সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

Today latest news

20 News
জবিতে নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের গরুভোজ আয়োজন
জবিতে পশু জ বা ইয়ে নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদে উপাচার্য ভবনের পাশে গরু জ বা ই

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্যাম্পাসের ভেতরে পশু জ বা ইয়ে প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদে উপাচার্য ভবনের পাশে গরু জ বা ই করেছেন একদল শিক্ষার্থী। শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর সকাল ৮টার দিকে উপাচার্য ভবন ও গণিত বিভাগের মধ্যবর্তী সড়কে পূর্বঘোষিত ‘গরুভোজ’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে গরুটি জ বা ই করা হয়।   গত বুধবার, ১৪ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর দপ্তর থেকে ক্যাম্পাসে সব ধরনের পশু জ বা ই থেকে বিরত থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়। বিজ্ঞপ্তিতে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা, পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করার কথা উল্লেখ করা হয়। নির্দেশনা অমান্য করলে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের গণবিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানায় প্রশাসন। এ নির্দেশনার প্রতিবাদে গরুভোজ আয়োজনের ঘোষণা দেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের সহকারী সাধারণ সম্পাদক মাসুদ রানা। অংশগ্রহণের জন্য জনপ্রতি ৭০ টাকা নিবন্ধন ফি নির্ধারণ করা হয়। বৃহস্পতিবার আয়োজনের জন্য ১ লাখ ২৫ হাজার টাকায় একটি গরু কেনা হয়। সেদিন সন্ধ্যায় গরু ও একটি ছাগল নিয়ে ক্যাম্পাসে মিছিলও করেন শিক্ষার্থীরা। মাসুদ রানা জানান, শিক্ষার্থীদের নিবন্ধন থেকে প্রায় ৫০ হাজার টাকা সংগ্রহ হয়েছে। এর সঙ্গে দেশ ও বিদেশ থেকে পাওয়া অর্থসহায়তা দিয়ে গরুটি কেনা হয়েছে। অন্য ধর্মাবলম্বীদের কথা বিবেচনায় রেখে আয়োজনে একটি ছাগলও রাখা হয়েছে বলে জানান তিনি। বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর বুধবার রাতে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিবাদকারীরা বিজ্ঞপ্তি প্রত্যাহার ও প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানান। পাশাপাশি আগের নৈশভোজের ঘটনাকে সাম্প্রদায়িক রূপ দেওয়ার অভিযোগ তদন্ত, ক্যাফেটেরিয়ার মেনুতে গরু ও খাসির মাংস যুক্ত করা এবং ক্যাম্পাসে ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখার দাবি তোলেন তাঁরা। ঘটনার পটভূমিতে রয়েছে গত সোমবার ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষার্থীদের নৈশভোজ আয়োজন নিয়ে বিরোধ। প্রতিবেদন অনুযায়ী, মুক্তমঞ্চের সামনে গরুর মাংস রান্নাকে কেন্দ্র করে সনাতন ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বিতর্ক ও বিক্ষোভ হয়। এর পর বুধবার পশু জ বা ইসংক্রান্ত নির্দেশনা দেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। গরুভোজ আয়োজনের বিষয়ে অধ্যাপক ড. মো. আজম খান জানিয়েছেন, সুনির্দিষ্ট নিয়ম মেনে প্রশাসনিক অনুমতি নিয়ে সুশৃঙ্খলভাবে আয়োজন করা হলে কর্তৃপক্ষের আপত্তি থাকবে না।

প্রকাশ : অক্টোবর ১৬, ২০২৬ ৮:৩৬
বাফেলো বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডিতে বছরে ৩৫ হাজার ডলার স্টাইপেন্ড
ইউনিভার্সিটি অ্যাট বাফেলোতে পিএইচডি ফান্ডিং, বছরে ন্যূনতম ৩৫,১০০ ডলারের সুযোগ

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের ইউনিভার্সিটি অ্যাট বাফেলোতে পূর্ণকালীন ও সম্পূর্ণ অর্থায়নপ্রাপ্ত পিএইচডি শিক্ষার্থীদের জন্য ২০২৭ সালের ফল সেমিস্টার থেকে নতুন ন্যূনতম স্টাইপেন্ড কার্যকর হবে। ১২ মাসের অ্যাসিস্ট্যান্টশিপে বছরে ন্যূনতম ৩৫ হাজার ১০০ ডলার এবং ১০ মাসের নিয়োগে শিক্ষাবর্ষে ন্যূনতম ২৭ হাজার ডলার পাবেন যোগ্য শিক্ষার্থীরা। ফান্ডিং প্যাকেজে টিউশন ও নির্ধারিত ফি মওকুফের সুবিধাও রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্র্যাজুয়েট স্কুলের প্রকাশিত তথ্যে এসব জানানো হয়েছে।  বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘পিএইচডি এক্সিলেন্স ইনিশিয়েটিভ’-এর আওতায় এই স্টাইপেন্ড কাঠামো প্রযোজ্য হবে। এটি সব মাস্টার্স বা পিএইচডি আবেদনকারীর জন্য স্বয়ংক্রিয় অর্থায়নের ঘোষণা নয়। পূর্ণকালীন ও সম্পূর্ণ অর্থায়নপ্রাপ্ত পিএইচডি শিক্ষার্থীদের সংশ্লিষ্ট অ্যাসিস্ট্যান্টশিপে নিয়োগের ভিত্তিতে সুবিধা দেওয়া হবে। পিএইচডির অ্যাসিস্ট্যান্টশিপগুলো প্রতিযোগিতামূলক প্রক্রিয়ায় দেওয়া হয়।  বাফেলোতে টিচিং অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ, গ্র্যাজুয়েট অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ ও রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্টশিপের সুযোগ রয়েছে। টিচিং অ্যাসিস্ট্যান্টরা পাঠদান কার্যক্রমে, গ্র্যাজুয়েট অ্যাসিস্ট্যান্টরা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহায়ক কাজে এবং রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্টরা শিক্ষকদের গবেষণায় সহায়তা করেন। টিচিং ও গ্র্যাজুয়েট অ্যাসিস্ট্যান্টের নিয়োগ সাধারণত সংশ্লিষ্ট বিভাগ দেয়। রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ দেওয়া হয় বিভাগ বা গবেষণা অনুদানপ্রাপ্ত শিক্ষকদের মাধ্যমে।  ফুল অ্যাসিস্ট্যান্টশিপে সাধারণত সপ্তাহে ২০ ঘণ্টা এবং হাফ অ্যাসিস্ট্যান্টশিপে ১০ ঘণ্টা কাজের প্রত্যাশা থাকে। স্টেট পেরোলে থাকা টিচিং ও গ্র্যাজুয়েট অ্যাসিস্ট্যান্টদের জন্য ভর্তুকিযুক্ত হেলথ ইন্স্যুরেন্সসহ কিছু সুবিধা রয়েছে। নিয়োগের ধরন অনুযায়ী প্রযোজ্য সুবিধা ও শর্ত সংশ্লিষ্ট বিভাগের কাছ থেকে জেনে নিতে হবে।  মাস্টার্সে পড়তে আগ্রহীদের ক্ষেত্রে অর্থায়নের বিষয়টি আলাদাভাবে যাচাই করা জরুরি। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, অধিকাংশ মাস্টার্স প্রোগ্রামের খরচ শিক্ষার্থীদের নিজস্ব অর্থায়নে বহন করতে হয়। ফলে পিএইচডির জন্য ঘোষিত স্টাইপেন্ড ও টিউশন মওকুফের কাঠামো মাস্টার্সেও একইভাবে প্রযোজ্য ধরে নেওয়া যাবে না।  আবেদনের যোগ্যতা, অ্যাসিস্ট্যান্টশিপের প্রাপ্যতা ও সময়সীমা জানতে আগ্রহীদের নিজ নিজ বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেছে বিশ্ববিদ্যালয়। বাংলাদেশ থেকে আবেদন করতে ইচ্ছুক শিক্ষার্থীরাও পছন্দের বিভাগের কাছে ইমেইলে এসব তথ্য জানতে পারেন।

প্রকাশ : অক্টোবর ১৬, ২০২৬ ৮:২২
হিন্দু মন্দিরে হা মলার পরিকল্পনার অভিযোগে তরুণ গ্রে প্তা র
‘ভারতীয়দের মা রতে তর সইছে না’, মন্দিরে হা মলার দুই বছরের পরিকল্পনার অভিযোগে আটক শিকাগোর তরুণ

যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় অঙ্গরাজ্যে হিন্দু মন্দিরে নির্বিচারে গু লি বর্ষণের পরিকল্পনার অভিযোগে ১৯ বছর বয়সী আলেকজান্দ্রোস পাপোরাকিসকে গ্রে প্তা র করেছে পুলিশ। শিকাগোর উপশহর প্যালাটাইনের এই বাসিন্দার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী হু মকি দেওয়া ও বেআইনিভাবে রাইফেল রাখার অভিযোগ আনা হয়েছে। প্রসিকিউটরদের দাবি, ১১ অক্টোবর হা মলা চালাতে গিয়ে তাঁর অ স্ত্র কাজ করেনি। পরে সহকর্মীদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ওই দিনই তাঁকে আ টক করা হয়। আদালতে প্রসিকিউটরদের উপস্থাপিত তথ্যের বরাতে শিকাগো সান টাইমস জানিয়েছে, পাপোরাকিস দুই বছর ধরে নির্বিচারে গু লি বর্ষণের পরিকল্পনা করছিলেন। তবে অরোরার একটি হিন্দু উপাসনালয়কে নির্দিষ্ট লক্ষ্য হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন প্রায় দুই মাস আগে। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, ঘটনার দিন গাড়ির ভেতর থেকে এক ব্যক্তিকে গু লি করার চেষ্টা করেন তিনি, কিন্তু রাইফেল আটকে যাওয়ায় গু লি বের হয়নি। প্যালাটাইন পুলিশপ্রধান উইলিয়াম নর্ড ১৫ অক্টোবর সংবাদ সম্মেলনে জানান, পাপোরাকিসের নামে নিবন্ধিত একটি গাড়ি ১১ অক্টোবর দুপুর ১২টা ২৫ মিনিটে অরোরার একটি হিন্দু মন্দিরের পার্কিং লটে ঢোকে। প্রায় ১৩ মিনিট পর সেটি বেরিয়ে যায়। পুলিশের ধারণা, তখন গাড়িতে তিনি একাই ছিলেন। সংবাদ সম্মেলনে মন্দিরটির নাম প্রকাশ করেননি পুলিশপ্রধান। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ অনুযায়ী, ঘটনার আগের দিন এক সহকর্মীর কাছে ভারতীয়দের হ ত্যা করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন পাপোরাকিস। পরদিন তিনি ওই সহকর্মীকে জানান, হা মলা চালাতে গিয়ে তাঁর অ স্ত্র কাজ করেনি এবং তিনি দ্রুত সেখান থেকে চলে এসেছেন। অ স্ত্র ঠিক করে আবার চেষ্টা করার কথাও বলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব কথোপকথনের পর দুই সহকর্মী জরুরি সেবা নম্বর ৯১১-এ ফোন করেন। মাউন্ট প্রসপেক্ট পুলিশ তথ্যটি পাওয়ার পর প্যালাটাইন পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করে ব্যবস্থা নেয়। পরে পাপোরাকিসের বাসায় তল্লাশি চালিয়ে একটি রাইফেল, গু লিভর্তি একাধিক ম্যাগাজিন, কয়েক শ রাউন্ড অতিরিক্ত গু লি এবং সুরক্ষাবর্মযুক্ত ভেস্ট উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার করা সামগ্রীর মধ্যে শ্বেতাঙ্গ আধিপত্যবাদী উগ্রবাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতীকও ছিল। তদন্তকারীরা তাঁর নামে লেখা একটি নথি ও ইলেকট্রনিক বার্তা পরীক্ষা করছেন। পুলিশের ভাষ্য, ওই নথিতে শ্বেতাঙ্গ আধিপত্যবাদী ও উগ্রবাদী বক্তব্যের পাশাপাশি দক্ষিণ এশীয়, বিশেষ করে ভারতীয় বংশোদ্ভূত মানুষদের বিরুদ্ধে সহিংসতার উল্লেখ রয়েছে। এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, পরিকল্পনায় তিনি একাই জড়িত ছিলেন বলে ধারণা করছে পুলিশ। তদন্তে এফবিআইয়ের শিকাগো কার্যালয়ও সহায়তা করছে। ১৪ অক্টোবর কুক কাউন্টির রোলিং মেডোজ আদালতে শুনানির পর বিচারক পাপোরাকিসকে আটক রাখার নির্দেশ দেন। তাঁর পরবর্তী আদালতে হাজিরার দিন ৩০ অক্টোবর নির্ধারণ করা হয়েছে। অভিযোগগুলোর বিচার এখনো হয়নি। সম্ভাব্য হু মকির বিষয়ে অরোরা পুলিশকে জানানোর পর স্থানীয় হিন্দু উপাসনালয়গুলোকেও সতর্ক করা হয়েছে।

প্রকাশ : অক্টোবর ১৬, ২০২৬ ৭:৫৮
ছাত্রীদের বিকৃত ছবি তৈরির মামলায় সাবেক শিক্ষকের কারাদণ্ড
ছাত্রীদের বিকৃত ছবি তৈরি, বাংলাদেশি শিক্ষক আবুসালি রহমানের ৬ বছরের কারাদণ্ড

