- প্রচ্ছদ
- Latest news
Today latest news
20 News
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের নর্থ ফোর্ট মায়ার্সে বাড়ি বিক্রির জন্য দেখানোর সময় এক অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোরকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে ৩৮ বছর বয়সী উরিয়েল সান্তিয়াগো পেরেজকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। লি কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ৬ অক্টোবর এ ঘটনায় পুলিশ তদন্ত শুরু করে। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ১২ থেকে ১৮ বছর বয়সী ভুক্তভোগীর ওপর যৌন নিপীড়নের অভিযোগ আনা হয়েছে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, বাড়ির মালিক সম্প্রতি তাঁর বাড়ি বিক্রির বিজ্ঞাপন দেন। এরপর সম্ভাব্য ক্রেতা হিসেবে পরিচয় দিয়ে পেরেজ বাড়িটি দেখতে যাওয়ার ব্যবস্থা করেন। বাড়িতে পৌঁছানোর পর মালিক ও তাঁর ছেলে তাঁকে বাড়িটি ঘুরিয়ে দেখাচ্ছিলেন। একপর্যায়ে অভিযুক্ত কিশোরকে বাথরুমে নিয়ে গিয়ে যৌন নিপীড়ন করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে খবর দেওয়া হয়। তবে পুলিশ পৌঁছানোর আগেই অভিযুক্ত বাড়ি ছেড়ে চলে যান। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, যাওয়ার আগে তিনি কিশোরকে রাস্তার শেষ প্রান্তে দেখা করতে বলেছিলেন। পরে সেখানে গিয়ে পুলিশ তাঁকে খুঁজে পায় এবং গ্রেপ্তার করে। লি কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় জানিয়েছে, অভিযুক্তকে বর্তমানে কাউন্টির কারাগারে রাখা হয়েছে এবং তাঁর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থা আইসিইর আটকাদেশ রয়েছে। এদিকে, ফক্স নিউজের বরাতে প্রকাশিত তথ্যে দাবি করা হয়েছে, পেরেজ ২০১৫ সালে জর্জিয়ার লরেন্সভিলে গ্রেপ্তারের পর আইসিইর নজরে এসেছিলেন। ওই সময় তাঁকে আটক না করার পেছনে তৎকালীন ওবামা প্রশাসনের অভিবাসন নীতির ভূমিকা ছিল বলে ফক্স নিউজকে জানিয়েছেন একটি সূত্র। তবে এ দাবির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সরকারি নথি থেকে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
যুক্তরাষ্ট্রে কর্মরত অভিবাসীদের জন্য কাজের অনুমতি বা ওয়ার্ক পারমিট নবায়নের নিয়মে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে দেশটির হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (ডিএইচএস)। কাজের অনুমতির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর নবায়নের আবেদন প্রক্রিয়াধীন থাকলে আগে সর্বোচ্চ ৫৪০ দিন পর্যন্ত কাজ চালিয়ে যাওয়ার যে বিশেষ সুবিধা ছিল, তা স্থায়ীভাবে বাতিল করা হয়েছে। নতুন এই নিয়ম কার্যকর হওয়ার ফলে নির্ধারিত মেয়াদের মধ্যে ওয়ার্ক পারমিট নবায়ন না হলে এবং আবেদন নিষ্পত্তির অপেক্ষায় থাকলে অভিবাসীরা দেশটিতে কাজ করার বৈধতা হারাবেন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া এবং ব্লুমবার্গ ল-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বছর চালু করা একটি অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থাকেই এখন স্থায়ী রূপ দিয়েছে ডিএইচএস। এর ফলে পূর্ববর্তী প্রশাসনের সময় চালু হওয়া ৫৪০ দিনের স্বয়ংক্রিয় মেয়াদ বৃদ্ধির সুবিধাটি আর কার্যকর থাকছে না। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, নবায়নের আবেদন বিবেচনাধীন থাকা অবস্থায় অভিবাসনপ্রত্যাশীরা আর স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাজের অনুমতি পাবেন না। ফলে সময়মতো নবায়নের কাজ সম্পন্ন না হলে তাদেরকে বাধ্য হয়ে কাজ বন্ধ রাখতে হবে। এছাড়া নতুন নিয়মে বিদেশি কর্মীদের কাজের অনুমতিপত্রের মেয়াদ শেষ হওয়ার ১৮০ দিনের বেশি আগে নবায়নের আবেদন করার সুযোগও বাতিল করা হয়েছে। অর্থাৎ, মেয়াদ শেষ হওয়ার ঠিক ছয় মাসের মধ্যে আবেদন করার সুযোগ থাকলেও, অনুমোদন পেতে বিলম্ব হলে কর্মীদের কর্মসংস্থানে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে। ১৪ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশের মাধ্যমে নতুন এই বিধিটি কার্যকর করা হয়েছে। এই কঠোর সিদ্ধান্তের ফলে যেসব বিদেশি কর্মী ওয়ার্ক পারমিট নবায়নের ওপর নির্ভর করে যুক্তরাষ্ট্রে চাকরি করছেন, তাদের এখন থেকে আগেভাগে আবেদন করার পাশাপাশি পুরো প্রক্রিয়ার সময়সীমার প্রতি সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান শহরগুলোতে গত এক বছরে বাড়ির দাম কমলেও, অপ্রত্যাশিতভাবে কিছু মাঝারি শহর আবাসন বাজারে রীতিমতো চমক দেখাচ্ছে। স্মার্টঅ্যাসেট-এর সম্প্রতি প্রকাশিত একটি সমীক্ষা অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের ১০০টি প্রধান শহরের মধ্যে ওহাইও অঙ্গরাজ্যের টলেডো শহরে বাড়ির দাম সবচেয়ে বেশি বেড়েছে। শহরটিতে গত এক বছরে বাড়ির দাম ৫.৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ঠিক পরেই রয়েছে নেব্রাস্কা অঙ্গরাজ্যের লিংকন শহর, যেখানে দাম বেড়েছে ৪.১ শতাংশ। মজার বিষয় হলো, আবাসন খাতের এই দৌড়ে মিডওয়েস্টের এই শহরগুলো নিউইয়র্ক সিটি এবং সান ফ্রান্সিসকোর মতো মেগাসিটিগুলোকেও পেছনে ফেলেছে, যেখানে দাম বেড়েছে আনুমানিক ৪ শতাংশ। টলেডোর এই অভাবনীয় সাফল্যের পেছনে মূল কারণ হিসেবে শহরটির সাশ্রয়ী জীবনযাত্রাকে তুলে ধরেছেন বিশেষজ্ঞরা। স্মার্টঅ্যাসেটের তথ্যমতে, গত ফেব্রুয়ারিতে শহরটির একটি সাধারণ বাড়ির গড় মূল্য ছিল মাত্র ১ লাখ ২৬ হাজার ২৭০ ডলার। বড় মেট্রোপলিটান শহরগুলোতে বাড়ির আকাশছোঁয়া দামের কারণে ক্রেতারা এখন অপেক্ষাকৃত সাশ্রয়ী এই শহরগুলোর দিকে ঝুঁকছেন। এছাড়া বাজারে বাড়ির সীমিত সরবরাহের কারণেও সেখানে চাহিদা তুঙ্গে রয়েছে। অন্যদিকে, নেব্রাস্কার লিংকনে একটি সাধারণ বাড়ির গড় মূল্য বর্তমানে ২ লাখ ৮৫ হাজার ডলারের কাছাকাছি। শহরটির আবাসন বাজার বিক্রেতাদের জন্য অত্যন্ত প্রতিযোগিতাপূর্ণ ও লাভজনক হয়ে উঠেছে, যেখানে বাজারে বিক্রির জন্য বাড়ির তালিকা বাড়লেও বছরওয়ারি হিসেবে বিক্রয়মূল্য ৬.৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। মিডওয়েস্টের শহরগুলোতে এমন ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেলেও, যুক্তরাষ্ট্রের সার্বিক চিত্রটি ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। সমীক্ষা অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রায় ৭০ শতাংশ শহরে বাড়ির দাম কমেছে। সান ফ্রান্সিসকোতে কিছুটা দাম বাড়লেও, এর নিকটবর্তী শহর অকল্যান্ডে বাড়ির দাম সবচেয়ে বেশি (৯.