সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

Today latest news

20 News
ভুয়া বিয়ের মামলায় ফেডারেল আদালতে দোষ স্বীকার করেছেন রোমানিয়ান নাগরিক আন্তোনিয়া-বিয়াত্রিস মিরচেয়া। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পেতে ভুয়া বিয়ে, আদালতে দোষ স্বীকার রোমানিয়ান নারীর

যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি পাওয়ার উদ্দেশ্যে এক মার্কিন নাগরিকের সঙ্গে ভুয়া বিয়েতে জড়ানোর কথা আদালতে স্বীকার করেছেন রোমানিয়ার এক নারী। নিউ জার্সির আটলান্টিক সিটির বাসিন্দা ৩৩ বছর বয়সী আন্তোনিয়া-বিয়াত্রিস মিরচেয়া বিবাহ জালিয়াতির ষড়যন্ত্রের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেছেন।   মার্কিন অ্যাটর্নির কার্যালয়, নিউ জার্সি জেলার তথ্য অনুযায়ী, ২৩ সেপ্টেম্বর ক্যামডেনের ফেডারেল আদালতে বিচারক ক্রিস্টিন পি. ও'হার্নের সামনে মিরচেয়া দোষ স্বীকার করেন। আদালতের নথি অনুযায়ী, তিনি মার্কিন নাগরিক ভিক্টর পুরিলার সঙ্গে এমন একটি বিয়েতে জড়িয়েছিলেন, যার উদ্দেশ্য ছিল যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি পাওয়ার পথ তৈরি করা।   মিরচেয়া ও পুরিলা ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে নিউ জার্সির আটলান্টিক সিটিতে বিয়ে করেন। পরের বছর ২০২৫ সালের জুনে তারা আটলান্টিক সিটির বোর্ডওয়াক এলাকায় একটি অ্যাপার্টমেন্টের জন্য যৌথভাবে ভাড়ার চুক্তিও করেন। বাইরে থেকে দেখলে এতে তাদের একসঙ্গে বসবাসের প্রমাণ তৈরি হচ্ছিল।   কিন্তু আদালতের নথি অনুযায়ী, বাস্তবে পুরিলা ওই অ্যাপার্টমেন্টে মিরচেয়ার সঙ্গে বসবাস করতেন না। তিনি কাছের শহর অ্যাবসিকনে নিজের পরিবারের বাড়িতে থাকতেন। পরে অভিবাসন কর্মকর্তাদের কাছে জমা দেওয়া নথিতে অবশ্য দুজনই দাবি করেন, তারা আটলান্টিক সিটির ওই অ্যাপার্টমেন্টে একসঙ্গে থাকেন।   ২০২৫ সালের আগস্টের দিকে পুরিলা মিরচেয়ার জন্য অভিবাসন প্রক্রিয়া শুরু করতে মার্কিন নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা বিভাগের কাছে ফরম আই-১৩০ জমা দেন। ওই ফরমে তিনি মিরচেয়ার সঙ্গে আটলান্টিক সিটিতে একই বাসায় বসবাস করার কথা উল্লেখ করেন। মিরচেয়াও পরে ফরম আই-৪৮৫-এ একই ধরনের তথ্য দেন বলে আদালতের নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।   তদন্তে অবশ্য তাদের দেওয়া তথ্যের সঙ্গে বাস্তব পরিস্থিতির অসঙ্গতি পাওয়া যায়। আদালতের নথি অনুযায়ী, পুরিলার মোবাইল ফোন ও গাড়ির অবস্থান পর্যালোচনা করে তদন্তকারীরা দেখতে পান, বেশিরভাগ রাতেই সেগুলো অ্যাবসিকনে ছিল। এর ভিত্তিতে প্রসিকিউটররা দাবি করেন, তিনি আটলান্টিক সিটির ওই অ্যাপার্টমেন্টে নিয়মিত বসবাস করতেন না।   এরপর ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা বিভাগের এক কর্মকর্তা মিরচেয়া ও পুরিলাকে আলাদাভাবে সাক্ষাৎকার নেন। আদালতের নথি অনুযায়ী, কীভাবে তাদের পরিচয় হয়েছিল, তারা কীভাবে একসঙ্গে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, পুরিলা কত ঘন ঘন তাঁর বাবা-মায়ের বাড়িতে যেতেন এবং তারা কীভাবে ব্যাংক হিসাব পরিচালনা করতেন, এসব বিষয়ে দুজনের বক্তব্যে অসঙ্গতি পাওয়া যায়।   ফেডারেল প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, এসব তথ্য ও কর্মকাণ্ড তাদের বিয়েটি প্রকৃত দাম্পত্য সম্পর্কের জন্য ছিল না, বরং অভিবাসন সুবিধা পাওয়ার উদ্দেশ্যে করা হয়েছিল বলে তদন্তে উঠে আসে। শেষ পর্যন্ত মিরচেয়া বিবাহ জালিয়াতির ষড়যন্ত্রের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন।   এই মামলায় পুরিলার বিরুদ্ধেও অভিযোগ রয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র, মিথ্যা তথ্য দেওয়া এবং বিবাহ জালিয়াতির অভিযোগের বিচার এখনো চলমান। ফলে তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি।   আদালতের নথিতে আরও বলা হয়েছে, পুরিলা এর আগে ২০১৪ সালে এক বুলগেরিয়ান নাগরিককে বিয়ে করেছিলেন। ওই নারী পরবর্তীতে সেই বিয়ের ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পেয়েছিলেন। ২০১৯ সালে তাদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়।   মিরচেয়ার বিরুদ্ধে বিবাহ জালিয়াতির ষড়যন্ত্রের অভিযোগে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড, সর্বোচ্চ ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার জরিমানা এবং তিন বছর পর্যন্ত তত্ত্বাবধানে মুক্তির বিধান রয়েছে। তবে এগুলো সর্বোচ্চ শাস্তি, চূড়ান্ত সাজা নয়। তাঁর সাজা ঘোষণার দিন নির্ধারণ করা হয়েছে ২০২৭ সালের ২৫ জানুয়ারি।   মামলাটির তদন্ত করেছে মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনস এবং ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন বা এফবিআইয়ের নিউয়ার্ক কার্যালয়। নিউ জার্সি জেলার মার্কিন অ্যাটর্নি রবার্ট ফ্রেজার তদন্তকারী কর্মকর্তাদের কাজের জন্য কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।   যুক্তরাষ্ট্রে বৈধ অভিবাসন সুবিধা পাওয়ার জন্য প্রকৃত সম্পর্কের পরিবর্তে কাগুজে বা সাজানো বিয়ের ব্যবহার ফেডারেল আইনে অপরাধ। এই মামলাতেও প্রসিকিউটরদের মূল অভিযোগ ছিল, বিয়েটিকে অভিবাসন সুবিধা পাওয়ার মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল।   তবে মিরচেয়া দোষ স্বীকার করলেও মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি এখনো হয়নি। আগামী বছরের জানুয়ারিতে তাঁর সাজা ঘোষণার পরই আদালত তাঁর ক্ষেত্রে কী শাস্তি প্রযোজ্য হবে, তা নির্ধারণ করবে।   সূত্র: যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ, নিউ জার্সি জেলার মার্কিন অ্যাটর্নির কার্যালয়; ফেডারেল আদালতের নথি

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬ ২৩:২৩
জীবনযাত্রার বাড়তি ব্যয়ের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের অনেক পরিবারকে মাসিক বাজেট সামলাতে চাপের মুখে পড়তে হচ্ছে। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ছে পারিবারিক আর্থিক চাপ, সময়মতো সব বিল দিতে পারছে না ৩২ শতাংশ পরিবার

যুক্তরাষ্ট্রে জীবনযাত্রার ব্যয় এবং পরিবারের আর্থিক চাপ বাড়ার মধ্যে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ পরিবার গত এক বছরে তাদের সব বিল সময়মতো পরিশোধ করতে পারেনি। নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, ২০২৬ সালে মাত্র ৬৮ শতাংশ মার্কিন পরিবার জানিয়েছে তারা গত ১২ মাসে সব বিল সময়মতো পরিশোধ করতে পেরেছে। ২০২৫ সালে এই হার ছিল ৭১ শতাংশ।   ২২ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত অলাভজনক প্রতিষ্ঠান ফাইন্যান্সিয়াল হেলথ নেটওয়ার্কের ‘ফাইন্যান্সিয়াল হেলথ পালস ২০২৬ ইউএস ট্রেন্ডস রিপোর্টে’ এই তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের বসন্ত থেকে ২০২৬ সালের বসন্তের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের পরিবারের আর্থিক অবস্থায় সামগ্রিকভাবে অবনতি হয়েছে। একই সময়ে সঞ্চয় করা, নিয়মিত বিল পরিশোধ এবং ঋণের চাপ সামলানোর ক্ষেত্রে আরও বেশি পরিবার সমস্যায় পড়েছে।   গবেষণায় দেখা যায়, গত ১২ মাসে সব বিল সময়মতো পরিশোধ করতে পেরেছে এমন পরিবারের হার ৩ শতাংশীয় পয়েন্ট কমেছে। অর্থাৎ প্রায় এক-তৃতীয়াংশ পরিবার অন্তত কোনো না কোনো সময়ে সময়মতো সব বিল পরিশোধ করতে পারেনি।   আর্থিক সক্ষমতার আরও কয়েকটি সূচকেও অবনতির চিত্র পাওয়া গেছে। গত এক বছরে আয়ের চেয়ে কম খরচ করেছে এমন পরিবারের হার ৪৯ শতাংশ থেকে কমে ৪৭ শতাংশ হয়েছে। একই সময়ে নিজেদের সামলানোর অযোগ্য ঋণের মাত্রা রয়েছে বলে জানিয়েছে এমন পরিবারের হার ২৯ শতাংশ থেকে বেড়ে ৩১ শতাংশ হয়েছে। আর আর্থিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারের হার ১৫ শতাংশ থেকে বেড়ে ১৭ শতাংশ হয়েছে।   আয়ের স্তরভেদে পরিস্থিতির পার্থক্য আরও স্পষ্ট। ফাইন্যান্সিয়াল হেলথ নেটওয়ার্কের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, নিম্ন আয়ের পরিবারের ক্ষেত্রে গত এক বছরে আয়ের চেয়ে কম খরচ করতে পেরেছে এমন পরিবারের হার ৩৫ শতাংশ থেকে কমে ৩১ শতাংশ হয়েছে। একই সময়ে সব বিল সময়মতো পরিশোধ করতে পেরেছে এমন নিম্ন আয়ের পরিবারের হার ৫৪ শতাংশ থেকে কমে ৪৯ শতাংশে নেমেছে।   প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, খাদ্য, বাসস্থান, বিদ্যুৎ ও অন্যান্য ইউটিলিটি এবং যাতায়াতের মতো প্রয়োজনীয় খরচ বহন করতে পারব বলে পুরোপুরি আত্মবিশ্বাসী মাত্র ১০টির মধ্যে প্রায় ৬টি পরিবার। যেসব পরিবার খাদ্য, ইউটিলিটি বা বাসস্থানের খরচ বহনের সক্ষমতা নিয়ে একেবারেই আত্মবিশ্বাসী নয়, তাদের প্রায় ১০টির মধ্যে ৭টি আর্থিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ শ্রেণিতে পড়ে।   গবেষণার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ২০২৫ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে প্রায় ৩ কোটি ৩ লাখ পরিবার, অর্থাৎ দেশের প্রায় ২৩ শতাংশ পরিবার, তাদের আর্থিক সক্ষমতার একটি স্তর থেকে অন্য স্তরে চলে গেছে। এর মধ্যে প্রায় ১ কোটি ৬৫ লাখ পরিবার আর্থিক অবস্থার নিম্ন স্তরে নেমে গেছে, বিপরীতে প্রায় ১ কোটি ৩৮ লাখ পরিবার উন্নতি করেছে।   এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতির চাপও পুরোপুরি কমেনি। মার্কিন শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, আগস্ট ২০২৬-এ ভোক্তা মূল্যসূচক আগের মাসের তুলনায় ০.৪ শতাংশ বেড়েছে এবং এক বছর আগের তুলনায় বেড়েছে ৩.৪ শতাংশ। একই সময়ে খাদ্যের দাম বছরে ২.৭ শতাংশ এবং বাসস্থানের ব্যয় ৩ শতাংশ বেড়েছে। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা গেছে জ্বালানি খাতে। এক বছরে জ্বালানি সূচক ১৬.৩ শতাংশ এবং গ্যাসোলিনের দাম ২৭.৪ শতাংশ বেড়েছে।   জ্বালানি ব্যয়ের এই বৃদ্ধি পরিবারের অন্যান্য খরচেও চাপ তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে যাতায়াত, পণ্য পরিবহন এবং বিভিন্ন সেবার সঙ্গে জ্বালানি ব্যয়ের সম্পর্ক থাকায় এর প্রভাব সরাসরি ও পরোক্ষভাবে পরিবারের বাজেটে পড়তে পারে। তবে ফাইন্যান্সিয়াল হেলথ নেটওয়ার্কের জরিপ বিল পরিশোধে সমস্যার নির্দিষ্ট কোনো একক কারণ নির্ধারণ করেনি।   ভোক্তাদের ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগের আরেকটি চিত্র পাওয়া গেছে মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ের সেপ্টেম্বরের জরিপে। প্রাথমিক হিসাবে সেপ্টেম্বরে ভোক্তা আস্থার সূচক ৪৭.৮-এ নেমে এসেছে, যা আগস্টে ছিল ৫১.৭। এক বছরের ব্যবধানে সূচকটি ১৩.২ শতাংশ কমেছে। বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতির সূচকও এক বছরে ১৫.৭ শতাংশ কমেছে।   অর্থনীতিতে সুদের হারও বর্তমানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। ১৬ সেপ্টেম্বর ফেডারেল রিজার্ভের নীতিনির্ধারণী কমিটি ফেডারেল ফান্ডস রেট ২৫ বেসিস পয়েন্ট বাড়িয়ে ৩.৭৫ থেকে ৪ শতাংশের মধ্যে নির্ধারণ করেছে। ফেড জানিয়েছে, মূল্যস্ফীতি এখনো কিছুটা উঁচু এবং এই পদক্ষেপ তাদের ২ শতাংশ মূল্যস্ফীতির লক্ষ্যে ফিরে যাওয়ার প্রচেষ্টার অংশ।   তবে সুদের হার বৃদ্ধির প্রভাব পরিবারভেদে ভিন্ন হতে পারে। ঋণের সুদ, নতুন ঋণ নেওয়ার খরচ এবং কিছু ধরনের ভোক্তা ঋণের মাসিক পরিশোধে এর প্রভাব পড়তে পারে। অন্যদিকে সঞ্চয়কারীরা কিছু ক্ষেত্রে বেশি সুদ পাওয়ার সুবিধাও পেতে পারেন। ফলে সামগ্রিকভাবে সুদের হার বৃদ্ধিকে পরিবারের আর্থিক সংকটের একমাত্র কারণ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।   ফাইন্যান্সিয়াল হেলথ নেটওয়ার্কের প্রতিবেদনের সামগ্রিক চিত্রে বরং দেখা যাচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রের অনেক পরিবার একই সময়ে কয়েকটি চাপের মুখে রয়েছে। প্রয়োজনীয় খরচ মেটানো, সঞ্চয় করা এবং ঋণ সামলানোর সক্ষমতা একসঙ্গে দুর্বল হলে মাসের শেষে হাতে নগদ অর্থের ঘাটতি তৈরি হতে পারে। তখন পরিবারগুলোকে খাদ্য, বাসস্থান, ইউটিলিটি বা অন্যান্য জরুরি খরচকে অগ্রাধিকার দিতে হয় এবং কিছু বিল পিছিয়ে দেওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।   এই চাপ নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোর ক্ষেত্রে তুলনামূলকভাবে বেশি দৃশ্যমান। গবেষণায় তাদের সময়মতো বিল পরিশোধ এবং আয়ের চেয়ে কম খরচ করার সক্ষমতায় উল্লেখযোগ্য পতন পাওয়া গেছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের সামগ্রিক অর্থনৈতিক সূচকের পাশাপাশি পরিবারের দৈনন্দিন আর্থিক সক্ষমতাও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বোঝার একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক হয়ে উঠছে।   সব মিলিয়ে, নতুন গবেষণাটি যুক্তরাষ্ট্রের পরিবারের আর্থিক অবস্থায় একটি সতর্কতামূলক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। সব বিল সময়মতো দিতে না পারা পরিবারের হার বেড়েছে, সঞ্চয়ের সক্ষমতা কমেছে এবং ঋণের চাপ বেড়েছে। একই সময়ে মূল্যস্ফীতি ও জ্বালানি ব্যয়ের চাপ এবং কমে যাওয়া ভোক্তা আস্থাও দেখাচ্ছে যে অনেক পরিবারের জন্য মাসিক বাজেট সামলানো আগের তুলনায় কঠিন হয়ে উঠেছে।   সূত্র: ফাইন্যান্সিয়াল হেলথ নেটওয়ার্ক, যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরো, মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬ ২৩:২
ক্রস রিভার অঙ্গরাজ্যে তেল-গ্যাস খাতের প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন তরুণরা। ছবি: সংগৃহীত
তেলকূপ ফিরে পাওয়ার প্রস্তুতিতে নাইজেরিয়ায় ২ হাজার তরুণকে তেল-গ্যাস প্রশিক্ষণ

