- প্রচ্ছদ
- Latest news
Today latest news
20 News
হামাসের ৭ অক্টোবর ২০২৩ সালের হামলার তৃতীয় বার্ষিকীতে নিহত ইসরায়েলিদের স্মরণ করার পাশাপাশি গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের তীব্র সমালোচনা করেছেন নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি। বুধবার, ৭ অক্টোবর প্রকাশিত এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে তিনি ওই হামলাকে “ভয়াবহ যুদ্ধাপরাধ” হিসেবে বর্ণনা করেন। একই সঙ্গে গাজায় ইসরায়েলি সরকারের কর্মকাণ্ডকে “চলমান গণহত্যা” বলে উল্লেখ করেন। তাঁর এই বক্তব্য নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি করেছে। নিউইয়র্ক সিটি মেয়রের অফিস থেকে প্রকাশিত বিবৃতিতে মামদানি বলেন, ৭ অক্টোবরের দিনটি বহু নিউইয়র্কারের জন্য গভীর বেদনার। তিনি উল্লেখ করেন, হামাসের ওই হামলায় ১,১০০ জনের বেশি ইসরায়েলি নিহত হন এবং ২৫১ জনকে জিম্মি করে গাজায় নিয়ে যাওয়া হয়। নিহতদের পরিবার ও স্বজনদের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে মামদানি বলেন, অনেক নিউইয়র্কার এখনো সেই ভয়াবহ ঘটনার ক্ষত বহন করছেন। তবে বিবৃতির পরের অংশে গাজার পরিস্থিতির ওপর জোর দেন মামদানি। তিনি অভিযোগ করেন, ৭ অক্টোবরের হামলার পর গাজায় ইসরায়েলি সরকারের সামরিক অভিযানে ব্যাপক প্রাণহানি ও ধ্বংস হয়েছে। মেয়রের বিবৃতিতে বলা হয়, গাজায় ৭৪ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ২১ হাজারের বেশি শিশু। সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক সংবাদ প্রতিবেদনেও গাজায় নিহতের সংখ্যা ৭৪ হাজার ছাড়িয়েছে বলে স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। মামদানি তাঁর বিবৃতিতে অ্যাম্বুলেন্স, আবাসিক ভবন ও সাংবাদিকদের ওপর হামলা এবং সীমান্ত দিয়ে খাদ্য সহায়তা প্রবেশে বাধার অভিযোগও তোলেন। তিনি বলেন, এসব ঘটনার কারণে নিউইয়র্কের বহু বাসিন্দা গভীর শোক ও ক্ষোভের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র সহায়তার মাধ্যমে ইসরায়েলের সামরিক কর্মকাণ্ডে ওয়াশিংটনের ভূমিকারও সমালোচনা করেন তিনি। মেয়র বলেন, তিন বছর পর এমন একটি বিশ্বকে মেনে নেওয়া উচিত নয়, যেখানে দখলদারিত্ব, বৈষম্য এবং যুদ্ধাপরাধের দায়মুক্তি চলতে থাকে। তাঁর ভাষায়, নিহতদের সম্মান জানাতে এমন একটি বিশ্বের জন্য কাজ করতে হবে, যেখানে প্রত্যেকে স্বাধীনতা, নিরাপত্তা ও মর্যাদার সঙ্গে বসবাস করতে পারে। মামদানির বিবৃতিতে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে “গণহত্যা” শব্দের ব্যবহার বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে। বিষয়টি আন্তর্জাতিকভাবে অত্যন্ত বিতর্কিত এবং আইনি দৃষ্টিকোণ থেকেও জটিল। ইসরায়েল দীর্ঘদিন ধরে গাজায় গণহত্যা চালানোর অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে আসছে। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা ও জাতিসংঘ সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা ইসরায়েলের সামরিক অভিযান নিয়ে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত বা আইসিসি ২০২৪ সালের নভেম্বরে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং তৎকালীন প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। তবে ওই পরোয়ানা কোনো চূড়ান্ত দোষী সাব্যস্ত হওয়ার রায় নয়। ৭ অক্টোবর ২০২৩ সালে হামাস নেতৃত্বাধীন হামলায় প্রায় ১,২০০ মানুষ নিহত এবং ২৫১ জন জিম্মি হন। হামলার পর গাজায় বড় পরিসরে সামরিক অভিযান শুরু করে ইসরায়েল। তিন বছর পরও সেই হামলার প্রভাব ইসরায়েলি সমাজ ও রাজনীতিতে গভীরভাবে রয়ে গেছে। বুধবার ইসরায়েলের বিভিন্ন এলাকায় নিহতদের স্মরণে অনুষ্ঠান ও সমাবেশ হয়েছে। একই সময়ে গাজায়ও যুদ্ধ, বাস্তুচ্যুতি এবং ধ্বংসের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নিয়ে শোক প্রকাশ করছেন ফিলিস্তিনিরা। নিউইয়র্কে ইসরায়েল ও ফিলিস্তিন প্রশ্নে মামদানির অবস্থান আগেও বিতর্ক তৈরি করেছে। গত কয়েক মাসে তিনি একদিকে ইহুদি নিউইয়র্কারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে অ্যান্টিসেমিটিজম মোকাবিলায় সিটি পর্যায়ের উদ্যোগ নিয়েছেন, অন্যদিকে গাজায় ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডের প্রকাশ্য সমালোচনাও অব্যাহত রেখেছেন। তাঁর প্রশাসনের অ্যান্টিসেমিটিজমবিরোধী পরিকল্পনাকে কিছু ইহুদি সংগঠন স্বাগত জানালেও অন্যরা অভিযোগ করেছে, এতে ইসরায়েলবিরোধী বক্তব্যের সঙ্গে অ্যান্টিসেমিটিজমের সম্পর্ক যথেষ্টভাবে বিবেচনা করা হয়নি। ৭ অক্টোবরের বার্ষিকীতে তাঁর সর্বশেষ বক্তব্য সেই রাজনৈতিক বিভাজনকে আরও সামনে নিয়ে এসেছে। নিউইয়র্ক পোস্ট মামদানির বিবৃতিকে তীব্র সমালোচনার দৃষ্টিতে তুলে ধরেছে এবং অভিযোগ করেছে, তিনি হামলার বার্ষিকীকে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করেছেন। তবে মেয়রের নিজস্ব আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে হামাসের ৭ অক্টোবরের হামলাকে সরাসরি ভয়াবহ যুদ্ধাপরাধ বলা হয়েছে এবং নিহত ও ক্ষতিগ্রস্ত ইসরায়েলিদের প্রতিও শোক জানানো হয়েছে। ফলে তাঁর বক্তব্যের মূল অবস্থান ছিল একই সঙ্গে ৭ অক্টোবরের হামলার নিন্দা এবং গাজায় ইসরায়েলের সামরিক কর্মকাণ্ডের কঠোর সমালোচনা।
অনথিভুক্ত অভিবাসী শিক্ষার্থীদের কম ইন-স্টেট টিউশন দেওয়ার নীতিকে চ্যালেঞ্জ করে ইউনিভার্সিটি অব ডেলাওয়্যারের বিরুদ্ধে মামলা করেছে যুক্তরাষ্ট্রের জাস্টিস ডিপার্টমেন্ট। ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, ডেলাওয়্যারে বসবাসকারী অনথিভুক্ত শিক্ষার্থীরা বছরে প্রায় ১৫ হাজার ৭৪০ ডলার টিউশন দিয়ে পড়ার সুযোগ পেলেও অন্য অঙ্গরাজ্যের মার্কিন নাগরিক শিক্ষার্থীদের দিতে হচ্ছে প্রায় ৪২ হাজার ৪৭০ ডলার। এই ব্যবধান ফেডারেল আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে দাবি করেছে সরকার। ১ অক্টোবর দায়ের করা মামলায় জাস্টিস ডিপার্টমেন্ট বলেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান রেসিডেন্সি নীতি এমন শিক্ষার্থীদের ইন-স্টেট টিউশন সুবিধা দেয়, যারা ডেলাওয়্যারে বসবাস করলেও যুক্তরাষ্ট্রে বৈধ ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাসে নেই। অন্যদিকে ডেলাওয়্যারের বাইরের কোনো মার্কিন নাগরিক একই কম টিউশন রেট পান না। সরকারের অভিযোগ, এই নীতি ফেডারেল আইনের দুটি পৃথক বিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। জাস্টিস ডিপার্টমেন্টের মামলায় বলা হয়েছে, ৮ ইউএসসি ১৬২৩(এ) অনুযায়ী কোনো অঙ্গরাজ্য শুধুমাত্র বসবাসের ভিত্তিতে এমন কোনো পোস্টসেকেন্ডারি শিক্ষা সুবিধা অনথিভুক্ত অভিবাসীকে দিতে পারে না, যদি সেই একই সুবিধা অন্য অঙ্গরাজ্যে বসবাসকারী মার্কিন নাগরিকদের জন্য উন্মুক্ত না থাকে। মামলায় আরও দাবি করা হয়েছে, ইউনিভার্সিটি অব ডেলাওয়্যারের নীতিটি ৮ ইউএসসি ১৬২১(ডি)-এর সঙ্গেও সাংঘর্ষিক। সরকারি অভিযোগ অনুযায়ী, ইউনিভার্সিটি অব ডেলাওয়্যারে ডেলাওয়্যার রেসিডেন্ট শিক্ষার্থীর বার্ষিক টিউশন প্রায় ১৫ হাজার ৭৪০ ডলার। বিপরীতে নন-রেসিডেন্ট শিক্ষার্থীর টিউশন প্রায় ৪২ হাজার ৪৭০ ডলার। অর্থাৎ বছরে পার্থক্য প্রায় ২৬ হাজার ৭৩০ ডলার। নন-রেসিডেন্টদের টিউশন রেসিডেন্টদের তুলনায় প্রায় ২ দশমিক ৭ গুণ বেশি। জাস্টিস ডিপার্টমেন্টের দাবি, যোগ্য অনথিভুক্ত শিক্ষার্থীরা রেসিডেন্ট হিসেবে কম টিউশন সুবিধা পেতে পারে, কিন্তু ডেলাওয়্যারের বাইরে বসবাসকারী মার্কিন নাগরিক শিক্ষার্থীরা একই সুবিধা পায় না। সরকার এই ব্যবস্থাকে ফেডারেল আইনের পরিপন্থী বলে আদালতের কাছে নীতিটির প্রয়োগ বন্ধের অনুরোধ জানিয়েছে। মামলায় আদালতের কাছে এমন একটি আদেশ চাওয়া হয়েছে, যাতে বিশ্ববিদ্যালয় অনথিভুক্ত শিক্ষার্থীদের জন্য বর্তমান ইন-স্টেট টিউশন নীতি কার্যকর করতে না পারে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এমন নতুন কোনো টিউশন নীতিও চালু না করতে বলা হয়েছে, যা অনথিভুক্ত শিক্ষার্থীদের এমন সুবিধা দেবে যা একইভাবে সব মার্কিন নাগরিকের জন্য উন্মুক্ত নয়। ইউনিভার্সিটি অব ডেলাওয়্যার মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা জাস্টিস ডিপার্টমেন্টের অভিযোগটি সতর্কতার সঙ্গে পর্যালোচনা করছে। বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন থাকায় এখনই এর বেশি মন্তব্য করা হবে না বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়। এই মামলা ট্রাম্প প্রশাসনের বৃহত্তর জাতীয় উদ্যোগের অংশ। জাস্টিস ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে, অনথিভুক্ত শিক্ষার্থীদের ইন-স্টেট টিউশন সুবিধা নিয়ে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে এ পর্যন্ত ২৬টি মামলা করেছে তারা। টেক্সাস, কেনটাকি, ওকলাহোমা, নেব্রাস্কা, ইলিনয় ও কানসাসে একই ধরনের নীতির বিরুদ্ধে আদালত ইতোমধ্যে সরকারের পক্ষে আদেশ দিয়েছে বলে বিভাগটি জানিয়েছে। ডেলাওয়্যার মামলায় জাস্টিস ডিপার্টমেন্টের অ্যাসোসিয়েট অ্যাটর্নি জেনারেল স্ট্যানলি উডওয়ার্ড বলেন, কংগ্রেস অনেক আগেই পরিষ্কার করেছে যে এমন কম টিউশন সুবিধা অনথিভুক্ত অভিবাসীদের দেওয়া যাবে না, যা সব মার্কিন নাগরিকের জন্য সমভাবে উন্মুক্ত নয়। অ্যাসিস্ট্যান্ট অ্যাটর্নি জেনারেল ব্রেট শুমেটও বলেছেন, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় এমন সুবিধা দিতে পারে না যা অনথিভুক্ত শিক্ষার্থীকে দেওয়া হচ্ছে কিন্তু মার্কিন নাগরিকদের দেওয়া হচ্ছে না। তবে মামলাটি এখনো বিচারাধীন এবং আদালত এখনো ইউনিভার্সিটি অব ডেলাওয়্যারের নীতিকে অবৈধ ঘোষণা করেনি। জাস্টিস ডিপার্টমেন্টের বক্তব্যগুলো মামলার অভিযোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ও এখন পর্যন্ত প্রকাশ্যে কোনো বিস্তারিত আইনি জবাব দেয়নি। মামলার পরবর্তী ধাপে আদালত নির্ধারণ করবে, বিশ্ববিদ্যালয়ের টিউশন নীতি ফেডারেল আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কি না এবং নীতিটি পরিবর্তন বা স্থগিত করতে হবে কি না।
