- প্রচ্ছদ
- Latest news
Today latest news
20 News
ক্যালিফোর্নিয়াভিত্তিক সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠান এয়ারটেবলের কর্মীদের বড় একটি অংশকে ছাঁটাই করছে নতুন মালিক বেন্ডিং স্পুনস। গত ১২ অক্টোবর এই সিদ্ধান্তের কথা জানান ইতালীয় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানটির প্রোডাক্ট লিডার ফেদেরিকো সিমিওনাতো। কতজন চাকরি হারাচ্ছেন, তা প্রকাশ করা হয়নি। ছোট দল দিয়ে আরও কার্যকরভাবে কাজ পরিচালনার যুক্তি দিয়েছে কোম্পানিটি। বিজনেস ইনসাইডারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এক্সে দেওয়া ঘোষণায় সিমিওনাতো বলেছেন, কর্মীদের কাজের মানের কারণে এই ছাঁটাই হচ্ছে না। বরং ছোট দল আরও বেশি ও ভালো কাজ করতে পারে, প্রতিষ্ঠানের এই বিশ্বাস থেকেই সিদ্ধান্তটি নেওয়া হয়েছে। বিদায়ী কর্মীদের অবদানের জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে তাঁদের নিয়োগের বিষয়টি বিবেচনা করতে অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিও আহ্বান জানান তিনি। এয়ারটেবল অধিগ্রহণ সম্পন্ন হওয়ার প্রায় এক মাস পর এই ঘোষণা এসেছে। বেন্ডিং স্পুনসের আনুষ্ঠানিক তথ্য অনুযায়ী, গত ৪ আগস্ট প্রতিষ্ঠানটি কেনার চুক্তি হয়। এতে এয়ারটেবলের এন্টারপ্রাইজ ভ্যালু নির্ধারণ করা হয় ১২৮ কোটি ৫০ লাখ ডলার। অধিগ্রহণ সম্পন্ন হয় ৪ সেপ্টেম্বর। এয়ারটেবল মূলত তথ্য সংগঠিত করা, দলগত কাজ পরিচালনা ও কাজের প্রক্রিয়া সহজ করার সফটওয়্যার সরবরাহ করে। নতুন মালিকানায় প্রতিষ্ঠানটিকে ছোট দল এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক সুবিধাকে কেন্দ্র করে পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে বিজনেস ইনসাইডার জানিয়েছে। তবে ছাঁটাই হওয়া কর্মীদের নির্দিষ্ট সংখ্যা সম্পর্কে অতিরিক্ত তথ্য দিতে রাজি হননি কোম্পানির মুখপাত্র। নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে বে এরিয়া নিউজ গ্রুপের হিসাব তুলে ধরে বলা হয়েছে, সান ফ্রান্সিসকো বে এরিয়ার প্রযুক্তি খাতে ২০২৬ সালে ইতিমধ্যে ১৪ হাজারের বেশি চাকরি ছাঁটাই হয়েছে। এই সংখ্যা পুরো ২০২৫ সালের মোট ছাঁটাইকে ছাড়িয়ে গেছে। এটি ওই অঞ্চলের প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্মিলিত হিসাব, শুধু এয়ারটেবলের ছাঁটাইয়ের সংখ্যা নয়। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ওয়ার্কডে আগামী ৩০ নভেম্বর ক্যালিফোর্নিয়ার প্লেজ্যান্টনে তাদের প্রধান কার্যালয়ের ১৪২ কর্মীকে ছাঁটাইয়ের পরিকল্পনা জানিয়েছে। একই অঞ্চলে একাধিক প্রতিষ্ঠানের কর্মী কমানোর মধ্যেই এয়ারটেবলের নতুন ঘোষণা এল। তবে এয়ারটেবলের ক্ষেত্রে কোন বিভাগে কত পদ বাদ যাচ্ছে, তা প্রকাশ করা হয়নি।
আন্তর্জাতিক দাবা প্রতিযোগিতায় হিজাব ছাড়া অংশ নেওয়ায় ২০১৭ সালে ইরানের জাতীয় দল ও দেশের ভেতরের প্রতিযোগিতায় নিষিদ্ধ হয়েছিলেন দরসা দেরাখশানি। সেই বছরই যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট লুইস ইউনিভার্সিটিতে দাবার স্কলারশিপ নিয়ে পড়াশোনা শুরু করেন তিনি। পরে ফেডারেশন বদলে যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে খেলার পথ বেছে নেন এই ইরানি দাবাড়ু। দরসা উইমেন গ্র্যান্ডমাস্টার ও ইন্টারন্যাশনাল মাস্টার খেতাবধারী। ইউএস চেসের তথ্য অনুযায়ী, জিব্রাল্টার দাবা উৎসবে হিজাব না পরে খেলার ঘটনায় ইরানের দাবা ফেডারেশন তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়। তখন তিনি স্পেনের বার্সেলোনায় বসবাস করছিলেন। ফলে নিষেধাজ্ঞার পর সরাসরি ইরান থেকে যুক্তরাষ্ট্রে চলে এসেছিলেন, ঘটনাপ্রবাহটি এমন নয়। ২০১৭ সালের গ্রীষ্মে দরসা মিসৌরির সেন্ট লুইসে আসেন এবং ওই বছরের শরতে বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস শুরু করেন। সেন্ট লুইস ইউনিভার্সিটির বিবরণ অনুযায়ী, তিনি ছিলেন তাদের দাবা দলে স্কলারশিপ পাওয়া প্রথম নারী। বিশ্ববিদ্যালয়টির জীববিজ্ঞান, হেলথ সায়েন্সেস ও প্রি-মেড পড়াশোনার সুযোগ এবং শহরটির দাবার পরিবেশ তাঁকে সেখানে যেতে উৎসাহিত করেছিল। পড়াশোনার পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের দাবা দলের হয়ে অনুশীলন ও প্রতিযোগিতা চালিয়ে যান দরসা। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকাশিত তথ্যে তাঁকে হেলথ সায়েন্সেস ও জীববিজ্ঞানের শিক্ষার্থী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। চিকিৎসাশাস্ত্রে পড়াশোনা করে সার্জন হওয়ার আগ্রহের কথাও জানিয়েছিলেন তিনি। ২০১৭ সালের ৪ অক্টোবর ইউএস চেস আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়, দরসা ফেডারেশন পরিবর্তন করে তাদের খেলোয়াড় হয়েছেন। সে সময় তিনি বলেছিলেন, যে ফেডারেশনে তাঁকে স্বাগত জানানো হয় এবং সহযোগিতা করা হয়, সেখানে খেলতে তাঁর ভালো ও শান্তিপূর্ণ লাগে। যুক্তরাষ্ট্রে তাঁর উল্লেখযোগ্য সাফল্যের একটি আসে ২০২০ সালে। সে বছর ইউএস উইমেনস চেস চ্যাম্পিয়নশিপে তৃতীয় হন তিনি। সেন্ট লুইস ইউনিভার্সিটির তথ্য অনুযায়ী, প্রতিযোগিতায় দ্বাদশ বাছাই হিসেবে শুরু করেও প্রথম তিনজনের মধ্যে জায়গা করে নেন দরসা। নিজের অভিজ্ঞতা নিয়ে লেখালেখি ও বক্তব্যেও ব্যক্তিগত পছন্দের স্বাধীনতার কথা তুলে ধরেছেন দরসা। ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে নিউইয়র্ক টাইমসে প্রকাশিত মতামত নিবন্ধে নিজের যাত্রার কথা লেখেন তিনি। পরে একটি টেডএক্স বক্তব্যে নারীদের ওপর সামাজিক প্রত্যাশা ও নিজের সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার নিয়ে আলোচনা করেন। বিশ্ববিদ্যালয়কে দেওয়া বক্তব্যে তিনি নিজের পছন্দের স্বাধীনতার পাশাপাশি অন্যের পছন্দকেও সম্মান করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছিলেন।
ঢাকার মোহাম্মদপুরের ১০০ শয্যাবিশিষ্ট মা ও শিশুস্বাস্থ্য হাসপাতালে দুই কন্যাসন্তানের জন্মের সময় প্রসবসংশ্লিষ্ট টিকিট বাবদ মোট ৭৫ টাকা খরচ হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্কুলশিক্ষক নাজমুন নাহার। প্রথম সন্তানের জন্মের সময় ১০ টাকা এবং দ্বিতীয় সন্তানের সময় জরুরি সেবার টিকিটে ৬৫ টাকা দিয়েছেন তিনি। দুবারই স্বাভাবিক প্রসব হয়েছে এবং এক রাত হাসপাতালে থাকার পর বাড়ি ফিরেছেন। ১৪ অক্টোবর প্রথম আলোয় প্রকাশিত নিজের অভিজ্ঞতাভিত্তিক লেখায় নাজমুন জানান, তাঁর প্রথম কন্যার জন্ম হয় ২০২১ সালের শুরুর দিকে। দ্বিতীয় কন্যার জন্ম হয় ২০২৬ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর। হাসপাতালটি মোহাম্মদপুর ফার্টিলিটি সার্ভিসেস অ্যান্ড ট্রেনিং সেন্টার নামেও পরিচিত। নাজমুনের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রথম গর্ভাবস্থায় তিনি কয়েকজন চিকিৎসকের প্রাইভেট চেম্বারে গিয়েছিলেন। সেখানে দীর্ঘ সময় অপেক্ষার অভিজ্ঞতার পর গর্ভাবস্থার মাঝামাঝি সময়ে বাড়ির কাছের এই সরকারি হাসপাতালে সেবা নিতে শুরু করেন। হাসপাতালের পরিচ্ছন্ন পরিবেশ, চিকিৎসাকর্মীদের সহযোগিতা এবং মিডওয়াইফদের দক্ষতার প্রশংসা করেছেন তিনি। দুই সন্তানের জন্মের সময়ই প্রসবে জটিলতা ছিল না বলে জানান নাজমুন। তাঁর বর্ণনায়, মিডওয়াইফরাই প্রসবের দায়িত্ব পালন করেন। সন্তান জন্মের পর দুবারই রাতটুকু হাসপাতালে থেকে পরদিন বাড়ি ফেরেন তিনি। প্রসবসংশ্লিষ্ট ৭৫ টাকার বাইরে দুই সন্তানের জন্য হাসপাতাল থেকে জন্মসনদ নিতে আরও মোট ২০০ টাকা খরচ হয়েছে বলে উল্লেখ করেন এই শিক্ষিকা। ফলে তাঁর উল্লেখ করা ৭৫ টাকা জন্মসনদসহ সব খরচের হিসাব নয়, দুইবারের প্রসবসংশ্লিষ্ট টিকিটের খরচ। তাঁর লেখায় আরও বলা হয়েছে, হাসপাতালে কোনো ওষুধ সরবরাহ না থাকলে তা বাইরে থেকে কিনতে হয় এবং সেই ব্যয় রোগীকেই বহন করতে হয়। তাই ৭৫ টাকার হিসাবটি তাঁর নিজের দুটি জটিলতাহীন স্বাভাবিক প্রসবের অভিজ্ঞতা, সব রোগীর চিকিৎসার নির্ধারিত মোট খরচ হিসেবে তা ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই। সূত্র: প্রথম আলো
যুক্তরাষ্ট্রে আর্থিক সংকটে খাবারের খরচ মেটাতে অসুবিধায় পড়লে স্থানীয় ফুড প্যান্ট্রি বা খাবার বিতরণ কর্মসূচির সহায়তা নেওয়া যায়। নিজের জিপ কোড দিয়ে ফিডিং আমেরিকার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট এলাকার ফুড ব্যাংক খোঁজা যায়। এ ছাড়া ২১১ নম্বরে ফোন করেও কাছাকাছি খাবারের সহায়তা সম্পর্কে জানা সম্ভব। তবে কোথায় সরাসরি খাবার দেওয়া হয় এবং যাওয়ার আগে কী প্রস্তুতি দরকার, তা নিশ্চিত করে নেওয়া জরুরি। ফুড ব্যাংক ও ফুড প্যান্ট্রির কাজের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। ফিডিং আমেরিকার ব্যাখ্যা অনুযায়ী, ফুড ব্যাংক মূলত খাবার সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করে। আর ফুড প্যান্ট্রি সেই খাবার সরাসরি মানুষের হাতে পৌঁছে দেয়। তাই ফুড ব্যাংকের ঠিকানা পেলেই সেখানে সরাসরি খাবার সংগ্রহ করা যাবে, এমন ধরে নেওয়া ঠিক হবে না। কাছাকাছি সহায়তা খুঁজতে গুগলে ‘Feeding America’ লিখে সংস্থাটির ওয়েবসাইটে যেতে পারেন। সেখানে ‘Find Your Local Food Bank’ অংশে নিজের জিপ কোড দিলে সংশ্লিষ্ট এলাকার ফুড ব্যাংকের তথ্য পাওয়া যাবে। এরপর ওই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করে সহযোগী ফুড প্যান্ট্রি, খাবার বিতরণের স্থান ও সময় জেনে নিতে হবে। ফোনে তথ্য পেতে মোবাইল বা ল্যান্ডলাইন থেকে ২১১ নম্বরে কল করা যায়। ইউনাইটেড ওয়ে ২১১ জানিয়েছে, তাদের স্থানীয় প্রতিনিধিরা এলাকার ফুড প্যান্ট্রি, খাবার পৌঁছে দেওয়ার সেবা এবং খাবারের খরচে সহায়তাকারী কর্মসূচির তথ্য দিতে পারেন। নিজের অবস্থান ও কী ধরনের সহায়তা দরকার, তা জানালে প্রাসঙ্গিক সেবার খোঁজ পাওয়া সহজ হয়। গুগল বা গুগল ম্যাপসে ‘Free Food Pantry Near Me’ কিংবা ‘Food Bank Near Me’ লিখেও প্রাথমিক খোঁজ নেওয়া যায়। তবে শুধু সার্চে দেখানো সময়ের ওপর নির্ভর না করে যাওয়ার আগে প্রতিষ্ঠানটিতে ফোন করুন। সেদিন খাবার বিতরণ হবে কি না, আগে রেজিস্ট্রেশন বা অ্যাপয়েন্টমেন্ট লাগবে কি না এবং সঙ্গে কোনো কাগজপত্র নিতে হবে কি না, তা জেনে নিন। ফিডিং আমেরিকা জানিয়েছে, খাবারের খরচ মেটাতে বাড়তি সহায়তা প্রয়োজন হলে ফুড প্যান্ট্রি বা খাবার কর্মসূচিতে যাওয়া যায়। তবে কিছু কর্মসূচিতে নির্দিষ্ট এলাকার বাসিন্দা হওয়ার শর্ত থাকতে পারে। প্রথমবার গেলে পরিবারের প্রয়োজন সম্পর্কে প্রশ্ন করা বা ফরম পূরণ করতে বলা হতে পারে। তাই নিজের জিপ কোড, ঠিকানা ও পরিবারের সদস্যসংখ্যার তথ্য প্রস্তুত রাখুন এবং সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের নিয়ম আগে জেনে নিন। খাবারের সহায়তা খুঁজতে ইউএসডিএ ন্যাশনাল হাঙ্গার হটলাইনের ১-৮৬৬-৩৪৮-৬৪৭৯ নম্বরেও ফোন করা যায়। ইউএসডিএর তথ্য অনুযায়ী, এই হটলাইনের প্রতিনিধিরা কলকারীর অবস্থানের কাছাকাছি খাবার বিতরণকেন্দ্র, ফুড ব্যাংক ও অন্যান্য সামাজিক সেবার খোঁজ পেতে সহায়তা করেন।