সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

Today latest news

20 News
দুই বছর আগে হিট অ্যান্ড রান  দু র্ঘটনায় পথচারীর মৃ ত্যু, শিকাগোতে গ্রেপ্তার ২০ বছর বয়সী নারী
দুই বছর আগে হিট অ্যান্ড রান দু র্ঘটনায় পথচারীর মৃ ত্যু, শিকাগোতে গ্রেপ্তার ২০ বছর বয়সী নারী

যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় অঙ্গরাজ্যের শিকাগোর নর্থ সাইড এলাকায় গাড়িচাপায় এক পথচারীর মৃত্যুর প্রায় দুই বছর পর এক নারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার হওয়া ওই নারীর নাম জসেলিন মারকাদো (২০)। তিনি স্ট্রিমউড এলাকার বাসিন্দা। শিকাগো পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার স্ট্রিমউডের ইস্ট পাইন স্ট্রিটের ০-১০০ ব্লক এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। ২০২৪ সালের ১৭ আগস্ট রাতে ওয়েস্ট হাওয়ার্ড স্ট্রিটের ১৯০০ ব্লকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।   পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, রাত সাড়ে ১১টার দিকে রাস্তায় হাঁটার সময় ৬৭ বছর বয়সী জেমস রিডটিলম্যানকে পূর্বমুখী একটি কালো পিকআপ ট্রাক ধাক্কা দেয়। দুর্ঘটনার পর চালক ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। পরে ইভানস্টনের বাসিন্দা রিডটিলম্যানকে অ্যাম্বুলেন্সে করে সেন্ট ফ্রান্সিস হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তাঁর মৃত্যু হয় বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। পুলিশের দাবি, তদন্তে মারকাদোকে ওই গাড়ির চালক হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে দুর্ঘটনা ও মৃত্যুর ঘটনাসংশ্লিষ্ট মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানোর চারটি গুরুতর অপরাধের অভিযোগ এবং দুর্ঘটনায় আহত বা নিহত ব্যক্তিকে ফেলে ঘটনাস্থল ত্যাগের একটি গুরুতর অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার তাঁর আটক রাখার বিষয়ে শুনানিতে আদালতে হাজির হওয়ার কথা ছিল। তবে আদালতের পরবর্তী সিদ্ধান্ত সম্পর্কে প্রতিবেদনে বিস্তারিত জানানো হয়নি।

প্রকাশ : অক্টোবর ১৬, ২০২৬ ১২:৪১
আর্থিক প্রতারণার একটি ঘটনায় নতুন করে আলোচনায়
৭৮ মাসের সাজা, তবু কারাগারের ফোনে ফাঁস ৯৩ বছরের নারীর ৪৫ হাজার ডলারের চেকের রহস্য

যুক্তরাষ্ট্রে প্রবীণ নাগরিকদের লক্ষ্য করে আর্থিক প্রতারণার একটি ঘটনায় নতুন করে আলোচনায় এসেছেন ৩২ বছর বয়সী ভারতীয় নাগরিক সুমিত কুমার সিং। বয়স্ক ব্যক্তিদের সঙ্গে প্রতারণার আগের মামলায় ৭৮ মাসের কারাদণ্ড ভোগ করার সময় কারাগারের ভেতর থেকে নিষিদ্ধ মুঠোফোন ব্যবহার করে নতুন একটি প্রতারণামূলক চক্রের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ৯৩ বছর বয়সী উত্তর ডাকোটার এক নারীর ৪৫ হাজার ডলারের ব্যক্তিগত চেকের তথ্য সামনে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, নতুন মামলায় সিং প্রতারণার উদ্দেশ্যে ডাকযোগে জালিয়াতির ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার অভিযোগ স্বীকার করেছেন।    মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালে প্রতারণাকারীরা ফোন ও খুদে বার্তার মাধ্যমে প্রবীণ ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ করত। কখনো তারা নিজেদের পেপ্যালের প্রতিনিধি, আবার কখনো যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সরকারের কর্মকর্তা পরিচয় দিত। ভুক্তভোগীদের বলা হতো, পরিচয়পত্র তৈরি, আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কিংবা হারানো অর্থ ফেরত পাওয়ার জন্য নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। এসব প্রতিশ্রুতির আড়ালে তাঁদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে।    এ ঘটনায় উত্তর ডাকোটার ৯৩ বছর বয়সী এক নারীকে বলা হয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটর্নি জেনারেল পাম বন্ডি তাঁকে নতুন পরিচয়পত্র পেতে এবং অর্থ ফেরত পেতে সহায়তা করবেন। এই আশ্বাসে নারীটি ২০২৫ সালের ১৭ জুলাই ৪৫ হাজার ডলারের একটি ব্যক্তিগত চেক ডাকযোগে পাঠান। তবে সরকারি কর্মকর্তার নাম ব্যবহার করে দেওয়া ওই প্রতিশ্রুতি ছিল প্রতারণার অংশ বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।    তদন্তকারীদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হয়ে ওঠে কারাগারে থাকা অবস্থায় পাঠানো বার্তা ও ব্যাংকে অর্থ জমা দেওয়ার রসিদ। অভিযোগের নথি অনুযায়ী, সিং নিষিদ্ধ মুঠোফোন ব্যবহার করে বাইরের সহযোগীদের সঙ্গে যোগাযোগ করতেন।   ২০২৫ সালের ৪ আগস্ট তিনি এক যোগাযোগকারীর কাছে ওই ৪৫ হাজার ডলারের চেকের ছবি পাঠান বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে। পরদিন আরেক ব্যক্তির কাছে অর্থ লেনদেনের জন্য ব্যবহৃত ক্যাশ অ্যাপের তথ্য পাঠানোর কথাও নথিতে রয়েছে।   এরপর ৬ আগস্ট টেক্সাসের এডিনবার্গ শহরে এক সহযোগী ওয়েলস ফার্গোর একটি ব্যবসায়িক ব্যাংক হিসাবে চেকটি জমা দেন। একই দিন ব্যাংকের জমা রসিদের ছবিও সিং অন্য এক যোগাযোগকারীর কাছে পাঠিয়েছিলেন বলে অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে। এসব ডিজিটাল যোগাযোগ ও লেনদেনের তথ্য তদন্তকারীদের কাছে প্রতারণার চক্রটির সঙ্গে তাঁর যোগসূত্র অনুসন্ধানে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।   সিংয়ের আগের মামলাটি ছিল প্রবীণ আমেরিকানদের লক্ষ্য করে পরিচালিত একটি বৃহত্তর প্রতারণার চক্র নিয়ে। ওই চক্রের সদস্যরা ভুয়া প্রযুক্তিগত সহায়তার প্রস্তাব দিয়ে মানুষের কম্পিউটারে প্রবেশাধিকার নিতেন এবং ব্যাংক হিসাবসংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করতেন বলে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের নথিতে উল্লেখ রয়েছে।   কিছু ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীদের হিসাবের পর্দায় অতিরিক্ত অর্থ ফেরত এসেছে—এমন পরিস্থিতি তৈরি করা হতো। পরে ভুল করে বেশি টাকা ফেরত দেওয়ার দাবি করে তাঁদের কাছে অর্থ ফেরত চাওয়া হতো। সিং ওই চক্রে অর্থ সংগ্রহের বাহক হিসেবে কাজ করার কথা স্বীকার করেছিলেন। অন্য সদস্যরা ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে অর্থ সংগ্রহ এবং বিভিন্ন মাধ্যমে তা স্থানান্তর করতেন।   ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ জানায়, আগের মামলায় সিংকে ৭৮ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই মামলায় অন্য কয়েকজন আসামিও কারাদণ্ড পান। ভুক্তভোগীদের মধ্যে এমন ব্যক্তিরাও ছিলেন, যাঁরা তাঁদের সঞ্চয়ের বড় অংশ হারিয়েছিলেন।    যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ ১৫ অক্টোবর ২০২৬ জানায়, সিং নতুন মামলায় ডাকযোগে প্রতারণার ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার অভিযোগ স্বীকার করেছেন। ১৬ সেপ্টেম্বর দাখিল করা সংশোধিত অভিযোগপত্রে তাঁর বিরুদ্ধে একটি ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হয়। আগের অভিযোগপত্রে তিনজন প্রবীণ ভুক্তভোগীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পৃথক ডাকযোগে প্রতারণার অভিযোগ এবং অর্থ পাচারের ষড়যন্ত্রের অভিযোগও ছিল।    নতুন অভিযোগে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড এবং আড়াই লাখ ডলার পর্যন্ত জরিমানার বিধান রয়েছে। তবে এগুলো সম্ভাব্য সর্বোচ্চ শাস্তি; চূড়ান্ত শাস্তি নয়। বিচারক জর্জ সি. হ্যাঙ্কস জুনিয়র নতুন মামলায় সাজা ঘোষণার দিন ২১ ডিসেম্বর ২০২৬ নির্ধারণ করেছেন। প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত নতুন মামলায় তাঁর সাজা ঘোষণা করা হয়নি। তিনি কারাগারেই রয়েছেন।    এই ঘটনাটি দেখায়, প্রতারকেরা সরকারি কর্মকর্তা কিংবা পরিচিত প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি সেজে মানুষের আস্থা অর্জনের চেষ্টা করতে পারে। বিশেষ করে প্রবীণ ব্যক্তিদের ভয় দেখিয়ে, দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে চাপ দিয়ে অথবা অর্থ ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে টাকা আদায়ের চেষ্টা করা হয়।   যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ট্রেড কমিশনের পরামর্শ হলো, কেউ সরকারি কর্মকর্তা পরিচয়ে অর্থ চাইলে বা অর্থ ফেরত দেওয়ার আগে ফি দিতে বললে সরাসরি বিশ্বাস করা উচিত নয়। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সরকারি ওয়েবসাইট থেকে নম্বর নিয়ে স্বাধীনভাবে যোগাযোগ করে পরিচয় যাচাই করতে হবে। প্রতারণার আশঙ্কা হলে দ্রুত ব্যাংকের সঙ্গে যোগাযোগ করে চেকের অর্থ পরিশোধ বন্ধ করা সম্ভব কি না, তা জানতে হবে।

প্রকাশ : অক্টোবর ১৬, ২০২৬ ১২:৪০
নিউইয়র্কে টানা ৫ সপ্তাহান্ত বন্ধ ম্যানহাটনগামী জে-এম ট্রেন, ভোগান্তিতে যাত্রীরা
নিউইয়র্কে টানা ৫ সপ্তাহান্ত বন্ধ ম্যানহাটনগামী জে-এম ট্রেন, ভোগান্তিতে যাত্রীরা

