সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

Today latest news

20 News
বাংলাদেশের টেকনাফে রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবির
বিদ্যুৎ নেই, তবু সৌর প্যানেলের আলোয় রাতে পড়াশোনা করছে রোহিঙ্গা শিশুরা

বাংলাদেশের টেকনাফে রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে বসবাসরত মোহাম্মদ সাবেরের পরিবার ছয় বছর আগে মানবিক সহায়তা হিসেবে পাওয়া একটি বহনযোগ্য সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা ব্যবহার করে আসছে। বিদ্যুৎ-সংযোগের সীমাবদ্ধতার মধ্যে ছোট্ট এই সৌর প্যানেল পরিবারটির দৈনন্দিন জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।   অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের ১৪ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদনে সাবের জানান, সৌরবিদ্যুতের সাহায্যে তাঁদের মুঠোফোন চার্জ দেওয়া যায়, রাতে আলো জ্বালিয়ে রান্না ও অন্যান্য কাজ করা যায় এবং শিশুরা সন্ধ্যার পর পড়াশোনা করতে পারে। গরমের সময় পাখা চালাতেও এই ব্যবস্থা সহায়তা করে।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুধু বাংলাদেশ নয়, বন্যাপ্রবণ এলাকা, সংঘাতকবলিত অঞ্চল ও দুর্গম জনপদেও জরুরি সহায়তার অংশ হিসেবে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ছে। প্রচলিত বিদ্যুৎব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হলে বা বিদ্যুৎ পৌঁছানো কঠিন হলে এসব ছোট ব্যবস্থা মানুষের প্রয়োজন মেটাতে পারে।   তবে চাহিদা বাড়লেও অর্থের অভাব মানবিক সহায়তা কার্যক্রমের বড় বাধা। দাতাদের অর্থায়ন কমে গেলে শরণার্থী পরিবারগুলোর কাছে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম পৌঁছে দেওয়াও কঠিন হয়ে পড়ে।   ২০১৭ সালে মিয়ানমারে সহিংসতা থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের অনেকেই দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের শিবিরগুলোতে বসবাস করছেন। তাঁদের জন্য নিরাপদ আশ্রয়, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও বিদ্যুতের মতো মৌলিক সুবিধা নিশ্চিত করা এখনো বড় চ্যালেঞ্জ।   সৌরবিদ্যুৎ এই সংকটের সম্পূর্ণ সমাধান নয়। তবে সীমিত সম্পদের মধ্যেও শিশুদের পড়াশোনা এবং পরিবারের দৈনন্দিন জীবন চালু রাখতে এটি কার্যকর সহায়তা হতে পারে।

প্রকাশ : অক্টোবর ১৪, ২০২৬ ১২:৫১
হিসাববিজ্ঞানের এই শিক্ষার্থী বর্তমানে মাশহাদের ভাকিলাবাদ কারাগারে বন্দী রয়েছেন। ছবি: সংগৃহীত
মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে অবমাননার অভিযোগে ইরানে ২৩ বছরের তরুণীর মৃত্যুদণ্ড

ইরানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে অবমাননার অভিযোগে ২৩ বছর বয়সী বিশ্ববিদ্যালয়ছাত্রী নাজমেহ আমিনিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন দেশটির একটি আদালত। হিসাববিজ্ঞানের এই শিক্ষার্থী বর্তমানে মাশহাদের ভাকিলাবাদ কারাগারে আটক রয়েছেন। তবে মৃত্যুদণ্ডের রায় এখনো চূড়ান্ত হয়নি। ইরানের সুপ্রিম কোর্টে আপিলের সুযোগ রয়েছে। বুধবার (১৪ অক্টোবর) প্রকাশিত দ্য গার্ডিয়ান ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।   ইরান হিউম্যান রাইটসের তথ্য অনুযায়ী, খোরাসান রাজাভি প্রদেশের একটি ফৌজদারি আদালত গত সেপ্টেম্বরে আমিনিকে মৃত্যুদণ্ড দেন। তাঁর বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ধর্মীয় অবমাননাকর বক্তব্য প্রকাশের অভিযোগ আনা হয়। ইরানের আইনে এ ধরনের অভিযোগ ‘সাব্ব আল-নবী’ নামে পরিচিত। দেশটির দণ্ডবিধিতে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে এই অপরাধের জন্য মৃত্যুদণ্ডের বিধান রয়েছে।   আদালতে আমিনির আইনজীবী দাবি করেন, তাঁর মক্কেলের বক্তব্য অনিচ্ছাকৃতভাবে প্রকাশিত হয়েছিল। আমিনিও জানান, বন্ধুদের সঙ্গে থাকার সময় হ্যালুসিনেশন সৃষ্টিকারী মাশরুম গ্রহণের পর তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওই মন্তব্য করেছিলেন। তবে আদালত তাঁদের এই ব্যাখ্যা গ্রহণ করেননি। ইরানের আইনে অনিচ্ছাকৃত বক্তব্য বা নেশাগ্রস্ত অবস্থায় মন্তব্য করার মতো নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ড থেকে অব্যাহতির বিধান থাকলেও আদালত আমিনির ক্ষেত্রে তা প্রযোজ্য মনে করেননি।   মানবাধিকার সংগঠনটির তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ৩ ফেব্রুয়ারি মাশহাদে আমিনিকে গ্রেপ্তার করা হয়। ইরানের সাইবার পুলিশ তাঁর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণের পর এই ব্যবস্থা নেয়। এর আগে তাঁর বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ নেতাকে অবমাননা এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িত থাকার অভিযোগের খবরও প্রকাশিত হয়েছিল। পৃথক মামলায় জাতীয় নিরাপত্তার বিরুদ্ধে কর্মকাণ্ড ও সরকারবিরোধী প্রচারণার অভিযোগে তাঁকে ১২ বছর ৬ মাস ১ দিনের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।   মৃত্যুদণ্ড ঘোষণার পর কারাগার থেকে আমিনির নামে ধারণ করা একটি অডিও বার্তা প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ১৮ সেপ্টেম্বরের ওই বার্তায় তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করে সাধারণ মানুষের কাছে সাহায্য চান। তাঁর বক্তব্য, তাঁর অনেক আশা ও স্বপ্ন রয়েছে এবং পরিবারের সদস্যরা প্রতিদিন তাঁকে হারানোর আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন। তিনি নিজের মামলার নথি পর্যালোচনা করতে আইনজীবী, মানবাধিকারকর্মী ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর প্রতি আহ্বান জানান। একই সঙ্গে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ ও ন্যায়বিচার পাওয়ার দাবি জানান।   নাজমেহ আমিনির মৃত্যুদণ্ডের নিন্দা জানিয়েছে ইরান হিউম্যান রাইটস। সংগঠনটির পরিচালক মাহমুদ আমিরি-মোগাদ্দাম বলেছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত বক্তব্যের জন্য একজন তরুণীকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর গুরুতর আঘাত। সংগঠনটি তাঁর মৃত্যুদণ্ড বাতিল এবং ইরানে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার আহ্বান জানিয়েছে। যুক্তরাজ্যভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যানিস্টস ইউকেও একই দাবি জানিয়েছে।   ইরানে ধর্মীয় অবমাননার অভিযোগে এর আগেও মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে। ইরান হিউম্যান রাইটসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৮ মে ইউসেফ মেহরদাদ ও সদরুল্লাহ ফাজেলি জারের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। তাঁদের বিরুদ্ধেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ধর্মীয় অবমাননার অভিযোগ ছিল।   এদিকে নাজমেহ আমিনির মৃত্যুদণ্ডের রায় এখনো ইরানের সুপ্রিম কোর্টে চূড়ান্ত অনুমোদন পায়নি। তাঁর পক্ষে রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার সুযোগ রয়েছে। মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের কোনো তারিখও প্রকাশ করা হয়নি। মানবাধিকার সংগঠনগুলো তাঁর সাজা বাতিল ও বিচারপ্রক্রিয়া পর্যালোচনার দাবি জানিয়ে আসছে।   সূত্র: ইরান হিউম্যান রাইটস

প্রকাশ : অক্টোবর ১৪, ২০২৬ ১২:৪৭
মানুষের মস্তিষ্কের মাত্র এক ঘন মিলিমিটার টিস্যুর ত্রিমাত্রিক মানচিত্র তৈরি করেছেন হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও গুগল রিসার্চের গবেষকেরা। ছবি: সংগৃহীত
মস্তিষ্কের এই ১ ঘন মিলিমিটার অংশের ত্রিমাত্রিক মানচিত্র তৈরি করতে লেগেছে প্রায় ১৪ লাখ গিগাবাইট ডেটা!

