সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

Today latest news

20 News
যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আবারও সুদের হার বাড়ানোর ইঙ্গিত ফেডারেল রিজার্ভের
যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আবারও সুদের হার বাড়ানোর ইঙ্গিত ফেডারেল রিজার্ভের

সাম্প্রতিক এক সভার কার্যবিবরণী বা মিনিটস থেকে জানা গেছে, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের অধিকাংশ কর্মকর্তাই চলতি বছর সুদের হার আরেক দফা বাড়ানোর পক্ষে মত দিয়েছেন। গত বুধবার প্রকাশিত ওই কার্যবিবরণীতে বলা হয়েছে, ফেডারেল রিজার্ভের নির্ধারিত ২ শতাংশ মূল্যস্ফীতির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে তেমন কোনো অগ্রগতি হয়নি।   এই পরিস্থিতিতে দ্রব্যমূল্যের লাগাম টানতে গত ১৫-১৬ সেপ্টেম্বরের সভায় তারা তিন বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো সুদের হার শূন্য দশমিক ২৫ শতাংশ বাড়িয়ে প্রায় ৩.৯ শতাংশে উন্নীত করেছিল।   সুদের হার বাড়ানোর এই সিদ্ধান্তটি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ক্রমাগত কমানোর আহ্বানের ঠিক উল্টো ছিল। এর ফলে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ফেডারেল রিজার্ভের সুদ-নির্ধারণী কমিটির তীব্র সমালোচনা করেন এবং তাদের ‘অত্যন্ত রাজনীতিকরণ’ করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেন। তবে চলতি বছরের শুরুতে তার নিজেরই নিয়োগ দেওয়া বর্তমান ফেড চেয়ারম্যান কেভিন ওয়ার্শের প্রতি তিনি এখনও সমর্থন ব্যক্ত করেছেন।   আগামী মধ্যবর্তী নির্বাচনের ঠিক সাত সপ্তাহ আগে এই সুদের হার বৃদ্ধির ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটল, যখন সাধারণ মার্কিন নাগরিকরা মুদিপণ্য, জ্বালানি এবং বাসস্থানের উচ্চ ব্যয়ের কারণে ইতিমধ্যেই দিশেহারা। এছাড়া সরকারি ঋণ বৃদ্ধি, ডেটা সেন্টার নির্মাণে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর বিপুল ঋণ গ্রহণ, ইরান যুদ্ধের কারণে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি এবং সেমিকন্ডাক্টর ও কম্পিউটার সরঞ্জামের মূল্যবৃদ্ধির কারণে দীর্ঘমেয়াদি ঋণের সুদহারও গত কয়েক মাসে উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।   ওয়াল স্ট্রিটের বিনিয়োগকারীদের ধারণা, ২৮-২৯ অক্টোবর অনুষ্ঠিতব্য পরবর্তী সভায় ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার অপরিবর্তিত রাখলেও ডিসেম্বরের সভায় তা আবারও বাড়ানো হতে পারে। ফেড চেয়ারম্যান কেভিন ওয়ার্শ গত মাসে এক সংবাদ সম্মেলনে স্পষ্ট জানিয়েছিলেন যে, মূল্যস্ফীতির হার দীর্ঘদিন ধরেই অত্যন্ত বেশি রয়েছে এবং তা দ্রুত নামিয়ে আনতে কমিটি কাজ করছে।   যেহেতু মূল্যস্ফীতি লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে এখনও আড়াই থেকে তিন শতাংশ বেশি রয়েছে, তাই অর্থনীতিকে কিছুটা শীতল করার জন্য একাধিকবার সুদের হার বাড়ানোর প্রয়োজন হতে পারে বলে ফেডের অনেক নীতিনির্ধারক ইঙ্গিত দিয়েছেন।

প্রকাশ : অক্টোবর ৭, ২০২৬ ১৫:৩০
নিউইয়র্কে সম্পর্ক জোড়া লাগাতে এসে প্রেমিকা ও ৫ মাসের শিশুকে  ১৫ তলা থেকে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ
নিউইয়র্কে সম্পর্ক জোড়া লাগাতে এসে প্রেমিকা ও ৫ মাসের শিশুকে ১৫ তলা থেকে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসে এক মর্মান্তিক ঘটনায় নিজের প্রেমিকা এবং ৫ মাস বয়সী কন্যা সন্তানকে ১৫ তলার বারান্দা থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। গত মঙ্গলবার ভোর ৩টা ৪০ মিনিটের দিকে ২৫৫০ অলিনভিল অ্যাভিনিউয়ের একটি অ্যাপার্টমেন্ট ভবনে এই ভয়াবহ ঘটনা ঘটে।   অভিযুক্ত ৩১ বছর বয়সী অ্যাঞ্জেল কারাস্কো বর্তমানে পলাতক রয়েছেন এবং পুলিশ তাকে হন্যে হয়ে খুঁজছে। এই ঘটনায় ২৩ বছর বয়সী প্রেমিকা নাথালি রামিরেজ ঘটনাস্থলেই নিহত হয়েছেন। তবে সৌভাগ্যবশত তাদের শিশু সন্তানটি বেঁচে গেলেও গুরুতর আহত অবস্থায় জ্যাকোবি হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে।   পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে জানা গেছে, ঘটনার দিন অ্যাঞ্জেল কারাস্কো তাদের টানাপোড়েনের সম্পর্ক জোড়া লাগানোর উদ্দেশ্যে এক তোড়া ফুল হাতে নিয়ে নাথালির অ্যাপার্টমেন্টে এসেছিলেন। এর আগে তার বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতার একাধিক অভিযোগ ছিল।   কিন্তু তাদের এই আপসের চেষ্টা ব্যর্থ হলে অ্যাঞ্জেল হঠাৎ ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এবং কোলে সন্তান থাকা অবস্থাতেই নাথালিকে ১৫ তলার বারান্দা থেকে নিচে ফেলে দেন। ঘটনার পরপরই অভিযুক্ত অ্যাঞ্জেল ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। তবে পুলিশ সেখানে সেই ফুলের তোড়াটি পড়ে থাকতে দেখে, যা দিয়ে সে মূলত সম্পর্ক ঠিক করার আশা করেছিল। এছাড়া ভবনের নিচে একটি ডায়াপার ও শিশুর কম্বল পড়ে থাকতে দেখা যায়।   এর আগে চলতি বছরেই অ্যাঞ্জেলের বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতার অভিযোগে অন্তত দু’বার মামলা হয়েছিল। গত ৫ জানুয়ারি নাথালিকে চড় মারার অভিযোগে এবং এর ঠিক তিন দিন পর ৮ জানুয়ারি নাথালির অ্যাপার্টমেন্টের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করার অপরাধে তিনি অভিযুক্ত হন।   শুধু তাই নয়, প্রাক্তন এক প্রেমিকাকে হুমকি দিয়ে মেসেজ পাঠানো এবং ২০১৬ সালে ভুয়া পরিচয় দেওয়া ও অবৈধ মাদক রাখার মতো অপরাধের রেকর্ডও তার রয়েছে।   নিহত নাথালি রামিরেজকে তার প্রতিবেশীরা অত্যন্ত 'মিষ্টি স্বভাবের' ও স্নেহময়ী মা হিসেবে বর্ণনা করেছেন। লিঙ্কডইন প্রোফাইলের তথ্যমতে, তিনি ব্রঙ্কস লিডারশিপ একাডেমি হাই স্কুল থেকে স্নাতক সম্পন্ন করে বারুচ কলেজে মনোবিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা করছিলেন।   পাশাপাশি ম্যানহাটনের 'লিশন কনসাল্টিং' নামের একটি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন। তার সহকর্মীদের মতে, তিনি অত্যন্ত কঠোর পরিশ্রমী, দৃঢ়চেতা এবং ক্যারিয়ারের লক্ষ্য পূরণে নিবেদিতপ্রাণ একজন তরুণী ছিলেন। তার এমন অকাল ও মর্মান্তিক মৃত্যুতে পরিবার ও পরিচিতদের মাঝে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

প্রকাশ : অক্টোবর ৭, ২০২৬ ১৪:৫৮
যুক্তরাষ্ট্রে কুস্তি বিশ্বচ্যাম্পিয়নশিপে যাওয়ার আগে ৯ ভারতীয় কুস্তিগীরের ভিসা বাতিল
যুক্তরাষ্ট্রে কুস্তি বিশ্বচ্যাম্পিয়নশিপে যাওয়ার আগে ৯ ভারতীয় কুস্তিগীরের ভিসা বাতিল

যুক্তরাষ্ট্রের লাস ভেগাসে আসন্ন অনূর্ধ্ব-২৩ বিশ্ব কুস্তি চ্যাম্পিয়নশিপে অংশগ্রহণ নিয়ে ভারতীয় দলে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ২০২৪ সালের অনূর্ধ্ব-১৭ বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন নেহা সাঙ্গোয়ানসহ ৯ জন প্রতিশ্রুতিশীল ভারতীয় কুস্তিগীরের মার্কিন ভিসা বাতিল করা হয়েছে। আগামী ১২ থেকে ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত অনুষ্ঠিতব্য এই টুর্নামেন্টের আগে বয়স কম এবং বেকারত্বের মতো অদ্ভুত অজুহাত দেখিয়ে তাদের ভিসা আবেদন প্রত্যাখ্যান করেছে মার্কিন দূতাবাস।   ভারতীয় কুস্তি ফেডারেশনের (ডব্লিউএফআই) দেওয়া তথ্যমতে, গত বুধবার নয়াদিল্লির মার্কিন দূতাবাসে ২৪ জন প্রতিযোগী ভিসা সাক্ষাৎকারের জন্য উপস্থিত হয়েছিলেন, যার মধ্যে ১৬ জন ছিলেন কুস্তিগীর। দুর্ভাগ্যবশত, শুধুমাত্র ২০ বছরের কম বয়স এবং আনুষ্ঠানিক কোনো কর্মসংস্থান বা চাকরি না থাকার কারণে তাদের মধ্যে ৯ জনের পাসপোর্ট ফেরত দিয়ে মৌখিকভাবে ভিসা বাতিলের সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেওয়া হয়।   ভিসা বাতিল হওয়া এই কুস্তিগীরদের তালিকায় নেহা সাঙ্গোয়ান ছাড়াও রয়েছেন সামর্থ গজানন মাকভে, ধীরাজ কুমার মালিক, শচীন কুমার, নিখিল, হরদীপ, পারভীন, অহল্যা শত্রুঘ্ন শিন্ডে এবং নেহা শর্মা।   এই ঘটনার পরপরই মার্কিন দূতাবাসের কাছে একটি আনুষ্ঠানিক চিঠির মাধ্যমে সিদ্ধান্তটি পুনর্বিবেচনার জোরালো আবেদন জানিয়েছে ডব্লিউএফআই। ফেডারেশন তাদের চিঠিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছে যে, এটি অনূর্ধ্ব-২৩ বয়সভিত্তিক একটি টুর্নামেন্ট এবং অংশগ্রহণকারী কুস্তিগীরদের বয়স ১৮ থেকে ২৩ বছরের মধ্যে।   স্বাভাবিকভাবেই এই বয়সের তরুণ অ্যাথলেটরা তাদের ক্যারিয়ার গড়ার পেছনে সময় দেন এবং তাদের কোনো আনুষ্ঠানিক পেশা বা চাকরি থাকে না, যা অত্যন্ত যৌক্তিক। পাশাপাশি বৃহস্পতিবার আরও যেসব কুস্তিগীরের ভিসা সাক্ষাৎকার নির্ধারিত রয়েছে, তাদের বেশিরভাগেরই বয়স ২০ বছরের নিচে এবং বেকার হওয়ায় তাদের মার্কিন ভিসা পাওয়া নিয়েও চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ভারতীয় কুস্তি ফেডারেশন।

প্রকাশ : অক্টোবর ৭, ২০২৬ ১৪:৩৮
যুক্তরাজ্যের সাউদাম্পটনে শ্রবণ-প্রতিবন্ধী দম্পতির ভেঙে পড়া বাড়ি নতুন করে গড়লেন শত স্বেচ্ছাসেবী
যুক্তরাজ্যের সাউদাম্পটনে শ্রবণ-প্রতিবন্ধী দম্পতির ভেঙে পড়া বাড়ি নতুন করে গড়লেন শত স্বেচ্ছাসেবী

