- প্রচ্ছদ
- Latest news
Today latest news
20 News
ছুটির মৌসুমে বাড়ি ফেরা বা প্রিয়জনের সঙ্গে সময় কাটাতে বিমান ভ্রমণের পরিকল্পনা করছেন অনেকেই। কিন্তু বছরের এই সময়ে টিকিটের দাম দ্রুত বাড়তে পারে। তাই কখন টিকিট বুক করলে তুলনামূলক কম খরচে ভ্রমণ করা যাবে, সেই প্রশ্নের উত্তর দিয়েছে গুগলের সর্বশেষ ফ্লাইট বিশ্লেষণ। গুগল ফ্লাইটসের পাঁচ বছরের সমন্বিত তথ্য বিশ্লেষণ করে প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, ২০২৬ সালের থ্যাংকসগিভিং ও বড়দিনের ভ্রমণের জন্য কম দামের টিকিট পেতে অক্টোবর মাসটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে বড়দিনের ভ্রমণের ক্ষেত্রে কম ভাড়ার সময় এ বছর গত বছরের তুলনায় আরও কিছুটা এগিয়ে এসেছে। গুগলের তথ্য অনুযায়ী, থ্যাংকসগিভিংয়ের জন্য সবচেয়ে কম দামের টিকিট সাধারণত যাত্রার ৩৪ দিন আগে পাওয়া যায়। কম দামের সম্ভাবনাময় সময়সীমা থাকে যাত্রার ২১ থেকে ৫৭ দিন আগে। অর্থাৎ, নভেম্বরের শেষদিকে থ্যাংকসগিভিং ভ্রমণের পরিকল্পনা থাকলে অক্টোবরেই ভালো দামের টিকিট খোঁজা শুরু করা সুবিধাজনক। বড়দিনের ক্ষেত্রে হিসাবটি আরও আগের। গুগলের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, যাত্রার ৫৬ দিন আগে গড়ে সবচেয়ে কম ভাড়া পাওয়া যায়। কম দামের সম্ভাবনাময় সময়সীমা ৩৩ থেকে ৬৭ দিন আগে। এর অর্থ হলো, বড়দিনের ভ্রমণের জন্য অক্টোবরের শেষ থেকে নভেম্বরের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে ভালো দামের টিকিট পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি। এই সময়সীমা গত বছরের তুলনায় প্রায় পাঁচ দিন এগিয়ে এসেছে। শুধু ছুটির মৌসুম নয়, অন্যান্য ভ্রমণের ক্ষেত্রেও বুকিংয়ের সময় নিয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে গুগল। মার্চ বা এপ্রিলের স্প্রিং ব্রেক ভ্রমণের জন্য যাত্রার ৫০ দিন আগে গড়ে সবচেয়ে কম ভাড়া পাওয়া গেছে। কম দামের সম্ভাবনাময় সময় ২৯ থেকে ৬৪ দিন আগে। জুলাই বা আগস্টে গ্রীষ্মকালীন ছুটির ভ্রমণের ক্ষেত্রে আবার পরিস্থিতি কিছুটা ভিন্ন। এ ধরনের ভ্রমণের জন্য যাত্রার ২১ দিন আগে গড়ে সবচেয়ে কম দাম পাওয়া গেছে। কম দামের সময়সীমা ২০ থেকে ৪৭ দিন আগে। যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ সাধারণ ফ্লাইটের ক্ষেত্রেও গুগলের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, যাত্রার ৩৯ দিন আগে গড়ে সবচেয়ে কম ভাড়া পাওয়া যায়। সম্ভাবনাময় কম দামের সময়সীমা ২২ থেকে ৫৭ দিন আগে। আন্তর্জাতিক ভ্রমণের ক্ষেত্রে অবশ্য অপেক্ষা না করে আগেভাগে টিকিট কাটার পরামর্শ দিয়েছে গুগল। আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে গড়ে সবচেয়ে কম দাম যাত্রার ৮৯ দিন আগে দেখা গেলেও ৫০ থেকে ১৩৩ দিন আগে পর্যন্ত কম দামের সময়সীমা বিস্তৃত। গুগলের মতে, বিদেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রে দামের বড় ধরনের পতনের অপেক্ষায় না থেকে যত দ্রুত সম্ভব বুকিং করা ভালো। ইউরোপ ভ্রমণের ক্ষেত্রেও একই ধরনের প্রবণতা দেখা গেছে। ইউরোপগামী ফ্লাইটে গড়ে প্রায় ৯০ দিন আগে সবচেয়ে কম ভাড়া পাওয়া যায়। তবে গুগলের বিশ্লেষণ বলছে, যাত্রার ৪৯ দিন বা তারও বেশি আগে বুক করলে তুলনামূলক কম দামের সুযোগ পাওয়া যেতে পারে। মেক্সিকো বা ক্যারিবীয় অঞ্চলে ভ্রমণের ক্ষেত্রে আবার অপেক্ষাকৃত কাছাকাছি সময়ে কম ভাড়া পাওয়ার প্রবণতা রয়েছে। সেখানে যাত্রার ৪৩ দিন আগে গড়ে সবচেয়ে কম দাম পাওয়া গেছে এবং কম দামের সময়সীমা ২৪ থেকে ৬৯ দিন আগে। এদিকে বিমান টিকিট বুকিংয়ের ক্ষেত্রে সপ্তাহের নির্দিষ্ট কোনো দিন বেছে নেওয়ার পুরোনো ধারণাকেও খুব গুরুত্বপূর্ণ মনে করছে না গুগল। মঙ্গলবার টিকিট কাটলে সবচেয়ে কম দাম পাওয়া যায়—এমন ধারণা দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত। কিন্তু গুগলের সর্বশেষ তথ্য বলছে, বুধবার গড়ে সবচেয়ে কম দামে টিকিট পাওয়া গেলেও মঙ্গলবার বা অন্য দিনের সঙ্গে পার্থক্য খুবই সামান্য। গুগলের হিসাবে, রোববারের তুলনায় বুধবার টিকিট কিনলে গড়ে মাত্র ১ দশমিক ৪ শতাংশ সাশ্রয় হতে পারে। তাই শুধু সপ্তাহের নির্দিষ্ট একটি দিনে বুকিং করার জন্য অপেক্ষা করার চেয়ে কখন ভ্রমণ করছেন, সেটি বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ভ্রমণের দিন পরিবর্তন করেও বড় ধরনের সাশ্রয় করা সম্ভব। গুগলের তথ্য অনুযায়ী, সপ্তাহান্তের পরিবর্তে সোমবার যাত্রা করে মঙ্গলবার বা বুধবার ফিরলে গড়ে প্রায় ১৪ শতাংশ পর্যন্ত কম খরচ হতে পারে। শুধু যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ ভ্রমণের ক্ষেত্রে রোববার যাওয়া ও রোববার ফেরার তুলনায় এই সাশ্রয় ২০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সরাসরি বা ননস্টপ ফ্লাইট। যাত্রীরা সাধারণত ননস্টপ ফ্লাইটকে বেশি সুবিধাজনক মনে করেন। তবে কম খরচকে অগ্রাধিকার দিলে সংযোগযুক্ত বা একাধিক ধাপে যাওয়া ফ্লাইট বিবেচনা করা যেতে পারে। গুগলের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ননস্টপ ফ্লাইটের টিকিট গড়ে সংযোগযুক্ত ফ্লাইটের তুলনায় প্রায় ২০ শতাংশ বেশি দামি। তবে এসব হিসাব কোনো নির্দিষ্ট রুটে একইভাবে প্রযোজ্য হবে—এমন নিশ্চয়তা নেই। বিমানভাড়া গন্তব্য, যাত্রার তারিখ, চাহিদা, আসনসংখ্যা ও অন্যান্য বাজার পরিস্থিতির ওপর পরিবর্তিত হতে পারে। গুগল ফ্লাইটসেও নির্দিষ্ট গন্তব্য ও তারিখ দিয়ে বর্তমান দামের সঙ্গে অতীতের প্রবণতা তুলনা করার সুবিধা রয়েছে। দাম কমলে বা বাড়ার সম্ভাবনা থাকলে ব্যবহারকারীরা মূল্য পর্যবেক্ষণের সুবিধাও নিতে পারেন। সব মিলিয়ে ২০২৬ সালের ছুটির ভ্রমণের ক্ষেত্রে গুগলের পরামর্শ হলো—থ্যাংকসগিভিংয়ের জন্য অক্টোবরেই ভালো দামের টিকিট খোঁজা শুরু করা এবং বড়দিনের জন্য অক্টোবরের শেষ থেকে নভেম্বরের মাঝামাঝি সময়কে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া। আর ভ্রমণের তারিখে কিছুটা নমনীয়তা থাকলে সপ্তাহের মাঝামাঝি যাত্রা এবং সংযোগযুক্ত ফ্লাইট বেছে নিয়ে খরচ আরও কমানোর সুযোগ থাকতে পারে।
ডাইনোসরের যুগে পৃথিবীতে বিচরণ করা এক অদ্ভুত নতুন প্রজাতির পোকার সন্ধান পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। প্রায় ৯ কোটি ৯০ লাখ বছর আগে বেঁচে থাকা এই পতঙ্গের জীবাশ্ম পাওয়া গেছে গাছের রেজিন থেকে তৈরি অ্যাম্বারের ভেতরে। সবচেয়ে চমকপ্রদ বিষয় হলো, পোকার মুখের বিশেষ অঙ্গটি ছিল তার শরীরের প্রায় দ্বিগুণ লম্বা এবং অত্যন্ত নমনীয়। নতুন প্রজাতিটির বৈজ্ঞানিক নাম দেওয়া হয়েছে ক্রেটোডোরাস নুনু। তবে বিজ্ঞানীদের দেওয়া এই নামের পেছনে রয়েছে শিশুদের জনপ্রিয় টেলিভিশন অনুষ্ঠান ‘টেলিটাবিজ’-এর একটি পরিচিত চরিত্র। অনুষ্ঠানের ভ্যাকুয়াম ক্লিনার নু-নুর লম্বা ও নমনীয় পাইপের সঙ্গে প্রাচীন পতঙ্গটির মুখের অঙ্গের মিল থাকায় তার নাম অনুসারেই নতুন প্রজাতিটির নামকরণ করা হয়েছে। ইসরায়েলের স্টেইনহার্ট মিউজিয়াম অব ন্যাচারাল হিস্ট্রির গবেষকেরা মিয়ানমার থেকে পাওয়া কাচিন অ্যাম্বারে সংরক্ষিত এই প্রাচীন পতঙ্গের নমুনা পরীক্ষা করে নতুন প্রজাতিটি শনাক্ত করেন। পোকাটি নিয়াজোনিইডি নামে পরিচিত প্রাচীন এক ধরনের প্ল্যান্টহপার পরিবারের সদস্য। এই পরিবারের আরও ১৩টি নমুনা একই ধরনের অ্যাম্বারে সংরক্ষিত অবস্থায় পাওয়া গেছে। গবেষকদের নজর কেড়েছে পোকাটির অস্বাভাবিক মুখাঙ্গ। সাধারণভাবে এ ধরনের উদ্ভিদভুক পতঙ্গের মুখের অঙ্গ অনেকটা সূচের মতো হয়। সেটি উদ্ভিদের টিস্যুতে ঢুকিয়ে তারা গাছের তরল বা রস সংগ্রহ করে। কিন্তু ক্রেটোডোরাস নুনুর মুখাঙ্গ ছিল অনেক বেশি লম্বা, নমনীয় ও জটিল। গবেষণায় দেখা গেছে, এই মুখাঙ্গের গায়ে ঘন ঘন ভাঁজ ছিল। কাঠামোটি অনেকটা বাঁকানো স্ট্র বা নমনীয় পাইপের মতো। এই ভাঁজ মুখাঙ্গটিকে নমনীয় রাখার পাশাপাশি চাপ পড়লে সেটি যাতে চুপসে না যায়, সেখানেও ভূমিকা রাখত বলে গবেষকদের ধারণা। এই বিশেষ গঠনের কারণে পোকাটি গাছের বাকলের গভীর ফাটল ও সরু খাঁজের ভেতরেও পৌঁছাতে পারত বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা। সেখানে থাকা উদ্ভিদের রস সংগ্রহ করাই সম্ভবত এর প্রধান খাদ্য সংগ্রহের কৌশল ছিল। শক্ত বা কম নমনীয় মুখাঙ্গের পতঙ্গ যেখানে সহজে পৌঁছাতে পারত না, সেখানে নু-নুর মতো লম্বা মুখাঙ্গ বড় সুবিধা দিতে পারে। জীবাশ্মের কয়েকটি নমুনায় মুখাঙ্গ বাঁকানো অবস্থায় পাওয়া গেছে। গবেষকদের মতে, এটিও প্রমাণ করে যে পোকাটি জীবিত অবস্থায় তার মুখাঙ্গ বাঁকাতে ও প্রয়োজন অনুযায়ী ভাঁজ করতে পারত। অ্যাম্বারের ভেতরে এমন অবস্থায় সংরক্ষিত হওয়ায় কোটি কোটি বছর আগের এই ক্ষুদ্র প্রাণীর শারীরিক গঠন সম্পর্কে বিস্তারিত জানার সুযোগ পেয়েছেন তারা। পোকাটির মুখাঙ্গের শেষ প্রান্তেও ছিল আরেকটি অস্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য। সেখানে দুটি খাঁজযুক্ত লোব বা অংশ ছিল, যা খাবার গ্রহণের সময় খুলে গিয়ে গাছের বাকলের ফাটলের দেয়ালে আটকে থাকতে সাহায্য করত বলে গবেষকেরা মনে করছেন। এটি অনেকটা কোনো গর্তের ভেতরে ঢুকে প্রসারিত হয়ে আটকে থাকা একটি দেয়াল-অ্যাঙ্করের মতো কাজ করতে পারে। বর্তমানে বেঁচে থাকা এই প্রাচীন পরিবারের আত্মীয়দের মধ্যে এমন কাঠামো দেখা যায় না। ফলে বিজ্ঞানীদের ধারণা, এটি ছিল একটি বিশেষ বিবর্তনীয় অভিযোজন, যা পরবর্তী সময়ে হারিয়ে গেছে। গবেষকেরা বলছেন, এই আবিষ্কার শুধু একটি নতুন পতঙ্গের সন্ধান পাওয়ার ঘটনা নয়। এর মাধ্যমে ডাইনোসরের যুগের বনভূমির পরিবেশ সম্পর্কেও নতুন তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। একই সময়ের আরও কয়েকটি সম্পর্কহীন পতঙ্গের মধ্যেও এ ধরনের ভাঁজযুক্ত ও দীর্ঘ খাদ্য সংগ্রহের অঙ্গের অস্তিত্বের প্রমাণ পাওয়া গেছে। এতে ধারণা করা হচ্ছে, ক্রিটেশাস যুগের বনভূমিতে পুরু বাকলযুক্ত গাছের উপস্থিতি এমন পতঙ্গদের জন্য বিশেষ সুবিধা তৈরি করেছিল, যারা গাছের বাকলের গভীর অংশে পৌঁছাতে পারত। অর্থাৎ, প্রায় ১০ কোটি বছর আগে বনভূমির পরিবেশ আজকের তুলনায় অনেক ভিন্ন ছিল এবং সেই পরিবেশে টিকে থাকতে পতঙ্গগুলোও নানা ধরনের বিশেষ শারীরিক বৈশিষ্ট্য গড়ে তুলেছিল। গবেষক লিওনিদাস-রোমানোস দাভরানোউগ্লোর মতে, প্রায় ৯ কোটি ৯০ লাখ বছর আগে বেঁচে থাকা নু-নুর আবিষ্কার ডাইনোসরের যুগের পতঙ্গজগতের একটি অসাধারণ চিত্র সামনে এনেছে। তার মতে, এটি শুধু বিজ্ঞানের অজানা একটি পতঙ্গের সন্ধান নয়; বরং এমন একটি বিবর্তনীয় সমাধানের প্রমাণ, যার আধুনিক যুগে প্রায় কোনো সমতুল্য নেই। বিজ্ঞানীদের মতে, অ্যাম্বারে সংরক্ষিত এমন জীবাশ্ম কোটি কোটি বছর আগের বাস্তুতন্ত্র পুনর্গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কোন প্রাণী কীভাবে খাবার সংগ্রহ করত, কোন পরিবেশে তারা সুবিধা পেত এবং প্রাচীন বনভূমি কীভাবে কাজ করত—এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে এই ধরনের আবিষ্কার গুরুত্বপূর্ণ সূত্র দেয়। আর নতুন প্রজাতিটির ‘নু-নু’ নামটি সেই বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে। টেলিটাবিজের পরিচিত ভ্যাকুয়াম ক্লিনারের মতোই এই প্রাচীন পতঙ্গের মুখ ছিল লম্বা ও নমনীয়। তবে কোটি কোটি বছর আগে বেঁচে থাকা এই ক্ষুদ্র প্রাণীর সেই অদ্ভুত মুখের পেছনে ছিল টিকে থাকার এক জটিল বিবর্তনীয় কৌশল।