মানুষের মস্তিষ্কের মাত্র এক ঘন মিলিমিটার টিস্যুর ত্রিমাত্রিক মানচিত্র তৈরি করে প্রায় ৫৭ হাজার কোষ ও ১৫ কোটি সিন্যাপস শনাক্ত করেছেন হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় এবং গুগল রিসার্চের গবেষকেরা। ২০২৪ সালের মে মাসে সায়েন্স জার্নালে প্রকাশিত গবেষণাটি স্নায়ুকোষের সংযোগ ও মস্তিষ্কের সূক্ষ্ম গঠন বিশ্লেষণের জন্য একটি বিস্তারিত তথ্যভান্ডার তৈরি করেছে।    নমুনাটি নেওয়া হয়েছিল মস্তিষ্কের টেম্পোরাল কর্টেক্স থেকে। হার্ভার্ড গেজেটের বর্ণনা অনুযায়ী, এর আকার ছিল প্রায় অর্ধেক চালের দানার সমান। এই ক্ষুদ্র অংশের কোষ, সংযোগ ও রক্তনালির গঠন তুলে ধরতে প্রয়োজন হয়েছে প্রায় ১ দশমিক ৪ পেটাবাইট তথ্য, যা দশমিক হিসাবে প্রায় ১৪ লাখ গিগাবাইটের সমান।    গবেষকেরা ইলেকট্রন মাইক্রোস্কোপ দিয়ে টিস্যুর অতি পাতলা স্তরগুলোর উচ্চ রেজোলিউশনের ছবি সংগ্রহ করেন। পরে কম্পিউটারভিত্তিক বিশ্লেষণের সাহায্যে কোষের অংশগুলো শনাক্ত ও একত্র করে ত্রিমাত্রিক কাঠামো পুনর্গঠন করা হয়। এতে স্নায়ুকোষের শাখা এবং তাদের সংযোগস্থল পৃথকভাবে অনুসরণ করার সুযোগ তৈরি হয়েছে।    সিন্যাপস হলো স্নায়ুকোষের মধ্যে সংকেত আদানপ্রদানের সংযোগস্থল। তবে শনাক্ত করা ৫৭ হাজার কোষের সবই স্নায়ুকোষ নয়। গবেষণায় স্নায়ুকোষের পাশাপাশি গ্লিয়া নামে পরিচিত সহায়ক কোষও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। নমুনাটিতে গ্লিয়া ও স্নায়ুকোষের অনুপাত পাওয়া গেছে প্রায় দুই অনুপাতে এক।    মানচিত্রে কিছু অস্বাভাবিক সংযোগের ধরনও দেখা গেছে। অধিকাংশ সংযোগের পাশাপাশি এমন বিরল উদাহরণ পাওয়া যায়, যেখানে একটি স্নায়ুকোষের অ্যাক্সন অন্য একটি কোষের সঙ্গে সর্বোচ্চ প্রায় ৫০টি সিন্যাপস তৈরি করেছে। এসব কাঠামোর কার্যকর ভূমিকা বুঝতে আরও গবেষণা প্রয়োজন।    গবেষণার তথ্যভান্ডার অন্য গবেষকদের ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে। এতে মস্তিষ্কের স্নায়বিক সার্কিটের গঠন নিয়ে নতুন প্রশ্ন পরীক্ষা করা এবং ভবিষ্যতে আরও বড় অংশের মানচিত্র তৈরির পদ্ধতি উন্নত করার সুযোগ রয়েছে। এই কাজের এইচ০১ তথ্যভান্ডার প্রথম উন্মুক্ত হয়েছিল ২০২১ সালে, আর বিস্তারিত গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয় ২০২৪ সালে।    এই মানচিত্র পুরো মানব মস্তিষ্কের চিত্র নয়। এটি একটি ক্ষুদ্র নমুনার গঠন তুলে ধরে, স্মৃতি বা চিন্তা কীভাবে তৈরি হয় তার পূর্ণ ব্যাখ্যা দেয় না। তবে কোষগুলো কীভাবে পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত, তা এত সূক্ষ্মভাবে দেখার সুযোগ মস্তিষ্কের কার্যপ্রণালি বোঝার গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি তৈরি করেছে।     সূত্র: সায়েন্স বাংলা

প্রকাশ : অক্টোবর ১৪, ২০২৬ ১২:৭
দারিদ্র্য জয় করে জাপানে মাইক্রোসফটের ডেটা সেন্টারে দায়িত্ব পালন করছেন কুষ্টিয়ার তরুণ মো. নাসিম আল আওয়াল। ছবি: সংগৃহীত
মায়ের বিক্রি করা ছাগলের টাকায় কিনেন ফোন, নাসিম এখন মাইক্রোসফটে

ইন্টারনেট ব্যবহারের জন্য মোবাইল কেনার সামর্থ্য ছিল না পরিবারের। মা একটি ছাগল বিক্রি করে ফোন কিনে দিয়েছিলেন। সেই ফোন মডেম হিসেবে ব্যবহার করে প্রযুক্তি শেখা শুরু করা কুষ্টিয়ার মো. নাসিম আল আওয়াল এখন জাপানে মাইক্রোসফটের ডেটা সেন্টার পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজে যুক্ত। তাঁর পথচলায় রয়েছে কারখানায় কাজ, নিজের চেষ্টায় দক্ষতা অর্জন এবং চাকরির আবেদনে বারবার প্রত্যাখ্যাত হওয়ার অভিজ্ঞতা। সময়ের আলো ও রূপালী বাংলাদেশের প্রতিবেদনে তাঁর এই যাত্রা উঠে এসেছে।    কুষ্টিয়ার আমলা-সদরপুরে বেড়ে ওঠা নাসিমের ডাকনাম কবি। ছোটবেলা থেকেই ইলেকট্রনিক যন্ত্র কীভাবে কাজ করে, তা নিয়ে কৌতূহল ছিল। পরিচিতদের মোবাইল ফোন ও টেলিভিশন সারানোর চেষ্টা করতেন। নবম শ্রেণিতে পড়ার সময় ডিনেটের কম্পিউটার লিটারেসি প্রোগ্রামে অংশ নিয়ে হাতে-কলমে কম্পিউটার শেখার সুযোগ পান। পরে ভর্তি হন কুষ্টিয়া পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের কম্পিউটার প্রযুক্তি বিভাগে।    পলিটেকনিকে পড়ার সময় মা মোছা. নাজমার কিনে দেওয়া মোবাইলটি তাঁর শেখার সুযোগ বাড়িয়ে দেয়। ফোন দিয়ে ইন্টারনেটে যুক্ত হয়ে ভিডিও দেখতেন, অনলাইন ফোরামে প্রশ্ন করতেন এবং প্রযুক্তিগত সমস্যার সমাধান খুঁজতেন। পরিবারের সীমিত সামর্থ্যের মধ্যে এভাবেই পড়াশোনার বাইরে নিজের দক্ষতা বাড়াতে থাকেন।    ২০১২ সালে ডিনেটে প্রোগ্রাম অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে যোগ দেন নাসিম। পরে প্রোগ্রাম অ্যাসোসিয়েট ও সহকারী পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সময়ের আলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ সময় দেশের প্রায় ৩৫০টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে কাজ এবং প্রায় তিন হাজার শিক্ষককে তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়ার অভিজ্ঞতা হয় তাঁর।    ২০১৮ সালের শেষ দিকে জাপানে যান নাসিম। প্রথমে নাগোয়ার একটি গাড়ি কারখানার উৎপাদন লাইনে কাজ করেন। নতুন ভাষা ও পরিবেশে মানিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি প্রযুক্তি খাতে ফিরে যাওয়ার প্রস্তুতি চালিয়ে যান। ২০২০ সালের মে মাসে এনটিটি কমিউনিকেশনসে নেটওয়ার্ক অপারেশনস সেন্টার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে যোগ দেন। সেখানে সাবমেরিন কেবলের সিগন্যাল পর্যবেক্ষণ ও আন্তর্জাতিক গ্রাহকদের প্রযুক্তিগত সহায়তার কাজে যুক্ত ছিলেন।    চাকরির পাশাপাশি অনলাইনে কোর্স করে প্রযুক্তিগত ও ভাষাগত দক্ষতা বাড়ান। তাঁর অভিজ্ঞতা নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বড় প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠানে একাধিক আবেদন করেও সফল হননি। ২০২২ সালে মাইক্রোসফটে তাঁর আবেদনও প্রত্যাখ্যাত হয়। এরপর প্রস্তুতির ঘাটতি খুঁজে নতুন করে শেখা চালিয়ে যান। পরবর্তী সময়ে মাইক্রোসফট জাপানের ক্লাউড অপারেশনস অ্যান্ড ইনোভেশনস দলে কাজের সুযোগ পান।    রূপালী বাংলাদেশের প্রতিবেদনে নাসিমের বক্তব্য, ‘আমি কখনো অসাধারণ ছাত্র ছিলাম না। কিন্তু হাল ছাড়িনি।’ ভবিষ্যতে বাংলাদেশের তরুণদের সঙ্গে নিজের অভিজ্ঞতা ভাগ করতে চান তিনি, যাতে চাকরির আবেদনে প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পরও তাঁরা শেখা ও প্রস্তুতি চালিয়ে যেতে পারেন।    সূত্র: পাবলিকিয়ান

প্রকাশ : অক্টোবর ১৪, ২০২৬ ১১:৫৩
বোনের পুরোনো বোরকা থেকে সুপারহিরোর পোশাক
বোনের পুরোনো বোরকা থেকে সুপারহিরোর পোশাক, ভাইরাল সিরাজগঞ্জের ‘বাংলার ক্রিশ’

সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার বনবাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা মোহাম্মদ আল মামুন। দিনের বেশির ভাগ সময় কাটে লোহা ও স্টিলের পাইপের কাজ করে। তবে কাজের বাইরে তাঁর আরেকটি পরিচয়—তিনি সুপারহিরো হওয়ার স্বপ্ন দেখা এক যুবক। সেই স্বপ্ন থেকেই প্রায় আট থেকে দশ বছর ধরে নানা ধরনের শারীরিক কসরত অনুশীলন করছেন বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।    মামুনের এই ব্যতিক্রমী যাত্রা শুরু হয়েছিল ডিগবাজি ও নানা কসরতের ভিডিও ধারণের মাধ্যমে। প্রথম দিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও প্রকাশ করেও প্রত্যাশিত সাড়া পাননি তিনি। পরে বলিউডের জনপ্রিয় সুপারহিরো ‘ক্রিশ’-এর আদলে নিজেকে উপস্থাপনের পরিকল্পনা করেন।   কিন্তু সুপারহিরোর মতো পোশাক কেনার সামর্থ্য না থাকায় বিকল্প পথ বেছে নেন মামুন। বোনের পুরোনো একটি বোরকা নিজের মতো করে পরিবর্তন করে তৈরি করেন ক্রিশের আদলের পোশাক। সেই পোশাক পরে বিভিন্ন জায়গায় কসরত ও স্টান্ট প্রদর্শন করতে শুরু করেন তিনি। তাঁর ব্যতিক্রমী উপস্থিতি দেখতে স্থানীয় মানুষের ভিড় জমে, অনেকে মুঠোফোনে ভিডিও ধারণ করেন। পরে এসব ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে পরিচিতি বাড়তে থাকে তাঁর।    তবে মামুনের স্বপ্ন কেবল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচিতি পাওয়া নয়। তিনি চলচ্চিত্রে কাজ করতে চান এবং নিজের শারীরিক দক্ষতা বড় পরিসরে তুলে ধরার সুযোগ খুঁজছেন। এ জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতাও প্রত্যাশা করছেন তিনি।   মামুনের এই গল্পে যেমন রয়েছে সীমিত সামর্থ্যের মধ্যে স্বপ্ন পূরণের চেষ্টা, তেমনি রয়েছে নিজের দক্ষতা দিয়ে আলাদা পরিচিতি তৈরির আকাঙ্ক্ষা। এখন তাঁর প্রত্যাশা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাওয়া পরিচিতি একদিন চলচ্চিত্রে কাজ করার সুযোগ তৈরি করবে।