অসম্পূর্ণ নির্মাণকাজের কারণে বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়া এক শ্রবণ-প্রতিবন্ধী দম্পতির বাড়ি সম্পূর্ণ নতুনভাবে গড়ে তুলেছেন কয়েকশ স্বেচ্ছাসেবী। যুক্তরাজ্যের সাউদাম্পটনের বিটার্ন এলাকার বাসিন্দা আহমেদ ও রিফাত আলী দম্পতি তাদের বাড়ির নিচতলা সম্প্রসারণের জন্য ৭২ হাজার পাউন্ড খরচ করেও একপর্যায়ে প্রতারণার শিকার হন।   নির্মাণকাজ মাঝপথে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কর্তৃপক্ষ বাড়িটিকে অত্যন্ত বিপজ্জনক বলে ঘোষণা করে। ফলে এই দম্পতি ও তাদের তিন সন্তান বাধ্য হয়ে বাড়ির দোতলায় অনেকটা বন্দি জীবনযাপন করছিলেন, যেখানে রান্নাঘর বা বাগান ব্যবহারের কোনো সুযোগই ছিল না। অবশেষে বিবিসি’র জনপ্রিয় শো ‘ডিআইওয়াই এসওএস’ (DIY SOS)-এর একটি দল গত অক্টোবরে বাড়িটি পুনর্নির্মাণের দায়িত্ব নেয়, যার বিস্তারিত পর্ব সম্প্রতি সম্প্রচারিত হচ্ছে।   নির্মাণকাজ শুরুর প্রথম দিনেই দেড় শতাধিক নির্মাণকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবী সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন। অনুষ্ঠানটির উপস্থাপক নিক নোলস জানান, দলটিকে প্রায় ছয় মাসের বিশাল কাজ মাত্র সাত দিনে সম্পন্ন করতে হয়েছে। অভাবনীয় এই উদ্যোগ শুরুর আগে দোভাষীর মাধ্যমে আহমেদ জানান, তারা দীর্ঘ একটি অন্ধকার সময় পার করছিলেন এবং এই সাহায্য তাদের কাছে সুড়ঙ্গের শেষে আলোর মতো।   অন্যদিকে রিফাত আবেগে আপ্লুত হয়ে বলেন, বাড়িটি যে আবার তাদের বাসযোগ্য একটি ‘ঘর’-এ পরিণত হবে, তা তিনি বিশ্বাসই করতে পারছেন না। ডিজাইনার গ্যাবি ব্ল্যাকম্যান জানান, সমাজে বিভেদের কথা শোনা গেলেও এই কাজের মাধ্যমে তারা একটি ঐক্যবদ্ধ, দয়ালু এবং উষ্ণ সম্প্রদায়ের দেখা পেয়েছেন, যারা নিঃস্বার্থভাবে একটি অসহায় পরিবারকে সাহায্য করতে এগিয়ে এসেছেন।   যেহেতু এই দম্পতি শ্রবণ-প্রতিবন্ধী কিন্তু তাদের সন্তানরা শুনতে পায়, তাই ইশারায় যোগাযোগের সুবিধার্থে বাড়ির দেয়ালগুলো কমিয়ে খোলামেলা নকশা তৈরি করা হয়েছে। এছাড়া বাড়িটিতে তাদের জন্য বিশেষ 'বিপ্লবী' প্রযুক্তির ব্যবহার করা হয়েছে। শো-এর ইলেকট্রিশিয়ান বিলি বাইর্ন জানান, বাড়ির কোনো অংশে সমস্যা হলে বিভিন্ন রঙের ফ্ল্যাশিং লাইটের মাধ্যমে অ্যালার্ম জ্বলে উঠবে।   এমনকি বাচ্চারা যদি পানির কল খোলা রেখে যায়, তবে প্রযুক্তিটির কল্যাণে ডিসপ্লে প্যানেলে নীল আলো দেখা যাবে। এই প্রযুক্তির দাতা স্টুয়ার্ট হ্যানলন আগের বাড়িটির ভয়াবহতা সম্পর্কে বলেন, এমন বিপজ্জনক অবস্থা তিনি আগে কখনো দেখেননি, যেখানে এক পা ভুল ফেললেই বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারতো।   এই উদ্যোগটি শুধু একটি পরিবারকেই নতুন জীবন দেয়নি, বরং পুরো এলাকার মানুষের মধ্যেও সৌহার্দ্য বাড়িয়েছে। প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন, এই কাজের সুবাদে স্থানীয়দের মধ্যে একটি নতুন হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ তৈরি হয়েছে এবং সবাই মিলে একসাথে খাওয়াদাওয়ার মতো সুন্দর সম্পর্ক গড়ে উঠেছে।   স্বেচ্ছাসেবীরাও নিজেদের মধ্যে একটি শক্তিশালী ভাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি করেছেন এবং এখন তারা একে অপরকে কাজ পেতে সাহায্য করেন। আসবাবপত্র নির্মাতা রাধা সিভিয়ারের মতে, তারা কেবল টিভির পর্দায় দেখানোর জন্য সুন্দর কিছু বানাননি, বরং সত্যি সত্যিই মানুষের জীবন বদলে দেওয়া একটি অর্থবহ বাড়ি তৈরি করেছেন।

প্রকাশ : অক্টোবর ৭, ২০২৬ ১৪:১৯
যুক্তরাষ্ট্রের ইউটায় চিকিৎসকের বদলে এআই দেবে প্রেসক্রিপশন, শুরু হচ্ছে পরীক্ষামূলক কার্যক্রম
যুক্তরাষ্ট্রের ইউটায় চিকিৎসকের বদলে এআই দেবে প্রেসক্রিপশন, শুরু হচ্ছে পরীক্ষামূলক কার্যক্রম

চিকিৎসা খাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ব্যবহার আরও এক ধাপ এগিয়ে নিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম অঙ্গরাজ্য হিসেবে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছে ইউটা। রাজ্যটিতে এমন কিছু পরীক্ষামূলক প্রোগ্রামের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, যেখানে চিকিৎসকের সরাসরি তদারকি ছাড়াই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নির্দিষ্ট কিছু স্বাস্থ্যগত সমস্যার ক্ষেত্রে প্রেসক্রিপশন দিতে পারবে।   এই নতুন উদ্যোগের অংশ হিসেবে ‘নোলা হেলথ’ নামক একটি প্রতিষ্ঠানের এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। এটি মূলত প্রাপ্তবয়স্কদের মৃদু থেকে মাঝারি মাত্রার ব্রণের সমস্যা সমাধানে কাজ করবে। রোগীর মুখের ছবি ও চিকিৎসা সংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে এই প্রযুক্তি প্রাথমিক পর্যায়ে নির্দিষ্ট কিছু মলম বা টপিকাল চিকিৎসার পরামর্শ ও প্রেসক্রিপশন দিতে পারবে।   তবে এআই চাইলেই যেকোনো ওষুধের প্রেসক্রিপশন দিতে পারবে না। মুখে খাওয়ার ওষুধ, আইসোট্রেটিনোইন বা অন্যান্য নিয়ন্ত্রিত ওষুধগুলো এই তালিকার বাইরে রাখা হয়েছে। এছাড়া জটিল বা উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ রোগীদের ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব মানব চিকিৎসকদের হাতেই থাকবে।   প্রযুক্তিটির বাস্তবায়ন অত্যন্ত সতর্কতার সাথে ধাপে ধাপে সম্পন্ন করা হচ্ছে। প্রাথমিক পর্যায়ে চিকিৎসকরা এআইয়ের দেওয়া প্রেসক্রিপশনগুলো সরাসরি পর্যালোচনা করবেন। পরবর্তীতে সিস্টেমটি রাজ্যের নির্ধারিত নিরাপত্তা মানদণ্ড পূরণে সম্পূর্ণ সক্ষম হলে তবেই চিকিৎসকদের তদারকি কমানো হতে পারে।   এর আগে ইউটা অঙ্গরাজ্য এআইয়ের সাহায্যে প্রেসক্রিপশন নবায়নের পরীক্ষাও চালিয়েছে। ওই অনুমোদিত সিস্টেমগুলোর মাধ্যমে লাইসেন্সধারী চিকিৎসকদের দেওয়া কিছু নিয়মিত ওষুধের রিফিল বা পুনরায় নেওয়ার প্রক্রিয়া এআইয়ের সাহায্যে সফলভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে।   উদ্যোগটির সমর্থকদের মতে, এআইয়ের এই ব্যবহারের ফলে সাধারণ স্বাস্থ্যসেবা আরও দ্রুত ও সাশ্রয়ী হবে এবং চিকিৎসকদের দৈনন্দিন কাজের চাপ অনেকটাই কমবে। তবে সমালোচকরা সতর্ক করে বলছেন, ওষুধ নির্ধারণের ক্ষেত্রে রোগীর পূর্ববর্তী চিকিৎসা ইতিহাস, ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া এবং বিভিন্ন উপসর্গের মতো সূক্ষ্ম বিষয়গুলো অ্যালগরিদম ভুলভাবে মূল্যায়ন করতে পারে।   এই ধরনের ঝুঁকি এড়াতে আপাতত ইউটা কর্তৃপক্ষ এআইকে স্বাধীনভাবে চিকিৎসা করার অবাধ ক্ষমতা দেওয়ার বদলে এটিকে একটি কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত পরীক্ষামূলক প্রক্রিয়া হিসেবেই পরিচালনা করছে।

প্রকাশ : অক্টোবর ৭, ২০২৬ ১৩:৫১
যুক্তরাষ্ট্রের মিনিয়াপোলিসে পরিত্যক্ত গুদামঘর রূপান্তর করে গৃহহীনদের জন্য তৈরি হলো ১০০টি বাড়ি
যুক্তরাষ্ট্রের মিনিয়াপোলিসে পরিত্যক্ত গুদামঘর রূপান্তর করে গৃহহীনদের জন্য তৈরি হলো ১০০টি বাড়ি

যুক্তরাষ্ট্রের মিনিয়াপোলিসে গৃহহীন মানুষদের জন্য এক অনন্য ও অনুপ্রেরণামূলক উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। সেখানকার একটি পুরনো ও পরিত্যক্ত গুদামঘরকে রূপান্তর করা হয়েছে ১০০টি ছোট বা ‘টাইনি’ হোমে। ‘অ্যাভিভো ভিলেজ’ নামের এই বিশেষ আশ্রয়কেন্দ্রটি রাস্তায় থাকা অসহায় মানুষদের নিজস্ব, উষ্ণ এবং সম্পূর্ণ নিরাপদ একটি ব্যক্তিগত ঠিকানা নিশ্চিত করছে।   তবে এটি কেবল একটি সাধারণ আশ্রয়কেন্দ্র বা রাত কাটানোর জায়গা নয়; বরং এটি নতুন করে জীবন শুরু করার এক পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্র। এখানে বসবাসকারীরা নিরাপদ আশ্রয়ের পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্যসেবা, কর্মসংস্থান, মাদকাসক্তি থেকে মুক্তি এবং স্থায়ী বাসস্থান খুঁজে পাওয়ার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা পেয়ে থাকেন।   প্রতিষ্ঠার পর থেকে এরই মধ্যে শত শত গৃহহীন মানুষ এখানে আশ্রয় নিয়েছেন এবং তাদের অনেকেই এই সহায়তার মাধ্যমে নিজেদের স্থায়ী ঠিকানায় স্থানান্তরিত হতে সক্ষম হয়েছেন।   উদ্যোক্তারা বিশ্বাস করেন, সব হারিয়ে পথে বসা মানুষদের জীবন নতুন করে সাজানোর প্রথম এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলো একটি নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা। ‘অ্যাভিভো ভিলেজ’-এর এই সফল উদ্যোগ আবারও প্রমাণ করেছে যে, একটুখানি সহযোগিতা ও রাতে নিশ্চিন্তে ঘুমানোর মতো নিরাপদ জায়গা পেলে একজন মানুষ নিজের জীবনকে পুরোপুরি বদলে ফেলার সাহস ফিরে পান।

প্রকাশ : অক্টোবর ৭, ২০২৬ ১৩:৩৪
বেঙ্গালুরুতে ভোটার তালিকা সংশোধনের বিরোধিতায় আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে যোগ দিচ্ছেন ধ্রুব রাঠি। ছবি: সংগৃহীত
বেঙ্গালুরুতে ‘এসআইআর’ বিরোধী বিক্ষোভে যোগ দিচ্ছেন জনপ্রিয় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠি

ভারতের বেঙ্গালুরুতে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা ‘এসআইআর’ প্রক্রিয়ার বিরোধিতায় আয়োজিত বিক্ষোভে যোগ দিচ্ছেন জনপ্রিয় ইউটিউবার ও রাজনৈতিক ভাষ্যকার ধ্রুব রাঠি। আগামী ৮ অক্টোবর ফ্রিডম পার্কে অনুষ্ঠিতব্য এই কর্মসূচিতে বিশেষ অতিথি হিসেবে তাঁর উপস্থিতির কথা জানিয়েছেন অভিনেতা ও অ্যাক্টিভিস্ট প্রকাশ রাজ। একই কর্মসূচিতে বিভিন্ন তরুণ সংগঠন, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি এবং এসআইআর প্রক্রিয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার অভিযোগ করা ব্যক্তিদেরও অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।   বুধবার সকালে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্টে একটি ভিডিও প্রকাশ করে বেঙ্গালুরুর এই কর্মসূচিতে সাধারণ মানুষকে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান প্রকাশ রাজ। ওই ভিডিওতে তিনি জানিয়েছিলেন, বিক্ষোভে একজন বিশেষ অতিথি যোগ দেবেন। তবে তখন সেই অতিথির পরিচয় প্রকাশ করেননি তিনি।   একই দিনে পরবর্তী আরেকটি ভিডিওতে বিশেষ অতিথির নাম ঘোষণা করেন প্রকাশ রাজ। তিনি জানান, ধ্রুব রাঠি ৮ অক্টোবর ফ্রিডম পার্কে এসআইআর বিরোধী কর্মসূচিতে যোগ দেবেন। প্রকাশ রাজের ভাষ্য অনুযায়ী, এই কর্মসূচিতে অংশ নিতে প্রথমবারের মতো বেঙ্গালুরু যাচ্ছেন ধ্রুব রাঠি।   ধ্রুব রাঠির পাশাপাশি আইশে ঘোষ, নেহা বোরা, অভিজিৎ দীপকে ও সৌরভ দাসেরও কর্মসূচিতে উপস্থিত থাকার কথা জানিয়েছেন প্রকাশ রাজ। বিভিন্ন তরুণ সংগঠন এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরাও সেখানে অংশ নেবেন। একই সঙ্গে কর্ণাটকের বিভিন্ন জেলা থেকে এসআইআর প্রক্রিয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার অভিযোগ করা ব্যক্তিদেরও ফ্রিডম পার্কে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।   ৮ অক্টোবরের কর্মসূচি সকাল সাড়ে ১০টা থেকে শুরু হওয়ার কথা। বেঙ্গালুরুর ফ্রিডম পার্কে প্রথমে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া নিয়ে একটি গণশুনানির আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে সংশোধন প্রক্রিয়া নিয়ে অভিযোগ থাকা ব্যক্তিদের বক্তব্য শোনা হবে।   বিশেষ করে কর্ণাটকের বিভিন্ন এলাকার যেসব ব্যক্তি দাবি করছেন তাঁদের নাম ভুলভাবে ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে, তাঁদের অভিজ্ঞতা এই গণশুনানিতে তুলে ধরার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে তাঁদের নাম সত্যিই ভুলভাবে বাদ দেওয়া হয়েছে কি না, সেটি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের বিষয়।   গণশুনানির পাশাপাশি ফ্রিডম পার্কে একটি গণবিক্ষোভেরও আয়োজন করা হয়েছে। ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকের নেতৃত্বে এই কর্মসূচি আয়োজন করা হচ্ছে। প্রকাশ রাজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মানুষকে বড় সংখ্যায় সেখানে উপস্থিত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।   এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে প্রকাশ রাজের অবস্থানও তাঁর ভিডিওতে উঠে এসেছে। তিনি দাবি করেছেন, এই প্রক্রিয়ার কারণে দেশের নাগরিকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে এবং কিছু মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। বিষয়টিকে শুধু ভোট দেওয়ার অধিকারের প্রশ্ন হিসেবে না দেখে গণতন্ত্র ও সংবিধানের সঙ্গে সম্পর্কিত বিষয় হিসেবেও তুলে ধরেছেন তিনি।   এগুলো প্রকাশ রাজ ও আন্দোলনকারীদের বক্তব্য এবং অভিযোগ। ভোটার তালিকা সংশোধনের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন ইচ্ছাকৃতভাবে ভোটারদের অধিকার ক্ষুণ্ন করেছে, এমন কোনো সিদ্ধান্ত এই কর্মসূচির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয়নি। বিক্ষোভকারীরা তাঁদের অভিযোগ ও দাবি সামনে আনতেই কর্মসূচিটি আয়োজন করছেন।   প্রকাশ রাজের ঘোষণায় ধ্রুব রাঠির উপস্থিতি কর্মসূচিটিকে নতুন করে আলোচনায় এনেছে। ধ্রুব রাঠি ভারতের জনপ্রিয় ইউটিউবার, ভিডিও নির্মাতা ও রাজনৈতিক ভাষ্যকার। সামাজিক ও রাজনৈতিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ব্যাখ্যামূলক এবং তথ্য যাচাইধর্মী ভিডিও তৈরির জন্য তিনি পরিচিত।   হরিয়ানায় জন্ম নেওয়া ধ্রুব রাঠি জার্মানিতে যন্ত্র প্রকৌশল বিষয়ে পড়াশোনা করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভারতীয় রাজনীতি ও সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয়ে তাঁর ভিডিও বিপুলসংখ্যক দর্শকের কাছে পৌঁছায়। বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক ইস্যুতে নিজের মতামত প্রকাশ করেও তিনি নিয়মিত আলোচনায় থাকেন।   বেঙ্গালুরুর বিক্ষোভে তাঁর উপস্থিতির ঘোষণা দিতে গিয়ে প্রকাশ রাজ তাঁকে বিশেষ অতিথি হিসেবে পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন। একই সঙ্গে ধ্রুব রাঠির উপস্থিতিতে সাধারণ মানুষকে আরও বেশি সংখ্যায় কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।   আয়োজকদের দাবি, এসআইআর প্রক্রিয়ার কারণে যাঁদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে, তাঁদের অভিযোগ সামনে আনা এবং সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানোই কর্মসূচির অন্যতম উদ্দেশ্য। ভোটার তালিকার আগের অবস্থান ফিরিয়ে আনার দাবিও তুলেছেন তাঁরা।   প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিও তুলেছেন আন্দোলনকারীরা। আগামী ১০ অক্টোবর দিল্লিতেও এ বিষয়ে আরেকটি কর্মসূচি আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে বলে প্রকাশিত তথ্যে জানানো হয়েছে।   তবে আপাতত নজর ৮ অক্টোবরের বেঙ্গালুরু কর্মসূচির দিকে। ফ্রিডম পার্কে সকাল সাড়ে ১০টা থেকে শুরু হওয়া গণশুনানি ও বিক্ষোভে প্রকাশ রাজের পাশাপাশি ধ্রুব রাঠি এবং অন্য অতিথিদের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। বিভিন্ন সংগঠন ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের পাশাপাশি এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে অভিযোগ থাকা ব্যক্তিরাও সেখানে নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরবেন।   সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস

প্রকাশ : অক্টোবর ৭, ২০২৬ ১৩:১৩
ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের টাকোমা শহর
টাকোমায় ৪ কোটি ডলারের বাজেট ঘাটতি, চাকরি কাটার পাশাপাশি কর বাড়ানোর পরিকল্পনা

ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের টাকোমা শহর প্রায় ৪ কোটি ডলারের বাজেট ঘাটতির মুখে পড়েছে। ঘাটতি সামাল দিতে শহর কর্তৃপক্ষ চাকরি কমানো, বিভিন্ন সরকারি সেবা পুনর্বিন্যাস এবং নতুন রাজস্বের পথ খুঁজছে। বিষয়টি স্থানীয় কর্মী ও বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে।   শহরের আর্থিক চাপের অন্যতম কারণ হিসেবে বাড়তে থাকা সরকারি ব্যয় এবং প্রত্যাশার তুলনায় কম রাজস্বকে সামনে আনা হয়েছে। বাজেট ঘাটতি কমাতে কর্মকর্তাদের কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে বলে স্থানীয় প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।   সম্ভাব্য চাকরি কাটার বিষয়টি সরকারি কর্মীদের জন্য সবচেয়ে বড় উদ্বেগের কারণ। শহরের বিভিন্ন বিভাগে কর্মী সংখ্যা কমানো হলে নাগরিক সেবা, প্রশাসনিক কার্যক্রম এবং অন্যান্য স্থানীয় পরিষেবায় তার প্রভাব পড়তে পারে।   টাকোমার কর্মকর্তারা একই সঙ্গে কর ও অন্যান্য রাজস্ব বাড়ানোর বিষয়ও বিবেচনা করছেন। এর অর্থ ভবিষ্যতে স্থানীয় বাসিন্দাদের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ তৈরি হতে পারে।   বর্তমান পরিস্থিতি শুধু সরকারি কর্মীদের জন্য নয়, সাধারণ পরিবারগুলোর জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। চাকরি কমলে স্থানীয় অর্থনীতিতে মানুষের ব্যয় কমতে পারে। অন্যদিকে কর বাড়লে বাড়ির মালিক, ব্যবসা ও ভাড়াটিয়াদের ওপর জীবনযাত্রার খরচ আরও বাড়তে পারে।   টাকোমা সিয়াটল মহানগর এলাকার একটি গুরুত্বপূর্ণ শহর। তাই শহরের বাজেট সংকটের প্রভাব আশপাশের ব্যবসা ও শ্রমবাজারেও পড়তে পারে। বিশেষ করে ছোট ব্যবসা, স্থানীয় পরিষেবা এবং সরকারি চুক্তিনির্ভর প্রতিষ্ঠানগুলো পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে।   বাংলাদেশি ও অন্যান্য অভিবাসী পরিবারগুলোর জন্যও এই খবর গুরুত্বপূর্ণ। সরকারি চাকরি, স্থানীয় ব্যবসা বা শহরের বিভিন্ন পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত পরিবারগুলোকে সম্ভাব্য পরিবর্তনের জন্য প্রস্তুত থাকতে হতে পারে।   শহর কর্তৃপক্ষের সামনে এখন মূল চ্যালেঞ্জ হলো কীভাবে ৪ কোটি ডলারের ঘাটতি কমিয়ে নাগরিক সেবা যতটা সম্ভব স্বাভাবিক রাখা যায়। চাকরি কমানো এবং কর বাড়ানোর মতো পদক্ষেপ নেওয়ার আগে কোন খাতে ব্যয় কমানো হবে, কোন সেবা অগ্রাধিকার পাবে এবং বাসিন্দাদের ওপর কতটা আর্থিক চাপ পড়বে—এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা চলবে।

প্রকাশ : অক্টোবর ৭, ২০২৬ ১৩:৫
ঈদের নামাজের শব্দ নিয়ে অভিযোগ করতে এসে ইসলাম গ্রহণ করেছেন অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ডের বাসিন্দা ব্রায়ান। ছবি: সংগৃহীত
নামাজের শব্দ নিয়ে অভিযোগ করতে মসজিদে এসে ইসলাম গ্রহণ অস্ট্রেলীয় বৃদ্ধের

অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ডে ঈদুল ফিতরের সকালের নামাজের শব্দ নিয়ে অভিযোগ জানাতে মসজিদে গিয়ে শেষ পর্যন্ত ইসলাম গ্রহণ করেছেন ব্রায়ান নামে এক বৃদ্ধ। গোল্ড কোস্ট মসজিদের কাছের একটি নার্সিং হোমে বসবাসকারী ব্রায়ান লাউডস্পিকারের শব্দে বিরক্ত হয়ে মসজিদে গিয়েছিলেন। সেখানে উপস্থিত মুসলিমদের সঙ্গে প্রায় ১০ থেকে ১৫ মিনিটের কথোপকথন এবং তাঁদের আন্তরিক ব্যবহার ও আতিথেয়তায় মুগ্ধ হয়ে তিনি স্বেচ্ছায় ইসলাম গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেন। পরে তাঁর শাহাদাহ পাঠের আবেগঘন মুহূর্তের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।   প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ঈদুল ফিতরের দিন সকালে গোল্ড কোস্ট মসজিদে নামাজের সময় লাউডস্পিকার ব্যবহার করা হচ্ছিল। কাছাকাছি নার্সিং হোমে থাকা ব্রায়ানের কাছে সেই শব্দ বেশি মনে হয়। এতে বিরক্ত ও ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি বিষয়টি নিয়ে সরাসরি অভিযোগ জানাতে মসজিদের দিকে হেঁটে যান।   মসজিদে পৌঁছানোর পর স্থানীয় মুসলিম প্রচারক হাজ হুসেইন গস এবং হাসান নামে আরেক ব্যক্তির সঙ্গে তাঁর দেখা হয়। অভিযোগ নিয়ে আসা ব্রায়ানের সঙ্গে বিরূপ আচরণ কিংবা তর্কে না গিয়ে তাঁরা তাঁকে বসতে বলেন। এরপর শান্তভাবে তাঁর অভিযোগ শোনেন এবং আন্তরিকভাবে স্বাগত জানান।   ব্রায়ানকে খাবারও দেওয়া হয়। সেখানে উপস্থিত ব্যক্তিরা তাঁর সঙ্গে প্রায় ১০ থেকে ১৫ মিনিট কথা বলেন। তিনি কেন বিরক্ত হয়েছেন এবং কী কারণে মসজিদে এসেছেন, তা মনোযোগ দিয়ে শোনা হয়। ব্রায়ানের সঙ্গে হওয়া এই কথোপকথনই পরবর্তী সময়ে ঘটনাটিকে সম্পূর্ণ ভিন্ন দিকে নিয়ে যায়।   ঘটনাটির বর্ণনা অনুযায়ী, মসজিদে আসার সময় ব্রায়ান ক্ষুব্ধ ও হতাশ ছিলেন। কিন্তু অভিযোগ নিয়ে আসার পরও তাঁকে সম্মান দেখানো, শান্তভাবে তাঁর কথা শোনা এবং অতিথির মতো আপ্যায়ন করার বিষয়টি তাঁকে গভীরভাবে স্পর্শ করে।   মসজিদে উপস্থিত মুসলিমদের আচরণে তাঁর প্রাথমিক ক্ষোভ ধীরে ধীরে কমে আসে। যে বিষয়টি নিয়ে তিনি অভিযোগ করতে এসেছিলেন, সেই আলোচনা একপর্যায়ে পারস্পরিক বোঝাপড়ায় রূপ নেয়। এরপর ইসলাম ও মুসলিমদের প্রতি তাঁর দৃষ্টিভঙ্গিতেও পরিবর্তন আসে বলে ঘটনাটির প্রকাশিত বর্ণনায় উল্লেখ করা হয়েছে।   কথোপকথনের একপর্যায়ে ব্রায়ান ইসলাম গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেন। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সিদ্ধান্তটি তিনি স্বেচ্ছায় নেন। তাঁকে জোর করা কিংবা কোনো ধরনের চাপ প্রয়োগের তথ্য ঘটনাটির বর্ণনায় নেই।   পরে ব্রায়ান শাহাদাহ পাঠ করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে তাঁকে আবেগাপ্লুত অবস্থায় ইসলামে বিশ্বাসের সাক্ষ্য উচ্চারণ করতে দেখা গেছে বলে প্রকাশিত বর্ণনায় জানানো হয়েছে। এই মুহূর্তের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর ঘটনাটি মানুষের নজর কাড়ে।   ঘটনার সবচেয়ে আলোচিত দিক হচ্ছে ব্রায়ানের মসজিদে যাওয়ার প্রাথমিক উদ্দেশ্য। তিনি ইসলাম সম্পর্কে জানতে কিংবা ধর্ম পরিবর্তনের পরিকল্পনা নিয়ে সেখানে যাননি। তাঁর উদ্দেশ্য ছিল ঈদের সকালের নামাজের শব্দ নিয়ে নিজের অসন্তোষ জানানো।   কিন্তু অভিযোগ জানাতে গিয়ে যে ধরনের অভ্যর্থনা পেয়েছেন, সেটিই তাঁর অভিজ্ঞতাকে বদলে দেয়। ক্ষুব্ধ একজন প্রতিবেশী হিসেবে মসজিদে প্রবেশ করলেও সেখানে তাঁর অভিযোগকে গুরুত্ব দিয়ে শোনা হয় এবং তাঁকে সম্মান ও আন্তরিকতার সঙ্গে গ্রহণ করা হয়।   প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, মাত্র ১০ থেকে ১৫ মিনিটের আলাপের মধ্যেই পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটে। ব্রায়ানের ক্ষোভ কমে আসে এবং সেখানে উপস্থিত ব্যক্তিদের আচরণে তিনি মুগ্ধ হন। পরে ইসলাম গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়ে শাহাদাহ পাঠ করেন তিনি।   ব্রায়ানের ইসলাম গ্রহণের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তাঁর গল্পও আলোচনায় আসে। অভিযোগ করতে আসা একজন বৃদ্ধের সঙ্গে মসজিদে উপস্থিত ব্যক্তিদের আচরণ এবং সেই সাক্ষাতের পর তাঁর ধর্ম গ্রহণের সিদ্ধান্তই ঘটনাটির প্রধান আলোচিত বিষয় হয়ে ওঠে।   তবে ওই ১০ থেকে ১৫ মিনিটের আলোচনায় ঠিক কী কী বিষয়ে কথা হয়েছিল, তার পূর্ণ বিবরণ প্রকাশিত তথ্যে নেই। ইসলাম সম্পর্কে ব্রায়ান আগে কতটা জানতেন কিংবা তাঁর আগে থেকেই ধর্মটি সম্পর্কে কোনো আগ্রহ ছিল কি না, সে বিষয়েও বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি।   একইভাবে নামাজের শব্দ নিয়ে ব্রায়ানের মূল অভিযোগের বিষয়ে পরে কী সিদ্ধান্ত হয়েছিল, লাউডস্পিকারের শব্দ নিয়ে কোনো পরিবর্তন আনা হয়েছিল কি না কিংবা মসজিদ কর্তৃপক্ষ তাঁর অভিযোগের আনুষ্ঠানিক কোনো সমাধান দিয়েছিল কি না, সে তথ্যও প্রকাশিত বর্ণনায় উল্লেখ নেই।   সামনে আসা তথ্য অনুযায়ী, ব্রায়ান ঈদুল ফিতরের সকালের নামাজের শব্দ নিয়ে অভিযোগ জানাতে গোল্ড কোস্ট মসজিদে গিয়েছিলেন। সেখানে তাঁকে বসিয়ে কথা বলা হয়, খাবার দেওয়া হয় এবং সম্মানের সঙ্গে তাঁর অভিযোগ শোনা হয়। সেই অভিজ্ঞতার পরই তিনি স্বেচ্ছায় ইসলাম গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়ে শাহাদাহ পাঠ করেন।