নাইজেরিয়ার ক্রস রিভার অঙ্গরাজ্য নিজেদের তেলকূপ পুনরুদ্ধারের প্রচেষ্টার মধ্যেই স্থানীয় ২ হাজার তরুণকে তেল ও গ্যাস খাতের জন্য প্রশিক্ষণ দেওয়া শুরু করেছে। রাজ্য সরকারের লক্ষ্য, ভবিষ্যতে তেল-গ্যাস খাতে নতুন সুযোগ তৈরি হলে স্থানীয় তরুণরা যেন প্রয়োজনীয় কারিগরি দক্ষতা ও পেশাগত যোগ্যতা নিয়ে সরাসরি সেই বাজারে প্রবেশ করতে পারেন।   বৃহস্পতিবার কালাবারে ‘স্কিল আপ ইন দ্য সিজন অব সুইটনেস’ নামে কর্মসূচিটির উদ্বোধন করা হয়। ক্রস রিভারের গভর্নর ব্যাসি এডেট ওতুর পক্ষে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্য হাউস অব অ্যাসেম্বলির স্পিকার এলভার্ট আয়ামবেম। প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়া তরুণদের সিপিডি-স্বীকৃত সার্টিফিকেট ও ডিপ্লোমা কর্মসূচির আওতায় আনা হচ্ছে।   রাজ্য সরকারের বক্তব্য অনুযায়ী, তেল ও গ্যাস খাত মানেই শুধু তেল উত্তোলন নয়। এই শিল্পে ইঞ্জিনিয়ারিং, লজিস্টিকস, মেরিন সার্ভিস, নিরাপত্তা, পরিবেশ ব্যবস্থাপনা, প্রোকিউরমেন্ট, রক্ষণাবেক্ষণ ও ডেটা সার্ভিসের মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রে দক্ষ জনবলের প্রয়োজন রয়েছে। প্রশিক্ষণে এসব সম্ভাব্য কর্মক্ষেত্রের জন্য তরুণদের প্রস্তুত করার লক্ষ্য রাখা হয়েছে।   কর্মসূচির আয়োজক রিসার্চ গেটওয়ে ইনস্টিটিউটের পরিচালক থ্যাঙ্কগড আরং ওন্ডা জানিয়েছেন, প্রত্যেক অংশগ্রহণকারীকে রাজ্য সরকারের অর্থায়নে ৫ লাখ নাইরা সমমূল্যের স্কলারশিপ দেওয়া হয়েছে। তবে কয়েকটি প্রতিবেদনে মোট বিনিয়োগের পরিমাণ নিয়ে সংখ্যাগত অসামঞ্জস্য রয়েছে—প্রতি জন ৫ লাখ নাইরা হিসেবে ২ হাজার অংশগ্রহণকারীর সরল হিসাব ১০০ কোটি নাইরা হলেও একটি প্রতিবেদনে মোট বিনিয়োগ ৭০ কোটির বেশি নাইরা বলা হয়েছে। তাই মোট অর্থের অঙ্কটি সরকারি বিস্তারিত হিসাব ছাড়া নিশ্চিতভাবে উল্লেখ করা হচ্ছে না।   ওন্ডার ভাষ্য অনুযায়ী, এই প্রশিক্ষণের সঙ্গে ক্রস রিভারের তেলকূপ পুনরুদ্ধারের প্রচেষ্টার সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। রাজ্যটি ৭৬টি তেলকূপ ফিরে পাওয়ার প্রত্যাশায় রয়েছে এবং সেগুলো ঘিরে ভবিষ্যতে সুযোগ তৈরি হলে স্থানীয় তরুণদের যেন দক্ষতার অভাবে পিছিয়ে পড়তে না হয়, সে লক্ষ্যেই আগাম প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।    প্রশিক্ষণ শুধু কালাবারেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। আয়োজকেরা জানিয়েছেন, ক্রস রিভারের ১৮টি স্থানীয় সরকার এলাকায় পর্যায়ক্রমে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। উত্তরাঞ্চলের জন্য ওগোজা এবং মধ্যাঞ্চলের জন্য ইকোমে আঞ্চলিক সেশন আয়োজনের পরিকল্পনাও রয়েছে। এরপর চূড়ান্ত পর্ব ও গ্র্যাজুয়েশন অনুষ্ঠিত হবে।    গভর্নরের বিশেষ উপদেষ্টা উকপং উমোহ বলেন, কর্মসূচির উদ্দেশ্য শুধু সার্টিফিকেট দেওয়া নয়। তরুণদের এমন দক্ষতা অর্জন করতে হবে, যাতে তারা চাকরিপ্রার্থী হওয়ার পাশাপাশি উদ্যোক্তা, সেবাদাতা ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিকারী হিসেবেও তেল-গ্যাস অর্থনীতিতে অংশ নিতে পারেন।    তরুণদের দক্ষতা উন্নয়নের এই উদ্যোগ ক্রস রিভার সরকারের বৃহত্তর কর্মসংস্থান নীতির সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ। রাজ্য সরকারের যুব ক্ষমতায়ন কর্মসূচিতে দক্ষতা অর্জন, উদ্যোক্তা তৈরি ও স্বনির্ভরতার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সাম্প্রতিক আরেকটি সরকারি কর্মসূচিতেও প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত তরুণদের ব্যবসা শুরু ও কর্মসংস্থান তৈরিতে উৎসাহ দেওয়া হয়েছে।   ফলে ২ হাজার তরুণের এই প্রশিক্ষণকে শুধু একটি দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি হিসেবে নয়, বরং সম্ভাব্য তেল-গ্যাস অর্থনীতিতে স্থানীয় জনশক্তির অংশগ্রহণ বাড়ানোর প্রস্তুতি হিসেবেও দেখছে রাজ্য সরকার। তবে ৭৬টি তেলকূপ পুনরুদ্ধারের প্রক্রিয়ার চূড়ান্ত ফল এবং এর মাধ্যমে ঠিক কত কর্মসংস্থান তৈরি হবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়।   সূত্র: ক্রস রিভার ওয়াচ, লিডারশিপ, নিউ টেলিগ্রাফ, ক্রস রিভার স্টেট গভর্নমেন্ট

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬ ২২:৩১
ইউরোপে বড় উড়োজাহাজের কার্যক্রম গুটিয়ে নিচ্ছে ইন্ডিগো। ছবি: সংগৃহীত
খরচের চাপে ইউরোপ কৌশল বদলাচ্ছে ভারতের ইন্ডিগো, বন্ধ হচ্ছে লন্ডন ফ্লাইট

ইউরোপের দূরপাল্লার বাজারে দ্রুত প্রবেশের জন্য ভাড়ায় নেওয়া বোয়িং ৭৮৭-৯ উড়োজাহাজের কার্যক্রম গুটিয়ে নিচ্ছে ভারতের ইন্ডিগো। আগামী ২৫ অক্টোবর থেকে ওয়াইড-বডি কার্যক্রম বন্ধ করবে প্রতিষ্ঠানটি এবং একই সঙ্গে সাময়িকভাবে বন্ধ হবে লন্ডন হিথ্রো ফ্লাইট। ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, আকাশসীমার বিধিনিষেধ, জ্বালানির উচ্চ মূল্য ও বৈদেশিক মুদ্রার চাপের কারণে পরিচালন ব্যয় প্রত্যাশার চেয়ে অনেক বেড়ে যাওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।   ইন্ডিগোর এই সিদ্ধান্তকে শুধু একটি রুট বন্ধের ঘটনা হিসেবে দেখলে পুরো চিত্রটি ধরা পড়ে না। ২০২৫ সালের শুরুতে নরওয়ের নর্স আটলান্টিক এয়ারওয়েজ থেকে ছয়টি বোয়িং ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনার ড্যাম্প লিজে নিয়ে দূরপাল্লার বাজারে প্রবেশ করেছিল ইন্ডিগো। নিজস্ব ওয়াইড-বডি বহর আসার আগেই ইউরোপের বাজারে অভিজ্ঞতা অর্জন, ব্র্যান্ড পরিচিতি তৈরি এবং ভবিষ্যৎ আন্তর্জাতিক সম্প্রসারণের প্রস্তুতি নেওয়াই ছিল এই প্রকল্পের লক্ষ্য।   এই উড়োজাহাজ দিয়েই যুক্তরাজ্য ও ইউরোপের গুরুত্বপূর্ণ বাজারে প্রবেশ করে ইন্ডিগো। ২০২৫ সালের অক্টোবরে মুম্বাই থেকে লন্ডন হিথ্রোতে দৈনিক সরাসরি ফ্লাইট চালু করা হয়েছিল। তখন লন্ডনকে ইন্ডিগোর আন্তর্জাতিক সম্প্রসারণের গুরুত্বপূর্ণ নতুন ধাপ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছিল। কিন্তু এক বছরের মধ্যেই সেই পরিষেবা সাময়িকভাবে বন্ধ করার সিদ্ধান্ত এলো।   ইন্ডিগো জানিয়েছে, সাম্প্রতিক ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে বিভিন্ন আকাশসীমায় বিধিনিষেধ তৈরি হয়েছে। এতে ইউরোপগামী ফ্লাইটের পথ দীর্ঘ হচ্ছে, বাড়ছে উড্ডয়ন সময় ও জ্বালানি খরচ। এর সঙ্গে উড়োজাহাজের জ্বালানির উচ্চ মূল্য এবং বৈদেশিক মুদ্রার চাপ যোগ হয়ে রুটগুলোর কার্যকারিতা, সময়সূচি, কানেক্টিং ফ্লাইট ও প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতায় প্রভাব ফেলেছে।   এই চাপ আগেই দৃশ্যমান হয়েছিল। ইন্ডিগো এর আগে কোপেনহেগেন পরিষেবা স্থগিত এবং দিল্লি-লন্ডন ও ম্যানচেস্টার রুটের ফ্লাইট কমিয়েছিল। পরে ৩১ আগস্ট থেকে ম্যানচেস্টার পরিষেবাও সাময়িকভাবে বন্ধের ঘোষণা দেয়। প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘতর উড্ডয়নপথ ও দ্রুত বাড়তে থাকা খরচের কারণে এসব রুট পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়েছিল।   এবার ২৫ অক্টোবর থেকে পুরো বোয়িং ৭৮৭-৯ ওয়াইড-বডি কার্যক্রমই বন্ধ হচ্ছে। আর নর্স আটলান্টিকের সঙ্গে ছয়টি উড়োজাহাজের ড্যাম্প লিজ চুক্তি আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হবে ৩১ অক্টোবর। ড্যাম্প লিজ ব্যবস্থায় উড়োজাহাজ ও পাইলট সরবরাহ করছিল নর্স আটলান্টিক, আর কেবিন ক্রু ছিল ইন্ডিগোর।   তবে ইউরোপ থেকে পুরোপুরি সরে যাচ্ছে না ইন্ডিগো। ২৫ অক্টোবর থেকেই মুম্বাই-আমস্টারডাম রুটে বোয়িং ৭৮৭-৯-এর পরিবর্তে এয়ারবাস এ৩২১এক্সএলআর ব্যবহার করবে প্রতিষ্ঠানটি। অর্থাৎ আপাতত বড় ওয়াইড-বডির পরিবর্তে দীর্ঘপাল্লায় সক্ষম তুলনামূলক ছোট উড়োজাহাজের ওপর নির্ভর করে ইউরোপীয় নেটওয়ার্কের একটি অংশ ধরে রাখার কৌশল নেওয়া হচ্ছে।   সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ইন্ডিগো এটিকে আন্তর্জাতিক সম্প্রসারণ থেকে পিছু হটা হিসেবে দেখছে না। প্রতিষ্ঠানটি বলছে, নর্স আটলান্টিকের সঙ্গে এই প্রকল্প থেকে দূরপাল্লার নেটওয়ার্ক পরিকল্পনা, যাত্রীসেবা, ক্রু অপারেশন, রক্ষণাবেক্ষণ, বিমানবন্দর ব্যবস্থাপনা ও আন্তর্জাতিক অংশীদারত্বের গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা অর্জিত হয়েছে। ভবিষ্যতে নিজস্ব ওয়াইড-বডি বহর পরিচালনায় এই অভিজ্ঞতা কাজে লাগবে।   ইন্ডিগোর নিজস্ব এয়ারবাস এ৩৫০-৯০০ বহরই হবে সেই পরবর্তী ধাপ। তবে এখানে সময় নিয়ে কিছু বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়েছে। ইন্ডিগোর ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এর অফিসিয়াল বিবৃতিতে নিজস্ব এ৩৫০-৯০০ উড়োজাহাজ ২০২৮ সালের শুরু থেকে বহরে যুক্ত করার পরিকল্পনার কথা বলা হয়েছে। সর্বশেষ ঘোষণায় নির্দিষ্ট বছর উল্লেখ না করে বলা হয়েছে, এ৩৫০-৯০০ সরবরাহ পাওয়ার আগ পর্যন্ত লন্ডন হিথ্রো পরিষেবা বন্ধ থাকবে।   লন্ডন রুটে আগে থেকে টিকিট কাটা যাত্রীদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থার কথাও জানিয়েছে ইন্ডিগো। ক্ষতিগ্রস্ত যাত্রীদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করে প্রয়োজন অনুযায়ী বিকল্প ফ্লাইট অথবা অর্থ ফেরত দেওয়া হবে।   সব মিলিয়ে, ইন্ডিগোর বোয়িং ৭৮৭ অধ্যায় আপাতত শেষ হলেও ইউরোপ ও দূরপাল্লার বাজারের পরিকল্পনা শেষ হচ্ছে না। বরং ব্যয়বহুল ভাড়ার ওয়াইড-বডি কার্যক্রম থেকে সরে এসে এ৩২১এক্সএলআর দিয়ে কিছু ইউরোপীয় রুট ধরে রাখা এবং ভবিষ্যতে নিজস্ব এ৩৫০ বহর দিয়ে নতুন করে বড় পরিসরে দূরপাল্লার বাজারে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছে ভারতের বৃহত্তম এয়ারলাইনটি।   সূত্র: ইন্ডিগো, রয়টার্স, ক্যাপা, নর্স আটলান্টিক এয়ারওয়েজ

