সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

Today latest news

20 News
জেনিন কাজমি
সাবেক সঙ্গীর ধাক্কায় পক্ষাঘাতগ্রস্ত নারী, ভয়াবহ নির্যাতনের ঘটনায় ১৪ বছরের কারাদণ্ড

স্কটল্যান্ডের গ্লাসগোতে সাবেক সঙ্গীর হাতে ভয়াবহ নির্যাতনের শিকার হয়ে পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে পড়েন জেনিন কাজমি। তাঁর জীবনের এই মর্মান্তিক ঘটনা পারিবারিক সহিংসতা, নারীর নিরাপত্তা এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার গুরুত্ব নতুন করে সামনে এনেছে।   আদালতের নথি অনুযায়ী, ২০২১ সালের ১ জানুয়ারি ভোরে গ্লাসগোর ডালমারনক এলাকায় সাবেক সঙ্গী ব্যারি শ্যাঙ্কলির বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। সম্পর্কের অবনতি এবং ব্যক্তিগত বিরোধের মধ্যে জেনিনের সঙ্গে শ্যাঙ্কলির সংঘাত তৈরি হয়। একপর্যায়ে শ্যাঙ্কলি তাঁকে ধাক্কা দিলে তিনি সিঁড়ির রেলিং টপকে নিচে পড়ে যান। এতে তাঁর মেরুদণ্ডে গুরুতর আঘাত লাগে। চিকিৎসার পর জেনিন জানতে পারেন, এই আঘাতের কারণে তিনি আর স্বাভাবিকভাবে হাঁটতে পারবেন না। তাঁকে হুইলচেয়ারের সাহায্যে চলাফেরা করতে হয়। আকস্মিক এই বিপর্যয় তাঁর দৈনন্দিন জীবন, ব্যক্তিগত স্বাধীনতা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় গভীর পরিবর্তন নিয়ে আসে।   তদন্ত ও বিচারিক কার্যক্রমে উঠে আসে, জেনিনের প্রতি নির্যাতন শুধু ওই দিনের ঘটনায় সীমাবদ্ধ ছিল না। আদালতের বিবরণ অনুযায়ী, ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২১ সালের মে পর্যন্ত শ্যাঙ্কলি তাঁর প্রতি ধারাবাহিক নিয়ন্ত্রণমূলক ও সহিংস আচরণ করেছিলেন। জেনিনের ফোন ব্যবহার, অন্যদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং ব্যক্তিগত স্বাধীনতার ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টার বিষয়টিও আদালতে উঠে আসে।   তদন্ত ও বিচারিক কার্যক্রমে উঠে আসে, জেনিনের প্রতি নির্যাতন শুধু ওই দিনের ঘটনায় সীমাবদ্ধ ছিল না। আদালতের বিবরণ অনুযায়ী, ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২১ সালের মে পর্যন্ত শ্যাঙ্কলি তাঁর প্রতি ধারাবাহিক নিয়ন্ত্রণমূলক ও সহিংস আচরণ করেছিলেন। জেনিনের ফোন ব্যবহার, অন্যদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং ব্যক্তিগত স্বাধীনতার ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টার বিষয়টিও আদালতে উঠে আসে।   ২০২০ সালের জানুয়ারিতে পর্তুগালের লিসবনে ভ্রমণের সময়ও তাঁদের মধ্যে সহিংসতার ঘটনা ঘটে। আদালতের নথিতে জেনিনকে ধাক্কা দেওয়া, তাঁর ফোন ভেঙে ফেলা এবং তাঁকে আঘাত করার মতো অভিযোগের বিবরণ রয়েছে। পরবর্তী সময়েও তাঁদের মধ্যে নির্যাতনমূলক আচরণ অব্যাহত ছিল বলে বিচারিক কার্যক্রমে উঠে আসে।   হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় জেনিনের সাময়িক স্মৃতিভ্রংশ হয়েছিল। আদালতের বিবরণ অনুযায়ী, শ্যাঙ্কলি তাঁকে ঘটনাটিকে দুর্ঘটনা হিসেবে বিশ্বাস করানোর চেষ্টা করেন। পরে স্মৃতি ফিরে আসার পর জেনিন পুলিশের কাছে অভিযোগ জানান। তাঁর বক্তব্য ও অন্যান্য প্রমাণের ভিত্তিতে বিষয়টি তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে এগিয়ে যায়।   ২০২৪ সালের ২৮ জুন গ্লাসগোর উচ্চ আদালতের বিচারকমণ্ডলী শ্যাঙ্কলিকে সাবেক সঙ্গীর প্রতি ধারাবাহিক নির্যাতনমূলক আচরণসহ সংশ্লিষ্ট অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করেন। একই বছরের ২৫ জুলাই বিচারক তাঁকে ১৪ বছরের বর্ধিত সাজা দেন। এর মধ্যে ১৩ বছরের কারাদণ্ড এবং পরবর্তী এক বছরের বর্ধিত মেয়াদ অন্তর্ভুক্ত ছিল। জেনিনের সঙ্গে যোগাযোগ করা বা তাঁর কাছে যাওয়ার ওপরও অনির্দিষ্টকালের নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।   জেনিনের ঘটনা দেখিয়ে দিয়েছে, পারিবারিক সহিংসতা শুধু শারীরিক আঘাতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। ভয় দেখানো, সামাজিক যোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ, পরিবার ও বন্ধুদের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা এবং মানসিক চাপও নির্যাতনের অংশ হতে পারে।   নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নির্যাতনের প্রাথমিক লক্ষণ শনাক্ত করা, ভুক্তভোগীর অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া, দ্রুত তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় আইনি ও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।   জেনিন কাজমির জীবনের এই ঘটনা তাই শুধু একজন নারীর ব্যক্তিগত দুর্ভোগের কাহিনি নয়; এটি সহিংস সম্পর্ক থেকে সুরক্ষা, অপরাধের বিচার এবং নির্যাতিত ব্যক্তির দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসনের প্রয়োজনীয়তাও তুলে ধরে।

প্রকাশ : অক্টোবর ১৮, ২০২৬ ১৭:৪২
দেশজুড়ে সমন্বিত উদ্যোগ ঘোষণা করেছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন
করদাতাদের অর্থ রক্ষায় ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন অভিযান, দেশজুড়ে জোট গড়লেন ভ্যান্স

যুক্তরাষ্ট্রে সরকারি অর্থের অপচয়, জালিয়াতি ও অনিয়ম ঠেকাতে দেশজুড়ে সমন্বিত উদ্যোগ ঘোষণা করেছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। ১৬ অক্টোবর হোয়াইট হাউসের প্রকাশিত তথ্যে জানানো হয়, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের নেতৃত্বে বিভিন্ন সরকারি সংস্থা, অঙ্গরাজ্যের কর্মকর্তা এবং আইন প্রয়োগকারী প্রতিষ্ঠানকে এই উদ্যোগে যুক্ত করার চেষ্টা চলছে।   হোয়াইট হাউসের তথ্য অনুযায়ী, সরকারি সহায়তা কর্মসূচিতে জালিয়াতি শনাক্ত করা, অর্থ ছাড়ের আগেই সন্দেহজনক লেনদেন প্রতিরোধ করা এবং করদাতাদের অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য।   ভ্যান্স হোয়াইট হাউসের জালিয়াতি নির্মূলবিষয়ক টাস্কফোর্সের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তিনি বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের জালিয়াতি প্রতিরোধের অঙ্গীকারে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। শ্রম, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, কৃষি, আবাসন এবং ক্ষুদ্র ব্যবসাসহ বিভিন্ন খাতের সরকারি কর্মকর্তারা এতে সমর্থন জানিয়েছেন বলে হোয়াইট হাউস জানিয়েছে।   সরকারি সহায়তার অর্থ অপব্যবহার হলে প্রকৃত যোগ্য ব্যক্তিরা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন। তাই জালিয়াতি প্রতিরোধের কার্যকর ব্যবস্থা চালু হলে করদাতাদের অর্থ রক্ষা এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা সঠিক ব্যক্তিদের কাছে পৌঁছাতে সুবিধা হতে পারে।   তবে উদ্যোগ ঘোষণার অর্থ এই নয় যে সব ধরনের জালিয়াতি ইতিমধ্যে বন্ধ হয়েছে কিংবা ঘোষিত সাশ্রয়ের সব অর্থ উদ্ধার করা হয়েছে। কর্মসূচিটির বাস্তব ফলাফল মূল্যায়নে তদন্ত, অর্থ পুনরুদ্ধার এবং ভবিষ্যতে জালিয়াতি কমার পরিমাপযোগ্য তথ্য গুরুত্বপূর্ণ হবে।

প্রকাশ : অক্টোবর ১৮, ২০২৬ ১৭:১৮
স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়নে ২৩ লাখ ডলারের বেশি ফেডারেল তহবিল বরাদ্দের ঘোষণা দিয়েছে।
গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবায় লাখ লাখ ডলার, মায়েদের চিকিৎসায় নতুন উদ্যোগ ট্রাম্প প্রশাসনের