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে কারও নামে মিথ্যা ও বানোয়াট কনটেন্ট তৈরি করা এবং তা ছড়িয়ে দেওয়াকে সুস্পষ্ট অপরাধ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন জনপ্রিয় বাংলাদেশি অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরী। একই সঙ্গে যারা এসব ভুয়া কনটেন্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যাচাই না করে শেয়ার করেন, তাদের মানসিকতা ও ভূমিকা নিয়েও তিনি কড়া সমালোচনা করেছেন। আজ বৃহস্পতিবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক দীর্ঘ স্ট্যাটাসে সাইবার বুলিং ও সামাজিক অবক্ষয়ের এই গুরুতর বিষয়টি নিয়ে মুখ খোলেন তিনি। প্রযুক্তির অপব্যবহার করে কাউকে হেয় করার এই প্রবণতাকে তিনি কেবল ব্যক্তিগত অপরাধ নয়, বরং একটি বড় সামাজিক সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পোস্টে মেহজাবীন চৌধুরী লেখেন, এআই ব্যবহার করে কারও নামে মিথ্যা ও বানোয়াট কনটেন্ট তৈরি করা এবং কাউকে হেয় করার উদ্দেশ্যে তা ছড়িয়ে দেওয়া কোনোভাবেই বিনোদন হতে পারে না, এটি একটি সাইবার অপরাধ। যখন এই একই কনটেন্ট শত শত কিংবা হাজার হাজার মানুষ শেয়ার করতে থাকে, তখন বিষয়টি আর শুধু একজন ব্যক্তির অপরাধের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। এটি আমাদের সামগ্রিক সামাজিক অবক্ষয়ের একটি ভয়ংকর চিত্র তুলে ধরে। সমাজ হিসেবে আমরা আসলে কতটা নিচে নেমে গেছি, সেই প্রশ্নটি এখন বড় হয়ে দেখা দিয়েছে বলে তিনি মনে করেন। সম্মানবোধের বিষয়টি তুলে ধরে এই অভিনেত্রী তার পোস্টে আরও লেখেন, এই পর্যায়ে এসে সেই পুরোনো কথাটাও আর বলতে ইচ্ছে করে না যে, একবার ভাবুন তো, এমনটা যদি আপনার মা কিংবা বোনের সঙ্গে ঘটত। কাউকে মানুষ হিসেবে সম্মান করার জন্য তাকে নিজের পরিবারের সদস্য হিসেবে কল্পনা করার কোনো প্রয়োজন নেই। প্রতিটি মানুষেরই নিজস্ব সম্মান রয়েছে এবং তা রক্ষা করা সবার দায়িত্ব। মানুষ হিসেবে অন্য একজন মানুষকে সম্মান করতে না পারাটা চরম ব্যর্থতা বলে তিনি তার লেখায় ইঙ্গিত দিয়েছেন। সামাজিক মাধ্যমে ভিউ ও লাইকের আশায় অন্যের সম্মানহানি করার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন মেহজাবীন। তিনি বলেন, কিছু ভিউ, কিছু লাইক, কিছু শেয়ার, ট্রেন্ডিংয়ে থাকা এবং সেখান থেকে হয়তো কয়েকটা ডলার আয় করার জন্যই এখন এসব করা হচ্ছে। মানুষের জীবনে সংগ্রাম আছে এবং কনটেন্ট তৈরি করা অনেকের জীবিকা নির্বাহের উপায়, এই বাস্তবতাকে তিনি অস্বীকার করেন না। কিন্তু অন্য একজন মানুষের অপমান আর অসম্মান কবে থেকে আমাদের উপার্জনের মাধ্যম হয়ে উঠল, সেই নৈতিক প্রশ্নটি তিনি সবার সামনে ছুড়ে দিয়েছেন। বিষয়টি এখন কেবল নারী বা পুরুষের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই উল্লেখ করে এই তারকা জানান, ভিউ এবং এনগেজমেন্টের এই অসুস্থ প্রতিযোগিতা এখন লিঙ্গের সীমারেখাও ছাড়িয়ে গেছে। ক্ষতিকর কিছু ছড়িয়ে দেওয়ার এই প্রক্রিয়ায় যে কেউ অংশ নিতে পারে, আবার যে কেউ এর শিকারও হতে পারে। মেহজাবীনকে সবচেয়ে বেশি ভাবায় সেই অসংখ্য মানুষ, যারা স্বেচ্ছায় এসব কন্টেন্ট শেয়ার করে এবং হাজার হাজার মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়। পরিশেষে তিনি সবাইকে ভেবে দেখতে বলেছেন, একজন অপরাধীর অপরাধে অংশ নিয়ে মানুষ নিজের বিবেকহীনতার পরিচয় দেবে কি না। সূত্র: ইত্তেফাক, মেহজাবীন চৌধুরীর ফেসবুক পেজ
নিউইয়র্কে সাশ্রয়ী আবাসনের সুযোগ বাড়াতে ব্রঙ্কসের একটি আবাসন ভবনে মাসে ৬৭৫ ডলারে স্টুডিও অ্যাপার্টমেন্টের জন্য আবেদন গ্রহণ করা হচ্ছে। নিউইয়র্কের স্থানীয় সংবাদমাধ্যম পিক্স১১-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওয়েবস্টার অ্যাভিনিউ রেসিডেন্সের এসব অ্যাপার্টমেন্টের জন্য আবেদন জমা দেওয়ার শেষ সময় আগামী ২০ নভেম্বর। নির্ধারিত আয়সীমার মধ্যে থাকা এক বা দুই সদস্যের পরিবার এ আবাসন কর্মসূচিতে আবেদন করতে পারবে। অ্যাপার্টমেন্টগুলো ব্রঙ্কসের ট্রেমন্ট এলাকায় ৪১১ ইস্ট ১৭৮তম স্ট্রিটে অবস্থিত ওয়েবস্টার অ্যাভিনিউ রেসিডেন্স ভবনে। ভবনটির পরিচালনায় রয়েছে অলাভজনক আবাসন সংস্থা ব্রেকিং গ্রাউন্ড। মাসিক ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ৬৭৫ ডলার। আবেদনকারীর পরিবারের বার্ষিক আয় হতে হবে ২৬ হাজার ৯২ ডলার থেকে ৭১ হাজার ২৮০ ডলারের মধ্যে। তবে শুধু আবেদন করলেই অ্যাপার্টমেন্ট পাওয়া নিশ্চিত নয়, নির্ধারিত যোগ্যতা ও বাছাইপ্রক্রিয়া অনুসরণ করেই বাসিন্দা নির্বাচন করা হবে। ভবনটিতে বাসিন্দাদের জন্য রয়েছে ব্যায়ামাগার, নিজস্ব লন্ড্রি সুবিধা এবং ২৪ ঘণ্টা নিরাপত্তাব্যবস্থা। ব্রেকিং গ্রাউন্ডের তথ্য অনুযায়ী, ওয়েবস্টার অ্যাভিনিউ রেসিডেন্সে মোট ১৭০টি ছোট আকারের স্টুডিও অ্যাপার্টমেন্ট রয়েছে। এর মধ্যে ৯০টি গৃহহীনতার অভিজ্ঞতা থাকা ব্যক্তি ও বিশেষ সহায়তা প্রয়োজন এমন বাসিন্দাদের জন্য নির্ধারিত। বাকি ৮০টি ইউনিট ব্রঙ্কসের স্বল্প আয়ের কর্মজীবী মানুষের জন্য রাখা হয়েছে। ভবনটি ২০১৮ সালে চালু হয়। আগ্রহী ব্যক্তিরা অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন। এ ছাড়া আবেদনপত্র পেতে (৬৪৬) ৮৭০-৮৩৪০ নম্বরে ফোন করা অথবা intake@breakingground.org ঠিকানায় ইমেইল করা যাবে। আবেদন করার আগে আয়সীমা, পরিবারের সদস্যসংখ্যা এবং অন্যান্য যোগ্যতার শর্ত ভালোভাবে যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন জমা দিতে হবে। অনলাইন আবেদন নিউইয়র্ক স্টেটের আবাসন আবেদন পোর্টাল আবেদন করুন সূত্র: পিক্স১১, ব্রেকিং গ্রাউন্ড।
পর্তুগালের হোসে মেস্ত্রের মুখের এক পাশ ধীরে ধীরে ঢেকে ফেলেছিল অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে ওঠা বিশাল এক টিউমার। ঠোঁট থেকে শুরু করে মুখের বড় অংশজুড়ে ছড়িয়ে পড়া এই টিউমারের কারণে তিনি এক চোখের দৃষ্টিশক্তি হারান। শ্বাস নিতে কষ্ট হতো, খাবার খাওয়াও হয়ে উঠেছিল কঠিন। দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন চিকিৎসকের কাছে গিয়েও কার্যকর সমাধান পাননি তিনি। একসময় তাঁর চিকিৎসার সম্ভাবনা প্রায় শেষ বলে মনে হচ্ছিল। কিন্তু লিসবনের রাস্তায় এক অচেনা ব্রিটিশ পর্যটকের সঙ্গে দেখা হওয়ার পর তাঁর জীবনে নতুন আশার সূচনা হয়। ১৯৫০-এর দশকে জন্ম নেওয়া মেস্ত্রের মুখে জন্মগত রক্তনালির অস্বাভাবিকতা ছিল। কৈশোরে, প্রায় ১৪ বছর বয়স থেকে, সেটি দ্রুত বাড়তে শুরু করে। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এ ধরনের সমস্যাকে ভাসকুলার ম্যালফরমেশন বা রক্তনালির গঠনগত ত্রুটি বলা হয়। তাঁর মুখের টিউমারটি সময়ের সঙ্গে এত বড় হয়ে ওঠে যে ঠোঁট, মুখ ও জিহ্বার স্বাভাবিক গঠন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। চিকিৎসকেরা আশঙ্কা করেছিলেন, রক্তপাত ও অন্যান্য জটিলতার কারণে তাঁর জীবনও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। মেস্ত্রের চিকিৎসার জন্য পর্তুগালের পাশাপাশি স্পেন, জার্মানি ও যুক্তরাজ্যের চিকিৎসাকেন্দ্রেও পরামর্শ নেওয়া হয়েছিল। তবে রোগের জটিলতা এবং অস্ত্রোপচারের ঝুঁকির কারণে চিকিৎসা নিয়ে একমত হওয়া যাচ্ছিল না। তাঁর পরিবারের ধর্মীয় বিশ্বাসও চিকিৎসার সিদ্ধান্তকে জটিল করে তুলেছিল। মেস্ত্রে ও তাঁর মা রক্ত সঞ্চালন নিয়ে আপত্তি করতেন। ফলে এমন একটি অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ ছিল না, যেখানে অতিরিক্ত রক্তপাতের আশঙ্কা ছিল। মায়ের মৃত্যুর পর ছোট বোন এডিথ আব্রেউ তাঁর দেখাশোনার দায়িত্ব নেন। ভাইয়ের চিকিৎসার জন্য তিনি নতুন করে সাহায্য খুঁজতে থাকেন। এ সময় ‘পিটার’ নামে পরিচিত এক ব্রিটিশ পর্যটক লিসবনের রাস্তায় মেস্ত্রেকে দেখেন। এর আগে মুখের জটিল টিউমার নিয়ে অস্ত্রোপচারের একটি তথ্যচিত্র দেখেছিলেন তিনি। সেই সূত্রে চিকিৎসক ম্যাককে ম্যাককিননের কথা মনে পড়ে তাঁর। পরে ই-মেইলের মাধ্যমে মেস্ত্রের চিকিৎসার বিষয়ে যোগাযোগের উদ্যোগ নেন ওই পর্যটক। মেস্ত্রের পরিবার তাঁকে কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করত বলে সে সময়ের সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছিল। ২০১০ সালে মেস্ত্রে ও তাঁর বোন যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোতে যান। সেখানে সেন্ট জোসেফ হাসপাতালে তাঁর চিকিৎসা শুরু হয়। প্লাস্টিক ও পুনর্গঠনমূলক অস্ত্রোপচারে অভিজ্ঞ চিকিৎসক ম্যাককে ম্যাককিনন এবং তাঁর দল কয়েক ধাপে অস্ত্রোপচার করেন। প্রথমে শ্বাস নেওয়ার পথ নিরাপদ করা হয় এবং টিউমারের বড় অংশ অপসারণ করা হয়। পরবর্তী অস্ত্রোপচারগুলোতে মুখ, নাক ও মুখগহ্বরের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ পুনর্গঠনের কাজ চলে। চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের জন্য তাঁকে কয়েক মাস শিকাগোয় থাকতে হয়েছিল। অস্ত্রোপচার ছিল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। টিউমারটি রক্তনালিতে ভরা থাকায় অতিরিক্ত রক্তপাতের আশঙ্কা ছিল। চিকিৎসকদের লক্ষ্য ছিল শুধু টিউমার অপসারণ নয়, মেস্ত্রের শ্বাস নেওয়া, খাবার খাওয়া এবং দৈনন্দিন জীবনযাপনের সক্ষমতাও ফিরিয়ে আনা। চিকিৎসার পর তাঁর মুখের চেহারায় বড় পরিবর্তন আসে। তবে অস্ত্রোপচার শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সব সমস্যা দূর হয়ে যায়নি। ক্ষত সারানো, মুখের গঠন পুনর্গঠন এবং দীর্ঘদিনের শারীরিক ও মানসিক অভিজ্ঞতা কাটিয়ে ওঠার জন্য আরও সময় প্রয়োজন ছিল। মেস্ত্রের জীবনের এই অধ্যায় শুধু চিকিৎসাবিজ্ঞানের অগ্রগতির গল্প নয়, অপরিচিত একজন মানুষের উদ্যোগ কীভাবে অন্যের জীবনে পরিবর্তনের পথ খুলে দিতে পারে, তারও উদাহরণ। যাঁরা আগে তাঁর মুখের দিকে কৌতূহল নিয়ে তাকাতেন, তাঁদের আচরণে তিনি প্রায়ই অস্বস্তিতে পড়তেন বলে সে সময়ের প্রতিবেদনগুলোতে উঠে এসেছে। অস্ত্রোপচারের পর তিনি বাইরে বের হতে এবং মানুষের সঙ্গে স্বাভাবিকভাবে মিশতে আগের তুলনায় বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করতেন বলে তাঁর পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছিলেন। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গল্পে তাঁর নামে প্রচারিত ‘আমার মুখ কুৎসিত, কিন্তু মন নয়’ বক্তব্যটির নির্ভরযোগ্য মূল উৎস নিশ্চিত করা যায়নি। তাই এটিকে তাঁর যাচাই করা সরাসরি উদ্ধৃতি হিসেবে উপস্থাপন করা ঠিক হবে না। নিশ্চিতভাবে জানা যায়, মেস্ত্রে দীর্ঘদিন একটি জটিল জন্মগত সমস্যার সঙ্গে লড়াই করেছেন এবং ২০১০ সালে যুক্তরাষ্ট্রে তাঁর মুখের বড় টিউমার অপসারণ করা হয়। পর্তুগিজ সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, হোসে মেস্ত্রে ২০২১ সালের ১৬ ডিসেম্বর মারা যান। তাঁর জীবন ও চিকিৎসার গল্প আজও মানুষের সহমর্মিতা, চিকিৎসাসেবায় প্রবেশাধিকার এবং শারীরিক ভিন্নতার কারণে কাউকে অবজ্ঞা না করার গুরুত্ব মনে করিয়ে দেয়। সূত্র: এবিসি নিউজ, এবিসি৭ শিকাগো, পর্তুগালের Notícias ao Minuto।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে শিশু-কিশোরদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে বিধিনিষেধ আরোপের আইন কার্যকরের পথে বড় আইনি বাধা দূর হয়েছে। ১৪ বছরের কম বয়সীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজস্ব অ্যাকাউন্ট খোলার ওপর নিষেধাজ্ঞা এবং ১৪ ও ১৫ বছর বয়সীদের ক্ষেত্রে অভিভাবকের সম্মতি বাধ্যতামূলক করার আইন কার্যকরের অনুমতি দিয়েছেন দেশটির একটি ফেডারেল আপিল আদালত। বুধবার (১৪ অক্টোবর) তিন বিচারকের একটি প্যানেল সর্বসম্মতভাবে এ সিদ্ধান্ত দেয়। আদালতের মতে, শিশু-কিশোরদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আসক্তি থেকে সুরক্ষিত রাখার উদ্দেশ্যে প্রণীত আইনটি সাংবিধানিক পরীক্ষায় টিকে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ২০২৪ সালে ফ্লোরিডার গভর্নর রন ডিস্যান্টিস আইনটিতে স্বাক্ষর করেন। যুক্তরাষ্ট্রে শিশু-কিশোরদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে বিধিনিষেধ আরোপের ক্ষেত্রে এটিকে অন্যতম কঠোর আইন হিসেবে বিবেচনা করা হয়। আইন অনুযায়ী, ১৪ বছরের কম বয়সীরা নির্ধারিত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজস্ব অ্যাকাউন্ট খুলতে পারবে না। আর ১৪ ও ১৫ বছর বয়সীদের অ্যাকাউন্ট খুলতে হলে বাবা-মা বা আইনগত অভিভাবকের অনুমতি নিতে হবে। তবে আইনটি সব ধরনের অনলাইন সেবার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। এতে মূলত এমন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যেগুলো অ্যালগরিদমের পাশাপাশি ব্যবহারকারীদের দীর্ঘ সময় ধরে যুক্ত রাখতে পারে এমন কিছু বৈশিষ্ট্য ব্যবহার করে। আদালতের রায়ে বলা হয়েছে, আইনটি যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের প্রথম সংশোধনীর আওতায় থাকা মতপ্রকাশের স্বাধীনতার সঙ্গে সম্পর্কিত হলেও এটি সম্ভবত নিরপেক্ষভাবে প্রয়োগ করা হচ্ছে। বিচারকদের মতে, শিশু-কিশোরদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আসক্তি থেকে সুরক্ষা দেওয়ার গুরুত্বপূর্ণ স্বার্থে আইনটি যতটুকু প্রয়োজন, তার চেয়ে অনেক বেশি মাত্রায় মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় বাধা সৃষ্টি করছে না। এ কারণে পূর্ণাঙ্গ আইনি পর্যালোচনার পরও আইনটি বহাল থাকার সম্ভাবনা রয়েছে বলে আদালত মনে করছে। তবে এই সিদ্ধান্তকে আইনের সাংবিধানিক বৈধতা নিয়ে সব ধরনের আইনি বিতর্কের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হিসেবে দেখা যাচ্ছে না। ফ্লোরিডার আইনটির বিরুদ্ধে মামলা করেছিল প্রযুক্তি ও ইন্টারনেট শিল্পের প্রতিনিধিত্বকারী দুটি সংগঠন, কম্পিউটার অ্যান্ড কমিউনিকেশনস ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশন এবং নেটচয়েস। তাদের যুক্তি, এ ধরনের বিধিনিষেধ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারী এবং সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন করে। ২০২৫ সালে নিম্ন আদালতের একজন বিচারক আইনটি সম্ভবত অসাংবিধানিক বলে মত দিয়ে এর প্রয়োগে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিলেন। পরে আপিল আদালতে মামলার শুনানি চলাকালে সেই নিষেধাজ্ঞা স্থগিত রাখা হয়। এবার আপিল আদালত নিম্ন আদালতের ওই আদেশ বাতিল করায় আইনটি কার্যকরের পথ খুলেছে। আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, আইনটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সব ধরনের ব্যবহার বন্ধ করে দিচ্ছে না। বরং নির্দিষ্ট বয়সীদের নিজস্ব অ্যাকাউন্ট খোলার ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করছে। আদালতের নথি অনুযায়ী, ১৬ বছর বা তার বেশি বয়সীদের ক্ষেত্রে এ আইনে বয়সের ভিত্তিতে একই ধরনের নিষেধাজ্ঞা নেই। তবে সংশ্লিষ্ট প্ল্যাটফর্মগুলোকে ব্যবহারকারীর বয়স যাচাই এবং প্রয়োজন অনুযায়ী অভিভাবকের সম্মতি নিশ্চিত করতে হতে পারে। আইনটির আওতায় পড়া প্ল্যাটফর্মে আগে থেকেই থাকা অপ্রাপ্তবয়স্কদের অ্যাকাউন্টও নির্ধারিত শর্ত অনুযায়ী বন্ধ করতে হবে। নেটচয়েস আদালতের সিদ্ধান্তে হতাশা প্রকাশ করেছে। সংগঠনটির আইনজীবী পল টাস্কে বলেছেন, অনলাইনে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষা এবং পরিবারের জন্য সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে অভিভাবকদের ভূমিকা বজায় রাখতে তাঁরা আইনি বিকল্পগুলো পর্যালোচনা করছেন। অন্যদিকে, ফ্লোরিডার অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় তাৎক্ষণিকভাবে এ বিষয়ে মন্তব্য করেনি বলে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস জানিয়েছে। আপিল আদালতের সিদ্ধান্তের পর মামলাটি ফ্লোরিডার রাজধানী টালাহাসির ফেডারেল আদালতে ফিরে যাবে। সেখানে পরবর্তী আইনি কার্যক্রম চলবে। ফলে আইনটির প্রয়োগ নিয়ে বিতর্ক পুরোপুরি শেষ হয়নি। শিশু-কিশোরদের অনলাইন নিরাপত্তা নিশ্চিত করার সরকারি উদ্যোগ এবং ইন্টারনেটে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার মধ্যে ভারসাম্য কীভাবে নির্ধারিত হবে, তা এই মামলার পরবর্তী পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। সূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস, যুক্তরাষ্ট্রের ১১তম সার্কিট কোর্ট অব আপিলসের রায়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া একটি পোস্টে নবীকে অবমাননার অভিযোগে ইরানে নাজমেহ আমিনি নামে ২৩ বছর বয়সী এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার বিরুদ্ধে কর্মকাণ্ড এবং সরকারবিরোধী প্রচারণার অভিযোগে তাঁকে ১২ বছর, ছয় মাস ও এক দিনের কারাদণ্ডও দেওয়া হয়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তথ্য অনুযায়ী, গত জানুয়ারিতে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার পর তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। বর্তমানে তিনি মাশহাদের ভাকিলাবাদ কারাগারে বন্দি রয়েছেন। তবে মৃত্যুদণ্ডের রায় এখনো চূড়ান্ত নয়, ইরানের সুপ্রিম কোর্টে আপিলের সুযোগ রয়েছে। মানবাধিকার সংগঠন ইরান হিউম্যান রাইটস এবং হেঙ্গাও অর্গানাইজেশন ফর হিউম্যান রাইটস জানিয়েছে, আমিনি হিসাববিজ্ঞানের শিক্ষার্থী। গত ১৬ সেপ্টেম্বর তাঁর বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলায় রায় দেওয়া হয়। এর একটিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নবীকে অবমাননার অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। অন্য মামলায় জাতীয় নিরাপত্তার বিরুদ্ধে কর্মকাণ্ড এবং সরকারের বিরুদ্ধে প্রচারণার অভিযোগে দীর্ঘ কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। ইরানের সংবাদমাধ্যম খোরাসানও তাঁর মামলার খবর প্রকাশ করেছে। তবে বিতর্কিত পোস্টটির সম্পূর্ণ বক্তব্য প্রকাশ্যে আসেনি। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তথ্য অনুযায়ী, গত ৩১ জানুয়ারি মাশহাদের একটি বাণিজ্যিক এলাকা থেকে আমিনিকে গ্রেপ্তার করা হয়। সে সময় ইরানজুড়ে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ চলছিল। তাঁকে গ্রেপ্তারের পর ভাকিলাবাদ কারাগারে নেওয়া হয়। তাঁর বিরুদ্ধে প্রথমে ধর্মীয় ব্যক্তিত্বদের অবমাননার অভিযোগ আনা হয়েছিল বলে মানবাধিকার সংগঠনগুলো জানিয়েছে। পরে বিচারিক প্রক্রিয়ায় অভিযোগ পরিবর্তন করে নবীকে অবমাননার অভিযোগ আনা হয়। ইরানের আইনে এ অপরাধে মৃত্যুদণ্ডের বিধান রয়েছে। কারাগার থেকে পাঠানো বলে পরিচিত একটি অডিও বার্তায় আমিনি নিজের মামলার পুনর্বিবেচনা এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন। ১৮ সেপ্টেম্বরের তারিখ উল্লেখ করে দেওয়া ওই বার্তায় তিনি আইনজীবী, আইনি বিশেষজ্ঞ, মানবাধিকারকর্মী ও জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর কাছে তাঁর মামলার নথি পর্যালোচনার অনুরোধ করেন। তিনি বলেন, তাঁর বক্তব্য যেন কারাগারের নথিতে সীমাবদ্ধ না থাকে এবং তাঁর হয়ে অন্যরা যেন কথা বলেন। অডিও বার্তাটির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর প্রকাশিত তথ্যে সীমাবদ্ধতা রয়েছে। ইরান হিউম্যান রাইটসের পরিচালক মাহমুদ আমিরি-মোগাদ্দাম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত বক্তব্যের কারণে একজন তরুণীকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার ঘটনাকে উদ্বেগজনক বলে বর্ণনা করেছেন। তাঁর মতে, এ ধরনের রায় অনলাইন বক্তব্যের ক্ষেত্রেও মৃত্যুদণ্ড প্রয়োগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। সংগঠনটি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি রায় বাতিলের দাবিতে উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালও ইরানে মৃত্যুদণ্ড ও কারাদণ্ডের ব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সংস্থাটির মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা অঞ্চলের পরিচালক হেবা মোরায়েফের বক্তব্য অনুযায়ী, ভিন্নমত দমনে মৃত্যুদণ্ডের ব্যবহার মানবাধিকারের জন্য গুরুতর উদ্বেগের বিষয়। ইরানের দণ্ডবিধিতে নবী মুহাম্মদকে অবমাননার অপরাধে মৃত্যুদণ্ডের বিধান রয়েছে। তবে দেশটির আইনে কিছু নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে বক্তব্যের উদ্দেশ্য ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির মানসিক অবস্থার বিষয়ও বিবেচনার সুযোগ রয়েছে। দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আদালতে আমিনির পক্ষ থেকে বক্তব্যটি অনিচ্ছাকৃত ছিল বলে যুক্তি দেওয়া হয়েছিল। বিচারক সেই যুক্তি গ্রহণ করেননি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে মামলার সম্পূর্ণ নথি প্রকাশ্যে না থাকায় বিচারিক প্রক্রিয়ার সব দিক স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। তাঁর মৃত্যুদণ্ডের বিরুদ্ধে আপিল করা যাবে বলে মানবাধিকার সংগঠনগুলো জানিয়েছে। আমিনির মামলাটি এমন এক সময়ে সামনে এসেছে, যখন জানুয়ারির সরকারবিরোধী বিক্ষোভের পর গ্রেপ্তার ও মৃত্যুদণ্ডের ঘটনা নিয়ে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো উদ্বেগ জানাচ্ছে। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এবং হিউম্যান রাইটস ওয়াচের মতো সংস্থাগুলো বলেছে, বিক্ষোভ-সংশ্লিষ্ট মামলাগুলোতে ন্যায়বিচার, আইনজীবীর সহায়তা এবং নির্যাতনমুক্ত আটক নিশ্চিত করা জরুরি। বিক্ষোভ দমনের সময় বহু মানুষ নিহত ও আটক হয়েছেন বলে বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা জানিয়েছে। তবে হতাহতের সংখ্যা নিয়ে বিভিন্ন সূত্রের হিসাব এক নয়। ইরানের কর্তৃপক্ষ আমিনির মামলার বিষয়ে বিস্তারিত প্রকাশ্যে জানায়নি বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে, এমন কোনো তথ্যও পাওয়া যায়নি। বর্তমানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, উচ্চ আদালতে তাঁর আপিলের ফল কী হয় এবং মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া নিয়ে আরও তথ্য প্রকাশিত হয় কি না। মানবাধিকার সংগঠনগুলো রায় পুনর্বিবেচনা এবং তাঁর ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে। সূত্র: ইরান হিউম্যান রাইটস, হেঙ্গাও অর্গানাইজেশন ফর হিউম্যান রাইটস, দ্য গার্ডিয়ান।
যুক্তরাষ্ট্রের খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান ওয়ালমার্ট কর্মীদের স্বাস্থ্যসুবিধা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে প্রতিষ্ঠানটির কর্মীরা ২৫০টির বেশি প্রেসক্রিপশনভিত্তিক ওষুধ বিনা খরচে পাওয়ার সুযোগ পাবেন। নতুন সুবিধার তালিকায় রয়েছে বিভিন্ন জেনেরিক, ব্র্যান্ড ও বিশেষায়িত ওষুধের পাশাপাশি নির্দিষ্ট কিছু ইনসুলিন ও ইনহেলার। টাইপ-২ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত যোগ্য কর্মীদের জন্য কিছু জিএলপি-১ ওষুধও বিনা খরচে দেওয়ার ব্যবস্থা থাকছে। তবে কোন কর্মী কোন ওষুধ পাবেন, তা নির্ভর করবে তাঁর স্বাস্থ্যবিমা পরিকল্পনা ও চিকিৎসাগত যোগ্যতার ওপর। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বৃহৎ বেসরকারি নিয়োগদাতা ওয়ালমার্টের দেশটিতে প্রায় ১৬ লাখ কর্মী রয়েছেন। কর্মীদের বার্ষিক স্বাস্থ্যবিমা নিবন্ধনের সময় নতুন সুবিধাগুলোর ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। চলতি বছরের এই নিবন্ধনপর্ব ৬ নভেম্বর পর্যন্ত চলবে। ওয়ালমার্টের প্রধান জনবল কর্মকর্তা ডোনা মরিস কর্মীদের উদ্দেশে পাঠানো এক বার্তায় বলেছেন, কর্মী ও তাঁদের পরিবারের জন্য আরও সহজলভ্য এবং সাশ্রয়ী স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে প্রতিষ্ঠানটি নতুন সুবিধা যুক্ত করছে। ওয়ালমার্টের আনুষ্ঠানিক তথ্য অনুযায়ী, নতুন ব্যবস্থায় ২৫০টির বেশি ওষুধের জন্য শূন্য ডলারের একটি স্তর চালু হচ্ছে। অর্থাৎ, তালিকাভুক্ত ওষুধগুলো নির্ধারিত শর্তে নিতে কর্মীদের নিজস্ব অর্থ খরচ করতে হবে না। তবে তালিকার বাইরে থাকা অন্যান্য ওষুধের ক্ষেত্রে নির্ধারিত সহ-অর্থ পরিশোধ করতে হতে পারে। প্রতিষ্ঠানটির প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, পরিকল্পনার আওতায় থাকা অন্যান্য ওষুধের জন্য জেনেরিক ওষুধে সর্বোচ্চ ৪ ডলার, ব্র্যান্ডের ওষুধে সর্বোচ্চ ৫০ ডলার এবং বিশেষায়িত ওষুধে সর্বোচ্চ ২৫০ ডলার পর্যন্ত সহ-অর্থ দিতে হতে পারে। স্বাস্থ্যবিমার ধরন অনুযায়ী কিছু নিয়মে পার্থক্যও রয়েছে। নতুন সুবিধার আলোচিত অংশগুলোর একটি হলো জিএলপি-১ শ্রেণির ওষুধ। টাইপ-২ ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে ব্যবহৃত এই শ্রেণির কিছু ওষুধ যোগ্য কর্মীদের বিনা খরচে দেওয়া হবে। তবে এ সুবিধাকে ওজন কমানোর জন্য ব্যবহৃত সব জিএলপি-১ ওষুধের বিনা মূল্যে প্রাপ্যতা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। নির্দিষ্ট ওষুধ, চিকিৎসার প্রয়োজন এবং বিমা পরিকল্পনার শর্ত অনুযায়ী সুবিধা নির্ধারিত হবে। একই সঙ্গে কিছু ইনসুলিন ও ইনহেলারও নতুন তালিকায় যুক্ত হয়েছে, যা দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত কর্মীদের নিয়মিত চিকিৎসার ব্যয় কমাতে সহায়তা করতে পারে। ওষুধের পাশাপাশি জটিল ও বিরল রোগের চিকিৎসা-পরামর্শ পাওয়ার সুযোগও বাড়াচ্ছে ওয়ালমার্ট। প্রতিষ্ঠানটির ঘোষণা অনুযায়ী, একাধিক স্ক্লেরোসিস, পারকিনসনস রোগ এবং অ্যামিওট্রফিক ল্যাটেরাল স্ক্লেরোসিস বা এএলএসে আক্রান্ত কিংবা এসব রোগের পরীক্ষা-নিরীক্ষার মধ্যে থাকা যোগ্য কর্মী ও তাঁদের নির্ভরশীল পরিবারের সদস্যরা বিশেষজ্ঞের মূল্যায়ন নিতে পারবেন বিনা খরচে। এ জন্য মায়ো ক্লিনিক ও ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিকের মতো চিকিৎসাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত বিশেষায়িত সেবা ব্যবহারের সুযোগ থাকবে। নির্ধারিত শর্তে রোগী ও তাঁর সঙ্গে যাওয়া একজন প্রাপ্তবয়স্ক পরিচর্যাকারীর যাতায়াতের খরচও বহন করবে প্রতিষ্ঠানটি। নবজাতকের গুরুতর চিকিৎসার প্রয়োজন হলে কর্মীদের পাশে দাঁড়াতেও নতুন সুবিধা যুক্ত করছে ওয়ালমার্ট। আগামী নভেম্বর থেকে যেসব কর্মীর নবজাতককে নবজাতক নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে ভর্তি করতে হবে, তাঁরা সর্বোচ্চ ১২ সপ্তাহের বেতনসহ ছুটি পাওয়ার যোগ্য হবেন। এ ছুটি নির্ধারিত শর্তে কর্মীদের জন্য আগে থেকে থাকা মাতৃত্বকালীন ও অভিভাবকত্বকালীন ছুটির সঙ্গে মিলিয়ে নেওয়া যাবে। ফলে নবজাতকের দীর্ঘ চিকিৎসার সময় পরিবারকে কর্মস্থল ও হাসপাতালের দায়িত্ব সামলাতে কিছুটা বাড়তি সুযোগ দেওয়া হবে। তবে স্বাস্থ্যসেবার পরিধি বাড়ানোর পাশাপাশি ওয়ালমার্ট স্বাস্থ্যবিমার প্রাথমিক পরিকল্পনার প্রিমিয়ামও বাড়াচ্ছে। প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৭ সালে দুই সপ্তাহ অন্তর বেতন থেকে কাটা প্রাথমিক প্রিমিয়াম ১ ডলার ৫০ সেন্ট বেড়ে ৩৯ ডলার ৮০ সেন্ট হবে। অর্থাৎ, কর্মীরা নতুন ওষুধ ও চিকিৎসাসুবিধা পেলেও তাঁদের স্বাস্থ্যবিমার নির্ধারিত খরচ কিছুটা বাড়বে। পূর্ণকালীন কর্মীদের পাশাপাশি নির্দিষ্ট যোগ্যতা পূরণকারী খণ্ডকালীন কর্মীরাও স্বাস্থ্যবিমায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার সুযোগ পাবেন। ওয়ালমার্ট এর আগেও কর্মীদের জন্য মানসিক স্বাস্থ্যসেবা, পরিবার গঠনে সহায়তা এবং অন্যান্য চিকিৎসাসুবিধা দিয়ে আসছে। প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, যোগ্য কর্মী ও পরিবারের সদস্যরা বছরে ২০টি পর্যন্ত মানসিক স্বাস্থ্য কাউন্সেলিং সেশন বিনা খরচে নিতে পারেন। সন্তান ধারণে সহায়তা, দত্তক গ্রহণ বা সারোগেসির মতো প্রক্রিয়ায় নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থাও রয়েছে। নতুন উদ্যোগের মাধ্যমে ওষুধের খরচ ও জটিল রোগের বিশেষজ্ঞ সেবায় আর্থিক বাধা কমানোই প্রতিষ্ঠানটির লক্ষ্য। যুক্তরাষ্ট্রে চিকিৎসা ও প্রেসক্রিপশনভিত্তিক ওষুধের ব্যয় অনেক পরিবারের জন্য বড় আর্থিক চাপ তৈরি করে। এমন পরিস্থিতিতে ওয়ালমার্টের নতুন সুবিধা যোগ্য কর্মীদের চিকিৎসা ব্যয় কমাতে সহায়ক হতে পারে। তবে সব ওষুধ ও চিকিৎসার ক্ষেত্রে একই সুবিধা প্রযোজ্য হবে না। কর্মীদের নিজ নিজ স্বাস্থ্যবিমা পরিকল্পনা, ওষুধের তালিকা এবং যোগ্যতার শর্ত যাচাই করে নিতে হবে। সূত্র: রয়টার্স, ওয়ালমার্টের করপোরেট ওয়েবসাইট।
যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিককে বিয়ে করলেই বিদেশি স্বামী বা স্ত্রী দেশটির নাগরিকত্ব পেয়ে যান না। বিয়ের সূত্রে তুলনামূলক কম সময়ে নাগরিকত্বের আবেদন করার সুযোগ থাকলেও এ জন্য নির্দিষ্ট বয়স, বৈধ স্থায়ী বাসিন্দার মর্যাদা, যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস এবং দাম্পত্য সম্পর্কের শর্ত পূরণ করতে হয়। দেশটির নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবা (ইউএসসিআইএস) জানিয়েছে, এ প্রক্রিয়ায় আবেদন জমা দেওয়ার সময় আবেদনকারীর বয়স কমপক্ষে ১৮ বছর হতে হবে। এ নিয়ম যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিককে বিয়ের মাধ্যমে নাগরিকত্বের আবেদন করা বিদেশি স্বামী ও স্ত্রী উভয়ের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। ইউএসসিআইএসের নির্দেশনা অনুযায়ী, অভিবাসন ও জাতীয়তা আইনের ৩১৯(এ) ধারায় আবেদন করতে হলে বিদেশি স্বামী বা স্ত্রীকে অন্তত তিন বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রের বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে। সাধারণত গ্রিন কার্ডধারী হিসেবে এই তিন বছরের সময় গণনা করা হয়। শুধু বিয়ে সম্পন্ন হওয়া বা মার্কিন নাগরিকের সঙ্গে সম্পর্ক থাকাই যথেষ্ট নয়। আবেদনকারীকে নির্ধারিত সময়জুড়ে যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের শর্তও পূরণ করতে হবে। এ ছাড়া আবেদন জমা দেওয়ার আগের তিন বছর আবেদনকারীকে মার্কিন নাগরিক স্বামী বা স্ত্রীর সঙ্গে প্রকৃত দাম্পত্য সম্পর্কে বসবাস করতে হবে। এই সময়ের পুরোটা জুড়ে তাঁর সঙ্গীকে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক থাকতে হবে। আবেদন করার পর নাগরিকত্বের শপথ নেওয়া পর্যন্ত বৈধ বিবাহ বহাল রাখার শর্তও রয়েছে। অর্থাৎ, কেবল কাগজে-কলমে বিয়ে থাকলেই হবে না, সংশ্লিষ্ট অভিবাসন কর্তৃপক্ষের নির্ধারিত শর্ত অনুযায়ী দাম্পত্য সম্পর্কের বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হবে। আবেদনের আগে অন্তত তিন মাস সংশ্লিষ্ট অঙ্গরাজ্য বা ইউএসসিআইএসের নির্ধারিত জেলায় বসবাস করতে হবে। পাশাপাশি আবেদন করার আগের তিন বছরে অন্তত ১৮ মাস যুক্তরাষ্ট্রে শারীরিকভাবে উপস্থিত থাকার শর্ত রয়েছে। বিদেশে দীর্ঘ সময় অবস্থান করলে স্থায়ী বসবাসের ধারাবাহিকতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই নাগরিকত্বের আবেদন করার আগে যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে কাটানো সময়সহ নিজের বসবাসের রেকর্ড যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ। নাগরিকত্ব