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬ ২২:১৭
আইসিস ও আল-নুসরা ফ্রন্টকে সহায়তার অভিযোগে দাভুদ আনসারিয়কে জর্জিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রত্যর্পণ করা হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
আইসিস ও আল-নুসরা ফ্রন্টকে সহায়তার অভিযোগে উজবেক নাগরিককে যুক্তরাষ্ট্রে প্রত্যর্পণ

আইসিস ও আল-নুসরা ফ্রন্টকে আর্থিক ও অন্যান্য সহায়তা দেওয়ার অভিযোগে প্রায় এক দশক ধরে পলাতক দাভুদ আনসারিকে জর্জিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রত্যর্পণ করা হয়েছে। ৪১ বছর বয়সী আনসারি উজবেকিস্তানের নাগরিক এবং ন্যাচারালাইজড মার্কিন নাগরিক। ২৩ সেপ্টেম্বর জর্জিয়ার রাজধানী তিবলিসি থেকে তাকে নিউইয়র্কে আনা হয়।   যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ জানিয়েছে, আনসারির বিরুদ্ধে আইসিস এবং আল-নুসরা ফ্রন্টকে সহায়তা দেওয়ার ষড়যন্ত্র ও সহায়তা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। ২৪ সেপ্টেম্বর তাকে ব্রুকলিনের ফেডারেল আদালতে ম্যাজিস্ট্রেট জজ লারা কে. এশকেনাজির সামনে হাজির করার কথা জানানো হয়। তবে অভিযোগগুলো এখনো প্রমাণিত হয়নি এবং আদালতে দোষী সাব্যস্ত না হওয়া পর্যন্ত তাকে নির্দোষ হিসেবে বিবেচনা করা হবে।   ফেডারেল প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, আনসারি নিউইয়র্কের ব্রুকলিনকেন্দ্রিক একটি উগ্রপন্থায় উদ্বুদ্ধ নেটওয়ার্কের প্রতিষ্ঠাতা ও নেতা ছিলেন। ওই নেটওয়ার্কের সদস্যদের কেউ সিরিয়ায় গিয়ে আইসিস বা আল-নুসরা ফ্রন্টের যোদ্ধা হওয়ার পরিকল্পনা করতেন, আবার অন্যরা তাদের সিরিয়া যাওয়ার জন্য অর্থ সংগ্রহ ও ভ্রমণের ব্যবস্থা করতেন।   নেটওয়ার্কটির সদস্যরা নিজেদের দলকে ‘চাইখানা’ নামে ডাকতেন। উজবেক ভাষায় এর অর্থ ‘টি হাউস’ বা ‘টি পার্টি’। বিচার বিভাগের অভিযোগ, এই নেটওয়ার্ক সিরিয়ায় যেতে আগ্রহী ব্যক্তিদের জন্য অর্থ সংগ্রহের পাশাপাশি সেখানে যাওয়া যোদ্ধাদের পরিবার এবং যুদ্ধে নিহত ব্যক্তিদের বিধবা স্ত্রী ও পরিবারের জন্যও অর্থ সংগ্রহ করত।   প্রসিকিউটরদের দাবি, ‘চাইখানা’র মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থ ব্যবহার করে আনসারি ও তার সহযোগীরা ২০১৩ সালে অন্তত তিন ব্যক্তির সিরিয়া যাওয়ার খরচ জুগিয়েছিলেন। ওই তিনজনই পরে সিরিয়ায় নিহত হয়েছেন বলে ধারণা করছে মার্কিন সরকার। তবে এটিও সরকারের মামলায় আনা অভিযোগের অংশ।   ফেডারেল আদালতের নথি অনুযায়ী, ২০১৬ সালের মে মাসে আনসারি একমুখী টিকিটে যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে তুরস্কে চলে যান। তার এক কথিত সহযোগী গ্রেপ্তার হওয়ার পাঁচ দিন পর তিনি দেশ ছাড়েন। এরপর প্রত্যর্পণের আগে পর্যন্ত তিনি যুক্তরাষ্ট্রে ফেরেননি। ২০২১ সালের নভেম্বরে ব্রুকলিনের একটি ফেডারেল গ্র্যান্ড জুরি তার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয়।   দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর ২০২৬ সালের আগস্টে উজবেকিস্তান থেকে জর্জিয়ার তিবলিসিতে যাওয়ার পর স্থানীয় কর্তৃপক্ষ তাকে গ্রেপ্তার করে। পরে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের আন্তর্জাতিকবিষয়ক দপ্তর, তিবলিসিতে এফবিআইয়ের আইনশৃঙ্খলা অ্যাটাশে অফিস এবং জর্জিয়ার প্রসিকিউটর অফিসের সহযোগিতায় তাকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রত্যর্পণ করা হয়।   আদালতের ডিটেনশন মেমো অনুযায়ী, ২৩ সেপ্টেম্বর আনসারিকে বহনকারী ফ্লাইট নিউইয়র্কের জন এফ. কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। প্রত্যর্পণের পর তাকে মার্কিন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হেফাজতে নেওয়া হয়। প্রসিকিউটররা তাকে আটক রাখার আবেদনও করেছেন।    মামলাটি তদন্ত করেছে এফবিআই। তদন্তে নিউইয়র্ক পুলিশ ডিপার্টমেন্ট, নিউইয়র্ক স্টেট পুলিশ, ইউএস কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন, পোর্ট অথরিটি পুলিশ এবং ইউএস মার্শালস সার্ভিস সহায়তা করেছে। আনসারি অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হলে সর্বোচ্চ ৩৫ বছরের কারাদণ্ডের মুখোমুখি হতে পারেন।   সূত্র: যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ, ইস্টার্ন ডিস্ট্রিক্ট অব নিউইয়র্ক, ফেডারেল কোর্ট ডিটেনশন মেমো, এফবিআই

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬ ২২:৭
নিউইয়র্কবাসীর জন্য ৭০ হাজার বিনামূল্যের অপেরা টিকিট দেওয়ার উদ্যোগ ঘোষণা করেছেন মেয়র জোহরান মামদানি। ছবি: সংগৃহীত
নিউইয়র্কবাসীদের জন্য সুখবর, বিনামূল্যে ৭০ হাজার অপেরা টিকিট দিচ্ছেন মেয়র মামদানি

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরের বাসিন্দাদের জন্য বিনামূল্যে অপেরা উপভোগ করার এক দারুণ সুযোগ নিয়ে এসেছেন মেয়র জোহরান মামদানি। জীবনে যারা কখনো অপেরা পারফরম্যান্স দেখার সুযোগ পাননি, তাদের জন্য 'অপেরা ফর অল' বা সবার জন্য অপেরা শীর্ষক নতুন একটি উদ্যোগ চালু করেছে মামদানি প্রশাসন। এই কর্মসূচির আওতায় নিউইয়র্কবাসীদের মাঝে ৭০ হাজার ফ্রি অপেরা টিকিট বিতরণ করা হবে বলে জানিয়েছে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ডব্লিউএবিসি টিভি।   বৃহস্পতিবার মেয়র জোহরান মামদানি, অর্থনৈতিক ন্যায়বিচার বিষয়ক ডেপুটি মেয়র জুলি সু এবং নিউইয়র্ক সিটি ডিপার্টমেন্ট অব কালচারাল অ্যাফেয়ার্স কমিশনার দিয়া ভিজ যৌথভাবে এই নতুন উদ্যোগের কথা ঘোষণা করেন। এই কর্মসূচির অধীনে মেট্রোপলিটন অপেরার সঙ্গে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে শহর কর্তৃপক্ষ ২০২৬ থেকে ২০২৭ মৌসুমের জন্য চলতি সেপ্টেম্বর থেকে প্রতি মাসে লটারির মাধ্যমে ১০ হাজার টিকিট বিনামূল্যে প্রদান করবে।   উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মেয়র মামদানি বলেন, এই শিল্পমাধ্যমটি সবার দেখার জন্য তৈরি হয়েছে, কেবল যাদের আর্থিক সামর্থ্য আছে তাদের জন্য এটি সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়। তিনি আরও বলেন, ব্যাংক অ্যাকাউন্টে কত টাকা আছে তা বিবেচনা না করেই প্রত্যেক নিউইয়র্কবাসীর এই আসনগুলোতে বসার, এই কণ্ঠস্বরগুলো শোনার এবং এই মঞ্চের অভিজ্ঞতা নেওয়ার সুযোগ পাওয়া উচিত।   এই বিনামূল্যের টিকিট পেতে আগ্রহীরা অন ডট এনওয়াইসি ডট গভ স্ল্যাশ অপেরা (on.nyc.gov/opera) ওয়েবসাইটে বা মেট অপেরা অ্যাপের মাধ্যমে লটারিতে অংশ নিতে পারবেন। তবে এই লটারিটি শুধুমাত্র তাদের জন্যই উন্মুক্ত, যারা ২০১৯ সালের পর থেকে মেট অপেরার কোনো টিকিট কেনেননি। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, থিয়েটারের সব প্রান্তেই টিকিটের ব্যবস্থা থাকবে, যার মধ্যে দাঁড়িয়ে দেখার স্থানগুলোও অন্তর্ভুক্ত।   চলতি মৌসুমে যেসব বিখ্যাত পরিবেশনা মঞ্চস্থ হতে যাচ্ছে তার মধ্যে রয়েছে ম্যাকবেথ, লিংকন ইন দ্য বার্ডো এবং লা বোহেম।   শিল্প ও সংস্কৃতিকে সাধারণ মানুষের কাছে আরও সহজলভ্য করার লক্ষ্যে মেয়র মামদানির বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই এই নতুন ঘোষণা দেওয়া হলো। এর আগে গত গ্রীষ্মে থিয়েটার ডেভেলপমেন্ট ফান্ডের সাথে অংশীদারিত্বের মাধ্যমে উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য বিনামূল্যে এবং স্বল্প মূল্যে ব্রডওয়ে ও অফ ব্রডওয়ে টিকিটের ব্যবস্থা করেছিলেন তিনি। মেট্রোপলিটন অপেরা বা দ্য মেট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা আগামী সব মৌসুমেও অপেরা ফর অল কার্যক্রম অব্যাহত রাখার পরিকল্পনা করছে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬ ২২:১
সাশ্রয়ী মূল্যের এই অ্যাপার্টমেন্টগুলোর লটারিতে অংশ নিতে পারবেন নিউইয়র্কবাসীরা। ছবি: সংগৃহীত
ম্যানহাটনে মাত্র ৮৬৩ ডলারে ২ বেডরুমের অ্যাপার্টমেন্ট, লটারিতে আবেদনের সুযোগ

নিউইয়র্কের ম্যানহাটনের হেলস কিচেন এলাকায় তুলনামূলক কম ভাড়ায় অ্যাপার্টমেন্ট পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। ‘দ্য লিরিও’ নামে নতুন নির্মিত নয়তলা ভবনে ৪৪টি অ্যাপার্টমেন্টের জন্য সাশ্রয়ী আবাসন লটারির আবেদন গ্রহণ শুরু হয়েছে। এর মধ্যে দুই বেডরুমের কিছু অ্যাপার্টমেন্টের মাসিক ভাড়া শুরু হচ্ছে মাত্র ৮৬৩ ডলার থেকে।   ৩৬৪ ওয়েস্ট ৫৪তম স্ট্রিটে অবস্থিত ভবনটিতে একাধিক ধরনের অ্যাপার্টমেন্ট রয়েছে। নিউইয়র্ক সিটির আবাসন লটারি ব্যবস্থার আওতায় নির্দিষ্ট আয়সীমা ও পারিবারিক আকারের শর্ত পূরণকারী নিউইয়র্কবাসীরা এসব বাসস্থানের জন্য আবেদন করতে পারবেন।   প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সাধারণ জনগণের জন্য উন্মুক্ত ৪৪টি অ্যাপার্টমেন্টের মাসিক ভাড়া ৮৬৩ থেকে ৩ হাজার ৬৫০ ডলারের মধ্যে। ভাড়া কত হবে, তা নির্ভর করবে অ্যাপার্টমেন্টের ধরন এবং আবেদনকারী পরিবারের নির্ধারিত বার্ষিক আয়ের সীমার ওপর।   সবচেয়ে কম ভাড়ার পাঁচটি দুই বেডরুমের অ্যাপার্টমেন্টের মাসিক ভাড়া ৮৬৩ ডলার। এসব অ্যাপার্টমেন্টের জন্য আবেদন করতে পারবে বছরে ৩৫ হাজার ৩১৫ থেকে ৫৪ হাজার ৯৬০ ডলার আয় করা পরিবার।   এ ছাড়া ২৫টি দুই বেডরুমের অ্যাপার্টমেন্টের মাসিক ভাড়া ২ হাজার ৭৭২ ডলার। এগুলোর জন্য নির্ধারিত বার্ষিক পারিবারিক আয় ১ লাখ ৭৬৬ থেকে ১ লাখ ৪১ হাজার ৬৪ ডলারের মধ্যে।   তিন বেডরুমের দুটি অ্যাপার্টমেন্টের মাসিক ভাড়া ৩ হাজার ১৮৬ ডলার। এসব বাসস্থানের জন্য পরিবারের বার্ষিক আয় ১ লাখ ১৬ হাজার ৪০০ থেকে ১ লাখ ৬৮ হাজার ৩২০ ডলারের মধ্যে হতে হবে।   আরও আটটি দুই বেডরুমের অ্যাপার্টমেন্টের মাসিক ভাড়া ৩ হাজার ২৬৮ ডলার। এ ক্ষেত্রে নির্ধারিত বার্ষিক আয় ১ লাখ ১৭ হাজার ৭৭২ থেকে ১ লাখ ৮৩ হাজার ২০০ ডলার।   সবচেয়ে বেশি ভাড়ার চারটি দুই বেডরুমের অ্যাপার্টমেন্টের মাসিক ভাড়া ৩ হাজার ৬৫০ ডলার। এগুলোর জন্য আবেদনকারী পরিবারের বার্ষিক আয় ১ লাখ ৩০ হাজার ৮৬৯ থেকে ২ লাখ ১৯ হাজার ৮৪০ ডলারের মধ্যে হতে হবে।   দ্য লিরিও ভবনটি দুটি নিউইয়র্ক সিটি সাশ্রয়ী আবাসন কর্মসূচির মাধ্যমে তৈরি করা হয়েছে। ভবনটির ৬০ শতাংশ ইউনিট নিম্ন আয়ের পরিবার, আগে গৃহহীন ছিলেন এমন নিউইয়র্কবাসী এবং বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন পরিবারগুলোর জন্য সংরক্ষিত। বাকি ৪০ শতাংশ ইউনিট সাধারণ জনগণের জন্য আবাসন লটারির মাধ্যমে দেওয়া হচ্ছে।   ভবনটিতে বাসিন্দাদের জন্য বেশ কিছু সুবিধাও রাখা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ২৪ ঘণ্টা কর্মী থাকা প্রবেশ লবি, ভবন ব্যবস্থাপকের কার্যালয়, সূর্যস্নানের খোলা জায়গা, শরীরচর্চা কেন্দ্র, পাঠাগার, অনুষ্ঠান আয়োজনের কক্ষ এবং লিফট।   হেলস কিচেন ম্যানহাটনের একটি ব্যস্ত আবাসিক ও বাণিজ্যিক এলাকা। ভবনটির অবস্থান সেন্ট্রাল পার্ক এবং নিউইয়র্কের বিভিন্ন থিয়েটার এলাকার কাছাকাছি হওয়ায় আবাসনটির অবস্থানও আকর্ষণীয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে।   আবেদনকারীদের প্রথমে নিজেদের পরিবারের সদস্যসংখ্যা এবং মোট বার্ষিক আয় নির্ধারিত সীমার মধ্যে রয়েছে কি না, তা যাচাই করতে হবে। এরপর নিউইয়র্ক সিটির অফিসিয়াল হাউজিং কানেক্ট ওয়েবসাইটের মাধ্যমে আবেদন করা যাবে। ডাকযোগেও আবেদন করার সুযোগ রয়েছে।   তবে একটি পরিবারকে মাত্র একটি আবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে অনলাইন ও ডাকযোগে আবেদন করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। আবেদনের শেষ সময় ৫ অক্টোবর ২০২৬।   নিউইয়র্ক সিটির সাশ্রয়ী আবাসন লটারিতে আবেদন করলেই অ্যাপার্টমেন্ট নিশ্চিত হয় না। যোগ্য আবেদনকারীদের মধ্য থেকে লটারির মাধ্যমে পরবর্তী ধাপের জন্য বাছাই করা হয় এবং এরপর আয়, পরিবারের সদস্যসংখ্যা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই করা হয়। তাই আবেদনকারীদের সব তথ্য সঠিকভাবে দেওয়া এবং প্রয়োজনীয় নথি প্রস্তুত রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।   দ্য লিরিওর এই লটারির তথ্য নিউইয়র্ক সিটির হাউজিং কানেক্টের তালিকার ভিত্তিতে প্রকাশ করা হয়েছে। তবে সরকারি পোর্টালটি সরাসরি যাচাই করার সময় প্রযুক্তিগত কারণে পেজটি খোলা যায়নি, তাই আবেদন করার আগে আবেদনকারীদের অফিসিয়াল হাউজিং কানেক্ট পোর্টালে বর্তমান ভাড়া, আয়সীমা, সময়সীমা ও যোগ্যতার শর্ত পুনরায় যাচাই করা উচিত।   সূত্র: নিউইয়র্ক সিটি হাউজিং কানেক্ট, Secret NYC, অ্যাসোসিয়েটেড তথ্য