টেক্সাসের ফোর্ট ওয়ার্থে ৩০ বছর বয়সী এক নারী নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় পুলিশ উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ম্যাডিসন কাইলি মনরোকে সর্বশেষ সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে দেখা গিয়েছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে। পরে তার গাড়ি পরিত্যক্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। ফোর্ট ওয়ার্থ পুলিশ জানিয়েছে, নিখোঁজ নারীর নিরাপত্তা নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন এবং তাকে খুঁজে বের করতে তদন্ত চালাচ্ছে। তার গাড়ি কোথায় এবং কী পরিস্থিতিতে পাওয়া গেছে, সেটিও তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। পুলিশ সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার পাশাপাশি ম্যাডিসন মনরোর অবস্থান সম্পর্কে কোনো তথ্য থাকলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানোর আহ্বান জানিয়েছে। নিখোঁজ ব্যক্তির ক্ষেত্রে প্রথম কয়েক ঘণ্টা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় পুলিশ তার সম্ভাব্য চলাচল, যোগাযোগ এবং গাড়ি পরিত্যক্ত হওয়ার পরিস্থিতি খতিয়ে দেখছে। তদন্তে নতুন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে কর্তৃপক্ষ তা প্রকাশ করতে পারে। ফোর্ট ওয়ার্থ ও আশপাশের ডিএফডব্লিউ এলাকার বাসিন্দাদের প্রতি পুলিশের অনুরোধ, কেউ ম্যাডিসনকে দেখে থাকলে বা তার নিখোঁজ হওয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত কোনো তথ্য জানলে দ্রুত কর্তৃপক্ষকে জানান। বর্তমানে তার অবস্থান নিশ্চিত নয় এবং তদন্ত চলছে।
নিউইয়র্ক সিটিতে ২০২৬ সালের প্রথম নয় মাসে সামগ্রিক অপরাধ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। তবে একই সময়ে হেট ক্রাইম বা বিদ্বেষমূলক অপরাধ বেড়ে যাওয়ায় নগরীর নিরাপত্তা পরিস্থিতির একটি ভিন্ন দিক নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। নিউইয়র্কের পুলিশ সদর দপ্তরে মেয়র জোহরান মামদানি এবং পুলিশ কমিশনার জেসিকা টিশ ২০২৬ সালের তৃতীয় প্রান্তিকের অপরাধ পরিসংখ্যান প্রকাশ করেন। নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নগরীতে প্রধান অপরাধ প্রায় ৭ শতাংশ কমেছে। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে নিউইয়র্কে হত্যাকাণ্ড, গুলির ঘটনা এবং গুলিবিদ্ধ মানুষের সংখ্যা রেকর্ড পর্যায়ে নেমে এসেছে। এ সময়ে ২০৩টি হত্যাকাণ্ড এবং ৪৮৯টি গুলির ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। গুলিবিদ্ধ হয়েছেন ৫৯৪ জন। তিনটি সংখ্যাই রেকর্ড রাখা শুরুর পর প্রথম নয় মাসের জন্য সর্বনিম্ন পর্যায়ে রয়েছে। শুধু তৃতীয় প্রান্তিকের হিসাবেও অপরাধ কমেছে। জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নিউইয়র্কে প্রধান অপরাধ আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৯ দশমিক ৪ শতাংশ কমেছে। হত্যাকাণ্ড কমেছে প্রায় ২০ শতাংশ। গাড়ি চুরি, ডাকাতি, চুরি এবং অন্যান্য কয়েকটি অপরাধেও উল্লেখযোগ্য পতন দেখা গেছে। তবে এই ইতিবাচক পরিসংখ্যানের মধ্যেই বড় উদ্বেগ হয়ে উঠেছে হেট ক্রাইম। পুলিশ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বছরের প্রথম নয় মাসে নিশ্চিত হেট ক্রাইম প্রায় ১৩ শতাংশ বেড়েছে। এর মধ্যে ইহুদিবিদ্বেষী অপরাধের সংখ্যা বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে। মোট নিশ্চিত হেট ক্রাইমের ৫২ দশমিক ৯ শতাংশ ইহুদি নিউইয়র্কবাসীকে লক্ষ্য করে হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৪৬৩টি নিশ্চিত হেট ক্রাইমের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ২৪৫টি ইহুদিবিদ্বেষী ঘটনা। একই সময়ে মুসলিমবিদ্বেষী এবং যৌন অভিমুখভিত্তিক বিদ্বেষমূলক অপরাধও বেড়েছে। নিউইয়র্ক পুলিশ কমিশনার জেসিকা টিশ বলেছেন, সামগ্রিক অপরাধ কমলেও হেট ক্রাইমকে কোনোভাবেই স্বাভাবিক ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে না। বিশেষ করে ৭ অক্টোবরের তৃতীয় বার্ষিকীর প্রেক্ষাপটে নগরীর বিভিন্ন ইহুদি প্রতিষ্ঠান ও উপাসনালয়ে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। নিউইয়র্কের সাবওয়েতেও পরিস্থিতি মিশ্র। বছরের প্রথম নয় মাসে গণপরিবহনে বড় অপরাধ সামান্য বেড়েছে। প্রধান অপরাধের সংখ্যা গত বছরের তুলনায় দশমিক ৯ শতাংশ বেশি। বিশেষ করে গুরুতর হামলার ঘটনা ১১ শতাংশ বেড়েছে। পুলিশ বলছে, গণপরিবহনে সংঘটিত গুরুতর হামলার প্রায় ৪৮ শতাংশের সঙ্গে মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যার নথিভুক্ত ইতিহাস থাকা ব্যক্তিদের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। তবে সাবওয়ের সব অপরাধ বাড়েনি। ডাকাতি এবং বড় ধরনের চুরির ঘটনা ঐতিহাসিকভাবে নিচু পর্যায়ে রয়েছে। একইভাবে সরকারি আবাসন এলাকাগুলোতেও বড় অপরাধ প্রায় ৭ শতাংশ কমেছে। নিউইয়র্ক পুলিশ বলছে, অপরাধ কমানোর ক্ষেত্রে তথ্যভিত্তিক পুলিশি ব্যবস্থা, অবৈধ অস্ত্র জব্দ, সংঘবদ্ধ অপরাধের বিরুদ্ধে অভিযান এবং অপরাধপ্রবণ এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। অর্থাৎ, নিউইয়র্কের বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতির চিত্র একদিকে আশাব্যঞ্জক, অন্যদিকে সতর্কবার্তাও দিচ্ছে। সামগ্রিক অপরাধ ও হত্যাকাণ্ড ঐতিহাসিকভাবে কমলেও ধর্ম, জাতিগত পরিচয় ও অন্যান্য পরিচয়কে কেন্দ্র করে বিদ্বেষমূলক অপরাধের বৃদ্ধি পুলিশ ও নগর প্রশাসনের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আগামী ১ ডিসেম্বর থেকে সারা দেশে বছরব্যাপী পরিবার পরিকল্পনা কর্মসূচি শুরু করতে যাচ্ছে সরকার। কর্মসূচির আওতায় মাঠপর্যায়ে প্রচার চালানোর পাশাপাশি ঘরে ঘরে জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ পৌঁছে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। বুধবার সচিবালয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, কর্মসূচিটি ২০২৬ সালের ১ ডিসেম্বর থেকে শুরু হয়ে ২০২৭ সালের ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত চলবে। পরিবার পরিকল্পনা বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানো এবং প্রয়োজনীয় সামগ্রী মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়াই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, শুধু প্রচারেই সীমাবদ্ধ থাকবে না কর্মসূচি। মাঠপর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মীরা পরিবারগুলোর সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করবেন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী বিতরণের পাশাপাশি পরামর্শও দেবেন। এর মাধ্যমে পরিবার পরিকল্পনা সেবা আরও সহজলভ্য করার চেষ্টা করা হবে। বাংলাদেশে পরিবার পরিকল্পনা কর্মসূচি দীর্ঘদিন ধরেই জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি সম্পর্কে সচেতনতা, মাতৃস্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং পরিকল্পিত পরিবার গঠনে মাঠপর্যায়ের কর্মীদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়ে আসছে। নতুন এই বছরব্যাপী কর্মসূচিতে সেই মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম আরও জোরদার করার পরিকল্পনা রয়েছে। একই প্রেস ব্রিফিংয়ে দেশের ক্যান্সার চিকিৎসা অবকাঠামো নিয়েও কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, নতুন ১৭টি রেডিওথেরাপি মেশিন স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ছয়টি ঢাকায় এবং ১১টি ঢাকার বাইরে বসানো হবে। স্বাস্থ্যমন্ত্রীর মতে, ঢাকার বাইরে রেডিওথেরাপি সুবিধা বাড়ানো গেলে ক্যান্সার রোগীদের চিকিৎসার জন্য রাজধানীতে আসার চাপ কমবে। একই সঙ্গে রোগীরা নিজ নিজ এলাকায় তুলনামূলক কম খরচে চিকিৎসাসেবা নেওয়ার সুযোগ পাবেন। দেশের ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়েও ব্রিফিংয়ে কথা বলেন সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি জানান, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার আন্তর্জাতিক প্রটোকল অনুসরণ করে ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসা এবং প্রয়োজনীয় স্যালাইন সরবরাহ নিশ্চিত করা হচ্ছে। ডেঙ্গুর ধরন পরিবর্তন এবং ডেঙ্গু-পরবর্তী কার্ডিয়াক জটিলতার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে চিকিৎসকদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি মশা নিয়ন্ত্রণে জনসচেতনতা ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। সরকারের ঘোষিত পরিবার পরিকল্পনা কর্মসূচি কার্যকর হলে আগামী এক বছর দেশের বিভিন্ন এলাকায় স্বাস্থ্যকর্মীদের মাধ্যমে জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী ও পরামর্শ আরও সরাসরি মানুষের কাছে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। মাঠপর্যায়ে কর্মসূচিটির বাস্তবায়ন, সরবরাহব্যবস্থা এবং কত সংখ্যক পরিবার এর আওতায় আসবে, তা পরবর্তী সময়ে আরও স্পষ্ট হবে। সূত্র : ইত্তেফাক
নিউ জার্সির একটি আবাসিক এলাকায় পুলিশের ধাওয়া শেষ হয়েছে গুরুতর সড়ক দুর্ঘটনায়। দুর্ঘটনায় একটি শিশুসহ তিনজন আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। ঘটনাটি আজ, ৭ অক্টোবর নিউ জার্সিতে স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে। স্থানীয় প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পুলিশের ধাওয়া চলার সময় একটি গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। দুর্ঘটনার পর জরুরি বিভাগের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। আহতদের মধ্যে একটি শিশু রয়েছে। আরও দুজন প্রাপ্তবয়স্কও আহত হয়েছেন। তাদের আঘাতের মাত্রা সম্পর্কে প্রাথমিক প্রতিবেদনে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। ঘটনার পর এলাকায় সাময়িকভাবে যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। পুলিশ দুর্ঘটনাস্থল ঘিরে রেখে প্রাথমিক তদন্ত শুরু করে এবং ধাওয়ার কারণ ও দুর্ঘটনার পরিস্থিতি খতিয়ে দেখছে। পুলিশের ধাওয়া কী কারণে শুরু হয়েছিল, অভিযুক্ত চালকের বিরুদ্ধে কী অভিযোগ রয়েছে এবং দুর্ঘটনার আগে গাড়িটির গতিবিধি কী ছিল, সেসব বিষয় তদন্তের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। নিউ জার্সিতে পুলিশের ধাওয়ার সময় দুর্ঘটনা নিয়ে নতুন করে জননিরাপত্তার প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে আবাসিক এলাকায় দ্রুতগতির ধাওয়া হলে পথচারী, শিশু এবং অন্যান্য গাড়িচালকদের ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ঘটনার বিষয়ে অতিরিক্ত তথ্য প্রকাশে সতর্কতা অবলম্বন করছে। আহতদের বর্তমান শারীরিক অবস্থা সম্পর্কেও বিস্তারিত তথ্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে যুক্ত হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনায় চার দশকেরও বেশি সময় ধরে অজ্ঞাত থাকা এক কিশোরের দেহাবশেষের পরিচয় অবশেষে শনাক্ত হয়েছে। ১৯৮২ সালে হোয়াইট ট্যাঙ্ক মাউন্টেন রিজিওনাল পার্কের একটি দুর্গম এলাকায় পাওয়া দেহাবশেষটি ছিল মিচেল জন পলির। ডিএনএ ডো প্রজেক্ট জানিয়েছে, অনুসন্ধানমূলক জেনেটিক জিনিয়োলজি ও পরবর্তী ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে তাঁর পরিচয় নিশ্চিত করা