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন মিসৌরি অঙ্গরাজ্যের গ্রামীণ এলাকায় স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়নে ২৩ লাখ ডলারের বেশি ফেডারেল তহবিল বরাদ্দের ঘোষণা দিয়েছে। ১৩ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রের মেডিকেয়ার ও মেডিকেইড সার্ভিসেস কেন্দ্র এ তথ্য প্রকাশ করে।   এই অর্থের মধ্যে ১৪ লাখ ৬০ হাজার ডলার ব্যয় করা হবে গ্রামীণ স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য সাশ্রয়ী শিশু পরিচর্যা সুবিধা সম্প্রসারণে। এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবা পেশায় নিয়োজিত কর্মীদের সন্তানদের দেখাশোনার খরচ সামলাতে সহায়তা করা হবে। এতে স্বাস্থ্যকর্মীদের চাকরিতে থাকা ও নতুন কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে সহায়ক পরিবেশ তৈরির লক্ষ্য রয়েছে।   এ ছাড়া ৮ লাখ ৭৯ হাজার ডলার ব্যয় করা হবে মিসৌরিতে সনদপ্রাপ্ত ধাত্রী প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালুর প্রাথমিক কাজে। বিশেষ করে যেসব গ্রামীণ এলাকায় গর্ভবতী নারী ও মায়েদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা পাওয়া কঠিন, সেখানে প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্যকর্মীর সংখ্যা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্যসেবা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য গ্রামীণ এলাকায় চিকিৎসাকর্মীর সংকট কমানো এবং মায়েদের জন্য প্রয়োজনীয় সেবা আরও সহজলভ্য করা। তবে বরাদ্দ ঘোষণা করা মানেই সব সুবিধা ইতিমধ্যে চালু হয়ে গেছে, এমন নয়।

প্রকাশ : অক্টোবর ১৮, ২০২৬ ১৭:২
বৈধ অভিবাসী, শরণার্থী ও মানবপাচারের শিকার ব্যক্তি স্বাস্থ্যবিমার সুবিধা হারিয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসীদের স্বাস্থ্যবিমা হারানোর ঝুঁকি, নতুন নীতিতে চাপে বহু পরিবার

যুক্তরাষ্ট্রে নতুন মেডিকেইড নীতির কারণে কিছু বৈধ অভিবাসী, শরণার্থী ও মানবপাচারের শিকার ব্যক্তি স্বাস্থ্যবিমার সুবিধা হারিয়েছেন। ফলে যেসব পরিবার ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যবিমার খরচ বহন করতে পারে না, তাদের চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।    নতুন নিয়মটি ১ অক্টোবর ২০২৬ থেকে কার্যকর হয়েছে। এপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, নীতির পরিবর্তনে কয়েক লাখ বৈধ অভিবাসীর স্বাস্থ্যবিমা সুবিধা বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব বিশেষ করে এমন পরিবারগুলোর ওপর পড়তে পারে, যাদের নিয়মিত ওষুধ, চিকিৎসকের পরামর্শ কিংবা দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার প্রয়োজন রয়েছে।   মেডিকেইড যুক্তরাষ্ট্রের একটি সরকারি স্বাস্থ্যবিমা কর্মসূচি, যা যোগ্য নিম্ন আয়ের মানুষসহ নির্দিষ্ট কিছু জনগোষ্ঠীকে চিকিৎসার খরচ বহনে সহায়তা করে। নতুন বিধিনিষেধের ফলে আগে সুবিধা পাওয়া কিছু অভিবাসী এখন আর একইভাবে এই কর্মসূচির আওতায় থাকছেন না।   অভিবাসীদের অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলো সতর্ক করেছে, স্বাস্থ্যবিমা হারালে অনেক পরিবার চিকিৎসা নিতে দেরি করতে পারে অথবা জরুরি বিভাগের ওপর বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়তে পারে। অন্যদিকে, ট্রাম্প প্রশাসন পরিবর্তনগুলোকে সরকারি ব্যয় ও সুবিধা পাওয়ার যোগ্যতা নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ হিসেবে দেখছে।   তবে সব অভিবাসীর স্বাস্থ্যবিমা বন্ধ হয়ে গেছে—এমন নয়। কারা সুবিধা পাবেন, তা তাঁদের অভিবাসন-সংক্রান্ত অবস্থান, যোগ্যতা এবং প্রযোজ্য নিয়মের ওপর নির্ভর করে। তাই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিজ নিজ অঙ্গরাজ্যের মেডিকেইড দপ্তর থেকে বর্তমান যোগ্যতা যাচাই করা জরুরি।

প্রকাশ : অক্টোবর ১৮, ২০২৬ ১৬:৪০
ওরেগন অঙ্গরাজ্যের বেন্ড শহরে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গুলির ঘটনায় তিন শিশু ও এক শিক্ষিকার মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে
একটি গুলির ঘটনা, চারটি প্রাণহানি, আহত শিশুর পাশে হাজারো মানুষের ভালোবাসা

যুক্তরাষ্ট্রের ওরেগন অঙ্গরাজ্যের বেন্ড শহরে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গুলির ঘটনায় তিন শিশু ও এক শিক্ষিকার মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে পুরো এলাকায়। গত ১৫ অক্টোবর সিলভার রেল এলিমেন্টারি স্কুলে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। আহত হয়েছে আরও এক শিশু এবং এক শিক্ষিকা। ঘটনার পর স্বজনদের কান্না, সহপাঠীদের আতঙ্ক এবং নিহতদের স্মরণে মানুষের জমায়েত পুরো সম্প্রদায়কে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে।    নিহতদের মধ্যে পাঁচ, আট ও এগারো বছর বয়সী তিন শিশু রয়েছে। নিহত শিক্ষিকা মেগান ল্যামবার্টের বয়স ছিল ২৫ বছর। তাঁর পরিবার জানিয়েছে, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের সঙ্গে কাজ করা ছিল তাঁর স্বপ্নের পেশা। তিনি শিক্ষার্থীদের প্রতি যত্নশীল ছিলেন এবং যেসব শিশু বাড়তি সহায়তা চাইত, তাদের পাশে দাঁড়াতেন। তাঁর মৃত্যুতে সহকর্মী, শিক্ষার্থী ও পরিচিতজনেরা শোক প্রকাশ করেছেন।    সাত বছর বয়সী সেলর গ্রাহাম এই ঘটনায় আহত হয়েছে। শিশুটি আগে থেকেই বিরল জিনগত সমস্যার কারণে শারীরিক নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। সে সাধারণত হুইলচেয়ার ব্যবহার করে এবং কথা বলার পরিবর্তে চোখ ও যোগাযোগের বিশেষ প্রযুক্তির মাধ্যমে নিজের ভাব প্রকাশ করতে পারে। চিকিৎসার জন্য তাকে পোর্টল্যান্ডে নেওয়া হয়েছে বলে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস জানিয়েছে।   সেলর শিশুদের সহায়তায় কাজ করা স্প্যারো ক্লাবসের সঙ্গে যুক্ত ছিল। সংগঠনটির নির্বাহী পরিচালক ম্যাট স্যাম্পসন শিশুটির প্রাণবন্ত স্বভাব ও অন্যদের অনুপ্রাণিত করার ক্ষমতার কথা তুলে ধরেছেন। এই কঠিন সময়ে তার পরিবারের পাশে দাঁড়াতে অনুদান সংগ্রহ করা হয়েছে। ১৭ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদনে অনুদানের পরিমাণ প্রায় চার লাখ ডলারে পৌঁছানোর কথা জানানো হয়।   পুলিশ জানিয়েছে, ১৬ বছর বয়সী এক সাবেক শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ের বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের শ্রেণিকক্ষে গুলি চালায়। এক শিক্ষক তাকে থামানোর চেষ্টা করেন। পরে বিদ্যালয়ে পড়ুয়া দুই শিশুর বাবা কাইলুব জিয়ামাঙ্কো হস্তক্ষেপ করেন। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, তাঁর পদক্ষেপ হামলা থামাতে এবং আরও প্রাণহানি ঠেকাতে সহায়তা করে।   তবে এই সাহসী পদক্ষেপের মধ্যেও চারটি পরিবারের অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। নিহতদের স্মরণে বিদ্যালয়ের বাইরে ফুল, বেলুন ও অন্যান্য স্মারক রেখে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। অনেকে একে অপরকে সান্ত্বনা দিয়েছেন।   এই ঘটনার পর আহতদের চিকিৎসা, নিহতদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানো এবং শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ সামনে এসেছে। তদন্তকারীরা হামলার উদ্দেশ্য খতিয়ে দেখছেন। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ হলেও স্বজন হারানোর শূন্যতা পূরণ করা সম্ভব নয়। বেন্ড শহরের মানুষের কাছে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ—এই শোক কাটিয়ে ওঠা এবং শিশুদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ ফিরিয়ে আনা।

প্রকাশ : অক্টোবর ১৮, ২০২৬ ১৬:৭
ক্রেতাদের জন্য আবাসন এখনো ব্যয়বহুল।
যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ির দাম রেকর্ডে, সাধারণ মানুষের জন্য বাড়ি কেনা কঠিন

যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কেনার বাজারে কিছুটা গতি ফিরলেও সাধারণ ক্রেতাদের জন্য আবাসন এখনো ব্যয়বহুল। বাড়ি বিক্রির সংখ্যা সামান্য বাড়লেও উচ্চ মূল্য এবং গৃহঋণের সুদের কারণে অনেক পরিবার নিজেদের সামর্থ্যের মধ্যে বাড়ি খুঁজে পেতে সমস্যায় পড়ছে।   রয়টার্সের ১৩ অক্টোবর ২০২৬ প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে আগে থেকে মালিকানাধীন বাড়ির বিক্রি আগের মাসের তুলনায় ১ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে বার্ষিক হিসাবে ৩৯ লাখ ৯০ হাজার ইউনিটে পৌঁছায়। তবে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় বিক্রি ২ দশমিক ২ শতাংশ কম ছিল।   ন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব রিয়েলটরসের তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরে আগে থেকে মালিকানাধীন বাড়ির মধ্যম বিক্রয়মূল্য দাঁড়ায় ৪ লাখ ১৭ হাজার ৫০০ ডলার। সেপ্টেম্বর মাসের হিসাবে এটি ছিল রেকর্ড উচ্চতা। একই সময়ে ৩০ বছরের গৃহঋণের গড় সুদের হার প্রায় ৭ দশমিক ৪ শতাংশে ছিল, যা বাড়ি কেনার মাসিক কিস্তি বাড়িয়ে দেয়।   বাজারে বাড়ির সরবরাহ কিছুটা বাড়ার ইঙ্গিতও পাওয়া গেছে। সেপ্টেম্বরে বিক্রির জন্য থাকা বাড়ির সংখ্যা বেড়ে প্রায় ১৬ লাখে পৌঁছায়, যা ২০১৯ সালের নভেম্বরের পর সর্বোচ্চ। তবে সরবরাহ বাড়লেই যে বাড়ি সবার নাগালের মধ্যে চলে আসবে, তা নয়। বাড়ির দাম এবং ঋণের সুদ বেশি থাকলে মধ্যম ও নিম্ন আয়ের ক্রেতাদের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ জোগাড় করা কঠিন হতে পারে।   যাঁরা এখনই বাড়ি কিনতে পারছেন না, তাঁরা স্থানীয় আবাসন সহায়তা কর্মসূচি, প্রথমবার বাড়ি ক্রেতাদের জন্য সম্ভাব্য সহায়তা এবং সরকারি আবাসন সংস্থার তথ্য যাচাই করতে পারেন। সহায়তার যোগ্যতা অঙ্গরাজ্য, শহর ও পারিবারিক আয়ের ভিত্তিতে ভিন্ন হতে পারে।   আবাসন বাজারের পরবর্তী গতিপথ নির্ভর করবে বাড়ির সরবরাহ, মূল্য এবং গৃহঋণের সুদের হারের ওপর। তাই বিক্রি বাড়ার খবর থাকলেও বাড়ি কেনা সাশ্রয়ী হয়ে গেছে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ এখনো নেই।

প্রকাশ : অক্টোবর ১৮, ২০২৬ ১৫:৪৬
বেকারভাতার আবেদনকারী
বেকারভাতার আবেদন কম, তবু যুক্তরাষ্ট্রে চাকরি পাওয়া কঠিন হচ্ছে?

যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে মিশ্র পরিস্থিতি দেখা যাচ্ছে। নতুন করে বেকারভাতার আবেদনকারীর সংখ্যা কম থাকলেও সাম্প্রতিক মাসে চাকরি সৃষ্টির গতি প্রত্যাশার তুলনায় দুর্বল হয়েছে। ফলে চাকরিপ্রার্থী, কর্মজীবী পরিবার এবং নতুন কাজ খুঁজছেন এমন মানুষের জন্য শ্রমবাজারের পরিস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।   অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের ১৬ অক্টোবর ২০২৬ প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, ১০ অক্টোবর শেষ হওয়া সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রে প্রাথমিক বেকারভাতার আবেদন বেড়ে ১ লাখ ৯৯ হাজারে দাঁড়ায়। আগের সপ্তাহের তুলনায় বৃদ্ধি ছিল মাত্র ১ হাজার। চার সপ্তাহের গড় আবেদন ছিল ১ লাখ ৯৮ হাজার ৫০০।   এই পরিসংখ্যান থেকে বোঝা যায়, সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাপক হারে কর্মী ছাঁটাইয়ের চাপ তুলনামূলক কম রয়েছে। তবে কম বেকারভাতার আবেদনকে চাকরির বাজার পুরোপুরি শক্তিশালী হওয়ার প্রমাণ হিসেবে দেখা যাবে না। কারণ, নতুন কর্মী নিয়োগের গতি কমে গেলে চাকরি হারানো মানুষের জন্য বিকল্প কাজ খুঁজে পাওয়া কঠিন হতে পারে।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়োগকর্তারা প্রায় ২৯ হাজার নতুন চাকরি যোগ করেন। আগস্টে এই সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৩৩ হাজার। একই সময়ে বেকারত্বের হার বেড়ে ৪ দশমিক ২ শতাংশে পৌঁছায়।   চাকরি খুঁজছেন এমন ব্যক্তিদের জন্য এখন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি নিয়মিত দেখা, জীবনবৃত্তান্ত হালনাগাদ রাখা এবং দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ কাজে লাগানো গুরুত্বপূর্ণ। সরকারি চাকরি ও প্রশিক্ষণের সুযোগ খুঁজতে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি কর্মসংস্থান ওয়েবসাইট এবং অঙ্গরাজ্যভিত্তিক কর্মসংস্থান কেন্দ্র ব্যবহার করা যেতে পারে।   যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত অভিবাসী ও বাংলাদেশি কমিউনিটির সদস্যদেরও কাজের আবেদন করার আগে চাকরির যোগ্যতা, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং কর্ম-অনুমতির শর্ত যাচাই করা উচিত। কোনো নিয়োগকর্তা চাকরি দেওয়ার নিশ্চয়তা দিয়ে আগাম অর্থ চাইলে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।   শ্রমবাজারের পরবর্তী চিত্র নির্ভর করবে নতুন নিয়োগ, কর্মী ছাঁটাই এবং অর্থনৈতিক পরিস্থিতির ওপর। তাই শুধু বেকারভাতার আবেদন নয়, নতুন চাকরি সৃষ্টির তথ্যও নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা জরুরি।

প্রকাশ : অক্টোবর ১৮, ২০২৬ ১৫:৩০
যুক্তরাষ্ট্রে বয়স্ক নাগরিক ও মেডিকেয়ার সুবিধাভোগীদের জন্য শুরু হয়েছে স্বাস্থ্যবিমা পরিকল্পনা
মেডিকেয়ারের নতুন নিয়মে বাড়তে পারে চিকিৎসা ব্যয়, ৭ ডিসেম্বরের মধ্যে পরিকল্পনা বেছে নেওয়ার সুযোগ

যুক্তরাষ্ট্রে বয়স্ক নাগরিক ও মেডিকেয়ার সুবিধাভোগীদের জন্য শুরু হয়েছে স্বাস্থ্যবিমা পরিকল্পনা পর্যালোচনা ও পরিবর্তনের গুরুত্বপূর্ণ সময়। ২০২৭ সালে কোন স্বাস্থ্যবিমা পরিকল্পনা এবং প্রেসক্রিপশনের ওষুধের কভারেজ কার্যকর হবে, তা বেছে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে ৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত। নতুন পরিকল্পনা সাধারণত ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে।   অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের ১৫ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, নতুন বছরে মেডিকেয়ারের প্রেসক্রিপশন ওষুধের খরচে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসতে পারে। মেডিকেয়ার পার্ট ডি-তে বার্ষিক নিজস্ব খরচের সর্বোচ্চ সীমা ২ হাজার ১০০ ডলার থেকে বেড়ে ২ হাজার ৪০০ ডলার হতে পারে। একই সঙ্গে স্ট্যান্ডার্ড ডিডাক্টিবল ৬১৫ ডলার থেকে বেড়ে ৭০০ ডলারে যাওয়ার কথা রয়েছে।   এ ছাড়া কিছু মেডিকেয়ার অ্যাডভান্টেজ পরিকল্পনায় সুবিধা কমানো হচ্ছে, আবার কিছু এলাকায় নির্দিষ্ট পরিকল্পনা বন্ধও হতে পারে। ফলে আগে যে চিকিৎসক, হাসপাতাল বা ওষুধের সুবিধা পাওয়া যেত, নতুন পরিকল্পনায় সেগুলো একইভাবে পাওয়া যাবে কি না, তা যাচাই করা জরুরি।   মেডিকেয়ার ব্যবহারকারীদের শুধু মাসিক প্রিমিয়াম দেখে পরিকল্পনা নির্বাচন না করে চিকিৎসকের নেটওয়ার্ক, হাসপাতালের সুবিধা, ওষুধের কভারেজ, ডিডাক্টিবল এবং নিজস্ব খরচের সীমা তুলনা করা উচিত। কম প্রিমিয়ামের পরিকল্পনায় অন্য খাতে বেশি খরচ হতে পারে। আবার বর্তমানে ব্যবহৃত চিকিৎসক বা ওষুধ নতুন পরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত না থাকলে চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়াও ব্যয়বহুল হতে পারে।   যাঁরা মেডিকেয়ার সুবিধা পান, তাঁরা সরকারি Medicare.gov ওয়েবসাইটে নিজেদের এলাকার পরিকল্পনাগুলো তুলনা করতে পারেন। প্রয়োজনে ১-৮০০-MEDICARE নম্বরে যোগাযোগ করেও তথ্য নেওয়া যায়। পরিকল্পনা পরিবর্তনের আগে ব্যক্তিগত পরিস্থিতি, নিয়মিত ওষুধ এবং চিকিৎসার প্রয়োজন বিবেচনা করা গুরুত্বপূর্ণ।   এই পরিবর্তনগুলো বিশেষভাবে অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তি, নিয়মিত ওষুধ গ্রহণকারী এবং নির্দিষ্ট চিকিৎসার ওপর নির্ভরশীল প্রবীণদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পরিকল্পনা পর্যালোচনা করলে নতুন বছরে চিকিৎসা ব্যয় ও কভারেজ নিয়ে অপ্রত্যাশিত সমস্যার ঝুঁকি কমানো সম্ভব।

প্রকাশ : অক্টোবর ১৮, ২০২৬ ১৫:৮
যুক্তরাষ্ট্রে জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে পেট্রলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে
যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রলের দাম এক মাসে ৯.১% বেড়েছে, চাপে পরিবারের বাজেট