পাওয়ার ক্ষেত্রে আবেদনকারীর নৈতিক চরিত্রও বিবেচনা করা হয়। ইউএসসিআইএসের নিয়ম অনুযায়ী, আবেদন জমা দেওয়ার আগের অন্তত তিন বছরের জন্য ভালো নৈতিক চরিত্রের প্রমাণ দিতে হবে এবং নাগরিকত্বের শপথ নেওয়া পর্যন্ত এ যোগ্যতা বজায় রাখতে হবে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের মূলনীতির প্রতি আনুগত্য এবং দেশটির আইন ও শৃঙ্খলার প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার বিষয়টিও বিবেচনায় আসে। আবেদনকারীর ব্যক্তিগত ও অভিবাসন-সংক্রান্ত রেকর্ডের ভিত্তিতে কর্তৃপক্ষ এসব শর্ত যাচাই করতে পারে। আবেদনকারীদের সাধারণত ইংরেজি ভাষা ও যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাস এবং সরকারব্যবস্থা সম্পর্কে নাগরিকত্ব পরীক্ষায় অংশ নিতে হয়। নির্দিষ্ট বয়স, দীর্ঘদিনের স্থায়ী বসবাস বা প্রতিবন্ধকতার মতো কিছু পরিস্থিতিতে আইন অনুযায়ী ছাড় থাকতে পারে। তবে সব আবেদনকারীর ক্ষেত্রে একই নিয়ম প্রযোজ্য নয়। আবেদন জমা দেওয়ার পর ইউএসসিআইএস প্রয়োজনীয় নথি যাচাই, সাক্ষাৎকার এবং অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে। আবেদন অনুমোদিত হলেও নাগরিকত্বের শপথ নেওয়ার আগে কেউ আনুষ্ঠানিকভাবে মার্কিন নাগরিক হন না। মার্কিন নাগরিকদের বিদেশি স্বামী বা স্ত্রীর জন্য এই তিন বছরের পথটি সাধারণত তাঁদের জন্য প্রযোজ্য, যাঁরা যুক্তরাষ্ট্রে বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে বসবাস করছেন এবং আইনের অন্যান্য শর্ত পূরণ করেন। অন্যদিকে, সাধারণ নিয়মে নাগরিকত্বের আবেদন করতে স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে পাঁচ বছর বসবাসের শর্ত থাকে। মার্কিন সামরিক বাহিনীর সদস্যদের নির্দিষ্ট কিছু স্বামী বা স্ত্রীর ক্ষেত্রে আলাদা বিধানও রয়েছে। তাই বিয়ের ভিত্তিতে নাগরিকত্বের আবেদন করার আগে আবেদনকারীর নিজস্ব অভিবাসন-অবস্থা অনুযায়ী ইউএসসিআইএসের নির্দেশনা যাচাই করা প্রয়োজন। সূত্র: যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবা (ইউএসসিআইএস), যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও জাতীয়তা আইন।
ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসি দাবি করেছে তাদের সামরিক ভান্ডারে যুক্ত হয়েছে আরও অত্যাধুনিক ও উন্নত অস্ত্র। বাহিনীর মুখপাত্র হোসেইন মোহেব্বি জানিয়েছেন ৪০ দিনের এক যুদ্ধের পর ইরানের সামরিক সক্ষমতা আগের চেয়ে বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের বরাত দিয়ে এই তথ্য প্রকাশ্যে আনা হয়। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেছেন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য নতুন করে কোনো যুদ্ধে জড়ানো হবে সম্পূর্ণ অযৌক্তিক একটি সিদ্ধান্ত। তবে আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন সামরিক পদক্ষেপ নিতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। মোহেব্বি স্পষ্ট জানিয়েছেন যেকোনো আগ্রাসনের আগের চেয়ে আরও কঠোর জবাব দেবে তেহরান। তবে নতুন যুক্ত হওয়া অস্ত্রগুলো ঠিক কী ধরনের সে বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য দেননি তিনি। অন্যদিকে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জানিয়েছেন এই মুহূর্তে ইরানের ওপর হামলা চালানো তাদের জন্য সুবিধাজনক হবে না। ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল টুয়েলভ এক প্রতিবেদনে জানায় আগামী ২৭ অক্টোবর ইসরাইলের নেসেট নির্বাচন এবং ৪ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে ইরানে হামলা চালাতে ট্রাম্পকে চাপ দিয়েছিলেন নেতানিয়াহু। তবে সম্প্রতি আর্মি রেডিওতে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু ইঙ্গিত দিয়েছেন যে আপাতত তাদের ইরানে হামলার কোনো পরিকল্পনা নেই। কেন এখন হামলা সুবিধাজনক নয় সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি। একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেছেন তার দল লিকুড পার্টি সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে সরকার গঠন করলেও উগ্রপন্থি নেতা ইতামার বেন গিভিরকে প্রতিরক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হবে না। এই গুরুত্বপূর্ণ পদটি লিকুড পার্টির নিয়ন্ত্রণেই থাকবে বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন। যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরাইল যেকোনো সময় হামলা চালাতে পারে এমন আশঙ্কায় ইরান নিজেদের সামরিক প্রস্তুতি জোরদার করছে। সূত্র জানিয়েছে মার্কিনি বা ইসরাইলিদের দিক থেকে হামলার কোনো প্রস্তুতি টের পেলে ইরান আগেই পাল্টা আক্রমণ চালাতে পারে। এর মধ্যেই যুক্তরাজ্যের অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থা এমআইফাইভ প্রধান কেন ম্যাককালাম সতর্ক করে বলেছেন ইরানি গুপ্তচররা যুক্তরাজ্যে সামরিক স্থাপনাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তুতে হামলার চেষ্টা বাড়াচ্ছে। গত মাসে রয়্যাল এয়ার ফোর্সের ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটিতে হামলার একটি কথিত ষড়যন্ত্রের পেছনে ইরানের জড়িত থাকার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী। উল্লেখ্য ঐ নির্দিষ্ট ঘাঁটি ব্যবহার করেই মার্কিন বোমারু বিমানগুলো ইরানে হামলা চালিয়েছিল। যুক্তরাজ্যের জাতীয় নিরাপত্তা ও সম্ভাব্য হুমকি নিয়ে দেওয়া বার্ষিক বক্তব্যে এমআইফাইভ মহাপরিচালক কেন ম্যাককালাম বিষয়টি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি জানান ফেয়ারফোর্ডের ঘটনাটি নিয়ে বর্তমানে নিবিড় তদন্ত চলছে তাই এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা সম্ভব নয়। তবে চলতি বছরে সামরিক স্থাপনার মতো সুরক্ষিত লক্ষ্যবস্তুতে হামলার ক্ষেত্রে ইরানের উচ্চাকাঙ্ক্ষায় বড় ধরনের পরিবর্তন লক্ষ করা গেছে। ম্যাককালাম সতর্ক করে বলেন ফেয়ারফোর্ডের ঘটনাটি কোনো বিচ্ছিন্ন বিষয় নয়, বরং যুক্তরাজ্যের বাইরেও বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে এমন ঘটনা ঘটছে। যদিও ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটির ঘটনায় ইরানের সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে চলমান তদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। সূত্র: আলজাজিরা, চ্যানেল টুয়েলভ
জার্মানির কোলন শহরে ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরীকে মানবসদৃশ রোবটের মাধ্যমে যৌন হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে স্থানীয় পুলিশ। অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১১ অক্টোবর রাতে একটি ফাস্টফুড রেস্তোরাঁর সামনে কিশোরীটির কাছে গিয়ে রোবটটি তার নিতম্বে স্পর্শ করে এবং অশালীন ভঙ্গিতে শরীরের সঙ্গে ধাক্কা দেওয়ার মতো নড়াচড়া করে। এ ঘটনায় ১৬ বছর বয়সী রোবটটির মালিক এবং তাঁর ১৯ বছর বয়সী এক সহযোগীর বিরুদ্ধে ঘটনাটি ভিডিও ধারণ ও সামাজিক মাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচারের অভিযোগও উঠেছে। নর্থ রাইন-ওয়েস্টফালিয়া রাজ্য পুলিশের কোলন শাখার সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, রাত ১১টা ৪৫ মিনিট থেকে মধ্যরাতের মধ্যে পামস্ট্রাসে ও হোহেনজোলার্নরিং সড়কের সংযোগস্থলে একটি ফাস্টফুড রেস্তোরাঁর সামনে ওই কিশোরী তাঁর ১৭ ও ১৮ বছর বয়সী দুই বন্ধুর সঙ্গে ছিলেন। এ সময় প্রায় চার ফুট উচ্চতার রোবটটি পেছন দিক থেকে তাঁর কাছে আসে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, রোবটটির আচরণকে সম্ভাব্য যৌন হয়রানির ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করে তদন্ত চলছে। ঘটনার খবর পেয়ে জরুরি সেবাকর্মীরা ঘটনাস্থলে যান। পরে পুলিশ ম্যাগনুসস্ট্রাসে ও হোহেনজোলার্নরিংয়ের সংযোগস্থলের কাছে সন্দেহভাজন দুজনকে খুঁজে পায়। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, রোবটটির ১৬ বছর বয়সী মালিক সেটিকে একটি ভক্সওয়াগেন গাড়ির পেছনের মালপত্র রাখার জায়গায় রেখেছিলেন। সেখান থেকে রোবটটি উদ্ধার করা হয়। তদন্তের স্বার্থে পুলিশ রোবটটি এবং সন্দেহভাজনদের দুটি মুঠোফোন জব্দ করেছে। পুলিশের দেওয়া ছবিতে রোবটটিকে লাল ও সোনালি রঙের পোশাকে দেখা যায়। এর সাজসজ্জায় জনপ্রিয় কমিক চরিত্র আয়রন ম্যানের পোশাকের সঙ্গে কিছুটা মিল রয়েছে। যুক্তরাজ্যের সংবাদমাধ্যম দ্য টাইমসের প্রতিবেদনে রোবটটিকে চীনে তৈরি ইউনিট্রি আর১ এয়ার মডেল বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে পুলিশি তদন্তে মডেলটির পরিচয় এবং ঘটনার সময় এটি কীভাবে পরিচালিত হচ্ছিল, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো জানানো হয়নি। তদন্তকারীরা বিশেষভাবে খতিয়ে দেখছেন, ঘটনার সময় রোবটটি কীভাবে কাজ করছিল এবং কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে দূর থেকে এর গতিবিধি নিয়ন্ত্রণ করছিলেন কি না। রোবটটির আচরণ পূর্বনির্ধারিত নির্দেশনার মাধ্যমে ঘটেছে, নাকি কেউ সরাসরি নিয়ন্ত্রণ করে এমন নড়াচড়া করিয়েছেন, তা এখনো স্পষ্ট নয়। পুলিশ জানিয়েছে, অপরাধ তদন্ত বিভাগ সম্ভাব্য যৌন হয়রানির অভিযোগটি তদন্ত করছে। তদন্ত শেষ হওয়ার আগে ঘটনার পেছনের উদ্দেশ্য বা প্রযুক্তিগত ব্যবস্থার বিষয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়। পুলিশের অভিযোগ অনুযায়ী, রোবটটির ১৬ বছর বয়সী মালিক এবং তাঁর ১৯ বছর বয়সী সঙ্গী ঘটনাটি ভিডিও ধারণ করেছিলেন। পাশাপাশি সামাজিক মাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচার চালানোর সময় তাঁরা ধারাভাষ্য দিচ্ছিলেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তবে ভিডিওটির বিষয়বস্তু, সেটি কোথায় প্রচার করা হয়েছে এবং ঘটনার সঙ্গে তাঁদের প্রত্যক্ষ ভূমিকা কী ছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। ভুক্তভোগী কিশোরী এবং সন্দেহভাজনদের পরিচয়ও কর্তৃপক্ষ প্রকাশ করেনি। মানবসদৃশ রোবট এখন শিল্পকারখানা, গবেষণাগার, প্রদর্শনী ও বিভিন্ন প্রযুক্তিনির্ভর কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে। এসব রোবটের কিছু মডেল পূর্বনির্ধারিত নির্দেশনা অনুযায়ী চলে, আবার কিছু মডেল দূরনিয়ন্ত্রণের মাধ্যমেও পরিচালনা করা যায়। ফলে কোনো রোবটের মাধ্যমে অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণের অভিযোগ উঠলে সেটি যান্ত্রিক ত্রুটি, সফটওয়্যারের নির্দেশনা নাকি মানুষের ইচ্ছাকৃত নিয়ন্ত্রণের ফল, তা নির্ধারণ করা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। কোলনের ঘটনাতেও পুলিশ ঠিক এই বিষয়গুলো যাচাই করছে। এ ঘটনায় রোবটের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে পারে। তবে তদন্তের ফল প্রকাশের আগে নির্দিষ্ট মডেলটির নিরাপত্তাব্যবস্থায় ত্রুটি ছিল বা রোবটটি নিজে থেকে এমন আচরণ করেছে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। একইভাবে, কোনো প্রযুক্তি ব্যবহার করে সংঘটিত অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণের ক্ষেত্রে দায় নির্ধারণ করতে হলে যন্ত্রটি কীভাবে পরিচালিত হয়েছিল এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা কী ছিল, তা প্রমাণের ভিত্তিতে যাচাই করতে হবে। পুলিশ জানিয়েছে, রোবট ও দুটি মুঠোফোন জব্দ করে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। ঘটনার বিষয়ে আরও মন্তব্য জানতে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সাময়িকী পিপল জার্মান পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে বলে তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে তদন্তের চূড়ান্ত ফল বা সম্ভাব্য আইনি পদক্ষেপ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি। সূত্র: নর্থ রাইন-ওয়েস্টফালিয়া রাজ্য পুলিশের কোলন শাখা, পিপল ও দ্য টাইমস।