নিউইয়র্কের সাবওয়ে যাত্রীদের জন্য অপেক্ষা করছে চরম ভোগান্তি। মেট্রোপলিটন ট্রান্সপোর্টেশন অথরিটি (MTA) জানিয়েছে, মার্সি অ্যাভিনিউয়ের কাছে ট্র্যাকে সংস্কারকাজের জন্য জে (J) এবং এম (M) ট্রেনের ম্যানহাটনগামী সরাসরি সংযোগ টানা পাঁচ সপ্তাহান্ত বন্ধ থাকবে। সংস্কারকাজ চলাকালীন ব্রুকলিনের মার্টল অ্যাভিনিউ-ব্রডওয়ে এবং ম্যানহাটনের এসেক্স স্ট্রিটের মধ্যে ট্রেন পরিষেবার বদলে শাটল বাস চলবে। এছাড়া, ট্র্যাকের সুইচ পরিবর্তনের সময় জে ট্রেনগুলো কেবল জ্যামাইকা সেন্টার এবং মার্টল অ্যাভিনিউ-ব্রডওয়ের মধ্যে চলাচল করবে।   এমটিএ-র পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই এলাকার ট্র্যাক সুইচগুলো সর্বশেষ ১৯৯৭ সালে পরিবর্তন করা হয়েছিল। ব্রুকলিন ও কুইন্সের উইলিয়ামসবার্গ, বুশউইক, বেডফোর্ড-স্টাইভাসেন্ট, ইস্ট নিউইয়র্ক, ওজোন পার্ক এবং জ্যামাইকার মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোকে লোয়ার ম্যানহাটনের সাথে যুক্ত করতে এই সুইচগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।   এই সংস্কারকাজের ফলে ১৭-১৮ অক্টোবর, ২৪-২৫ অক্টোবর, ৭-৯ নভেম্বর, ১৩-১৬ নভেম্বর এবং ২০-২৩ নভেম্বর সপ্তাহান্তে যাত্রীদের যাতায়াতে বড় ধরনের ব্যাঘাত ঘটবে। এই পাঁচ সপ্তাহান্তে ব্রুকলিনের চারটি স্টেশন—ফ্লাশিং অ্যাভিনিউ, লরিমার স্ট্রিট, হিউস স্ট্রিট এবং মার্সি অ্যাভিনিউয়ে কোনো ট্রেন পরিষেবা থাকবে না। এম ট্রেন কুইন্স এবং ব্রুকলিনের কিছু অংশে চলাচল করলেও তা ম্যানহাটনে প্রবেশ করবে না। বাকি এম ট্রেনগুলো প্রতি ২০ মিনিট অন্তর চলবে এবং দুটি ভাগে বিভক্ত থাকবে, যার ফলে যাত্রীদের মার্টল-উইকফ স্টেশনে ট্রেন বদল করতে হবে।   যাতায়াতের এই অসুবিধার কথা মাথায় রেখে এমটিএ যাত্রীদের বিকল্প রুট ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছে। ম্যানহাটনে পৌঁছাতে যাত্রীদের মার্টল-উইকফ থেকে এল (L) ট্রেন এবং ব্রডওয়ে জাংশন থেকে এ (A), সি (C) বা এল (L) ট্রেন ব্যবহারের অনুরোধ করা হয়েছে। এছাড়া, জ্যামাইকা থেকে আগত যাত্রীরা বিকল্প হিসেবে ই (E) ট্রেন ব্যবহার করে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবেন।

প্রকাশ : অক্টোবর ১৬, ২০২৬ ১২:৩১
আলোকচিত্রী হেইডি লেভিন।
ক্যামেরা হাতে সংবাদ সংগ্রহ, এরপরই হামলা! পশ্চিম তীরে আহত মার্কিন আলোকচিত্রী

ফিলিস্তিনের অধিকৃত পশ্চিম তীরে জলপাই সংগ্রহ করতে যাওয়া ফিলিস্তিনি কৃষকদের ওপর হামলার সময় আহত হয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের অভিজ্ঞ আলোকচিত্রী হেইডি লেভিন। ২০২৬ সালের ১৬ অক্টোবর শুক্রবার রামাল্লার উত্তর-পূর্বে অবস্থিত আবু ফালাহ গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। লেভিন যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের হয়ে কাজ করেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য, ভিডিও ফুটেজ এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মুখোশধারী ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীরা জলপাই সংগ্রহকারীদের ওপর হামলা চালায়।    রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রায় ৮০ জন মুখোশধারী বসতি স্থাপনকারী ওই এলাকায় জড়ো হয়েছিল। তাদের কয়েকজনের কাছে গ্যাসের ক্যানিস্টার ছিল। হামলার সময় জলপাইগাছের ক্ষতি করা, পাথর নিক্ষেপ এবং কৃষকদের ভয় দেখানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে। কিছু হামলাকারী গুলতি ব্যবহার করে পাথর ছুড়েছিল বলেও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।    প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, লেভিনকে ঘিরে ধরে মাটিতে ফেলে মারধর করছেন কয়েকজন মুখোশধারী ব্যক্তি। অন্য সাংবাদিক ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ অনুযায়ী, তাঁকে লাথি মারা হয় এবং তাঁর ক্যামেরাসহ সরঞ্জাম নিয়ে যাওয়া হয়। আহত অবস্থায় তাঁকে রামাল্লার একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন ও হাসপাতাল থেকে প্রকাশিত ছবিতে তাঁর শরীরে আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে।   লেভিন দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের জন্য ছবি তুলছেন। সংঘাতপূর্ণ এলাকায় কাজ করার অভিজ্ঞতা থাকা সত্ত্বেও এ হামলায় তাঁর আহত হওয়ার ঘটনা সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ তৈরি করেছে। সংবাদ সংগ্রহের সময় সাংবাদিকদের ওপর হামলা হলে শুধু তাঁদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তাই ঝুঁকির মুখে পড়ে না, ঘটনাস্থলের তথ্য ও ছবি সংগ্রহের কাজও বাধাগ্রস্ত হয়।   সহিংসতা শুধু আবু ফালাহ গ্রামে সীমাবদ্ধ ছিল না। আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পশ্চিম তীরের একাধিক এলাকায় ফিলিস্তিনি কৃষক ও অন্য ব্যক্তিদের ওপর হামলার খবর পাওয়া গেছে। বুরকা এলাকায় চারজন আহত হওয়ার খবর জানিয়েছে ফিলিস্তিনি রেড ক্রিসেন্ট।   তুরমুস আয়্যা এলাকায় যানবাহনে আগুন দেওয়া এবং জরুরি সেবাকর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগও প্রকাশিত হয়েছে। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন ঘটনার মধ্যে অন্তত আটজন আহত হয়েছেন। তবে এসব ঘটনা একটিমাত্র হামলার অংশ নয়; আলাদা স্থান ও ঘটনার তথ্য হিসেবে এগুলো বিবেচনা করা জরুরি।    আবু ফালাহর ঘটনায় ইসরায়েলি সেনাদের উপস্থিতি ও তাঁদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য এবং প্রকাশিত ভিডিও অনুযায়ী, সেনারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন এবং সেখানে কাঁদানে গ্যাস ব্যবহারের ঘটনা ঘটে। তবে কে প্রথম সহিংসতা শুরু করেছিল এবং নিরাপত্তা বাহিনীর প্রত্যেক সদস্য কী ভূমিকা পালন করেছেন, তা নির্ধারণে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রয়োজন।   ফিলিস্তিনিদের কাছে জলপাই সংগ্রহ কেবল কৃষিকাজ নয়; এটি পারিবারিক আয়, ঐতিহ্য ও ভূমির সঙ্গে সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। পশ্চিম তীরের বহু পরিবার জলপাই ও জলপাইয়ের তেল বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করে। ফসল সংগ্রহের মৌসুমে সহিংসতা, জমিতে প্রবেশে বাধা, গাছ কেটে ফেলা কিংবা ফসল নষ্ট করার ঘটনা কৃষকদের অর্থনৈতিক ক্ষতির মুখে ফেলতে পারে।    চলতি মৌসুমেও পশ্চিম তীরের বিভিন্ন এলাকায় জলপাই সংগ্রহকারীদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। এর আগে ৬ অক্টোবর আকরাবা এলাকার কাছে এএফপির ফিলিস্তিনি আলোকচিত্রী জাফর আশতিয়েহ বসতি স্থাপনকারীদের হামলায় আহত হন বলে এএফপি ও দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে। ফলে একই মৌসুমে একাধিক সাংবাদিক আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা সংবাদকর্মীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে।   দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট তাদের আলোকচিত্রীর ওপর হামলার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানিয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সাংবাদিকদের কাজের সময় তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং হামলার অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা এখন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে।    আন্তর্জাতিক মানবিক আইন ও সাংবাদিকদের সুরক্ষাসংক্রান্ত বিধান অনুযায়ী, সশস্ত্র সংঘাতের সংবাদ সংগ্রহকারী বেসামরিক সাংবাদিকদের সুরক্ষা দেওয়া জরুরি। সাংবাদিক পরিচয় বহনকারী কোনো ব্যক্তির ওপর হামলার অভিযোগ উঠলে তা দ্রুত, নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা এবং দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা প্রয়োজন।

প্রকাশ : অক্টোবর ১৬, ২০২৬ ১২:১৯
দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়েছে জেদ্দায় বাংলাদেশ কনস্যুলেট
মক্কায় অনৈতিক কাজে ২ বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড, আগে না জানায় তথ্য চেয়ে চিঠি বাংলাদেশের

সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিস্তারিত তথ্য চেয়ে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়েছে জেদ্দায় বাংলাদেশ কনস্যুলেট। মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে বাংলাদেশকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি বলে প্রথম আলোকে জানিয়েছে কনস্যুলেটের একটি সূত্র। গণমাধ্যমে খবর প্রকাশের পর বিষয়টি জানতে পেরে বৃহস্পতিবার চিঠি পাঠানো হয়।  ঢাকার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও জেদ্দার কনস্যুলেটের সূত্রের বরাতে প্রথম আলো জানিয়েছে, মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশি হলেন নজরুল ইসলাম ও সুইটি আখতার। শুক্রবার বিকেলে কনস্যুলেটের একটি সূত্র জানায়, সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে ঘটনার বিস্তারিত জানতে চাওয়া হয়েছে।   সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতির বরাতে গালফ নিউজ জানিয়েছে, বুধবার, ১৪ অক্টোবর মক্কা অঞ্চলে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। মক্কার একটি মসজিদের ভেতরে যেসব কর্মকাণ্ডকে সৌদি কর্তৃপক্ষ ‘অনৈতিক ও অশালীন’ হিসেবে বর্ণনা করেছে, সেসব ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর তাঁদের এ দণ্ড দেওয়া হয়। প্রকাশিত বিবৃতিতে কর্মকাণ্ডের বিস্তারিত বিবরণ দেওয়া হয়নি।  গালফ নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গ্রেপ্তার ও তদন্তের পর তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আদালতে পাঠানো হয়। আদালত শরিয়াহ আইনের অধীনে ‘তাআজির’ বা বিচারকের বিবেচনাধীন শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ড দেন। সৌদি মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য, অপরাধের গুরুত্ব, মসজিদের পবিত্রতা লঙ্ঘন এবং ঘটনার পরিস্থিতি বিবেচনায় এ রায় দেওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট উচ্চতর বিচারিক কর্তৃপক্ষ রায় বহাল রাখার পর রাজকীয় আদেশে তা কার্যকর করা হয়।    প্রথম আলোর প্রতিবেদনে সৌদি আরবের বেসরকারি সূত্রের বরাতে বলা হয়েছে, কয়েক মাস ধরে জেদ্দার আদালতে মামলাটির বিচার চলছিল। বিচারপ্রক্রিয়ায় দুজন বাংলাদেশি দোভাষী হিসেবে সহযোগিতা করেছেন বলেও ওই সূত্র জানিয়েছে। তবে তাঁদের ভূমিকা ও অভিযুক্তদের কনস্যুলার সহায়তা পাওয়ার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনো স্পষ্ট নয়। কনস্যুলার সম্পর্কবিষয়ক ভিয়েনা সনদের ৩৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, বিদেশে আটক কোনো ব্যক্তি অনুরোধ করলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিলম্ব না করে তাঁর দেশের কনস্যুলেটকে জানাতে হয়। আটক ব্যক্তিকে এ অধিকার সম্পর্কেও অবহিত করার বিধান রয়েছে। কনস্যুলার কর্মকর্তারা তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ, সাক্ষাৎ এবং আইনি প্রতিনিধিত্বের ব্যবস্থা করতে পারেন।    নজরুল ইসলাম ও সুইটি আখতার কনস্যুলেটকে জানানোর অনুরোধ করেছিলেন কি না, তাঁদের এ অধিকার সম্পর্কে জানানো হয়েছিল কি না এবং বিচারপ্রক্রিয়ায় তাঁরা কী ধরনের আইনি সহায়তা পেয়েছিলেন, তা এখনো জানা যায়নি। সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে চাওয়া বিস্তারিত তথ্য এসব প্রশ্নের উত্তর পাওয়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

প্রকাশ : অক্টোবর ১৬, ২০২৬ ১১:৫২
ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে প্রতিবাদ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার মধ্যে ছাত্রনেত্রী নেহা বোরাকে আটক করেছে দিল্লি পুলিশ।
অভিজিতের পর নেহা বোরাকেও আটক করল দিল্লি পুলিশ, তিরঙ্গা মিছিল ঘিরে উত্তেজনা

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে প্রতিবাদ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার মধ্যে ছাত্রনেত্রী নেহা বোরাকে আটক করেছে দিল্লি পুলিশ। এর আগে একই কর্মসূচিতে যোগ দিতে যাওয়ার সময় ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকেকেও আটক করা হয়। শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ‘লেহরা দো তিরঙ্গা’ নামে ঘোষিত মিছিলকে ঘিরে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। এ সময় বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের ধস্তাধস্তির খবরও পাওয়া গেছে।   ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, অভিজিৎ দীপকেকে ঝান্ডেওয়ালান এলাকার একটি বাসভবন থেকে বের হওয়ার সময় আটক করা হয়। অন্যদিকে, অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নেহা বোরাকে মান্ডি হাউস এলাকা থেকে আটক করা হয়। তিনি বামপন্থী ছাত্র ও রাজনৈতিক সংগঠনের কর্মীদের সঙ্গে কনট প্লেসের দিকে অগ্রসর হচ্ছিলেন। তাঁদের লক্ষ্য ছিল নির্ধারিত প্রতিবাদ কর্মসূচিতে যোগ দেওয়া।   এই কর্মসূচির অন্যতম দাবি ছিল ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ। ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়া নিয়ে বিরোধী রাজনৈতিক দল ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, তালিকা সংশোধনের ফলে বিপুলসংখ্যক মানুষের নাম বাদ পড়েছে এবং এতে সংখ্যালঘু ও বিরোধী রাজনৈতিক শক্তির সমর্থকেরা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন। তবে নির্বাচন কমিশন ও ক্ষমতাসীন বিজেপি পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ অস্বীকার করেছে।   আন্দোলনকারীদের দাবি, ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং ভোটাধিকার নিয়ে ওঠা প্রশ্নগুলোর জবাব দেওয়া জরুরি। তাঁদের বক্তব্য, ভোটার তালিকায় নাম বাদ পড়ার অভিযোগ যথাযথভাবে তদন্ত করা উচিত। অন্যদিকে, কর্তৃপক্ষের অবস্থান হলো, আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং অনুমতি ছাড়া নির্ধারিত এলাকায় জমায়েত নিয়ন্ত্রণ করা প্রয়োজন।   কনট প্লেসের সেন্ট্রাল পার্কে কর্মসূচি আয়োজনের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। পুলিশ ওই কর্মসূচির অনুমতি না থাকার কথা জানিয়ে আয়োজকদের নোটিশ দিয়েছিল বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এরপর এলাকাটিতে ব্যারিকেড বসানো হয় এবং অতিরিক্ত পুলিশ ও নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়।   নেহা বোরাকে আটক করার পর তাঁর সহযোগীরা অভিযোগ করেন, তাঁকে অন্য একটি স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়েছে এবং তাঁরা তাঁর অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য পাচ্ছিলেন না। তাঁর সহযোগীদের প্রকাশিত বক্তব্যে এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। তবে প্রতিবেদন প্রকাশের সময় তাঁর অবস্থান ও পরবর্তী পরিস্থিতি সম্পর্কে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।   বিক্ষোভ চলাকালে পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের ধাক্কাধাক্কির খবর প্রকাশিত হয়েছে। কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই দিন দিল্লিতে অন্তত ১৫০ জন বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়েছিল। এই সংখ্যা সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য; পুলিশের পূর্ণাঙ্গ সরকারি হিসাব হিসেবে একে ধরে নেওয়া উচিত নয়।   অভিজিৎ দীপকের নেতৃত্বাধীন ককরোচ জনতা পার্টি তরুণদের মধ্যে পরিচিতি পেয়েছে। বেকার তরুণদের নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্যের প্রতিবাদ থেকে গড়ে ওঠা এই আন্দোলন পরে রাজনৈতিক ও নাগরিক অধিকারসংক্রান্ত বিভিন্ন দাবিতে সক্রিয় হয়। সাম্প্রতিক সময়ে ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে তাদের প্রতিবাদ আরও আলোচনায় এসেছে।   দিল্লির এই ঘটনা ভারতের নাগরিক অধিকার, শান্তিপূর্ণ সমাবেশের স্বাধীনতা এবং নির্বাচনপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। তবে পুলিশের আটক করার পদক্ষেপের আইনগত ভিত্তি, আটক ব্যক্তিদের পরবর্তী অবস্থা এবং সংশ্লিষ্ট অভিযোগগুলোর চূড়ান্ত নিষ্পত্তি সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে আরও নির্ভরযোগ্য তথ্যের প্রয়োজন রয়েছে।

প্রকাশ : অক্টোবর ১৬, ২০২৬ ১১:৪৩
নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার পর শরণার্থী ও বৈধভাবে বসবাসকারী অভিবাসীদের একটি অংশ চিকিৎসাসুবিধা হারিয়েছেন
যুক্তরাষ্ট্রে নতুন স্বাস্থ্যবিমা বিধিনিষেধে বিপাকে শরণার্থী ও বৈধ অভিবাসী পরিবার

যুক্তরাষ্ট্রে সরকারি স্বাস্থ্যবিমার নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার পর শরণার্থী ও বৈধভাবে বসবাসকারী অভিবাসীদের একটি অংশ চিকিৎসাসুবিধা হারিয়েছেন। গত ১ অক্টোবর থেকে কার্যকর হওয়া এই পরিবর্তনের ফলে যাঁরা আগে সরকারি স্বাস্থ্যবিমার আওতায় চিকিৎসা পেতেন, তাঁদের অনেকেই এখন নতুন করে যোগ্যতা যাচাইয়ের মুখে পড়েছেন। এতে বিশেষ করে স্বল্প আয়ের পরিবার, নিয়মিত ওষুধ ব্যবহারকারী রোগী এবং দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার প্রয়োজন রয়েছে এমন ব্যক্তিদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।    যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের ১০ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, নতুন নিয়মের কারণে দেশটির বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে লাখো বৈধ অভিবাসীর সরকারি স্বাস্থ্যবিমার সুবিধা হারানোর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। নয়টি অঙ্গরাজ্য ও রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসির প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, ২ লাখ ৮১ হাজারের বেশি অভিবাসী এই পরিবর্তনের কারণে সুবিধা হারাতে পারেন। তবে এটি দেশজুড়ে সব অঙ্গরাজ্যের পূর্ণাঙ্গ হিসাব নয়।   এই পরিবর্তনের আওতায় পড়তে পারেন এমন ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন কিছু শরণার্থী, আশ্রয়প্রার্থী এবং মানবপাচারের শিকার ব্যক্তি। আগে তাঁদের একটি অংশ নির্দিষ্ট যোগ্যতা পূরণ করে সরকারি স্বাস্থ্যবিমার সুবিধা পেতেন। নতুন নিয়মে শুধু বৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করাই সব ক্ষেত্রে এই সুবিধা পাওয়ার জন্য যথেষ্ট নয়।   তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সব অভিবাসীর স্বাস্থ্যবিমা বন্ধ করা হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে গ্রিনকার্ডধারীদের অনেকেই অন্যান্য যোগ্যতা পূরণ করলে সুবিধা পেতে পারেন। তাঁদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য অপেক্ষার সময়সীমা ও ব্যতিক্রমের নিয়মও বিবেচনা করা হয়। এ ছাড়া নির্দিষ্ট শর্তে কিউবা ও হাইতির আগত ব্যক্তি, কিছু প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপরাষ্ট্রের নাগরিক এবং আইনসম্মতভাবে বসবাসকারী কিছু শিশু ও গর্ভবতী নারীও সুবিধার যোগ্য থাকতে পারেন।    সরকারি স্বাস্থ্যবিমার সুবিধা হারালে অনেক পরিবারের জন্য চিকিৎসার ব্যয় বহন করা কঠিন হয়ে উঠতে পারে। ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যবিমার খরচ অনেকের আয়ের তুলনায় বেশি হওয়ায় কেউ কেউ চিকিৎসকের কাছে যাওয়া পিছিয়ে দিতে পারেন, আবার কেউ প্রয়োজনীয় ওষুধ কেনার ক্ষেত্রেও সমস্যায় পড়তে পারেন। স্বাস্থ্যসেবা বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, সময়মতো চিকিৎসা না পাওয়ায় কিছু রোগীর শারীরিক অবস্থা আরও খারাপ হতে পারে এবং পরে জরুরি বিভাগে চিকিৎসার প্রয়োজন বাড়তে পারে।    অঙ্গরাজ্যভেদেও পরিস্থিতি আলাদা। নিউইয়র্কে প্রায় ৬০ হাজার স্বল্প আয়ের অভিবাসী এই পরিবর্তনে প্রভাবিত হতে পারেন বলে স্থানীয় প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। তাঁদের একটি অংশকে বছরের শেষ পর্যন্ত বিকল্প, অঙ্গরাজ্য-অর্থায়িত স্বাস্থ্যবিমা কর্মসূচিতে স্থানান্তর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ফলে ফেডারেল সুবিধা বন্ধ হলেও কিছু মানুষ অঙ্গরাজ্যের নিজস্ব কর্মসূচির মাধ্যমে চিকিৎসাসুবিধা পেতে পারেন।   যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি পরিবারগুলোর জন্যও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। কারও সরকারি স্বাস্থ্যবিমা রয়েছে কি না, তাঁর অভিবাসন-অবস্থা নতুন নিয়মের আওতায় পড়ে কি না এবং অঙ্গরাজ্যে বিকল্প কোনো কর্মসূচি রয়েছে কি না, তা যাচাই করা উচিত। শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের খবর দেখে নিজের সুবিধা বন্ধ হয়েছে বলে ধরে নেওয়া ঠিক হবে না।   যাঁরা স্বাস্থ্যবিমা হারানোর নোটিশ পেয়েছেন, তাঁদের চিঠিতে উল্লেখ করা কারণ, কার্যকর হওয়ার তারিখ এবং আপিলের সুযোগ ভালোভাবে পড়া উচিত। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট অঙ্গরাজ্যের স্বাস্থ্যবিমা দপ্তর বা অনুমোদিত স্বাস্থ্যসেবা পরামর্শকের সঙ্গে যোগাযোগ করা যেতে পারে। যোগ্যতা নিয়ে সন্দেহ থাকলে সরকারি দপ্তরের কাছ থেকে সরাসরি নিশ্চিত হওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।