যুক্তরাষ্ট্রে এইচ-১বি ভিসায় বিদেশি কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে নিয়োগদাতাদের নির্দিষ্ট মজুরি কাঠামো অনুসরণ করতে হয়। মার্কিন শ্রম দপ্তরের (ডিপার্টমেন্ট অব লেবার) নিয়ম অনুযায়ী, বিদেশি কর্মী নিয়োগের কারণে একই ধরনের কাজে নিয়োজিত মার্কিন কর্মীদের মজুরি বা কর্মপরিবেশ যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট পেশা ও কর্মস্থলের এলাকার প্রচলিত মজুরির হার বিবেচনায় নেওয়া হয়। এই নিয়মকে বলা হয় ‘প্রিভেইলিং ওয়েজ’ বা প্রচলিত মজুরি। কোনো নির্দিষ্ট পেশায় নির্দিষ্ট ভৌগোলিক এলাকায় একই ধরনের কাজে নিয়োজিত কর্মীরা সাধারণত যে গড় মজুরি পান, সেটিই ওই কাজের প্রচলিত মজুরি হিসেবে বিবেচিত হয়। ফলে বিদেশি কর্মী নিয়োগের সময় শুধু ভিসার যোগ্যতা পূরণ করলেই হবে না, নিয়োগদাতাকে সংশ্লিষ্ট কাজের জন্য প্রযোজ্য মজুরি নিয়মও মানতে হবে। এই নিয়ম শুধু এইচ-১বি কর্মীদের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য নয়। যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, কর্মসংস্থানভিত্তিক বেশ কয়েকটি বিদেশি কর্মী ভিসা কর্মসূচিতে প্রচলিত মজুরি সংক্রান্ত শর্ত রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে পিইআরএম, এইচ-২বি, এইচ-১বি, এইচ-১বি১, ই-৩ এবং সিডব্লিউ-১ কর্মসূচি। তবে এইচ-১বি, এইচ-১বি১ ও ই-৩ কর্মসূচির ক্ষেত্রে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ সুরক্ষা রয়েছে। এসব ভিসায় কর্মী নিয়োগ করলে নিয়োগদাতাকে দুটি মজুরি হারের মধ্যে যেটি বেশি, সেটি দিতে হবে। একটি হলো সংশ্লিষ্ট পেশা ও এলাকার প্রচলিত মজুরি। অন্যটি হলো একই প্রতিষ্ঠানে একই ধরনের দক্ষতা ও যোগ্যতার কর্মীদের দেওয়া প্রকৃত মজুরি। অর্থাৎ কোনো প্রতিষ্ঠানে একই ধরনের যোগ্যতার কর্মীরা প্রচলিত মজুরির চেয়ে বেশি বেতন পেলে এইচ-১বি কর্মীকেও সেই উচ্চতর হার দিতে হতে পারে। প্রচলিত মজুরি নির্ধারণের জন্য নিয়োগদাতারা যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম দপ্তরের ন্যাশনাল প্রিভেইলিং ওয়েজ সেন্টারে (এনপিডব্লিউসি) মজুরি নির্ধারণের আবেদন করতে পারেন। এ ছাড়া শ্রম দপ্তরের অনলাইন মজুরি অনুসন্ধান ব্যবস্থায় থাকা তথ্য এবং নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে অন্যান্য বৈধ মজুরি-তথ্যের উৎসও ব্যবহার করা যায়। এইচ-১বি কর্মীদের ক্ষেত্রে নিয়োগদাতারা এনপিডব্লিউসি থেকে মজুরি নির্ধারণ নিতে পারেন। নির্দিষ্ট শর্তে অনুমোদিত স্বাধীন জরিপ বা অন্য বৈধ মজুরি-তথ্যের উৎসও ব্যবহার করা যায়। শ্রম দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এনপিডব্লিউসি থেকে মজুরি নির্ধারণ নিলে নির্দিষ্ট নিয়ম সঠিকভাবে অনুসরণ করার ক্ষেত্রে নিয়োগদাতারা ‘সেইফ হারবার’ সুবিধা পান। বর্তমান মজুরি তথ্যও নিয়মিত হালনাগাদ করা হয়। শ্রম দপ্তরের বিদেশি শ্রম সনদবিষয়ক দপ্তর জানিয়েছে, ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৭ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত নতুন মজুরি বছরের জন্য ব্যুরো অব লেবার স্ট্যাটিস্টিকসের পেশাভিত্তিক মজুরি তথ্য কার্যকর হয়েছে। এসব তথ্য বিদেশি শ্রমিকের মজুরি নির্ধারণের কাজে ব্যবহার করা হয়। এই নিয়মের পেছনে মূল উদ্দেশ্য হলো বিদেশি কর্মী নিয়োগের মাধ্যমে স্থানীয় কর্মীদের মজুরি কমিয়ে দেওয়ার সুযোগ ঠেকানো। মার্কিন শ্রম দপ্তর বলছে, অভিবাসন ও জাতীয়তা আইনের অধীনে বিদেশি কর্মী নিয়োগের কারণে একই ধরনের কাজে নিয়োজিত মার্কিন কর্মীদের মজুরি ও কর্মপরিবেশে নেতিবাচক প্রভাব পড়া উচিত নয়। এইচ-১বি কর্মীদের জন্য শুধু নির্ধারিত মজুরি দেওয়াই নয়, কর্মপরিবেশের ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট সুরক্ষা রয়েছে। শ্রম দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, একই ধরনের কাজে নিয়োজিত মার্কিন কর্মীদের মতো এইচ-১বি কর্মীদেরও কর্মঘণ্টা, শিফট, ছুটি ও নির্দিষ্ট সুবিধার ক্ষেত্রে সমান ভিত্তিতে সুযোগ দিতে হবে। নিয়োগদাতাকে শ্রম শর্তসংক্রান্ত আবেদন বা এলসিএর একটি কপিও সংশ্লিষ্ট এইচ-১বি কর্মীকে দিতে হয়। এ ছাড়া নিয়োগদাতা এইচ-১বি কর্মীর কাছ থেকে নির্দিষ্ট নিয়োগসংক্রান্ত খরচ বা আবেদন ফি বহনের দাবি করতে পারেন না। শ্রম দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, কর্মীর অধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে তথ্য প্রকাশ বা তদন্তে সহযোগিতা করার কারণে তাকে ভয় দেখানো, চাকরি থেকে সরানো বা বৈষম্যের শিকার করাও নিষিদ্ধ। কোনো এইচ-১বি কর্মীকে প্রয়োজনীয় মজুরির চেয়ে কম দেওয়া হলে বিষয়টি নিয়ে শ্রম দপ্তরের ওয়েজ অ্যান্ড আওয়ার ডিভিশন ব্যবস্থা নিতে পারে। বিভাগটি তদন্তের পর নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় নিয়োগদাতাকে কর্মীর প্রাপ্য মজুরি পরিশোধের নির্দেশ দিতে পারে। এদিকে ২০২৬ সালের মার্চে শ্রম দপ্তর এইচ-১বি ও পিইআরএম কর্মসূচির প্রচলিত মজুরি নির্ধারণের পদ্ধতি পরিবর্তনের একটি প্রস্তাবও প্রকাশ করেছিল। প্রস্তাবিত নিয়মে মজুরি নির্ধারণের পদ্ধতি আধুনিকায়ন করে মার্কিন কর্মীদের প্রকৃত বাজারদরের সঙ্গে বিদেশি কর্মীদের মজুরি আরও সামঞ্জস্যপূর্ণ করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। তবে এটি বর্তমান প্রচলিত মজুরি নিয়মের সঙ্গে এক করে দেখা উচিত নয়; এটি ছিল একটি প্রস্তাবিত পরিবর্তন। যুক্তরাষ্ট্রে এইচ-১বি ভিসায় কাজ করতে আগ্রহী বিদেশি পেশাজীবীদের জন্য তাই চাকরির প্রস্তাব গ্রহণের আগে শুধু বেতনের অঙ্ক নয়, সংশ্লিষ্ট পেশা ও কর্মস্থলের প্রচলিত মজুরি, একই প্রতিষ্ঠানে তুলনীয় কর্মীদের বেতন এবং নিয়োগদাতার শ্রমসংক্রান্ত দায়বদ্ধতাও জানা গুরুত্বপূর্ণ।
ফ্রান্সের স্ট্রাসবুর্গে ইউরোপীয় পার্লামেন্ট ভবনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে নিয়ে তৈরি একটি ব্যঙ্গাত্মক সোনালি ভাস্কর্য প্রদর্শন করা হয়েছে। ২৩ ক্যারেট সোনায় মোড়ানো প্রায় ২ দশমিক ৬ মিটার বা ৮ দশমিক ৫ ফুট উঁচু এই ভাস্কর্যে ট্রাম্পকে ন গ্ন অবস্থায় একজন অপেক্ষাকৃত ছোট মানুষের কাঁধের ওপর বসে থাকতে দেখা যায়। ড্যানিশ শিল্পী ইয়েন্স গালশিওটের তৈরি ভাস্কর্যটির নাম ‘দ্য অরেঞ্জ প্লেগ’। শিল্পীর ওয়েবসাইটে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এটি ক্ষমতা, বৈশ্বিক রাজনীতি, গণতন্ত্র ও জলবায়ু সংকট নিয়ে তার সমালোচনামূলক শিল্পকর্মগুলোর একটি। ভাস্কর্যের নিচে একটি বার্তা দেওয়া হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, একজন মানুষ অন্য একজনের পিঠে বসে আছে এবং তার ভারে নিচের মানুষটি ডুবে যাচ্ছে। তাকে সাহায্য করার কথা বলা হলেও সেই ভারী ব্যক্তি তার পিঠ থেকে নামতে রাজি নন। বার্তাটির শেষে তাকে ‘দ্য কিং অব ইনজাস্টিস’ বা ‘অন্যায়ের রাজা’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। শিল্পী গালশিওট তার ব্যাখ্যায় বলেছেন, ট্রাম্পকে তিনি নিয়মভিত্তিক বৈশ্বিক ব্যবস্থা, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টার জন্য বড় ধরনের হুমকি হিসেবে দেখেন। ভাস্কর্যটির মাধ্যমে তিনি সেই রাজনৈতিক প্রভাব ও ক্ষমতার সমালোচনা তুলে ধরতে চেয়েছেন। ভাস্কর্যটিতে ট্রাম্পের সঙ্গে ক্ষমতার বিভিন্ন প্রতীকও ব্যবহার করা হয়েছে। শিল্পীর মূল নকশায় এক হাতে দাঁড়িপাল্লা এবং অন্যদিকে একটি গলফ ক্লাব দেখা যায়। পুরো উপস্থাপনাটি একজন প্রভাবশালী ব্যক্তির ক্ষমতার ভার অন্য মানুষের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার প্রতীক হিসেবে তৈরি করা হয়েছে। ‘দ্য অরেঞ্জ প্লেগ’ নামটির মধ্যেও শিল্পীর রাজনৈতিক বক্তব্য রয়েছে। ভাস্কর্যটি ট্রাম্পকে কেন্দ্র করে ক্ষমতা, রাজনৈতিক প্রভাব এবং বিশ্বব্যবস্থার ওপর তার প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন তোলার উদ্দেশ্যে তৈরি। এতে ব্যঙ্গের মাধ্যমে একটি রাজনৈতিক বার্তা তুলে ধরা হয়েছে। শিল্পকর্মটির ধারণার সঙ্গে ড্যানিশ লেখক হ্যান্স ক্রিশ্চিয়ান অ্যান্ডারসনের বিখ্যাত গল্প ‘দ্য এম্পেরর’স নিউ ক্লোদস’-এরও সম্পর্ক রয়েছে। সেই গল্পে একজন শাসক নিজের পোশাক নিয়ে আত্মতুষ্টিতে থাকলেও বাস্তবে তিনি ন গ্ন ছিলেন। গালশিওটের ভাস্কর্যেও ট্রাম্পকে ন গ্ন অবস্থায় দেখিয়ে ক্ষমতা ও রাজনৈতিক অহংকার নিয়ে ব্যঙ্গ করা হয়েছে। ইউরোপীয় পার্লামেন্টে প্রদর্শনের আগে ভাস্কর্যটি সোমবার কমলা রঙের কাপড়ে ঢাকা ছিল। পরে মঙ্গলবার সেটি উন্মুক্ত করা হয়। স্ট্রাসবুর্গে প্রদর্শনীটি বৃহস্পতিবার পর্যন্ত থাকার কথা রয়েছে। এই ভাস্কর্য এর আগেও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক আয়োজন ও রাজনৈতিক কর্মসূচিতে প্রদর্শিত হয়েছে। ২০২৫ সালের নভেম্বরে ব্রাজিলে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘের কপ৩০ জলবায়ু সম্মেলনেও এটি প্রদর্শিত হয়েছিল। ২০২৬ সালে জার্মানির মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলন এবং ডেনমার্কের রেবিল্ড উৎসবেও শিল্পকর্মটির প্রদর্শনী হয়। ডেনমার্কের রেবিল্ড উৎসবটি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ডেনমার্কের ঐতিহাসিক সম্পর্ক উদযাপনের আয়োজন। একই বছর ডেনমার্কে ‘হ্যান্ডস অফ গ্রিনল্যান্ড’ নামের বিভিন্ন কর্মসূচিতেও ভাস্কর্যটি প্রদর্শিত হয়। ইউরোপীয় পার্লামেন্টে ভাস্কর্যটি প্রদর্শনের উদ্যোগ নেন ড্যানিশ ইউরোপীয় পার্লামেন্ট সদস্য পের ক্লাউসেন। তার উদ্যোগেই গালশিওটের এই শিল্পকর্মটি পার্লামেন্ট ভবনে প্রদর্শনের সুযোগ পায়। প্রদর্শনী ঘিরে মূল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে শিল্পের মাধ্যমে রাজনৈতিক সমালোচনা প্রকাশের বিষয়টি। আয়োজকদের মতে, ভাস্কর্যটি শুধু ট্রাম্পকে নিয়ে ব্যঙ্গ নয়; বরং ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ, আন্তর্জাতিক রাজনীতি এবং জলবায়ু নীতি নিয়ে বৃহত্তর আলোচনার একটি মাধ্যম। ভাস্কর্যটি ইউরোপীয় পার্লামেন্টে প্রদর্শন শেষ হওয়ার পর তুরস্কে অনুষ্ঠেয় জাতিসংঘের কপ৩১ জলবায়ু সম্মেলনে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। ফলে কয়েক দিনের ইউরোপীয় প্রদর্শনীর পরও ‘দ্য অরেঞ্জ প্লেগ’ আন্তর্জাতিক জলবায়ু রাজনীতি ও রাজনৈতিক শিল্পের আলোচনায় থাকতে পারে।
স্তন ক্যানসারের চিকিৎসায় নতুন ধরনের রোবটিক সার্জারি নিয়ে আশার আলো দেখছেন ফ্লোরিডার চিকিৎসকেরা। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে স্তন অপসারণের প্রয়োজন হলেও রোগীর নিপল ও আশপাশের ত্বক সংরক্ষণের সুযোগ আরও বাড়তে পারে। বিশেষ করে চিকিৎসার পর স্বাভাবিক শারীরিক গঠন ও অনুভূতি ধরে রাখার ক্ষেত্রে নতুন এই পদ্ধতি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। সেন্ট্রাল ফ্লোরিডায় নতুন রোবটিক নিপল-স্পেয়ারিং মাস্টেকটমি চালুর প্রস্তুতি নিচ্ছেন অ্যাডভেন্টহেলথের স্তন সার্জিক্যাল অনকোলজিস্ট ডা. দেবিনা ম্যাকক্রে। তিনি এই অঞ্চলে প্রথম সার্জন হিসেবে নতুন পদ্ধতিটি করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এ জন্য তিনি কয়েক মাস ধরে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন এবং শত শত ঘণ্টা এই প্রযুক্তি ব্যবহারের প্রস্তুতিতে ব্যয় করেছেন। নিপল-স্পেয়ারিং মাস্টেকটমিতে স্তনের ক্যানসার আক্রান্ত টিস্যু অপসারণ করা হলেও নিপল ও স্তনের ওপরের ত্বক যতটা সম্ভব অক্ষত রাখা হয়। পরে প্লাস্টিক সার্জারির মাধ্যমে স্তন পুনর্গঠন করা যেতে পারে। প্রচলিত পদ্ধতিতে সাধারণত স্তনের নিচের দিকে তুলনামূলক বড় কাটার প্রয়োজন হয়। এতে অস্ত্রোপচারের পর অনুভূতি কমে যাওয়ার ঝুঁকি থাকতে পারে। রোবটিক পদ্ধতিতে ছোট একটি কাটার মাধ্যমে বিশেষ ক্যামেরা ও রোবটিক যন্ত্র স্তনের ভেতরে প্রবেশ করানো হয়। সার্জন সরাসরি রোগীর শরীরের ভেতরে হাত না দিয়ে একটি কনসোল থেকে যন্ত্রগুলো নিয়ন্ত্রণ করেন। উচ্চ-রেজল্যুশনের ক্যামেরায় অস্ত্রোপচারের জায়গাটি বড় করে দেখা যায়, ফলে গুরুত্বপূর্ণ টিস্যু ও রক্তনালিগুলো আরও নিখুঁতভাবে শনাক্ত করে কাজ করা সম্ভব হয়। এই প্রযুক্তির অন্যতম লক্ষ্য হলো নিপল ও ত্বকে রক্তপ্রবাহ যতটা সম্ভব অক্ষুণ্ন রাখা। এর ফলে পুনর্গঠনের পর চেহারা আরও স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে স্নায়ু ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ টিস্যু সংরক্ষণ করা গেলে ভবিষ্যতে নিপলে অনুভূতি ধরে রাখা বা পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনাও বাড়তে পারে। ডা. ম্যাকক্রের মতে, স্তন ক্যানসারের চিকিৎসায় শুধু রোগ থেকে মুক্ত হওয়াই শেষ কথা নয়। চিকিৎসার পর একজন রোগী কীভাবে স্বাভাবিক জীবনে ফিরবেন এবং নিজের শরীর নিয়ে কেমন অনুভব করবেন, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। রোগীদের সাহস দেওয়া এবং তাদের জানানো যে চিকিৎসার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ জীবন নিয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে—এই বিষয়টিকেই তিনি বিশেষভাবে গুরুত্ব দিচ্ছেন। যুক্তরাষ্ট্রে এখনো অল্পসংখ্যক সার্জন এই রোবটিক নিপল-স্পেয়ারিং পদ্ধতি ব্যবহার করছেন। ফলে এটি এখনো সবার জন্য উন্মুক্ত কোনো নিয়মিত চিকিৎসা পদ্ধতি নয়। নির্দিষ্ট শারীরিক অবস্থা ও চিকিৎসাগত প্রয়োজন বিবেচনা করে নির্বাচিত রোগীদের ক্ষেত্রেই এটি ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে। মেয়ো ক্লিনিকও যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি কেন্দ্রে রোবটিক নিপল-স্পেয়ারিং মাস্টেকটমি নিয়ে কাজ করছে। প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, রোবটিক প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারে ছোট কাটার মাধ্যমে অস্ত্রোপচার, উন্নত দৃশ্যমানতা এবং সূক্ষ্মভাবে টিস্যু অপসারণের সুবিধা পাওয়া যেতে পারে। পাশাপাশি নিপল ও ত্বকের রক্তপ্রবাহ সংরক্ষণ এবং পরবর্তী পুনর্গঠনের ফল আরও ভালো করার সম্ভাবনাও রয়েছে। স্তন ক্যানসারের চিকিৎসায় অস্ত্রোপচার অনেক রোগীর জন্য শারীরিক ও মানসিকভাবে কঠিন অভিজ্ঞতা। তাই চিকিৎসার কার্যকারিতা বজায় রেখে শরীরের স্বাভাবিক গঠন ও অনুভূতি যতটা সম্ভব সংরক্ষণ করতে পারলে তা রোগীদের জীবনযাত্রায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। সেন্ট্রাল ফ্লোরিডায় এই প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু হলে নির্বাচিত রোগীদের জন্য চিকিৎসার আরেকটি বিকল্প তৈরি হবে। তবে পদ্ধতিটি কত দ্রুত আরও রোগীর জন্য সহজলভ্য হবে, তা এখনো নির্দিষ্ট নয়। চিকিৎসকেরা বলছেন, প্রযুক্তিটির ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এর দীর্ঘমেয়াদি ফলাফল ও রোগীদের জন্য সম্ভাব্য সুবিধা আরও পরিষ্কার হবে।
নোবেল শান্তি পুরস্কার জয়ের দীর্ঘদিনের আকাঙ্ক্ষা রয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের। গত বছরও পুরস্কারটির জন্য তার সম্ভাবনা বেশ আলোচনায় ছিল। তবে ২০২৬ সালের শান্তিতে নোবেল পুরস্কার ঘোষণার আগে সেই সম্ভাবনা অনেকটাই কমে এসেছে। বরং পূর্বাভাসভিত্তিক বাজারের হিসাবে ট্রাম্পের চেয়ে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির সম্ভাবনা বেশি দেখা যাচ্ছে। নিউজউইকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পূর্বাভাসভিত্তিক বাজার কালশির হিসাবে ট্রাম্পের ২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার জয়ের সম্ভাবনা ১ শতাংশের নিচে, আর কার্নির সম্ভাবনা ২ দশমিক ৬ শতাংশ। অন্যদিকে পলিমার্কেটে ট্রাম্প ও কার্নি—দুজনের সম্ভাবনাই ১ শতাংশ করে দেখানো হয়েছে। তবে এসব সংখ্যা নোবেল কমিটির কোনো আনুষ্ঠানিক পূর্বাভাস নয়; বাজারে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের ধারণা ও লেনদেনের ভিত্তিতে সম্ভাবনা ওঠানামা করে। কার্নির সম্ভাবনা অবশ্য এর কিছুদিন আগেই অনেক বেশি ছিল। সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে কালশিতে তার সম্ভাবনা সাময়িকভাবে ১৪ শতাংশে উঠে যায় এবং তিনি ওই সময় তালিকার শীর্ষে ছিলেন। পরে তা দ্রুত কমে যায়। অন্য একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এমন ওঠানামাই দেখায় যে পূর্বাভাসভিত্তিক বাজারের তথ্যকে নোবেল কমিটির সিদ্ধান্তের নিশ্চিত ইঙ্গিত হিসেবে দেখা যায় না। ট্রাম্প গত বছরজুড়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংঘাতে শান্তি প্রতিষ্ঠায় নিজের ভূমিকার কথা তুলে ধরেছিলেন। তিনি দাবি করেছিলেন, তার প্রচেষ্টায় আটটি যু দ্ধের অবসান হয়েছে। এসব দাবির কারণে ২০২৫ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার ঘোষণার আগে তার সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা জোরালো হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত ২০২৫ সালের পুরস্কার পান ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেত্রী মারিয়া কোরিনা মাচাদো। পরে তিনি নিজের নোবেল পদক ট্রাম্পের হাতে তুলে দেন। ট্রাম্প সেটি গ্রহণ করেন। নোবেল কমিটি ট্রাম্পকে পুরস্কার না দেওয়ার পর হোয়াইট হাউস থেকে কমিটির বিরুদ্ধে ‘রাজনীতিকে শান্তির ওপর প্রাধান্য দেওয়ার’ অভিযোগও তোলা হয়েছিল। ২০২৬ সালে পরিস্থিতি ট্রাম্পের জন্য আরও কঠিন হয়েছে। চলতি বছরে তার প্রশাসনের ভেনেজুয়েলা অভিযান এবং ইরানে মার্কিন হামলার পর আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়েছে। এসব ঘটনার মধ্যেই নোবেল শান্তি পুরস্কারের দৌড়ে তার সম্ভাবনা পূর্বাভাস বাজারে নেমে এসেছে। রয়টার্সের বিশ্লেষণেও ট্রাম্পের এবারের সম্ভাবনা খুব কম বলে বিভিন্ন বিশেষজ্ঞের মতামত উঠে এসেছে। অন্যদিকে মার্ক কার্নি ২০২৫ সালে কানাডার প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার পর ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন নীতির বিরুদ্ধে তুলনামূলকভাবে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কনীতি এবং কানাডার ওপর অর্থনৈতিক চাপের বিরুদ্ধে তিনি নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। ট্রাম্পের পক্ষ থেকে কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম অঙ্গরাজ্য করার সম্ভাবনার কথাও একাধিকবার ওঠে এসেছে, যা দুই দেশের সম্পর্কে নতুন উত্তেজনা তৈরি করেছে। কার্নি একই সময়ে ইউরোপের সঙ্গে কানাডার সম্পর্ক আরও জোরদার করার উদ্যোগ নিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের ওপর অর্থনৈতিক নির্ভরতা কমানোর পাশাপাশি তিনি বিশ্বের মধ্যম শক্তির দেশগুলোকে নিজেদের স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন। জানুয়ারিতে সুইজারল্যান্ডের দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের এক আলোচিত বক্তৃতায় কার্নি পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক ব্যবস্থার মধ্যে মধ্যম শক্তির দেশগুলোর সহযোগিতার ওপর জোর দেন। তার এই অবস্থান আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দেয় এবং পরবর্তী সময়ে নোবেল শান্তি পুরস্কারের সম্ভাব্য প্রার্থীদের আলোচনাতেও তার নাম উঠে আসে। তবে কার্নি নোবেল কমিটির চূড়ান্ত তালিকায় আছেন কি না, তা নিশ্চিতভাবে জানা সম্ভব নয়। নরওয়ের নোবেল কমিটি নিয়ম অনুযায়ী বর্তমান বছরের মনোনীতদের নাম প্রকাশ করে না। কোনো ব্যক্তি বা সংগঠনকে মনোনয়ন দেওয়া হলেও সেটি নোবেল কমিটির আনুষ্ঠানিক সমর্থন বা স্বীকৃতি নয়। মনোনয়নসংক্রান্ত তথ্য সাধারণত ৫০ বছর পর্যন্ত গোপন রাখা হয়। ২০২৬ সালের শান্তিতে নোবেল পুরস্কারের জন্য মোট ২৮৭ জন বা প্রতিষ্ঠানকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ২০৮ জন ব্যক্তি এবং ৭৯টি সংগঠন রয়েছে। নোবেল কমিটি জানিয়েছে, মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ সময় ছিল ৩১ জানুয়ারি। এরপর কমিটি সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে আলোচনা করে এবং বিশেষজ্ঞদের মতামত বিবেচনায় নেয়। বর্তমান পূর্বাভাস বাজারে ট্রাম্প ও কার্নির পাশাপাশি সুদানের ইমার্জেন্সি রেসপন্স রুমস, সেভ দ্য চিলড্রেন এবং ইউক্রেনের শিশু অধিকারকর্মী মাইকোলা কুলেবার নামও আলোচনায় রয়েছে। কালশির বর্তমান বাজারে সুদানের ইমার্জেন্সি রেসপন্স রুমস এগিয়ে রয়েছে। তবে এগুলোও কেবল বাজারভিত্তিক পূর্বাভাস, নোবেল কমিটির সিদ্ধান্ত নয়। নোবেল শান্তি পুরস্কার সাধারণত এমন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে দেওয়া হয়, যারা জাতিগুলোর মধ্যে ভ্রাতৃত্ব, শান্তি প্রতিষ্ঠা, সামরিক শক্তি কমানো কিংবা শান্তি সম্মেলন আয়োজন ও এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ২০২৬ সালের বিজয়ীর নাম ঘোষণা করা হবে ৯ অক্টোবর নরওয়ের অসলোতে। ফলে নোবেল ঘোষণার মাত্র কয়েক দিন আগে ট্রাম্প ও কার্নিকে ঘিরে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু এখন মূলত পূর্বাভাস বাজার। সেখানে কার্নির সম্ভাবনা ট্রাম্পের চেয়ে বেশি দেখা গেলেও শেষ সিদ্ধান্ত নেবে নরওয়ের নোবেল কমিটিই।
যুক্তরাষ্ট্রে লাখো বয়স্ক মানুষের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে এ সপ্তাহে ৯০ ডলারের এককালীন পেমেন্ট পৌঁছাচ্ছে। সামাজিক নিরাপত্তা প্রশাসনের মাধ্যমে পাঠানো এই অর্থ নিয়ে অনেকের মধ্যেই প্রশ্ন তৈরি হয়েছে—কেন এই টাকা দেওয়া হচ্ছে এবং কারা এটি পাওয়ার যোগ্য? এই ৯০ ডলারের অর্থ মূলত মেডিকেয়ার পার্ট বি প্রিমিয়ামের খরচ কিছুটা কমাতে দেওয়া হচ্ছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ২০ মিলিয়নের বেশি মেডিকেয়ার সদস্যকে এই এককালীন অর্থ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। তবে মেডিকেয়ারে থাকা সব বয়স্ক মানুষ এই অর্থ পাবেন না। প্রায় ৪ কোটি পার্ট বি সদস্য এই পেমেন্টের জন্য যোগ্য নন। মেডিকেয়ার পার্ট বি সাধারণত চিকিৎসকের পরামর্শ, বহির্বিভাগের চিকিৎসা, প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবা, ল্যাব পরীক্ষা ও অ্যাম্বুলেন্সসহ বিভিন্ন চিকিৎসা ব্যয় কভার করে। এর মাসিক প্রিমিয়াম আয় ও অন্যান্য বিষয় অনুযায়ী পরিবর্তিত হতে পারে। ২০২৬ সালে পার্ট বি প্রিমিয়ামে বছরে ২০০ ডলারের বেশি বৃদ্ধি হয়েছে। আগামী বছরও প্রিমিয়াম বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে ৯০ ডলারের এই পেমেন্ট অনেকের জন্য কিছুটা আর্থিক স্বস্তি দিতে পারে, যদিও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাড়তে থাকা স্বাস্থ্যসেবা ব্যয়ের পুরোটা এটি সামাল দিতে পারবে না। কারা পাবেন এই ৯০ ডলার? সেন্টারস ফর মেডিকেয়ার অ্যান্ড মেডিকেইড সার্ভিসেসের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী অরিজিনাল মেডিকেয়ার পার্ট বি সদস্যরা এই পেমেন্টের জন্য যোগ্য হতে পারেন। তবে তাদের প্রিমিয়ামের খরচ মেডিকেইডের মাধ্যমে সহায়তা পাওয়া যাবে না এবং আয়ের ভিত্তিতে অতিরিক্ত মাসিক প্রিমিয়ামও দিতে হবে না। মেডিকেয়ার অ্যাডভান্টেজে থাকা সদস্যরাও এই অর্থ পাবেন না। সিএমএসের হিসাবে, মোট ২০ দশমিক ৮ মিলিয়ন আমেরিকান এই পেমেন্ট পাওয়ার যোগ্য। অর্থাৎ পার্ট বি-তে থাকা প্রায় ৬ কোটি ২৯ লাখ সদস্যের মধ্যে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ এই সুবিধা পাচ্ছেন। বাকি প্রায় ৪ কোটি মানুষ বিভিন্ন কারণে এর বাইরে থাকছেন। যারা মেডিকেয়ার অ্যাডভান্টেজে আছেন, যাদের প্রিমিয়াম মেডিকেইডের মাধ্যমে সহায়তা করা হয়, যারা আয়ের কারণে অতিরিক্ত প্রিমিয়াম দেন এবং যারা যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করেন না—তারা এই ৯০ ডলারের পেমেন্টের আওতায় পড়বেন না। কীভাবে পাওয়া যাচ্ছে টাকা? যোগ্য অধিকাংশ সদস্য সামাজিক নিরাপত্তা প্রশাসনের মাধ্যমে সরাসরি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ৯০ ডলার পাবেন। সিএমএস জানিয়েছে, বেশির ভাগ যোগ্য ব্যক্তির অ্যাকাউন্টে ৮ অক্টোবরের আশপাশে এই অর্থ জমা হওয়ার