মিশরের এক কৃষক নিজের বাড়ির সামনের জমিতে কাজ করার সময় হঠাৎ করেই এক অমূল্য প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের সন্ধান পেয়েছেন। মাটির নিচ থেকে তিনি বাইবেলে উল্লেখিত বিখ্যাত ফারাও রাজা দ্বিতীয় রামসেসের এক বিশাল মূর্তির সন্ধান পান। সংবাদমাধ্যম ইজিপ্সিয়ান গেজেটের প্রতিবেদন অনুযায়ী মিশরের ঘারবিয়া প্রদেশের বেহবেইত এল হাগার এলাকার ওই কৃষক প্রথমে একটি খোদাই করা পাথরের খণ্ড দেখতে পান। এরপর তিনি স্থানীয় প্রত্নতত্ত্ব কর্মকর্তাদের খবর দিলে সুপ্রিম কাউন্সিল অব অ্যান্টিকুইটিজের একটি দল সেখানে খননকাজ শুরু করে। হেরিটেজ ডেইলি জানিয়েছে খননের পর মাটির নিচ থেকে যা বেরিয়ে আসে তা দেখে রীতিমতো অবাক হয়ে যান গবেষকরা। উদ্ধার হওয়া এই গুপ্তধনের মধ্যে রয়েছে দ্বিতীয় রামসেসের পাঁচ ফুটেরও বেশি উঁচু একটি বিশাল মাথা। এই মাথাটিতে উচ্চ ও নিম্ন মিশরের দ্বৈত মুকুট পরিহিত অবস্থায় রাজাকে চিত্রিত করা হয়েছে। মাথার বিশাল আকার দেখে প্রত্নতাত্ত্বিকরা ধারণা করছেন যে সম্পূর্ণ মূর্তিটির উচ্চতা ভিত্তিপ্রস্তরসহ প্রায় ত্রিশ ফুটের কাছাকাছি ছিল। এছাড়া গবেষকরা আট ফুটের চেয়ে সামান্য ছোট আরেকটি রাজকীয় মূর্তিও উদ্ধার করেছেন। যদিও এই মূর্তিটির পা এবং নিচের অংশ পাওয়া যায়নি তবে এর মুখাবয়ব বেশ স্পষ্টভাবে বোঝা যাচ্ছে। দ্বিতীয় মূর্তিটির মাথায় প্রাচীন মিশরীয় ফারাওদের পরিহিত ঐতিহ্যবাহী ডোরাকাটা রাজকীয় শিরোস্ত্রাণ বা নেমেস রয়েছে। এই বৈশিষ্ট্য এবং মুখের আদলের সাথে প্রথম মূর্তিটির মিল থাকায় গবেষকরা ধারণা করছেন এটিও দ্বিতীয় রামসেসের আরেকটি প্রতিরূপ। এর পাশাপাশি সেখান থেকে গোলাপি গ্রানাইট পাথরের তৈরি চার ফুট উঁচু একটি ব্লকও উদ্ধার করা হয়েছে। এই ব্লকটিতে হায়ারোগ্লিফিক শিলালিপির ভগ্নাংশ পাওয়া গেছে। সেখানে ফারাওকে আপার এবং লোয়ার মিশরের রাজা বা নেসু বেটি এবং সূর্যদেবতা রা এর পুত্র বা সা রা হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। খ্রিস্টপূর্ব ১৩০৩ অব্দে জন্মগ্রহণকারী দ্বিতীয় রামসেসকে প্রাচীন মিশরের নিউ কিংডম যুগের অন্যতম প্রভাবশালী ও ক্ষমতাধর রাজা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এই ফারাও রাজার সাথে বাইবেলের এক্সোডাস বা যাত্রাপুস্তকে বর্ণিত নবী মুসার কাহিনীর গভীর সম্পর্ক রয়েছে বলে ব্যাপকভাবে বিশ্বাস করা হয়। যদিও ধর্মীয় গ্রন্থটিতে তার নাম সরাসরি উল্লেখ করা হয়নি। ধর্মগ্রন্থের বর্ণনানুসারে এই স্বৈরাচারী ফারাও বনী ইসরাঈলীদের দাস বানিয়েছিলেন এবং নবী মুসাকে অস্বীকার করে ঈশ্বরের ক্রোধের শিকার হয়েছিলেন। মিশরের পর্যটন ও প্রত্নতত্ত্ব বিষয়ক মন্ত্রী শেরিফ ফাথি এই আবিষ্কার নিয়ে গভীর আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন এই প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনগুলো নীল নদের ব-দ্বীপ অঞ্চল সম্পর্কে আরও বিশদ ধারণা পেতে সহায়তা করবে। প্রাচীনকালে এই অঞ্চলটি মিশরের একটি প্রধান রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ছিল। কর্মকর্তারা আশা করছেন এই মূর্তিগুলোর ওপর আরও বিস্তারিত গবেষণা চালানো হলে সেই যুগের স্থাপত্যের বিবর্তন এবং এই প্রত্নতাত্ত্বিক ভাণ্ডারটি সম্পর্কে নতুন অনেক তথ্য মানুষের সামনে উঠে আসবে। সূত্র: ইজিপ্সিয়ান গেজেট, হেরিটেজ ডেইলি
যুক্তরাষ্ট্রে ওবামাকেয়ার হেলথ ইন্স্যুরেন্স মার্কেটপ্লেসের ১ লাখ ৮৯ হাজার নিবন্ধনের বিপরীতে সরকারি ভর্তুকি বন্ধ করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। ১৪ অক্টোবর ২০২৬ প্রকাশিত যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগ এবং মেডিকেয়ার ও মেডিকেইড সেবা কেন্দ্রের ঘোষণায় বলা হয়েছে, এসব নিবন্ধনের মধ্যে এমন ব্যক্তিরা রয়েছেন, যাঁরা একই সঙ্গে মেডিকেয়ার, মেডিকেইড বা শিশুদের স্বাস্থ্যবিমা কর্মসূচির আওতায় ছিলেন। এ ছাড়া মৃত ব্যক্তিদের নামে থাকা নিবন্ধনও এই পদক্ষেপের আওতায় এসেছে। সরকারের দাবি, এর ফলে আগামী এক বছরে প্রায় ১৫০ কোটি ডলার সাশ্রয় হতে পারে। এই পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য ওবামাকেয়ার মার্কেটপ্লেসে একই ব্যক্তির জন্য একাধিক সরকারি স্বাস্থ্যবিমা কর্মসূচির মাধ্যমে ভর্তুকি দেওয়া বন্ধ করা। ওবামাকেয়ার নামে পরিচিত সাশ্রয়ী স্বাস্থ্যসেবা আইনের আওতায় যোগ্য ব্যক্তিরা বেসরকারি ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির পরিকল্পনা কেনার সময় সরকারি আর্থিক সহায়তা পান। এই সহায়তা তাঁদের মাসিক প্রিমিয়ামের খরচ কমাতে সাহায্য করে। তবে মেডিকেয়ার বা মেডিকেইডের আওতায় থাকা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে একই সময়ে মার্কেটপ্লেসের ভর্তুকি পাওয়ার যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগের সচিব রবার্ট এফ কেনেডি জুনিয়র বলেছেন, দ্বৈত নিবন্ধন এবং মৃত ব্যক্তিদের নামে ভর্তুকি দেওয়ার মতো ঘটনা শনাক্ত করে সরকারি অর্থের অপচয় বন্ধ করা হচ্ছে। মেডিকেয়ার ও মেডিকেইড সেবা কেন্দ্রের প্রশাসক মেহমেত ওজের মতে, সরকারি স্বাস্থ্যবিমা কর্মসূচিতে অনিয়মিত নিবন্ধন শনাক্ত এবং করদাতাদের অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে এ ধরনের যাচাই কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। তবে এই ঘোষণার অর্থ যুক্তরাষ্ট্রে সব ওবামাকেয়ার গ্রাহকের ভর্তুকি বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, এমন নয়। একইভাবে মেডিকেয়ার বা মেডিকেইডে থাকা সব ব্যক্তির স্বাস্থ্যবিমাও বাতিল করা হচ্ছে না। পদক্ষেপটি মূলত ফেডারেল মার্কেটপ্লেসের মাধ্যমে পাওয়া ওবামাকেয়ার ভর্তুকিকে কেন্দ্র করে। যাঁদের নথিতে দ্বৈত স্বাস্থ্যবিমার তথ্য পাওয়া যায়, তাঁদের বিষয়টি যাচাই করার জন্য ৩০ দিন সময় দেওয়া হয়। নির্ধারিত সময়ে আপত্তি জানানো বা তথ্য সংশোধন না হলে তাঁদের মার্কেটপ্লেসের ভর্তুকি বন্ধ করা হতে পারে। সরকারি নথিতে কাউকে মৃত হিসেবে দেখানো হলেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে তথ্যটি ভুল প্রমাণের সুযোগ রয়েছে। একইভাবে কারও মেডিকেইড বা মেডিকেয়ার কভারেজ শেষ হয়ে আসছে কিংবা দ্বৈত নিবন্ধনের তথ্য ভুল হলে, প্রয়োজনীয় নথি দিয়ে বিষয়টি পুনর্বিবেচনার আবেদন করা যেতে পারে। ফলে স্বাস্থ্যবিমা গ্রাহকদের কাছে সরকারি নোটিশ এলে সেটি উপেক্ষা না করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তথ্য যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি-আমেরিকানদের মধ্যেও অনেকেই আয়ের ভিত্তিতে ওবামাকেয়ার মার্কেটপ্লেসের ভর্তুকি নিয়ে হেলথ ইন্স্যুরেন্স করেন। তাঁদের ক্ষেত্রে ভর্তুকির যোগ্যতা নির্ভর করে আয়, পরিবারের সদস্যসংখ্যা, অন্যান্য স্বাস্থ্যবিমার আওতা এবং সংশ্লিষ্ট নিয়মের ওপর। তাই মেডিকেয়ার বা মেডিকেইডের সঙ্গে সম্পর্কিত কোনো নোটিশ পেলে নিজের স্বাস্থ্যবিমা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়েছে বলে ধরে না নিয়ে নোটিশের নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগ জানিয়েছে, ২০২৬ সালে শনাক্ত করা এই ১ লাখ ৮৯ হাজার নিবন্ধনের ভর্তুকি বন্ধের ফলে চলতি বছরে প্রায় ৭৩ কোটি ৮০ লাখ ডলার সাশ্রয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। আর আগামী এক বছরের হিসাবে সম্ভাব্য সাশ্রয়ের পরিমাণ প্রায় ১৫০ কোটি ডলার। তবে এই অঙ্কগুলো সরকারের হিসাব অনুযায়ী সম্ভাব্য সাশ্রয়, চূড়ান্ত নিরীক্ষিত সাশ্রয়ের পরিমাণ নয়।