সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

Today latest news

20 News
ফিলিস্তিনিদের জলপাই সংগ্রহের খবর করতে গিয়ে বসতি স্থাপনকারীদের হামলার শিকার হন হেইডি লেভিন। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
পশ্চিম তীরে ইহুদি বসতি স্থাপনকারীদের হামলায় মার্কিন সাংবাদিক আহত, নেতানিয়াহুর মন্তব্যে ক্ষুব্ধ

পশ্চিম তীরের অধিকৃত এলাকায় ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্টের অভিজ্ঞ আলোকচিত্রী হেইডি লেভিন। হামলার ঘটনাকে ‘কথিত’ হিসেবে উল্লেখ করায় ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তিনি। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় লেভিন বলেন, হামলার প্রমাণ সামনে থাকার পরও এমন মন্তব্যে তিনি বিস্মিত ও অপমানিত বোধ করেছেন। গুরুতর আঘাত পেয়েও কাজে ফেরার প্রত্যয় জানিয়েছেন কয়েক দশক ধরে সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলের ঘটনা নথিবদ্ধ করে আসা এই সাংবাদিক।    গত শুক্রবার পশ্চিম তীরের আবু ফালাহ গ্রামে ফিলিস্তিনিদের জলপাই সংগ্রহের ঘটনা কাভার করতে গিয়ে হামলার শিকার হন লেভিন। প্রত্যক্ষদর্শী ও সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মুখোশধারী একদল ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী জলপাই সংগ্রহ করতে আসা ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলা চালায়। ওই সময় সাংবাদিক পরিচয় স্পষ্ট করে লেখা সুরক্ষাবর্ম ও হেলমেট পরা লেভিনকেও মাটিতে ফেলে লাথি মারা হয় এবং তাঁর ক্যামেরা ও মুঠোফোন কেড়ে নেওয়া হয়। হামলায় তাঁর চারটি মেরুদণ্ডের হাড় ও একটি পাঁজর ভেঙেছে বলে ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। শরীরের বিভিন্ন স্থানে ক্ষত ছাড়াও তাঁর একটি হাতের আঙুলে গুরুতর আঘাত লাগে।   লেভিন অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে জানান, হামলাকারীরা প্রায় ১০ মিনিট ধরে তাঁকে মারধর করে। তিনি নিজের ক্যামেরা ও ব্যাগ আঁকড়ে ধরে রাখার চেষ্টা করছিলেন। তাঁর ভাষ্য, হেলমেট ও ‘প্রেস’ লেখা সুরক্ষাবর্ম তাঁকে আরও গুরুতর আঘাত থেকে বাঁচিয়ে থাকতে পারে। চিকিৎসার জন্য প্রথমে তাঁকে রামাল্লার হাসপাতালে নেওয়া হয়, পরে ইসরায়েলের একটি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। হামলার ঘটনায় তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে নতুন কোনো তথ্য তিনি পাননি বলেও জানিয়েছেন।   হামলার বিষয়ে নেতানিয়াহু বলেছেন, ঘটনার প্রকৃত তথ্য এখনো স্পষ্ট নয় এবং বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। তবে লেভিনের বক্তব্য, ঘটনার প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও একে ‘কথিত’ হামলা হিসেবে বর্ণনা করা তাঁকে অপমানিত করেছে। তাঁর অভিযোগ, ইসরায়েলি সেনাবাহিনী অনেক ক্ষেত্রে হুমকির মুখে থাকা ফিলিস্তিনিদের তুলনায় বসতি স্থাপনকারীদের সুরক্ষায় বেশি মনোযোগ দিচ্ছে। চার দশকেরও বেশি সময় ধরে এই অঞ্চলে কাজ করা লেভিন বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে পরিস্থিতি যতটা খারাপ হতে দেখছেন, আগে কখনো তেমন দেখেননি।   ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ হাসপাতালে লেভিনের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন। লেভিন তাঁর প্রতিক্রিয়াকে আন্তরিক বলে বর্ণনা করেন। হামলার নিন্দা জানিয়ে ইসরায়েলের সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী মোশে ইয়ালন, সাবেক গোয়েন্দাপ্রধান তামির পার্দো এবং সাবেক নিরাপত্তা সংস্থাপ্রধান আমি আয়ালনসহ এক ডজনের বেশি সাবেক নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা কর্মকর্তা একটি চিঠিতে স্বাক্ষর করেছেন। চিঠিতে ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলা, তাঁদের সহায়তাকারীদের ওপর আক্রমণ এবং এসব ঘটনা নথিবদ্ধ করা সাংবাদিকদের লক্ষ্যবস্তু করার ঘটনায় লজ্জা প্রকাশ করা হয়। তাঁদের মতে, এ ধরনের সহিংসতা ইসরায়েলের নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তির ক্ষতি করছে।   যুক্তরাষ্ট্রের ইসরায়েলবিষয়ক রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবিও লেভিনের ওপর হামলার নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি ঘটনাটিকে মুখোশধারী হামলাকারীদের চালানো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বলে উল্লেখ করে দোষীদের দীর্ঘ কারাদণ্ডের দাবি জানান। এদিকে, পশ্চিম তীরে জলপাই সংগ্রহের মৌসুম ঘিরে ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলা এবং জলপাইগাছ ধ্বংসের ঘটনা বেড়েছে বলে মানবাধিকার সংগঠনগুলো জানিয়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, একই সময়ের মধ্যে পশ্চিম তীরের একটি খ্রিষ্টান গ্রামে ইউরোপীয় কূটনীতিকদের ওপরও হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ ও নিন্দা বাড়ছে।   লেভিন বলেছেন, তিনি চান না তাঁর ওপর হামলাই মূল সংবাদ হয়ে উঠুক; বরং দীর্ঘদিন ধরে যেসব ফিলিস্তিনির জীবন ও দুর্ভোগ তিনি নথিবদ্ধ করছেন, সেদিকে মনোযোগ দেওয়া হোক। তাঁর মতে, বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা ক্রমেই বাড়ছে এবং আরও বিপজ্জনক হয়ে উঠছে। পশ্চিম তীরে এ ধরনের হামলার ঘটনায় অপরাধীদের জবাবদিহি নিশ্চিত করা হচ্ছে কি না, তা নিয়েও মানবাধিকারকর্মীরা দীর্ঘদিন ধরে প্রশ্ন তুলছেন। গুরুতর আহত হলেও পেশায় ফেরার সিদ্ধান্তে অটল লেভিনের বক্তব্য, তাঁর হাড় ভেঙেছে, কিন্তু মনোবল ভাঙেনি। সূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস, রয়টার্স।

প্রকাশ : অক্টোবর ১৮, ২০২৬ ২৩:৪১
দুপুর ২টায় জাতীয় প্রেসক্লাবে পদত্যাগের চূড়ান্ত ঘোষণা দেওয়ার কথা জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
দুপুরে পদত্যাগের ঘোষণা দেবেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগের চূড়ান্ত ঘোষণা দেবেন বলে জানিয়েছেন ইশরাক হোসেন। সোমবার (১৯ অক্টোবর) দুপুর ২টায় জাতীয় প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এ ঘোষণা দেওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি। সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে ইশরাক এ তথ্য জানান। একই সঙ্গে প্রতিমন্ত্রীর পদে না থাকলেও মাদকবিরোধী কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি।   ফেসবুক পোস্টে ইশরাক লিখেছেন, দুপুর ২টায় জাতীয় প্রেসক্লাবে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগের চূড়ান্ত ঘোষণা দেবেন এবং সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলবেন। পোস্টে তিনি আরও বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর পদত্যাগ নিয়ে বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া দেখেছেন। ভবিষ্যতে আন্দোলন-সংগ্রামের প্রয়োজন হলে জাতীয়তাবাদী আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা যেন দেশে ফিরে অংশ নেন, সে আশাও প্রকাশ করেন তিনি।   ইশরাক জানান, প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে না থাকলেও বিএনপির একজন কর্মী হিসেবে মাদকের বিরুদ্ধে আগের চেয়ে আরও বেশি উদ্যম নিয়ে কাজ করবেন। তাঁর ভাষ্য, পদে থাকুন বা না থাকুন, মাদক নির্মূলের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি আরও জোরদার করার এবং প্রজন্ম দলের সাংগঠনিক শক্তি বাড়াতে বিভিন্ন জেলা সফরের পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন তিনি।   এর আগে ইশরাককে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়। তবে ১৮ অক্টোবর রাতে তাঁর প্রেস কর্মকর্তা মাহফুজ কবির মুক্তা এক বিবৃতিতে এ খবরকে অসত্য ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন। ইশরাকও এক অডিও বার্তায় পদত্যাগের নির্দেশ পাওয়ার খবর অস্বীকার করেছিলেন। পরে মধ্যরাতে দেওয়া ফেসবুক পোস্টে তিনি জানান, তাঁর ক্ষেত্রে এ ধরনের কোনো সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে দ্রুত সংবাদ সম্মেলন করে তা জানানো হবে। সোমবার সকালে দেওয়া নতুন পোস্টে দুপুর ২টায় পদত্যাগের চূড়ান্ত ঘোষণা দেওয়ার কথা বলেছেন তিনি।   সম্প্রতি রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় মাদকবিরোধী অভিযানে আগ্নেয়াস্ত্র হাতে ইশরাকের উপস্থিতির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। ওই ঘটনায় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ। ইশরাকের দাবি, তিনি স্থানীয় বাসিন্দা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অংশগ্রহণে আয়োজিত মাদকবিরোধী সামাজিক প্রতিরোধ কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছিলেন। এ ঘটনায় আইনের কোনো ব্যত্যয় ঘটেছে কি না, তা তদন্ত করে দেখার কথা জানিয়েছে পুলিশ।   সূত্র: ইশরাক হোসেনের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ, প্রথম আলো ও জাগো নিউজ২৪।

প্রকাশ : অক্টোবর ১৮, ২০২৬ ২৩:১৮
মুম্বাইয়ে গাড়ি লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণের ঘটনায় বলিউড অভিনেতা টাইগার শ্রফের ডান হাতে বারুদের পোড়া দাগ হয়েছে। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
মুম্বাইয়ে টাইগার শ্রফের গাড়িতে ৫ রাউন্ড গুলি, আহত চালক ও অটোরিকশাচালক

বলিউড অভিনেতা টাইগার শ্রফের বিএমডব্লিউ গাড়ি লক্ষ্য করে পাঁচ রাউন্ড গুলি ছোড়ার ঘটনা ঘটেছে ভারতের মুম্বাইয়ের জুহু এলাকায়। রোববার (১৮ অক্টোবর) সন্ধ্যায় এ ঘটনায় অভিনেতা সরাসরি গুলিবিদ্ধ না হলেও তাঁর ডান হাতে বারুদের কারণে পোড়া দাগ হয়েছে। আহত হয়েছেন তাঁর গাড়িচালক ফিরদৌস এবং এক অটোরিকশাচালক। ঘটনার পর মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্ডে গভীর রাতে অভিনেতার বাসায় গিয়ে তাঁর ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করেন। পুলিশ এ ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে এবং জিজ্ঞাসাবাদের জন্য একজনকে আটক করেছে।   ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে ও টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী, জুহু এলাকার পুষ্পা পার্কের কাছে টাইগার শ্রফের গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয়। সে সময় অভিনেতা ফুটবল খেলা শেষে ফিরছিলেন। মোটরসাইকেলে আসা কয়েকজন ব্যক্তি তাঁর গাড়ির দিকে গুলি ছুড়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে। ঘটনাস্থলের ভিডিও এবং অন্যান্য আলামত পরীক্ষা করে হামলাকারীদের শনাক্ত করার চেষ্টা করছে পুলিশ।   গুলিবর্ষণের ঘটনায় টাইগার শ্রফের গাড়িচালক ফিরদৌসের বাম হাতে গুলি লাগে। আহত অটোরিকশাচালককেও হাসপাতালে নেওয়া হয়। অন্যদিকে, অভিনেতার ডান হাতে বারুদের কারণে পোড়া দাগ রয়েছে বলে তাঁর সঙ্গে সাক্ষাতের পর জানান একনাথ শিন্ডে। তবে তিনি সরাসরি গুলিবিদ্ধ হননি। আহতদের চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে এবং তাঁদের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।   ঘটনার পর টাইগার শ্রফের সঙ্গে দেখা করে একনাথ শিন্ডে বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুতর। অভিনেতা ও তাঁর পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাজ্য সরকার এবং মুম্বাই পুলিশ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি। শিন্ডে জানান, মুম্বাইয়ে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে ভয়ভীতি দেখানো কিংবা আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে না। হামলার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি প্রতিশ্রুতি দেন।   টাইগার শ্রফের পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কারও সঙ্গে তাঁদের ব্যক্তিগত শত্রুতা বা বিরোধ নেই। ফলে কেন অভিনেতার গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি চালানো হলো, তা এখনো স্পষ্ট নয়। পুলিশ হামলার উদ্দেশ্য, জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় এবং ঘটনার পেছনে কোনো সংঘবদ্ধ গোষ্ঠীর সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি গোষ্ঠীর পক্ষ থেকে হামলার দায় স্বীকারের দাবি সামনে এলেও সেটি স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হয়নি।   ঘটনার তদন্তে পুলিশ বিভিন্ন সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করছে। হামলাকারীদের শনাক্ত করতে আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য যাচাই করা হচ্ছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য একজনকে আটক করা হলেও তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত হামলার কারণ ও এর সঙ্গে জড়িতদের বিষয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না।   সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে, টাইমস অব ইন্ডিয়া ও হিন্দুস্তান টাইমস।

