- প্রচ্ছদ
- Latest news
Today latest news
20 News
চতুর্থ সন্তানের অপেক্ষায় ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের আইডাহোর বাসিন্দা ম্যাডিসন মালমগ্রেন ও তার স্বামী মার্ক। আগের তিন সন্তানই সুস্থভাবে জন্ম নেওয়ায় চতুর্থ সন্তানকে ঘিরেও তাদের প্রত্যাশা ছিল অনেক। কিন্তু গর্ভাবস্থার ২০ সপ্তাহে করা আল্ট্রাসাউন্ডে চিকিৎসকেরা এমন কিছু অস্বাভাবিকতা দেখতে পান, যা মুহূর্তেই বদলে দেয় পরিবারের আনন্দ। পরে পরীক্ষায় জানা যায়, অনাগত সন্তান সানি গল্টজ সিনড্রোম নামের একটি বিরল রোগে আক্রান্ত। ম্যাডিসন জানান, ২০২৫ সালের অক্টোবরে তিনি জানতে পারেন আবারও মা হতে চলেছেন। আগের গর্ভধারণের তুলনায় এবার বমিভাব ও অসুস্থতা বেশি থাকলেও শুরুতে বড় কোনো সমস্যা মনে হয়নি। বরং চতুর্থ সন্তানের লিঙ্গ জানার জন্য তিনি আরও বেশি আগ্রহী ছিলেন। পরে চিকিৎসকের কাছ থেকে যখন জানতে পারেন সন্তানটি মেয়ে, তখন তিন মেয়ের পর আরেকটি কন্যাসন্তানকে ঘিরে পুরো পরিবার আনন্দে মেতে ওঠে। বড় তিন মেয়েও তাদের ছোট বোনকে স্বাগত জানানোর জন্য অপেক্ষা করতে থাকে। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে ২০ সপ্তাহের নিয়মিত আল্ট্রাসাউন্ডের সময় পরিস্থিতি বদলে যায়। স্ক্যান করার সময় চিকিৎসাকর্মীর মুখের অভিব্যক্তিতে উদ্বেগ দেখতে পান ম্যাডিসন। তিনি কী হয়েছে জানতে চাইলে তখনই বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। পরিবারটিকে মাতৃ-ভ্রূণ চিকিৎসা বিশেষজ্ঞের কাছে পাঠানো হয়। কিন্তু সেই বিশেষজ্ঞের সঙ্গে দেখা করার জন্য তাদের অপেক্ষা করতে হয় আরও ১০ দিন। অনাগত সন্তানের কোনো সমস্যা থাকতে পারে জেনেও সেই সময়টুকু অসহায়ভাবে অপেক্ষা করা ছিল পরিবারের জন্য অত্যন্ত কঠিন। বিশেষজ্ঞের কাছে যাওয়ার পর একের পর এক উদ্বেগের তথ্য সামনে আসে। চিকিৎসকেরা দেখতে পান, গর্ভের শিশুটি বয়স অনুযায়ী স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক ছোট। তার হাত ও পায়ে অতিরিক্ত আঙুল ছিল এবং কিছু আঙুল ও পায়ের আঙুল পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত ছিল। পরীক্ষায় তার চোখও দেখা যাচ্ছিল না। পাশাপাশি ফুসফুসের বিকাশও যথেষ্ট হয়নি বলে চিকিৎসকেরা জানান। বিষয়টি নিশ্চিত করতে ম্যাডিসনের অ্যামনিওসেন্টেসিস পরীক্ষা করা হয় এবং ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করতে হয় আরও প্রায় ছয় সপ্তাহ। গর্ভাবস্থার তৃতীয় ত্রৈমাসিকের কাছাকাছি সময়ে সেই পরীক্ষার ফল আসে। শিশুটির নাম তখনই রাখা হয়েছিল সানি। পরীক্ষায় তার গল্টজ সিনড্রোম বা ফোকাল ডার্মাল হাইপোপ্লাসিয়া শনাক্ত হয়। এটি একটি বিরল জিনগত রোগ, যা শরীরের বিভিন্ন অংশের স্বাভাবিক বিকাশে প্রভাব ফেলতে পারে। ত্বক, হাত, পা ও চোখে এর প্রভাব দেখা দিতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে চোখ বা অশ্রুনালি অনুপস্থিত থাকা, দাঁতের অস্বাভাবিকতা, ঠোঁটের জন্মগত ত্রুটি, হৃদ্যন্ত্র ও কিডনির সমস্যা, শ্রবণশক্তির ঘাটতি এবং মস্তিষ্কের বিকাশজনিত জটিলতাও দেখা দিতে পারে। চিকিৎসকেরা ম্যাডিসন ও মার্ককে সতর্ক করে জানান, সানির শারীরিক জটিলতা এতটাই গুরুতর যে জন্মের পর সে বেঁচে নাও থাকতে পারে। বেঁচে থাকলে তাকে দীর্ঘমেয়াদি বিশেষায়িত চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে। এই খবর ম্যাডিসনের জন্য ছিল অত্যন্ত কঠিন। তার ভাষায়, যে সন্তানকে তারা এতটা চেয়েছেন এবং যার জন্য অপেক্ষা করেছেন, তাকে হয়তো জন্মের পর ঘরে নিয়ে যেতে পারবেন না, এই সম্ভাবনা মেনে নেওয়া ছিল অসহনীয়। তবে সন্তানকে নিয়ে হাল ছাড়েননি ম্যাডিসন। আইডাহোর স্থানীয় চিকিৎসকেরা আগে গল্টজ সিনড্রোমের রোগীর চিকিৎসা করেননি। তাই আরও অভিজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে তারা সান ফ্রান্সিসকোর একজন জিন বিশেষজ্ঞের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত হয়, সানির জন্ম এমন একটি চিকিৎসাকেন্দ্রে হওয়া উচিত যেখানে তার বিরল রোগ সম্পর্কে অভিজ্ঞ চিকিৎসক ও প্রয়োজনীয় বিশেষায়িত চিকিৎসা ব্যবস্থা রয়েছে। ফলে গর্ভাবস্থার ৩৬ সপ্তাহে পুরো পরিবারকে নিয়ে আইডাহোর মেরিডিয়ান থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার সান ফ্রান্সিসকোতে চলে যান তারা। প্রায় ৬০০ মাইলের বেশি পথ পাড়ি দিয়ে নতুন শহরে যাওয়ার সিদ্ধান্তটি সহজ ছিল না। পরিবারের বাড়ি, আত্মীয়স্বজন, বন্ধু ও পরিচিত পরিবেশ ছেড়ে অনিশ্চিত সময়ের জন্য অন্য রাজ্যে চলে যেতে হয়েছিল তাদের। এমনকি সানি বেঁচে থাকলে কখন তাকে নিয়ে আইডাহোতে ফিরতে পারবেন, সেটিও তারা জানতেন না। তারপরও মেয়ের চিকিৎসার সর্বোচ্চ সুযোগ নিশ্চিত করার জন্য সিদ্ধান্তটি নিতে দ্বিধা করেননি তারা। অবশেষে ২০২৬ সালের ১২ জুন সানির জন্ম হয়। ৩৭ সপ্তাহের গর্ভাবস্থায় অস্ত্রোপচারকক্ষে তাকে জন্ম দিতে হয়, যাতে প্রয়োজন হলে সঙ্গে সঙ্গে জীবনরক্ষাকারী চিকিৎসা দেওয়া যায়। জন্মের সময় তার ওজন ছিল ৪ পাউন্ড ৪ আউন্স, অর্থাৎ প্রায় ১ দশমিক ৯ কেজি। কয়েক মাস ধরে চিকিৎসকেরা যে আশঙ্কার কথা বলে আসছিলেন, সেই কারণে সন্তানকে প্রথমবার দেখার মুহূর্তটিও ছিল ম্যাডিসনের জন্য গভীর উদ্বেগের। জন্মের পর সানিকে সরাসরি নবজাতক নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে নেওয়া হয়। তবে সেখানে গিয়ে পরিবারটি এমন একটি খবর পায়, যা তাদের প্রত্যাশার চেয়েও ভালো ছিল। সানি নিজে থেকেই শ্বাস নিচ্ছিল। চিকিৎসকেরা আগে আশঙ্কা করেছিলেন, তার ফুসফুস জীবনধারণের জন্য যথেষ্ট বিকশিত নাও হতে পারে। তাই জন্মের পর তাকে নিজে শ্বাস নিতে দেখা পরিবারের কাছে ছিল বড় স্বস্তির মুহূর্ত। যদিও তার চিকিৎসায় নিউরোলজি, চক্ষু, হৃদ্রোগ, ত্বক, প্লাস্টিক সার্জারি ও হরমোন বিশেষজ্ঞসহ বিভিন্ন বিভাগের চিকিৎসকদের যুক্ত হতে হয়। শারীরিকভাবে খুব ছোট হওয়ায় সানির শ্বাসপ্রশ্বাস সচল রাখতে তাকে সিপিএপি যন্ত্রের সহায়তা নিতে হয়। খাবার দেওয়ার জন্য নাক দিয়ে পাকস্থলীতে পৌঁছানো একটি নলও ব্যবহার করা হয়। নবজাতক নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে কয়েক সপ্তাহ চিকিৎসার পর ধীরে ধীরে তার অবস্থার উন্নতি হতে থাকে। এই সময়েই ম্যাডিসন ও মার্ক তাদের প্রথম তিন মেয়েকে ছোট বোনের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন। দীর্ঘ অনিশ্চয়তার পর বোনদের সঙ্গে সানির দেখা হওয়া পরিবারের জন্য স্মরণীয় একটি মুহূর্ত হয়ে থাকে। প্রায় ছয় সপ্তাহ হাসপাতালে থাকার পর ২২ জুলাই সানিকে নিয়ে বাড়ি ফেরার অনুমতি পান ম্যাডিসন ও মার্ক। পরদিন তারা ক্যালিফোর্নিয়া থেকে আইডাহোর উদ্দেশে রওনা হন। গর্ভাবস্থার শেষ কয়েক মাসে যে পরিবারটি জানত না তারা আদৌ সন্তানকে নিয়ে বাড়ি ফিরতে পারবে কি না, সেই পরিবারই শেষ পর্যন্ত চার মেয়েকে এক ছাদের নিচে নিয়ে ফিরতে সক্ষম হয়। ম্যাডিসনের কাছে সেটিই ছিল সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। বর্তমানে সানির বিশেষ কিছু শারীরিক সমস্যা রয়েছে। সে চোখ ছাড়াই জন্মেছে, বাম কানে শুনতে পায় না এবং তার দুই হাতের কিছু অংশ পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত। বয়স অনুযায়ী তার শারীরিক আকারও ছোট। মস্তিষ্কের বিকাশও সম্পূর্ণ হয়নি বলে ভবিষ্যতে তার শেখা ও বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশে কিছুটা বিলম্ব হতে পারে বলে পরিবারকে জানানো হয়েছে। এসব কারণে তাকে নিয়মিত বিভিন্ন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছে নিতে হয়। ম্যাডিসনের হিসাবে, প্রতি সপ্তাহে চার থেকে পাঁচটি চিকিৎসা-সংক্রান্ত অ্যাপয়েন্টমেন্ট থাকে তাদের। তবু মেয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদী ম্যাডিসন। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিবারের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে গল্টজ সিনড্রোম সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করার চেষ্টা করছেন। তার মতে, কোনো একটি রোগের নাম দিয়ে একটি শিশুর পুরো জীবনকে সংজ্ঞায়িত করা যায় না। গর্ভাবস্থায় চিকিৎসকেরা সম্ভাব্য নানা জটিলতার কথা জানিয়েছিলেন, কিন্তু জন্মের পর সানি একের পর এক সেই আশঙ্কার অনেকটাই অতিক্রম করেছে। ম্যাডিসনের কাছে সানি শুধু একটি চিকিৎসা-নির্ণয় নয়, বরং শুরু থেকেই তাদের পরিবারের একজন সদস্য। গর্ভে থাকার সময় থেকেই তারা তাকে ভালোবেসেছেন, তার জন্য প্রার্থনা করেছেন এবং ভবিষ্যতের পরিকল্পনা করেছেন। বড় তিন বোনও এখন তাকে ঘিরে বড় হচ্ছে। দীর্ঘ অনিশ্চয়তার পর চার মেয়েকে একই বাড়িতে একসঙ্গে দেখতে পাওয়াকেই ম্যাডিসন তার পরিবারের জীবনের সবচেয়ে বড় আশীর্বাদগুলোর একটি বলে মনে করেন। সূত্র: নিউজউইক, ম্যাডিসন মালমগ্রেনের প্রকাশিত তথ্য
নিউইয়র্কের ম্যানহাটনের ইউনিয়ন স্কয়ারে ৭ অক্টোবরের হামলার তৃতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত স্মরণসভায় মেয়র জোহরান মামদানিকে ঘিরে বিক্ষোভ হয়েছে। বুধবার রাতে মোমবাতি প্রজ্বালন অনুষ্ঠানে অংশ নিতে গেলে একদল বিক্ষোভকারী তাকে লক্ষ্য করে বিভিন্ন স্লোগান দেন। নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিক্ষোভকারীরা ফিলিস্তিনপন্থী অবস্থান থেকে মামদানির কাছে আরও স্পষ্ট অবস্থান নেওয়ার দাবি জানান। ‘ইসরায়েলিজ ফর পিস’ নামের একটি সংগঠনের আয়োজনে ইউনিয়ন স্কয়ারে ওই স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামলায় নিহত ইসরায়েলি ও ইহুদি ব্যক্তিদের পাশাপাশি পরবর্তী সংঘাতে নিহত ফিলিস্তিনিদেরও স্মরণ করা হয় অনুষ্ঠানে। মোমবাতি হাতে অনুষ্ঠানে দাঁড়িয়েছিলেন মামদানি। এ সময় সিটি হল এলাকা থেকে মিছিল করে আসা একদল বিক্ষোভকারী অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছে তাকে লক্ষ্য করে স্লোগান দিতে শুরু করেন। নিউইয়র্ক পোস্ট জানিয়েছে, বিক্ষোভকারীদের কেউ কেউ মামদানিকে ‘কাপুরুষ’ বলে স্লোগান দেন এবং তাকে অবস্থান স্পষ্ট করার আহ্বান জানান। ‘মেয়র মামদানি, অবস্থান নিন’ এবং ‘আপনার জন্য লজ্জা’ ধরনের স্লোগানও শোনা যায়। কেফিয়াহ পরা কিছু বিক্ষোভকারী স্মরণসভায় ঢুকে পড়ার পর সেখানে কিছু সময়ের জন্য উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি হয়। তবে মামদানি পুরো সময়ই শান্ত ছিলেন এবং সাবেক নিউইয়র্ক সিটি কন্ট্রোলার ব্র্যাড ল্যান্ডারের পাশে দাঁড়িয়ে অনুষ্ঠানটি চালিয়ে যান। এই বিক্ষোভের আগে নিউইয়র্ক সিটি হলের সামনেও একটি প্রতিবাদ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে বিক্ষোভকারীরা মেয়র হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর ফিলিস্তিন ইস্যুতে মামদানির অবস্থান নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। নিউইয়র্কের বিভিন্ন স্থানে একই দিনে ৭ অক্টোবরের তৃতীয় বার্ষিকী ঘিরে স্মরণসভা, বিক্ষোভ ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয় ও নিউইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণেও বিভিন্ন কর্মসূচির খবর পাওয়া গেছে। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের নেতৃত্বে ইসরায়েলে হামলার তিন বছর পূর্তি উপলক্ষে নিউইয়র্কে এবারের কর্মসূচিগুলো আয়োজন করা হয়। নিউইয়র্ক মেয়রের কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ওই হামলায় ১ হাজার ১০০ জনের বেশি ইসরায়েলি নিহত এবং ২৫১ জনকে অপহরণ করা হয়েছিল। তৃতীয় বার্ষিকীতে দেওয়া এক বিবৃতিতে মামদানি নিহতদের স্মরণ করার পাশাপাশি গাজায় পরবর্তী মানবিক পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন। মামদানির ওই বিবৃতিতে তিনি ৭ অক্টোবরের ঘটনাকে যুদ্ধাপরাধ হিসেবে উল্লেখ করে হামলায় নিহত ইসরায়েলিদের জন্য শোক প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে গাজায় ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের সমালোচনা করেন এবং ফিলিস্তিনিদের মৃত্যুর কথা তুলে ধরেন। তার এই বক্তব্য নিয়ে নিউইয়র্কের ইহুদি ও ইসরায়েলপন্থী বিভিন্ন সংগঠনের মধ্যে সমালোচনা তৈরি হয়েছে বলে বিভিন্ন মার্কিন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। ইউনিয়ন স্কয়ারের স্মরণসভায় একই জায়গায় ইসরায়েলপন্থী ও ফিলিস্তিনপন্থী বিভিন্ন পক্ষের উপস্থিতি থাকায় পরিস্থিতি আরও স্পর্শকাতর হয়ে ওঠে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম গথামিস্ট জানিয়েছে, বুধবার সন্ধ্যায় স্মরণসভাকে কেন্দ্র করে ইউনিয়ন স্কয়ারে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছিল এবং দুই পক্ষের সমর্থকেরা সেখানে জড়ো হন। পরে বিক্ষোভকারীদের একটি অংশ স্মরণসভায় গিয়ে প্রতিবাদ জানায়। মেয়র মামদানি ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি নিউইয়র্কের ১১২তম মেয়র হিসেবে দায়িত্ব নেন। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই ইসরায়েল-ফিলিস্তিন ইস্যুতে তার অবস্থান নিউইয়র্কের রাজনৈতিক ও সামাজিক আলোচনার অন্যতম বিষয় হয়ে আছে। ৭ অক্টোবরের তৃতীয় বার্ষিকীতে তার দেওয়া বক্তব্য এবং ইউনিয়ন স্কয়ারের স্মরণসভায় অংশগ্রহণ সেই বিতর্ককে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে। তবে বুধবারের স্মরণসভায় মামদানিকে লক্ষ্য করে বিক্ষোভ হলেও অনুষ্ঠানটি শেষ পর্যন্ত চলতে থাকে। ৭ অক্টোবরের হামলা ও পরবর্তী ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাতকে ঘিরে নিউইয়র্কে মতপার্থক্য ও প্রতিবাদ অব্যাহত রয়েছে। একই দিনে শহরের বিভিন্ন এলাকায় পৃথক কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া মানুষ হামলায় নিহতদের স্মরণ, ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতি এবং সংঘাতের অবসানের দাবি জানিয়েছেন। সূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট, নিউইয়র্ক সিটি মেয়রের কার্যালয়, এবিসি৭ নিউইয়র্ক
চার সন্তানকে সামলাতে কিম কার্দাশিয়ানের পাশে রয়েছেন পাঁচজন ন্যানি। তবে এতজন সহকারী থাকলেও সন্তানদের দৈনন্দিন জীবনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বগুলো নিজের হাতেই রাখতে চান ৪৫ বছর বয়সী এই মার্কিন তারকা। সম্প্রতি ‘দ্য সানডে টাইমস’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন, একসঙ্গে পাঁচজন ন্যানি কাজ করেন না। একজন সবসময় দায়িত্বে থাকেন, আর বাকি চারজন পালা করে দায়িত্ব পালন করেন। কিম কার্দাশিয়ানের চার সন্তান হলেন নর্থ, ১৩, সেন্ট, ১০, শিকাগো, ৮ এবং সাম, ৭ বছর বয়সী। সাবেক স্বামী কানিয়ে ওয়েস্টের সঙ্গে তার এই চার সন্তান। বিচ্ছেদের পর সন্তানদের দেখাশোনায় কিমের ভূমিকা নিয়ে নানা সময় আলোচনা হলেও, তার নিজের বক্তব্য অনুযায়ী ব্যস্ত ব্যবসায়িক জীবন ও বিনোদন জগতের কাজের পাশাপাশি সন্তানদের দৈনন্দিন রুটিনেও তিনি সক্রিয়ভাবে যুক্ত থাকেন। সাক্ষাৎকারে কিম জানান, প্রতিদিন সন্তানদের স্কুলে পৌঁছে দেওয়া এবং স্কুল শেষে তাদের নিয়ে আসার কাজ তিনি নিজেই করেন। সন্ধ্যায় সন্তানদের সঙ্গে একসঙ্গে রাতের খাবার খাওয়ার চেষ্টা করেন। এরপর রাতে তাদের সঙ্গে বই পড়েন। সন্তানরা চাইলে এখনো তার বিছানায় ঘুমাতে পারে বলেও জানিয়েছেন তিনি। নিজের অভিভাবকত্বের ধরন ব্যাখ্যা করতে কিম নিজেকে ‘মাঝারি কড়াকড়ির’ অভিভাবক হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন, তিনি একই সঙ্গে ধৈর্যশীল ও স্নেহশীল থাকার চেষ্টা করেন। কিমের এই বক্তব্য এমন সময়ে এসেছে, যখন তার নিজের পেশাগত ব্যস্ততাও অনেক বেশি। তিনি পোশাকের ব্র্যান্ড স্কিমসের সহপ্রতিষ্ঠাতা এবং বিভিন্ন ব্যবসায়িক কার্যক্রমের পাশাপাশি টেলিভিশন ও অভিনয়েও কাজ করছেন। সম্প্রতি ‘অলস ফেয়ার’ নামের একটি নাটকীয় ধারাবাহিকে অভিনয় করেছেন তিনি। একই সময়ে আইন বিষয়ে পড়াশোনা এবং পেশাগত বিভিন্ন উদ্যোগেও যুক্ত রয়েছেন। ফলে সন্তানদের দেখাশোনায় পাঁচ ন্যানির সহায়তা তার ব্যস্ত জীবন পরিচালনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। সন্তানদের জীবনে নিজের উপস্থিতির বিষয়টি কিম বিশেষভাবে গুরুত্ব দেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, ন্যানিরা পরিবারের দৈনন্দিন কাজ সামলাতে সহায়তা করলেও সন্তানদের সঙ্গে সময় কাটানোর জায়গাটি তিনি অন্যের হাতে পুরোপুরি ছেড়ে দেননি। স্কুলে নিয়ে যাওয়া, ফিরিয়ে আনা, একসঙ্গে খাবার খাওয়া এবং রাতে বই পড়ার মতো কাজগুলোকে তিনি সন্তানদের সঙ্গে নিজের সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখেন। সন্তানদের বেড়ে ওঠা এবং তাদের জনসম্মুখে আসা নিয়েও কিমের মধ্যে কিছুটা সতর্কতা রয়েছে। বিশেষ করে বড় মেয়ে নর্থ ইতোমধ্যে বিনোদন ও সংগীতের জগতে আগ্রহ দেখাচ্ছে। ‘দ্য সানডে টাইমস’-কে কিম জানিয়েছেন, সন্তানরা নিজেদের স্বাচ্ছন্দ্য অনুযায়ী জনসমক্ষে আসবে, তবে তারা কতটা এবং কোন ধরনের কাজে যুক্ত হবে, সে বিষয়ে তিনি সতর্ক থাকেন। নর্থের সংগীতসংক্রান্ত কাজের ক্ষেত্রে কিম ও কানিয়ে ওয়েস্ট দুজনেই সন্তানের জন্য উপযুক্ত প্রকল্প বেছে নেওয়ার বিষয়ে সমন্বয় করার চেষ্টা করেন বলেও জানান তিনি। সন্তানদের আর্থিকভাবে স্বচ্ছল পরিবেশে বড় করার বিষয়টিও কিমের কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। তিনি জানান, সন্তানদের নিয়মিত কঠোর পরিশ্রম, কোনো কিছু সহজে পাওয়া গেছে ধরে না নেওয়া এবং জীবনের প্রতি কৃতজ্ঞ থাকার বিষয়ে শেখান। নিজের কাজের ক্ষেত্রেও সন্তানদের সামনে পরিশ্রমের উদাহরণ তুলে ধরেন তিনি। আইন বিষয়ে পড়াশোনার জন্য যে সময় ও শ্রম দিয়েছেন, সেটিও সন্তানদের সঙ্গে আলোচনা করেন বলে জানান কিম। সন্তানদের ছোটবেলার স্মৃতিও সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুলে ধরেছেন কিম। সেপ্টেম্বরে তিনি চার সন্তানের ছোটবেলার বেশ কিছু ছবি প্রকাশ করেন। ছবিগুলোর সঙ্গে সময় দ্রুত চলে যাওয়ার অনুভূতি প্রকাশ করে তিনি লেখেন, দিনের সময় দীর্ঘ মনে হলেও বছরগুলো খুব দ্রুত কেটে যায়। পোস্টটি দেখে তার বোন খোলো কার্দাশিয়ান আবেগ প্রকাশ করেন এবং কাইলি জেনারও আবেগঘন প্রতিক্রিয়া জানান। সন্তানদের সঙ্গে ঘুরে বেড়ানোর সময়ও কিম নিয়মিত তাদের সঙ্গে থাকার ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করেন। চলতি বছরের মার্চে টোকিও ভ্রমণে সন্তানদের সঙ্গে সময় কাটান তিনি। সেই সফরে তার বর্তমান সঙ্গী ও ফর্মুলা ওয়ান চালক লুইস হ্যামিলটনও ছিলেন। টোকিওর টিমল্যাব প্ল্যানেটসেও সন্তানদের সঙ্গে সময় কাটানোর ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করেছিলেন কিম। কিমের ব্যক্তিগত জীবনেও গত কয়েক বছরে বড় পরিবর্তন এসেছে। কানিয়ে ওয়েস্টের সঙ্গে তার বিবাহবিচ্ছেদের পর তিনি প্রায় পাঁচ বছর নিজেকে একা রেখেছিলেন বলে সম্প্রতি জানিয়েছেন। ‘দ্য সানডে টাইমস’-কে তিনি বলেন, ওই সময়ে সন্তানদের পাশাপাশি নিজের কাজ ও ব্যক্তিগত উন্নয়নে মনোযোগ দেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। বর্তমানে লুইস হ্যামিলটনের সঙ্গে তার সম্পর্ক রয়েছে, যদিও ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করতে তিনি সাধারণত অনাগ্রহী। এদিকে কিম ও সন্তানদের দীর্ঘদিনের আবাসস্থল ক্যালিফোর্নিয়ার হিডেন হিলসের বাড়িতেও বড় ধরনের সংস্কার চলছে। সংস্কারকাজের কারণে পরিবারটি সাময়িকভাবে ভাড়া বাড়িতে অবস্থান করছে বলে ‘দ্য সানডে টাইমস’ জানিয়েছে। ফলে সন্তানদের দৈনন্দিন রুটিনেও কিছুটা পরিবর্তন এলেও কিমের বক্তব্যে স্পষ্ট, তাদের সঙ্গে নিয়মিত সময় কাটানো এবং পারিবারিক রুটিন ধরে রাখাই তার কাছে গুরুত্বপূর্ণ। সব মিলিয়ে, পাঁচ ন্যানির সহায়তা থাকলেও সন্তানদের বড় করার ক্ষেত্রে কিম কার্দাশিয়ান নিজেকে দূরে রাখছেন না। বরং তার বক্তব্য অনুযায়ী, সহায়তাকারী থাকলেও সন্তানদের সঙ্গে ব্যক্তিগত সময়, স্কুলের রুটিন এবং ঘুমের আগের পারিবারিক সময় তিনি নিজের দায়িত্বের অংশ হিসেবেই দেখেন। চার সন্তান ও বিশাল কর্মজীবনের মধ্যে এই ভারসাম্যই বর্তমানে তার পারিবারিক জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হয়ে উঠেছে। সূত্র: দ্য সানডে টাইমস, পিপল