প্রকাশ : অক্টোবর ১৪, ২০২৬ ১১:৪৪
যুক্তরাষ্ট্রে প্রবাসী বাংলাদেশিরা দেশে সম্পত্তি বা আর্থিক কাজের জন্য পাওয়ার অব অ্যাটর্নি বা আমমোক্তারনামা ব্যবহার করতে পারেন। ছবি: সংগৃহীত
আমেরিকা থেকে দেশে পাওয়ার অব অ্যাটর্নি পাঠানোর সঠিক নিয়ম, একটি ভুলে বাতিল হতে পারে দলিল

যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশিরা দেশে সম্পত্তি বা আর্থিক কাজের জন্য অন্য কাউকে ক্ষমতা দিতে পাওয়ার অব অ্যাটর্নি বা আমমোক্তারনামা ব্যবহার করতে পারেন। তবে দলিলের উদ্দেশ্য অনুযায়ী খসড়া, স্বাক্ষর, সত্যায়ন এবং বাংলাদেশে প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে হয়। শুধু একটি কাগজ নোটারি করিয়ে পাঠালেই সব ধরনের কাজে তা গ্রহণযোগ্য হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ দূতাবাস ও নিউইয়র্কের কনস্যুলেট ক্ষমতাদাতার সশরীরে উপস্থিতির নির্দেশনা দিয়েছে।    প্রথমেই নির্ধারণ করতে হবে, কাকে ঠিক কোন কাজের ক্ষমতা দেওয়া হচ্ছে। ওয়াশিংটনের বাংলাদেশ দূতাবাস জানিয়েছে, ক্ষমতাদাতার স্বার্থ রক্ষা ও পরবর্তী জটিলতা কমাতে তারা নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যের স্পেশাল পাওয়ার অব অ্যাটর্নি সত্যায়ন করে। তাই সম্পত্তি বিক্রি, ব্যাংক থেকে অর্থ উত্তোলন বা অন্য কাজের ক্ষমতা দলিলে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা প্রয়োজন।    বাংলাদেশের আইনি শ্রেণিবিভাগও গুরুত্বপূর্ণ। পাওয়ার অব অ্যাটর্নি আইন, ২০১২ অনুযায়ী, স্থাবর সম্পত্তি বিক্রি, বিক্রয়চুক্তি, ঋণের বিপরীতে সম্পত্তি বন্ধক এবং নির্দিষ্ট শর্তে ভূমি উন্নয়নের ক্ষমতা অপ্রত্যাহারযোগ্য পাওয়ার অব অ্যাটর্নির আওতায় পড়ে। এ ধরনের দলিলের নিবন্ধন বাধ্যতামূলক। শুধু দলিলের শিরোনামে ‘জেনারেল’ বা ‘স্পেশাল’ লিখে নিবন্ধনের প্রয়োজন নির্ধারণ করা যায় না।    নিউইয়র্কের বাংলাদেশ কনস্যুলেটের নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রত্যেক ক্ষমতাদাতাকে মূল দলিল ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে উপস্থিত হতে হবে। কনস্যুলার অফিসারের সামনে দলিল ও ছবিতে স্বাক্ষর এবং টিপসই দেওয়ার নিয়ম রয়েছে। ফলে আগে থেকেই সব স্বাক্ষর করে নিয়ে যাওয়ার পরিবর্তে সংশ্লিষ্ট মিশনের নির্দেশনা অনুসরণ করা জরুরি।    প্রয়োজনীয় কাগজের মধ্যে রয়েছে নির্ধারিত আবেদনপত্র, ক্ষমতাদাতা ও ক্ষমতাগ্রহীতার পরিচয়পত্রের কপি, সাদা পটভূমিতে সদ্য তোলা ছবি এবং ক্ষমতাদাতার ইউএস ফটো আইডির কপি। সম্পত্তির ক্ষেত্রে মালিকানার দলিল, নামজারি বা উত্তরাধিকারসংক্রান্ত প্রমাণও চাওয়া হয়। নাম পরিবর্তন হয়ে থাকলে আদালতের আদেশের কপি প্রয়োজন হতে পারে। নিউইয়র্ক কনস্যুলেটের প্রকাশিত নিয়মিত ফি ৫৫ ডলার, ষষ্ঠ পাতা থেকে অতিরিক্ত প্রতি পাতায় ৫ ডলার প্রযোজ্য।    অ্যাপোস্টিল নিয়ে পুরোনো তথ্য অনুসরণ করাও সমস্যার কারণ হতে পারে। বাংলাদেশ হেগ অ্যাপোস্টিল কনভেনশনের পক্ষ নয়, এমন তথ্য এখন সঠিক নয়। এই কনভেনশন বাংলাদেশের জন্য কার্যকর হয়েছে ২০২৫ সালের ৩০ মার্চ। বাংলাদেশের সরকারি অ্যাপোস্টিল ব্যবস্থার স্বীকৃত দেশের তালিকায় যুক্তরাষ্ট্রও রয়েছে।    তবে অ্যাপোস্টিল এবং পাওয়ার অব অ্যাটর্নির বিষয়বস্তু, সম্পাদন ও নিবন্ধনের শর্ত আলাদা বিষয়। তাই সব দলিলের জন্য কাউন্টি ক্লার্ক, সেক্রেটারি অব স্টেট, ইউএস ডিপার্টমেন্ট অব স্টেট এবং বাংলাদেশ মিশনের সত্যায়ন একসঙ্গে বাধ্যতামূলক, এমন সাধারণ নির্দেশনা দেওয়া ঠিক নয়। নোটারি বা অ্যাপোস্টিলের পথে যাওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশ মিশন এবং দেশে দলিল গ্রহণকারী দপ্তরের কাছে নির্দিষ্ট দলিলের প্রয়োজনীয়তা নিশ্চিত করতে হবে।    বাংলাদেশে মূল দলিল পৌঁছানোর পরও প্রযোজ্য প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয়। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত নির্দেশনায় বিদেশের বাংলাদেশ মিশন থেকে সত্যায়িত পাওয়ার অব অ্যাটর্নি দুই সেট ফটোকপিসহ সত্যায়নের জন্য জমা দেওয়ার কথা রয়েছে। অপ্রত্যাহারযোগ্য দলিলের ক্ষেত্রে স্ট্যাম্প ও নিবন্ধনের আইনি বিধানও অনুসরণ করতে হবে।    নিবন্ধনযোগ্য দলিলের মূল কপি, পরিচয়সংক্রান্ত নথি এবং সম্পত্তির তথ্য দেশে যাঁকে দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে, তাঁর কাছে প্রস্তুত রাখা প্রয়োজন। জমি বা ফ্ল্যাটের দলিল তৈরির আগে সংশ্লিষ্ট সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে প্রযোজ্য সময়সীমা ও কাগজপত্র নিশ্চিত করলে সত্যায়িত দলিল পাঠানোর পর সংশোধন বা পুনরায় সম্পাদনের ঝামেলা কমবে।

প্রকাশ : অক্টোবর ১৪, ২০২৬ ১১:৩৯
টানা ৪৮ ঘণ্টা বন্ধ সোনালী ব্যাংকের সব সেবা
টানা ৪৮ ঘণ্টা বন্ধ সোনালী ব্যাংকের সব সেবা, বিপাকে পড়তে পারেন গ্রাহকরা

কোর ব্যাংকিং সিস্টেম হালনাগাদের কারণে টানা ৪৮ ঘণ্টা বন্ধ থাকবে রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংক পিএলসির সব ধরনের ব্যাংকিং সেবা। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাত ১২টা থেকে শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত এই কার্যক্রম বন্ধ রাখার অনুমোদন দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বুধবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের জারি করা সার্কুলারে এ তথ্য জানানো হয়েছে।   বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, সোনালী ব্যাংকের কোর ব্যাংকিং সফটওয়্যার ‘ইন্টেলেক্ট সিবিএস ১০.০০’-এর ডেটাবেজ সংস্করণ উন্নীত করা হবে। এ জন্য বর্তমানে ব্যবহৃত ‘ওরাকল ১১জি’ সংস্করণ থেকে ‘ওরাকল ১৯সি’ সংস্করণে স্থানান্তরের কাজ চলবে।   এই প্রযুক্তিগত উন্নয়ন কার্যক্রম চলাকালে ব্যাংকটির নিয়মিত লেনদেন ও বিভিন্ন সেবা সাময়িকভাবে বন্ধ থাকবে। ফলে গ্রাহকেরা নির্ধারিত সময়ে ব্যাংকের ডিজিটাল সেবা, এটিএম, কার্ড ও অনলাইন লেনদেন ব্যবহার করতে পারবেন না।   বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন অনুযায়ী, ১৭ অক্টোবর রাত ১১টা ৫৯ মিনিটে নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার কথা। তবে প্রযুক্তিগত কোনো জটিলতা দেখা না দিলে এরপর ব্যাংকের স্বাভাবিক কার্যক্রম ও সেবা পুনরায় চালু করা হবে।   এ পরিস্থিতিতে গ্রাহকদের জরুরি টাকা উত্তোলন, বিল পরিশোধ এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় ব্যাংকিং কাজ আগেই সম্পন্ন করে রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। সেবা পুনরায় চালুর সময়সূচি সম্পর্কে ব্যাংকের আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি অনুসরণ করাও গুরুত্বপূর্ণ।

প্রকাশ : অক্টোবর ১৪, ২০২৬ ১১:২৪
ভিডিও স্ট্রিমিং জায়ান্ট নেটফ্লিক্স বিশ্বজুড়ে প্রায় এক হাজার কর্মী ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
নেটফ্লিক্সে প্রায় এক হাজার কর্মীর পদ ছাঁটাই! চার বছরে সবচেয়ে বড় কাটছাঁট করলো এই স্ট্রিমিং প্রতিষ্ঠান