প্রকাশ : অক্টোবর ১৬, ২০২৬ ১১:২১
শপথ নিয়েছেন হিজাব পরিহিত নারী বি. মান্না
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ার প্রিন্স উইলিয়াম কাউন্টিতে ক্রসিং গার্ড হিসেবে শপথ নিলেন হিজাবি নারী

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যের প্রিন্স উইলিয়াম কাউন্টিতে ক্রসিং গার্ড হিসেবে শপথ নিয়েছেন হিজাব পরিহিত নারী বি. মান্না। তাঁর শপথ গ্রহণের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। ছবিতে তাঁকে আনুষ্ঠানিক পোশাকে শপথ গ্রহণের পর দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। তাঁর এই নতুন দায়িত্বের মধ্য দিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে জননিরাপত্তা ও শিশুদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করার কাজে যুক্ত হলেন তিনি।   প্রিন্স উইলিয়াম কাউন্টি পুলিশ বিভাগের ক্রসিং গার্ড ইউনিট স্কুলগামী শিশুদের নিরাপদে রাস্তা পারাপারে সহায়তা করে। স্কুলের আশপাশের সড়কে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ এবং নির্ধারিত পারাপারের স্থানে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও এই পেশার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কাউন্টি পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, এই পদে কাজ করার জন্য কর্মীদের প্রশিক্ষণ নিতে হয় এবং দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হয়। যুক্তরাষ্ট্রে স্কুল ক্রসিং গার্ডরা স্থানীয় জননিরাপত্তা ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। প্রতিদিন স্কুল শুরুর আগে ও ছুটির সময় ব্যস্ত সড়কে শিশুদের নিরাপদে চলাচলে সহায়তা করেন তাঁরা। বিশেষ করে যেসব এলাকায় শিক্ষার্থীদের সড়ক পার হয়ে স্কুলে যেতে হয়, সেখানে ক্রসিং গার্ডদের উপস্থিতি দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমাতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।   বি. মান্নার শপথ গ্রহণের ছবিতে তাঁর হিজাব পরিহিত উপস্থিতি বিশেষভাবে নজরে এসেছে। তবে তাঁর জাতীয়তা, ব্যক্তিগত পরিচয় এবং এই পদে যোগদানের বিস্তারিত তথ্য সম্পর্কে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। তাই তাঁকে বাংলাদেশি বা নির্দিষ্ট কোনো দেশের নাগরিক হিসেবে পরিচয় দেওয়ার মতো তথ্য এখনো নিশ্চিত নয়। সূত্র: প্রিন্স উইলিয়াম কাউন্টি পুলিশ বিভাগের ক্রসিং গার্ড-সংক্রান্ত তথ্য এবং প্রকাশিত ছবি।

প্রকাশ : অক্টোবর ১৬, ২০২৬ ১১:১৯
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন অভিযান জোরদার হওয়ায় বাড়ি নির্মাণ খাতে শ্রমিকসংকট
অভিবাসন অভিযানে চাপে যুক্তরাষ্ট্রে আবাসন খাত, বাড়ি নির্মাণ ব্যয় বাড়ার নতুন আশঙ্কা

যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন অভিযান জোরদার হওয়ায় বাড়ি নির্মাণ খাতে শ্রমিকসংকট, প্রকল্পের বিলম্ব এবং নির্মাণ ব্যয় বৃদ্ধির চাপ তৈরি হচ্ছে। এর প্রভাব দেশটির আবাসন বাজারে পড়তে পারে বলে সতর্ক করছেন নির্মাণশিল্পের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। এমন পরিস্থিতিতে বাড়ি কেনার অপেক্ষায় থাকা পরিবার, নতুন বাড়ির ক্রেতা এবং ভাড়াটিয়াদের জন্য বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।   ১৬ অক্টোবর প্রকাশিত দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন আইন প্রয়োগের অভিযান নির্মাণশিল্পে শ্রমিকের প্রাপ্যতা কমিয়ে দিচ্ছে। বিশেষ করে ছাদ নির্মাণ, রং করা, কাঠামো তৈরি এবং বাড়ির বিভিন্ন অংশ স্থাপনের মতো কাজে অভিবাসী শ্রমিকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। শ্রমিক কমে যাওয়ায় কিছু নির্মাণপ্রতিষ্ঠানকে কাজ শেষ করতে বেশি সময় ও অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, নির্মাতাদের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ প্রতিষ্ঠান শ্রমিকসংখ্যা কমে যাওয়ার অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছে। এক বছর আগে এ হার ছিল প্রায় ১৩ শতাংশ। নির্মাণশিল্পে শ্রমিকের প্রাপ্যতা নিয়ে এই পরিবর্তন খাতটির ওপর বাড়তি চাপের ইঙ্গিত দিচ্ছে।   যুক্তরাষ্ট্রের বাড়ি নির্মাণ খাতে অভিবাসী কর্মীদের অংশগ্রহণ দীর্ঘদিনের। ২০২৪ সালের তথ্য অনুযায়ী, নির্মাণশ্রমিকদের প্রায় ২৬ শতাংশ ছিলেন বিদেশে জন্মগ্রহণকারী কর্মী। তাঁদের অনেকে এমন কাজে নিয়োজিত, যেগুলো সম্পন্ন করতে নির্দিষ্ট দক্ষতা, অভিজ্ঞতা এবং শারীরিক পরিশ্রম প্রয়োজন।   অভিবাসন অভিযান জোরদার হওয়ার পর কিছু এলাকায় নির্মাণকাজের সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলো কর্মী হারানোর কথা জানিয়েছে। প্রতিবেদনে ফ্লোরিডার জ্যাকসনভিলের কয়েকটি ক্ষেত্রে শ্রমিকসংখ্যা ব্যাপকভাবে কমে যাওয়ার তথ্যও উল্লেখ করা হয়েছে। কিছু নির্মাণপ্রতিষ্ঠানের হিসাবে, একটি বাড়ির কাঠামো তৈরির ব্যয় আগে যেখানে প্রায় ১০ হাজার ডলার ছিল, সেখানে পরিস্থিতিভেদে তা বেড়ে ২৮ হাজার ডলার পর্যন্ত পৌঁছেছে। তবে এই অঙ্ক পুরো যুক্তরাষ্ট্রের সব বাড়ি বা সব নির্মাণপ্রকল্পের জন্য প্রযোজ্য নয়।   শ্রমিকসংকটের প্রভাব শুধু নির্মাণপ্রতিষ্ঠানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না। নির্ধারিত সময়ে বাড়ি নির্মাণ শেষ না হলে ক্রেতাদের নতুন বাড়িতে ওঠার সময় পিছিয়ে যেতে পারে। নির্মাণকাজে বিলম্ব হলে ঋণের সুদ, যন্ত্রপাতি ভাড়া, উপকরণের সংরক্ষণ এবং শ্রমিক ব্যবস্থাপনার খরচও বাড়তে পারে। প্রতিষ্ঠানগুলো এসব অতিরিক্ত ব্যয়ের কিছু অংশ বাড়ির বিক্রয়মূল্যে যুক্ত করলে শেষ পর্যন্ত ক্রেতাদের ওপরও চাপ পড়তে পারে।   আবাসন বাজারে এর আরেকটি সম্ভাব্য প্রভাব হলো নতুন বাড়ির সরবরাহ কমে যাওয়া। জনসংখ্যা ও আবাসনের চাহিদার তুলনায় নতুন বাড়ি নির্মাণ ধীর হলে বিশেষ করে ব্যয়বহুল শহর ও দ্রুত সম্প্রসারিত এলাকায় সাশ্রয়ী বাড়ি পাওয়া কঠিন হতে পারে। তবে বাড়ির দাম ও ভাড়া শুধু শ্রমিকসংকটের ওপর নির্ভর করে না; বন্ধকী ঋণের সুদের হার, জমির মূল্য, নির্মাণসামগ্রীর দাম, স্থানীয় অনুমোদন এবং ক্রেতাদের চাহিদাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।   অন্যদিকে, কঠোর অভিবাসন নীতির সমর্থকেরা যুক্তি দেন, এর মাধ্যমে আইন প্রয়োগ জোরদার করা এবং মার্কিন কর্মীদের জন্য সুযোগ তৈরি করা সম্ভব। তবে নির্মাণশিল্পের কিছু প্রতিষ্ঠান বলছে, অভিজ্ঞ শ্রমিকদের দ্রুত বিকল্প দিয়ে প্রতিস্থাপন করা সহজ নয়। বৈধভাবে কাজ করার অনুমতি থাকা কিছু কর্মীও অভিবাসন অভিযান নিয়ে উদ্বেগের কারণে কাজে যেতে অনীহা দেখাচ্ছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রকাশ : অক্টোবর ১৬, ২০২৬ ১১:৬
ইতালির বিতোন্তো শহরে ভুল করে ফেলে দেওয়া দশ লাখ ইউরো পুরস্কারের একটি লটারির টিকিট দুই দিনের অনুসন্ধানে উদ্ধার
হেরেছেন ভেবে ডাস্টবিনে ফেললেন ১৪ কোটি টাকার লটারির টিকিট, ৬ টন আবর্জনা ঘেঁটে উদ্ধার