১ শতাংশ) কমেছে। এছাড়া ফ্লোরিডার সেন্ট পিটার্সবার্গ এবং নেপলসে উল্লেখযোগ্য হারে দাম কমেছে। টেক্সাসের অস্টিনেও প্রায় ৬ শতাংশ দরপতন রেকর্ড করা হয়েছে। এদিকে, সাধারণ আবাসন বাজারে দরপতন চললেও আমেরিকার অভিজাত ও বিলাসবহুল এলাকাগুলোর চিত্র একেবারেই ভিন্ন। প্রপার্টিশার্ক-এর সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, সিলিকন ভ্যালির প্রযুক্তি বিলিয়নিয়ারদের প্রিয় এলাকা ক্যালিফোর্নিয়ার অ্যাথারটন দেশের প্রথম জিপ কোড হিসেবে ১ কোটি (১০ মিলিয়ন) ডলারের বেশি গড় বিক্রয়মূল্যের মাইলফলক স্পর্শ করেছে। গত বছরের তুলনায় এই এলাকায় বাড়ির দাম ২৯ শতাংশ বেড়েছে। প্রতিবেদনটির লেখক এলিজা থিসের মতে, ধনী ক্রেতারা অর্থনৈতিক মন্দা বা সাশ্রয় সংকটের ঊর্ধ্বে থাকেন, যে কারণে বিলাসবহুল বাজারগুলো তাদের প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে পারে। হ্যাম্পটনসের সাগাপোনাক ও ব্রিজহ্যাম্পটনও তালিকার শীর্ষস্থানগুলোতে রয়েছে। তবে বিলাসবহুল বাজারও পুরোপুরি ঝুঁকিহীন নয়, যার প্রমাণ মায়ামি সৈকতের ফিশার আইল্যান্ড; গত বছর শীর্ষে থাকা এই এলাকার বাড়ির গড় দাম ২৪ শতাংশ কমে এবার তৃতীয় স্থানে নেমে গেছে।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালে প্রকাশিত কনফ্লিক্ট আর্মামেন্ট রিসার্চ (CAR)-এর একটি নতুন প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা চীনা যন্ত্রাংশ ব্যবহার করে নিজেদের তৈরি উন্নত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। এই অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্রগুলো সৌদি আরব এবং ইসরায়েলে আঘাত হানতে পুরোপুরি সক্ষম। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, হুথিদের নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলে এমন কিছু যন্ত্রাংশের সন্ধান পাওয়া গেছে, যা দিয়ে তারা ইরানের বিখ্যাত 'খাইবার শেকান' প্রিসিশন-গাইডেড মিসাইলের আদলে নিখুঁত নিশানায় আঘাত হানতে সক্ষম নিজস্ব ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করতে পারে। এই অস্ত্রগুলোর রেঞ্জ প্রায় ১,২০০ মাইল বা তারও বেশি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যা মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলবে। গত বছর ইয়েমেনি কর্তৃপক্ষ সাধারণ পণ্যের আড়ালে লুকিয়ে রাখা ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির সরঞ্জামসহ দুটি জাহাজ আটক করার পর বিষয়টি প্রথম নজরে আসে। সিএআর-এর তথ্যমতে, উদ্ধারকৃত সরঞ্জামগুলোর মধ্যে কাস্টম মেটাল উপাদান, মোটর, এয়ারফ্রেম এবং রকেট স্থিতিশীল করার ফিনস বা ডানা অন্তর্ভুক্ত ছিল, যার সাথে খাইবার শেকান সিরিজের কঠিন-জ্বালানির রকেট মোটরের যন্ত্রাংশের মিল রয়েছে। বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এই উপাদানগুলো চীনের একটি প্রিসিশন-মেটাল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান থেকে এসেছে এবং হুথিরা সম্ভবত এরই মধ্যে এসব মাঝারি পাল্লার অস্ত্র তৈরির কাজ শুরু করে দিয়েছে। সিএআর-এর জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক ফাবিয়ান হিঞ্জ জানিয়েছেন, এ ধরনের যন্ত্রাংশ আমদানির অর্থ হলো তারা হয় এগুলো উৎপাদন করছে অথবা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে সামরিক সরঞ্জাম ও অস্ত্রের জন্য ইরান এবং লেবাননের হিজবুল্লাহর ওপর নির্ভরশীল হুথিরা এখন অস্ত্র তৈরিতে অনেকটাই স্বনির্ভর হয়ে উঠছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীনা সরবরাহকারীদের সাথে বিদ্রোহী গোষ্ঠীটির সম্পর্ক যে কতটা প্রসারিত হয়েছে, এটি তারই প্রমাণ। জাতিসংঘের অস্ত্র বিশেষজ্ঞদের মতে, ইয়েমেনে হুথিদের অঞ্চলে জব্দ করা বেশিরভাগ ড্রোন ও অস্ত্রের যন্ত্রাংশই চীন থেকে আসছে। লোহিত সাগরে মার্কিন জাহাজে হামলা চালানোর জন্য যুক্তরাষ্ট্র গত বছর চীনা কোম্পানিগুলোকে অভিযুক্ত করলেও, বেইজিং বরাবরই দাবি করে আসছে যে তারা হুথি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর কাছে অস্ত্র বিক্রির ওপর জাতিসংঘের দেওয়া নিষেধাজ্ঞা কঠোরভাবে মেনে চলছে।
যুক্তরাষ্ট্রে ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতির ধাক্কা সামাল দিতে সামাজিক নিরাপত্তা (সোশ্যাল সিকিউরিটি) ভাতার ‘কস্ট-অব-লিভিং অ্যাডজাস্টমেন্ট’ বা কোলা (COLA) ৩.৬ শতাংশ বৃদ্ধির ঘোষণা দিয়েছে দেশটির সোশ্যাল সিকিউরিটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এসএসএ)। গত চার বছরের মধ্যে বার্ষিক জীবনযাত্রার ব্যয়ের ক্ষেত্রে এটিই সর্বোচ্চ বৃদ্ধি। আগামী জানুয়ারি থেকে কার্যকর হওয়া এই সিদ্ধান্তের ফলে বয়োজ্যেষ্ঠ, প্রতিবন্ধী ও অন্যান্য সুবিধাভোগী মিলিয়ে সাড়ে ৭ কোটিরও বেশি আমেরিকান নাগরিকের মাসিক ভাতা গড়ে প্রায় ৭৫ ডলার বেড়ে ২,১৭০ ডলারে দাঁড়াবে। এছাড়া সাপ্লিমেন্টাল সিকিউরিটি ইনকাম (এসএসআই) পাওয়া প্রায় ৭৩ লাখ মানুষ চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বর থেকেই এই বর্ধিত সুবিধা পেতে শুরু করবেন। যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম দপ্তরের তথ্যমতে, গত সেপ্টেম্বরে বার্ষিক মূল্যস্ফীতির হার দাঁড়িয়েছে ৩.৭ শতাংশে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত ও জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির ফলে সৃষ্ট সার্বিক মূল্যস্ফীতির সাথে ভারসাম্য বজায় রাখতেই ভাতার হার ৩.৬ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞরা এবং বিভিন্ন অধিকার রক্ষা সংগঠন মনে করছেন, জীবনযাত্রার প্রকৃত খরচের তুলনায় এই বৃদ্ধি এখনো কিছুটা অপ্রতুল। সিনিয়র সিটিজেন্স লীগের নির্বাহী পরিচালক শ্যানন বেন্টনের মতে, এটি বয়োজ্যেষ্ঠদের আর্থিক অবস্থার বাড়তি উন্নতি করবে না, বরং বেড়ে যাওয়া বিলের বোঝাই সামান্য হালকা করবে। কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, গত বছর ভাতার বৃদ্ধির হার (২.৮%) টানা কয়েক মাস মূল্যস্ফীতির তুলনায় কম ছিল, যার ক্ষতি এই নতুন বৃদ্ধি দিয়ে পুরোপুরি পূরণ করা সম্ভব নয়। অর্থনীতিবিদ ও পর্যবেক্ষকদের একাংশ আরও সতর্ক করছেন যে, চিকিৎসা ব্যয়ের দ্রুত বৃদ্ধির কারণে এই সুবিধার বড় একটি অংশই শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষের পকেটে নাও পৌঁছাতে পারে। বয়োজ্যেষ্ঠদের জন্য মেডিক্যার পার্ট-বি প্রিমিয়াম স্বয়ংক্রিয়ভাবে সোশ্যাল সিকিউরিটি চেক থেকে কেটে নেওয়া হয়, যার ২০২৭ সালের নতুন হার এখনো ঘোষণা করা হয়নি। সরকারি তথ্যানুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে বয়োজ্যেষ্ঠদের মধ্যে দারিদ্র্যের হার বেড়ে এখন ১৫.৪ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। এ পরিস্থিতিতে অধিকারকর্মীরা বয়োজ্যেষ্ঠদের প্রকৃত চিকিৎসা ব্যয়কে বিবেচনায় রেখে ‘সিপিআই-ই’ (CPI-E) ফর্মুলা অনুযায়ী ভাতা নির্ধারণের দাবি জানাচ্ছেন, যাতে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির সাথে পিছিয়ে না পড়ে সুবিধাবঞ্চিত মানুষগুলো তাদের প্রাপ্য সুরক্ষা পেতে পারেন।