প্রকাশ : অক্টোবর ১৮, ২০২৬ ২৩:৬
অল্প বয়সে কোরআন তিলাওয়াতের দক্ষতার কারণে আলোচনায় এসেছিল আলজেরিয়ার শিশু আবদুর রহমান ফারাহ। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
মাদরাসায় না গিয়েই মাত্র ১ বছরে সম্পূর্ণ কুরআন হিফজ করল আলজেরিয়ার ৩ বছর বয়সী শিশু আব্দুর রহমান ফারিহ

মাত্র তিন বছর বয়সেই পবিত্র কোরআনের পুরোটা মুখস্থ করার কৃতিত্বের দাবি নিয়ে আলোচনায় এসেছিল আলজেরিয়ার শিশু আবদুর রহমান ফারাহ। ছোটবেলায় পড়তে বা লিখতে না শিখেও শুনে শুনে কোরআনের আয়াত মুখস্থ করার কথা জানিয়েছিল তার পরিবার। তবে এ ঘটনা সাম্প্রতিক নয়। আরব ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে ২০০৯ সাল থেকেই শিশুটিকে নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়ে আসছে। তার বয়স ও মুখস্থ করার সময়সীমা নিয়ে প্রচারিত তথ্যের সবকিছু স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।   সে সময় প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, আবদুর রহমানের মা গর্ভাবস্থায় নিয়মিত কোরআন তিলাওয়াত করতেন এবং সন্তান জন্মের পরও তাকে কোরআন শোনাতেন। পরিবারের দাবি, প্রায় দুই বছর বয়সে তারা শিশুটির বিশেষ দক্ষতা লক্ষ করেন। কথা বলা ও উচ্চারণে পুরোপুরি স্বচ্ছন্দ হওয়ার আগেই সে কোরআনের বিভিন্ন আয়াত ও সূরা তিলাওয়াত করতে শুরু করে। সূরা আল-কাহফ ছিল তার শুরুর দিকের তিলাওয়াতের সঙ্গে যুক্ত উল্লেখযোগ্য সূরাগুলোর একটি বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   শিশুটির পরিবার জানিয়েছিল, সে কোনো আনুষ্ঠানিক কোরআন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা মসজিদে গিয়ে নিয়মিত পাঠ নেয়নি। বাড়িতে মা-বাবার তিলাওয়াত এবং টেলিভিশনে কোরআন পাঠ শুনেই সে আয়াতগুলো মনে রাখত। প্রচারিত ভিডিওগুলোতে তার তিলাওয়াতের ধরনও মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। ধীরস্থিরভাবে শুদ্ধ উচ্চারণে কোরআন পাঠের এই পদ্ধতিকে তাজবিদের নিয়ম মেনে তিলাওয়াতের সঙ্গে তুলনা করা হয়। তবে শিশুটির সম্পূর্ণ কোরআন মুখস্থ করার দাবির স্বাধীন যাচাইয়ের তথ্য পাওয়া যায়নি।   আলজেরিয়ার সংবাদমাধ্যম ‘আল-শুরুক’ ২০০৯ সালে আবদুর রহমানকে নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে। পরবর্তী সময়ে অন্যান্য আরব সংবাদমাধ্যমেও তার কথা উঠে আসে। ২০১৫ সালে আলজেরীয় সংবাদমাধ্যম ‘আল-খবর’ জানায়, তখন নয় বছর বয়সী আবদুর রহমান সৌদি আরবের জেদ্দায় শিশু কোরআন হাফেজদের একটি আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে স্বীকৃতি পেয়েছিল। এসব প্রতিবেদন তাকে অল্প বয়সে কোরআন মুখস্থ করা শিশু হিসেবে পরিচিতি পেতে সাহায্য করে।   আবদুর রহমানের ঘটনাটি আবারও আলোচনায় এসেছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার নাম ও কোরআন তিলাওয়াতের বর্ণনা ছড়িয়ে পড়ায়। তবে এ বিষয়ে নতুন করে প্রচারিত পোস্টগুলোতে পুরোনো ঘটনার সঙ্গে বর্তমানের তথ্য মিশে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। তাই শিশুটির বয়স, মুখস্থ করার নির্দিষ্ট সময়সীমা এবং পুরো কোরআন মুখস্থ করার দাবিকে নিশ্চিত তথ্য হিসেবে উপস্থাপনের আগে নির্ভরযোগ্য সূত্রের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা জরুরি।   সূত্র: আল-শুরুক, আল-খবর ও আল-মদিনা সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন।

প্রকাশ : অক্টোবর ১৮, ২০২৬ ২২:৪৫
যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ‘নো কিংস’ কর্মসূচিতে মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে আগাম ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান আন্দোলনকারীরা। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ট্রাম্পবিরোধী বিক্ষোভ, জোরালো হচ্ছে ‘নো কিংস’ আন্দোলন

যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতির বিরোধিতায় পরিচিত ‘নো কিংস’ আন্দোলনের নতুন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (১৭ অক্টোবর) দেশটির বিভিন্ন শহরে আয়োজিত এসব সমাবেশে আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোটারদের আগাম ভোট দিতে উৎসাহিত করা হয়েছে। ‘নো কিংস: ভোট আর্লি’ নামের এই কর্মসূচিতে আগের মতো শুধু ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ নয়, বরং নির্বাচনে ভোটারদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আয়োজকদের দাবি, দেশজুড়ে প্রায় তিন হাজার স্থানে এ ধরনের কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।   আয়োজকেরা জানিয়েছেন, এটি নির্দলীয় ভোটার অংশগ্রহণ বাড়ানোর উদ্যোগ। যোগ্য ভোটাররা কীভাবে আগাম ভোট দিতে পারবেন, সে বিষয়ে তথ্য দেওয়া এবং ভোট দেওয়ার পরিকল্পনা করতে তাঁদের সহায়তা করাই কর্মসূচির অন্যতম উদ্দেশ্য। যুক্তরাষ্ট্রের অনেক অঙ্গরাজ্যে নির্বাচনের দিনের আগেই ভোট দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। তাই স্থানীয় পর্যায়ে সমাবেশ, প্রচার এবং ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের মাধ্যমে তাঁদের ভোটদানে উৎসাহিত করছেন আন্দোলনের কর্মীরা।   ‘নো কিংস’ আন্দোলন ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের বিভিন্ন নীতি ও ক্ষমতা প্রয়োগের বিরোধিতা থেকে শক্তিশালী হয়ে ওঠে। এর আগেও ২০২৫ সালের জুন ও অক্টোবরে এবং ২০২৬ সালের মার্চে দেশজুড়ে বড় কর্মসূচি হয়েছিল। তবে এবারের আয়োজনে আন্দোলনকারীরা রাজপথের প্রতিবাদের পাশাপাশি নির্বাচনে অংশগ্রহণের ওপর জোর দিয়েছেন। তাঁদের বক্তব্য, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় জনগণের মতামত কার্যকর করার অন্যতম উপায় হলো ভোট দেওয়া।   এবারের কর্মসূচি এমন সময়ে অনুষ্ঠিত হলো, যখন কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে রিপাবলিকানদের সামনে কঠিন নির্বাচনী লড়াই রয়েছে। ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদের সব আসন এবং সিনেটের একাংশে ভোট হবে। নির্বাচনের ফল প্রেসিডেন্টের বাকি মেয়াদে আইন প্রণয়ন, বাজেট ও প্রশাসনিক নীতির ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। এ কারণে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও নাগরিক সংগঠন ভোটারদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর চেষ্টা করছে।   ভোটের পদ্ধতি নিয়েও যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক বিতর্ক রয়েছে। ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরে ডাকযোগে ভোটের সমালোচনা করে আসছেন এবং ২০২০ সালের নির্বাচনে জো বাইডেনের কাছে পরাজয়ের পর প্রমাণ ছাড়াই ব্যাপক ভোট জালিয়াতির অভিযোগ তুলেছিলেন। অন্যদিকে, ভোটাধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলো বলছে, যোগ্য নাগরিকদের ভোট দেওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করা জরুরি। ডাকযোগে ভোট সীমিত করা বা ভোটারদের যোগ্যতা যাচাইয়ের নিয়ম কঠোর করার উদ্যোগ নিয়ে এ বিতর্ক আরও জোরালো হয়েছে।   মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে প্রকাশিত বিভিন্ন জনমত জরিপেও প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস পাওয়া যাচ্ছে। সাম্প্রতিক এক জরিপে ডেমোক্র্যাটদের প্রতিনিধি পরিষদে এগিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা দেখা গেলেও সিনেটের লড়াই অনিশ্চিত রয়েছে। তবে জনমত জরিপ চূড়ান্ত ফলের নিশ্চয়তা দেয় না। ‘নো কিংস’ আয়োজকদের আশা, আগাম ভোটের বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানো এবং ভোটারদের পরিকল্পিতভাবে নির্বাচনে অংশ নিতে সহায়তা করার মাধ্যমে তাঁরা ভোটদানের হার বাড়াতে পারবেন। সূত্র: ডয়চে ভেলে, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) ও ‘নো কিংস’ আন্দোলনের আনুষ্ঠানিক ওয়েবসাইট।

প্রকাশ : অক্টোবর ১৮, ২০২৬ ২২:১৯
ইকুয়েডরের গুয়ায়াকিল শহরে ধর্মীয় অনুষ্ঠান চলাকালে কাঠের ক্রুশ পড়ে যাজক ফাদার পাত্রিসিও সানচেস মোলিনারির মৃত্যু হয়। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
গির্জায় প্রার্থনা চলাকালে মাথায় বিশাল ক্রুশ ভেঙে পড়ে যাজকের মৃত্যু