ভিডিও স্ট্রিমিং প্রতিষ্ঠান নেটফ্লিক্স বিশ্বজুড়ে প্রায় এক হাজার কর্মীর পদ ছাঁটাই করছে, যা মোট কর্মীর প্রায় ৬ শতাংশ। বুধবার, ১৪ অক্টোবর কর্মীদের পাঠানো ইমেইলের বরাতে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এ তথ্য জানিয়েছে। ২০২২ সালের পর প্রতিষ্ঠানটির সবচেয়ে বড় এই ছাঁটাই এমন সময়ে হচ্ছে, যখন দর্শকদের সময় ও মনোযোগ ধরে রাখার প্রতিযোগিতা বাড়ছে।    রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ছাঁটাইয়ের বড় অংশ হবে পণ্য উন্নয়ন, প্রযুক্তি, আইন ও মানবসম্পদ বিভাগে। নেটফ্লিক্সের যৌথ প্রধান নির্বাহী গ্রেগ পিটার্স ও টেড সারান্ডোস বুধবার সকালে কর্মীদের বিষয়টি জানান। রয়টার্সের মন্তব্যের অনুরোধে প্রতিষ্ঠানটি তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া দেয়নি।    বিজনেস ইনসাইডারও পরিকল্পনা সম্পর্কে অবগত একজনের সঙ্গে কথা বলে প্রায় এক হাজার কর্মী ছাঁটাইয়ের তথ্য নিশ্চিত করেছে। সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, দর্শকদের কনটেন্ট দেখার প্রবৃদ্ধি ধীর হওয়া এবং শেয়ারের দুর্বল অবস্থানের মধ্যে এই সিদ্ধান্ত এসেছে। গত এক বছরে প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারের দাম ৪০ শতাংশের বেশি কমেছে।    ২০ অক্টোবর তৃতীয় প্রান্তিকের আর্থিক ফল প্রকাশের কথা রয়েছে নেটফ্লিক্সের। তার আগে এই ছাঁটাইয়ের খবর সামনে এল। প্রতিষ্ঠানটির আগের বড় ছাঁটাই হয়েছিল ২০২২ সালে, এক দশকের বেশি সময়ের মধ্যে প্রথমবার ত্রৈমাসিক হিসাবে গ্রাহক কমার পর।

প্রকাশ : অক্টোবর ১৪, ২০২৬ ১১:১৭
মধ্যপ্রদেশের দামোহ হাসপাতালে অসুস্থ ছেলের সঙ্গে আসা এক নারীকে দিয়ে মেঝে পরিষ্কার করানোর অভিযোগ উঠেছে। ছবি: সংগৃহীত
ডায়রিয়া আক্রান্ত ছেলেকে নিয়ে হাসপাতালে, মাকে দিয়েই পরিষ্কার করানো হলো হাসপাতালের মেঝে

ভারতের মধ্যপ্রদেশের দামোহ জেলা হাসপাতালে অসুস্থ ছেলের সঙ্গে আসা এক নারীকে দিয়ে মেঝে পরিষ্কার করানোর অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর একজন নার্সিং কর্মকর্তা, পরিচ্ছন্নতার দায়িত্বে থাকা সংস্থা এবং হাসপাতালের সহকারী প্রশাসককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম।    ফ্রি প্রেস জার্নালের ১২ অক্টোবরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৫৮ বছর বয়সী ওই নারী ডায়রিয়ায় আক্রান্ত ছেলেকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে এসেছিলেন। চিকিৎসার সময় ছেলের অনিচ্ছাকৃত মলত্যাগে মেঝে নোংরা হয়ে যায়। অভিযোগ, পরিচ্ছন্নতাকর্মী ডাকার পরিবর্তে হাসপাতালের এক কর্মী তাঁকেই জায়গাটি পরিষ্কার করতে বলেন।    ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে ওই নারীকে হাসপাতালের করিডরের মেঝে পরিষ্কার করতে দেখা যায়। কেন তিনি এই কাজ করছেন, জানতে চাইলে তিনি জানান, তাঁকে পরিষ্কার করতে বলা হয়েছে। তবে ভিডিওতে মেঝে পরিষ্কারের দৃশ্য থাকলেও কে কী পরিস্থিতিতে তাঁকে নির্দেশ দিয়েছিলেন, তা শুধু ওই দৃশ্য থেকে নিশ্চিত হওয়া যায় না।    দ্য ট্রিবিউনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, হাসপাতালের সিভিল সার্জন ডা. প্রহ্লাদ প্যাটেল বিষয়টি নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন। কারণ দর্শানোর নোটিশ সংশ্লিষ্টদের ব্যাখ্যা চাওয়ার পদক্ষেপ, অভিযোগ প্রমাণিত হওয়া বা চূড়ান্ত শাস্তির সিদ্ধান্ত নয়।    এদিকে ১৪ অক্টোবরের মেডিক্যাল ডায়ালগসের প্রতিবেদনে ভিডিওটির সময়কাল নিয়ে কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে নারীকে কেন মেঝে পরিষ্কার করতে বলা হয়েছিল এবং সংশ্লিষ্ট কর্মীদের ভূমিকা কী ছিল, সে বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ তথ্য এখনও স্পষ্ট নয়। ফলে ভিডিওটি সম্প্রতি ছড়িয়ে পড়লেও ঘটনাটি ঠিক কবে ঘটেছে, তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।

প্রকাশ : অক্টোবর ১৪, ২০২৬ ১১:৪
সুদূর রাশিয়া থেকে ভারতের বিহারে প্রেমিকের বাড়িতে হাজির
প্রেমের টানে রাশিয়া থেকে ভারতে তরুণী, প্রেমিকের বাড়িতে বিয়ের প্রস্তুতি ঘিরে চাঞ্চল্য

প্রেমের টানে হাজার হাজার কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে সুদূর রাশিয়া থেকে ভারতের বিহারে প্রেমিকের বাড়িতে হাজির হয়েছেন জুলি নামের এক তরুণী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচয় থেকে শুরু হওয়া তাঁদের সম্পর্ক এখন বিয়ের দিকে এগোচ্ছে। প্রেমিকার এমন আকস্মিক উপস্থিতিতে প্রথমে চমকে যান প্রেমিক রাহুল যাদব ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা। পরে বিষয়টি জানার পর পরিবার তাঁকে স্বাগত জানায়। ঘটনাটি ঘিরে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে কৌতূহল তৈরি হয়েছে।   ১৪ অক্টোবর ২০২৬ প্রকাশিত স্টার নিউজের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারতের বিহার রাজ্যের ভাগলপুরের বাসিন্দা রাহুল যাদবের সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচয় হয় রাশিয়ার তরুণী জুলির। প্রথমে তাঁদের মধ্যে বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। নিয়মিত কথোপকথনের মধ্য দিয়ে ধীরে ধীরে সেই সম্পর্ক প্রেমে রূপ নেয়।   দুই দেশের ভৌগোলিক দূরত্ব তাঁদের সম্পর্কের বড় বাধা হলেও শেষ পর্যন্ত তা উপেক্ষা করে ভারতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন জুলি। তিনি প্রেমিকের বাড়িতে পৌঁছালে পরিবারের সদস্যরা প্রথমে বিস্মিত হয়ে পড়েন। পরে রাহুল তাঁদের সম্পর্কের বিষয়টি ব্যাখ্যা করলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।   প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, রাহুলের পরিবার জুলিকে প্রচলিত রীতি অনুযায়ী তিলক পরিয়ে স্বাগত জানায়। তাঁদের আগমনের খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকে রাহুলের বাড়িতে ভিড় করেন। বিদেশি তরুণীকে দেখতে আসা মানুষের মধ্যে নতুন এই সম্পর্ক নিয়ে কৌতূহল দেখা যায়।   সংবাদমাধ্যমটির তথ্য অনুযায়ী, দুই পরিবারের সম্মতিতে তাঁদের বিয়ের প্রস্তুতি চলছে। তবে বিয়ের নির্দিষ্ট তারিখ, আনুষ্ঠানিক আয়োজনের বিস্তারিত কিংবা জুলির ভারতে যাওয়ার ভ্রমণসংক্রান্ত তথ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পরিচয় থেকে আন্তদেশীয় প্রেমের সম্পর্ক—জুলি ও রাহুলের ঘটনা আবারও দেখিয়েছে, অনলাইন যোগাযোগ কীভাবে ভিন্ন দেশের মানুষের মধ্যে ব্যক্তিগত সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারে। তবে তাঁদের সম্পর্কের পরবর্তী অগ্রগতি সম্পর্কে নিশ্চিত হতে আরও তথ্যের অপেক্ষা করতে হবে।

প্রকাশ : অক্টোবর ১৪, ২০২৬ ১১:৩
যুক্তরাষ্ট্রের নির্দিষ্ট শ্রেণির অভিবাসীদের ওয়ার্ক পারমিট নবায়নে স্বয়ংক্রিয় মেয়াদ বাড়ানোর সুবিধা স্থায়ীভাবে বাতিল চূড়ান্ত করেছে ডিএইচএস। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী ভাবে বাতিল হচ্ছে ওয়ার্ক পারমিটের স্বয়ংক্রিয় মেয়াদ বাড়ানোর সুবিধা

