয়েছে। একইসঙ্গে, বহুল প্রতীক্ষিত ইনিশিয়াল পাবলিক অফারিং (আইপিও) বা শেয়ারবাজারে প্রবেশের ঠিক আগমুহূর্তে এই নিষেধাজ্ঞা তাদের সুনামের ওপরও বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। আদালতের এই রায়ের পর এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে অ্যানথ্রপিক জানিয়েছে যে, তারা বিনয়ের সঙ্গে আদালতের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করছে। তবে নিজেদের আইনি অবস্থানের বিষয়ে তারা এখনো আত্মবিশ্বাসী এবং প্রয়োজনে আরও উচ্চতর বিচারিক পর্যালোচনাসহ অন্যান্য আইনি বিকল্পগুলোর কথা গভীরভাবে বিবেচনা করছে। উল্লেখ্য, গত মাসে সান ফ্রান্সিসকোর একজন ফেডারেল বিচারক ভিন্ন একটি আইনের অধীনে করা একই ধরনের একটি নিষেধাজ্ঞার পদক্ষেপ বাতিল করে দিয়েছিলেন। ওই বিচারক তার রায়ে জানিয়েছিলেন যে, এআই নিরাপত্তার বিষয়ে অ্যানথ্রপিকের নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গির কারণেই মার্কিন প্রশাসন বেআইনিভাবে তাদের ওপর এই প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
ক্যানসারে আক্রান্ত স্ত্রীর চিকিৎসা ও সংসারের খরচ সামলাতে ৮১ বছর বয়সেও হারিয়ে যাওয়া ও বিলম্বিত লাগেজ মানুষের বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার কাজ করছিলেন টেক্সাসের ডন জনসন। কখনো টানা ১৪ ঘণ্টা কাজ, কখনো শত শত মাইল গাড়ি চালানো—গত তিন বছর ধরে এভাবেই চলছিল তার জীবন। কিন্তু একটি হারানো স্যুটকেস পৌঁছে দিতে গিয়ে অপরিচিত এক নারীর সঙ্গে দেখা হওয়ার পর বদলে গেছে তার জীবনের গল্প। এখন হাজারো মানুষ তার পাশে দাঁড়িয়েছেন। ডন থাকেন টেক্সাসের ডালাস-ফোর্ট ওর্থ এলাকার দ্য কলোনিতে। তিনি স্বাধীন ঠিকাদার হিসেবে বিমানবন্দরে হারিয়ে যাওয়া বা দেরিতে পৌঁছানো লাগেজ যাত্রীদের বাড়িতে পৌঁছে দেন। ডন জানিয়েছেন, এই কাজটি করার অন্যতম কারণ হলো ৮১ বছর বয়সে অন্য কোথাও কাজ পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছিল। তার ভাষায়, এটিই ছিল তাকে নিয়োগ দিতে রাজি হওয়া কাজ। ডনের স্ত্রী জোসেফিন ক্যানসারের সঙ্গে লড়ছেন। তাদের দাম্পত্য জীবনের বয়স ৫৭ বছর। ডন স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, বিমা চিকিৎসার কিছু ব্যয় বহন করলেও পুরো খরচ মেটে না। চিকিৎসা, ওষুধ, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও সংসারের বাড়তি ব্যয় সামলাতেই এই বয়সেও কাজ চালিয়ে যেতে হচ্ছিল তাকে। কাজটিও ছিল শারীরিকভাবে কঠিন। ডন কখনো দিনে ১৪ ঘণ্টা পর্যন্ত কাজ করতেন। লাগেজ পৌঁছে দিতে গাড়ি চালাতে হতো দীর্ঘ পথ। গোফান্ডমির তথ্য অনুযায়ী, গত তিন বছরে এই কাজ করতে গিয়ে নিজের গাড়িতে ২ লাখ মাইলের বেশি চালিয়েছেন তিনি। অতিরিক্ত ব্যবহারের কারণে গাড়িটিতেও বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিয়েছে। এর মধ্যেই ডনের জীবনে আসেন দ্য কলোনির বাসিন্দা এরিন হাওয়েল। সম্প্রতি ভ্রমণের সময় হারিয়ে যাওয়া তার লাগেজ পৌঁছে দিতে ডন তার বাড়িতে যান। দরজার ক্যামেরায় এরিন দেখতে পান, ৮১ বছর বয়সী মানুষটি ভারী স্যুটকেস নিয়ে খাড়া সিঁড়ি বেয়ে ওপরে উঠতে কষ্ট করছেন। দৃশ্যটি দেখে তিনি বাইরে এসে ডনকে সাহায্য করেন। কথা বলতে গিয়ে এরিন জানতে পারেন ডনের জীবনের পেছনের গল্প। স্ত্রী ক্যানসারে আক্রান্ত, চিকিৎসা ও জীবনযাত্রার ব্যয় সামলাতে এই বয়সেও ভারী লাগেজ বহন করছেন তিনি। ডনের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল, এত শারীরিক পরিশ্রমের কাজ কেন করছেন। তিনি জানান, অন্য কোথাও তাকে কাজ দেওয়া হচ্ছিল না। ডনের গল্প জানার পর তাকে কাজ থেকে অবসর নেওয়ার সুযোগ করে দিতে ‘হেল্প ডন রিটায়ার’ নামে একটি গোফান্ডমি তহবিল খোলেন এরিন। ২ সেপ্টেম্বর শুরু হওয়া তহবিলটির উদ্দেশ্য ছিল জোসেফিনের চিকিৎসা ব্যয়, দম্পতির দৈনন্দিন খরচ এবং ডনকে আর ভারী কাজ করতে না হওয়ার মতো আর্থিক সহায়তা দেওয়া। এরপর ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সংবাদমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই অভাবনীয় সাড়া আসে। বুধবার সকালে দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট যখন খবরটি প্রকাশ করে, তখন তহবিল ছিল মাত্র ৮৭ হাজার ডলার। বৃহস্পতিবার বিকেলে গ্লোবাল নিউজ জানায়, অঙ্কটি বেড়ে ৩ লাখ ৭১ হাজার ডলারের বেশি হয়েছে। আর আজ, ২৫ সেপ্টেম্বর, গোফান্ডমির লাইভ পেজে দেখা যাচ্ছে—তহবিল ইতোমধ্যে ৭ লাখ ৪ হাজার ২১২ ডলারে পৌঁছেছে। অনুদান দিয়েছেন ১২ হাজার ৭০০-এর বেশি মানুষ। তহবিলের নতুন লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ লাখ ডলার। অনুদান চলমান থাকায় অঙ্কটি দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। মানুষের এমন সাড়া দেখে আবেগাপ্লুত ডন বলেছেন, এরিন যা করেছেন তা তার কাছে ‘অলৌকিক’ ঘটনার মতো। তারা কারও কাছে সাহায্য চাননি, কিন্তু মানুষের এই সহযোগিতা তাদের অনেক সাহায্য করছে। তিনি আরও বলেছেন, ভবিষ্যতে সুযোগ পেলে যেভাবে মানুষ তাকে সাহায্য করেছে, তিনিও অন্যদের সেভাবে সাহায্য করতে চান। মানুষের এমন উদারতা তার মানুষের প্রতি বিশ্বাস ফিরিয়ে দিয়েছে বলেও জানিয়েছেন ডন। জোসেফিনও মানুষের প্রতিক্রিয়ায় বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। দীর্ঘ ৫৭ বছরের দাম্পত্য জীবনে স্বামীর পাশে থাকার গল্প এখন হাজারো অপরিচিত মানুষের কাছেও পৌঁছে গেছে। আর যে মানুষটি কয়েক দিন আগেও ভারী স্যুটকেস নিয়ে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিচ্ছিলেন, মানুষের সহায়তায় তার সামনে এখন কাজ কমিয়ে অসুস্থ স্ত্রীর পাশে আরও বেশি সময় থাকার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