ইকুয়েডরের একটি গির্জায় ধর্মীয় অনুষ্ঠান সরাসরি সম্প্রচারের সময় বড় কাঠের ক্রুশ পড়ে এক ক্যাথলিক যাজকের মৃত্যু হয়েছে। নিহত যাজকের নাম ফাদার পাত্রিসিও আলফ্রেদো সানচেস মোলিনারি। শনিবার দেশটির গুয়ায়াকিল শহরের নুয়েস্ত্রা সেনিওরা দেল পেরপেতুও সোকোরো গির্জায় প্রার্থনা পরিচালনার সময় তাঁর ওপর ক্রুশটি পড়ে। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচারিত হচ্ছিল। ভিডিওতে ক্রুশটি পড়ে যাওয়ার পর উপাসকদের ছুটে আসতে এবং সাহায্যের জন্য চিৎকার করতে দেখা যায়।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই সময় যাজক বেদিতে দাঁড়িয়ে পবিত্র কমিউনিয়ন অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। তাঁর পেছনে স্থাপিত বড় কাঠের ক্রুশটি হঠাৎ সামনের দিকে পড়ে তাঁকে আঘাত করে। মুহূর্তের মধ্যে গির্জার পরিবেশ বদলে যায়। উপস্থিত লোকজন তাঁকে সাহায্য করতে এগিয়ে আসেন এবং অ্যাম্বুলেন্স ডাকার জন্য চিৎকার করেন। তবে গুরুতর আঘাতের কারণে তাঁর মৃত্যু হয়।   গুয়ায়াকিলের আর্চডায়োসিস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে যাজকের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। বিবৃতিতে তাঁকে পেরপেতুও সোকোরো গির্জার ধর্মযাজক এবং সেন্ট্রাল ভিকারিয়েটের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি হিসেবে উল্লেখ করা হয়। তাঁর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানটি তাঁর আত্মার শান্তি কামনা করেছে। যাজক সানচেস মোলিনারি ক্যাথলিক ধর্মীয় সংগঠন ‘রিডেম্পটরিস্ট’-এর সদস্য ছিলেন।   ইকুয়েডরের সংবাদমাধ্যম প্রিমিসিয়াস জানিয়েছে, মৃত্যুর মাত্র এক দিন আগেই যাজক সানচেস মোলিনারির ধর্মযাজক হিসেবে অভিষেকের বার্ষিকী উপলক্ষে তাঁকে অভিনন্দন জানিয়েছিল আর্চডায়োসিস। এর আগে তিনি দেশটির লস রিওস প্রদেশের ভিনসেস এলাকার সান লোরেনজো গির্জায় কয়েক বছর ধর্মযাজক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সেখানে তাঁর কাজ ও ধর্মীয় সেবার স্মৃতিচারণ করে সাবেক গির্জার পক্ষ থেকেও শোকবার্তা প্রকাশ করা হয়েছে।   ঘটনার সময় গির্জার অনুষ্ঠান সরাসরি সম্প্রচার করা হচ্ছিল বলে দুর্ঘটনার দৃশ্য এবং উপস্থিত লোকজনের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া ভিডিওতে ধরা পড়ে। তবে বিশাল কাঠের ক্রুশটি কেন পড়ে গেল, তা এখনো স্পষ্ট নয়। গির্জা কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে প্রকাশ্যে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেয়নি। ক্রুশটির স্থাপনব্যবস্থা বা কাঠামোগত কোনো ত্রুটি ছিল কি না, সে সম্পর্কেও নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।   সূত্র: ফক্স নিউজ, প্রিমিসিয়াস ও গুয়ায়াকিলের আর্চডায়োসিস।

প্রকাশ : অক্টোবর ১৮, ২০২৬ ২১:৫৮
বিমার অর্থ আদায়ের পরিকল্পনায় গুরুতরভাবে পা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর দুই পা হারান তাইওয়ানের এক তরুণ। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
বিমার ১৩ লাখ ডলার পেতে পা বরফে জমিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত, শেষ পর্যন্ত দুই পা-ই হারালেন

বিমার প্রায় ১৩ লাখ ডলার আদায়ের পরিকল্পনায় পা শুষ্ক বরফে ডুবিয়ে গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছিলেন তাইওয়ানের এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী। শেষ পর্যন্ত হাঁটুর নিচ থেকে দুই পা-ই কেটে ফেলতে হয় তাঁর। কিন্তু পরিকল্পনা অনুযায়ী বিমার অর্থ পাওয়া হয়নি। প্রায় ৭ হাজার ২০০ ডলার পেলেও সেই অর্থ জব্দের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এ ঘটনায় জড়িত তাঁর সাবেক স্কুলবন্ধুও কারাদণ্ড পেয়েছেন। তাইওয়ানের আদালতে ২০২৫ সালের জুনে দেওয়া রায়ের তথ্য অনুযায়ী, বন্ধুটির ছয় বছরের কারাদণ্ড বহাল রয়েছে, আর ওই শিক্ষার্থীর দুই বছরের কারাদণ্ড দুই বছরের জন্য স্থগিত করা হয়েছে।   তাইওয়ানের তদন্তকারীদের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে ২৩ বছর বয়সী ঝাং ও তাঁর সাবেক স্কুলবন্ধু লিয়াও বিমার অর্থ পাওয়ার পরিকল্পনা করেন। ঝাং অল্প সময়ের মধ্যে একাধিক বিমা পলিসি করেছিলেন। জীবন, দুর্ঘটনা ও ভ্রমণবিমাসহ বিভিন্ন পলিসির বিপরীতে প্রায় ১৩ লাখ ডলার আদায়ের লক্ষ্য ছিল তাঁদের। তদন্তে বলা হয়, ক্রিপ্টোকারেন্সিতে লোকসানের মুখে পড়া লিয়াও বন্ধুকে এই পরিকল্পনায় রাজি করান। তাঁকে প্রায় ৮ লাখ ডলারের একটি ঋণস্বীকারপত্রে স্বাক্ষর করাতেও প্ররোচিত করেন বলে অভিযোগ ওঠে।   পরিকল্পনা বাস্তবায়নে দুই বন্ধু তাইপেইয়ে মোটরসাইকেলে ঘোরার ঘটনা সাজান, যাতে পরে দাবি করা যায়, রাতে ঠান্ডায় চলার সময় ঝাংয়ের পায়ে তুষারক্ষত হয়েছে। এরপর ঝাংয়ের দুই পা শুষ্ক বরফভর্তি একটি পাত্রে প্রায় ১০ ঘণ্টা ডুবিয়ে রাখা হয়। তদন্তকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, তাঁকে চেয়ারেও বেঁধে রাখা হয়েছিল, যাতে তিনি মাঝপথে পা সরিয়ে নিতে না পারেন। এ সময় লিয়াও ঘটনার ছবি ও ভিডিও ধারণ করেন।   পরে ঝাং হাসপাতালে ভর্তি হলে চিকিৎসকদের সন্দেহ হয়। তাঁর পায়ের ক্ষত ছিল প্রায় একই রকম ও দুই পাশে সমানভাবে বিস্তৃত। পায়ে মোজা বা জুতা পরার স্বাভাবিক চিহ্নও পাওয়া যায়নি। তাইওয়ানের মতো উষ্ণ ও উপক্রান্তীয় জলবায়ুর অঞ্চলে স্বাভাবিক আবহাওয়ার কারণে এত গুরুতর তুষারক্ষত হওয়া অস্বাভাবিক বলেও তদন্তকারীরা উল্লেখ করেন। এসব অসংগতির কারণে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও বিমা প্রতিষ্ঠানগুলোর সন্দেহ বাড়ে এবং ঘটনাটি তদন্তের আওতায় আসে।   চিকিৎসকেরা ঝাংয়ের দুই পা হাঁটুর নিচ থেকে কেটে ফেলতে বাধ্য হন। তাঁর আঘাতের পরিমাণ এতটাই গুরুতর ছিল যে অঙ্গ দুটি আর রক্ষা করা সম্ভব হয়নি। একদিকে স্থায়ী শারীরিক ক্ষতি, অন্যদিকে বিমার অর্থ আদায়ের পরিকল্পনাও ব্যর্থ হয়। পাঁচটি বিমা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে একটি প্রতিষ্ঠান প্রায় ৭ হাজার ২০০ ডলার পরিশোধ করেছিল। তবে বাকি প্রতিষ্ঠানগুলো পলিসি গ্রহণ ও ক্ষতিপূরণ চাওয়ার মধ্যবর্তী সময় খুব কম হওয়ায় এবং ঘটনার বিবরণে অসংগতি থাকায় অর্থ দিতে অস্বীকৃতি জানায়।   মামলাটি আদালতে গড়ালে ঝাং ও লিয়াওয়ের বিরুদ্ধে বিমা জালিয়াতির অভিযোগ ওঠে। ২০২৫ সালের জুনে তাইওয়ানের উচ্চ আদালত লিয়াওয়ের ছয় বছরের কারাদণ্ড বহাল রাখেন। ঝাংয়ের ক্ষেত্রে দুই বছরের কারাদণ্ডের সঙ্গে দুই বছরের স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়। ফলে ঘটনাটি আর কেবল তদন্তাধীন অভিযোগের পর্যায়ে নেই, আদালতের রায়ও হয়েছে। একসময় বড় অঙ্কের বিমার অর্থ পাওয়ার আশায় নেওয়া সিদ্ধান্তের পরিণতিতে ঝাংকে দুই পা হারাতে হয়েছে, আর তাঁর সহযোগীকেও কারাগারে যেতে হয়েছে।   সূত্র: তাইওয়ানের অপরাধ তদন্ত ব্যুরোর তথ্য, টিভিবিএস নিউজ ও ভিএনএক্সপ্রেস।

প্রকাশ : অক্টোবর ১৮, ২০২৬ ২১:৪১
যুক্তরাষ্ট্রের স্কুল বোর্ডের আলোচ্যসূচি পর্যবেক্ষণে এআই ব্যবস্থা চালু করেছে মমস ফর লিবার্টি। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
যুক্তরাষ্ট্রের ১৩ হাজার স্কুল বোর্ডের কার্যক্রম এআই দিয়ে নজরদারি করবে অভিভাবক সংগঠন ‘মমস ফর লিবার্টি’