ইতালির বিতোন্তো শহরে ভুল করে ফেলে দেওয়া দশ লাখ ইউরো পুরস্কারের একটি লটারির টিকিট দুই দিনের অনুসন্ধানে উদ্ধার করেছেন পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা। প্রায় ছয় টন আবর্জনার মধ্যে অক্ষত অবস্থায় টিকিটটি পাওয়া যায়। গত ৪ আগস্ট ইতালীয় সংবাদ সংস্থা আনসাকে ঘটনাটি জানান স্থানীয় বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান এসএএনবির প্রশাসক রবার্তো নিকোলা তোসকানো।  ঘটনার শুরু একটি দোকানের লটারি পরীক্ষার মেশিনে দেখানো বার্তা থেকে। টিকিটটি স্ক্যান করার পর ‘নন-পেয়েবল’ বা ‘এখানে পরিশোধযোগ্য নয়’ বার্তা দেখে ক্রেতা মনে করেছিলেন, কোনো পুরস্কার জেতেননি। এরপর টিকিটটি দোকানের আবর্জনার পাত্রে ফেলে চলে যান।   আসলে বার্তাটির অর্থ ছিল ভিন্ন। ওই দোকান থেকে ছোট অঙ্কের পুরস্কার পরিশোধ করা গেলেও দশ লাখ ইউরোর মতো বড় পুরস্কারের অর্থ দেওয়া সম্ভব ছিল না। সে কারণেই মেশিনে বার্তাটি দেখানো হয়েছিল।  বাড়িতে ফেরার পর পরিবারের এক সদস্য জানান, নিয়মিত যে নম্বরগুলো দিয়ে তাঁরা লটারি খেলেন, সেগুলোই বিজয়ী হয়েছে। ভুল বুঝতে পেরে পরিবারের সদস্যরা দোকানে ছুটে যান। কিন্তু ততক্ষণে বর্জ্য সংগ্রহের গাড়ি এসে আবর্জনা নিয়ে চলে গেছে।   পরে এসএএনবির সঙ্গে যোগাযোগ করে পরিবারটি। প্রতিষ্ঠানটির কর্মীরা সংশ্লিষ্ট গাড়িটি শনাক্ত করে বর্জ্য প্রক্রিয়াজাত করার আগে আলাদা রাখেন। এরপর শুরু হয় হারানো টিকিটের অনুসন্ধান। দুই দিন খোঁজার পর ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে এক কর্মী টিকিটটি পান। ছেঁড়া একটি ব্যাগের ভেতরে অন্য নষ্ট টিকিটগুলোর সঙ্গে থাকলেও বিজয়ী টিকিটটি অক্ষত ছিল বলে জানান তোসকানো।    পুরস্কারজয়ীর পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। ইউরোনিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, টিকিট উদ্ধারে বাড়তি যে ব্যয় হয়েছে, তা বহনের বিষয়ে আগেই সম্মতি দিয়েছিলেন তিনি। সেই অনুসন্ধানের খরচ তাঁর কাছ থেকেই নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠানটি।  

প্রকাশ : অক্টোবর ১৬, ২০২৬ ১০:৫৬
উনিভার্সিটি অব ফ্লোরিডার ১৮ বছর বয়সী শিক্ষার্থী লক্ষ্যা যাদব
ফ্লোরিডায় যৌন নির্যাতনের অভিযোগে ভারতীয় শিক্ষার্থী গ্রেপ্তার, শনাক্তে গাড়ির ক্যামেরার তথ্য

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার গেইনসভিলে এক নারীকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে ইউনিভার্সিটি অব ফ্লোরিডার ১৮ বছর বয়সী শিক্ষার্থী লক্ষ্যা যাদবকে গ্রেপ্তার করেছে আলাচুয়া কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়। গত ১৪ অক্টোবর দক্ষিণ-পশ্চিম গেইনসভিলে তাঁর বাসস্থানের কাছে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে সেক্সুয়াল ব্যাটারির অভিযোগ আনা হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম গেইনসভিল সান।    শেরিফের কার্যালয়ের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওই নারীর সঙ্গে যাদবের পরিচয় হয়েছিল। নারীটি বাসায় আসতে নিষেধ করলেও গত ১৯ সেপ্টেম্বর ভোরে তিনি সেখানে উপস্থিত হন। তাঁকে নেশাগ্রস্ত মনে হওয়ায় ওই অবস্থায় গাড়ি চালানোর ঝুঁকির কথা ভেবে নারীটি তাঁকে ভেতরে ঢুকতে দেন। অভিযোগ অনুযায়ী, বাসায় ঢোকার পর বারবার থামতে বলা সত্ত্বেও যাদব ওই নারীকে জোরপূর্বক যৌন নির্যাতন করেন। তদন্তকারীদের ভাষ্য, নথিভুক্ত আঘাতের সঙ্গে অভিযোগকারীর বর্ণনার মিল রয়েছে।  তদন্তের শুরুতে নারীটি অভিযুক্তের প্রকৃত নাম জানতেন না। তবে তিনি একটি নীল টেসলা চালাতেন বলে জানান। লাইসেন্স প্লেট রিডার ক্যামেরার তথ্য বিশ্লেষণ করে ঘটনার সময় সংশ্লিষ্ট এলাকায় একটি নীল টেসলার চলাচল শনাক্ত করেন তদন্তকারীরা। সেই সূত্রে যাদবের পরিচয় পাওয়া যায়। পরে ছবির সারি থেকে তাঁকে শনাক্ত করেন অভিযোগকারী।   বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ পরিচালক সিনথিয়া রোলডান গেইনসভিল সানকে জানান, যাদব বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। ১৫ অক্টোবর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব সম্পত্তিতে তাঁর প্রবেশ তিন বছরের জন্য নিষিদ্ধ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় পুলিশ। শেরিফের কার্যালয় জানিয়েছে, তদন্ত চলমান রয়েছে। যাদবের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত হয়নি।  

প্রকাশ : অক্টোবর ১৬, ২০২৬ ১০:৩৪
পার্কে হাঁটতে যাওয়া তিন ভারতীয় শিক্ষার্থীকে ঘিরে ভিডিও ধারণ
ইংল্যান্ডের পার্কে ভারতীয় শিক্ষার্থীদের হেনস্তার অভিযোগ, টহল বাড়াল পুলিশ

ইংল্যান্ডের সোলিহালে একটি পার্কে হাঁটতে যাওয়া তিন ভারতীয় শিক্ষার্থীকে ঘিরে ভিডিও ধারণ এবং সেখানে আর না আসার হুঁশিয়ারি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্বঘোষিত টহলদল ‘চেলমসলে উড প্যাট্রিয়টস’-এর বিরুদ্ধে। স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা ঘটনাটিকে বর্ণবাদী আচরণ বলে নিন্দা জানিয়েছেন। ওয়েস্ট মিডল্যান্ডস পুলিশ জানিয়েছে, তারা ভিডিওটি সম্পর্কে অবগত এবং চেলমসলে উড এলাকায় টহল বাড়িয়েছে।    ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম মেট্রোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাতে মেরিডেন পার্কে দলটির সদস্যরা শিক্ষার্থীদের সামনে গিয়ে জানতে চান, তাঁরা কেন ইংল্যান্ডে এসেছেন এবং পার্কে কী করছেন। প্রকাশিত ভিডিওর বর্ণনা অনুযায়ী, এক শিক্ষার্থী জানান, তাঁরা আগে বার্মিংহামে থাকতেন এবং সেদিনই ওই এলাকায় এসেছেন। আরেকজন বলেন, মাস্টার্স পড়তে তিনি ইংল্যান্ডে এসেছেন এবং দুই বছর ধরে সেখানে আছেন।  এরপর দলটির একজন তাঁদের পার্ক থেকে দূরে থাকতে বলেন। ভিডিওতে তাঁকে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে সেখানে আর না আসার ‘শেষ সতর্কতা’ দিতে শোনা যায়। দলটির প্রকাশ করা ভিডিওটি পরে সরিয়ে নেওয়া হলেও অন্যত্র ছড়িয়ে পড়ে।    চেলমসলে উড প্যাট্রিয়টস নিজেদের নারী ও শিশুদের নিরাপত্তায় টহল দেওয়ার দাবি করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দলটির বক্তব্য, রাতে পার্কে শিক্ষার্থীদের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন করেছিল তারা। তবে শিক্ষার্থীরা বেআইনি কিছু করছিলেন, এমন তথ্য পুলিশ প্রকাশ করেনি।  সোলিহাল গ্রিন পার্টি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এ আচরণের নিন্দা জানিয়েছে। স্থানীয় সমাজকর্মী ও সাবেক কাউন্সিলর শেশ শেশাভাত্তর বলেছেন, শিক্ষার্থীদের বাইরে দেখা করা বা হাঁটার অধিকার রয়েছে। তাঁর অভিযোগ, গায়ের রং ছাড়া তাঁদের এভাবে থামানোর অন্য কোনো কারণ দেখা যাচ্ছে না।  ওয়েস্ট মিডল্যান্ডস পুলিশ জানিয়েছে, চেলমসলে উড প্যাট্রিয়টসের সঙ্গে তাদের কোনো অংশীদারত্ব নেই। কাউকে থামিয়ে তল্লাশি করার ক্ষমতা নির্দিষ্ট আইনের অধীনে শুধু পুলিশের। স্থানীয় এক পুলিশ কর্মকর্তা দলটির একজন সদস্যের সঙ্গে কথা বলেছেন। কোনো উদ্বেগ থাকলে নিজেরা লোকজনকে থামানোর বদলে পুলিশকে জানাতে বলেছে বাহিনীটি।    পুলিশের ১৫ অক্টোবরের আরেক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ওই এলাকায় টহল চলাকালে একটি বাড়ির জানালা ভাঙার ঘটনায় ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার কাছ থেকে একটি ছুরিও উদ্ধার হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে প্রকাশিত বিবৃতিতে ওই ঘটনার সঙ্গে পার্কে শিক্ষার্থীদের হেনস্তার কোনো যোগসূত্র উল্লেখ করা হয়নি।     

প্রকাশ : অক্টোবর ১৬, ২০২৬ ১০:১৫
অ্যান্টার্কটিকায় গিয়েছিলেন চীনের ওয়াং ইং
'জীবন আর ক'টা দিন', আন্টার্কটিকা ঘুরে সর্বস্ব খরচ ক্যানসার আক্রান্তের, ফিরে জানলেন তিনি সুস্থ!