যুক্তরাষ্ট্রে জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে পেট্রলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। দেশটির শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে ভোক্তা মূল্যসূচক আগের মাসের তুলনায় ০.৬ শতাংশ বেড়েছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় মূল্যসূচক বেড়েছে ৩.৭ শতাংশ।   সরকারি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সেপ্টেম্বরে পেট্রলের দাম আগের মাসের তুলনায় ৯.১ শতাংশ বেড়েছে। জ্বালানি খাতের এই বৃদ্ধি মাসিক সামগ্রিক মূল্যস্ফীতির অর্ধেকেরও বেশি বৃদ্ধিতে অবদান রেখেছে। একই সময়ে আবাসন ব্যয়ও বেড়েছে।   পেট্রলের দাম বাড়লে গাড়িতে কর্মস্থলে যাতায়াতকারী কর্মী, ছোট ব্যবসার মালিক, পণ্য পরিবহনকারী এবং সন্তানদের স্কুলে আনা-নেওয়া করেন এমন অভিভাবকদের ব্যয় বাড়তে পারে। তবে প্রত্যেক পরিবারের ওপর এর প্রভাব এক নয়; গাড়ির ব্যবহার, বসবাসের এলাকা এবং আয়ের ওপর খরচের পার্থক্য নির্ভর করে।   জ্বালানির ব্যয় শুধু গাড়ি চালানোর খরচেই সীমাবদ্ধ থাকে না। পণ্য পরিবহন ও সরবরাহের খরচ বাড়লে কিছু পণ্য ও সেবার দামেও প্রভাব পড়তে পারে। তবে পেট্রলের দাম বাড়ার কারণে সব পণ্যের দাম একই হারে বাড়বে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই।   যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, আবাসন সূচকও সেপ্টেম্বরে ০.৪ শতাংশ বেড়েছে। ফলে জ্বালানি ও বাসস্থানের ব্যয় একসঙ্গে বাড়লে সীমিত আয়ের পরিবারগুলোর মাসিক বাজেট সামলানো কঠিন হতে পারে।   পরিবারের ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রাখতে গাড়ির যাত্রা পরিকল্পনা করে নেওয়া, কাছাকাছি কাজ একসঙ্গে সেরে ফেলা এবং বিভিন্ন পেট্রল স্টেশনের দাম তুলনা করা সহায়ক হতে পারে। তবে যাতায়াতের বিকল্প বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে নিরাপত্তা, দূরত্ব ও সময়ও বিবেচনা করা জরুরি।

প্রকাশ : অক্টোবর ১৮, ২০২৬ ১৪:৪৬
সাশ্রয়ী আবাসনের সুযোগ বাড়াতে নতুন একটি আবাসন প্রকল্পের প্রথম ধাপ চালু করা হয়েছে
নিউইয়র্কে আবাসন সংকট মোকাবিলায় ব্রুকলিনে ৮৩৯টি সাশ্রয়ী বাসা নির্মাণের উদ্যোগ

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের ব্রুকলিনে সাশ্রয়ী আবাসনের সুযোগ বাড়াতে নতুন একটি আবাসন প্রকল্পের প্রথম ধাপ চালু করা হয়েছে। ইস্ট নিউইয়র্ক এলাকার এই প্রকল্পে ৩৮৬টি স্থায়ীভাবে সাশ্রয়ী বাসা বসবাসের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। একই প্রকল্পের পরবর্তী ধাপে আরও ৪৫৩টি বাসা এবং একটি শিশু পরিচর্যা কেন্দ্র নির্মাণের কাজ এগিয়ে যাচ্ছে।   নিউইয়র্ক সিটি মেয়র জোহরান মামদানি ও অঙ্গরাজ্যের গভর্নর ক্যাথি হোকুলসহ সংশ্লিষ্ট অংশীদারেরা ১৫ অক্টোবর প্রকল্পটির অগ্রগতি তুলে ধরেন। ‘ইনোভেটিভ আরবান ভিলেজ’ নামের এই উদ্যোগটি ক্রিশ্চিয়ান কালচারাল সেন্টারের ক্যাম্পাসে গড়ে উঠছে।    নগর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, পুরো প্রকল্প শেষ হলে সেখানে ১০টি ভবনে প্রায় ২ হাজার স্থায়ীভাবে সাশ্রয়ী বাসা তৈরি হবে। আবাসনের পাশাপাশি শিশু পরিচর্যা, কর্মসংস্থানমুখী প্রশিক্ষণ, কমিউনিটি কার্যক্রম, সাংস্কৃতিক আয়োজন, স্থানীয় দোকানপাট এবং জনসাধারণের ব্যবহারের জন্য খোলা জায়গার ব্যবস্থাও রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।   নিউইয়র্কে বাড়িভাড়া ও জীবনযাত্রার ব্যয় অনেক পরিবারের জন্য বড় চাপ। এ পরিস্থিতিতে দীর্ঘমেয়াদি সাশ্রয়ী আবাসন প্রকল্পের মাধ্যমে কর্মজীবী পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দাদের শহরে বসবাস ধরে রাখার সুযোগ বাড়ানোই উদ্যোগটির অন্যতম লক্ষ্য।   মেয়র মামদানি বলেন, নিরাপদ ও স্থিতিশীল আবাসন প্রত্যেক নিউইয়র্কবাসীর প্রাপ্য। প্রকল্পটির মাধ্যমে নতুন বাসা চালুর পাশাপাশি প্রয়োজনীয় কমিউনিটি সুবিধা যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গভর্নর হোকুলও আবাসনের সঙ্গে শিশু পরিচর্যা ও অন্যান্য সেবার সমন্বয়ের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন।   তবে এই ঘোষণার অর্থ এই নয় যে সব বাসায় এখনই নতুন আবেদন গ্রহণ করা হচ্ছে বা প্রত্যেক আবেদনকারী বাসা পাবেন। কারা আবেদন করতে পারবেন, আয়সীমা কত এবং আবেদন কবে শুরু হবে—এসব বিষয়ে প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি যাচাই করা প্রয়োজন।   নিউইয়র্কের আবাসন সংকট মোকাবিলায় প্রকল্পটি একটি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ। তবে এর প্রকৃত সুফল নির্ভর করবে যোগ্য বাসিন্দাদের কাছে বাসাগুলো কতটা সহজে পৌঁছায় এবং ভবিষ্যৎ নির্মাণকাজ নির্ধারিত সময়ে সম্পন্ন হয় তার ওপর।

প্রকাশ : অক্টোবর ১৮, ২০২৬ ১৪:২১
পাতালরেল স্টেশনে গুলির ঘটনায় এক ব্যক্তি নিহত
ম্যানহাটনের পাতালরেল স্টেশনে গুলিতে নিহত একজন, তদন্তে নিউইয়র্ক পুলিশ

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরের মিডটাউন ম্যানহাটনের একটি পাতালরেল স্টেশনে গুলির ঘটনায় এক ব্যক্তি নিহত হওয়ার পর সন্দেহভাজনকে খুঁজছে নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগ। শনিবার, ১৭ অক্টোবর দুপুর আনুমানিক ১২টা ২১ মিনিটে সপ্তম অ্যাভিনিউ ও পশ্চিম ৫৩তম স্ট্রিটের পাতালরেল স্টেশনে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থলটি ব্রডওয়ের কয়েকটি থিয়েটার ও কার্নেগি হলের কাছাকাছি।    পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দুই ব্যক্তির মধ্যে বিরোধের একপর্যায়ে গুলি চালানো হয়। সিবিএস নিউইয়র্কের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিরোধটি স্টেশনের প্ল্যাটফর্ম থেকে একটি ট্রেনে গড়ায় এবং পরে আবার প্ল্যাটফর্মে ফিরে আসে। তবে গুলিগুলো ঠিক ট্রেনের ভেতরে নাকি প্ল্যাটফর্মে ছোড়া হয়েছিল, সে বিষয়ে প্রাথমিক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ নিশ্চিত হতে পারেনি।   গুলিতে আহত ব্যক্তির বুকে আঘাত লাগে। জরুরি চিকিৎসাকর্মীরা তাঁকে বেলভিউ হাসপাতালে নিয়ে যান, সেখানে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত ব্যক্তির পরিচয় প্রকাশের আগে তাঁর পরিবারের সদস্যদের জানানোর কথা জানিয়েছিল পুলিশ। প্রতিবেদনের সময় পর্যন্ত তাঁর পরিচয় আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।    পুলিশ সন্দেহভাজনের ছবি প্রকাশ করেছে। ছবিতে তাঁকে লাল রঙের ট্র্যাকস্যুট, কালো ভেস্ট ও কালো মুখোশ পরা অবস্থায় দেখা যায়। পুলিশ জানিয়েছে, তিনি ঘটনাস্থল থেকে পায়ে হেঁটে পালিয়ে যান এবং সপ্তম অ্যাভিনিউ ধরে উত্তর দিকে এগিয়ে যান। ঘটনার পরপরই কাউকে গ্রেপ্তারের খবর পাওয়া যায়নি।    ঘটনার তদন্তের কারণে নিউইয়র্কের গণপরিবহনেও বিঘ্ন ঘটে। মেট্রোপলিটন ট্রান্সপোর্টেশন অথরিটি জানিয়েছিল, পুলিশি তদন্ত চলাকালে সি, ডি ও ই লাইনের ট্রেনগুলো সপ্তম অ্যাভিনিউ স্টেশন এড়িয়ে চলছিল। ই লাইনের কিছু ট্রেনকে বিকল্প পথে পরিচালনা করা হয় এবং এ, সি, ডি, ই ও এফ লাইনে বিলম্ব দেখা দেয়।    পুলিশ ঘটনাটির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিকে শনাক্ত করতে প্রত্যক্ষদর্শী ও সাধারণ মানুষের সহযোগিতা চেয়েছে। কারও কাছে এ ঘটনা সম্পর্কিত তথ্য থাকলে এনওয়াইপিডি ক্রাইম স্টপার্সের নম্বর ১-৮০০-৫৭৭-টিপস (৮৪৭৭)-এ যোগাযোগ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। স্প্যানিশ ভাষায় তথ্য দেওয়ার জন্যও আলাদা নম্বর রয়েছে।

