সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

ইরান যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্প ও হেগসেথকে কড়া আক্রমণ ওবামার, বললেন তাঁরা ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন’

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: অক্টোবর ২৪, ২০২৬ ১৬:৪৫
ইরান যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের সমালোচনায় বারাক ওবামা
ইরান যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের সমালোচনায় বারাক ওবামা

ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ, মার্কিন সেনাদের হতাহত হওয়া এবং জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের তীব্র সমালোচনা করেছেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। ট্রাম্প প্রশাসনকে ‘দায়িত্বশীল নয় এমন মানুষ’ বলে আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, তাদের সিদ্ধান্তের মূল্য দিতে হচ্ছে সাধারণ আমেরিকানদের।
 

শনিবার ওহাইও অঙ্গরাজ্যের ক্লিভল্যান্ডে এক নির্বাচনী সমাবেশে এসব কথা বলেন ওবামা। আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্রেটিক দলের প্রার্থী অ্যামি অ্যাক্টন ও শেরড ব্রাউনের পক্ষে প্রচার চালাতে সেখানে গিয়েছিলেন তিনি। অ্যাক্টন অঙ্গরাজ্যের গভর্নর পদে এবং ব্রাউন মার্কিন সিনেটের আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।


ইরান যুদ্ধের প্রসঙ্গ তুলে ওবামা বলেন, ট্রাম্প প্রশাসন তেহরানের সঙ্গে কূটনৈতিক সমাধানের পথ থেকে সরে এসে যুক্তরাষ্ট্রকে যুদ্ধে জড়িয়েছে। অথচ কয়েক মাস আগে যুদ্ধের লক্ষ্য অর্জনের কথা বলা হয়েছিল। এখন সেই সংঘাতের পরিণতি কী হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন সাবেক এই প্রেসিডেন্ট।


ওবামা বলেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ করাই ছিল যুদ্ধ শুরুর অন্যতম যুক্তি। কিন্তু তাঁর প্রেসিডেন্ট থাকার সময় ইরানের সঙ্গে পারমাণবিক চুক্তির মাধ্যমে কূটনৈতিক পথে এগোনোর চেষ্টা করা হয়েছিল। সেই উদ্যোগের মাধ্যমে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া ছাড়াই আলোচনার সুযোগ তৈরি হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি।


ওবামার ভাষ্য, তিনি কূটনীতির মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু ট্রাম্প সেই চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে সরিয়ে নেওয়ার পর যুদ্ধ শুরু করেন। যুদ্ধের ফলাফল নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, এত মাস পরও এই সংঘাত কোথায় গিয়ে দাঁড়িয়েছে, তা বিবেচনা করা দরকার।


যুদ্ধের মানবিক ও সামরিক ক্ষয়ক্ষতির কথাও তুলে ধরেন ওবামা। তাঁর দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশ ও সামরিক ঘাঁটিতে হামলা হয়েছে, মার্কিন সেনারা নিহত হয়েছেন এবং শত শত সেনা আহত হয়েছেন। পাশাপাশি সামরিক অভিযানে ক্ষেপণাস্ত্রের মজুতও কমে এসেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।


পেন্টাগনের প্রকাশিত হিসাব অনুযায়ী, ২০২৬ সালের অক্টোবরের মাঝামাঝি পর্যন্ত ইরানবিরোধী সামরিক অভিযানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ২১ মার্কিন সেনার মৃত্যুর তথ্য নথিভুক্ত করা হয়েছে। আহত সেনার সংখ্যা ৮৬৫। এই হিসাবে যুদ্ধের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিছু অযুদ্ধকালীন মৃত্যুও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।


হেগসেথকে নিয়েও কটাক্ষ


সমাবেশে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের কর্মকাণ্ড নিয়েও ব্যঙ্গ করেন ওবামা। সেনাদের শারীরিক সক্ষমতা ও পুরুষালি চেহারা নিয়ে হেগসেথের আগ্রহের সমালোচনা করে তিনি বলেন, প্রতিরক্ষামন্ত্রী যেন সেনাদের চোয়ালের গঠন ও টেস্টোস্টেরনের মাত্রার মতো বিষয়েই বেশি মনোযোগী।