হয়েছে। মিচেল জন পলি যুক্তরাষ্ট্রের মিসৌরি অঙ্গরাজ্যের সেন্ট লুইসে ১৯৬৪ সালে জন্মেছিলেন। পরে তাঁর পরিবার অ্যারিজোনার বাকআই এলাকায় চলে যায়। ডিএনএ ডো প্রজেক্টের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৭০-এর দশকের শেষ দিকে প্রায় ১৪ বছর বয়সে তিনি নিখোঁজ হন। বহু বছর ধরে তাঁর নিখোঁজ হওয়ার ঘটনাটিও আনুষ্ঠানিকভাবে এই অজ্ঞাত দেহাবশেষের সঙ্গে যুক্ত ছিল না। ১৯৮২ সালের ২২ এপ্রিল ফিনিক্সের পশ্চিমে হোয়াইট ট্যাঙ্ক মাউন্টেন রিজিওনাল পার্কের একটি প্রত্যন্ত এলাকায় একটি খুলিসহ মেরুদণ্ডের কিছু হাড় পাওয়া যায়। ডিএনএ ডো প্রজেক্টের পুরোনো কেস রেকর্ড অনুযায়ী, মার্কিন বিমানবাহিনীর সদস্যরা একটি হারিয়ে যাওয়া গান পডের সন্ধানে ওই এলাকায় অভিযান চালানোর সময় দেহাবশেষটি দেখতে পান। ঘটনাস্থল থেকে কোনো পোশাক বা ব্যক্তিগত জিনিস পাওয়া যায়নি। সে সময় চিকিৎসা পরীক্ষকের কার্যালয় অনুমান করেছিল, দেহাবশেষটি ১৩ থেকে ১৯ বছর বয়সী এক কিশোরের এবং আবিষ্কারের এক থেকে তিন বছর আগে তাঁর মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। পরিচয় না মেলায় মামলাটি কয়েক দশক ধরে ‘জন মারিকোপা কাউন্টি ডো’ নামে নথিভুক্ত ছিল। মারিকোপা কাউন্টি মেডিকেল এক্সামিনারের অফিস চলতি বছরের মে মাসে মামলাটি ডিএনএ ডো প্রজেক্টের কাছে পাঠায়। এই অনুসন্ধানে অর্থায়ন করে ন্যাশনাল সেন্টার ফর মিসিং অ্যান্ড এক্সপ্লয়েটেড চিলড্রেন। এরপর গবেষকেরা ডিএনএ মিলের সূত্র ধরে কিশোরটির পারিবারিক বংশপরিচয় খুঁজতে শুরু করেন। তদন্তে প্রথমে তাঁর পূর্বপুরুষদের সঙ্গে জার্মানির যোগসূত্র পাওয়া যায়। পরে কেনটাকি ও মিসৌরির বিভিন্ন পরিবারের সঙ্গে ডিএনএ সংযোগ মিলতে থাকে। শেষ পর্যন্ত গবেষকদের নজর যায় সেন্ট লুইসের কয়েকটি পরিবারের দিকে। ডিএনএ ডো প্রজেক্টের টিম লিডার মেগান পাসিকার ভাষ্য অনুযায়ী, অনুসন্ধানের এক পর্যায়ে তাঁরা ১৯৬৪ সালে সেন্ট লুইসে জন্ম নেওয়া এমন এক ছেলের সন্ধান পান, যার পরবর্তী জীবনের কোনো নির্ভরযোগ্য রেকর্ড পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে জানা যায়, ১৯৬৭ সালে তার পরিবার অ্যারিজোনার বাকআই এলাকায় চলে যায়। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সূত্রটি ছিল ভৌগোলিক অবস্থান। মিচেলের পরিবার যে এলাকায় বসবাস করত, সেখান থেকে দেহাবশেষ পাওয়ার স্থানটির দূরত্ব ছিল মাত্র প্রায় পাঁচ মাইল। এরপর গবেষকেরা তাঁর পারিবারিক পূর্বপুরুষ এবং ‘জন মারিকোপা কাউন্টি ডো’র ডিএনএ ম্যাচের মধ্যে একাধিক সংযোগ খুঁজে পান। এসব তথ্যের ভিত্তিতে মিচেল জন পলিকে সম্ভাব্য পরিচয় হিসেবে মারিকোপা কাউন্টি মেডিকেল এক্সামিনারের অফিসের কাছে উপস্থাপন করা হয়। পরবর্তী ডিএনএ পরীক্ষা শেষ পর্যন্ত নিশ্চিত করে, ১৯৮২ সালে পাওয়া দেহাবশেষটি মিচেলেরই। ডিএনএ ডো প্রজেক্ট এমন একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠান, যারা অজ্ঞাত মানবদেহের পরিচয় শনাক্ত করতে ইনভেস্টিগেটিভ জেনেটিক জিনিয়োলজি ব্যবহার করে। এই পদ্ধতিতে সরাসরি কোনো ব্যক্তির ডিএনএ রেকর্ড না থাকলেও দূর সম্পর্কের আত্মীয়দের ডিএনএ ম্যাচ, পারিবারিক বংশতালিকা, জন্ম ও বসবাসের রেকর্ডসহ বিভিন্ন তথ্য একসঙ্গে বিশ্লেষণ করা হয়। অ্যারিজোনায় দীর্ঘদিন ধরে বহু অজ্ঞাত মৃতদেহের মামলা রয়েছে। ডিএনএ ডো প্রজেক্ট এর আগেও রাজ্যটির একাধিক ‘জন ডো’ ও ‘জেন ডো’র পরিচয় শনাক্ত করতে সহায়তা করেছে। মিচেলের পরিচয় নিশ্চিত হওয়ায় ৪৩ বছরের একটি রহস্যের অবসান হয়েছে। তবে তাঁর মৃত্যু কীভাবে হয়েছিল, তিনি ঠিক কখন নিখোঁজ হয়েছিলেন এবং তাঁর মৃত্যুর পেছনে কোনো অপরাধমূলক ঘটনা ছিল কি না, সে বিষয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে নতুন কোনো তথ্য জানানো হয়নি। এখন অন্তত কয়েক দশক ধরে অজ্ঞাত থাকা কিশোরটির একটি নাম ফিরে এসেছে, মিচেল জন পলি।
যুক্তরাষ্ট্রে ফেডারেল স্টুডেন্ট লোন পরিশোধ করছেন এমন ঋণগ্রহীতারা সুদের হার সাময়িকভাবে ১ শতাংশ কমানোর জন্য আরও সময় পাচ্ছেন। ইউএস ডিপার্টমেন্ট অব এডুকেশন অটোপে ব্যবস্থায় নাম লেখানোর সময়সীমা বাড়িয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অটোপেতে যুক্ত হলে যোগ্য ঋণগ্রহীতারা ২০২৮ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত এই বাড়তি সুদছাড় পেতে পারেন। এই সুবিধা মূলত তাঁদের জন্য, যারা এখনো প্রতি মাসে ম্যানুয়ালি পেমেন্ট করেন। অটোপেতে নাম লেখালে মাসিক কিস্তি স্বয়ংক্রিয়ভাবে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে কেটে নেওয়া হবে এবং সুদের হারে ১ শতাংশ পয়েন্ট ছাড় পাওয়া যাবে। ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে অটোপে ডিসকাউন্ট আগের ০.২৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১ শতাংশ করা হয়েছে। সাম্প্রতিক আপডেট অনুযায়ী, যোগ্য ঋণগ্রহীতারা ২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর রাত ১১টা ৫৯ মিনিট ইস্টার্ন টাইমের মধ্যে অটোপেতে নাম লেখাতে পারবেন। এর আগে কিছু সার্ভিসারের নোটিশে ৩০ সেপ্টেম্বরের সময়সীমা উল্লেখ করা হয়েছিল। পরে সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে। এই ছাড় সব ধরনের ঋণে প্রযোজ্য নয়। ফেডারেল লোন সার্ভিসারদের তথ্য অনুযায়ী, ২০১২ সালের ১ জুলাই বা তার পরে বিতরণ করা নির্দিষ্ট ডাইরেক্ট লোন এই সাময়িক ১ শতাংশ অটোপে ডিসকাউন্টের আওতায় পড়তে পারে। নিজের লোন যোগ্য কি না, তা সংশ্লিষ্ট লোন সার্ভিসারের অ্যাকাউন্টে গিয়ে যাচাই করতে হবে। উদাহরণ হিসেবে, কারও ফেডারেল স্টুডেন্ট লোনের সুদের হার ৬.৫ শতাংশ হলে যোগ্যতা সাপেক্ষে অটোপেতে যুক্ত হওয়ার পর কার্যকর হার সাময়িকভাবে ৫.৫ শতাংশে নেমে আসতে পারে। তবে এতে মূল ঋণের চুক্তিভিত্তিক স্থায়ী সুদের হার পরিবর্তন হয় না। বরং নির্দিষ্ট সময়ের জন্য পেমেন্টে একটি সুদছাড় কার্যকর থাকে। এই সুবিধা এমন সময়ে দেওয়া হচ্ছে, যখন নতুন ফেডারেল স্টুডেন্ট লোনের সুদের হার তুলনামূলকভাবে উঁচু। ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৭ সালের ৩০ জুনের মধ্যে প্রথমবার বিতরণ করা আন্ডারগ্র্যাজুয়েট ডাইরেক্ট সাবসিডাইজড ও আনসাবসিডাইজড লোনের স্থায়ী সুদের হার ৬.৫২ শতাংশ। গ্র্যাজুয়েট বা প্রফেশনাল শিক্ষার্থীদের ডাইরেক্ট আনসাবসিডাইজড লোনের হার ৮.০৭ শতাংশ এবং ডাইরেক্ট প্লাস লোনের হার ৯.০৭ শতাংশ। ফেডারেল স্টুডেন্ট লোনে সুদ প্রতিদিন জমা হয়। অর্থাৎ ঋণের বকেয়া মূল অর্থ এবং প্রযোজ্য সুদের হার অনুযায়ী প্রতিদিন নতুন সুদ যোগ হতে থাকে। এ কারণে ১ শতাংশ পয়েন্টের ছাড় দীর্ঘমেয়াদে উল্লেখযোগ্য সাশ্রয় আনতে পারে, বিশেষ করে যাঁদের ঋণের পরিমাণ বেশি। তবে অটোপেতে নাম লেখানোর আগে ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পর্যাপ্ত অর্থ আছে কি না তা নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ। স্বয়ংক্রিয় পেমেন্ট ব্যর্থ হলে ব্যাংক ফি বা পেমেন্ট-সংক্রান্ত সমস্যা তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে ঋণগ্রহীতাদের নিজেদের লোন সার্ভিসারের ওয়েবসাইটে গিয়ে অটোপের শর্ত, যোগ্যতা ও কার্যকর তারিখ দেখে নেওয়া উচিত। ফেডারেল স্টুডেন্ট লোনে একাধিক ঋণ থাকলে কনসোলিডেশন আরেকটি বিকল্প হতে পারে, তবে সেটি কেবল সুদ কমানোর উপায় নয়। ডাইরেক্ট কনসোলিডেশন লোনে একাধিক ঋণকে একটিতে একত্র করা যায়, কিন্তু নতুন সুদের হার সাধারণত আগের ঋণগুলোর ওজনযুক্ত গড়ের ভিত্তিতে নির্ধারিত হয় এবং তা কাছাকাছি এক-অষ্টমাংশ শতাংশে রাউন্ড করা হয়। ফলে কনসোলিডেশন করলেই সুদের হার কমবে এমন নিশ্চয়তা নেই। বর্তমান অটোপে সুবিধার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো সময়সীমা। যারা এখনো ম্যানুয়ালি ফেডারেল স্টুডেন্ট লোনের কিস্তি দিচ্ছেন এবং যোগ্য লোন আছে, তাদের জন্য ২০২৬ সালের শেষ পর্যন্ত অটোপেতে নাম লেখানোর সুযোগ রয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যুক্ত হলে ২০২৮ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত ১ শতাংশ পয়েন্ট সুদছাড় কার্যকর থাকতে পারে।
ভারতের উত্তরাখণ্ডের দেরাদুনে আইফোন চুরির একটি ঘটনা নতুন মোড় নিয়েছে। কৌশিকী ধ্যানী নামে এক নারী অভিযোগ করেছেন, তাঁর আইফোন চুরি হওয়ার পর ফোনটি যার কাছে রয়েছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে, সেই ব্যক্তি উল্টো তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করে ডিভাইসটির পাসওয়ার্ড চেয়েছে। এসএমএস ও হোয়াটসঅ্যাপে পাসওয়ার্ড চাওয়ার স্ক্রিনশট পুলিশের কাছে দেওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি। ঘটনাটি গত ১২ সেপ্টেম্বর দেরাদুনের ক্লেমেন্ট টাউন এলাকায় ঘটে বলে কৌশিকীর দাবি। তাঁর আইফোনের পাশাপাশি তাঁর এক বন্ধুর ভাই সক্ষম নেগি এবং আরও কয়েকজনের মোবাইল ফোন চুরি হয়। একই সময় ওই ভবন থেকে ল্যাপটপ, ম্যাকবুক ও অন্যান্য মূল্যবান জিনিসও চুরি হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। কৌশিকীর ভাষ্য অনুযায়ী, তাঁর আইফোনটি হারিয়ে যাওয়ার পর ডিভাইসটিতে একটি যোগাযোগের নম্বর দৃশ্যমান ছিল। সেই নম্বর ব্যবহার করেই ফোনটির দখলে থাকা ব্যক্তি তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করে। পরে তিনি এসএমএস এবং হোয়াটসঅ্যাপে আইফোনের পাসওয়ার্ড চেয়ে বার্তা পান বলে অভিযোগ করেন। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সামনে আনেন কৌশিকী। নিজের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে প্রকাশ করা একটি রিলে তিনি চুরির ঘটনা এবং পরবর্তী বার্তাগুলোর কথা তুলে ধরেন। তাঁর অভিযোগ, ফোনের অবস্থান ও যোগাযোগসংক্রান্ত তথ্য পুলিশের কাছে দেওয়া হলেও প্রত্যাশিত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। কৌশিকী আরও দাবি করেছেন, ঘটনাটি শুধু তাঁর ফ্ল্যাটে সীমাবদ্ধ ছিল না। একই ভবন থেকে পাঁচ থেকে ছয়টি মোবাইল ফোন এবং ল্যাপটপ চুরি হয়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, একই দিনে আশপাশের পেইং গেস্ট আবাসন ও হোস্টেলেও চুরির ঘটনা ঘটে। চুরিগুলো ভোর ৪টা থেকে সকাল ৮টার মধ্যে হয়েছে বলে তিনি দাবি করেছেন। এলাকায় পরবর্তী কয়েক দিনেও আরও চুরির অভিযোগ পাওয়া যায়। কৌশিকীর দাবি, প্রথম দফার ঘটনার পর একই এলাকায় আরও ১৬টি চুরির ঘটনা ঘটেছে। ১৬ সেপ্টেম্বর ক্লেমেন্ট টাউনের লেন নম্বর ৯এ-তেও লাখ লাখ রুপির জিনিসপত্র চুরির আরেকটি অভিযোগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উঠে আসে। পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন কৌশিকী। তাঁর অভিযোগ, চুরির পর থানায় গেলে তাঁদের প্রথমে বলা হয়, দায়িত্বশীল কেউ উপস্থিত নেই এবং পরে আসতে হবে। তিনি আরও দাবি করেছেন, কয়েকটি অভিযোগ গ্রহণ করতেও গড়িমসি করা হয়েছে। তবে দেরাদুন পুলিশ অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছে যে বিষয়টি উপেক্ষা করা হয়েছে। সিটি পুলিশ সুপার শেখর সুয়াল জানিয়েছেন, পুলিশ ঘটনাটি আমলে নিয়েছে এবং সার্কেল অফিসার বিষয়টি তদন্ত করছেন। তবে ১২ থেকে ১৬ সেপ্টেম্বরের মধ্যে একই এলাকায় সংঘটিত অন্য চুরিগুলোর বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কোনো বক্তব্য দেয়নি পুলিশ। ঘটনার সবচেয়ে অস্বাভাবিক দিক হয়ে উঠেছে চুরি হওয়া ফোনের পাসওয়ার্ড চেয়ে মালিকের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের অভিযোগ। সাধারণত আইফোনে পাসকোড ও অ্যাক্টিভেশন লক থাকলে ডিভাইসটি পুনরায় ব্যবহার বা বিক্রি করা কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে তদন্তকারীদের জন্য ওই বার্তাগুলো ফোনটির দখলে থাকা ব্যক্তিকে শনাক্ত করার গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হতে পারে। তবে কৌশিকীর অভিযোগ অনুযায়ী যে ব্যক্তি বা ব্যক্তিরা তাঁর ফোন চুরি করেছে, তাদের পরিচয় এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি। পাসওয়ার্ড চেয়ে পাঠানো বার্তার প্রেরকই সরাসরি চোর কি না, সেটিও তদন্তের বিষয়। পুলিশ এখন চুরির ঘটনাগুলোর মধ্যে কোনো যোগসূত্র আছে কি না, সন্দেহভাজনদের শনাক্ত করা যায় কি না এবং পুলিশি নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগের সত্যতা কতটা, তা যাচাই করছে।