যুক্তরাষ্ট্রে নির্দিষ্ট শ্রেণির অভিবাসীদের ওয়ার্ক পারমিট নবায়নের আবেদন চলাকালে স্বয়ংক্রিয়ভাবে মেয়াদ বাড়ানোর সুবিধা বাতিলের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত বিধিতে রূপ দিয়েছে ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বা ডিএইচএস। ব্লুমবার্গ ল-এর ১৩ অক্টোবরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিধিটি ১৪ অক্টোবর ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশের সঙ্গে কার্যকর হওয়ার কথা। এতে গত বছর চালু করা অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থাকে স্থায়ী করা হচ্ছে।    এটি সব অভিবাসীর বৈধ ওয়ার্ক পারমিট বাতিলের সিদ্ধান্ত নয়। পরিবর্তনটি মূলত নির্দিষ্ট শ্রেণির এমপ্লয়মেন্ট অথরাইজেশন ডকুমেন্ট বা ইএডি নবায়নের আবেদন জমা দেওয়ার পর পুরোনো কার্ডের মেয়াদ শেষ হলেও কাজ চালিয়ে যাওয়ার স্বয়ংক্রিয় সুবিধার সঙ্গে সম্পর্কিত।    আগের ব্যবস্থায় যোগ্য আবেদনকারীরা সময়মতো নবায়নের আবেদন করলে নির্ধারিত শর্তে সর্বোচ্চ ৫৪০ দিন পর্যন্ত স্বয়ংক্রিয় মেয়াদ বৃদ্ধির সুবিধা পেতেন। আবেদন নিষ্পত্তিতে বিলম্ব হলেও তাঁদের কাজের অনুমতি বহাল রাখাই ছিল এই ব্যবস্থার উদ্দেশ্য।    তবে সুবিধাটি বাতিলের মূল পরিবর্তন শুরু হয় ২০২৫ সালের ৩০ অক্টোবর। ওই দিনের অন্তর্বর্তীকালীন বিধি অনুযায়ী, সেদিন বা তার পরে জমা দেওয়া সংশ্লিষ্ট নবায়ন আবেদন সাধারণভাবে স্বয়ংক্রিয় মেয়াদ বৃদ্ধির সুবিধা পায় না। ফলে অক্টোবরের নতুন চূড়ান্ত বিধিকে প্রথমবার সুবিধা বন্ধের ঘোষণা হিসেবে দেখলে কার্যকর হওয়ার সময় নিয়ে ভুল ধারণা তৈরি হতে পারে।    ডিএইচএসের বক্তব্য, নতুন করে কাজের অনুমতি দেওয়ার আগে আবেদনকারীর যোগ্যতা, নিরাপত্তা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় বিষয় যাচাই নিশ্চিত করতে এই পরিবর্তন আনা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট আবেদনকারীর কার্ডের মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে শুধু নবায়নের আবেদন জমা দেওয়ার রসিদ দিয়ে কাজের অনুমতি বহাল আছে ধরে নেওয়া যাবে না।    বিধিতে ব্যতিক্রমও রয়েছে। ২০২৫ সালের ৩০ অক্টোবরের আগে পাওয়া স্বয়ংক্রিয় মেয়াদ বৃদ্ধির সুবিধা এবং আইন বা পৃথক ফেডারেল রেজিস্টার বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বাড়ানো মেয়াদ এই সিদ্ধান্তে সরাসরি বাতিল করা হয়নি। তাই কারও কাজের অনুমতি বহাল আছে কি না, তা নির্ধারণে তাঁর ইএডির ক্যাটাগরি, নবায়নের আবেদনের তারিখ এবং প্রযোজ্য বিশেষ নির্দেশনা বিবেচনা করতে হবে।    এই পরিবর্তনের গুরুত্ব সবচেয়ে বেশি তাঁদের জন্য, যাঁদের বর্তমান ওয়ার্ক পারমিটের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই নবায়নের সিদ্ধান্ত আসে না। প্রযোজ্য অন্য কোনো অনুমতি বা ব্যতিক্রম না থাকলে তাঁদের কাজে বিরতি পড়তে পারে। ওয়ার্ক পারমিটের মেয়াদ, নবায়নের আবেদন এবং যুক্তরাষ্ট্রে থাকার অভিবাসনগত স্ট্যাটাস পৃথক বিষয়, তাই একটি নথির পরিবর্তন দিয়ে অন্যটির অবস্থান নির্ধারণ করা ঠিক হবে না।

প্রকাশ : অক্টোবর ১৪, ২০২৬ ১০:৪৬
বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্য, শিল্প, সরকারি কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ, স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষা খাতে সহযোগিতা বাড়াতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে পাকিস্তান।
চা রপ্তানি, বিনামূল্যে লিভার প্রতিস্থাপন, যৌথ কারখানা বাংলাদেশকে পাকিস্তানের একাধিক প্রস্তাব

বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্য, শিল্প, সরকারি কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ, স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষা খাতে সহযোগিতা বাড়াতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে পাকিস্তান। এ লক্ষ্যে দুই দেশের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর, যৌথ শিল্পকারখানা স্থাপন এবং বাংলাদেশি পণ্যের রপ্তানি সম্প্রসারণের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বুধবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসনবিষয়ক উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জবিউল্লাহর সঙ্গে পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দারের বৈঠকে এসব বিষয় উঠে আসে।   বৈঠকে পাকিস্তানের হাইকমিশনার তিন সদস্যের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন। দুই দেশের বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রে নতুন সহযোগিতার সুযোগ কাজে লাগানোর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। বুধবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসনবিষয়ক উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জবিউল্লাহর সঙ্গে পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দারের বৈঠকে এসব বিষয় উঠে আসে।   বৈঠকে পাকিস্তানের হাইকমিশনার তিন সদস্যের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন। দুই দেশের বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রে নতুন সহযোগিতার সুযোগ কাজে লাগানোর বিষয়ে আলোচনা হয়। বাংলাদেশের জনপ্রশাসন উপদেষ্টা বলেন, পাকিস্তানের সঙ্গে বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও শিল্প সহযোগিতার নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।   সরকারি কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়ন ছিল আলোচনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। পাকিস্তানের হাইকমিশনার জানান, বাংলাদেশের ১২ জন সরকারি কর্মকর্তা ইতোমধ্যে পাকিস্তানে প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেছেন। আরও ৩৫ জন কর্মকর্তার প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। দুই দেশের কর্মকর্তাদের মধ্যে অভিজ্ঞতা বিনিময় ও পারস্পরিক বোঝাপড়া বাড়লে প্রশাসনিক দক্ষতা উন্নয়নের পাশাপাশি অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণেও ভূমিকা রাখতে পারে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।    এ ছাড়া বাংলাদেশের লোকপ্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের সঙ্গে পাকিস্তানের ন্যাশনাল স্কুল অব পাবলিক পলিসি এবং বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস প্রশাসন একাডেমির সঙ্গে পাকিস্তানের সিভিল সার্ভিস একাডেমির সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের বিষয়ে আগ্রহ জানিয়েছে পাকিস্তান। এসব সমঝোতা বাস্তবায়িত হলে দুই দেশের সরকারি কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ ও পেশাগত অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ আরও বিস্তৃত হতে পারে। তবে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের চূড়ান্ত সময়সূচি এখনো প্রকাশ করা হয়নি।    বাণিজ্যের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ থেকে বছরে ১০ হাজার মেট্রিক টন চা শুল্কমুক্ত আমদানির কোটা থাকার কথা জানিয়েছেন পাকিস্তানের হাইকমিশনার। তাঁর মতে, পাকিস্তানের বাজারে বাংলাদেশের চা রপ্তানি বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশি আনারস ও চিংড়ি পাকিস্তানে রপ্তানির সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। এসব পণ্যের বাণিজ্য বাড়াতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন দুই পক্ষের প্রতিনিধিরা। তবে নির্ধারিত কোটা অনুযায়ী বাস্তবে কত পরিমাণ চা রপ্তানি হচ্ছে, সে বিষয়ে বৈঠকের প্রতিবেদনে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি।   শিল্প খাতে যৌথ বিনিয়োগের মাধ্যমে বাংলাদেশে ক্রীড়াসামগ্রী উৎপাদন কারখানা স্থাপনের বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। পাকিস্তানের শিয়ালকোটের ক্রীড়াসামগ্রী প্রস্তুতকারকদের সঙ্গে বাংলাদেশের উদ্যোক্তারা যৌথভাবে কাজ করতে পারেন বলে আগ্রহ প্রকাশ করা হয়েছে। সম্ভাব্য উৎপাদনপণ্যের মধ্যে রয়েছে টেনিস বলসহ বিভিন্ন ধরনের বল ও অন্যান্য ক্রীড়াসামগ্রী। এ ক্ষেত্রে প্রযুক্তি হস্তান্তর, শ্রমিকদের দক্ষতা উন্নয়ন এবং বাংলাদেশের স্থানীয় উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর সম্ভাবনাও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। দুই দেশের ক্রীড়াবিদদের প্রশিক্ষণ ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।    স্বাস্থ্যসেবা খাতে পাকিস্তানের পক্ষ থেকে একটি উল্লেখযোগ্য প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। দেশটির হাইকমিশনার জানিয়েছেন, পাকিস্তান কিডনি অ্যান্ড লিভার ইনস্টিটিউট অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টারে প্রতিবছর ১০ জন বাংলাদেশি রোগীর বিনা মূল্যে লিভার প্রতিস্থাপনে তাঁরা আগ্রহী। পাশাপাশি বাংলাদেশি চিকিৎসক ও নার্সদের লিভার প্রতিস্থাপন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়ার প্রস্তাবও তুলে ধরা হয়েছে। এটি এখন পর্যন্ত প্রকাশিত আগ্রহ ও প্রস্তাব; রোগী নির্বাচনের নিয়ম, চিকিৎসার অন্যান্য ব্যয় এবং কার্যক্রম শুরুর সময় সম্পর্কে বিস্তারিত ঘোষণা আসেনি।    বৈঠকে ওষুধশিল্প, পর্যটন, পাটশিল্প, শিক্ষা ও বিমান চলাচল খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর সম্ভাবনাও আলোচিত হয়েছে। চিকিৎসাসেবা বিনিময় ও চিকিৎসা পর্যটন সম্প্রসারণের বিষয়েও দুই পক্ষ আগ্রহ দেখিয়েছে। এসব খাতে যৌথ উদ্যোগ ও অভিজ্ঞতা বিনিময় বাড়লে ব্যবসায়িক যোগাযোগ এবং পারস্পরিক বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে বৈঠকে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।    ঢাকা–করাচি সরাসরি ফ্লাইট পুনরায় চালুর বিষয়টিও বৈঠকে গুরুত্ব পেয়েছে। পাকিস্তানের হাইকমিশনারের ভাষ্য অনুযায়ী, ১৪ বছর পর সরাসরি বিমান যোগাযোগ পুনরায় চালু হওয়া দুই দেশের মানুষের যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারে ভূমিকা রাখবে। তবে বিমান চলাচলের বর্তমান সময়সূচি, ফ্লাইটের সংখ্যা কিংবা যাত্রী পরিবহনের পরিসংখ্যান বৈঠকসংক্রান্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।    সামগ্রিকভাবে, বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানোর পাশাপাশি প্রশাসনিক প্রশিক্ষণ, শিল্প উৎপাদন এবং স্বাস্থ্যসেবায় সহযোগিতা সম্প্রসারণে পাকিস্তানের আগ্রহ উঠে এসেছে বৈঠকে। তবে প্রস্তাবগুলোর বাস্তব অগ্রগতি নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের পরবর্তী আলোচনা, আনুষ্ঠানিক চুক্তি এবং বাস্তবায়ন পরিকল্পনার ওপর।

প্রকাশ : অক্টোবর ১৪, ২০২৬ ১০:৪৩
ক্যাশ অ্যাডভান্স অ্যাপ ক্লিও এআইয়ের ২১ লাখের বেশি গ্রাহককে ১ কোটি ৫৮ লাখ ডলার রিফান্ড দিচ্ছে এফটিসি। ছবি: সংগৃহীত
ক্লিও এআইয়ের ২১ লাখের বেশি গ্রাহককে ১ কোটি ৫৮ লাখ ডলারের বেশি ফেরত দিচ্ছে ফেডারেল ট্রেড কমিশন