প্রকাশ : অক্টোবর ১৮, ২০২৬ ১৪:৪
হ্যালোইনের কুমড়োভর্তি ট্রাক উল্টে যুক্তরাষ্ট্রের মহাসড়কে যানজট, ভোগান্তিতে চালকরা
হ্যালোইনের কুমড়োভর্তি ট্রাক উল্টে যুক্তরাষ্ট্রের মহাসড়কে যানজট, ভোগান্তিতে চালকরা

হ্যালোউইন উৎসবের ঠিক আগে যুক্তরাষ্ট্রের সাউথ ক্যারোলিনায় এক অদ্ভুত ট্রাফিক বিপর্যয়ের ঘটনা ঘটেছে।   গত ১৬ অক্টোবর মাউন্ট প্লেসেন্টের রেভেনেল ব্রিজ থেকে নামার সময় কোলম্যান বুলেভার্ডে একটি ১৮ চাকার ট্রাক রাস্তার পাশের গাছের নিচু ডালে সজোরে ধাক্কা খায়।   এতে ট্রাকের ভেতর বোঝাই করা বিপুল সংখ্যক কুমড়ো মহাসড়কের ওপর ছড়িয়ে পড়ে।   মাউন্ট প্লেসেন্ট পুলিশ ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে, রাস্তায় কুমড়ো ছড়িয়ে পড়ার কারণে ওই এলাকায় দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয় এবং সাধারণ চালকদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়।   তবে এই ঘটনায় হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।   হ্যালোউইনের অন্যতম প্রধান অনুষঙ্গ এই কুমড়ো মহাসড়কে এভাবে ছড়িয়ে থাকার দৃশ্যটি স্থানীয়দের মাঝে বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

প্রকাশ : অক্টোবর ১৮, ২০২৬ ১৪:০
নিউইয়র্ক শহরে স্বল্প দূরত্বে যাতায়াতের সুযোগ বাড়াতে সিটিবাইক পরিষেবা সম্প্রসারণ সম্পন্ন
নতুন করে নিউইয়র্কে আরও ৭ এলাকায় সিটিবাইক, সাইকেল পরিষেবা বাড়াচ্ছে নগর কর্তৃপক্ষ

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরে স্বল্প দূরত্বে যাতায়াতের সুযোগ বাড়াতে সিটিবাইক পরিষেবা সম্প্রসারণ সম্পন্ন হয়েছে। ১৫ অক্টোবর ২০২৬ নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি, নগর পরিবহন বিভাগের কমিশনার মাইক ফ্লিন এবং পরিষেবাটির পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান লাইফট এ সম্প্রসারণের ঘোষণা দেন।   নতুন করে সাতটি এলাকায় ২৩৪টি সাইকেল স্টেশন এবং ৩ হাজার ৭০০টির বেশি সাইকেল রাখার স্থান যুক্ত হয়েছে। এতে সিটিবাইকের আওতাভুক্ত এলাকা প্রায় ১০ বর্গমাইল বেড়ে মোট ৮৬ দশমিক ৫ বর্গমাইলে পৌঁছেছে। নগর কর্তৃপক্ষের হিসাবে, এখন নিউইয়র্কের প্রায় ৬২ শতাংশ বাসিন্দা এই পরিষেবার আওতাভুক্ত এলাকায় বসবাস করেন।   নতুন স্টেশনগুলো ব্রঙ্কস, ব্রুকলিন ও কুইন্সের সাতটি এলাকায় স্থাপন করা হয়েছে। এলাকাগুলো হলো—নরউড, রিভারডেল, ব্রাউনসভিল, ইস্ট নিউইয়র্ক, কেনসিংটন, বে রিজ ও ফরেস্ট হিলস। এসব এলাকার বাসিন্দাদের জন্য কর্মস্থল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, চিকিৎসাকেন্দ্র এবং স্থানীয় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াতের ক্ষেত্রে সাইকেল একটি অতিরিক্ত বিকল্প হতে পারে।    নগর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সম্প্রসারণ কার্যক্রম শুরু হয়েছিল ব্রুকলিনের বে রিজ এলাকায় এবং শেষ হয়েছে ইস্ট নিউইয়র্কে। বে রিজে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে প্রথম স্টেশন চালু হওয়ার পর থেকে সেখানে ৭৫ হাজারের বেশি যাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। এ তথ্য নতুন এলাকায় সাইকেল পরিষেবার সম্ভাব্য ব্যবহার সম্পর্কে ধারণা দেয়, যদিও সব এলাকায় একই হারে ব্যবহার হবে—এমন নিশ্চয়তা নেই।    এই প্রকল্পের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো যাতায়াতের সুযোগ সম্প্রসারণ। নিউইয়র্কের যেসব এলাকায় আগে সিটিবাইকের স্টেশন ছিল না, সেসব স্থানে নতুন স্টেশন বসানোর লক্ষ্য ছিল এমন বাসিন্দাদের কাছে বিকল্প পরিবহন পৌঁছে দেওয়া, যাঁদের দৈনন্দিন চলাচলে দীর্ঘ পথ অতিক্রম করতে হয়। নতুন স্টেশনগুলোর অবস্থান নির্ধারণে নগর পরিবহন বিভাগ স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সঙ্গে কাজ করেছে। স্টেশন স্থাপন, পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব পালন করছে লাইফট।    তবে পরিষেবাটি সম্প্রসারিত হলেও ভাড়া নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গেছে। সাইকেল ব্যবহারকারীদের জন্য বিশেষ করে বৈদ্যুতিক সাইকেলের খরচ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে ভাড়া কমানো এবং নির্দিষ্ট সময়ের যাত্রার জন্য কম খরচের ব্যবস্থা চালুর প্রস্তাবের কথা এসেছে। কিন্তু নতুন সম্প্রসারণের সঙ্গে সবার জন্য ভাড়া কমে গেছে—এমন ঘোষণা পাওয়া যায়নি। তাই যাত্রার আগে সিটিবাইকের অ্যাপ বা অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে বর্তমান ভাড়া, সদস্যপদ এবং সাইকেলের প্রাপ্যতা যাচাই করা উচিত।    নগর কর্তৃপক্ষের ঘোষণায় আরও বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের শরৎকালে বিদ্যমান পরিষেবা এলাকায় শত শত অতিরিক্ত সাইকেল রাখার স্থান যোগ করার পরিকল্পনা রয়েছে। মিডটাউন, চেলসি, উইলিয়ামসবার্গ, গ্রিনপয়েন্ট ও গোয়ানাসের মতো বেশি চাহিদার এলাকায় অতিরিক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা রয়েছে। এর লক্ষ্য হলো ব্যস্ত সময়ে সাইকেল পাওয়া এবং ফেরত দেওয়ার সক্ষমতা বাড়ানো।   সাইকেল পরিষেবা বাড়ানোর পাশাপাশি নিরাপদ সাইকেল লেন, পথচারীদের চলাচল এবং সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ। নতুন স্টেশন চালু হওয়ার ফলে যাতায়াতের বিকল্প বাড়লেও এর বাস্তব সুফল নির্ভর করবে ভাড়া, সাইকেলের প্রাপ্যতা, নিরাপদ সড়ক এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের ওপর।

প্রকাশ : অক্টোবর ১৮, ২০২৬ ১৩:৫২
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরের ব্রুকলিনে আবাসনসংকট মোকাবিলায় নতুন অগ্রগতি
নিউইয়র্কে শত শত সাশ্রয়ী বাসার নতুন সুযোগ, ব্রুকলিনে খুলছে ৩৮৬টি অ্যাপার্টমেন্ট

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরের ব্রুকলিনে আবাসনসংকট মোকাবিলায় নতুন অগ্রগতি হয়েছে। ১৫ অক্টোবর প্রকাশিত নিউইয়র্ক সিটি মেয়রের কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ইস্ট নিউইয়র্কের ইনোভেটিভ আরবান ভিলেজ আবাসন প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ে ৩৮৬টি স্থায়ী সাশ্রয়ী বাসা চালু করা হয়েছে।    প্রকল্পটির পরবর্তী পর্যায়ে আরও ৪৫৩টি বাসা এবং একটি শিশু পরিচর্যা কেন্দ্র যুক্ত করার কাজ এগিয়েছে। সম্পূর্ণ প্রকল্পে ১০টি ভবনে প্রায় ২ হাজার সাশ্রয়ী বাসা নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এর পাশাপাশি কমিউনিটি কার্যক্রম, কর্মসংস্থান প্রশিক্ষণ, খুচরা দোকান এবং জনসাধারণের ব্যবহারের জন্য খোলা জায়গা রাখার পরিকল্পনাও রয়েছে।    নিউইয়র্কে বাড়িভাড়া ও আবাসন ব্যয়ের চাপে থাকা নিম্ন ও মধ্যম আয়ের পরিবারগুলোর জন্য সাশ্রয়ী বাসার সুযোগ গুরুত্বপূর্ণ। তবে প্রকল্পের বাসাগুলো কারা পাবেন, আয়ের যোগ্যতা কী এবং আবেদন কখন শুরু হবে—এসব তথ্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে নিশ্চিত হয়ে প্রকাশ করা উচিত।

প্রকাশ : অক্টোবর ১৮, ২০২৬ ১৩:৩৩
ইলহান ওমরের পাশে ওবামা, ট্রাম্প প্রশাসনের পদক্ষেপকে বললেন ‘বিপজ্জনক দৃষ্টান্ত’
ইলহান ওমরের পাশে ওবামা, ট্রাম্প প্রশাসনের পদক্ষেপকে বললেন ‘বিপজ্জনক দৃষ্টান্ত’

মার্কিন কংগ্রেসওম্যান ইলহান ওমরের নাগরিকত্ব নিয়ে চলমান তদন্তের জেরে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। তিনি অভিযোগ করেছেন, ট্রাম্প প্রশাসন তাদের রাজনৈতিক বিরোধীদের দমন করতে ফেডারেল সরকারকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে।   সম্প্রতি ইলহান ওমরের ওয়াশিংটন ডিসির বাড়িতে ফেডারেল এজেন্টদের তল্লাশির পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বার্তায় ওবামা এই মন্তব্য করেন। তাঁর দাবি, কেবল প্রেসিডেন্টের সমালোচনা করার কারণেই প্রশাসন ইলহান ওমরের মার্কিন নাগরিকত্ব বাতিল ও তাঁকে দেশ থেকে বিতাড়িত করার চেষ্টা করছে।   তদন্তকারীদের সূত্রে জানা গেছে, কয়েক দশক আগে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পাওয়ার সময় ইলহান ওমর বা তাঁর বাবা ইমিগ্রেশন নথিতে কোনো ধরনের জালিয়াতি করেছিলেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে এই তদন্তকে 'ভিত্তিহীন তত্ত্ব' বলে উড়িয়ে দিয়েছেন ওবামা।   প্রকৃত ঘটনা তুলে ধরে তিনি জানান, ইলহান মাত্র ১২ বছর বয়সে তাঁর বাবার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন এবং ১৭ বছর বয়সে তাঁর বাবা যখন নাগরিকত্ব লাভ করেন, তখন স্বয়ংক্রিয়ভাবেই তিনিও মার্কিন নাগরিক হন। ওবামার দাবি, তদন্তকারীরা এখন প্রমাণ করার চেষ্টা করছে যে ওই সময় ইলহানের বয়স ১৮ ছিল, যার ফলে তাঁকে আলাদাভাবে নাগরিকত্বের আবেদন করতে হতো। ওবামার মতে, একজন আইনমান্য নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির ওপর ফেডারেল সরকারের এমন চাপ প্রয়োগ সম্পূর্ণ অযৌক্তিক।   অন্যদিকে, ডোনাল্ড ট্রাম্প এই তদন্তে নিজের কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা থাকার কথা অস্বীকার করে জানিয়েছেন, বিষয়টি পুরোপুরি বিচার বিভাগের হাতে। তবে একইসঙ্গে তিনি ইলহান ওমরকে ব্যক্তিগতভাবে 'পুরোপুরি দুর্নীতিগ্রস্ত' বলে মন্তব্য করেছেন।   ওবামা তাঁর বার্তায় নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল, সাবেক এফবিআই পরিচালক এবং ফেডারেল রিজার্ভের সদস্যদের বিরুদ্ধে নেওয়া ফেডারেল পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে অভিযোগ করেন যে, বর্তমান প্রশাসন রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে বারবার লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্বাস বা মতামতের কারণে কাউকে এভাবে হয়রানি করা মার্কিন গণতন্ত্রের মৌলিক নীতির পরিপন্থী উল্লেখ করে তিনি সতর্ক করেন যে, এটি স্বাভাবিক নিয়মে পরিণত হলে ভবিষ্যতের যেকোনো প্রশাসন এই একই বিপজ্জনক পথ অনুসরণ করতে পারে।

প্রকাশ : অক্টোবর ১৮, ২০২৬ ১৩:১৭
কানসাসের উইচিটায় শিশুদের ফুটবল মাঠে পিকআপ ট্রাক ঢুকে পড়ে শিশুসহ ২ জন নিহত। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের কানসাসে শিশুদের ফুটবল মাঠে পিকআপ ট্রাকের তাণ্ডব, নিহত ২; আহত ১১

যুক্তরাষ্ট্রের কানসাস অঙ্গরাজ্যের উইচিটা শহরে শিশুদের ফুটবল খেলা চলাকালে মাঠে পিকআপ ট্রাক ঢুকে পড়ে এক শিশুসহ দুজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ১১ জন, যাঁদের হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। শনিবার, ১৭ অক্টোবর বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে শহরের স্ট্রাইকার স্পোর্টস কমপ্লেক্সে এ ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে ৬ বছর বয়সী এক শিশু এবং ৩৫ বছর বয়সী এক ব্যক্তি রয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, পিকআপ ট্রাকটির চালক ৩৪ বছর বয়সী এক নারী। তাঁকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তবে ট্রাকটি কীভাবে মাঠে ঢুকে পড়েছিল এবং ঘটনাটি ইচ্ছাকৃত ছিল কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিষয়টি তদন্ত করছে উইচিটা পুলিশ বিভাগ।   পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার বিকেলে সেডজউইক কাউন্টির জরুরি যোগাযোগ কেন্দ্রে একাধিক ফোন আসে। ফোনকারীরা জানান, একটি গাড়ি শিশুদের ফুটবল খেলার মাঠের ওপর দিয়ে চলে গেছে এবং এতে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। খবর পেয়ে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও জরুরি চিকিৎসাকর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। সেখানে দুজনকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। আহতদের মধ্যে শিশু ও প্রাপ্তবয়স্ক উভয়েই রয়েছেন। দুর্ঘটনার পরপরই উদ্ধারকাজ শুরু হয় এবং আহতদের স্থানীয় হাসপাতালগুলোতে পাঠানো হয়।   নিহত দুজনের পরিচয় সম্পর্কে পুলিশ জানিয়েছে, তাঁরা কানসাসের ম্যাকফারসন এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। তাঁদের একজন ৬ বছর বয়সী ছেলে এবং অন্যজন ৩৫ বছর বয়সী পুরুষ। তাঁরা পরস্পরের আত্মীয় ছিলেন না। আহত ১১ জনের বয়স ৫ থেকে ৬৮ বছরের মধ্যে। তাঁদের মধ্যে ১০ জনের বিভিন্ন মাত্রার শারীরিক আঘাত ছিল, যার মধ্যে গুরুতর আঘাতও রয়েছে। অন্য একজনকে আঘাতজনিত নয়, এমন একটি শারীরিক সমস্যার কারণে হাসপাতালে নেওয়া হয়। আহতদের সর্বশেষ শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।   পুলিশ জানিয়েছে, পিকআপ ট্রাকটির চালক গার্ডেন সিটির বাসিন্দা ৩৪ বছর বয়সী এক নারী। ঘটনার সময় ট্রাকটিতে আরও দুই অপ্রাপ্তবয়স্ক যাত্রী ছিল। চালকের একটি সন্তানও ওই স্পোর্টস কমপ্লেক্সে ফুটবল খেলছিল বলে পুলিশ জানতে পেরেছে, তবে শিশুটি দুর্ঘটনায় আক্রান্ত মাঠে খেলছিল না। ঘটনার পর চালক ঘটনাস্থলেই ছিলেন এবং পরে তাঁকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, তিনি তদন্তে সহযোগিতা করছেন। তবে তাঁর বিরুদ্ধে কী অভিযোগ আনা হবে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো চূড়ান্ত তথ্য জানানো হয়নি।   উইচিটা পুলিশ বিভাগের কর্মকর্তারা বলেছেন, তাঁরা দুর্ঘটনাটি কীভাবে এবং কেন ঘটেছে, তা নির্ধারণের চেষ্টা করছেন। ট্রাকটি অসাবধানতাবশত মাঠে ঢুকে পড়েছিল, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো কারণ ছিল, তা এখনো স্পষ্ট নয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলেছে এবং আরও তথ্য সংগ্রহ করছে। ঘটনার ভিডিও বা ছবি যাঁদের কাছে রয়েছে, তাঁদের সেগুলো তদন্তকারীদের কাছে জমা দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ঘটনাটিকে ইচ্ছাকৃত হামলা হিসেবে চিহ্নিত করেনি কর্তৃপক্ষ।   দুর্ঘটনার পর স্ট্রাইকার স্পোর্টস কমপ্লেক্সের সব কার্যক্রম পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। ওই কমপ্লেক্সের পাশের মাঠে চলা মেয়েদের পতাকা ফুটবল প্রতিযোগিতার খেলাও স্থগিত করা হয়। কানসাস স্টেট হাই স্কুল অ্যাক্টিভিটিজ অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, প্রতিযোগিতার তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ও চ্যাম্পিয়নশিপ ম্যাচ পরবর্তী সময়ে অনুষ্ঠিত হবে। জরুরি উদ্ধারকাজ ও তদন্ত নির্বিঘ্নে চালানোর জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সাধারণ মানুষকে এলাকাটি এড়িয়ে চলার অনুরোধ জানিয়েছে।   উইচিটার মেয়র লিলি উ ঘটনাটিকে শহরের জন্য হৃদয়বিদারক দিন হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, পরিবারগুলো শনিবার বিকেলে সন্তানদের ফুটবল খেলা দেখতে এসেছিল। এমন একটি মর্মান্তিক ঘটনা ঘটবে, তা কেউ কল্পনাও করেননি। নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে তিনি উদ্ধারকাজে অংশ নেওয়া পুলিশ, চিকিৎসাকর্মী ও অন্যান্য জরুরি সেবাদানকারীদের ধন্যবাদ জানান।   শিশুদের খেলাধুলার মাঠে এ ধরনের প্রাণঘাতী ঘটনা স্থানীয় পরিবার ও ক্রীড়া আয়োজকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে। তবে এই দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে মাঠের নিরাপত্তাব্যবস্থায় কোনো ত্রুটি ছিল কি না, সে বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি। পুলিশ ঘটনার কারণ অনুসন্ধান করছে এবং তদন্তের স্বার্থে প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছ থেকে আরও তথ্য সংগ্রহ করছে। কর্তৃপক্ষের পরবর্তী বক্তব্যে দুর্ঘটনার পরিস্থিতি ও চালকের ভূমিকা সম্পর্কে আরও তথ্য প্রকাশিত হতে পারে।