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের ডেট্রয়েটে কিন্ডারগার্টেন থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা এখন শহরের ডিডিওটি বাসে বিনামূল্যে যাতায়াত করতে পারছে। ‘রাইড টু রাইজ’ কর্মসূচির আওতায় এই সুবিধা চালু করেছে সিটি অব ডেট্রয়েট। বিনামূল্যে রাইডের জন্য কোনো আলাদা বাস পাস, আবেদন বা ফি প্রয়োজন নেই। শিক্ষার্থীকে শুধু বাসে ওঠার সময় স্কুল থেকে দেওয়া বৈধ স্টুডেন্ট আইডি দেখাতে হবে। ডেট্রয়েট সিটির তথ্য অনুযায়ী, সরকারি, চার্টার ও বেসরকারি স্কুলে পড়া কে-১২ শিক্ষার্থীরা এই কর্মসূচির সুবিধা পাবে। স্টুডেন্ট আইডিতে শিক্ষার্থীর নাম, ছবি এবং স্কুলের নাম থাকতে হবে। সাধারণ স্টেট আইডি স্কুল কর্তৃক ইস্যু করা স্টুডেন্ট আইডির বিকল্প হিসেবে গ্রহণ করা হবে না। এই সুবিধা শুধু স্কুলে যাওয়া-আসার জন্য সীমাবদ্ধ নয়। শিক্ষার্থীরা ডিডিওটির নিয়মিত রুট ব্যবহার করে স্কুলের পাশাপাশি আফটার-স্কুল প্রোগ্রাম, কাজ, খেলাধুলার অনুশীলন কিংবা অন্য প্রয়োজনেও বিনামূল্যে যাতায়াত করতে পারবে। বাস চলাচলের সময়সীমার মধ্যে সকাল, দুপুর, সন্ধ্যা ও সপ্তাহান্তেও সুবিধাটি পাওয়া যাবে। শহরের তথ্য অনুযায়ী, কর্মসূচিটি বছরের ৩৬৫ দিন কার্যকর রাখার পরিকল্পনা করা হয়েছে। ডেট্রয়েটের মেয়র মেরি শেফিল্ডের প্রশাসন চলতি বছরের শুরুতে কর্মসূচিটি পরীক্ষামূলকভাবে চালু করে। পরে শিক্ষার্থীদের ব্যবহার বাড়ায় এটি স্থায়ী করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আগস্টে সিটি অব ডেট্রয়েট জানায়, ‘রাইড টু রাইজ’ ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষজুড়ে চলবে এবং কর্মসূচিটির জন্য মিশিগান অঙ্গরাজ্যের বাজেট থেকে ১০ লাখ ডলার বরাদ্দ পাওয়া গেছে। সিটির হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের শেষ দুই মাসে কর্মসূচিটি চালু হওয়ার পর ডিডিওটি বাসে শিক্ষার্থীদের যাত্রীসংখ্যা দ্বিগুণ হয়েছিল। মেয়র শেফিল্ড বলেছেন, শিক্ষার্থীদের স্কুলে উপস্থিতির পথে পরিবহন যেন বাধা হয়ে না দাঁড়ায়, সেটিই এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য। শিক্ষার্থীদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে শহর কর্তৃপক্ষ ‘রাইড টু রাইজ অ্যাম্বাসেডর’ কর্মসূচিও যুক্ত করেছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০ থেকে ২৫ জন অ্যাম্বাসেডর বাস, ট্রানজিট সেন্টার এবং বিভিন্ন হাইস্কুলের বাসস্টপে ব্যস্ত সময়ে উপস্থিত থাকবেন। তাঁদের পাশাপাশি ডিডিওটি এবং ডেট্রয়েট পুলিশ ডিপার্টমেন্টের ট্রানজিট ইউনিটসহ অন্যান্য সিটি কর্মীরাও নিরাপত্তা ব্যবস্থায় যুক্ত থাকবেন। ডেট্রয়েট সিটির ভাষ্য, পরিবহন খরচ অনেক শিক্ষার্থীর জন্য স্কুল, চাকরি বা বিভিন্ন শিক্ষামূলক সুযোগে অংশ নেওয়ার পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। সেই বাধা কমাতেই বিনামূল্যে গণপরিবহনের এই ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। রাইড টু রাইজ ব্যবহারের প্রক্রিয়াও সহজ রাখা হয়েছে। শিক্ষার্থীকে যেকোনো নিয়মিত ডিডিওটি সিটি বাসে উঠতে হবে, চালককে বৈধ স্কুল আইডি দেখাতে হবে, তারপর কোনো ভাড়া না দিয়েই যাত্রা করা যাবে। আলাদা অ্যাপ, বিশেষ ট্রানজিট পাস বা কোনো আবেদনপত্রের প্রয়োজন নেই। ডেট্রয়েটের শিক্ষার্থীদের জন্য এই সুবিধা ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষেও চালু থাকায় পরিবারগুলোর দৈনন্দিন পরিবহন ব্যয় কমার পাশাপাশি স্কুল ও অন্যান্য কার্যক্রমে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ সহজ হবে বলে আশা করছে শহর কর্তৃপক্ষ।
বাংলাদেশের স্পিনিং মিলগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রের তুলা উৎপাদনকারীদের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত করতে নতুন সরবরাহব্যবস্থা গড়ে তুলছেন বাংলাদেশি-আমেরিকান উদ্যোক্তা আসওয়ার রহমান। তাঁর নেতৃত্বাধীন নিউইয়র্কভিত্তিক আমেরিবাংলা করপোরেশন আগামী ১৮ নভেম্বর চট্টগ্রামের আনোয়ারায় দেশের প্রথম বেসরকারিভাবে পরিচালিত মার্কিন তুলার গুদাম চালুর পরিকল্পনা করেছে। এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে স্থানীয় মিলগুলোকে প্রতিবার আলাদাভাবে যুক্তরাষ্ট্র থেকে তুলা আমদানি করে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হবে না। বাংলাদেশে মজুত থাকা তুলা প্রয়োজন অনুযায়ী দ্রুত সংগ্রহ করা যাবে। ৩২ বছর বয়সী আসওয়ার রহমান আমেরিবাংলা করপোরেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা। প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে জন্ম নেওয়া রহমান ছোটবেলায় পরিবারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান। বর্তমানে তাঁর ব্যবসায়িক উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য যুক্তরাষ্ট্রের তুলা উৎপাদকদের বাংলাদেশের স্পিনিং, টেক্সটাইল ও পোশাক শিল্পের সঙ্গে আরও সরাসরি যুক্ত করা। চট্টগ্রামের আনোয়ারায় সরকার নির্ধারিত মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চলের কাছাকাছি একটি লিজ নেওয়া স্থাপনায় গুদামটির কার্যক্রম শুরুর কথা রয়েছে। রহমান দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে জানিয়েছেন, প্রায় ১০০ টন তুলা ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের একটি বন্দর থেকে বাংলাদেশের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে তিনটি চালান দিয়ে কার্যক্রম শুরু করে চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে মজুত বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। শুরুতে প্রায় ৮০ থেকে ১০০ টন তুলা রাখা হবে এবং স্থানীয় একটি অংশীদার প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যৌথভাবে কার্যক্রম পরিচালিত হবে। এই উদ্যোগের বড় সুবিধা হতে পারে আমদানির সময় কমে যাওয়া। বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে জানিয়েছেন, সাধারণভাবে অর্ডার দেওয়ার পর আমদানি করা তুলা হাতে পেতে প্রায় ৯০ দিন পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। স্থানীয় গুদামে আগে থেকেই তুলা মজুত থাকলে এই অপেক্ষার সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারে দামের ওঠানামার কারণে তৈরি হওয়া ঝুঁকিও কিছুটা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হতে পারে। বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের তুলার বাজারও সাম্প্রতিক সময়ে বেড়েছে। বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য উদ্ধৃত করে দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড জানিয়েছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ ৩৪৬ মিলিয়ন ডলারের মার্কিন তুলা আমদানি করেছে। আগের অর্থবছরে এই পরিমাণ ছিল ২৭৮ মিলিয়ন ডলার। যুক্তরাষ্ট্র থেকে আসা তুলা বর্তমানে বাংলাদেশের মোট তুলা আমদানির প্রায় ১০ শতাংশ। শিল্পসংশ্লিষ্টদের কেউ কেউ মনে করছেন, অনুকূল বাণিজ্য সুবিধা ও প্রতিযোগিতামূলক দাম নিশ্চিত করা গেলে ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে তুলা আমদানির বাজার বছরে ২ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত সম্প্রসারিত হওয়ার সুযোগ রয়েছে। দামের ক্ষেত্রেও সরাসরি সংগ্রহব্যবস্থাকে গুরুত্বপূর্ণ করে তুলতে চাইছে আমেরিবাংলা। প্রচলিত আমদানি ব্যবস্থায় চট্টগ্রাম পর্যন্ত পৌঁছাতে মার্কিন তুলার দাম বর্তমানে আনুমানিক ৮৫ সেন্ট প্রতি পাউন্ড বলে সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। রহমানের দাবি, কৃষক ও তুলা প্রক্রিয়াজাতকারীদের কাছ থেকে সরাসরি সংগ্রহ এবং স্থানীয় গুদাম ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রচলিত বাজারদরের তুলনায় প্রতি পাউন্ডে প্রায় ১০ সেন্ট কমে তুলা সরবরাহ করা সম্ভব হতে পারে। তবে প্রকৃত দাম বাজারদর, পরিবহন ব্যয় ও সরবরাহ পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে। বাংলাদেশের এনভয় টেক্সটাইলস ইতোমধ্যে আমেরিবাংলার মাধ্যমে সরাসরি মার্কিন তুলা সংগ্রহের এই পদ্ধতি পরীক্ষা করেছে। ফাইন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রতিষ্ঠানটি আগের বছর প্রায় ৬০ টন তুলা আমেরিবাংলার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কৃষকদের কাছ থেকে সংগ্রহ করেছিল। এনভয় টেক্সটাইলসের চেয়ারম্যান কুতুবউদ্দিন আহমেদ সরাসরি সংগ্রহব্যবস্থাকে উভয় পক্ষের জন্য উপকারী বলে উল্লেখ করেছেন। পরবর্তী সময়ে প্রতিষ্ঠানটির একজন কর্মকর্তাও জানান, পরীক্ষামূলক আমদানিতে তারা প্রতিযোগিতামূলক মূল্য পেয়েছেন। গুদামের পাশাপাশি রহমানের পরিকল্পনার আরেকটি অংশ কটনপোর্ট। গত ২৭ আগস্ট ঢাকার ওয়েস্টিন হোটেলে চালু হওয়া এই ডিজিটাল তুলাবাজার বাংলাদেশের স্পিনিং মিলগুলোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের তুলা উৎপাদকদের সরাসরি যুক্ত করার লক্ষ্য নিয়ে তৈরি হয়েছে। প্ল্যাটফর্মটি ৮২ টন ভার্জিনিয়ার তুলার প্রাথমিক প্রস্তাব নিয়ে কার্যক্রম শুরু করে। আমেরিবাংলার হিসাবে, বর্তমানে তারা প্রতি মাসে ১৬ কনটেইনার মার্কিন তুলা