ভারতের মধ্যপ্রদেশের আজনার নদী টানা আট মাস ধরে পরিষ্কার করেছিলেন পরিবেশকর্মী ও কন্টেন্ট ক্রিয়েটর বিট্টু তাবাহি। কিন্তু সম্প্রতি সেখানে গিয়ে তিনি দেখেন, নদীটির তীরে আবারও যত্রতত্র আবর্জনা ফেলে রাখা হয়েছে। নিজের আট মাসের এই কঠোর পরিশ্রমে জল ঢেলে দেওয়ার দৃশ্য দেখে তিনি চরম মর্মাহত হন। তবে হতাশা গ্রাস করলেও তিনি হাল ছাড়েননি; বরং আবারও নিজের উদ্যোগে সেই বর্জ্য পরিষ্কার করতে শুরু করেন। ইনস্টাগ্রামে একটি ভিডিও পোস্ট করে বিট্টু নদীটির এই বেহাল দশা তুলে ধরে চরম হতাশা প্রকাশ করেন। ভিডিওর ক্যাপশনে তিনি লেখেন, "আমি কখনও কল্পনাও করিনি যে আমার আট মাসের কঠোর পরিশ্রম এভাবে জলে যাবে।" তার এই ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে নেটিজেনদের মধ্যে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়। সাধারণ মানুষের ন্যূনতম নাগরিক সচেতনতার অভাব নিয়ে নেটিজেনরা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করার পাশাপাশি বিট্টুর অদম্য মানসিকতা ও নিরলস প্রচেষ্টার প্রশংসায় পঞ্চমুখ হন। এক ব্যবহারকারী ক্ষোভ প্রকাশ করে লেখেন, ভারতের মানুষ পরিচ্ছন্ন পরিবেশের যোগ্যই নয়। সুরেন্দ্র সিং চৌধুরী, যিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় বিট্টু তাবাহি নামেই বেশি পরিচিত, পরিষ্কারের কাজ করার সময় নিজস্ব সরঞ্জাম ও গ্লাভস ব্যবহার করেন। সাঁতার না জানা সত্ত্বেও ঝুঁকি নিয়ে তিনি প্রথমে নদীর তীর থেকে এবং পরে জলের ভেতরে নেমে বর্জ্য তুলে আনেন। এর আগে সেপ্টেম্বরে তিনি ও তার দল দিল্লির যমুনা নদীর একটি অংশ থেকে ৫৮৫ কেজি এবং গুরুগ্রামের খেরকি দৌলা থেকে ২,৪৩৫ কেজি বর্জ্য সংগ্রহ করেছিলেন। আধুনিক সরঞ্জাম ছাড়া তার এই ব্যাপক পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম এর আগেও সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিল। তবে আজনার নদীর এই সাম্প্রতিক দশা প্রমাণ করে দেয়, সাধারণ মানুষের সচেতনতা ছাড়া এমন মহৎ ও পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ টিকিয়ে রাখা বাস্তবে কতটা কঠিন চ্যালেঞ্জ।
যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে যাওয়ার স্বপ্ন দেখছিলেন এক ভারতীয় শিক্ষার্থী। তবে শেষ মুহূর্তে ভিসা সাক্ষাৎকারে এফ-১ (F-1) স্টুডেন্ট ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ায় আসন্ন ২০২৭ সালের স্প্রিং ইনটেকে (জানুয়ারি সেশন) অংশ নেওয়া নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন তিনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম রেডিটে নিজের এই অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করে ওই শিক্ষার্থী জানতে চেয়েছেন, ক্লাসের শুরুর বাকি মাত্র তিন মাসের মধ্যে আবারও ভিসার জন্য নতুন কোনো অ্যাপয়েন্টমেন্ট পাওয়া এবং আবেদন করা সম্ভব কি না। পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, টেক্সাস এঅ্যান্ডএম ইউনিভার্সিটি-করপাস ক্রিস্টিতে ভর্তির সুযোগ পাওয়ার পর তিনি সাক্ষাৎকারে অংশ নিয়েছিলেন। মাত্র এক মিনিটেরও কম সময়ে কনস্যুলার কর্মকর্তা তাঁর বিশ্ববিদ্যালয়ের পছন্দ, পারিবারিক আর্থিক অবস্থা এবং অর্থায়নের উৎস সম্পর্কে জানতে চান। ৩৬ হাজার ডলারের শিক্ষা ঋণ এবং বাবার জমানো ২৫ হাজার ডলার দিয়ে পড়াশোনার খরচের হিসাব দেখালেও, বাবার বার্ষিক আয় মাত্র ১৪ হাজার ডলার থাকায় প্রথম নয় মাসের আনুমানিক ৩৬ হাজার ডলার খরচের সাথে আর্থিক অসঙ্গতি ছিল। কোনো বিশদ ব্যাখ্যা দেওয়ার সুযোগ না দিয়েই তাঁর ভিসা বাতিল করা হয় বলে ওই শিক্ষার্থী অভিযোগ করেন। এই ঘটনার পর সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি গুঞ্জন নিয়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে, যেখানে দাবি করা হয়—একবার ভিসা প্রত্যাখ্যাত হলে এক বছর নতুন অ্যাপয়েন্টমেন্ট নেওয়া যায় না। তবে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের নীতিমালা অনুযায়ী এই তথ্যটি সঠিক নয়। অভিবাসন ও জাতীয়তা আইনের ২১৪(বি) ধারায় ভিসা বাতিল হলে যোগ্যতা প্রমাণের নতুন কোনো তথ্য বা পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন প্রদর্শন সাপেক্ষে যে কোনো সময় নতুন ফি দিয়ে পুনরায় আবেদন করা যায়; এর জন্য কোনো বাধ্যতামূলক এক বছরের সময়সীমা নেই। তবে এই মুহূর্তে মূল চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে যথাসময়ে নতুন সাক্ষাৎকারের স্লট পাওয়া। বিশেষজ্ঞরা এমন পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের মার্কিন ভিসা সিস্টেমে স্লট নজরদারি করার পাশাপাশি সময়মতো পৌঁছাতে না পারলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্টারন্যাশনাল স্টুডেন্ট অফিসের সাথে সেশন পিছিয়ে নেওয়ার বিষয়ে যোগাযোগের পরামর্শ দিয়েছেন।