হেগসেথের সামরিক সদস্যদের টেস্টোস্টেরন পরীক্ষা নিয়ে নেওয়া সিদ্ধান্তের প্রসঙ্গও তোলেন ওবামা। জুলাইয়ে হেগসেথ ঘোষণা করেছিলেন, ৩০ বছর বা তার বেশি বয়সী সক্রিয় সামরিক সদস্যদের নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার অংশ হিসেবে বছরে একবার টেস্টোস্টেরনের ঘাটতি শনাক্ত করার পরীক্ষা করা হবে।


ওবামা এ সিদ্ধান্তকে ব্যঙ্গ করে বলেন, হেগসেথের মনোযোগ যেন সেনাদের চুলের ধরন ও বাহ্যিক চেহারা ঠিক রাখার দিকেও বেশি। তাঁর বক্তব্যে প্রতিরক্ষামন্ত্রীর নেতৃত্ব ও অগ্রাধিকার নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়।


এরপর ওবামা বলেন, “এরা দায়িত্বশীল মানুষ নন।” তাঁর মতে, নেতৃত্বে থাকা ব্যক্তিরা যখন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তকে যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করেন না, তখন তার পরিণতি সাধারণ মানুষকেই ভোগ করতে হয়।


তেলের দাম ও শুল্কনীতি নিয়েও সমালোচনা
 

ইরান যুদ্ধের প্রভাব যে শুধু সামরিক ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়ও বাড়াচ্ছে—সমাবেশে সেই বিষয়টি তুলে ধরেন ওবামা। তাঁর বক্তব্য, হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের প্রভাব এবং সংঘাতের কারণে তেলের বাজারে চাপ তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব পড়ছে ডিজেলের দামসহ বিভিন্ন পণ্যের মূল্যে।


ওবামা বলেন, তেলের দাম বাড়ার পেছনে যুদ্ধের ভূমিকা রয়েছে এবং ডিজেলের দাম বৃদ্ধিও সেই পরিস্থিতির সঙ্গে সম্পর্কিত। তাঁর মতে, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির কারণ হিসেবে যুদ্ধকে উপেক্ষা করা যায় না।


তবে মূল্যবৃদ্ধির জন্য শুধু যুদ্ধকে দায়ী করেননি তিনি। ট্রাম্প প্রশাসনের শুল্কনীতিরও সমালোচনা করেন সাবেক প্রেসিডেন্ট। তাঁর যুক্তি, বিদেশ থেকে যন্ত্রাংশ বা কাঁচামাল আমদানি করা মার্কিন উৎপাদকদের ওপর শুল্কের চাপ পড়লে শেষ পর্যন্ত সেই বাড়তি খরচ ভোক্তাদেরই বহন করতে হয়।


কানাডার সঙ্গে ট্রাম্পের বাণিজ্যিক বিরোধ নিয়েও ব্যঙ্গ করেন ওবামা। তিনি কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কোনো ‘শত্রু সাম্রাজ্য’ হিসেবে উপস্থাপনের ধারণা নিয়ে কৌতুক করেন এবং দেশটির পরিচিত পণ্য ম্যাপল সিরাপের কথা উল্লেখ করেন।


মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে প্রচার জোরদার


নভেম্বরের ৩ তারিখের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ডেমোক্রেটিক প্রার্থীদের পক্ষে প্রচার জোরদার করতেই ওহাইওতে গিয়েছিলেন ওবামা। ক্লিভল্যান্ডের সমাবেশকে নির্বাচনী প্রচারের শেষ পর্যায়ের সূচনা হিসেবে তুলে ধরা হয়।


ওবামা ২০০৮ ও ২০১২ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ওহাইওতে জয় পেয়েছিলেন। এবার তিনি শেরড ব্রাউনের সিনেট নির্বাচনের গুরুত্ব তুলে ধরেন। ব্রাউন রিপাবলিকান প্রার্থী জন হুস্টেডের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। অন্যদিকে, অ্যামি অ্যাক্টন গভর্নর পদে লড়ছেন।


ব্রাউনের পক্ষে প্রচারে ওবামা বলেন, এই প্রতিদ্বন্দ্বিতা খুব কাছাকাছি হতে পারে এবং এর ফল সিনেটে কোন দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে, তা নির্ধারণে ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে ওহাইওর মানুষের স্বার্থে ওয়াশিংটনে কে কাজ করবে, সেই প্রশ্নও গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন তিনি।