বাংলাদেশে সরবরাহ করছে। রহমানের প্রত্যাশা, আগামী বছর এই পরিমাণ মাসে ২৮০ কনটেইনার পর্যন্ত যেতে পারে। কটনপোর্টের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় ২০২৮ সালের মধ্যে আরও বড় পরিসরে কার্যক্রম বাড়ানোর লক্ষ্যও রয়েছে। এই সরবরাহব্যবস্থার সঙ্গে তুলার উৎস শনাক্তকরণ ও সনদ দেওয়ার ব্যবস্থাও যুক্ত করতে চাইছে আমেরিবাংলা। প্রতিষ্ঠানটি ৮ অক্টোবর ম্যানহাটনে ‘অল আমেরিকান কটন’ নামে একটি সনদ কর্মসূচি চালুর পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে। রহমানের ভাষ্য অনুযায়ী, শিল্পখাতের তথ্যভিত্তিক প্রতিবেদন, তৃতীয় পক্ষের নিরীক্ষা এবং যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ইউনিভার্সিটির আইসোটোপ পরীক্ষার মাধ্যমে তুলার উৎস যাচাই করার পরিকল্পনা রয়েছে। সনদপ্রাপ্ত মার্কিন তুলা ব্যবহার করা পোশাক ভবিষ্যতে নির্দিষ্ট মার্কিন বাণিজ্য সুবিধার আওতায় শুল্ক ছাড় বা কর সুবিধা পেতে পারে বলেও তিনি দাবি করেছেন। তবে এসব সুবিধার হার ও যোগ্যতা সংশ্লিষ্ট মার্কিন নীতি, আইন এবং বাস্তবায়ন নির্দেশনার ওপর নির্ভরশীল। ফলে সম্ভাব্য ১০ থেকে ১৯ শতাংশ শুল্ক হ্রাস কিংবা কাঁচামালের মূল্যের ১৮ শতাংশ হস্তান্তরযোগ্য করছাড়কে এখনই নিশ্চিত সুবিধা হিসেবে ধরা যাচ্ছে না। নিউইয়র্ক সিটিতে ‘আমেরিবাংলা কটন ল্যাব’ চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির। পরিকল্পনা অনুযায়ী, সর্বোচ্চ ১০ জন উদীয়মান ফ্যাশন ডিজাইনারকে নির্বাচন করে সনদপ্রাপ্ত মার্কিন তুলা, সুতা ও কাপড় ব্যবহার করে বাংলাদেশে তাদের পোশাকের নিজস্ব সংগ্রহ তৈরি করতে সহায়তা করা হবে। এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কাঁচামাল এবং বাংলাদেশের তৈরি পোশাক উৎপাদন সক্ষমতাকে একই সরবরাহব্যবস্থার মধ্যে আনার চেষ্টা করছে প্রতিষ্ঠানটি। রহমানের আরও বড় লক্ষ্য বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যকে বর্তমান প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলার থেকে ২০৪৫ সালের মধ্যে ১০০ বিলিয়ন ডলারে নিয়ে যাওয়ার উদ্যোগে ভূমিকা রাখা। কটনপোর্ট, তুলার গুদাম, সনদ ব্যবস্থা এবং নিউইয়র্কের ডিজাইন উদ্যোগকে সেই দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে তুলে ধরেছে আমেরিবাংলা। স্থায়ী গুদাম তৈরির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগ, পররাষ্ট্র দপ্তর এবং ইউএস এক্সিম ব্যাংকসহ বিভিন্ন সংস্থার সহযোগিতা চাওয়ার কথাও জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। তবে এ ধরনের সহযোগিতা এখনো পরিকল্পনা ও যোগাযোগের পর্যায়ে রয়েছে বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের জন্য তুলা একটি গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামাল। সেই বাজারে যুক্তরাষ্ট্রের কৃষক থেকে বাংলাদেশের কারখানা পর্যন্ত সরাসরি বাণিজ্যিক পথ তৈরি করার চেষ্টা আসওয়ার রহমানের উদ্যোগকে আলাদা মাত্রা দিয়েছে। আগামী ১৮ নভেম্বর পরিকল্পনা অনুযায়ী আনোয়ারার গুদাম চালু হলে উদ্যোগটির বাস্তব কার্যকারিতা, তুলার দাম কতটা কমে এবং স্থানীয় মিলগুলো কত দ্রুত পণ্য হাতে পায়, সেদিকেই নজর থাকবে দেশের টেক্সটাইল ও পোশাক শিল্পের।চাইলে এটিকে আরও বেশি নিউজরুমধর্মী, আরও সহজ বাংলা বা আরও প্রোফাইলধর্মী করে দিতে পারি। সূত্র: আইবিএল ইন্টারন্যাশনাল
থাইল্যান্ড থেকে ভারতে এসে স্বামীর খোঁজ করতে গিয়ে প্রতারণার অভিযোগ তুলেছেন এক থাই নারী। উত্তর প্রদেশের কানপুরে পৌঁছে তিনি জানতে পারেন, যাঁকে তিনি নিজের স্বামী বলে জানতেন, সেই মোহাম্মদ ইরফান আগে থেকেই বিবাহিত এবং তাঁর তিন সন্তান রয়েছে। ওই নারীর আরও অভিযোগ, ব্যবসার প্রয়োজনের কথা বলে ইরফান তাঁর কাছ থেকে প্রায় ৬০ লাখ রুপি নিয়েছেন। অভিযোগের পর ইরফানকে গ্রেপ্তার করেছে কানপুর পুলিশ। প্রকাশিত প্রতিবেদনে ওই নারীর নাম আপসর্ন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর দাবি, প্রায় চার বছর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কানপুরের চামড়া ব্যবসায়ী মোহাম্মদ ইরফানের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। ব্যবসার কাজে ইরফান নিয়মিত থাইল্যান্ডে যাতায়াত করতেন। একপর্যায়ে তাঁদের মধ্যে সম্পর্ক গড়ে ওঠে। আপসর্নের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় দুই বছর আগে থাইল্যান্ডের স্থানীয় রীতি মেনে তাঁদের বিয়ে হয়। বিয়ের আগে ইরফান নিজেকে অবিবাহিত বলে পরিচয় দিয়েছিলেন বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি। বিয়ের পর ব্যবসা ও অন্যান্য আর্থিক প্রয়োজনের কথা বলে ইরফান তাঁর কাছ থেকে বিভিন্ন সময়ে অর্থ নিতে শুরু করেন। শুরুতে প্রায় ২০ লাখ রুপি দেওয়ার পর কয়েক দফা লেনদেনে মোট অর্থের পরিমাণ প্রায় ৬০ লাখ রুপিতে পৌঁছায় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। আপসর্ন থাইল্যান্ডে একটি ক্যান্টিন ও রেস্তোরাঁ ব্যবসা পরিচালনা করেন। তাঁর দাবি, ইরফানকে দেওয়া অর্থের একটি অংশ ছিল তাঁর নিজের উপার্জনের টাকা। বাকি অর্থের কিছু তিনি আত্মীয়স্বজনের কাছ থেকে ধার করেছিলেন। তবে ইরফান কোনো অর্থ ফেরত দেননি বলে অভিযোগ তাঁর। পরিস্থিতি বদলে যায় যখন আপসর্ন টাকা ফেরত চাইতে শুরু করেন। তাঁর অভিযোগ, এরপর ইরফান ধীরে ধীরে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ কমিয়ে দেন। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে ভারতে ফিরে আসার পর তাঁর ফোনকলেরও উত্তর দেওয়া বন্ধ করে দেন। একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর স্বামীর খোঁজে নিজেই ভারতে আসার সিদ্ধান্ত নেন আপসর্ন। গত ৬ অক্টোবর পরিচিত একজনকে সঙ্গে নিয়ে কানপুরের লাটুশ রোড এলাকায় ইরফানের বাড়িতে যান তিনি। সেখানেই জানতে পারেন, ইরফান আগে থেকেই বিবাহিত এবং তাঁর তিন সন্তান রয়েছে। হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আপসর্ন পুলিশকে জানিয়েছেন, ইরফানের আগের বিয়ের বয়স প্রায় ১৪ বছর। আপসর্ন আরও অভিযোগ করেছেন, টাকা ফেরত চাইলে তাঁকে ভারতে এসে ইরফানের সঙ্গে থাকতে, ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করতে এবং বোরকা পরতে বলা হয়েছিল। তাঁর দাবি, ইরফানের বাড়িতে যাওয়ার পর তাঁকে মারধরও করা হয়। অভিযোগ পাওয়ার পর কানপুরের আনোয়ারগঞ্জ থানায় মামলা করা হয়। ইরফানকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মামলায় মারধরের অভিযোগের পাশাপাশি উত্তর প্রদেশের ধর্মান্তরবিরোধী আইনের ধারাও যুক্ত করা হয়েছে। পুলিশের সহকারী কমিশনার মঞ্জয় সিং জানিয়েছেন, ইরফান ওই নারীকে বিয়ে করার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। কানপুর পুলিশের ডেপুটি কমিশনার অতুল শ্রীবাস্তবও জানিয়েছেন, অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তদন্তকারীরা বিয়ের নথি, ছবি, আর্থিক লেনদেনের কাগজপত্রসহ অভিযোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন তথ্য যাচাই করছেন। আপসর্ন পুলিশের কাছে বিয়ের ছবি ও অন্যান্য নথি জমা দিয়েছেন বলে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। তাঁর মেডিকেল পরীক্ষাও করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট রিপোর্টের অপেক্ষায় রয়েছে পুলিশ। তবে ইরফানের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো এখনো তদন্তাধীন এবং আদালতে প্রমাণিত হয়নি। আর্থিক লেনদেনের প্রকৃত পরিমাণ, আগের বিয়ের তথ্য গোপনের অভিযোগ এবং ধর্মান্তরের জন্য চাপ দেওয়ার বিষয়গুলো তদন্ত শেষে আরও স্পষ্ট হবে।
ফিলিপাইনের রিকার্ডো “জুন” লাইঙ্গো জুনিয়র বছরের পর বছর যে ব্যাংকের দরজায় সিকিউরিটি গার্ড হিসেবে দাঁড়িয়েছেন, একদিন সেই ব্যাংকের কাউন্টারের পেছনে টেলার হিসেবে কাজ করবেন, এমন স্বপ্নই তিনি লালন করতেন। দীর্ঘ ১১ বছরের নিরাপত্তাকর্মীর জীবন, পড়াশোনা, পরিবার সামলানো এবং ধৈর্যের পর শেষ পর্যন্ত সেই স্বপ্ন সত্যি হয়েছে। ২০২৫ সালের ৩ মার্চ সিকিউরিটি ব্যাংকের ডিপোলগ শাখায় টেলার হিসেবে যোগ দেন তিনি। রিকার্ডোর বাড়ি ফিলিপাইনের জাম্বোয়াঙ্গা দেল নর্তের ডিপোলগ সিটির মিপুতাকে। পাঁচ ভাইবোনের মধ্যে তিনি সবার ছোট। তাঁর বাবা ছিলেন জেলে এবং মা মাছ বিক্রি করতেন। শৈশবে পরিবারের আর্থিক অবস্থা খুব ভালো ছিল না। স্কুলের খরচ ও নিজের হাতখরচ জোগাড় করতে সপ্তাহান্তে তিনিও মাছ ধরতেন। শিক্ষকদের সহায়তায় তিনি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা শেষ করতে সক্ষম হন। ২০১০ সালে প্রায় ২১ বছর বয়সে একটি এজেন্সির মাধ্যমে সিকিউরিটি গার্ড হিসেবে কাজ শুরু করেন রিকার্ডো। বিভিন্ন জায়গায় দায়িত্ব পালনের পর একসময় তাঁকে সিকিউরিটি ব্যাংকের ডিপোলগ শাখায় নিয়োগ দেওয়া হয়। পরবর্তী আট বছর সেই শাখার প্রবেশপথ পাহারা দিতে দিতেই তাঁর ভেতরে আরও দৃঢ় হয় একটি স্বপ্ন, একদিন তিনি এই ব্যাংকেরই কর্মী হবেন, বিশেষ করে টেলার হিসেবে কাজ করবেন। রিকার্ডো পরে স্মৃতিচারণ করে বলেন, পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি সিকিউরিটি গার্ডের চাকরি বেছে নেওয়ার অন্যতম কারণই ছিল সিকিউরিটি ব্যাংকে টেলার হিসেবে কাজ করার স্বপ্ন। তাঁর কাছে তখন নিরাপত্তারক্ষীর ইউনিফর্ম ছিল কেবল একটি চাকরি নয়, ভবিষ্যতের একটি সুযোগের অপেক্ষাও। ২০১৮ সালে সেই অপেক্ষায় আসে বড় পরিবর্তন। সিকিউরিটি ব্যাংক ফাউন্ডেশনের “রেগালো মো, কিনাবুকাসান কো” স্কলারশিপ প্রোগ্রামের আওতায় বৃত্তি পান রিকার্ডো। এই কর্মসূচি ব্যাংকের এজেন্সির মাধ্যমে নিয়োজিত কর্মী এবং তাঁদের সন্তানদের পড়াশোনায় সহায়তা করে। বৃত্তি পাওয়ার পর তিনি ডিপোলগ সিটি ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজিতে কম্পিউটার সায়েন্সে স্নাতক ডিগ্রিতে ভর্তি হন। চাকরি, পরিবার এবং পড়াশোনা একসঙ্গে সামলানো তাঁর জন্য সহজ ছিল না। তবু তিনি পড়াশোনা ছাড়েননি। ২০২২ সালের ২ জুলাই ৩২ বছর বয়সে অনার্সসহ স্নাতক ডিগ্রি সম্পন্ন করেন রিকার্ডো। নিজের পড়াশোনা শেষ করতে স্কলারশিপ এবং ব্যাংক কর্মকর্তাদের সহায়তার কথাও কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেছেন তিনি। তবে স্নাতক শেষ করেই সরাসরি ব্যাংকের টেলার হতে পারেননি তিনি। পড়াশোনা শেষ করার পর কিছু সময় দেশের একটি বড় মোটরসাইকেল ডিলার প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন। তবু সিকিউরিটি ব্যাংকে যোগ দেওয়ার পুরোনো স্বপ্ন ছাড়েননি। অবশেষে ২০২৫ সালের ৩ মার্চ আসে সেই সুযোগ। সিকিউরিটি ব্যাংকের ডিপোলগ শাখায় তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে টেলার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। যে দরজায় একসময় নিরাপত্তারক্ষী হিসেবে দাঁড়িয়ে গ্রাহকদের ভেতরে ঢুকতে দেখতেন, এবার সেই দরজা পেরিয়েই ব্যাংকের নিজস্ব কর্মী হিসেবে কাউন্টারের পেছনে জায়গা নেন তিনি। রিকার্ডো জানিয়েছেন, তাঁর জীবনে অনেক কিছু বদলে গেছে। তিনি ১১ বছর সিকিউরিটি গার্ড হিসেবে কাজ করেছেন, আর এখন একজন ব্যাংক টেলার। দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণ হওয়ায় তিনি গর্বিত, তবে নিজের যাত্রা থেকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে শিক্ষা পেয়েছেন সেটি হলো বিনয়ী থাকা। রিকার্ডোর গল্প ২০২৫ সালে সিকিউরিটি ব্যাংক ফাউন্ডেশন প্রকাশ করার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, তাঁর গল্প নিয়ে করা পোস্ট কয়েক দিনের মধ্যে কয়েক মিলিয়ন মানুষের কাছে পৌঁছে যায়। পরে ফিলিপাইনের একাধিক সংবাদমাধ্যমেও তাঁর দীর্ঘ পথচলা তুলে ধরা হয়। ব্যাংকের দরজায় দাঁড়িয়ে থাকা একজন সিকিউরিটি গার্ড থেকে একই প্রতিষ্ঠানের টেলার হওয়ার এই যাত্রায় রিকার্ডোর জন্য সবচেয়ে বড় পরিবর্তন এনে দিয়েছে শিক্ষা ও সুযোগ। যে প্রতিষ্ঠানের প্রবেশপথ তিনি বছরের পর বছর পাহারা দিয়েছেন, শেষ পর্যন্ত সেই প্রতিষ্ঠানের ভেতরেই নিজের বহুদিনের স্বপ্নের জায়গা তৈরি করেছেন তিনি।