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন আটককেন্দ্র থেকে মুক্তি পাওয়ার পরও পাসপোর্ট, কাজের অনুমতিপত্র, পরিচয়পত্র ও ব্যক্তিগত জিনিসপত্র ফেরত না দেওয়ার অভিযোগে দেশটির অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থা আইসের (ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট) বিরুদ্ধে দেশব্যাপী শ্রেণিগত মামলা করেছেন সাতজন। তাঁদের অভিযোগ, আটকাবস্থা শেষ হওয়ার পরও সংস্থাটি নিয়মিতভাবে বিভিন্ন নথি ও ব্যক্তিগত সম্পদ নিজেদের কাছে রেখে দিচ্ছে। এর ফলে অনেকে বৈধভাবে কাজ করার সুযোগ হারাচ্ছেন, গাড়ি চালাতে পারছেন না এবং পরিবারের খরচ মেটাতেও সমস্যায় পড়ছেন। কারও কারও ক্ষেত্রে পরিচয়পত্র না থাকায় বাড়ির বাইরে বের হওয়া নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। মঙ্গলবার ওয়াশিংটনের একটি ফেডারেল আদালতে মামলাটি দায়ের করা হয়। মামলার বাদীরা অভিযোগ করেছেন, আইস এমন একটি কার্যত দেশব্যাপী নীতি অনুসরণ করছে, যার আওতায় সম্পদ আটকে রাখার বৈধ কারণ না থাকলেও মুক্তিপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের জিনিসপত্র ফেরত দেওয়া হচ্ছে না। তাঁরা আদালতের কাছে দেশব্যাপী ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের নিয়ে একটি শ্রেণি গঠনের স্বীকৃতি, আটকে রাখা সম্পদ ফেরত দেওয়ার নির্দেশ এবং আটক ব্যক্তিদের জিনিসপত্র সংরক্ষণ ও ফেরত দেওয়ার বিষয়ে কার্যকর সুরক্ষাব্যবস্থা চালুর দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, এ ধরনের আচরণ যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনী এবং ফেডারেল প্রশাসনিক আইনের পরিপন্থী। একই সঙ্গে আইসের নিজস্ব নির্দেশনা লঙ্ঘনের অভিযোগও তুলেছেন তাঁরা। মামলার নথি অনুযায়ী, সাত বাদীর প্রত্যেকেই মুক্তির সময় তাঁদের কিছু না কিছু সম্পদ ফেরত পাননি। আটকে রাখা জিনিসের মধ্যে রয়েছে পাসপোর্ট, সামাজিক নিরাপত্তা কার্ড, কর্মসংস্থানের অনুমতিপত্র, ড্রাইভিং লাইসেন্স, মুঠোফোন, গাড়ির চাবি, নগদ অর্থ, পোশাক এবং একজনের ক্ষেত্রে বিয়ের আংটি। অভিযোগ দায়েরের সময় প্রত্যেক বাদী অন্তত পাঁচ মাস ধরে আইসের হেফাজতের বাইরে থাকলেও তাঁদের কিছু সম্পদ ফেরত পাননি। বাদীদের দাবি, নথি ও ব্যক্তিগত জিনিসপত্র আটকে রাখার কারণে তাঁদের স্বাভাবিক জীবনযাপন, কর্মসংস্থান এবং আর্থিক নিরাপত্তা ব্যাহত হয়েছে। সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের ব্যাপক বহিষ্কার অভিযান ও অভিবাসনবিরোধী কার্যক্রমের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে আটক কার্যক্রমের পরিসরও বেড়েছে। মার্শাল প্রজেক্টের প্রকাশিত বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে আগস্ট পর্যন্ত আইস ছয় লাখ ১০ হাজারের বেশি মানুষকে আটক করেছিল। বহিষ্কারসংক্রান্ত তথ্যভান্ডারের ওপর ভিত্তি করে করা ওই বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, আটক ব্যক্তিদের প্রায় ৮০ শতাংশকে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। এমন পরিস্থিতিতে মুক্তির পর নথি ও ব্যক্তিগত সম্পদ ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়া নিয়ে ওঠা অভিযোগ অভিবাসন ব্যবস্থাপনা ও আটক ব্যক্তিদের অধিকার নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে। মামলার অন্যতম বাদী ভ্লাদিমির ইজমাইলভ ইউক্রেনে জন্ম নেওয়া রুশ নাগরিক, যিনি যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয় চেয়েছেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০২৫ সালের নভেম্বরে তাঁকে আইস আটক করে এবং ২০২৬ সালের এপ্রিলে মুক্তি দেয়। তবে তাঁর মুঠোফোন ফেরত দেওয়া হলেও ড্রাইভিং লাইসেন্স, কর্মসংস্থানের অনুমতিপত্র, মানিব্যাগ, বেল্ট ও বিয়ের আংটি ফেরত দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করা হয়েছে। ইজমাইলভ তাঁর জিনিসপত্র ফেরত চেয়ে যোগাযোগ করলে প্রথমে তাঁকে জানানো হয়েছিল, নথিগুলো আইসের এক কর্মকর্তার কাছে ডাকযোগে পাঠানো হবে। পরে তাঁর নিবিড় তত্ত্বাবধানে হাজিরা কর্মসূচির কর্মকর্তা জানান, আইসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, জিনিসপত্রগুলো সম্ভবত ধ্বংস করা হয়েছে। নিউজউইককে দেওয়া এক বিবৃতিতে ইজমাইলভ বলেন, তাঁর জিনিসপত্র ফেরত না পাওয়ায় আটক থাকার অভিজ্ঞতা আরও কঠিন হয়ে উঠেছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, আটক অবস্থায় কয়েক মাস তাঁকে পর্যাপ্ত খাবার ও চিকিৎসাসেবা ছাড়াই থাকতে হয়েছিল। মুক্তির পরও কাজের অনুমতিপত্র না থাকায় পরিবারের ভরণপোষণ চালাতে তিনি হিমশিম খাচ্ছেন। পরিবারের সদস্যদের ভাড়া পরিশোধের জন্য অন্যের কাছ থেকে টাকা ধার করতে হচ্ছে বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া ড্রাইভিং লাইসেন্স ফেরত না পাওয়ায় তিনি গাড়ি চালাতে পারছেন না এবং কর্মসংস্থানের অনুমতিপত্র ছাড়া ক্যালিফোর্নিয়া কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে নতুন লাইসেন্স পাওয়াও কঠিন হয়ে পড়েছে বলে তাঁর দাবি। আরেক বাদী এনিস সুলেইমা লুনা আরদিলা কলম্বিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয়ের উদ্দেশ্যে এসেছিলেন। মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে নির্ধারিত অভিবাসন-সংক্রান্ত সাক্ষাতে উপস্থিত হওয়ার পর আইস তাঁকে আটক করে এবং ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে মুক্তি দেয়। তবে তাঁর অঙ্গরাজ্য-প্রদত্ত পরিচয়পত্র, কর্মসংস্থানের অনুমতিপত্র, কলম্বিয়ার পাসপোর্ট, সামাজিক নিরাপত্তা কার্ড ও শিক্ষানবিশ ড্রাইভিং পারমিট ফেরত দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব নথি না থাকায় তিনি প্রায় পাঁচটি চাকরির প্রস্তাব গ্রহণ করতে পারেননি। এর মধ্যে এমন একটি চাকরিও ছিল, যেখানে তাঁর বর্তমান মজুরির দ্বিগুণ বেতন এবং আরও ভালো সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার কথা ছিল। মামলার নথি অনুযায়ী, তাঁর কাজের অনুমতিপত্রের মেয়াদ ২০২৯ সাল পর্যন্ত ছিল। যুক্তরাষ্ট্রে কর্মসংস্থানের অনুমতিপত্র বা ইএডি (এমপ্লয়মেন্ট অথরাইজেশন ডকুমেন্ট) ইস্যু করে দেশটির নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবা সংস্থা। যোগ্য অভিবাসীদের নির্দিষ্ট সময়ের জন্য আইনগতভাবে কাজ করার অনুমতি দেয় এই কার্ড। ফলে এ ধরনের নথি হারানো বা ফেরত না পাওয়া অনেকের কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। মামলার বাদীদের বক্তব্য, বৈধভাবে কাজ করার অনুমতি থাকা সত্ত্বেও প্রয়োজনীয় নথি হাতে না থাকায় তাঁরা চাকরি গ্রহণ, পরিচয় যাচাই এবং দৈনন্দিন কাজকর্মে সমস্যার মুখে পড়ছেন। মামলার আরেক বাদী রোলান্ডো রামিরেজ ফুয়েন্তেস শৈশবে কিউবা থেকে যুক্তরাষ্ট্রে এসেছিলেন। তাঁর বয়স এখন ৪৬ বছর বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, গত এপ্রিলে আইসের হেফাজত থেকে মুক্তি পাওয়ার পরও তাঁর সামাজিক নিরাপত্তা কার্ড ও ফ্লোরিডার ড্রাইভিং লাইসেন্স ফেরত দেওয়া হয়নি। প্রয়োজনীয় নথি না থাকায় কাজ খুঁজতে অসুবিধা হয়েছে এবং আয় করতে না পারায় হৃদ্রোগের চিকিৎসা নেওয়াও কঠিন হয়ে পড়েছে বলে মামলায় দাবি করা হয়েছে। আদালতে দাখিল করা নথি অনুযায়ী, বাসস্থানের খরচ বহন করতে না পেরে তিনি এখন গৃহহীন। ডোমিঙ্গো তত কুইপ নামের গুয়াতেমালার আরেক নাগরিক পোর্টল্যান্ড, মেইনে বাসন ধোয়ার কাজ করতেন। মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারিতে আইস তাঁকে আটক করে এবং অপসারণের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়ে ফেডারেল আদালতের আদেশ থাকা সত্ত্বেও গুয়াতেমালায় পাঠিয়ে দেয়। পরে আগস্টে তাঁকে আবার যুক্তরাষ্ট্রে ফিরিয়ে আনা হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। তবে তাঁর কাছে থাকা নগদ অর্থের বড় একটি অংশ, ব্যাকপ্যাক, ফোনের চার্জার, হেডফোন ও পোশাকের অনেক কিছু এখনো ফেরত দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। বাদীদের আইনজীবীরা বলেছেন, অভিবাসন-সংক্রান্ত আটক থেকে মুক্তি পাওয়ার পর ব্যক্তিগত সম্পদ অনির্দিষ্টকাল আটকে রাখার কোনো স্বয়ংক্রিয় অধিকার আইসের নেই। ওয়াশিংটন ডিসির আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়নের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মাইকেল পারলফ বলেন, সরকারি কর্মকর্তারা যাতে যথেচ্ছভাবে মানুষের সম্পদ নিয়ে রাখতে না পারেন, সে জন্যই সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনীতে সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে। নিউ জার্সির সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল ও প্ল্যাটকিন এলএলপির অংশীদার ম্যাট প্ল্যাটকিনও বলেন, কাউকে আটক থেকে মুক্তি দেওয়ার পর তাঁর স্বাভাবিক জীবন পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় নথি আটকে রাখা উচিত নয়। মামলায় আরও দাবি করা হয়েছে, অভিবাসন আটককেন্দ্রে থাকা অবস্থায় নিরাপত্তা বা প্রশাসনিক প্রয়োজনে কিছু সম্পদ সাময়িকভাবে আটকে রাখার যৌক্তিকতা থাকতে পারে। কিন্তু সেই প্রয়োজন শেষ হয়ে গেলে এবং নতুন কোনো বৈধ কারণ তৈরি না হলে সম্পদ ফেরত দেওয়া সংবিধানসম্মত বাধ্যবাধকতা। আইসের নিজস্ব নির্দেশনায়ও কোনো নথি আটকে রাখার ক্ষেত্রে স্পষ্টভাবে উল্লেখযোগ্য প্রশাসনিক প্রয়োজন দেখানোর কথা রয়েছে। একই সঙ্গে যাঁদের নথি জব্দ করা হয়, তাঁদের প্রত্যয়িত অনুলিপি দেওয়ার বিধান রয়েছে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। সাত বাদীর কেউই এমন অনুলিপি পাননি বলে অভিযোগ করেছেন। বাদীরা ২০২৫ সালের ২০ জানুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্রে দেওয়ানি অভিবাসন-সংক্রান্ত কারণে আটক হওয়া এমন ব্যক্তিদের নিয়ে দেশব্যাপী একটি শ্রেণি গঠনের আবেদন করেছেন, যাঁদের মুক্তির পরও বৈধ কারণ ছাড়াই আইস তাঁদের সম্পদ ফেরত দেয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। এর পাশাপাশি তাঁরা দুটি পৃথক উপশ্রেণি গঠনেরও দাবি জানিয়েছেন। একটি সরকারি পরিচয়পত্র ও অন্যান্য নথি ফেরত না পাওয়াদের জন্য, অন্যটি ব্যক্তিগত সম্পদ আটকে রাখার শিকার ব্যক্তিদের জন্য। আদালতের কাছে তাঁরা কথিত নীতিকে বেআইনি ঘোষণা, বৈধ ভিত্তি ছাড়া আটকে রাখা জিনিসপত্র ফেরত দেওয়ার নির্দেশ এবং সম্পদ সংরক্ষণ ও ফেরত দেওয়ার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট সুরক্ষাব্যবস্থা চালুর আবেদন জানিয়েছেন। আইস ও যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগ এ বিষয়ে নিউজউইকের প্রশ্নের জবাব দেয়নি বলে সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে। ফলে মামলায় উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলো আদালতে বিচারাধীন এবং আদালতের সিদ্ধান্তের আগে এগুলোকে প্রমাণিত সত্য হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না। সূত্র: নিউজউইক, ওয়াশিংটন ডিসির আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়ন (মামলার নথি)
যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউক্রেনে সামরিক যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম স্টারশিল্ডের গতি হঠাৎ কমে যাওয়ায় চরম উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। শুরুতে এই ঘটনার জন্য প্রযুক্তি মোগল ইলন মাস্ককে দায়ী করা হলেও তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, স্টারশিল্ডের গতি কমানোর নির্দেশটি স্পেসএক্সের নয়, বরং ট্রাম্প প্রশাসনের। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এই পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করে সতর্ক করেছেন যে, স্টারশিল্ডের গতি কমানোর ফলে রাশিয়ার আক্রমণ প্রতিহত করার ক্ষমতা সীমিত হবে এবং এই ভুলের কারণে বহু মানুষের প্রাণহানি ঘটবে। গতি কমানো নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ার কয়েক ঘণ্টা পর ইলন মাস্ক বলেন, স্টারশিল্ড সিস্টেমের সম্পূর্ণ মালিকানা ও নিয়ন্ত্রণ যুক্তরাষ্ট্র সরকারের হাতে। এর গতি বা ব্যবহারের যেকোনো সীমাবদ্ধতা মার্কিন সামরিক বাহিনী এবং চূড়ান্তভাবে খোদ মার্কিন প্রেসিডেন্টের (পোটাস) সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল। তিনি আরও স্পষ্ট করেন যে, স্টারলিংক একটি সম্পূর্ণ বাণিজ্যিক সেবা, যা কেবল বেসামরিক বা প্রতিরক্ষামূলক কাজে ব্যবহারের জন্য সীমাবদ্ধ; কোনো আক্রমণাত্মক সামরিক কার্যক্রমে এটি ব্যবহার করা একটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের নীতির পরিপন্থী। রাশিয়ান সেনাদের বিরুদ্ধে লজিস্টিক কার্যক্রম পরিচালনা এবং ড্রোন হামলার ক্ষেত্রে ইউক্রেন ব্যাপকভাবে স্টারশিল্ডের ওপর নির্ভরশীল। ইউক্রেনীয় বাহিনী লক্ষ্য করেছিল যে, ১৬০ কিলোমিটার বা তার বেশি গতিতে চলাচলকারী ড্রোনগুলোর ক্ষেত্রে স্টারশিল্ডের সংযোগ ধীর হয়ে যাচ্ছিল। এর ফলে রাশিয়ার বিরুদ্ধে ইউক্রেনের একাধিক সক্রিয় সামরিক অভিযান মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। তবে পরবর্তীতে ইউক্রেনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী মিখাইলো ফেদোরভ জানান যে, ১৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত গতির সংযোগ পুনরায় চালু করা হচ্ছে। তিনি ইলন মাস্ককে ধন্যবাদ জানিয়ে স্টারশিল্ডের গতির ওপর থেকে সম্পূর্ণ বিধিনিষেধ তুলে নেওয়ার আহ্বান জানান, যা ইউক্রেনের প্রতিরক্ষার জন্য এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি এই ঘটনাকে একটি বড় ধরনের ভুল হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেছেন, এর পরিণামে অনেক মানুষের মৃত্যু হবে। মূলত রাশিয়ান শোধনাগারগুলোতে ইউক্রেনের হামলার কারণে বিশ্ববাজারে ডিজেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও তার প্রশাসন ইউক্রেনের ওপর ক্ষুব্ধ ছিলেন; আর ঠিক সেই সময়েই স্টারশিল্ডের গতি কমানোর এই ঘটনাটি ঘটল। এর পাশাপাশি ইউক্রেনীয়দের অভিযোগ, সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র কোনো ধরনের পূর্ব সতর্কতা না দেওয়ায় রাশিয়ার উপর্যুপরি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শিকার হয়েছে তারা, অথচ আগে যুক্তরাষ্ট্র নিয়মিত গোয়েন্দা তথ্য দিয়ে তাদের সতর্ক করত। পেন্টাগন স্পেস ফোর্সের মাধ্যমে স্পেসএক্সের সাথে চুক্তিবদ্ধ হলেও, এই ধরনের নির্দিষ্ট অপারেশনাল সীমাবদ্ধতা বা গতির ওপর সামরিক বাহিনীর নাকি স্পেসএক্সের চূড়ান্ত নিয়ন্ত্রণ রয়েছে, তা নিয়ে এখনও অস্পষ্টতা রয়ে গেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ নয়টি ব্যাংক রাজনৈতিক, ধর্মীয় বা সামাজিক বিশ্বাসের কারণে গ্রাহকদের আর্থিক সেবা প্রদান থেকে বঞ্চিত করেছে। বুধবার প্রকাশিত অফিস অব দ্য কন্ট্রোলার অব দ্য কারেন্সি (ওসিসি)-এর এক নিয়ন্ত্রকমূলক পর্যালোচনা প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। জেপি মরগান চেজ, ব্যাংক অব আমেরিকা, সিটিব্যাংক, ওয়েলস ফার্গো, ইউ.এস. ব্যাংক, ক্যাপিটাল ওয়ান, পিএনসি ব্যাংক, টিডি ব্যাংক এবং বিএমও ব্যাংক—এই নয়টি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রায় এক লাখ অভিযোগ এবং ৫০ হাজার নথিপত্র পর্যালোচনা করে এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে সরকারি নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি। পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ব্যাংকগুলোর অভ্যন্তরীণ নীতিমালায় আর্থিক ঝুঁকির পরিবর্তে আদর্শিক অবস্থানকে বেশি প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে, যার ফলে অনেক বৈধ গ্রাহক এবং ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ব্যাংকিং সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। বিশেষ করে তেল-গ্যাস অনুসন্ধান, কয়লা খনি, আগ্নেয়াস্ত্র উৎপাদন ও বিক্রি এবং তামাক বা ই-সিগারেট ব্যবসার মতো রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল খাতগুলোকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে আর্থিক ব্যবস্থাকে ব্যবহারের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছিল। 'গ্যারান্টিং ফেয়ার অ্যাক্সেস টু ব্যাংকিং ফর অল আমেরিকানস' শীর্ষক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি বিশেষ নির্বাহী আদেশের ভিত্তিতেই এই পর্যালোচনাটি পরিচালিত হয়। ওসিসির কন্ট্রোলার অব দ্য কারেন্সি জোনাথন গোল্ড জানিয়েছেন, আজকের প্রতিবেদনটি স্পষ্ট প্রমাণ দিচ্ছে যে দেশের বড় ব্যাংকগুলো গ্রাহক ও বৈধ ব্যবসাগুলোর সঙ্গে বৈষম্যমূলক আচরণ করেছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, রাজনৈতিক মতাদর্শ নির্বিশেষে সব মার্কিন নাগরিকের আর্থিক সেবা পাওয়ার সমান অধিকার রয়েছে। তবে ব্যাংকগুলোর দাবি, তারা এখন সুনামের ঝুঁকির চেয়ে আর্থিক ঝুঁকি ও অন্যান্য ব্যবসায়িক বিষয়কে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। জেপি মরগান চেজ ব্যাংক জানিয়েছে, তারা গ্রাহকদের প্রতি বৈষম্যমূলক নীতি অনুসরণ করে না এবং চলমান নিয়ন্ত্রণমূলক পরিবেশই ব্যাংক খাতে এমন মাত্রাতিরিক্ত সতর্কতার জন্ম দিয়েছে, যা দ্রুত সংস্কার করা প্রয়োজন। ভবিষ্যতে এ ধরনের বৈষম্য রোধে ওসিসি নতুন বিধিমালা প্রণয়ন এবং পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের কথা সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করছে।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে চিকিৎসা দেওয়ার নামে ম্যাসেজ বা মালিশ করার কথা বলে দুই নারী রোগীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে এক নিউরোলজিস্টকে (স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞ) অভিযুক্ত করা হয়েছে। ৫১ বছর বয়সী ওই চিকিৎসকের নাম ড. তারিক লামকি। মঙ্গলবার ম্যানহাটন ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানিয়েছে, আগস্ট ও সেপ্টেম্বরে মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে স্টুইভেস্যান্ট টাউন এলাকার ‘ফোর্টিনথ স্ট্রিট মেডিকেল আর্টস’-এ নিজের চেম্বারে তিনি এই বিকৃত ঘটনাগুলো ঘটিয়েছেন। প্রসিকিউটরদের দেওয়া তথ্যমতে, গত ২৫ আগস্ট মাইগ্রেন ও মাথা ঘোরার সমস্যা নিয়ে আসা ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে শারীরিক চাপ কমানোর কথা বলে পরীক্ষার টেবিলে শুতে বলেন এই চিকিৎসক। এরপর তিনি ওই নারীর শরীরের বিভিন্ন স্পর্শকাতর অঙ্গে হাত দেন। ভুক্তভোগী নারী জোরপূর্বক বাধা দিয়ে উঠে বসলে, ওই চিকিৎসক নির্লজ্জভাবে তাকে ডিউটির পর বাসায় গিয়ে ম্যাসেজ করে দেওয়ার প্রস্তাবও দেন। দ্বিতীয় ঘটনাটি ঘটে ২ সেপ্টেম্বর। ২৩ বছর বয়সী আরেক নারীকে পরীক্ষার কক্ষে নিয়ে পিঠে ম্যাসেজ করার একপর্যায়ে তার স্কার্টের নিচে হাত ঢুকিয়ে দেন ড. লামকি। ভুক্তভোগী নারী উঠে দাঁড়ানোর চেষ্টা করলেও চিকিৎসকের শারীরিক ওজনের কারণে তিনি পেরে ওঠেননি। এরপর জোরপূর্বক তাকে শুইয়ে দিয়ে তার শরীরের বিভিন্ন স্পর্শকাতর স্থানে নিপীড়ন চালানো হয়। প্রসিকিউটররা জানান, ওই চিকিৎসক স্নায়বিক ব্যথা কমানোর অদ্ভুত চিকিৎসা হিসেবে ভুক্তভোগীকে বিভিন্ন আপত্তিকর পরামর্শ দেন। তবে ভুক্তভোগী নারী পুরো ঘটনার অডিও রেকর্ড করে রেখেছিলেন, যেখানে তাকে নিপীড়নের সময় বাধা দিতে শোনা যায়। ড. লামকির বিরুদ্ধে ফার্স্ট-ডিগ্রি যৌন নিপীড়ন, জোরপূর্বক স্পর্শ করা এবং থার্ড-ডিগ্রি যৌন নিপীড়নের দুটি করে অভিযোগ আনা হয়েছে। ম্যানহাটন সুপ্রিম কোর্টে তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন। প্রসিকিউটররা ১ লাখ ডলারের জামিন দাবি করলেও বিচারক কোরি ওয়েস্টন তার ২৫ হাজার ডলারের জামিন নির্ধারণ করেন। ম্যানহাটন ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি অ্যালভিন ব্র্যাগ এক বিবৃতিতে বলেন, "চিকিৎসকের অ্যাপয়েন্টমেন্ট কখনোই যৌন নিপীড়নের মাধ্যমে শেষ হওয়া উচিত নয়।" তিনি এই চিকিৎসকের মাধ্যমে হয়রানির শিকার অন্য কোনো ভুক্তভোগী থাকলে তাদেরও অভিযোগ জানানোর আহ্বান জানিয়েছেন। আগামী ২০ জানুয়ারি এই মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে। দোষী সাব্যস্ত হলে ড. লামকির সর্বোচ্চ সাত বছরের কারাদণ্ড হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের নর্থ ফোর্ট মায়ার্সে বাড়ি বিক্রির জন্য দেখানোর সময় এক অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোরকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে ৩৮ বছর বয়সী উরিয়েল সান্তিয়াগো পেরেজকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। লি কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ৬ অক্টোবর এ ঘটনায় পুলিশ তদন্ত শুরু করে। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ১২ থেকে ১৮ বছর বয়সী ভুক্তভোগীর ওপর যৌন নিপীড়নের অভিযোগ আনা হয়েছে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, বাড়ির মালিক সম্প্রতি তাঁর বাড়ি বিক্রির বিজ্ঞাপন দেন। এরপর সম্ভাব্য ক্রেতা হিসেবে পরিচয় দিয়ে পেরেজ বাড়িটি দেখতে যাওয়ার ব্যবস্থা করেন। বাড়িতে পৌঁছানোর পর মালিক ও তাঁর ছেলে তাঁকে বাড়িটি ঘুরিয়ে দেখাচ্ছিলেন। একপর্যায়ে অভিযুক্ত কিশোরকে বাথরুমে নিয়ে গিয়ে যৌন নিপীড়ন করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে খবর দেওয়া হয়। তবে পুলিশ পৌঁছানোর আগেই অভিযুক্ত বাড়ি ছেড়ে চলে যান। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, যাওয়ার আগে তিনি কিশোরকে রাস্তার শেষ প্রান্তে দেখা করতে বলেছিলেন। পরে সেখানে গিয়ে পুলিশ তাঁকে খুঁজে পায় এবং গ্রেপ্তার করে। লি কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় জানিয়েছে, অভিযুক্তকে বর্তমানে কাউন্টির কারাগারে রাখা হয়েছে এবং তাঁর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থা আইসিইর আটকাদেশ রয়েছে। এদিকে, ফক্স নিউজের বরাতে প্রকাশিত তথ্যে দাবি করা হয়েছে, পেরেজ ২০১৫ সালে জর্জিয়ার লরেন্সভিলে গ্রেপ্তারের পর আইসিইর নজরে এসেছিলেন। ওই সময় তাঁকে আটক না করার পেছনে তৎকালীন ওবামা প্রশাসনের অভিবাসন নীতির ভূমিকা ছিল বলে ফক্স নিউজকে জানিয়েছেন একটি সূত্র। তবে এ দাবির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সরকারি নথি থেকে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।