অ্যামাজন প্রাইমের সাবস্ক্রিপশন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ট্রেড কমিশনের (এফটিসি) সঙ্গে করা ২৫০ কোটি ডলারের নিষ্পত্তির আওতায় গ্রাহকদের অর্থ ফেরত দেওয়া শুরু হয়েছে। নতুন করে আরও কয়েক মিলিয়ন গ্রাহক এই অর্থ পাওয়ার যোগ্য হয়েছেন। যোগ্য গ্রাহকদের ক্ষেত্রে ফেরতের সর্বোচ্চ মোট পরিমাণ ২০০ ডলার পর্যন্ত হতে পারে। নতুন দফার অর্থ পাঠানো শুরু হয়েছে ১ অক্টোবর থেকে এবং এর জন্য গ্রাহকদের আলাদা করে কোনো আবেদন করতে হচ্ছে না। এফটিসির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে অ্যামাজনের সঙ্গে এই নিষ্পত্তি হয়েছিল। সংস্থাটির অভিযোগ ছিল, অ্যামাজন এমন কিছু নকশা ও প্রক্রিয়া ব্যবহার করেছে, যার মাধ্যমে গ্রাহকদের অনিচ্ছাকৃতভাবে প্রাইম সদস্যপদে যুক্ত করা এবং পরে সেই সদস্যপদ বাতিল করা কঠিন করে তোলা হয়েছিল। অ্যামাজন অবশ্য এসব অভিযোগের দায় স্বীকার করেনি। নিষ্পত্তির আওতায় প্রতিষ্ঠানটিকে ১০০ কোটি ডলার দেওয়ানি জরিমানা এবং ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের জন্য ১৫০ কোটি ডলার ফেরত দেওয়ার কথা বলা হয়। এফটিসির ভাষায়, অ্যামাজনের ব্যবহৃত কিছু পদ্ধতিকে ‘ডার্ক প্যাটার্ন’ বলা হয়। অর্থাৎ ওয়েবসাইট বা অ্যাপের এমন নকশা, যা ব্যবহারকারীকে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পরোক্ষভাবে প্রভাবিত করতে পারে। সংস্থাটির মামলায় বলা হয়েছিল, প্রাইমে যুক্ত হওয়ার সময় সদস্যপদ এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ সহজে চোখে পড়ত না এবং সদস্যপদ বাতিলের প্রক্রিয়াটিও ছিল দীর্ঘ ও জটিল। এমনকি অ্যামাজনের কর্মীরা বাতিলের প্রক্রিয়াটিকে অভ্যন্তরীণভাবে ‘ইলিয়াড’ নামে অভিহিত করতেন বলে এফটিসির অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছিল। নতুন সংশোধিত নিষ্পত্তির আওতায় এবার এমন গ্রাহকরাও অর্থ ফেরত পাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন, যারা অ্যামাজন প্রাইমের ১১ থেকে ২০টি সুবিধা যেকোনো ১২ মাসের সময়ে ব্যবহার করেছেন। এর আগে অপেক্ষাকৃত কম সুবিধা ব্যবহার করা গ্রাহকদের জন্য ফেরতের ব্যবস্থা ছিল। এফটিসি জানিয়েছে, নতুন যোগ্য গ্রাহকদের অর্থ স্বয়ংক্রিয়ভাবে পাঠানো হচ্ছে এবং তাদের কোনো দাবি দাখিল, নোটিশের জবাব বা অতিরিক্ত ফরম পূরণ করতে হবে না। তবে শুধু যুক্তরাষ্ট্রের নির্দিষ্ট গ্রাহকরাই এই অর্থ পাওয়ার যোগ্য। এফটিসির বর্তমান তথ্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট গ্রাহককে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক অ্যামাজন প্রাইম গ্রাহক হতে হবে এবং ২৩ জুন ২০১৯ থেকে ২৩ জুন ২০২৫-এর মধ্যে এফটিসির চ্যালেঞ্জ করা কোনো পদ্ধতির মাধ্যমে প্রাইম সদস্যপদে যুক্ত হয়ে থাকতে হবে। পাশাপাশি সদস্যপদ নেওয়ার পর যেকোনো ১২ মাসের সময়ে সর্বোচ্চ ২০টি প্রাইম সুবিধা ব্যবহার করা হয়ে থাকতে হবে। প্রাইম সুবিধার মধ্যে অ্যামাজনের বিভিন্ন সেবা ও সুবিধা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। উদাহরণ হিসেবে প্রাইমের মাধ্যমে পাওয়া দ্রুত পণ্য সরবরাহ, প্রাইম ভিডিও বা প্রাইম মিউজিকের মতো সুবিধার ব্যবহার হিসাবের মধ্যে পড়তে পারে। এফটিসির ব্যাখ্যা অনুযায়ী, কোনো গ্রাহক এক বছরের মধ্যে এসব সুবিধা যতবার ব্যবহার করেছেন, তা মোট ব্যবহারের সংখ্যা নির্ধারণে বিবেচনা করা হবে। তবে যেসব গ্রাহক নিয়মিতভাবে প্রাইমের বহু সুবিধা ব্যবহার করেছেন, এই ফেরত কর্মসূচি মূলত তাদের জন্য তৈরি হয়নি। প্রথম দফায় যোগ্য গ্রাহকদের সর্বোচ্চ ৫১ ডলার পর্যন্ত ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা ছিল। সংশোধিত নিষ্পত্তিতে সেই সীমা বাড়িয়ে মোট ২০০ ডলার করা হয়েছে। ফলে কেউ যদি আগের দফায় ৫১ ডলার পেয়ে থাকেন, নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ সাপেক্ষে পরবর্তী সময়ে আরও সর্বোচ্চ ১৪৯ ডলার পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। এফটিসি জানিয়েছে, গ্রাহকরা মোট কত অর্থ পাবেন তা তাদের প্রাইম সদস্যপদ বাবদ দেওয়া অর্থ এবং নিষ্পত্তির আওতায় তাদের যোগ্যতার ওপর নির্ভর করবে। অর্থ ফেরতের ক্ষেত্রে গ্রাহকদের কাছ থেকে কোনো ফি নেওয়া হবে না। যোগ্য গ্রাহকদের অর্থ ইলেকট্রনিক পেমেন্টের মাধ্যমে পেপ্যাল বা ভেনমোতে পাঠানো হবে, অথবা ডাকযোগে চেক পাঠানো হবে। এফটিসি জানিয়েছে, অর্থ পাওয়ার জন্য কাউকে আগে থেকে টাকা দেওয়া, ব্যক্তিগত তথ্য সরবরাহ করা বা কোনো তৃতীয় পক্ষকে অর্থের বিনিময়ে ফেরত পাওয়ার ব্যবস্থা করতে বলা হলে সতর্ক থাকতে হবে। এ ধরনের যোগাযোগ প্রতারণার চেষ্টা হতে পারে। এফটিসি আরও জানিয়েছে, সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত অ্যামাজন ইতোমধ্যে যোগ্য প্রাইম গ্রাহকদের ৮৪ কোটি ৫০ লাখ ডলারের বেশি ফেরত দিয়েছে। নতুন সংশোধিত ব্যবস্থার আওতায় স্বয়ংক্রিয় অর্থ ফেরত দেওয়ার কার্যক্রম ২০২৭ সালের এপ্রিল পর্যন্ত চলবে। অর্থাৎ এখনো যারা অর্থ পাননি, তাদের ক্ষেত্রে যোগ্যতা থাকলে পরবর্তী সময়েও অর্থ পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। এর পাশাপাশি আগের দফায় অর্থ পাওয়া কিছু গ্রাহকের জন্য আরও অর্থ দেওয়ার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। এফটিসির সংশোধিত আদেশ অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারি ২০২৭-এর মধ্যে গ্রাহকদের গ্রহণ করা অর্থ নির্ধারিত সীমায় না পৌঁছালে অতিরিক্ত অর্থ বিতরণ করা হবে। আগের অর্থ গ্রহণ করা যোগ্য গ্রাহকরা সর্বোচ্চ আরও ১৪৯ ডলার পেতে পারেন, যার ফলে তাদের মোট ফেরত ২০০ ডলার পর্যন্ত হতে পারে। এই অতিরিক্ত অর্থ দেওয়ার দফা ২০২৭ সালের এপ্রিলের মধ্যে শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। তবে অর্থ ফেরতের নামে প্রতারণা নিয়ে সতর্ক করেছে এফটিসি। সংস্থাটি স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, তারা এই অর্থ ফেরতের বিষয়ে গ্রাহকদের ফোন করে অর্থ চাইবে না। অ্যামাজনও ফেরত পাওয়ার জন্য কোনো গ্রাহকের কাছে টাকা চাইবে না। তাই কেউ যদি নিজেকে এফটিসি বা অ্যামাজনের প্রতিনিধি পরিচয় দিয়ে অর্থ দাবি করে কিংবা ফেরত নিশ্চিত করার বিনিময়ে ফি চায়, তার সঙ্গে লেনদেন না করার পরামর্শ দিয়েছে সংস্থাটি। সূত্র: ফেডারেল ট্রেড কমিশন (এফটিসি)
স্ট্রাসবুর্গে ইউরোপীয় পার্লামেন্ট ভবনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে নিয়ে তৈরি একটি ব্যঙ্গাত্মক সোনালি মূর্তি প্রদর্শন করা হয়েছে। ডেনমার্কের শিল্পী ইয়েন্স গালশিওটের তৈরি ‘দ্য অরেঞ্জ প্লেগ’ নামের ভাস্কর্যটিতে ট্রাম্পকে পোশাকহীন অবস্থায় ছোট আকৃতির এক ব্যক্তির কাঁধে বসে থাকতে দেখা যায়। ২ দশমিক ৬ মিটার উচ্চতার মূর্তিটি ২৩ ক্যারেট সোনার পাত দিয়ে মোড়ানো। মূর্তিটি ৭ অক্টোবর আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মোচন করা হয়। এর আগে সোমবার সকাল থেকে এটি কমলা রঙের কাপড় দিয়ে ঢাকা ছিল। পরে মঙ্গলবার পার্লামেন্ট ভবনের ব্যস্ততম অংশগুলোর একটিতে সেটি উন্মোচন করা হয়। তবে এটি ইউরোপীয় পার্লামেন্টের কোনো আনুষ্ঠানিক উদ্যোগ নয়। ডেনমার্কের বামপন্থী ইউরোপীয় পার্লামেন্ট সদস্য পার ক্লাউসেনের আমন্ত্রণে শিল্পী গালশিওটের এই প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে। ভাস্কর্যটিতে ট্রাম্পের এক হাতে একটি গলফ ক্লাব এবং অন্য হাতে ন্যায়ের দাঁড়িপাল্লার প্রতীক রয়েছে। নিচে থাকা ছোট আকৃতির ব্যক্তিটি ব্রোঞ্জের তৈরি এবং তার পায়ের কাছে একটি ছোট পৃথিবীর গোলকের আকৃতির বস্তু রাখা হয়েছে। মূর্তিটির বেদিতে লেখা রয়েছে, একজন মানুষের পিঠে বসে থাকার কারণে সেই ব্যক্তি তার ভারে ডুবে যাচ্ছে এবং তাকে সাহায্য করার জন্য সবকিছু করা হবে, শুধু তার পিঠ থেকে নেমে আসা হবে না। ভাস্কর্যটির আরেক নাম ‘কিং অব ইনজাস্টিস’ বা ‘অন্যায়ের রাজা’। শিল্পী ইয়েন্স গালশিওট বলেছেন, এই কাজের মাধ্যমে তিনি ক্ষমতাধর দেশ ও নেতাদের দ্বারা বিশ্বের অন্যদের ওপর প্রভাব বিস্তারের বিষয়টি তুলে ধরতে চেয়েছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ট্রাম্পকে তিনি জলবায়ু সংকট মোকাবিলা এবং নিয়মভিত্তিক বৈশ্বিক ব্যবস্থা রক্ষার ক্ষেত্রে বড় একটি চ্যালেঞ্জের প্রতীক হিসেবে দেখেছেন। তিনি আরও বলেছেন, রাজনৈতিক ভাষায় যেসব বিষয় অনেক সময় স্পষ্টভাবে বলা যায় না, ব্যঙ্গশিল্পের মাধ্যমে সেগুলো তুলে ধরা সম্ভব। গালশিওটের মতে, ভাস্কর্যটি হ্যান্স ক্রিশ্চিয়ান অ্যান্ডারসনের বিখ্যাত রূপকথা ‘দ্য এমপেররস নিউ ক্লোদস’ বা ‘সম্রাটের নতুন পোশাক’ থেকেও অনুপ্রাণিত। সেই গল্পে একজন সম্রাট এমন পোশাক পরেছেন বলে বিশ্বাস করেন, যা আসলে নেই। শিল্পীর বক্তব্য অনুযায়ী, ট্রাম্পকে সোনায় মোড়ানো ও পোশাকহীন অবস্থায় দেখানোর মধ্যেও একই ধরনের রাজনৈতিক ব্যঙ্গ রয়েছে। প্রদর্শনীর আয়োজক ডেনিশ এমইপি পার ক্লাউসেন ট্রাম্পকে নিয়ে এমন ব্যঙ্গাত্মক শিল্প প্রদর্শনের সমালোচনার বিষয়টিও উল্লেখ করেছেন। তার বক্তব্য, ট্রাম্পকে বিরক্ত করার আশঙ্কায় ইউরোপের মানুষের নিজেদের মতপ্রকাশে ভয় পাওয়া উচিত নয়। তিনি মনে করেন, ইউরোপীয় পার্লামেন্টের মতো জায়গায় এমন শিল্প প্রদর্শন রাজনৈতিক নীতি, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও ক্ষমতার ব্যবহার নিয়ে আলোচনার সুযোগ তৈরি করে। ‘দ্য অরেঞ্জ প্লেগ’ এর আগেও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক অনুষ্ঠানে প্রদর্শিত হয়েছে। ২০২৫ সালে ব্রাজিলের বেলেমে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘের জলবায়ু সম্মেলন কপ৩০-এ এটি প্রদর্শন করা হয়। ২০২৬ সালে জার্মানির মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলন এবং ডেনমার্কে গ্রিনল্যান্ড নিয়ে আয়োজিত বিভিন্ন প্রতিবাদ কর্মসূচিতেও ভাস্কর্যটি দেখা যায়। স্ট্রাসবুর্গের প্রদর্শনী শেষ হওয়ার পর এটি আগামী মাসে তুরস্কের আনতালিয়ায় অনুষ্ঠেয় জাতিসংঘের জলবায়ু সম্মেলন কপ৩১-এ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। ইউরোপে ট্রাম্পের ভাবমূর্তি নিয়েও সাম্প্রতিক জরিপগুলোতে নেতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে। পিউ রিসার্চ সেন্টারের ২০২৬ সালের জরিপে ইউরোপের ১০টি দেশের বেশির ভাগ মানুষ আন্তর্জাতিক বিষয়ে ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের ওপর আস্থা রাখেন না বলে জানিয়েছে। গ্রিনল্যান্ড ও শুল্কনীতি নিয়ে তার অবস্থানের ক্ষেত্রে এসব দেশে গড়ে ৮৫ শতাংশ মানুষ অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। জরিপটি ৩৬টি দেশের ৪২ হাজার ১৫১ জনের ওপর ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৩ মে পর্যন্ত পরিচালিত হয়েছিল। ইউগভের সেপ্টেম্বরের ইউরোপীয় ট্র্যাকার জরিপেও ট্রাম্পের প্রতি পশ্চিম ইউরোপে কম সমর্থনের চিত্র পাওয়া গেছে। ফ্রান্সে ১২ শতাংশ এবং জার্মানিতে ৯ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক তার প্রতি ইতিবাচক মত দিয়েছেন। যুক্তরাজ্যে এই হার ১০ শতাংশ। ডেনমার্কে ট্রাম্পের প্রতি ইতিবাচক মত ছিল আরও কম। ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের সম্পর্কের টানাপোড়েনের অন্যতম বিষয় হয়ে উঠেছে গ্রিনল্যান্ড। এর পাশাপাশি ন্যাটো, ইউরোপীয় দেশগুলোর প্রতিরক্ষা ব্যয়, বাণিজ্য শুল্ক এবং জলবায়ুনীতি নিয়েও দুই পক্ষের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। এসব বিষয়কে সামনে রেখেই গালশিওটের ভাস্কর্যটি রাজনৈতিক ব্যঙ্গ ও প্রতিবাদের একটি প্রতীক হিসেবে প্রদর্শিত হচ্ছে। ইউরোপীয় পার্লামেন্টে ভাস্কর্যটি ৮ অক্টোবর পর্যন্ত প্রদর্শিত হওয়ার কথা রয়েছে। এরপর এর পরবর্তী গন্তব্য তুরস্কের আনতালিয়ায় কপ৩১ জলবায়ু সম্মেলন। সূত্র: নিউজউইক