প্রকাশ : অক্টোবর ৭, ২০২৬ ১২:৩৯
স্প্যারোজ পয়েন্ট, মেরিল্যান্ড।
মেরিল্যান্ডে ৩৭০ কোটি ডলারের কারখানা, ৩১০০ নতুন চাকরির ঘোষণা দিলেন ট্রাম্প

মেরিল্যান্ডের বাল্টিমোর এলাকায় ৩৭০ কোটি ডলারের একটি বড় শিল্প প্রকল্পের ঘোষণা দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সামরিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অ্যান্ডুরিল স্প্যারোজ পয়েন্টে পারমাণবিক শক্তিচালিত সাবমেরিনের বিভিন্ন উপাদান তৈরির জন্য নতুন উৎপাদন সুবিধা গড়ে তুলবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে সরাসরি প্রায় ৩১০০টি নতুন চাকরি তৈরি হতে পারে।   ৬ অক্টোবর স্প্যারোজ পয়েন্টে এক অনুষ্ঠানে ট্রাম্প এই বিনিয়োগের কথা তুলে ধরেন। এলাকাটি আগে বেথলেহেম স্টিলের বিশাল ইস্পাত কারখানার জন্য পরিচিত ছিল। সেই ইস্পাত কারখানা ২০১২ সালে বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর দীর্ঘদিন ধরে এলাকাটির শিল্পভিত্তিক কর্মসংস্থান কমে যায়।   নতুন প্রকল্পকে ওই অঞ্চলের শিল্প পুনরুজ্জীবনের গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। অ্যান্ডুরিলের পরিকল্পনা অনুযায়ী, সাবমেরিন নির্মাণে ব্যবহৃত গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ ও প্রযুক্তি উৎপাদনের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ প্রতিরক্ষা শিল্পের সক্ষমতা বাড়ানোর চেষ্টা করা হবে।   প্রকল্পটির মোট বিনিয়োগ প্রায় ৩৭০ কোটি ডলার। এর মধ্যে ফেডারেল সরকার প্রায় ২৯০ কোটি ডলারের পণ্য কেনার মাধ্যমে প্রকল্পটিকে সহায়তা করবে। নতুন স্থাপনাটি শুধু সরাসরি কর্মসংস্থানই তৈরি করবে না, এর সঙ্গে যুক্ত সরবরাহকারী, পরিবহন, নির্মাণ ও অন্যান্য ব্যবসায়ও অতিরিক্ত কর্মসংস্থান তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।   অর্থনৈতিক দিক থেকে বাল্টিমোর অঞ্চলের জন্য এই বিনিয়োগ বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘদিন ধরে শিল্পকারখানা বন্ধ হওয়া এবং কর্মসংস্থানের পরিবর্তনের কারণে স্প্যারোজ পয়েন্ট এলাকায় অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের প্রয়োজন ছিল। নতুন প্রতিরক্ষা উৎপাদন কেন্দ্র সেই পুরোনো শিল্প এলাকাকে আবার বড় উৎপাদন ও কর্মসংস্থানের কেন্দ্রে পরিণত করার সুযোগ তৈরি করতে পারে।   ট্রাম্প অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের জাহাজ নির্মাণ শিল্পকে শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেন। বিশেষ করে চীনসহ অন্যান্য দেশের সঙ্গে প্রতিযোগিতার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব জাহাজ নির্মাণ সক্ষমতা বাড়ানোকে তাঁর প্রশাসন গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার হিসেবে দেখছে।   প্রকল্পটি মেরিল্যান্ডের শ্রমবাজারের জন্যও বড় খবর। ৩১০০ সরাসরি চাকরি তৈরি হলে উৎপাদন, প্রকৌশল, প্রযুক্তি, যন্ত্রপাতি পরিচালনা, রক্ষণাবেক্ষণ এবং ব্যবস্থাপনা খাতে নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে। পাশাপাশি নির্মাণপর্বে অস্থায়ীভাবে আরও অনেক কর্মী কাজের সুযোগ পেতে পারেন।   বাংলাদেশি ও অন্যান্য অভিবাসী পরিবারের জন্যও এ ধরনের শিল্প বিনিয়োগ গুরুত্বপূর্ণ। কারণ বড় উৎপাদন প্রকল্পের প্রভাব শুধু কারখানার কর্মীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না। স্থানীয় পরিবহন, রেস্টুরেন্ট, দোকান, আবাসন, নির্মাণ এবং বিভিন্ন সেবা খাতেও ব্যবসা বাড়তে পারে।   প্রকল্পটি মেরিল্যান্ডের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় কর্মসংস্থান সৃষ্টিকারী উদ্যোগগুলোর একটি হতে পারে বলে অনুষ্ঠানে তুলে ধরা হয়েছে। তবে প্রকল্পটি পুরোপুরি বাস্তবায়ন হতে সময় লাগবে এবং ঘোষিত বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের সংখ্যা বাস্তবায়নের অগ্রগতির ওপর নির্ভর করবে।   এই বিনিয়োগ এমন সময়ে আসছে যখন যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদন খাত পুনরুজ্জীবিত করা, সরবরাহ ব্যবস্থা দেশে ফিরিয়ে আনা এবং প্রতিরক্ষা শিল্পের সক্ষমতা বাড়ানো নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। স্প্যারোজ পয়েন্টের প্রকল্পটি সেই বৃহত্তর শিল্পনীতি ও কর্মসংস্থান পরিকল্পনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে সামনে এসেছে।

প্রকাশ : অক্টোবর ৭, ২০২৬ ১২:৩৩
ছবি ডিজাইন আমেরিকা বাংলা।
আটলান্টাসহ যুক্তরাষ্ট্রে পানির বিল এক দশকে ৬২ শতাংশ বেড়েছে, বাড়ছে পরিবারের খরচের চাপ

যুক্তরাষ্ট্রে পরিবারের দৈনন্দিন খরচের তালিকায় পানির বিলও এখন বড় চাপ হয়ে উঠছে। নতুন এক গবেষণা বলছে, ২০১৫ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে আমেরিকার বড় পানি সরবরাহ ব্যবস্থাগুলোতে সাধারণ পরিবারের পানির বিল গড়ে ৬২ শতাংশ বেড়েছে। এই বৃদ্ধি একই সময়ের মূল্যস্ফীতি ও মুদি পণ্যের দামের বৃদ্ধির চেয়েও দ্রুত হয়েছে।   গবেষণাটি করেছে ওয়াশিংটনভিত্তিক সংস্থা ফুড অ্যান্ড ওয়াটার ওয়াচ। তারা যুক্তরাষ্ট্রের ৫০০টি বড় পানি সরবরাহ ব্যবস্থার ২০২৫ সালের বিলের সঙ্গে ২০১৫ সালের তথ্য তুলনা করেছে। গবেষণা অনুযায়ী, ২০২৫ সালে বছরে ৬০ হাজার গ্যালন পানি ব্যবহারকারী একটি সাধারণ পরিবারের গড় পানির বিল ছিল প্রায় ৫৩১ ডলার।   প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত দশকে পানির বিল বেড়েছে মূল্যস্ফীতির হারের প্রায় ১ দশমিক ৬ গুণ এবং মুদি পণ্যের দামের বৃদ্ধির দ্বিগুণেরও বেশি হারে।   একই সময়ে পানির বিলের বৃদ্ধি গড় পরিবারের আয় বৃদ্ধির চেয়েও ১৯ শতাংশ বেশি ছিল। ফলে বিশেষ করে সীমিত আয়ের পরিবারগুলোকে খাবার, বিদ্যুৎ, বাড়িভাড়া ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় খরচের পাশাপাশি পানির বিল সামলাতেও বাড়তি চাপ নিতে হচ্ছে।   গবেষণায় আরও দেখা গেছে, বেসরকারি মালিকানাধীন পানি ব্যবস্থার গ্রাহকেরা সরকারি মালিকানাধীন ব্যবস্থার গ্রাহকদের তুলনায় বেশি অর্থ দিচ্ছেন। ২০২৫ সালে করপোরেট মালিকানাধীন পানি ব্যবস্থায় সাধারণ পরিবারের বিল সরকারি ব্যবস্থার তুলনায় গড়ে ৬৭ শতাংশ বেশি ছিল, যা বছরে প্রায় ৩২৯ ডলার অতিরিক্ত খরচের সমান।   তবে সব শহর বা রাজ্যে পরিস্থিতি একই নয়। গবেষণায় দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের ২৫টি তুলনামূলক কম খরচের পানি ব্যবস্থায় সাধারণ পরিবারের বার্ষিক বিল ২৬০ ডলারের নিচে ছিল। এসব ব্যবস্থাই ছিল সরকারি মালিকানাধীন। জর্জিয়া ও ফ্লোরিডার বেশ কয়েকটি পানি ব্যবস্থা এই কম খরচের তালিকায় রয়েছে।   আটলান্টার জন্য বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। শহরটির পানি অবকাঠামো অনেক পুরোনো এবং হাজার হাজার মাইল পাইপলাইনের রক্ষণাবেক্ষণ ও সংস্কারের জন্য বড় অঙ্কের অর্থ প্রয়োজন। গতকাল আটলান্টা সিটি কাউন্সিল পানি অবকাঠামো উন্নয়ন ও সরঞ্জামের জন্য ৪০ মিলিয়ন ডলারের বেশি অনুমোদন করেছে।   শহরটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আটলান্টার পানি ব্যবস্থায় প্রায় ৪ হাজার মাইল পাইপ রয়েছে। পুরোনো অবকাঠামো সংস্কারের জন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে। ২০২৫ সালে কর্মকর্তারা প্রায় ২০ বছরের একটি পরিকল্পনার কথা জানান, যার সম্ভাব্য ব্যয় প্রায় ২ বিলিয়ন ডলার।   অন্যদিকে আটলান্টা শহরের পানি বিলের বকেয়াও বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সিটি কাউন্সিলের আলোচনায় প্রায় ২৫ কোটি ডলার বকেয়া পানি বিলের বিষয়টি উঠে এসেছে। কর্তৃপক্ষ বকেয়া আদায়ে আরও কঠোর ব্যবস্থা, বিলম্ব ফি এবং দীর্ঘদিন বিল না দিলে পানি সংযোগ বন্ধ করার মতো পদক্ষেপ বিবেচনা করছে।   গবেষণায় সবচেয়ে উদ্বেগজনক তথ্য হলো, জরিপ করা পানি ব্যবস্থার ৯৩ শতাংশেই নিম্ন আয়ের পরিবারের জন্য পানির খরচকে অসহনীয় বা সামলানো কঠিন বলে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়েছে। পশ্চিম ভার্জিনিয়ায় গড় বার্ষিক পানির খরচ ছিল সবচেয়ে বেশি, প্রায় ১ হাজার ৩৮৩ ডলার। ক্যালিফোর্নিয়া ও পেনসিলভানিয়ার একাধিক পানি ব্যবস্থাও সবচেয়ে ব্যয়বহুল তালিকায় রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী বাংলাদেশি ও অন্যান্য অভিবাসী পরিবারগুলোর জন্যও এই পরিবর্তন গুরুত্বপূর্ণ। কারণ বাড়িভাড়া, গাড়ির খরচ, বিদ্যুৎ, খাবার ও স্বাস্থ্যসেবার ব্যয়ের সঙ্গে পানির বিলও মাসিক বাজেটের একটি অংশ। বিশেষ করে বড় পরিবার বা সীমিত আয়ের পরিবারের ক্ষেত্রে ছোট ছোট বিল বৃদ্ধিও বছরে উল্লেখযোগ্য অতিরিক্ত খরচ তৈরি করতে পারে।   পানি সরবরাহের পুরোনো অবকাঠামো সংস্কার, পরিষেবা এলাকার জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং পানি ব্যবস্থার মালিকানা ও পরিচালনার ধরনসহ বিভিন্ন কারণে বিভিন্ন অঞ্চলে বিলের পার্থক্য তৈরি হচ্ছে। ফলে ভবিষ্যতে পানির দাম নিয়ন্ত্রণে অবকাঠামো বিনিয়োগ এবং নিম্ন আয়ের পরিবারের জন্য সহায়তা কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