যুক্তরাষ্ট্রে ক্যাশ অ্যাডভান্স অ্যাপ ক্লিও এআইয়ের ২১ লাখ ২৪ হাজার ৭৯৬ জন গ্রাহককে মোট এক কোটি ৫৮ লাখ ডলারের বেশি ফেরত দিচ্ছে ফেডারেল ট্রেড কমিশন বা এফটিসি। দ্রুত টাকা পাওয়ার প্রতিশ্রুতি, অগ্রিম অর্থের পরিমাণ ও সাবস্ক্রিপশন বাতিলের প্রক্রিয়া নিয়ে বিভ্রান্ত করার অভিযোগ নিষ্পত্তির অংশ হিসেবে এই অর্থ দেওয়া হচ্ছে। আগামী ২৭ অক্টোবর পেপ্যালের মাধ্যমে রিফান্ড পাঠানো শুরু হবে।   এফটিসি জানিয়েছে, ক্লিও এআইয়ের নির্ধারিত ইনস্ট্যান্ট ক্যাশ অ্যাডভান্স সেবার জন্য অর্থ পরিশোধ করা যোগ্য গ্রাহকেরা এই রিফান্ড পাবেন। তাঁদের কাছে ৮ থেকে ২৬ অক্টোবরের মধ্যে ইমেইলে নোটিফিকেশন পাঠানো হচ্ছে। পেপ্যালে টাকা পাওয়ার পর ৩০ দিনের মধ্যে তা গ্রহণ করতে হবে।   ২০২৫ সালের মার্চে দায়ের করা অভিযোগে এফটিসি বলেছিল, ক্লিওর বিজ্ঞাপনে কয়েকশ ডলার অগ্রিম পাওয়ার সুযোগ দেখানো হলেও প্রায় কোনো গ্রাহকই বিজ্ঞাপিত পরিমাণের কাছাকাছি অর্থ পাননি। একই দিনে বা তাৎক্ষণিক টাকা পাওয়ার জন্য বাড়তি ফি দিতে হতো। সেই ফি দেওয়ার পরও অনেককে পরদিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছে।   সাবস্ক্রিপশন বাতিল নিয়েও অভিযোগ ছিল। এফটিসির ভাষ্য অনুযায়ী, বারবার বাতিলের অনুরোধ করার পরও কিছু গ্রাহকের কাছ থেকে মাসিক ফি নেওয়া হয়েছে। আবার বকেয়া ক্যাশ অ্যাডভান্স পরিশোধ না করা পর্যন্ত সাবস্ক্রিপশন বাতিল করা যাবে না বলেও গ্রাহকদের জানানো হয়েছিল। এসব অভিযোগ নিষ্পত্তিতে ক্লিও এআই এক কোটি ৭০ লাখ ডলার দিতে সম্মত হয়।   প্যাচের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রিফান্ডের জন্য আলাদা আবেদন করতে হবে না। তবে প্রত্যেকে কত টাকা পাবেন এবং সবার রিফান্ডের পরিমাণ সমান হবে কি না, তা প্রকাশ করা হয়নি।   রিফান্ডসংক্রান্ত প্রশ্নের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান রাস্ট কনসাল্টিংয়ের ১-৮৭৭-৭৮৮-৪৯৫৮ নম্বরে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। এফটিসি সতর্ক করেছে, রিফান্ড পেতে কোনো ফি দিতে হয় না। টাকা ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে কেউ যোগাযোগ করলে তাকে ব্যক্তিগত তথ্য না দেওয়ার পরামর্শও দিয়েছে সংস্থাটি।

প্রকাশ : অক্টোবর ১৪, ২০২৬ ১০:২৫
দরজা খুলে বাইরে বের হওয়ার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে দুই আপন বোনের মৃত্যু
যে দরজা দিয়ে বের হওয়ার কথা, সেই দরজাতেই ঝরে গেল দুই আপন বোনের প্রাণ

ময়মনসিংহের ভালুকায় বাড়ির স্টিলের দরজা খুলে বাইরে বের হওয়ার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে দুই আপন বোনের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বিকেলে উপজেলার ডাকাতিয়া ইউনিয়নের কাতলামারী গ্রামে মর্মান্তিক এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত দুই শিশু হলো ফাতেমা আক্তার ও নাহিদা আক্তার। তাদের বয়স নিয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে ভিন্ন তথ্য প্রকাশিত হয়েছে; প্রথম আলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, নাহিদার বয়স পাঁচ বছর এবং ফাতেমার সাত বছর।   নিহত দুই শিশু স্থানীয় কৃষক শাহাব উদ্দিনের মেয়ে। একই পরিবারের দুই শিশুর এমন আকস্মিক মৃত্যুতে স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে শোকের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।   স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি শাহাব উদ্দিনের বাড়িতে একটি নতুন ঘর নির্মাণ করা হয়। ওই ঘরে বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য পুরোনো ঘর থেকে সংযোগ নেওয়া হয়েছিল। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক সংযোগের তারে ত্রুটি থাকায় ঘরের স্টিলের দরজাটি বিদ্যুতায়িত হয়ে পড়ে।   দুর্ঘটনার সময় দুই বোন ঘরের ভেতরে ছিল। ঘুম থেকে ওঠার পর বাইরে বের হওয়ার জন্য বড় বোন দরজাটি খুলতে গেলে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়। এ সময় ছোট বোন তাকে বাঁচাতে এগিয়ে গেলে সেও বিদ্যুতের সংস্পর্শে আসে। এতে ঘটনাস্থলেই দুই শিশুর মৃত্যু হয় বলে স্থানীয় সূত্রের বরাতে সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে।   ঘটনার সময় শিশু দুটির মা আয়না মতি বেগম বাড়ির বাইরে ঘাস কাটতে গিয়েছিলেন। তাদের বাবাও বাড়িতে ছিলেন না বলে জানা গেছে। অল্প সময়ের ব্যবধানে দুই সন্তানকে হারিয়ে পরিবারটি গভীর শোকের মধ্যে পড়েছে।   স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আবুল কাশেম ফকির জানান, পুরোনো ঘর থেকে নতুন ঘরে বিদ্যুৎ সংযোগ নেওয়া হয়েছিল। ওই সংযোগের ত্রুটির কারণে স্টিলের দরজাটি বিদ্যুতায়িত হয়ে থাকতে পারে।   ঘটনার খবর পেয়ে ভালুকা মডেল থানা-পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম জানান, পুলিশ দুই শিশুর মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেছে। পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ দাফনের অনুমতি দেওয়া হয়।   দুর্ঘটনাটি বাড়িতে বৈদ্যুতিক সংযোগ স্থাপনের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, ঘরে নতুন বৈদ্যুতিক সংযোগ নেওয়ার সময় দক্ষ বিদ্যুৎকর্মীর মাধ্যমে তারের নিরোধক, আর্থিং এবং ধাতব দরজা বা অন্যান্য ধাতব অংশে বিদ্যুৎ লিকেজের ঝুঁকি পরীক্ষা করা জরুরি।   কোনো দরজা, সুইচ বা বৈদ্যুতিক যন্ত্র স্পর্শ করে শক অনুভূত হলে সেটি আর স্পর্শ করা উচিত নয়; নিরাপদ দূরত্বে থেকে মূল বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করে দক্ষ ব্যক্তির সহায়তা নিতে হবে।দুই শিশুর মৃত্যু শুধু একটি পরিবারের অপূরণীয় ক্ষতি নয়, বরং ঘরের বৈদ্যুতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তারও একটি মর্মান্তিক স্মারক হয়ে থাকল।

প্রকাশ : অক্টোবর ১৪, ২০২৬ ১০:১১
বুয়েট গ্র্যাজুয়েট ও বিসিএস উত্তীর্ণ নায়লা শারাফ ক্যাডার চাকরি ছেড়ে নেত্রকোনার প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা বেছে নিয়েছেন। ছবি: সংগৃহীত
বিসিএসে উত্তীর্ণ হয়েও প্রাথমিকের শিক্ষকতা বেছে নেওয়া নায়লার সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ

প্রকৌশলী ও ব্যাংক কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করেছেন। ৩৪তম বিসিএসেও উত্তীর্ণ হয়েছেন। তবে সেই চাকরিতে যোগ না দিয়ে শিশুদের পড়ানোর পথ বেছে নিয়েছেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী নায়লা শারাফ। সাত বছর ধরে নেত্রকোনার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন তিনি। সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের পাঠদান সহজ করতে নিজেই তৈরি করছেন শিক্ষা উপকরণ ও ডিজিটাল কনটেন্ট।    জাগো নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নায়লার শিক্ষাজীবন শুরু হয় ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজে। পরে বুয়েট থেকে স্নাতক সম্পন্ন করে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরে সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে যোগ দেন। এরপর জনতা ব্যাংকে এক্সিকিউটিভ অফিসার পদেও কাজ করেন। বিভিন্ন পেশায় কাজের অভিজ্ঞতার পর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকতাকে নিজের পেশা হিসেবে বেছে নেন তিনি।    নায়লার কাছে এই সিদ্ধান্তের প্রধান বিবেচনা ছিল নিজের পছন্দ ও মানসিক তৃপ্তি। জাগো নিউজকে তিনি জানিয়েছেন, অর্থ বা খ্যাতির প্রতি তাঁর বিশেষ আকর্ষণ নেই। সাধারণ জীবন এবং দিন শেষে নিশ্চিন্ত থাকার সুযোগকেই বেশি গুরুত্ব দেন।    শিশুদের শেখানোর কাজটি পাঠ্যবইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখেননি নায়লা। পাঠ সহজ ও আনন্দময় করতে ছবি আঁকেন, শিক্ষা উপকরণ বানান এবং ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরি করেন। বিদ্যালয়ের সময়ের বাইরেও এসব প্রস্তুতির জন্য কাজ করেন তিনি।    পড়াশোনার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের সত্যবাদী ও দায়িত্বশীল হয়ে ওঠার বিষয়েও গুরুত্ব দেন। শৈশবে তিনি যে মানসম্মত শিক্ষার সুযোগ পেয়েছেন, প্রান্তিক পরিবারের শিশুরাও যেন তেমন সুযোগ পায়, সেটিই তাঁর প্রত্যাশা।    বুধবার, ১৪ অক্টোবর সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে নিজের পেশা নির্বাচনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন নায়লা। প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব হাসান শিপলুর বক্তব্য উদ্ধৃত করে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী তাঁর কাজের প্রশংসা করেছেন এবং কার্যক্রম চালিয়ে যেতে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।