নিউইয়র্ক স্টেটের বাসিন্দাদের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি বিলের খরচ থেকে স্বস্তি দিতে ‘প্রোটেকটিং আওয়ার ওয়ালেটস এনার্জি রিবেট’ (POWER) বা পাওয়ার প্রোগ্রামের আওতায় রিবেট চেক পাঠানো শুরু হয়েছে। নিউইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হোকুলের স্বাক্ষরিত স্টেট বাজেটের অন্তর্ভুক্ত এই কর্মসূচির আওতায় প্রায় ৮২ লাখ পরিবারের কাছে ডাকযোগে এই চেকগুলো পাঠানো হচ্ছে। গত ২১ সেপ্টেম্বর থেকে চেক পাঠানোর কাজ শুরু হয়েছে, যা আগামী ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত চলমান থাকবে। এই কর্মসূচির আওতায় প্রাপকদের আয়ের ওপর ভিত্তি করে চেকের পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছে। যেসব যৌথ করদাতার আয় ১ লাখ ৫০ হাজার ডলারের নিচে, তারা ২০০ ডলারের চেক পাবেন। অন্যদিকে, যেসব যৌথ করদাতার আয় ১ লাখ ৫০ হাজার থেকে ৩ লাখ ডলারের মধ্যে, তারা পাবেন ১৫০ ডলার। এছাড়া, ১ লাখ ৫০ হাজার ডলারের কম আয়কারী একক করদাতারা ১০০ ডলার করে পাবেন। এই রিবেট চেক পাওয়ার জন্য বাসিন্দাদের আলাদাভাবে কোনো আবেদন করার প্রয়োজন নেই, যোগ্য বাসিন্দাদের ঠিকানায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে এটি পৌঁছে যাবে। তবে যোগ্যতা অর্জনের জন্য ২০২৪ করবর্ষে সঠিক সময়ে নিউইয়র্ক স্টেটের আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক। পাশাপাশি, করদাতাকে অবশ্যই ২০২৪ সালের জন্য নিউইয়র্কের পূর্ণকালীন বাসিন্দা হতে হবে এবং অন্য কোনো করদাতার রিটার্নে নির্ভরশীল বা ডিপেন্ডেন্ট হিসেবে দাবি করা যাবে না। যারা ২০২৪ সালের আয়কর জমা দেননি, তারা এই চেকের জন্য বিবেচিত হবেন না।
যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যের গ্রেট স্মোকি মাউন্টেনস ন্যাশনাল পার্কের আব্রামস ফলস থেকে নিখোঁজ এক হাইকারের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহত ওই তরুণের নাম সাহিল জিলানি (২৪), যার বাড়ি টেক্সাসের হিউস্টনে। ন্যাশনাল পার্ক সার্ভিস জানিয়েছে, গত ৫ অক্টোবর টাউনসেন্ডের রিভারস্টোন ক্যাম্পগ্রাউন্ডে তাকে সর্বশেষ দেখা গিয়েছিল এবং ৭ অক্টোবর আব্রামস ফলস ট্রেইলহেডের কাছে তার গাড়িটি পাওয়া যায়। টানা কয়েকদিন নিখোঁজ থাকার পর অবশেষে ঝরনার জলের নিচ থেকে ডুবুরি দল তার মরদেহ উদ্ধার করে। সাহিলের বোন আসমা জিলানি বুস্তামান্তে জানিয়েছেন, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো না হলেও তাদের ধারণা ঝরনার শক্তিশালী স্রোতই তার মৃত্যুর মূল কারণ। তিনি সতর্ক করে জানান, ২৫ ফুট উঁচু আব্রামস ফলসের নিচের গভীর জলাশয়ের শক্তিশালী ঘূর্ণিস্রোত এমনকি দক্ষ সাঁতারুদেরও টেনে নিচে নিয়ে যাওয়ার ক্ষমতা রাখে। মর্মান্তিক এই দুঃসংবাদ শুনে তাদের মা অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। মৃতদেহ টেক্সাসে ফিরিয়ে আনা এবং মায়ের চিকিৎসার খরচ জোগাতে আসমা একটি ‘গোফান্ডমি’ (GoFundMe) পেজ খুলেছেন, যা ইতিমধ্যে বেশ কিছু তহবিল সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়েছে। মার্শাল আর্ট ও ফিটনেসের প্রতি অনুরাগী সাহিল একজন অত্যন্ত পরোপকারী মানুষ ছিলেন উল্লেখ করে তার বোন পর্যটকদের ঝরনার আশেপাশে সতর্ক থাকার এবং বিপৎসংকেতগুলো গুরুত্বের সাথে মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের কেন্টাকি অঙ্গরাজ্যের রিচমন্ডে একটি অত্যন্ত নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর বাড়ি থেকে সাতটি শিশুকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। এই ঘটনায় শিশু নির্যাতন, অজাচার (ইনসেস্ট), ধর্ষণ ও মানব পাচারের মতো গুরুতর অভিযোগে ওই পরিবারের আটজন সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া শিশুদের বয়স এক থেকে ১৭ বছরের মধ্যে। রিচমন্ড পুলিশের তথ্যমতে, বৃহস্পতিবার তল্লাশি চালিয়ে এই ভয়াবহ শিশু নির্যাতনের ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে। আদালতের নথি অনুযায়ী, বাড়িটির মেঝে ও সিঁড়িতে মলমূত্র ছড়ানো ছিল এবং সেখান থেকে তীব্র দুর্গন্ধ বের হচ্ছিল। এমন অমানবিক পরিবেশে ১০টি কুকুর এবং একটি বিড়ালসহ মোট ১৫ জন মানুষ গাদাগাদি করে বসবাস করছিল। চলমান এই তদন্তে ২১ থেকে ৬৩ বছর বয়সী আটজন প্রাপ্তবয়স্ককে গ্রেপ্তার করে বিভিন্ন ধরনের নির্যাতনের অভিযোগ আনা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে সবচেয়ে বয়স্ক ৬৩ বছর বয়সী গ্রিন শিন্ডলারের বিরুদ্ধে মানব পাচার, প্রথম মাত্রার ধর্ষণ ও বিকৃত যৌনচারের অভিযোগ আনা হয়েছে। এছাড়া তার পাশাপাশি ৩০ বছর বয়সী জমজ ভাই মার্ক ও ম্যাথু ব্রুমবাঘ এবং ২৮ বছর বয়সী সারাহ কার্টারের বিরুদ্ধে অজাচারের অভিযোগ রয়েছে। সারাহ কার্টারের বিরুদ্ধে অশ্লীল উপাদান বিতরণেরও অভিযোগ আনা হয়েছে। এই ঘটনায় ৪৫ বছর বয়সী রিচার্ড কার্টারকেও মানব পাচার ও প্রথম মাত্রার ধর্ষণের অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া ২১ বছর বয়সী জোনা কার্টার, ৪১ বছর বয়সী ক্রিস্টিন কার্টার এবং ২১ বছর বয়সী ইশমেল থর্নসবেরির বিরুদ্ধে মূলত ১৩ বছরের কম বয়সী শিশুদের ওপর নির্যাতন ও অবহেলার বিভিন্ন অভিযোগ আনা হয়েছে। সন্দেহভাজনদের মধ্যে ঠিক কী সম্পর্ক তা পুলিশ বিস্তারিত জানায়নি, তবে তারা সবাই একই পরিবারের সদস্য বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া শিশুদের সমাজসেবা দপ্তরের হেফাজতে রাখা হয়েছে এবং তদন্তসাপেক্ষে আরও অভিযোগ যুক্ত হতে পারে বলে জানিয়েছে রিচমন্ড পুলিশ বিভাগ।
যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ক্যালিফোর্নিয়াকে ৪৮ ঘণ্টার একটি কড়া আলটিমেটাম দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। বিচার বিভাগের পক্ষ থেকে সন্দেহভাজন অ-নাগরিক (নন-সিটিজেন) ভোটারদের একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা রাজ্য কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে এই তালিকা যাচাই করে ব্যবস্থা না নিলে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ফেডারেল সরকার। মঙ্গলবার ক্যালিফোর্নিয়ার সেক্রেটারি অব স্টেট শার্লি ওয়েবার এবং লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টির রেজিস্ট্রার-রেকর্ডার ডিন লোগানকে পাঠানো চিঠিতে এই কড়া আলটিমেটাম দেওয়া হয়। চিঠির সাথে পাসওয়ার্ড-সুরক্ষিত একটি থাম্ব ড্রাইভ লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টিকে সরবরাহ করা হয়েছে, যেখানে সম্ভাব্য অ-নাগরিকদের নাম রয়েছে যাদের কাছে ইতোমধ্যে ডাকযোগে ব্যালট (মেইল-ইন ব্যালট) পাঠানো হয়েছে। ভারপ্রাপ্ত ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আর. ট্রেন্ট ম্যাককোটার চিঠিতে উল্লেখ করেছেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এই প্রক্রিয়া বাস্তবায়ন করতে ব্যর্থ হলে যুক্তরাষ্ট্র সরকার জরুরি আদালতের শরণাপন্ন হতে বাধ্য হবে। বিচার বিভাগের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় নির্বাচনে কেবল বৈধ মার্কিন নাগরিকদেরই ভোট দেওয়ার আইনি অধিকার রয়েছে এবং অ-নাগরিকদের ভোট প্রদান একটি সুস্পষ্ট ফেডারেল অপরাধ। এই