যুক্তরাষ্ট্রের ১৩ হাজারেরও বেশি স্কুল জেলার শিক্ষা বোর্ডের বৈঠকের আলোচ্যসূচি পর্যবেক্ষণ করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) নতুন ব্যবস্থা চালু করেছে রক্ষণশীল অভিভাবক অধিকার সংগঠন ‘মমস ফর লিবার্টি’। ‘এমফোরএল অ্যাওয়্যার’ (M4L AWARE) নামের এই ব্যবস্থা প্রতি ১২ ঘণ্টা পরপর স্কুল বোর্ডের প্রকাশিত নথি স্ক্যান করবে। বৈচিত্র্য, সমতা ও অন্তর্ভুক্তি নীতি, লিঙ্গবিষয়ক নীতিমালা এবং পাঠ্যক্রম পরিবর্তনের মতো বিষয় শনাক্ত করে স্থানীয় সংগঠনের সদস্যদের সতর্কবার্তা পাঠাবে এটি। সংগঠনটির লক্ষ্য, কোনো প্রস্তাবের ওপর বোর্ডের ভোট হওয়ার আগেই অভিভাবকেরা যেন তা পর্যালোচনা করে নিজেদের মতামত জানাতে পারেন।   গত ৯ অক্টোবর ডালাসে সংগঠনটির জাতীয় সম্মেলনে নতুন এই ব্যবস্থার ঘোষণা দেওয়া হয়। মমস ফর লিবার্টির সহপ্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা টিনা ডেসকোভিচের উদ্যোগে চালু হওয়া ব্যবস্থাটির নামের পূর্ণরূপ ‘অ্যাজেন্ডা ওয়াচ, অ্যালার্ট, রেসপন্স অ্যান্ড এনগেজ’। সংগঠনটির ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘ ও জটিল আলোচ্যসূচির মধ্যে অভিভাবকদের উদ্বেগের কারণ হতে পারে এমন প্রস্তাব খুঁজে বের করাই এর প্রধান কাজ। এরপর গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো সহজ ভাষায় তুলে ধরে স্থানীয় শাখাগুলোকে জানানো হবে, যাতে তারা সংশ্লিষ্ট স্কুল বোর্ডের বৈঠকের আগেই প্রস্তুতি নিতে পারে।   সংগঠনটির মতে, স্কুল বোর্ডের সভায় কী আলোচনা হবে, তা অনেক সময় অভিভাবকেরা যথাসময়ে জানতে পারেন না। দীর্ঘ নথি পড়া এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব খুঁজে বের করা সময়সাপেক্ষ হওয়ায় সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগেই অনেকের পক্ষে মতামত জানানো কঠিন হয়ে পড়ে। নতুন এআই ব্যবস্থাটি এই সময়ের ঘাটতি কমাতে পারে। মমস ফর লিবার্টির প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, কোনো আলোচ্যসূচির গভীরে থাকা বৈচিত্র্য, সমতা ও অন্তর্ভুক্তিবিষয়ক চুক্তি কিংবা লিঙ্গনীতি শনাক্ত হলে সংশ্লিষ্ট অভিভাবকেরা স্কুল বোর্ডের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং জনমত জানানোর প্রস্তুতি নিতে পারবেন।   এআই ব্যবহারের বিষয়টি অবশ্য সংগঠনটির আগের অবস্থানের সঙ্গে আপাতদৃষ্টিতে বৈপরীত্য তৈরি করেছে। শিশুদের শিক্ষা ও বিকাশে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সম্ভাব্য ক্ষতি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে আসা এই সংগঠন এখন স্কুলের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণেই প্রযুক্তিটির সহায়তা নিচ্ছে। তবে সংগঠনটির বক্তব্য, শ্রেণিকক্ষে শিক্ষাদান বা মূল্যায়নের ক্ষেত্রে শিক্ষকদের জায়গা এআইয়ের দখল নেওয়া উচিত নয়। তাদের নতুন ব্যবস্থায় প্রযুক্তি শুধু তথ্য খুঁজে বের করবে, আর কোন প্রস্তাব গ্রহণযোগ্য বা উদ্বেগজনক, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন অভিভাবকেরাই।   মমস ফর লিবার্টির দাবি, নতুন ব্যবস্থাটি আলোচ্যসূচির বিভিন্ন বিষয়কে অভিভাবকদের অধিকার ও সংগঠনটির অগ্রাধিকারের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব অনুযায়ী শ্রেণিবদ্ধ করবে। ফলে কোন প্রস্তাব নিয়ে আগে খোঁজখবর নেওয়া প্রয়োজন, তা দ্রুত বোঝা যাবে। তবে এই শ্রেণিবিন্যাসের মাধ্যমে কোন বিষয়কে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, সেটি নির্ভর করবে ব্যবস্থাটির নির্ধারিত মানদণ্ডের ওপর। যে নীতিকে সংগঠনটি উদ্বেগজনক মনে করে, অন্য অভিভাবক বা শিক্ষকেরা সেটিকে ভিন্নভাবে দেখতে পারেন। তাই এআইয়ের সতর্কবার্তা নিজে থেকে কোনো নীতির যথার্থতা বা ক্ষতিকর হওয়ার প্রমাণ নয়।   এখন পর্যন্ত ব্যবস্থাটি কতটা নির্ভুলভাবে গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব শনাক্ত করতে পারে, সে বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা ফলাফল প্রকাশিত হয়নি। ফলে ভুলভাবে কোনো বিষয়কে অগ্রাধিকার দেওয়া বা গুরুত্বপূর্ণ কোনো প্রস্তাব শনাক্ত করতে ব্যর্থ হওয়ার আশঙ্কা পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। সংগঠনটি অবশ্য বলছে, অভিভাবকেরা সতর্কবার্তার ওপর নির্ভর করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরিবর্তে মূল নথি পড়তে পারবেন এবং প্রয়োজনে স্কুল বোর্ডের প্রতিনিধিদের সঙ্গে যোগাযোগ করবেন।   মমস ফর লিবার্টি যুক্তরাষ্ট্রে অভিভাবকদের শিক্ষা-সংক্রান্ত অধিকার নিয়ে কাজ করা একটি রক্ষণশীল সংগঠন। দেশটির সাবেক ও বর্তমান রাজনৈতিক নেতৃত্বের সঙ্গে সংগঠনটির যোগাযোগ রয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০২৩ ও ২০২৪ সালে তাদের জাতীয় সম্মেলনে বক্তব্য দিয়েছিলেন। নতুন এআই ব্যবস্থা চালুর ফলে স্থানীয় স্কুলগুলোর নীতিমালা নিয়ে অভিভাবকদের সংগঠিত হওয়ার প্রক্রিয়া আরও দ্রুত হতে পারে। একই সঙ্গে কোন বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া হবে, তা নির্ধারণে প্রযুক্তির ভূমিকা বাড়ায় স্থানীয় শিক্ষা-সংক্রান্ত বিতর্ক আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।   সূত্র: নিউজউইক, ফক্স নিউজ ডিজিটাল ও মমস ফর লিবার্টির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা।

প্রকাশ : অক্টোবর ১৮, ২০২৬ ২১:২৭
মাত্র আট বছর বয়সে নিজের স্লাইমের দোকান খুলেছে যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগানের লুনা-বেল মেজা। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
খেলনার শখ থেকে সফল উদ্যোক্তা, মাত্র ৮ বছর বয়সেই যুক্তরাষ্ট্রে নিজস্ব দোকান খুলল লুনা

যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যে মাত্র আট বছর বয়সেই নিজের দোকান খুলেছে লুনা-বেল মেজা। ছোটবেলায় ঘরে আঠালো খেলনা স্লাইম তৈরি করার শখ থেকেই শুরু হয়েছিল তার ব্যবসা। সেই শখ এখন পরিণত হয়েছে স্থায়ী দোকানে। গ্র্যান্ডভিল শহরের রিভারটাউন ক্রসিংস শপিং মলে গত ১৭ অক্টোবর আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করেছে তার স্লাইমের দোকান ‘মুজু স্লাইম শপ’। শুধু নিজের ব্যবসা গড়ে তোলাই নয়, অন্য শিশুদেরও উদ্যোক্তা হওয়ার সুযোগ করে দিতে চায় লুনা।   লুনার স্বপ্ন ছিল ১০ বছর বয়স হওয়ার আগেই নিজের একটি দোকান চালু করা। সেই স্বপ্ন পূরণ হওয়ায় খুশি তার মা সালমা মেজাও। তিনি জানান, ছোটবেলা থেকেই লুনার ব্যবসার প্রতি আগ্রহ ছিল। মাত্র তিন বছর বয়সে সে গোসলের সুগন্ধি বল তৈরির একটি উপকরণ সেট কিনেছিল। তখন থেকেই হাতে তৈরি জিনিস বানানো এবং সেগুলো বিক্রির প্রতি তার আগ্রহ বাড়তে থাকে। পরে স্লাইম তৈরির শখকে ব্যবসায় রূপ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় পরিবার।   স্লাইম হলো আঠালো, নরম ও প্রসারণযোগ্য একধরনের খেলনা, যা নানা রং, ঘ্রাণ ও স্পর্শের বৈশিষ্ট্যে তৈরি করা যায়। ছোটবেলায় ঘরের সোফা ও কম্বলে স্লাইম লেগে যাওয়ায় পরিবারের সদস্যদের বেশ ঝামেলা পোহাতে হতো। লুনার মা একসময় সেই শখকেই ব্যবসায় পরিণত করার উদ্যোগ নেন। পরিবারের সদস্যরা এখন স্লাইম তৈরি, প্যাকেটজাত করা ও বিক্রির কাজে সহযোগিতা করছেন। শুরুতে বিভিন্ন হস্তশিল্পের মেলা ও স্থানীয় অনুষ্ঠানে পণ্য বিক্রি করত লুনা। ধীরে ধীরে তার ব্যবসার পরিচিতি বাড়তে থাকে।   লুনার মা সালমা জানান, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে বিভিন্ন জায়গার মানুষের কাছ থেকে তাঁদের কাছে ফোন আসতে শুরু করে। নিউইয়র্ক, ওয়াশিংটন, ডেট্রয়েট, ইন্ডিয়ানা ও ইলিনয় থেকে অনেকে তাঁদের স্লাইমের দোকানে আসার আগ্রহ প্রকাশ করেন। অথচ তখন তাঁদের স্থায়ী কোনো দোকান ছিল না। তাঁরা বিভিন্ন অনুষ্ঠানে গিয়ে স্লাইম তৈরির ব্যবস্থা করতেন, যেখানে ক্রেতারা নিজের পছন্দমতো স্লাইম তৈরি করতে পারতেন। সেই চাহিদা বাড়তে থাকায় স্থায়ী দোকান খোলার সুযোগ তৈরি হয়।   নতুন দোকানটিতে বিভিন্ন রং, ঘ্রাণ ও স্পর্শের বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন ১৩ ধরনের স্লাইম পাওয়া যাচ্ছে। ক্রেতাদের জন্য রয়েছে নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী স্লাইম তৈরির বিশেষ ব্যবস্থাও। এতে তাঁরা বিভিন্ন উপকরণ বেছে নিয়ে নিজের মতো করে খেলনা তৈরি করতে পারবেন। দোকানটি শুধু পণ্য বিক্রির জায়গা নয়, শিশুদের সৃজনশীলতা ও ব্যবসায়িক দক্ষতা বিকাশের একটি সুযোগ হিসেবেও গড়ে তোলা হচ্ছে।   অন্য শিশুদের পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগও নিয়েছে লুনার পরিবার। দোকানে বিশেষভাবে তৈরি ছোট আকারের একটি স্লাইম বিক্রির পুরো আয় স্থানীয় অলাভজনক সংস্থা ‘দ্য প্লেগ্রাউন্ডজিআর’-কে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি দোকানের সামনে শিশুদের জন্য একটি বাজার আয়োজন করা হবে, যেখানে তারা নিজেদের তৈরি পণ্য বিক্রি করতে পারবে। দোকানের একটি তাকও অন্য শিশু উদ্যোক্তাদের পণ্যের জন্য বরাদ্দ রাখা হবে। এ জন্য তাদের কাছ থেকে কোনো অর্থ নেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন সালমা মেজা।   লুনার এই উদ্যোগে পরিবারের সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। স্লাইম তৈরির উপকরণ প্রস্তুত করা থেকে শুরু করে পণ্য প্যাকেটজাত করা পর্যন্ত পরিবারের সদস্যরা পাশে রয়েছেন। আট বছর বয়সেই নিজের শখকে ব্যবসায় রূপ দিয়ে লুনা যেমন নতুন অভিজ্ঞতা অর্জন করছে, তেমনি অন্য শিশুদেরও নিজেদের উদ্যোগ নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দিতে চাইছে।   সূত্র: ফক্স ১৩ টাম্পা বে, মুজু স্লাইম শপের ওয়েবসাইট।

প্রকাশ : অক্টোবর ১৮, ২০২৬ ২০:৫৬
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় সড়ক দুর্ঘটনায় এক অন্তঃসত্ত্বা নারী ও তাঁর অনাগত সন্তানের মৃত্যু হয়েছে। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধান করছেন তদন্তকারীরা। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
যুক্তরাষ্ট্রে পাঁচ গাড়ির সংঘর্ষে অন্তঃসত্ত্বা নারী ও অনাগত সন্তানের মৃত্যু

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে পাঁচটি যানবাহনের সংঘর্ষে ৩২ বছর বয়সী এক অন্তঃসত্ত্বা নারী ও তাঁর অনাগত সন্তানের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (১৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় ফ্রস্টপ্রুফ শহরের একটি সড়ক intersection-এ দুটি বড় ট্রাকসহ পাঁচটি যানবাহন দুর্ঘটনায় জড়ায়। পোল্ক কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের বরাতে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স ১৩ টাম্পা বে রোববার এ তথ্য জানিয়েছে।   শেরিফের কার্যালয় জানায়, স্থানীয় সময় বিকেল সাড়ে ৫টার কিছু পর ইউএস ২৭ ও ইউএস ৯৮ মহাসড়কের সংযোগস্থলে দুর্ঘটনাটি ঘটে। সে সময় ইউএস ২৭-এর উত্তরমুখী লেনে লাল সংকেতে তিনটি যানবাহন দাঁড়িয়ে ছিল। এর পেছন দিয়ে আসা ট্রেলারবাহী ২০২২ সালের একটি লাল রঙের ইন্টারন্যাশনাল ট্রাক চলন্ত অবস্থায় সামনে থাকা টয়োটা হাইল্যান্ডার গাড়িটির পেছনে সজোরে ধাক্কা দেয়। কেন ট্রাকটির চালক থামতে পারেননি, তা এখনো জানা যায়নি।   ধাক্কায় টয়োটা হাইল্যান্ডারটি সামনে দাঁড়িয়ে থাকা আরেকটি ট্রাকের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায়। এরপর এসইউভিটি সংযোগস্থল অতিক্রম করে উত্তর-পূর্ব কোণে গিয়ে থামে। দুর্ঘটনায় গাড়িটির পেছনের অংশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং পেছনের যাত্রীদের বসার জায়গাও চাপে পড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। গাড়িটির পেছনের আসনে থাকা অ্যাভন পার্কের ৩২ বছর বয়সী অন্তঃসত্ত্বা নারীকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ও তাঁর গর্ভের সন্তান মারা যান বলে জানিয়েছে শেরিফের কার্যালয়।   হাইল্যান্ডারকে ধাক্কা দেওয়ার পর ট্রাকটি সামনে থাকা একটি টয়োটা করোলার পেছনেও আঘাত করে। এতে করোলাটি সামনে দাঁড়িয়ে থাকা একটি হোন্ডা সিভিকের সঙ্গে ধাক্কা খায়। পরে ট্রাকটি উত্তর-পূর্ব দিকে মোড় নিয়ে সংযোগস্থল পার হয়ে প্রায় ৪০০ ফুট খোলা মাঠের মধ্য দিয়ে যায়। এরপর একটি ছোট সড়কে উঠে বেড়ায় ধাক্কা দেয় এবং সামনের অংশ অগভীর খাদে পড়ে থেমে যায়।   দুর্ঘটনায় জড়িত পাঁচটি যানবাহনের আরোহীদের সবার সিটবেল্ট বাঁধা ছিল বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছেন তদন্তকারীরা। দুর্ঘটনায় সবচেয়ে গুরুতর আহতদের একজন ছিলেন টয়োটা করোলার চালক, অ্যাভন পার্কের ৩৭ বছর বয়সী এক নারী। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। অন্যদিকে, ট্রাকটির ৫৩ বছর বয়সী চালক মিশিগানের বাসিন্দা। তিনি গুরুতর আহত হননি। তাঁকে স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়ার পর ছেড়ে দেওয়া হয়।   দুর্ঘটনায় আহত অন্য ব্যক্তিদের কেউ হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন, আবার কাউকে চিকিৎসা শেষে ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তাঁদের সবার সুস্থ হয়ে ওঠার আশা করা হচ্ছে। দুর্ঘটনার তদন্ত, ক্ষতিগ্রস্ত যানবাহন সরানো এবং সড়ক পরিষ্কারের জন্য ইউএস ২৭ মহাসড়ক প্রায় ছয় ঘণ্টা বন্ধ রাখা হয়।   এ ঘটনায় নিহত নারী, তাঁর অনাগত সন্তান এবং ট্রাকচালকের পরিচয় আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেনি শেরিফের কার্যালয়। ট্রাকচালক কেন সামনে থাকা যানবাহনগুলোর জন্য থামেননি, তা নির্ধারণে তদন্ত চলছে। দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।   সূত্র: পোল্ক কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়, ফক্স ১৩ টাম্পা বে।