প্রকাশ : অক্টোবর ৭, ২০২৬ ১২:২১
কানাডায় অস্ত্রধারী হামলাকারীর কবল থেকে দুই নারীকে রক্ষায় অনন্য সাহসিকতার স্বীকৃতি পেলেন চার পুলিশ কর্মকর্তা। ছবি: সংগৃহীত
দুই নারীকে অস্ত্রধারীর হাত থেকে বাঁচিয়ে কানাডায় পুরস্কৃত পাঞ্জাবি বংশোদ্ভূত পুলিশ

কানাডায় অস্ত্রধারী এক হামলাকারীর কবল থেকে দুই নারীকে রক্ষায় সাহসিকতার স্বীকৃতি পেয়েছেন পাঞ্জাবি বংশোদ্ভূত পুলিশ কর্মকর্তা ওপিন্দর কুনারসহ চার কর্মকর্তা। একটি দোকানে দুই নারীকে আটকে রেখে তাঁদের একজনকে ছুরিকাঘাত করার পর হামলাকারীকে থামাতে দ্রুত ও সিদ্ধান্তমূলক পদক্ষেপ নিয়েছিলেন তাঁরা। প্রায় দুই বছর আগের ওই ঘটনায় দুই নারীকে আরও ক্ষতির হাত থেকে রক্ষার স্বীকৃতি হিসেবে চার কর্মকর্তাকে চিফ কনস্টেবলের সম্মাননা দেওয়া হয়েছে।   ভ্যাঙ্কুভার পুলিশ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, সম্মাননা পাওয়া চার কর্মকর্তা হলেন ওপিন্দর কুনার, রাইলি নেলমেস, ব্রায়ান রগার এবং মাইকেল উ। ঘটনার পর অপরাধস্থলের বিস্তারিত তদন্ত এবং ভুক্তভোগীদের বক্তব্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই প্রক্রিয়া শেষে প্রাণঘাতী পরিস্থিতি মোকাবিলায় তাঁদের ভূমিকার স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।   ঘটনাটি ঘটে ২০২৪ সালের ৪ ডিসেম্বর সকালে। ওই সময় জরুরি সেবা নম্বরে একটি ফোন পেয়ে ঘটনাস্থলে যান চার পুলিশ কর্মকর্তা। ফোনে জানানো হয়েছিল, এক ব্যক্তি ভ্যাঙ্কুভার শহরের কেন্দ্রস্থলের একটি রেস্তোরাঁয় ঢুকে মদ ও ছুরি চুরি করেছেন।   পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই সন্দেহভাজন ব্যক্তি রাস্তার অপর পাশের একটি দোকানে ঢুকে পড়েন। সেখানে তিনি এক নারী কর্মীর ওপর ছুরি নিয়ে হামলা চালান। ওই নারীকে মাথা, পিঠ ও হাতে ছুরিকাঘাত করা হয়। আহত অবস্থায় তিনি দোকানের ভেতরেই হামলাকারীর সঙ্গে আটকা পড়েন।   একই দোকানে আরও একজন নারী কর্মী ছিলেন। ফলে দুই নারীই সশস্ত্র হামলাকারীর কাছাকাছি আটকা পড়ে যান। পরিস্থিতি দ্রুত প্রাণঘাতী হয়ে ওঠায় পুলিশ কর্মকর্তারা দোকানের ভেতরে প্রবেশ করেন।   প্রথমে হামলাকারীকে শান্ত করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন কর্মকর্তারা। প্রাণঘাতী শক্তি ব্যবহার না করে তাঁকে নিবৃত্ত করার চেষ্টা চালানো হয়। কিন্তু পুলিশের সেই প্রচেষ্টা সফল হয়নি।   এরপর একজন কর্মকর্তা বিদ্যুৎচালিত নিয়ন্ত্রণ অস্ত্র ব্যবহার করেন। কিন্তু সেটিও সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে থামাতে পারেনি। তিনি ছুরি হাতে দুই নারীর দিকে এগিয়ে যেতে থাকেন।   একপর্যায়ে হামলাকারী দুই নারীর দিকে ছুরি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ার চেষ্টা করলে আরেক পুলিশ কর্মকর্তা আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করেন। এতে তাৎক্ষণিক হুমকি থামানো সম্ভব হয় এবং দুই নারীকে আরও হামলার হাত থেকে রক্ষা করা যায়।   পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসার পর পুলিশ কর্মকর্তারা আহত নারীদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিতে শুরু করেন। চিকিৎসাকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছানো পর্যন্ত তাঁরা আহতদের পাশে থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেন। পরে সন্দেহভাজন ব্যক্তি তাঁর আঘাতের কারণে মারা যান।   ভ্যাঙ্কুভার পুলিশ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, সক্রিয় প্রাণঘাতী হুমকি থামানো এবং দুই নারীকে আরও ক্ষতির হাত থেকে রক্ষায় কর্মকর্তাদের সাহসী ও দ্রুত পদক্ষেপের জন্য এই সম্মাননা দেওয়া হয়েছে।   সম্মাননাপ্রাপ্ত ওপিন্দর কুনার পাঞ্জাবি বংশোদ্ভূত। তাঁর পাশাপাশি রাইলি নেলমেস, ব্রায়ান রগার এবং মাইকেল উ একই স্বীকৃতি পেয়েছেন। চার কর্মকর্তাই ওই দিনের অভিযানে অংশ নিয়েছিলেন।   ঘটনার শুরুতে পুলিশ যে পরিস্থিতির খবর পেয়েছিল, ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর সেটি দ্রুত বদলে যায়। প্রথমে একটি রেস্তোরাঁ থেকে মদ ও ছুরি চুরির অভিযোগ পাওয়া গেলেও অল্প সময়ের মধ্যেই পাশের দোকানে একজন নারী ছুরিকাঘাতের শিকার হন এবং আরেক নারীও হামলাকারীর সঙ্গে ভেতরে আটকা পড়েন।   কর্মকর্তারা পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা থেকে শুরু করে বিদ্যুৎচালিত নিয়ন্ত্রণ অস্ত্র ব্যবহার পর্যন্ত একাধিকভাবে সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে থামানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু এসব প্রচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর হামলাকারী যখন ছুরি নিয়ে দুই নারীর দিকে এগিয়ে যান, তখন তাঁকে থামাতে আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করা হয়।   দুই নারীকে নিরাপদ করার পর আহতদের চিকিৎসার দায়িত্বও নেন কর্মকর্তারা। জরুরি চিকিৎসাসেবা পৌঁছানোর আগ পর্যন্ত তাঁদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। এই পুরো পরিস্থিতিতে নেওয়া পদক্ষেপই পরবর্তী তদন্ত ও মূল্যায়নে কর্মকর্তাদের সম্মাননার ভিত্তি হয়েছে।   ঘটনার প্রায় দুই বছর পর তদন্তের বিস্তারিত তথ্য ও ভুক্তভোগীদের বক্তব্য পর্যালোচনা শেষে ওপিন্দর কুনারসহ চার কর্মকর্তাকে চিফ কনস্টেবলের সম্মাননা দেওয়া হলো। প্রাণঘাতী পরিস্থিতিতে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া, হামলাকারীকে থামানো এবং দুই নারীকে আরও ক্ষতির হাত থেকে রক্ষায় তাঁদের ভূমিকার স্বীকৃতি হিসেবেই এই পুরস্কার দেওয়া হয়েছে।   সূত্র: দ্য ট্রিবিউন

প্রকাশ : অক্টোবর ৭, ২০২৬ ১২:২৪
যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ২২ বছর বয়সী শিক্ষার্থী ডিলান শান আশার চার দিন ধরে নিখোঁজ রয়েছেন। ছবি: সংগৃহীত
মেরিল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ২২ বছরের ছাত্র নিখোঁজ, চার দিনেও মেলেনি সন্ধান

যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ২২ বছর বয়সী শিক্ষার্থী ডিলান শান আশার চার দিন ধরে নিখোঁজ রয়েছেন। গত ২ অক্টোবর ভোররাতে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের একটি পার্কিং গ্যারেজের কাছে নজরদারি ক্যামেরায় তাঁকে সর্বশেষ দেখা যায়। এরপর থেকে তাঁর আর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। পরিবারের তথ্য অনুযায়ী, ডিলানের সঙ্গে মোবাইল ফোন, মানিব্যাগ কিংবা পরিচয়পত্রও নেই। তাঁকে খুঁজে পেতে সাধারণ মানুষের সহায়তা চেয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় পুলিশ।   ডিলানকে সর্বশেষ ২ অক্টোবর স্থানীয় সময় রাত আড়াইটার দিকে ইউনিভার্সিটি অব মেরিল্যান্ডের টেরাপিন ট্রেইল পার্কিং গ্যারেজের কাছে দেখা যায়। বিশ্ববিদ্যালয়টির ক্যাম্পাস ওয়াশিংটন ডিসির ঠিক বাইরে মেরিল্যান্ডের কলেজ পার্কে অবস্থিত। নজরদারি ক্যামেরায় ধারণ করা ওই দৃশ্যের পর তাঁর অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।   চার দিন পর, ৬ অক্টোবর ডিলানের নতুন কয়েকটি ছবি প্রকাশ করে ইউনিভার্সিটি অব মেরিল্যান্ড পুলিশ। একই সঙ্গে তাঁর সন্ধানে সাধারণ মানুষের সহযোগিতা চাওয়া হয়। বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ও কলেজ পার্ক এলাকায় ডিলানকে কেউ দেখে থাকলে কিংবা তাঁর অবস্থান সম্পর্কে কোনো তথ্য জানা থাকলে তা দ্রুত পুলিশকে জানানোর অনুরোধ করা হয়েছে।   পরিবার পুলিশকে জানিয়েছে, নিখোঁজ হওয়ার সময় ডিলানের কাছে তাঁর মোবাইল ফোন ছিল না। সঙ্গে ছিল না মানিব্যাগ কিংবা পরিচয়পত্র। তবে কেন এসব ব্যক্তিগত জিনিস তাঁর সঙ্গে ছিল না কিংবা সেগুলো কোথায় রয়েছে, সে বিষয়ে প্রকাশিত তথ্যে কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।   ছেলের সন্ধান চেয়ে পুলিশের প্রকাশ করা একটি ভিডিওতে আবেগঘন আবেদন জানিয়েছেন ডিলানের মা। তিনি বলেন, পরিবার ডিলানকে অনেক ভালোবাসে এবং আশা করছে তিনি নিরাপদে আছেন। পরিবারের একমাত্র চাওয়া, ডিলান যেন নিরাপদে বাড়ি ফিরে আসেন।   কলেজ পার্ক এলাকার বাসিন্দাদের প্রতিও বিশেষ অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি। গত ২ অক্টোবর ভোর থেকে পরবর্তী সময়ের বাড়ির দরজার ক্যামেরা, গাড়ির ক্যামেরা এবং ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের নজরদারি ক্যামেরায় ধারণ করা দৃশ্য পরীক্ষা করে দেখতে বলেছেন ডিলানের মা। এসব দৃশ্যে ডিলানকে দেখা গেলে সেই তথ্য পুলিশকে জানানোর আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।   পুলিশের দেওয়া বর্ণনা অনুযায়ী, ডিলানের উচ্চতা ৬ ফুট ২ ইঞ্চি এবং তাঁর চুল কালো। সর্বশেষ নজরদারি ক্যামেরায় যখন তাঁকে দেখা যায়, তখন তাঁর পরনে ছিল মেরিল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের কালো রঙের সোয়েটশার্ট, ধূসর রঙের প্যান্ট এবং সাদা জুতা।   ডিলান পার্কিং গ্যারেজের কাছ থেকে এরপর কোথায় গিয়েছিলেন, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। তাঁর সঙ্গে অন্য কেউ ছিলেন কি না কিংবা ক্যাম্পাসের বাইরে তাঁকে পরবর্তী সময়ে কোথাও দেখা গেছে কি না, সে সম্পর্কেও পুলিশ কোনো নিশ্চিত তথ্য জানায়নি।   নিখোঁজ হওয়ার কারণ নিয়েও এখন পর্যন্ত কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। ডিলান স্বেচ্ছায় কোথাও গিয়েছিলেন নাকি অন্য কোনো পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন, সে বিষয়ে পুলিশ প্রকাশ্যে কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি। তদন্তকারীরা আপাতত তাঁর সর্বশেষ নিশ্চিত অবস্থানের পরবর্তী সময়ের তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করছেন।   এই কারণে নজরদারি ক্যামেরার দৃশ্যকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ডিলানের মা স্থানীয় বাসিন্দাদের শুধু বাড়ির দরজার ক্যামেরাই নয়, গাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ক্যামেরায় ধারণ করা দৃশ্যও পরীক্ষা করার অনুরোধ জানিয়েছেন। কোনো ছোট তথ্যও তাঁর গতিবিধি শনাক্ত করতে কাজে আসতে পারে বলে আশা করছে পরিবার।   বিশ্ববিদ্যালয় পুলিশ ডিলানের নতুন ছবি প্রকাশের পাশাপাশি তাঁর শারীরিক বর্ণনা এবং সর্বশেষ পরনের পোশাকের তথ্যও ছড়িয়ে দিচ্ছে। উদ্দেশ্য, গত কয়েক দিনে কেউ তাঁকে দেখে থাকলে যেন সহজে শনাক্ত করতে পারেন এবং পুলিশকে তথ্য দিতে পারেন।   ডিলানের সঙ্গে মোবাইল ফোন না থাকায় ফোনের মাধ্যমে তাঁর অবস্থান শনাক্ত করার সুযোগ নেই। একই সঙ্গে মানিব্যাগ ও পরিচয়পত্র সঙ্গে না থাকার কারণে পরিবার ও পুলিশের জন্য তাঁর সম্ভাব্য গতিবিধি সম্পর্কে তথ্য পাওয়ার ক্ষেত্রেও জটিলতা তৈরি হয়েছে।   এখন পর্যন্ত ২ অক্টোবর রাত আড়াইটার দিকে টেরাপিন ট্রেইল পার্কিং গ্যারেজের কাছে নজরদারি ক্যামেরায় ধারণ করা দৃশ্যটিই ডিলানের সর্বশেষ নিশ্চিত অবস্থান হিসেবে সামনে এসেছে। চার দিন পেরিয়ে গেলেও তাঁর পরবর্তী অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।   পুলিশ জানিয়েছে, ডিলানের অবস্থান সম্পর্কে কোনো তথ্য জানা থাকলে তা দ্রুত কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে। তাঁকে কোথাও দেখা গেছে, তাঁর গতিবিধি সম্পর্কে কোনো তথ্য রয়েছে কিংবা নিখোঁজ হওয়ার পর তিনি কোথায় যেতে পারেন সে বিষয়ে তথ্য দিতে পারেন, এমন যে কাউকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে।   ডিলানের সন্ধানসংক্রান্ত তথ্য জানাতে ইউনিভার্সিটি অব মেরিল্যান্ড পুলিশের ৩০১-৪০৫-৩৫৫৫ নম্বরে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। চার দিনেও তাঁর সন্ধান না মেলায় পরিবার এখন ছেলের নিরাপদে ফিরে আসার অপেক্ষায় রয়েছে, আর পুলিশ সম্ভাব্য তথ্য ও নজরদারি ক্যামেরার দৃশ্য সংগ্রহ করে অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছে।