ইংল্যান্ডের গ্রেটার ম্যানচেস্টারে স্কুলছাত্রীদের ছবি ব্যবহার করে যৌ ন ইঙ্গিতপূর্ণ ভুয়া ছবি তৈরি এবং গোপনে তাঁদের ব্যক্তিগত ছবি তোলাসহ ২১টি অ প রাধে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ নাগরিক ও সাবেক শিক্ষক আবুসালি রহমানকে ছয় বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, বোল্টন ক্রাউন কোর্ট তাঁর সাজা ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের অ প রাধ প্রতিরোধে তাঁর বিরুদ্ধে ২০ বছরের যৌ ন ক্ষতি প্রতিরোধ আদেশ জারি করা হয়েছে।   গ্রেটার ম্যানচেস্টার পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, সালফোর্ডের বাসিন্দা রহমান বিভিন্ন বিদ্যালয়ে অস্থায়ী শিক্ষক হিসেবে কাজ করতেন। ২০২৩ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত প্রায় দেড় বছর ধরে তিনি শিক্ষকের অবস্থান ও শিক্ষার্থীদের আস্থার অপব্যবহার করেন। এ সময় বোল্টন, ব্যুরি ও সালফোর্ডের সাতটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে মোবাইল ফোন ব্যবহার করে ছাত্রীদের অজান্তে ছবি তোলেন তিনি। যুক্তরাজ্যের রাষ্ট্রীয় কৌঁসুলি সংস্থা ক্রাউন প্রসিকিউশন সার্ভিস জানিয়েছে, রহমান শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁদের অ্যাকাউন্ট খুঁজে বের করতেন। সেখান থেকে ছবি নিয়ে প্রযুক্তির সাহায্যে সেগুলো বিকৃত করে যৌ ন ইঙ্গিতপূর্ণ ভুয়া ছবি তৈরি করতেন এবং অনলাইনে ছড়িয়ে দিতেন। তাঁর ইলেকট্রনিক ফাইল থেকে ছাত্রীদের নাম ও ঠিকানাসহ বিভিন্ন ব্যক্তিগত তথ্যও উদ্ধার করা হয়। ২০২৫ সালের ২ মার্চ উদ্বিগ্ন কয়েকজন অভিভাবক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের দুটি অ্যাকাউন্টে শিক্ষার্থীদের ছবি দেখতে পেয়ে পুলিশকে বিষয়টি জানান। তদন্তে রহমানের সংশ্লিষ্টতা বেরিয়ে এলে তাঁর ল্যাপটপ ও অন্যান্য ইলেকট্রনিক যন্ত্র জব্দ করা হয়। এসব যন্ত্রে বিকৃত ছবির পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের অজান্তে তোলা ব্যক্তিগত ছবিও পাওয়া যায়। পুলিশ জানায়, ২০২৫ সালের জুনে রহমানকে প্রথম গ্রে প্তা র করা হয়। পরে তদন্তে আরও অ প রাধের তথ্য পাওয়া গেলে এবং জামিনের শর্ত ভঙ্গের ঘটনায় তাঁকে আবারও গ্রে প্তা র করা হয়। তদন্তকারীরা তাঁর সংগ্রহে তিন শতাধিক যৌ ন নি পী ড়নমূলক ছবি পান। রহমান ২০২৬ সালের ২৮ মে আদালতে ২১টি অ প রাধ স্বীকার করেন। এর মধ্যে শিশুদের অ শা লী ন ছবি তৈরির ১২টি, অ শ্লী ল উপাদান প্রকাশের চারটি, বিকৃত ছবি তৈরির তিনটি এবং ছবি বিতরণ ও সম্মতি ছাড়া পোশাকের নিচে ছবি তোলার যন্ত্র ব্যবহারের একটি করে অ প রাধ রয়েছে। জ্যেষ্ঠ কৌঁসুলি আলেকজান্দ্রা ম্যান বলেন, বিদ্যালয়ে শিশুদের নিরাপদ বোধ করার অধিকার রয়েছে। রহমান শিক্ষার্থীদের অজান্তে ছবি তুলে এবং বিকৃত ছবি ছড়িয়ে শিক্ষকের প্রতি তাঁদের আস্থার গুরুতর লঙ্ঘন করেছেন। ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে বিদ্যালয়, স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও অভিভাবকদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

প্রকাশ : অক্টোবর ১৬, ২০২৬ ৭:৩৬
এইচ-১বি ভিসার বেতনসীমা বাড়ানোর প্রস্তাব কংগ্রেসে
এইচ-১বি ভিসায় বেতনের সীমা ৬০ হাজার থেকে প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার ডলারে নিতে চায় রিপাবলিকানরা

যুক্তরাষ্ট্রের এইচ-১বি ভিসা কর্মসূচিতে বেতনের শর্ত আরও কঠোর করার উদ্যোগ নিয়েছেন রিপাবলিকান আইনপ্রণেতারা। নতুন একটি প্রস্তাবিত বিলে নির্দিষ্ট নিয়োগদাতাদের জন্য বর্তমানে কার্যকর বার্ষিক ৬০ হাজার ডলারের বেতনসীমা বাড়িয়ে প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার ডলার করার কথা বলা হয়েছে। প্রস্তাবটি আইনে পরিণত হলে এইচ-১বি ভিসার ওপর বেশি নির্ভরশীল কিছু প্রতিষ্ঠানের জন্য বিদেশি কর্মী নিয়োগের নিয়ম আরও কঠিন হতে পারে।   উইসকনসিনের রিপাবলিকান প্রতিনিধি গ্লেন গ্রথম্যান ‘প্রোটেক্টিং আমেরিকান ওয়ার্কার্স থ্রু এইচ-১বি মডার্নাইজেশন অ্যাক্ট’ নামে বিলটি উত্থাপন করেছেন। ওহাইওর রিপাবলিকান সিনেটর জন হাস্টেড একই বিষয়ে সিনেটে একটি সমজাতীয় বিল এনেছেন। প্রস্তাবটির মূল লক্ষ্য, যেসব প্রতিষ্ঠান কর্মী নিয়োগে উল্লেখযোগ্যভাবে এইচ-১বি ভিসার ওপর নির্ভরশীল, তাদের ক্ষেত্রে মার্কিন কর্মীদের সুরক্ষায় থাকা কিছু শর্ত এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ সীমিত করা। তবে প্রস্তাবটি সব এইচ-১বি ভিসাধারীর জন্য ন্যূনতম বেতন ১ লাখ ৪০ হাজার ডলার নির্ধারণের কথা বলছে না। এখানে মূল বিষয় হলো, নির্দিষ্ট ধরনের নিয়োগদাতারা কোন পরিস্থিতিতে মার্কিন কর্মী নিয়োগের চেষ্টা এবং তাঁদের চাকরি সুরক্ষাসংক্রান্ত কিছু বাধ্যবাধকতা থেকে অব্যাহতি পাবেন। বর্তমান নিয়মে, এইচ-১বি ভিসাধারী কর্মীর সংখ্যা কোনো প্রতিষ্ঠানের মোট কর্মীর তুলনায় নির্ধারিত সীমা ছাড়িয়ে গেলে সেটিকে ‘এইচ-১বি-নির্ভর নিয়োগদাতা’ হিসেবে বিবেচনা করা হতে পারে। এসব প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে সাধারণত সংশ্লিষ্ট পদে যোগ্য মার্কিন কর্মী নিয়োগের চেষ্টা করা এবং বিদ্যমান মার্কিন কর্মীদের চাকরি থেকে সরিয়ে বিদেশি কর্মী দিয়ে তাঁদের জায়গা পূরণ না করার বিষয়ে শর্ত রয়েছে। কিন্তু বর্তমান আইনে নির্দিষ্ট কিছু ব্যতিক্রম আছে। কোনো এইচ-১বি কর্মীর বার্ষিক বেতন অন্তত ৬০ হাজার ডলার হলে অথবা তাঁর স্নাতকোত্তর ডিগ্রি বা তার চেয়ে উচ্চতর ডিগ্রি থাকলে, সংশ্লিষ্ট নিয়োগদাতা এসব শর্তের কিছু থেকে অব্যাহতি পেতে পারেন। নতুন বিলটি বেতনের ভিত্তিতে অব্যাহতি পাওয়ার সীমা পরিবর্তন করতে চায়। তবে প্রস্তাবিত ভাষায় উচ্চতর ডিগ্রির ভিত্তিতে অব্যাহতির পথটি বাদ দেওয়ার কথা নেই। কেন বেতনের সীমা বাড়ানোর প্রস্তাব বর্তমান ৬০ হাজার ডলারের সীমাটি ১৯৯৮ সালে নির্ধারণ করা হয়েছিল। তখন এর পরিমাণ সামাজিক নিরাপত্তা প্রশাসনের জাতীয় গড় মজুরি সূচকের দ্বিগুণের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ঠিক করা হয়েছিল। কিন্তু এরপর থেকে অঙ্কটি আর হালনাগাদ করা হয়নি। আইনপ্রণেতাদের যুক্তি, কয়েক দশকে গড় মজুরি বেড়ে গেলেও পুরোনো সীমা অপরিবর্তিত থাকায় কিছু প্রতিষ্ঠান সহজেই বিদ্যমান শর্তের ব্যতিক্রমের সুবিধা নিতে পারছে। নতুন প্রস্তাবে নির্দিষ্ট অঙ্কের পরিবর্তে সামাজিক নিরাপত্তা প্রশাসনের সর্বশেষ জাতীয় গড় মজুরি সূচকের দ্বিগুণকে বেতনসীমা হিসেবে ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে। বর্তমানে ওই সূচকের পরিমাণ প্রায় ৭০ হাজার ডলার হওয়ায় নতুন সীমা দাঁড়াতে পারে প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার ডলারে। ভবিষ্যতে গড় মজুরি বাড়লে বা কমলে এই সীমাও পরিবর্তিত হবে। গ্রথম্যান বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রে মার্কিন কর্মীদের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত। তাঁর বক্তব্য, প্রায় তিন দশক আগে নির্ধারিত বেতনসীমা ব্যবহার করে নিয়োগদাতাদের যোগ্য মার্কিন কর্মীদের সুরক্ষার নিয়ম এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ থাকা উচিত নয়। তাঁর মতে, বেতনের সীমা সময়মতো হালনাগাদ করা হলে মার্কিন কর্মীরা চাকরির বাজারে প্রতিযোগিতার আরও ন্যায্য সুযোগ পাবেন। সিনেটর হাস্টেডও একই ধরনের যুক্তি দিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, এইচ-১বি ভিসার ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল প্রতিষ্ঠানগুলো যেন পুরোনো আইনের সুযোগ নিয়ে যোগ্য মার্কিন কর্মীদের নিয়োগের চেষ্টা এড়িয়ে যেতে না পারে, সেটি নিশ্চিত করাই বিলটির উদ্দেশ্য। বিলটি এখন কোন পর্যায়ে প্রস্তাবটি এখনো আইন হয়নি। সিনেটের সমজাতীয় বিলটি ৩০ সেপ্টেম্বর উত্থাপনের পর বিচার বিভাগবিষয়ক কমিটিতে পাঠানো হয়েছে। প্রতিনিধি পরিষদে গ্রথম্যানের বিলটি ১৩ অক্টোবর উত্থাপন করা হয় এবং সেটিও বিচার বিভাগবিষয়ক কমিটিতে পাঠানো হয়েছে। আইনে পরিণত হতে হলে সংশ্লিষ্ট আইনপ্রণয়ন প্রক্রিয়ায় বিলটিকে প্রয়োজনীয় অনুমোদন পেতে হবে এবং প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষর লাগবে। এই উদ্যোগ রিপাবলিকানদের বৃহত্তর এইচ-১বি নীতির পরিবর্তন প্রচেষ্টার অংশ। দলটির কয়েকজন আইনপ্রণেতা ভিসার সংখ্যা কমানো, কর্মসূচির অপব্যবহারের জন্য কঠোর শাস্তি এবং বিদেশি কর্মী নিয়োগে বাড়তি শর্ত আরোপের প্রস্তাব দিয়েছেন। অন্যদিকে, প্রযুক্তি খাতের অনেক প্রতিষ্ঠান যুক্তি দেয়, দক্ষ বিদেশি কর্মীদের নিয়োগের সুযোগ তাদের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বজায় রাখতে সাহায্য করে। এইচ-১বি কর্মসূচি নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে দুটি বিষয়—মার্কিন কর্মীদের চাকরির সুযোগ রক্ষা এবং প্রযুক্তি ও অন্যান্য বিশেষায়িত খাতে প্রয়োজনীয় দক্ষ কর্মী নিয়োগের সুযোগ বজায় রাখা। নতুন বিলে বেতনের সীমা বাড়ানোর প্রস্তাব সেই বিতর্ককে আরও সামনে নিয়ে এসেছে। বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের দক্ষ কর্মীরা যুক্তরাষ্ট্রে কাজের সুযোগ খুঁজতে এইচ-১বি কর্মসূচির দিকে তাকিয়ে থাকেন। তবে প্রস্তাবটি পাস হলে তার প্রভাব সবার ওপর একইভাবে পড়বে না। বিশেষ করে এইচ-১বি কর্মীর ওপর নির্ভরশীল প্রতিষ্ঠান এবং বর্তমান নিয়মে বেতনের ভিত্তিতে অব্যাহতি পাওয়া কর্মীদের ক্ষেত্রে পরিবর্তনটি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। আপাতত এটি একটি আইনপ্রস্তাব; কার্যকর নিয়মে পরিবর্তন আসবে কি না, তা নির্ভর করছে কংগ্রেসের পরবর্তী সিদ্ধান্তের ওপর।

প্রকাশ : অক্টোবর ১৬, ২০২৬ ৭:১৯
ব্যক্তিত্ব অনুযায়ী ১৬ পেশা ও বার্ষিক বেতনের তালিকা
ব্যক্তিত্বের ধরন বুঝেই বেছে নিন পেশা, যুক্তরাষ্ট্রে কোন চাকরিতে বছরে আয় সবচেয়ে বেশি