কথা। ইতোমধ্যে কিছু সদস্যের অ্যাকাউন্টে টাকা জমা পড়েছে বা জমার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। যাদের সরাসরি ব্যাংক জমার ব্যবস্থা নেই, তারা ট্রেজারি বিভাগের মাধ্যমে কাগজের চেক পাবেন। এসব চেক অক্টোবরের পরের দিকে ডাকযোগে পাঠানো হবে। চেকের সঙ্গে পেমেন্টটির উদ্দেশ্য উল্লেখ করা থাকবে। এই অর্থ আসছে কোথা থেকে? ৯০ ডলারের পেমেন্টের অর্থ আসছে মেডিকেয়ার ইমপ্রুভমেন্ট ফান্ড থেকে। কংগ্রেস ২০০৮ সালে এই তহবিল তৈরি করে অরিজিনাল মেডিকেয়ারের কার্যক্রম ও সেবা উন্নত করার জন্য। তহবিলে প্রায় ২ বিলিয়ন ডলার রাখা হয়েছে। এবারই প্রথম এই তহবিল থেকে সরাসরি মেডিকেয়ার সদস্যদের প্রিমিয়াম কমাতে অর্থ দেওয়া হচ্ছে বলে প্রশাসন জানিয়েছে। তবে অতীতে তহবিলটি একেবারে ব্যবহার করা হয়নি—এমন নয়। কেএফএফের স্বাস্থ্যনীতি বিশেষজ্ঞ ল্যারি লেভিট জানিয়েছেন, আগের প্রশাসনগুলো সরাসরি এই ধরনের পেমেন্ট না দিলেও কংগ্রেস বিভিন্ন সময় অন্য স্বাস্থ্যসেবা ও বাজেট সংক্রান্ত কাজে তহবিল থেকে অর্থ সরিয়েছে। ২০১০ সালে সাশ্রয়ী স্বাস্থ্যসেবা আইন বা ওবামাকেয়ার বাস্তবায়নের অর্থায়নেও প্রায় ২০ দশমিক ৭৪ বিলিয়ন ডলার ব্যবহার করা হয়েছিল। এই ৯০ ডলারের পেমেন্ট এমন সময়ে দেওয়া হচ্ছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রে স্বাস্থ্যসেবা ব্যয় নিয়ে মানুষের উদ্বেগ বাড়ছে। এর আগে ট্রাম্প প্রশাসন সাশ্রয়ী স্বাস্থ্যসেবা আইনের আওতায় থাকা প্রায় ১০ লাখ মানুষের জন্য ৫০০ ডলারের রিবেট পেমেন্টের কথাও জানিয়েছে। পাশাপাশি ট্রাম্প নির্বাচনী প্রচারে প্রতিটি প্রাপ্তবয়স্ক আমেরিকানকে ৫ হাজার ডলার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তবে সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন। যোগ্যতা নিয়ে সন্দেহ থাকলে মেডিকেয়ার সদস্যরা ১-৮০০-মেডিকেয়ার নম্বরে ফোন করে ৯০ ডলারের পেমেন্ট পাওয়ার যোগ্যতা যাচাই করতে পারবেন। আর পেমেন্ট পাঠানো হয়েছে কি না, তা জানতে সামাজিক নিরাপত্তা প্রশাসনের ১-৮০০-৭৭২-১২১৩ নম্বরে ১৫ অক্টোবর থেকে যোগাযোগ করা যাবে। অর্থাৎ ব্যাংক অ্যাকাউন্টে হঠাৎ ৯০ ডলার জমা পড়লে সেটি কোনো ভুল বা অতিরিক্ত সামাজিক নিরাপত্তা সুবিধা নয়। যোগ্য মেডিকেয়ার পার্ট বি সদস্যদের জন্য এটি অক্টোবর মাসের প্রিমিয়াম খরচ কিছুটা কমাতে দেওয়া এককালীন পেমেন্ট। তবে মেডিকেয়ারের ধরন, আয় এবং প্রিমিয়াম সহায়তার অবস্থার ওপর নির্ভর করে সবাই এই অর্থ পাবেন না।
লিথুয়ানিয়ায় স্থায়ী মার্কিন সামরিক ঘাঁটি স্থাপনের সম্ভাবনা এবং দেশটিতে পারমাণবিক অস্ত্র রাখার সাংবিধানিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার উদ্যোগ ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প লিথুয়ানিয়ায় স্থায়ী মার্কিন সামরিক ঘাঁটি স্থাপনের প্রস্তাব বিবেচনার কথা বলার পর দেশটির প্রধানমন্ত্রী মিনদাউগাস সিনকেভিচিয়াস জানিয়েছেন, ঘাঁটি স্থাপনে প্রয়োজনীয় খরচ বহন করতে প্রস্তুত ভিলনিয়াস। একই দিনে লিথুয়ানিয়ার পার্লামেন্ট পারমাণবিক অস্ত্র ও অন্যান্য গণবিধ্বংসী অস্ত্র মোতায়েনের ওপর সাংবিধানিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার প্রস্তাবের প্রথম ধাপের অনুমোদন দিয়েছে। এসব পদক্ষেপকে রাশিয়ার সীমান্তের কাছে সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর উদ্যোগ হিসেবে দেখছে মস্কো। ৬ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী সিনকেভিচিয়াস বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি লিথুয়ানিয়ায় স্থায়ী সামরিক ঘাঁটি স্থাপনে সম্মত হয়, তাহলে এর খরচ বহন করতে প্রস্তুত তার দেশ। এর আগে সোমবার ট্রাম্পকে লিথুয়ানিয়ায় স্থায়ী মার্কিন ঘাঁটি স্থাপনের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বিষয়টি অবশ্যই বিবেচনা করবে। ট্রাম্প লিথুয়ানিয়ার মানুষকে নিজের বন্ধু এবং চমৎকার মানুষ হিসেবেও উল্লেখ করেন। লিথুয়ানিয়া ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ন্যাটোর সদস্য। দেশটির সীমান্ত রয়েছে রাশিয়া ও রাশিয়ার ঘনিষ্ঠ মিত্র বেলারুশের সঙ্গে। ২০১৯ সাল থেকে দেশটিতে প্রায় ১ হাজার মার্কিন সেনার একটি সাঁজোয়া ব্যাটালিয়ন পালাক্রমে মোতায়েন রয়েছে। অর্থাৎ সেনারা নির্দিষ্ট সময় পরপর সেখানে আসে এবং অন্য ইউনিট তাদের জায়গা নেয়। লিথুয়ানিয়ার প্রধানমন্ত্রী গত মাসে ট্রাম্পের দূত জন কোয়েলের সঙ্গে ভিলনিয়াসে বৈঠকের সময় এই ঘূর্ণায়মান মার্কিন উপস্থিতিকে স্থায়ী করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। লিথুয়ানিয়া বলছে, দেশটিতে স্থায়ী মার্কিন সামরিক উপস্থিতি আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও প্রতিরোধ সক্ষমতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হবে। প্রধানমন্ত্রী সিনকেভিচিয়াসের ভাষায়, স্থায়ীভাবে মার্কিন সেনা মোতায়েনের বিষয়ে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেই প্রয়োজনীয় খরচ বহনে প্রস্তুত লিথুয়ানিয়া। এর পাশাপাশি লিথুয়ানিয়ার পার্লামেন্ট মঙ্গলবার সংবিধানের ১৩৭ নম্বর অনুচ্ছেদ পরিবর্তনের প্রস্তাবের প্রথম ধাপে অনুমোদন দিয়েছে। বর্তমান সংবিধানে দেশটির ভূখণ্ডে গণবিধ্বংসী অস্ত্র এবং বিদেশি রাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি মোতায়েন নিষিদ্ধ। মঙ্গলবারের ভোটে ১০৬ জন আইনপ্রণেতা প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেন, ১৮ জন বিপক্ষে এবং ৬ জন ভোটদানে বিরত থাকেন। চূড়ান্ত ভোটের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ২০২৭ সালের ১২ জানুয়ারি। প্রস্তাবটি চূড়ান্তভাবে পাস হলে লিথুয়ানিয়ার ভূখণ্ডে মিত্র দেশগুলোর পারমাণবিক অস্ত্র মোতায়েনের সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। তবে এর অর্থ এই নয় যে লিথুয়ানিয়া নিজস্ব পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি বা নিয়ন্ত্রণ করবে। ন্যাটোর পারমাণবিক অংশীদারত্ব ব্যবস্থায় ইউরোপের কয়েকটি দেশে যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক অস্ত্র রাখা হলেও সেগুলোর নিয়ন্ত্রণ যুক্তরাষ্ট্রের হাতেই থাকে। লিথুয়ানিয়ার এই সাংবিধানিক পরিবর্তন এবং সম্ভাব্য মার্কিন ঘাঁটির পরিকল্পনা নিয়ে রাশিয়া ইতিমধ্যে সতর্ক করেছে। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেছেন, রাশিয়ার সীমান্তের কাছে ন্যাটোর সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোকে মস্কো উত্তেজনা বাড়ানোর পদক্ষেপ ছাড়া অন্যভাবে দেখতে পারে না। একইভাবে প্রতিবেশী দেশে পারমাণবিক অস্ত্র মোতায়েনের সম্ভাবনাকেও রাশিয়া নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির কারণ হিসেবে দেখছে। পেসকভ আরও বলেছেন, এ ধরনের পদক্ষেপের কারণে মস্কো নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হতে পারে। ক্রেমলিনের এই বক্তব্য এসেছে এমন এক সময়ে, যখন ইউরোপের পূর্বাঞ্চলে ন্যাটোর সামরিক উপস্থিতি এবং প্রতিরক্ষা ব্যয় দ্রুত বাড়ছে। রাশিয়ার সঙ্গে লিথুয়ানিয়ার নিরাপত্তা উদ্বেগের পেছনে দেশটির ভৌগোলিক অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ। লিথুয়ানিয়া রাশিয়ার কালিনিনগ্রাদ অঞ্চলের কাছাকাছি এবং বেলারুশের সঙ্গেও সীমান্ত ভাগ করে নিয়েছে। কালিনিনগ্রাদ রাশিয়ার একটি বিচ্ছিন্ন ভূখণ্ড, যা পোল্যান্ড ও লিথুয়ানিয়ার মাঝখানে বাল্টিক সাগরের তীরে অবস্থিত। সেখানে রাশিয়ার সামরিক অবকাঠামো রয়েছে। এদিকে লিথুয়ানিয়া সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্রতিরক্ষা ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে। ২০২৬ সালের বাজেটে দেশটি প্রতিরক্ষায় মোট দেশজ উৎপাদনের ৫ দশমিক ৩৮ শতাংশ বরাদ্দ করেছে। এ অর্থ সামরিক সক্ষমতা বাড়ানো, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং মিত্র বাহিনীর উপস্থিতির জন্য প্রস্তুতি নিতে ব্যবহার করা হচ্ছে। লিথুয়ানিয়ায় জার্মানির একটি বড় সামরিক ব্রিগেডও গড়ে তোলা হচ্ছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রায় ৫ হাজার সদস্যের জার্মান ব্রিগেড ২০২৭ সালের মধ্যে পূর্ণ সক্ষমতায় যাওয়ার কথা। এর অবকাঠামো ও স্থায়ী উপস্থিতির প্রস্তুতিও দেশটির সামরিক পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। গত কয়েক মাসে লিথুয়ানিয়া ও বাল্টিক অঞ্চলে আকাশসীমা লঙ্ঘন, ড্রোন এবং তথাকথিত হাইব্রিড হামলা নিয়ে উদ্বেগও বেড়েছে। এসব ঘটনাকে কেন্দ্র করে লিথুয়ানিয়া ও তার মিত্ররা পূর্বাঞ্চলীয় ন্যাটো সীমান্তে প্রতিরক্ষা জোরদারের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। একই সময়ে রাশিয়া ন্যাটোর সামরিক অবকাঠামো তার সীমান্তের কাছে আরও এগিয়ে আসাকে নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে দেখছে। ফলে লিথুয়ানিয়ায় সম্ভাব্য স্থায়ী মার্কিন ঘাঁটি এবং পারমাণবিক অস্ত্র মোতায়েনের আইনি পথ খুলে দেওয়ার উদ্যোগ ইউরোপের পূর্বাঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। তবে মার্কিন ঘাঁটি স্থাপনের বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি এবং পারমাণবিক অস্ত্রসংক্রান্ত সাংবিধানিক পরিবর্তনও এখনো চূড়ান্তভাবে অনুমোদিত হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রে গাড়ি চালানোর অভিজ্ঞতা শহরভেদে অনেকটাই ভিন্ন। কোথাও রাস্তা তুলনামূলক ভালো, যানজট কম এবং গাড়ি রক্ষণাবেক্ষণের খরচও নিয়ন্ত্রণে। আবার কোথাও প্রতিদিনের যাতায়াত মানেই দীর্ঘ যানজট, ব্যয়বহুল গাড়ি চালানো এবং নিরাপত্তা নিয়ে বাড়তি উদ্বেগ। নতুন এক গবেষণায় যুক্তরাষ্ট্রের ১০০টি বড় শহরের মধ্যে গাড়িচালকদের জন্য সবচেয়ে সুবিধাজনক ও সবচেয়ে অসুবিধাজনক শহরগুলোর তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। গবেষণায় অ্যারিজোনার স্কটসডেলকে গাড়ি চালানোর জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সেরা শহর হিসেবে স্থান দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে সবচেয়ে খারাপ শহর হিসেবে শীর্ষে রয়েছে পেনসিলভানিয়ার ফিলাডেলফিয়া। তালিকার একেবারে নিচের দিকের শহরগুলোর মধ্যে রয়েছে ওয়াশিংটন ডিসি, লস এঞ্জেলেস, নিউইয়র্ক এবং ডেট্রয়েটও। ওয়ালেটহাবের এই মূল্যায়নে ১০০টি বড় শহরকে গাড়ি মালিকানা ও রক্ষণাবেক্ষণের খরচ, যানজট ও সড়ক অবকাঠামো, নিরাপত্তা এবং গাড়ি ও রক্ষণাবেক্ষণসেবা পাওয়ার সুযোগ—এই চারটি প্রধান বিষয়ের ভিত্তিতে তুলনা করা হয়েছে। মোট ৩০টি সূচক ব্যবহার করে প্রতিটি শহরের জন্য সামগ্রিক স্কোর তৈরি করা হয়। এর মধ্যে ছিল জ্বালানির গড় দাম, গাড়ি মেরামতের খরচ, পার্কিংয়ের সুবিধা, যানজটে বছরে নষ্ট হওয়া সময়, সড়কের মান, আবহাওয়াজনিত ঝুঁকি, গাড়ি চুরির হারসহ বিভিন্ন বিষয়। গবেষণার হিসাবে, যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিদিনের প্রায় ৮৭ শতাংশ যাতায়াত ব্যক্তিগত গাড়িতে হয়। ফলে গাড়ি চালানোর খরচ ও সময় মানুষের দৈনন্দিন জীবনে বড় প্রভাব ফেলে। যানজটের কারণে একজন চালক বছরে প্রায় ৩৭০ ঘণ্টা সময় হারান। পাশাপাশি জ্বালানি অপচয় ও যানজটে আটকে থাকার কারণে প্রতি চালকের বছরে প্রায় ৮৯৪ ডলার পর্যন্ত খরচ হয় বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে। সেরা শহরের তালিকায় স্কটসডেলের পর রয়েছে আইডাহোর বোইসি, ইন্ডিয়ানার ফোর্ট ওয়েন, নেব্রাস্কার লিংকন এবং টেক্সাসের কর্পাস ক্রিস্টি। এরপর উত্তর ক্যারোলাইনার র্যালি, টেক্সাসের লাবক, কেন্টাকির লেক্সিংটন-ফায়েট, ফ্লোরিডার জ্যাকসনভিল এবং উত্তর ক্যারোলাইনার উইনস্টন-সালেম রয়েছে শীর্ষ ১০-এ। স্কটসডেল শীর্ষে থাকার পেছনে