মার্কিন নাগরিকদের দৈনন্দিন জীবনে খুচরা পয়সার ব্যবহার দিন দিন উল্লেখযোগ্য হারে কমে আসছে। এ অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রের মুদ্রা ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তনের অংশ হিসেবে ১ সেন্টের 'পেনি' বাতিলের পর এবার ৫ সেন্ট মূল্যের 'নিকেল' নিয়ে নতুন করে ভাবতে শুরু করেছে মার্কিন কংগ্রেস। একটি ৫ সেন্টের নিকেল তৈরি করতে ১৩ সেন্ট খরচ হওয়ায় এখন এর বিকল্প ও সাশ্রয়ী উপাদান খুঁজছেন মার্কিন আইনপ্রণেতারা। চলতি বছরের শুরুর দিকে মার্কিন কংগ্রেসের উভয় কক্ষে দ্বিদলীয় ‘কমন সেন্টস অ্যাক্ট’ (Common Cents Act) নামের একটি বিল সর্বসম্মতিক্রমে পাস হয়, যার মূল লক্ষ্য ছিল পেনিকে চিরতরে বাতিল করা। বিলটি বর্তমানে আইনে পরিণত হওয়ার জন্য প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্বাক্ষরের অপেক্ষায় রয়েছে। গত বছরের ডিসেম্বরে মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ ঘোষণা করেছিল যে, ইউএস মিন্ট আর পেনি তৈরি করবে না, কারণ তখন একটি পেনি তৈরি করতে এর প্রকৃত মূল্যের চেয়ে তিনগুণ বেশি খরচ হতো। ট্রাম্প প্রশাসনের প্রক্ষেপণ অনুযায়ী, পেনি তৈরি বন্ধের এই সিদ্ধান্ত থেকে তাৎক্ষণিকভাবে প্রায় ৫ কোটি ৬০ লাখ ডলার সাশ্রয় হবে। পেনি উৎপাদন বন্ধের পর এবার বিলটির আরেকটি অংশের দিকে নজর দিচ্ছেন আইনপ্রণেতারা। বিলের এই অংশে ট্রেজারি বিভাগকে নিকেল তৈরির জন্য বর্তমানের চেয়ে সস্তা উপাদান ব্যবহারের সম্ভাবনা যাচাই করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে একটি নিকেল ২৫ শতাংশ নিকেল ও ৭৫ শতাংশ তামার মিশ্রণে তৈরি হয় এবং সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, প্রতিটি মুদ্রা তৈরি করতে করদাতাদের প্রায় ৮ সেন্ট লোকসান হয়। মিশিগানের রিপাবলিকান প্রতিনিধি লিসা ম্যাকক্লেইন জানান, ৫ সেন্টের একটি মুদ্রা তৈরি করতে ১৩ সেন্ট খরচ হওয়াটা সরকারের অর্থের অপচয়। তিনি মনে করেন, সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন ব্যবহারে ব্যাঘাত না ঘটিয়ে নিকেল তৈরির খরচ কমানোর একটি সহজ ও সাশ্রয়ী পথ তৈরি করবে এই বিল। সিনেটে এই বিলের নেতৃত্ব দেওয়া ওয়াইমিংয়ের রিপাবলিকান সিনেটর সিনথিয়া লুমিসও বিষয়টি সমর্থন করে জানান, মানুষ এখন দৈনন্দিন কেনাকাটায় নগদ অর্থের বদলে ক্রেডিট কার্ড, ডেবিট কার্ড এবং স্টেবলকয়েন বেশি ব্যবহার করছেন। প্রয়োজনীয়তা ফুরিয়ে যাওয়ায় অতীতে যেমন হাফ-সেন্ট বাতিল করা হয়েছিল, পেনির ক্ষেত্রেও এখন একই সময় এসেছে। তবে এখনই নিকেল উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ করার কোনো ইচ্ছা আইনপ্রণেতাদের নেই। গত মে মাসে ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট জানিয়েছিলেন যে, যুক্তরাষ্ট্র চাইলে নিকেল তৈরির প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন এনে এর উৎপাদন খরচ কমাতে পারে। তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যদি এই বিলে চূড়ান্ত স্বাক্ষর না করেন, তাহলে ভবিষ্যতের যেকোনো প্রশাসন পেনি বাতিলের সিদ্ধান্তটি উল্টে দেওয়ার ক্ষমতা রাখবে।
যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের মিনিয়াপলিসের কাছে অবস্থিত দেশটির বৃহত্তম শপিংমল 'মল অব আমেরিকা'-তে জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেটের (আইএস) নামে ভয়াবহ হামলার ছক কষার অভিযোগে ১৮ বছর বয়সী এক তরুণকে গ্রেপ্তার করেছে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই। শেখদুন আব্দুল্লাহি মোহামুদ নামের ওই তরুণকে গত মঙ্গলবার এফবিআইয়ের এক আন্ডারকভার এজেন্টের কাছ থেকে ৬০০ ডলারের বিনিময়ে একটি একে-৪৭ রাইফেল (AK-47), গুলি ও ম্যাগাজিন কেনার পরপরই গ্রেপ্তার করা হয়। আদালতের নথি ও এফবিআইয়ের অভিযোগ অনুযায়ী, মোহামুদ ওই আন্ডারকভার এজেন্টকে জানিয়েছিল যে, অক্টোবরের শেষের দিকে মল অব আমেরিকাতে অনুষ্ঠিতব্য 'মং আর্টস সেলিব্রেশন' (Hmong Arts Celebration)-কে কেন্দ্র করে সে ৩০ থেকে ৬০ জন অমুসলিমকে হত্যা করার পরিকল্পনা করেছিল। তার ধারণা ছিল, মলটির মালিকরা ইহুদি, তাই সে এই হামলা চালাতে চেয়েছিল। এর আগে বিভিন্ন মেসেজিং প্ল্যাটফর্মে এফবিআই-এর এক গোপন সূত্রের কাছে মোহামুদ জানিয়েছিল যে, সে প্রথমে বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন আল-শাবাবের হয়ে যুদ্ধ করতে বিদেশে যেতে চেয়েছিল। কিন্তু বিদেশ যেতে না পারলে সে যুক্তরাষ্ট্রে এমন একটি ম্যাস শুটিং বা হত্যাযজ্ঞ চালাতে চায়। পরবর্তীতে সে আইএস-এর সাথে যুক্ত হওয়ার ইচ্ছাও প্রকাশ করে। এছাড়া ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি নিউ অরলিন্সে ভিড়ের মধ্যে ট্রাক তুলে দিয়ে ১৪ জনকে হত্যাকারী এক ব্যক্তির প্রতিও সে সমর্থন জানিয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। গত বুধবার ইউএস ম্যাজিস্ট্রেট জজ এলিজাবেথ কাওয়ান রাইটের আদালতে মোহামুদকে প্রথমবার হাজির করা হয়। বর্তমানে তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড সংঘটনের উদ্দেশ্যে জ্ঞাতসারে আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদ গ্রহণের একটি অভিযোগ আনা হয়েছে। উল্লেখ্য, মল অব আমেরিকা হলো যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তম শপিংমল, যেখানে একটি থিম পার্ক, একটি অ্যাকুয়ারিয়াম এবং ৫০০টিরও বেশি দোকান রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা করা আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য কাজের অনুমতি পাওয়ার প্রক্রিয়া আরও ব্যয়বহুল করার প্রস্তাব দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। নতুন প্রস্তাব কার্যকর হলে এফ-১ ভিসাধারী শিক্ষার্থীদের ঐচ্ছিক ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ বা ওপিটির জন্য ৭০ হাজার ডলার পর্যন্ত ফি দিতে হতে পারে। একই শিক্ষার্থীর অতিরিক্ত কাজের প্রশিক্ষণের জন্য আরও ৩০ হাজার ডলার ফি নেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ বুধবার প্রকাশিত সরকারি নোটিশে এই প্রস্তাব দিয়েছে। সরকারি নথি অনুযায়ী, এফ-১ ভিসায় থাকা কোনো শিক্ষার্থীকে ঐচ্ছিক ব্যবহারিক প্রশিক্ষণের জন্য সুপারিশ করার ক্ষেত্রে অনুমোদিত প্রতিষ্ঠানকে ৭০ হাজার ডলারের ফি দিতে হবে। পরবর্তী অতিরিক্ত প্রশিক্ষণের জন্য আরও ৩০ হাজার ডলার ফি প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে এই ৭০ হাজার ডলারের ফি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। এটি হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের প্রস্তাবিত নিয়ম। প্রস্তাবটির ওপর ৩০ দিন জনসাধারণের মতামত নেওয়া হবে। এরপর বিভাগটি নিয়মটি চূড়ান্ত করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে। চূড়ান্ত হলে নিয়ম কার্যকর করার আগে আরও ৬০ দিন সময় দেওয়ার কথা জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এই সময়ের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়, শিক্ষার্থী ও নিয়োগদাতারা নতুন নিয়মের জন্য প্রস্তুতি নিতে পারবেন। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য ঐচ্ছিক ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ একটি গুরুত্বপূর্ণ কর্মসংস্থানের পথ। এফ-১ ভিসায় পড়াশোনা করা শিক্ষার্থীরা নিজেদের শিক্ষার সঙ্গে সম্পর্কিত ক্ষেত্রে বাস্তব কাজের অভিজ্ঞতা নেওয়ার সুযোগ পান। পড়াশোনা চলাকালীন নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে কাজের প্রশিক্ষণ নেওয়া যায়। স্নাতক শেষ করার পরও নির্দিষ্ট সময় এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কাজ করার সুযোগ থাকে। বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিত বিষয়ে ডিগ্রিধারী শিক্ষার্থীরা নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করলে অতিরিক্ত সময়ের জন্যও এই সুবিধা পেতে পারেন। ফলে যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষা নেওয়া বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য এই কর্মসূচি শুধু কাজের অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ নয়, বরং পড়াশোনা শেষে দেশটিতে পেশাজীবন শুরু করার গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ। বর্তমানে ঐচ্ছিক ব্যবহারিক প্রশিক্ষণের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের খরচ প্রস্তাবিত ৭০ হাজার ডলারের তুলনায় অনেক কম। সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বর্তমান ফি প্রায় ৫০০ ডলারের কাছাকাছি বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে নতুন প্রস্তাব কার্যকর হলে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য খরচে ব্যাপক পরিবর্তন আসবে। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ বলছে, নতুন ফি নির্ধারণের উদ্দেশ্য হলো কর্মসংস্থানভিত্তিক প্রশিক্ষণ ব্যবস্থায় প্রতারণা ও অপব্যবহার কমানো, অভিবাসন ব্যবস্থার কার্যকারিতা ও স্বচ্ছতা বাড়ানো এবং মার্কিন কর্মীদের সুরক্ষা দেওয়া। বিভাগের ভাষ্য, শিক্ষার্থী, নিয়োগদাতা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যেন এফ-১ ভিসার নিয়মের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কার্যক্রমে যুক্ত থাকে, তা নিশ্চিত করতেই এই ফি নির্ধারণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তবে প্রস্তাবটি কার্যকর হলে এর প্রভাব শুধু আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ওপর সীমাবদ্ধ থাকবে না। যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয় এবং নিয়োগদাতারাও এর প্রভাবের মুখে পড়তে পারেন। কারণ ঐচ্ছিক ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ অনেক শিক্ষার্থীর জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা শেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের চাকরির বাজারে প্রবেশের প্রধান পথ। বিশেষ করে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিত বিষয়ে পড়াশোনা করা শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচির মাধ্যমে কাজের অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। পরবর্তী সময়ে তাদের অনেকেই এইচ-১বি ভিসার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘমেয়াদি চাকরির সুযোগ খোঁজেন। এইচ-১বি ভিসা যুক্তরাষ্ট্রে দক্ষ বিদেশি কর্মীদের কাজের সুযোগ দেওয়ার অন্যতম প্রধান ব্যবস্থা। ভারত ও চীনসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আসা প্রকৌশলী, বিজ্ঞানী ও প্রযুক্তিবিদদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা থেকে চাকরি এবং পরবর্তী সময়ে স্থায়ীভাবে বসবাসের পথ তৈরিতে এই ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। দেশটির বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোও দীর্ঘদিন ধরে দক্ষ বিদেশি কর্মীদের ওপর নির্ভর করে আসছে। নতুন ঐচ্ছিক ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ ফি প্রস্তাবটি ট্রাম্প প্রশাসনের বিদেশি ভিসাধারীদের ওপর কঠোর নীতির ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রশাসন এর আগে এইচ-১বি ভিসার ক্ষেত্রেও বড় অঙ্কের ফি আরোপের উদ্যোগ নিয়েছে। সেই ১ লাখ ডলারের এইচ-১বি ফি নিয়েও আদালতে আইনি চ্যালেঞ্জ হয়েছে। নতুন প্রস্তাবটিও আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে বলে অভিবাসন ও বিদেশি দক্ষ কর্মীদের নিয়ে কাজ করা ব্যক্তিরা মনে করছেন। বিদেশি বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিত পেশাজীবীদের যুক্তরাষ্ট্রে আকৃষ্ট করার কাজে যুক্ত ট্যালেন্ট মোবিলিটি ফান্ডের পরিচালক ডগ র্যান্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম লিংকডইনে প্রস্তাবটির সমালোচনা করেছেন। তার মতে, নতুন নিয়মটি আদালতে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে। প্রস্তাবটি ট্রাম্প প্রশাসনের আগের বক্তব্যের সঙ্গেও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। ২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারণার সময় ট্রাম্প বিদেশি শিক্ষার্থীদের যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা শেষ করার পর দেশটিতে থেকে যাওয়ার সুযোগ সহজ করার কথা বলেছিলেন। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক হওয়া বিদেশি শিক্ষার্থীদের স্বয়ংক্রিয়ভাবে গ্রিন কার্ড দেওয়ার বিষয়েও তিনি ইতিবাচক মন্তব্য করেছিলেন। তবে এখন প্রস্তাবিত নতুন ফি কার্যকর হলে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা শেষে কাজের সুযোগ পাওয়া অনেক বেশি ব্যয়বহুল হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে ৭০ হাজার ডলারের প্রস্তাবিত ফি অনেক শিক্ষার্থীর জন্য বড় আর্থিক বাধা তৈরি করতে পারে। তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই নিয়ম এখনো চূড়ান্ত হয়নি। আগামী ৩০ দিন প্রস্তাবটির ওপর জনসাধারণ ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মতামত নেওয়া হবে। এরপর হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। নিয়মটি চূড়ান্ত হলেও তা কার্যকর হওয়ার আগে আরও ৬০ দিনের প্রস্তুতির সময় দেওয়ার কথা রয়েছে। ফলে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা শেষে কাজের সুযোগের ক্ষেত্রে ৭০ হাজার ডলারের ফি শেষ পর্যন্ত বাস্তবে কার্যকর হবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। বিষয়টি নির্ভর করছে জনমত গ্রহণ, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত এবং সম্ভাব্য আইনি চ্যালেঞ্জের ওপর।
চলতি বছর ইসরায়েলের সঙ্গে রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর বাস্তুচ্যুত হওয়া লেবাননের নাগরিকদের সহায়তার জন্য ইরান থেকে ২০ কোটি ডলার পেয়েছে সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। অর্থ স্থানান্তরের সঙ্গে সরাসরি জড়িত দুটি নির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানা গেছে। তবে এই দাবি পুরোপুরি নাকচ করে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র টমি পিগট এক বিবৃতিতে এটিকে হিজবুল্লাহর 'মুখ রক্ষার ভুয়া গল্প' হিসেবে অভিহিত করে দাবি করেছেন, তাদের কাছে এমন কোনো অর্থ নেই। মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ও জানিয়েছে, তীব্র নিষেধাজ্ঞার মুখে থাকা তেহরানের হাতে অর্থ স্থানান্তর বা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে তহবিল জোগানোর মতো অর্থ নেই। সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ওয়াশিংটনের কঠোর অর্থনৈতিক অবরোধ ও নজরদারি সত্ত্বেও গত মাসে এই বিপুল পরিমাণ অর্থ বৈরুতে পৌঁছেছে। চরম ঝুঁকির কারণে অর্থ স্থানান্তরের সঙ্গে যুক্ত মধ্যস্থতাকারীরা স্বাভাবিকের তুলনায় চার গুণ বেশি, অর্থাৎ প্রায় ২০ শতাংশ কমিশন কেটে রেখেছে। হিজবুল্লাহর এক কর্মকর্তা নির্দিষ্ট অঙ্ক প্রকাশ না করে নিশ্চিত করেছেন যে একটি তহবিল নিশ্চিত করা হয়েছে এবং আগামী কয়েক দিনের মধ্যে তা বণ্টনের পরিকল্পনা ঘোষণা করা হবে। তবে এ বিষয়ে ইরান ও লেবানন সরকারের কোনো তাৎক্ষণিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি। প্রাপ্ত এই তহবিল থেকে ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় ৫০ হাজার পরিবারের প্রত্যেককে প্রাথমিকভাবে ৩ হাজার ডলার করে সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। বিশেষ করে ইসরায়েলি হামলায় যেসব গ্রাম সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে কিংবা দখলের কারণে যেগুলোতে আর ফেরা সম্ভব নয়, সেসব এলাকার বাসিন্দাদের এ ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। গত ২ মার্চ আঞ্চলিক যুদ্ধে হিজবুল্লাহ জড়িয়ে পড়ার পর ইসরায়েলের ব্যাপক বোমাবর্ষণ ও অভিযানে লেবাননের লাখ লাখ শিয়া মুসলিম বাস্তুচ্যুত হন। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এ সংঘাতে এ পর্যন্ত ৪ হাজার ৩০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন এবং লেবানন সরকারের হিসাবে সার্বিক ক্ষয়ক্ষতি পুনর্নির্মাণে প্রায় ২ হাজার ৭০০ কোটি ডলারের বেশি প্রয়োজন হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রে মৃ ত্যুদণ্ড নিয়ে জনমত এখনও পুরোপুরি বদলে যায়নি। সাম্প্রতিক একাধিক জরিপে দেখা গেছে, দেশটির অধিকাংশ মানুষ হ ত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তির জন্য মৃ ত্যুদণ্ডকে সমর্থন করেন। তবে কয়েক দশক আগের তুলনায় এই সমর্থন উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। একই সঙ্গে মৃ ত্যুদণ্ড নৈতিকভাবে কতটা গ্রহণযোগ্য এবং গুরুতর অপরাধ ঠেকাতে এটি আদৌ কার্যকর কি না—এসব প্রশ্নে মার্কিন নাগরিকদের মধ্যে স্পষ্ট বিভক্তি দেখা যাচ্ছে। পিউ রিসার্চের জুলাই ২০২৬ সালের জরিপে ৬৬ শতাংশ মার্কিন প্রাপ্তবয়স্ক বলেছেন, হ ত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তির ক্ষেত্রে মৃ ত্যুদণ্ডের পক্ষে তারা। বিপরীতে ৩২ শতাংশ এর বিরোধিতা করেছেন। ৩ হাজার ৫৫৪ জন মার্কিন প্রাপ্তবয়স্কের ওপর পরিচালিত এই জরিপে মৃ ত্যুদণ্ডের নৈতিকতা এবং অপরাধ প্রতিরোধে এর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন করা হয়। জরিপের ফলাফলে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈপরীত্য উঠে এসেছে। ৬৮ শতাংশ মানুষ বলেছেন, হ ত্যার মতো অপরাধের ক্ষেত্রে মৃ ত্যুদণ্ড নৈতিকভাবে ন্যায়সংগত। কিন্তু একই সময়ে ৫৯ শতাংশ মার্কিন নাগরিক মনে করেন, মৃ ত্যুদণ্ড গুরুতর অপরাধ সংঘটন থেকে মানুষকে বিরত রাখে না। অর্থাৎ, অনেক আমেরিকান এই শাস্তিকে নৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্য মনে করলেও অপরাধ দমনে এর কার্যকারিতা নিয়ে তারা নিশ্চিত নন। কয়েক দশকে কমেছে সমর্থন মৃ ত্যুদণ্ডের প্রতি আমেরিকানদের সমর্থন একসময় বর্তমানের তুলনায় অনেক বেশি ছিল। গ্যালাপের দীর্ঘমেয়াদি জরিপ অনুযায়ী, ১৯৯৪ সালে ৮০ শতাংশ মার্কিন নাগরিক হ ত্যার দায়ে দোষী ব্যক্তির জন্য মৃ ত্যুদণ্ডের পক্ষে ছিলেন। কয়েক দশক পর সেই সমর্থন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে। ২০২৫ সালের গ্যালাপ জরিপে ৫২ শতাংশ মানুষ মৃ ত্যুদণ্ডের পক্ষে মত দেন, আর ৪৪ শতাংশ এর বিরোধিতা করেন। অর্থাৎ, মৃ ত্যুদণ্ড এখনও সংখ্যাগরিষ্ঠের সমর্থন পেলেও পক্ষে-বিপক্ষের ব্যবধান এখন আগের তুলনায় অনেক কম। নৈতিকতার প্রশ্নেও একই ধরনের পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। ২০২৬ সালের জুনের গ্যালাপ জরিপে মাত্র ৫২ শতাংশ আমেরিকান বলেছেন, মৃ ত্যুদণ্ড নৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্য। গ্যালাপের হিসাবে, এটি তাদের জরিপে এ ধরনের মতামতের সর্বনিম্ন পর্যায়। রাজনৈতিক বিভাজনও স্পষ্ট মৃ ত্যুদণ্ড নিয়ে মার্কিন জনমতে রাজনৈতিক বিভাজনও বড় ভূমিকা রাখছে। পিউ রিসার্চের জরিপে রিপাবলিকান ও রিপাবলিকানপন্থী স্বতন্ত্র ভোটারদের মধ্যে ৮৪ শতাংশ মৃ ত্যুদণ্ডের পক্ষে ছিলেন। অন্যদিকে ডেমোক্র্যাট ও ডেমোক্র্যাটপন্থী ভোটারদের মধ্যে সমর্থনের হার ছিল ৫১ শতাংশ। এর ফলে দেখা যাচ্ছে, মৃ ত্যুদণ্ড নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে শুধু নৈতিক অবস্থানের পার্থক্য নয়, রাজনৈতিক মতাদর্শের সঙ্গেও দৃষ্টিভঙ্গির বড় সম্পর্ক রয়েছে। রিপাবলিকানদের মধ্যে সমর্থন তুলনামূলকভাবে বেশি হলেও ডেমোক্র্যাটদের মধ্যেও অর্ধেকের বেশি মানুষ নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে এই শাস্তির পক্ষে রয়েছেন। তবে মৃ ত্যুদণ্ডের ক্ষেত্রে ভুল সিদ্ধান্তের আশঙ্কা নিয়ে বড় ধরনের উদ্বেগ রয়েছে। পিউয়ের জরিপে ৭৩ শতাংশ মার্কিন নাগরিক বলেছেন, কোনো নিরপরাধ ব্যক্তিকে মৃ ত্যুদণ্ড দেওয়ার কিছুটা ঝুঁকি রয়েছে। মাত্র এক-চতুর্থাংশ মনে করেন, এমন ভুল ঠেকানোর জন্য পর্যাপ্ত সুরক্ষা ব্যবস্থা রয়েছে। ব্যর্থ কার্যকরণে নতুন করে প্রশ্ন মৃ ত্যুদণ্ড নিয়ে এই বিতর্কের মধ্যেই টেনেসিতে একটি ব্যর্থ কার্যকরণের ঘটনা বিষয়টিকে আরও আলোচনায় এনেছে। ৩০ সেপ্টেম্বর ক্রিস্টা পাইকের মৃ ত্যুদণ্ড কার্যকর করার সময় তাকে প্রাণঘাতী ইনজেকশনের ওষুধ পেন্টোবারবিটালের দুই ডোজ দেওয়া হয়। কিন্তু তিনি বেঁচে যান। পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তার আইনজীবীরা জানান, তিনি সচেতন ছিলেন ও কথা বলছিলেন। ঘটনাটি কেন ঘটেছে, তা নিয়ে তখনও নিশ্চিত ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। পাইকের আইনজীবীরা অভিযোগ করেন, ইনজেকশনের শিরার লাইন সঠিকভাবে স্থাপন করা হয়নি। টেনেসিতে একই বছরে এটি ছিল দ্বিতীয় ব্যর্থ মৃ ত্যুদণ্ড কার্যকরণের ঘটনা। এর আগে মে মাসে টনি কারাদার্সের মৃ ত্যুদণ্ড কার্যকর করার চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে শিরায় প্রবেশের পথ তৈরি করার চেষ্টা করেও সফল না হওয়ায় কার্যক্রম বাতিল করা হয়। ক্রিস্টা পাইকের ঘটনার পর টেনেসির গভর্নর বিল লি রাজ্যের ২০২৬ সালের বাকি মৃ ত্যুদণ্ড কার্যকরণ স্থগিত করেন এবং তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে পুরো প্রক্রিয়া পর্যালোচনার নির্দেশ দেন। তবে অন্য কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে নির্ধারিত কার্যকরণ পরিকল্পনা অনুযায়ী এগিয়ে যায়। ট্রাম্প প্রশাসনের অবস্থান মৃ ত্যুদণ্ডের প্রশ্নে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরেই এর পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি একটি নির্বাহী আদেশে গুরুতর ফেডারেল অপরাধের ক্ষেত্রে মৃ ত্যুদণ্ড চাওয়ার বিষয়ে বিচার বিভাগকে পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দেন। আদেশে মৃ ত্যুদণ্ডকে সবচেয়ে গুরুতর অপরাধের ক্ষেত্রে শাস্তি ও অপরাধ প্রতিরোধের একটি গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হিসেবে তুলে ধরা হয়। চলতি সপ্তাহেও ট্রাম্প প্রশাসনের সিদ্ধান্তে মৃ ত্যুদণ্ড কার্যকরণের পদ্ধতি নিয়ে নতুন আলোচনা তৈরি হয়েছে। সব মিলিয়ে সাম্প্রতিক জরিপগুলো দেখাচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রে মৃ ত্যুদণ্ডের পক্ষে এখনও সংখ্যাগরিষ্ঠ জনমত রয়েছে। কিন্তু ১৯৯০-এর দশকের ৮০ শতাংশ সমর্থনের তুলনায় বর্তমান অবস্থান অনেক দুর্বল। বিশেষ করে শাস্তিটির নৈতিক গ্রহণযোগ্যতা, অপরাধ প্রতিরোধে কার্যকারিতা এবং নিরপরাধ ব্যক্তির ক্ষেত্রে ভুল সিদ্ধান্তের ঝুঁকি—এই তিনটি বিষয় আমেরিকানদের মতামতকে ক্রমেই বিভক্ত করছে। অর্থাৎ, যুক্তরাষ্ট্রে মৃ ত্যুদণ্ডের প্রতি আস্থা এখনও পুরোপুরি শেষ হয়নি। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই শাস্তিকে ঘিরে প্রশ্ন বাড়ছে, আর জনমতের ব্যবধানও ধীরে ধীরে সংকুচিত হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রে অতি সংক্রামক রোগ হামের নজিরবিহীন প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। চলতি বছর দেশটির ৪৭টি অঙ্গরাজ্য ও রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে এখন পর্যন্ত প্রায় ৩ হাজার ৯০০ জন এই রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। গত সোমবার নতুন করে ১০৯ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হওয়ার পর নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের গভর্নর ক্যাথি হোকুল সেখানে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন। অন্যদিকে, পেনসিলভেনিয়ায় গত তিন দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় হামের প্রাদুর্ভাব রেকর্ড করা হয়েছে। চলতি সপ্তাহে সেখানে আক্রান্তের সংখ্যা এক হাজার ছাড়িয়ে গেছে। অঙ্গরাজ্য কর্তৃপক্ষ হামে পাঁচজনের মৃত্যুর খবর জানালেও, ফেডারেল স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা মাত্র দুজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এ নিয়ে গত আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্যমন্ত্রী রবার্ট এফ কেনেডি জুনিয়র পেনসিলভেনিয়ার মৃত্যুর তথ্যকে ‘মনগড়া’ আখ্যা দিয়েছিলেন এবং সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনকে (সিডিসি) মৃত্যু গণনার পদ্ধতি পরিবর্তনের নির্দেশ দিয়েছিলেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মার্কিন স্বাস্থ্য ও মানবসেবা অধিদপ্তরের (এইচএইচএস) অধীনে সিডিসি দেশজুড়ে ব্যাপক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। সংস্থাটির এক মুখপাত্র সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্টকে জানিয়েছেন, টেক্সাস, দক্ষিণ ক্যারোলিনা, ভার্জিনিয়া, ক্যানসাস, নিউ মেক্সিকো এবং উইসকনসিনে বিশেষ মহামারি তদন্তকারী দল মোতায়েন করা হয়েছে। প্রয়োজন সাপেক্ষে নিউইয়র্কেও মহামারি ও অন্যান্য বিশেষজ্ঞদের পাঠাতে প্রস্তুত রয়েছে তারা। উল্লেখ্য, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, যা আক্রান্ত ব্যক্তির কাশি বা হাঁচির মাধ্যমে দ্রুত বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে। এর জীবাণু বাতাসে বা কোনো পৃষ্ঠে প্রায় দুই ঘণ্টা পর্যন্ত বেঁচে থাকতে পারে। তীব্র জ্বর, শরীরে ফুসকুড়ি, কাশি ও চোখ লাল হয়ে যাওয়ার মতো প্রাথমিক উপসর্গ থাকা এই রোগটি গুরুতর আকার ধারণ করলে নিউমোনিয়া, মস্তিষ্কে প্রদাহ এমনকি মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। তবে এমএমআর টিকার দুটি ডোজ গ্রহণের মাধ্যমে এই মারাত্মক রোগ থেকে দীর্ঘমেয়াদি ও কার্যকর সুরক্ষা পাওয়া সম্ভব।
যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের শৈশবের শহর হিসেবে পরিচিত ওহাইওর মেইনভিলসহ আশপাশের এলাকায় হাজার হাজার উজবেক অভিবাসীর ব্যাপক আগমনের ফলে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, এই অভিবাসীরা সেখানে শত শত অবৈধ ও অনিরাপদ বাণিজ্যিক ট্রাকিং ব্যবসা পরিচালনা করছেন। বাটলার ও ওয়ারেন কাউন্টিতে গড়ে ওঠা এসব ট্রাকিং কোম্পানি মূলত বিভিন্ন আবাসিক ঠিকানা ব্যবহার করে কার্যক্রম চালাচ্ছে এবং পরিবহন আইনের চরম লঙ্ঘন করে ভুয়া তথ্য দিয়ে ব্যবসা প্রসারিত করছে। এই আকস্মিক অভিবাসী ঢলের কারণে স্থানীয় একটি স্কুলে বর্তমানে ১২ শতাংশ শিক্ষার্থী ইংরেজি বলতে অক্ষম, যাদের বেশিরভাগই মধ্য এশিয়া থেকে আসা। ট্রাকিং ব্যবসার এই জালিয়াতির মাত্রা রীতিমতো বিস্ময়কর। মেইনভিলের মাত্র ২২টি আবাসিক ঠিকানায় একাধিক ট্রাকিং কোম্পানি নিবন্ধিত রয়েছে, যা পরিবহন শিল্পের ভাষায় ‘ক্যামেলিয়ন কোম্পানি’ বা বহুরূপী প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত। কোনো কোম্পানির বিরুদ্ধে অনিরাপদ রেটিং বা অতিরিক্ত নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠলে তারা সহজেই একই ঠিকানায় নতুন নামে আরেকটি কোম্পানি খুলে বসে। উদাহরণস্বরূপ, ‘বাদ্রি বি এলএলসি’ নামের একটি কোম্পানি সরকারি নথিতে দাবি করেছে যে, তাদের ২৩ হাজার ১টি ট্রাক রয়েছে, যার সবগুলোই লভল্যান্ডের একটিমাত্র অ্যাপার্টমেন্ট থেকে পরিচালিত হয়! এছাড়া ওয়েস্ট চেস্টারের ‘শোদ এক্সপ্রেস এলএলসি’ নামের অপর একটি কোম্পানি মাত্র ৫২ জন চালক দিয়ে এক বছরে ৪ কোটি ১০ লাখ মাইল পাড়ি দেওয়ার অবাস্তব দাবি করেছে। মূলত প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে এবং নিজেদের নিরাপদ হিসেবে প্রমাণ করতেই তারা এসব ভুয়া মাইলেজ ও ট্রাকের হিসাব দেখায়। অদক্ষ ও ইংরেজি না জানা এসব চালকের কারণে রাস্তায় ভয়াবহ সব দুর্ঘটনা ঘটছে। ওহাইওর ইন্টারস্টেট ৭১ মহাসড়কে বেখজোদ আসরারভ নামের এক উজবেক চালকের ট্রাকের ধাক্কায় টোবি ফরসিথে নামের ২১ বছর বয়সী এক কলেজছাত্র নিহত হন। আসরারভ জো বাইডেনের ডাইভার্সিটি ভিসা লটারির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছিলেন এবং তিনি একেবারেই ইংরেজি বলতে পারতেন না। এছাড়া পার্শ্ববর্তী ইন্ডিয়ানা সীমান্তে আরেক অবৈধ অভিবাসী চালকের ট্রাকের ধাক্কায় চারজন আমিশ নির্মাণশ্রমিক প্রাণ হারান। শুধু সড়ক দুর্ঘটনাই নয়, স্থানীয় বাসিন্দারা এসব অভিবাসীর বিরুদ্ধে যৌন হয়রানি, মানব পাচার এবং ধর্ষণের মতো গুরুতর অভিযোগও তুলেছেন। ২০১৯ সালে ১৩ বছরের এক কিশোরীকে ধর্ষণ ও অপহরণের দায়ে সম্প্রতি এক উজবেক চালকের সাজা হওয়ার পর পুরো শহর জুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ওহাইও অঙ্গরাজ্যে কমার্শিয়াল ড্রাইভার্স লাইসেন্স (সিডিএল) পাওয়ার জন্য ইংরেজি জানা বাধ্যতামূলক এবং অ-নাগরিকদের এই লাইসেন্স দেওয়া হয় না। তাই এই বাধা এড়াতে অভিবাসী চালকরা দলবেঁধে নিউইয়র্কের ব্রুকলিনের কনি আইল্যান্ডের ডিএমভি-তে গিয়ে লাইসেন্স সংগ্রহ করছেন, কারণ নিউইয়র্কে অবৈধ অভিবাসীদেরও সিডিএল দেওয়া হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ট্রাম্প প্রশাসন সম্প্রতি অ-নাগরিক চালকদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে এবং নিরাপত্তা লঙ্ঘন ও ইংরেজি দক্ষতার অভাবে ২৭০টি সিডিএল স্কুল বন্ধ করে দিয়েছে। এমনকি বিদেশি নাগরিকদের দেওয়া সিডিএল বাতিল করতে অস্বীকৃতি জানানোয় নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের ৭ কোটি ৩০ লাখ ডলারের ফেডারেল হাইওয়ে তহবিলও আটকে দিয়েছে ডট (DOT)।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের লং আইল্যান্ডে এক অভিনব প্রতারণার মাধ্যমে ৭৩ বছর বয়সী এক বৃদ্ধার গলার সোনার চেইন চুরির ঘটনা ঘটেছে। নাসাউ কাউন্টি পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে মিরোবেলা লাকাতুসু (২৬) এবং রুডি লাকাতুসু (২৮) নামের এক রোমানিয়ান দম্পতিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা একটি গাড়ি নিয়ে ওই বৃদ্ধার কাছে রাস্তা জিজ্ঞেস করার ছলনায় এগিয়ে আসে এবং পরবর্তীতে তাকে আলিঙ্গন করার সুযোগ নিয়ে অত্যন্ত কৌশলে প্রায় ২ হাজার ডলার মূল্যের আসল সোনার চেইনটি চুরি করে পালিয়ে যায়। পুলিশের দেওয়া তথ্যমতে, গত সোমবার বিকেলে ভ্যালি স্ট্রিম এলাকায় ওই বৃদ্ধার বাড়ির সামনে এই ঘটনাটি ঘটে। অভিযুক্ত ওই দম্পতি একটি সোনালি রঙের মিতসুবিশি গাড়িতে করে সেখানে আসে। মিরোবেলা গাড়ির জানালার কাচ নামিয়ে বৃদ্ধার কাছে স্থানীয় 'বিজে'স হোলসেল ক্লাব'-এ যাওয়ার রাস্তা জানতে চান। ওই বৃদ্ধা সহজ সরলভাবে তাদের পথ দেখিয়ে দিলে, মিরোবেলা অদ্ভুতভাবে তাকে জড়িয়ে ধরে ধন্যবাদ জানাতে চান। এ সময় উপহার হিসেবে তিনি বৃদ্ধাকে দুটি নকল সোনার চেইন পরিয়ে দেন এবং অত্যন্ত সুকৌশলে তার গলায় থাকা আসল সোনার চেইনটি খুলে নেন, যা চোরেরা পালিয়ে যাওয়ার অনেকক্ষণ পর পর্যন্ত বৃদ্ধা টেরই পাননি। প্রাথমিক তদন্তের পর গোয়েন্দারা দ্রুত এই চোর চক্রটিকে শনাক্ত করতে সক্ষম হন। তদন্তে জানা যায়, কানাডার অন্টারিওতে বসবাসরত এই রোমানিয়ান দম্পতি নাসাউ কাউন্টির বিভিন্ন স্থানে এ ধরনের আরও কয়েকটি প্রতারণা ও চুরির ঘটনার সঙ্গে জড়িত। তাদের বিরুদ্ধে গ্র্যান্ড লার্সেনি বা বড় ধরনের চুরির তিনটি অভিযোগ আনা হয়েছে। আপাতত তাদের ডেস্ক অ্যাপিয়ারেন্স টিকিট দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হলেও, আগামী ২০ অক্টোবর তাদের আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ধরনের প্রতারণার শিকার আরও কেউ হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করছে পুলিশ।