থাইরয়েড ক্যানসার শনাক্ত হওয়ার পর সঞ্চয়ের অর্থ খরচ করে পেঙ্গুইনের ছবি তুলতে অ্যান্টার্কটিকায় গিয়েছিলেন চীনের ওয়াং ইং। দেশে ফিরে পরীক্ষায় তাঁর টিউমারের আকার ছোট পাওয়া যায় বলে চীনা সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। তবে ভ্রমণ বা পেঙ্গুইনের ছবি তোলার কারণে ক্যানসার সেরেছে, এমন চিকিৎসাবৈজ্ঞানিক প্রমাণ এসব প্রতিবেদনে দেওয়া হয়নি।    সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের ১১ অক্টোবরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওয়াংয়ের বর্তমান বয়স ৬৭ বছর। চীনের ইউনান প্রদেশের কুনমিং শহরের একটি স্কুলে প্রশাসনিক পদে কাজ করতেন তিনি। ২০১৩ সালে অবসরের প্রস্তুতি নেওয়ার সময় তাঁর থাইরয়েড ক্যানসার ধরা পড়ে। চিকিৎসকেরা তাঁকে দ্রুত অস্ত্রোপচারের পরামর্শ দিয়েছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।  অসুস্থতার খবর পাওয়ার পর দীর্ঘদিনের একটি ইচ্ছা পূরণের সিদ্ধান্ত নেন ওয়াং। ইউনান নেটের প্রকাশিত বিবরণ অনুযায়ী, এক মাসের অ্যান্টার্কটিকা সফরে তিনি দেড় লাখ ইউয়ান ব্যয় করেন। প্রচণ্ড ঠান্ডা, দীর্ঘ সমুদ্রযাত্রা ও জাহাজের দুলুনির কারণে সফরটি সহজ ছিল না। তবু বরফের প্রান্তরে অপেক্ষা করে কাঙ্ক্ষিত পেঙ্গুইনের ছবি তুলতে পেরেছিলেন তিনি।    একই বিবরণে বলা হয়, সফর শেষে পরীক্ষায় টিউমারের আকার কমতে দেখে চিকিৎসকেরা আপাতত অস্ত্রোপচার পিছিয়ে পর্যবেক্ষণে থাকার পরামর্শ দেন। এই খবর তাঁকে মানসিকভাবে উজ্জীবিত করেছিল। তবে টিউমারের পরিবর্তনের কারণ নির্ধারণের মতো চিকিৎসার নথি বা গবেষণার ফল ওই প্রতিবেদনে উপস্থাপন করা হয়নি।  বন্য প্রাণীর ছবি তোলার শখ পরবর্তী সময়ে ওয়াংয়ের জীবনের বড় অংশ হয়ে ওঠে। সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট জানিয়েছে, তিনি এ পর্যন্ত ১ হাজার ২০০টির বেশি প্রজাতির পাখির ছবি তুলেছেন। এই সংখ্যা তাঁর সামগ্রিক আলোকচিত্রচর্চার, অ্যান্টার্কটিকায় থাকা পেঙ্গুইনের প্রজাতির সংখ্যা নয়। তাঁর অ্যান্টার্কটিকা সফরও ছিল এক মাসের, কয়েক বছরের নয়।    টিউমার ছোট হওয়া এবং ক্যানসার সম্পূর্ণ সেরে যাওয়া এক বিষয় নয়। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ক্যানসার ইনস্টিটিউটের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, ক্যানসারের লক্ষণ আংশিক বা পুরোপুরি কমে যাওয়াকে রেমিশন বলা হয়। পুরোপুরি রেমিশনের পরও রোগ ফিরে আসতে পারে বলে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন। ফলে ওয়াংয়ের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতাকে ভ্রমণের মাধ্যমে ক্যানসার নিরাময়ের প্রমাণ বা চিকিৎসার বিকল্প হিসেবে দেখার ভিত্তি নেই।  

প্রকাশ : অক্টোবর ১৬, ২০২৬ ৯:৪৩
ভোলার চরফ্যাশনের রসুলপুর গ্রামের মো. সাজিবুল ইসলাম
কাঠমিস্ত্রির ছেলে সাজিবুল, সব বাধা পেরিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের গেটিসবার্গে, পেয়েছেন চার কোটি টাকার ফান্ড

ভোলার চরফ্যাশনের রসুলপুর গ্রামের মো. সাজিবুল ইসলাম প্রায় চার কোটি টাকার ফিন্যান্সিয়াল এইড নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের গেটিসবার্গ কলেজে পড়ার সুযোগ পেয়েছেন। ২০২৫ সালে তাঁর এই ভর্তি ও আর্থিক সহায়তা পাওয়ার খবর প্রকাশিত হয়। কাঠমিস্ত্রি বাবার সংসারে বেড়ে ওঠা সাজিবুলের প্রস্তুতির বড় অংশজুড়ে ছিল অনলাইনে শেখা, ইংরেজির দক্ষতা বাড়ানো এবং বিদেশে ভর্তির সঠিক তথ্য খুঁজে নেওয়ার চেষ্টা।    আজকের পত্রিকায় ২০২৫ সালের ৩১ মে প্রকাশিত সাক্ষাৎকারে সাজিবুল জানান, প্রত্যন্ত এলাকায় থেকে প্রস্তুতি নেওয়ার সবচেয়ে বড় বাধা ছিল সঠিক দিকনির্দেশনা ও তথ্যের অভাব। ইংরেজিতে কথা বলার পরিবেশও ছিল সীমিত। এসব বাধা পেরিয়েই তিনি যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষার জন্য আবেদন করেন। তাঁর আর্থিক সহায়তার পরিমাণ প্রায় চার কোটি টাকা বলে ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।  সাজিবুলের বাবা মো. রুহুল আমিন পেশায় কাঠমিস্ত্রি ছিলেন। মা হালিমা বেগম গৃহিণী। ছয় ভাইবোনের পরিবারে ছোটবেলা থেকেই আর্থিক সীমাবদ্ধতার মধ্যে পড়াশোনা করেছেন তিনি। স্থানীয় ২১০ নম্বর চর শশিভূষণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তাঁর শিক্ষাজীবন শুরু। পরে বরিশালের কর্ণকাঠী ইজ্জাতুল ইসলাম আলিম মাদ্রাসায় অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়েন। আব্দুর রসিদ খান মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে নবম ও দশম শ্রেণি শেষ করার পর গ্রামের বেগম রহিমা ইসলাম কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক সম্পন্ন করেন।   বিদেশে পড়ার আগ্রহ তৈরিতে বড় ভাই মো. আল আমিনের ভূমিকা ছিল। বড় ভাই স্কলারশিপ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার পর সাজিবুলও আন্তর্জাতিক উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্পর্কে জানতে শুরু করেন। উচ্চমাধ্যমিকের পর দেশের ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতির পাশাপাশি বিদেশে আবেদনের জন্য নিজেকে তৈরি করেন তিনি। বড় ভাইয়ের পরামর্শে নেক্সটজেন অ্যাব্রড থেকে এসএটি ও ডুয়োলিঙ্গো পরীক্ষার প্রস্তুতি নেন সাজিবুল। ইংরেজিতে দক্ষতা বাড়াতে ব্যবহার করেন ইউটিউব ও অনলাইনে বিনা মূল্যে পাওয়া শিক্ষাসামগ্রী। কলেজ বোর্ডের বিগফিউচার প্ল্যাটফর্মে খোঁজ করতে গিয়ে গেটিসবার্গ কলেজ সম্পর্কে জানতে পারেন। পরে সেখানে আবেদন করে ভর্তির সুযোগ ও আর্থিক সহায়তা পান। এই প্রস্তুতির আগেও কঠিন সময় পার করতে হয়েছে তাঁকে। করোনাকালে পরিবারের আয় বন্ধ হয়ে গেলে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে প্রায় এক বছর মাস্ক বিক্রি করেন সাজিবুল। সংসারের সেই সংকটের মধ্যেও পড়াশোনা ও ভবিষ্যতের প্রস্তুতি চালিয়ে যান।   উচ্চশিক্ষার সুযোগ কাজে লাগিয়ে ভবিষ্যতে প্রযুক্তি ও শিক্ষাক্ষেত্রে কাজ করতে চান সাজিবুল। নিজ গ্রামের দরিদ্র মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য প্রযুক্তিনির্ভর একটি শিক্ষাকেন্দ্র গড়ে তোলার স্বপ্ন রয়েছে তাঁর। সেখানে আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষার সুযোগ তৈরি করতে চান, যাতে তথ্য ও দিকনির্দেশনার অভাবে অন্য শিক্ষার্থীদের পথ আটকে না যায়।  

প্রকাশ : অক্টোবর ১৬, ২০২৬ ৯:২২
ইউনূসের পুরস্কার নিয়ে আসিফ নজরুলের ফেসবুক মন্তব্য
হিলারী ক্লিনটন তো অনেক বোকা, আবার ড. ইউনূসকে পুরষ্কৃত করেছে: আসিফ নজরুল

শান্তিতে নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ‘হিলারি রোডহ্যাম ক্লিনটন অ্যাওয়ার্ড’ পাওয়া নিয়ে মন্তব্য করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল। শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে তিনি লেখেন, ‘হিলারী ক্লিনটন তো অনেক বোকা! আবার ড. ইউনূসকে পুরস্কৃত করেছে!!’   দৈনিক ইত্তেফাকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ওয়াশিংটন ডিসির জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ড. ইউনূসের হাতে পুরস্কার তুলে দেন সাবেক মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন। এ সম্মাননা পাওয়ার প্রসঙ্গেই ফেসবুকে মন্তব্য করেন আসিফ নজরুল। শুক্রবার প্রকাশিত একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তির বরাতে প্রতিবেদনে জানানো হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্যাস্টন হলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রায় ২৫টি দেশের রাষ্ট্রদূত, উদ্যোক্তা, শিক্ষক ও গবেষকসহ প্রায় ৪০০ অতিথি উপস্থিত ছিলেন। ড. ইউনূসের নাম ঘোষণার পর অতিথিরা দাঁড়িয়ে দীর্ঘক্ষণ করতালি দিয়ে তাঁকে সম্মান জানান। এ বছর ড. ইউনূসসহ মোট চারজনকে সম্মাননা দেওয়া হয়েছে। অন্য তিনজন হলেন ভারতের সেলফ এমপ্লয়েড উইমেন্স অ্যাসোসিয়েশনের পরিচালক রিমা নানাবতী, ফ্যাশন ডিজাইনার ও টোরি বার্চ ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা টোরি বার্চ এবং জর্ডানের মাইক্রোফান্ড ফর উইমেনের বোর্ড চেয়ার মুনা সুখতিয়ান। মুনা সুখতিয়ানকে বিশেষ ‘জর্জটাউন অ্যাম্বাসেডরস অ্যাওয়ার্ড’ দেওয়া হয়।  সূত্র: ইত্তেফাক

প্রকাশ : অক্টোবর ১৬, ২০২৬ ৯:০
ক্যানসার গবেষক ডা. রচনা শ্রফের ৪৭ বছর বয়সে প্রয়াণ
যে ক্যানসার নিয়ে গবেষণা করতেন, সেই আগ্রাসী ক্যানসারেই প্রাণ গেল ডা. রচনা শ্রফের