ওবামার এই বক্তব্যে যুদ্ধ পরিচালনা, সামরিক প্রস্তুতি, জ্বালানির দাম ও বাণিজ্যনীতি—সবকিছুকেই নির্বাচনী বিতর্কের অংশ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। তবে এসব বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের বক্তব্য জানতে হোয়াইট হাউস ও পেন্টাগনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল বলে মূল প্রতিবেদনে উল্লেখ থাকলেও তাদের কোনো প্রতিক্রিয়া সেখানে প্রকাশ করা হয়নি।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
লং বিচে ঢেউয়ের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত উপকূলীয় বাড়ি
চোখের সামনে সাগরে তলিয়ে গেল বাড়ি, ক্যালিফোর্নিয়ার উপকূলজুড়ে বাড়ছে ভাঙন ও বন্যার ঝুঁকি

ক্যালিফোর্নিয়ার দক্ষিণ উপকূলে সাগরের প্রবল ঢেউ ও ভাঙনের কারণে একের পর এক বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। কোথাও ভেঙে পড়েছে কাঠের বোর্ডওয়াক, কোথাও উধাও হয়ে গেছে বাড়ি আর সমুদ্রের মাঝের বালুর সৈকত। ঢেউ আছড়ে পড়ছে বাড়ির ছাদ পর্যন্ত। আর এসব ঘটছে অনেক ক্ষেত্রে বৃষ্টি কিংবা প্রবল বাতাস ছাড়াই। আবহাওয়াবিদদের আশঙ্কা, শীতকালে এল নিনোর প্রভাব আরও তীব্র হলে পরিস্থিতি খারাপ হতে পারে।   গত ৯ অক্টোবর রাত সাড়ে ৩টার দিকে লং বিচের উপকূলীয় এলাকায় নিজের অ্যাপার্টমেন্টে ঘুম ভাঙে শন কার্টিসের। বাইরে তাকিয়ে তিনি দেখেন, তাঁর দুই তলা বাড়ির সামনের বোর্ডওয়াক আর নেই। বাড়ি ও সমুদ্রের মাঝখানে থাকা প্রায় ২৫ ফুট চওড়া বালুর সৈকতও ঢেউয়ের তোড়ে হারিয়ে গেছে। চারদিক থেকে নোনা পানি ঢুকছিল। আর তাঁর বাড়িটি ধীরে ধীরে সমুদ্রের দিকে হেলে পড়ছিল। কার্টিসের কাছে প্রথমে দৃশ্যটি বিশ্বাস করা কঠিন মনে হয়। তিনি জানান, দরজার চৌকাঠ ও জানালা বাঁকা হয়ে গিয়েছিল। এরপর একটি বিশাল ঢেউ বাড়ির দিকে আছড়ে পড়ে। ঢেউয়ের পানি দ্বিতীয় তলা পর্যন্ত উঠে যায়। রাস্তার উল্টো পাশের প্রতিবেশীরা বাড়ির ছাদ বেয়ে পানি নেমে আসতেও দেখেন। নয় বছর ধরে ওই বাড়িতে বসবাস করছিলেন কার্টিস। তাঁর ভাষ্য, ঢেউয়ের গর্জন এতটাই জোরালো ছিল যে ঘুম ভেঙে যায়। পানির ধাক্কায় অ্যাপার্টমেন্ট কেঁপে উঠছিল, যেন ভূমিকম্প হচ্ছে। পরিস্থিতি বুঝতে পেরে তিনি তাঁর রুমমেটকে নিয়ে প্রাণ বাঁচাতে ছুটে যান। তাঁরা যতটা সম্ভব জিনিসপত্র বাড়ির পেছনের দিকে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। পরে শোবার ঘরের জানালা দিয়ে নিজের কুকুর লাক্সকে নিয়ে বাইরে বেরিয়ে আসেন। তাঁদের বাড়ি আর রক্ষা করা সম্ভব হবে না, তা তখনই বুঝতে পেরেছিলেন কার্টিস। লং বিচের এই উপকূলীয় এলাকায় শুধু কার্টিসের বাড়িই নয়, আরও অনেক বাড়ি মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ৯ থেকে ১১ অক্টোবরের মধ্যে এক ডজনের বেশি বাড়ি সমুদ্রে ধসে পড়ে। আটটি স্থাপনা, যেগুলোর মধ্যে মোট ১৩টি বাড়ি ছিল, এতটাই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে যে সেগুলোতে প্রবেশ অনিরাপদ ঘোষণা করা হয়। ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িগুলোর কয়েকটির মালিক ও ভাড়াটিয়াকে দ্রুত এলাকা ছাড়তে হয়। ক্ষয়ক্ষতির পেছনে রয়েছে একের পর এক শক্তিশালী ঢেউ, অস্বাভাবিক উচ্চ জোয়ার এবং উপকূলের বালু সরে যাওয়া। হারিকেন মেরি ও পোলোর প্রভাবে আগেই সৈকত ও বোর্ডওয়াকের ক্ষতি হয়েছিল। এরপর ট্রপিক্যাল স্টর্ম র‍্যাচেলের অবশিষ্ট প্রভাব উপকূলে বড় ঢেউ তৈরি করে। কোনো কোনো ঢেউয়ের উচ্চতা ১৭ ফুট পর্যন্ত পৌঁছায়। গত সপ্তাহান্তে মালিবু থেকে সান ডিয়েগো পর্যন্ত দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার বিভিন্ন উপকূলীয় এলাকায় ঢেউ আছড়ে পড়ে। নিউপোর্ট বিচের কিছু এলাকায় পানি ঢুকে পড়ে। লং বিচে বাসিন্দাদের বাড়ি ছেড়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। অন্যদিকে, লেগুনা বিচে প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলীয় মহাসড়কের (পিসিএইচ) একটি অংশে ফাটল দেখা দেওয়ায় সড়কটি বন্ধ রাখা হয়েছে। সড়কের কিছু অংশও সমুদ্রের দিকে ধসে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। লং বিচের পেনিনসুলা এলাকার বাসিন্দা ডানা মেরি লাজ্জারেশ্চি চার বছর আগে সেখানে ভাড়া থাকতে শুরু করেন। এলাকাটির বৈচিত্র্য ও প্রতিবেশীদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তাঁকে আকৃষ্ট করেছিল। বাসিন্দারা একে অপরের খোঁজখবর নিতেন, কুকুর নিয়ে হাঁটতেন, সাইকেল চালাতেন এবং প্রয়োজনে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতেন। কিন্তু বাড়ির ছাদে ঢেউয়ের পানি আছড়ে পড়তে দেখে সেই পরিচিত পরিবেশ নিয়ে তাঁর উদ্বেগ বেড়ে যায়। তিনি জানান, এখন সেখানে বাড়ি কেনার কথা ভাববেন না, যদিও জায়গাটি তাঁর কাছে এখনও স্বপ্নের মতো সুন্দর। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উপকূলের এই সংকটের পেছনে একাধিক প্রাকৃতিক ও জলবায়ুগত কারণ একসঙ্গে কাজ করছে। বিশ্বব্যাপী তাপমাত্রা বৃদ্ধি এবং সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বেড়ে যাওয়ার কারণে উপকূলীয় বন্যা ও ভাঙনের ঝুঁকি দীর্ঘদিন ধরেই বাড়ছে। এবার তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে এল নিনোর শক্তিশালী হওয়ার সম্ভাবনা। এল নিনো প্রশান্ত মহাসাগরের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা ও বায়ুপ্রবাহে পরিবর্তন আনে। এর প্রভাবে আবহাওয়ার ধরন বদলে যেতে পারে, তৈরি হতে পারে শক্তিশালী ঢেউ ও ঝড়। এ ছাড়া সমুদ্রের নিচ দিয়ে চলাচলকারী কেলভিন তরঙ্গ পানির উচ্চতা সাময়িকভাবে বাড়াতে পারে। একা এই তরঙ্গ সাধারণত উপকূলীয় বন্যার বড় কারণ নয়। তবে এর সঙ্গে অস্বাভাবিক উচ্চ জোয়ার ও ঝড়ের ঢেউ যুক্ত হলে ক্ষয়ক্ষতির ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়।   