প্রকাশ : অক্টোবর ১৮, ২০২৬ ২০:৩৯
যুক্তরাষ্ট্রে কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার ব্যয়
যুক্তরাষ্ট্রে কলেজের আর্থিক সহায়তার আবেদন আগেভাগেই শুরু, শিক্ষার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ

যুক্তরাষ্ট্রে কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার ব্যয় অনেক পরিবারের জন্য বড় চিন্তার বিষয়। টিউশন ফি, বইপত্র, আবাসন, যাতায়াত ও দৈনন্দিন জীবনযাত্রার খরচ মেটাতে গিয়ে অনেক শিক্ষার্থীকে পড়াশোনার পাশাপাশি কাজ করতে হয়। এ পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের আর্থিক সহায়তার সুযোগ সম্পর্কে জানাতে নতুন শিক্ষাবর্ষের আবেদন চালু করেছে যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষা বিভাগ।   ২০২৬ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর শিক্ষা বিভাগ জানায়, ২০২৭–২০২৮ শিক্ষাবর্ষের জন্য ফেডারেল শিক্ষাসহায়তার আবেদনপত্র সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে। এই আবেদনপত্রের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়ার খরচ মেটাতে বিভিন্ন ধরনের সরকারি আর্থিক সহায়তার জন্য আবেদন করতে পারেন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, টানা দ্বিতীয় বছরের মতো আবেদনপত্রটি নির্ধারিত সময়ের আগেই চালু করা হয়েছে।   এই আবেদনের মাধ্যমে যোগ্য শিক্ষার্থীরা অনুদান, শিক্ষাঋণ এবং পড়াশোনার পাশাপাশি কাজের সুযোগভিত্তিক সহায়তার জন্য বিবেচিত হতে পারেন। অনুদানের অর্থ সাধারণত নির্ধারিত শর্ত পূরণ করলে ফেরত দিতে হয় না। অন্যদিকে, শিক্ষাঋণ গ্রহণ করলে ঋণের শর্ত অনুযায়ী তা পরিশোধ করতে হয়। পড়াশোনার পাশাপাশি কাজের সুযোগভিত্তিক সহায়তা পেতে হলে সংশ্লিষ্ট কর্মসূচির নিয়ম অনুসরণ করতে হয়। আবেদন করলেই প্রত্যেক শিক্ষার্থী অর্থ পাবেন, এমন নিশ্চয়তা নেই।   যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত পরিবারগুলোর জন্যও এই খবর গুরুত্বপূর্ণ। যেসব পরিবারের সন্তান উচ্চমাধ্যমিক শেষ করে কলেজে ভর্তি হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে, তাদের উচিত আগেভাগে আর্থিক সহায়তার নিয়ম জেনে নেওয়া। ইতোমধ্যে কলেজে পড়ছেন—এমন শিক্ষার্থীরাও পরবর্তী শিক্ষাবর্ষের জন্য আবেদন করার প্রয়োজন আছে কি না, তা যাচাই করতে পারেন।   আবেদন করার জন্য শিক্ষার্থীকে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের সরকারি শিক্ষাসহায়তা ওয়েবসাইটে প্রবেশ করতে হবে। সেখানে নিজের হিসাব তৈরি করে সঠিক শিক্ষাবর্ষের আবেদনপত্র নির্বাচন করতে হবে। ২০২৭ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৮ সালের ৩০ জুনের মধ্যে শুরু হওয়া শিক্ষার জন্য ২০২৭–২০২৮ শিক্ষাবর্ষের আবেদনপত্র প্রযোজ্য।   আবেদনপত্র পূরণের সময় শিক্ষার্থীর পরিচয়, পরিবারের আর্থিক অবস্থা এবং করসংক্রান্ত তথ্য প্রয়োজন হতে পারে। নির্ভরশীল শিক্ষার্থীর ক্ষেত্রে অভিভাবকের তথ্যও জমা দিতে হতে পারে। কোন তথ্য প্রয়োজন হবে, তা শিক্ষার্থীর ব্যক্তিগত পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে। ২০২৭–২০২৮ শিক্ষাবর্ষের আবেদনে সাধারণত ২০২৫ সালের করসংক্রান্ত তথ্য চাওয়া হয়। তাই আবেদন শুরুর আগে প্রয়োজনীয় তথ্য প্রস্তুত রাখা ভালো।   আবেদনপত্র পূরণ করতে কোনো ফি লাগে না। সরকারি ওয়েবসাইটের বাইরে কোনো প্রতিষ্ঠান আবেদন জমা দেওয়ার জন্য টাকা চাইলে সতর্ক থাকতে হবে। সরকারি ওয়েবসাইটের ঠিকানা হলো ফেডারেল শিক্ষাসহায়তা ডট গভ—এখান থেকেই আবেদন ও নির্দেশনা পাওয়া যাবে।   আবেদন জমা দেওয়ার পর অনেক ক্ষেত্রে দ্রুত ফলাফল দেখা যায়। কিছু আবেদন প্রক্রিয়াকরণে এক থেকে তিন দিন পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। এরপর শিক্ষার্থী তাঁর আবেদনের সারসংক্ষেপে সম্ভাব্য সহায়তার তথ্য দেখতে পারবেন। তবে এটি চূড়ান্ত অর্থ অনুমোদনের নিশ্চয়তা নয়। কলেজে ভর্তি এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের যাচাই শেষে প্রকৃত সহায়তার প্রস্তাব দেওয়া হতে পারে।   ফেডারেল পর্যায়ে আবেদন জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ২০২৮ সালের ৩০ জুন। তবে অঙ্গরাজ্য, কলেজ ও অন্যান্য শিক্ষাসহায়তা কর্মসূচির সময়সীমা এর আগেই শেষ হতে পারে। কিছু সহায়তা সীমিত অর্থের কারণে আগে আবেদনকারীদের মধ্যে বিতরণ করা হয়। তাই শেষ তারিখ পর্যন্ত অপেক্ষা না করে যত দ্রুত সম্ভব আবেদন করা এবং নিজের অঙ্গরাজ্য ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নির্দিষ্ট সময়সীমা যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ।

প্রকাশ : অক্টোবর ১৮, ২০২৬ ২০:৩
সরকারি সহায়তা হারানোর শঙ্কায় ক্যালিফোর্নিয়ার ১,৪০০ পরিবার
ঘর পুড়েছে দাবানলের আগুনে, এবার সরকারি সহায়তা হারানোর শঙ্কায় ক্যালিফোর্নিয়ার ১,৪০০ পরিবার

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় ২০২৫ সালের ভয়াবহ দাবানলে ঘরবাড়ি হারানো প্রায় ১,৪০০ পরিবার নতুন সংকটের মুখে পড়েছে। অঙ্গরাজ্য সরকার ও ফেডারেল জরুরি ব্যবস্থাপনা সংস্থা—ফেমার—মধ্যে অর্থায়ন নিয়ে অচলাবস্থার কারণে এসব পরিবারের দুর্যোগ-পরবর্তী সহায়তাকারী ব্যবস্থাপকদের সেবা অক্টোবরের শেষ নাগাদ বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ১৬ অক্টোবর প্রকাশিত অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।   এই সহায়তা কর্মসূচির আওতায় প্রশিক্ষিত দুর্যোগ-পরবর্তী ব্যবস্থাপকরা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে বীমার দাবি নিষ্পত্তি, আর্থিক সহায়তার আবেদন, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পূরণ, অস্থায়ী আবাসনের ব্যবস্থা এবং ঘর পুনর্নির্মাণের প্রক্রিয়ায় সহায়তা করেন। অনেক পরিবারের জন্য এই সহায়তা শুধু প্রশাসনিক কাজ সহজ করার বিষয় নয়; বরং দীর্ঘ অনিশ্চয়তার মধ্যে ঘুরে দাঁড়ানোর অন্যতম ভরসা।   এর একটি উদাহরণ ৭৮ বছর বয়সী অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষিকা মেরি ল্যান্ডাউ। ক্যালিফোর্নিয়ার আলটাডেনায় প্রায় ৫০ বছর ধরে বসবাস করা তাঁর বাড়িটি ইটন দাবানলে ধ্বংস হয়ে যায়। বাড়ি পুনর্নির্মাণের জন্য বীমার অর্থ, ঋণ এবং আর্থিক সহায়তা নিয়ে নানা জটিলতায় পড়েন তিনি। তাঁর দুর্যোগ-পরবর্তী ব্যবস্থাপক ভেদা অ্যাশবি রোমেরো বীমার কাগজপত্র পূরণ ও সহায়তার আবেদন করতে তাঁকে সাহায্য করেন। ওই সহায়তায় ল্যান্ডাউ এক বছরের বন্ধকী ঋণের কিস্তি পরিশোধের জন্য অনুদানও পেয়েছিলেন বলে এপি জানিয়েছে।   কিন্তু এখন ল্যান্ডাউয়ের মতো প্রায় ১,৪০০ পরিবারের জন্য এই সহায়তা হারানোর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রায় ৭০০ পরিবার এখনো কর্মসূচির সহায়তা পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। কর্মসূচি বন্ধ হলে অপেক্ষমাণ পরিবারগুলোর পাশাপাশি যাঁরা ইতিমধ্যে সহায়তা পাচ্ছেন, তাঁদেরও বিকল্প সেবা খুঁজতে হতে পারে।   অর্থায়ন নিয়ে বিরোধের সূত্রপাত দাবানলের পর থেকেই। ২০২৫ সালের জানুয়ারির ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর ক্যালিফোর্নিয়া দুর্যোগ-পরবর্তী ব্যবস্থাপনার জন্য ২ কোটি ৮০ লাখ ডলার চেয়েছিল। কিন্তু ফেমা ২৪ মাসের জন্য ১ কোটি ৩২ লাখ ডলার অনুমোদন করে, যা চার কিস্তিতে দেওয়ার কথা ছিল।   ক্যালিফোর্নিয়ার সামাজিক সেবা বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, আগস্ট পর্যন্ত ফেমা চার কিস্তির মধ্যে মাত্র একটি পরিশোধ করেছিল। ফলে বাকি অর্থের অপেক্ষায় অঙ্গরাজ্য সরকারকে নিজস্ব তহবিল থেকে ব্যয় চালিয়ে যেতে হয়। পরে বকেয়া অর্থ ফেরত দেওয়া হলেও অতিরিক্ত অর্থের বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসেনি বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।    চাহিদা বেশি থাকায় কর্মসূচিটি পুরো ২৪ মাস চালু রাখতে ক্যালিফোর্নিয়া অতিরিক্ত ৬৫ লাখ ডলারও চেয়েছিল। কিন্তু সেই অনুরোধের বিষয়ে ফেমার কাছ থেকে সময়মতো সিদ্ধান্ত না পাওয়ায় অঙ্গরাজ্য সরকার কর্মসূচিটি চালিয়ে যাওয়ার আর্থিক সক্ষমতা নিয়ে সমস্যায় পড়ে। ফলে অক্টোবরের শেষে সেবা বন্ধ করার পরিকল্পনা সামনে আসে।   কর্মসূচি পরিচালনাকারী অলাভজনক সংস্থাগুলো ইতিমধ্যে বিকল্প ব্যবস্থা খুঁজতে শুরু করেছে। যেসব পরিবারের পরিস্থিতি তুলনামূলক কম জটিল, তাদের কিছু মামলা বন্ধ করা হচ্ছে; অন্যদের বিকল্প সংস্থায় স্থানান্তরের চেষ্টা চলছে। তবে সব পরিবারকে সহায়তা দেওয়ার মতো অর্থ ও জনবল নেই বলে সংশ্লিষ্ট কর্মীরা জানিয়েছেন।   এ কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত শতাধিক ব্যবস্থাপকের চাকরিও এই সংকট এমন এক সময়ে তৈরি হয়েছে, যখন লস অ্যাঞ্জেলেস এলাকার দাবানলে ধ্বংস হওয়া বাড়িঘর ও অন্যান্য স্থাপনা পুনর্নির্মাণের কাজ এখনো অনেক ক্ষেত্রে অসম্পূর্ণ। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্যালিসেডস ও ইটন দাবানলে ১৬ হাজারের বেশি স্থাপনা ধ্বংস হয়েছিল। অনেক পরিবার বীমার অর্থ পেতে দেরি, পুনর্নির্মাণের উচ্চ ব্যয়, ঠিকাদারের সংকট এবং উপযুক্ত আবাসনের অভাবে এখনো স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেনি।   ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউজমের প্রশাসন দীর্ঘমেয়াদি পুনরুদ্ধারের জন্য ফেডারেল সরকারের কাছে অতিরিক্ত অর্থ চেয়েছে। এপি জানায়, অঙ্গরাজ্য প্রায় ১৫৭০ কোটি ডলারের অতিরিক্ত সহায়তার অনুরোধ জানিয়েছে। তবে হোয়াইট হাউস ও অঙ্গরাজ্য সরকারের মধ্যে দাবানল মোকাবিলা এবং পুনরুদ্ধারের দায়িত্ব নিয়ে রাজনৈতিক মতবিরোধ রয়েছে। ফেডারেল সরকারের পক্ষ থেকে এর আগে দেওয়া সহায়তার কথা তুলে ধরা হলেও নতুন অতিরিক্ত অর্থের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসেনি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   দুর্যোগ-পরবর্তী ব্যবস্থাপকদের কাজ বন্ধ হয়ে গেলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে বীমা কোম্পানি, সরকারি দপ্তর ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে নিজেরাই জটিল প্রক্রিয়া সামলাতে হতে পারে। বিশেষ করে বয়স্ক মানুষ, সীমিত আয়সম্পন্ন পরিবার এবং অনলাইন আবেদন বা আইনি কাগজপত্র বুঝতে সমস্যায় পড়েন—এমন ব্যক্তিদের জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