চাকরি বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে বেতন, শিক্ষাগত যোগ্যতা ও কাজের অভিজ্ঞতার পাশাপাশি নিজের ব্যক্তিত্বের ধরনও বিবেচনা করা যেতে পারে। কেউ বিশ্লেষণধর্মী কাজে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন, কেউ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ ও নেতৃত্ব দিতে পছন্দ করেন। আবার কারও আগ্রহ সৃজনশীল কাজে। ব্যক্তিত্বের এসব বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে মিলিয়ে পেশা খুঁজলে নিজের দক্ষতা ও আগ্রহ সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া সম্ভব।   মায়ার্স-ব্রিগস টাইপ ইন্ডিকেটর (এমবিটিআই) নামের বহুল পরিচিত ব্যক্তিত্ব মূল্যায়ন পদ্ধতিতে মানুষকে ১৬টি ধরনে ভাগ করা হয়। চার জোড়া বৈশিষ্ট্যের সমন্বয়ে এই ধরনগুলো নির্ধারণ করা হয়—বহির্মুখিতা বা অন্তর্মুখিতা, বাস্তব তথ্যের প্রতি মনোযোগ বা অন্তর্দৃষ্টিনির্ভর চিন্তা, যুক্তিভিত্তিক সিদ্ধান্ত বা অনুভূতিনির্ভর সিদ্ধান্ত এবং পরিকল্পনামুখী মনোভাব বা পরিস্থিতি অনুযায়ী চলার প্রবণতা। রিজিউম জিনিয়াসের একটি গবেষণায় এমবিটিআইয়ের প্রতিটি ব্যক্তিত্বের সঙ্গে মানানসই জনপ্রিয় পেশা চিহ্নিত করা হয়েছে। এ জন্য পারসোনালিটি ডেটাবেজ ফোরামের প্রশ্নাবলির উত্তর বিশ্লেষণ করা হয়। এরপর যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য ব্যবহার করে সংশ্লিষ্ট পেশাগুলোর মধ্যম বার্ষিক বেতন নির্ধারণ করা হয়। তবে ব্যক্তিত্বের ধরন অনুযায়ী পেশার এই তালিকাকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এটি মূলত নিজের পছন্দ, শক্তি ও কাজের ধরন নিয়ে ভাবার একটি উপায়। পেশা বেছে নেওয়ার সময় শিক্ষা, প্রশিক্ষণ, অভিজ্ঞতা, চাকরির সুযোগ এবং ব্যক্তিগত লক্ষ্যও গুরুত্বপূর্ণ। রিজিউম জিনিয়াসের জ্যেষ্ঠ জনসংযোগ বিশেষজ্ঞ ইভা চ্যানের মতে, নিজের ব্যক্তিত্বের বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে জানা পেশাগত জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এতে একজন ব্যক্তি নিজের শক্তি ও সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে সচেতন হতে পারেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ব্যক্তিত্বের ধরন নিয়ে ভাবা আত্মপর্যালোচনা ও আত্মসচেতনতা বাড়ানোর একটি কার্যকর উপায় হতে পারে। ব্যক্তিত্ব অনুযায়ী ১৬ পেশা ও বার্ষিক বেতন তালিকার শীর্ষে রয়েছে সার্জন পেশা। আইএসটিজে (ISTJ) ব্যক্তিত্বের মানুষের জন্য এ পেশাকে উপযোগী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে সার্জনদের মধ্যম বার্ষিক বেতন ২ লাখ ৩৯ হাজার ২০০ ডলার। এই পেশায় দীর্ঘ শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ, শৃঙ্খলা, মনোযোগ এবং প্রতিটি কাজে দায়িত্বশীল থাকা জরুরি। বিস্তারিত বিষয়ে সতর্ক থাকা ও সাংগঠনিক দক্ষতার প্রয়োজনও রয়েছে। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে মনোরোগ বিশেষজ্ঞ বা সাইকিয়াট্রিস্ট। আইএনএফজে (INFJ) ব্যক্তিত্বের মানুষের জন্য এ পেশার কথা বলা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট তালিকায় এই পেশার মধ্যম বার্ষিক বেতন ২ লাখ ২৬ হাজার ৮৮০ ডলার। অন্যের অনুভূতি ও আচরণ বোঝা, মনোযোগ দিয়ে কথা শোনা এবং মানুষের সঙ্গে কার্যকরভাবে যোগাযোগ করার দক্ষতা এ কাজে গুরুত্বপূর্ণ। তৃতীয় স্থানে রয়েছে এয়ারলাইন ক্যাপ্টেন। ইএসটিজে (ESTJ) ব্যক্তিত্বের মানুষেরা সাধারণত নিয়ম মেনে কাজ করা, পরিকল্পনা ও সংগঠন বজায় রাখা এবং দায়িত্ব নেওয়ার ক্ষেত্রে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন বলে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। এ পেশায় মধ্যম বার্ষিক বেতন ১ লাখ ৯৮ হাজার ডলার। বিমান পরিচালনার ক্ষেত্রে নিয়ম অনুসরণ, দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং জরুরি পরিস্থিতিতে নেতৃত্ব দেওয়ার সক্ষমতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আইএনটিপি (INTP) ব্যক্তিত্বের জন্য পদার্থবিজ্ঞানী পেশাকে উপযুক্ত বলা হয়েছে। এ পেশায় মধ্যম বার্ষিক বেতন ১ লাখ ৬৬ হাজার ২৯০ ডলার। যুক্তিনির্ভর চিন্তা, জটিল সমস্যার সমাধান এবং নতুন প্রশ্নের উত্তর খোঁজার আগ্রহ এ ধরনের কাজে সহায়ক। গবেষণাগারে দীর্ঘ সময় মনোযোগ দিয়ে কাজ করার সুযোগও এ পেশার বৈশিষ্ট্য। ইএনএফপি (ENFP) ব্যক্তিত্বের মানুষের জন্য বিজ্ঞাপন পরিচালক পেশার কথা বলা হয়েছে। সৃজনশীলতা, মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ, নতুন ধারণা তৈরি এবং দলগতভাবে কাজ করার দক্ষতা এ পেশায় গুরুত্বপূর্ণ। তালিকায় বিজ্ঞাপন পরিচালকদের মধ্যম বার্ষিক বেতন ১ লাখ ৫৯ হাজার ৬৬০ ডলার। ইএনটিজে (ENTJ) ব্যক্তিত্বের জন্য প্রসিকিউটর বা সরকারি কৌঁসুলির পেশাকে মানানসই হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এই পেশায় মধ্যম বার্ষিক বেতন ১ লাখ ৫১ হাজার ১৬০ ডলার। যুক্তি সাজিয়ে বক্তব্য উপস্থাপন, চাপের মধ্যে কাজ করা, আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে নিজের অবস্থান তুলে ধরা এবং নেতৃত্ব দেওয়ার দক্ষতা এ কাজে প্রয়োজন। মানবসম্পদ ব্যবস্থাপক বা এইচআর ম্যানেজার পেশাটি ইএনএফজে (ENFJ) ব্যক্তিত্বের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। এ পেশায় মধ্যম বার্ষিক বেতন ১ লাখ ৪০ হাজার ৩০ ডলার। কর্মীদের প্রয়োজন বোঝা, সহমর্মিতা, যোগাযোগ এবং প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্ব ও কর্মীদের মধ্যে সমন্বয় তৈরি করা এ কাজের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ইএসটিপি (ESTP) ব্যক্তিত্বের মানুষের জন্য বিক্রয় ব্যবস্থাপক বা সেলস ম্যানেজার পেশার কথা বলা হয়েছে। এখানে মধ্যম বার্ষিক বেতন ১ লাখ ৩৮ হাজার ৬০ ডলার। লক্ষ্য অর্জনের মানসিকতা, দ্রুত পরিস্থিতি বুঝে সিদ্ধান্ত নেওয়া, আত্মবিশ্বাস এবং দলগতভাবে কাজ করার দক্ষতা এ পেশায় সহায়ক। আইএসএফজে (ISFJ) ব্যক্তিত্বের জন্য ফার্মাসিস্ট বা ওষুধ বিশেষজ্ঞ পেশাটি তালিকায় রয়েছে। এর মধ্যম বার্ষিক বেতন ১ লাখ ৩৭ হাজার ৪৮০ ডলার। বিস্তারিত বিষয়ে সতর্কতা, নিয়ম মেনে কাজ করা এবং মানুষের সেবায় আগ্রহ এ পেশার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। আইএসটিপি (ISTP) ব্যক্তিত্বের মানুষের জন্য বৈদ্যুতিক প্রকৌশলী পেশাকে উপযোগী বলা হয়েছে। এ পেশায় মধ্যম বার্ষিক বেতন ১ লাখ ১৮ হাজার ৭৮০ ডলার। দ্রুত সমস্যা শনাক্ত করা, বিশ্লেষণী চিন্তা এবং চাপের মধ্যে শান্ত থেকে কাজ করার দক্ষতা এখানে গুরুত্বপূর্ণ। আইএনটিজে (INTJ) ব্যক্তিত্বের সঙ্গে ডেটা সায়েন্টিস্ট পেশার মিল তুলে ধরা হয়েছে। এ পেশায় মধ্যম বার্ষিক বেতন ১ লাখ ১২ হাজার ৫৯০ ডলার। বিপুল তথ্য বিশ্লেষণ, প্রবণতা শনাক্ত করা এবং তথ্যভিত্তিক সুপারিশ তৈরি করা এ কাজের মূল অংশ। প্রযুক্তি, অর্থনীতি, স্বাস্থ্যসেবা ও সরবরাহ ব্যবস্থাপনাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে এ দক্ষতার প্রয়োজন রয়েছে। আইএনএফপি (INFP) ব্যক্তিত্বের মানুষের জন্য অ্যানিমেটর পেশার কথা বলা হয়েছে। তালিকায় মধ্যম বার্ষিক বেতন ৯৯ হাজার ৮০০ ডলার। সৃজনশীল চিন্তা, গল্প বলার দক্ষতা এবং নতুন ধরনের ধারণা তুলে ধরার সুযোগ এ পেশাকে আকর্ষণীয় করে তোলে। যারা পর্দার আড়ালে থেকে নিজেদের কাজের মাধ্যমে দর্শকের অনুভূতিতে প্রভাব ফেলতে চান, তাঁদের জন্য এটি মানানসই হতে পারে। ইএনটিপি (ENTP) ব্যক্তিত্বের সঙ্গে ফরেনসিক সাইকোলজিস্ট বা অপরাধ-সম্পর্কিত মনোবিশ্লেষণ পেশাকে যুক্ত করা হয়েছে। এ পেশায় মধ্যম বার্ষিক বেতন ৯৪ হাজার ৩১০ ডলার। মানুষের আচরণ বোঝা, বিশ্লেষণী চিন্তা এবং জটিল সমস্যা সমাধানের দক্ষতা এ কাজে গুরুত্বপূর্ণ। ইএসএফপি (ESFP) ব্যক্তিত্বের জন্য মডেল পেশাটি তালিকায় রয়েছে। এ পেশায় মধ্যম বার্ষিক বেতন ৮৯ হাজার ৯৯০ ডলার। আত্মবিশ্বাস, ব্যক্তিত্বের প্রকাশ, মানুষের সঙ্গে সহজে মিশতে পারা এবং ক্যামেরার সামনে স্বচ্ছন্দ থাকার মতো বৈশিষ্ট্য এ কাজে সহায়ক হতে পারে। ইএসএফজে (ESFJ) ব্যক্তিত্বের জন্য উচ্চশিক্ষা পর্যায়ের শিক্ষকতার কথা বলা হয়েছে। এ পেশায় মধ্যম বার্ষিক বেতন ৮৩ হাজার ৯৮০ ডলার। পরিকল্পনা, পাঠ্যক্রম সাজানো, শিক্ষার্থীদের অগ্রগতি মূল্যায়ন এবং তাঁদের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তোলার দক্ষতা এখানে গুরুত্বপূর্ণ। তালিকার শেষ অবস্থানে রয়েছে ফ্যাশন ডিজাইনার পেশা, যা আইএসএফপি (ISFP) ব্যক্তিত্বের মানুষের জন্য উপযোগী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এ পেশায় মধ্যম বার্ষিক বেতন ৮০ হাজার ৬৯০ ডলার। সৃজনশীলতা, নিজস্ব নকশার মাধ্যমে ভাবনা প্রকাশ এবং স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ এ পেশার অন্যতম আকর্ষণ। সব মিলিয়ে, ব্যক্তিত্বের ধরন পেশা বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে একটি সহায়ক সূত্র হতে পারে, তবে এটি কোনো নির্ভুল ভবিষ্যদ্বাণী নয়। একই ব্যক্তিত্বের মানুষের আগ্রহ, দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা একেক রকম হতে পারে। তাই শুধু পরীক্ষার ফল বা বেতনের তালিকা দেখে সিদ্ধান্ত না নিয়ে নিজের যোগ্যতা, প্রশিক্ষণের প্রয়োজন, কাজের পরিবেশ এবং দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য বিবেচনা করাই বেশি যুক্তিযুক্ত।

প্রকাশ : অক্টোবর ১৬, ২০২৬ ৬:৫৬
থাইল্যান্ডের শ্রমবাজারে বাংলাদেশিদের জন্য নতুন সম্ভাবনা
প্রথমবার বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিতে যাচ্ছে থাইল্যান্ড, নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে ২০২৭ সালে

থাইল্যান্ডের কৃষি ও নির্মাণ খাতে শ্রমিক সংকট মোকাবিলায় বিদেশ থেকে কর্মী নিয়োগের উদ্যোগ নিয়েছে দেশটির সরকার। এ উদ্যোগের ফলে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্যও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার নতুন শ্রমবাজারে প্রবেশের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশ, নেপাল ও শ্রীলঙ্কা থেকে কর্মী নেওয়ার পরিকল্পনার কথা সামনে এলেও বাংলাদেশিদের নিয়োগ কবে শুরু হবে, কতজন কর্মী নেওয়া হবে কিংবা কীভাবে আবেদন করতে হবে—এসব বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত তথ্য পাওয়া যায়নি। থাইল্যান্ডের অর্থনীতিতে কৃষি ও নির্মাণশিল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এসব খাতে শ্রমিকের চাহিদা থাকায় দেশটি বিদেশি কর্মী নিয়োগের বৈধ পথ সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে। নতুন শ্রমবাজারের মাধ্যমে কর্মী সংগ্রহের পাশাপাশি নিয়োগপ্রক্রিয়াকে আরও নিয়মতান্ত্রিক, স্বচ্ছ ও যাচাইযোগ্য করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তবে এ বিষয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে। থাইল্যান্ডের মন্ত্রিসভা ২০২৬ সালের ৮ সেপ্টেম্বর শ্রীলঙ্কা থেকে কর্মী নিয়োগের জন্য দুই দেশের মধ্যে শ্রম সহযোগিতা ও কর্মসংস্থানসংক্রান্ত চুক্তির অনুমোদন দিয়েছে। প্রাথমিকভাবে শ্রীলঙ্কা থেকে সর্বোচ্চ ১০ হাজার কর্মী নেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশ ও নেপাল থেকে কর্মী নেওয়ার বিষয়ে একই ধরনের চুক্তি বা চূড়ান্ত নিয়োগসূচি প্রকাশ্যে নিশ্চিত হয়নি। ফলে বাংলাদেশিদের জন্য সুযোগ তৈরির খবরকে সম্ভাব্য উদ্যোগ হিসেবেই দেখা প্রয়োজন। শ্রীলঙ্কার সঙ্গে হওয়া চুক্তি অনুযায়ী, কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে নিয়োগকর্তা, কর্মীর সংখ্যা, যোগ্যতা, কাজের শর্ত এবং পারিশ্রমিকের বিষয়গুলো নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ার আওতায় থাকবে। কর্মীদের থাইল্যান্ডে যাওয়ার আগে নিয়োগকর্তার সঙ্গে সরাসরি কর্মসংস্থান চুক্তি সম্পন্ন করতে হবে। পাশাপাশি কাজের অনুমতিপত্র, স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও স্বাস্থ্যবিমার প্রমাণের মতো শর্তও পূরণ করতে হবে। চুক্তিতে কর্মীদের অধিকার সুরক্ষার বিষয়টিও রাখা হয়েছে। বিদেশি কর্মীরা যেন স্থানীয় কর্মীদের মতো ন্যায্য আচরণ ও শ্রম আইনের আওতায় প্রাপ্য সুবিধা পান, সে বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। চাকরির শর্ত নিয়ে বিরোধ দেখা দিলে আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রতিকার পাওয়ার সুযোগ থাকবে। শ্রীলঙ্কার কর্মীদের ক্ষেত্রে চুক্তির মেয়াদ দুই বছর নির্ধারণ করা হয়েছে, যা আরও দুই বছর বাড়ানো যেতে পারে। মেয়াদ শেষে নিজ দেশে ফেরার ব্যবস্থার দায়িত্ব নিয়োগকর্তার ওপর থাকবে। এই উদ্যোগ বাস্তবায়নের মূল লক্ষ্য শুধু বিদেশি কর্মীর সংখ্যা বাড়ানো নয়; বরং বৈধ ও স্বচ্ছ পদ্ধতিতে কর্মী নিয়োগ নিশ্চিত করা। এর মাধ্যমে অবৈধ নিয়োগ, কর্মীদের সঙ্গে প্রতারণা এবং মানব পাচারের ঝুঁকি কমানোর পরিকল্পনা রয়েছে। বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য কী সুযোগ তৈরি হতে পারে? বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিয়োগের উদ্যোগ চূড়ান্ত হলে কৃষি ও নির্মাণ খাতে কাজের সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে কোন ধরনের কাজে লোক নেওয়া হবে, কী যোগ্যতা লাগবে, বেতন কত হবে এবং নিয়োগের জন্য কোনো নির্দিষ্ট বয়স বা অভিজ্ঞতার শর্ত থাকবে কি না—এসব বিষয়ে এখনো নিশ্চিত তথ্য নেই। একইভাবে বাংলাদেশ থেকে প্রথম দফায় কতজন কর্মী যাবেন, নিয়োগের আবেদন কখন শুরু হবে কিংবা কোন সরকারি সংস্থা প্রক্রিয়াটি পরিচালনা করবে, তা-ও স্পষ্ট নয়। শ্রীলঙ্কার কর্মী নিয়োগের সময়সূচি বা চুক্তির শর্ত সরাসরি বাংলাদেশি কর্মীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য ধরে নেওয়া ঠিক হবে না। বাংলাদেশের জন্য আলাদা কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এলে তবেই এসব বিষয়ে নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যাবে। চাকরিপ্রত্যাশীদের জন্য সতর্কতা থাইল্যান্ডে কাজের সুযোগের খবর সামনে আসায় আগ্রহী কর্মীদের এখন থেকেই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র গুছিয়ে রাখা এবং বৈধ নিয়োগপ্রক্রিয়া সম্পর্কে খোঁজ নেওয়া যেতে পারে। তবে সরকারি ঘোষণা, অনুমোদিত নিয়োগকারী সংস্থা এবং নির্দিষ্ট চাকরির তথ্য প্রকাশের আগে কাউকে টাকা দিয়ে চাকরি নিশ্চিত করার চেষ্টা করা উচিত নয়। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, ভিসার প্রতিশ্রুতি কিংবা আগাম টাকা চাওয়া কোনো প্রস্তাব যাচাই ছাড়া বিশ্বাস করা ঝুঁকিপূর্ণ। নিয়োগকর্তার পরিচয়, লিখিত চুক্তি, বেতন, কাজের ধরন এবং কাজের অনুমতির বিষয়গুলো নিশ্চিত করা জরুরি। সব মিলিয়ে, থাইল্যান্ডের শ্রমবাজারে বাংলাদেশিদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরির সম্ভাবনা থাকলেও নিয়োগ শুরুর নির্দিষ্ট তারিখ এখনো নিশ্চিত নয়। তাই আগ্রহী কর্মীদের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করা এবং যাচাই করা তথ্যের ভিত্তিতে প্রস্তুতি নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ পথ।

