- প্রচ্ছদ
- Latest news
Today latest news
20 News
ঢাকার দূষিত বুড়িগঙ্গা নদীর কালচে পানিতেও এখনও টিকে আছে আনুমানিক ২০টি গাঙ্গেয় নদীর ডলফিন। প্রাণ বাঁচাতে বিপন্ন এই জলজ প্রাণীগুলো তাদের আচরণ, চলাচল ও খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন এনেছে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আবদুল আজিজের নেতৃত্বে সেপ্টেম্বর ২০২৩ থেকে আগস্ট ২০২৪ পর্যন্ত ১২ মাসের গবেষণায় এমন তথ্য উঠে এসেছে। গবেষণায় দেখা গেছে, বুড়িগঙ্গায় ডলফিনের উপস্থিতির ঘনত্ব গত এক দশকে উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ২০১৫ সালের গবেষণায় বুড়িগঙ্গায় ডলফিনের এনকাউন্টার রেট ছিল প্রতি কিলোমিটারে ০ দশমিক ৪৮টি। নতুন গবেষণায় এই হার নেমে এসেছে ০ দশমিক ১৮-তে। পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নিতে ডলফিনের সামাজিক আচরণেও পরিবর্তন দেখা গেছে। আগে বুড়িগঙ্গায় এরা প্রধানত একাকী চলাচল করত। কিন্তু নতুন গবেষণায় দেখা যায়, পর্যবেক্ষণ করা ডলফিনের বড় অংশ এখন দলবদ্ধভাবে চলাচল করছে। প্রতিকূল পরিবেশে দলবদ্ধ চলাচল তাদের টিকে থাকার একটি কৌশল হয়ে উঠতে পারে বলে গবেষকদের পর্যবেক্ষণ। খাদ্যাভ্যাসেও এসেছে পরিবর্তন। বুড়িগঙ্গায় স্থানীয় মাছের সংখ্যা কমে যাওয়ায় ডলফিন এখন সাকার ফিশ বা সাকারমাউথ ক্যাটফিশ শিকার করছে বলে গবেষণায় উঠে এসেছে। এই মাছ দূষিত ও কম অক্সিজেনযুক্ত পানিতেও টিকে থাকতে পারে। শুষ্ক মৌসুমে পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে ওঠে। নদীর পানির প্রবাহ কমে গেলে এবং দূষিত বর্জ্যের ঘনত্ব বাড়লে ডলফিনগুলো বুড়িগঙ্গা থেকে ধলেশ্বরী নদীর দিকে সরে যায় বলে গবেষণায় পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। অর্থাৎ প্রতিকূল পরিবেশ এড়িয়ে তারা নিজেদের চলাচলের পথও পরিবর্তন করছে। ডলফিনের জন্য আরেকটি বড় সমস্যা শব্দদূষণ। গাঙ্গেয় নদীর ডলফিন প্রায় দৃষ্টিহীন হওয়ায় শিকার শনাক্ত ও ধরার ক্ষেত্রে ইকোলোকেশন বা শব্দের প্রতিধ্বনির ওপর নির্ভর করে। বুড়িগঙ্গায় বিপুলসংখ্যক ভারী নৌযানের চলাচল থেকে তৈরি শব্দ এই প্রক্রিয়ায় বাধা সৃষ্টি করতে পারে বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে। বুড়িগঙ্গার পানিদূষণের মাত্রা নিয়েও আগের বিভিন্ন গবেষণায় উদ্বেগজনক তথ্য পাওয়া গেছে। পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেনের মাত্রা অনেক এলাকায় জলজ প্রাণীর স্বাভাবিক টিকে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় মাত্রার তুলনায় কম। ফলে দূষণ, কমে যাওয়া দেশীয় মাছ, পানির মানের অবনতি এবং নৌযানের শব্দ একসঙ্গে ডলফিনের আবাসস্থলকে ক্রমেই কঠিন করে তুলছে। গবেষকদের পর্যবেক্ষণে বুড়িগঙ্গার ডলফিনের সংখ্যা শুধু একটি প্রাণী প্রজাতির অস্তিত্বের প্রশ্ন নয়, নদীর সামগ্রিক বাস্তুতন্ত্রের অবস্থারও গুরুত্বপূর্ণ সূচক। মাত্র ২০টির মতো ডলফিনের টিকে থাকা দেখাচ্ছে, ঢাকার এই ঐতিহ্যবাহী নদীতে জলজ প্রাণীদের জন্য পরিবেশ কতটা কঠিন হয়ে উঠেছে।
টানা সাড়ে পাঁচ বছর অবমূল্যায়নের পর মার্কিন ডলারের বিপরীতে ঘুরে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশি টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুন থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত এক বছরে ডলারের বিপরীতে টাকার মূল্য পয়েন্ট টু পয়েন্ট ভিত্তিতে শূন্য দশমিক ০৬ শতাংশ বেড়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধি, ব্যাংকিং ব্যবস্থায় ডলারের তারল্য উন্নতি এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাড়ায় স্থানীয় মুদ্রার ওপর চাপও কমেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, ২০২১ সাল থেকে চলতি বছরের মাঝামাঝি পর্যন্ত ডলারের বিপরীতে টাকার ধারাবাহিক অবমূল্যায়ন হয়েছে। ২০২১ সালে প্রতি ডলারের বিনিময় হার ছিল প্রায় ৮৫ টাকা ৮০ পয়সা। পরে তা বেড়ে চলতি বছরের ৩০ আগস্ট ১২৩ টাকা ৯৫ পয়সায় পৌঁছায়। এরপর পরিস্থিতির পরিবর্তন শুরু হয়। ৩০ আগস্ট থেকে ১৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ডলারের দর কমে ১২৩ টাকায় নেমে আসে, অর্থাৎ ওই সময়ে টাকার মূল্য ০ দশমিক ৭৭ শতাংশ বেড়েছে। টাকার এই শক্তিশালী হওয়ার পেছনে অন্যতম কারণ হিসেবে রেমিট্যান্স প্রবাহের উল্লেখ করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে ১৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৭ দশমিক ৭০২ বিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৩ দশমিক ৮ শতাংশ বেশি। আনুষ্ঠানিক ব্যাংকিং চ্যানেলে ডলারের সরবরাহ বাড়ায় বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে তারল্য পরিস্থিতিরও উন্নতি হয়েছে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভেও উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ৮ সেপ্টেম্বর দেশের মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছিল ৩৬ দশমিক ৪৪ বিলিয়ন ডলার। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরের ২৪ দশমিক ৮৬ বিলিয়ন ডলারের তুলনায় এটি ৪৬ দশমিক ৬ শতাংশ বেশি। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের BPM6 পদ্ধতিতে হিসাব করা রিজার্ভও একই সময়ে ১৯ দশমিক ৮৬ বিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে ৩১ দশমিক ৫৩ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। রিজার্ভ বাড়ার পেছনে রেমিট্যান্স বৃদ্ধির পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে বাংলাদেশ ব্যাংকের হস্তক্ষেপও ভূমিকা রেখেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ২৮ জুন পর্যন্ত বাজার থেকে মোট ৬ দশমিক ৪৩ বিলিয়ন ডলার কিনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বাজারে ডলারের সরবরাহ বাড়ার পর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই ক্রয় রিজার্ভ শক্তিশালী করতে সহায়তা করেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের জুন ২০২৬-এর বৈদেশিক মুদ্রাবাজার সংক্রান্ত প্রতিবেদনে দেখা যায়, ওই মাসের শেষে ডলারের বিপরীতে টাকার রেফারেন্স বিনিময় হার ছিল প্রায় ১২২ টাকা ৯৫ পয়সা। কেন্দ্রীয় ব্যাংক ২০২৪ সালের শেষ দিক থেকে বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে আরও নমনীয় বিনিময় হার ব্যবস্থা চালু করেছে এবং বাজারের লেনদেনের ভিত্তিতে দৈনিক রেফারেন্স হার প্রকাশ করছে। টাকার মূল্য বাড়ার প্রভাব অর্থনীতির বিভিন্ন ক্ষেত্রেও পড়তে পারে। ডলারের বিপরীতে টাকা তুলনামূলক শক্তিশালী থাকলে জ্বালানি, খাদ্য, শিল্পের কাঁচামাল ও যন্ত্রপাতির মতো আমদানি পণ্যের জন্য স্থানীয় মুদ্রায় ব্যয় কিছুটা কমতে পারে। একই সঙ্গে ডলারে নেওয়া বৈদেশিক দায় পরিশোধের ক্ষেত্রেও টাকার চাপ কমে। তবে এর বিপরীতে রপ্তানিকারকরা ডলার আয়ের বিপরীতে তুলনামূলক কম টাকা পেতে পারেন, ফলে বিনিময় হার শক্তিশালী হওয়ার প্রভাব বিভিন্ন খাতে ভিন্ন হতে পারে। অর্থনীতিবিদ ও ব্যাংকারদের মতে, রেমিট্যান্সের ধারাবাহিক প্রবাহ, পর্যাপ্ত বৈদেশিক মুদ্রার তারল্য এবং শক্তিশালী রিজার্ভ ধরে রাখা গেলে বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে স্থিতিশীলতা আরও বাড়তে পারে। তবে আমদানি ব্যয়, বৈশ্বিক জ্বালানি মূল্য, রপ্তানি আয় এবং আন্তর্জাতিক বাজারের পরিস্থিতির ওপরও ভবিষ্যতে টাকার বিনিময় হার নির্ভর করবে। ফলে সাম্প্রতিক শক্তিশালী অবস্থানকে দীর্ঘমেয়াদি প্রবণতায় রূপ দিতে বৈদেশিক মুদ্রার সরবরাহ ও বাজারের ভারসাম্য ধরে রাখাই এখন গুরুত্বপূর্ণ।
গ্রিনল্যান্ডে সামরিক উপস্থিতি আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের সঙ্গে একটি নতুন নিরাপত্তা চুক্তির আওতায় দক্ষিণ গ্রিনল্যান্ডের সাবেক শীতল যুদ্ধকালীন একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটি আবার চালু এবং পূর্ব উপকূলের আরেকটি স্থাপনায় মার্কিন সামরিক উপস্থিতি তৈরির পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে রয়টার্স। তিনটি সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, চুক্তিটি ২২ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে যুক্তরাষ্ট্র, ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের মধ্যে স্বাক্ষর হওয়ার কথা। পরিকল্পনার আওতায় থাকা দুটি স্থান হলো দক্ষিণ গ্রিনল্যান্ডের নারসারসুয়াক এবং পূর্ব উপকূলের মেস্টারসভিগ। নারসারসুয়াকে একসময় যুক্তরাষ্ট্রের ব্লুই ওয়ান সামরিক ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করা হতো। ১৯৫০-এর দশকে ঘাঁটিটি বন্ধ করে দেয় যুক্তরাষ্ট্র। এরপর এলাকাটির জনসংখ্যা কয়েক ডজনে নেমে এসেছে। অন্যদিকে মেস্টারসভিগ বর্তমানে ডেনমার্কের সিরিয়াস ডগ স্লেড প্যাট্রোলের ব্যবহারে রয়েছে। এই ইউনিটটি ডেনিশ বিশেষ বাহিনীর সঙ্গে যুক্ত এবং গ্রিনল্যান্ডে ডেনমার্কের সার্বভৌমত্ব কার্যকর রাখার কাজে নিয়োজিত। প্রস্তাবিত চুক্তির পূর্ণাঙ্গ текст এখনো প্রকাশ করা হয়নি। সংশ্লিষ্ট তিন সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে, স্বাক্ষরের আগে চুক্তির কিছু বিষয় পরিবর্তিত হতে পারে। ডেনমার্ক, গ্রিনল্যান্ড ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের মধ্যে আলোচনার পর চূড়ান্ত নথি নির্ধারিত হবে। ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় জানিয়েছে, চুক্তিটি স্বাক্ষরের পর প্রয়োজনীয় জাতীয় সংসদীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার শর্তে কার্যকর হবে। ডেনমার্কের ভাষ্য অনুযায়ী, নতুন ব্যবস্থার মাধ্যমে আর্কটিক ও উত্তর আটলান্টিক অঞ্চলের নিরাপত্তাকে ন্যাটোর কাঠামোর মধ্যে আরও জোরদার করা হবে। অর্থাৎ নিরাপত্তার দায়িত্ব শুধু যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্কের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে ন্যাটো জোটের বৃহত্তর কাঠামোর সঙ্গে সমন্বয় করা হবে। ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ড একই সঙ্গে বলেছে, নতুন নিরাপত্তা ব্যবস্থায় গ্রিনল্যান্ডের সার্বভৌমত্ব ও গ্রিনল্যান্ডের জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার স্বীকৃত থাকবে। গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতির ইতিহাস অবশ্য অনেক পুরোনো। শীতল যুদ্ধের সময় সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের ১৭টি সামরিক স্থাপনা ছিল এবং ১০ হাজারের বেশি মার্কিন সামরিক সদস্য মোতায়েন ছিলেন। বর্তমানে গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের একমাত্র সক্রিয় সামরিক স্থাপনা হলো পিটুফিক স্পেস বেস। সেখানে প্রায় ১৫০ মার্কিন সামরিক সদস্য রয়েছেন বলে রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। নতুন দুটি স্থানে উপস্থিতি প্রতিষ্ঠিত হলে গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কার্যক্রমের ভৌগোলিক পরিধি বাড়বে। আর্কটিক অঞ্চলের কৌশলগত গুরুত্বও এই পরিকল্পনার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রেক্ষাপট। উত্তর আমেরিকা ও ইউরোপের মাঝামাঝি অবস্থানের কারণে গ্রিনল্যান্ড উত্তর আটলান্টিক ও আর্কটিক অঞ্চলের সামরিক নজরদারি এবং প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটোর জন্য এ অঞ্চলে রাশিয়ার সামরিক কার্যক্রম, সমুদ্রপথের পরিবর্তন এবং ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা চলছে। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি-মার্চে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার নেতৃত্বাধীন ন্যাটো সহযোগী বাহিনী গ্রিনল্যান্ডসহ আর্কটিক অঞ্চলে ‘Arctic Edge 2026’ নামে সামরিক মহড়াও পরিচালনা করে। মহড়াটি ডেনমার্কের সঙ্গে সমন্বয় করেই পরিচালিত হয়েছিল। তবে নতুন চুক্তির পেছনে গ্রিনল্যান্ড নিয়ে সাম্প্রতিক মার্কিন কূটনৈতিক চাপও গুরুত্বপূর্ণ প্রেক্ষাপট তৈরি করেছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরে গ্রিনল্যান্ডের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথা বলে আসছেন। ২০২৬ সালের শুরুতে তার বক্তব্য ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র, ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল। পরে আর্কটিক নিরাপত্তা নিয়ে ওয়াশিংটন, কোপেনহেগেন ও নুকের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে একটি নতুন নিরাপত্তা কাঠামো তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়। নতুন চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার আগে এর পূর্ণাঙ্গ শর্ত প্রকাশ না হওয়ায় দুটি স্থাপনায় ঠিক কতজন মার্কিন সামরিক সদস্য মোতায়েন হবেন, কী ধরনের সরঞ্জাম থাকবে এবং স্থাপনাগুলোর সুনির্দিষ্ট সামরিক ভূমিকা কী হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। ফলে আপাতত নিশ্চিত বিষয় হলো, যুক্তরাষ্ট্র গ্রিনল্যান্ডে বর্তমান একটি ঘাঁটির পাশাপাশি আরও দুটি স্থানে সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র, ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের মধ্যে একটি আনুষ্ঠানিক নিরাপত্তা চুক্তি স্বাক্ষরের প্রক্রিয়া চলছে।
নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি শহরের সড়ক ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তনের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন। ১৫ সেপ্টেম্বর প্রকাশ করা ‘Vision Zero Reimagined’ পরিকল্পনায় শহরের প্রথম কিছু পথচারী-নির্ভর ও গাড়িমুক্ত জেলা তৈরির উদ্যোগ রাখা হয়েছে। পাশাপাশি নিরাপদ সড়ক নকশা, গণপরিবহন উন্নয়ন, সাইকেল অবকাঠামো সম্প্রসারণ এবং ব্যক্তিগত গাড়ির ওপর নির্ভরতা কমানোর একাধিক পদক্ষেপের কথা বলা হয়েছে। মামদানি প্রশাসনের ১০ বছরের এই পরিকল্পনায় ১০০টির বেশি নীতিগত উদ্যোগ রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে শহরের প্রথম ‘pedestrian-only’ এবং ‘pedestrian-priority’ district তৈরি, প্রতি বছর অন্তত ১ হাজার ইন্টারসেকশনে পথচারী নিরাপত্তার উন্নয়ন, সাইকেল লেন সম্প্রসারণ এবং বাস চলাচল আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য করার উদ্যোগ। তবে কোন কোন এলাকায় পুরোপুরি গাড়িমুক্ত জেলা তৈরি হবে, সে বিষয়ে পরিকল্পনায় এখনো নির্দিষ্ট স্থান ঘোষণা করা হয়নি। পরিকল্পনাটির মূল লক্ষ্য শুধু দুর্ঘটনার পরিণতি কমানো নয়, বরং সড়কের নকশাই এমনভাবে পরিবর্তন করা যাতে দুর্ঘটনা ও গুরুতর আঘাতের ঝুঁকি কমে। মেয়রের কার্যালয় বলছে, নিউইয়র্কে গাড়ি জড়িত দুর্ঘটনা শহরের মোট ট্রাফিক মৃত্যুর বড় অংশের জন্য দায়ী। তাই হাঁটা, পাবলিক ট্রান্সপোর্ট, সাইকেল ও অন্যান্য বিকল্প যাতায়াত ব্যবস্থাকে আরও নিরাপদ, সহজলভ্য ও আকর্ষণীয় করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। মামদানি পরিকল্পনা ঘোষণার সময় বলেন, নিউইয়র্কের সড়ককে আরও নিরাপদ করার জন্য শহরকে এমন নকশা গ্রহণ করতে হবে যেখানে মানুষকে কেন্দ্র করে রাস্তা ও পাবলিক স্পেস তৈরি করা হবে। পরিকল্পনায় ‘safe systems’ পদ্ধতির কথা বলা হয়েছে। এর অর্থ হলো শুধু চালকদের আচরণ পরিবর্তন বা আইন প্রয়োগের ওপর নির্ভর না করে সড়কের নকশা, গতি নিয়ন্ত্রণ, পথচারী অবকাঠামো এবং যানবাহনের নিরাপত্তা একসঙ্গে উন্নত করা। এরই মধ্যে নিউইয়র্কে কিছু সড়ক পুনর্নকশার কাজ চলছে। সেপ্টেম্বরে প্রশাসন পার্ক অ্যাভিনিউর ১১টি ব্লকের নতুন নকশা প্রকাশ করেছে, যেখানে একটি গাড়ির লেনকে দুই দিকের সুরক্ষিত সাইকেল লেনে রূপান্তর, মিডিয়ান বড় করা এবং পথচারীদের জন্য অতিরিক্ত জায়গা তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। এর আগে ১১৬তম স্ট্রিটে ২ দশমিক ৫ মাইল নতুন বাস লেন ও অন্যান্য সড়ক নিরাপত্তা অবকাঠামোর নির্মাণ শুরু হয়েছে। শহরের হিসাবে, ওই করিডোর দিয়ে প্রতিদিন ৬৫ হাজারের বেশি বাসযাত্রী চলাচল করেন। নিউইয়র্কের বর্তমান ‘Vision Zero’ কর্মসূচির ওপরও নতুন পরিকল্পনাটি তৈরি করা হয়েছে। শহরের পরিবহন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে পথচারী মৃত্যুর সংখ্যা রেকর্ডের সর্বনিম্ন পর্যায়ের কাছাকাছি ছিল এবং ২০১৪ সালে Vision Zero চালুর পর থেকে পথচারী মৃত্যুর হার ৪২ শতাংশের বেশি কমেছে। প্রশাসনের দাবি, নতুন পরিকল্পনার লক্ষ্য এই অগ্রগতিকে আরও এগিয়ে নেওয়া। গাড়িমুক্ত বা পথচারী-নির্ভর এলাকা তৈরির ধারণা অবশ্য নতুন নয়। বার্সেলোনা, প্যারিসসহ ইউরোপের বিভিন্ন শহরে দীর্ঘদিন ধরে পথচারী-কেন্দ্রিক সড়ক ব্যবস্থার ব্যবহার রয়েছে। তবে এসব উদ্যোগের অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়ে গবেষণার ফল একেবারে একমুখী নয়। স্পেনের বিভিন্ন শহরের ওপর একটি গবেষণায় পথচারী-নির্ভর এলাকায় দোকানের বিক্রি বাড়ার প্রমাণ পাওয়া গেলেও, ২০২৬ সালে বার্সেলোনার ২০১৪ থেকে ২০২২ সালের বাণিজ্যিক তথ্য বিশ্লেষণ করা একটি গবেষণায় দেখা গেছে, পথচারীকরণ পুরোনো কিছু ব্যবসা বন্ধ হওয়া এবং খুচরা ব্যবসার বৈচিত্র্য কমার সঙ্গে সম্পর্কিত ছিল। গবেষকরা অবশ্য বলেছেন, শুধু পথচারীকরণকে এসব পরিবর্তনের একমাত্র কারণ হিসেবে দেখা যায় না এবং পর্যটনের চাপও বড় ভূমিকা রাখতে পারে। ফলে মামদানির পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে নিউইয়র্কের বিভিন্ন এলাকায় গাড়ি, পথচারী, সাইকেল ও পাবলিক ট্রান্সপোর্টের মধ্যে জায়গা ভাগাভাগির ধরন বদলাতে পারে। তবে কোন এলাকা কতটা গাড়িমুক্ত হবে, স্থানীয় ব্যবসা ও বাসিন্দাদের ওপর এর কী প্রভাব পড়বে এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো কীভাবে তৈরি হবে, সেসব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এখনো বাস্তবায়নের পরবর্তী ধাপে নির্ধারিত হওয়ার কথা। পরিকল্পনাটি তাই আপাতত একটি দীর্ঘমেয়াদি নীতিগত রূপরেখা, চূড়ান্ত সড়ক নকশা নয়।
যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যের ফিনিক্স থেকে কানাডার মন্ট্রিয়লগামী এয়ার কানাডার একটি ফ্লাইটে মাঝ আকাশে অ্যাসাইলাম চাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। ২০ সেপ্টেম্বরের AC1730 ফ্লাইটে থাকা এক মার্কিন নারী হাতে লেখা নোটের মাধ্যমে কেবিন ক্রুদের কাছে কানাডায় আশ্রয় চাওয়ার কথা জানান। ফ্লাইটটি নির্ধারিত সময়েই মন্ট্রিয়লে পৌঁছায় এবং অবতরণের পর ওই যাত্রীকে নিয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয় বলে একাধিক প্রতিবেদনে জানা গেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফিনিক্স স্কাই হারবার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে মন্ট্রিয়ল ট্রুডো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্দেশে উড্ডয়নের পর ওই নারী কেবিন ক্রুদের নজরে আসেন। তিনি ১৪ নম্বর সারিতে বসেছিলেন। তার আচরণ নিয়ে ক্রুদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হলে তিনি জানান, তিনি মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য ওষুধ সেবন করছেন। এরপর তিনি ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্টদের হাতে হাতে লেখা কয়েকটি নোট দেন, যেখানে কানাডায় অ্যাসাইলাম চাওয়ার কথা উল্লেখ ছিল। ঘটনার পর পাইলট ও ফ্লাইট অপারেশনের মধ্যে যোগাযোগ হয়। সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ককপিট থেকে জানানো হয় যে ওই যাত্রী শান্ত ছিলেন এবং বিমানের জন্য কোনো হুমকি তৈরি করছেন না। এ কারণে ফ্লাইটটি অন্য কোনো বিমানবন্দরে ঘুরিয়ে না নিয়ে নির্ধারিত গন্তব্য মন্ট্রিয়লের দিকেই এগিয়ে যায়। প্রায় চার ঘণ্টা পর বিমানটি নিরাপদে মন্ট্রিয়লে অবতরণ করে। অবতরণের পর স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও সীমান্ত নিরাপত্তা কর্মকর্তারা ওই যাত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং তার অ্যাসাইলাম আবেদনের বিষয়টি প্রক্রিয়াগতভাবে দেখার উদ্যোগ নেওয়া হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ওই নারীর নাম, তার অ্যাসাইলাম চাওয়ার নির্দিষ্ট কারণ বা কানাডার কর্তৃপক্ষ তার দাবির বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তা প্রকাশ্যে জানা যায়নি। কানাডার নিয়ম অনুযায়ী, বিমানবন্দরসহ দেশটির যেকোনো বৈধ প্রবেশপথে পৌঁছানোর পর কেউ অ্যাসাইলাম বা রিফিউজি প্রোটেকশনের দাবি করতে পারেন। তবে আবেদন করলেই তা গ্রহণযোগ্য বা অনুমোদিত হয় না। কানাডা বর্ডার সার্ভিসেস এজেন্সি বা সিবিএসএ প্রথমে আবেদনটি নির্ধারিত শর্ত পূরণ করে কি না তা যাচাই করে। যোগ্য হলে আবেদনটি ইমিগ্রেশন অ্যান্ড রিফিউজি বোর্ড অব কানাডার কাছে পাঠানো হয়, যেখানে আবেদনকারীর রিফিউজি হিসেবে সুরক্ষা পাওয়ার যোগ্যতা নির্ধারণ করা হয়। কানাডা সরকারের তথ্য অনুযায়ী, অ্যাসাইলাম পাওয়ার জন্য আবেদনকারীকে দেখাতে হয় যে নিজ দেশে ফিরে গেলে নির্দিষ্ট ধরনের নিপীড়ন, নির্যাতন বা গুরুতর ক্ষতির ঝুঁকি রয়েছে। শুধু উন্নত জীবন, চাকরি, শিক্ষা বা কানাডায় দীর্ঘদিন থাকার ইচ্ছা অ্যাসাইলামের ভিত্তি নয়। আবেদনকারীর পরিচয়, ভ্রমণের ইতিহাস এবং দাবির পক্ষে থাকা তথ্যও যাচাই করা হয়। এ ঘটনার ক্ষেত্রে যেহেতু যাত্রী একজন মার্কিন নাগরিক এবং তিনি যুক্তরাষ্ট্র থেকে সরাসরি বিমানে কানাডায় পৌঁছেছেন, তাই কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের স্থলসীমান্তে প্রযোজ্য সেফ থার্ড কান্ট্রি এগ্রিমেন্টের নিয়মটি একইভাবে প্রযোজ্য নয়। কানাডা সরকারের বর্তমান নির্দেশনায়ও বলা হয়েছে, এই চুক্তির নির্দিষ্ট বিধিনিষেধ মার্কিন নাগরিকদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। মাঝ আকাশে একজন যাত্রীর হাতে লেখা নোট দিয়ে অ্যাসাইলাম চাওয়ার ঘটনাটি তাই ব্যতিক্রমী হলেও, কানাডায় অ্যাসাইলাম দাবি করার পরবর্তী প্রক্রিয়া নির্ধারিত ইমিগ্রেশন ও রিফিউজি আইনের অধীনেই পরিচালিত হবে। এখন ওই নারীর দাবির বিষয়ে কানাডার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেটিই পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