ক্যালিফোর্নিয়া উপকূলীয় কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ সালের এল নিনো আরও শক্তিশালী হচ্ছে। ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারির মধ্যে উপকূলে বেশি ঝড়, বড় ঢেউ, বৃষ্টি ও ভাঙনের আশঙ্কা রয়েছে। তবে এল নিনোর প্রভাব সব এলাকায় একই রকম হবে না; স্থানভেদে পরিস্থিতির পার্থক্য থাকতে পারে। ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়, লস এঞ্জেলেসের (ইউসিএলএ) উপকূলীয় বন্যা গবেষণাগারের বিশেষজ্ঞ টিমু গ্যালিয়েনের মতে, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো ভবিষ্যতে কী ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে, তার একটি আভাস মাত্র। তাঁর আশঙ্কা, বছরের বাকি সময়ে আরও কয়েক দফা উচ্চ জোয়ার উপকূলে নতুন করে বন্যা ও ভাঙন ঘটাতে পারে। এল নিনোর প্রভাব শীতের শুরুতে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছালে ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে। লং বিচের মেয়র রেক্স রিচার্ডসন বলেছেন, শহরের পুরোনো অবকাঠামো বর্তমান পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার উপযোগী করে তৈরি করা হয়নি। ক্ষতিগ্রস্ত বোর্ডওয়াক ও প্রতিরক্ষা দেয়ালের ফাঁক কাঠের তক্তা ও বালুর বস্তা দিয়ে সাময়িকভাবে মেরামতের চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু প্রবল ঢেউয়ের ধাক্কায় সেই ব্যবস্থা টেকেনি। জোয়ার কমলে মেরামতের কাজ চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। সমুদ্রতীরবর্তী এলাকায় বসবাস কতটা নিরাপদ, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সুন্দর দৃশ্য ও সমুদ্রের কাছাকাছি থাকার আকর্ষণ থাকলেও এসব স্থানে বসবাসের ঝুঁকি বিবেচনা করা জরুরি। দীর্ঘমেয়াদে বাঁধ, সৈকতে বালু ফিরিয়ে আনা এবং অন্যান্য প্রকৌশলগত ব্যবস্থা কতটা কার্যকর হবে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। কার্টিসের বাড়ি ভেঙে ফেলার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। বাড়ি হারানোর পর কয়েক দিন ধরে তিনি ফোন, ইমেইল, বাড়িওয়ালা, শহরের কর্মকর্তা, পরিবার ও বিমা-সংক্রান্ত বিষয় সামলাতে ব্যস্ত ছিলেন। নিজের প্রিয় সোফাটিকে পরে ড্রোনের ভিডিওতে সমুদ্রে ভাসতে দেখেন তিনি। তবু তাঁর দুঃখ শুধু নিজের ক্ষতি নিয়ে নয়; প্রতিবেশীদের দুর্দশা নিয়েও তিনি উদ্বিগ্ন। এলাকা ছেড়ে চলে যাবেন কি না, এমন প্রশ্নের উত্তরে কার্টিস জানান, উপদ্বীপ ছেড়ে যাওয়ার ইচ্ছা তাঁর নেই। তবে এবার সমুদ্রের বিপরীত পাশে বাড়ি নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