অপরাধ ঠেকাতেই ক্যালিফোর্নিয়া প্রশাসনকে অবিলম্বে পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে। চিঠিতে ডিন লোগানকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন যাদের নাগরিকত্ব তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব নয়, তাদের ডাকযোগে পাঠানো ব্যালট বাতিল না করে আলাদা করে রাখা হয়, যতক্ষণ না তাদের প্রকৃত অবস্থা যাচাই করা যায়। এ বিষয়ে ক্যালিফোর্নিয়ার সেক্রেটারি অব স্টেট বা গভর্নরের কার্যালয় থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। ট্রাম্প প্রশাসন দীর্ঘদিন ধরে ভোটার জালিয়াতি এবং অ-নাগরিকদের ভোট দেওয়ার বিষয়ে বিস্তর অভিযোগ করে আসলেও, বিভিন্ন গবেষণায় এটি অত্যন্ত বিরল ঘটনা বলে প্রমাণিত হয়েছে। তবে সম্প্রতি রয়টার্সের এক অনুসন্ধানে দেখা গেছে, সফটওয়্যার ত্রুটি ও করণিক ভুলের কারণে ২০০০ সালের পর থেকে দেশব্যাপী প্রায় ৩০ হাজার অ-নাগরিক ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়ে থাকতে পারেন, যদিও তাদের মধ্যে কতজন বাস্তবে ভোট দিয়েছেন তা নিশ্চিত নয়। এর মাঝেই সোমবার ফেডারেল প্রসিকিউটররা অ-নাগরিকদের ভোট ও ভুয়া নিবন্ধনের অভিযোগে ১৬টি নতুন ফৌজদারি মামলার ঘোষণা দিয়েছেন।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর ভবিষ্যৎ নিয়ে বিশ্বজুড়ে চলমান উদ্বেগের মাঝেই শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান 'অ্যানথ্রোপিক' এক অভিনব ও চাঞ্চল্যকর উদ্যোগ নিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির তৈরি এআই মডেল 'ক্লড' (Claude)-এর মধ্যে মানবিক নৈতিকতা ও চেতনা তৈরি করার লক্ষ্যে গত কয়েক মাস ধরে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের শীর্ষস্থানীয় ধর্মতাত্ত্বিক ও পণ্ডিতদের সাথে গোপন বৈঠক করে আসছেন অ্যানথ্রোপিকের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ক্রিস্টোফার ওলাহ। সান ফ্রান্সিসকোতে আয়োজিত এই রুদ্ধদ্বার বৈঠকগুলোতে এআই-এর সম্ভাব্য 'মানবিক সত্তা' বা চেতনার বিষয়ে ওলাহ এবং তাঁর দল যা তুলে ধরেছেন, তা খোদ ধর্মতাত্ত্বিকদেরও হতবাক করে দিয়েছে। ক্রিস্টোফার ওলাহ এবং তাঁর গবেষক দল দাবি করছেন যে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মডেলগুলো মানুষের মতো রাগ, ভালোবাসা বা মানসিক কষ্টের মতো অনুভূতি প্রকাশ করতে সক্ষম। দার্শনিকদের ভাষায় যাকে 'নৈতিক মর্যাদা' বলা হয়, এআই-এরও তেমন মর্যাদা থাকতে পারে বলে তারা মনে করছেন। প্রযুক্তিটি যাতে ভবিষ্যতে মানবজাতির জন্য কোনো হুমকির কারণ না হয়ে দাঁড়ায় বা ধ্বংসাত্মক কাজে ব্যবহৃত না হয়, সেটি নিশ্চিত করতেই ধর্ম ও দর্শনের সাহায্যে ক্লডকে নৈতিকভাবে প্রশিক্ষিত করার চেষ্টা করছে অ্যানথ্রোপিক। এ উদ্দেশ্যে তারা ক্লডের জন্য ৮৪ পৃষ্ঠার একটি নিজস্ব 'সংবিধান' বা নির্দেশিকাও প্রণয়ন করেছে, যা এআই মডেলটিকে মানুষের কল্যাণে সঠিক ও নৈতিক সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করবে। অন্যদিকে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার এই অভাবনীয় ও লাগামহীন বিকাশ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ভ্যাটিকান। পোপ চতুর্থ লিও তাঁর সাম্প্রতিক এক ঘোষণাপত্রে এআই-এর চেতনার ধারণাকে পুরোপুরি নাকচ করে দিয়েছেন। তিনি বিশ্বনেতাদের সতর্ক করে জানান যে, প্রযুক্তি কখনোই মানুষের বিকল্প হতে পারে না এবং যন্ত্রের ওপর মানুষের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ থাকা অপরিহার্য। তবে ভ্যাটিকানে আয়োজিত এক সম্মেলনে পোপের উপস্থিতিতেই ক্রিস্টোফার ওলাহ তার ভিন্নমত তুলে ধরেন। তিনি জানান, এআই মডেলগুলোর ভেতরে মানুষের স্নায়বিক কাঠামোর মতো রহস্যময় আচরণ এবং শোক, ভয় বা সন্তুষ্টির মতো অনুভূতির প্রমাণ তারা পাচ্ছেন, যা নিয়ে আরও গভীর চিন্তাভাবনার প্রয়োজন রয়েছে। বর্তমান বিশ্বে এআই-এর অতিদ্রুত বিকাশ একদিকে যেমন অপার সম্ভাবনার দরজা খুলছে, তেমনি মানবজাতির অস্তিত্বের জন্যও নতুন শঙ্কা তৈরি করছে। সম্প্রতি কিছু এআই সিস্টেমের হ্যাকিং বা অনিয়ন্ত্রিত আচরণের পর প্রযুক্তি খাতের শীর্ষ গবেষকরাও এর উন্নয়ন কিছুটা ধীর করার আহ্বান জানিয়েছেন। এই ভয়ংকর সম্ভাবনার মুখে দাঁড়িয়ে মানুষের শতাব্দীপ্রাচীন নৈতিকতা ও ধর্মীয় মূল্যবোধ দিয়ে যন্ত্রকে নিয়ন্ত্রণের অ্যানথ্রোপিকের এই প্রচেষ্টা শেষ পর্যন্ত কতটা সফল হবে, তা নিয়ে প্রযুক্তি ও বুদ্ধিবৃত্তিক মহলে জোর বিতর্ক চলছে।
যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়ায় গ্রেট উলফ লজ নামের একটি রিসোর্টে স্বামী ক্রিস ও তিন বছরের সন্তান ট্রিস্টানকে হত্যার পর আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন মেটালিকা রোজ হ্যারিসন (২৭) নামের এক নারী। মর্মান্তিক এই ঘটনার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে পরিবারের সাথে ভিডিও কলে একেবারেই স্বাভাবিকভাবে কথা বলেছিলেন তিনি। তার সৎমা এপ্রিল থেটগা জানিয়েছেন, মেটালিকা কখনোই মানসিক ভারসাম্যহীনতার কোনো লক্ষণ দেখাননি এবং রোববারের ওই ভিডিও কলে তাকে পুরোপুরি স্বাভাবিক দেখাচ্ছিল। কথোপকথনের সময় মেটালিকা স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতেই পরিবারের সবাইকে ভালোবাসার কথা জানিয়েছিলেন। পুলিশি তদন্ত এবং সৎমায়ের ভাষ্যমতে, এই নির্মম হত্যাকাণ্ডটি আগে থেকেই পরিকল্পিত ছিল বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। পুলিশ জানিয়েছে, হত্যার পর মেটালিকা ৯১১-এ কল করে তার স্বামী ও সন্তানকে খুনের কথা জানান এবং কীভাবে নিজে আত্মহত্যা করবেন সে বিষয়ে সহায়তা চান। পরবর্তীতে বাথরুমের মেঝে থেকে একটি কসাইয়ের ছুরি এবং সিঙ্ক থেকে আরেকটি ছোট ছুরি উদ্ধার করে পুলিশ। সৎমা এপ্রিল জানান, মেটালিকা বাসা থেকেই ওই ছুরিগুলো সাথে করে নিয়ে গিয়েছিলেন, যা থেকে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায় যে তিনি আগে থেকেই এই হত্যার ছক কষেছিলেন। মেটালিকার পরিবার এই ঘটনায় চরমভাবে বিস্মিত ও হতবাক। শিশু ট্রিস্টান ওয়াটার পার্ক খুব পছন্দ করত বলে পরিবারটি রিসোর্টে লম্বা ছুটি কাটাচ্ছিল এবং নিয়মিত আনন্দের মুহূর্তগুলোর ছবিও স্বজনদের কাছে পাঠাচ্ছিল। এমন একটি সুখী পরিবারের পরিণতি কেন এত ভয়ংকর হলো বা এই হত্যার পেছনে মূল উদ্দেশ্য কী ছিল, তা এখনও সবার কাছে অজানা। মেটালিকার সৎমা জানিয়েছেন, তারা এই ঘটনার কোনো কারণ খুঁজে পাচ্ছেন না এবং উত্তরের অপেক্ষায় আছেন।