প্রকাশ : অক্টোবর ৭, ২০২৬ ১২:০
যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিনে শিক্ষিকা সেজে স্কুলে ঢুকে শিক্ষার্থীদের বর্ণবাদী গালাগাল, গ্রেপ্তার তরুণী
যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিনে শিক্ষিকা সেজে স্কুলে ঢুকে শিক্ষার্থীদের বর্ণবাদী গালাগাল, গ্রেপ্তার তরুণী

যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিন অঙ্গরাজ্যের একটি স্কুলে শিক্ষিকার ছদ্মবেশে ঢুকে শিক্ষার্থীদের বর্ণবাদী ও অশালীন মন্তব্য করার অভিযোগে এক তরুণীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ২৩ বছর বয়সী অ্যামি জোনস নামের ওই নারী মিলওয়াকির রুফাস কিং হাই স্কুলে বদলি শিক্ষিকার পরিচয় দিয়ে প্রবেশ করেন এবং ক্লাসরুমে ঢুকে চরম বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেন।   আদালতের নথি অনুযায়ী, গত ২৪ সেপ্টেম্বর এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটে। সেদিন স্কুলে কিছু নিয়মিত শিক্ষক অনুপস্থিত থাকায় বদলি শিক্ষকরা ক্লাস নিচ্ছিলেন, আর এই সুযোগটাই কাজে লাগান অ্যামি। তিনি পর পর তিনটি পিরিয়ডে ক্লাস নেন। এ সময় তিনি শিক্ষার্থীদের লিঙ্গ ও বর্ণের ভিত্তিতে আলাদা করেন এবং আপত্তিকর আচরণ শুরু করেন।   শ্বেতাঙ্গ শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্য করে তিনি বর্ণবাদী মন্তব্য ও অশালীন গালিগালাজ করেন। এমনকি এক শিক্ষার্থীকে বডি-শেম করে 'মোটা ছেলে' বলে ডাকেন এবং ছাত্রীদের উদ্দেশ্য করে প্রশ্ন করেন যে তারা ভবিষ্যতে 'স্ট্রিপার' বা 'পতিতা' হতে চায় কি না। এছাড়া তিনি নিজের অপরাধমূলক অতীত নিয়ে গর্ববোধ করে শিক্ষার্থীদের বলেন যে জেলে যাওয়া কোনো ব্যাপার নয়।   শিক্ষার্থীদের অভিযোগের ভিত্তিতে স্কুল কর্তৃপক্ষ তাকে দ্রুত ক্যাম্পাস থেকে বের করে দেয়। ঘটনার ছয় দিন পর পুলিশ তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি কোনো অনুশোচনা না দেখিয়ে উল্টো নেচে-গেয়ে উল্লাস প্রকাশ করেন এবং জানান যে, তিনি বাচ্চাদের অপছন্দ করেন এবং স্রেফ 'মজা করার জন্য' এই কাজ করেছেন। বর্তমানে তার বিরুদ্ধে সরকারি কর্মচারীর ছদ্মবেশ ধারণ এবং শিশুদের সামনে ক্ষতিকর বিষয় উপস্থাপনের পাঁচটি অভিযোগ আনা হয়েছে। দোষী সাব্যস্ত হলে তার ২১ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে।   এদিকে, আদালতে অ্যামির আইনজীবী মাইকেল চেরনিগলিয়া দাবি করেছেন, তার মক্কেল বাইপোলার ডিজঅর্ডারে ভুগছেন। ওষুধ সরবরাহে বিলম্ব হওয়ায় তিনি ওষুধ সেবন করতে পারেননি, যার ফলে তার এমন গুরুতর মানসিক অবস্থার সৃষ্টি হয়েছিল। অন্যদিকে, স্কুলটির অধ্যক্ষ ডোরিন বাডিলো এই ঘটনাকে 'উদ্বেগজনক' আখ্যা দিয়ে স্বীকার করেছেন যে, বদলি শিক্ষক যাচাইয়ের ক্ষেত্রে তাদের নির্ধারিত নিয়ম সঠিকভাবে অনুসরণ করা হয়নি। ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে তারা স্কুলের নিরাপত্তা ও যাচাইকরণ ব্যবস্থা কঠোরভাবে পর্যালোচনা করছেন বলে জানিয়েছেন।

প্রকাশ : অক্টোবর ৭, ২০২৬ ১১:৫৫
যুক্তরাষ্ট্রে গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন করা আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য ওপিটি কর্মসূচিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রস্তাব করা হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
বিদেশি শিক্ষার্থীদের ওপিটিতে ৭০ হাজার ডলার ফি প্রস্তাব ট্রাম্প প্রশাসনের

যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনাসংশ্লিষ্ট কাজের সুযোগ দেওয়া অপশনাল প্র্যাকটিক্যাল ট্রেনিং বা ওপিটি কর্মসূচিতে প্রথমবার অংশগ্রহণের জন্য ৭০ হাজার ডলার ফি আরোপের প্রস্তাব করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। বুধবার ৭ অক্টোবর প্রকাশিত প্রস্তাব অনুযায়ী, শিক্ষার্থীর জন্য এই অর্থ পরিশোধ করতে হবে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে। নিয়মটি এখনো চূড়ান্ত হয়নি।    ইমিগ্রেশন আইনবিষয়ক প্রতিষ্ঠান এরিকসন ইমিগ্রেশন গ্রুপ জানিয়েছে, কোনো এফ-১ শিক্ষার্থীকে প্রথমবার যেকোনো ধরনের ওপিটির জন্য সুপারিশ করার সময় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে ৭০ হাজার ডলার দিতে হবে। পরবর্তী প্রতিটি ওপিটি অনুমোদনের জন্য প্রস্তাবিত ফি ৩০ হাজার ডলার। বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিত বিষয়ে ডিগ্রিধারীদের স্টেম ওপিটির মেয়াদ বাড়ানোর ক্ষেত্রেও এই অতিরিক্ত ফি প্রযোজ্য হবে।    ওপিটির মাধ্যমে যোগ্য এফ-১ শিক্ষার্থীরা নিজেদের পড়াশোনার বিষয়ের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত কাজে সাধারণত সর্বোচ্চ ১২ মাস অংশ নিতে পারেন। নির্ধারিত স্টেম বিষয়ে ডিগ্রিধারীরা শর্ত পূরণ করলে আরও ২৪ মাসের অনুমোদনের জন্য আবেদন করতে পারেন। ফলে প্রথম ওপিটির পর একটি স্টেম এক্সটেনশন নিলে প্রস্তাবিত নতুন ফির মোট পরিমাণ দাঁড়াবে ১ লাখ ডলার।    ব্লুমবার্গ ল জানিয়েছে, অনেক বিদেশি স্নাতক ওপিটির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে কর্মজীবন শুরু করেন এবং পরে নিয়োগদাতার স্পনসরশিপে এইচ-১বি কর্মসূচিতে যাওয়ার চেষ্টা করেন। ২০২৪ সালে প্রায় ৪ লাখ ১৮ হাজার শিক্ষার্থীর এই কর্মসূচির আওতায় কাজের অনুমোদন ছিল।    প্রস্তাবটি সামনে এনেছে ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির অধীন ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট বা আইসিই। সরকারি নিয়ন্ত্রক পর্যালোচনার নথিতে দেখা যায়, ‘অপশনাল প্র্যাকটিক্যাল ট্রেনিং ফিস’ শীর্ষক প্রস্তাবটি ২০ আগস্ট পর্যালোচনার জন্য জমা পড়ে। ১১ সেপ্টেম্বর সেই পর্যালোচনা শেষ হয়। নথিতে উদ্যোগটির অবস্থান এখনো প্রস্তাবিত বিধি হিসেবে উল্লেখ রয়েছে।    এরিকসন ইমিগ্রেশন গ্রুপের তথ্য অনুযায়ী, প্রস্তাবটি ৮ অক্টোবর ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশের কথা রয়েছে। এরপর ৩০ দিন জনমত গ্রহণ করা হবে। চূড়ান্ত বিধি প্রকাশ ও কার্যকর হওয়ার আগে এই প্রস্তাবের ভিত্তিতে নতুন ফি আদায় শুরু হবে না। 

প্রকাশ : অক্টোবর ৭, ২০২৬ ১১:৪১
সিসিটিভি ফুটেজ সহ দোকান।
মিয়ামিতে বাংলাদেশি মালিকের দোকানে পিকআপ ট্রাক ঢুকে নারী আহত, ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

ফ্লোরিডার মিয়ামি-ডেড কাউন্টির নর্থওয়েস্ট এলাকায় একটি পিকআপ ট্রাক দোকানের ভেতরে ঢুকে পড়ায় এক নারী আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নর্থওয়েস্ট ৭ম অ্যাভিনিউ ও ১১১তম স্ট্রিটের কাছে কুইক স্টপ নামের দোকানে এ ঘটনা ঘটে।   স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রকাশ করা নজরদারি ক্যামেরার ভিডিওতে দেখা যায়, একটি পিকআপ ট্রাক হঠাৎ দোকানের সামনের অংশ ভেঙে ভেতরে ঢুকে যায়। ওই সময় দোকানের ভেতরে অন্তত পাঁচজন মানুষ ছিলেন। ঘটনায় দোকানের তাক, পণ্য ও বিভিন্ন সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়।   আহত নারী তখন তার স্বামী ও পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে দোকানের ভেতরে ছিলেন। তার স্বামী জোসেফ জানান, হঠাৎ বিকট শব্দ শুনে তিনি পেছনে তাকিয়ে দেখেন ট্রাকটি দোকানের ভেতরে ঢুকে গেছে। পরে তিনি তার স্ত্রীকে মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখেন এবং জরুরি সহায়তার জন্য ৯১১ নম্বরে ফোন করতে বলেন।   স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ট্রাক ঢোকার সময় একটি ভিডিও পোকার মেশিন পড়ে ওই নারী আহত হন। মিয়ামি-ডেড ফায়ার রেসকিউ কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যান। তার স্বামী পরে জানান, আঘাত জীবন-সংকটাপন্ন নয় বলে তিনি জানতে পেরেছেন।   দুর্ঘটনার পর দোকানের ভেতরের বেশ কিছু পণ্য ও তাক ভেঙে যায়। দোকানের মালিক এমডি হাসান জানান, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৪০ হাজার ডলার হতে পারে। তিনি বলেন, দোকানটি তার পরিবারের আয়ের প্রধান উৎস এবং দ্রুত পরিষ্কার করে আবার ব্যবসা শুরু করার চেষ্টা করছেন।   ট্রাকটির চালক ঘটনাস্থলে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, তিনি গাড়িটি পেছনে নেওয়ার চেষ্টা করার সময় সেটি সামনে এগিয়ে দোকানের দিকে চলে যায়। তিনি ধারণা করেছিলেন গাড়িটি রিভার্স গিয়ারে ছিল, কিন্তু পরে বোঝা যায় সেটি ড্রাইভ অবস্থায় ছিল।   মিয়ামি-ডেড শেরিফের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে এসে তদন্ত করেন। চালককে ঘটনাস্থল থেকে চলে যেতে দেওয়া হয়েছে। তবে তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ বা ট্রাফিক জরিমানা করা হয়েছে কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।   দুর্ঘটনার পর দোকানটি পরিষ্কার করার কাজ শুরু হয়। মালিকের হিসাবে পুরো ক্ষয়ক্ষতি সামাল দিতে প্রায় এক সপ্তাহ সময় লাগতে পারে এবং তিনি পরের সপ্তাহে দোকানটি পুরোপুরি চালু করার আশা করছেন।   মিয়ামি-ডেডে বাংলাদেশি ও দক্ষিণ এশীয় মালিকানাধীন ছোট ব্যবসার সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হওয়ায় এমন দুর্ঘটনা কমিউনিটি পর্যায়েও মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। বিশেষ করে দোকান ও রেস্টুরেন্টের মতো ব্যবসা অনেক অভিবাসী পরিবারের প্রধান আয়ের উৎস হওয়ায় বড় ধরনের সম্পত্তির ক্ষতি তাদের জন্য সরাসরি আর্থিক চাপ তৈরি করতে পারে।   পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দুর্ঘটনার সঠিক কারণ খতিয়ে দেখছে। চালকের বিরুদ্ধে পরবর্তী সময়ে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না, তদন্তের পর তা পরিষ্কার হতে পারে।