প্রকাশ: অক্টোবর ২৪, ২০২৬ ১৭:২৮
যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ছে কর্মীদের স্বাস্থ্যবিমার খরচ

পরিবারসহ স্বাস্থ্যবিমায় বছরে গুনতে হচ্ছে ৭ হাজার ৪৭১ ডলার, বাড়ছে মার্কিন কর্মীদের ব্যয়

ইরান যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের সমালোচনায় বারাক ওবামা

ইরান যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্প ও হেগসেথকে কড়া আক্রমণ ওবামার, বললেন তাঁরা ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন’

যুক্তরাষ্ট্রে কমছে ক্রেডিট কার্ডের ঋণসীমা

যুক্তরাষ্ট্রের ৩৬ অঙ্গরাজ্যে কমেছে ক্রেডিট কার্ডের সীমা, ঋণ নেওয়ার সক্ষমতা হারাচ্ছেন গ্রাহকেরা

ডেলাইট সেভিং টাইম শেষে এক ঘণ্টা পিছোবে ঘড়ি
ডেলাইট সেভিং টাইম শেষ হচ্ছে শিগগিরই, যুক্তরাষ্ট্রে এক ঘণ্টা পিছিয়ে যাবে সময়

যুক্তরাষ্ট্রে আগামী ১ নভেম্বর শেষ হচ্ছে ডেলাইট সেভিং টাইম। এদিন স্থানীয় সময় রাত ২টায় ঘড়ির কাঁটা এক ঘণ্টা পিছিয়ে রাত ১টা করা হবে। এর ফলে দেশটির অধিকাংশ অঞ্চলে আবার প্রচলিত বা স্ট্যান্ডার্ড সময় কার্যকর হবে। সময় পরিবর্তনের কারণে সন্ধ্যায় দিনের আলো কম সময় থাকবে, তবে সকালে তুলনামূলক আগে সূর্যোদয় হবে।   প্রতি বছর বসন্তে ঘড়ির কাঁটা এক ঘণ্টা এগিয়ে দেওয়া হয়। এর ফলে সন্ধ্যায় কিছুটা বেশি সময় প্রাকৃতিক আলো পাওয়া যায়। শরৎকালে সেই সময় শেষ হলে ঘড়ির কাঁটা আবার এক ঘণ্টা পিছিয়ে দেওয়া হয়। যুক্তরাষ্ট্রে এই প্রক্রিয়াকে ‘ফল ব্যাক’ বলা হয়। ২০২৬ সালে ডেলাইট সেভিং টাইম শেষ হচ্ছে নভেম্বরের প্রথম রবিবার। বেশির ভাগ স্মার্টফোন, কম্পিউটার ও ইন্টারনেট-সংযুক্ত যন্ত্র স্বয়ংক্রিয়ভাবে সময় পরিবর্তন করে নেবে। তবে মাইক্রোওয়েভ, ওভেন, দেয়ালঘড়ি এবং কিছু পুরোনো যন্ত্রে সময় হাতে পরিবর্তন করতে হতে পারে। তাই ১ নভেম্বর সকালে কাজে যাওয়া, ভ্রমণ কিংবা অন্য কোনো নির্ধারিত কাজ থাকলে ঘড়ির সময় ঠিক আছে কি না, তা দেখে নেওয়া ভালো। যুক্তরাষ্ট্রে ডেলাইট সেভিং টাইম চালুর ইতিহাস এক শতাব্দীরও বেশি পুরোনো। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় ১৯১৮ সালে জ্বালানি সাশ্রয়ের উদ্দেশ্যে দেশটিতে প্রথম এ ব্যবস্থা চালু করা হয়। তখন মনে করা হয়েছিল, ঘড়ির সময় এক ঘণ্টা এগিয়ে রাখলে সন্ধ্যায় প্রাকৃতিক আলো বেশি সময় পাওয়া যাবে এবং ঘরে আলো জ্বালানোর জন্য বিদ্যুতের ব্যবহার কমতে পারে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ও এই ব্যবস্থা চালু ছিল। তবে যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর দেশজুড়ে একই নিয়ম বজায় থাকেনি। কোনো অঙ্গরাজ্য বা শহর ডেলাইট সেভিং টাইম অনুসরণ করত, আবার কোনো অঞ্চল সারা বছর প্রচলিত সময় ধরে রাখত। এতে এক অঞ্চল থেকে অন্য অঞ্চলে যাতায়াতের সময় বিভ্রান্তি তৈরি হতো। একই দেশের কাছাকাছি এলাকায়ও ঘড়ির সময় আলাদা হয়ে যেতে