যুক্তরাষ্ট্রে এইচ-১বি (H-1B) ভিসা প্রোগ্রামের নিয়ম ভঙ্গকারী কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে কংগ্রেসে একটি নতুন বিল উত্থাপন করা হয়েছে। 'এইচ-১বি ভিসা ফ্রড ক্র্যাকডাউন অ্যাক্ট' নামের এই বিলটি আইনে পরিণত হলে আইন লঙ্ঘনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে আড়াই লাখ ডলার পর্যন্ত জরিমানা গুনতে হতে পারে। একই সঙ্গে এসব প্রতিষ্ঠানকে কেন্দ্রীয় অভিবাসন প্রোগ্রামগুলো থেকে সর্বোচ্চ ১০ বছরের জন্য নিষিদ্ধ করার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে এই বিলে। গত ১ অক্টোবর টেক্সাসের রিপাবলিকান প্রতিনিধি বেথ ভ্যান ডুইন বিলটি কংগ্রেসে উত্থাপন করেন। নতুন এই বিলের অন্যতম বড় পরিবর্তনটি আনা হয়েছে মূলত সেসব কোম্পানির বিরুদ্ধে, যারা এইচ-১বি প্রোগ্রামের মাধ্যমে ইচ্ছাকৃতভাবে মার্কিন কর্মীদের সরিয়ে বিদেশি কর্মী নিয়োগের চেষ্টা করে থাকে। এ ধরনের গুরুতর অপরাধ প্রমাণিত হলে বর্তমান ৩৫ হাজার ডলারের জরিমানার পরিমাণ বাড়িয়ে সর্বোচ্চ আড়াই লাখ ডলার করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। মার্কিন কর্মীদের স্বার্থে আনা এই পরিবর্তনটিকে জরিমানার ক্ষেত্রে একটি বড় উল্লম্ফন হিসেবে দেখা হচ্ছে। এছাড়া অভিবাসন কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞার মেয়াদও ৩ বছর থেকে বাড়িয়ে ১০ বছর করার কথা বলা হয়েছে। অন্যদিকে, ইচ্ছাকৃতভাবে এইচ-১বি-এর অন্যান্য নিয়ম ভাঙার ক্ষেত্রে জরিমানার সর্বোচ্চ সীমা ৫ হাজার ডলার থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ডলার করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। এসব ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞার ন্যূনতম মেয়াদ ২ বছর থেকে বাড়িয়ে ৫ বছর করা হবে। জরিমানার পাশাপাশি নথিপত্র বা ডকুমেন্ট-সংক্রান্ত জালিয়াতির শাস্তিও বহুগুণ বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে এই বিলে। বর্তমানে এ ধরনের অপরাধের জরিমানা ২৫০ থেকে ২ হাজার ডলারের মধ্যে থাকলেও, নতুন বিলে তা বাড়িয়ে ১ হাজার থেকে ১০ হাজার ডলার করার প্রস্তাব করা হয়েছে। অন্য একটি ক্যাটাগরিতে এই জরিমানা ২ হাজার থেকে ৫ হাজার ডলারের পরিবর্তে ২০ হাজার থেকে ৫০ হাজার ডলার পর্যন্ত হতে পারে। এই বিলের উদ্যোক্তা বেথ ভ্যান ডুইন জানিয়েছেন, বর্তমান শাস্তির বিধানগুলো এইচ-১বি প্রোগ্রামের অপব্যবহার রোধে মোটেও যথেষ্ট নয়। তার মতে, যেসব কোম্পানি ইচ্ছাকৃতভাবে এই নিয়মের অপব্যবহার করে সস্তায় শ্রম কিনছে এবং মার্কিন অর্থনীতি ও কর্মীদের ক্ষতিগ্রস্ত করছে, তাদের বড় ধরনের আর্থিক শাস্তির সম্মুখীন হওয়া উচিত। এই বিলে টেক্সাসের আরও পাঁচজন রিপাবলিকান আইনপ্রণেতা সহ-পৃষ্ঠপোষকতা করেছেন। তবে বিলটি এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং বর্তমানে এটি হাউজ জুডিশিয়ারি কমিটিতে পর্যালোচনার জন্য পাঠানো হয়েছে। এটি চূড়ান্তভাবে আইনে পরিণত হতে হলে মার্কিন কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ ও সিনেটে পাস হওয়ার পর তাতে প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষর প্রয়োজন হবে। উল্লেখ্য, হাজার হাজার ভারতীয় কর্মীসহ বিদেশি পেশাজীবীরা যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন কোম্পানিতে বিশেষায়িত পদে কাজের জন্য ব্যাপকভাবে এই এইচ-১বি ভিসা ব্যবহার করে থাকেন। তবে নতুন বিলটিতে মূল শাস্তি প্রস্তাব করা হয়েছে কেবল নিয়ম ভঙ্গকারী নিয়োগদাতাদের জন্যই।
যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত অভিবাসীদের স্থায়ী বসবাসের সুবিধা বা গ্রিন কার্ড পাওয়ার নিয়মে অযৌক্তিক কড়াকড়ি আরোপ করায় ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে বিভিন্ন শ্রমিক ইউনিয়ন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতি ও অভিবাসী অধিকার বিষয়ক সংগঠনগুলো। গত ৫ অক্টোবর ম্যাসাচুসেটসের ফেডারেল ডিস্ট্রিক্ট আদালতে ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস (ইউএসসিআইএস)-এর জারিকৃত দুটি বিতর্কিত নীতিকে চ্যালেঞ্জ করে এই মামলাটি করা হয়। বাদীদের দাবি, মে ও আগস্ট মাসে ঘোষিত এই নীতিগুলোর কারণে বহু যোগ্য অভিবাসী দেশ না ছেড়ে বৈধ উপায়ে স্থায়ী বাসিন্দা হওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ইউএসসিআইএস-এর নতুন নিয়মে ‘অ্যাডজাস্টমেন্ট অব স্ট্যাটাস’ বা দেশে অবস্থান করে গ্রিন কার্ড পাওয়ার দীর্ঘদিনের প্রতিষ্ঠিত প্রক্রিয়াকে ইচ্ছাকৃতভাবে সীমিত করা হয়েছে। মে মাসের নির্দেশনায় অভিবাসন কর্মকর্তাদের বলা হয়েছে, কোনো আবেদনকারী নিজ দেশে অবস্থিত মার্কিন কনস্যুলেটে না গিয়ে কেন যুক্তরাষ্ট্র থেকে আবেদন করেছেন, সেটিকে নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গিতে বিবেচনা করতে। অন্যদিকে, আগস্ট মাসের নীতিমালায় কর্মকর্তাদের এমন এখতিয়ার দেওয়া হয়েছে যাতে তারা কোনো অতিরিক্ত তথ্য-প্রমাণ চাওয়ার সুযোগ না দিয়েই সরাসরি আবেদন খারিজ করে দিতে পারেন। এমনকি অতীতে যারা আবেদন জমা দিয়ে ফলাফলের অপেক্ষায় আছেন, তাদের ক্ষেত্রেও এই কঠোর শর্তগুলো ভূতাপেক্ষভাবে প্রয়োগ করা হচ্ছে। মামলা দায়েরকারী আমেরিকান অ্যাসোসিয়েশন অব ইউনিভার্সিটি প্রফেসরস (এএইউপি), হার্ভার্ড ও বোস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন শাখা এবং সার্ভিস এমপ্লয়িজ ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন (এসইআইইউ)-এর মতো সংগঠনগুলো আদালতকে জানিয়েছে, নতুন এই নিয়মের ফলে পরিবার বিচ্ছিন্নতা, কর্মসংস্থানে বাধা এবং আন্তর্জাতিক মেধার অপচয়ের মতো মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। ইউএস ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ অর্থবছরে গ্রিন কার্ড পাওয়া মোট ১৩ লাখ ৬০ হাজার মানুষের মধ্যে প্রায় ৫৭ শতাংশই এই অ্যাডজাস্টমেন্ট প্রক্রিয়ায় আবেদন করেছিলেন। ডেমোক্রেসি ফরোয়ার্ডের প্রধান নির্বাহী স্কাই পেরিমান জানান, আইনসম্মতভাবে বছরের পর বছর যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস ও কাজ করা মানুষদের জন্য এটি চরম অবিচার। অন্যদিকে, প্রশাসনের পক্ষ থেকে মামলাটিকে ভিত্তিহীন হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়েছে। ইউএসসিআইএস-এর মুখপাত্র জ্যাক কেলার এক বিবৃতিতে বলেন, কংগ্রেসের মূল উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে এবং দেশের অভিবাসন আইন যথাযথভাবে প্রয়োগ করতে প্রশাসন বদ্ধপরিকর। বাদীরা আদালতকে এই নতুন বিধিনিষেধগুলো অবিলম্বে সাময়িকভাবে স্থগিত এবং পরবর্তীতে স্থায়ীভাবে বাতিল করার আবেদন জানিয়েছেন। আদালত অবশ্য এখনো এই মামলার বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো রুল জারি করেনি।
রিয়েল এস্টেটে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় কেবল সম্পত্তির বর্তমান দাম বা অবস্থান দেখলেই চলে না, বরং বাজার পরিস্থিতি থেকে শুরু করে নানা দিক সতর্কতার সঙ্গে বিশ্লেষণ করতে হয়। ফ্লোরিডার রিয়েলটর ও রিয়েল এস্টেট উদ্যোক্তা মঞ্জুর আহমেদের মতে, এই খাতে নিশ্চিত লাভের কোনো সুনির্দিষ্ট ফর্মুলা নেই। বিনিয়োগকারীকে নিজের গবেষণা, অভিজ্ঞতা ও বাস্তবসম্মত হিসাব-নিকাশের ওপর ভিত্তি করেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে হয়। এক্ষেত্রে প্রথমেই গুরুত্ব দিতে হবে মার্কেট রিসার্চ বা বাজার গবেষণার ওপর। একটি নির্দিষ্ট এলাকায় সম্পত্তির বর্তমান চাহিদা, বিগত বছরগুলোর দামের ওঠানামা এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতি, কর্মসংস্থান ও নতুন উন্নয়ন প্রকল্পগুলো গভীরভাবে পর্যালোচনা করা উচিত। একইসঙ্গে লোকেশন বা অবস্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি নিয়ামক, কারণ যাতায়াত ব্যবস্থা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বাণিজ্যিক কেন্দ্রগুলোর নৈকট্য সম্পত্তির ভবিষ্যৎ মূল্যবৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রাখে। এছাড়া সম্পত্তির বর্তমান বাজারদর যাচাই করে ভবিষ্যতে এর দাম বাড়ার বাস্তবসম্মত সম্ভাবনা আছে কি না, সে বিষয়েও পর্যাপ্ত তথ্য সংগ্রহ করে অগ্রসর হওয়া জরুরি। সম্পত্তির দাম বাড়ার প্রত্যাশার পাশাপাশি বিনিয়োগ থেকে সম্ভাব্য আয়ের বিষয়টিও পরিষ্কারভাবে হিসাব করতে হবে। বিনিয়োগের উদ্দেশ্যে কেনা সম্পত্তি ভাড়া দিয়ে কত আয় হতে পারে এবং সেই আয় দিয়ে প্রপার্টি ট্যাক্স, ইনস্যুরেন্স, মেরামত, রক্ষণাবেক্ষণ ও মর্টগেজ পেমেন্টের মতো নিয়মিত ও লুকায়িত খরচগুলো সামলানো যাবে কি না, তা আগে থেকেই নির্ধারণ করা প্রয়োজন। অন্যদিকে, যেকোনো বিনিয়োগের সঙ্গেই ঝুঁকি ওতপ্রোতভাবে জড়িত। অর্থনৈতিক মন্দা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, ভাড়ার চাহিদা কমে যাওয়া বা এলাকার উন্নয়ন পরিকল্পনায় হঠাৎ পরিবর্তনের মতো বিষয়গুলো যেকোনো সময় বিনিয়োগের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই কেবল সম্ভাব্য লাভের আশায় অন্ধ না হয়ে, সম্ভাব্য ক্ষতির দিকটিও আগে থেকে বিবেচনায় রাখা বুদ্ধিমানের কাজ। বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীর নিয়ন্ত্রণের বাইরের বিষয়গুলোও সমানভাবে প্রভাব ফেলে। বিশেষ করে স্থানীয় সরকারের ভূমি ব্যবহার নীতি, জোনিং, ট্যাক্স আইন বা অন্য কোনো সরকারি সিদ্ধান্ত সম্পত্তির মূল্য ও আয়ে ব্যাপক পরিবর্তন আনতে পারে। পাশাপাশি মর্টগেজ নিয়ে সম্পত্তি কিনলে সুদের হারের ওঠানামা মাসিক পেমেন্ট এবং দীর্ঘমেয়াদি মোট খরচে বড় ধরনের প্রভাব ফেলে। মঞ্জুর আহমেদের মতে, বাজার, অর্থনীতি বা সরকারি নীতির মতো বিষয়গুলো পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব না হলেও একজন সচেতন বিনিয়োগকারী তথ্য ও গবেষণার মাধ্যমে ঝুঁকি অনেকটাই কমিয়ে আনতে পারেন। তাই রিয়েল এস্টেটে দীর্ঘমেয়াদি সম্পদ গড়ার ক্ষেত্রে আবেগের বশবর্তী না হয়ে তথ্য, বাস্তবসম্মত হিসাব এবং নিজের আর্থিক সক্ষমতার কথা বিবেচনা করে সুচিন্তিত সিদ্ধান্ত নেওয়াই বিনিয়োগের সবচেয়ে নিরাপদ পথ।
যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যের ইতিহাসে গত ২০০ বছরের মধ্যে প্রথম নারী হিসেবে গত ৩০ সেপ্টেম্বর মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের কথা ছিল ক্রিস্টা পাইকের। কিন্তু দু'বার প্রাণঘাতী ইনজেকশন প্রয়োগের পরও আশ্চর্যজনকভাবে প্রাণে বেঁচে যান এই নারী। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রাণঘাতী ইনজেকশন থেকে বেঁচে ফেরা প্রথম মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হিসেবে মনে করা হচ্ছে তাকে। বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৫০ বছর বয়সী এই নারী সজাগ রয়েছেন এবং কথাও বলতে পারছেন। ১৯৯৫ সালের জানুয়ারিতে মাত্র ১৮ বছর বয়সে নিজের ১৯ বছর বয়সী সহপাঠী কলিন স্লেমারকে ঈর্ষার বশবর্তী হয়ে নির্মমভাবে হত্যার দায়ে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। গত বুধবার ডেভিডসন কাউন্টি চ্যান্সেরি কোর্টে এক জরুরি শুনানিতে এই ব্যর্থ মৃত্যুদণ্ড কার্যকর সংক্রান্ত সব প্রমাণ সংরক্ষণের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। শুনানিতে টেনেসির সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল জন ডব্লিউ. আয়ার্স জানান, বর্তমানে ক্রিস্টা পাইকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের কোনো আদেশ নেই এবং নতুন করে আদেশ আসারও কোনো সম্ভাবনা এই মুহূর্তে নেই। বিচারক আই’আশিয়া মাইলস জানতে চান, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের এই স্থগিতাদেশ কি স্থায়ী হবে, নাকি রাষ্ট্রপক্ষ এমন অবস্থান নেবে যে পাইকের মৃত্যুদণ্ড আর কখনোই কার্যকর করা হবে না? এর জবাবে আয়ার্স জানান, এ বিষয়ে মন্তব্য করার মতো অবস্থানে তিনি নেই এবং এই সিদ্ধান্তটি পুরোপুরি টেনেসি সুপ্রিম কোর্টের এখতিয়ারভুক্ত। উল্লেখ্য, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরে এই চরম ব্যর্থতার পরপরই টেনেসির গভর্নর বিল লি চলতি বছরের বাকি সব মৃত্যুদণ্ড কার্যকর স্থগিত ঘোষণা করে একটি স্বাধীন তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। এদিকে, ক্রিস্টা পাইকের আইনজীবী লুক ইহনেন জানিয়েছেন, রাষ্ট্রপক্ষ এমন কোনো প্রতিশ্রুতি দেয়নি যে ভবিষ্যতে তার মক্কেলের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হবে না। ভবিষ্যতে যেকোনো আইনি লড়াইয়ের জন্য মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সময়কার প্রমাণাদি সংরক্ষণ করা অত্যন্ত জরুরি বলে তিনি উল্লেখ করেন। আইনজীবীরা পাইকের শাস্তি মওকুফ করার জন্য গভর্নর লির কাছে আবেদন জানিয়ে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের মৃত্যুদণ্ডের ইতিহাসে অন্য যেকোনো ব্যক্তির চেয়ে তিনি ইতিমধ্যে সবচেয়ে বেশি শাস্তি ভোগ করেছেন। এই যুক্তির প্রেক্ষিতে বিচারক মাইলস প্রমাণ সংরক্ষণের নির্দেশ দিয়ে বলেন, এই ঘটনাটি সম্পূর্ণ ব্যতিক্রমী। তাই মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার কক্ষে থাকা সব কিছু, নজরদারি ফুটেজ, ভিডিও, হাতে লেখা নোট, সাক্ষীদের বক্তব্য এবং এনক্রিপ্ট করা বার্তাগুলো যথাযথভাবে সংরক্ষণ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ ধনকুবেরদের বিপুল সম্পদের ওপর প্রতি বছর ৫ শতাংশ হারে সম্পদ কর (Wealth Tax) আরোপের এক ঐতিহাসিক প্রস্তাব তুলে ধরেছেন দেশটির প্রভাবশালী সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স। প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য রো খান্নাকে সঙ্গে নিয়ে আনা এই নতুন প্রস্তাবে বলা হয়েছে, অন্তত ১০০ কোটি (১ বিলিয়ন) ডলার বা তার বেশি নিট সম্পদের অধিকারী ব্যক্তিদের ওপর এই কর কার্যকর হবে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ৯৩৮ জন এমন ধনকুবের রয়েছেন, যাদের সম্মিলিত সম্পদের পরিমাণ আনুমানিক ৮ দশমিক ২ ট্রিলিয়ন ডলার। অর্থনীতিবিদদের হিসাব অনুযায়ী, এই কর বাস্তবায়ন করা গেলে আগামী এক দশকে প্রায় ৪ দশমিক ৪ ট্রিলিয়ন ডলারের বিপুল রাজস্ব আদায় করা সম্ভব হবে। এই বিশাল রাজস্ব কীভাবে পুনর্বণ্টন ও জনকল্যাণে ব্যয় করা হবে, তার একটি বিস্তারিত রূপরেখাও প্রস্তাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। পরিকল্পনার অংশ হিসেবে কর আদায়ের প্রথম বছরেই বার্ষিক দেড় লাখ ডলার বা তার কম আয় করা পরিবারের প্রতিটি সদস্যকে ৩ হাজার ডলার করে সরাসরি নগদ অর্থ পাঠানো হবে। অর্থাৎ, চার সদস্যের একটি যোগ্য পরিবার এককালীন ১২ হাজার ডলার সহায়তা পাবে। কেবল নগদ অর্থ প্রদানই নয়, সরকারি স্কুলের শিক্ষকদের বার্ষিক ন্যূনতম বেতন ৬০ হাজার ডলারে উন্নীত করা, মেডিকেয়ার সেবায় দাঁত, চোখ ও কানের চিকিৎসার অন্তর্ভুক্তি, সাশ্রয়ী আবাসনের পরিধি বাড়ানো, চাইল্ডকেয়ারের ব্যয় হ্রাস এবং মেডিকেইডের মাধ্যমে হোম কেয়ার সেবা সম্প্রসারণের উদ্যোগও এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। প্রস্তাবিত এই কর ব্যবস্থাটি অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট; এটি কেবল শতকোটিপতিদের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হবে। উদাহরণস্বরূপ, কারও মোট সম্পদ ৯৯ কোটি ৯০ লাখ ডলার হলেও তাকে কোনো কর দিতে হবে না, কিন্তু কারও সম্পদ ১০ বিলিয়ন ডলার হলে তাকে বছরে প্রায় ৫০ কোটি ডলার কর দিতে হবে। তীব্র রাজনৈতিক বিভাজনের কারণে মার্কিন কংগ্রেসে প্রস্তাবটি পাস হওয়া বেশ চ্যালেঞ্জিং হলেও বিশ্লেষকদের মতে, ধনকুবেরদের সরাসরি করের আওতায় এনে রাষ্ট্রীয় বৈষম্য কমানো এবং জনকল্যাণমূলক খাতে অর্থায়নের ক্ষেত্রে এটি সাম্প্রতিক বছরগুলোর সবচেয়ে বড় ও আলোচিত প্রচেষ্টা।
যুক্তরাষ্ট্রের থার্ড মেরিন এক্সপেডিশনারি ফোর্সের এক সদস্যের বিরুদ্ধে জাপানি নারী হত্যার অভিযোগ ওঠার পর জাপানের ওকিনাওয়ায় অবস্থানরত মার্কিন সেনাদের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ ও সান্ধ্য আইন বা নাইট কারফিউ জারি করা হয়েছে। এর পাশাপাশি সেনাদের জন্য মদ্যপান সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি শৃঙ্খলাবিষয়ক বিশেষ প্রশিক্ষণও বাধ্যতামূলক করেছে মার্কিন সামরিক কর্তৃপক্ষ। স্থানীয় পুলিশ ও সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, গত শনিবার (৩ অক্টোবর) ওকিনাওয়ার রাজধানী নাহা শহরের একটি হোটেলে ৩৯ বছর বয়সী জাপানি নারী অ্যানা ইয়াগিকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। হত্যার পর ওই নারীর মানিব্যাগ ও ব্যাকপ্যাক চুরিরও অভিযোগ রয়েছে। এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের জেরে ডেভিন জ্যাকব ব্যালার্ড নামের ২০ বছর বয়সী এক মার্কিন ল্যান্স কর্পোরালকে গ্রেপ্তার করেছে স্থানীয় পুলিশ। এই ঘটনার পরই মার্কিন বাহিনীর পক্ষ থেকে দ্রুত কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়। থার্ড মেরিন এক্সপেডিশনারি ফোর্সের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, স্থানীয় জনগণের আস্থা ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা বজায় রাখতে এই পদক্ষেপগুলো অপরিহার্য। সেনাসদস্যদের আচরণগত পুনঃপ্রশিক্ষণ ও শৃঙ্খলার স্বার্থে ওকিনাওয়ায় মার্কিন বাহিনীর সব ধরনের কার্যক্রম ৪৮ ঘণ্টার জন্য স্থগিত রাখা হয়েছে এবং প্রতিদিন মধ্যরাত থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত নাইট কারফিউ বলবৎ থাকবে। জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি এই হত্যাকাণ্ডকে অত্যন্ত নির্মম আখ্যা দিয়ে মার্কিন সরকারের কাছে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তিনি ভবিষ্যতের জন্য কঠোর ও কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর জোর দিয়েছেন। জাপানে মোতায়েন প্রায় ১৮ হাজার মার্কিন মেরিন সেনার একটি বড় অংশই ওকিনাওয়ায় অবস্থান করে। দীর্ঘদিন ধরেই মার্কিন সেনাদের বিভিন্ন বিতর্কিত কর্মকাণ্ড ও অপরাধমূলক কাজের জেরে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ রয়েছে। সাম্প্রতিক এই হত্যাকাণ্ড সেই পুরনো ক্ষোভকে নতুন করে উসকে দিয়েছে, যা পূর্ব এশিয়ার নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
সাম্প্রতিক এক সভার কার্যবিবরণী বা মিনিটস থেকে জানা গেছে, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের অধিকাংশ কর্মকর্তাই চলতি বছর সুদের হার আরেক দফা বাড়ানোর পক্ষে মত দিয়েছেন। গত বুধবার প্রকাশিত ওই কার্যবিবরণীতে বলা হয়েছে, ফেডারেল রিজার্ভের নির্ধারিত ২ শতাংশ মূল্যস্ফীতির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে তেমন কোনো অগ্রগতি হয়নি। এই পরিস্থিতিতে দ্রব্যমূল্যের লাগাম টানতে গত ১৫-১৬ সেপ্টেম্বরের সভায় তারা তিন বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো সুদের হার শূন্য দশমিক ২৫ শতাংশ বাড়িয়ে প্রায় ৩.৯ শতাংশে উন্নীত করেছিল। সুদের হার বাড়ানোর এই সিদ্ধান্তটি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ক্রমাগত কমানোর আহ্বানের ঠিক উল্টো ছিল। এর ফলে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ফেডারেল রিজার্ভের সুদ-নির্ধারণী কমিটির তীব্র সমালোচনা করেন এবং তাদের ‘অত্যন্ত রাজনীতিকরণ’ করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেন। তবে চলতি বছরের শুরুতে তার নিজেরই নিয়োগ দেওয়া বর্তমান ফেড চেয়ারম্যান কেভিন ওয়ার্শের প্রতি তিনি এখনও সমর্থন ব্যক্ত করেছেন। আগামী মধ্যবর্তী নির্বাচনের ঠিক সাত সপ্তাহ আগে এই সুদের হার বৃদ্ধির ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটল, যখন সাধারণ মার্কিন নাগরিকরা মুদিপণ্য, জ্বালানি এবং বাসস্থানের উচ্চ ব্যয়ের কারণে ইতিমধ্যেই দিশেহারা। এছাড়া সরকারি ঋণ বৃদ্ধি, ডেটা সেন্টার নির্মাণে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর বিপুল ঋণ গ্রহণ, ইরান যুদ্ধের কারণে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি এবং সেমিকন্ডাক্টর ও কম্পিউটার সরঞ্জামের মূল্যবৃদ্ধির কারণে দীর্ঘমেয়াদি ঋণের সুদহারও গত কয়েক মাসে উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। ওয়াল স্ট্রিটের বিনিয়োগকারীদের ধারণা, ২৮-২৯ অক্টোবর অনুষ্ঠিতব্য পরবর্তী সভায় ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার অপরিবর্তিত রাখলেও ডিসেম্বরের সভায় তা আবারও বাড়ানো হতে পারে। ফেড চেয়ারম্যান কেভিন ওয়ার্শ গত মাসে এক সংবাদ সম্মেলনে স্পষ্ট জানিয়েছিলেন যে, মূল্যস্ফীতির হার দীর্ঘদিন ধরেই অত্যন্ত বেশি রয়েছে এবং তা দ্রুত নামিয়ে আনতে কমিটি কাজ করছে। যেহেতু মূল্যস্ফীতি লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে এখনও আড়াই থেকে তিন শতাংশ বেশি রয়েছে, তাই অর্থনীতিকে কিছুটা শীতল করার জন্য একাধিকবার সুদের হার বাড়ানোর প্রয়োজন হতে পারে বলে ফেডের অনেক নীতিনির্ধারক ইঙ্গিত দিয়েছেন।