প্রকাশ : অক্টোবর ১৬, ২০২৬ ৬:৩৭
স্পেসএক্সের থ্রাস্টারসহ নতুন টেসলা রোডস্টার
আকাশে উড়বে, মাঝপথে ডিগবাজিও খাবে টেসলার নতুন গাড়ি, থাকছে স্পেসএক্সের রকেট প্রযুক্তি

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর নতুন প্রজন্মের বৈদ্যুতিক স্পোর্টস কার ‘রোডস্টার’ সামনে এনেছে যুক্তরাষ্ট্রের গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টেসলা। গাড়িটির সবচেয়ে আলোচিত বৈশিষ্ট্য হলো, এতে যুক্ত করা হয়েছে স্পেসএক্সের সঙ্গে যৌথভাবে তৈরি রকেটের মতো থ্রাস্টার। এসব প্রযুক্তি ব্যবহার করে গাড়িটিকে বাতাসে উঠতে, মাঝআকাশে ঘুরতে এবং নিয়ন্ত্রিতভাবে মাটিতে নামতে দেখা গেছে। এমনকি বিশেষ সাকশন ব্যবস্থার সাহায্যে উল্টো করে তৈরি একটি র‍্যাম্পের নিচের অংশে গাড়ি চালানোর প্রদর্শনীও করেছে প্রতিষ্ঠানটি। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) টেক্সাসের ম্যাকগ্রেগরে স্পেসএক্সের পরীক্ষাকেন্দ্রে আয়োজিত অনুষ্ঠানে নতুন রোডস্টার প্রদর্শন করা হয়। টেসলার প্রধান নির্বাহী ইলন মাস্কের উপস্থিতিতে গাড়িটির বিভিন্ন সক্ষমতা তুলে ধরা হয়। প্রদর্শনীতে গাড়িটি বাতাসে ঘুরে যাওয়ার পাশাপাশি পার্ক করে রাখা কয়েকটি গাড়ির ওপর দিয়েও উড়ে যায়। প্রায় নয় বছর আগে প্রথমবার নতুন প্রজন্মের রোডস্টারের ধারণা সামনে এনেছিল টেসলা। এবার এর নকশা ও প্রযুক্তিতে বড় ধরনের পরিবর্তন দেখানো হলো। টেসলার দাবি, নতুন রোডস্টার ঘণ্টায় শূন্য থেকে ৬০ মাইল বা প্রায় ৯৭ কিলোমিটার গতিতে পৌঁছাতে এক সেকেন্ডেরও কম সময় নিতে পারে। গাড়িটির সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ২৩০ মাইলের বেশি, যা প্রায় ৩৭০ কিলোমিটারের সমান। তবে মাস্কের মতে, স্পেসএক্সের প্রযুক্তি যুক্ত হওয়ার পর গাড়িটির সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক শুধু দ্রুতগতিতে চলার ক্ষমতা নয়; বরং বাতাসে বিভিন্ন কৌশল দেখানোর সক্ষমতা। গাড়িটিতে ব্যবহৃত হয়েছে উন্নত কোল্ড-গ্যাস থ্রাস্টার। টেসলার ব্যাখ্যা অনুযায়ী, বৈদ্যুতিক অ্যাকচুয়েটরের মাধ্যমে এসব থ্রাস্টার খুব দ্রুত ও নিখুঁতভাবে ধাক্কা বা থ্রাস্ট তৈরি করতে পারে। এর ফলে বাতাসে থাকা অবস্থায় গাড়ির ভারসাম্য নিয়ন্ত্রণ এবং প্রয়োজনীয় ছোটখাটো সমন্বয় করা সম্ভব হয়। গাড়িটি মাঝআকাশে ঘুরে যাওয়া কিংবা নিয়ন্ত্রিতভাবে অবতরণের মতো কৌশল দেখাতে এই প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। আরেকটি উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো গাড়ির নিচে থাকা ফ্যানভিত্তিক সাকশন ব্যবস্থা। টেসলার প্রদর্শনীতে এই ব্যবস্থার সাহায্যে গাড়িটিকে উল্টোভাবে তৈরি র‍্যাম্পে আটকে থাকতে দেখা যায়। মাস্কের বক্তব্য অনুযায়ী, এই প্রযুক্তি সর্বোচ্চ দুই জি পর্যন্ত বল তৈরি করতে পারে। এর উদ্দেশ্য শুধু ব্যতিক্রমী প্রদর্শনী নয়, বরং গাড়ির নিচের দিকে চাপ বাড়িয়ে বাঁক নেওয়ার সময় সড়কের সঙ্গে সংযোগ ও নিয়ন্ত্রণ উন্নত করা। মাস্ক বলেন, গাড়ির নিচের দিকে বেশি চাপ তৈরি হলে এটি ট্র্যাকে দ্রুত বাঁক নিতে পারবে। তাঁর দাবি, এই প্রযুক্তির কারণে রোডস্টার প্রচলিত স্পোর্টস কারের তুলনায় অসাধারণ পারফরম্যান্স দেখাতে পারে এবং বিভিন্ন ট্র্যাকের রেকর্ড ভাঙার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এসব সক্ষমতা নিয়ে প্রতিষ্ঠানের দাবি এবং বাস্তব ব্যবহারে গাড়িটির পারফরম্যান্সের মধ্যে পার্থক্য থাকতে পারে। স্বাধীনভাবে সব প্রযুক্তিগত দাবি যাচাইয়ের সুযোগ এখনো সীমিত। গাড়িটির নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। মাস্ক নিজেই স্বীকার করেছেন, এটি সব দিক থেকে নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে তৈরি গাড়ি নয়। তিনি অবশ্য এটিকে চালানোর অভিজ্ঞতার দিক থেকে অত্যন্ত রোমাঞ্চকর বলে তুলে ধরেছেন। সাধারণ সড়কে গাড়িটির বাতাসে ওড়ার মতো কৌশলগুলো আইনগতভাবে অনুমোদিত হবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। ফলে প্রদর্শনীতে দেখানো প্রযুক্তি বাস্তবে কীভাবে ব্যবহার করা যাবে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। নতুন রোডস্টারের দামও এখনো পুরোপুরি ঘোষণা করেনি টেসলা। তবে গাড়িটির তিনটি সংস্করণের জন্য বুকিং বা রিজার্ভেশন চালুর তথ্য পাওয়া গেছে। ‘পারফরম্যান্স’ সংস্করণের জন্য ৫০ হাজার ডলার জমা দিতে হবে। ‘থ্রাস্ট’ সংস্করণে দ্রুতগতির জন্য অতিরিক্ত থ্রাস্টার রয়েছে এবং এর জন্য জমার পরিমাণ ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার। অন্যদিকে ‘রকেট’ সংস্করণটি কেবল আমন্ত্রণের ভিত্তিতে পাওয়া যাবে; এর নির্দিষ্ট মূল্য প্রকাশ করা হয়নি। এই সংস্করণে পূর্ণাঙ্গ ফ্লাইট ব্যবস্থা থাকার কথা জানানো হয়েছে। নতুন রোডস্টার তৈরির পরিকল্পনা প্রথম সামনে আসে ২০১৭ সালে। তখন গাড়িটির প্রাথমিক মূল্য ২ লাখ ডলার নির্ধারণ করা হয়েছিল এবং ২০২০ সাল থেকে সরবরাহ শুরুর পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে উৎপাদন শুরু হয়নি। এবার টেসলা জানিয়েছে, গাড়িটির উৎপাদন ২০২৮ সালে শুরু করার লক্ষ্য রয়েছে। ফলে ক্রেতাদের হাতে গাড়িটি পৌঁছাতে আরও সময় লাগবে। টেসলার জন্য রোডস্টার শুধু একটি দ্রুতগতির বৈদ্যুতিক গাড়ি নয়; এটি প্রতিষ্ঠানটির প্রকৌশল ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা তুলে ধরারও একটি প্রচেষ্টা। সাম্প্রতিক সময়ে কোম্পানিটি স্বচালিত গাড়ি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং রোবট প্রযুক্তিতে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে নতুন রোডস্টার প্রতিষ্ঠানটির উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন গাড়ি তৈরির পরিচয়কে আবার সামনে আনতে পারে। তবে প্রদর্শনীতে দেখানো সব কৌশল সাধারণ সড়কে ব্যবহার করা যাবে কি না, গাড়িটির চূড়ান্ত মূল্য কত হবে এবং উৎপাদনের সময়সীমা এবার বজায় রাখা সম্ভব হবে কি না—এসব প্রশ্নের উত্তর পেতে অপেক্ষা করতে হবে। আপাতত রকেট থ্রাস্টার, বাতাসে ঘোরার সক্ষমতা এবং অস্বাভাবিক দ্রুতগতির দাবিই টেসলার নতুন রোডস্টারকে আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে।

প্রকাশ : অক্টোবর ১৬, ২০২৬ ৬:২৭
মন্তব্য ঘিরে বিতর্কে রাজস্থান বিজেপির সভাপতি মদন রাঠোর
যুক্তরাষ্ট্র-পাকিস্তান যুদ্ধ হলে ইসলামাবাদের পাশে থাকবে ভারত, মন্তব্যে বিতর্কে বিজেপি নেতা

যুক্তরাষ্ট্র ও পাকিস্তানের মধ্যে যু দ্ধ শুরু হলে ভারত পাকিস্তানের পাশে দাঁড়াবে—এমন মন্তব্য করে রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন ভারতের রাজস্থান রাজ্য বিজেপির সভাপতি মদন রাঠোর। প্রতিবেশী দেশ হওয়ার যুক্তি তুলে ধরে বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) এক জনসভায় তিনি এ কথা বলেন। তবে বক্তব্যটি নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সমালোচনার মুখে পড়ে পরে তিনি দাবি করেন, তাঁর কথার একটি অংশ কেটে প্রচার করা হয়েছে এবং পুরো বক্তব্যের অর্থ ভুলভাবে তুলে ধরা হচ্ছে।   জনসভায় বক্তব্য দেওয়ার সময় মদন রাঠোর বলেন, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি ও প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়টি বোঝা প্রয়োজন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও পাকিস্তানের মধ্যে যু দ্ধ শুরু হলে ভারত পাকিস্তানের পাশে থাকবে, কারণ দেশটি ভারতের প্রতিবেশী। একই সঙ্গে তিনি বলেন, ভারতের অভ্যন্তরীণ কোনো বিষয় সামনে এলে দেশের মানুষের উচিত নিজেদের দেশের পাশে দাঁড়ানো। রাঠোরের এই বক্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়। বিশেষ করে পাকিস্তানের সঙ্গে ভারতের দীর্ঘদিনের বৈরী সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে তাঁর মন্তব্যের অর্থ ও উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তোলেন বিরোধী দলের নেতারা। তাঁদের মতে, এমন বক্তব্যের মাধ্যমে বিজেপির পাকিস্তাননীতি নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে। কংগ্রেসের জাতীয় মুখপাত্র শামা মুহাম্মদ রাঠোরের মন্তব্যের কড়া সমালোচনা করেন। তিনি বক্তব্যটিকে ‘দেশবিরোধী’ আখ্যা দিয়ে প্রশ্ন তোলেন, এমন মন্তব্যের পর রাজস্থান বিজেপির সভাপতির বিরুদ্ধে দলটি কী ব্যবস্থা নেবে। একই সঙ্গে বিজেপির পাকিস্তান-সংক্রান্ত অবস্থান নিয়েও কটাক্ষ করেন তিনি। কংগ্রেসের জাতীয় সমন্বয়ক সন্দীপ গুপ্তও এ বক্তব্যের সমালোচনা করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও পাকিস্তানের মধ্যে যু দ্ধ হলে পাকিস্তানের পাশে থাকার কথা বলা বিজেপির পাকিস্তানপ্রীতিরই প্রকাশ। বিরোধী নেতাদের এসব প্রতিক্রিয়ার মধ্য দিয়ে মন্তব্যটি ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও জোরালো হয়। তবে সমালোচনার মুখে নিজের বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়েছেন মদন রাঠোর। তিনি দাবি করেন, তাঁর বক্তব্যের কিছু অংশ কেটে প্রচার করা হয়েছে। ভারত-পাকিস্তান ক্রিকেট ম্যাচ ও দেশপ্রেমের প্রসঙ্গ তুলে কথা বলতে গিয়ে তিনি ওই মন্তব্য করেছিলেন বলে জানান। তাঁর দাবি, বক্তব্যের শেষের অংশ বাদ দেওয়ায় কথার প্রকৃত অর্থ বদলে গেছে এবং পুরো বক্তব্য যথাযথভাবে উপস্থাপন করা হয়নি। রাঠোরের বক্তব্যের মূল অংশে প্রতিবেশী দেশ হিসেবে পাকিস্তানের প্রসঙ্গ এলেও পরবর্তী ব্যাখ্যায় তিনি ভারতের প্রতি আনুগত্য ও দেশপ্রেমের বিষয়টি তুলে ধরেছেন। তাঁর বক্তব্যের কোন অংশ কীভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, তা নিয়েই এখন রাজনৈতিক মহলে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য চলছে। ভারত ও পাকিস্তানের সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরেই নানা রাজনৈতিক ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত ইস্যুতে উত্তেজনাপূর্ণ। দুই দেশের মধ্যে অতীতেও একাধিক সামরিক সংঘাত হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র-পাকিস্তান যু দ্ধের কাল্পনিক পরিস্থিতিতে ভারতের অবস্থান নিয়ে কোনো রাজনৈতিক নেতার মন্তব্য সহজেই বিতর্ক তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে বিজেপির মতো ক্ষমতাসীন দলের একজন রাজ্য সভাপতির বক্তব্য হওয়ায় বিষয়টি আরও বেশি গুরুত্ব পেয়েছে। তবে রাঠোরের মন্তব্যকে ঘিরে বিরোধীদের সমালোচনা এবং তাঁর নিজের ব্যাখ্যা—দুই দিকই আলোচনায় এসেছে। বিরোধী নেতারা তাঁর বক্তব্যের রাজনৈতিক তাৎপর্য নিয়ে প্রশ্ন তুললেও রাঠোর বলছেন, তাঁর কথাকে প্রসঙ্গ থেকে বিচ্ছিন্ন করে উপস্থাপন করা হয়েছে। ফলে বক্তব্যটির প্রকৃত অর্থ ও রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে।