রাশিয়ায় প্লেগ গবেষণাগারের এক নারী কর্মীর মৃ ত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর রোগটি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এর মধ্যেই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) প্রকাশিত মানচিত্রে গত সাত বছরে কোন কোন দেশে মানুষের মধ্যে প্লেগের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে, সেই চিত্র সামনে এসেছে। তবে শুরুতেই গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, রাশিয়ায় মৃ ত্যু হওয়া ওই ল্যাবকর্মীর প্লেগে আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি এখনো দেশটির স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি। রুশ সরকারি স্বাস্থ্য নজরদারি সংস্থা রসপোট্রেবনাদজর জানিয়েছে, ওই গবেষণাগারে রোগজীবাণু ছড়িয়ে পড়ার কোনো দুর্ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। স্বাধীন ও রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন রুশ সংবাদমাধ্যমে অবশ্য ওই ঘটনাকে সম্ভাব্য প্লেগ সংক্রমণের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাইবেরিয়ার ইরকুতস্কে প্লেগ গবেষণা প্রতিষ্ঠানে কাজ করা ২৮ বছর বয়সী দারিয়া শিপিলোভা গুরুতর নিউমোনিয়ার উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। পরে ২ অক্টোবর তার মৃ ত্যু হয়। তার মৃ ত্যুর কারণ হিসেবে কর্তৃপক্ষ ‘অজ্ঞাত কারণে নিউমোনিয়া’র কথা জানিয়েছে। রুশ সংবাদমাধ্যমের কিছু প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, নমুনা সংগ্রহের সময় জীবিত প্লেগ ব্যাকটেরিয়া থাকা একটি টেস্ট টিউব ভেঙে যাওয়ার পর শিপিলোভা তার সহকর্মীদের বিষয়টি জানিয়েছিলেন। তবে এই দাবির স্বাধীন বা সরকারি কোনো নিশ্চিত প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি। অন্য একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিনি বুরিয়াতিয়া থেকে কাজের সফর শেষে ফেরার পর অসুস্থ হয়েছিলেন। বুরিয়াতিয়ার আঞ্চলিক সরকার অবশ্য দাবি করেছে, তিনি ওই অঞ্চলে গিয়েছিলেন—এমন তথ্য তাদের কাছে নেই। ঘটনাটি ঘিরে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রায় ২০০ জনের মতো মানুষ, যারা ওই নারীর সংস্পর্শে এসেছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে, তাদের স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। তবে সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, তাদের বড় একটি অংশকে পরে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। রাশিয়ার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ওই ব্যক্তিদের মধ্যে প্লেগ সংক্রমণের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। প্লেগ কী এবং কত দেশে ছড়িয়েছে—এ প্রশ্নও সামনে এসেছে। ডব্লিউএইচওর তথ্য অনুযায়ী, প্লেগ একটি ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রামক রোগ। এর জন্য দায়ী ব্যাকটেরিয়ার নাম ‘ইয়ারসিনিয়া পেস্টিস’। সাধারণত ছোট স্তন্যপায়ী প্রাণী ও তাদের শরীরে থাকা মাছির মাধ্যমে এটি ছড়ায়। আক্রান্ত প্রাণীর সংস্পর্শ, সংক্রমিত তরল বা উপাদানের সংস্পর্শ এবং বিশেষ করে নিউমোনিক প্লেগের ক্ষেত্রে শ্বাসতন্ত্রের মাধ্যমে ছড়ানো কণার সংস্পর্শেও মানুষ আক্রান্ত হতে পারে। প্লেগের প্রধান তিনটি ধরন হলো বুবোনিক, নিউমোনিক এবং সেপটিসেমিক প্লেগ। এর মধ্যে নিউমোনিক প্লেগ সবচেয়ে সংক্রামক এবং গুরুতর ধরনগুলোর একটি। এটি ফুসফুসে সংক্রমণ ঘটায় এবং আক্রান্ত ব্যক্তির শ্বাসতন্ত্র থেকে বের হওয়া সংক্রমিত কণার মাধ্যমে অন্য মানুষের মধ্যে ছড়াতে পারে। দ্রুত চিকিৎসা না হলে রোগটি প্রাণঘাতী হতে পারে। ডব্লিউএইচওর ২০১৯ থেকে ২০২৫ সালের তথ্য অনুযায়ী, ওই সময়ে বিশ্বের ১০টি দেশ মানুষের মধ্যে সন্দেহভাজন প্লেগের ঘটনা জানিয়েছে। এর মধ্যে ছয়টি দেশে নিশ্চিত প্লেগ সংক্রমণও নথিভুক্ত হয়েছে। মোট ৩ হাজার ৮৬০টি সন্দেহভাজন ঘটনা এবং ৪২৩ জনের মৃ ত্যুর তথ্য সংস্থাটির কাছে জমা পড়েছে। এই সময়ের নিশ্চিত সংক্রমণের বড় অংশই আফ্রিকার দেশগুলোর। গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্র এবং মাদাগাস্কারে সবচেয়ে বেশি ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। এছাড়া কেনিয়া, উগান্ডা, চীন ও মঙ্গোলিয়াতেও নিশ্চিত মানব প্লেগের ঘটনা রিপোর্ট করা হয়েছে। ডব্লিউএইচও জানিয়েছে, ২০১৯ থেকে ২০২৫ সালের নিশ্চিত সংক্রমণের প্রায় ৯৭ দশমিক ৭ শতাংশই গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্র ও মাদাগাস্কারে পাওয়া গেছে। ডব্লিউএইচওর মানচিত্রে থাকা তথ্যের অর্থ অবশ্য সব দেশের পরিস্থিতি একই রকম—এমন নয়। কোনো দেশ ওই সময়ে কোনো ঘটনা রিপোর্ট না করলেও সেখানে প্লেগের প্রাকৃতিক উৎস থাকতে পারে। সংস্থাটি জানিয়েছে, রোগটি ওশেনিয়া ছাড়া বিশ্বের সব মহাদেশেই প্রাণীদের মধ্যে পাওয়া যায়। তবে মানুষের মধ্যে সাম্প্রতিক অধিকাংশ ঘটনা আফ্রিকাতেই ঘটেছে, বিশেষ করে গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্র ও মাদাগাস্কারে। রাশিয়ার বর্তমান ঘটনাটিও তাই এখনো সতর্কতার সঙ্গে দেখছে আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য মহল। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা রাশিয়ায় সম্ভাব্য প্লেগ পরিস্থিতির ঝুঁকি কম বলে মূল্যায়ন করেছে। একই সঙ্গে আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে আসা মানুষদের পর্যবেক্ষণ এবং ঘটনাটির বিষয়ে আরও তথ্য সংগ্রহের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। রাশিয়ার ইরকুতস্ক অঞ্চলের ঘটনাটি নিয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে নানা দাবি ছড়ালেও এখন পর্যন্ত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—ল্যাবকর্মীর মৃ ত্যুর সঙ্গে প্লেগের সরাসরি সম্পর্ক সরকারি ভাবে নিশ্চিত হয়নি। ফলে ঘটনাটিকে নিশ্চিত প্লেগ প্রাদুর্ভাব হিসেবে না দেখে সম্ভাব্য সংক্রমণের ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে ডব্লিউএইচওর বৈশ্বিক তথ্য বলছে, প্লেগ এখনো বিশ্বের কিছু অঞ্চলে সক্রিয় থাকলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোর অধিকাংশ মানব সংক্রমণ নির্দিষ্ট কয়েকটি দেশেই সীমাবদ্ধ রয়েছে।
ব্রিটিশ রাজপরিবারের সদস্যদের চিকিৎসা দিয়েছেন বলে পরিচিত চিকিৎসক ডা. হান্না কেইনের মৃত্যুর ঘটনায় তাঁর স্বামী মার্ক কেইনের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। ইংল্যান্ডের নরফোকের ডারসিংহামে নিজ বাড়ি থেকে ৪৫ বছর বয়সী হান্নার মরদেহ উদ্ধারের পর তদন্ত শুরু করে পুলিশ। নরফোক পুলিশ জানিয়েছে, ৪৫ বছর বয়সী মার্ক কেইনকে গ্রেপ্তারের পর তাঁর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে।ঘটনাটি ঘটে ৪ অক্টোবর ভোরে। নরফোক পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, রাত ২টা ২০ মিনিটের কিছু পর অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিসের কাছ থেকে খবর পেয়ে কর্মকর্তারা ফার্ন হিল এলাকার একটি বাড়িতে যান। সেখানে ৪০-এর কোঠার এক নারীকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। পরে আনুষ্ঠানিক পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার প্রক্রিয়া সাপেক্ষে তাঁকে হান্না কেইন হিসেবে শনাক্ত করা হয়। হান্না পেশাগতভাবে ডা. হান্না টেরি নামেও পরিচিত ছিলেন। তিনি নরফোকের গ্রিমস্টন মেডিকেল সেন্টারে জেনারেল প্র্যাকটিশনার হিসেবে কাজ করতেন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্যান্ড্রিংহামে অবস্থানকালে রাজপরিবারের সদস্যদের চিকিৎসাসেবা দেওয়ার জন্য যেসব চিকিৎসককে ডাকা হতো, হান্না তাঁদের একজন ছিলেন। তিনি কুইন ক্যামিলাকেও চিকিৎসা দিয়েছেন বলে একাধিক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। তবে নরফোক পুলিশ বা ক্রাউন প্রসিকিউশন সার্ভিস রাজপরিবারের সঙ্গে তাঁর এই সম্পর্ক আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি। নিউইয়র্ক পোস্টসহ ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘটনার সময় বাড়িতে হান্নার সন্তানদের কয়েকজন বন্ধু ছিল এবং সেখানে শিশুদের রাতযাপনের আয়োজন চলছিল। তবে এই অংশটি পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত জানায়নি। হান্না তিন সন্তানের মা ছিলেন। বুধবার নরউইচ ম্যাজিস্ট্রেটস কোর্টে হাজির করা হয় মার্ক কেইনকে। আদালতের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংক্ষিপ্ত শুনানিতে তিনি নিজের নাম, ঠিকানা ও জন্মতারিখ নিশ্চিত করেন। এ পর্যায়ে তাঁকে কোনো প্লি দিতে বলা হয়নি। তাঁকে হেফাজতে রাখা হয়েছে এবং মামলাটি পরবর্তী আদালত প্রক্রিয়ার দিকে এগোচ্ছে। আদালতে প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে হান্নার মাথায় আঘাত এবং ঘাড়ে চাপের চিহ্ন পাওয়ার কথা তুলে ধরা হয়েছে। তবে নরফোক পুলিশ জানিয়েছে, ৫ অক্টোবর হোম অফিসের তত্ত্বাবধানে ময়নাতদন্ত হলেও মৃত্যুর চূড়ান্ত কারণ এখনো আরও তদন্তের অপেক্ষায় রয়েছে। ফলে মৃত্যুর নির্দিষ্ট কারণ নিয়ে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে নিশ্চিত সিদ্ধান্ত দেওয়া হচ্ছে না। ঘটনার পর নরফোক ও সাফোক মেজর ইনভেস্টিগেশন টিম হত্যার তদন্ত শুরু করে। প্রথমে একজন ৪০-এর কোঠার পুরুষকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করা হয়। পরে পুলিশ অতিরিক্ত জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতের কাছ থেকে আরও সময় নেয়। তদন্ত শেষে ৬ অক্টোবর মার্ক কেইনের বিরুদ্ধে হান্নাকে হত্যার অভিযোগ আনা হয়। ক্রাউন প্রসিকিউশন সার্ভিসও নিশ্চিত করেছে, হান্না কেইনের মৃত্যুর ঘটনায় মার্ক কেইনের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ অনুমোদন করা হয়েছে। প্রসিকিউশন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পুলিশি তদন্তে পাওয়া তথ্য পর্যালোচনার পর এই অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে ফৌজদারি মামলার নিয়ম অনুযায়ী, আদালতে দোষী সাব্যস্ত না হওয়া পর্যন্ত মার্ক কেইনকে নির্দোষ হিসেবেই বিবেচনা করা হবে। ঘটনার পর গ্রিমস্টন মেডিকেল সেন্টার সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছিল। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে বলা হয়, তাদের টিমকে প্রভাবিত করা অত্যন্ত কঠিন পরিস্থিতির কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। হান্নার সহকর্মী ও পরিচিতদের অনেকেই তাঁকে একজন সহানুভূতিশীল ও নিবেদিত চিকিৎসক হিসেবে স্মরণ করেছেন। হান্নার পরিবারকে বিশেষায়িত পুলিশ কর্মকর্তারা সহায়তা করছেন। পরিবারের পক্ষ থেকে এই সময়ে গোপনীয়তা বজায় রাখার অনুরোধ জানানো হয়েছে। স্যান্ড্রিংহাম এস্টেটের কাছাকাছি শান্ত আবাসিক এলাকায় এই মৃত্যুর ঘটনা স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এখন তদন্তকারীদের মূল লক্ষ্য ঘটনার পূর্ণ পরিস্থিতি, মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ এবং অভিযোগের পক্ষে থাকা প্রমাণ আদালতের সামনে উপস্থাপন করা। মামলাটি বিচারাধীন থাকায় উদ্দেশ্য বা ঘটনার পেছনের কারণ সম্পর্কে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
১০০ বছর বা তার বেশি বয়স পর্যন্ত সুস্থভাবে বেঁচে থাকা মানুষের জীবনযাপন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই গবেষণা চলছে। বিশ্বের বিভিন্ন ‘ব্লু জোন’ হিসেবে পরিচিত এলাকায় তুলনামূলক বেশি সংখ্যক দীর্ঘায়ু মানুষের বসবাস। ইতালির সার্দিনিয়া, জাপানের ওকিনাওয়ার মতো এসব অঞ্চলের মানুষের খাবার, পানীয় ও দৈনন্দিন অভ্যাস নিয়ে গবেষকরা দীর্ঘায়ুর সম্ভাব্য কারণ খুঁজে দেখছেন। দীর্ঘায়ু গবেষক ড্যান বুয়েটনার সম্প্রতি এমন তিনটি পানীয়ের কথা তুলে ধরেছেন, যেগুলো ব্লু জোনের মানুষের মধ্যে নিয়মিত পান করার অভ্যাস দেখা যায়। এগুলো হলো পানি, চিনি ছাড়া কালো কফি এবং অল্প পরিমাণ রেড ওয়াইন। তবে এসব পানীয়ের সঙ্গে দীর্ঘায়ুর সম্পর্ক থাকলেও কোনো একটি পানীয় খেলেই ১০০ বছর বয়স পর্যন্ত বেঁচে থাকা নিশ্চিত হয়—এমন দাবি করার মতো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। বুয়েটনারের তালিকায় প্রথমেই রয়েছে পানি। তার মতে, দীর্ঘ জীবন ও সুস্থ থাকার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পানীয় হলো পানি। ব্লু জোনের বাসিন্দারা সাধারণত দিনে কয়েক গ্লাস পানি পান করেন বলেও তিনি উল্লেখ করেছেন। পর্যাপ্ত পানি পান শরীরকে পানিশূন্যতা থেকে রক্ষা করে এবং শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রম ঠিক রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউটস অব হেলথের একটি গবেষণাতেও ইতিবাচক সম্পর্ক পাওয়া গেছে। ১১ হাজারের বেশি প্রাপ্তবয়স্কের দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যতথ্য বিশ্লেষণ করে গবেষকরা দেখেছেন, ভালোভাবে হাইড্রেটেড থাকা মানুষের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী রোগ ও অকাল মৃ ত্যুর ঝুঁকি তুলনামূলক কম ছিল। তবে গবেষণাটি কারণ ও ফলাফলের সরাসরি সম্পর্ক প্রমাণ করেনি। ব্লু জোনের খাবার ও পানীয় নিয়ে প্রকাশিত নির্দেশনাতেও পানিকে প্রধান পানীয় হিসেবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সেখানে কফি, চা, পানি ও ওয়াইনের উপস্থিতির কথা বলা হয়েছে। তালিকার দ্বিতীয় পানীয় কালো কফি। বুয়েটনারের মতে, চিনি বা অতিরিক্ত ক্রিম ছাড়া দিনে এক থেকে দুই কাপ কফি পান করা দীর্ঘায়ুর সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। তিনি দিনের প্রথম ভাগেই কফি পান শেষ করার পরামর্শ দিয়েছেন, যাতে ক্যাফেইনের কারণে রাতে ঘুমের সমস্যা কম হয়। কফিতে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও পলিফেনলের মতো উদ্ভিজ্জ যৌগ রয়েছে। বিভিন্ন গবেষণায় নিয়মিত কফি পান এবং টাইপ-২ ডায়াবেটিস ও কিছু স্নায়বিক রোগের তুলনামূলক কম ঝুঁকির মধ্যে সম্পর্ক দেখা গেছে। তবে কফি সবার জন্য একইভাবে উপকারী—এমন নিশ্চয়তা নেই। অতিরিক্ত ক্যাফেইন উদ্বেগ বা ঘুমের সমস্যার মতো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া তৈরি করতে পারে। তৃতীয় পানীয় হিসেবে বুয়েটনার উল্লেখ করেছেন রেড ওয়াইনের কথা। সার্দিনিয়ার মতো কিছু ব্লু জোন এলাকায় মানুষ খাবারের সঙ্গে অল্প পরিমাণ রেড ওয়াইন পান করেন বলে তিনি জানান। রেড ওয়াইনে রেসভেরাট্রল ও ফ্ল্যাভোনয়েডের মতো উদ্ভিজ্জ যৌগ রয়েছে, যেগুলো হৃদ্যন্ত্রের স্বাস্থ্যের সঙ্গে সম্ভাব্য সম্পর্ক নিয়ে গবেষণা হয়েছে। তবে এই অংশটিই সবচেয়ে বেশি বিতর্কিত। বুয়েটনার নিজেও স্বীকার করেছেন যে দীর্ঘায়ুর সঙ্গে রেড ওয়াইনের সম্পর্ক নিয়ে এখনো বিতর্ক রয়েছে। কারণ অ্যালকোহল পান করার সঙ্গে বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকিও জড়িত। যুক্তরাষ্ট্রের সার্জন জেনারেলের কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, অ্যালকোহল পান অন্তত সাত ধরনের ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। এর মধ্যে স্তন, কোলোরেক্টাল, খাদ্যনালি, স্বরযন্ত্র, যকৃৎ, মুখ ও গলার ক্যানসার রয়েছে। এ কারণে রেড ওয়াইনের কথাকে দীর্ঘায়ুর পরামর্শ হিসেবে সরাসরি নেওয়া ঠিক হবে না। যারা অ্যালকোহল পান করেন না, শুধু দীর্ঘায়ুর আশায় তাদের শুরু করারও কারণ নেই। বিশেষ করে কোনো স্বাস্থ্য সমস্যা থাকলে বা নিয়মিত ওষুধ সেবন করলে খাদ্যাভ্যাসে বড় পরিবর্তনের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। ব্লু জোনের মানুষের দীর্ঘায়ু শুধু তিনটি পানীয়ের ওপর নির্ভর করে না। তাদের সামগ্রিক খাদ্যাভ্যাস, শারীরিক সক্রিয়তা, সামাজিক যোগাযোগ এবং জীবনযাপনের ধরনও গবেষণার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তাই পানি ও পরিমিত কফির মতো অভ্যাস স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের অংশ হতে পারে, কিন্তু এগুলোকে দীর্ঘ জীবনের একক সূত্র হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। সব মিলিয়ে, দীর্ঘায়ু নিয়ে গবেষণায় পানীয়ের ভূমিকা নিয়ে আগ্রহ থাকলেও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সামগ্রিক জীবনযাপন। পর্যাপ্ত পানি পান, স্বাস্থ্যকর খাবার, নিয়মিত শারীরিক কার্যক্রম এবং ভালো ঘুম—দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যের জন্য এসব অভ্যাসের গুরুত্বই বেশি।
নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যে হাম বা মিজলসের সংক্রমণ বাড়তে থাকায় রাজ্যজুড়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে। সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে দ্রুত টিকাদান, রোগ শনাক্তকরণ এবং আক্রান্তদের সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের পর্যবেক্ষণ জোরদার করছে স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ। নিউইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হোকুল ৫ অক্টোবর রাজ্যে চলমান হাম সংক্রমণের কারণে দুর্যোগকালীন জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন। নিউইয়র্ক স্টেট ডিপার্টমেন্ট অব হেলথের তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ করে নিউইয়র্ক সিটির বাইরে গ্রামীণ অঞ্চলে সংক্রমণ দ্রুত বাড়ছে। ৩ অক্টোবর পর্যন্ত নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যে চলতি বছরে ১০৮টি হাম সংক্রমণের ঘটনা শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ৯২টি ঘটনা ১৫ জুলাইয়ের পর শনাক্ত হয়েছে। আক্রান্তদের বড় একটি অংশ এমন এলাকায় রয়েছে যেখানে টিকাদানের হার তুলনামূলকভাবে কম। নিউইয়র্ক সিটিতে এ সময় সাতটি ঘটনা শনাক্ত হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্বাস্থ্য বিভাগ স্থানীয় কাউন্টি স্বাস্থ্য দপ্তরগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে। আক্রান্ত ব্যক্তিদের সংস্পর্শে আসা মানুষদের শনাক্ত করা, সংক্রমণের উৎস অনুসন্ধান এবং প্রয়োজন অনুযায়ী টিকা দেওয়ার কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বিশেষভাবে এমএমআর টিকার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন। এই টিকা হাম, মাম্পস এবং রুবেলা থেকে সুরক্ষা দিতে ব্যবহৃত হয়। স্বাস্থ্য বিভাগের পরামর্শ হলো, নিউইয়র্কের বাসিন্দাদের নিজেদের এবং পরিবারের সদস্যদের টিকাদানের রেকর্ড পরীক্ষা করে নিশ্চিত হওয়া উচিত যে প্রয়োজনীয় টিকা নেওয়া হয়েছে। হাম অত্যন্ত সংক্রামক একটি রোগ। জ্বর, শরীরে লালচে ফুসকুড়ি, কাশি, নাক দিয়ে পানি পড়া এবং চোখ লাল হওয়া এর সাধারণ লক্ষণ। গুরুতর ক্ষেত্রে নিউমোনিয়া, মস্তিষ্কে প্রদাহ এবং হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার মতো জটিলতা দেখা দিতে পারে। শিশুদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি আরও বেশি হতে পারে। নিউইয়র্ক স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, রাজ্যের বিভিন্ন কাউন্টির স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা সংক্রমণ পর্যবেক্ষণ করছেন এবং প্রয়োজনে টিকা ও অন্যান্য প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা সরবরাহ করছেন। এ জন্য নতুন করে একটি হাম পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে, যার মাধ্যমে নিউইয়র্ক সিটির বাইরে বিভিন্ন অঞ্চলের সংক্রমণের তথ্য নজরদারি করা হচ্ছে। স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের জন্য আরেকটি উদ্বেগ হলো ভ্রমণের মাধ্যমে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা। নিউইয়র্ক স্বাস্থ্য বিভাগ বিদেশে বা হাম আক্রান্ত এলাকায় ভ্রমণের আগে টিকাদানের অবস্থা যাচাই করার পরামর্শ দিয়েছে। বিশেষ করে ছোট শিশুদের ক্ষেত্রে ভ্রমণের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এদিকে পাশের পেনসিলভানিয়াতেও বড় ধরনের হাম সংক্রমণ চলছে। ফলে নিউইয়র্কের স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা শুধু রাজ্যের অভ্যন্তরীণ সংক্রমণ নয়, আশপাশের অঙ্গরাজ্য ও ভ্রমণজনিত ঝুঁকিও পর্যবেক্ষণ করছেন। নিউইয়র্কের বাংলাদেশি-আমেরিকান পরিবারগুলোর জন্যও এই সতর্কতা গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে যেসব পরিবারে ছোট শিশু রয়েছে বা যারা বাংলাদেশসহ বিদেশে যাতায়াত করেন, তাদের শিশুদের টিকাদানের রেকর্ড যাচাই করে প্রয়োজনীয় টিকা সম্পন্ন করা উচিত। স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বলছেন, আতঙ্কিত হওয়ার পরিবর্তে সচেতন হওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কারও জ্বর ও ফুসকুড়ির মতো উপসর্গ দেখা দিলে সরাসরি জনসমাগমে না গিয়ে চিকিৎসক বা স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