নারীদের জন্য নিরাপদ গণপরিবহন নিশ্চিত করতে বাংলাদেশে চালু হওয়া ‘পিঙ্ক বাস সার্ভিস’-এর কথা জাতিসংঘের মন্ত্রী পর্যায়ের গোলটেবিল বৈঠকে তুলে ধরেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। ২৩ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের ফাঁকে ‘প্রযুক্তি ব্যবহার করে নারী ও শিশুদের বিরুদ্ধে সহিংসতা’ বিষয়ক মন্ত্রী পর্যায়ের গোলটেবিল বৈঠকে বক্তব্য দেন তিনি। বৈঠকটি আয়োজন করে ক্রোয়েশিয়া ও ইউএন উইমেন। বৈঠকে শামা ওবায়েদ নারী ও শিশুদের বিরুদ্ধে সহিংসতা প্রতিরোধে বাংলাদেশের বিভিন্ন আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন। দ্রুত তদন্ত ও বিচার, আইনি সহায়তা, সামাজিক সুরক্ষা, নিরাপদ আশ্রয়, পুনর্বাসন এবং মানসিক সহায়তার বিষয়গুলোও তার বক্তব্যে উঠে আসে। নারীদের গণপরিবহনে নিরাপত্তা বাড়ানোর উদ্যোগ হিসেবে তিনি বাংলাদেশের সম্প্রতি চালু হওয়া নারী-নির্দিষ্ট ‘পিঙ্ক বাস সার্ভিস’-এর বিষয়টি আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিদের সামনে তুলে ধরেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, নারীদের জন্য গণপরিবহনকে আরও নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক করাই এই সেবার অন্যতম উদ্দেশ্য। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশন (বিআরটিসি) ১৮ আগস্ট রাজধানীর তেজগাঁও বাস ডিপো থেকে পিঙ্ক বাস সার্ভিসের উদ্বোধন করে। প্রথম পর্যায়ে ১৪টি বাস নিয়ে এই সেবা চালু করা হয়। বিআরটিসির তথ্য অনুযায়ী, বাসগুলো ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, বগুড়া ও চট্টগ্রামের নির্ধারিত রুটে চলাচলের জন্য দেওয়া হয়। এই সেবার একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো বাস পরিচালনায় নারী চালক ও নারী কন্ডাক্টরদের অংশগ্রহণ। উদ্যোগটির মাধ্যমে নারীদের নিরাপদ যাতায়াতের পাশাপাশি পরিবহন খাতে নারীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর বিষয়টিও সামনে এসেছে। জাতিসংঘের বৈঠকে শামা ওবায়েদ নারীদের বিরুদ্ধে প্রযুক্তিনির্ভর সহিংসতার বিষয়েও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান জানান।তিনি বাংলাদেশ নেতৃত্বাধীন ‘ঢাকা ডায়ালগ’ উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন। ডিজিটাল হয়রানি প্রতিরোধ, ঘটনার তদন্ত এবং তা মোকাবিলায় স্বেচ্ছামূলক নির্দেশিকা তৈরির লক্ষ্য রয়েছে এই উদ্যোগের। এ উদ্যোগের ‘গ্রুপ অব ফ্রেন্ডস’-এ জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। বৈঠকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহার করে নারীদের বিরুদ্ধে তৈরি হওয়া নতুন ধরনের ডিজিটাল হুমকি নিয়েও আলোচনা হয়। এর মধ্যে অনলাইন হয়রানি, মানহানি, পরিচয় জালিয়াতি এবং এআই-নির্ভর নিপীড়নের মতো বিষয় ছিল। শামা ওবায়েদ সংঘাত ও বাস্তুচ্যুতির শিকার নারীদের সুরক্ষার বিষয়টিও জাতিসংঘের আলোচনায় তুলে ধরেন। তিনি জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের অবদানের কথা উল্লেখ করেন।এ ছাড়া বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা নারী ও শিশুদের সুরক্ষায় নেওয়া বিভিন্ন মানবিক সহায়তা কার্যক্রমের কথাও তুলে ধরেন তিনি। নারী ও শিশুদের বিরুদ্ধে সহিংসতা প্রতিরোধে আইন ও প্রতিষ্ঠানভিত্তিক উদ্যোগের পাশাপাশি নিরাপদ গণপরিবহন এবং প্রযুক্তিনির্ভর সহিংসতা মোকাবিলার বিষয়গুলো একই আলোচনায় তুলে ধরে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তার বিভিন্ন উদ্যোগের চিত্র উপস্থাপন করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের আরিজোনায় ২০২০ সাল থেকে নিখোঁজ রবার্ট ড্রাবেকের দেহাবশেষ টুসন শহরের একটি বাড়ির পেছনের আঙিনায় মাটিচাপা অবস্থায় পাওয়া গেছে। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) তাঁর পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার খবর জানায় স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ১৩ নিউজ। ঘটনার ছয় বছর পর রবার্টের সন্ধান মিললেও তাঁর মৃত্যুর ঘটনায় এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে মারানা এলাকায় ইনা ও থর্নিডেল সড়কের কাছে একটি মোটরহোমের ভেতর সহিংস ঘটনার আলামত পান পুলিশ কর্মকর্তারা। এরপর রবার্টকে নিখোঁজ হিসেবে শনাক্ত করা হয়। দীর্ঘদিন তাঁর অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত হতে পারেননি তদন্তকারীরা। ১৩ নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে পাওয়া একটি তথ্যের সূত্র ধরে তদন্তকারীদের নজর যায় টুসনের নর্থ ডজ বুলেভার্ডের একটি বাড়িতে। রবার্টের মা-ও ওই বাড়ির আঙিনায় তাঁর ছেলের দেহাবশেষ থাকতে পারে বলে সন্দেহ করেছিলেন। তাঁর অনুরোধে একটি উদ্ধারকারী দল বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কুকুর নিয়ে সেখানে খোঁজ চালায়। তবে সে সময় কিছু পাওয়া যায়নি। পরে মারানা পুলিশ জানায়, গোয়েন্দারা ৪ আগস্ট বাড়িটিতে নতুন করে তল্লাশি চালান। বাড়ির পেছনের আঙিনায় মাটির নিচে দেহাবশেষ পাওয়া যায়। তদন্তকারীদের প্রাথমিক ধারণা, রবার্ট গুলিবিদ্ধ হয়ে থাকতে পারেন। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন প্রকাশিত না হওয়ায় তাঁর মৃত্যুর কারণ নিশ্চিতভাবে জানানো হয়নি। ১৩ নিউজ জানিয়েছে, ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এ ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। রবার্ট কীভাবে মারা গেলেন এবং তাঁর দেহাবশেষ ওই বাড়িতে কীভাবে পৌঁছাল, তা জানতে তদন্ত চলছে।
গণতন্ত্রকে ধ্বংস করার জন্য বিরোধী দল নতুন চক্রান্তে লিপ্ত হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন পানিসম্পদমন্ত্রী ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সকালে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার ভবানীগঞ্জ ইউনিয়নে ওয়াপদা খালের তীর প্রতিরক্ষা কাজের উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ অভিযোগ করেন। এ্যানি বলেন, বিরোধী দলের বক্তব্য ও কর্মকাণ্ডের মধ্যে এমন কিছু বিষয় রয়েছে, যা তাঁর মতে গণতান্ত্রিক পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। তিনি দাবি করেন, বিরোধী দল নিজেরাই বলছে, ১১ দলের দাবি পূরণ না হলে বোমাবাজি ও ককটেলবাজি বন্ধ হবে না। তিনি আরও বলেন, বিরোধী দলের বক্তব্য, কর্মকাণ্ড এবং ৫ আগস্টের পর দেশ ছেড়ে যাওয়া আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের নামে যেসব কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে, সেগুলোর মধ্যে মিল দেখা যাচ্ছে। তাঁর অভিযোগ, গাড়িতে আগুন দেওয়া, ককটেল হামলা ও ঝটিকা মিছিলের মতো কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে দেশের পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা চলছে। দেশের বিরুদ্ধে, গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকারের বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্র চলছে বলেও অভিযোগ করেন বিএনপির এই নেতা। তিনি বলেন, বিএনপি দীর্ঘদিন রাজপথের আন্দোলনের মধ্য দিয়ে রাজনীতিতে এসেছে এবং ভবিষ্যতেও রাজপথে থেকেই ষড়যন্ত্রকারীদের মোকাবিলা করবে। বিরোধী দলের সংসদীয় ভূমিকার সমালোচনা করে এ্যানি বলেন, সংসদের ভেতরে তারা সরকারের বিভিন্ন বিষয়ে বক্তব্য রাখলেও সংসদের বাইরে সরকারের বিরুদ্ধে অশালীন ও শিষ্টাচারবহির্ভূত ভাষা ব্যবহার করছে। তাঁর ভাষ্য, রাজনৈতিক মতপার্থক্য ও আলোচনা গণতন্ত্রের