প্রকাশ : অক্টোবর ৭, ২০২৬ ১১:৩২
বাংলাদেশী-আমেরিকান নিহাদ রহমানের নেতৃত্বাধীন ইজিকেটার প্ল্যাটফর্মকে কিনে নিচ্ছে রাইড শেয়ারিং জায়ান্ট উবার। ছবি: সংগৃহীত
২.৩ বিলিয়ন ডলারে উবার কিনছে বাংলাদেশি-আমেরিকান নিহাদ রহমানের স্টার্টআপ

বাংলাদেশি-আমেরিকান নিহাদ রহমানের নেতৃত্বাধীন যুক্তরাষ্ট্রের স্টার্টআপ ইজিকেটারকে ২ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারে কিনে নিচ্ছে উবার টেকনোলজিস। বোস্টনভিত্তিক প্রতিষ্ঠানটি যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ১ লাখ ৪০ হাজারের বেশি রেস্তোরাঁর সঙ্গে বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে যুক্ত করে করপোরেট খাবার ও ক্যাটারিং সেবা দিয়ে আসছে। পুরো অর্থ নগদে পরিশোধ করবে উবার। নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদনসহ প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে আগামী কয়েক মাসের মধ্যে অধিগ্রহণ সম্পন্ন হওয়ার আশা করা হচ্ছে।   বাংলাদেশ ব্যাংকের বুধবারের বিনিময় হার অনুযায়ী, প্রতি ডলার ১২৩ দশমিক ০৭ টাকা ধরে এই ২ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারের চুক্তির মূল্য বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২৮ হাজার ৩০৬ কোটি টাকা। ইজিকেটার অধিগ্রহণের মাধ্যমে করপোরেট খাবার ও ক্যাটারিংয়ের বাজারে নিজেদের উপস্থিতি আরও বাড়াতে চাইছে উবার। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, চুক্তি সম্পন্ন হলে ইজিকেটারের ক্যাটারিং ও ব্যবসা-থেকে-ব্যবসা কার্যক্রমকে নিজেদের খাবার সরবরাহ ও করপোরেট সেবার সঙ্গে যুক্ত করা হবে।   ইজিকেটারের বর্তমান প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নিহাদ রহমান। টেকক্রাঞ্চের তথ্য অনুযায়ী, দীর্ঘ করপোরেট কর্মজীবনের অভিজ্ঞতা নিয়ে ২০২২ সালে প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটিতে যোগ দেন তিনি। এর আগে জেপিমরগ্যান চেজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। জেনারেল ইলেকট্রিকের বিভিন্ন শীর্ষ পদেও কাজ করেছেন তিনি।   ইজিকেটারে যোগ দেওয়ার পর ধাপে ধাপে প্রতিষ্ঠানটির শীর্ষ নেতৃত্বে উঠে আসেন নিহাদ রহমান। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে তাঁকে অন্তর্বর্তীকালীন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্ব দেওয়া হয়। এরপর একই বছরের মে মাসে তাঁকে স্থায়ী প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। বর্তমানে তাঁর নেতৃত্বেই প্রতিষ্ঠানটির ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।   ইজিকেটারের মূল ব্যবসা করপোরেট খাবার ও ক্যাটারিংকে কেন্দ্র করে। বিভিন্ন রেস্তোরাঁ ও ক্যাটারিং প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের সংযোগ তৈরি করে বড় খাবারের অর্ডার পরিচালনা করে প্রতিষ্ঠানটি। যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তাদের নেটওয়ার্কে ১ লাখ ৪০ হাজারের বেশি রেস্তোরাঁ রয়েছে।   সাধারণ ভোক্তার ব্যক্তিগত খাবারের অর্ডারের তুলনায় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, অফিস ও করপোরেট আয়োজনের অর্ডার সাধারণত বড় হয়ে থাকে। এই বাজারে নিজেদের কার্যক্রম সম্প্রসারণ করেছে ইজিকেটার। প্রতিষ্ঠানটির বিস্তৃত রেস্তোরাঁ নেটওয়ার্ক এবং বড় করপোরেট অর্ডারের ব্যবসাই উবারের অধিগ্রহণ পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।   ইজিকেটারকে নিজেদের সঙ্গে যুক্ত করার পর করপোরেট ক্যাটারিংয়ের বাজারে কার্যক্রম বাড়ানোর পরিকল্পনা করেছে উবার। ইজিকেটারের বিদ্যমান ব্যবসা-থেকে-ব্যবসা কার্যক্রমকে উবারের খাবার সরবরাহ এবং ব্যবসায়িক সেবার সঙ্গে সমন্বয় করা হবে। এর মাধ্যমে সাধারণ খাবার সরবরাহের পাশাপাশি বড় প্রতিষ্ঠানের খাবারের চাহিদা পূরণের ক্ষেত্রেও নিজেদের অবস্থান বাড়াতে চাইছে প্রতিষ্ঠানটি।   ইজিকেটারের জন্য নির্ধারিত ২ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারের পুরো অর্থ নগদে পরিশোধের পরিকল্পনা রয়েছে উবারের। তবে চুক্তির ঘোষণা এলেও অধিগ্রহণ এখনো চূড়ান্ত হয়নি। সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন এবং অন্যান্য আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরই লেনদেন সম্পন্ন হবে।   প্রয়োজনীয় অনুমোদন পাওয়া গেলে আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই পুরো প্রক্রিয়া শেষ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এরপর ইজিকেটারের ক্যাটারিং নেটওয়ার্ককে উবারের বিদ্যমান খাবার সরবরাহ ও করপোরেট ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত করার কাজ শুরু হবে।   এই অধিগ্রহণের কেন্দ্রীয় চরিত্রদের একজন বাংলাদেশি-আমেরিকান নিহাদ রহমান। প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে ইজিকেটারে যোগ দেওয়ার আগে তিনি বড় আর্থিক ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন। জেপিমরগ্যান চেজ এবং জেনারেল ইলেকট্রিকের অভিজ্ঞতা নিয়ে ইজিকেটারে আসার পর তিন বছরের মধ্যেই প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহীর দায়িত্ব পান তিনি।   ২০২৫ সালের শুরুতে অন্তর্বর্তীকালীনভাবে প্রধান নির্বাহীর দায়িত্ব নেওয়ার কয়েক মাস পরই স্থায়ীভাবে প্রতিষ্ঠানটির নেতৃত্ব তাঁর হাতে দেওয়া হয়। সেই নেতৃত্বাধীন ইজিকেটার এখন ২ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারের নগদ চুক্তিতে উবারের অধিগ্রহণের পথে।   অধিগ্রহণ সম্পন্ন হলে ইজিকেটারের ১ লাখ ৪০ হাজারের বেশি রেস্তোরাঁর নেটওয়ার্ক এবং করপোরেট ক্যাটারিং কার্যক্রম উবারের বৃহত্তর ব্যবসায়িক কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত হবে। এতে করপোরেট খাবারের বড় অর্ডারের বাজারে উবারের কার্যক্রম আরও বিস্তৃত হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।   অন্যদিকে ইজিকেটারের জন্যও উবারের বিদ্যমান খাবার সরবরাহ ও ব্যবসায়িক সেবার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পথ তৈরি হবে। প্রতিষ্ঠান দুটির কার্যক্রম কীভাবে সমন্বয় করা হবে, তার পূর্ণাঙ্গ চিত্র অধিগ্রহণ চূড়ান্ত হওয়ার পর সামনে আসবে।   নিহাদ রহমানের জন্যও এই চুক্তি তাঁর পেশাগত পথচলার একটি উল্লেখযোগ্য অধ্যায়। ২০২২ সালে যে প্রতিষ্ঠানে প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন, তিন বছরের মধ্যে সেই প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী হয়েছেন তিনি। এখন তাঁর নেতৃত্বে থাকা স্টার্টআপটিই ২ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারের চুক্তিতে উবারের অংশ হতে যাচ্ছে।

প্রকাশ : অক্টোবর ৭, ২০২৬ ১১:৩২
অভিভাবকদের সাথে শিক্ষার্থীদের গ্রুপ ফটো।
নিউইয়র্কে শিশুদের ভবিষ্যৎ শিক্ষার জন্য সঞ্চয়ের সুযোগ, বাংলাভাষী অভিভাবকদের জন্য বিশেষ কর্মশালা

নিউইয়র্কে বসবাসরত বাংলা ভাষাভাষী পরিবারগুলোর জন্য শিশুদের ভবিষ্যৎ কলেজ ও ক্যারিয়ার প্রশিক্ষণের খরচ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি সুযোগ সামনে এসেছে। নিউইয়র্ক সিটির NYC Kids RISE Save for College Program বুধবার, ৭ অক্টোবর বাংলাসহ একাধিক ভাষায় বিনামূল্যের তথ্যভিত্তিক কর্মশালার আয়োজন করেছে।   কর্মশালাটির মূল লক্ষ্য হলো নিউইয়র্ক সিটির সরকারি স্কুলে পড়া শিশুদের পরিবারকে কলেজ ও ক্যারিয়ার প্রশিক্ষণের জন্য সঞ্চয় কর্মসূচি সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো। আজকের কর্মশালায় ইংরেজির পাশাপাশি বাংলা, উর্দু ও কোরিয়ান ভাষায় সরাসরি অনুবাদের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।   NYC Kids RISE-এর তথ্য অনুযায়ী, নিউইয়র্ক সিটির সরকারি স্কুলে কিন্ডারগার্টেন থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পড়া শিক্ষার্থীরা এই কর্মসূচির আওতায় আসে। অংশগ্রহণকারী চার্টার স্কুলের শিক্ষার্থীরাও এর অন্তর্ভুক্ত। পরিবারের আয় বা অভিবাসন-সংক্রান্ত অবস্থার ওপর ভিত্তি করে এই প্রাথমিক অন্তর্ভুক্তি নির্ধারিত হয় না।   এই কর্মসূচির আওতায় যোগ্য শিশুদের জন্য একটি NYC Scholarship Account তৈরি করা হয়। এই অ্যাকাউন্টে কলেজ ও ক্যারিয়ার প্রশিক্ষণের জন্য অর্থ বরাদ্দ থাকে। পরিবারগুলো পরবর্তীতে বিভিন্ন পুরস্কার ও কমিউনিটি স্কলারশিপের মাধ্যমে সন্তানের অ্যাকাউন্টে আরও অর্থ যোগ করার সুযোগ পেতে পারে।   বাংলাদেশি-আমেরিকান পরিবারগুলোর জন্য বাংলায় তথ্য পাওয়ার সুযোগটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। নিউইয়র্কে বড় বাংলাদেশি কমিউনিটি রয়েছে এবং বাংলা ভাষায় সরকারি বা কমিউনিটি সেবার তথ্য পাওয়া অনেক পরিবারের জন্য সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ করে। নিউইয়র্কে বাংলাদেশি অভিবাসীদের দীর্ঘদিনের কমিউনিটি উপস্থিতিও রয়েছে।   আজকের কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীরা কীভাবে কর্মসূচিতে যুক্ত হতে পারবেন, সন্তানের অ্যাকাউন্ট কীভাবে ব্যবহার করবেন এবং ভবিষ্যৎ শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের জন্য সঞ্চয়ের সুযোগ কীভাবে কাজে লাগানো যায়, সে বিষয়ে জানতে পারবেন।   এই ধরনের কর্মসূচি বিশেষ করে নতুন অভিবাসী ও মধ্যম আয়ের পরিবারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। কারণ যুক্তরাষ্ট্রে কলেজের পাশাপাশি বিভিন্ন পেশাগত প্রশিক্ষণেও উল্লেখযোগ্য অর্থ ব্যয় হতে পারে। ছোটবেলা থেকে সঞ্চয়ের সুযোগ সম্পর্কে পরিবারকে সচেতন করা ভবিষ্যতের শিক্ষাব্যয় পরিকল্পনায় সহায়তা করতে পারে।   নিউইয়র্কে বসবাসরত বাংলাদেশি অভিভাবকদের জন্য তাই সন্তানের স্কুল ও শিক্ষা-সংক্রান্ত সরকারি সুবিধাগুলোর পাশাপাশি এই ধরনের সঞ্চয় ও বৃত্তি কর্মসূচির তথ্য নিয়মিত যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ।   আজকের কর্মশালাটি ৭ অক্টোবর সকাল ৯টা থেকে ১০টা ১৫ মিনিট পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। কর্মসূচিটি নিউইয়র্ক সিটি পাবলিক স্কুলস ও নিউইয়র্ক সিটির অংশীদারিত্বে পরিচালিত হচ্ছে।