পারত। এই সমস্যা সমাধানে ১৯৬৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রে ইউনিফর্ম টাইম অ্যাক্ট পাস হয়। আইনটি ডেলাইট সেভিং টাইমের জন্য একটি অভিন্ন সময়সূচি নির্ধারণ করে। পরে নিয়মে বিভিন্ন পরিবর্তন আনা হলেও বর্তমানে অধিকাংশ অঞ্চলে মার্চের দ্বিতীয় রবিবার ঘড়ির কাঁটা এক ঘণ্টা এগিয়ে দেওয়া হয় এবং নভেম্বরের প্রথম রবিবার আবার এক ঘণ্টা পিছিয়ে দেওয়া হয়। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সব অঞ্চলে এই নিয়ম চালু নেই। হাওয়াই অঙ্গরাজ্য এবং অ্যারিজোনার অধিকাংশ এলাকায় ডেলাইট সেভিং টাইম অনুসরণ করা হয় না। এর ব্যতিক্রম হলো অ্যারিজোনার উত্তর-পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত নাভাহো নেশন, যেখানে সময় পরিবর্তনের নিয়ম কার্যকর। এ ছাড়া আমেরিকান সামোয়া, গুয়াম, নর্দার্ন মারিয়ানা আইল্যান্ডস, পুয়ের্তো রিকো ও ইউএস ভার্জিন আইল্যান্ডসেও ডেলাইট সেভিং টাইম চালু নেই। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে সারা বছর ডেলাইট সেভিং টাইম চালু রাখার প্রস্তাব নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক চলছে। এই ব্যবস্থা স্থায়ী হলে বছরে দুবার ঘড়ির কাঁটা পরিবর্তনের প্রয়োজন থাকবে না। সমর্থকদের মতে, সন্ধ্যায় বেশি সময় আলো থাকলে মানুষ কাজের পর বাইরে সময় কাটাতে পারবে। এতে পর্যটন, কেনাকাটা এবং বিনোদনমূলক কর্মকাণ্ডের সুযোগও বাড়তে পারে। স্থায়ী ডেলাইট সেভিং টাইম চালুর লক্ষ্যে প্রস্তাবিত ‘সানশাইন প্রোটেকশন অ্যাক্ট’ ২০২৬ সালের জুলাইয়ে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে ৩০৮-১১৮ ভোটে পাস হয়। তবে মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে সিনেটে বিলটি নিয়ে আলোচনা হয়নি। ফলে প্রস্তাবটি আইনে পরিণত হবে কি না, তা এখনো অনিশ্চিত। বিলটির সমর্থকদের মধ্যে রয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ফ্লোরিডার রিপাবলিকান সিনেটর রিক স্কট। অন্যদিকে, লুইজিয়ানার রিপাবলিকান সিনেটর জন কেনেডি প্রস্তাবটির পাস হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন। স্থায়ী ডেলাইট সেভিং টাইমের বিরোধীরা বলছেন, শীতকালে ঘড়ির সময় এক ঘণ্টা এগিয়ে রাখা হলে সকালে সূর্য উঠতে আরও দেরি হবে। ফলে স্কুলগামী শিশুদের বাসের জন্য অপেক্ষা করা কিংবা কর্মজীবীদের অন্ধকারে কাজে যাওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। এতে সড়ক ও ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়তে পারে। তাই আপাতত যুক্তরাষ্ট্রের অধিকাংশ অঞ্চলে প্রচলিত নিয়মেই সময় পরিবর্তন হচ্ছে। ১ নভেম্বর ঘড়ির কাঁটা এক ঘণ্টা পিছিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি যাঁদের ভ্রমণ, কর্মসূচি বা অন্য সময় অঞ্চলের মানুষের সঙ্গে যোগাযোগের পরিকল্পনা রয়েছে, তাঁদের নতুন সময়সূচি খেয়াল রাখা জরুরি।