কয়েকটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। শহরটিতে নতুন গাড়ির গড় দাম তুলনামূলক কম এবং পার্কিংয়ের খরচও সুবিধাজনক। সড়ক ও ব্রিজের মান ভালো হওয়া, দুর্ঘটনার ঝুঁকি তুলনামূলক কম থাকা এবং গাড়ি মেরামতের দোকানের পর্যাপ্ত উপস্থিতিও শহরটির অবস্থান শক্ত করেছে। একই সঙ্গে গাড়ি বীমার মাসিক প্রিমিয়ামও অনেক শহরের তুলনায় তুলনামূলক সুবিধাজনক। অন্যদিকে ফিলাডেলফিয়া তালিকার ১০০ নম্বরে রয়েছে। শহরটির দুর্বল অবস্থানের পেছনে যানজট, সড়কের অবস্থা এবং নিরাপত্তাসংক্রান্ত বিভিন্ন সূচক প্রভাব ফেলেছে। ওয়াশিংটন ডিসি রয়েছে ৯৯ নম্বরে, লস এঞ্জেলেস ৯৮ নম্বরে, নিউইয়র্ক ৯৭ নম্বরে এবং ডেট্রয়েট ৯৬ নম্বরে। লস এঞ্জেলেসের অবস্থান বিশেষভাবে নজরকাড়া। শহরটি সামগ্রিকভাবে ৩৬ দশমিক ৫০ স্কোর নিয়ে ৯৮তম হয়েছে। গাড়ি মালিকানা ও রক্ষণাবেক্ষণের খরচের ক্ষেত্রে লস এঞ্জেলেসের অবস্থান ৯৮তম এবং যানজট ও অবকাঠামোর ক্ষেত্রে ৯০তম। অর্থাৎ গাড়ি চালানোর সামগ্রিক অভিজ্ঞতায় শহরটি তালিকার একেবারে নিচের দিকেই রয়েছে। ক্যালিফোর্নিয়ার অন্য কয়েকটি বড় শহরের অবস্থানও খুব একটা ভালো নয়। সান ফ্রান্সিসকো ৯১তম, ওকল্যান্ড ৯৪তম এবং সান দিয়েগো ৮৫তম অবস্থানে রয়েছে। বিশেষ করে জ্বালানির দামের ক্ষেত্রে ক্যালিফোর্নিয়ার শহরগুলো পিছিয়ে আছে। ওয়ালেটহাবের তুলনায় ফোর্ট ওয়েনে গড় গ্যাসের দাম সান ফ্রান্সিসকোর তুলনায় প্রায় অর্ধেক। অন্যদিকে টেক্সাসের লাবকে যানজটে বছরে ব্যয় হওয়া সময় শিকাগোর তুলনায় ১৪ গুণ কম বলে গবেষণায় উঠে এসেছে। ফোর্ট ওয়েনও জ্বালানির দামের ক্ষেত্রে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। দুর্ঘটনার সম্ভাবনার দিক থেকে বোইসি জাতীয় গড়ের তুলনায় সবচেয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ শহরগুলোর একটি। আর ফ্লোরিডার হিয়ালিয়াহতে গাড়ি চুরির হার সবচেয়ে কম পাওয়া গেছে। তবে গবেষণাটি যুক্তরাষ্ট্রের সব শহরের সামগ্রিক চিত্র নয়। ওয়ালেটহাব ১০০টি সবচেয়ে জনবহুল শহরকে বিবেচনায় নিয়েছে এবং প্রতিটি শহরের মূল শহরাঞ্চলকে হিসাব করেছে; আশপাশের মেট্রো এলাকার তথ্য এতে আলাদাভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। ২০২৬ সালের এই র্যাঙ্কিংয়ের তথ্য ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত পাওয়া বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছে।
নোবেল পুরস্কার জয়ের সুখবর পেয়েই তা সবার আগে সন্তানদের জানালেন স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক কার্ল ডেইসেরথ। বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ এই পুরস্কার পাওয়ার আনন্দের মধ্যেও বাবার দৈনন্দিন দায়িত্ব থেকে সরে যাননি তিনি। সন্তানদের সুখবর জানানোর পর তাদের জন্য নিজ হাতেই বানিয়েছেন স্যান্ডউইচ। ২০২৬ সালের ফিজিওলজি বা মেডিসিনে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন কার্ল ডেইসেরথ। অপটোজেনেটিকস নিয়ে পথপ্রদর্শক গবেষণার জন্য জার্মানির দুই বিজ্ঞানী পিটার হেগেমান ও জর্জ নাগেলের সঙ্গে যৌথভাবে এই পুরস্কার পেয়েছেন তিনি। নোবেল জয়ের খবর ডেইসেরথ জানতে পারেন গভীর রাতে একটি ফোনকলে। এমন একটি মুহূর্তে স্বাভাবিকভাবেই আনন্দে ভেসে যাওয়ার কথা। কিন্তু খবরটি পাওয়ার পর তার কাছে পরিবারের সঙ্গে আনন্দ ভাগ করে নেওয়াটাই হয়ে ওঠে গুরুত্বপূর্ণ। স্ট্যানফোর্ডের প্রকাশ করা একটি ভিডিওতে দেখা যায়, ডেইসেরথ প্রথমে তার দুই মেয়ে সোফি ও এমাকে নোবেল জয়ের খবর দেন। ১০ বছর বয়সী সোফি ও ১৩ বছর বয়সী এমা খবরটি শুনে বিস্মিত হয়ে যায়। এরপর তারা বাবাকে জড়িয়ে ধরে। সোফি উচ্ছ্বসিত হয়ে বাবাকে বলে, ‘বাবা, তুমি তো সব পুরস্কারই জিতে ফেলেছ!’ এরপর ছেলে হাডসনকেও সুখবরটি জানান ডেইসেরথ। ১৬ বছর বয়সী হাডসন প্রথমে অবাক হয়ে বলে ওঠে, ‘কী? ওহ মাই গড, কী?’ এরপরই আনন্দ প্রকাশ করে বলে, ‘দারুণ!’ বাবার নোবেল জয়ের খবর সন্তানদের কাছে যেমন আনন্দের ছিল, তেমনি মুহূর্তটি হয়ে ওঠে পরিবারের জন্য বিশেষ স্মৃতি। তবে এই আনন্দের মধ্যেও ডেইসেরথের জীবনের আরেকটি সাধারণ দৃশ্য সামনে এসেছে—সন্তানদের জন্য খাবার তৈরি করা। স্ট্যানফোর্ড জানিয়েছে, ব্যস্ত গবেষণা ও পেশাগত জীবনের মধ্যেও ডেইসেরথ প্রতিদিন তার তিন ছোট সন্তানের জন্য স্যান্ডউইচ তৈরি করার সময় বের করেন। নোবেল জয়ের দিনও এর ব্যতিক্রম হয়নি। তার ছেলে হাডসনের জন্য সাধারণত র্যাঞ্চ ড্রেসিং, চেডার চিজ, সালামি ও টার্কি দিয়ে স্যান্ডউইচ তৈরি করেন তিনি। মেয়ে সোফির পছন্দ র্যাঞ্চ, চেডার ও মাংসের স্যান্ডউইচ। আর এমার জন্য কিশমিশের পাউরুটিতে আমন্ড বাটার, মধু ও দারুচিনি দিয়ে স্যান্ডউইচ বানান। নোবেল জয়ের মতো জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জনের দিনেও সন্তানদের জন্য খাবার তৈরির এই ছোট্ট অভ্যাসটিই ডেইসেরথের পারিবারিক জীবনের অন্য একটি দিক সামনে এনেছে। একদিকে তিনি বিশ্বমানের বিজ্ঞানী, অন্যদিকে সন্তানদের জন্য প্রতিদিনের দায়িত্ব পালন করা একজন বাবা। ডেইসেরথ স্ট্যানফোর্ডের বায়োইঞ্জিনিয়ারিং এবং সাইকিয়াট্রি অ্যান্ড বিহেভিয়ারাল সায়েন্সেস বিভাগের অধ্যাপক। পাশাপাশি তিনি একজন চিকিৎসক হিসেবেও কাজ করেন। স্ট্যানফোর্ডেই তিনি এমডি ও পিএইচডি সম্পন্ন করেছেন এবং সেখানেই রেসিডেন্সি প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। নোবেলজয়ী এই বিজ্ঞানীর মূল গবেষণার বিষয় অপটোজেনেটিকস। সহজভাবে বললে, এই প্রযুক্তির মাধ্যমে আলো ব্যবহার করে নির্দিষ্ট কোষের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করা যায়। বিশেষ করে মস্তিষ্কের স্নায়ুকোষ কীভাবে কাজ করে, তা বোঝার ক্ষেত্রে এই প্রযুক্তি বিজ্ঞানীদের নতুন সুযোগ তৈরি করেছে। ডেইসেরথ নিজেই অপটোজেনেটিকস ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেছেন, আলো ব্যবহার করে কোষকে চালু বা বন্ধ করা যায়। মস্তিষ্কে অসংখ্য জটিল ও পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত কোষ রয়েছে। নির্দিষ্ট কোষকে চালু বা বন্ধ করে বিজ্ঞানীরা বিভিন্ন ধারণা পরীক্ষা করতে পারেন। এ বছর ডেইসেরথের সঙ্গে নোবেল পাওয়া পিটার হেগেমান ও জর্জ নাগেলও আলো-নিয়ন্ত্রিত আয়ন চ্যানেল এবং অপটোজেনেটিকসের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। তাদের কাজের ফলে স্নায়ুবিজ্ঞান গবেষণায় নির্দিষ্ট কোষের কার্যক্রম সরাসরি নিয়ন্ত্রণ ও পর্যবেক্ষণের সুযোগ তৈরি হয়েছে। স্ট্যানফোর্ড জানিয়েছে, ডেইসেরথ বিশ্ববিদ্যালয়টির ৩৭তম নোবেল পুরস্কার বিজয়ী। তার এই অর্জনে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষও গর্ব প্রকাশ করেছে। স্ট্যানফোর্ডের প্রেসিডেন্ট জনাথন লেভিন বলেন, ডেইসেরথ শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক নন, তিনি এই প্রতিষ্ঠানেরই সাবেক শিক্ষার্থী। তিনি স্ট্যানফোর্ড থেকে এমডি ও পিএইচডি করেছেন এবং এখানেই রেসিডেন্সি প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেছেন। বর্তমানে তিনি চিকিৎসক হিসেবেও রোগী দেখেন। বিজ্ঞানের জগতে বড় সাফল্য অর্জনের পরও সন্তানদের জন্য স্যান্ডউইচ বানানোর মতো সাধারণ কাজ থেকে নিজেকে দূরে রাখেননি ডেইসেরথ। নোবেল জয়ের সুখবর সন্তানদের জানানো এবং এরপর তাদের জন্য খাবার তৈরি করার এই দুই দৃশ্যই যেন তার জীবনের দুই পরিচয়কে একসঙ্গে সামনে এনেছে—বিশ্বখ্যাত বিজ্ঞানী এবং সন্তানদের যত্ন নেওয়া একজন বাবা।
যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত নাগরিক ও বৈধ স্থায়ী বাসিন্দাদের বিদেশে থাকা স্বজনদের গ্রিন কার্ডের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে আনতে নির্দিষ্ট আর্থিক সক্ষমতা দেখাতে হয়। এ ক্ষেত্রে স্পনসরকে সাধারণত ফর্ম আই-৮৬৪, অর্থাৎ অ্যাফিডেভিট অব সাপোর্ট জমা দিতে হয়। এই নথির মাধ্যমে স্পনসর আইনগতভাবে অঙ্গীকার করেন যে যুক্তরাষ্ট্রে আসা অভিবাসী প্রয়োজন হলে তার আর্থিক সহায়তা পাবেন এবং সরকারি সহায়তার ওপর অতিরিক্তভাবে নির্ভরশীল হয়ে পড়বেন না। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের বর্তমান নির্দেশনা অনুযায়ী, অধিকাংশ পরিবারভিত্তিক অভিবাসন আবেদনে এই আর্থিক সহায়তার নথি প্রয়োজন হয়। কিছু নির্দিষ্ট কর্মসংস্থানভিত্তিক অভিবাসন ক্ষেত্রেও এটি প্রযোজ্য হতে পারে, যদি আবেদনকারীর হয়ে কোনো মার্কিন নাগরিক, বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা বা মার্কিন নাগরিকত্বধারী আত্মীয় আবেদন করেন। মূল বিষয় হলো, স্পনসরের আয় তার পরিবারের মোট সদস্যসংখ্যার জন্য নির্ধারিত ফেডারেল দারিদ্র্যসীমার অন্তত ১২৫ শতাংশ হতে হবে। অর্থাৎ, সবার জন্য একই আয়সীমা প্রযোজ্য নয়। স্পনসরের পরিবারে কতজন সদস্য আছেন, তার ওপর নির্ভর করে প্রয়োজনীয় আয়ের পরিমাণ পরিবর্তিত হয়। ২০২৬ সালের যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগের দারিদ্র্য নির্দেশনা অনুযায়ী, ৪৮টি অঙ্গরাজ্য ও ওয়াশিংটন ডিসিতে দুই সদস্যের পরিবারের দারিদ্র্যসীমা ২১ হাজার ৬৪০ ডলার। এর ১২৫ শতাংশ হলো ২৭ হাজার ৫০ ডলার। তিন সদস্যের পরিবারের ক্ষেত্রে দারিদ্র্যসীমা ২৭ হাজার ৩২০ ডলার এবং ১২৫ শতাংশের হিসাব দাঁড়ায় ৩৪ হাজার ১৫০ ডলার। চার সদস্যের পরিবারের ক্ষেত্রে দারিদ্র্যসীমা ৩৩ হাজার ডলার এবং ১২৫ শতাংশ হলো ৪১ হাজার ২৫০ ডলার। পরিবারের সদস্যসংখ্যা আরও বাড়লে প্রয়োজনীয় আয়ও বাড়ে। এখানে একটি বিষয় বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। স্পনসরের নিজের আয় যদি তার নির্ধারিত পরিবারের জন্য প্রয়োজনীয় ১২৫ শতাংশ সীমা পূরণ করে, তাহলে অন্য পরিবারের সদস্যদের আয় যোগ করার প্রয়োজন নাও হতে পারে। তবে এর অর্থ এই নয় যে পরিবারের সদস্যসংখ্যা হিসাবের বাইরে থাকবে। বরং আই-৮৬৪ ফর্মে স্পনসরের পরিবারের সদস্যসংখ্যা নির্ধারণ করেই প্রয়োজনীয় আয়ের সীমা ঠিক করা হয়। পরিবারের সদস্যসংখ্যা নির্ধারণের সময় স্পনসরের স্বামী বা স্ত্রী, নির্দিষ্ট সন্তান, আয়কর রিটার্নে নির্ভরশীল হিসেবে দেখানো ব্যক্তি, যে অভিবাসীকে স্পনসর করা হচ্ছে এবং নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে অন্যান্য অভিবাসী আবেদনকারীকেও হিসাবের মধ্যে রাখতে হয়। কোনো অ-নির্ভরশীল আত্মীয় একই বাড়িতে থাকলে এবং তার আয় ব্যবহার করতে চাইলে নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে ফর্ম আই-৮৬৪এ প্রয়োজন হতে পারে। যদি স্পনসরের নিজের আয় প্রয়োজনীয় সীমায় না পৌঁছায়, তখন আবেদন বাতিল হয়ে যায় না। এ ক্ষেত্রে দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প রয়েছে। একজন যোগ্য যৌথ স্পনসর বা জয়েন্ট স্পনসর অতিরিক্ত আর্থিক দায়িত্ব নিতে পারেন। অথবা একই পরিবারের যোগ্য সদস্যের আয় নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে হিসাবের সঙ্গে যুক্ত করা যেতে পারে। উভয় ক্ষেত্রেই প্রয়োজনীয় অতিরিক্ত ফর্ম ও আর্থিক প্রমাণ জমা দিতে হয়। আয়ের পাশাপাশি কিছু ক্ষেত্রে সম্পদও ব্যবহার করা যায়। স্পনসরের আয় নির্ধারিত সীমার নিচে থাকলে সঞ্চয়, শেয়ার, বন্ড বা নির্দিষ্ট সম্পদের মূল্য ব্যবহার করে ঘাটতি পূরণের সুযোগ রয়েছে। তবে সম্পদের ক্ষেত্রে আলাদা হিসাব ও প্রমাণের নিয়ম আছে। সাধারণভাবে সম্পদের নিট মূল্য এবং আয়ের ঘাটতির অনুপাত নির্দিষ্ট নিয়মে বিবেচনা করা হয়। আবেদনের সঙ্গে আর্থিক সক্ষমতার প্রমাণও গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, প্রয়োজন অনুযায়ী সাম্প্রতিক বেতন স্লিপ, চাকরির প্রমাণ, নিয়োগকর্তার চিঠি, আয়কর-সংক্রান্ত নথি বা অন্যান্য আর্থিক কাগজপত্র জমা দিতে হতে পারে। কোনো স্পনসরের আয় দারিদ্র্যসীমার নিচে থাকলে অতিরিক্ত আয় বা সম্পদের প্রমাণ চাওয়া হতে পারে। স্পনসর হওয়ার জন্য শুধু পর্যাপ্ত আয় থাকাই যথেষ্ট নয়। সাধারণভাবে আর্থিক স্পনসরকে অন্তত ১৮ বছর বয়সী এবং যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক অথবা বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা হতে হয়। পাশাপাশি তার যুক্তরাষ্ট্রে ডমিসাইল বা প্রধান বসবাসের ভিত্তি থাকতে হয়। ফর্ম আই-৮৬৪ স্বাক্ষর করার পর এটি আইনগতভাবে কার্যকর একটি অঙ্গীকারে পরিণত হয়। সাধারণভাবে স্পনসরের আর্থিক দায়িত্ব তখন পর্যন্ত চলতে পারে, যতক্ষণ না স্পনসর করা ব্যক্তি মার্কিন নাগরিকত্ব অর্জন করেন, সামাজিক নিরাপত্তা আইনের অধীনে ৪০টি যোগ্য কর্ম-ত্রৈমাসিক অর্জন করেন বা আইনে নির্ধারিত অন্য কোনো সমাপ্তির শর্ত পূরণ হয়। বাংলাদেশিসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পরিবারগুলোর জন্য তাই যুক্তরাষ্ট্রে স্বজনকে গ্রিন কার্ডের মাধ্যমে আনতে শুধু পারিবারিক সম্পর্ক প্রমাণ করাই যথেষ্ট নয়। আবেদন করার আগে সম্ভাব্য স্পনসরের পরিবারের সদস্যসংখ্যা, বর্তমান আয়, কর-সংক্রান্ত নথি, প্রয়োজনীয় ১২৫ শতাংশ সীমা এবং প্রয়োজনে যৌথ স্পনসর বা সম্পদ ব্যবহারের সুযোগ—সবকিছু যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে আয়ের সীমা প্রতি বছর হালনাগাদ হওয়ায় পুরোনো কোনো অঙ্কের ওপর নির্ভর না করে আবেদন জমা দেওয়ার সময়কার কার্যকর দারিদ্র্য নির্দেশনা অনুসরণ করা প্রয়োজন। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরও জানিয়েছে, আই-৮৬৪ জমা দেওয়ার সময় কার্যকর দারিদ্র্য নির্দেশনাই সাধারণভাবে আয় যোগ্যতা নির্ধারণে ব্যবহার করা হয়।