প্রকাশ : অক্টোবর ১৮, ২০২৬ ১৯:৪৬
ইউক্রেনকে আবার গোয়েন্দা তথ্য দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র
রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ঠেকাতে ইউক্রেনকে আবার গোয়েন্দা তথ্য দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্র আবারও ইউক্রেনকে রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শনাক্ত ও প্রতিরোধে সহায়তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ গোয়েন্দা তথ্য দেওয়া শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। এর আগে দুই দেশের মধ্যে গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদানে সাময়িক বিরতি তৈরি হয়েছিল। পরে সেই বাধা দূর হয়েছে বলে জানান তিনি।    জেলেনস্কির বক্তব্য অনুযায়ী, রাশিয়ার দ্রুতগতির ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করতে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা তথ্য ইউক্রেনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এসব তথ্যের সাহায্যে সম্ভাব্য হামলার বিষয়ে আগাম সতর্কতা পাওয়া এবং প্রতিরক্ষার প্রস্তুতি নেওয়া সহজ হয়।   ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট বলেন, গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান আবার চালু হওয়ায় তাঁরা কৃতজ্ঞ। রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মুখে ইউক্রেনের শহর ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো রক্ষায় এ ধরনের সহায়তা বিশেষ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে এই সহায়তা পুনরায় চালু হওয়ার ফলে হামলা পুরোপুরি ঠেকানো যাবে—এমন নিশ্চয়তা নেই।    মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এর আগে বলেছিলেন, ওয়াশিংটন ইউক্রেনকে গোয়েন্দা তথ্য দেওয়া অব্যাহত রেখেছে। তবে ইউক্রেনের কর্মকর্তারা কিছু রুশ হামলার বিষয়ে আগাম সতর্কতা না পাওয়ার কথা জানিয়েছিলেন। জেলেনস্কির সর্বশেষ বক্তব্যে সাময়িক বিরতির পর তথ্য আদান-প্রদান আবার চালুর বিষয়টি সামনে এসেছে।   রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধের ভবিষ্যৎ, ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা এবং যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়ে এ ঘটনা নতুন করে আন্তর্জাতিক মনোযোগ তৈরি করেছে। তবে যুদ্ধ বন্ধে কোনো নতুন চুক্তি হয়েছে—এমন তথ্য এই প্রতিবেদনে উদ্ধৃত সূত্রগুলোতে নেই।

প্রকাশ : অক্টোবর ১৮, ২০২৬ ১৯:২৭
মুহূর্তেই মাথায় ভেঙে পড়ল বিশাল ক্রুশ
লাইভে প্রার্থনা করছিলেন পুরোহিত, মুহূর্তেই মাথায় ভেঙে পড়ল বিশাল ক্রুশ!

দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ইকুয়েডরে গির্জায় সরাসরি সম্প্রচারিত প্রার্থনাসভা পরিচালনার সময় দেয়ালে লাগানো বিশাল কাঠের ক্রুশের আঘাতে এক ক্যাথলিক পুরোহিতের মৃত্যু হয়েছে। গত ১৭ অক্টোবর রাতে দেশটির গুয়ায়াকিল শহরের আওয়ার লেডি অব পারপেচুয়াল হেল্প গির্জায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।   নিহত পুরোহিতের নাম ফাদার পাত্রিসিও আলফ্রেদো সানচেজ মোলিনারি। তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি গুয়ায়াকিলের আর্চডায়োসিস নিশ্চিত করেছে। ঘটনার ভিডিওতে দেখা যায়, পুরোহিত বেদির সামনে দাঁড়িয়ে প্রার্থনা পরিচালনা করছিলেন। এ সময় তাঁর পেছনের দেয়ালে স্থাপন করা ভারী কাঠের ক্রুশটি হঠাৎ খুলে তাঁর মাথার ওপর পড়ে। ক্রুশের আঘাতে তিনি মেঝেতে লুটিয়ে পড়েন। ঘটনাটি গির্জার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচারিত হচ্ছিল। ফলে দুর্ঘটনার দৃশ্যটি সম্প্রচারের মধ্যেই ধরা পড়ে।    ক্রুশটি পড়ে যাওয়ার পর গির্জায় উপস্থিত লোকজন আতঙ্কিত হয়ে চিৎকার করতে থাকেন। ভিডিওতে কয়েকজনকে দ্রুত পুরোহিতের কাছে ছুটে যেতে এবং অ্যাম্বুলেন্স ডাকার জন্য বলতে শোনা যায়। পরে তাঁর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়। তবে তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান, নাকি চিকিৎসার পর তাঁর মৃত্যু হয়—প্রাথমিক প্রতিবেদনগুলোতে এ বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।    ফাদার সানচেজ মোলিনারি কংগ্রিগেশন অব দ্য মোস্ট হোলি রিডিমার নামের একটি ক্যাথলিক ধর্মীয় সংগঠনের সদস্য ছিলেন। সংগঠনটি ধর্মীয় প্রচার ও মানবসেবামূলক কাজের সঙ্গে যুক্ত। তাঁর মৃত্যুতে গুয়ায়াকিলের আর্চডায়োসিস শোক প্রকাশ করেছে এবং তাঁর পরিবার, ধর্মীয় সহকর্মী ও সংশ্লিষ্ট সম্প্রদায়ের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে।   এখন পর্যন্ত ক্রুশটি কেন দেয়াল থেকে খুলে পড়েছিল, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। স্থাপনার দুর্বলতা, সংযোগব্যবস্থার ত্রুটি কিংবা অন্য কোনো কারণে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে কি না, সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষের কোনো নিশ্চিত ব্যাখ্যা প্রকাশিত হয়নি। স্থানীয় কর্তৃপক্ষও ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত বক্তব্য দেয়নি। 

প্রকাশ : অক্টোবর ১৮, ২০২৬ ১৯:১৫
আইসিইর হাতে আটক
আইসিইর হাতে ভুলভাবে আটক হলে ৫ লাখ ডলার, প্রতিদিন অতিরিক্ত ১ লাখ ক্ষতিপূরণের প্রস্তাব

যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন কর্মকর্তাদের হাতে বিনা পরোয়ানায় বা যথেষ্ট আইনি ভিত্তি ছাড়া আটক হওয়া মার্কিন নাগরিকদের জন্য ক্ষতিপূরণ চাওয়ার সুযোগ তৈরি করতে নতুন একটি বিল উত্থাপন করা হয়েছে। ‘জাস্টিস ফর সিটিজেনস রংফুলি ডিটেইনড বাই আইসিই অ্যাক্ট’ নামের বিলটি ১৫ অক্টোবর ২০২৬ প্রতিনিধি পরিষদে উত্থাপন করেন নিউ মেক্সিকোর ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি তেরেসা লেগার ফার্নান্দেজ। এতে সহ-উদ্যোক্তা হিসেবে রয়েছেন নিউ জার্সির প্রতিনিধি বনি ওয়াটসন কোলম্যান।    বিলটির মূল লক্ষ্য হলো—যুক্তরাষ্ট্রের কোনো নাগরিককে অভিবাসন কর্মকর্তা বা অভিবাসন আইন প্রয়োগকারী অন্য কোনো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য বিনা পরোয়ানায় এবং যথাযথ আইনি ভিত্তি ছাড়া গ্রেপ্তার বা আটক করলে, সেই নাগরিক যেন আদালতে ক্ষতিপূরণ দাবি করার জন্য নির্দিষ্ট আইনি পথ পান। তবে এটি এখনো প্রস্তাবিত আইন; বিলটি উত্থাপিত হওয়ার পর প্রতিনিধি পরিষদের বিচারবিষয়ক কমিটিতে পাঠানো হয়েছে। তাই এটিকে ইতোমধ্যে কার্যকর আইন হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।    বিলের সবচেয়ে আলোচিত দিক হলো ক্ষতিপূরণের নির্দিষ্ট অঙ্ক। প্রস্তাব অনুযায়ী, আদালতে কোনো নাগরিকের দাবি প্রমাণিত হলে তাঁকে ৫ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। আটকের প্রথম দিনের পর প্রতিটি অতিরিক্ত দিনের জন্য আরও ১ লাখ ডলার দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে। এর পাশাপাশি যুক্তিসংগত আইনজীবীর ফি ও আদালতের খরচ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী আদালতের নির্দেশনামূলক বা ঘোষণামূলক প্রতিকার পাওয়ার সুযোগ থাকবে।   উদাহরণ হিসেবে, কেউ যদি প্রথম দিনের পর আরও পাঁচ দিন আটক থাকেন, তাহলে প্রস্তাবিত হিসাব অনুযায়ী ক্ষতিপূরণের অঙ্ক হবে ১০ লাখ ডলার—আইনটি কার্যকর হওয়া এবং আদালতে দাবি প্রমাণিত হওয়ার শর্তে।    প্রস্তাবিত আইনটি ২০ জানুয়ারি ২০২৫ বা তার পরের সময়ের ঘটনাগুলোর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য করার কথা বলা হয়েছে। অর্থাৎ, আইনটি পাস হলে নির্ধারিত শর্ত পূরণকারী নাগরিকেরা অতীতের কিছু আটক-ঘটনার জন্যও মামলা করার সুযোগ পেতে পারেন। মামলা দায়েরের জন্য পাঁচ বছরের সময়সীমা রাখা হয়েছে। বিলটিতে আরও বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এ ধরনের মামলায় ‘কোয়ালিফায়েড ইমিউনিটি’ বা ‘অ্যাবসলিউট ইমিউনিটি’কে দায় এড়ানোর প্রতিরক্ষা হিসেবে ব্যবহার করতে পারবেন না। একই সঙ্গে এসব মামলার ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় সরকার তার সার্বভৌম দায়মুক্তির সুরক্ষা ত্যাগ করবে।    বিলটির পটভূমিতে রয়েছে অভিবাসন অভিযানের সময় মার্কিন নাগরিকদের ভুলভাবে আটক করার অভিযোগ। প্রতিনিধি তেরেসা লেগার ফার্নান্দেজের কার্যালয়ের প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, প্রোপাবলিকার একটি অনুসন্ধানে দ্বিতীয় ট্রাম্প প্রশাসনের শুরুর পর থেকে অভিবাসন কর্মকর্তাদের হাতে ৫০৬ জন মার্কিন নাগরিক আটক হওয়ার তথ্য নথিভুক্ত করা হয়েছে।   ওই তালিকায় শিশু এবং অভিবাসন অভিযান ভিডিও করার সময় আটক হওয়া ব্যক্তিদের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। এই সংখ্যাটি সংশ্লিষ্ট অনুসন্ধানের প্রতিবেদন থেকে নেওয়া; এটি কোনো আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে অবৈধ আটক প্রমাণিত ব্যক্তির সংখ্যা নয়।    বিলটি শুধু ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা তৈরির প্রস্তাবেই সীমাবদ্ধ নয়। এতে একটি নির্দিষ্ট অভিবাসন-সংক্রান্ত তহবিলের যেসব অর্থ এখনো বরাদ্দ বা ব্যয়ের জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়নি, সেগুলো স্থায়ীভাবে বাতিল করার বিধানও রয়েছে। ফলে প্রস্তাবটি একদিকে নাগরিকদের আইনি প্রতিকার দেওয়ার বিষয়টি সামনে আনছে, অন্যদিকে অভিবাসন প্রয়োগে ব্যবহৃত অর্থের বিষয়েও পরিবর্তনের প্রস্তাব করছে।

প্রকাশ : অক্টোবর ১৮, ২০২৬ ১৮:৫৭
সেল্ফ-ড্রাইভিং প্রযুক্তির ওপর ভরসা করে ঘুমিয়ে পড়েছিলেন এক চালক।
টেসলার সেল্ফ-ড্রাইভিংয়ের ভরসায় ঘুম, পুলিশের গাড়ির সঙ্গে সংঘর্ষে ঘুম ভাঙল চালকের!

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় টেসলার সেল্ফ-ড্রাইভিং প্রযুক্তির ওপর ভরসা করে ঘুমিয়ে পড়েছিলেন এক চালক। শেষ পর্যন্ত তাঁর গাড়ির সঙ্গে পুলিশের গাড়ির সংঘর্ষ হয়। এতে দুই পুলিশ কর্মকর্তা গুরুতর আহত হন। গত ১৩ অক্টোবর রাতে ফেয়ারফিল্ড এলাকার কাছে ইন্টারস্টেট ৮০ মহাসড়কে এ ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার ভিডিও প্রকাশের পর চালকের অসতর্কতা এবং গাড়ির চালনা-সহায়ক প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।   ক্যালিফোর্নিয়া হাইওয়ে প্যাট্রোলের কর্মকর্তারা তখন মহাসড়কে এর আগে ঘটে যাওয়া আরেকটি প্রাণঘাতী দুর্ঘটনার তদন্ত করছিলেন। এ কারণে সড়কের কয়েকটি লেন বন্ধ রাখা হয়েছিল। ঘটনাস্থলে পুলিশের গাড়ির জরুরি বাতি জ্বলছিল এবং যানবাহনকে সতর্ক করতে ট্রাফিক কোন বসানো ছিল। এমন পরিস্থিতিতে টেসলাটি বন্ধ লেনের দিকে এগিয়ে এসে পুলিশের গাড়িতে ধাক্কা দেয়।   সিবিএস স্যাক্রামেন্টো ও এবিসি৭ সান ফ্রান্সিসকোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, টেসলার চালক ২২ বছর বয়সী স্যাক্রামেন্টোর বাসিন্দা। দুর্ঘটনার পর তিনি পুলিশকে জানান, গাড়ি চালানোর সময় তিনি ঘুমিয়ে পড়েছিলেন। গাড়ির চালনা-সহায়ক প্রযুক্তির ওপর নির্ভর করার বিষয়টিও তাঁর বক্তব্যের সঙ্গে উঠে এসেছে। তবে দুর্ঘটনার ঠিক মুহূর্তে গাড়িটির সেল্ফ-ড্রাইভিং ব্যবস্থা সক্রিয় ছিল কি না, সে বিষয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোতে পুরোপুরি একরকম তথ্য পাওয়া যায়নি।   সংঘর্ষে পুলিশের গাড়িতে থাকা দুই কর্মকর্তা গুরুতর আহত হন। তাঁদের হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং পরে ছেড়ে দেওয়া হয়। দুর্ঘটনার ভিডিও প্রকাশ করে ক্যালিফোর্নিয়া হাইওয়ে প্যাট্রোল চালকদের সতর্ক করেছে। তবে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে প্রযুক্তিকেই দুর্ঘটনার একমাত্র কারণ বলা যাচ্ছে না। দুর্ঘটনার পরিস্থিতি ও চালকের ভূমিকা বিবেচনা করেই বিষয়টি মূল্যায়ন করা জরুরি।   টেসলার ‘ফুল সেল্ফ-ড্রাইভিং’ নামের প্রযুক্তি নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, নামের মধ্যে ‘ফুল সেল্ফ-ড্রাইভিং’ থাকলেও এটি চালকবিহীন গাড়ি চালানোর নিশ্চয়তা দেয় না। চালককে রাস্তার পরিস্থিতির দিকে নজর রাখতে হয় এবং যেকোনো সময় গাড়ির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকতে হয়। অর্থাৎ, চালনা-সহায়ক প্রযুক্তি ব্যবহার করলেও চালকের দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না।   মহাসড়কে আগের দুর্ঘটনার পর পুলিশ যখন তদন্ত ও যান চলাচল নিয়ন্ত্রণে ব্যস্ত, তখন একই স্থানে আরেকটি সংঘর্ষের ঘটনা নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।    বিশেষজ্ঞদের দীর্ঘদিনের সতর্কবার্তাও এখানে প্রাসঙ্গিক: গাড়িতে উন্নত প্রযুক্তি থাকলেও চালকের মনোযোগের বিকল্প নেই। সেল্ফ-ড্রাইভিংয়ের ওপর ভরসা করে ঘুমিয়ে পড়া যে কতটা বিপজ্জনক হতে পারে, ক্যালিফোর্নিয়ার এই দুর্ঘটনা তারই একটি উদাহরণ।

প্রকাশ : অক্টোবর ১৮, ২০২৬ ১৮:৪১
নিউইয়র্কের ম্যানহাটনে আবাসিক কলেজ
মাদক দেওয়ার পর ধর্ষণের অভিযোগ, নিউইয়র্কে কলেজছাত্রীর মৃত্যু ঘিরে চাঞ্চল্য

নিউইয়র্কের ম্যানহাটনে একটি কলেজের আবাসিক হলে মাদক দেওয়ার পর এক ছাত্রীকে ধর্ষণ এবং তাঁর মৃত্যুর ঘটনায় দুই তরুণের বিরুদ্ধে ফেডারেল অভিযোগ আনা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় কৌঁসুলিদের অভিযোগ, কোকেন বলে ফেন্টানিল নামের অত্যন্ত শক্তিশালী মাদক দেওয়ায় দুই তরুণী অচেতন হয়ে পড়েন। তাঁদের একজন পরে মারা যান, অন্যজন প্রাণে বেঁচে যান। ঘটনাটি ঘটে ২০২৬ সালের ১৮ মার্চ; নতুন অভিযোগপত্র প্রকাশ করা হয় ১৫ অক্টোবর।    সরকারি অভিযোগ অনুযায়ী, ব্রঙ্কস এলাকার ১৯ বছর বয়সী মোইসেস ফ্রেইরে এবং কুইন্স এলাকার ১৮ বছর বয়সী ব্রায়ান পেরাল্টা কাব্রেরার বিরুদ্ধে মাদক বিতরণের ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছে। ফ্রেইরের বিরুদ্ধে অচেতন ছাত্রীকে ধর্ষণ এবং ধর্ষণের উদ্দেশ্যে মাদক সরবরাহের অতিরিক্ত অভিযোগও রয়েছে। দুজনের বিরুদ্ধেই অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি।    কৌঁসুলিদের ভাষ্য অনুযায়ী, ফ্রেইরে ওই দুই ছাত্রীর আবাসিক কক্ষে মাদক নিয়ে যান এবং সেটিকে কোকেন বলে পরিচয় করিয়ে দেন। তাঁদের অভিযোগ, বাস্তবে সেটি ছিল ফেন্টানিল। পদার্থটি গ্রহণ করার পর দুই তরুণী দ্রুত অচেতন হয়ে পড়েন। পরে পরীক্ষায় তাঁদের শরীরে ফেন্টানিল পাওয়া যায়; কোকেন পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।    অভিযোগে বলা হয়েছে, দুই তরুণী অচেতন হয়ে পড়ার পর ফ্রেইরে তাঁদের একজনের ওপর যৌন নির্যাতন চালান। ওই তরুণী আর জ্ঞান ফিরে পাননি এবং ২১ মার্চ তীব্র ফেন্টানিল বিষক্রিয়াজনিত জটিলতায় মারা যান। অন্য তরুণীকে জরুরি চিকিৎসা দেওয়ার পর বাঁচানো সম্ভব হয়।    আরও গুরুতর অভিযোগ হলো, কৌঁসুলিদের দাবি অনুযায়ী, ফ্রেইরে জরুরি সহায়তা চাইতে প্রায় ৪৫ মিনিট অপেক্ষা করেন। এই সময় তিনি অচেতন দুই তরুণীর ছবি অন্যদের কাছে পাঠান বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে তিনি ক্যাম্পাসের নিরাপত্তাকর্মীদের কাছে গিয়ে প্রথমে জানান, তরুণীরা অতিরিক্ত মদ্যপান করেছিলেন। নিরাপত্তাকর্মীরা তাঁদের জরুরি চিকিৎসা দেন এবং হাসপাতালে পাঠান।    এই ঘটনায় তৃতীয় ব্যক্তি হ্যারি রোসালেস পিনোর নামও মামলায় এসেছে। মাদক বিতরণের ষড়যন্ত্রের সঙ্গে সম্পর্কিত অভিযোগে তিনি সেপ্টেম্বরে দোষ স্বীকার করেছেন বলে মার্কিন বিচার বিভাগের বিবৃতিতে জানানো হয়েছে। তাঁর সাজা নির্ধারণের প্রক্রিয়া আলাদা।    মার্কিন বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, মাদক বিতরণের ষড়যন্ত্রের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হলে ফ্রেইরে ও কাব্রেরার ন্যূনতম ২০ বছরের কারাদণ্ড থেকে সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হতে পারে। ফ্রেইরের বিরুদ্ধে আনা ধর্ষণের উদ্দেশ্যে মাদক বিতরণের অভিযোগে সর্বোচ্চ আরও ২০ বছরের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। তবে নতুন অভিযোগগুলোর বিষয়ে তাঁদের আদালতে জবাব দেওয়ার প্রক্রিয়া তখনো সম্পন্ন হয়নি।    ঘটনাটি কলেজের আবাসিক হলে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা এবং অজানা উৎসের মাদক গ্রহণের ভয়াবহ ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে। ফেন্টানিল অত্যন্ত শক্তিশালী ওপিওয়েড; অল্প পরিমাণেও প্রাণঘাতী বিষক্রিয়া ঘটাতে পারে। এই মামলায় কর্তৃপক্ষের মূল অভিযোগ, মাদকটিকে অন্য পদার্থ বলে উপস্থাপন করা হয়েছিল, যার পরিণতিতে একজন তরুণীর মৃত্যু হয় এবং আরেকজন গুরুতর বিপদে পড়েন।