পরিপাকতন্ত্রের ক্যানসারের চিকিৎসা নিয়ে গবেষণা করা যুক্তরাষ্ট্রের চিকিৎসক ও গবেষক ডা. রচনা শ্রফ নিজেই আগ্রাসী ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। তাঁর বয়স হয়েছিল ৪৭ বছর। ইউনিভার্সিটি অব অ্যারিজোনা গত ১২ অক্টোবর তাঁর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যানসার সেন্টারের ক্লিনিক্যাল ইনভেস্টিগেশনসের সহযোগী পরিচালক ছিলেন। টুডের প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের মে মাসে শরীরের একটি লিম্ফ নোড ফুলে যাওয়ার পর তাঁর পরীক্ষা করা হয়। প্রথমে চিকিৎসকেরা লিম্ফোমা বা একধরনের র ক্তের ক্যানসার সন্দেহ করেছিলেন। পরবর্তী পরীক্ষায় অ্যাডেনোকারসিনোমা শনাক্ত হয়। মে মাসের শেষ নাগাদ রোগটি শরীরের অন্য অংশেও ছড়িয়ে পড়েছিল। পরীক্ষায় ক্যানসারটি পাকস্থলী বা অন্ত্র থেকে শুরু হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা পাওয়া গেলেও এর উৎপত্তিস্থল নিশ্চিত করা যায়নি। রচনা শ্রফ বিশেষ করে অগ্ন্যাশয় ও পিত্তনালির ক্যানসার নিয়ে কাজের জন্য পরিচিত ছিলেন। আমেরিকান সোসাইটি অব ক্লিনিক্যাল অনকোলজি তাঁকে এই দুই ধরনের ক্যানসারের অন্যতম শীর্ষ বিশেষজ্ঞ হিসেবে উল্লেখ করেছে। নিজের গবেষণার পাশাপাশি ইউনিভার্সিটি অব অ্যারিজোনায় পরিপাকতন্ত্রের ক্যানসার নিয়ে ক্লিনিক্যাল গবেষণা কার্যক্রম সম্প্রসারণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন তিনি। বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, টুসনে বেড়ে ওঠা শ্রফের গবেষণায় আগ্রহ তৈরি হয় স্কুলজীবনেই। ১৯৯৩ সালে হাইস্কুলের শিক্ষার্থী অবস্থায় তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যানসার সেন্টারের একটি গবেষণাগারে কাজের সুযোগ পান। ব্রাউন ইউনিভার্সিটি ও থমাস জেফারসন ইউনিভার্সিটিতে পড়াশোনা এবং এমডি অ্যান্ডারসন ক্যানসার সেন্টারে কর্মজীবনের পর ২০১৮ সালে তিনি টুসনে ফিরে আসেন। কর্মজীবনে তাঁর ৮০টির বেশি গবেষণা প্রকাশনা ছিল। তিনি ইউনিভার্সিটি অব অ্যারিজোনার কলেজ অব মেডিসিনের হেমাটোলজি ও অনকোলজি বিভাগের প্রধান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। দুরারোগ্য ক্যানসারের নতুন চিকিৎসা যাচাই এবং রোগীদের ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে অংশ নেওয়ার সুযোগ বাড়ানো ছিল তাঁর কাজের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। নিজের অসুস্থতার মধ্যেও ভবিষ্যৎ গবেষকদের সহায়তায় উদ্যোগ নিয়েছিলেন শ্রফ। সেপ্টেম্বরে পিত্তনালির ক্যানসার নিয়ে কাজ করা নবীন গবেষকদের জন্য তাঁর নামে একটি স্থায়ী গবেষণা পুরস্কার প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টায় নেতৃত্ব দেন তিনি। বিশ্ববিদ্যালয় জানিয়েছে, সহকর্মী ও সমর্থকদের অংশগ্রহণে এ উদ্যোগে ১৩ লাখ ৫০ হাজার ডলারের বেশি তহবিল সংগ্রহ হয়। তাঁর স্বামী ডা. পুনিত শ্রফ এবং দুই সন্তান সিমরান ও শচিন রয়েছেন।

প্রকাশ : অক্টোবর ১৬, ২০২৬ ৮:৪৮
জবিতে নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের গরুভোজ আয়োজন
জবিতে পশু জ বা ইয়ে নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদে উপাচার্য ভবনের পাশে গরু জ বা ই

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্যাম্পাসের ভেতরে পশু জ বা ইয়ে প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদে উপাচার্য ভবনের পাশে গরু জ বা ই করেছেন একদল শিক্ষার্থী। শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর সকাল ৮টার দিকে উপাচার্য ভবন ও গণিত বিভাগের মধ্যবর্তী সড়কে পূর্বঘোষিত ‘গরুভোজ’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে গরুটি জ বা ই করা হয়।   গত বুধবার, ১৪ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর দপ্তর থেকে ক্যাম্পাসে সব ধরনের পশু জ বা ই থেকে বিরত থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়। বিজ্ঞপ্তিতে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা, পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করার কথা উল্লেখ করা হয়। নির্দেশনা অমান্য করলে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের গণবিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানায় প্রশাসন। এ নির্দেশনার প্রতিবাদে গরুভোজ আয়োজনের ঘোষণা দেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের সহকারী সাধারণ সম্পাদক মাসুদ রানা। অংশগ্রহণের জন্য জনপ্রতি ৭০ টাকা নিবন্ধন ফি নির্ধারণ করা হয়। বৃহস্পতিবার আয়োজনের জন্য ১ লাখ ২৫ হাজার টাকায় একটি গরু কেনা হয়। সেদিন সন্ধ্যায় গরু ও একটি ছাগল নিয়ে ক্যাম্পাসে মিছিলও করেন শিক্ষার্থীরা। মাসুদ রানা জানান, শিক্ষার্থীদের নিবন্ধন থেকে প্রায় ৫০ হাজার টাকা সংগ্রহ হয়েছে। এর সঙ্গে দেশ ও বিদেশ থেকে পাওয়া অর্থসহায়তা দিয়ে গরুটি কেনা হয়েছে। অন্য ধর্মাবলম্বীদের কথা বিবেচনায় রেখে আয়োজনে একটি ছাগলও রাখা হয়েছে বলে জানান তিনি। বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর বুধবার রাতে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিবাদকারীরা বিজ্ঞপ্তি প্রত্যাহার ও প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানান। পাশাপাশি আগের নৈশভোজের ঘটনাকে সাম্প্রদায়িক রূপ দেওয়ার অভিযোগ তদন্ত, ক্যাফেটেরিয়ার মেনুতে গরু ও খাসির মাংস যুক্ত করা এবং ক্যাম্পাসে ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখার দাবি তোলেন তাঁরা। ঘটনার পটভূমিতে রয়েছে গত সোমবার ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষার্থীদের নৈশভোজ আয়োজন নিয়ে বিরোধ। প্রতিবেদন অনুযায়ী, মুক্তমঞ্চের সামনে গরুর মাংস রান্নাকে কেন্দ্র করে সনাতন ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বিতর্ক ও বিক্ষোভ হয়। এর পর বুধবার পশু জ বা ইসংক্রান্ত নির্দেশনা দেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। গরুভোজ আয়োজনের বিষয়ে অধ্যাপক ড. মো. আজম খান জানিয়েছেন, সুনির্দিষ্ট নিয়ম মেনে প্রশাসনিক অনুমতি নিয়ে সুশৃঙ্খলভাবে আয়োজন করা হলে কর্তৃপক্ষের আপত্তি থাকবে না।

প্রকাশ : অক্টোবর ১৬, ২০২৬ ৮:৩৬
বাফেলো বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডিতে বছরে ৩৫ হাজার ডলার স্টাইপেন্ড
ইউনিভার্সিটি অ্যাট বাফেলোতে পিএইচডি ফান্ডিং, বছরে ন্যূনতম ৩৫,১০০ ডলারের সুযোগ

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের ইউনিভার্সিটি অ্যাট বাফেলোতে পূর্ণকালীন ও সম্পূর্ণ অর্থায়নপ্রাপ্ত পিএইচডি শিক্ষার্থীদের জন্য ২০২৭ সালের ফল সেমিস্টার থেকে নতুন ন্যূনতম স্টাইপেন্ড কার্যকর হবে। ১২ মাসের অ্যাসিস্ট্যান্টশিপে বছরে ন্যূনতম ৩৫ হাজার ১০০ ডলার এবং ১০ মাসের নিয়োগে শিক্ষাবর্ষে ন্যূনতম ২৭ হাজার ডলার পাবেন যোগ্য শিক্ষার্থীরা। ফান্ডিং প্যাকেজে টিউশন ও নির্ধারিত ফি মওকুফের সুবিধাও রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্র্যাজুয়েট স্কুলের প্রকাশিত তথ্যে এসব জানানো হয়েছে।  বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘পিএইচডি এক্সিলেন্স ইনিশিয়েটিভ’-এর আওতায় এই স্টাইপেন্ড কাঠামো প্রযোজ্য হবে। এটি সব মাস্টার্স বা পিএইচডি আবেদনকারীর জন্য স্বয়ংক্রিয় অর্থায়নের ঘোষণা নয়। পূর্ণকালীন ও সম্পূর্ণ অর্থায়নপ্রাপ্ত পিএইচডি শিক্ষার্থীদের সংশ্লিষ্ট অ্যাসিস্ট্যান্টশিপে নিয়োগের ভিত্তিতে সুবিধা দেওয়া হবে। পিএইচডির অ্যাসিস্ট্যান্টশিপগুলো প্রতিযোগিতামূলক প্রক্রিয়ায় দেওয়া হয়।  বাফেলোতে টিচিং অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ, গ্র্যাজুয়েট অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ ও রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্টশিপের সুযোগ রয়েছে। টিচিং অ্যাসিস্ট্যান্টরা পাঠদান কার্যক্রমে, গ্র্যাজুয়েট অ্যাসিস্ট্যান্টরা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহায়ক কাজে এবং রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্টরা শিক্ষকদের গবেষণায় সহায়তা করেন। টিচিং ও গ্র্যাজুয়েট অ্যাসিস্ট্যান্টের নিয়োগ সাধারণত সংশ্লিষ্ট বিভাগ দেয়। রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ দেওয়া হয় বিভাগ বা গবেষণা অনুদানপ্রাপ্ত শিক্ষকদের মাধ্যমে।  ফুল অ্যাসিস্ট্যান্টশিপে সাধারণত সপ্তাহে ২০ ঘণ্টা এবং হাফ অ্যাসিস্ট্যান্টশিপে ১০ ঘণ্টা কাজের প্রত্যাশা থাকে। স্টেট পেরোলে থাকা টিচিং ও গ্র্যাজুয়েট অ্যাসিস্ট্যান্টদের জন্য ভর্তুকিযুক্ত হেলথ ইন্স্যুরেন্সসহ কিছু সুবিধা রয়েছে। নিয়োগের ধরন অনুযায়ী প্রযোজ্য সুবিধা ও শর্ত সংশ্লিষ্ট বিভাগের কাছ থেকে জেনে নিতে হবে।  মাস্টার্সে পড়তে আগ্রহীদের ক্ষেত্রে অর্থায়নের বিষয়টি আলাদাভাবে যাচাই করা জরুরি। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, অধিকাংশ মাস্টার্স প্রোগ্রামের খরচ শিক্ষার্থীদের নিজস্ব অর্থায়নে বহন করতে হয়। ফলে পিএইচডির জন্য ঘোষিত স্টাইপেন্ড ও টিউশন মওকুফের কাঠামো মাস্টার্সেও একইভাবে প্রযোজ্য ধরে নেওয়া যাবে না।  আবেদনের যোগ্যতা, অ্যাসিস্ট্যান্টশিপের প্রাপ্যতা ও সময়সীমা জানতে আগ্রহীদের নিজ নিজ বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেছে বিশ্ববিদ্যালয়। বাংলাদেশ থেকে আবেদন করতে ইচ্ছুক শিক্ষার্থীরাও পছন্দের বিভাগের কাছে ইমেইলে এসব তথ্য জানতে পারেন।