গর্ভাবস্থার মাত্র ২২ সপ্তাহে অনাগত এক শিশুর ফুসফুসে দ্রুত বেড়ে ওঠা বিরল জন্মগত অস্বাভাবিকতা চিকিৎসায় নতুন সাফল্য দেখিয়েছেন চীন ও হংকংয়ের চিকিৎসকেরা। আল্ট্রাসাউন্ডের সহায়তায় সূক্ষ্ম একটি নিডল গর্ভের ভেতরে প্রবেশ করিয়ে মাইক্রোওয়েভ শক্তির মাধ্যমে অস্বাভাবিক ফুসফুসের টিস্যু ধ্বংস করা হয়েছে। চিকিৎসকেরা বলছেন, ভ্রূণের মাইক্রোসিস্টিক কনজেনিটাল পালমোনারি এয়ারওয়ে ম্যালফরমেশন বা সিপিএএম চিকিৎসায় এই পদ্ধতি ভবিষ্যতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে। শেনঝেন বাওআন উইমেন্স অ্যান্ড চিলড্রেনস হসপিটাল এবং দ্য চাইনিজ ইউনিভার্সিটি অব হংকংয়ের চিকিৎসকেরা যৌথভাবে এই জটিল চিকিৎসা সম্পন্ন করেন। চিকিৎসা পদ্ধতির বিস্তারিত ২০২৬ সালের ২০ আগস্ট আন্তর্জাতিক পিয়ার রিভিউড জার্নাল আল্ট্রাসাউন্ড ইন অবস্টেট্রিকস অ্যান্ড গাইনেকোলজিতে প্রকাশিত হয়েছে। সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গর্ভের শিশুটির ফুসফুসে যে অস্বাভাবিকতা ধরা পড়ে সেটি দ্রুত বড় হচ্ছিল। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় এটি মাইক্রোসিস্টিক সিপিএএম। এটি ফুসফুসের একটি বিরল জন্মগত গঠনগত সমস্যা, যেখানে স্বাভাবিক ফুসফুসের টিস্যুর জায়গায় অস্বাভাবিক সিস্ট বা টিস্যু তৈরি হতে পারে। বড় আকারের সিপিএএম ভ্রূণের জন্য গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। অস্বাভাবিক টিস্যু বেড়ে গেলে সেটি বুকের ভেতরের অন্য অঙ্গের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে। গুরুতর অবস্থায় হৃদযন্ত্রের ওপর চাপ, শরীরে তরল জমা বা হাইড্রপস ফিটালিস এবং গর্ভের শিশুর জীবনহানির ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে। এই পরিস্থিতিতে চিকিৎসকেরা প্রচলিত পদ্ধতির পরিবর্তে মাইক্রোওয়েভ অ্যাবলেশন ব্যবহার করেন। রিয়েল টাইম আল্ট্রাসাউন্ডের মাধ্যমে নিডলের অবস্থান পর্যবেক্ষণ করে সেটি অস্বাভাবিক টিস্যুর ভেতরে নেওয়া হয়। এরপর মাইক্রোওয়েভ শক্তি প্রয়োগ করা হয়। মাইক্রোওয়েভ অ্যাবলেশনে টিস্যুর ভেতরের পানির অণু দ্রুত কম্পিত হয়ে তাপ তৈরি করে। সেই তাপ নির্দিষ্ট অংশের অস্বাভাবিক টিস্যু ধ্বংস করে। লক্ষ্য থাকে আশপাশের সুস্থ টিস্যু এবং গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গকে যতটা সম্ভব নিরাপদ রাখা। চিকিৎসকদের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল গর্ভের ভেতরে অত্যন্ত ছোট জায়গায় কাজ করা এবং একই সঙ্গে মা ও শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। আল্ট্রাসাউন্ডের মাধ্যমে নিডলের প্রতিটি নড়াচড়া পর্যবেক্ষণ করেই চিকিৎসা সম্পন্ন করা হয়। প্রতিবেদন অনুযায়ী, চিকিৎসার পর ফুসফুসের অস্বাভাবিক অংশের আকার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসে। ফলে বুকের ভেতরে অন্য অঙ্গের ওপর তৈরি হওয়া চাপও কমতে শুরু করে। চিকিৎসকেরা এই ফলাফলকে ফিটাল থেরাপির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন। তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সিপিএএমকে সাধারণ অর্থে ক্যানসার বা প্রচলিত টিউমার বলা সঠিক নয়। এটি মূলত জন্মগত ফুসফুসের অস্বাভাবিক বিকাশ বা ম্যালফরমেশন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনাটিকে কখনো কখনো “ফুসফুসের টিউমার অপসারণ” হিসেবে বর্ণনা করা হলেও চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে “অস্বাভাবিক ফুসফুসের টিস্যু” বা “ফুসফুসের জন্মগত ম্যালফরমেশন” বলা বেশি নির্ভুল। গর্ভের শিশুর ফুসফুসের জটিল রোগে জন্মের আগেই চিকিৎসা নতুন নয়। এর আগে সিপিএএমের গুরুতর ক্ষেত্রে স্টেরয়েড, তরল নিষ্কাশন, শান্ট বসানো, স্ক্লেরোথেরাপি এবং রেডিওফ্রিকোয়েন্সি অ্যাবলেশনের মতো পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছে। তবে বিশাল মাইক্রোসিস্টিক সিপিএএমে মাইক্রোওয়েভ অ্যাবলেশনের এই প্রয়োগকে চিকিৎসকেরা নতুন মাইলফলক হিসেবে বিবেচনা করছেন। এর আগে বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, গুরুতর সিপিএএমের সঙ্গে হাইড্রপস ফিটালিস যুক্ত হলে ভ্রূণের ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়। এ কারণেই দ্রুত বড় হতে থাকা এবং জীবনহানির ঝুঁকি তৈরি করা ক্ষেত্রে গর্ভের ভেতরেই চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে। তবে নতুন এই পদ্ধতিকে এখনই সবার জন্য নিয়মিত চিকিৎসা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে না। প্রকাশিত ঘটনাটি একটি নির্দিষ্ট কেসের অভিজ্ঞতা এবং এর দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা বুঝতে আরও রোগী, দীর্ঘ অনুসরণ এবং বিস্তৃত গবেষণা প্রয়োজন। চিকিৎসাবিজ্ঞানে ফিটাল থেরাপির মূল লক্ষ্য হলো জন্মের আগে এমন গুরুতর সমস্যায় হস্তক্ষেপ করা, যা অপেক্ষা করলে শিশুর জীবন বা ভবিষ্যৎ স্বাস্থ্যের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। শেনঝেন ও হংকংয়ের চিকিৎসকদের এই সাফল্য সেই ক্ষেত্রেই নতুন একটি সম্ভাবনার দরজা খুলে দিয়েছে।
প্রতিদিন একের পর এক কাপ কফি পান করার অভ্যাস হাড়ের স্বাস্থ্যের জন্য ভালো নাও হতে পারে। প্রায় ১০ হাজার বয়স্ক নারীকে ১০ বছর ধরে পর্যবেক্ষণ করে করা নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, দিনে পাঁচ কাপের বেশি কফি পানকারীদের হাড়ের ঘনত্ব কম থাকার প্রবণতা রয়েছে। অন্যদিকে নিয়মিত চা পানকারীদের নিতম্বের হাড়ের ঘনত্ব সামান্য বেশি পাওয়া গেছে। অস্ট্রেলিয়ার ফ্লিন্ডার্স ইউনিভার্সিটির গবেষকেরা ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী ৯ হাজার ৭০৪ নারীর তথ্য বিশ্লেষণ করে এ ফল পেয়েছেন। গবেষণাটি ২০২৫ সালে নিউট্রিয়েন্টস জার্নালে প্রকাশিত হয়। গবেষণায় অংশগ্রহণকারীদের কফি ও চা পানের অভ্যাস বারবার নথিবদ্ধ করা হয়। একই সঙ্গে প্রায় এক দশক ধরে তাদের ফিমোরাল নেক ও টোটাল হিপের বোন মিনারেল ডেনসিটি বা হাড়ের খনিজ ঘনত্ব পরিমাপ করা হয়। ফলাফলে দেখা যায়, নিয়মিত চা পানকারীদের টোটাল হিপ বোন মিনারেল ডেনসিটি চা না পানকারীদের তুলনায় কিছুটা বেশি। পার্থক্যটি খুব বড় নয়, তবে পরিসংখ্যানগতভাবে তা উল্লেখযোগ্য ছিল। কফির ক্ষেত্রে চিত্রটি কিছুটা ভিন্ন। সামগ্রিকভাবে মাঝারি পরিমাণ কফি পানের সঙ্গে হাড়ের ঘনত্ব কমে যাওয়ার স্পষ্ট সম্পর্ক পাওয়া যায়নি। তবে গবেষণার বিশ্লেষণে ইঙ্গিত মিলেছে, দিনে পাঁচ কাপের বেশি কফি পান করলে হাড়ের ঘনত্ব কমতে পারে। বিশেষ করে যেসব নারীর জীবনে অ্যালকোহল গ্রহণের পরিমাণ তুলনামূলক বেশি ছিল, তাদের মধ্যে বেশি কফি পানের সঙ্গে ফিমোরাল নেকের হাড়ের ঘনত্ব কম থাকার সম্পর্ক আরও স্পষ্ট দেখা গেছে। এ কারণে গবেষকেরা মাঝারি কফি পানকে ক্ষতিকর বলে চিহ্নিত করেননি। দিনে দুই থেকে তিন কাপ কফির মতো পরিমাণে উল্লেখযোগ্য নেতিবাচক প্রভাব পাওয়া যায়নি। ঝুঁকির ইঙ্গিত মূলত খুব বেশি কফি পানের ক্ষেত্রেই দেখা গেছে। গবেষণাটি গুরুত্বপূর্ণ হলেও এটি প্রমাণ করে না যে বেশি কফি খেলেই হাড় দুর্বল হয়ে যাবে। এটি একটি পর্যবেক্ষণমূলক গবেষণা। অর্থাৎ কফি ও হাড়ের ঘনত্বের মধ্যে সম্পর্ক দেখা গেলেও সরাসরি কারণ ও ফলাফল নিশ্চিত করা যায়নি। গবেষকেরা বয়স, শারীরিক কার্যক্রম, বিভিন্ন রোগ, ওষুধ ব্যবহার এবং অন্যান্য সম্ভাব্য প্রভাবক বিবেচনায় নিয়ে বিশ্লেষণ করেছেন। তবু মানুষের খাদ্যাভ্যাস, জীবনযাপন, ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি গ্রহণ, শরীরের ওজন এবং অন্যান্য বিষয়ও হাড়ের স্বাস্থ্যে বড় ভূমিকা রাখে। চায়ের ক্ষেত্রে গবেষকেরা মনে করছেন, এতে থাকা বিভিন্ন উদ্ভিজ্জ যৌগ হাড়ের ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তবে ঠিক কোন উপাদান কতটা ভূমিকা রাখছে, তা নিশ্চিত করতে আরও গবেষণা প্রয়োজন। অস্টিওপোরোসিস বা হাড় ক্ষয়ের রোগ বয়স্ক নারীদের জন্য বড় স্বাস্থ্যঝুঁকি। আন্তর্জাতিক অস্টিওপোরোসিস ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে ৫০ বছরের বেশি বয়সী প্রতি তিন নারীর একজন জীবনের কোনো পর্যায়ে অস্টিওপোরোসিসজনিত ফ্র্যাকচারের ঝুঁকিতে থাকেন। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে হাড়ের ঘনত্ব স্বাভাবিকভাবেই কমতে থাকে। মেনোপজের পর নারীদের শরীরে হরমোনের পরিবর্তনের কারণে এই ঝুঁকি আরও বাড়ে। এ কারণে পর্যাপ্ত ক্যালসিয়াম, ভিটামিন ডি, নিয়মিত ব্যায়াম, ধূমপান এড়িয়ে চলা এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন হাড় রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ। গবেষণার ফল থেকে সবচেয়ে বাস্তবসম্মত বার্তা হলো, যারা খুব বেশি কফি পান করেন তারা দৈনিক পরিমাণ কমানোর কথা ভাবতে পারেন। তবে শুধু কফি কমানোই হাড় সুরক্ষার একমাত্র উপায় নয়। একই সঙ্গে নিয়মিত চা পান হাড়ের জন্য সম্ভাব্য উপকারী হতে পারে বলে গবেষণায় ইঙ্গিত মিলেছে। তবে গবেষকেরা চাকে কোনো চিকিৎসা বা অস্টিওপোরোসিস প্রতিরোধের নিশ্চয়তা হিসেবে দেখছেন না। সব মিলিয়ে ১০ বছরের এই গবেষণা বলছে, মাঝারি পরিমাণ কফি পান নিয়ে আতঙ্কের কারণ নেই। কিন্তু দিনে পাঁচ কাপের বেশি কফি অভ্যাসে থাকলে বিশেষ করে বয়স্ক নারীদের ক্ষেত্রে হাড়ের স্বাস্থ্যের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা যেতে পারে।