প্রকাশ : অক্টোবর ৭, ২০২৬ ১১:১২
বৈধ কাজের অনুমতিসম্পন্ন প্রবাসীদের জন্য স্বাস্থ্যসেবা খাতে দ্রুত কর্মজীবন শুরুর সুযোগ তৈরি হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
নিউইয়র্কে বিনা খরচে হোম হেলথ এইড প্রশিক্ষণ, সনদের পর চাকরিরও সুযোগ, জেনে নিন বিস্তারিত

নিউইয়র্কে হোম হেলথ এইড হিসেবে কাজ শুরু করতে আগ্রহীদের জন্য বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান বিনা টিউশন ফিতে প্রশিক্ষণ, নিউইয়র্ক স্টেট স্বীকৃত সনদ এবং চাকরিতে প্রবেশের সহায়তা দিচ্ছে। বাংলাদেশি কমিউনিটির নতুন অভিবাসীসহ যাদের বৈধভাবে কাজ করার অনুমতি রয়েছে এবং স্বাস্থ্যসেবা খাতে দ্রুত কর্মজীবন শুরু করতে চান, তাদের জন্য এসব কর্মসূচি একটি বাস্তবসম্মত সুযোগ হতে পারে।   তবে সব প্রতিষ্ঠানের শর্ত এক নয়। কোথাও নিউইয়র্ক সিটির বাসিন্দা হওয়া বাধ্যতামূলক, কোথাও হাই স্কুল ডিপ্লোমা বা জিইডি প্রয়োজন, আবার কিছু কর্মসূচিতে এসএনএপি সুবিধাভোগী হওয়ার শর্ত রয়েছে। তাই আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বর্তমান যোগ্যতা, ক্লাসের তারিখ এবং আসন খালি আছে কি না, তা সরাসরি যাচাই করা জরুরি।   নর্দার্ন ম্যানহাটন ইমপ্রুভমেন্ট করপোরেশন বা এনএমআইসি বর্তমানে হোম হেলথ এইড প্রশিক্ষণের একটি উল্লেখযোগ্য সুযোগ দিচ্ছে। তাদের চার সপ্তাহের প্রশিক্ষণ সফলভাবে শেষ করলে নিউইয়র্ক স্টেট হোম হেলথ এইড সনদ এবং স্টেট কেয়ার রেজিস্ট্রিতে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার সুযোগ রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি চাকরি খোঁজা, জীবনবৃত্তান্ত তৈরি এবং সাক্ষাৎকারের প্রস্তুতির ক্ষেত্রেও সহায়তা দেয়। সনদ পাওয়ার পর এক বছর পর্যন্ত চাকরির সুযোগ খোঁজা এবং চাকরিতে টিকে থাকার সহায়তাও দেওয়া হতে পারে।   অক্টোবর ২০২৬ অনুযায়ী এনএমআইসির পরবর্তী স্প্যানিশ ভাষার হোম হেলথ এইড প্রশিক্ষণ অক্টোবরেই হওয়ার কথা এবং ইংরেজি ভাষার পরবর্তী সেশন নির্ধারিত রয়েছে ২০২৭ সালের শীতকালে। ক্লাস সম্পূর্ণ সরাসরি উপস্থিত হয়ে করতে হয়। সোমবার থেকে শুক্রবার সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত প্রশিক্ষণ চলে। আবেদনকারীর বয়স কমপক্ষে ১৮ বছর হতে হবে, নিউইয়র্ক সিটির পাঁচ বরোর বাসিন্দা হতে হবে, হাই স্কুল ডিপ্লোমা বা জিইডি থাকতে হবে এবং বর্তমানে এসএনএপি সুবিধা পেতে হবে। পাশাপাশি বৈধভাবে কাজ করার অনুমতি, পরিচয়পত্র, ঠিকানার প্রমাণ এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও টিকাদানের নথিও লাগতে পারে।   আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ রয়েছে কেয়ারিং প্রফেশনালস হোম কেয়ারের মাধ্যমে। প্রতিষ্ঠানটি ব্রুকলিন, কুইন্স, ব্রঙ্কস, নাসাউ কাউন্টি ও ওয়েস্টচেস্টারের বিভিন্ন স্টেট অনুমোদিত অংশীদার প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে হোম হেলথ এইড কোর্সের খরচ বহন করে। তাদের তথ্য অনুযায়ী, যারা প্রশিক্ষণ শেষে প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে কাজ করবেন, তাদের কোর্সের টিউশন দিতে হয় না। কোর্স শেষ করে নিউইয়র্ক স্টেট সনদ পাওয়ার পর প্রতিষ্ঠানটির মাধ্যমে চাকরির সুযোগও রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে অবস্থানভেদে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ২১ ডলার পর্যন্ত বেতনের কথা উল্লেখ করছে।   নর্থওয়েল হেলথও বছরজুড়ে একাধিক স্থানে বিনা খরচে হোম হেলথ এইড প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকে। তাদের কর্মসংস্থান সংক্রান্ত তথ্যে বলা হয়েছে, কোর্সে ৭৫ ঘণ্টার শ্রেণিকক্ষ প্রশিক্ষণের সঙ্গে ১৬ ঘণ্টার তত্ত্বাবধানে ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ রয়েছে। নিবন্ধিত নার্সদের তত্ত্বাবধানে রোগীর যত্ন, নিরাপত্তা, ব্যক্তিগত পরিচর্যা, পুষ্টি, রোগীর অধিকার এবং চিকিৎসা সরঞ্জাম ব্যবহারের মতো বিষয় শেখানো হয়। নর্থওয়েলের হোম কেয়ার দলে কাজ শুরু করতে আগ্রহীদের জন্য এই প্রশিক্ষণ চাকরির পথও তৈরি করতে পারে।   সেলফহেল্প কমিউনিটি সার্ভিসেসেরও নিউইয়র্কে হোম হেলথ এইড প্রশিক্ষণ কর্মসূচি রয়েছে। ম্যানহাটনের ৫২০ এইটথ অ্যাভিনিউ ঠিকানায় তাদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালিত হয় এবং কুইন্সসহ অন্যান্য এলাকায়ও হোম কেয়ার সেবা রয়েছে। তবে বিনা খরচে প্রশিক্ষণ, নির্দিষ্ট ব্যাচ বা বর্তমান ভর্তি পরিস্থিতি সময়ভেদে বদলাতে পারে। তাই আগ্রহীদের সরাসরি তাদের প্রশিক্ষণ বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করে বর্তমান সেশন সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া উচিত।   নিউইয়র্ক সিটি ডিপার্টমেন্ট অব স্মল বিজনেস সার্ভিসেসের প্রশিক্ষণ নির্দেশিকাতেও হোম হেলথ এইডকে স্বাস্থ্যসেবা খাতের প্রশিক্ষণযোগ্য পেশা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তবে এই বিভাগ এবং সিটি ইউনিভার্সিটি অব নিউইয়র্কের সঙ্গে যুক্ত সব কর্মসূচি সাধারণ নতুন আবেদনকারীদের জন্য একই ধরনের হোম হেলথ এইড কোর্স নয়। কিছু উদ্যোগ বিশেষভাবে বর্তমানে পার্সোনাল কেয়ার এইড হিসেবে কর্মরতদের হোম হেলথ এইড হিসেবে উন্নীত করার জন্য তৈরি। ফলে শুধু বিনা খরচের অনলাইন কোর্স ভেবে আবেদন না করে নির্দিষ্ট কর্মসূচির যোগ্যতা আগে যাচাই করা দরকার।   নিউইয়র্ক স্টেটের নিয়ম অনুযায়ী অনুমোদিত হোম হেলথ এইড প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে কমপক্ষে ৭৫ ঘণ্টার প্রশিক্ষণ থাকতে হয়। এর মধ্যে ৫৯ ঘণ্টা শ্রেণিকক্ষ প্রশিক্ষণ এবং ১৬ ঘণ্টা তত্ত্বাবধানে ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ অন্তর্ভুক্ত। প্রশিক্ষণ অবশ্যই নিউইয়র্ক স্টেট ডিপার্টমেন্ট অব হেলথ বা স্টেট এডুকেশন ডিপার্টমেন্ট অনুমোদিত প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সম্পন্ন করতে হয়।   বেতনের ক্ষেত্রেও হোম হেলথ এইড পেশা নিউইয়র্কে তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল একটি প্রাথমিক পর্যায়ের চাকরির সুযোগ। নিউইয়র্ক স্টেট ডিপার্টমেন্ট অব লেবারের তথ্য অনুযায়ী, ১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে নিউইয়র্ক সিটি, লং আইল্যান্ড ও ওয়েস্টচেস্টারে হোম কেয়ার এইডদের ন্যূনতম ঘণ্টাপ্রতি মজুরি ১৯ দশমিক ৬৫ ডলার। নির্দিষ্ট চাকরি, অবস্থান, অভিজ্ঞতা, অতিরিক্ত সময়ের কাজ এবং অন্যান্য সুবিধার ওপর ভিত্তি করে মোট আয় আরও বেশি হতে পারে।   বাংলাদেশি কমিউনিটির যারা দ্রুত স্বাস্থ্যসেবা খাতে কাজ শুরু করতে চান, বিশেষ করে নতুন অভিবাসী নারী ও পুরুষদের জন্য হোম হেলথ এইড একটি সম্ভাবনাময় কর্মজীবনের পথ হতে পারে। তবে কোনো প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হওয়ার আগে সেটি বর্তমানে নিউইয়র্ক স্টেট অনুমোদিত কি না, কোর্স সত্যিই বিনা খরচে কি না, সনদের ধরন কী এবং চাকরির সুযোগ নিশ্চিত নাকি শুধু চাকরি খুঁজে পেতে সহায়তা দেওয়া হবে, এসব বিষয় যাচাই করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।

প্রকাশ : অক্টোবর ৭, ২০২৬ ১০:৫৮
অ্যাপার্টমেন্ট কমপ্লেক্সে
ফিনিক্সের অ্যাপার্টমেন্টে গভীর রাতে গুলির ঘটনা, গুরুতর আহত এক ব্যক্তি হাসপাতালে ভর্তি

যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনার ফিনিক্সে বুধবার ভোরে একটি অ্যাপার্টমেন্ট কমপ্লেক্সে গুলির ঘটনায় এক ব্যক্তি গুরুতর আহত হয়েছেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠিয়েছে। তার আঘাত গুরুতর হলেও তিনি বেঁচে যাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।   ঘটনাটি মঙ্গলবার রাত আনুমানিক ১০টার দিকে সাউথ ফিনিক্সের প্যারাডাইস পাল্মস অ্যাপার্টমেন্টে ঘটে। এলাকাটি ৭ম অ্যাভিনিউ ও সাউদার্ন অ্যাভিনিউয়ের কাছাকাছি। ঘটনাস্থলের পাশেই ফিনিক্স পুলিশের সাউথ মাউন্টেন প্রিসিন্ট থাকায় কর্মকর্তারা গুলির শব্দ শুনে দ্রুত সেখানে পৌঁছে যান।   পুলিশ পৌঁছানোর পর একজন গুলিবিদ্ধ ব্যক্তিকে দেখতে পায়। তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আহত ব্যক্তির অবস্থা গুরুতর হলেও তার বেঁচে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।   হামলার আগে কী ঘটেছিল, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি পুলিশ। গুলি কেন চালানো হয়েছে এবং আহত ব্যক্তি হামলাকারীকে চিনতেন কি না, সেটিও এখনো নিশ্চিত হয়নি।   ঘটনার পর পুলিশ পুরো এলাকা ঘিরে ফেলে এবং সন্দেহভাজন ব্যক্তির সন্ধানে অভিযান শুরু করে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের ভিডিওতে পুলিশ কর্মকর্তাদের রাইফেল হাতে অ্যাপার্টমেন্ট এলাকায় তল্লাশি চালাতে দেখা গেছে।   তদন্ত চলাকালে আশপাশের এলাকা বন্ধ রাখা হয়েছে। পুলিশ স্থানীয় বাসিন্দাদের ঘটনাস্থল এড়িয়ে চলার অনুরোধ জানিয়েছে, যাতে তদন্তকারীরা নিরাপদে আলামত সংগ্রহ করতে পারেন।   এখন পর্যন্ত কোনো সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তারের তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। গুলির ঘটনায় ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে কি না, সেটিও পুলিশ জানায়নি।ফিনিক্স পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করছে এবং প্রত্যক্ষদর্শী বা আশপাশের কোনো বাসিন্দার কাছে তথ্য থাকলে তা তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। তদন্ত এগিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ঘটনার কারণ ও সন্দেহভাজন সম্পর্কে আরও তথ্য প্রকাশ করতে পারে।

প্রকাশ : অক্টোবর ৭, ২০২৬ ১০:৪৮