প্রকাশ : অক্টোবর ১৬, ২০২৬ ৬:৪
এডেনে প্রেসিডেন্ট প্রাসাদ ঘিরে উত্তেজনা
এডেনে প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে হুতিদের হামলায় পাঁচজন নি হ ত, সৌদির বিমানবন্দর ও তেল স্থাপনা ঝুঁকিতে

ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর এডেনে প্রেসিডেন্ট প্রাসাদ কমপ্লেক্সে হুতিদের হামলায় অন্তত পাঁচজন নি হ ত এবং ১৬ জন আহত হয়েছেন। এ ঘটনার পর দেশটিতে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। একই সময়ে সৌদি আরবের বিমানবন্দর ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলার অভিযোগও সামনে এসেছে। এর ফলে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।   এডেনের আল-মাশিক প্রেসিডেন্ট প্রাসাদ কমপ্লেক্সে হামলার সময় ইয়েমেনের প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার সদস্যরা নিরাপদে ছিলেন বলে জানানো হয়েছে। হুতিদের এক মুখপাত্র দাবি করেছেন, সৌদি আরবের সামরিক অভিযান পরিচালনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি সদর দপ্তরকে লক্ষ্য করে এ হামলা চালানো হয়েছে। তবে হামলার বিষয়ে দুই পক্ষের বক্তব্যে ভিন্নতা রয়েছে। ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে সমর্থনকারী সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জানিয়েছে, সৌদি আরবের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলার হুমকি বেড়েছে। জোটের দাবি, চলতি মাসে রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর লক্ষ্য করে প্রায় ২০টি হামলা চালানো হয়েছে। এসব ঘটনায় ১৭ জন নি হ ত এবং ৩৩৩ জন আহত হয়েছেন বলে জোটের এক মুখপাত্র দাবি করেছেন। সৌদি আরবের আবহা বিমানবন্দরেও হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে জানানো হয়েছে। এসব ঘটনায় তিনজন নি হ ত এবং ২৮ জন আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে জোট। তবে এসব হামলার প্রতিটি ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ এবং হতাহতের তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট আরও দাবি করেছে, সামরিক অভিযানে হুতিদের ১২৭টি অস্ত্রের গুদাম ও হামলা চালানোর জন্য ব্যবহৃত স্থাপনা ধ্বংস করা হয়েছে। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, এসব অভিযানের লক্ষ্য ছিল সৌদি আরবের নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করা সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করা। অন্যদিকে, হুতিরা সৌদি আরবের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের বিষয়ে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেছে। সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলের খামিস মুশাইত শহরের কাছে ড্রোন প্রতিহত করার ঘটনাও সামনে এসেছে। পাশাপাশি নাজরান ও জিজান এলাকায় সতর্কতা জারি করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। এসব এলাকা ইয়েমেনের সীমান্তের কাছাকাছি হওয়ায় সেখানে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। সৌদি আরবের বিমানবন্দর ও তেল স্থাপনার মতো গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ঝুঁকিতে পড়লে এর প্রভাব শুধু দেশটির নিরাপত্তায় সীমাবদ্ধ থাকবে না। বিমান চলাচল, জ্বালানি সরবরাহ এবং আঞ্চলিক বাণিজ্যেও এর প্রভাব পড়তে পারে। এ কারণে সম্ভাব্য হামলার হুমকি মোকাবিলায় নিরাপত্তা জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। হুতিদের সঙ্গে ইরানের সম্পর্ক নিয়েও দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক রয়েছে। সৌদি আরব ও তার মিত্ররা অভিযোগ করে আসছে, ইরান হুতিদের সামরিক সহায়তা দেয়। তবে তেহরান হুতিদের অস্ত্র সরবরাহের অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। ইয়েমেনের সংঘাতের সঙ্গে আঞ্চলিক শক্তিগুলোর সম্পৃক্ততা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। ইয়েমেনে গৃহযুদ্ধ শুরু হয় ২০১৪ সালে, যখন হুতিরা রাজধানী সানা দখল করে। পরের বছর, ২০১৫ সালে, আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে পুনর্বহাল করার লক্ষ্যে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট সামরিক অভিযান শুরু করে। দীর্ঘ সংঘাতে দেশটির অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং লাখো মানুষ মানবিক সংকটের মুখে পড়েছেন। ২০২২ সালে যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে সংঘাত কিছুটা কমলেও স্থায়ী রাজনৈতিক সমাধান হয়নি। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন এলাকায় আবারও লড়াই ও হামলার ঘটনা ঘটেছে। ইয়েমেনের ভৌগোলিক অবস্থানও এই সংঘাতকে আন্তর্জাতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। দেশটির কাছেই বাব আল-মান্দেব প্রণালি, যা আন্তর্জাতিক নৌবাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ। এডেনে প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে হামলা এবং সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলার অভিযোগ—দুটি ঘটনাই আঞ্চলিক উত্তেজনার বিস্তারের আশঙ্কা বাড়িয়েছে। পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে ইয়েমেনের অভ্যন্তরীণ সংঘাতের প্রভাব প্রতিবেশী দেশগুলোর নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যপথেও ছড়িয়ে পড়তে পারে।

প্রকাশ : অক্টোবর ১৬, ২০২৬ ৫:৫২
আজারবাইজানে স্কুলের পোশাকবিধি বিতর্কের মাঝে হিজাবের পক্ষে শিশু কারবালাই খাদিজার বক্তব্য ছড়িয়ে পড়েছে। ছবি: সংগৃহীত
‘হিজাব আমার শিক্ষার বাধা নয়, আমি শহীদ কন্যা, কখনো হিজাব ছাড়ব না’: আজারবাইজানে পোশাকবিধি বিতর্ক

আজারবাইজানে স্কুলের পোশাকবিধি নিয়ে বিতর্কের মধ্যে হিজাব পরে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে এক শিশুর বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। প্রচারিত বর্ণনায় শিশুটিকে কারবালাই খাদিজা নামে পরিচয় দেওয়া হয়েছে। তার বক্তব্য হিসেবে বলা হচ্ছে, হিজাব পড়াশোনার বাধা নয়, বরং তার কাছে গর্বের বিষয়। তবে ভিডিওটির মূল উৎস, ধারণের সময় এবং শিশুটির বয়স স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত বিবরণ অনুযায়ী, খাদিজা নিজেকে একজন শহীদের কন্যা হিসেবে পরিচয় দিয়েছে এবং হিজাব পরার অধিকার বজায় রেখে শিক্ষা গ্রহণের কথা বলেছে। এসব ব্যক্তিগত তথ্যের সমর্থনে স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য নথি পাওয়া যায়নি।   এদিকে আজারবাইজানের কয়েকটি স্কুলে হিজাব পরা শিক্ষার্থীদের প্রবেশে বাধা দেওয়ার অভিযোগ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে রেডিও ফ্রি ইউরোপ/রেডিও লিবার্টি। সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, রাজধানী বাকুসহ বিভিন্ন এলাকার অভিভাবকেরা অভিযোগ করেছেন, তাঁদের মেয়েদের মাথার স্কার্ফ খুলে স্কুলে আসতে বলা হয়েছে অথবা শ্রেণিকক্ষে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। কিছু শিক্ষার্থী এর প্রতিবাদে ক্লাস বর্জন করেছে।    গত ২১ সেপ্টেম্বর অনুমোদিত পোশাকবিধির সংশোধনীতে নির্ধারিত স্কুল ইউনিফর্মের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ কিংবা শিক্ষার ধর্মনিরপেক্ষ নীতির বিরোধী পোশাক নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তবে সংশোধনীতে সরাসরি হিজাবের নাম উল্লেখ নেই। এর প্রয়োগ নিয়ে স্কুল কর্তৃপক্ষ ও অভিভাবকদের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়েছে।    সংশোধিত বিধির সমর্থক ক্ষমতাসীন দলের আইনপ্রণেতা এলনারা আকিমোভা রেডিও ফ্রি ইউরোপ/রেডিও লিবার্টিকে বলেছেন, নিরপেক্ষ শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করাই এর উদ্দেশ্য। অন্যদিকে অভিভাবকদের একাংশের বক্তব্য, ধর্মীয় পোশাকের কারণে শিক্ষার্থীদের ক্লাসে প্রবেশে বাধা দেওয়া তাদের শিক্ষা ও ধর্মীয় স্বাধীনতার অধিকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

প্রকাশ : অক্টোবর ১৬, ২০২৬ ৫:৩০
নতুন বেতন স্কেলের অর্থ জোগাতে ব্যয় কমানোর সুপারিশ
নতুন বেতন স্কেলের অর্থ জোগাতে ভর্তুকি কমানো ও সরকারি ব্যয় সংকোচনের সুপারিশ কমিশনের

সরকারি কর্মচারীদের নতুন বেতন স্কেল বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় অর্থের জোগান নিশ্চিত করতে ভর্তুকি কমানো, রপ্তানি খাতের নগদ প্রণোদনা পর্যায়ক্রমে বন্ধ করা এবং সরকারি ব্যয় সংকোচনের সুপারিশ করেছে জাতীয় বেতন কমিশন। পাশাপাশি উন্নয়ন প্রকল্পে বরাদ্দ কমানো, প্রশাসনিক কাঠামো পুনর্বিন্যাস এবং করের আওতা বাড়িয়ে রাজস্ব আয় বৃদ্ধির প্রস্তাবও দিয়েছে কমিশন।   সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বাধীন জাতীয় বেতন কমিশন চলতি বছরের জানুয়ারিতে তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে প্রতিবেদন জমা দেয়। সে সময় প্রস্তাবিত বেতন কাঠামো প্রকাশ করা হলেও কমিশনের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়নি। বর্তমান বিএনপি সরকার চলতি ও আগামী অর্থবছরে কয়েক ধাপে নতুন বেতন স্কেল বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, নতুন বেতন-ভাতা দিতে সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগীদের জন্য অতিরিক্ত ১ লাখ ৫ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা প্রয়োজন হবে। কমিশনের প্রাক্কলনে এই ব্যয়ের পরিমাণ ধরা হয়েছিল ১ লাখ ৬ হাজার ৩০৭ কোটি টাকা। কমিশনের হিসাব অনুযায়ী, অতিরিক্ত ব্যয়ের মধ্যে বেতন বাবদ ৩৯ হাজার ৩৪০ কোটি টাকা, বিভিন্ন ভাতার জন্য ২৯ হাজার ২৬৩ কোটি টাকা এবং পেনশনভোগীদের জন্য ১৯ হাজার ৭৩৩ কোটি টাকা প্রয়োজন হবে। এ ছাড়া বাজেট বরাদ্দ থেকে বেতন-ভাতা পাওয়া কর্মচারীদের জন্য আরও ১৭ হাজার ৯৭১ কোটি টাকা ধরা হয়েছে। প্রতিরক্ষা খাতসহ সরকারি চাকরিতে কর্মরত প্রায় ২৩ লাখ কর্মচারী এবং ৯ লাখ পেনশনভোগী নতুন বেতন কাঠামোর সুবিধার আওতায় আসবেন। পুরোনো বেতন কাঠামো অনুযায়ী তাঁদের পেছনে সরকারের বার্ষিক ব্যয় ছিল প্রায় ১ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা। নতুন কাঠামো বাস্তবায়িত হলে সরকারি কোষাগারের ওপর ব্যয়ের চাপ আরও বাড়বে। এ পরিস্থিতিতে বাড়তি অর্থের সংস্থান করতে ব্যয় ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে কমিশন। প্রতিবেদনে জ্বালানি, বিদ্যুৎ, রপ্তানি, রেমিট্যান্স ও কৃষি খাতের ভর্তুকি নিয়মিত পর্যালোচনার সুপারিশ করা হয়েছে। কমিশনের মতে, অর্থনীতির স্বাভাবিক কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি করে এমন ভর্তুকি পর্যায়ক্রমে তুলে নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে। একই সঙ্গে জ্বালানি তেলের দাম বাজারের সঙ্গে সমন্বয় এবং ধাপে ধাপে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তবে ভর্তুকি কমানোর পাশাপাশি দরিদ্র জনগোষ্ঠীর সুরক্ষার বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে প্রতিবেদনে। এ জন্য সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি আরও জোরদার করার সুপারিশ করেছে কমিশন, যাতে ভর্তুকি সংস্কারের কারণে নিম্ন আয়ের মানুষ অতিরিক্ত চাপের মুখে না পড়েন। রপ্তানি খাতের নগদ প্রণোদনা নিয়েও পরিবর্তনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। কমিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিনিময় হার তুলনামূলক স্থিতিশীল থাকায় রপ্তানি খাতে নগদ প্রণোদনার প্রয়োজন আগের তুলনায় কমেছে। এ কারণে আগামী ১২ থেকে ১৪ মাসের মধ্যে ধাপে ধাপে এই প্রণোদনা বন্ধ করার সুপারিশ করা হয়েছে। অন্যদিকে, সরকারি বাজেটে ভর্তুকি ও প্রণোদনা খাতে ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের বাজেট নথি অনুযায়ী, ২০১৯-২০ অর্থবছরে এ খাতে ব্যয় ছিল ৪১ হাজার ৯২৬ কোটি টাকা। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তা বেড়ে দাঁড়ায় ১ লাখ ৪১ হাজার ২৩৮ কোটি টাকায়। পরবর্তী অর্থবছরে সংশোধিত বরাদ্দ ছিল ১ লাখ ১৮ হাজার ৯৫৬ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরে এ খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১ লাখ ২৬ হাজার ১২৫ কোটি টাকা। সরকারি ব্যয় কমানোর আরেকটি উপায় হিসেবে প্রশাসনিক কাঠামো পুনর্বিন্যাসের কথা বলেছে কমিশন। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকা অতিরিক্ত বিভাগ একীভূত করা বা বিভাগের সংখ্যা কমানোর সুপারিশ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে প্রশাসনিক ব্যয় কমিয়ে সরকারি অর্থের আরও কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করা সম্ভব বলে প্রতিবেদনে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। উন্নয়ন বাজেটের ক্ষেত্রেও ব্যয় পর্যালোচনার প্রস্তাব রয়েছে। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) যেসব প্রকল্পে কাজের অগ্রগতি ধীর কিংবা প্রত্যাশিত সুফল পাওয়া যাচ্ছে না, সেগুলোতে বরাদ্দ কমানোর সুপারিশ করেছে কমিশন। এসব প্রকল্প থেকে সাশ্রয় হওয়া অর্থ অগ্রাধিকারমূলক উন্নয়ন কার্যক্রম এবং সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতা পরিশোধে ব্যবহার করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া দেশে-বিদেশে প্রশিক্ষণ, সরকারি ভ্রমণ, জ্বালানি তেল, লুব্রিকেন্ট, মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ খাতে ব্যয় কমানোর সুযোগ রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি করের আওতা বাড়িয়ে রাজস্ব আয় বৃদ্ধির ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে, নতুন বেতন স্কেল বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের জোগান নিশ্চিত করতে সরকারি ব্যয় ব্যবস্থাপনায় একাধিক পরিবর্তনের সুপারিশ করেছে জাতীয় বেতন কমিশন। ভর্তুকি ও প্রণোদনা কমানো থেকে শুরু করে উন্নয়ন প্রকল্পের বরাদ্দ পর্যালোচনা এবং রাজস্ব আয় বাড়ানো—সবকিছুর লক্ষ্য বাড়তি ব্যয়ের চাপ সামাল দেওয়া। তবে এসব সুপারিশ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সরকারি কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধি এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়ের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা গুরুত্বপূর্ণ হবে।