প্রকাশ: অক্টোবর ২৪, ২০২৬ ১৫:৭
এক রাতের আগুনে শেষ পুরো পরিবার! মা ও চার সন্তানকে হারিয়ে শোকে স্তব্ধ টেক্সাস

এক রাতের আগুনে শেষ পুরো পরিবার! মা ও চার সন্তানকে হারিয়ে শোকে স্তব্ধ টেক্সাস

ফ্লোরিডার সমাবেশে বক্তব্য দিচ্ছেন ট্রাম্প

নার্সিং হোমে নার্স নিয়োগে বড় উদ্যোগ ট্রাম্পের, তিন বছর কাজ করলে মিলতে পারে ৪০ হাজার ডলার

আটক অভিবাসীদের জামিনের অধিকার নিয়ে নতুন আইনি বিতর্ক

যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসীদের জামিন শুনানির অধিকার নেই, ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষে রায় দিল আপিল আদালত

হগ মিডল স্কুলে অস্ত্রসহ আটক শিক্ষার্থীকে হেফাজতে নিচ্ছে পুলিশ। ছবি সংগৃহীত
হিউস্টনের স্কুলে বন্দুক উদ্ধারের ঘটনায় তৎপর পুলিশ, আটক এক শিক্ষার্থী

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের হিউস্টন শহরের হগ মিডল স্কুলে এক শিক্ষার্থীর কাছে আগ্নেয়াস্ত্র পাওয়ার ঘটনায় পুলিশ তাকে হেফাজতে নিয়েছে। শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর সকালে ঘটে যাওয়া এ ঘটনায় স্কুল কর্তৃপক্ষ ও হিউস্টন ইন্ডিপেনডেন্ট স্কুল ডিস্ট্রিক্টের (এইচআইএসডি) পুলিশ দ্রুত ব্যবস্থা নেয়। স্কুল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঘটনার সময় কোনো শিক্ষার্থী বা কর্মী আহত হননি। এইচআইএসডির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ক্যাম্পাসে একজন শিক্ষার্থীর কাছে বন্দুক থাকার খবর পাওয়ার পর স্কুল প্রশাসন ও পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে লকডাউন-সংক্রান্ত নিরাপত্তা কার্যক্রম শুরু করা হয়। স্কুল পুলিশের একজন কর্মকর্তা ওই শিক্ষার্থীকে আটক করেন এবং পরে আগ্নেয়াস্ত্রটি উদ্ধার করে জব্দ করা হয়। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আটক শিক্ষার্থী পুলিশের হেফাজতে রয়েছে। তবে তার পরিচয়, কীভাবে সে আগ্নেয়াস্ত্রটি পেয়েছিল এবং তার বিরুদ্ধে কী ধরনের অভিযোগ আনা হতে পারে—এসব বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত চলছে।   স্কুল কর্তৃপক্ষ অভিভাবকদের জানিয়েছে, শিক্ষার্থী ও কর্মীদের নিরাপত্তা তাদের প্রধান অগ্রাধিকার। ক্যাম্পাসে অস্ত্র, সম্ভাব্য হুমকি কিংবা নিরাপত্তা-সংক্রান্ত কোনো উদ্বেগের তথ্য পাওয়া গেলে তা দ্রুত স্কুল প্রশাসন অথবা স্কুল পুলিশকে জানানোর জন্য শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। হিউস্টন শহরের হাইটস এলাকায় অবস্থিত হগ মিডল স্কুলে প্রায় ১,১০০ শিক্ষার্থী পড়াশোনা করে। স্কুলে অস্ত্র পাওয়ার এই ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে আবারও উদ্বেগ তৈরি করেছে। স্কুলে অস্ত্র প্রবেশ ঠেকাতে নজরদারি, নিরাপত্তা কর্মকর্তা নিয়োগ এবং অস্ত্র শনাক্তকরণ প্রযুক্তি ব্যবহারের মতো পদক্ষেপ নিয়ে দেশটির বিভিন্ন স্কুল জেলায় কাজ চলছে।   হিউস্টন শহরের হাইটস এলাকায় অবস্থিত হগ মিডল স্কুলে প্রায় ১,১০০ শিক্ষার্থী পড়াশোনা করে। স্কুলে অস্ত্র পাওয়ার এই ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে আবারও উদ্বেগ তৈরি করেছে। স্কুলে অস্ত্র প্রবেশ ঠেকাতে নজরদারি, নিরাপত্তা কর্মকর্তা নিয়োগ এবং অস্ত্র শনাক্তকরণ প্রযুক্তি ব্যবহারের মতো পদক্ষেপ নিয়ে দেশটির বিভিন্ন স্কুল জেলায় কাজ চলছে। হিউস্টন ইন্ডিপেনডেন্ট স্কুল ডিস্ট্রিক্ট জানিয়েছে, এ ঘটনায় আইন ও জেলা নীতিমালা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তদন্ত শেষ হওয়ার আগে শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে সম্ভাব্য অভিযোগ কিংবা ঘটনার পেছনের কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই।   যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি অভিভাবকদের জন্য ঘটনাটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা। সন্তানদের স্কুলের নিরাপত্তা-সংক্রান্ত নোটিশ নিয়মিত পড়া, স্কুলের জরুরি যোগাযোগব্যবস্থা সম্পর্কে জানা এবং কোনো সন্দেহজনক পরিস্থিতি চোখে পড়লে যথাযথ কর্তৃপক্ষকে জানানো জরুরি।

প্রকাশ: অক্টোবর ২৪, ২০২৬ ১২:৪৯
যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়ায় ফুটবল দলের বাস উল্টে আ হত ২২ শিক্ষার্থী, হেলিকপ্টারে হাসপাতালে একজন

যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়ায় ফুটবল দলের বাস উল্টে আ হত ২২ শিক্ষার্থী, হেলিকপ্টারে হাসপাতালে একজন

যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইওর টলিডো শহরে শিল্পকারখানার রাসায়নিক ট্যাংক থেকে বিপজ্জনক পদার্থ ছড়িয়ে পড়ার পর উদ্ধারকাজ চালাচ্ছেন হ্যাজম্যাট রেসপন্স টিমের সদস্যরা। ছবি: সংগৃহীত

রাসায়নিক গ্যাসে আতঙ্কিত ওহাইওর শত শত পরিবার, অবশেষে তুলে নেওয়া হলো বাড়ি ছাড়ার নির্দেশ

দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের ২৩ অক্টোবরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন নাগরিকত্বের আবেদন অনুমোদনের হার ৭২ শতাংশ কমে যাওয়ায় অভিবাসীদের দীর্ঘ অপেক্ষার মধ্যে পড়তে হচ্ছে। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে নাগরিকত্বের অপেক্ষায় লাখো অভিবাসী, অনুমোদন কমে যাওয়ায় বাড়ছে অনিশ্চয়তা

0 Comments