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬ ২১:৩৫
কুইন্সের অপহরণ মামলায় দোষী সাব্যস্ত আবু চৌধুরী। ছবি: সংগৃহীত
নিজেকে নিউইয়র্কের রাজা দাবি করা বাংলাদেশি সুপারমার্কেট মালিক অপহরণ মামলায় দোষী সাব্যস্ত

নিউইয়র্কের কুইন্সে বাংলাদেশি কমিউনিটির মধ্যে প্রতিশোধমূলক অপহরণের একটি চক্র পরিচালনার দায়ে আবু চৌধুরী নামে ৩৬ বছর বয়সী এক সুপারমার্কেট মালিককে দোষী সাব্যস্ত করেছেন ব্রুকলিনের ফেডারেল আদালতের জুরি। দুই সপ্তাহের বিচার শেষে বৃহস্পতিবার মাত্র দুই ঘণ্টা deliberation করে জুরি তাকে তিনটি অপহরণ এবং তিনটি অপহরণের ষড়যন্ত্রের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করেন।   মার্কিন অ্যাটর্নির কার্যালয় জানিয়েছে, ২০২৩ সালের ২৭ মার্চ থেকে মে মাসের মাঝামাঝি পর্যন্ত প্রায় ছয় সপ্তাহের ব্যবধানে তিনজনকে অপহরণের ঘটনায় চৌধুরীর সম্পৃক্ততা প্রমাণিত হয়েছে। মামলায় ভুক্তভোগীদের আদালতে জন ডো-১, জন ডো-২ ও জন ডো-৩ নামে উল্লেখ করা হয়েছে।   চৌধুরী কুইন্সের জ্যামাইকা এলাকায় বিডি ফ্রেশ সুপারমার্কেটের সহ-মালিক। প্রসিকিউটরদের ভাষ্য অনুযায়ী, নিজের প্রভাব ও সুনাম বাড়ানোর পাশাপাশি তৎকালীন প্রেমিকা এবং বর্তমানে স্ত্রী ইফফাত লুবনার সম্মান রক্ষার দাবিতে তিনি অপহরণের পরিকল্পনাগুলোতে জড়িয়েছিলেন। আদালতে সরকারি কৌঁসুলি জোশুয়া ট্যানেন বলেন, চৌধুরী নিজেকে ‘কিং অব নিউইয়র্ক’ হিসেবে উপস্থাপন করতে চাইতেন।   মামলার প্রথম ঘটনাটি ঘটে ২০২৩ সালের ২৭ মার্চ। প্রসিকিউশন অনুযায়ী, কুইন্সের জ্যামাইকার ১৮১তম স্ট্রিট ও হিলসাইড অ্যাভিনিউয়ের কাছে হাঁটছিলেন জন ডো-১। সেখান থেকে তাকে জোর করে একটি হোন্ডা এসইউভিতে তোলা হয়। এরপর প্রায় ১৩ ঘণ্টা ধরে তাকে কুইন্সের বিভিন্ন এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয় এবং মারধর করা হয়।   আদালতে উপস্থাপিত প্রমাণ অনুযায়ী, ওই ঘটনায় চৌধুরী ভুক্তভোগীকে গাড়ি থেকে নামিয়ে একটি আবাসিক এলাকায় নগ্ন অবস্থায় দাঁড় করিয়ে ভিডিও ধারণ করেন। পরে অপহরণকারীরা তাকে পানি দেয়, যাতে ঘুমের ওষুধ মেশানো ছিল। ওই পানি পান করার পর তিনি জ্ঞান হারান এবং পরদিন এক স্থানীয় হাসপাতালে জ্ঞান ফিরে পান।   দ্বিতীয় ও তৃতীয় অপহরণের ঘটনা ঘটে ২০২৩ সালের মে মাসে। মার্কিন বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চৌধুরী ও লুবনা জন ডো-৩কে প্রলুব্ধ করে নিজেদের গাড়িতে তোলেন। বাংলাদেশে কলেজে পড়ার সময় তাদের পরিচয় ছিল এবং পরে দুজনই যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার পর আবার যোগাযোগ হয়। লুবনার সম্পর্কে ওই ব্যক্তির করা মন্তব্যকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয় বলে প্রসিকিউটররা আদালতে জানান।   ১০ মে থেকে শুরু হওয়া ওই ঘটনায় ভুক্তভোগীকে কুইন্সের বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যাওয়া হয় এবং মারধর করা হয়। পরে তাকে অন্য একটি ভুক্তভোগীর সঙ্গে একটি হোটেল কক্ষে নেওয়া হয়। মামলার প্রমাণ অনুযায়ী, সেখানে তাকে ভয় দেখিয়ে অপর ভুক্তভোগীকে মারধর করতে বাধ্য করার চেষ্টা করা হয়।   এর পরদিন, ১১ মে, আরেক ব্যক্তিকে কুইন্সের জ্যাকসন হাইটস এলাকায় অপহরণ করা হয়। ওই ব্যক্তি লুবনার সঙ্গে দেখা করার জন্য একটি রেস্তোরাঁর কাছে অপেক্ষা করছিলেন। প্রসিকিউটরদের ভাষ্য অনুযায়ী, চৌধুরী তাকে জোর করে একটি মিনিভ্যানে তুলে নেন এবং মারধর করেন। পরে তাকে একটি হোটেলে নেওয়া হয়। সেখানে চৌধুরীর বিরুদ্ধে তাকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগও প্রমাণিত হয়েছে।   এই ঘটনায় ভুক্তভোগীর বাবার কাছে ২০ হাজার ডলার মুক্তিপণ দাবি করা হয়েছিল বলে আদালতের নথিতে উল্লেখ রয়েছে। অপহরণের তৃতীয় দিনে ভুক্তভোগীকে হাত-পা বেঁধে ও চোখ ঢেকে একটি পরিত্যক্ত বাড়িতে রেখে যাওয়া হয়। পরে তিনি নিজের বাঁধন খুলে একটি জানালা ভেঙে বের হয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের সাহায্য চান। গুরুতর আঘাতের কারণে তাকে এক সপ্তাহ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয়।   মামলাটিতে চৌধুরীর স্ত্রী ইফফাত লুবনাও আগে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। চলতি বছরের ৯ এপ্রিল জুরি তাকে জন ডো-২ ও জন ডো-৩কে অপহরণ এবং অপহরণের ষড়যন্ত্রের ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত করে। এছাড়া সাইয়েদ রুবেল আহমেদ ও সুলতানা রাজিয়াও জন ডো-১কে অপহরণের ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন।   মার্কিন বিচার বিভাগ জানিয়েছে, চৌধুরী, লুবনা, আহমেদ ও রাজিয়া দোষী সাব্যস্ত হওয়া অপরাধগুলোর জন্য সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের মুখোমুখি হতে পারেন। তাদের সাজা পরে আদালত নির্ধারণ করবে।   ইস্টার্ন ডিস্ট্রিক্ট অব নিউইয়র্কের মার্কিন অ্যাটর্নি জোসেফ নোসেলা বলেন, আসামি ও তার সহযোগীদের কর্মকাণ্ড ছিল নিষ্ঠুর ও অর্থহীন এবং এ ধরনের অপরাধ কোনোভাবেই সহ্য করা যায় না। এফবিআই ও নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের যৌথ সহিংস অপরাধবিরোধী টাস্কফোর্স তদন্তে সহায়তা করেছে।   আদালতের তথ্য অনুযায়ী, রায়ের পরও চৌধুরী তাৎক্ষণিকভাবে কারাগারে যাননি। বিচারক নিনা মরিসন তাকে ২ লাখ ৫০ হাজার ডলারের বন্ডে, গৃহবন্দি অবস্থায় থাকার সুযোগ দিয়েছিলেন। প্রসিকিউটররা ওই জামিন বাতিলের আবেদন করেছেন। রায়ের পর শুক্রবার এ বিষয়ে শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।   কুইন্সের বাংলাদেশি কমিউনিটিতে আলোচিত এই মামলার সূত্রপাত ২০২৩ সালের অপহরণগুলোর তদন্ত থেকে। ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে মার্কিন বিচার বিভাগ প্রথমবার চৌধুরীসহ সাতজনের বিরুদ্ধে সহিংস অপহরণের অভিযোগের কথা জানায়। তখন কর্তৃপক্ষ বলেছিল, অভিযুক্ত ব্যক্তি ও ভুক্তভোগীরা একই জাতিগত কমিউনিটির সদস্য ছিলেন।   চলতি বছরের এপ্রিল, জুন ও সেপ্টেম্বরের পৃথক বিচার ও রায়ের মধ্য দিয়ে মামলাটির বিভিন্ন আসামির বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া এগিয়েছে। সর্বশেষ চৌধুরীর বিরুদ্ধে তিনটি অপহরণ ও তিনটি অপহরণের ষড়যন্ত্রের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার মধ্য দিয়ে মামলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধাপ শেষ হলো।   সূত্র: যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ, ইস্টার্ন ডিস্ট্রিক্ট অব নিউইয়র্ক; নিউইয়র্ক ডেইলি নিউজ

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬ ২১:১৩
যুক্তরাষ্ট্রে কর্মী সংকট কাটাতে স্থানীয়দের পাশাপাশি বিদেশি কর্মীদের ওপর জোর দেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে শ্রমিক সংকট, স্থানীয় কর্মী না পেয়ে বৈশ্বিক জনশক্তির দিকে নজর

যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে কর্মী সংকট অব্যাহত রয়েছে। স্থানীয় শ্রমবাজারে প্রয়োজনীয় কর্মী খুঁজে না পাওয়ার কারণে অনেক প্রতিষ্ঠানকে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় দীর্ঘ সময় ব্যয় করতে হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে স্থানীয় এলাকার বাইরে গিয়ে আন্তর্জাতিক শ্রমবাজার থেকেও দক্ষ কর্মী খোঁজার বিষয়টি বিবেচনা করার পরামর্শ দিয়েছেন অভিবাসন ও আন্তর্জাতিক কর্মী নিয়োগ বিশেষজ্ঞ কার্লোস গনজালেজ।   তার এক মতামতধর্মী লেখায় গনজালেজ বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমিক সংকটের একটি অংশ এমন একটি সমস্যার ফল, যেখানে প্রতিষ্ঠানগুলো একই সীমিত ভৌগোলিক এলাকার মধ্যে কর্মী খুঁজতে থাকে। ফলে প্রয়োজনীয় কর্মী না পেয়ে একই নিয়োগ প্রক্রিয়া বারবার চালাতে হয়।   সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানেও যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে কর্মী ঘাটতির চিত্র উঠে এসেছে। ন্যাশনাল ফেডারেশন অব ইন্ডিপেনডেন্ট বিজনেস বা এনএফআইবির আগস্ট ২০২৬ সালের জরিপ অনুযায়ী, ছোট ব্যবসার ৩৫ শতাংশ মালিক এমন পদে নিয়োগ দিতে পারেননি যেগুলোতে কর্মী প্রয়োজন ছিল। এই হার জুলাইয়ের তুলনায় ১ শতাংশ পয়েন্ট কম হলেও দীর্ঘমেয়াদি গড়ের চেয়ে ১১ পয়েন্ট বেশি।   একই জরিপে দেখা যায়, আগস্টে ৫৬ শতাংশ ছোট ব্যবসার মালিক কর্মী নিয়োগ করেছেন বা নিয়োগের চেষ্টা করেছেন। তাদের মধ্যে ৮২ শতাংশ জানিয়েছেন, তারা যে পদগুলোতে কর্মী খুঁজছিলেন সেসব পদের জন্য যোগ্য আবেদনকারী খুব কম পেয়েছেন অথবা কোনো যোগ্য আবেদনকারীই পাননি। এনএফআইবির হিসাবে, ২৯ শতাংশ মালিক অল্পসংখ্যক যোগ্য আবেদনকারী পেয়েছেন এবং ১৮ শতাংশ কোনো যোগ্য আবেদনকারী পাননি।   শ্রমবাজারের সামগ্রিক চিত্রও সংকটের বিষয়টি স্পষ্ট করে। যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর জুলাই ২০২৬ সালের চাকরির সুযোগ ও শ্রমিক বদলসংক্রান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই মাসের শেষ কর্মদিবসে দেশটিতে প্রায় ৭৩ লাখ চাকরির পদ খোলা ছিল। একই সময়ে নিয়োগ হয়েছে প্রায় ৫১ লাখ কর্মী।   গনজালেজের মতে, কোনো প্রতিষ্ঠান যদি বারবার একই পদে কর্মী নিয়োগ করে এবং কয়েক মাস পর আবার সেই পদ খালি হয়ে যায়, তাহলে প্রতিষ্ঠানটির সময় ও অর্থ দুটোই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কর্মীদের প্রশিক্ষণ, কাজের সময়সূচি পুনর্বিন্যাস, নতুন কর্মী খোঁজা এবং কর্মী ধরে রাখার ব্যয় বারবার বহন করতে হয়।   তার বক্তব্য অনুযায়ী, অস্থায়ী কর্মী নিয়োগের বিভিন্ন ব্যবস্থা নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে কার্যকর হলেও কোনো প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘমেয়াদি প্রয়োজন মেটাতে বারবার অস্থায়ী কর্মী নিয়োগ করা স্থায়ী সমাধান নাও হতে পারে। বিশেষ করে যেসব প্রতিষ্ঠানে একই ধরনের কর্মীর প্রয়োজন বছরের পর বছর থাকে, সেখানে দীর্ঘমেয়াদি কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে।   এ ক্ষেত্রে কর্মসংস্থানভিত্তিক স্থায়ী অভিবাসনের পথগুলোর কথাও তুলে ধরেছেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্রের কর্মসংস্থানভিত্তিক তৃতীয় অগ্রাধিকার বা ইবি-৩ কর্মসূচি এমন একটি ব্যবস্থা, যার মাধ্যমে নির্দিষ্ট যোগ্যতার বিদেশি কর্মীরা স্থায়ীভাবে যুক্তরাষ্ট্রে কাজ ও বসবাসের সুযোগের জন্য আবেদন করতে পারেন। তবে এ ধরনের প্রক্রিয়ায় যোগ্যতা, নিয়োগকর্তার ভূমিকা এবং অভিবাসন আইনের বিভিন্ন শর্ত পূরণ করতে হয়।   গনজালেজ মনে করেন, আন্তর্জাতিক কর্মী নিয়োগকে শুধু জরুরি পরিস্থিতির অস্থায়ী ব্যবস্থা হিসেবে না দেখে দীর্ঘমেয়াদি জনবল পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে। তার মতে, কর্মী সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে একটি প্রতিষ্ঠানের মানবসম্পদ বিভাগকে স্থানীয় নিয়োগের পাশাপাশি বৈধ আন্তর্জাতিক নিয়োগের সুযোগগুলোও মূল্যায়ন করা উচিত।   তবে বিদেশি কর্মী নিয়োগ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্ক রয়েছে। সমর্থকদের মতে, আন্তর্জাতিক কর্মী নিয়োগের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানগুলো প্রয়োজনীয় দক্ষতা ও শ্রমশক্তি পেতে পারে। অন্যদিকে সমালোচকেরা মনে করেন, কিছু ক্ষেত্রে বিদেশি কর্মী নিয়োগ স্থানীয় কর্মীদের সঙ্গে প্রতিযোগিতা বাড়াতে এবং মজুরির ওপর চাপ তৈরি করতে পারে।   এই কারণে আন্তর্জাতিক কর্মী নিয়োগকে যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমিক সংকটের একমাত্র সমাধান হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। স্থানীয় কর্মীদের প্রশিক্ষণ, মজুরি, কর্মপরিবেশ, পরিবহন, আবাসন এবং কর্মী ধরে রাখার নীতির পাশাপাশি বৈধ অভিবাসন ব্যবস্থাও শ্রমবাজারের সামগ্রিক পরিকল্পনার অংশ হতে পারে।   এনএফআইবির আগস্টের তথ্য বলছে, ছোট ব্যবসার ২৩ শতাংশ মালিক শ্রমিকের মান বা প্রাপ্যতাকে তাদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিচালনাগত সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। যদিও জুলাইয়ের তুলনায় এ হার ৪ পয়েন্ট কমেছে, এটি দীর্ঘমেয়াদি গড়ের চেয়ে ১১ পয়েন্ট বেশি। একই সময়ে ৩১ শতাংশ ছোট ব্যবসায় দক্ষ কর্মীর জন্য পদ খালি ছিল এবং ১৩ শতাংশ প্রতিষ্ঠানে অদক্ষ কর্মীর পদ খালি ছিল।   গনজালেজের প্রস্তাবিত পদ্ধতির মূল বিষয় হলো, যেসব পদ একই প্রতিষ্ঠানে বারবার খালি হচ্ছে সেগুলোকে আলাদা করে পর্যালোচনা করা। কোনো পদ প্রকৃতপক্ষে অস্থায়ী প্রয়োজনের জন্য, আর কোনটি প্রতিষ্ঠানের স্থায়ী জনবল কাঠামোর অংশ, তা নির্ধারণের পর নিয়োগের পথ ঠিক করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।   তার মতে, কোনো প্রতিষ্ঠান যদি একই পদে বারবার একই পদ্ধতিতে কর্মী খোঁজে এবং কর্মী ধরে রাখতে না পারে, তাহলে শুধু শ্রমিকের ঘাটতিকে সমস্যার কারণ হিসেবে দেখলে বিষয়টির পুরো চিত্র পাওয়া যায় না। নিয়োগ পদ্ধতি, কর্মপরিবেশ, মজুরি, প্রশিক্ষণ এবং দীর্ঘমেয়াদি কর্মসংস্থানের সুযোগও তখন বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।   তবে এই মতামতের একটি গুরুত্বপূর্ণ সীমাবদ্ধতা হলো, লেখক নিজেই আন্তর্জাতিক কর্মী নিয়োগে সহায়তাকারী একটি প্রতিষ্ঠানের আইনবিষয়ক পরিচালক। গ্লোবাল এক্সপ্রেস রিক্রুটিং নামের প্রতিষ্ঠানটি কর্মসংস্থানভিত্তিক অভিবাসন কর্মসূচির মাধ্যমে নিয়োগকর্তাদের আন্তর্জাতিক কর্মী নিয়োগে সহায়তা করে এবং এ থেকে আয় করে। ফলে তার প্রস্তাবিত আন্তর্জাতিক নিয়োগের মডেলকে ব্যবসায়িক স্বার্থের প্রেক্ষাপটেও দেখা প্রয়োজন।   সব মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে খালি পদ ও যোগ্য কর্মী খুঁজে পাওয়ার সমস্যাটি এখনও গুরুত্বপূর্ণ। সরকারি তথ্য অনুযায়ী জুলাইয়ে ৭৩ লাখ চাকরির সুযোগ খোলা ছিল এবং ছোট ব্যবসার একটি বড় অংশ আগস্টেও প্রয়োজনীয় কর্মী খুঁজে পেতে সমস্যার কথা জানিয়েছে।   বিশেষজ্ঞদের বিভিন্ন মতের মধ্যে একটি বিষয় স্পষ্ট, যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে কর্মী চাহিদা পূরণে স্থানীয় নিয়োগের পাশাপাশি দক্ষতা উন্নয়ন, কর্মী ধরে রাখা এবং আইনসম্মত আন্তর্জাতিক নিয়োগের সুযোগ নিয়ে আলোচনা অব্যাহত থাকবে।   সূত্র: ইউএস ব্যুরো অব লেবার স্ট্যাটিস্টিকস, ন্যাশনাল ফেডারেশন অব ইন্ডিপেনডেন্ট বিজনেস, ইউএসসিআইএস

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬ ২০:৫৬
চিকিৎসকের সহায়তায় মৃত্যু নিশ্চিত করতে কানাডায় বিশেষ প্রক্রিয়ায় ব্যথামুক্ত ইনজেকশন বা ওষুধ প্রয়োগ করা হয়। ছবি: সংগৃহীত
কানাডায় প্রতি দশজনের মধ্যে একজনের মৃত্যু হচ্ছে স্বেচ্ছামৃত্যুর মাধ্যমে

কানাডায় চিকিৎসকের সহায়তায় জীবনাবসানের ব্যবস্থা চালুর এক দশক পূর্ণ হওয়ার সময়ে এ ব্যবস্থার আওতায় মৃত্যুর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। দেশটির সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০১৬ সালে চালু হওয়া ‘মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্স ইন ডায়িং’ বা এমএআইডির আওতায় ২০২৪ সাল পর্যন্ত ৭৬ হাজার ৪৭৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। শুধু ২০২৪ সালেই এ ব্যবস্থার মাধ্যমে মারা গেছেন ১৬ হাজার ৪৯৯ জন।   কানাডার বিভিন্ন অঞ্চলে এমএআইডির আওতায় মৃত্যুর হার আরও বেশি। বিশেষ করে কুইবেক প্রদেশের লানদিয়ের অঞ্চলে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে মোট মৃত্যুর ১৩ দশমিক ৪ শতাংশ এমএআইডির আওতায় হয়েছে বলে কুইবেকের জীবনাবসান-সংক্রান্ত কমিশনের প্রতিবেদনের তথ্য উদ্ধৃত করে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। একই সময়ে পুরো কুইবেকে ৬ হাজার ২৬৮ জন এমএআইডির মাধ্যমে মারা যান, যা আগের সময়ের তুলনায় প্রায় ৯ শতাংশ বেশি।   তবে কানাডার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় স্পষ্ট করেছে। এমএআইডিকে দেশটির সরকারি পরিসংখ্যানে মৃত্যুর একটি ‘কারণ’ হিসেবে গণ্য করা হয় না। যেমন, কোনো ক্যানসার আক্রান্ত ব্যক্তি এমএআইডি গ্রহণ করে মারা গেলে মৃত্যুসনদে সাধারণত ক্যানসারকেই মৃত্যুর কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। তাই এমএআইডির সংখ্যা সরাসরি অন্যান্য রোগ বা মৃত্যুর কারণের সঙ্গে তুলনা করা উচিত নয়।   ২০২৪ সালের সরকারি প্রতিবেদনে দেখা যায়, ওই বছর এমএআইডির আওতায় মৃত্যুর ৯৫ দশমিক ৬ শতাংশ ছিল ‘ট্র্যাক-১’ শ্রেণির। অর্থাৎ এসব ব্যক্তির স্বাভাবিক মৃত্যু যুক্তিসংগতভাবে অদূর ভবিষ্যতে প্রত্যাশিত ছিল। বাকি ৪ দশমিক ৪ শতাংশ ছিল ‘ট্র্যাক-২’, যেখানে স্বাভাবিক মৃত্যু অদূর ভবিষ্যতে প্রত্যাশিত ছিল না।   ২০১৯ সালে কানাডায় এমএআইডির আওতায় ৫ হাজার ৪৬১ জনের মৃত্যু হয়েছিল। ২০২০ সালে তা বেড়ে ৭ হাজার ৪৬৯, ২০২১ সালে ১০ হাজার ৬৬, ২০২২ সালে ১৩ হাজার ১৯৯ এবং ২০২৩ সালে ১৫ হাজার ৪২৭ জনে দাঁড়ায়। ২০২৪ সালে সংখ্যা বেড়ে হয় ১৬ হাজার ৪৯৯। যদিও সংখ্যা বাড়ছে, বৃদ্ধির হার আগের তুলনায় কমেছে। ২০২৩ থেকে ২০২৪ সালে বৃদ্ধির হার ছিল ৬ দশমিক ৯ শতাংশ।   ২০২৪ সালে এমএআইডির জন্য মোট ২২ হাজার ৫৩৫টি অনুরোধের তথ্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কাছে জমা পড়ে। এর মধ্যে ১৬ হাজার ৪৯৯ জন শেষ পর্যন্ত এমএআইডি পান। আরও ৪ হাজার ১৭ জন আবেদনকারী অন্য কোনো কারণে মারা যান, ১ হাজার ৩২৭ জনকে যোগ্য হিসেবে বিবেচনা করা হয়নি এবং ৬৯২ জন নিজেদের আবেদন প্রত্যাহার করেন।   কানাডায় এমএআইডি চালুর পেছনে ২০১৫ সালের সুপ্রিম কোর্টের একটি গুরুত্বপূর্ণ রায় ছিল। এরপর ২০১৬ সালে পার্লামেন্ট আইন প্রণয়ন করে নির্দিষ্ট শর্ত ও সুরক্ষা ব্যবস্থার অধীনে যোগ্য প্রাপ্তবয়স্কদের চিকিৎসকের সহায়তায় জীবনাবসানের সুযোগ দেয়। বর্তমানে মানসিক অসুস্থতাকে একমাত্র ভিত্তি হিসেবে এমএআইডির যোগ্যতার ক্ষেত্রে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি ১৭ মার্চ ২০২৭ পর্যন্ত স্থগিত রয়েছে।   এদিকে কানাডার স্বাস্থ্যব্যবস্থায় চিকিৎসার জন্য দীর্ঘ অপেক্ষার বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে। ফ্রেজার ইনস্টিটিউটের ২০২৫ সালের চিকিৎসা-অপেক্ষা সংক্রান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পারিবারিক চিকিৎসকের কাছ থেকে বিশেষজ্ঞের কাছে পাঠানোর পর চিকিৎসা পাওয়া পর্যন্ত কানাডায় মধ্যমা অপেক্ষার সময় ছিল ২৮ দশমিক ৬ সপ্তাহ। অস্থি-সংক্রান্ত অস্ত্রোপচারের ক্ষেত্রে তা ছিল ৪৮ দশমিক ৬ সপ্তাহ। তবে এটি একটি স্বাধীন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের চিকিৎসকদের ওপর পরিচালিত জরিপভিত্তিক হিসাব, সরকারি স্বাস্থ্য পরিসংখ্যান নয়।   এমএআইডি নিয়ে বিতর্কের একটি বড় অংশ হলো, এটি রোগীর নিজের সিদ্ধান্ত ও কষ্ট থেকে মুক্তির অধিকারকে গুরুত্ব দেয়, নাকি গুরুতর অসুস্থ ও ঝুঁকিপূর্ণ মানুষের ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত সুরক্ষা নিশ্চিত করা কঠিন করে তুলতে পারে। কানাডার সরকার বলছে, এমএআইডির জন্য কঠোর যোগ্যতার শর্ত ও সুরক্ষা ব্যবস্থা রয়েছে। অন্যদিকে কিছু চিকিৎসক, অধিকারকর্মী ও সংগঠন এসব সুরক্ষা কতটা কার্যকরভাবে প্রয়োগ হচ্ছে তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।   সাম্প্রতিক সময়ে কয়েকটি ব্যক্তিগত ঘটনাও এ বিতর্ককে নতুন করে সামনে এনেছে। ৮৩ বছর বয়সী ব্রিজিট স্টেগেমানের মৃত্যুকে ঘিরে তার নাতনি অভিযোগ করেছেন, এমএআইডি গ্রহণের আগে তার দাদি সিদ্ধান্তটি নিয়ে দ্বিধায় ছিলেন এবং শেষ মুহূর্তে বলেছিলেন, ‘আমি ভুল করেছি’। পরিবারটি ঘটনাটি তদন্তের দাবি জানিয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা ও এমএআইডির সব নিয়ম যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছিল কি না, তা স্বাধীন তদন্ত বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের বিষয়।   আরেকটি আলোচিত ঘটনা ২৬ বছর বয়সী কিয়ানো ভাফাইয়ানের। তিনি ২০২৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর এমএআইডির মাধ্যমে মারা যান। তার মা দাবি করেছেন, ছেলের শারীরিক সমস্যা ও মানসিক অবস্থার কারণে তিনি ওই সিদ্ধান্ত নেওয়ার উপযুক্ত অবস্থায় ছিলেন না। তবে এমএআইডি প্রদানকারী চিকিৎসক এলেন ভিয়েবে বলেছেন, তিনি কাউকে কেবল মানসিক অসুস্থতার ভিত্তিতে এমএআইডি দেননি। কানাডায় শুধু মানসিক অসুস্থতাকে ভিত্তি করে এমএআইডি দেওয়ার সুযোগ এখনও স্থগিত রয়েছে।   অন্যদিকে এমএআইডির সমর্থকেরা বলেন, গুরুতর ও অসহনীয় কষ্টে থাকা যোগ্য রোগীদের নিজেদের জীবনের শেষ পর্যায় সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার থাকা উচিত। কানাডার সরকারি প্রতিবেদনও এমএআইডিকে নির্দিষ্ট যোগ্যতা ও আইনি সুরক্ষার অধীনে দেওয়া একটি স্বাস্থ্যসেবা হিসেবে বর্ণনা করেছে।   কানাডায় এমএআইডি চালুর ১০ বছর পূর্তির সময়ে তাই এ ব্যবস্থা নিয়ে বিতর্ক কেবল মৃত্যুর সংখ্যা বৃদ্ধিকে ঘিরে নয়। রোগীর স্বায়ত্তশাসন, চিকিৎসকের ভূমিকা, প্যালিয়েটিভ বা জীবনাবসানকালীন সেবা, চিকিৎসা পাওয়ার অপেক্ষার সময় এবং ঝুঁকিপূর্ণ রোগীদের সুরক্ষা, সবকিছুই এখন আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে।   সূত্র: কানাডার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, কুইবেক কমিশন অন এনড-অব-লাইফ কেয়ার, ফ্রেজার ইনস্টিটিউট, নিউইয়র্ক পোস্ট