প্রকাশ : অক্টোবর ১৬, ২০২৬ ৫:২৬
ইউএইর ভিসামুক্ত তালিকায় ইউরোপের ৪৬ দেশ
আগাম ভিসা ছাড়াই ইউএই যেতে পারবেন ৪৬ দেশের নাগরিক, তালিকায় নেই বাংলাদেশ

সংযুক্ত আরব আমিরাতে (ইউএই) আগাম ভিসা ছাড়াই প্রবেশের যোগ্যতা রয়েছে ইউরোপের ৪৬টি দেশের নাগরিকদের। প্রকাশিত একটি তালিকায় এসব দেশের নাম তুলে ধরা হয়েছে। এতে জার্মানি, ফ্রান্স, ইতালি ও যুক্তরাজ্যের মতো বড় ইউরোপীয় দেশগুলোর পাশাপাশি মোনাকো, সান মারিনো ও ভ্যাটিকান সিটির মতো ছোট রাষ্ট্রও রয়েছে। তবে এই তালিকায় বাংলাদেশের নাম নেই।   তালিকাভুক্ত দেশগুলোর যোগ্য নাগরিকদের ইউএই ভ্রমণের আগে আগাম ভিসার আবেদন করতে হয় না। ফলে ছুটি কাটানো, ব্যবসায়িক কাজে যাওয়া কিংবা স্বল্প সময়ের জন্য দেশটিতে অবস্থানের পরিকল্পনা করছেন—এমন ভ্রমণকারীদের জন্য ভ্রমণপ্রক্রিয়া সহজ হতে পারে। তবে আগাম ভিসা না লাগার অর্থ এই নয় যে সব ভ্রমণকারী একই মেয়াদে থাকার সুযোগ পাবেন কিংবা প্রবেশের ক্ষেত্রে অন্য কোনো শর্ত মানতে হবে না। প্রকাশিত তালিকায় ইউরোপের উত্তর, দক্ষিণ, পূর্ব ও পশ্চিমাঞ্চলের দেশগুলো স্থান পেয়েছে। উত্তর ইউরোপের ফিনল্যান্ড, আইসল্যান্ড, নরওয়ে ও সুইডেনের পাশাপাশি পশ্চিম ইউরোপের জার্মানি, ফ্রান্স, ইতালি, স্পেন ও নেদারল্যান্ডস রয়েছে। এ ছাড়া মধ্য ও পূর্ব ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশের নাগরিকেরাও এই তালিকার অন্তর্ভুক্ত। তালিকায় থাকা ৪৬টি দেশ হলো—আলবেনিয়া, অ্যান্ডোরা, অস্ট্রিয়া, বেলারুশ, বেলজিয়াম, বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা, বুলগেরিয়া, ক্রোয়েশিয়া, সাইপ্রাস, চেক প্রজাতন্ত্র, ডেনমার্ক, এস্তোনিয়া, ফিনল্যান্ড, ফ্রান্স, জর্জিয়া, জার্মানি, গ্রিস, হাঙ্গেরি, আইসল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড, ইতালি, কসোভো, লাটভিয়া, লিশটেনস্টাইন, লিথুয়ানিয়া, লুক্সেমবার্গ, মাল্টা, মলদোভা, মোনাকো, মন্টেনেগ্রো, নেদারল্যান্ডস, নরওয়ে, পোল্যান্ড, পর্তুগাল, রোমানিয়া, রাশিয়া, সান মারিনো, সার্বিয়া, স্লোভাকিয়া, স্লোভেনিয়া, স্পেন, সুইডেন, সুইজারল্যান্ড, ইউক্রেন, যুক্তরাজ্য ও ভ্যাটিকান সিটি। তালিকায় ইউরোপের ক্ষুদ্র রাষ্ট্রগুলোর পাশাপাশি পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব ইউরোপের দেশগুলোও রয়েছে। আলবেনিয়া, বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা, কসোভো, মলদোভা, মন্টেনেগ্রো, সার্বিয়া ও ইউক্রেনের নাম উল্লেখযোগ্য। এ ছাড়া বেলারুশ, জর্জিয়া ও রাশিয়াও তালিকায় অন্তর্ভুক্ত। বাংলাদেশের নাগরিকদের ক্ষেত্রে এই তালিকা সরাসরি প্রযোজ্য নয়। ইউরোপের কোনো দেশে বসবাস করলেই একজন বাংলাদেশি নাগরিক স্বয়ংক্রিয়ভাবে ওই দেশের নাগরিকদের মতো ভিসামুক্ত প্রবেশের সুবিধা পাবেন না। ইউএইতে প্রবেশের ক্ষেত্রে মূলত পাসপোর্টের জাতীয়তা এবং সংশ্লিষ্ট ভিসাবিধি বিবেচনা করতে হয়। তাই বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীদের ভ্রমণের আগে নিজেদের জন্য প্রযোজ্য নিয়ম যাচাই করা প্রয়োজন। এখানে আরেকটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ—ভিসামুক্ত প্রবেশ, বিমানবন্দরে পৌঁছে ভিসা পাওয়ার সুবিধা এবং ভ্রমণের আগে ভিসা সংগ্রহের নিয়ম এক নয়। কোনো দেশের নাগরিকদের জন্য আগাম ভিসা না লাগলেও তাঁদের প্রবেশের সময় নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করতে হতে পারে। একইভাবে, অনুমোদিত অবস্থানকালের মেয়াদও নাগরিকত্ব ও প্রবেশের নিয়ম অনুযায়ী ভিন্ন হতে পারে। ইউএই ভ্রমণের পরিকল্পনা করছেন এমন ব্যক্তিদের তাই টিকিট বুকিংয়ের আগে সর্বশেষ ভিসাবিধি যাচাই করা উচিত। দেশটির সরকারি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট অথবা সংশ্লিষ্ট ইউএই দূতাবাস থেকে প্রবেশের যোগ্যতা, পাসপোর্টের মেয়াদ এবং অবস্থানের শর্ত সম্পর্কে তথ্য নেওয়া যেতে পারে। সাধারণভাবে, ইউএইতে প্রবেশের সময় পাসপোর্টের মেয়াদ অন্তত ছয় মাস থাকা প্রয়োজন হতে পারে। এ ছাড়া ভ্রমণের উদ্দেশ্য, পাসপোর্টের ধরন এবং অবস্থানের সম্ভাব্য মেয়াদ অনুযায়ী অতিরিক্ত শর্ত প্রযোজ্য হতে পারে। ফলে কোনো তালিকায় দেশের নাম থাকা মানেই সব ধরনের ভ্রমণকারীর জন্য নিঃশর্ত প্রবেশের নিশ্চয়তা নয়। সব মিলিয়ে, ইউরোপের ৪৬ দেশের নাগরিকদের জন্য ইউএইতে আগাম ভিসা ছাড়াই প্রবেশের সুযোগের বিষয়টি আন্তর্জাতিক ভ্রমণকারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তবে বাংলাদেশের নাগরিকদের ক্ষেত্রে একই সুবিধা রয়েছে—এমন ধারণা করা ঠিক হবে না। ইউএই যাওয়ার আগে বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীদের নিজেদের জন্য প্রযোজ্য ভিসার নিয়ম ও সর্বশেষ প্রবেশশর্ত নিশ্চিত হয়ে নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।

প্রকাশ : অক্টোবর ১৬, ২০২৬ ৫:৬
শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে দেশের সীমান্তবর্তী ও দুর্গম এলাকার ২ হাজার ৭২৭টি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় বিজিবি মোতায়েন করা হচ্ছে। ছবি: সংগৃহীত
দুর্গাপূজায় ২ হাজার ৭২৭ মণ্ডপের নিরাপত্তায় থাকবে বিজিবি

শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে দেশের সীমান্তবর্তী ও দুর্গম এলাকাসহ মোট ২ হাজার ৭২৭টি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় দায়িত্ব পালন করবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। আগামী ১৬ থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত পূজামণ্ডপগুলোতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে টহল, গোয়েন্দা নজরদারি ও দ্রুত সাড়াদানকারী দল মোতায়েনের পরিকল্পনা নিয়েছে বাহিনীটি। এ জন্য দুর্গম এলাকায় ১৮টি বেস ক্যাম্প স্থাপনের পরিকল্পনাও রয়েছে।   আজ রাজধানীর পিলখানায় বিজিবি সদর দপ্তরে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর পরিচালক (অপারেশন) লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মাহবুব মুর্শেদ রহমান, বিজিবিএম, পিএসসি, আর্টিলারি।   পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় বিশেষ প্রস্তুতি বিজিবির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নিরাপত্তার আওতায় থাকা ২ হাজার ৭২৭টি পূজামণ্ডপের মধ্যে ১ হাজার ৪২৫টি সীমান্ত থেকে আট কিলোমিটারের মধ্যে, ১ হাজার ১১৯টি ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তর থেকে তিন কিলোমিটারের মধ্যে এবং ১৮৩টি দুর্গম এলাকায় অবস্থিত।   দুর্গম এলাকার পূজামণ্ডপগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ১৮টি বেস ক্যাম্প স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি দ্রুত সাড়াদানকারী দল (কিউআরএফ) প্রস্তুত রাখা, ‘শারদীয় সুরক্ষা অ্যাপ’ ব্যবহার এবং বিজিবির সদর দপ্তর ও মাঠপর্যায়ে মনিটরিং সেল গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।   নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ ও পূজামণ্ডপের কমিটিগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করবে বিজিবি। ঢাকায় সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী দায়িত্ব পালন এবং ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) ও স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয়ের কথাও জানিয়েছে বাহিনীটি।   এ ছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সংবেদনশীল তথ্য ছড়ানোর আগে তা যাচাই করার আহ্বান জানিয়েছে বিজিবি। কোনো সন্দেহজনক তৎপরতা চোখে পড়লে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানোর পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।   ১০ মাসে ২ হাজার ৮৬ কোটি টাকার চোরাচালানি পণ্য জব্দ বিজিবির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন সীমান্তে অভিযান চালিয়ে আনুমানিক ২ হাজার ৮৬ কোটি টাকার চোরাচালানি পণ্য জব্দ করা হয়েছে।   এ সময়ে মাদকবিরোধী অভিযানে ২ কোটি ৬০ লাখের বেশি ইয়াবা, ৪০ কেজি ক্রিস্টাল মেথ বা আইস, প্রায় ১৬ হাজার কেজি গাঁজা, ৯ কেজি হেরোইন এবং ২৮ হাজার বোতল ফেনসিডিলসহ বিভিন্ন ধরনের মাদক জব্দ করা হয়েছে। মাদক চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে ১ হাজার ৫৩৩ জনকে।   একই সময়ে ৭৮টি পিস্তল, ৭টি রাইফেল, একটি সাবমেশিনগান, ৭টি গ্রেনেড, ১২টি মাইন এবং ৩ হাজার ২১৩টি গুলি উদ্ধার করেছে বিজিবি। মাদক, অস্ত্র ও অন্যান্য চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ১ হাজার ৯৫৭ জনকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।   মানব পাচার ও পুশ-ইন ঠেকাতে অভিযান বিজিবির তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত নারী ও শিশুসহ মানব পাচারের শিকার হতে যাওয়া ৪২ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ২০ জনকে আটক করা হয়েছে।   এ সময়ে দেশের ২৩টি সীমান্তবর্তী জেলায় বাংলাদেশে পুশ-ইন চেষ্টার ১৮২টি ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় ১ হাজার ২৭৫ জনকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা প্রতিহত করার কথা জানিয়েছে বিজিবি।   এ ছাড়া অভিযানে ১৫৮ মেট্রিক টন রাসায়নিক সার, ১ লাখ ২ হাজার লিটার জ্বালানি তেল এবং ১৫ হাজার লিটার ভোজ্যতেল জব্দ করা হয়েছে।   নজরদারিতে আধুনিক প্রযুক্তি সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার করতে আধুনিক নজরদারি সরঞ্জাম, ড্রোন ও রাতের বেলায় পর্যবেক্ষণ প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো হয়েছে বলে জানিয়েছে বিজিবি। পাশাপাশি চিকিৎসাসেবা, যুবকদের দক্ষতা উন্নয়ন এবং জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমও চলমান রয়েছে।   দুর্গাপূজায় সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে দায়িত্ব পালনের কথা জানিয়েছে সীমান্তরক্ষী বাহিনীটি।