প্রকাশ : অক্টোবর ১৮, ২০২৬ ১৩:১৩
নিউইয়র্কের বাফেলোতে পরিচিত রিয়েল এস্টেট পেশাজীবী নাজমুল হোসেন। ছবি: সংগৃহীত
বাফেলোতে রিয়েল এস্টেটে আস্থার নাম নাজমুল হোসেন: ৭০০ এর বেশি বাড়ি কেনাবেচায় সহায়তা

নিউইয়র্কের বাফেলো অঞ্চলে বাংলাদেশি কমিউনিটির পরিচিত রিয়েল এস্টেট পেশাজীবী নাজমুল হোসেন। দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা, ধারাবাহিক সাফল্য এবং সংগঠিত টিমওয়ার্কের মাধ্যমে ইতোমধ্যে ৭০০ এর বেশি বাড়ি কেনাবেচায় সহায়তা করেছেন তিনি ও তাঁর টিম।   নিউইয়র্কের বাফেলো ও আশপাশের এলাকায় বাড়ি কেনা-বেচার ক্ষেত্রে বাংলাদেশি কমিউনিটির পরিচিত মুখ হয়ে উঠেছেন নাজমুল হোসেন। HUNT Real Estate ERA-এর সঙ্গে যুক্ত এই রিয়েল এস্টেট পেশাজীবীর নেতৃত্বে পরিচালিত হচ্ছে Nazmul Real Estate Team। বাড়ি কেনা, বিক্রি ও রিয়েল এস্টেট বিনিয়োগ—সব ক্ষেত্রেই ক্রেতা, বিক্রেতা ও বিনিয়োগকারীদের পেশাদার সেবা দিয়ে আসছে দলটি।   ৭০০-এর বেশি বাড়ি কেনাবেচায় সহায়তা: পেশাগত যাত্রায় নাজমুল হোসেন ও তাঁর টিম ইতোমধ্যে ৭০০-এর বেশি বাড়ি কেনাবেচায় সহায়তা করেছেন। বাফেলোর পাশাপাশি Amherst, Cheektowaga, Williamsville, Depew, Lancaster, West Seneca, Tonawanda, Niagara Fallsসহ পশ্চিম নিউইয়র্কের বিভিন্ন এলাকায় বিস্তৃত হয়েছে তাঁদের কার্যক্রম।   বিশেষ করে প্রথমবার বাড়ি কেনা পরিবার ও অভিবাসী কমিউনিটির কাছে রিয়েল এস্টেটের পুরো প্রক্রিয়াটি অনেক সময় জটিল মনে হয়। Mortgage ও financing থেকে শুরু করে down payment, home inspection, negotiation, appraisal এবং closing—প্রতিটি ধাপে সঠিক তথ্য ও অভিজ্ঞতার গুরুত্ব রয়েছে। এসব বিষয়ে ক্লায়েন্টদের প্রক্রিয়াটি বুঝতে এবং সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করাকে নিজের পেশাগত দায়িত্বের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখেন নাজমুল।   কমিউনিটির আস্থা ও টিমওয়ার্কই মূল শক্তি: নাজমুল হোসেনের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা টিমটিতে একাধিক বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রিয়েল এস্টেট পেশাজীবী কাজ করছেন। প্রত্যেক সদস্যের দক্ষতা ও অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে ক্রেতা-বিক্রেতাদের আরও কার্যকর সেবা দেওয়ার পাশাপাশি বাফেলো অঞ্চলে বাংলাদেশি পেশাজীবীদের জন্য একটি শক্তিশালী দলভিত্তিক কর্মপরিবেশ তৈরির চেষ্টা চলছে।   নাজমুলের মতে, রিয়েল এস্টেট কেবল একটি বাড়ি কেনা বা বিক্রির লেনদেন নয়, এটি একটি পরিবারের জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক সিদ্ধান্ত। তাই প্রতিটি লেনদেনে অভিজ্ঞতা, স্বচ্ছতা, সততা এবং ক্লায়েন্টের স্বার্থকে গুরুত্ব দেওয়াই তাঁর টিমের কাজের মূলনীতি।   প্রবাসে নিজের পেশাগত অবস্থান তৈরির পাশাপাশি একটি শক্তিশালী টিম গড়ে তোলা এবং ৭০০-এর বেশি বাড়ি কেনাবেচায় সহায়তা করার অভিজ্ঞতা নাজমুল হোসেনের রিয়েল এস্টেট যাত্রাকে বাফেলোর বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একটি উল্লেখযোগ্য অবস্থানে নিয়ে এসেছে।

প্রকাশ : অক্টোবর ১৮, ২০২৬ ১৩:১
যুক্তরাষ্ট্রে বছরে ৫ লাখ ডলারের বেশি আয় করেও আর্থিক চাপে ভুগছেন অনেকে। ছবি: সংগৃহীত
বছরে ৫ লাখ ডলারের বেশি আয় করেও আর্থিক চাপে যুক্তরাষ্ট্রের বহু পরিবার

যুক্তরাষ্ট্রে বছরে পাঁচ লাখ ডলারের বেশি আয় করলেও অনেক পরিবার নিজেদের আর্থিকভাবে স্বচ্ছল মনে করছে না। উচ্চ আয়ের একটি অংশের মানুষ জানিয়েছেন, মাসিক আয় দিয়ে নিয়মিত ব্যয় মেটানোর পর পর্যাপ্ত অর্থ অবশিষ্ট থাকে না। আয়ের সঙ্গে জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়া, ঋণের দায় এবং ভবিষ্যতের জন্য সঞ্চয় করতে না পারার মতো সমস্যা তাঁদের আর্থিক চাপ বাড়াচ্ছে।   অর্থনীতিতে আয়ের সঙ্গে জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ার এই প্রবণতা ‘লাইফস্টাইল ইনফ্লেশন’ নামে পরিচিত। অর্থাৎ কারও বেতন বা উপার্জন বাড়লে তিনি বড় বাড়ি, দামি গাড়ি, উন্নত জীবনযাত্রা কিংবা অন্যান্য খাতে বেশি ব্যয় করতে শুরু করতে পারেন। ফলে আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়লেও সঞ্চয়ের পরিমাণ একই হারে বাড়ে না।   তবে উচ্চ আয়ের সব পরিবার একই কারণে আর্থিক চাপে পড়ে না। কারও ক্ষেত্রে বাড়ির ঋণ, সন্তানদের পড়াশোনা কিংবা চিকিৎসার খরচ বড় ভূমিকা রাখে। আবার কারও ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত ব্যয় ও আর্থিক পরিকল্পনার ধরন সঞ্চয়ের পরিমাণকে প্রভাবিত করে।   গোল্ডম্যান স্যাকসের ২০২৬ সালের জরিপে এই আর্থিক চাপের আরও কিছু দিক উঠে এসেছে। বছরে পাঁচ লাখ ডলারের বেশি আয় করা উত্তরদাতাদের ৪৬ শতাংশ জানিয়েছেন, তাঁরা সাধারণত প্রতি মাসে ক্রেডিট কার্ডের বকেয়ার ন্যূনতম নির্ধারিত অর্থ অথবা তার চেয়েও কম পরিশোধ করেন।   একই আয়ের শ্রেণিতে ৮০ শতাংশ উত্তরদাতা জানিয়েছেন, চাকরি থাকা সত্ত্বেও তাঁদের জীবনের কোনো গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক লক্ষ্য পিছিয়ে দিতে হয়েছে। অবসরজীবনের সঞ্চয়সংক্রান্ত পরিকল্পনা পিছিয়ে দেওয়ার কথা জানিয়েছেন ৪৫ শতাংশ।   তবে জরিপের ফলাফল থেকে উচ্চ আয়ের প্রত্যেক পরিবার জরুরি ব্যয় মেটাতে ঋণ নিতে বাধ্য, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। উত্তরদাতারা মূলত নিজেদের মাসিক আর্থিক অবস্থা এবং দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য অর্জনের অগ্রগতি সম্পর্কে মতামত দিয়েছেন।   গোল্ডম্যান স্যাকসের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোর আর্থিক চাপ সাধারণত মৌলিক প্রয়োজন মেটানোর সঙ্গে সম্পর্কিত। অন্যদিকে উচ্চ আয়ের পরিবারগুলোর ক্ষেত্রে বড় আর্থিক দায়, জীবনযাত্রার উচ্চ প্রত্যাশা এবং পরিবারের অন্য সদস্যদের সহায়তা দেওয়ার দায়িত্বও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।   জরিপে অংশ নেওয়া সর্বোচ্চ আয়ের শ্রেণির ৮৭ শতাংশ উত্তরদাতা আবার জানিয়েছেন, তাঁদের চাকরি দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক নিরাপত্তা অর্জনের একটি স্থিতিশীল পথ তৈরি করছে। ফলে আর্থিক চাপের কথা জানানো মানেই তাঁদের সবাই অর্থনৈতিক সংকটে রয়েছেন, এমন নয়।   ২০২৬ সালের জরিপে মোট ৫ হাজার ১০৬ জন অংশ নেন। তাঁদের মধ্যে কর্মরত ব্যক্তি ছিলেন ৩ হাজার ৬১২ জন এবং অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তি ১ হাজার ৪৯৪ জন। ফলাফল অংশগ্রহণকারীদের নিজস্ব মূল্যায়নের ভিত্তিতে তৈরি।