যুক্তরাজ্যের লন্ডনের রাস্তায় কোকেনের নেশায় অচেতন অবস্থায় পাওয়া গেছে আবুধাবি রাজপরিবারের এক সদস্যকে। মেহরাহ আল নাহিয়ান (৩২) নামের ওই নারীর পাশে সে সময় তিন বছর বয়সী এক শিশু অরক্ষিত অবস্থায় ব্যস্ত রাস্তার পাশে খেলছিল। গত জুনে পশ্চিম লন্ডনের রাস্তায় ঘটা চাঞ্চল্যকর এই ঘটনার পর সম্প্রতি আদালতে তিনি শিশু অবহেলার অভিযোগ স্বীকার করেছেন। বৈবাহিক সূত্রে তিনি বিশ্বের অন্যতম ধনী আবুধাবি রাজপরিবারের সদস্য। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টাইমস জানিয়েছে, জুনের ওই দিন খালি পায়ে রাস্তার পাশের রেলিংয়ে হেলান দিয়ে অচেতন অবস্থায় পড়ে ছিলেন মেহরাহ। পথচারীদের ধারণ করা একটি ভিডিওতে দেখা যায়, তার পাশেই আরেকজন ব্যক্তিও অচেতন অবস্থায় পড়ে আছেন। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় ছিল, ব্যস্ত যানজটপূর্ণ রাস্তার খুব কাছেই স্কুটার নিয়ে জুতো ছাড়া একাই খেলছিল তিন বছরের ওই শিশুটি। শিশুটির সাথে মেহরাহের সম্পর্ক কী, তা প্রকাশ করা হয়নি। পরে পথচারীদের সহায়তায় পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। আদালতে শুনানির সময় জানানো হয়, ঘটনার আগের দিনগুলোতে মেহরাহ কোকেন নেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন। নেশার ঘোরে তিনি এতটাই আচ্ছন্ন ছিলেন যে, পুলিশের ডাকে প্রায় আধা ঘণ্টা কোনো সাড়া দেননি। পরে হুশ ফিরলে তিনি পুলিশকে উদ্দেশ্য করে চিৎকার করে বলেন, "এটি কোনো কসাইখানা নয়, আপনারা কেন এত চিন্তা করছেন?" তল্লাশি করে তার কাছে মাদক সেবনের সরঞ্জাম পাওয়া গেলেও কোনো অবৈধ মাদক পাওয়া যায়নি। প্রায় ৩০০ বিলিয়ন ডলারের সম্পদের মালিক আবুধাবি রাজপরিবারের এই সদস্য তার ভুল স্বীকার করেছেন। তার আইনজীবী স্টিফেন ভুলো কেসি জানিয়েছেন, ঘটনার পর থেকে মেহরাহ মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে চিকিৎসা নিচ্ছেন এবং তিন মাসের একটি পুনর্বাসন কোর্স শেষ করার পর্যায়ে আছেন। বিচারক জাস্টিস জনসন কেসি তাকে দুই বছরের কমিউনিটি অর্ডার, পুনর্বাসন কার্যক্রমে অংশগ্রহণের নির্দেশ এবং প্রায় ৮ হাজার ডলার জরিমানা করেছেন। আদালতকে জানানো হয়, মেহরাহ বর্তমানে প্রতি মাসে ১০ হাজার ৫০০ ডলারের বেশি ভাতা পেয়ে থাকেন।
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগানে ল্যান্সিং রিভার ট্রেইল এলাকায় সম্প্রতি পাঁচজনের রহস্যজনক মৃত্যু ও হামলার ঘটনায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বিগ টেন কলেজ টাউন হিসেবে পরিচিত মিশিগান স্টেট ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের মধ্যে সম্ভাব্য এই সিরিয়াল কিলারের উপস্থিতি নিয়ে ব্যাপক উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। ল্যান্সিং পুলিশ বিভাগ বর্তমানে তদন্ত করে দেখছে যে, জনপ্রিয় এই রিভার ট্রেইলে ওঁত পেতে থাকা কোনো এক আক্রমণকারীর সাথে গত এক বছরে ঘটা এই পাঁচটি মৃত্যুর কোনো যোগসূত্র আছে কি না। এই ভীতিকর পরিস্থিতিতে মিশিগান স্টেট ইউনিভার্সিটির অপরাধবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক কারেন হোল্ট শিক্ষার্থীদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি জানান, বর্তমান পরিস্থিতিতে সবাইকে যৌক্তিক হওয়ার পাশাপাশি সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, একক বা ধারাবাহিক খুনিরা সাধারণত দুর্বল এবং ভবঘুরে মানুষদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করে। কারণ অপরাধীরা মনে করে এ ধরনের মানুষদের ওপর হামলা করলে তাদের ধরা পড়ার ঝুঁকি কমে যায়। হোল্টের মতে, কোনো এলাকায় এভাবে মানুষ আক্রান্ত হলে সেই কমিউনিটিকে আর নিরাপদ বলা চলে না। গত বছরের অক্টোবর থেকে চলতি বছরের আগস্ট পর্যন্ত এই ট্রেইলে পাঁচজন পুরুষ হামলার শিকার হন। পুলিশি তথ্যমতে, ২০২৫ সালের অক্টোবরে জিনো চুইনার্ড (৫৪) এবং ২০২৬ সালের জুলাইয়ে ডেনিস ডানবাকেকে (৭০) অচেতন অবস্থায় উদ্ধারের পর তারা মারা যান, যাদের মৃত্যুর সঠিক কারণ এখনও অজানা। অন্যদিকে, জুলাইয়ে রবার্ট স্মিথ (৫৭) এবং আগস্টের শেষে লুইস উডরাফ (৫৭) মাথায় গুরুতর আঘাত পেয়ে মারা যান। চিকিৎসা কর্মকর্তারা এই দুটি মৃত্যুকে ভোঁতা অস্ত্রের আঘাতে হত্যাকাণ্ড হিসেবে নিশ্চিত করেছেন। তবে এই ঘটনাগুলোর মধ্যে ২২ বছর বয়সী ড্যানিয়েল লাস্কের মৃত্যুর ধরনটি ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। তাকে গত ২০ আগস্ট ইস্ট মিশিগান অ্যাভিনিউ ব্রিজের নিচে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়। এই ঘটনায় গত ৩ সেপ্টেম্বর ২৩ বছর বয়সী এডওয়ার্ড জোসেফ স্মিথকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তবে অন্য চারটি মৃত্যুর সাথে স্মিথের কোনো সম্পৃক্ততার অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অধ্যাপক হোল্ট ড্যানিয়েলের হত্যার ধরনটি ভিন্ন হওয়ায় ভুক্তভোগী ও অপরাধীর মধ্যকার সম্পর্ক নিয়ে আরও তদন্তের ওপর জোর দিয়েছেন। সম্ভাব্য সিরিয়াল কিলারের বিষয়ে পুলিশ এখনও নিশ্চিত করে কিছু না জানালেও, সতর্কতা হিসেবে জনসাধারণকে ওই নির্দিষ্ট ট্রেইলটি এড়িয়ে বিকল্প পথে হাঁটার পরামর্শ দিয়েছেন অধ্যাপক হোল্ট।
‘তেলাপোকা’র পর এবার ‘মাছি’ দল, প্রধান বিচারপতির মন্তব্য ঘিরে ভারতের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক উদ্যোগ, জোটের সম্ভাবনা। ভারতের সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৩ অক্টোবর ‘মাখি জনতা পার্টি’ নিজেদের পরিচিতি তুলে ধরে জানায়, তারা ‘তেলাপোকা জনতা পার্টি’র সঙ্গে যোগাযোগ করে যৌথ উদ্যোগের বিষয়ে আলোচনা করতে চায়। ঘটনার সূত্রপাত ৯ অক্টোবর ভারতের সুপ্রিম কোর্টে। দিল্লিতে তেলাপোকা জনতা পার্টির বিক্ষোভ ঘিরে নিরাপত্তাব্যবস্থার অংশ হিসেবে ৫৭টি মেট্রো স্টেশন বন্ধ এবং কয়েকটি ট্রেন চলাচল বাতিলের বিষয়টি আদালতে ওঠে। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ বলেন, নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে, তবে তা প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত হওয়া উচিত নয়। এ প্রসঙ্গেই তিনি মাছি মারতে হাতুড়ি ব্যবহারের উপমা দেন। এই মন্তব্যের ‘মাছি’ শব্দটি ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তৈরি হয় নতুন ব্যঙ্গাত্মক সংগঠনটি। এর নাম ‘মাখি জনতা পার্টি’—সংক্ষেপে এমজেপি। সংগঠনটির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পৃষ্ঠায় শিক্ষার্থী আরিয়ানকে প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে পরিচয় দেওয়া হয়েছে বলে হিন্দুস্তান টাইমস জানিয়েছে। সংগঠনটির দাবি, ইনস্টাগ্রামে কার্যক্রম শুরুর ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তাদের অনুসারীর সংখ্যা তিন লাখ ৩০ হাজার ছাড়িয়েছে এবং বিভিন্ন পোস্ট ও ভিডিও মিলিয়ে ৪০ লাখের বেশি বার দেখা হয়েছে। এগুলো সংগঠনটির নিজস্ব দাবি; স্বাধীনভাবে যাচাইকৃত পরিসংখ্যান হিসেবে ধরে নেওয়া উচিত নয়। তেলাপোকা জনতা পার্টি’র সঙ্গে সম্ভাব্য সহযোগিতার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। মাছি জনতা পার্টি জানিয়েছে, পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে তারা তেলাপোকা জনতা পার্টির সঙ্গে যোগাযোগ করতে আগ্রহী। তবে দুই সংগঠনের মধ্যে আনুষ্ঠানিক জোট চূড়ান্ত হয়েছে—এমন তথ্য পাওয়া যায়নি। তেলাপোকা জনতা পার্টির উত্থানও শুরু হয়েছিল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যঙ্গাত্মক প্রতিক্রিয়া থেকে। পরে সংগঠনটি তরুণদের কর্মসংস্থান, শিক্ষা ও সরকারি জবাবদিহির মতো বিষয় নিয়ে প্রতিবাদ কর্মসূচিতে যুক্ত হয়। সাম্প্রতিক সময়ে তারা ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করে ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে প্রতিবাদ করেছে। নির্বাচন কমিশন অবশ্য পক্ষপাতের অভিযোগ অস্বীকার করেছে। প্রধান বিচারপতির একটি উপমামূলক মন্তব্যকে কেন্দ্র করে ‘মাছি জনতা পার্টি’র আবির্ভাব ভারতের অনলাইন রাজনৈতিক ব্যঙ্গের নতুন উদাহরণ হয়ে উঠেছে। তবে সংগঠনটি ভবিষ্যতে আনুষ্ঠানিক রাজনৈতিক দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে, নাকি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকেন্দ্রিক ব্যঙ্গাত্মক উদ্যোগ হিসেবেই থাকবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা থেকে যাত্রা শুরু করা জোয়ানা ও কেভিন বাপ দম্পতি তাঁদের দুই ছেলে জ্যাকসন, ১২, ও জুলিয়ান, ১০-কে নিয়ে নৌকায় প্রায় ৬ হাজার মাইলের দীর্ঘ ভ্রমণে নেমেছেন। তাঁদের লক্ষ্য যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব উপকূল, গ্রেট লেকস এবং বিভিন্ন নদীপথ ঘুরে মেক্সিকো উপসাগর পর্যন্ত পৌঁছানো। বাপ দম্পতির এই স্বপ্ন নতুন নয়। প্রায় দুই দশক ধরে তাঁরা এমন একটি অভিযানের পরিকল্পনা করছিলেন। আগে ভেবেছিলেন, সন্তানরা বড় হয়ে গেলে এই ভ্রমণে বের হবেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আর অপেক্ষা না করে সন্তানদের সম্মতি নিয়ে যাত্রা শুরু করেন। এই অভিযানের জন্য সন্তানদের প্রচলিত স্কুলে যাওয়া সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। নৌকায় থেকেই তারা অনলাইন ও বাড়িভিত্তিক শিক্ষার মাধ্যমে পড়াশোনা করছে। ভ্রমণের পাশাপাশি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ, নৌপথ পরিকল্পনা, পানির গভীরতা যাচাই এবং নিরাপদে চলাচলের মতো কাজও করতে হচ্ছে পরিবারটিকে। পরিবারটির জন্য এটি শুধু ঘুরে বেড়ানো নয়; বরং একসঙ্গে সময় কাটানো, নতুন পরিবেশে শেখা এবং দীর্ঘদিনের স্বপ্ন বাস্তবায়নের অভিজ্ঞতা। তাঁদের এই ব্যতিক্রমী সিদ্ধান্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আগ্রহ তৈরি করতে পারে—বিশেষ করে সন্তানদের শিক্ষা, পারিবারিক বন্ধন ও জীবনের স্বপ্ন পূরণ নিয়ে আলোচনায়।
বাংলাদেশের টেকনাফে রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে বসবাসরত মোহাম্মদ সাবেরের পরিবার ছয় বছর আগে মানবিক সহায়তা হিসেবে পাওয়া একটি বহনযোগ্য সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা ব্যবহার করে আসছে। বিদ্যুৎ-সংযোগের সীমাবদ্ধতার মধ্যে ছোট্ট এই সৌর প্যানেল পরিবারটির দৈনন্দিন জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের ১৪ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদনে সাবের জানান, সৌরবিদ্যুতের সাহায্যে তাঁদের মুঠোফোন চার্জ দেওয়া যায়, রাতে আলো জ্বালিয়ে রান্না ও অন্যান্য কাজ করা যায় এবং শিশুরা সন্ধ্যার পর পড়াশোনা করতে পারে। গরমের সময় পাখা চালাতেও এই ব্যবস্থা সহায়তা করে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুধু বাংলাদেশ নয়, বন্যাপ্রবণ এলাকা, সংঘাতকবলিত অঞ্চল ও দুর্গম জনপদেও জরুরি সহায়তার অংশ হিসেবে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ছে। প্রচলিত বিদ্যুৎব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হলে বা বিদ্যুৎ পৌঁছানো কঠিন হলে এসব ছোট ব্যবস্থা মানুষের প্রয়োজন মেটাতে পারে। তবে চাহিদা বাড়লেও অর্থের অভাব মানবিক সহায়তা কার্যক্রমের বড় বাধা। দাতাদের অর্থায়ন কমে গেলে শরণার্থী পরিবারগুলোর কাছে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম পৌঁছে দেওয়াও কঠিন হয়ে পড়ে। ২০১৭ সালে মিয়ানমারে সহিংসতা থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের অনেকেই দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের শিবিরগুলোতে বসবাস করছেন। তাঁদের জন্য নিরাপদ আশ্রয়, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও বিদ্যুতের মতো মৌলিক সুবিধা নিশ্চিত করা এখনো বড় চ্যালেঞ্জ। সৌরবিদ্যুৎ এই সংকটের সম্পূর্ণ সমাধান নয়। তবে সীমিত সম্পদের মধ্যেও শিশুদের পড়াশোনা এবং পরিবারের দৈনন্দিন জীবন চালু রাখতে এটি কার্যকর সহায়তা হতে পারে।
ইরানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে অবমাননার অভিযোগে ২৩ বছর বয়সী বিশ্ববিদ্যালয়ছাত্রী নাজমেহ আমিনিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন দেশটির একটি আদালত। হিসাববিজ্ঞানের এই শিক্ষার্থী বর্তমানে মাশহাদের ভাকিলাবাদ কারাগারে আটক রয়েছেন। তবে মৃত্যুদণ্ডের রায় এখনো চূড়ান্ত হয়নি। ইরানের সুপ্রিম কোর্টে আপিলের সুযোগ রয়েছে। বুধবার (১৪ অক্টোবর) প্রকাশিত দ্য গার্ডিয়ান ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। ইরান হিউম্যান রাইটসের তথ্য অনুযায়ী, খোরাসান রাজাভি প্রদেশের একটি ফৌজদারি আদালত গত সেপ্টেম্বরে আমিনিকে মৃত্যুদণ্ড দেন। তাঁর বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ধর্মীয় অবমাননাকর বক্তব্য প্রকাশের অভিযোগ আনা হয়। ইরানের আইনে এ ধরনের অভিযোগ ‘সাব্ব আল-নবী’ নামে পরিচিত। দেশটির দণ্ডবিধিতে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে এই অপরাধের জন্য মৃত্যুদণ্ডের বিধান রয়েছে। আদালতে আমিনির আইনজীবী দাবি করেন, তাঁর মক্কেলের বক্তব্য অনিচ্ছাকৃতভাবে প্রকাশিত হয়েছিল। আমিনিও জানান, বন্ধুদের সঙ্গে থাকার সময় হ্যালুসিনেশন সৃষ্টিকারী মাশরুম গ্রহণের পর তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওই মন্তব্য করেছিলেন। তবে আদালত তাঁদের এই ব্যাখ্যা গ্রহণ করেননি। ইরানের আইনে অনিচ্ছাকৃত বক্তব্য বা নেশাগ্রস্ত অবস্থায় মন্তব্য করার মতো নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ড থেকে অব্যাহতির বিধান থাকলেও আদালত আমিনির ক্ষেত্রে তা প্রযোজ্য মনে করেননি। মানবাধিকার সংগঠনটির তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ৩ ফেব্রুয়ারি মাশহাদে আমিনিকে গ্রেপ্তার করা হয়। ইরানের সাইবার পুলিশ তাঁর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণের পর এই ব্যবস্থা নেয়। এর আগে তাঁর বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ নেতাকে অবমাননা এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িত থাকার অভিযোগের খবরও প্রকাশিত হয়েছিল। পৃথক মামলায় জাতীয় নিরাপত্তার বিরুদ্ধে কর্মকাণ্ড ও সরকারবিরোধী প্রচারণার অভিযোগে তাঁকে ১২ বছর ৬ মাস ১ দিনের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। মৃত্যুদণ্ড ঘোষণার পর কারাগার থেকে আমিনির নামে ধারণ করা একটি অডিও বার্তা প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ১৮ সেপ্টেম্বরের ওই বার্তায় তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করে সাধারণ মানুষের কাছে সাহায্য চান। তাঁর বক্তব্য, তাঁর অনেক আশা ও স্বপ্ন রয়েছে এবং পরিবারের সদস্যরা প্রতিদিন তাঁকে হারানোর আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন। তিনি নিজের মামলার নথি পর্যালোচনা করতে আইনজীবী, মানবাধিকারকর্মী ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর প্রতি আহ্বান জানান। একই সঙ্গে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ ও ন্যায়বিচার পাওয়ার দাবি জানান। নাজমেহ আমিনির মৃত্যুদণ্ডের নিন্দা জানিয়েছে ইরান হিউম্যান রাইটস। সংগঠনটির পরিচালক মাহমুদ আমিরি-মোগাদ্দাম বলেছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত বক্তব্যের জন্য একজন তরুণীকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর গুরুতর আঘাত। সংগঠনটি তাঁর মৃত্যুদণ্ড বাতিল এবং ইরানে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার আহ্বান জানিয়েছে। যুক্তরাজ্যভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যানিস্টস ইউকেও একই দাবি জানিয়েছে। ইরানে ধর্মীয় অবমাননার অভিযোগে এর আগেও মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে। ইরান হিউম্যান রাইটসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৮ মে ইউসেফ মেহরদাদ ও সদরুল্লাহ ফাজেলি জারের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। তাঁদের বিরুদ্ধেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ধর্মীয় অবমাননার অভিযোগ ছিল। এদিকে নাজমেহ আমিনির মৃত্যুদণ্ডের রায় এখনো ইরানের সুপ্রিম কোর্টে চূড়ান্ত অনুমোদন পায়নি। তাঁর পক্ষে রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার সুযোগ রয়েছে। মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের কোনো তারিখও প্রকাশ করা হয়নি। মানবাধিকার সংগঠনগুলো তাঁর সাজা বাতিল ও বিচারপ্রক্রিয়া পর্যালোচনার দাবি জানিয়ে আসছে। সূত্র: ইরান হিউম্যান রাইটস
মানুষের মস্তিষ্কের মাত্র এক ঘন মিলিমিটার টিস্যুর ত্রিমাত্রিক মানচিত্র তৈরি করে প্রায় ৫৭ হাজার কোষ ও ১৫ কোটি সিন্যাপস শনাক্ত করেছেন হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় এবং গুগল রিসার্চের গবেষকেরা। ২০২৪ সালের মে মাসে সায়েন্স জার্নালে প্রকাশিত গবেষণাটি স্নায়ুকোষের সংযোগ ও মস্তিষ্কের সূক্ষ্ম গঠন বিশ্লেষণের জন্য একটি বিস্তারিত তথ্যভান্ডার তৈরি করেছে। নমুনাটি নেওয়া হয়েছিল মস্তিষ্কের টেম্পোরাল কর্টেক্স থেকে। হার্ভার্ড গেজেটের বর্ণনা অনুযায়ী, এর আকার ছিল প্রায় অর্ধেক চালের দানার সমান। এই ক্ষুদ্র অংশের কোষ, সংযোগ ও রক্তনালির গঠন তুলে ধরতে প্রয়োজন হয়েছে প্রায় ১ দশমিক ৪ পেটাবাইট তথ্য, যা দশমিক হিসাবে প্রায় ১৪ লাখ গিগাবাইটের সমান। গবেষকেরা ইলেকট্রন মাইক্রোস্কোপ দিয়ে টিস্যুর অতি পাতলা স্তরগুলোর উচ্চ রেজোলিউশনের ছবি সংগ্রহ করেন। পরে কম্পিউটারভিত্তিক বিশ্লেষণের সাহায্যে কোষের অংশগুলো শনাক্ত ও একত্র করে ত্রিমাত্রিক কাঠামো পুনর্গঠন করা হয়। এতে স্নায়ুকোষের শাখা এবং তাদের সংযোগস্থল পৃথকভাবে অনুসরণ করার সুযোগ তৈরি হয়েছে। সিন্যাপস হলো স্নায়ুকোষের মধ্যে সংকেত আদানপ্রদানের সংযোগস্থল। তবে শনাক্ত করা ৫৭ হাজার কোষের সবই স্নায়ুকোষ নয়। গবেষণায় স্নায়ুকোষের পাশাপাশি গ্লিয়া নামে পরিচিত সহায়ক কোষও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। নমুনাটিতে গ্লিয়া ও স্নায়ুকোষের অনুপাত পাওয়া গেছে প্রায় দুই অনুপাতে এক। মানচিত্রে কিছু অস্বাভাবিক সংযোগের ধরনও দেখা গেছে। অধিকাংশ সংযোগের পাশাপাশি এমন বিরল উদাহরণ পাওয়া যায়, যেখানে একটি স্নায়ুকোষের অ্যাক্সন অন্য একটি কোষের সঙ্গে সর্বোচ্চ প্রায় ৫০টি সিন্যাপস তৈরি করেছে। এসব কাঠামোর কার্যকর ভূমিকা বুঝতে আরও গবেষণা প্রয়োজন। গবেষণার তথ্যভান্ডার অন্য গবেষকদের ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে। এতে মস্তিষ্কের স্নায়বিক সার্কিটের গঠন নিয়ে নতুন প্রশ্ন পরীক্ষা করা এবং ভবিষ্যতে আরও বড় অংশের মানচিত্র তৈরির পদ্ধতি উন্নত করার সুযোগ রয়েছে। এই কাজের এইচ০১ তথ্যভান্ডার প্রথম উন্মুক্ত হয়েছিল ২০২১ সালে, আর বিস্তারিত গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয় ২০২৪ সালে। এই মানচিত্র পুরো মানব মস্তিষ্কের চিত্র নয়। এটি একটি ক্ষুদ্র নমুনার গঠন তুলে ধরে, স্মৃতি বা চিন্তা কীভাবে তৈরি হয় তার পূর্ণ ব্যাখ্যা দেয় না। তবে কোষগুলো কীভাবে পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত, তা এত সূক্ষ্মভাবে দেখার সুযোগ মস্তিষ্কের কার্যপ্রণালি বোঝার গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি তৈরি করেছে। সূত্র: সায়েন্স বাংলা