প্রকাশ : অক্টোবর ১৬, ২০২৬ ৪:৪৯
ওয়াশিংটন ডিসিতে সম্মানজনক ‘হিলারি রডহ্যাম ক্লিনটন অ্যাওয়ার্ড’ পেয়েছেন নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস। ছবি: সংগৃহীত
ওয়াশিংটনে হিলারি ক্লিনটন অ্যাওয়ার্ড পেলেন ড. ইউনূস, দাঁড়িয়ে সম্মান জানালেন প্রায় ৪০০ অতিথি

যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে হিলারি রডহ্যাম ক্লিনটন অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী ও গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্যাস্টন হলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সাবেক মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি রডহ্যাম ক্লিনটন তাঁর হাতে এই সম্মাননা তুলে দেন। পুরস্কারপ্রাপ্ত হিসেবে ইউনূসের নাম ঘোষণা করা হলে উপস্থিত প্রায় ৪০০ অতিথি দাঁড়িয়ে দীর্ঘ সময় করতালির মাধ্যমে তাঁকে সম্মান জানান।   দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের প্রতিবেদন অনুযায়ী, অনুষ্ঠানে প্রায় ২৫টি দেশের রাষ্ট্রদূত, উদ্যোক্তা, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও গবেষকেরা উপস্থিত ছিলেন। নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং আরও শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ বিশ্ব গড়ার ক্ষেত্রে নেতৃত্বের স্বীকৃতি হিসেবে এই পুরস্কার দেওয়া হয়।   জর্জটাউন ইনস্টিটিউট ফর উইমেন, পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি এবং হিলারি ক্লিনটনের উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ড. ইউনূসের পাশাপাশি আরও কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তিকে সম্মাননা দেওয়া হয়। তাঁদের মধ্যে ছিলেন ভারতের সেলফ এমপ্লয়েড উইমেনস অ্যাসোসিয়েশনের পরিচালক রিমা নানাবতী এবং টোরি বার্চ ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও ফ্যাশন ডিজাইনার টোরি বার্চ।   এ ছাড়া জর্ডানের মাইক্রোফান্ড ফর উইমেনের বোর্ড চেয়ার মুনা সুখতিয়ানকে প্রথমবারের মতো জর্জটাউন অ্যাম্বাসেডরস অ্যাওয়ার্ড দেওয়া হয়। নারীর ক্ষমতায়ন ও সামাজিক উন্নয়নে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তাঁদের এসব সম্মাননা দেওয়া হয়েছে।   পুরস্কার গ্রহণের পর বক্তব্যে ড. ইউনূস ক্ষুদ্রঋণের মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচনে তাঁর পাঁচ দশকের কাজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। একই সঙ্গে তরুণ প্রজন্মকে চাকরিপ্রার্থী না হয়ে উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে ওঠার আহ্বান জানান তিনি। তাঁর মতে, প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থা শিক্ষার্থীদের মূলত চাকরি খোঁজার জন্য প্রস্তুত করে। অথচ তাঁদের সৃজনশীলতা ও উদ্যোক্তা হওয়ার সক্ষমতা বিকাশের ওপর আরও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।   ড. ইউনূস বলেন, তরুণদের মধ্যে এমন মানসিকতা তৈরি করতে হবে, যাতে তাঁরা নিজেদের শুধু চাকরিপ্রার্থী হিসেবে না দেখেন। বরং অন্যদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করার মতো উদ্যোক্তা হয়ে ওঠেন। তিনি বলেন, ‘আমরা চাকরিপ্রার্থী নই, আমরা চাকরিদাতা।’   অনুষ্ঠানে ড. ইউনূস জানান, চলতি বছরের শেষ নাগাদ গ্রামীণ বিশ্ববিদ্যালয় চালু করার আশা করছেন তিনি। তাঁর পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমে শিক্ষাব্যবস্থায় পরিবর্তন আনা এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে সৃজনশীলতা ও উদ্যোক্তা হওয়ার মানসিকতা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।   সামাজিক ব্যবসার ধারণা নিয়েও অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন ড. ইউনূস। তিনি বলেন, সামাজিক সমস্যা সমাধানের উদ্দেশ্যে পরিচালিত ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান মুনাফা বা উদ্বৃত্ত অর্থ অর্জন করতে পারে। তবে সেই অর্থ ব্যক্তিগত সম্পদ বাড়ানোর পরিবর্তে সামাজিক সমস্যা সমাধানের কাজে পুনর্বিনিয়োগ করা উচিত।   গ্রামীণ ব্যাংকের কার্যক্রমের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে ড. ইউনূস জানান, ক্ষুদ্রঋণের মাধ্যমে লাখ লাখ পরিবারের জীবনে পরিবর্তন এসেছে। বিশেষ করে নারীদের স্বাবলম্বী হওয়া, আর্থিক নিরাপত্তা অর্জন এবং নিজেদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা বাড়াতে এই কার্যক্রম ভূমিকা রেখেছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।   তিনি আরও বলেন, গ্রামীণ ব্যাংকের ঋণগ্রহীতাদের সন্তানেরা এখন বড় হয়ে কর্মজীবনে প্রবেশ করছে। এই নতুন প্রজন্মের জন্য উদ্যোক্তা হওয়ার সুযোগ তৈরি করা ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।   অনুষ্ঠানে সাবেক মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটনও গ্রামীণ ব্যাংকের কার্যক্রমের প্রশংসা করেন। তিনি জানান, গ্রামীণ ব্যাংকের কাজ তিনি নিজে প্রত্যক্ষ করেছেন। নারীদের স্বাবলম্বী, নিরাপদ ও ক্ষমতায়িত করে তুলতে প্রতিষ্ঠানটির অবদানের কথা তুলে ধরেন তিনি।   হিলারি ক্লিনটন ক্ষুদ্রঋণ ও নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের ধারণা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ছড়িয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে ড. ইউনূসের ভূমিকারও প্রশংসা করেন। তাঁর বক্তব্যে নারীদের আর্থিকভাবে স্বনির্ভর করে তোলার ক্ষেত্রে গ্রামীণ ব্যাংকের কার্যক্রমের গুরুত্ব উঠে আসে।   ওয়াশিংটনের এই অনুষ্ঠানে সম্মাননা গ্রহণের পাশাপাশি দারিদ্র্য বিমোচন, নারীর ক্ষমতায়ন, সামাজিক ব্যবসা এবং তরুণদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলার বিষয়ে নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

প্রকাশ : অক্টোবর ১৬, ২০২৬ ৪:২৪
প্রেমিকের সঙ্গে সম্পর্কের বিভিন্ন মুহূর্তের ছবি টিকটকে প্রকাশের পর চাঞ্চল্যকর তথ্য পান তরুণী মিলাগ্রোস। ছবি: সংগৃহীত
টিকটকে প্রেমিকের ছবি পোস্ট করলেন তরুণী, ২০ জনের বেশি নারীর সাথে সম্পর্কের অভিযোগ

প্রেমিকের সঙ্গে সম্পর্কের বিভিন্ন মুহূর্তের ছবি টিকটকে প্রকাশ করেছিলেন মিলাগ্রোস নামের এক তরুণী। এরপর অন্য কয়েকজন নারী তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করে দাবি করেন, একই ব্যক্তির সঙ্গে তাঁদেরও প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে। মিলাগ্রোসের ভাষ্য, পোস্টটি ছড়িয়ে পড়ার পর ২০ জনের বেশি নারী নিজেদের অভিজ্ঞতা জানিয়ে তাঁকে বার্তা দিয়েছেন। তবে এসব দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি।    আর্জেন্টিনার সংবাদমাধ্যম এল কানসিয়েরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মিলাগ্রোস রাগবি খেলোয়াড় হুয়ান কারিনির সঙ্গে নিজের সম্পর্কের ছবি প্রকাশ করে টিকটকের একটি ট্রেন্ডে অংশ নেন। এই ট্রেন্ডে সম্পর্ক ধীরে এগিয়ে নেওয়ার ধারণা নিয়ে মজা করে পরিচয় থেকে দ্রুত প্রেমে জড়িয়ে পড়ার বিভিন্ন মুহূর্ত তুলে ধরা হয়। মিলাগ্রোসও প্রথম দিকের দেখা করা থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে সম্পর্কে জড়ানোর প্রস্তাব পাওয়ার ছবি প্রকাশ করেছিলেন।    তাঁর প্রকাশ করা কথোপকথনের বর্ণনা অনুযায়ী, প্রথম এক নারী দাবি করেন, হুয়ানের সঙ্গে তাঁর দুই বছরের সম্পর্ক রয়েছে এবং তাঁদের পরিচয় হয়েছিল জিমে। আরেক নারী নিজেদের সম্পর্কের প্রমাণ হিসেবে কথোপকথনের স্ক্রিনশট পাঠানোর প্রস্তাব দেন। তৃতীয় একজন জানান, এক সপ্তাহ আগেও হুয়ানের সঙ্গে তাঁর দেখা হয়েছে এবং তিনি একই ধরনের ভালোবাসার বার্তা পেয়েছেন।   তৃতীয় নারীর বার্তার জবাবে মিলাগ্রোস রসিকতার সুরে লেখেন, ‘ওহ না, তুমি তৃতীয়জন।’ পরে তিনি এসব কথোপকথন নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেন। তাঁর দাবি, এরপর আরও অনেকে যোগাযোগ করেছেন।    তবে ২০ জনের বেশি নারীর যোগাযোগ করার দাবি থেকে প্রত্যেকের সঙ্গে একই সময়ে প্রেমের সম্পর্ক ছিল বলে নিশ্চিত হওয়া যায় না। ঘটনাটি নিয়ে প্রকাশিত উল্লিখিত প্রতিবেদনগুলোতে হুয়ান কারিনির কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর পক্ষে স্বাধীন যাচাইয়ের তথ্যও দেওয়া হয়নি।

প্রকাশ : অক্টোবর ১৬, ২০২৬ ২:৫৭
কানাডার টরন্টোয় ভুয়া শিক্ষার্থী সেজে স্কুলে ঢুকে দুই ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে বাংলাদেশি যুবক শাফফাত হুসেইনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ছবি: সংগৃহীত
টরন্টোয় শিক্ষার্থী পরিচয়ে স্কুলে ঢুকে যৌ ন নিপীড়নে গ্রে প্তার বাংলাদেশি শাফফাত হুসেইন

কানাডার টরন্টোয় নিজেকে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী পরিচয় দিয়ে একটি স্কুলে প্রবেশের পর দুই শিক্ষার্থীকে যৌ ন নিপীড়নের অভিযোগে ২৪ বছর বয়সী এক যুবককে গ্রে প্তার করেছে পুলিশ। অভিযুক্ত বাংলাদেশি শাফফাত হুসেইন। বুধবার, ১৪ অক্টোবর প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে টরন্টো পুলিশ সার্ভিস তাঁর গ্রে প্তার ও অভিযোগ আনার তথ্য জানিয়েছে।    পুলিশের অভিযোগ অনুযায়ী, গত ৩০ সেপ্টেম্বর শাফফাত একটি স্কুলে ঢুকে নিজেকে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী হিসেবে পরিচয় দেন। এরপর তিনি দুই শিক্ষার্থীকে যৌ ন নিপীড়ন করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ড্যানফোর্থ অ্যাভিনিউ ও বার্চমাউন্ট রোড এলাকায় সংঘটিত যৌ ন নিপীড়নের খবর পেয়ে ৯ অক্টোবর পুলিশ সাড়া দেয়।   টরন্টোর বাসিন্দা শাফফাতের বিরুদ্ধে যৌ ন নিপীড়নের দুটি এবং ‘সেক্সুয়াল ইন্টারফেয়ারেন্স’-এর একটি অভিযোগ আনা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ১৪ অক্টোবর সকালে টরন্টো রিজিওনাল বেইল সেন্টারে তাঁকে আদালতে হাজির করার কথা ছিল। বিজ্ঞপ্তিতে শুনানির ফল জানানো হয়নি।    তদন্তকারীদের ধারণা, আরও কেউ একই ধরনের ঘটনার শিকার হয়ে থাকতে পারেন। তাঁদের শনাক্ত করতে অভিযুক্তের ছবি প্রকাশ করা হয়েছে। এ বিষয়ে তথ্য থাকলে টরন্টো পুলিশের ৪১ ডিভিশনে ৪১৬-৮০৮-৪১০০ নম্বরে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।   পুলিশের বিজ্ঞপ্তিতে অভিযুক্তের জাতীয়তা বা রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি। তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত হওয়ার তথ্যও এতে নেই।

প্রকাশ : অক্টোবর ১৬, ২০২৬ ৫:১৬
জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে পেনশন বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ার ড্যানভিল শহরের অবসরপ্রাপ্ত কর্মীরা। ছবি: সংগৃহীত
দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধিতে চাপে অবসর প্রাপ্তরা, পেনশন বাড়ানোর দাবি ভার্জিনিয়ার ড্যানভিলের কর্মীদের