প্রকাশ : অক্টোবর ১৮, ২০২৬ ১২:৪৩
রাশিয়ায় স্মরণকালের অন্যতম বড় ড্রোন হা মলা ইউক্রেনের, আগুন সেন্ট পিটার্সবার্গের তেল টার্মিনালে
রাশিয়ায় স্মরণকালের অন্যতম বড় ড্রোন হা মলা ইউক্রেনের, আগুন সেন্ট পিটার্সবার্গের তেল টার্মিনালে

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কড়া বারণ সত্ত্বেও রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে স্মরণকালের অন্যতম বৃহৎ ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন। রোববার (১৮ অক্টোবর) ইউক্রেনীয় বাহিনীর পরিচালিত এই বিশাল হামলায় রাশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ সেন্ট পিটার্সবার্গ তেল টার্মিনালে আগুন ধরে যায়।   রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দাবি অনুযায়ী, দেশের ১৫টি ভিন্ন অঞ্চল, অধিকৃত ক্রিমিয়া এবং কৃষ্ণ সাগর এলাকা থেকে তারা মোট ১,০১৫টি ইউক্রেনীয় ড্রোন সফলভাবে গুলি করে ভূপাতিত করেছে। এত বিপুল সংখ্যক ড্রোন ধ্বংসের দাবি করা হলেও, এই হামলায় সেন্ট পিটার্সবার্গের ওই মূল তেল টার্মিনালের পাশাপাশি রাশিয়ার সর্ববৃহৎ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ভিকে-এর (VK) একটি ডেটা সেন্টারও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে।   যুক্তরাষ্ট্রের আপত্তিকে পাশ কাটিয়ে চালানো এই হামলার ফলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির মধ্যকার সম্পর্ক নতুন করে আরও তিক্ততার মুখে পড়েছে। ট্রাম্প সম্প্রতি রাশিয়ার তেল শোধনাগারে ইউক্রেনের হামলাকে অনুচিত বলে মন্তব্য করে দাবি করেছিলেন যে, দুই দেশ জ্বালানি খাতে হামলা না চালানোর বিষয়ে সম্মত হয়েছে। তবে কিয়েভ কিংবা মস্কো—কোনো পক্ষই এখন পর্যন্ত এমন কোনো চুক্তির কথা স্বীকার করেনি।   উল্টো জেলেনস্কি জানিয়েছেন, ট্রাম্পের ওই তথাকথিত আলোচনার ঘোষণার পরও রাশিয়া গত এক সপ্তাহে ইউক্রেনের জ্বালানি, তেল ও গ্যাস খাতে অন্তত ৭৬ বার হামলা চালিয়েছে।   নিজের দেশের অস্তিত্ব রক্ষায় পাল্টা জবাব দেওয়ার কথা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট। মার্কিন সমর্থন ও গোয়েন্দা তথ্য পাওয়ার ক্ষেত্রে নানা বাধা সত্ত্বেও ড্রোন হামলা চালিয়ে যাওয়ার বার্তা দিয়েছে কিয়েভ। সম্প্রতি ট্রাম্প রাশিয়ার ওপর থেকে কিছু অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ায় এর কড়া সমালোচনা করেছেন জেলেনস্কি। তিনি অভিযোগ করেছেন, রাশিয়াকে ছাড় দেওয়ার এই সিদ্ধান্ত একটি 'ঐতিহাসিক ভুল', যা মস্কোর যুদ্ধ ও আগ্রাসনকে কেবল আরও উৎসাহিতই করবে।

প্রকাশ : অক্টোবর ১৮, ২০২৬ ১২:৪৩
গেন্ডারিয়ায় অস্ত্র হাতে অভিযানের পর ইশরাক হোসেনকে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগের নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। ছবি: সংগৃহীত
অস্ত্র হাতে অভিযানের পর ইশরাককে পদত্যাগের নির্দেশ, জানাল প্রথম আলো

রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় অস্ত্র হাতে মাদকবিরোধী অভিযানে অংশ নেওয়ার ঘটনার পর মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনকে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সরকারসংশ্লিষ্ট উচ্চপর্যায়ের একাধিক সূত্রের বরাতে প্রথম আলো জানিয়েছে, রোববার বিকেলে সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে তাঁকে ডেকে এই নির্দেশ দেওয়া হয়।   তবে প্রথম আলোর প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত সরকারের দায়িত্বশীল কারও আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ইশরাক পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন কি না, সে বিষয়েও প্রতিবেদনে কোনো নিশ্চিত তথ্য নেই।   শনিবার বিকেলে গেন্ডারিয়া রেলস্টেশনসংলগ্ন দয়াগঞ্জ গুন্টির রেলগেট এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানে যান ঢাকা ৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন। তাঁর সঙ্গে থাকা কয়েকজনের হাতেও অস্ত্র ছিল। ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়।   প্রথম আলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইশরাকের নিজের ফেসবুক পেজে প্রকাশিত ভিডিওতে তাঁকে গাড়ি থেকে নেমে আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে চিৎকার করতে দেখা যায়। পাশে থাকা একজনকে গুলি করার হুমকি দিতেও শোনা যায়। তবে হুমকি দেওয়া ব্যক্তির পরিচয় নিশ্চিত করা যায়নি।   ভিডিওতে প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে থাকা ব্যক্তিদের কয়েকজনকে ধরতে দৌড়াতে এবং একজন তরুণকে লাথি দিতে দেখা যায়। আরেকটি ভিডিওতে আটক ব্যক্তিদের পুলিশের হাতে তুলে দেওয়ার দৃশ্য রয়েছে।   ঘটনার পর রোববার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া বিবৃতিতে ইশরাক দাবি করেন, তিনি মাদকবিরোধী সামাজিক প্রতিরোধ কর্মসূচিতে অংশ নিতে সেখানে গিয়েছিলেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, পুলিশ, স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতাদের যৌথ সিদ্ধান্তে এই কর্মসূচি নেওয়া হয়েছিল।   অস্ত্র উঁচিয়ে ধরার ব্যাখ্যায় তিনি দাবি করেন, একটি অস্থায়ী মাদকের আস্তানার কাছে পৌঁছানোর পর ৩০ থেকে ৩৫ জন ব্যক্তি তাঁদের গাড়িবহরের দিকে মারমুখী ভঙ্গিতে এগিয়ে আসেন। সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় নিজের ও অন্যদের নিরাপত্তার জন্য তিনি এবং তাঁর সরকারি নিরাপত্তারক্ষীরা অল্প সময়ের জন্য অস্ত্র উঁচিয়ে ধরেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে অস্ত্র সরিয়ে নেওয়া হয়।   ইশরাকের দাবি, তাঁর হাতে থাকা আগ্নেয়াস্ত্রটি বৈধ ও লাইসেন্সপ্রাপ্ত। আত্মরক্ষার জন্য সেটি প্রদর্শন করায় আইনের কোনো ব্যত্যয় হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি।   বিবৃতিতে তিনি আরও দাবি করেন, অভিযানে চার থেকে পাঁচটি অস্থায়ী মাদকের আস্তানা উচ্ছেদ করা হয়েছে। সেখান থেকে মাদকদ্রব্য, অস্ত্র, নগদ অর্থ ও ছিনতাই করা মুঠোফোন জব্দ করা হয় এবং ছয়জনকে আটক করে পুলিশের কাছে দেওয়া হয়। এসব তথ্য তাঁর বক্তব্য হিসেবে প্রথম আলোর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   তবে কর্মসূচির আগে পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় হয়েছিল কি না, তা নিয়ে ভিন্ন বক্তব্য রয়েছে। ওয়ারী বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার মাসুদ রানা শনিবার সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, প্রতিমন্ত্রী আগে থেকে পুলিশকে জানাননি। পুলিশ পরে বিষয়টি জানতে পারে। ইশরাকও শনিবার সংবাদমাধ্যমকে বলেছিলেন, ঘটনাস্থলে যাওয়ার ১০ মিনিট পর তিনি পুলিশকে আসতে বলেন।   অস্ত্র প্রদর্শনের ঘটনাটি তদন্ত করছে ঢাকা মহানগর পুলিশ। রোববার ডিএমপির গণমাধ্যম কেন্দ্রে সংবাদ সম্মেলনে গোয়েন্দা বিভাগের প্রধান শফিকুল ইসলাম জানান, ওয়ারী বিভাগের উপকমিশনারকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আইনের কোনো ব্যত্যয় হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আইন লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।   প্রথম আলোর প্রতিবেদনে বিএনপি ও সরকারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বরাতে বলা হয়েছে, মাদকবিরোধী উদ্যোগ নিয়ে আপত্তি না থাকলেও একজন প্রতিমন্ত্রীর নিজে অস্ত্র হাতে অভিযানে নামা নিয়ে অসন্তোষ তৈরি হয়। প্রশাসনকে সক্রিয় করার পরিবর্তে তিনি কেন এভাবে অভিযানে অংশ নিলেন, সে প্রশ্নও ওঠে।   এই ঘটনার পরদিনই ইশরাককে মন্ত্রিসভা ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে। তবে নির্দেশের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এবং তাঁর পদত্যাগের পরবর্তী প্রক্রিয়া সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি। সূত্র: প্রথম আলো

প্রকাশ : অক্টোবর ১৮, ২০২৬ ১২:২৬