গাজা উপত্যকায় মানবিক সহায়তার অংশ হিসেবে পাঠানো হুইলচেয়ার, টয়লেট সিট, ত্রিপল ও বহনযোগ্য টয়লেটসহ কিছু বেসামরিক সামগ্রী প্রবেশে বিধিনিষেধের অভিযোগ উঠেছে। ইসরায়েলি মানবাধিকার সংগঠন গিশা এবং ফিলিস্তিনি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব সামগ্রীর কিছু ‘ডুয়াল-ইউজ’ বা বেসামরিক ও সামরিক উভয় কাজে ব্যবহারযোগ্য পণ্য হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়েছে। তবে ইসরায়েলের বেসামরিক প্রশাসন সংস্থা কোগাত বলেছে, হুইলচেয়ারসহ চিকিৎসা ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম প্রবেশে কোনো সার্বিক নিষেধাজ্ঞা নেই। গিশার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের পর থেকে নন-ইলেকট্রিক হুইলচেয়ার, ত্রিপল, স্লিপিং ব্যাগ, ফ্ল্যাশলাইট ও বহনযোগ্য টয়লেটের মতো কিছু পণ্য ডুয়াল-ইউজ পণ্যের আওতায় পড়েছে। এসব পণ্য গাজায় পাঠানোর ক্ষেত্রে নিরাপত্তা যাচাই ও বিশেষ অনুমতির প্রয়োজন হতে পারে। মানবিক সহায়তা সংস্থাগুলো বলছে, কোন পণ্য কোন পরিস্থিতিতে এই শ্রেণিতে পড়ছে, তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে স্পষ্টতার ঘাটতি রয়েছে। হুইলচেয়ারের প্রয়োজনীয়তা গাজায় বিশেষভাবে বেড়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মে ২০২৬ সালের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় আহত প্রায় ১ লাখ ৭২ হাজার মানুষের মধ্যে আনুমানিক ৪৩ হাজারের এমন ধরনের গুরুতর আঘাত রয়েছে, যা দীর্ঘমেয়াদি জীবন পরিবর্তনকারী শারীরিক সমস্যার কারণ হতে পারে। এদের প্রায় এক-চতুর্থাংশ শিশু। একই সময়ে পাঁচ হাজারের বেশি মানুষ অঙ্গচ্ছেদের শিকার হয়েছেন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, গাজায় পুনর্বাসন সরঞ্জাম ও সহায়ক ডিভাইসের সংকটও তীব্র। ২০২৬ সালের এপ্রিলের মাঝামাঝি পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, পুনর্বাসন-সংক্রান্ত ১৮টি চালান গাজায় প্রবেশের অনুমোদনের অপেক্ষায় ছিল। এসব চালানের মধ্যে প্রাপ্তবয়স্ক ও শিশুদের হুইলচেয়ার, কৃত্রিম অঙ্গ এবং অন্যান্য পুনর্বাসন সরঞ্জাম ছিল। কিছু চালান ১৩০ থেকে ৫২০ দিন পর্যন্ত অপেক্ষায় ছিল বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। টয়লেট ও স্যানিটেশন সামগ্রী নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত ও ব্যাপক বাস্তুচ্যুতির কারণে গাজার বহু মানুষ তাঁবু বা অস্থায়ী আশ্রয়ে বসবাস করছেন। ফলে নিরাপদ স্যানিটেশন ব্যবস্থা এবং ব্যক্তিগত ব্যবহারের টয়লেটের প্রয়োজন বেড়েছে। বিভিন্ন মানবিক সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পানি, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যবিধি ব্যবস্থার জন্য প্রয়োজনীয় কিছু সরঞ্জামও ডুয়াল-ইউজ হিসেবে নিয়ন্ত্রণের আওতায় পড়েছে। তবে ‘সব হুইলচেয়ার গাজায় ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না’ এমন সরল ব্যাখ্যাও পুরো পরিস্থিতিকে তুলে ধরে না। চলতি মাসে অস্ট্রেলিয়া থেকে গাজার শিশুদের জন্য পাঠানো শত শত হুইলচেয়ার জর্ডানে আটকে থাকার বিষয়ে অস্ট্রেলিয়ান ব্রডকাস্টিং করপোরেশনকে কোগাত জানিয়েছে, ইসরায়েল প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম গাজায় প্রবেশে সহায়তা করে এবং হাজার হাজার হুইলচেয়ারের অনুমোদন দিয়েছে। কোগাতের দাবি, ডুয়াল-ইউজ সরঞ্জামের প্রয়োজন হলে আন্তর্জাতিক মানবিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে প্রবেশের ব্যবস্থা করা হয়। অন্যদিকে, গিশা ও অন্যান্য মানবাধিকার ও ত্রাণ সংস্থা বলছে, ডুয়াল-ইউজ শ্রেণিবিন্যাসের বিস্তৃত প্রয়োগের কারণে বেসামরিক মানুষের প্রয়োজনীয় অনেক পণ্য গাজায় পৌঁছাতে বিলম্ব হচ্ছে। এর ফলে বিশেষ করে আহত ব্যক্তি, প্রতিবন্ধী মানুষ এবং দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসনের প্রয়োজন থাকা রোগীদের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, গাজায় পুনর্বাসন সেবা এখনো গুরুতরভাবে সীমিত এবং প্রয়োজনীয় সহায়ক সরঞ্জামের ঘাটতি রয়েছে। সংস্থাটি বলছে, হুইলচেয়ার, কৃত্রিম অঙ্গ ও অন্যান্য পুনর্বাসন সরঞ্জাম দ্রুত গাজায় প্রবেশের সুযোগ না পেলে আহত ও প্রতিবন্ধী মানুষের দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা ও স্বাভাবিক জীবনে ফেরার প্রক্রিয়া আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।
নিউইয়র্কের ব্রুকলিনে দীর্ঘদিন ধরে ইন্টারনাল মেডিসিনের চিকিৎসক হিসেবে কাজ করছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ডা. সায়েরা হক। রংপুর মেডিকেল কলেজ থেকে চিকিৎসাশাস্ত্রে পড়াশোনা শেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে এসে তিনি কনি আইল্যান্ড হাসপাতালে ইন্টারনাল মেডিসিনে প্রশিক্ষণ নেন। বর্তমানে তিনি ব্রুকলিনে নিজস্ব চিকিৎসাকেন্দ্রে রোগী দেখার পাশাপাশি সাউথ ব্রুকলিন হেলথের সঙ্গেও যুক্ত রয়েছেন। প্রকাশ্য চিকিৎসা-সংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, ডা. সায়েরা হক ১৯৯৫ সালে রংপুর মেডিকেল কলেজ থেকে মেডিকেল ডিগ্রি অর্জন করেন। যুক্তরাষ্ট্রে তার ইন্টারনাল মেডিসিনের রেসিডেন্সি সম্পন্ন হয় কনি আইল্যান্ড হাসপাতালে। নিউইয়র্কের সরকারি হাসপাতাল ব্যবস্থার চিকিৎসক প্রোফাইলেও তার মেডিকেল শিক্ষা ও রেসিডেন্সির তথ্য উল্লেখ রয়েছে। চিকিৎসাবিষয়ক বিভিন্ন প্রকাশ্য প্রোফাইলে তাকে ইন্টারনাল মেডিসিনের বোর্ড সার্টিফায়েড চিকিৎসক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। আমেরিকান মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের চিকিৎসক ডিরেক্টরিতেও তার বিশেষত্ব হিসেবে ইন্টারনাল মেডিসিনের তথ্য রয়েছে। ব্রুকলিনে তার চিকিৎসাসেবার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো বাংলা ভাষায় রোগীদের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ। নিউইয়র্ক সিটি হেলথ অ্যান্ড হসপিটালসের প্রোফাইলে ইংরেজির পাশাপাশি বাংলা ভাষায় তার চিকিৎসাসেবা দেওয়ার সক্ষমতার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। বিভিন্ন স্বাস্থ্যবীমা প্রতিষ্ঠানের প্রকাশিত চিকিৎসক তালিকাতেও তাকে বাংলা ভাষাভাষী চিকিৎসক হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তার নিজস্ব চিকিৎসাকেন্দ্র হক মেডিকেল অফিসের প্রকাশ্য তথ্য অনুযায়ী, তিনি প্রাইমারি কেয়ার চিকিৎসক হিসেবেও রোগী দেখেন। চিকিৎসাকেন্দ্রটির ওয়েবসাইটে তাকে ইন্টারনাল মেডিসিনে ২৫ বছরের বেশি অভিজ্ঞতাসম্পন্ন এবং ইমার্জেন্সি রুমে অ্যাটেন্ডিং ফিজিশিয়ান হিসেবে দীর্ঘ অভিজ্ঞতার অধিকারী বলা হয়েছে। তবে বর্তমানে একই প্রতিষ্ঠানের প্রকাশ্য ওয়েবসাইটে অভিজ্ঞতার সময়কাল ৩০ বছরের বেশি এবং ইমার্জেন্সি রুমে ২১ বছরের বেশি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে পুরোনো ও বর্তমান প্রোফাইলের মধ্যে অভিজ্ঞতার সংখ্যায় পার্থক্য রয়েছে। ব্রুকলিনে তার চিকিৎসাকেন্দ্রের বর্তমান প্রকাশ্য ঠিকানা ৫৪০ ম্যাকডোনাল্ড অ্যাভিনিউ, ব্রুকলিন, নিউইয়র্ক ১১২১৮ হিসেবে দেওয়া হয়েছে। চিকিৎসাকেন্দ্রের নিজস্ব তথ্য এবং বিভিন্ন স্বাস্থ্যবীমা প্রতিষ্ঠানের চিকিৎসক তালিকায় এই ঠিকানা ও ফোন নম্বরের তথ্য পাওয়া যায়। একই সঙ্গে কিছু পুরোনো জাতীয় চিকিৎসক রেজিস্ট্রি তথ্যে ৫১৮ ম্যাকডোনাল্ড অ্যাভিনিউর ঠিকানাও দেখা যায়। তাই রোগীদের অ্যাপয়েন্টমেন্টের আগে চিকিৎসাকেন্দ্রের বর্তমান তথ্য নিশ্চিত করে নেওয়া উচিত। ডা. সায়েরা হকের চিকিৎসাসেবা শুধু একটি নির্দিষ্ট কমিউনিটির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। প্রকাশ্য চিকিৎসক তালিকায় তাকে নতুন রোগী গ্রহণকারী চিকিৎসক হিসেবে দেখানো হয়েছে এবং টেলিহেলথ সুবিধার কথাও উল্লেখ রয়েছে। তার চিকিৎসাকেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, রোগীদের জন্য সপ্তাহের বিভিন্ন দিন এবং দীর্ঘ সময় ধরে অ্যাপয়েন্টমেন্টের সুযোগ রয়েছে। নিউইয়র্কে বাংলাদেশি কমিউনিটির জন্য মাতৃভাষায় চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ একটি বাস্তব সুবিধা। বিশেষ করে দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যসমস্যা, নিয়মিত প্রাইমারি কেয়ার এবং চিকিৎসা-সংক্রান্ত তথ্য বোঝার ক্ষেত্রে রোগী ও চিকিৎসকের মধ্যে ভাষাগত যোগাযোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। ডা. সায়েরা হকের প্রকাশ্য চিকিৎসক প্রোফাইলগুলোতে বাংলা ভাষায় সেবা দেওয়ার তথ্য থাকায় ব্রুকলিনে বসবাসরত বাংলা ভাষাভাষী রোগীদের জন্য তার চিকিৎসাসেবা আলাদা গুরুত্ব বহন করে। সূত্র: আইবিএল ইন্টারন্যাশনাল
টেক্সাসের অস্টিনে আইসিই কর্মকর্তাদের গুলিতে আহত ভেনেজুয়েলার নাগরিক উইলবার রাফায়েল গার্সেস পেরেজ দাবি করেছেন, গুলি চালানোর আগে কর্মকর্তারা নিজেদের পরিচয় দেননি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, উত্তর অস্টিনে ডোরড্যাশের খাবার ডেলিভারি দেওয়ার সময় একটি চিহ্নবিহীন গাড়ি তার গাড়িতে ধাক্কা দেয় এবং পরে আইসিই কর্মকর্তারা তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালান। ২০ সেপ্টেম্বরের ওই ঘটনায় গুরুতর আহত পেরেজকে হাসপাতালে নেওয়ার পর আইসিই হেফাজতে নেওয়া হয়। পেরেজের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি প্রথমে বুঝতে পারেননি যে চিহ্নবিহীন গাড়িটি আইসিই কর্মকর্তাদের। তার দাবি, গাড়িটি তার গাড়ির পাশে দুইবার ধাক্কা দেয়। এরপর তিনি ইউটার্ন করে গাড়ি থামানোর চেষ্টা করেন। একটি ফ্রিওয়ের নিচে গাড়ি থামানোর পর তিনি বুঝতে পারেন, পেছনে থাকা গাড়িটি তাকে থামানোর চেষ্টা করছে। তখন গাড়িটির নীল ও লাল আলো এবং সাইরেন চালু করা হয় বলে তিনি জানান। পেরেজ বলেন, তিনি কর্মকর্তাদের কাছে যানজটের মধ্যে না থেমে অপেক্ষাকৃত নিরাপদ জায়গায় গাড়ি থামানোর সুযোগ চেয়েছিলেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, একজন কর্মকর্তা তাকে সেখানে থামতে নিষেধ করার পরই তিনি পিঠে গুলির আঘাত অনুভব করেন। এরপর তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসকেরা মেরুদণ্ডের খুব কাছে থাকা বুলেটটি অপসারণ করেননি বলে পেরেজ জানিয়েছেন। ঘটনার সময় ২৮ বছর বয়সী পেরেজ ডোরড্যাশের হয়ে খাবার ডেলিভারি করছিলেন। তার আইনজীবী কেট লিংকন-গোল্ডফিঞ্চ এবং ডোরড্যাশ বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। ২০ সেপ্টেম্বর দুপুরের কিছু আগে উত্তর অস্টিনে যুক্তরাষ্ট্রের ১৮৩ নম্বর হাইওয়ে ও অ্যান্ডারসন স্কয়ার এলাকার কাছে গুলির ঘটনা ঘটে। অস্টিন ট্রাভিস কাউন্টি জরুরি চিকিৎসা বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, পেরেজকে গুরুতর কিন্তু স্থিতিশীল অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। পেরেজের আইনজীবীদের ভাষ্য অনুযায়ী, হাসপাতাল থেকে ছাড়ার পর তাকে দক্ষিণ টেক্সাসের পিয়ারসালে অবস্থিত আইসিই ডিটেনশন সেন্টারে নেওয়া হয়। সেখানে তিনি শরীরে বুলেট থাকা অবস্থায় পর্যাপ্ত চিকিৎসা ও ব্যথানাশক না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন। পরে একজন নার্স তাকে একটি ওষুধ দেন বলে তিনি জানান। তবে ঘটনার বিষয়ে আইসিই ও হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের বক্তব্য পেরেজের বর্ণনা থেকে ভিন্ন। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি জানিয়েছে, পেরেজের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত অপসারণের আদেশ ছিল এবং গুলিবর্ষণের ঘটনাটি হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনস এফবিআইয়ের সহায়তায় তদন্ত করছে। পেরেজের আইনজীবীরা বলেছেন, তিনি ২০২৪ সালে সিবিপি ওয়ান ব্যবস্থার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করে অ্যাসাইলামের আবেদন করেছিলেন এবং তার বৈধ ওয়ার্ক পারমিট ছিল। তার ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্যের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। অস্টিন পুলিশ জানিয়েছে, স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তারা ওই অভিযানে বা গুলিবর্ষণে জড়িত ছিলেন না। ঘটনার তদন্তে স্থানীয় পুলিশ ও টেক্সাস রেঞ্জার্সের ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন অস্টিনের মেয়র কির্ক ওয়াটসন। তিনি আইসিইর অভ্যন্তরীণ তদন্তের পাশাপাশি স্বাধীনভাবে ঘটনাটি পর্যালোচনার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন। পেরেজের বক্তব্য এখন তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলেও গুলি চালানোর ঠিক আগে কী ঘটেছিল, কর্মকর্তারা কখন নিজেদের পরিচয় দিয়েছিলেন, গাড়িতে ধাক্কা দেওয়ার পরিস্থিতি কী ছিল এবং কেন গুলি চালানো হয়েছিল, এসব প্রশ্নের চূড়ান্ত উত্তর এখনো পাওয়া যায়নি। ফেডারেল তদন্তের পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়েও ঘটনাটি নিয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।
ইংল্যান্ডের কেন্টে বাড়ির রান্নাঘর সম্প্রসারণের কাজ করতে গিয়ে প্রায় এক হাজার বছরের পুরোনো মানুষের কঙ্কাল উদ্ধারের ঘটনায় এক দম্পতির বাড়ি পরিণত হয়েছিল সম্ভাব্য অপরাধস্থলে। ২০১৯ সালের সেই ঘটনায় পুলিশ ও বিশেষজ্ঞরা তদন্ত শুরু করলেও পরে জানা যায়, উদ্ধার হওয়া দেহাবশেষ আধুনিক কোনো অপরাধের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। ছয় বছর পর চলতি বছরের আগস্টে স্থানীয় একটি গির্জার কবরস্থানে সেগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে সমাহিত করা হয়েছে। ঘটনাটি ইংল্যান্ডের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের কেন্টের ওয়াই এলাকায়। ২০১৯ সালের বসন্তে ৪৯ বছর বয়সী রস স্লেজার কর্মস্থলে ছিলেন। এ সময় তার বাড়িতে রান্নাঘর সম্প্রসারণের কাজ করছিলেন এক নির্মাণশ্রমিক। মাটি খোঁড়ার সময় তিনি কিছু হাড় দেখতে পান। প্রথমে স্লেজারও বিষয়টিকে খুব একটা গুরুত্ব দেননি। তার ধারণা ছিল, এগুলো হয়তো কোনো খামারের প্রাণী বা পোষা প্রাণীর হাড়। কিন্তু নির্মাণশ্রমিক জানান, হাড়গুলো মানুষের হতে পারে। বিষয়টি জানার পর স্লেজার বাড়িতে ফিরে এসে বুঝতে পারেন, ঘটনাটি সাধারণ কোনো নির্মাণকাজের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। খবর পেয়ে পুলিশ বাড়িটিতে যায় এবং জায়গাটিকে সম্ভাব্য অপরাধস্থল হিসেবে বিবেচনা করে তদন্ত শুরু করে। প্রায় ১০ জন পুলিশ কর্মকর্তা সেখানে তল্লাশি চালান। একপর্যায়ে তদন্তকারীরা আরও একজন মানুষের দেহাবশেষের অংশ খুঁজে পান। সব মিলিয়ে উদ্ধার হওয়া অংশগুলোর মধ্যে ছিল একটি উরুর হাড়, দুটি মাথার খুলি, পাঁজরের হাড়, শ্রোণিচক্রের একটি অংশ এবং বাহু ও আঙুলের হাড়ের কিছু অংশ। স্লেজার পরে জানান, পুলিশি তদন্তের কারণে তার বাড়ির পরিবেশ পুরোপুরি বদলে গিয়েছিল। রাতেও সেখানে পুলিশ পাহারা ছিল। একজন কর্মকর্তা গাড়িতে অবস্থান করতেন এবং নির্দিষ্ট সময় পরপর গাড়ি থেকে বের হয়ে জায়গাটি পর্যবেক্ষণ করতেন। গাড়ির আলোতে প্রতিবেশীদের বাড়ির বাতি জ্বলে উঠত এবং তার কুকুরও ঘেউ ঘেউ করত। ফলে সে রাতে তাদের ঘুমাতেও সমস্যা হয়েছিল বলে জানান তিনি। তবে প্রাথমিক তদন্তের প্রায় ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই বিশেষজ্ঞরা নিশ্চিত করেন, উদ্ধার হওয়া হাড়গুলো আধুনিক সময়ের কোনো হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। পরে পরীক্ষায় এগুলোকে অ্যাংলো-স্যাক্সন যুগের মানুষের দেহাবশেষ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। বয়স আনুমানিক এক হাজার বছর বলে ধারণা করা হয়। এরপরও স্লেজার পরিবারের জন্য বিষয়টি পুরোপুরি শেষ হয়নি। বাড়ির বাগানে কৃত্রিম ঘাস বসানোর সময় স্লেজার আরও কিছু হাড়ের অংশ দেখতে পান। সেগুলো দেখে আবারও তিনি চিন্তিত হয়ে পড়েন, কারণ নির্মাণকাজ ব্যাহত হতে পারে বলে আশঙ্কা করেছিলেন। তবে পরে নিশ্চিত হওয়া যায়, এগুলোও একই প্রাচীন দেহাবশেষের অংশ। পুলিশি তদন্ত শেষ হওয়ার পর হাড়গুলো স্থানীয় ঐতিহাসিক সংগঠনের কাছে রাখা হয়। পরে সেগুলো স্থানীয় গির্জার পুরোহিতের কাছে হস্তান্তর করা হয়। তবে প্রাচীন দেহাবশেষ কোথায় এবং কীভাবে সমাহিত করা হবে, তা নির্ধারণ করতে কিছুটা সময় লাগে। প্রয়োজনীয় অনুমতি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার কারণে দাফন পিছিয়ে যায় বলে স্লেজার জানান। অবশেষে ২০২৬ সালের ১৯ আগস্ট ওয়াইয়ের সেন্ট গ্রেগরি অ্যান্ড সেন্ট মার্টিন চার্চের কবরস্থানে দেহাবশেষগুলো পুনরায় সমাহিত করা হয়। অনুষ্ঠানে স্থানীয় ২৫ জনের বেশি মানুষ অংশ নেন। গির্জার রেক্টর রেভারেন্ড রবি হলি বলেন, দেহাবশেষগুলোর পরিচয় জানা না গেলেও তারা মানুষ ছিলেন এবং তাদের প্রাপ্য সম্মান দেওয়াই উচিত। অনুষ্ঠানে উইলিয়াম ব্লেকের বিখ্যাত গান ‘জেরুজালেম’ গাওয়া হয়। স্লেজার বলেন, দীর্ঘ সময় পর দেহাবশেষগুলোর একটি যথাযথ শেষ ঠিকানা হয়েছে এবং স্থানীয় মানুষও তাদের সম্মান জানানোর সুযোগ পেয়েছেন। স্থানীয় ইতিহাসও এই আবিষ্কারের সঙ্গে জড়িত। ওয়াই হিস্টোরিক্যাল সোসাইটির আর্কাইভিস্ট মোরিন ডি-স্যাক্স জানান, ওই এলাকায় ১৯৩০-এর দশকে বাড়িঘর নির্মাণের সময়ও কয়েকটি কঙ্কাল পাওয়া গিয়েছিল। ফলে জায়গাটিতে প্রাচীন সমাধিস্থল থাকার সম্ভাবনার বিষয়টি স্থানীয়ভাবে আগে থেকেই কিছুটা জানা ছিল। সাধারণ একটি বাড়ির সংস্কারকাজ থেকে শুরু হওয়া এই ঘটনা শেষ পর্যন্ত স্থানীয় ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ে পরিণত হয়েছে। প্রথমে সম্ভাব্য অপরাধের তদন্ত, পরে প্রত্নতাত্ত্বিক বিশ্লেষণ এবং সবশেষে যথাযথ সমাহিতকরণ, প্রায় এক হাজার বছর আগের অজ্ঞাত দুই মানুষের দেহাবশেষকে ঘিরে ছয় বছর ধরে চলা এই ঘটনাটির সমাপ্তি হয়েছে স্থানীয় গির্জার কবরস্থানে।
২০২৩ সালের ২৫ নভেম্বর ভারমন্টের বার্লিংটনে ইউনিভার্সিটি অব ভারমন্টের কাছে ওই হামলার ঘটনা ঘটে। গুলিতে হিশাম আওয়ারতানি মেরুদণ্ডে গুরুতর আঘাত পেয়ে কোমর থেকে নিচের অংশের চলাচলের ক্ষমতা হারান। তার দুই বন্ধু তাহসিন আলিয়াহমাদ ও কিনান আবদালহামিদও গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হন। মামলার বিচার চলে এক সপ্তাহ ধরে। এতে তিন ভুক্তভোগী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য, অস্ত্র বিশেষজ্ঞ এবং মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সাক্ষ্য দেন। সোমবার কয়েক ঘণ্টার পরিবর্তে প্রায় দুই ঘণ্টা আলোচনার পর জুরি রায় ঘোষণা করে। রায় ঘোষণার সময় আদালতে উপস্থিত আওয়ারতানি ও আলিয়াহমাদ একে অপরকে জড়িয়ে ধরেন এবং স্বজন ও সমর্থকদের সঙ্গে প্রতিক্রিয়া জানান। ইটন গুলি চালানোর বিষয়টি অস্বীকার করেননি। তার আইনজীবীরা মূলত দাবি করেন, ঘটনার সময় তিনি মানসিকভাবে এতটাই অসুস্থ ছিলেন যে তার কাজের অপরাধমূলক চরিত্র বোঝার সক্ষমতা ছিল না। প্রতিরক্ষা পক্ষের মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. ফাবিয়ান সালেহর মতে, ইটন ভ্রান্ত ধারণাজনিত মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন এবং তার বিশ্বাস ছিল, যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ ও ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের কাছ থেকে এফএম রেডিও ও অন্যান্য প্রযুক্তির মাধ্যমে তিনি নির্দেশনা পাচ্ছেন। ইটনের আইনজীবীরা আরও বলেন, তিনি বিশ্বাস করতেন তাকে একটি ইহুদি পরিবারের নিরাপত্তা রক্ষার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এবং ঈশ্বরও তাকে কাজটি করার নির্দেশ দিচ্ছেন। তাদের বক্তব্য ছিল, এই মানসিক অবস্থার কারণে ইটন নিজের কর্মকাণ্ডের প্রকৃতি ও অপরাধমূলক চরিত্র যথাযথভাবে উপলব্ধি করতে পারেননি। তবে প্রসিকিউশন এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে। তাদের বিশেষজ্ঞ ডা. জিলাম বিসওয়াস আদালতে বলেন, ইটনের গুরুতর মানসিক রোগের পূর্বনির্ণয়ের রেকর্ড ছিল না এবং ঘটনার সময় তিনি আইনগতভাবে উন্মাদ ছিলেন না। প্রসিকিউশনের যুক্তি ছিল, তার কর্মকাণ্ডের পেছনে বিভিন্ন ব্যক্তিগত ও পরিস্থিতিগত কারণ থাকলেও সেগুলো আইনগতভাবে উন্মাদনার প্রতিরক্ষার মানদণ্ড পূরণ করে না। ঘটনার দিন তিন শিক্ষার্থী থ্যাংকসগিভিং ছুটিতে বার্লিংটনে ছিলেন। তারা হিশাম আওয়ারতানির দাদি ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করতে সেখানে গিয়েছিলেন। সন্ধ্যার পর তারা ইউনিভার্সিটি অব ভারমন্টের কাছে হাঁটছিলেন এবং ইংরেজি ও আরবি ভাষায় কথা বলছিলেন। তাদের দুজনের গলায় ঐতিহ্যবাহী ফিলিস্তিনি কেফিয়েহ ছিল। আদালতে তারা জানান, ইটন কোনো কথা না বলে তাদের দিকে এগিয়ে এসে পিস্তল বের করে গুলি চালান। পুলিশ পরে ইটনের অ্যাপার্টমেন্ট থেকে একটি রুগার পিস্তলসহ কয়েকটি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করে। তদন্তে ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া গুলির খোসার সঙ্গে তার অ্যাপার্টমেন্ট থেকে উদ্ধার করা অস্ত্র ও গোলাবারুদের মিল পাওয়া যায়। মোবাইল ফোনের তথ্যও তাকে ঘটনাস্থলের কাছাকাছি থাকার সঙ্গে যুক্ত করে বলে প্রসিকিউশন আদালতে তুলে ধরে। হামলার পর ঘটনাটি সম্ভাব্য বিদ্বেষপ্রসূত অপরাধ হিসেবে তদন্তের দাবি ওঠে। তবে ইটনের বিরুদ্ধে আলাদা কোনো বিদ্বেষপ্রসূত অপরাধের অভিযোগ আনা হয়নি। বিচার চলাকালে প্রসিকিউশন এমন কিছু তথ্য উপস্থাপন করে, যা থেকে ভুক্তভোগীদের ফিলিস্তিনি পরিচয়ের সঙ্গে হামলার সম্পর্ক থাকার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। ইটনের পরিবার ও ভুক্তভোগীদের স্বজনরাও দীর্ঘদিন ধরে হামলাটিকে ফিলিস্তিনি পরিচয়ের কারণে সংঘটিত বলে মনে করে আসছেন। তবে আদালতে যে অভিযোগে বিচার হয়েছে, তা ছিল হত্যাচেষ্টা। এই হামলার সময় গাজা যুদ্ধ শুরুর পর যুক্তরাষ্ট্রে আরব, মুসলিম ও ইহুদি সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক ঘটনার বিষয়ে উদ্বেগ বাড়ছিল। তিন শিক্ষার্থীই রামাল্লায় বড় হয়েছেন এবং পরে উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে যান। হামলার পর ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি আন্তর্জাতিকভাবেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। রায়ের পর ইটনকে সাজা ঘোষণার আগ পর্যন্ত কারাগারে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তার সাজা ঘোষণার তারিখ এখনো নির্ধারণ করা হয়নি। প্রতিটি হত্যাচেষ্টার অভিযোগে সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে এবং আদালতে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, প্রতিটি অভিযোগে ন্যূনতম ২০ বছর করে কারাদণ্ডের সম্ভাবনাও রয়েছে। সূত্র: রয়টার্স, ভারমন্ট পাবলিক, আল জাজিরা