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যের ড্যানভিল শহরের অবসরপ্রাপ্ত কর্মীরা জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে পেনশন বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের বক্তব্য, দীর্ঘদিন নিয়মিত সমন্বয় না হওয়ায় মাসিক পেনশনের ক্রয়ক্ষমতা কমছে। ড্যানভিল সিটি রিটায়ারমেন্ট এমপ্লয়ি কোয়ালিশনের মাধ্যমে তাঁরা সিটি কাউন্সিলের কাছে এই দাবি তুলেছেন।    স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ডব্লিউডিবিজে সেভেনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অবসরপ্রাপ্ত কর্মীরা পেনশনে কস্ট অব লিভিং অ্যাডজাস্টমেন্ট বা কোলা পুনর্বহাল চান। জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ার সঙ্গে অবসরভাতা সমন্বয়ের এই ব্যবস্থা ২০০৮ সালের পর আর পাননি বলে জানিয়েছেন তাঁরা।   সাবেক ফায়ারফাইটার স্ট্যান লটন ড্যানভিলে ২৪ বছর কাজ করেছেন। ঘাড়ে আঘাত ও অস্ত্রোপচারের পর ২০০৩ সালে অবসর নেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, নিয়মিত সমন্বয় না হওয়ায় পেনশন দিয়ে আগের তুলনায় অনেক কম খরচ মেটানো যাচ্ছে। উদ্বেগ জানিয়ে সিটি কাউন্সিলকে চিঠি দিয়েও কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি পাননি বলে জানান লটন।    ড্যানভিল পুলিশ বিভাগের সাবেক জনতথ্য কর্মকর্তা মাইকেল ওয়ালেসও এই উদ্যোগে যুক্ত হয়েছেন। তিনি ৩৩ বছর চাকরির পর ২০২১ সালে অবসর নেন। কয়েক দশক আগে অবসর নেওয়া কর্মীদের অনেকেই প্রায় একই অঙ্কের পেনশন পাচ্ছেন জানতে পেরে তিনি বিষয়টি নিয়ে সক্রিয় হন। কোয়ালিশনের আশা, শহরে নতুন রাজস্বের উৎস তৈরি হওয়ায় পেনশন বাড়ানোর সুযোগ বিবেচনা করবে কাউন্সিল।    শহর কর্তৃপক্ষের ২০২৫ অর্থবছরের আর্থিক প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০১২ সালে অনুমোদিত অধ্যাদেশ অনুযায়ী ২০১৩ সালের ১ জুলাই থেকে অবসরপ্রাপ্তদের কোলা বন্ধ করা হয়। একই সময়ে নির্দিষ্ট শর্তে এককালীন বোনাস দেওয়ার নীতি নেওয়া হয়েছিল। ফলে নিয়মিত পেনশন বৃদ্ধি বন্ধ থাকলেও অবসরপ্রাপ্তদের কোনো ধরনের বাড়তি অর্থই দেওয়া হয়নি, এমনটি নয়।    ওই নীতিতে বোনাসের পরিমাণ একজন অবসরপ্রাপ্ত কর্মীর মাসিক ভাতার সর্বোচ্চ অর্ধেক পর্যন্ত হতে পারে। তবে অর্থ বরাদ্দ ও অনুমোদন সিটি কাউন্সিলের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করে। আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের এপ্রিলে সর্বশেষ বোনাস বাবদ মোট ৬ লাখ ৮১ হাজার ৯৭১ ডলার দেওয়া হয়েছিল। এককালীন এই অর্থ মাসিক পেনশনের স্থায়ী বৃদ্ধি নয়। অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের বর্তমান দাবি নিয়মিত ব্যয় সমন্বয়ের ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনা।

প্রকাশ : অক্টোবর ১৬, ২০২৬ ২:৪০
যুক্তরাষ্ট্রের হাসপাতালগুলোতে সাইবার হামলার ঝুঁকি বাড়ায় কম্পিউটার ও ডিজিটাল ব্যবস্থা ছাড়াই চিকিৎসা দেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। ছবি: সংগৃহীত
সাইবার হামলায় অচল হতে পারে হাসপাতাল! কম্পিউটার ছাড়াই চিকিৎসার প্রস্তুতির আহ্বান

যুক্তরাষ্ট্রে হাসপাতালগুলোর ওপর সাইবার হামলার ঝুঁকি বাড়তে থাকায় কম্পিউটার ও ডিজিটাল ব্যবস্থা ছাড়াই রোগীদের চিকিৎসা দেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন স্বাস্থ্য খাতের বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের মতে, হাসপাতালগুলো প্রযুক্তির ওপর এতটাই নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে যে হঠাৎ কম্পিউটার ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে গেলে চিকিৎসাসেবা চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়তে পারে। এমন পরিস্থিতি মোকাবিলায় হাসপাতালগুলোকে নিয়মিত মহড়ার মাধ্যমে প্রস্তুত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউজউইকের ১৫ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিউইয়র্ক সিটিতে আয়োজিত নিউজউইকের এআই হেলথ সামিটে এসব উদ্বেগ তুলে ধরেন জেফারসন হেলথের নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং প্রধান ডিজিটাল ও তথ্য কর্মকর্তা লুইস টাভেরাস। তিনি জানান, সাইবার অপরাধীদের হামলার ঝুঁকি বাড়ার কারণে হাসপাতালের প্রযুক্তিগত নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়মিত হালনাগাদ করতে হচ্ছে।   টাভেরাসের বক্তব্য অনুযায়ী, আগে তাঁর প্রতিষ্ঠানের প্রযুক্তি দল মাসে একবার বিভিন্ন নিরাপত্তা সংশোধনী ইনস্টল করত। কিন্তু এখন সাইবার হামলার ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় প্রতিদিনই নিরাপত্তাব্যবস্থা হালনাগাদ করতে হচ্ছে। তিনি বলেন, সাইবার অপরাধীরা আর্থিকভাবে শক্তিশালী এবং প্রতিদিনই নতুন উপায়ে হাসপাতালের প্রযুক্তিব্যবস্থায় প্রবেশের চেষ্টা করছে।   সাইবার হামলা হাসপাতালের চিকিৎসাসেবায় কতটা প্রভাব ফেলতে পারে, তার একটি উদাহরণ দেখা গেছে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে। ওই সময় র‍্যানসমওয়্যার হামলার কারণে ইউনিভার্সিটি অব মিসিসিপি মেডিকেল সেন্টারের প্রায় তিন ডজন ক্লিনিক সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হয়। হাসপাতালটির ইলেকট্রনিক স্বাস্থ্য রেকর্ড ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ায় নির্ধারিত কিছু চিকিৎসা কার্যক্রম বাতিল করা হয় এবং কর্মীদের হাতে-কলমে কাজ চালিয়ে যেতে হয়।   সাইবার হামলার প্রভাব শুধু চিকিৎসাসেবা বন্ধ হওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। রোগীদের জীবনও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে আমেরিকান ইকোনমিক জার্নাল: ইকোনমিক পলিসিতে প্রকাশিত একটি গবেষণায় দেখা গেছে, সাইবার হামলা শুরুর সময় হাসপাতালে ভর্তি থাকা রোগীদের মধ্যে মৃত্যুহার ৩৪ থেকে ৩৮ শতাংশ বেশি ছিল। তবে গবেষণায় পাওয়া এই পার্থক্যকে সব হাসপাতাল বা প্রতিটি সাইবার হামলার ক্ষেত্রে একইভাবে প্রযোজ্য বলে ধরে নেওয়া যাবে না।   জেফারসন হেলথের কর্মকর্তা টাভেরাস জানান, এতদিন হাসপাতালগুলো ব্যবসায়িক কার্যক্রম চালু রাখার পরিকল্পনার ওপর বেশি গুরুত্ব দিয়েছে। কিন্তু প্রযুক্তিব্যবস্থা বন্ধ হয়ে গেলে রোগীদের চিকিৎসা কীভাবে অব্যাহত থাকবে, সে বিষয়ে পর্যাপ্ত প্রস্তুতি নেওয়া হয়নি। এ কারণে তাঁর প্রতিষ্ঠান এখন চিকিৎসাসেবা অব্যাহত রাখার জন্য আলাদা পরিকল্পনা তৈরিতে গুরুত্ব দিচ্ছে।   এই পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে কম্পিউটার ছাড়াই জরুরি চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনা এবং হাসপাতালের ন্যূনতম কোন সেবা ও ব্যবস্থা চালু রাখা প্রয়োজন, তা নির্ধারণ করা। প্রযুক্তিগত বিপর্যয়ের মধ্যেও রোগীদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা অব্যাহত রাখাই এর উদ্দেশ্য।   কয়েক সপ্তাহ আগে জেফারসন হেলথে প্রায় তিন ঘণ্টার জন্য প্রযুক্তিব্যবস্থা বন্ধ হয়ে যাওয়ার অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন টাভেরাস। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ওই সময় চিকিৎসাকর্মীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছিল। বিশেষ করে তরুণ চিকিৎসকদের অনেকেই কম্পিউটার ব্যবস্থা ছাড়া কীভাবে কাজ চালিয়ে যেতে হবে, তা বুঝতে পারছিলেন না।   এই অভিজ্ঞতার পর হাসপাতালগুলোতে অগ্নিনির্বাপণ মহড়ার মতো প্রযুক্তিব্যবস্থা বন্ধ থাকার পরিস্থিতি মোকাবিলার মহড়া চালুর প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। টাভেরাস প্রতি তিন মাসে অন্তত একবার দুই থেকে তিন ঘণ্টার জন্য পরীক্ষামূলকভাবে কম্পিউটার ব্যবস্থা বন্ধ রেখে চিকিৎসাকর্মীদের প্রস্তুত করার সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন।   তাঁর মতে, শুধু সাইবার হামলা প্রতিরোধ করাই যথেষ্ট নয়। কোনো কারণে নিরাপত্তাব্যবস্থা ব্যর্থ হলে হাসপাতাল যেন দ্রুত স্বাভাবিক কার্যক্রমে ফিরতে পারে, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে। বিশেষ করে প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে হাসপাতালের কার্যক্রম ছয় থেকে আট সপ্তাহ বন্ধ থাকার মতো পরিস্থিতি এড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।   একই সম্মেলনে প্রযুক্তিব্যবস্থা বন্ধ হয়ে যাওয়ার আরেকটি অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন মেট্রোহেলথ সিস্টেমের প্রধান ক্লিনিক্যাল ট্রান্সফরমেশন, ইনোভেশন অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজি কর্মকর্তা ডা. নাবিল চেহাদে। তিনি জানান, সম্মেলনের প্রায় এক সপ্তাহ আগে তাঁদের প্রতিষ্ঠানে হঠাৎ প্রযুক্তিগত বিপর্যয় ঘটে।   তবে মেট্রোহেলথের ওই ঘটনা সাইবার হামলার কারণে ঘটেনি। ডেটা সেন্টারের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণব্যবস্থায় সমস্যার কারণে দিনের মাঝামাঝি সময়ে কম্পিউটার ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে যায়। এতে চিকিৎসাকর্মীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয় এবং বহির্বিভাগের কার্যক্রম বন্ধ রাখতে হয়।   ডা. চেহাদের বক্তব্য অনুযায়ী, কিছু চিকিৎসক তাঁদের নিয়মিত ব্যবহৃত প্রযুক্তিব্যবস্থা ছাড়া কীভাবে কাজ চালিয়ে যাবেন, তা বুঝতে না পেরে কর্মস্থল ছেড়ে যেতে শুরু করেছিলেন। এই অভিজ্ঞতা হাসপাতালের প্রযুক্তিনির্ভরতার সীমাবদ্ধতা সামনে এনেছে।   এর আগে ২০২৪ সালে চেঞ্জ হেলথকেয়ারের ওপর বড় ধরনের র‍্যানসমওয়্যার হামলা যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্যসেবা খাতে ব্যাপক প্রভাব ফেলেছিল। র‍্যানসমওয়্যার গোষ্ঠী এএলপিএইচভি ব্ল্যাকক্যাটের ওই হামলায় চিকিৎসার বিলসংক্রান্ত দাবি, প্রেসক্রিপশন এবং স্বাস্থ্যবিমার যোগ্যতা যাচাইয়ের কার্যক্রম ব্যাহত হয়।   আমেরিকান হসপিটাল অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, ওই হামলার প্রভাব প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যুক্তরাষ্ট্রের হাসপাতালগুলোতে পড়েছিল। প্রায় এক হাজার হাসপাতালের ওপর পরিচালিত সংস্থাটির জরিপে ৭৪ শতাংশ প্রতিষ্ঠান রোগীদের চিকিৎসাসেবায় প্রভাব পড়ার কথা জানায়।   একই জরিপে ৯৪ শতাংশ হাসপাতাল আর্থিক কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার তথ্য দেয়। এ ছাড়া প্রায় এক-তৃতীয়াংশ হাসপাতাল জানায়, হামলার কারণে তাদের মোট আয়ের অর্ধেকের বেশি অংশ প্রভাবিত হয়েছিল।   স্বাস্থ্য খাতের বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য অনুযায়ী, হাসপাতালগুলোতে ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে জরুরি পরিস্থিতিতে বিকল্প ব্যবস্থায় চিকিৎসাসেবা চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতাও বাড়ানো প্রয়োজন। সাইবার হামলা কিংবা অন্য কোনো প্রযুক্তিগত বিপর্যয়ে কম্পিউটার ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে গেলেও রোগীদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা যাতে অব্যাহত থাকে, সেই প্রস্তুতির ওপরই গুরুত্ব দিচ্ছেন তাঁরা।   সূত্র: নিউজউইক

প্রকাশ : অক্টোবর ১৬, ২০২৬ ২:২৮
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে গ্রাহকদের তিন লাখ ডলারের বেশি আত্মসাতের মামলায় ঠিকাদার জেরেমি জেরড জেনোকে ৩০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
রিফর্মেশন কাজে গ্রাহকদের ৩ লাখ ডলারের বেশি আত্মসাৎ, ঠিকাদারের ৩০ বছরের কারাদণ্ড

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে নির্মাণ ও সংস্কারকাজের জন্য গ্রাহকদের কাছ থেকে তিন লাখ ডলারের বেশি নিয়ে আত্মসাতের মামলায় এক ঠিকাদারকে ৩০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। জেরেমি জেরড জেনো নামের ওই ব্যক্তি ট্যারান্ট কাউন্টিতে চুরির অভিযোগে দোষ স্বীকার করার পর শুক্রবার, ৯ অক্টোবর তাঁকে এই সাজা দেওয়া হয়।    ফক্স ৪ ডালাস ফোর্ট ওয়ার্থের প্রতিবেদনে পুলিশের বরাতে বলা হয়েছে, জেনো গ্রাহকদের কাছ থেকে চেক নিয়ে নগদ অর্থ তুলে নিতেন। পরে কাজ এগিয়ে নেওয়ার বদলে নানা অজুহাত দেখাতেন এবং একপর্যায়ে যোগাযোগ বন্ধ করে দিতেন। তিনি বিভিন্ন ছদ্মনামও ব্যবহার করতেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।   ২০২৪ সালে টেরি স্টিভেনসন নামের এক গ্রাহক বেনব্রুক পুলিশ বিভাগে অভিযোগ করলে তদন্ত শুরু হয়। স্টিভেনসনের ভাষ্য, একটি ভবনের সংস্কারকাজের জন্য তিনি জেনোকে ৪০ হাজার ডলার দিয়েছিলেন। কাজ সামান্য এগোনোর পরই জেনো যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। বারবার নির্মাণসামগ্রী আসার আশ্বাস দিলেও শেষ পর্যন্ত তা আসেনি।    অন্য ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের মধ্যে আর্লিংটনের লি রবিনসন আলভারাডোয় নির্মাণকাজের জন্য ৩৫ হাজার ডলার হারানোর কথা জানিয়েছেন। ডালাসের একটি প্রতিষ্ঠানের সেলভিন রোসা বলেছেন, হুড কাউন্টিতে একটি বাড়ির ভিত্তি নির্মাণ করেও তিনি পাওনা পাননি।   প্রসিকিউটরদের ভাষ্য, হুড কাউন্টিতে একই ধরনের অপরাধের মামলায় আদালতের তত্ত্বাবধানে থাকা অবস্থায় এবং ট্যারান্ট কাউন্টির মামলায় জামিনে থেকেও জেনো একই কার্যক্রম চালিয়ে যান। ফক্স ৪ জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিরা তাঁদের অর্থ ফেরত পাননি।

প্রকাশ : অক্টোবর ১৬, ২০২৬ ২:১৭