প্রকাশ : অক্টোবর ১৪, ২০২৬ ১০:৬
নিউইয়র্কে মেডিকেইডের ভুয়া বিল জমা দিয়ে ৩ লাখ ডলারের বেশি আত্মসাতের অভিযোগে ডেন্টিস্ট সুলেমান নাসিমি গ্রেপ্তার। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে স্বাস্থ্যবিমা জালিয়াতির অভিযোগে বাংলাদেশি চিকিৎসক গ্রেপ্তার

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে মেডিকেইডে না দেওয়া চিকিৎসার বিল জমা দিয়ে তিন লাখ ডলারের বেশি আত্মসাতের অভিযোগে ডেন্টিস্ট সুলেমান নাসিমিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পৃথক আরেক মামলায় রোগী পরিবহনের ভুয়া বিল দিয়ে ১৬ লাখ ডলারের বেশি আত্মসাতের ঘটনায় দোষ স্বীকার করেছেন দুই ভাই। গত ২৮ সেপ্টেম্বর রাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেল ও কম্পট্রোলারের দপ্তর পৃথক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানায়।   অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশিয়া জেমসের দপ্তর জানিয়েছে, ৪৬ বছর বয়সী নাসিমি নাসাউ কাউন্টির হিকসভিলের বাসিন্দা। কুইনসে তাঁর ‘টুথ ফ্রেশ মেডোজ’ ডেন্টাল ক্লিনিকের মাধ্যমে ২০২০ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের আগস্ট পর্যন্ত অন্তত ৩৫ জন মেডিকেইড সদস্যের নামে না দেওয়া চিকিৎসার বিল জমা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এসব বিলের মধ্যে রুট ক্যানাল ও দাঁতে ক্রাউন বসানোর মতো চিকিৎসাও ছিল।   তদন্তকারীদের অভিযোগ, ২০২২ সালের জুলাইয়েই ক্লিনিক বন্ধ থাকা এবং নাসিমির ইউরোপে ছুটি কাটানোর সময়ে এক লাখ ৪০ হাজার ডলারের বেশি চিকিৎসার বিল জমা দেওয়া হয়। ভুয়া বিলের কারণে কয়েকজন রোগী পরে অন্য ডেন্টিস্টের কাছে প্রয়োজনীয় চিকিৎসার অনুমোদন পাননি। মেডিকেইডের নথিতে তাঁদের সেই চিকিৎসা আগেই দেওয়া হয়েছে বলে দেখানো ছিল।   নাসিমি ও তাঁর প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে পৃথকভাবে ৪০টি করে অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে। এর মধ্যে অর্থ আত্মসাৎ, হেলথ কেয়ার জালিয়াতি ও মিথ্যা নথি জমা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। মামলার অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি।    অন্যদিকে নিউইয়র্কের ক্লিফটন পার্কের বাসিন্দা জাওয়াদ চৌধুরী ও জুনাইদ চৌধুরী রোগী পরিবহনের বিল জালিয়াতির মামলায় অ্যালবানি কাউন্টি আদালতে দোষ স্বীকার করেছেন। রাজ্যের কম্পট্রোলার টমাস পি. ডিনাপোলির দপ্তর জানিয়েছে, তাঁরা আত্মসাৎ করা অর্থ পুরোপুরি ফেরত দেবেন। সাজা ঘোষণার জন্য আগামী ১৪ ডিসেম্বর তাঁদের আদালতে হাজির হওয়ার কথা রয়েছে।   তদন্তে উঠে এসেছে, একই গাড়িতে একাধিক রোগী পরিবহন করেও আলাদা যাত্রার বিল দেখানো হতো। কখনো রোগী পরিবহন না করেই বিল জমা দেওয়া হয়েছে। ২০২১ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে জুনাইদের এ১ রাইডসের মাধ্যমে ১০ লাখ ডলারের বেশি এবং জাওয়াদের এনওয়াই জেট ট্রান্সপোর্টের মাধ্যমে চার লাখ ডলারের বেশি ভুয়া দাবি জমা দেওয়া হয়। তদন্তে রাইড টু রিকভারি নামে আরেকটি প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্টতাও পাওয়া যায়।   দেশজুড়ে হেলথ কেয়ার জালিয়াতিবিরোধী অভিযানের বিষয়ে বিচার বিভাগের ২৩ জুনের ঘোষণায় ৪৫৫ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনার তথ্য রয়েছে। তাঁদের মধ্যে ৯০ জন চিকিৎসক ও অন্যান্য লাইসেন্সধারী চিকিৎসা পেশাজীবী। বিভিন্ন মামলায় মোট ৬৫০ কোটি ডলারের বেশি ভুয়া দাবির অভিযোগ আনা হয়েছে। এই হিসাব অভিযুক্ত ব্যক্তিদের সংখ্যা; সবাইকে গ্রেপ্তারের ঘোষণা নয়।

প্রকাশ : অক্টোবর ১৪, ২০২৬ ১০:০
রিজভী ,ড. ইউনূস
ড. ইউনূসকে হেনস্তার অভিযোগে তোলপাড়, বাংলাদেশের সুনাম ক্ষুণ্ন হয়েছে বললেন রিজভী

নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বাংলাদেশের নোবেলজয়ী অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসকে হেনস্তার চেষ্টার অভিযোগকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা তৈরি হয়েছে। এ ঘটনায় নিন্দা জানিয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশের একজন আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত ব্যক্তির সঙ্গে অসম্মানজনক আচরণ দেশের ভাবমূর্তির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।   বুধবার, ১৪ অক্টোবর, দেওয়া এক বিবৃতিতে রিজভী অভিযোগ করেন, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা নিউইয়র্কের জেএফকে বিমানবন্দরে অধ্যাপক ইউনূসকে হেনস্তার চেষ্টা করেছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব নেওয়ার কারণে ইউনূসকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। তবে এ অভিযোগে জড়িত ব্যক্তিদের রাজনৈতিক পরিচয় স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়ার তথ্য প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোতে পাওয়া যায়নি।   রিজভী বলেন, অধ্যাপক ইউনূস নোবেল পুরস্কার অর্জনের মাধ্যমে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক পরিচিতি ও সুনাম বাড়িয়েছেন। তিনি শুধু বাংলাদেশের সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টাই নন, আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত একজন ব্যক্তিত্বও। তাঁর সঙ্গে বিদেশের মাটিতে এমন আচরণকে রিজভী অসম্মানজনক বলে অভিহিত করেন। তাঁর মতে, এ ধরনের ঘটনা বাংলাদেশের মানুষের মর্যাদা ও আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তির জন্য ক্ষতিকর।   বিমানবন্দরের ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওর মাধ্যমে সামনে আসে। ভিডিওতে দেখা যায়, হুইলচেয়ারে থাকা ইউনূসের কাছে কয়েকজন ব্যক্তি এগিয়ে গিয়ে তাঁকে উদ্দেশ করে চিৎকার করছেন। তাঁরা তাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তোলেন এবং তাঁকে প্রশ্ন করেন, কেন তিনি সেখানে এসেছেন। পরে নিরাপত্তাকর্মী ও সহযোগীদের সঙ্গে নিয়ে ইউনূসকে সেখান থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। তবে ভিডিও থেকে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পরিচয় ও রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।   এ ঘটনায় বাংলাদেশের সরকারও নিন্দা জানিয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নিউইয়র্কে বাংলাদেশের মিশনকে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করা এবং প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নিতে বলা হয়েছে। সরকারও ঘটনাটিকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে বলে জানানো হয়েছে।   সরকারের পক্ষ থেকে ঘটনায় আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জড়িত থাকার সন্দেহ প্রকাশ করা হয়েছে। তবে অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত ও যাচাই গুরুত্বপূর্ণ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে উপস্থিত ব্যক্তিদের পরিচয় সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে প্রমাণ যাচাই করা প্রয়োজন।   অধ্যাপক ইউনূসকে ঘিরে এ ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের কয়েকজন উপদেষ্টাও। তাঁরা তাঁর বিরুদ্ধে হয়রানি, অনলাইন অপপ্রচার ও শারীরিক হুমকির অভিযোগ তুলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। অন্যদিকে, সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও তা যেন হয়রানি বা সহিংস আচরণে রূপ না নেয়।   রিজভীর বক্তব্যে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তির বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্ব পেয়েছে। তাঁর অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকে এ ধরনের কর্মকাণ্ড ঘটলে তা দেশের সুনাম ক্ষুণ্ন করতে পারে। তবে ঘটনাটির পূর্ণাঙ্গ চিত্র পেতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য, ভিডিওর প্রেক্ষাপট এবং তদন্তের ফলাফল বিবেচনা করা জরুরি।

প্রকাশ : অক্টোবর ১৪, ২০২৬ ৯:৩৯
জ্বালানি ও গ্যাসোলিনের দাম বাড়ায় সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে বার্ষিক মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৩.৭ শতাংশে পৌঁছেছে। ছবি: সংগৃহীত
জ্বালানির দাম বাড়ায় যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৩ দশমিক ৭ শতাংশ! চাপে পরিবারগুলো