নিউইয়র্কের বিংহ্যামটনের ৩৩ বছর বয়সী জেফরি স্কট হ্যাম জুনিয়র প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও আইসিই কর্মকর্তাদের হত্যার হুমকি দেওয়ার ঘটনায় ফেডারেল আদালতে দোষ স্বীকার করেছেন। ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তিনি অন্যকে আহত করার হুমকি অনলাইনে পাঠানোর অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। মামলায় তার সর্বোচ্চ পাঁচ বছর কারাদণ্ড, ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার পর্যন্ত জরিমানা এবং সর্বোচ্চ তিন বছর তত্ত্বাবধানে মুক্তির বিধান রয়েছে। ফেডারেল প্রসিকিউটরদের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের শুরুর দিকে হ্যাম নিজের মোবাইল ফোন ব্যবহার করে একটি অনলাইন ভিডিও শেয়ারিং প্ল্যাটফর্মে একাধিকবার ট্রাম্প ও আইসিই কর্মকর্তাদের হত্যা বা আহত করার হুমকি পোস্ট করেন। প্ল্যাটফর্মটির নিরাপত্তা কর্মীরা এসব পোস্ট শনাক্ত করে এফবিআইকে জানান। এরপর এফবিআই হুমকিগুলো নিয়ে তদন্ত শুরু করে এবং হ্যামের সঙ্গে অনলাইন পোস্টগুলোর সংশ্লিষ্টতা যাচাই করে। তদন্তের পর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ফেডারেল মামলায় তার বিরুদ্ধে অনলাইনে হুমকি পাঠানোর অভিযোগ আনা হয়। আদালতে দোষ স্বীকারের মাধ্যমে হ্যাম স্বীকার করেছেন যে তিনি ওই হুমকিমূলক বার্তাগুলো অনলাইনে প্রকাশ করেছিলেন। তবে আদালতে দোষ স্বীকার করা মানে মামলার শাস্তি তাৎক্ষণিকভাবে নির্ধারিত হয়ে যাওয়া নয়। ফেডারেল আদালতের বিচারক পরবর্তী শুনানিতে আইন ও ফেডারেল সাজা নির্দেশিকা বিবেচনা করে সাজা নির্ধারণ করবেন। হ্যামের সাজা ঘোষণার শুনানি আগামী ২০ জানুয়ারি ২০২৭ নির্ধারণ করা হয়েছে। ওই শুনানিতে আদালত তার অপরাধের ধরন ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক বিষয় বিবেচনা করবে। মামলাটিতে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ডের পাশাপাশি ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার পর্যন্ত জরিমানার সুযোগ রয়েছে। অনলাইনে ফেডারেল কর্মকর্তা বা প্রেসিডেন্টকে হত্যার হুমকি যুক্তরাষ্ট্রে ফেডারেল অপরাধ হিসেবে তদন্ত ও বিচারের আওতায় আসতে পারে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ট্রাম্প ও আইসিই কর্মকর্তাদের লক্ষ্য করে অনলাইনে হুমকির কয়েকটি ঘটনায় ফেডারেল কর্তৃপক্ষ তদন্ত ও মামলা করেছে। তবে প্রতিটি মামলায় অভিযোগ, প্রমাণ ও সম্ভাব্য সাজা আলাদা। হ্যামের মামলায় অনলাইন প্ল্যাটফর্মের নিরাপত্তা কর্মীদের দেওয়া তথ্য তদন্তের সূচনাবিন্দু হিসেবে কাজ করেছে। এখন আগামী জানুয়ারির সাজা ঘোষণার শুনানির দিকে নজর রয়েছে।
বিদেশি হামলার সম্ভাবনা ও চলমান আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যে সাধারণ নাগরিকদের সামরিক ও জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার প্রশিক্ষণ দিচ্ছে ইরান। এ উদ্দেশ্যে তেহরানে সরকার-সমর্থিত একটি বড় সমাবেশ ও সামরিক মহড়ার আয়োজন করা হয়েছে। এতে নারী, তরুণ ও বিভিন্ন বয়সী সাধারণ মানুষ অংশ নেন। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে জানা গেছে, ‘জানফাদায়ে ইরান’ বা ‘ইরানের জন্য জীবন উৎসর্গকারী’ নামে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের সম্ভাব্য সংকটের সময় দেশের পাশে দাঁড়ানোর জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে। সমাবেশে সামরিক সরঞ্জাম প্রদর্শনের পাশাপাশি নাগরিকদের অস্ত্র ব্যবহারের প্রাথমিক প্রশিক্ষণের বিষয়টিও সামনে এসেছে। তেহরানের বিভিন্ন সড়কে এ কর্মসূচিকে ঘিরে বড় বড় ব্যানার দেখা গেছে। এসব ব্যানারে রকেটচালিত গ্রেনেড, স্নাইপার রাইফেল ও অ্যাসল্ট রাইফেলের ছবি ব্যবহার করা হয়েছে। কোথাও লেখা ছিল, এসব অস্ত্র কীভাবে কাজ করে সে বিষয়ে মানুষকে জানতে উৎসাহিত করা হচ্ছে। শুক্রবারের মহড়ায় অস্ত্র হাতে নারী ও বিভিন্ন বয়সী মানুষকে অংশ নিতে দেখা যায়। আয়োজকদের পক্ষ থেকে এটিকে সম্ভাব্য যুদ্ধ পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের প্রস্তুতি বাড়ানোর উদ্যোগ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। উদ্ধারকাজ, জরুরি সেবা এবং অন্যান্য সামাজিক কার্যক্রমে সহায়তার জন্য একটি বড় স্বেচ্ছাসেবী নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার লক্ষ্যও এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছে। তবে কর্মসূচিটির উদ্দেশ্য নিয়ে বিশ্লেষকদের মধ্যে ভিন্নমত রয়েছে। কেউ কেউ মনে করছেন, সম্ভাব্য বিদেশি হামলার বিরুদ্ধে প্রস্তুতির পাশাপাশি ইরানের নিরাপত্তা কাঠামোয় সাধারণ নাগরিকদের আরও সক্রিয়ভাবে যুক্ত করাই এর একটি লক্ষ্য। একই সঙ্গে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের স্বেচ্ছাসেবী বাহিনী বাসিজের ভূমিকা ও জনসম্পৃক্ততা বাড়ানোর প্রচেষ্টাও এর পেছনে থাকতে পারে বলে বিশ্লেষকদের কেউ কেউ মনে করছেন। ইরানের নিরাপত্তা কাঠামোয় বাসিজের দীর্ঘদিনের ভূমিকা রয়েছে। এটি আইআরজিসির অধীন একটি স্বেচ্ছাসেবী বাহিনী, যাকে বিভিন্ন সময় সামাজিক, নিরাপত্তা ও সামরিক কার্যক্রমে যুক্ত করা হয়েছে। নতুন এই কর্মসূচির মাধ্যমে সাধারণ মানুষের একটি বড় অংশকে প্রশিক্ষণের আওতায় আনা হলে জরুরি পরিস্থিতিতে সরকারের হাতে অতিরিক্ত স্বেচ্ছাসেবী জনবল তৈরি হতে পারে। সমাবেশে শুধু সামরিক প্রশিক্ষণের বিষয়টিই সামনে আসেনি, জাতীয় ঐক্যের বার্তাও গুরুত্ব পেয়েছে। সরকারি সমর্থকেরা দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং সম্ভাব্য বিদেশি হামলার বিরুদ্ধে জনগণকে প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান। সাম্প্রতিক সংঘাত ও আঞ্চলিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে তেহরান এমন কর্মসূচির মাধ্যমে দেশের অভ্যন্তরে ঐক্যের বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলেও বিশ্লেষকদের কেউ কেউ মনে করছেন। তবে কর্মসূচিতে শিশু-কিশোরদের অংশগ্রহণ নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। যুদ্ধ বা সামরিক পরিস্থিতির সঙ্গে শিশুদের পরিচিত করানোর বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও ইরানি কর্তৃপক্ষ এটিকে জাতীয় প্রস্তুতি ও জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার অংশ হিসেবে তুলে ধরছে। তেহরানের আইআরজিসি কমান্ডার হাসান হাসানজাদেহের উদ্ধৃতি দিয়ে স্থানীয় প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইতোমধ্যে ছয় লাখের বেশি মানুষ সামরিক প্রশিক্ষণের জন্য নিবন্ধন করেছেন এবং শিগগিরই এই সংখ্যা ১০ লাখ ছাড়াতে পারে। প্রশিক্ষণে অস্ত্র ব্যবহারের পাশাপাশি জরুরি পরিস্থিতিতে স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে কাজ করার বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে। ইরানের অর্থনৈতিক চাপ, অতীতের সরকারবিরোধী বিক্ষোভ এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই ধরনের জনসম্পৃক্ত নিরাপত্তা কর্মসূচি দেশটির অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হয়ে উঠতে পারে বলে বিশ্লেষকদের কেউ কেউ মনে করছেন। তবে এসব কর্মসূচির দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব এবং সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ কতটা স্থায়ী হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। এদিকে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের মধ্যে নতুন করে সংঘাতের আশঙ্কার মধ্যেই তেহরানে এ ধরনের সামরিক প্রস্তুতি জোরদার করা হচ্ছে। ফলে সাধারণ নাগরিকদের প্রশিক্ষণ কর্মসূচিটি শুধু সামরিক প্রস্তুতির বিষয় নয়, বরং ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা ও জনসম্পৃক্ততার বৃহত্তর কৌশলের অংশ হিসেবেও পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। সূত্র: রয়টার্স, ইন্ডিপেনডেন্ট টেলিভিশন
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ৮১তম জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে পৌঁছেছেন। সোমবার তিনি জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। চলমান আঞ্চলিক উত্তেজনা ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের সম্পর্কের টানাপোড়েনের মধ্যেই তার এই নিউইয়র্ক সফর বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএর বরাত দিয়ে আনাদোলু এজেন্সি জানিয়েছে, বিমানবন্দরে আরাঘচিকে স্বাগত জানান জাতিসংঘে ইরানের স্থায়ী প্রতিনিধি ও ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত গোলামহোসেইন দারজি। নিউইয়র্কে তিনি একটি উচ্চপর্যায়ের ইরানি প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। নিউইয়র্কে আসার আগে আরাঘচি কাতারের রাজধানী দোহায় সংক্ষিপ্ত যাত্রাবিরতি করেন। সেখানে কাতারের কর্মকর্তাদের সঙ্গে তিনি মধ্যপ্রাচ্যের সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন। আঞ্চলিক কূটনীতিতে কাতারের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কারণে এই বৈঠকও নজর কেড়েছে। জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের উচ্চপর্যায়ের সপ্তাহ ২২ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হয়েছে। সাধারণ বিতর্ক ২২ থেকে ২৬ সেপ্টেম্বর এবং ২৮ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হবে। এ সময় বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান এবং উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে নিজেদের দেশের অবস্থান ও অগ্রাধিকার তুলে ধরবেন। আরাঘচির নিউইয়র্ক সফর এমন এক সময়ে হচ্ছে, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। চলমান সংঘাতের মধ্যেও যুক্তরাষ্ট্র ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচিকে জাতিসংঘের অধিবেশনে অংশ নেওয়ার জন্য ভিসা দিয়েছে। তবে ইরানি প্রতিনিধিদলের চলাচল ও কিছু কেনাকাটার ওপর যুক্তরাষ্ট্র বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানও ২২ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। তিনি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণ দেওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন বিশ্বনেতা ও কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠক করবেন বলে ইরানি সূত্র জানিয়েছে। আরাঘচির নিউইয়র্ক সফরে জাতিসংঘের মঞ্চে ইরানের অবস্থান তুলে ধরার পাশাপাশি আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে কূটনৈতিক যোগাযোগের সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে কোনো বৈঠক বা আলোচনায় তাৎক্ষণিকভাবে বড় ধরনের সমঝোতা হবে কি না, সে বিষয়ে এখনো কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