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬ ২০:৩৮
১০০ ফুট লালগালিচায় শি জিনপিংকে ডোনাল্ড ট্রাম্পের রাজকীয় অভ্যর্থনা
১০০ ফুট লালগালিচায় শি জিনপিংকে ডোনাল্ড ট্রাম্পের রাজকীয় অভ্যর্থনা

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ১০০ ফুট (৩০ মিটার) দীর্ঘ লালগালিচা বিছিয়ে এবং সামরিক বিমান উড়িয়ে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে রাজকীয়ভাবে স্বাগত জানিয়েছেন। এর মধ্য দিয়ে ওয়াশিংটনে শুরু হয়েছে বিশ্বের দুই প্রভাবশালী পরাশক্তির নেতার অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ তিন দিনের বৈঠক।   বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় মেরিল্যান্ডের জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজে চীনের প্রেসিডেন্টকে স্বাগত জানাতে বিমানবন্দরে সস্ত্রীক উপস্থিত হন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। ২০১৫ সালের পর ওয়াশিংটনে শি জিনপিংয়ের এটিই প্রথম সফর। গুরুত্বপূর্ণ এই সফরে দুই নেতার রুদ্ধদ্বার বৈঠক ও রাষ্ট্রীয় নৈশভোজের পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ইরান যুদ্ধ, তাইওয়ান ইস্যু এবং দুই দেশের মধ্যে চলমান বাণিজ্যিক যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর মতো বিষয়গুলো সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাবে বলে জানা গেছে।   বুধবার স্থানীয় সময় বিকেল ৫টা ৩৯ মিনিটে এয়ার চায়নার একটি বিশেষ ফ্লাইটে ওয়াশিংটনে পৌঁছান শি জিনপিং ও তার স্ত্রী পেং লিয়ুয়ান। বিমান থেকে নামার পরপরই তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানান ডোনাল্ড ও মেলানিয়া ট্রাম্প। লালগালিচার দুই পাশে দাঁড়িয়ে সম্মান জানান মার্কিন রক্ষীদলের সদস্যরা।   এ সময় তাদের মাথার ওপর দিয়ে উড়ে যায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতার প্রতীক দুটি সুপারসনিক বি-১ বোমারু বিমান এবং মার্কিন আর্মি এয়ার ফোর্স ব্যান্ড বাজায় জাতীয় সংগীত। এই অভ্যর্থনার একটি বিশেষ ঐতিহাসিক দিক রয়েছে। ১৯৬২ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জন এফ কেনেডি ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী হ্যারল্ড ম্যাকমিলানকে স্বাগত জানানোর পর, এই প্রথম কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্ট জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজে সশরীরে উপস্থিত হয়ে কোনো বিদেশি নেতাকে স্বাগত জানালেন।   এদিকে শি’র সফরের মধ্যেই মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট ঘোষণা দিয়েছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র ও চীন তাদের মধ্যকার চলমান বাণিজ্যিক যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আগামী জানুয়ারি পর্যন্ত বাড়াবে, যা ১০ নভেম্বর শেষ হওয়ার কথা ছিল। চুক্তির আওতায় ট্রাম্প কিছু চীনা পণ্যের ওপর শুল্ক কমিয়েছেন এবং বিনিময়ে চীন বিরল খনিজ বা রেয়ার আর্থ রপ্তানির ওপর থেকে কিছু বিধিনিষেধ শিথিল করেছে।   ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প ফক্স নিউজকে জানান, দুই নেতার মধ্যকার চমৎকার সম্পর্কের কারণেই ট্রাম্প বিমানবন্দরে সশরীরে উপস্থিত হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। শি জিনপিংয়ের সফরসঙ্গী হিসেবে রয়েছেন চীনা কমিউনিস্ট পার্টির পলিটব্যুরোর স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্য ক্যাই ছি, ভাইস প্রিমিয়ার হে লাইফেং এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই।   সফর উপলক্ষে চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সিনহুয়ায় দেওয়া এক বিবৃতিতে শি জিনপিং বলেছেন, চীনা জাতির মহান পুনর্জাগরণ এবং আমেরিকাকে পুনরায় মহান করে তোলার লক্ষ্য— এই দুটি বিষয় সম্পূর্ণ সহাবস্থান করতে পারে এবং তা পুরো বিশ্বের জন্যই সুফল বয়ে আনবে।   বৃহস্পতিবার আয়োজিত বিশেষ রাষ্ট্রীয় নৈশভোজে যুক্তরাষ্ট্রের এআই খাতের শীর্ষ নির্বাহীদের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে, যেখানে দুই দেশের প্রযুক্তিগত ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা হতে পারে। শুক্রবার শেষ হবে চীনের প্রেসিডেন্টের এই ঐতিহাসিক যুক্তরাষ্ট্র সফর।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬ ১৯:৩৪
ক্যালিফোর্নিয়ায় জোড়া খু নের অভিযোগে যুবক গ্রেপ্তার, সিরিয়াল কিলার আতঙ্কে তদন্তকারীরা
ক্যালিফোর্নিয়ায় জোড়া খু নের অভিযোগে যুবক গ্রেপ্তার, সিরিয়াল কিলার আতঙ্কে তদন্তকারীরা

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় টহলরত এক পুলিশ কর্মকর্তার কাছে গিয়ে নিজেই খুনের রোমহর্ষক স্বীকারোক্তি দিয়েছেন এক যুবক। পরবর্তীতে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে দুটি ভিন্ন স্থান থেকে দুজনের মরদেহ উদ্ধার করেছেন তদন্তকারীরা। এই ঘটনার পর ওই যুবক কোনো ভয়ংকর সিরিয়াল কিলার বা ক্রমিক খুনি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে যাচ্ছিলেন কি না, তা নিয়ে খোদ কৌঁসুলিরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।   পুলিশ জানিয়েছে, ২৮ বছর বয়সী ওই যুবকের নাম মার্সেলিনো কাস্ত্রো। শনিবার বিকেল ৫টা ১৪ মিনিটের দিকে সান জোসে পুলিশের এক টহল কর্মকর্তার কাছে গিয়ে তিনি একজনকে হত্যার কথা স্বীকার করেন। তার এই স্বীকারোক্তির পর শহরের গুয়াডালুপ নদী এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে দুটি মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ, যা থেকে আরও সম্ভাব্য খুনের শঙ্কা তৈরি হয়েছে।   সান্তা ক্লারা কাউন্টির ডেপুটি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি মাইকেল গ্যাডেবার্গ জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত দুজনের মরদেহ মিললেও এটি একটি সম্ভাব্য সিরিয়াল কিলিংয়ের শুরু বলেই মনে হচ্ছে। কাস্ত্রো আরও হত্যাযজ্ঞ চালানোর আগেই আত্মসমর্পণ করায় তিনি স্বস্তি প্রকাশ করেছেন।   পুলিশি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কাস্ত্রো প্রথম যাকে হত্যা করেছিলেন, তিনি তার পূর্বপরিচিত ছিলেন। গত ১৩ সেপ্টেম্বর তারা টামিয়েন স্টেশনের কাছে মেথামফেটামিন মাদক সেবন করতে গিয়েছিলেন। সেখানে কোনো প্ররোচনা ছাড়াই কাস্ত্রো তার পরিচিত ওই ব্যক্তিকে শ্বাসরোধ করেন এবং গলা কেটে হত্যার পর গুয়াডালুপ নদীর কাছে একটি অগভীর গর্তে মৃতদেহটি লুকিয়ে রাখেন।   পরবর্তীতে জিজ্ঞাসাবাদের সময় কাস্ত্রো গোয়েন্দাদের দ্বিতীয় আরেকটি খুনের তথ্য দেন, যার সূত্র ধরে অটাম পার্কওয়ে এবং কোলম্যান অ্যাভিনিউ এলাকা থেকে অপর এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়।   দ্বিতীয় খুনের ধরনটি ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। কাস্ত্রো পুলিশকে জানান, গত ১৫ বা ১৬ সেপ্টেম্বর তিনি অপরিচিত ওই ব্যক্তিকে ধূমপান করার প্রলোভন দেখিয়ে কোলম্যান অ্যাভিনিউয়ের উত্তরে গুয়াডালুপ রিভার ট্রেইলে নিয়ে যান। এরপর তাকে শ্বাসরোধ করার পাশাপাশি পাথর দিয়ে আঘাত করে হত্যা করেন। পরে মৃতদেহটি একটি লাল রঙের তাঁবুতে মুড়িয়ে লম্বা ঘাসের মধ্যে ফেলে রাখেন।   নিহত দুই ব্যক্তির পরিচয় এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এলাকাটি সাধারণত গৃহহীন মানুষের আনাগোণায় পূর্ণ থাকলেও, অভিযুক্ত যুবক প্রলোভন দেখিয়েই তাদের সেখানে নিয়ে গিয়েছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।   এই জোড়া খুনের পেছনের আসল উদ্দেশ্য এখনও তদন্তাধীন রয়েছে। নিহত দুই ব্যক্তির মধ্যে আপাতদৃষ্টিতে কোনো যোগসূত্র না থাকায় বিষয়টি তদন্তকারীদের ভাবিয়ে তুলেছে। ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি গ্যাডেবার্গের ধারণা, অভিযুক্ত যুবকের মধ্যে হয়তো মানুষ খুনের এক ধরনের মানসিক তাড়না তৈরি হয়েছিল, যা পরিচিত একজনকে হত্যার মধ্য দিয়ে শুরু হয়ে পরবর্তীতে একজন সম্পূর্ণ অপরিচিত ব্যক্তির ওপর গিয়ে বর্তায়।   বর্তমানে জোড়া খুনের অভিযোগে কাস্ত্রোকে সান্তা ক্লারা কাউন্টির প্রধান কারাগারে বন্দি রাখা হয়েছে। এই দুটি হত্যাকাণ্ডকে ২০২৬ সালে সান জোসে শহরের ২০তম এবং ২১তম হত্যাকাণ্ড হিসেবে নথিভুক্ত করে বিস্তারিত তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬ ১৯:৭
যুক্তরাষ্ট্রে এইচ-১বি ভিসায় ১ লাখ ডলার ফি, অনিশ্চয়তায় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ
যুক্তরাষ্ট্রে এইচ-১বি ভিসায় ১ লাখ ডলার ফি, অনিশ্চয়তায় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ

যুক্তরাষ্ট্রে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার আবেদন প্রক্রিয়ায় এক লাখ মার্কিন ডলার ফি আরোপের প্রস্তাব করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই বিপুল পরিমাণ ফির প্রস্তাবের ফলে চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন সেখানে অধ্যয়নরত ও কর্মরত হাজারো আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ও পেশাজীবী।   নতুন এই নীতির কারণে বিদেশি মেধাবীদের নিয়োগের ক্ষেত্রে নিয়োগকর্তারাও পিছিয়ে আসছেন, যার বিরূপ প্রভাব পড়ছে শ্রেয়া মিশ্র রেড্ডির মতো অসংখ্য আন্তর্জাতিক স্নাতকের ক্যারিয়ারে। চার বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রে নিজের জীবন ও ক্যারিয়ার গড়ে তোলার পর সম্প্রতি বাধ্য হয়েই পাততাড়ি গুটিয়ে কানাডার টরন্টোতে পাড়ি জমিয়েছেন শ্রেয়া।   ভারতে ছয় বছরের কাজের অভিজ্ঞতা নিয়ে ২০২১ সালে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান শ্রেয়া। এরপর ২০২২ সালে ডিউক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইঞ্জিনিয়ারিং ম্যানেজমেন্টে ডিগ্রি সম্পন্ন করার পর তিনি বিশ্বখ্যাত প্রতিষ্ঠান ‘ভিসা’-তে একটি লোভনীয় করপোরেট চাকরি পান।   ডিউক এবং হার্ভার্ড বিজনেস স্কুলের মতো শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠানের ডিগ্রি থাকা সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্রে তাঁর দীর্ঘমেয়াদী বসবাস নির্ভর করছিল সম্পূর্ণ ভাগ্যনির্ভর এইচ-১বি ভিসার লটারির ওপর। এর মধ্যেই ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নতুন এইচ-১বি আবেদনের ক্ষেত্রে এক লাখ ডলার ফি নির্ধারণের প্রস্তাব আনলে ভিসা আবেদনকারী ও নিয়োগকর্তাদের মধ্যে তীব্র বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়।   একজন বিদেশি কর্মীকে নিয়োগ দিতে কোম্পানিগুলোকে এক লাখ ডলার ফি গুনতে হতে পারে— এমন বাস্তবতায় শ্রেয়া চরম অনিশ্চয়তায় পড়েন। চাকরিরত অবস্থায় শ্রেয়া তিনবার এইচ-১বি লটারিতে অংশ নিলেও প্রতিবারই তিনি প্রত্যাখ্যাত হন। তৃতীয়বার প্রত্যাখ্যানের পর তাঁর স্টুডেন্ট ওয়ার্ক পারমিটের মেয়াদ শেষ হয়ে আসে।   সেই হতাশাজনক মুহূর্তে নিজের অফিসে বসেই কান্নায় ভেঙে পড়ার কথা সম্প্রতি লিংকডইনে শেয়ার করেছেন তিনি। আইনি অনুমোদনের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী হওয়ার স্বপ্ন ত্যাগ করে ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে বাধ্য হয়েই আমেরিকা ছাড়েন তিনি। ভারতে ফিরে যাওয়ার বদলে বর্তমানে তিনি পর্যটক ভিসায় কানাডার টরন্টোতে অস্থায়ীভাবে অবস্থান করে ভবিষ্যতের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের পথ খুঁজছেন।   গত বছরের সেপ্টেম্বর থেকে বিজনেস ইনসাইডার এমন অসংখ্য ভুক্তভোগীর সাক্ষাৎকার নিয়েছে, যারা এই ভিসা-জটিলতার কারণে চরম বিপাকে পড়েছেন। অনেকেই যুক্তরাষ্ট্রে থাকবেন নাকি নিজ দেশে ফিরে যাবেন, তা নিয়ে তীব্র দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভুগছেন; আবার অনেকেই বাধ্য হয়ে এই ব্যবস্থা থেকে নিজেদের গুটিয়ে নিচ্ছেন।   শ্রেয়া বিজনেস ইনসাইডারকে জানান, তিনি সত্যিই বিশ্বাস করেছিলেন যে এইচ-১বি লটারিতে তিনি সফল হবেন, আর সেটি না হওয়ায় তাঁর গভীর আক্ষেপ রয়েছে। তবে নিজের এই প্রবাস জীবনকে তিনি নিছক ব্যর্থতা নয়, বরং ঘুরে দাঁড়ানোর একটি বড় শিক্ষা হিসেবেই দেখছেন।   শ্রেয়ার এই অভিজ্ঞতাটি আমেরিকার শ্রমবাজারে বিদেশি শিক্ষাবিদ ও পেশাজীবীদের বৃহত্তর পরিসংখ্যানগত সংকটেরই একটি খণ্ডচিত্র মাত্র। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৪১ শতাংশ এফ-১ (F-1) স্টুডেন্ট ভিসা আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে।   পাশাপাশি ২০২৫ সাল নাগাদ ভারতীয় ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ভিসা প্রদানের হারও ব্যাপকভাবে সংকুচিত হয়েছে। বছরের পর বছর ধরে বিদেশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মেধা ও সময় বিনিয়োগ করার পরও আন্তর্জাতিক প্রতিভাবানদের ক্যারিয়ার যখন তাদের যোগ্যতার বদলে লটারি পদ্ধতি এবং অত্যধিক ভিসা ফির মতো বাধা দিয়ে নির্ধারিত হয়, তখন তা বৈশ্বিক মেধাবীদের জন্য এক চরম হতাশার বাস্তবতাই তুলে ধরে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬ ১৮:৪৮
মিয়ামিতে জি-টোয়েন্টি সম্মেলনে পুতিনকে ট্রাম্পের আমন্ত্রণ, ক্ষুব্ধ ইউরোপ
মিয়ামিতে জি-টোয়েন্টি সম্মেলনে পুতিনকে ট্রাম্পের আমন্ত্রণ, ক্ষুব্ধ ইউরোপ

ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান ঘটানোর কূটনৈতিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠেয় আসন্ন জি-টোয়েন্টি সম্মেলনে যোগ দেওয়ার আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানিয়েছে ওয়াশিংটন। নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভের সঙ্গে বৈঠকের পর মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এই তথ্য নিশ্চিত করেন।   আগামী ডিসেম্বরে ফ্লোরিডার মিয়ামিতে অনুষ্ঠেয় এই শীর্ষ সম্মেলনকে পুতিনের জন্য অন্যান্য বিশ্বনেতাদের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার এক বড় ‘সুযোগ’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন রুবিও। পুতিন যদি এই আমন্ত্রণ গ্রহণ করেন, তবে ২০২২ সালে ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রায় সামরিক অভিযান শুরুর পর এটিই হবে যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডে তাঁর প্রথম সফর এবং ২০১৯ সালের পর কোনো জি-টোয়েন্টি সম্মেলনে সশরীরে প্রথম উপস্থিতি।   আমন্ত্রণের বিষয়ে ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ জানিয়েছেন, মস্কো এখনো এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি। তবে ওয়াশিংটনের ইতিবাচক এই উদ্যোগকে রাশিয়া গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে এবং সমন্বয়ের পর আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত জানানো হবে। পেসকভ আবারও স্পষ্ট করেন, মস্কো কোনো সাময়িক যুদ্ধবিরতি নয়, বরং একটি স্থায়ী শান্তি সমাধান চায়। দৃশ্যত দুই দেশের সম্পর্কের টানাপোড়েন চললেও নেপথ্যে কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।   সম্প্রতি মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ-র প্রধান জন র‍্যাটক্লিফ অঘোষিত সফরে মস্কো গিয়েছিলেন। এছাড়া অর্থনৈতিক সহযোগিতা, জ্বালানি ইস্যু ও ইউক্রেন শান্তি আলোচনা এগিয়ে নিতে রুশ বিশেষ দূত কিরিল দিমিত্রিয়েভ মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারের সঙ্গে বৈঠক করতে যাচ্ছেন বলে জানা গেছে।   এদিকে নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেল ও জ্বালানির রেকর্ড মূল্যবৃদ্ধির কারণে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে একটি ‘জ্বালানি যুদ্ধবিরতি’র ওপর জোর দিচ্ছেন। যদিও গত সপ্তাহেই তিনি রুশ জ্বালানি ক্রেতা ও পুতিনের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের ক্ষমতাসম্পন্ন একটি কঠোর আইনে স্বাক্ষর করেছিলেন।   ট্রাম্পের দাবি, ইউক্রেনের পক্ষ থেকে রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা বিশ্ব অর্থনীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। তবে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ট্রাম্প ভুল জায়গায় চাপ প্রয়োগ করছেন; আক্রমণ বন্ধ করা এবং ইউক্রেনের সার্বভৌমত্ব স্বীকার করার মূল দায়িত্ব রাশিয়ার। তদুপরি, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ও হরমুজ প্রণালী বন্ধ হওয়ার কারণেই মূলত জ্বালানির বাজার অস্থির হয়েছে।   আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) ইউক্রেনীয় শিশুদের বেআইনিভাবে রাশিয়ায় স্থানান্তরের যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে পুতিনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে রাখলেও মিয়ামি সফরে পুতিনের গ্রেপ্তার হওয়ার কোনো আইনি ঝুঁকি নেই। কারণ যুক্তরাষ্ট্র আইসিসির প্রতিষ্ঠাতা চুক্তি ‘রোম সংবিধি’র সদস্য নয়।   উল্টো ডোনাল্ড ট্রাম্প আইসিসিকে ‘নিয়ন্ত্রণহীন ও দুর্বৃত্ত প্রতিষ্ঠান’ আখ্যা দিয়ে সাধারণ পরিষদে সদস্য দেশগুলোকে এটি থেকে অবিলম্বে পদত্যাগ করার আহ্বান জানিয়েছেন। তাছাড়া গাজা যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধেও পরোয়ানা থাকায় সংস্থাটির ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রস্তুতিও চলছে।   তবে পুতিনকে জি-টোয়েন্টিতে আমন্ত্রণের ঘটনায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইউরোপের দেশগুলো। ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান কাজা কালাস এই পদক্ষেপের কড়া সমালোচনা করে বলেছেন, যারা আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে যুদ্ধ শুরু করেছে এবং বেসামরিক মানুষ হত্যা করেছে, তাদের এভাবে স্বাভাবিক হিসেবে গ্রহণ করা বিশ্বজুড়ে ভুল বার্তা দেবে।   অন্যদিকে ইউক্রেনের অন্যতম মিত্র পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড তুস্ক গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছেন, এমন পদক্ষেপ রাশিয়াকে শান্তি আলোচনার দিকে আনার বদলে তাদের আক্রমণাত্মক নীতি অব্যাহত রাখতে আরও বেশি উৎসাহিত করবে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬ ১৮:৩০
২০২৪ সালে পেনসিলভানিয়ায় ট্রাম্পের নির্বাচনী সমাবেশে গু লিবিদ্ধ জেমস কোপেনহেভারের মৃ ত্যু
২০২৪ সালে পেনসিলভানিয়ায় ট্রাম্পের নির্বাচনী সমাবেশে গু লিবিদ্ধ জেমস কোপেনহেভারের মৃ ত্যু

২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়া অঙ্গরাজ্যের বাটলার শহরে সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাচনী সমাবেশে এক ব্যর্থ হত্যাচেষ্টার ঘটনায় গুলিবিদ্ধ জেমস কোপেনহেভার মারা গেছেন। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই হামলায় মারাত্মকভাবে আহত হওয়ার পর দীর্ঘ দুই বছর ধরে তিনি শারীরিক নানা জটিলতায় ভুগছিলেন। ৭৬ বছর বয়সী এই বৃদ্ধের শরীরে গুলির কিছু অংশ মৃত্যুর আগ পর্যন্ত রয়ে গিয়েছিল এবং তিনি স্থায়ী স্নায়বিক ক্ষতির শিকার হয়েছিলেন।   হাউস রিপাবলিকান কনফারেন্স সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে জেমস কোপেনহেভারের মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করেছে। বিবৃতিতে আইনপ্রণেতারা তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে জানান, তিনি অসীম শক্তি ও অধ্যবসায়ের সঙ্গে এই অবর্ণনীয় কষ্ট সহ্য করেছেন।   উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে আয়োজিত ওই সমাবেশে থমাস ম্যাথিউ ক্রুকস নামের এক বন্দুকধারী পাশের একটি গ্লাস ম্যানুফ্যাকচারিং ভবনের ছাদ থেকে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। ওই ঘটনায় ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা কোরি কম্পারেটোর নিহত হন এবং জেমস কোপেনহেভার ও ডেভিড ডাচ নামের দুই দর্শনার্থী গুরুতর আহত হয়েছিলেন।   ২০২৫ সালে এক সাক্ষাৎকারে জেমস কোপেনহেভার ওই দিনের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেছিলেন। তিনি জানিয়েছিলেন, ট্রাম্পের ভাষণের সময় তিনি পেছনে থাকা জাম্বোট্রন স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে ছিলেন। হঠাৎ তিনি ডান হাতে টান অনুভব করেন এবং বুঝতে পারার আগেই দ্বিতীয় একটি গুলি তার শরীরে আঘাত হানে। ওই হামলায় তাঁর ট্রাইসেপ ও তলপেটে গুলি লেগেছিল।   এই ঘটনার পর তাকে একাধিক অস্ত্রোপচারের মধ্য দিয়ে যেতে হয়। মার্কিন সিক্রেট সার্ভিসের গাফিলতির কারণে এমন ভয়াবহ ক্ষতির শিকার হয়েছেন দাবি করে চলতি বছরের শুরুতে তিনি ও ডেভিড ডাচ যুক্তরাষ্ট্র সরকারের বিরুদ্ধে একটি মামলাও দায়ের করেছিলেন।   এই হামলার পর মার্কিন সিক্রেট সার্ভিসের নিরাপত্তা ও পরিকল্পনাগত চরম গাফিলতির বিষয়টি সামনে আসে। ব্যাপক সমালোচনার মুখে ঘটনার দুই সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে সংস্থাটির তৎকালীন পরিচালক কিম্বারলি চিটল পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। পরবর্তীতে মার্কিন কংগ্রেসের দ্বিদলীয় টাস্কফোর্সের তদন্তেও নিরাপত্তা ব্যবস্থা, পরিকল্পনা ও নেতৃত্বে ভয়াবহ ব্যর্থতার প্রমাণ মেলে।   এসব ব্যর্থতার জেরে পরে বেশ কয়েকজন সিক্রেট সার্ভিস এজেন্টকে বেতন ছাড়াই সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছিল। অন্যদিকে, হামলার পরপরই রক্তমাখা মুখে ট্রাম্পের মুষ্টিবদ্ধ হাত তুলে ‘ফাইট’ বলার দৃশ্যটি তার নির্বাচনী প্রচারণার অন্যতম আলোচিত প্রতীকে পরিণত হয়, যার ওপর ভর করে তিনি গ্রোভার ক্লিভল্যান্ডের পর প্রথম প্রেসিডেন্ট হিসেবে টানা নয় এমন দুই মেয়াদে নির্বাচিত হওয়ার ইতিহাস গড়েন।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬ ১৭:১৩
জাতিসংঘে নেতানিয়াহুর ভাষণ শুরু হতেই বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের ওয়াকআউট
জাতিসংঘে নেতানিয়াহুর ভাষণ শুরু হতেই বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের ওয়াকআউট

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ভাষণ দিতে মঞ্চে ওঠার সঙ্গে সঙ্গেই ওয়াকআউট করেছেন অসংখ্য দেশের প্রতিনিধিরা। বৃহস্পতিবার বিশ্বনেতাদের এই সম্মেলনে নেতানিয়াহু যখন বক্তব্য শুরু করেন, তখন প্রতিবাদস্বরূপ দলে দলে কূটনীতিকরা মিলনায়তন ত্যাগ করেন। তবে এই ঘটনাকে পাত্তা না দিয়ে ওয়াকআউট করা প্রতিনিধিদের ‘নৈতিক কাপুরুষ’ বলে আখ্যায়িত করেন তিনি।   এ সময় গ্যালারিতে থাকা তার সমর্থকরা হিব্রু ভাষায় ‘ইসরায়েলের জনগণ বেঁচে আছে’ বলে স্লোগান দিতে থাকেন। আসন্ন নির্বাচনের আগে ক্রমেই বাড়তে থাকা আন্তর্জাতিক কোণঠাসা পরিস্থিতির মধ্যেই এদিন গাজা যুদ্ধ ও ইসরায়েলি বাহিনীর কর্মকাণ্ডের পক্ষে জোরালো সাফাই গান তিনি।   ভাষণে নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি, পশ্চিম ইউরোপীয় নেতা এবং কাতার ও তুরস্কের কড়া সমালোচনা করেন নেতানিয়াহু। মেয়র মামদানি তাকে ‘যুদ্ধাপরাধী’ ও ‘ফিলিস্তিনিদের ওপর ভয়াবহ গণহত্যার স্থপতি’ হিসেবে আখ্যা দেওয়ায় নেতানিয়াহু তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি দাবি করেন, ইসরায়েল কোনো গণহত্যা চালায়নি, বরং তা প্রতিরোধ করেছে।   একই সঙ্গে তিনি কোনো প্রমাণ ছাড়াই মেয়র মামদানির বিরুদ্ধে হামাসকে সমর্থনের ভিত্তিহীন অভিযোগ আনেন। এর প্রতিক্রিয়ায় এক বিবৃতিতে মেয়র মামদানি বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত নেতানিয়াহু তার গণহত্যার বিষয়টি আড়াল করতেই বরাবরের মতো মিথ্যার আশ্রয় নিয়েছেন।   আগামী পাঁচ সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে ইসরায়েলে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। জনমত জরিপে পিছিয়ে থাকা নেতানিয়াহু এদিন প্রায় ৪০ মিনিট ধরে অনেকটা নির্বাচনী প্রচারণার ঢঙেই ভাষণ দেন, যা ইসরায়েলের প্রধান চারটি টেলিভিশন চ্যানেলে প্রাইম টাইমে সরাসরি সম্প্রচারিত হয়।   এই ভাষণের আগে ম্যানহাটনে তার সরকারের অর্থায়নে পাঁচ শতাধিক ইসরায়েলপন্থী ও ইরানবিরোধী বিলবোর্ড এবং ট্রাক নামানো হয়েছিল। নিজেকে সাতটি ফ্রন্টে লড়াই করা নেতা হিসেবে তুলে ধরে তিনি এদিনও ভাষণে বিভিন্ন সরঞ্জাম প্রদর্শন করেন।   লেবাননে হিজবুল্লাহর ওপর হামলার প্রসঙ্গ টেনে তিনি একটি পেজার হাতে তুলে ধরেন। পাশাপাশি একটি স্টারলিংক ইন্টারনেট রিসিভার দেখিয়ে তিনি জানান, এটি তিনি ইরানি প্রতিনিধিদের জন্য রেখে যাবেন, যাতে তারা নিজ দেশে ফিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্বাধীনভাবে কথা বলতে পারেন।   ইসরায়েলের এই নেতার আগমন ঘিরে জাতিসংঘের বাইরে ব্যাপক বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ‘ইসরায়েলকে অস্ত্র দেওয়া বন্ধ করো, গাজাকে বাঁচতে দাও’ স্লোগানে শত শত বিক্ষোভকারী রাস্তা অবরোধ করলে পুলিশ বেশ কয়েকজনকে আটক করে। গাজা যুদ্ধের জেরে ইসরায়েলের নির্বাচনকালীন এই সংক্ষিপ্ত সফরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে নেতানিয়াহুর কোনো পূর্বনির্ধারিত বৈঠক ছিল না।   তবে ভাষণে ট্রাম্পের ‘সাহসী নেতৃত্বের’ প্রশংসা করে তাকে ইসরায়েলের সবচেয়ে বড় অংশীদার বলে উল্লেখ করেন নেতানিয়াহু।   প্রায় তিন বছর ধরে চলা গাজা যুদ্ধের জেরে ইসরায়েল বর্তমানে চরম কূটনৈতিক বিচ্ছিন্নতার মুখে রয়েছে। ২০২৪ সালে আইসিসির জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানার কারণে নেতানিয়াহু অনেক দেশেই সফর করতে পারেন না। অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের ওপর সম্প্রতি ব্রিটেন, ফ্রান্স ও কানাডার নিষেধাজ্ঞাকেও তিনি দুর্বলতা আখ্যা দিয়ে কড়া সমালোচনা করেন।   বসতি স্থাপনকারীদের ভয়াবহ সহিংসতাকে তিনি মাত্র ‘দেড়শতাধিক কিশোর অপরাধীর পাথর ছোড়া ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা’ বলে লঘু করে দেখানোর চেষ্টা করেন এবং দাবি করেন যে ইসরায়েল একটি আইনের দেশ।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬ ১৬:৫৯
মিশিগানে হাসপাতালের ভেতর চার মাসের অপরিণত শিশুকে নি র্যাতন, পা ভাঙার অভিযোগ নার্সের বিরুদ্ধে
মিশিগানে হাসপাতালের ভেতর চার মাসের অপরিণত শিশুকে নি র্যাতন, পা ভাঙার অভিযোগ নার্সের বিরুদ্ধে

যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের গ্র্যান্ড র‍্যাপিডস শহরের হেলেন ডিভোস চিলড্রেনস হাসপাতালে চার মাসের এক অপরিণত (প্রিম্যাচিউর) শিশুকে নির্মমভাবে মারধরের অভিযোগে কিয়েরান অ্যান্সলি (৪৩) নামের এক নার্সকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। দীর্ঘ কয়েক মাস নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসার পর শিশুটির যখন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরার কথা, ঠিক তার আগেই এই অমানবিক নির্যাতনের ঘটনা ঘটে।   শিশুটির শরীরের বিভিন্ন স্থানে কালশিটে দাগ ও পা ভাঙা অবস্থায় উদ্ধার করেন তার মা, যা পরবর্তীতে চিকিৎসকদের কাছে ‘পেডিয়াট্রিক ফিজিক্যাল অ্যাবিউজ’ বা শারীরিক শিশু নির্যাতন হিসেবে প্রমাণিত হয়।   পারিবারিক সূত্র জানায়, গত বছরের নভেম্বরে মাত্র ২৩ সপ্তাহ গর্ভধারণের পর ১ পাউন্ড ১ আউন্স ওজন নিয়ে জন্ম নেয় শিশুটি। টানা চিকিৎসায় সুস্থ হওয়ার পর এপ্রিলে তাকে বাড়ি নিয়ে যাওয়ার ছাড়পত্র দেওয়া হয়।   কিন্তু ২ এপ্রিল রাতে হাসপাতালে শিশুটিকে দেখতে যান তার মা এবং পরের দিন ভোরে ফিরে এসে দেখেন, তার মেয়ের জিভ নীলচে-কালো হয়ে আছে এবং শরীরে বেশ কয়েকটি কালশিটে দাগ রয়েছে।   এ সময় অভিযুক্ত নার্স অ্যান্সলি তড়িঘড়ি করে শিশুটির মাকে আশ্বস্ত করার চেষ্টা করেন যে এটি স্বাভাবিক ঘটনা। কিন্তু মায়ের সন্দেহের জেরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তদন্ত শুরু করলে নির্যাতনের ভয়াবহ চিত্র বেরিয়ে আসে।   হাসপাতালের লগবুক থেকে জানা যায়, ওই রাতে শিশুটির কক্ষে মোট ৩২ বার প্রবেশের ঘটনা ঘটে, যার মধ্যে ২৭ বারই প্রবেশ করেছিলেন অ্যান্সলি। অন্য নার্সদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, ওই রাতে অ্যান্সলি তার দায়িত্ব নিয়ে বেশ হতাশ ও বিভ্রান্ত ছিলেন।   চিকিৎসকদের বিস্তারিত পরীক্ষায় শিশুটির হাত, পা, পেট, নিতম্ব ও জিভে মারাত্মক আঘাতের পাশাপাশি পায়ের হাড় ভাঙার প্রমাণ মেলে।   শিশু নির্যাতনের চার দফা অভিযোগে চলতি মাসের শুরুতে অ্যান্সলিকে গ্রেপ্তার করা হলেও বর্তমানে তিনি ইলেকট্রনিক ট্র্যাকিং ডিভাইস পরার শর্তে জামিনে মুক্ত আছেন। আগামী নভেম্বরে তাকে আদালতে হাজির করার কথা রয়েছে।   এদিকে, হেলেন ডিভোস চিলড্রেনস হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অভিযোগ ওঠার পরপরই ওই নার্সকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। চরম এই ট্রমা পেরিয়ে নির্যাতনের শিকার শিশুটি বর্তমানে ক্যালিডোনিয়ায় নিজ বাড়িতে পরিবারের সঙ্গে পুরোপুরি সুস্থ ও স্বাভাবিকভাবে বেড়ে উঠছে বলে জানিয়েছেন তার দাদা রবার্ট স্টিভেন্স।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬ ১৬:৪১
আমেরিকায় নিত্যপণ্য কিনতে সাশ্রয়ী যেসব সুপারশপ, ওয়ালমার্টের চেয়েও কম দামে বিক্রি করছে কিছু প্রতিষ্ঠান
আমেরিকায় নিত্যপণ্য কিনতে সাশ্রয়ী যেসব সুপারশপ, ওয়ালমার্টের চেয়েও কম দামে বিক্রি করছে কিছু প্রতিষ্ঠান

নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ক্রমবর্ধমান বাজারে মাসিক খরচ সামাল দিতে সাশ্রয়ী সুপারশপ নির্বাচন এখন মার্কিন পরিবারগুলোর জন্য অন্যতম প্রধান বিবেচ্য বিষয়। ২০২৬ সালের বাজার পরিস্থিতি নিয়ে কনজিউমার রিপোর্টস ও কনজিউমার চেকবুর্কসহ একাধিক নিরপেক্ষ সংস্থার গবেষণায় দেখা গেছে, দেশটিতে নিত্যদিনের বাজার খরচে এখনও সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে অ্যালডি, লিডল, ওয়ালমার্ট, উইনকো এবং সেভ-আ-লট।   দুধ, ডিম, রুটি, মুরগির মাংস ও মাংসের মতো সাধারণ নিত্যপণ্যের মূল্যের ভিত্তিতে পরিচালিত এই বিশ্লেষণে দেখা গেছে, প্রচলিত বড় সুপারমার্কেটগুলোর তুলনায় ডিসকাউন্ট চেইনগুলো ক্রেতাদের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ সাশ্রয়ের সুযোগ দিচ্ছে।   গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, সামগ্রিক ব্যয়ের দিক থেকে সামগ্রিকভাবে শীর্ষে রয়েছে জার্মান ডিসকাউন্ট চেইন ‘অ্যালডি’। নিজস্ব ব্র্যান্ড বা প্রাইভেট-লেবেল পণ্যের ওপর জোর দেওয়া এবং সীমিত পরিসরে অপরিহার্য পণ্য বিক্রির কারণে পরিচালন ব্যয় কম রেখে গ্রাহকদের বিপুল মূল্যছাড় দিতে পারে প্রতিষ্ঠানটি।   সমীক্ষায় দেখা গেছে, অ্যালডির পণ্যের ঝুড়ির মূল্য ওয়ালমার্টের চেয়ে প্রায় ৮ থেকে ১৪ শতাংশ কম এবং ক্রোগারের মতো প্রচলিত সুপারমার্কেটগুলোর তুলনায় প্রায় ২৫ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত সাশ্রয়ী। আরেক ইউরোপীয় চেইন ‘লিডল’ টাটকা ফলমূল ও বেকারি পণ্যে বিশেষ সুবিধা দিয়ে ওয়ালমার্টের চেয়ে গড়ে সাড়ে আট শতাংশ কম খরচে নিত্যপণ্য সরবরাহ করে থাকে।   অন্যদিকে, খুচরা বাণিজ্যের শীর্ষ প্রতিষ্ঠান ‘ওয়ালমার্ট’ নিজস্ব স্কেলের সুবিধা ও দেশব্যাপী ‘এভরিডে লো প্রাইস’ কৌশলের মাধ্যমে ব্র্যান্ডেড ও হিমায়িত পণ্যের দামে শক্তিশালী অবস্থান ধরে রেখেছে। কোনো মেম্বারশিপ ফি ছাড়াই খোলা খাদ্যশস্য ও নিত্যপণ্য বিক্রির জন্য পরিচিত আঞ্চলিক চেইন ‘উইনকো ফুডস’ ওয়ালমার্টের চেয়ে প্রায় ৩ শতাংশ কম মূল্যে পণ্য দিচ্ছে।   এছাড়া কস্টকো বা স্যামস ক্লাবের মতো পাইকারি স্টোরগুলো প্রতি ইউনিট হিসেবে ২১ শতাংশ পর্যন্ত বেশি সাশ্রয়ী হলেও বার্ষিক মেম্বারশিপ ফি এবং বাধ্যতামূলকভাবে পাইকারি পরিমাণে কেনার শর্তের কারণে এটি একক বা ছোট পরিবারের চেয়ে বড় পরিবারের জন্যই বেশি উপযোগী।   বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অঞ্চলভেদে পরিবহণ ব্যয় ও স্থানীয় প্রতিযোগিতার কারণে পণ্যের মূল্যে তারতম্য ঘটে থাকে। তবে বাজার খরচের বাজেট নিয়ন্ত্রণে রাখতে সুপরিচিত ব্র্যান্ডের বদলে স্টোর-ব্র্যান্ড বা সুপারশপের নিজস্ব পণ্য কেনা, সাপ্তাহিক বিশেষ ছাড়ের ওপর নজর রেখে খাবারের মেন্যু নির্ধারণ করা এবং বিভিন্ন ডিজিটাল কুপন অ্যাপ ব্যবহার করার পরামর্শ দিয়েছেন অর্থনীতিবিদরা। এতে করে যেকোনো সুপারশপ থেকেই সাধারণ কেনাকাটায় প্রতি মাসে উল্লেখযোগ্য অর্থ সাশ্রয় করা সম্ভব।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬ ১৬:২৪
যুক্তরাষ্ট্রে বেকারত্ব ভাতার আবেদন ৫৭ বছরের সর্বনিম্নে, অর্থনীতিতে মিলছে স্বস্তির ইঙ্গিত
যুক্তরাষ্ট্রে বেকারত্ব ভাতার আবেদন ৫৭ বছরের সর্বনিম্নে, অর্থনীতিতে মিলছে স্বস্তির ইঙ্গিত

যুক্তরাষ্ট্রে গত সপ্তাহে বেকারত্ব ভাতার জন্য নতুন আবেদনের সংখ্যা কমে ৫৭ বছরের কাছাকাছি সর্বনিম্নে নেমে এসেছে। ১৯ সেপ্টেম্বর শেষ হওয়া সপ্তাহে বেকারত্ব ভাতার আবেদন ১ হাজার কমে ১ লাখ ৯৭ হাজারে দাঁড়িয়েছে, যা ১৯৬৯ সালের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ের কাছাকাছি।   বৃহস্পতিবার দেশটির শ্রম দপ্তরের প্রকাশিত এই তথ্য প্রমাণ করছে যে, গ্রীষ্মের ধীরগতির পর মার্কিন শ্রমবাজার আবারও তার পুরোনো গতি ফিরে পেয়েছে। অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, স্থিতিশীল শ্রমবাজারের কারণে চলতি মাসে বেকারত্বের হার ৪.১ শতাংশেই অপরিবর্তিত থাকবে।   তবে শ্রমবাজারের এই ইতিবাচক খবরের মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরান যুদ্ধের নেতিবাচক প্রভাব অর্থনীতিতে পড়তে শুরু করেছে। যুদ্ধের কারণে জ্বালানি বিশেষত ডিজেলের দাম রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে, যা ভবিষ্যতে মূল্যস্ফীতিকে আরও উসকে দিতে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা।   এই ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি সামাল দিতে মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ‘ফেডারেল রিজার্ভ’ গত সপ্তাহে তাদের সুদের হার ২৫ বেসিস পয়েন্ট বাড়িয়ে ৩.৭৫ থেকে ৪.০০ শতাংশে উন্নীত করেছে, যা গত তিন বছরের মধ্যে প্রথমবার সুদ বৃদ্ধির ঘটনা।   এফডব্লিউডি বন্ডস-এর প্রধান অর্থনীতিবিদ ক্রিস্টোফার রাপকির মতে, যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় জ্বালানির দাম বেড়েছে, তবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতে ব্যাপক বিনিয়োগের কারণে মার্কিন অর্থনীতি আপাতত পুরোদমে সচল রয়েছে।   অন্যদিকে, বন্ডের ঊর্ধ্বমুখী ইয়েল্ডের কারণে দীর্ঘমেয়াদি বন্ধকি ঋণের (মর্টগেজ) সুদের হার ৭.০৩ শতাংশে পৌঁছালেও আগস্ট মাসে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন বাড়ির বিক্রি অপ্রত্যাশিতভাবে ৬.৪ শতাংশ বেড়েছে।   মার্কিন বাণিজ্য দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বাড়ি নির্মাতারা ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে দাম কমানোসহ নানা প্রণোদনা দেওয়ায় গত মাসে বার্ষিক হিসেবে ৬ লাখ ৮৪ হাজার নতুন বাড়ি বিক্রি হয়েছে, যা ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের পর সর্বোচ্চ। তবে বিক্রি বাড়লেও বাজারে অবিক্রীত বাড়ির বিশাল মজুত রয়ে গেছে, যা ভবিষ্যতে নতুন আবাসন প্রকল্প নির্মাণে বাধা সৃষ্টি করতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬ ১৫:৫৮
ক্যালিফোর্নিয়ায় বিদ্যুৎ বিলের চাপ কমাতে স্বয়ংক্রিয় ৭৫ ডলার ছাড়, নিউসমের ঘোষণায় স্বস্তিতে লাখো পরিবার
ক্যালিফোর্নিয়ায় বিদ্যুৎ বিলের চাপ কমাতে স্বয়ংক্রিয় ৭৫ ডলার ছাড়, নিউসমের ঘোষণায় স্বস্তিতে লাখো পরিবার

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের লাখ লাখ পরিবারের জন্য বিদ্যুৎ বিলে মোট ৮৮৬ মিলিয়ন ডলারের বিশাল আর্থিক সুবিধা বা ‘ক্লাইমেট ক্রেডিট’ ঘোষণা করেছেন গভর্নর গ্যাভিন নিউসম। গ্রীষ্মের চরম গরমে যখন বিদ্যুতের ব্যবহার ও বিল সবচেয়ে বেশি থাকে, ঠিক তখনই সাধারণ মানুষকে স্বস্তি দিতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।   সম্প্রতি ‘ক্লাইমেট উইক এনওয়াইসি’ চলাকালীন গভর্নর এই ঘোষণা দেন। এর আওতায় আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসে গ্রাহকদের মাসিক বিদ্যুৎ বিলে গড়ে ৭৫ ডলার করে স্বয়ংক্রিয় ছাড় দেওয়া হচ্ছে।   প্রশাসন জানিয়েছে, প্যাসিফিক গ্যাস অ্যান্ড ইলেকট্রিক (পিজিঅ্যান্ডই), সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়া এডিসন এবং সান দিয়েগো গ্যাস অ্যান্ড ইলেকট্রিকের আবাসিক গ্রাহকরা এই সুবিধা পাবেন। এই অর্থ পাওয়ার জন্য গ্রাহকদের আলাদা করে কোনো আবেদন করতে হবে না; বরং এটি সরাসরি তাদের বিদ্যুৎ বিলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ক্রেডিট হিসেবে যুক্ত হবে।   মূলত পরিবেশ দূষণকারী বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে আদায়কৃত জরিমানার অর্থ দিয়েই সাধারণ নাগরিকদের এই আর্থিক সুবিধা দেওয়া হচ্ছে।   গভর্নরের কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতির কারণে আমেরিকানদের জীবনযাত্রা যখন মুদি দোকান থেকে শুরু করে জ্বালানি তেলের পাম্পসহ সর্বত্র ব্যয়বহুল হয়ে উঠছে, তখন ক্যালিফোর্নিয়া সরকার সরাসরি সাধারণ মানুষের পকেটে টাকা ফেরত দিচ্ছে।   পরিবেশ দূষণকারীদের আর্থিকভাবে জবাবদিহির আওতায় এনে সেই অর্থ রাজ্যের লাখ লাখ পরিবারের হাতে তুলে দিয়ে এক অনন্য নজির স্থাপন করেছে ক্যালিফোর্নিয়া প্রশাসন।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬ ১৫:৪৫