প্রকাশ : অক্টোবর ১৬, ২০২৬ ৮:২২
হিন্দু মন্দিরে হা মলার পরিকল্পনার অভিযোগে তরুণ গ্রে প্তা র
‘ভারতীয়দের মা রতে তর সইছে না’, মন্দিরে হা মলার দুই বছরের পরিকল্পনার অভিযোগে আটক শিকাগোর তরুণ

যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় অঙ্গরাজ্যে হিন্দু মন্দিরে নির্বিচারে গু লি বর্ষণের পরিকল্পনার অভিযোগে ১৯ বছর বয়সী আলেকজান্দ্রোস পাপোরাকিসকে গ্রে প্তা র করেছে পুলিশ। শিকাগোর উপশহর প্যালাটাইনের এই বাসিন্দার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী হু মকি দেওয়া ও বেআইনিভাবে রাইফেল রাখার অভিযোগ আনা হয়েছে। প্রসিকিউটরদের দাবি, ১১ অক্টোবর হা মলা চালাতে গিয়ে তাঁর অ স্ত্র কাজ করেনি। পরে সহকর্মীদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ওই দিনই তাঁকে আ টক করা হয়। আদালতে প্রসিকিউটরদের উপস্থাপিত তথ্যের বরাতে শিকাগো সান টাইমস জানিয়েছে, পাপোরাকিস দুই বছর ধরে নির্বিচারে গু লি বর্ষণের পরিকল্পনা করছিলেন। তবে অরোরার একটি হিন্দু উপাসনালয়কে নির্দিষ্ট লক্ষ্য হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন প্রায় দুই মাস আগে। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, ঘটনার দিন গাড়ির ভেতর থেকে এক ব্যক্তিকে গু লি করার চেষ্টা করেন তিনি, কিন্তু রাইফেল আটকে যাওয়ায় গু লি বের হয়নি। প্যালাটাইন পুলিশপ্রধান উইলিয়াম নর্ড ১৫ অক্টোবর সংবাদ সম্মেলনে জানান, পাপোরাকিসের নামে নিবন্ধিত একটি গাড়ি ১১ অক্টোবর দুপুর ১২টা ২৫ মিনিটে অরোরার একটি হিন্দু মন্দিরের পার্কিং লটে ঢোকে। প্রায় ১৩ মিনিট পর সেটি বেরিয়ে যায়। পুলিশের ধারণা, তখন গাড়িতে তিনি একাই ছিলেন। সংবাদ সম্মেলনে মন্দিরটির নাম প্রকাশ করেননি পুলিশপ্রধান। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ অনুযায়ী, ঘটনার আগের দিন এক সহকর্মীর কাছে ভারতীয়দের হ ত্যা করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন পাপোরাকিস। পরদিন তিনি ওই সহকর্মীকে জানান, হা মলা চালাতে গিয়ে তাঁর অ স্ত্র কাজ করেনি এবং তিনি দ্রুত সেখান থেকে চলে এসেছেন। অ স্ত্র ঠিক করে আবার চেষ্টা করার কথাও বলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব কথোপকথনের পর দুই সহকর্মী জরুরি সেবা নম্বর ৯১১-এ ফোন করেন। মাউন্ট প্রসপেক্ট পুলিশ তথ্যটি পাওয়ার পর প্যালাটাইন পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করে ব্যবস্থা নেয়। পরে পাপোরাকিসের বাসায় তল্লাশি চালিয়ে একটি রাইফেল, গু লিভর্তি একাধিক ম্যাগাজিন, কয়েক শ রাউন্ড অতিরিক্ত গু লি এবং সুরক্ষাবর্মযুক্ত ভেস্ট উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার করা সামগ্রীর মধ্যে শ্বেতাঙ্গ আধিপত্যবাদী উগ্রবাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতীকও ছিল। তদন্তকারীরা তাঁর নামে লেখা একটি নথি ও ইলেকট্রনিক বার্তা পরীক্ষা করছেন। পুলিশের ভাষ্য, ওই নথিতে শ্বেতাঙ্গ আধিপত্যবাদী ও উগ্রবাদী বক্তব্যের পাশাপাশি দক্ষিণ এশীয়, বিশেষ করে ভারতীয় বংশোদ্ভূত মানুষদের বিরুদ্ধে সহিংসতার উল্লেখ রয়েছে। এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, পরিকল্পনায় তিনি একাই জড়িত ছিলেন বলে ধারণা করছে পুলিশ। তদন্তে এফবিআইয়ের শিকাগো কার্যালয়ও সহায়তা করছে। ১৪ অক্টোবর কুক কাউন্টির রোলিং মেডোজ আদালতে শুনানির পর বিচারক পাপোরাকিসকে আটক রাখার নির্দেশ দেন। তাঁর পরবর্তী আদালতে হাজিরার দিন ৩০ অক্টোবর নির্ধারণ করা হয়েছে। অভিযোগগুলোর বিচার এখনো হয়নি। সম্ভাব্য হু মকির বিষয়ে অরোরা পুলিশকে জানানোর পর স্থানীয় হিন্দু উপাসনালয়গুলোকেও সতর্ক করা হয়েছে।

প্রকাশ : অক্টোবর ১৬, ২০২৬ ৭:৫৮
ছাত্রীদের বিকৃত ছবি তৈরির মামলায় সাবেক শিক্ষকের কারাদণ্ড
ছাত্রীদের বিকৃত ছবি তৈরি, বাংলাদেশি শিক্ষক আবুসালি রহমানের ৬ বছরের কারাদণ্ড

ইংল্যান্ডের গ্রেটার ম্যানচেস্টারে স্কুলছাত্রীদের ছবি ব্যবহার করে যৌ ন ইঙ্গিতপূর্ণ ভুয়া ছবি তৈরি এবং গোপনে তাঁদের ব্যক্তিগত ছবি তোলাসহ ২১টি অ প রাধে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ নাগরিক ও সাবেক শিক্ষক আবুসালি রহমানকে ছয় বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, বোল্টন ক্রাউন কোর্ট তাঁর সাজা ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের অ প রাধ প্রতিরোধে তাঁর বিরুদ্ধে ২০ বছরের যৌ ন ক্ষতি প্রতিরোধ আদেশ জারি করা হয়েছে।   গ্রেটার ম্যানচেস্টার পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, সালফোর্ডের বাসিন্দা রহমান বিভিন্ন বিদ্যালয়ে অস্থায়ী শিক্ষক হিসেবে কাজ করতেন। ২০২৩ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত প্রায় দেড় বছর ধরে তিনি শিক্ষকের অবস্থান ও শিক্ষার্থীদের আস্থার অপব্যবহার করেন। এ সময় বোল্টন, ব্যুরি ও সালফোর্ডের সাতটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে মোবাইল ফোন ব্যবহার করে ছাত্রীদের অজান্তে ছবি তোলেন তিনি। যুক্তরাজ্যের রাষ্ট্রীয় কৌঁসুলি সংস্থা ক্রাউন প্রসিকিউশন সার্ভিস জানিয়েছে, রহমান শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁদের অ্যাকাউন্ট খুঁজে বের করতেন। সেখান থেকে ছবি নিয়ে প্রযুক্তির সাহায্যে সেগুলো বিকৃত করে যৌ ন ইঙ্গিতপূর্ণ ভুয়া ছবি তৈরি করতেন এবং অনলাইনে ছড়িয়ে দিতেন। তাঁর ইলেকট্রনিক ফাইল থেকে ছাত্রীদের নাম ও ঠিকানাসহ বিভিন্ন ব্যক্তিগত তথ্যও উদ্ধার করা হয়। ২০২৫ সালের ২ মার্চ উদ্বিগ্ন কয়েকজন অভিভাবক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের দুটি অ্যাকাউন্টে শিক্ষার্থীদের ছবি দেখতে পেয়ে পুলিশকে বিষয়টি জানান। তদন্তে রহমানের সংশ্লিষ্টতা বেরিয়ে এলে তাঁর ল্যাপটপ ও অন্যান্য ইলেকট্রনিক যন্ত্র জব্দ করা হয়। এসব যন্ত্রে বিকৃত ছবির পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের অজান্তে তোলা ব্যক্তিগত ছবিও পাওয়া যায়। পুলিশ জানায়, ২০২৫ সালের জুনে রহমানকে প্রথম গ্রে প্তা র করা হয়। পরে তদন্তে আরও অ প রাধের তথ্য পাওয়া গেলে এবং জামিনের শর্ত ভঙ্গের ঘটনায় তাঁকে আবারও গ্রে প্তা র করা হয়। তদন্তকারীরা তাঁর সংগ্রহে তিন শতাধিক যৌ ন নি পী ড়নমূলক ছবি পান। রহমান ২০২৬ সালের ২৮ মে আদালতে ২১টি অ প রাধ স্বীকার করেন। এর মধ্যে শিশুদের অ শা লী ন ছবি তৈরির ১২টি, অ শ্লী ল উপাদান প্রকাশের চারটি, বিকৃত ছবি তৈরির তিনটি এবং ছবি বিতরণ ও সম্মতি ছাড়া পোশাকের নিচে ছবি তোলার যন্ত্র ব্যবহারের একটি করে অ প রাধ রয়েছে। জ্যেষ্ঠ কৌঁসুলি আলেকজান্দ্রা ম্যান বলেন, বিদ্যালয়ে শিশুদের নিরাপদ বোধ করার অধিকার রয়েছে। রহমান শিক্ষার্থীদের অজান্তে ছবি তুলে এবং বিকৃত ছবি ছড়িয়ে শিক্ষকের প্রতি তাঁদের আস্থার গুরুতর লঙ্ঘন করেছেন। ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে বিদ্যালয়, স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও অভিভাবকদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

প্রকাশ : অক্টোবর ১৬, ২০২৬ ৭:৩৬