স্বাভাবিক অংশ হলেও বিরোধী দলের বর্তমান কর্মকাণ্ডের মধ্যে সরকারকে আগামী পাঁচ বছর স্বাভাবিকভাবে কাজ করতে না দেওয়ার মনোভাব রয়েছে। এ্যানির বক্তব্যের পটভূমিতে রয়েছে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের চলমান আন্দোলন। জোটটি গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জ্বালানি ও বিদ্যুতের দাম কমানো, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নসহ বিভিন্ন দাবিতে কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। আগস্টে জোটটি সেপ্টেম্বর-অক্টোবর সময়ে বিভিন্ন বিভাগীয় শহর অভিমুখে লং মার্চ এবং নভেম্বরে ঢাকায় মহাসমাবেশের কর্মসূচি ঘোষণা করেছিল। এর আগে ১৯ সেপ্টেম্বর লক্ষ্মীপুরে দেওয়া বক্তব্যেও এ্যানি বিরোধী দলের লং মার্চের সমালোচনা করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, সংসদে সরকারকে সহযোগিতার কথা বলার পরও রাস্তায় লং মার্চের মতো কর্মসূচি নেওয়া নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তাঁর মতে, এ ধরনের কর্মসূচিতে যানজট ও জনদুর্ভোগ তৈরি হতে পারে। তবে ১১ দলীয় জোট তাদের কর্মসূচিকে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জ্বালানি ও বিদ্যুতের দাম কমানো, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ এবং জনদুর্ভোগ কমানোর দাবিতে শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক আন্দোলন হিসেবে বর্ণনা করেছে। জোটের পক্ষ থেকে লং মার্চ নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে প্রশাসনের সহযোগিতাও চাওয়া হয়েছিল। শুক্রবারের অনুষ্ঠানে লক্ষ্মীপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী নাহিদ উজ জামান খান, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট হাছিবুর রহমান, বাফুফের সহসভাপতি ওয়াহিদ উদ্দীন চৌধুরী হ্যাপি এবং সদর পূর্ব উপজেলা বিএনপির সভাপতি মাইন উদ্দিন চৌধুরী রিয়াজসহ স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সম্মানে বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর হোয়াইট হাউসে আয়োজিত রাষ্ট্রীয় নৈশভোজে নির্ধারিত বক্তব্যের বাইরে গিয়ে অতিথিদের নির্মাণাধীন নতুন বলরুম দেখার আমন্ত্রণ জানান যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শি ও তাঁর স্ত্রী পেং লিয়ুয়ানের সফর উপলক্ষে এই আমন্ত্রণকে তিনি ‘বিশেষ আয়োজন’ বলে উল্লেখ করেন। বক্তব্যে ট্রাম্প বলেন, নৈশভোজের পর আগ্রহী অতিথিরা বলরুমের নির্মাণস্থল ঘুরে দেখতে পারবেন। শি ও পেংয়ের সম্মানে তাঁদেরই সেখানে প্রথম প্রবেশের সুযোগ দিতে চান বলে জানান তিনি। বলরুমটি তখনো নির্মাণাধীন; নৈশভোজ সেখানে অনুষ্ঠিত হয়নি। ট্রাম্প তাঁর বক্তব্যে বলেন, নতুন বলরুমের কাজ শেষ হতে আরও প্রায় এক বছর লাগবে। বর্তমান আয়োজনস্থলের তুলনায় সেখানে অনেক বেশি অতিথিকে একসঙ্গে রাখা যাবে বলেও তিনি দাবি করেন। নৈশভোজে শিকে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় প্রতীক টাকমাথা ঈগলের একটি ভাস্কর্যও উপহার দেন ট্রাম্প।
যুক্তরাষ্ট্রের আইওয়া অঙ্গরাজ্যে স্কুলের শিক্ষা সফর চলাকালে একটি জলাধার থেকে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষক ও তাঁর এক শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ম্যাকব্রাইড নেচার রিক্রিয়েশন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত দুজন হলেন কোরালভিলের বোরলগ এলিমেন্টারি স্কুলের শিক্ষক হান্না জর্গেনসেন, বয়স ২৪ বছর, এবং শিক্ষার্থী আহমেদ ওসমান, বয়স ১০ বছর। তাঁদের মৃত্যুর পরিস্থিতি তদন্ত করছে জনসন কাউন্টি শেরিফের দপ্তর। শেরিফের দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার দুপুরের দিকে কোরালভিল জলাধারের পানি ছাড়ার স্থানের কাছে দুজন পানিতে থাকার খবর পায় কর্তৃপক্ষ। ওই দিনই হান্নার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। আহমেদের মরদেহ পাওয়া যায় পরদিন। তাঁরা কীভাবে পানিতে পড়েছিলেন, তা কর্তৃপক্ষ এখনো নিশ্চিত করেনি। আইওয়া সিটি কমিউনিটি স্কুল ডিস্ট্রিক্ট জানিয়েছে, বোরলগ এলিমেন্টারি স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা ‘স্কুল অব দ্য ওয়াইল্ড’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে সেখানে গিয়েছিল। ঘটনার পর স্কুলের শিক্ষার্থী ও কর্মীদের সহায়তায় কাউন্সেলর রাখার কথা জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। আইওয়ার গভর্নর কিম রেনল্ডসও নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।
ভারতের দিল্লি অঞ্চলে যমুনা নদীর তীর পরিষ্কার করে প্রায় ৫৮৫ কেজি বর্জ্য সংগ্রহের কথা জানিয়েছেন ২১ বছর বয়সী সুরেন্দ্র সিং চৌধুরী। ‘বিট্টু তাবাহি’ নামে পরিচিত এই তরুণ ২০ সেপ্টেম্বর স্বেচ্ছাসেবীদের নিয়ে সাড়ে চার ঘণ্টা পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালান। তাঁদের উদ্যোগের পর নদীর তীরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে স্থানীয় প্রশাসনের ভূমিকার প্রশ্ন উঠেছে। ২২ সেপ্টেম্বর প্রকাশ করা একটি ভিডিওতে স্বেচ্ছাসেবীদের নদীর তীর থেকে প্লাস্টিক, পূজার সামগ্রী, ফুলের মালাসহ বিভিন্ন বর্জ্য তুলতে দেখা যায়। চৌধুরীর দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, অভিযানে মোট ৫৮৫ কেজি বর্জ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। বর্জ্যের পরিমাণটি তাঁর বক্তব্যের ভিত্তিতে জানিয়েছে দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস। ভিডিওটি নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানান দিল্লিভিত্তিক উদ্যোক্তা ও উইকেন্ড ইনভেস্টিংয়ের প্রতিষ্ঠাতা অলোক জৈন। স্বেচ্ছাসেবীদের কাজের প্রশংসা করে তিনি একে স্থানীয় প্রশাসনের জন্য ‘কড়া বার্তা’ বলে মন্তব্য করেন। সামাজিক মাধ্যমের আলোচনায় অনেকে নাগরিকদের যেখানে সেখানে বর্জ্য ফেলার অভ্যাস নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। এর আগে মধ্যপ্রদেশের বিয়াওরা শহরে বর্জ্যে ভরা একটি নদী পরিষ্কারের উদ্যোগ নিয়ে আলোচনায় আসেন চৌধুরী। যমুনার অভিযানের দুই দিন পর তিনি ও তাঁর দল গুরুগ্রামের খেড়কি দৌলাতেও পরিচ্ছন্নতার কাজে অংশ নেন। দেশের অন্যান্য জায়গায় গিয়ে পরিচ্ছন্নতা বিষয়ে মানুষকে সচেতন করার পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন তিনি।