প্রকাশ : অক্টোবর ১৮, ২০২৬ ১৮:৩০
যুদ্ধের আগুনে পুড়ছে ইয়েমেন
যুদ্ধের আগুনে পুড়ছে ইয়েমেন, এক হামলাতেই প্রাণ গেল ৫ শিশুসহ ৯ জনের

ইয়েমেনের উত্তরাঞ্চলের সা'দা প্রদেশে ভয়াবহ বিমান হামলায় অন্তত নয়জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে পাঁচ শিশু ও দুই নারী রয়েছেন। এ ঘটনায় আরও ১৯ জন আহত হয়েছেন, যাঁদের মধ্যে ১১ শিশু রয়েছে। আহতদের কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর বলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   রোববার, ১৮ অক্টোবর প্রকাশিত বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়, সা'দা প্রদেশের সাহার জেলার একটি বাড়িতে হামলাটি চালানো হয়। হামলার পর উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া ব্যক্তিদের খোঁজে তল্লাশি চালান।   হুথি পরিচালিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এ হামলার জন্য সৌদি আরবকে দায়ী করেছে। তবে সৌদি সরকারের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে হামলার দায় ও পরিস্থিতি সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য আলাদাভাবে বিবেচনা করা জরুরি।   ইয়েমেনে দীর্ঘদিন ধরে চলা সংঘাত নতুন করে তীব্র হওয়ার প্রেক্ষাপটে এই প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। দেশটির বিভিন্ন এলাকায় সশস্ত্র গোষ্ঠী এবং সৌদি সমর্থিত বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষ বাড়ছে। এতে সাধারণ মানুষের জীবন, ঘরবাড়ি ও নিরাপত্তা ক্রমেই ঝুঁকির মুখে পড়ছে।   যুদ্ধের সবচেয়ে বড় মূল্য দিতে হচ্ছে শিশু, নারী এবং বেসামরিক মানুষকে। বাড়িঘরে হামলা হলে পরিবারের সদস্যদের প্রাণহানির পাশাপাশি অনেকে আহত হন, বাস্তুচ্যুত হন এবং চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়েন। সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে খাদ্য, পানি ও জরুরি চিকিৎসার সংকটও আরও গভীর হতে পারে।   বেসামরিক মানুষের সুরক্ষা নিশ্চিত করা আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নীতি। সংঘাতের সব পক্ষেরই বেসামরিক জনগণ ও তাঁদের বসতবাড়ি রক্ষার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। হামলার পরিস্থিতি ও দায় নির্ধারণে নিরপেক্ষ তদন্ত এবং নির্ভরযোগ্য তথ্য প্রকাশ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।   ইয়েমেনের সাম্প্রতিক এই প্রাণহানি আবারও মনে করিয়ে দিয়েছে, চলমান সংঘাতে সবচেয়ে অসহায় অবস্থায় রয়েছেন সাধারণ মানুষ। সংঘাত বন্ধে কার্যকর উদ্যোগ, মানবিক সহায়তা পৌঁছানো এবং বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন অত্যন্ত জরুরি।

প্রকাশ : অক্টোবর ১৮, ২০২৬ ১৮:১২
জেনিন কাজমি
সাবেক সঙ্গীর ধাক্কায় পক্ষাঘাতগ্রস্ত নারী, ভয়াবহ নির্যাতনের ঘটনায় ১৪ বছরের কারাদণ্ড

স্কটল্যান্ডের গ্লাসগোতে সাবেক সঙ্গীর হাতে ভয়াবহ নির্যাতনের শিকার হয়ে পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে পড়েন জেনিন কাজমি। তাঁর জীবনের এই মর্মান্তিক ঘটনা পারিবারিক সহিংসতা, নারীর নিরাপত্তা এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার গুরুত্ব নতুন করে সামনে এনেছে।   আদালতের নথি অনুযায়ী, ২০২১ সালের ১ জানুয়ারি ভোরে গ্লাসগোর ডালমারনক এলাকায় সাবেক সঙ্গী ব্যারি শ্যাঙ্কলির বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। সম্পর্কের অবনতি এবং ব্যক্তিগত বিরোধের মধ্যে জেনিনের সঙ্গে শ্যাঙ্কলির সংঘাত তৈরি হয়। একপর্যায়ে শ্যাঙ্কলি তাঁকে ধাক্কা দিলে তিনি সিঁড়ির রেলিং টপকে নিচে পড়ে যান। এতে তাঁর মেরুদণ্ডে গুরুতর আঘাত লাগে। চিকিৎসার পর জেনিন জানতে পারেন, এই আঘাতের কারণে তিনি আর স্বাভাবিকভাবে হাঁটতে পারবেন না। তাঁকে হুইলচেয়ারের সাহায্যে চলাফেরা করতে হয়। আকস্মিক এই বিপর্যয় তাঁর দৈনন্দিন জীবন, ব্যক্তিগত স্বাধীনতা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় গভীর পরিবর্তন নিয়ে আসে।   তদন্ত ও বিচারিক কার্যক্রমে উঠে আসে, জেনিনের প্রতি নির্যাতন শুধু ওই দিনের ঘটনায় সীমাবদ্ধ ছিল না। আদালতের বিবরণ অনুযায়ী, ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২১ সালের মে পর্যন্ত শ্যাঙ্কলি তাঁর প্রতি ধারাবাহিক নিয়ন্ত্রণমূলক ও সহিংস আচরণ করেছিলেন। জেনিনের ফোন ব্যবহার, অন্যদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং ব্যক্তিগত স্বাধীনতার ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টার বিষয়টিও আদালতে উঠে আসে।   তদন্ত ও বিচারিক কার্যক্রমে উঠে আসে, জেনিনের প্রতি নির্যাতন শুধু ওই দিনের ঘটনায় সীমাবদ্ধ ছিল না। আদালতের বিবরণ অনুযায়ী, ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২১ সালের মে পর্যন্ত শ্যাঙ্কলি তাঁর প্রতি ধারাবাহিক নিয়ন্ত্রণমূলক ও সহিংস আচরণ করেছিলেন। জেনিনের ফোন ব্যবহার, অন্যদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং ব্যক্তিগত স্বাধীনতার ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টার বিষয়টিও আদালতে উঠে আসে।   ২০২০ সালের জানুয়ারিতে পর্তুগালের লিসবনে ভ্রমণের সময়ও তাঁদের মধ্যে সহিংসতার ঘটনা ঘটে। আদালতের নথিতে জেনিনকে ধাক্কা দেওয়া, তাঁর ফোন ভেঙে ফেলা এবং তাঁকে আঘাত করার মতো অভিযোগের বিবরণ রয়েছে। পরবর্তী সময়েও তাঁদের মধ্যে নির্যাতনমূলক আচরণ অব্যাহত ছিল বলে বিচারিক কার্যক্রমে উঠে আসে।   হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় জেনিনের সাময়িক স্মৃতিভ্রংশ হয়েছিল। আদালতের বিবরণ অনুযায়ী, শ্যাঙ্কলি তাঁকে ঘটনাটিকে দুর্ঘটনা হিসেবে বিশ্বাস করানোর চেষ্টা করেন। পরে স্মৃতি ফিরে আসার পর জেনিন পুলিশের কাছে অভিযোগ জানান। তাঁর বক্তব্য ও অন্যান্য প্রমাণের ভিত্তিতে বিষয়টি তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে এগিয়ে যায়।   ২০২৪ সালের ২৮ জুন গ্লাসগোর উচ্চ আদালতের বিচারকমণ্ডলী শ্যাঙ্কলিকে সাবেক সঙ্গীর প্রতি ধারাবাহিক নির্যাতনমূলক আচরণসহ সংশ্লিষ্ট অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করেন। একই বছরের ২৫ জুলাই বিচারক তাঁকে ১৪ বছরের বর্ধিত সাজা দেন। এর মধ্যে ১৩ বছরের কারাদণ্ড এবং পরবর্তী এক বছরের বর্ধিত মেয়াদ অন্তর্ভুক্ত ছিল। জেনিনের সঙ্গে যোগাযোগ করা বা তাঁর কাছে যাওয়ার ওপরও অনির্দিষ্টকালের নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।   জেনিনের ঘটনা দেখিয়ে দিয়েছে, পারিবারিক সহিংসতা শুধু শারীরিক আঘাতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। ভয় দেখানো, সামাজিক যোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ, পরিবার ও বন্ধুদের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা এবং মানসিক চাপও নির্যাতনের অংশ হতে পারে।   নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নির্যাতনের প্রাথমিক লক্ষণ শনাক্ত করা, ভুক্তভোগীর অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া, দ্রুত তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় আইনি ও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।   জেনিন কাজমির জীবনের এই ঘটনা তাই শুধু একজন নারীর ব্যক্তিগত দুর্ভোগের কাহিনি নয়; এটি সহিংস সম্পর্ক থেকে সুরক্ষা, অপরাধের বিচার এবং নির্যাতিত ব্যক্তির দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসনের প্রয়োজনীয়তাও তুলে ধরে।

প্রকাশ : অক্টোবর ১৮, ২০২৬ ১৭:৪২
দেশজুড়ে সমন্বিত উদ্যোগ ঘোষণা করেছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন
করদাতাদের অর্থ রক্ষায় ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন অভিযান, দেশজুড়ে জোট গড়লেন ভ্যান্স

যুক্তরাষ্ট্রে সরকারি অর্থের অপচয়, জালিয়াতি ও অনিয়ম ঠেকাতে দেশজুড়ে সমন্বিত উদ্যোগ ঘোষণা করেছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। ১৬ অক্টোবর হোয়াইট হাউসের প্রকাশিত তথ্যে জানানো হয়, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের নেতৃত্বে বিভিন্ন সরকারি সংস্থা, অঙ্গরাজ্যের কর্মকর্তা এবং আইন প্রয়োগকারী প্রতিষ্ঠানকে এই উদ্যোগে যুক্ত করার চেষ্টা চলছে।   হোয়াইট হাউসের তথ্য অনুযায়ী, সরকারি সহায়তা কর্মসূচিতে জালিয়াতি শনাক্ত করা, অর্থ ছাড়ের আগেই সন্দেহজনক লেনদেন প্রতিরোধ করা এবং করদাতাদের অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য।   ভ্যান্স হোয়াইট হাউসের জালিয়াতি নির্মূলবিষয়ক টাস্কফোর্সের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তিনি বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের জালিয়াতি প্রতিরোধের অঙ্গীকারে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। শ্রম, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, কৃষি, আবাসন এবং ক্ষুদ্র ব্যবসাসহ বিভিন্ন খাতের সরকারি কর্মকর্তারা এতে সমর্থন জানিয়েছেন বলে হোয়াইট হাউস জানিয়েছে।   সরকারি সহায়তার অর্থ অপব্যবহার হলে প্রকৃত যোগ্য ব্যক্তিরা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন। তাই জালিয়াতি প্রতিরোধের কার্যকর ব্যবস্থা চালু হলে করদাতাদের অর্থ রক্ষা এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা সঠিক ব্যক্তিদের কাছে পৌঁছাতে সুবিধা হতে পারে।   তবে উদ্যোগ ঘোষণার অর্থ এই নয় যে সব ধরনের জালিয়াতি ইতিমধ্যে বন্ধ হয়েছে কিংবা ঘোষিত সাশ্রয়ের সব অর্থ উদ্ধার করা হয়েছে। কর্মসূচিটির বাস্তব ফলাফল মূল্যায়নে তদন্ত, অর্থ পুনরুদ্ধার এবং ভবিষ্যতে জালিয়াতি কমার পরিমাপযোগ্য তথ্য গুরুত্বপূর্ণ হবে।

প্রকাশ : অক্টোবর ১৮, ২০২৬ ১৭:১৮