সাগরের পানির নিচে সূর্যের আলো কাজে লাগিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রযুক্তিতে বড় অগ্রগতি করেছেন চীনের বিজ্ঞানীরা। ইউনান বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের তৈরি বিশেষ সৌরকোষ দক্ষিণ চীন সাগরের পানির ১০ মিটার গভীরতায় সফলভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন করেছে। পরীক্ষায় এই সৌর মডিউল দিয়ে লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি চার্জ করার পাশাপাশি এলইডি আলোও জ্বালানো সম্ভব হয়েছে। গবেষণাটি ১১ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সাময়িকী ‘জুল’-এ প্রকাশিত হয়। গবেষণায় ইউনান বিশ্ববিদ্যালয় ও সাউথওয়েস্ট ইউনাইটেড গ্র্যাজুয়েট স্কুলের গবেষকেরা পানির নিচে সৌরশক্তি সংগ্রহের জন্য প্রশস্ত ব্যান্ডগ্যাপের লেড-হ্যালাইড পেরোভস্কাইট সৌরকোষ ব্যবহার করেন। গবেষকদের মতে, পানির নিচে বাস্তব পরিবেশে ১০ মিটার গভীরতায় এই প্রযুক্তির কার্যকারিতা প্রদর্শন করা আগের পরীক্ষাগুলোর তুলনায় বড় অগ্রগতি। সমুদ্রের পানির নিচে সূর্যের আলো খুব দ্রুত দুর্বল হয়ে যায়। একই সঙ্গে পানির কারণে আলোর বর্ণালিও বদলে যায়। বিশেষ করে দীর্ঘ তরঙ্গদৈর্ঘ্যের আলো দ্রুত শোষিত হওয়ায় পানির গভীরে নীল ও সবুজ আলোর আধিক্য থাকে। এ কারণে প্রচলিত সিলিকন সৌরকোষ পানির নিচে একইভাবে কার্যকর থাকে না। গবেষকেরা এই সমস্যার সমাধানে এমন পেরোভস্কাইট সৌরকোষ তৈরি করেছেন, যা পানির নিচে পৌঁছানো সীমিত আলোর বর্ণালির সঙ্গে বেশি সামঞ্জস্যপূর্ণ। গবেষণাপত্র অনুযায়ী, নতুন সৌরকোষের শক্তি রূপান্তর দক্ষতা ১০ মিটার গভীরতার আলো অনুকরণ করে পরীক্ষায় ৩৪ দশমিক ৭১ শতাংশ পর্যন্ত পাওয়া গেছে। কৃত্রিমভাবে ১০ মিটার গভীরতার পানির নিচের আলোর পরিবেশ তৈরি করে ১ হাজার ১৬০ ঘণ্টা পরীক্ষা চালানোর পরও কোষটির কার্যক্ষমতায় উল্লেখযোগ্য অবনতি দেখা যায়নি। আর ত্বরিত বার্ধক্য পরীক্ষার ভিত্তিতে গবেষকেরা ধারণা করছেন, একই ধরনের পরিবেশে কোষটি প্রায় ৫ দশমিক ৫ বছর পর্যন্ত তার প্রাথমিক সক্ষমতার অন্তত ৮০ শতাংশ ধরে রাখতে পারে। গবেষণার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, পরীক্ষাটি শুধু গবেষণাগারে সীমাবদ্ধ ছিল না। দক্ষিণ চীন সাগরের ওয়েইঝৌ দ্বীপপুঞ্জের কাছে পানির নিচে রোবটের সঙ্গে বড় আকারের সৌর মডিউল যুক্ত করে মাঠপর্যায়ের পরীক্ষা চালানো হয়। ২, ৬ এবং ১০ মিটার গভীরতায় মডিউলগুলো পরীক্ষা করা হয়। ১০ মিটার গভীরতায় দুই ঘণ্টা সূর্যালোকের মধ্যে মডিউলটি ৩২৪ মিলিওয়াট-ঘণ্টা বিদ্যুৎ উৎপাদন করে, যা লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি চার্জ এবং এলইডি চালানোর জন্য ব্যবহার করা হয়। এর আগে পানির নিচে সৌরবিদ্যুৎ নিয়ে যেসব পরীক্ষা হয়েছে, সেগুলোর বেশিরভাগই ২ মিটার বা তার কম গভীরতায় সীমাবদ্ধ ছিল। গবেষণার অন্যতম লেখক ঝাং ওয়েন-হুয়া বলেন, এত অল্প গভীরতার পরীক্ষা বাস্তব সমুদ্রভিত্তিক প্রয়োগের জন্য যথেষ্ট নয়। নতুন পরীক্ষায় ১০ মিটার গভীরতায় বড় আকারের সৌর মডিউল দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন দেখানো হয়েছে, যা পানির নিচে দীর্ঘমেয়াদি বিদ্যুৎ সরবরাহের সম্ভাবনা তৈরি করেছে। পানির নিচে বিদ্যুৎ সরবরাহের ক্ষেত্রে এই প্রযুক্তির সম্ভাব্য ব্যবহারও বিস্তৃত। গবেষকদের মতে, সমুদ্রের তলদেশে থাকা বিভিন্ন সেন্সর, ক্যামেরা, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং স্বয়ংক্রিয় পানির নিচের যন্ত্রে নিয়মিত ব্যাটারি বদলানো বা বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার প্রয়োজন কমাতে এটি ভবিষ্যতে কাজে লাগতে পারে। বিশেষ করে দীর্ঘ সময় মানুষের সরাসরি তত্ত্বাবধানের বাইরে থাকা সামুদ্রিক যন্ত্রের জন্য এমন একটি স্থানীয় বিদ্যুৎ উৎস গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। তবে প্রযুক্তিটি এখনো গবেষণা ও পরীক্ষার পর্যায়ে রয়েছে। ১০ মিটার গভীরতায় সফলতা পাওয়া গেলেও আরও বেশি গভীরতায় এর কার্যকারিতা কেমন থাকবে, দীর্ঘ সময় সমুদ্রের প্রকৃত পরিবেশে কীভাবে কাজ করবে এবং সামুদ্রিক জীব ও আবর্জনা জমে সৌরকোষের ওপর কী ধরনের প্রভাব ফেলবে, সেসব বিষয় নিয়ে আরও পরীক্ষা প্রয়োজন। গবেষকেরা পরবর্তী ধাপে আরও গভীর পানিতে এই প্রযুক্তির সীমা পরীক্ষা এবং পানির নিচের সৌরকোষের জন্য মানসম্মত পরীক্ষাপদ্ধতি তৈরির পরিকল্পনা করছেন। অর্থাৎ, এটি এখনই প্রচলিত সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্রের বিকল্প নয়। তবে সমুদ্রের পানির নিচে থাকা বিভিন্ন যন্ত্রকে দীর্ঘ সময় নিজস্বভাবে বিদ্যুৎ দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রযুক্তিটি নতুন একটি সম্ভাবনার দরজা খুলেছে। সূত্র: সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট, জুল, ইউনান বিশ্ববিদ্যালয়
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার সন্ধ্যায় নিউইয়র্ক সিটির মেয়রের সরকারি বাসভবন গ্রেসি ম্যানশনে গিয়ে মেয়র জোহরান মামদানির সঙ্গে বৈঠক করেছেন। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে অবস্থানকালে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকটি ছিল বন্ধ দরজার আড়ালে এবং এর আগে এ নিয়ে বিস্তারিত কর্মসূচি প্রকাশ করা হয়নি। মামদানির যোগাযোগ পরিচালক আনা বাহর আগে জানিয়েছিলেন, ট্রাম্প ও মামদানি শহর এবং এর বাসিন্দাদের সরাসরি প্রভাবিত করে এমন বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করবেন। হোয়াইট হাউসও বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছিল। তবে বৈঠকের বিস্তারিত বিষয়বস্তু তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। ট্রাম্প ও মামদানির মধ্যে এর আগেও বৈঠক হয়েছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে মামদানি ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে নিউইয়র্কের আবাসন ও ফেডারেল বিনিয়োগ নিয়ে আলোচনা করেন। সে সময় তিনি ট্রাম্পকে নিউইয়র্ক ডেইলি নিউজের একটি প্রতীকী প্রথম পৃষ্ঠার কপি উপহার দেন, যার শিরোনাম ছিল “ট্রাম্প টু সিটি: লেটস বিল্ড”। এটি ১৯৭৫ সালের ঐতিহাসিক “ফোর্ড টু সিটি: ড্রপ ডেড” শিরোনামের প্রতি ইঙ্গিত ছিল। ট্রাম্প ও মামদানির রাজনৈতিক অবস্থান অনেক ক্ষেত্রেই ভিন্ন। মামদানি নিজেকে ডেমোক্রেটিক সোশ্যালিস্ট হিসেবে পরিচয় দেন। অন্যদিকে ট্রাম্প রিপাবলিকান পার্টির প্রেসিডেন্ট। তবে নিউইয়র্ক সিটির মেয়র হিসেবে মামদানির দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে ফেডারেল সরকারের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে সমন্বয় গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে আবাসন, ফেডারেল অর্থায়ন, জননিরাপত্তা এবং অভিবাসনসহ বিভিন্ন বিষয়ে সিটি ও ফেডারেল প্রশাসনের সিদ্ধান্তের সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে নিউইয়র্কবাসীর ওপর। সম্প্রতি নিউইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হোকুল ও মেয়র মামদানি ট্রাম্প প্রশাসনের কাছে সন্ত্রাসবিরোধী নিরাপত্তা তহবিলের ৮ কোটি ৭০ লাখ ডলার দেওয়ার দাবি তুলেছেন। নিউইয়র্কের নিরাপত্তা কার্যক্রমে এই অর্থ গুরুত্বপূর্ণ বলে তারা উল্লেখ করেছেন। একই সময়ে ফেডারেল কর্মকর্তারা নিউইয়র্কের হাতে অব্যবহৃত নিরাপত্তা তহবিল রয়েছে বলে পাল্টা বক্তব্য দিয়েছেন। গ্রেসি ম্যানশনে সোমবারের বৈঠকের মাধ্যমে ট্রাম্প ও মামদানির মধ্যে ফেডারেল ও স্থানীয় সরকারের সম্পর্ক নিয়ে আলোচনার আরেকটি পর্ব শুরু হলো। তবে বৈঠকে ঠিক কোন কোন বিষয়ে সিদ্ধান্ত বা সমঝোতা হয়েছে, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত সরকারি বিবরণ প্রকাশ করা হয়নি।
টেক্সাসের অস্টিনে আইসিইর এক কর্মকর্তার গুলিতে আহত ভেনেজুয়েলার নাগরিক উইলবার রাফায়েল গার্সেস পেরেজ জানিয়েছেন, তার শরীরে এখনো একটি বুলেট আটকে আছে এবং তিনি তীব্র ব্যথায় ভুগছেন। ২০ সেপ্টেম্বর রোববারের ওই ঘটনার পর তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে তাকে আইসিই হেফাজতে নেওয়া হয়। সোমবার ফেডারেল ডিটেনশন সেন্টার থেকে আইনজীবীদের মাধ্যমে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ২৮ বছর বয়সী পেরেজ। পরে কংগ্রেসম্যান গ্রেগ ক্যাসার জানান, তাকে চিকিৎসার জন্য একটি চিকিৎসাকেন্দ্রে স্থানান্তর করা হয়েছে। সোমবার কথা বলার সময় পেরেজ স্প্যানিশ ভাষায় জানান, গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর তার শারীরিক অবস্থা ভালো নয় এবং তিনি প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পাচ্ছেন না। তার আইনজীবীদের ভাষ্য অনুযায়ী, গুলিটি মেরুদণ্ডের খুব কাছাকাছি আটকে থাকায় চিকিৎসকেরা সেটি অপসারণ করেননি। ঘটনার সময় পেরেজ ডোরড্যাশের হয়ে খাবার ডেলিভারি করছিলেন বলে তার আইনজীবী এবং ডোরড্যাশ কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে। অস্টিনের উত্তরাঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের ১৮৩ নম্বর হাইওয়ে ও অ্যান্ডারসন স্কয়ার এলাকার কাছে রোববার দুপুরের আগে ঘটনাটি ঘটে। গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর তাকে ডেল সিটন মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। পরে হাসপাতাল থেকে তাকে আইসিই হেফাজতে নেওয়া হয়। পেরেজের বর্ণনা অনুযায়ী, একটি চিহ্নবিহীন এসইউভি তার গাড়ির পাশে ধাক্কা দেওয়ার পর তিনি বুঝতে পারেন, সেটি আইসিই কর্মকর্তাদের গাড়ি। তিনি গাড়ি থামানোর চেষ্টা করেন এবং নিরাপদ জায়গায় থামার সুযোগ চান বলে দাবি করেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এরপর একজন আইসিই কর্মকর্তা তাকে গুলি করেন। তবে গুলি চালানোর ঠিক আগে কী ঘটেছিল এবং আইসিই কর্মকর্তারা কী পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছিলেন, তা এখনো তদন্তাধীন। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ জানিয়েছে, হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনস এফবিআইয়ের সহায়তায় ওই কর্মকর্তার গুলিবর্ষণের ঘটনা তদন্ত করছে। বিভাগের বক্তব্যে বলা হয়েছে, পেরেজ ভেনেজুয়েলার নাগরিক এবং তার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র থেকে অপসারণের চূড়ান্ত আদেশ ছিল। তবে পেরেজের আইনজীবীরা সরকারি এই বর্ণনার সঙ্গে দ্বিমত জানিয়েছেন। পেরেজের আইনজীবীদের দাবি, তিনি ২০২৪ সালে সিবিপি ওয়ান অ্যাপের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেন এবং অ্যাসাইলামের জন্য আবেদন করেন। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, পরে ইমিগ্রেশন কোর্টের শুনানির নোটিশ পুরোনো ঠিকানায় যাওয়ায় তিনি ওই শুনানিতে উপস্থিত হতে পারেননি। আইনজীবীরা আরও বলেছেন, পেরেজের বৈধ ওয়ার্ক পারমিট ছিল। তার ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস এবং অপসারণের আদেশের বিষয়ে সরকারি নথিতে কী রয়েছে, সেটিও তদন্তের অংশ হিসেবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আইনজীবীদের অভিযোগ, হাসপাতাল থেকে ছাড়ার পর পেরেজকে প্রায় দুই ঘণ্টা দূরের পিয়ারসালের সাউথ টেক্সাস আইসিই প্রসেসিং সেন্টারে নেওয়া হয়। সেখানে তিনি পর্যাপ্ত ব্যথানাশক ও চিকিৎসা পাননি বলে অভিযোগ করেছেন। পেরেজের ভাষ্য অনুযায়ী, ডিটেনশন সেন্টারে তিনি একটি ঠান্ডা কক্ষে মেঝেতে রাত কাটান। পরে একজন নার্স তাকে একটি ওষুধ দেন। ঘটনার পর কংগ্রেসম্যান গ্রেগ ক্যাসার স্বাধীন ও পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তিনি ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত ভিডিও ও প্রমাণ সংরক্ষণ এবং আইসিইর অভিযানে নির্ধারিত নিয়ম ও প্রোটোকল অনুসরণ করা হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন। তার কার্যালয় জানিয়েছে, তিনি হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ ও আইসিইর কাছে ঘটনাটি নিয়ে বিস্তারিত তথ্য চেয়েছেন। এদিকে অস্টিন পুলিশও ঘটনাটি নিয়ে তথ্য সংগ্রহ করছে। তবে গুলিবর্ষণের সময় অস্টিন পুলিশের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে ছিলেন না। ফলে পেরেজের গাড়ির সঙ্গে ফেডারেল কর্মকর্তাদের গাড়ির সংঘর্ষ কীভাবে হয়েছিল, গুলি চালানোর আগে কী নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল এবং ঠিক কোন পরিস্থিতিতে আইসিই কর্মকর্তা গুলি চালান, এসব প্রশ্নের উত্তর তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত পুরোপুরি পরিষ্কার নয়। সোমবার সন্ধ্যায় কংগ্রেসম্যান গ্রেগ ক্যাসার জানান, পেরেজকে গুলিবিদ্ধ হওয়ার চিকিৎসার জন্য একটি চিকিৎসাকেন্দ্রে স্থানান্তর করা হয়েছে। তবে তার শরীরে থাকা বুলেট অপসারণ করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। ঘটনার ফেডারেল তদন্তের পাশাপাশি পেরেজের চিকিৎসা এবং আইসিই হেফাজতে তার অবস্থার বিষয়টিও এখন আলোচনায় রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের আকাশে বিমানের গতিপথকে ক্যানভাস হিসেবে ব্যবহার করে লিওনার্দো দা ভিঞ্চির বিখ্যাত চিত্রকর্ম ‘মোনালিসা’র অবয়ব ফুটিয়ে তুলেছেন এক মার্কিন পাইলট। গত ১৮ সেপ্টেম্বর আরকানসাস ও ওকলাহোমার আকাশে ছোট একটি বিমান নিয়ে প্রায় চার ঘণ্টা উড়ে এই অভিনব ‘আকাশচিত্র’ তৈরি করেন বেঞ্জামিন ম্যাকড্যানিয়েল। মোনালিসার ছবিটি অবশ্য সরাসরি আকাশে আঁকা হয়নি। বিমানের নির্দিষ্ট গতিপথ ও জিপিএস তথ্য একটি ফ্লাইট ট্র্যাকিং মানচিত্রে যুক্ত হওয়ার পর সেটির রেখাগুলো মিলিয়ে ছবিটির অবয়ব তৈরি হয়। এয়ারনাভ রাডারের ত্রিমাত্রিক ভিজ্যুয়ালাইজেশনে দেখা যায়, বিমানটি একের পর এক নির্দিষ্ট বাঁক নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মোনালিসার মুখ, চুল, হাত ও শরীরের বিভিন্ন অংশের আকৃতি স্পষ্ট হয়ে উঠছে। ফ্লাইটের তথ্য অনুযায়ী, ম্যাকড্যানিয়েল আরকানসাসের বেন্টনভিল থেকে তার সেসনা আর১৮২ স্কাইলেন আরজি বিমান নিয়ে উড্ডয়ন করেন। বিমানটির নিবন্ধন নম্বর এন১৮১০আর। প্রায় তিন ঘণ্টা ৪৬ মিনিটের ওই যাত্রায় তিনি আরকানসাস ও ওকলাহোমার বিস্তীর্ণ এলাকার ওপর দিয়ে পরিকল্পিত পথে উড়েছেন। এয়ারনাভ রাডারের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, পুরো যাত্রাপথ আগে থেকেই পরিকল্পনা করা হয়েছিল। বিমানের প্রতিটি বাঁক ও দিক পরিবর্তনের মাধ্যমে ধীরে ধীরে মোনালিসার পরিচিত অবয়ব ফুটে ওঠে। ফ্লাইট ট্র্যাকিংয়ের ত্রিমাত্রিক মানচিত্রে ছবিটি স্পষ্ট হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তা ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। বেঞ্জামিন ম্যাকড্যানিয়েল নিজেকে পাইলটের পাশাপাশি শিল্পী হিসেবেও পরিচয় দেন। ‘দ্য পাইলট পিকাসো’ নামে তিনি এর আগে বিমানের গতিপথ ব্যবহার করে আরও বিভিন্ন নকশা ও শিল্পকর্ম তৈরি করেছেন। তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কাজগুলোতেও এ ধরনের আকাশচিত্রের উদাহরণ রয়েছে। এই ধরনের শিল্পকে সাধারণত ‘ফ্লাইট পাথ আর্ট’ বা ‘রাডার আর্ট’ বলা হয়। এতে প্রথমে মানচিত্রে একটি নকশা তৈরি করা হয়। এরপর সেই নকশাকে বাস্তব বিমান চলাচলের উপযোগী একটি পথের সঙ্গে মিলিয়ে নেওয়া হয়। পাইলট নির্ধারিত পথ অনুসরণ করলে ফ্লাইট ট্র্যাকিং মানচিত্রে শেষ পর্যন্ত কাঙ্ক্ষিত ছবি বা নকশাটি ফুটে ওঠে। মোনালিসা তৈরির এই উড্ডয়ন কতটা বড় পরিসরে হয়েছিল, তা এর বিস্তৃতিতেও বোঝা যায়। বিভিন্ন ফ্লাইট ডেটা বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ছবিটির সবচেয়ে দূরের কিছু অংশের মধ্যে দূরত্ব কয়েক দশক কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। ঘটনাটি ফ্লাইট ট্র্যাকিং ও শিল্প, দুই ক্ষেত্রের মানুষেরই আগ্রহ তৈরি করেছে। এয়ারনাভ রাডারের মানচিত্রে বিমানটির গতিপথ অনুসরণ করে অনেকে ছবিটি তৈরি হওয়ার পুরো প্রক্রিয়া দেখেছেন। প্রযুক্তি, বিমান চালনা ও সৃজনশীলতার এই সমন্বয়ই ম্যাকড্যানিয়েলের কাজটিকে আলাদা করে তুলেছে। সূত্র: এয়ারনাভ রাডার, স্টোরিফুল, ইয়াহু নিউজ
অ্যাপলের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক সিরি সুবিধা নিয়ে দায়ের করা একটি শ্রেণি-আদালত মামলার নিষ্পত্তিতে ২৫ কোটি ডলার দিতে সম্মত হয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। এর আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের নির্দিষ্ট কিছু আইফোনের মূল ক্রেতারা প্রতি ডিভাইস ২৫ ডলার করে পাওয়ার যোগ্য হতে পারেন। বৈধ দাবির সংখ্যা কম হলে এই অর্থ সর্বোচ্চ ৯৫ ডলার পর্যন্ত হতে পারে। মামলাটির সূত্রপাত ২০২৫ সালে। ‘ল্যান্ডশেফট বনাম অ্যাপল’ মামলায় অভিযোগ করা হয়, আইফোন ১৫ প্রো ও আইফোন ১৬ সিরিজের প্রচারের সময় অ্যাপল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক সিরির যেসব উন্নত সুবিধার কথা জানিয়েছিল, সেগুলো নির্ধারিত সময়ে ব্যবহারকারীদের কাছে পৌঁছায়নি। বিশেষ করে ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত তথ্য বুঝতে পারা, পর্দায় কী দেখা যাচ্ছে তা শনাক্ত করা এবং বিভিন্ন অ্যাপের সঙ্গে আরও গভীরভাবে কাজ করার মতো সুবিধা নিয়ে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল। অভিযোগকারীদের দাবি ছিল, এসব সুবিধাকে নতুন আইফোনের গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হিসেবে প্রচার করা হলেও সেগুলো তখন পুরোপুরি প্রস্তুত ছিল না। অ্যাপল অবশ্য মামলার অভিযোগ ও কোনো অন্যায় করার বিষয় অস্বীকার করেছে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, মামলা নিষ্পত্তির অংশ হিসেবে অর্থ দিতে সম্মত হলেও এটি কোনো ধরনের দায় বা অন্যায় স্বীকারোক্তি নয়। চলতি বছরের মে মাসে অ্যাপল ২৫ কোটি ডলারের নিষ্পত্তি তহবিলে অর্থ দিতে সম্মত হয়। জুলাইয়ে আদালত প্রাথমিক অনুমোদন দেওয়ার পর ২১ সেপ্টেম্বর থেকে যোগ্য গ্রাহকদের দাবি জমা দেওয়ার সুযোগ চালু হয়েছে। চূড়ান্ত অনুমোদনের শুনানি ২০২৭ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি হওয়ার কথা রয়েছে। যেসব আইফোন ব্যবহারকারী এই অর্থ পাওয়ার যোগ্য হতে পারেন, তাদের অবশ্যই যুক্তরাষ্ট্রের বাসিন্দা হতে হবে এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে সংশ্লিষ্ট আইফোন কিনতে হবে। যোগ্য মডেলগুলোর মধ্যে রয়েছে আইফোন ১৫ প্রো, আইফোন ১৫ প্রো ম্যাক্স, আইফোন ১৬, আইফোন ১৬ই, আইফোন ১৬ প্লাস, আইফোন ১৬ প্রো এবং আইফোন ১৬ প্রো ম্যাক্স। ডিভাইসটি ২০২৪ সালের ১০ জুন থেকে ২০২৫ সালের ২৯ মার্চের মধ্যে কিনতে হবে এবং আবেদনকারীকে ওই ডিভাইসের মূল ক্রেতা হতে হবে। অর্থাৎ শুধু এসব মডেলের আইফোন থাকলেই অর্থ পাওয়ার যোগ্যতা তৈরি হবে না। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে ডিভাইসটি কেনা এবং মামলার শর্ত পূরণ করা প্রয়োজন। পুনরায় বিক্রির জন্য কেনা ডিভাইস এই নিষ্পত্তির আওতায় পড়বে না। প্রতিটি যোগ্য ডিভাইসের জন্য প্রাথমিকভাবে ২৫ ডলার দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। তবে মোট কতজন বৈধ দাবি করেন, তার ওপর চূড়ান্ত অর্থের পরিমাণ নির্ভর করবে। দাবির সংখ্যা প্রত্যাশার চেয়ে কম হলে প্রতি ডিভাইসে সর্বোচ্চ ৯৫ ডলার পর্যন্ত পাওয়া যেতে পারে। আবার দাবির সংখ্যা বেশি হলে অর্থের পরিমাণ কমেও যেতে পারে। আইনজীবীদের ফি, প্রশাসনিক ব্যয়সহ নিষ্পত্তি তহবিল থেকে অন্যান্য অনুমোদিত খরচও বাদ যাবে। দাবি জমা দিতে হলে নির্ধারিত নিষ্পত্তি ওয়েবসাইটে গিয়ে আবেদনপত্র পূরণ করতে হবে। সেখানে যোগাযোগের তথ্য এবং যোগ্য আইফোনের সিরিয়াল নম্বরসহ ডিভাইস কেনার তথ্য দিতে হতে পারে। যাদের কাছে সিরিয়াল নম্বর নেই, তাদের জন্য অ্যাপল অ্যাকাউন্টের ই-মেইল ও সংশ্লিষ্ট ফোন নম্বর ব্যবহার করে তথ্য যাচাইয়ের ব্যবস্থাও রয়েছে। দাবি জমা দেওয়ার শেষ সময় ২০২৬ সালের ২১ ডিসেম্বর। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বৈধ দাবি জমা না দিলে এই নিষ্পত্তি থেকে অর্থ পাওয়ার সুযোগ থাকবে না। তবে অর্থ পাওয়ার বিষয়টি এখনই নিশ্চিত নয়। কারণ নিষ্পত্তিটি আদালতের চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। চূড়ান্ত শুনানি ২০২৭ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি হওয়ার কথা রয়েছে এবং এরপর প্রক্রিয়া শেষ হলে অর্থ বিতরণ শুরু হবে। সূত্র: ম্যাকরিউমার্স, অ্যাপল স্মার্টফোন এআই সেটেলমেন্ট ওয়েবসাইট, দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট
চুল পড়ার সমস্যা থেকে আত্মবিশ্বাস ফিরে পেতে ২৭ বছর বয়সে চুল প্রতিস্থাপন করিয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের ডেনভারের অ্যালেক্স ফিনকেন। কিন্তু অস্ত্রোপচারের পরদিন ঘুম থেকে উঠে নিজের চেহারা দেখে তিনিই অবাক হয়ে যান। মাথা ও মুখজুড়ে এমন তীব্র ফোলা দেখা দেয় যে কয়েক দিন নিজেকে ‘ডিমের মতো’ দেখতে লাগছিল বলে জানিয়েছেন তিনি। চুল প্রতিস্থাপনের জন্য ফিনকেনকে খরচ করতে হয়েছে ১৭ হাজার ৫০০ ডলার। তিনি দীর্ঘদিন ধরে চুল পাতলা হয়ে যাওয়া ও পুরুষদের সাধারণ টাক পড়ার সমস্যায় ভুগছিলেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টিকটকে নিজের চিকিৎসার পুরো অভিজ্ঞতা তুলে ধরছেন তিনি। ফিনকেন জানান, কৈশোরের শেষ দিক থেকেই তার চুল পাতলা হতে শুরু করে। ২৪ বছর বয়সে পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে সামাজিক পরিবেশে টুপি ছাড়া নিজেকে অস্বস্তিকর মনে হতো। শেষ পর্যন্ত নিজের আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যেই চুল প্রতিস্থাপনের সিদ্ধান্ত নেন তিনি। চিকিৎসার জন্য তিনি ডেনভার থেকে সল্ট লেক সিটিতে যান। চিকিৎসকেরা তার মাথার পেছনের অংশ থেকে মোট ৩ হাজার ৫৩৬টি চুলের ফলিকল সংগ্রহ করেন। পরে সেগুলো মাথার সামনের ও পাতলা হয়ে যাওয়া অংশে প্রতিস্থাপন করা হয়। ফিনকেনের ভাষ্য, চিকিৎসার মাধ্যমে তার কপালের চুলের রেখা পুনর্গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি কপালের দুই পাশ ও মাথার মাঝের পাতলা অংশেও নতুন ফলিকল বসানো হয়। অস্ত্রোপচারের আগে তিনি জানতেন যে কিছুটা ফোলা হতে পারে। তবে এতটা ফোলা হবে তা কল্পনাও করেননি। অস্ত্রোপচারের পর প্রথম দিন কপালের দুই পাশ ফুলে যায়। দ্বিতীয় দিনে একটি চোখের নিচে কালশিটে পড়ার মতো দাগ দেখা দেয় এবং ফোলা এতটাই বেড়ে যায় যে তার দৃষ্টিতেও কিছুটা বাধা তৈরি হয়। তৃতীয় দিনে সেই ফোলা মাথা থেকে নেমে ঘাড়ের দিকেও ছড়িয়ে পড়ে। নিজের টিকটক অনুসারীদের উদ্বেগের জবাবে ফিনকেন জানান, তার শ্বাসনালি স্বাভাবিক ছিল এবং ফোলার কারণে মস্তিষ্কের কোনো ঝুঁকি তৈরি হয়নি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, মাথার ত্বকের নিচে তরল জমে যাওয়ার কারণেই এমন ফোলা হয়েছিল। চিকিৎসার পর ফোলা কেন হয়, সে বিষয়ে ফিনকেন বলেন, চুল প্রতিস্থাপনের সময় মাথায় যে স্যালাইন ও স্থানীয় অবেদনকারী ওষুধের দ্রবণ দেওয়া হয়, সেটি ফোলার অন্যতম কারণ। শরীরের লসিকা ব্যবস্থার কার্যকারিতা এবং জেনেটিক পার্থক্যের কারণে একজনের তুলনায় অন্যজনের ফোলা বেশি বা কম হতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তবে চিকিৎসার আগে নিজের একটি ভুলের কথাও স্বীকার করেছেন ফিনকেন। অস্ত্রোপচারের আগের শুক্রবার ও শনিবার তিনি মদ্যপান করেছিলেন। পরে অন্যদের এমনটি না করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। তার মতে, মদ্যপান রক্তনালির প্রসারণ ঘটাতে পারে এবং স্থানীয় অবেদনকারীর কার্যকারিতায়ও প্রভাব ফেলতে পারে। অতিরিক্ত ফোলা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেক প্রশ্ন ও উদ্বেগ তৈরি হলেও কয়েক দিনের মধ্যেই পরিস্থিতির উন্নতি হতে থাকে। ফিনকেন জানান, প্রায় তিন দিন পর ফোলার তীব্রতা কমতে শুরু করে এবং পঞ্চম দিনে ব্যথাও প্রায় চলে যায়। প্রথম রাতটি তুলনামূলক কষ্টকর হলেও পুরো পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়া তার প্রত্যাশার চেয়ে সহজ হয়েছে বলে জানান তিনি। চুল পড়ার সমস্যা যুক্তরাষ্ট্রে বেশ সাধারণ। ফিনকেনের উদ্ধৃত তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে আনুমানিক ৩ কোটি ৫০ লাখ পুরুষের চুল পড়ার সমস্যা রয়েছে। বয়স বাড়ার সঙ্গে ঝুঁকি বাড়লেও অনেক পুরুষের ৩০ বছর বয়সের আগেই চুল পড়া শুরু হয়। চুল পড়ার প্রভাব শুধু চেহারার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না। এ বিষয়ে প্রকাশিত গবেষণায় আত্মবিশ্বাস কমে যাওয়া, সামাজিক পরিস্থিতিতে অস্বস্তি, উদ্বেগ ও মানসিক চাপের মতো সমস্যার কথাও উঠে এসেছে। তবে এসব অভিজ্ঞতা ব্যক্তি ও পরিস্থিতিভেদে ভিন্ন হতে পারে। ফিনকেন টিকটকে নিজের অভিজ্ঞতা প্রকাশ করার অন্যতম কারণ হিসেবে চুল পড়া এবং চুল প্রতিস্থাপন নিয়ে মানুষের মধ্যে থাকা অস্বস্তি বা সংকোচ কমানোর কথা বলেছেন। নিজের ক্ষেত্রে চুল প্রতিস্থাপনকে আত্মবিশ্বাস ও জীবনযাত্রার মান উন্নত করার একটি সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখছেন তিনি। বর্তমানে তার মাথার ফোলা অনেকটাই কমে গেছে এবং প্রতিস্থাপন করা চুলের ফলিকলগুলো ধীরে ধীরে স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় এগোচ্ছে। ফিনকেন বলেন, চিকিৎসার পর ধৈর্য রাখা জরুরি। কয়েক দিনের অস্বস্তি ও অস্বাভাবিক চেহারার অভিজ্ঞতা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তিনি নিজের সিদ্ধান্ত নিয়ে সন্তুষ্ট। চুল প্রতিস্থাপনের পর সাময়িক ফোলা একটি পরিচিত বিষয় হলেও সবার ক্ষেত্রে এর মাত্রা এক নয়। তাই চিকিৎসার আগে সম্ভাব্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া, পুনরুদ্ধারের সময় এবং অস্ত্রোপচারের পর করণীয় সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের কাছ থেকে বিস্তারিত পরামর্শ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। সূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট, টিকটক
কোনো পুরুষ বিবাহিত এবং তার স্ত্রী-সন্তান ও সংসার রয়েছে, বিষয়টি জানার পরও তার প্রতি কোনো তরুণীর আকর্ষণ তৈরি হতে পারে। এমন সম্পর্ককে শুধু বয়সের ব্যবধান দিয়ে ব্যাখ্যা করা কঠিন। ব্যক্তিত্ব, মানসিক সংযোগ, মনোযোগ, সামাজিক অবস্থান, আর্থিক স্থিতিশীলতা এবং ব্যক্তিগত জীবনের নানা অভিজ্ঞতা একসঙ্গে কাজ করে এ ধরনের আকর্ষণ তৈরি করতে পারে। তবে শুরুতেই মনে রাখা দরকার, সব তরুণী বয়স্ক বা বিবাহিত পুরুষের প্রতি আকৃষ্ট হন না। আবার বয়সে বড়-ছোট হওয়ার বিষয়টিও কোনো সম্পর্কের প্রকৃতি বা ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করে না। গবেষণাতেও এমন কোনো একক কারণ পাওয়া যায়নি, যার মাধ্যমে এ ধরনের সম্পর্ককে সবার ক্ষেত্রে একইভাবে ব্যাখ্যা করা যায়। বয়স্ক পুরুষের অভিজ্ঞতা ও আত্মবিশ্বাস অনেক সময় তরুণীর কাছে আকর্ষণীয় হয়ে উঠতে পারে। জীবনের কোনো অনিশ্চিত বা কঠিন সময়ে স্থির, অভিজ্ঞ ও আত্মবিশ্বাসী কাউকে তুলনামূলক নির্ভরযোগ্য মনে হতে পারে। সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা, সামাজিক পরিচিতি কিংবা জীবনের প্রতি পরিণত দৃষ্টিভঙ্গিও কারও কাছে আকর্ষণের কারণ হতে পারে। বয়সের সঙ্গে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার বিষয়টিও কখনো যুক্ত হতে পারে। ২০২৫ সালে ‘সেক্সুয়াল অ্যান্ড রিলেশনশিপ থেরাপি’ সাময়িকীতে প্রকাশিত একটি গবেষণায় তরুণী ও বয়স্ক পুরুষের সম্পর্কের ক্ষেত্রে আর্থিক সুবিধা ও স্থিতিশীলতার ধারণার ভূমিকার কথা উঠে আসে। তবে গবেষণাটির নমুনা সীমিত এবং অনলাইনভিত্তিক হওয়ায় এর ফলাফলকে সব ধরনের সম্পর্কের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য বলে ধরে নেওয়া যায় না। অনেক সময় বয়সের চেয়ে মানুষের আচরণই বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। একজন পুরুষ যদি নিয়মিত খোঁজ নেন, মনোযোগ দিয়ে কথা শোনেন, প্রশংসা করেন কিংবা কঠিন সময়ে পাশে দাঁড়ান, তাহলে তার প্রতি ধীরে ধীরে আবেগ তৈরি হতে পারে। শুরুতে বন্ধুত্ব বা পরিচিতির সম্পর্ক থাকলেও নিয়মিত যোগাযোগের ফলে সেটি অন্য ধরনের অনুভূতিতে পরিণত হতে পারে। বিবাহিত পুরুষের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। তার সংসার ও পারিবারিক দায়িত্ব থাকার কারণে নতুন সম্পর্কটি অনেক সময় গোপনীয়তার মধ্যে গড়ে ওঠে। নিয়মিত ব্যক্তিগত যোগাযোগ, গোপন সাক্ষাৎ কিংবা একে অপরের কাছে এমন কিছু বিষয় ভাগ করে নেওয়া, যা অন্যদের সঙ্গে করা হয় না, সম্পর্কের আবেগকে আরও গভীর করে তুলতে পারে। তবে এটিকে কোনো বৈজ্ঞানিকভাবে প্রতিষ্ঠিত সূত্র হিসেবে দেখা ঠিক নয়। বয়সের ব্যবধানযুক্ত সম্পর্ক অবশ্য নতুন কোনো বিষয় নয়। ২০২৪ সালে ইউরোপের ২৯টি দেশের প্রায় ৩৬ হাজার দম্পতির তথ্য বিশ্লেষণ করে করা এক গবেষণায় দেখা যায়, পুরুষের বয়স বাড়ার সঙ্গে তার সঙ্গীর বয়স কিছুটা কম হওয়ার প্রবণতা রয়েছে। আবার ২০২৫ সালের আরেকটি বড় গবেষণায় প্রথম দেখার ক্ষেত্রে নারী ও পুরুষ উভয়ের মধ্যেই নিজেদের তুলনায় কিছুটা কম বয়সী সঙ্গীর প্রতি আকর্ষণের প্রবণতা পাওয়া যায়। মার্কিন ন্যাশনাল লাইব্রেরি অব মেডিসিনে প্রকাশিত গবেষণাগুলোতেও দেখা যায়, সঙ্গী নির্বাচনের ক্ষেত্রে বয়সের পছন্দ একেবারে একরকম নয়। অনেক নারী নিজেদের চেয়ে সামান্য বেশি বয়সী পুরুষকে পছন্দ করতে পারেন, তবে এর অর্থ এই নয় যে নারীদের স্বাভাবিক বা সহজাত পছন্দ কেবল বয়স্ক পুরুষ। এ ধরনের সম্পর্কে মানসিক ঘনিষ্ঠতার পাশাপাশি সামাজিক মর্যাদা, নিয়মিত যোগাযোগ ও প্রশংসার মতো বিষয়ও ভূমিকা রাখতে পারে। কর্মক্ষেত্র, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা সামাজিক পরিমণ্ডলে দীর্ঘদিনের পরিচয় থেকেও কখনো আবেগ তৈরি হয়। শুরুতে পরামর্শ নেওয়া বা বন্ধুত্বের মতো সম্পর্ক থাকলেও সময়ের সঙ্গে সেটি বদলে যেতে পারে। তবে সম্পর্কের ক্ষেত্রে দায়িত্বের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। কোনো বিবাহিত পুরুষ নিজের বৈবাহিক অবস্থান গোপন করলে কিংবা অন্য ব্যক্তির আবেগকে ইচ্ছাকৃতভাবে ব্যবহার করলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। ফলে এ ধরনের সম্পর্কের জন্য শুধু তরুণীকে দায়ী করা একপাক্ষিক বিশ্লেষণ হবে। সম্পর্ক তৈরিতে সংশ্লিষ্ট উভয় ব্যক্তির সিদ্ধান্ত ও আচরণই বিবেচনা করা প্রয়োজন। বয়সের ব্যবধান নিজে কোনো সম্পর্ককে সফল বা ব্যর্থ করে না। তবে বয়সের পাশাপাশি অর্থ, সামাজিক অবস্থান ও জীবন-অভিজ্ঞতার বড় পার্থক্য থাকলে সম্পর্কে ক্ষমতার ভারসাম্যের প্রশ্ন উঠতে পারে। অস্ট্রেলিয়ার পারিবারিক তথ্যভিত্তিক একটি গবেষণায় বয়সে বড় দম্পতিদের বৈবাহিক সন্তুষ্টি সময়ের সঙ্গে তুলনামূলক দ্রুত কমে যাওয়ার প্রবণতার কথা বলা হয়েছে। অন্যদিকে, ২০২২ সালের একটি গবেষণায় বয়স ও ক্ষমতার পার্থক্য তরুণ সঙ্গীর ওপর কীভাবে প্রভাব ফেলতে পারে, তা নিয়েও আলোচনা করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের আলোচনায় তাই শুধু বয়সের ব্যবধান নয়, সম্পর্কের মধ্যে পারস্পরিক সম্মান, স্বাধীন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ, সম্মতি, প্রত্যাশা এবং ক্ষমতার ভারসাম্যকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। বিশেষ করে সম্পর্কের একজন যদি আগে থেকেই বিবাহিত হন, তাহলে তার পারিবারিক দায়িত্ব ও অন্য সঙ্গীর প্রতি দায়বদ্ধতার বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা জরুরি। সব মিলিয়ে, স্ত্রী-সন্তান ও সংসার থাকা কোনো বয়স্ক পুরুষের প্রতি একজন তরুণীর আকর্ষণ তৈরি হওয়ার পেছনে একক কোনো কারণ নেই। ব্যক্তিত্ব, মানসিক সংযোগ, মনোযোগ, জীবন-অভিজ্ঞতা, সামাজিক ও আর্থিক পরিস্থিতি এবং ব্যক্তিগত প্রত্যাশার সমন্বয়ে এমন অনুভূতি তৈরি হতে পারে। তাই এ ধরনের সম্পর্ককে শুধু বয়স বা ব্যক্তিগত পছন্দ দিয়ে বিচার না করে এর পেছনের পরিস্থিতি ও সম্পর্কের পারস্পরিক আচরণকে বিবেচনা করাই বেশি বাস্তবসম্মত। সূত্র: ইত্তেফাক, সেক্সুয়াল অ্যান্ড রিলেশনশিপ থেরাপি, দ্য গার্ডিয়ান