ফ্লু থেকে পরিবারকে সুরক্ষিত রাখতে বুকের দুধ দিয়ে রান্না ও বেক করা খাবার তৈরির কথা উঠে এসেছে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকজন মায়ের অভিজ্ঞতায়। বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে নিউইয়র্ক পোস্ট বিষয়টি তুলে ধরে। তবে বুকের দুধ দিয়ে তৈরি রান্না করা খাবার ফ্লু প্রতিরোধ করে, এমন প্রমাণ প্রতিবেদনে প্রতিষ্ঠিত হয়নি। বুকের দুধে শিশুর জন্য উপকারী অ্যান্টিবডি থাকে। যুক্তরাষ্ট্রের রোগনিয়ন্ত্রণ সংস্থা সিডিসির তথ্য অনুযায়ী, মায়ের বুকের দুধ পান করানো শিশুকে ফ্লু থেকে কিছুটা সুরক্ষা দিতে পারে। বিশেষ করে ছয় মাসের কম বয়সী শিশু, যারা এখনো ফ্লুর টিকা নিতে পারে না, তাদের জন্য এই সুরক্ষা প্রাসঙ্গিক। কিন্তু শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানোর পরিচিত উপকারিতা থেকে রান্না করা খাবার খেলে পরিবারের অন্য সদস্যদেরও ফ্লু প্রতিরোধ হবে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। দুধ গরম করার বিষয়েও সতর্কতা আছে। সিডিসি বলছে, শিশুকে খাওয়ানোর জন্য রাখা বুকের দুধ সরাসরি চুলায় বা মাইক্রোওয়েভে গরম করা উচিত নয়। মাইক্রোওয়েভে গরম করলে দুধের পুষ্টিগুণ নষ্ট হতে পারে এবং অসমভাবে গরম হয়ে শিশুর মুখ পুড়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। ফ্লু প্রতিরোধে সিডিসির সুপারিশ হলো, বিরল কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া ছয় মাস বা তার বেশি বয়সী সবাইকে প্রতি মৌসুমে ফ্লুর টিকা দেওয়া। বুকের দুধ খাওয়াচ্ছেন এমন মায়েরাও টিকা নিতে পারেন। পাশাপাশি ছোট শিশুকে সুরক্ষিত রাখতে পরিবারের সদস্য ও শিশুর পরিচর্যাকারীদের টিকা নেওয়া এবং অসুস্থ অবস্থায় হাত ধোয়া ও সংক্রমণ ছড়ানো ঠেকানোর নিয়ম মানার পরামর্শ দিয়েছে সংস্থাটি।
শারীরিক পরিশ্রমের পেশায় দীর্ঘদিন কাজ করা ব্যক্তিদের জন্য ৬০ বছর বয়সে পূর্ণ সোশ্যাল সিকিউরিটি অবসরভাতা চালুর প্রস্তাব দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস সদস্য হ্যালি স্টিভেনস। বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ওয়াশিংটনে তিনি ‘ব্লু কলার সোশ্যাল সিকিউরিটি ফেয়ারনেস অ্যাক্ট’ নামে বিলটির ঘোষণা দেন। প্রস্তাবটি আইনে পরিণত হলে যোগ্য কর্মীরা আগেভাগে অবসরভাতা নেওয়ার কারণে প্রচলিত অর্থের কাটছাঁট ছাড়াই ভাতা পাবেন। বর্তমান নিয়মে ৬২ বছর বয়স থেকে সোশ্যাল সিকিউরিটি অবসরভাতা নেওয়া যায়, তবে পূর্ণ অবসরের বয়সের আগে তা শুরু করলে মাসিক ভাতা কমে। ২০২৬ সালে যাঁদের বয়স ৬২ হচ্ছে, তাঁদের পূর্ণ অবসরের বয়স ৬৭ বছর। স্টিভেনসের বিলটি সেই বয়সসীমা সবার জন্য বদলানোর প্রস্তাব নয়; এটি নির্দিষ্ট শারীরিক পরিশ্রমের পেশায় কাজ করা ব্যক্তিদের জন্য। স্টিভেনসের দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, যোগ্যতা নির্ধারণে কর্মজীবনের বিভিন্ন বয়সে শারীরিক পরিশ্রমের কাজের জন্য আলাদা পয়েন্ট গণনা করা হবে। মোট ১৫ পয়েন্ট অর্জন করলে অথবা এমন পেশায় ২০ বছর কাজ করলে ৬০ বছর বয়সে পূর্ণ অবসরভাতার সুযোগ মিলবে। পুরো কর্মজীবন একই ধরনের পেশায় কাটানোর শর্ত প্রস্তাবে নেই। কোন পেশাগুলো এই সুবিধার আওতায় পড়বে, তার চূড়ান্ত তালিকা এখনো নেই। বিলটি আইনে পরিণত হলে সোশ্যাল সিকিউরিটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশনকে সেই তালিকা তৈরি ও প্রকাশ করতে হবে। স্টিভেনসের দপ্তর নির্মাণকাজ, ছাদের কাজ, নার্সিং ও উৎপাদন খাতকে সম্ভাব্য উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেছে। আপাতত এটি একটি বিলের প্রস্তাব। ফলে ৬০ বছর বয়সে পূর্ণ অবসরভাতা পাওয়ার নিয়ম কার্যকর হয়েছে বলে ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই; বর্তমান সোশ্যাল সিকিউরিটি নিয়মই বহাল রয়েছে।
নিউইয়র্ক সিটিতে চাকরি খুঁজতে গেলে স্বাস্থ্যসেবা, পরিবহন, প্রযুক্তি ও সরকারি সেবার মতো বড় খাতগুলো নিয়মিত নজরে রাখা যায়। তবে এসব খাতে বছরের প্রতিটি সময় নিয়োগ চলে বা আবেদন করলেই কাজ মেলে, এমন দাবি সরকারি তথ্য সমর্থন করে না। সিটির কম্পট্রোলারের সাম্প্রতিক বিশ্লেষণে স্বাস্থ্যসেবার বাইরে নতুন চাকরি তৈরির গতি কম থাকার কথা বলা হয়েছে। তাই কোন পেশায় সুযোগ আছে, তার পাশাপাশি এখন কোন পদে আবেদন নেওয়া হচ্ছে, সেটিও দেখতে হবে। প্রথমত, রেজিস্টার্ড নার্স। নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের সরকারি চাকরির তালিকায় কুইন্স ও ম্যানহাটনের প্রতিষ্ঠানে নার্স পদের বিজ্ঞপ্তি পাওয়া যাচ্ছে। দ্বিতীয়ত, সার্টিফায়েড নার্সিং অ্যাসিস্ট্যান্ট। তৃতীয়ত, ক্লিনিক্যাল মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট। শেষের দুটি পেশার প্রশিক্ষণ নিউইয়র্ক সিটির সীমিতসংখ্যক ইনডিভিজুয়াল ট্রেনিং গ্রান্টের যোগ্য কোর্সের তালিকায় রয়েছে। চিকিৎসাসংক্রান্ত এসব কাজের জন্য পদভেদে আলাদা লাইসেন্স, সনদ বা অন্যান্য যোগ্যতা প্রয়োজন হতে পারে। চতুর্থত, বাসচালক এবং পঞ্চমত, ট্রাক বা বাণিজ্যিক যানবাহনের চালক। সিটির প্রশিক্ষণ নির্দেশিকায় এসব পেশার জন্য কোর্স রয়েছে। তবে প্রশিক্ষণের তালিকায় কোনো পেশার নাম থাকা মানেই এমটিএ বা অন্য প্রতিষ্ঠানে এই মুহূর্তে নির্দিষ্টসংখ্যক পদ খালি আছে, তা নয়। মূল লেখায় উল্লেখ করা এমটিএর ২ হাজার ৮৬৮টি শূন্যপদের সংখ্যাটি নির্ভরযোগ্য সরকারি তথ্যে নিশ্চিত করা যায়নি। ষষ্ঠত, কম্পিউটার সাপোর্ট স্পেশালিস্ট এবং সপ্তমত, নেটওয়ার্ক বা কম্পিউটার সিস্টেমস অ্যানালিস্ট। এই পেশাগুলোও সিটির প্রশিক্ষণ নির্দেশিকায় রয়েছে। অষ্টমত, আনআর্মড সিকিউরিটি গার্ডের প্রশিক্ষণও একই তালিকায় আছে। আবেদনকারীর আগের দক্ষতা, প্রয়োজনীয় সার্টিফিকেট এবং নিয়োগদাতার শর্ত অনুযায়ী সুযোগ বদলায়। নবমত, নির্মাণ ও ভবন রক্ষণাবেক্ষণের কাজ। নিউইয়র্ক সিটির চাকরির পোর্টালে ভবন পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ, প্রকৌশল এবং স্থাপনা পরিকল্পনার আলাদা বিভাগ রয়েছে। দশমত, সিটি সরকারের সামাজিক সেবা, প্রশাসন ও গ্রাহকসেবার পদ। এসব পদের কিছুতে সিভিল সার্ভিস পরীক্ষা লাগে; কিছু ক্ষেত্রে নিয়োগের পর পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার শর্তও থাকতে পারে। প্রতিটি বিজ্ঞপ্তির ন্যূনতম যোগ্যতা তাই আলাদা করে পড়তে হবে। প্রশিক্ষণ কর্মসূচির তালিকাকে সবচেয়ে বেশি নিয়োগ হওয়া চাকরির তালিকা ধরে নেওয়া ঠিক হবে না। একইভাবে একটি প্রতিষ্ঠানের কয়েকটি বিজ্ঞপ্তি থেকে পুরো খাতে সারা বছর নিয়োগ চলে বলে সিদ্ধান্ত দেওয়া যায় না। চাকরিপ্রার্থীদের জন্য সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো পছন্দের পেশা বেছে নিয়ে সিটি, অঙ্গরাজ্য ও সংশ্লিষ্ট নিয়োগদাতার বর্তমান বিজ্ঞপ্তিতে যোগ্যতা, কাজের স্থান এবং আবেদনের শেষ তারিখ মিলিয়ে দেখা।
নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীর শামীমা সুলতানা কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পড়াশোনা ও প্রযুক্তি খাতে কাজের পর এখন যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীতে সার্জেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। প্রযুক্তিনির্ভর পেশা থেকে সামরিক জীবনে তাঁর এই পথচলার কথা সম্প্রতি জানিয়েছে প্রজন্ম কথা। তবে তিনি কবে সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়েছেন বা বর্তমানে কোন ইউনিটে কর্মরত, তা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি। প্রজন্ম কথার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার পর শামীমাকে প্রশিক্ষণ, নিয়মতান্ত্রিক জীবন ও নতুন কর্মপরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নিতে হয়েছে। কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের পড়াশোনা ও পেশাগত অভিজ্ঞতা তাঁর আগের পথ তৈরি করলেও সামরিক দায়িত্ব পালনের জন্য তাঁকে নতুনভাবে প্রস্তুত হতে হয়েছে। তাঁর নির্দিষ্ট সামরিক দায়িত্ব বা প্রযুক্তি খাতে আগের কাজের বিস্তারিত ওই প্রতিবেদনে দেওয়া হয়নি। শামীমার পরিবারেও সামরিক জীবনের অভিজ্ঞতা রয়েছে। প্রতিবেদনে তাঁর বাবা আলহাজ মো. তৈয়ব আলীকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সাবেক ল্যান্স নায়েক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বাবার জীবন ও মূল্যবোধ শামীমার বেড়ে ওঠায় প্রভাব রেখেছে। বাবার পরিচয়ের বাইরে প্রযুক্তি ও সামরিক পেশায় নিজের পথ তৈরি করাই শামীমার জীবনের আলাদা দিক। সোনাইমুড়ী থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীতে সার্জেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালনের এই খবর প্রবাসী বাংলাদেশিদের বিচিত্র পেশাগত পথচলার একটি উদাহরণ। শামীমার নিজের বক্তব্য এবং তাঁর শিক্ষা ও সামরিক কর্মজীবনের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ পেলে সেই পথচলার আরও পূর্ণ চিত্র পাওয়া যাবে। সূত্র: প্রজন্ম কথা
রাজধানীতে সাম্প্রতিক ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর একটি বক্তব্য নিয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজনীয়তা দেখছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। তবে তাকে বাস্তবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে কি না, সে বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি। শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে বিস্ফোরক দ্রব্য ও মুখোশ উদ্ধারের বিষয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার (ক্রাইম প্রিভেনশন-সাউথ) মো. তোফায়েল আহমেদ মিয়া এ কথা জানান। সাংবাদিকরা জানতে চান, রাজধানীতে সাম্প্রতিক ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় শুধু কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীরা জড়িত কি না, নাকি এর সঙ্গে অন্য কোনো পক্ষও যুক্ত রয়েছে। প্রশ্নের প্রসঙ্গে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর সাম্প্রতিক বক্তব্যের বিষয়টিও তুলে ধরা হয়। জবাবে তোফায়েল আহমেদ মিয়া বলেন, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী কেন ওই বক্তব্য দিয়েছেন, তা জানতে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা উচিত বলে তিনি মনে করেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বক্তব্যটির কারণ ও প্রেক্ষাপট পরিষ্কার করার জন্য বিষয়টি জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে জানা প্রয়োজন। এরপর সাংবাদিকরা সরাসরি জানতে চান, প্রয়োজনে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারে কি না। জবাবে ডিএমপির এই কর্মকর্তা বলেন, বিষয়টি এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সিদ্ধান্ত জানাতে পারবেন। নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর যে বক্তব্যকে কেন্দ্র করে প্রশ্নটি উঠেছে, সেটি তিনি গত ২১ আগস্ট রাতে রাজধানীর নেভিগলিতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে দিয়েছিলেন বলে ইত্তেফাকের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ওই বক্তব্যে তিনি বলেন, এনসিপি তিনটি দাবিতে রাজপথে রয়েছে। এর মধ্যে আওয়ামী লীগকে বাংলাদেশে নিষিদ্ধ রাখা, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন এবং জুলাইয়ের ঘটনার বিচার রয়েছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এসব দাবি সরকার মেনে নিলে ঢাকায় আর ককটেল বিস্ফোরণ ঘটবে না। এই বক্তব্যের সঙ্গে সাম্প্রতিক ককটেল বিস্ফোরণের কোনো প্রত্যক্ষ সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা পুলিশ দাবি করেনি। বরং ডিএমপির কর্মকর্তার বক্তব্যে মূলত ওই বক্তব্যের কারণ ও প্রেক্ষাপট জানতে চাওয়ার বিষয়টি উঠে এসেছে। এদিকে একই সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপি জানায়, দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে অভিযান চালিয়ে বিস্ফোরক দ্রব্য ও ককটেল তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। এ সময় অসৎ উদ্দেশ্যে তৈরি করা ৯ হাজার কাগজের মুখোশও উদ্ধার করা হয়। অভিযানে জাহিদ হাসান ইমন (৩০) নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ফলে সাম্প্রতিক ককটেল বিস্ফোরণ, এসব ঘটনায় কারা জড়িত এবং নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর বক্তব্যের পেছনে কী প্রেক্ষাপট ছিল—এসব প্রশ্ন ঘিরে পুলিশের তদন্ত ও পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে নজর রয়েছে। তবে শুক্রবার পর্যন্ত নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে জিজ্ঞাসাবাদের কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের কথা জানায়নি ডিএমপি। এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত ঊর্ধ্বতন পর্যায় থেকে আসবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তা।
জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে নিউ ইয়র্কে অবস্থান করছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তাঁর সফরকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যসহ কানাডা থেকেও বিএনপির নেতাকর্মীদের নিউ ইয়র্কে উপস্থিত হতে দেখা গেছে। নিউ ইয়র্কে অবস্থানকালে হায়াত গ্র্যান্ড সেন্ট্রাল নিউ ইয়র্ক হোটেলে তারেক রহমানকে দেখতে পেয়ে বাইরে জড়ো হওয়া নেতাকর্মীদের একাংশ বিভিন্ন স্লোগান ও বক্তব্য দিতে থাকেন। এ সময় তাঁকে ‘ভাইয়া’ সম্বোধন করে সরাসরি দেখা করার আকুতি জানাতেও শোনা যায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে একজনকে বলতে শোনা যায়, “যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি কি দেউলে হয়ে গেছে, ভাইয়া?” আরেকজন বলেন, “ভাইয়া, আমরা আপনার সঙ্গে দেখা করতে চাই।” ভিডিওতে আরও একজনকে বলতে শোনা যায়, “আমরা ১৭ বছর আওয়ামী লীগ সরকারের নির্যাতনে পালিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে এসেছি। আমরা আপনাদের সঙ্গে দেখা করতে চাই।” কানাডা থেকে আসা একজনকেও বলতে শোনা যায়, “আমরা কানাডা থেকে আসছি, ভাইয়া।” এ সময় হোটেলের ওপরের দিক থেকে নেতাকর্মীদের বক্তব্য শুনছিলেন তারেক রহমান। ভিডিওতে তাঁকে কিছু সময় দাঁড়িয়ে থাকতে, মুচকি হাসতে এবং মাঝে মাঝে হাত নাড়তে দেখা যায়। পরে নিচে থাকা নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তারেক রহমানকে কিছু বলতে দেখা গেলেও দূরত্বের কারণে তাঁর বক্তব্যের সুনির্দিষ্ট শব্দ ভিডিওতে স্পষ্টভাবে শোনা যায়নি। এর আগে ২১ সেপ্টেম্বর নিউ ইয়র্কে পৌঁছান তারেক রহমান। জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তাঁকে হায়াত গ্র্যান্ড সেন্ট্রাল নিউ ইয়র্কে নেওয়া হয়। তাঁর সফরকে ঘিরে নিউ ইয়র্কে বাংলাদেশি প্রবাসী এবং বিএনপির নেতাকর্মীদের বিভিন্ন স্বাগত কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। গতকাল সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বক্তব্য দেন তারেক রহমান। নিউ ইয়র্কে তাঁর সফর ঘিরে বিভিন্ন কর্মসূচির পাশাপাশি বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ ও যোগাযোগও প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে আলোচনায় এসেছে।
ভারতের ব্যবসায়ী মুকেশ আম্বানির ছেলে অনন্ত আম্বানিকে টেকসই উন্নয়ন বিষয়ে ‘প্রফেসর অব প্র্যাকটিস’ মর্যাদা দিয়েছে যুক্তরাজ্যের নিউক্যাসল বিশ্ববিদ্যালয়। ১৪ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়টি এ ঘোষণা দেওয়ার পর পরিবেশ সংরক্ষণ নিয়ে কাজ করা ব্যক্তি ও কয়েকজন শিক্ষাবিদ সিদ্ধান্তটির সমালোচনা করেছেন। অনন্তের প্রতিষ্ঠিত বন্য প্রাণী কেন্দ্র ভানতারার কার্যক্রম এবং তাঁর পরিবারের তেল ও গ্যাস ব্যবসার সঙ্গে টেকসই উন্নয়নের এই স্বীকৃতি কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ, সেই প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, প্রাণীকল্যাণ, জীববৈচিত্র্য রক্ষা ও পরিবেশবিষয়ক কাজে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে অনন্তকে এই মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। গুজরাটের জামনগরে তাঁর প্রতিষ্ঠিত ভানতারাকে আহত ও বিপন্ন প্রাণী উদ্ধার এবং পুনর্বাসনের উদ্যোগ হিসেবে বর্ণনা করেছে বিশ্ববিদ্যালয়। রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের নির্বাহী পরিচালক হিসেবে পরিচ্ছন্ন জ্বালানিসংক্রান্ত উদ্যোগেও তাঁর ভূমিকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘোষণায় এটি একটি ‘প্রফেসরশিপ অব প্র্যাকটিস’ স্বীকৃতি; তাঁকে নিয়মিত শিক্ষক পদে চাকরি দেওয়া হয়েছে বলে সেখানে বলা হয়নি। সিদ্ধান্তটির সমালোচনা করে ভারতীয় ইতিহাসবিদ রামচন্দ্র গুহ বলেছেন, ভারতে পরিবেশ ও টেকসই উন্নয়ন নিয়ে দীর্ঘদিন কাজ করা আরও অনেক যোগ্য ব্যক্তি রয়েছেন। নিউক্যাসল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মীদের ইউনিয়ন শাখার সভাপতি অধ্যাপক ম্যাট পেরির ভাষ্য অনুযায়ী, পরিবেশগত উদ্বেগের কারণে কর্মীদের মধ্যেও এই সিদ্ধান্ত নিয়ে আপত্তি ছিল। এসব প্রতিক্রিয়ার কথা জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান। ভানতারায় প্রাণী সংগ্রহের প্রক্রিয়া নিয়েও আগে পরিবেশবাদীরা প্রশ্ন তুলেছেন। তবে সমালোচনা বা তদন্তে ওঠা প্রশ্নকে প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অপরাধ প্রমাণিত হওয়ার সঙ্গে এক করে দেখার সুযোগ নেই। দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারতীয় সুপ্রিম কোর্টের একটি তদন্তে ভানতারার পরিচালকদের বিরুদ্ধে অনিয়ম পাওয়া যায়নি। অনন্তের পরিবার ও ভানতারাও প্রাণী পাচারের অভিযোগ অস্বীকার করেছে। সমালোচনার মধ্যেও সিদ্ধান্তের পক্ষে রয়েছে নিউক্যাসল বিশ্ববিদ্যালয়। তাদের বক্তব্য, ভানতারার কাজ এবং রিলায়েন্সের জ্বালানি রূপান্তর উদ্যোগে অনন্তের ভূমিকা বিবেচনা করেই তাঁকে এই মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। ফলে বিতর্কটি এখন কেবল একজনকে অধ্যাপকের পদবি দেওয়া নিয়ে নয়; পরিবেশবিষয়ক কাজের স্বীকৃতি দেওয়ার ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় কী মানদণ্ড অনুসরণ করেছে, সেই প্রশ্নেও গড়িয়েছে।
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদে একই পরিবারের বাবা ও তিন ছেলেকে ‘বাংলাদেশি’ সন্দেহে বাড়ি থেকে তুলে নেওয়ার প্রায় ৪০ দিন পরও তাদের খোঁজ পাচ্ছে না পরিবার। পুলিশের দাবি, চারজনই বাংলাদেশের নাগরিক এবং তাদের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের কাছে হস্তান্তরের পর বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছে। কিন্তু পরিবার বলছে, তারা ভারতীয় নাগরিক। সংবাদমাধ্যম স্ক্রলও বিএসএফ সত্যিই তাদের বাংলাদেশে পাঠিয়েছে কি না স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করতে পারেনি। নিখোঁজ চারজন হলেন মুর্শিদাবাদের সুতি থানা এলাকার বালিয়াঘাটি গ্রামের ৬০ বছর বয়সী দাবলু শেখ এবং তার তিন ছেলে—২৯ বছর বয়সী কায়েম শেখ, ২০ বছর বয়সী রাজাউল শেখ ও ১৬ বছর বয়সী আসমাউল শেখ। দাবলুর স্ত্রী জাহানারা বিবির ভাষ্য অনুযায়ী, ১৩ অথবা ১৪ আগস্ট সাদা পোশাকে কয়েকজন পুলিশ সদস্য তাদের বাড়িতে এসে প্রথমে তার স্বামীকে নিয়ে যান। পরে তিন ছেলেকেও আটক করা হয়। এরপর থেকে স্বামী ও সন্তানদের সঙ্গে পরিবারের আর কোনো যোগাযোগ হয়নি। ঘটনাটির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো ভোটার তালিকার তথ্য। স্ক্রল জানিয়েছে, দাবলু শেখ এবং তার ছেলে কায়েম শেখ পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ার পরও তালিকাভুক্ত ছিলেন এবং ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনেও ভোট দিয়েছেন। স্ক্রল তাদের নাম ভোটার তালিকায় স্বাধীনভাবে যাচাই করেছে। আরও পুরোনো নথিতে দাবলুর বাবা শেখ সামজানির নাম ১৯৬৬ ও ১৯৯৫ সালে সুতি বিধানসভা কেন্দ্রের ভোটার হিসেবে পাওয়া গেছে। মানবাধিকার সংগঠন বাংলার মানবাধিকার সুরক্ষা মঞ্চ বা মাসুমের দাবি, চারজনের কাছে আধার কার্ড, রেশন কার্ডসহ ভারতে বসবাসের বিভিন্ন নথিও রয়েছে। সংগঠনটি পশ্চিমবঙ্গের স্বরাষ্ট্রসচিবকে চিঠি দিয়ে তাদের আটক, ‘বাংলাদেশি’ হিসেবে চিহ্নিত করা এবং কথিতভাবে সীমান্তের ওপারে পাঠানোর বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছে। মাসুম বলছে, পরিবারের দীর্ঘদিনের ভারতে বসবাস ও ভোটার তালিকার তথ্য থাকার পরও তাদের বিদেশি ঘোষণার আগে স্বচ্ছ ও স্বাধীন যাচাই প্রয়োজন ছিল। অন্যদিকে সুতি থানার ইনস্পেক্টর-ইন-চার্জ অভিজিৎ বসু মল্লিক স্ক্রলকে বলেছেন, চারজনই বাংলাদেশের নাগরিক এবং তাদের বাংলাদেশে ‘ডিপোর্ট’ করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে কোনো এফআইআর হয়েছিল কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ফরেনার্স আইনের অধীনে মামলার প্রয়োজন ছিল না। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের মে মাসে ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি নির্দেশনার আওতায় তাদের আটক করে জঙ্গিপুরের হোল্ডিং সেন্টারে পাঠানো হয়েছিল। পরিবার পুলিশের দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে। জাহানারা বিবি বলেন, পুলিশ তাদের কাছে বাংলাদেশের কোনো কাগজপত্র আছে কি না জানতে চেয়েছিল। পরিবারের দাবি, তাদের বাংলাদেশের কোনো নথি নেই এবং তারা কখনো বাংলাদেশেও যাননি। তবে ভোটার কার্ড, আধার বা রেশন কার্ড থাকা একাই কোনো ব্যক্তির নাগরিকত্ব নিয়ে আইনি বিরোধের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি করে না; এই চারজনের নাগরিকত্বের বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত বিচারিক সিদ্ধান্তের তথ্য পাওয়া যায়নি। মুর্শিদাবাদে একই ধরনের আরও অভিযোগ দাবলু শেখের পরিবারের ঘটনাটি সামনে আসার আগেও মুর্শিদাবাদে একই ধরনের বেশ কয়েকটি আটক নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। স্ক্রলের অনুসন্ধানে বলা হয়েছে, জুন থেকে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ অন্তত ১০ মুসলিম পুরুষ ও দুই শিশুকে ‘বাংলাদেশি’ সন্দেহে আটক করেছিল। দাবলু ও তার তিন ছেলের ঘটনা যুক্ত হলে এমন আটকের সংখ্যা ১৬-তে পৌঁছায়। কয়েকটি পরিবারের অভিযোগ, গভীর রাতে বা বাড়ি থেকে সাদা পোশাকের পুলিশ সদস্যরা তাদের স্বজনদের নিয়ে গেছেন এবং নাগরিকত্বের পক্ষে নথি উপস্থাপনের যথেষ্ট সুযোগ দেওয়া হয়নি। এর আগের ঘটনাগুলোর মধ্যে অন্তত চারজন বিশেষ নিবিড় ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ায় যাচাই পেরিয়েছিলেন বলে স্ক্রলের অনুসন্ধানে উঠে আসে। কয়েকজন সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনেও ভোট দিয়েছেন। আবার অন্তত একটি ঘটনায় বিএসএফ এক ব্যক্তিকে বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা গ্রহণ না করে পুলিশের কাছে ফিরিয়ে দিয়েছিল বলে সংশ্লিষ্ট পুলিশ নথির বরাতে জানানো হয়েছে। প্রশ্ন তুলেছে কলকাতা হাইকোর্টও এ ধরনের আটকের আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টও সম্প্রতি প্রশ্ন তুলেছে। ১৯ সেপ্টেম্বর মুর্শিদাবাদের ৩৯ বছর বয়সী সাহিদুল শেখকে বাড়ি থেকে তুলে নেওয়ার আরেক ঘটনায় পুলিশকে হলফনামা দিয়ে ব্যাখ্যা করতে বলেন বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য। কেন তাকে আটক করা হয়েছিল এবং ৮ আগস্ট আটকের পর রাজ্য কী কী পদক্ষেপ নিয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ সুপারের কাছেও প্রতিবেদন চাওয়া হয়। স্ক্রলের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই শুনানিতে আদালত মানবাধিকারের প্রশ্নও তোলে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে বিদেশি সন্দেহ করার ভিত্তি কী এবং নাগরিকত্ব নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছে কি না—এ নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। ভারতের সুপ্রিম কোর্টের আগের একটি রায়ের প্রসঙ্গও আইনজীবীরা তুলেছেন। ২০২৪ সালের রহিম আলী মামলার রায়ে আদালত বলেছিল, কাউকে বিদেশি বলে অভিযোগ করার ভিত্তি যে তথ্য বা উপাদান, ন্যায়বিচারের স্বার্থে তা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে জানাতে হবে—যাতে তিনি অভিযোগের জবাব দেওয়ার সুযোগ পান। সীমান্তে ‘পুশব্যাক’ নিয়েও বিতর্ক শুধু পশ্চিমবঙ্গ নয়, সাম্প্রতিক সময়ে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে বাংলা ভাষাভাষী মানুষকে বাংলাদেশি সন্দেহে আটক ও সীমান্তের দিকে পাঠানোর অভিযোগ এসেছে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ জুনে অভিযোগ করেছিল, যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া ছাড়া কিছু বাংলা ভাষাভাষী মানুষকে বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছে। একই সময়ে বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবি একাধিক ‘পুশ-ইন’ চেষ্টা ঠেকানোর কথা জানিয়েছিল। ভারতীয় কর্তৃপক্ষ অবশ্য অনথিভুক্ত অভিবাসীদের বিরুদ্ধে অভিযানকে আইন প্রয়োগের অংশ হিসেবে তুলে ধরেছে। ২০২৫ সালের মে মাসে ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলোকে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার থেকে আসা সন্দেহভাজন অনথিভুক্ত অভিবাসীদের পরিচয় যাচাইয়ের নির্দেশ দেয়। পশ্চিমবঙ্গে চলতি বছরের মে মাসে নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর কথিত অনথিভুক্ত অভিবাসীদের জন্য হোল্ডিং সেন্টার স্থাপন এবং শনাক্তকরণ ও বহিষ্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয় বলে স্ক্রল জানিয়েছে। দাবলু শেখ ও তার তিন ছেলের ক্ষেত্রে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন তাদের বর্তমান অবস্থান। পুলিশ বলছে, তাদের বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছে। কিন্তু বিএসএফের কাছ থেকে সেই দাবির স্বাধীন নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি এবং পরিবার বলছে, প্রায় ৪০ দিন ধরে তারা জানেই না চারজন কোথায় আছেন। জঙ্গিপুরের পুলিশ সুপারের কাছেও মন্তব্য চেয়েছে স্ক্রল; সর্বশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ পর্যন্ত জবাব পাওয়া যায়নি।