যুক্তরাষ্ট্রে সেপ্টেম্বরে বার্ষিক মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৩ দশমিক ৭ শতাংশে পৌঁছেছে, যা আগস্টে ছিল ৩ দশমিক ৪ শতাংশ। বুধবার, ১৪ অক্টোবর প্রকাশিত ব্যুরো অব লেবার স্ট্যাটিস্টিকসের তথ্য অনুযায়ী, জ্বালানি, বিশেষ করে গ্যাসোলিনের দাম বৃদ্ধি সামগ্রিক মূল্যস্ফীতি বাড়িয়েছে। এতে পরিবারের যাতায়াত ও দৈনন্দিন ব্যয়ে চাপ অব্যাহত রয়েছে।    আগস্টের তুলনায় সেপ্টেম্বরে ভোক্তা মূল্যসূচক বেড়েছে শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ। আগের মাসে এই বৃদ্ধি ছিল শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস জানিয়েছে, ফ্যাক্টসেটের জরিপে অর্থনীতিবিদেরা বার্ষিক মূল্যস্ফীতি ৩ দশমিক ৬ শতাংশ হওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছিলেন। প্রকাশিত হার সেই পূর্বাভাসের চেয়ে সামান্য বেশি।    সরকারি হিসাব অনুযায়ী, মৌসুমি সমন্বয়ের পর সেপ্টেম্বরে জ্বালানির দাম আগের মাসের তুলনায় বেড়েছে ৫ দশমিক ২ শতাংশ। শুধু গ্যাসোলিনের দাম বেড়েছে ৯ দশমিক ১ শতাংশ। এক বছরের ব্যবধানে জ্বালানির দাম ২০ দশমিক ৪ শতাংশ এবং গ্যাসোলিনের দাম ৩৪ দশমিক ২ শতাংশ বেশি ছিল।    খাদ্য ও জ্বালানির দাম বাদ দিয়ে হিসাব করা মূল মূল্যস্ফীতিও বেড়েছে। সেপ্টেম্বরে এর বার্ষিক হার ছিল ২ দশমিক ৬ শতাংশ, আগস্টে যা ছিল ২ দশমিক ৪ শতাংশ। এপির প্রতিবেদনে জ্বালানির দামে ইরান যুদ্ধের চলমান প্রভাবকে সামগ্রিক মূল্যস্ফীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।    তবে সব খাতে একইভাবে দাম বাড়েনি। সেপ্টেম্বরে সামগ্রিক খাদ্যের দাম আগের মাসের তুলনায় অপরিবর্তিত ছিল। বাড়িতে খাওয়ার জন্য কেনা খাদ্যের দাম শূন্য দশমিক ১ শতাংশ কমলেও বাইরে খাওয়ার খরচ বেড়েছে শূন্য দশমিক ২ শতাংশ। আবাসন খরচ বেড়েছে শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ।    ৩ দশমিক ৭ শতাংশ বার্ষিক মূল্যস্ফীতির অর্থ, ভোক্তা মূল্যসূচকে অন্তর্ভুক্ত পণ্য ও সেবার গড় দাম এক বছর আগের তুলনায় ওই হারে বেড়েছে। পরিবারের নিজস্ব ব্যয় কতটা বেড়েছে, তা নির্ভর করে গ্যাসোলিন, আবাসন, খাদ্য ও অন্যান্য খাতে তাদের খরচের ওপর। তাই জাতীয় গড়ের সঙ্গে প্রত্যেক পরিবারের অভিজ্ঞতা এক হবে না।

প্রকাশ : অক্টোবর ১৪, ২০২৬ ৯:৩৪
বাঘের হামলায় তরুণের মৃত্যুর ঘটনার ভিডিও শেয়ারের পর বাঘের সঙ্গে খেলার কৃত্রিম ভিডিও পোস্ট করে বিতর্কে ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাজ্যের চিড়িয়াখানায় বাঘের হামলায় শিশুশিল্পীর মৃত্যুর পর বাঘ বশ করার এআই ভিডিও পোস্ট ট্রাম্পের

যুক্তরাজ্যের একটি ওয়াইল্ডলাইফ পার্কে বাঘের হামলায় তরুণের মৃত্যুর ঘটনায় ধারণ করা ভিডিও শেয়ার করার কয়েক ঘণ্টা পর নিজের সঙ্গে বাঘের খেলার একটি কৃত্রিমভাবে তৈরি ভিডিও পোস্ট করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ১৩ অক্টোবর রাতে ট্রুথ সোশ্যালে ভিডিওটি প্রকাশ করেন তিনি। এদিকে নিহত তরুণের পরিবার অনলাইনে ঘটনার আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও ছড়ানো বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে।    ফোর্বসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নতুন ভিডিওতে ট্রাম্পকে বাঘ তাড়াতে এবং প্রাণীটির সঙ্গে খেলার ছলে ধস্তাধস্তি করতে দেখা যায়। শেষে তাঁকে বাঘটি জড়িয়ে ধরতে দেখানো হয়। পুরো দৃশ্যটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি, বাস্তবে ট্রাম্পের সঙ্গে বাঘের এমন কোনো ঘটনার ভিডিও নয়।    এর আগে ট্রাম্প ইংল্যান্ডের ডনকাস্টারের কাছে ইয়র্কশায়ার ওয়াইল্ডলাইফ পার্কে বাঘের হামলার ভিডিও শেয়ার করেন। সেখানে তাঁর বার্তার অর্থ ছিল, প্রকৃতির সঙ্গে কখনো খেলতে যেও না। আইটিভি নিউজ জানিয়েছে, ওই ভিডিওতে হামলার দৃশ্য থাকলেও তরুণের মৃত্যুর মুহূর্ত দেখানো হয়নি।    নিহত তরুণের নাম উইলিয়াম চ্যাপম্যান, বয়স ২৩ বছর। সাউথ ইয়র্কশায়ার পুলিশের বক্তব্য উদ্ধৃত করে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস জানিয়েছে, ১০ অক্টোবর তিনি বাঘের ঘেরের ভেতরে প্রবেশ করার পর হামলার শিকার হন। জরুরি চিকিৎসাকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও তাঁকে বাঁচানো যায়নি। বাঘটি ঘেরের ভেতরেই ছিল এবং আহত হয়নি।    উইলিয়ামের পরিবার জানিয়েছে, শোকের এই সময়ে আপত্তিকর অনলাইন কনটেন্টের প্রচার তাঁদের গভীর মানসিক কষ্ট দিচ্ছে। তাঁরা এ ধরনের কনটেন্ট ছড়ানো বন্ধ করতে এবং মৃত্যুর কারণ অনুসন্ধানের প্রক্রিয়াকে সম্মান জানাতে অনুরোধ করেছেন।    আইটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৫ অক্টোবর ডনকাস্টারের করোনার আদালতে মৃত্যুর কারণ অনুসন্ধানের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। পার্কটির লাইসেন্স দেওয়ার দায়িত্বে থাকা ডনকাস্টার সিটি কাউন্সিলও স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত তদন্ত শুরু করেছে।

প্রকাশ : অক্টোবর ১৪, ২০২৬ ৯:১৭
মারামারিতে জড়ানো দুই শিক্ষক স্বামী-স্ত্রী
সহকর্মী ভেবে অবাক নেটিজেনরা, পরে জানা গেল মারামারিতে জড়ানো দুই শিক্ষক স্বামী-স্ত্রী!

ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ায় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অফিসকক্ষে প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষিকার মধ্যে ধস্তাধস্তি ও মারামারির ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। তবে ঘটনাটির পেছনে শুধু পেশাগত বিরোধ নয়, দীর্ঘদিনের পারিবারিক দ্বন্দ্বও রয়েছে বলে জানা গেছে।   ঘটনাটি ফুলবাড়িয়া উপজেলার রাঙ্গামাটিয়া ইউনিয়নের আকতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের। মারামারিতে জড়ানো দুই শিক্ষক হলেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আফজাল হোসেন এবং সহকারী শিক্ষক আসমা বেগম। তাঁরা সম্পর্কে স্বামী-স্ত্রী। গত ১৩ অক্টোবর মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি আলোচনায় আসে।   প্রথম আলো ও বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রায় ১০ থেকে ১২ দিন আগে বিদ্যালয়ের অফিসকক্ষে এ ঘটনা ঘটে। তাঁদের দাম্পত্য জীবনে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। ২০০৪ সালে তাঁদের বিয়ে হয়। তাঁদের একটি মেয়ে রয়েছে, যিনি উচ্চমাধ্যমিক শেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রস্তুতি নিচ্ছেন। প্রায় ১৪ বছর ধরে তাঁরা আলাদা থাকছেন এবং পারিবারিক বিরোধ নিয়ে আদালতে মামলাও চলছে। তবে তাঁদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়নি বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   প্রধান শিক্ষক আফজাল হোসেনের ভাষ্য অনুযায়ী, পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাঁদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। মাঝেমধ্যে সেই বিরোধ বিদ্যালয় পর্যন্ত গড়িয়েছে। ঘটনার দিনও পারিবারিক বিরোধের জেরে দুজনের মধ্যে মারামারি হয় বলে তিনি জানান। তাঁর দাবি, সহকর্মী শিক্ষকদের দিয়ে তিনি ঘটনার ভিডিও ধারণ করিয়েছিলেন। এর আগেও বিদ্যালয়ে তাঁদের মধ্যে দুই থেকে তিনবার এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে বলে তিনি জানিয়েছেন।   বিদ্যালয়ের অফিসকক্ষে এমন ঘটনা ঘটানো ঠিক হয়নি বলেও স্বীকার করেছেন প্রধান শিক্ষক। তবে ঘটনার বিষয়ে সহকারী শিক্ষক আসমা বেগমের বক্তব্য জানতে তাঁর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। ফলে ঘটনার বিষয়ে তাঁর নিজস্ব বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।   ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর শিক্ষা প্রশাসনও বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। ফুলবাড়িয়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন জানিয়েছেন, ঘটনাটি ১০ থেকে ১২ দিন আগের হলেও ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর তাঁদের নজরে আসে। দুই শিক্ষকের মধ্যে দীর্ঘদিনের পারিবারিক বিরোধ রয়েছে বলে তাঁরা জানতে পেরেছেন।   উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আরও জানিয়েছেন, বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের এ ধরনের আচরণ কোনোভাবেই কাম্য নয়। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ১৪ অক্টোবর বুধবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে তদন্তের ফলাফল বা কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না, সে বিষয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোতে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।   এদিকে নাগরিক সংগঠন ময়মনসিংহ মঞ্চের মুখ্য সমন্বয়ক ইমতিয়াজ আহমেদ ঘটনাটিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁর মতে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষকদের এমন আচরণ শিক্ষার্থীদের মনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তিনি ঘটনার তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।   আকতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাঁচজন শিক্ষক কর্মরত এবং শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৯০-এর বেশি বলে প্রথম আলোর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে বিদ্যালয়ের পরিবেশ, শিক্ষকদের পেশাগত দায়িত্ব এবং শিক্ষার্থীদের ওপর এ ধরনের ঘটনার সম্ভাব্য প্রভাব নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।    শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিশুদের শিক্ষা, শৃঙ্খলা ও মূল্যবোধ গড়ে তোলার গুরুত্বপূর্ণ জায়গা। ব্যক্তিগত বা পারিবারিক বিরোধ থাকলেও বিদ্যালয়ের পরিবেশে তার প্রভাব পড়া অনাকাঙ্ক্ষিত। তাই ভিডিওটির পুরো প্রেক্ষাপট যাচাই, সংশ্লিষ্ট সবার বক্তব্য গ্রহণ এবং নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার দায় নির্ধারণ করা জরুরি। একই সঙ্গে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কোনো পক্ষ সম্পর্কে একতরফা সিদ্ধান্তে পৌঁছানোও উচিত নয়।

প্রকাশ : অক্টোবর ১৪, ২০২৬ ৯:১০