দক্ষিণ অ্যারিজোনায় দ্বিতীয় সীমান্তপ্রাচীর নির্মাণ ঠেকাতে দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে গাছ আঁকড়ে প্রতিবাদ করছিলেন আন্দোলনকারীরা। শেষ পর্যন্ত সোমবার সেখানে অভিযান চালিয়ে একটি প্রায় ২০০ বছরের পুরোনো কটনউড গাছ কেটে ফেলেছে ফেডারেল কর্তৃপক্ষ। ঘটনাটি ঘটেছে সান রাফায়েল ভ্যালির লোচিয়েল শহরের কাছে। সীমান্তের পাশে থাকা চারটি কটনউড গাছের জায়গা দিয়েই প্রস্তাবিত দ্বিতীয় সীমান্তপ্রাচীর নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। গাছগুলো রক্ষায় আন্দোলনকারীরা সেখানে দুই মাসের বেশি সময় ধরে অবস্থান করছিলেন। সোমবার ফেডারেল এজেন্টরা ওই প্রতিবাদস্থলে অভিযান চালান। আন্দোলনকারীদের দাবি, প্রায় ৫০ জন ফেডারেল এজেন্ট সেখানে উপস্থিত ছিলেন। তাদের কয়েকজন মুখোশ পরেছিলেন। এমনকি কিছু এজেন্টের পোশাকের পরিচয়পত্র বা ব্যাজ টেপ দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন তারা। অভিযানের সময় একটি গাছে উঠে অবস্থান নেওয়া এক প্রতিবাদকারীকে নামিয়ে আনতে একটি উঁচু প্ল্যাটফর্মযুক্ত যন্ত্র ব্যবহার করা হয়। ভিডিওতে দেখা যায়, ফেডারেল এজেন্টরা গাছটি ঘিরে রেখেছেন। পরে ওই যন্ত্রের সাহায্যে গাছের ওপর থাকা প্রতিবাদকারীকে নামিয়ে আনা হয়। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই গাছটি কেটে ফেলা হয়। পরিবেশ সংরক্ষণ সংগঠন সেন্টার ফর বায়োলজিক্যাল ডাইভারসিটির কর্মী রাস ম্যাকস্প্যাডেন বলেন, স্থানীয় বাসিন্দারা গাছগুলো কেটে ফেলার পরিকল্পনায় ক্ষুব্ধ ছিলেন। পরে কয়েকজন প্রতিবাদকারী গাছে উঠে অবস্থান নেন। তাদের একজন সেখানে টানা ৭১ দিন ছিলেন বলে জানান তিনি। অভিযানকারীদের দাবি, সোমবারের অভিযানে ১০ জন প্রতিবাদকারীকে আ ট ক করা হয়। তাদের কয়েকজন পরে ছাড়া পেয়েছেন। তবে মঙ্গলবার পর্যন্ত আরও কয়েকজন হেফাজতে ছিলেন। এই গাছ কাটার ঘটনাকে কেন্দ্র করে অ্যারিজোনায় সীমান্তপ্রাচীর নির্মাণ নিয়ে পুরোনো বিরোধ আবারও সামনে এসেছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন দক্ষিণ সীমান্তে নতুন করে সীমান্তপ্রাচীর নির্মাণের কাজ এগিয়ে নিচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে সান রাফায়েল ভ্যালিতেও নির্মাণকাজ চলছে। আন্দোলনকারীদের কাছে কটনউড গাছটি বিশেষ গুরুত্ব বহন করত। তাদের মতে, গাছটির বয়স প্রায় ২০০ বছর এবং এটি ওই এলাকার অন্যতম পুরোনো গাছ। সীমান্তপ্রাচীর নির্মাণের জন্য গাছটি কেটে ফেলার সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেই তারা সেখানে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেছিলেন। সোমবারের অভিযানে ফেডারেল কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন আন্দোলনকারীরা। তাদের অভিযোগ, বিপুলসংখ্যক সশস্ত্র এজেন্ট মুখোশ পরে সেখানে অভিযান চালান এবং পরিচয় শনাক্ত করার মতো ব্যাজও ঢেকে রাখেন। গাছের ওপর থাকা প্রতিবাদকারীকে সরিয়ে নেওয়ার পর দ্রুত সেটি কেটে ফেলা হয় বলেও অভিযোগ তাদের। তবে সীমান্তপ্রাচীর নির্মাণের সঙ্গে যুক্ত কর্তৃপক্ষের বক্তব্যও রয়েছে। স্থানীয় প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চারটি কটনউড গাছই সীমান্তপ্রাচীর নির্মাণের জন্য অপসারণের তালিকায় ছিল। গাছ কাটার আগে পরিবেশবিষয়ক পর্যবেক্ষকেরাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন বলে জানানো হয়েছে। অ্যারিজোনার সীমান্ত এলাকায় সীমান্তপ্রাচীর নির্মাণ নিয়ে এর আগেও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। তোহোনো ও’ওধাম নেশন এলাকায় নির্মাণকাজের সময় একটি গুরুত্বপূর্ণ আদিবাসী প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানের ক্ষতি করার অভিযোগ উঠেছিল। সেখানেও স্থানীয় ও আদিবাসী সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে নির্মাণকাজের বিরোধিতা করা হয়। লোচিয়েল এলাকার প্রতিবাদকারীরা জানিয়েছেন, সোমবারের অভিযান ও গাছ কাটার পরও তাদের আন্দোলন থামছে না। সীমান্তপ্রাচীর নির্মাণের বিরুদ্ধে তারা আরও কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন। মঙ্গলবারও প্রতিবাদের নতুন চিত্র দেখা গেছে। একজন আন্দোলনকারী মেক্সিকোর পাশের একটি কটনউড গাছে উঠে অবস্থান নেন বলে স্থানীয় প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। ফলে একটি প্রায় ২০০ বছরের পুরোনো গাছ কেটে ফেলার ঘটনাটি শুধু একটি গাছ অপসারণের বিষয়েই সীমাবদ্ধ থাকেনি। এটি অ্যারিজোনায় সীমান্তপ্রাচীর নির্মাণ, পরিবেশ রক্ষা এবং স্থানীয় মানুষের প্রতিবাদ—এই তিনটি বিষয়কে আবারও আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে।
অত্যন্ত দক্ষ বিদেশি কর্মীদের জন্য পরিবার নিয়ে সৌদি আরবে যাওয়ার প্রক্রিয়া আরও সহজ করেছে দেশটির সরকার। নতুন ব্যবস্থায় যোগ্য বিদেশি কর্মীরা নিজেদের কাজের ভিসার প্রক্রিয়া পুরোপুরি শেষ হওয়ার আগেই পরিবারের নির্দিষ্ট সদস্যদের সৌদি আরবে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করতে পারবেন। সৌদি আরবের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) নতুন এ ব্যবস্থার ঘোষণা দিয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং মানবসম্পদ ও সামাজিক উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে এই উদ্যোগ চালু করা হয়েছে। সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, এর লক্ষ্য সৌদি আরবে বসবাসরত মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত করা এবং অত্যন্ত দক্ষ বিদেশি কর্মীদের ভিসা-সংক্রান্ত প্রক্রিয়া আরও সহজ করা। নতুন নিয়মে যোগ্য বিদেশি কর্মীরা তাদের স্বামী বা স্ত্রী, ২৫ বছরের কম বয়সী ছেলেসন্তান এবং অবিবাহিত মেয়েসন্তানকে সৌদি আরবে আনার সুযোগ পাবেন। অর্থাৎ পরিবারের সদস্যদের জন্য প্রবেশভিসার আবেদন করতে কর্মীর নিজের কাজের ভিসা পুরোপুরি সম্পন্ন হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে না। সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যোগ্য পরিবারের সদস্যদের প্রবেশভিসা কর্মীর কর্মভিসা প্রক্রিয়ার সঙ্গেই সমান্তরালভাবে দেওয়া যেতে পারে। তবে এ সুবিধা পাওয়ার জন্য আবেদনকারীকে নির্ধারিত সব শর্ত ও প্রয়োজনীয়তা পূরণ করতে হবে। আগের ব্যবস্থায় পরিবারের সদস্যদের সৌদি আরবে আনার প্রক্রিয়া শুরু করার ক্ষেত্রে কর্মীর নিজের কর্মভিসা সম্পন্ন হওয়ার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ ছিল। নতুন ব্যবস্থায় সেই অপেক্ষার সময় কমিয়ে আনার সুযোগ তৈরি হয়েছে। ফলে যোগ্য বিদেশি কর্মীরা সৌদি আরবে কাজের জন্য যাওয়ার প্রক্রিয়ার সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের প্রবেশের ব্যবস্থাও এগিয়ে নিতে পারবেন। পরিবারের সদস্যরা সৌদি আরবে পৌঁছানোর পর তাদের রেসিডেন্স পারমিট বা বসবাসের অনুমতিসংক্রান্ত প্রক্রিয়া দেশটির প্রচলিত আইন ও বিধি অনুযায়ী সম্পন্ন করা যাবে। অর্থাৎ প্রবেশভিসা পাওয়ার পরও পরিবারের সদস্যদের বৈধভাবে বসবাসের জন্য সংশ্লিষ্ট নিয়মকানুন অনুসরণ করতে হবে। সৌদি সরকারের এই সিদ্ধান্ত বিশেষ করে উচ্চ দক্ষতার বিদেশি কর্মীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কারণ কাজের সুযোগের পাশাপাশি পরিবারকে সঙ্গে রাখার সুবিধা বিদেশি দক্ষ কর্মীদের জন্য সৌদিতে বসবাস ও কর্মজীবনকে আরও সহজ করতে পারে। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর সমন্বয়ে নেওয়া এই উদ্যোগের মাধ্যমে ভিসা-সংক্রান্ত প্রক্রিয়ায় জটিলতা কমানো এবং বিদেশি দক্ষ কর্মীদের জন্য সৌদিতে বসবাসের পরিবেশ আরও সুবিধাজনক করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে পরিবারের সদস্যদের প্রবেশভিসার ক্ষেত্রে নির্ধারিত যোগ্যতা ও শর্ত পূরণ করা বাধ্যতামূলক।
শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে আগামী ২০ থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত তিন দিনের ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। এর সঙ্গে ২৩ ও ২৪ অক্টোবর শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় সরকারি চাকরিজীবীরা ২০ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত টানা পাঁচ দিনের ছুটি ভোগ করতে পারবেন। এই ছুটির সঙ্গে সমন্বয় করতে ১৭ অক্টোবর শনিবার সাপ্তাহিক ছুটির দিনেও সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা-স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি অফিস খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে বুধবার (৭ অক্টোবর) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। ২০২৬ সালের সরকারি ছুটির তালিকায় আগামী মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) মহানবমী উপলক্ষে নির্বাহী আদেশে ছুটি এবং বুধবার (২১ অক্টোবর) বিজয়া দশমী উপলক্ষে সাধারণ ছুটি নির্ধারিত ছিল। তবে ২২ অক্টোবর বৃহস্পতিবার অফিস খোলা থাকার কথা থাকলেও ওই দিনটিকেও নির্বাহী আদেশে ছুটি দেওয়ার প্রস্তাব অনুমোদন করে মন্ত্রিসভা। গত সোমবার (৫ অক্টোবর) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে সাধারণ ছুটি ও নির্বাহী আদেশে সরকারি ছুটির তারিখ পুনর্নির্ধারণের প্রস্তাব অনুমোদিত হয়। এর ধারাবাহিকতায় ২২ অক্টোবরের কর্মদিবসেও ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা ২০২৬ উপলক্ষে ২০, ২১ ও ২২ অক্টোবর যথাক্রমে মঙ্গলবার, বুধবার ও বৃহস্পতিবার ছুটি থাকবে। ফলে পূজার কারণে টানা তিন দিনের ছুটি পাওয়া যাবে। এরপর ২৩ অক্টোবর শুক্রবার এবং ২৪ অক্টোবর শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় পূজার ছুটির সঙ্গে মিলিয়ে মোট পাঁচ দিনের ছুটির সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে এই টানা ছুটির সমন্বয়ের জন্য ১৭ অক্টোবর শনিবার সাপ্তাহিক ছুটির দিন অফিস খোলা থাকবে। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ওইদিন সব সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা-স্বায়ত্তশাসিত এবং বেসরকারি অফিসের কার্যক্রম চালু থাকবে।