নিউইয়র্কে কাজের অভিজ্ঞতা না থাকলে চাকরি পাওয়া কঠিন হতে পারে, তবে সুযোগ একেবারে বন্ধ নয়। সিটি সরকারের চাকরির পোর্টাল, নিয়োগ মেলা, বিনামূল্যের ক্যারিয়ার সহায়তা ও প্রশিক্ষণের মতো বেশ কিছু পথ রয়েছে। তবে কোথাও অংশ নিলেই সরাসরি চাকরি মিলবে—এমন নিশ্চয়তা নেই। প্রতিটি পদের যোগ্যতা, প্রয়োজনীয় দক্ষতা এবং আবেদনের শেষ তারিখ আলাদা করে দেখে আবেদন করতে হবে। চাকরি খোঁজার প্রথম জায়গা হতে পারে নিউইয়র্ক সিটি সরকারের চাকরির পোর্টাল। সেখানে প্রতিটি পদের শিক্ষাগত যোগ্যতা, কাজের ধরন, অভিজ্ঞতার প্রয়োজনীয়তা এবং আবেদন করার নিয়ম দেওয়া থাকে। শুধু চাকরির নাম দেখে আবেদন না করে ‘মিনিমাম কোয়ালিফিকেশনস’ বা ন্যূনতম যোগ্যতার অংশটি আগে ভালোভাবে পড়ে নেওয়া জরুরি। দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ পথ হলো সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার খবর নিয়মিত দেখা। নিউইয়র্ক সিটির ডিপার্টমেন্ট অব সিটিওয়াইড অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিসেস বা ডিসিএএস প্রতিবছর বিভিন্ন পরীক্ষার সূচি প্রকাশ করে। ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে প্রথমবার পরীক্ষায় আবেদনকারীদের জন্য পরীক্ষার ফি মওকুফের সুযোগ চালু হয়েছে। তবে এই সুবিধা সবার জন্য স্বয়ংক্রিয় নয়, তাই আবেদন করার আগে নিজের যোগ্যতা ও প্রযোজ্য নিয়ম দেখে নিতে হবে। তৃতীয় পথ হলো জবস এনওয়াইসি হায়ারিং হল। এসব আয়োজনে চাকরিপ্রার্থী ও নিয়োগদাতারা সরাসরি কথা বলার সুযোগ পান। কিছু ক্ষেত্রে অনুষ্ঠানস্থলেই ইন্টারভিউ নেওয়া হতে পারে। তবে ইন্টারভিউ বা চাকরি কোনোটিই নিশ্চিত নয়। সিটির তালিকায় ৩০ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত একটি হায়ারিং হলের তথ্য রয়েছে। তবে ওই সরকারি পাতায় অনুষ্ঠানের শিরোনামে কুইন্স উল্লেখ থাকলেও ঠিকানায় স্টেটেন আইল্যান্ড দেওয়া হয়েছে। তাই যাওয়ার আগে সিটির সর্বশেষ ঘোষণায় অনুষ্ঠানস্থল নিশ্চিত করে নেওয়া জরুরি। চতুর্থ পথ হলো ওয়ার্কফোর্স ওয়ান ক্যারিয়ার সেন্টার। চাকরি খোঁজা, রিজিউমে তৈরি বা ঠিকঠাক করা এবং ইন্টারভিউয়ের প্রস্তুতিতে এখানে বিনামূল্যে সহায়তা পাওয়া যায়। নতুন চাকরিপ্রার্থীদের জন্য বিশেষ করে রিজিউমে কীভাবে সাজাতে হবে বা ইন্টারভিউতে কীভাবে প্রস্তুতি নিতে হবে, সে বিষয়ে এই সেবা কাজে আসতে পারে। পঞ্চম পথ ইনডিভিজুয়াল ট্রেনিং গ্রান্ট। যোগ্য প্রার্থীরা নির্দিষ্ট প্রশিক্ষণের টিউশন, রেজিস্ট্রেশন, পরীক্ষার ফি এবং বইয়ের খরচে সহায়তা পেতে পারেন। তবে গ্রান্টের সংখ্যা সীমিত এবং আবেদন করলেই অনুমোদন নিশ্চিত নয়। কোথাও ১ হাজার ৩০০ থেকে ৩ হাজার ৮০০ ডলারের ভাউচারের কথা বলা হলেও, এই পরিমাণ সবার জন্য নির্ধারিত—এমন তথ্য সিটির নির্দেশনায় নেই। একইভাবে কোনো কোর্স শেষ করলেই সেটিকে চাকরির অভিজ্ঞতা হিসেবে ধরা হবে, এমনও কোনো সাধারণ নিয়ম নেই। ষষ্ঠত, এমটিএ ও ডিপার্টমেন্ট অব স্যানিটেশনসহ বিভিন্ন সিটি ও পাবলিক প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব চাকরির বিজ্ঞপ্তি নিয়মিত দেখা যেতে পারে। পরিচ্ছন্নতা, রক্ষণাবেক্ষণ, পরিবহন বা অফিসের মতো বিভিন্ন ধরনের পদে সুযোগ আসতে পারে। তবে প্রতিটি চাকরির যোগ্যতা আলাদা। সব এন্ট্রি-লেভেল পদে অভিজ্ঞতা লাগবে না, আবার শুধু একটি সেফটি সার্টিফিকেট থাকলেই সব পদে আবেদন করা যাবে—এমন ধারণাও ঠিক নয়। সপ্তম পথ হলো প্রতিবন্ধী যোগ্য চাকরিপ্রার্থীদের জন্য সিটির ৫৫-এ কর্মসূচি। নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করলে কিছু সিভিল সার্ভিস পদে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা ছাড়াই নিয়োগের সুযোগ থাকতে পারে। তবে শুধু এই কর্মসূচির আওতায় পড়লেই চাকরি নিশ্চিত হয় না। প্রার্থীর প্রতিবন্ধিতার যোগ্যতার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট পদের শিক্ষা, দক্ষতা বা অভিজ্ঞতার শর্তও পূরণ করতে হয়। চাকরি খোঁজার আগে নিজের একটি হালনাগাদ রিজিউমে তৈরি করে রাখা সবচেয়ে ভালো। এরপর নিজের দক্ষতা ও যোগ্যতার সঙ্গে মেলে এমন কয়েকটি পদ বেছে নিয়ে নিয়মিত আবেদন করা যেতে পারে। বিশেষ করে পুরোনো পোস্ট, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিজ্ঞাপন বা আগের নিয়োগ মেলার তথ্য দেখে সিদ্ধান্ত না নিয়ে সংশ্লিষ্ট সরকারি ওয়েবসাইটে সর্বশেষ তথ্য মিলিয়ে নেওয়া জরুরি। কারণ চাকরির সংখ্যা, আবেদনের সময়সীমা, যোগ্যতা এবং নিয়োগের নিয়ম সময়ের সঙ্গে বদলাতে পারে। তাই ‘অভিজ্ঞতা ছাড়াই সরাসরি চাকরি’, ‘নির্দিষ্ট প্রশিক্ষণ নিলেই চাকরি’ কিংবা ‘মেলায় গেলেই নিয়োগ’—এ ধরনের দাবিকে নিশ্চিত তথ্য হিসেবে না ধরে সরকারি বিজ্ঞপ্তি দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়াই নিরাপদ। নিউইয়র্কে নতুনদের জন্য চাকরি পাওয়া সহজ নাও হতে পারে, কিন্তু সঠিক জায়গায় খোঁজ করলে সুযোগ পাওয়া সম্ভব। সরকারি চাকরির পোর্টাল নিয়মিত দেখা, সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার খবর রাখা, ক্যারিয়ার সেন্টারের সহায়তা নেওয়া এবং প্রশিক্ষণের সুযোগ কাজে লাগানো—চাকরি খোঁজার শুরুতে এসব পদক্ষেপই সবচেয়ে বেশি কাজে আসতে পারে।
২০০৯ সালের ১৫ আগস্ট কুয়েতের জাহরা এলাকায় একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে নারীদের তাঁবুতে আগুন লেগে ৫৭ জন নারী ও শিশু নি হ ত হন। বর দ্বিতীয় বিয়ে করায় ক্ষুব্ধ হয়ে তাঁর প্রথম স্ত্রী নাসরা ইউসুফ মোহাম্মদ আল এনেজি তাঁবুতে আগুন দিয়েছিলেন বলে পরবর্তী সময়ে আদালত তাঁকে দো ষী সাব্যস্ত করে। কয়েক মিনিটের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়া এবং তাঁবু থেকে বের হওয়ার পথ একটি হওয়ায় প্রা ণ হা নি এত বেশি হয়েছিল। দ্বিতীয় বিয়ের অনুষ্ঠানটি চলছিল নারী ও পুরুষ অতিথিদের জন্য আলাদা আয়োজনে। আগুন লাগে নারীদের অংশে, যেখানে শিশুদেরও অনেকে ছিলেন। তদন্ত ও আদালতে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, নাসরা তাঁবুর কাছে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন। প্রায় ২০০ জনের বসার উপযোগী তাঁবুটিতে বের হওয়ার জন্য ছিল একটি পথ। আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে অতিথিরা সেই পথ দিয়ে বের হওয়ার চেষ্টা করেন। ঘটনার পরদিন নাসরাকে গ্রে প্তার করা হয়। ২০১০ সালের মার্চে কুয়েতের একটি আদালত তাঁকে পূর্বপরিকল্পিত হ ত্যা এবং হ ত্যার উদ্দেশ্যে অগ্নিসংযোগের দায়ে মৃ ত্যু দণ্ড দেয়। পরে আপিল আদালতও সেই সাজা বহাল রাখে। বিচারপ্রক্রিয়ার বিভিন্ন পর্যায়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে নি হ তের সংখ্যায় কিছু পার্থক্য থাকলেও ২০১০ সালের রায়ের সংবাদে ৫৭ জনের মৃ ত্যুর কথা উল্লেখ করা হয়। দণ্ডাদেশের প্রায় সাত বছর পর, ২০১৭ সালের ২৫ জানুয়ারি কুয়েতে আরও ছয়জনের সঙ্গে নাসরার মৃ ত্যু দণ্ড কার্যকর করা হয়। যে বিয়েকে কেন্দ্র করে এই ঘটনা ঘটেছিল, সেদিনের আগুনে প্রা ণ হারিয়েছিলেন এমন বহু নারী ও শিশু, যাঁদের সঙ্গে ওই দাম্পত্য বিরোধের কোনো সম্পর্ক ছিল না।