প্রবাসী নাগরিকদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ যে উদ্যোগ নিয়েছে, সেই অভিজ্ঞতা জানতে ঢাকায় এসেছে নেপালের নির্বাচন কমিশনের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল। দুই দেশের নির্বাচন কমিশনের মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা জোরদার এবং নির্বাচনি ব্যবস্থাপনা নিয়ে অভিজ্ঞতা বিনিময়ের অংশ হিসেবে ৭ ও ৮ অক্টোবর দুই দিনব্যাপী ‘লার্নিং অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রাম’ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বুধবার সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন ও নেপাল নির্বাচন কমিশনের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। বাংলাদেশের পক্ষে বৈঠকে নেতৃত্ব দেবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দীন। সভায় নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাসুদ, বেগম তাহমিদা আহমদ, মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার এবং ব্রিগেডিয়ার জেনারেল অবসরপ্রাপ্ত আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ উপস্থিত থাকবেন। নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ এবং অতিরিক্ত সচিব মো. শামসুল আলমও আলোচনায় অংশ নেবেন। এ ছাড়া দেশের বাইরে ভোটদান ব্যবস্থা উন্নয়ন ও বাস্তবায়ন প্রকল্পের টিম লিডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল অবসরপ্রাপ্ত ড. সালীম আহমদ খান এবং উপপ্রকল্প পরিচালক মামুনুর হোসেন বৈঠকে অংশ নেবেন। জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি বা ইউএনডিপির নির্বাচনি সহায়তা কার্যক্রমের প্রতিনিধিরাও এ সময় উপস্থিত থাকবেন। নেপালের প্রতিনিধি দলে দেশটির দুজন নির্বাচন কমিশনার, নির্বাচন কমিশন সচিব এবং অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা রয়েছেন। ইউএনডিপির সার্বিক ব্যবস্থাপনায় এই সফর ও অভিজ্ঞতা বিনিময় কর্মসূচি আয়োজন করা হয়েছে। সফরের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে নেপালের প্রতিনিধি দল বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশন বাস্তবায়নাধীন ‘দেশের বাইরে ভোটদান সিস্টেম উন্নয়ন এবং বাস্তবায়ন’ প্রকল্পের বিভিন্ন কার্যক্রম সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করবে। ৭ ও ৮ অক্টোবর তারা প্রকল্পটির কারিগরি ও প্রশাসনিক বিভিন্ন দিক সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা নেবে। বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন প্রবাসী নাগরিকদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে যে পদ্ধতি, প্রযুক্তি এবং প্রশাসনিক কাঠামো নিয়ে কাজ করছে, নেপালের প্রতিনিধিরা সেসব বিষয়ে সরাসরি অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ পাবেন। একই সঙ্গে প্রকল্প বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জ, প্রযুক্তিগত প্রস্তুতি এবং ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন দিক নিয়েও আলোচনা হবে। নির্বাচন কমিশনের ভাষ্য অনুযায়ী, এ কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য হলো দুই দেশের নির্বাচন কমিশনের মধ্যে পেশাগত সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করা এবং প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা বাড়ানো। বিশেষ করে প্রবাসীদের ভোটাধিকার বাস্তবায়নে বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা, জ্ঞান ও উত্তম চর্চা নেপালের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়াকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বিদেশে অবস্থানরত নাগরিকদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের জন্যই একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ও প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ। বাংলাদেশের চলমান ওসিভি-এসডিআই প্রকল্প সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কীভাবে কাজ করছে, নেপালের প্রতিনিধিদের সফরের অন্যতম প্রধান আগ্রহের জায়গা সেটিই। দুই দিনের এই কর্মসূচিতে শুধু কারিগরি বিষয় নয়, ভোটার ব্যবস্থাপনা, প্রবাসী ভোটার শনাক্তকরণ, নিরাপত্তা, প্রশাসনিক সমন্বয় এবং ভবিষ্যৎ নির্বাচনে বিদেশে অবস্থানরত নাগরিকদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার সম্ভাব্য উপায় নিয়েও আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন আশা করছে, এই অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে দুই দেশের নির্বাচনি ব্যবস্থার সক্ষমতা বাড়বে এবং ভবিষ্যতে আরও নিয়মিত সহযোগিতার সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে প্রবাসী ভোটারদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে আঞ্চলিক পর্যায়ে বাস্তব অভিজ্ঞতা ভাগাভাগির নতুন পথও খুলতে পারে। সূত্র: ইত্তেফাক
যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষা, ভালো চাকরি এবং দীর্ঘমেয়াদি ক্যারিয়ার গড়ার স্বপ্ন নিয়ে ২০২২ সালে ভারত থেকে শিকাগোতে এসেছিলেন অনন্যা জোশি। নর্থওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটিতে বায়োটেকনোলজিতে মাস্টার্স শেষ করে কাল্টিভেটেড মিট নিয়ে কাজ করা একটি স্টার্টআপে বিজ্ঞানী হিসেবেও চাকরি পেয়েছিলেন। কিন্তু এইচ-১বি স্পনসরশিপের প্রতিশ্রুতি শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়িত না হওয়ায় এবং তার অপশনাল প্র্যাকটিক্যাল ট্রেনিং বা ওপিটি শেষ হয়ে আসায় যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে হয় তাকে। এখন জার্মানিতে নতুন করে ক্যারিয়ার ও জীবন গড়ছেন ২৬ বছর বয়সী এই ভারতীয় বিজ্ঞানী। বিজনেস ইনসাইডারকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জোশি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রে গড়ে তোলা জীবন একদিনে ছেড়ে চলে যাওয়ার অভিজ্ঞতা তার কাছে অনেকটা খারাপ স্বপ্ন থেকে হঠাৎ জেগে ওঠার মতো ছিল। তিনি যুক্তরাষ্ট্রে থাকার জন্য শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু বৈধভাবে কাজ চালিয়ে যাওয়ার পথ নিশ্চিত করতে পারেননি। নিউ দিল্লিতে বেড়ে ওঠা জোশির যুক্তরাষ্ট্রে পড়তে আসার স্বপ্নের সঙ্গে তার পরিবারের দীর্ঘদিনের আকাঙ্ক্ষাও জড়িয়ে ছিল। তার বাবা নিজে যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু আর্থিক কারণে সেই সুযোগ পাননি। পরে মেয়েকে যুক্তরাষ্ট্রে পড়াতে বছরের পর বছর অর্থ সঞ্চয় করেন তিনি। ভারতে বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ব্যাচেলর ডিগ্রি শেষ করার পর ২০২২ সালে ইলিনয়ে আসেন জোশি। নর্থওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটিতে বায়োটেকনোলজিতে মাস্টার্স করেন এবং ২০২৪ সালে ডিগ্রি সম্পন্ন করেন। পড়াশোনার সময়ই তিনি ল্যাবে তৈরি মাংস বা কাল্টিভেটেড মিট নিয়ে কাজ করা একটি স্টার্টআপে ছয় মাসের গবেষণা প্রোগ্রামে যুক্ত হন। পরবর্তী সময়ে সেই সুযোগ ফুল টাইম চাকরিতে পরিণত হয়। সেখানে বায়োপ্রসেস বিজ্ঞানী হিসেবে তিনি কাল্টিভেটেড মিটের উৎপাদন বড় পরিসরে নেওয়ার প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করতেন। বিজনেস ইনসাইডারের আগের প্রতিবেদনে বলা হয়, তার বার্ষিক বেতন ছিল প্রায় ৭৫ হাজার ডলার। ইভানস্টনে মাসে প্রায় ১ হাজার ৫০০ ডলারে অ্যাপার্টমেন্ট ভাড়া নিয়ে থাকতেন তিনি। চাকরি, বন্ধুদের সঙ্গে রোড ট্রিপ এবং শিকাগো এলাকার জীবন মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী হওয়ার পরিকল্পনাই করেছিলেন জোশি। কিন্তু তার ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস ছিল এফ-১ স্টুডেন্ট ভিসার সঙ্গে যুক্ত ওপিটি ওয়ার্ক অথরাইজেশনের ওপর নির্ভরশীল। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা ডিগ্রি শেষ করার পর নির্দিষ্ট সময় যুক্তরাষ্ট্রে নিজেদের পড়াশোনার সঙ্গে সম্পর্কিত ক্ষেত্রে কাজ করার জন্য ওপিটি ব্যবহার করতে পারেন। নির্দিষ্ট স্টেম ডিগ্রিধারীরা শর্ত পূরণ করলে অতিরিক্ত সময়ের জন্য স্টেম ওপিটি এক্সটেনশনের সুযোগ পান। জোশির ক্ষেত্রে সমস্যাটি তৈরি হয় তার নিয়োগকর্তাকে ঘিরে। তার দাবি অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটি শুরুতে এইচ-১বি স্পনসর করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু পরে কোম্পানি জানায়, প্রয়োজনীয় ই-ভেরিফাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে না পারায় তার ওপিটি বাড়ানো সম্ভব হচ্ছে না এবং শেষ পর্যন্ত এইচ-১বি স্পনসরশিপ থেকেও প্রতিষ্ঠানটি সরে আসে। তার ওপিটি ২০২৫ সালের জুলাইয়ে শেষ হওয়ার কথা ছিল। ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়ায় জোশি মে মাসে প্রতিষ্ঠানটিকে জানান, নতুন চাকরি খোঁজার জন্য সময় প্রয়োজন এবং তিনি চাকরি ছাড়তে অথবা পার্ট টাইম কাজ করতে চান। তার ভাষ্য অনুযায়ী, পরদিনই তাকে চাকরি থেকে ছাঁটাই করা হয়। এরপর যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে থাকার এবং কাজ করার সুযোগ ধরে রাখতে নতুন নিয়োগকর্তা খুঁজতে শুরু করেন তিনি। একই সময়ে জার্মানির একটি প্রতিষ্ঠানে আবেদন করেছিলেন। চাকরি হারানোর দিনই সেই সুযোগের বিষয়ে জানতে পারেন এবং জুলাইয়ে তার ওপিটি শেষ হওয়ার সময় জার্মানি থেকে চাকরির অফার পান। শেষ পর্যন্ত তিনি যুক্তরাষ্ট্রে নতুন স্পনসর খোঁজার ঝুঁকিপূর্ণ পথের বদলে জার্মানির চাকরিটি গ্রহণ করেন। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে তিনি জার্মানির রস্টকে চলে যান। সেখানেও একই ধরনের কাল্টিভেটেড মিট শিল্পে কাজ করছেন তিনি। জোশির ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রের এইচ-১বি ব্যবস্থাকে ঘিরে চলমান অনিশ্চয়তার একটি ব্যক্তিগত উদাহরণ হলেও একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়গত পার্থক্য রয়েছে। তার ওপিটি শেষ হয় এবং যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার সিদ্ধান্তের প্রক্রিয়া শুরু হয় ২০২৫ সালের জুলাইয়ের মধ্যেই। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন এইচ-১বি নীতির ১ লাখ ডলারের পেমেন্ট ব্যবস্থা আসে এর প্রায় দুই মাস পরে। ফলে ওই ফি সরাসরি জোশির চাকরি হারানো বা যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার কারণ ছিল না। ২০২৫ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প একটি প্রোক্লেমেশন সই করেন, যার অধীনে নির্দিষ্ট নতুন এইচ-১বি পিটিশনের সঙ্গে ১ লাখ ডলার পেমেন্ট বাধ্যতামূলক করা হয়। ব্যবস্থা কার্যকর হয় ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৫ থেকে। এটি আগে ইস্যু হওয়া এইচ-১বি ভিসা বা সাধারণ রিনিউয়ালের ওপর একইভাবে প্রযোজ্য নয় এবং নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে ছাড়ের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে ট্রাম্প প্রশাসন ওই ১ লাখ ডলারের ব্যবস্থা আরও এক বছরের জন্য বাড়িয়ে ২০২৭ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বহাল রাখে। একই সঙ্গে এইচ-১বি আবেদন যাচাই, নিয়োগকর্তার সাম্প্রতিক ছাঁটাই এবং উচ্চ দক্ষতা ও উচ্চ বেতনের কর্মীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার মতো বিষয়েও নতুন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এই পরিবর্তনের ফলে বিশেষ করে ছোট স্টার্টআপ এবং সীমিত বাজেটের প্রতিষ্ঠানে বিদেশি কর্মীদের এইচ-১বি স্পনসর করার সিদ্ধান্ত আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে। বিজনেস ইনসাইডারের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, গত এক বছরে একাধিক আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ও বিদেশি পেশাজীবী যুক্তরাষ্ট্রে ক্যারিয়ার চালিয়ে যাবেন নাকি অন্য দেশে সুযোগ খুঁজবেন, সেই সিদ্ধান্ত নতুন করে বিবেচনা করছেন। জোশিও এখন সেই দ্বিতীয় পথটি বেছে নিয়েছেন। জার্মানিতে স্থিতিশীল চাকরি পেলেও যুক্তরাষ্ট্রে ফেলে আসতে হয়েছে তার বন্ধু, সম্পর্ক এবং কয়েক বছরে গড়ে তোলা জীবন। তার প্রেমিক এখনো যুক্তরাষ্ট্রে রয়েছেন বলে তিনি জানিয়েছেন। তারপরও যুক্তরাষ্ট্রে ফেরার সম্ভাবনা পুরোপুরি বাদ দেননি জোশি। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে ভারতে নিজের ব্যবসা শুরু করার কথাও ভাবছেন। তবে তার অভিজ্ঞতা দেখাচ্ছে, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে ভালো ডিগ্রি এবং ভালো চাকরি পাওয়াই যথেষ্ট নয়। দীর্ঘমেয়াদে ক্যারিয়ার গড়তে হলে নিয়োগকর্তার স্পনসরশিপ এবং ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাসও সমান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রে প্রথমবার পাসপোর্ট পাওয়ার প্রক্রিয়া আরও সহজ হতে যাচ্ছে। ২০২৭ সাল থেকে মার্কিন নাগরিকরা নতুন একটি অনলাইন ব্যবস্থার মাধ্যমে ঘরে বসেই প্রথম পাসপোর্টের জন্য আবেদন করতে পারবেন বলে জানিয়েছে দেশটির পররাষ্ট্র দপ্তর। নতুন এই ব্যবস্থা চালু হলে কাগজপত্র পূরণ, পাসপোর্টের ছবি তোলা এবং আবেদন জমা দিতে আলাদাভাবে কোথাও যাওয়ার প্রয়োজন অনেকটাই কমে আসবে। পরিকল্পনাটি বাস্তবায়ন করা হবে সরকারের নতুন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম আমেরিকা ডট গভ-এর মাধ্যমে। ২০২৬ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর প্ল্যাটফর্মটির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও প্রথমবারের পাসপোর্ট আবেদন অনলাইনে করার পরিকল্পনা তুলে ধরেন। তিনি জানান, আগামী বছর থেকে মার্কিন নাগরিকরা প্রথম পাসপোর্টের আবেদন পুরোপুরি অনলাইনে সম্পন্ন করতে পারবেন। বর্তমানে প্রাপ্তবয়স্ক কেউ প্রথমবার মার্কিন পাসপোর্টের আবেদন করলে তাকে অনুমোদিত পাসপোর্ট গ্রহণকেন্দ্রে সরাসরি উপস্থিত হতে হয়। আবেদনকারীদের প্রয়োজনীয় ফরম পূরণ করে কাগজপত্র নিয়ে যেতে হয় এবং নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে সরাসরি সাক্ষাতের সময়ও নিতে হয়। নতুন ব্যবস্থা চালু হলে এই প্রক্রিয়ায় বড় পরিবর্তন আসবে। আবেদনকারীরা আমেরিকা ডট গভ-এ প্রবেশ করে ধাপে ধাপে আবেদন সম্পন্ন করতে পারবেন। পরিচয় যাচাইয়ের জন্য নিরাপদ সরকারি লগইন ব্যবস্থাও ব্যবহার করা হবে। সরকারের কাছে থাকা নির্দিষ্ট তথ্য নিরাপদভাবে আবেদন প্রক্রিয়ায় ব্যবহারের সুযোগ থাকবে। পাসপোর্টের ছবি তোলার ক্ষেত্রেও আসছে পরিবর্তন। আবেদনকারী নিজের মোবাইল ফোন ব্যবহার করে বাড়িতেই ছবি তুলতে পারবেন অথবা নিজের ডিভাইস থেকে ছবি জমা দিতে পারবেন। ছবিটি পছন্দ না হলে নতুন ছবি তুলে আবার জমা দেওয়ার সুযোগও থাকবে। তবে ছবিতে কৃত্রিম ফিল্টার বা এমন কোনো ডিজিটাল পরিবর্তন করা যাবে না, যা মুখের স্বাভাবিক চেহারা বদলে দেয়। আবেদনের ফিও অনলাইনে নিরাপদভাবে পরিশোধ করা যাবে। অর্থাৎ ফরম পূরণ, ছবি জমা এবং ফি পরিশোধ—সবকিছু একই ডিজিটাল প্রক্রিয়ার মাধ্যমে করার লক্ষ্য রয়েছে। এতে আবেদনকারীদের তৃতীয় পক্ষের কোনো সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে আবেদন করার প্রয়োজনও কমে যাবে। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা হবে আবেদনের অগ্রগতি দেখা। নতুন ব্যবস্থায় আবেদনকারীরা তাদের পাসপোর্ট আবেদনের বর্তমান অবস্থা অনলাইনে অনুসরণ করতে পারবেন। এমনকি পাসপোর্ট কবে নাগাদ পৌঁছাতে পারে, সে বিষয়ে সম্ভাব্য তারিখও দেখানো হবে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের কর্মকর্তাদের মতে, নতুন ব্যবস্থার মূল লক্ষ্য হলো নাগরিকদের সময় ও অর্থ সাশ্রয় করা। বর্তমানে অনেক আবেদনকারীকে শুধু পাসপোর্টের ছবি তোলা বা আবেদন জমা দেওয়ার জন্য আলাদা করে বাইরে যেতে হয়। নতুন ডিজিটাল প্রক্রিয়া চালু হলে সেই ঝামেলা অনেকটাই কমবে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের কর্মকর্তা লুক ওর্তেগা বলেন, যাদের আগে কোনো পাসপোর্ট ছিল না, তাদের জীবন আরও সহজ করাই এই পরিবর্তনের অন্যতম লক্ষ্য। তবে নতুন ব্যবস্থা এখনো সবার জন্য চালু হয়নি। বর্তমানে প্রথমবারের প্রাপ্তবয়স্ক পাসপোর্ট আবেদনকারীদের প্রচলিত নিয়মেই সরাসরি আবেদন করতে হচ্ছে। ২০২৭ সালে ধাপে ধাপে অনলাইন সুবিধা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। ভবিষ্যতে অধিকাংশ মার্কিন নাগরিককে আমেরিকা ডট গভ-এর মাধ্যমে পাসপোর্ট বা পাসপোর্ট কার্ডের আবেদন করার সুযোগ দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে। বর্তমানে বেশির ভাগ পাসপোর্ট নবায়নের আবেদন অনলাইনে করা যায়। নতুন পরিকল্পনার মাধ্যমে সেই ডিজিটাল সুবিধা প্রথমবারের আবেদনকারীদের কাছেও সম্প্রসারিত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, আবেদন প্রক্রিয়া অনলাইনে গেলেও মার্কিন পাসপোর্টের ক্ষেত্রে বিদ্যমান নিরাপত্তা মান বজায় থাকবে। শুধু আবেদন প্রক্রিয়াতেই পরিবর্তন আসছে না। ২০২৮ সাল থেকে মার্কিন পাসপোর্টের নকশাতেও পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা করেছে পররাষ্ট্র দপ্তর। নতুন পাসপোর্টে থাকবে নতুন artwork বা শিল্পকর্ম এবং আরও কিছু নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য। নতুন নকশা চালু হলেও বর্তমানে যাদের বৈধ মার্কিন পাসপোর্ট রয়েছে, তাদের শুধু নকশা পরিবর্তনের কারণে নতুন পাসপোর্ট নিতে হবে না। পুরোনো পাসপোর্ট মেয়াদ শেষ হওয়া পর্যন্ত বৈধ থাকবে, যদি সেটি অন্য কোনো কারণে বাতিল বা ব্যবহারের অনুপযোগী না হয়। অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্রের পাসপোর্ট ব্যবস্থায় আগামী দুই বছরে দুটি বড় পরিবর্তন আসতে পারে। ২০২৭ সালে প্রথমবার পাসপোর্ট আবেদনের প্রক্রিয়া অনলাইনে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এরপর ২০২৮ সালে নতুন নকশা ও নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্যসহ পাসপোর্ট চালুর প্রস্তুতি চলছে। এসব পরিবর্তনের ফলে ভবিষ্যতে মার্কিন নাগরিকদের পাসপোর্ট আবেদনে সময়, যাতায়াত এবং অতিরিক্ত সেবার খরচ—তিনটিই কমতে পারে।
সাধারণ চাকরির আবেদনে এক বা দুই পৃষ্ঠার সিভিই যথেষ্ট। দীর্ঘ কর্মজীবন থাকলে সেটি কয়েক পৃষ্ঠা হতে পারে। কিন্তু ২০২৬ সালের পদার্থবিজ্ঞানে নোবেলজয়ী বিজ্ঞানী ফ্রান্সিস হ্যালজেনের পূর্ণাঙ্গ কারিকুলাম ভিটা বা সিভি এতটাই দীর্ঘ যে সেটি দুই শতাধিক পৃষ্ঠায় বিস্তৃত। এর বড় অংশজুড়ে রয়েছে কয়েক দশকের বৈজ্ঞানিক গবেষণা, প্রকাশনা, কনফারেন্স পেপার, পুরস্কার ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার তালিকা। বেলজিয়ামে জন্ম নেওয়া মার্কিন পদার্থবিজ্ঞানী ফ্রান্সিস হ্যালজেন ২০২৬ সালের পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন অ্যান্টার্কটিকায় আইসকিউব নিউট্রিনো অবজারভেটরি গড়ে তোলা এবং মহাজাগতিক উৎস থেকে আসা উচ্চশক্তির নিউট্রিনো শনাক্তকরণে তার গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য। তিনি বর্তমানে ইউনিভার্সিটি অব উইসকনসিন ম্যাডিসনের ভিলাস রিসার্চ প্রফেসর এবং গ্রেগরি ব্রেইট প্রফেসর। বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০০১ সাল থেকে তিনি আইসকিউব প্রকল্পের প্রিন্সিপাল ইনভেস্টিগেটর এবং কো স্পোকসপারসন হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তবে আইসকিউবের সঙ্গে তার গবেষণার সম্পর্ক আরও পুরোনো। ১৯৮০-এর দশকের শেষ দিক থেকেই দক্ষিণ মেরুর বরফ ব্যবহার করে নিউট্রিনো শনাক্ত করার ধারণা নিয়ে কাজ শুরু করেছিলেন তিনি। হ্যালজেনের দীর্ঘ সিভির বড় অংশ গড়ে উঠেছে তার অসংখ্য বৈজ্ঞানিক প্রকাশনা দিয়ে। পার্টিকেল ফিজিক্স, অ্যাস্ট্রোফিজিক্স, কসমোলজি এবং নিউট্রিনো গবেষণায় কয়েক দশক ধরে তিনি কাজ করেছেন। বিশেষ করে আইসকিউবের মতো বড় আন্তর্জাতিক গবেষণা সহযোগিতায় প্রকাশিত বহু গবেষণাপত্রে তার নাম রয়েছে। আধুনিক বিজ্ঞান গবেষণায় বড় কোলাবোরেশনের প্রকাশনা তালিকা সাধারণ গবেষকের তুলনায় অনেক দীর্ঘ হতে পারে। আইসকিউব কোলাবোরেশনে বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শত শত বিজ্ঞানী যুক্ত। ফলে প্রকল্পের মাধ্যমে প্রকাশিত গবেষণাপত্র, কনফারেন্স প্রসিডিংস এবং অন্যান্য বৈজ্ঞানিক কাজের দীর্ঘ তালিকা হ্যালজেনের পূর্ণাঙ্গ সিভিকেও অস্বাভাবিকভাবে বড় করেছে। তার সিভিতে শুধু গবেষণাপত্র নয়, শিক্ষাজীবন, বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন পদ, গবেষণা নেতৃত্ব, আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক কমিটিতে দায়িত্ব এবং কয়েক দশকে পাওয়া পুরস্কারের তথ্যও রয়েছে। হ্যালজেন ১৯৬৯ সালে বেলজিয়ামের কে ইউ লুভেন থেকে পিএইচডি সম্পন্ন করেন। এরপর ১৯৭১ সালে ইউনিভার্সিটি অব উইসকনসিন ম্যাডিসনে রিসার্চ অ্যাসোসিয়েট হিসেবে যোগ দেন। পরবর্তী সময়ে তিনি অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর, অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর এবং প্রফেসর হন। কয়েক দশক ধরে একই বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণা ও শিক্ষকতায় যুক্ত রয়েছেন তিনি। তার কর্মজীবনের সবচেয়ে বড় অধ্যায় আইসকিউব নিউট্রিনো অবজারভেটরি। দক্ষিণ মেরুর প্রায় এক ঘনকিলোমিটার স্বচ্ছ বরফকে বিশাল কণা ডিটেক্টর হিসেবে ব্যবহার করে এই অবজারভেটরি। বরফের গভীরে হাজার হাজার আলোকসংবেদনশীল ডিটেক্টর বসানো হয়েছে। কোনো উচ্চশক্তির নিউট্রিনো বিরলভাবে পদার্থের সঙ্গে প্রতিক্রিয়া করলে যে ক্ষীণ আলোর সংকেত তৈরি হয়, তা শনাক্ত করে বিজ্ঞানীরা কণাটির উৎস সম্পর্কে ধারণা পান। নিউট্রিনো পদার্থের সঙ্গে খুব কম প্রতিক্রিয়া করে বলে এগুলো শনাক্ত করা অত্যন্ত কঠিন। এ কারণেই অনেক সময় এগুলোকে “ঘোস্ট পার্টিকল” বা ভুতুড়ে কণা বলা হয়। আইসকিউবের মাধ্যমে মহাকাশ থেকে আসা উচ্চশক্তির নিউট্রিনো শনাক্ত হওয়ায় মহাবিশ্ব পর্যবেক্ষণের নতুন একটি পথ তৈরি হয়েছে। হ্যালজেন প্রথম ১৯৮৮ সালের দিকে দক্ষিণ মেরুর বরফ ব্যবহার করে এই ধরনের বিশাল নিউট্রিনো ডিটেক্টরের ধারণা সামনে আনেন। দীর্ঘ গবেষণা, প্রযুক্তিগত পরীক্ষা এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার পর ২০১১ সালে আইসকিউবের নির্মাণ সম্পন্ন হয়। ২০১৩ সালে অবজারভেটরিটি উচ্চশক্তির মহাজাগতিক নিউট্রিনোর গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ প্রকাশ করে, যা আধুনিক অ্যাস্ট্রোপার্টিকেল ফিজিক্সে বড় অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হয়। এই দীর্ঘ গবেষণাজীবনে হ্যালজেন বহু আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে স্মিথসোনিয়ান আমেরিকান ইনজেনুইটি অ্যাওয়ার্ড, বালজান প্রাইজ, ইউরোপিয়ান ফিজিক্যাল সোসাইটির পুরস্কার, পন্টেকোরভো প্রাইজ এবং ব্রুনো রসি প্রাইজ। ২০২৬ সালের নোবেল পুরস্কার সেই দীর্ঘ তালিকায় সবচেয়ে বড় স্বীকৃতি হিসেবে যুক্ত হয়েছে। রয়্যাল সুইডিশ একাডেমি অব সায়েন্সেস তার আইসকিউব গবেষণা এবং মহাজাগতিক নিউট্রিনো শনাক্তকরণে নেতৃত্বকে পদার্থবিজ্ঞানের গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত “২৩০ পৃষ্ঠার সিভি” দাবিটিকে কিছুটা সতর্কতার সঙ্গে দেখা প্রয়োজন। হ্যালজেনের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে সত্যিই একটি অত্যন্ত দীর্ঘ পূর্ণাঙ্গ সিভি রয়েছে, পাশাপাশি একটি সংক্ষিপ্ত সংস্করণও রাখা হয়েছে। পূর্ণাঙ্গ সংস্করণ নিয়মিত আপডেট হওয়ায় সংস্করণভেদে এর পৃষ্ঠাসংখ্যা পরিবর্তিত হতে পারে। তাই নির্দিষ্টভাবে ২৩০ পৃষ্ঠা স্থায়ী সংখ্যা নয়। তারপরও হ্যালজেনের সিভির অস্বাভাবিক দৈর্ঘ্য একটি বিষয় স্পষ্ট করে। এটি চাকরির জন্য তৈরি সাধারণ সিভি নয়, বরং অর্ধশতাব্দীর বেশি সময়ের গবেষণা, প্রকাশনা এবং বৈজ্ঞানিক নেতৃত্বের পূর্ণাঙ্গ রেকর্ড। কয়েক পৃষ্ঠার কর্মজীবনের পরিচয়ের বদলে এটি যেন একজন বিজ্ঞানীর দীর্ঘ গবেষণাজীবনেরই লিখিত ইতিহাস।
নিউইয়র্ক সিটি আবারও বিশ্বের সেরা শহরের স্বীকৃতি পেয়েছে। অক্সফোর্ড ইকোনমিকসের ২০২৬ সালের গ্লোবাল সিটিজ ইনডেক্সে বিশ্বের ১ হাজার বৃহৎ শহরের মধ্যে প্রথম স্থান অর্জন করেছে নিউইয়র্ক। বর্তমান মেয়র জোহরান মামদানির দায়িত্বের প্রথম বছরেই এই র্যাঙ্কিং প্রকাশিত হলেও, গবেষণা প্রতিষ্ঠানটি স্পষ্ট করেছে যে নিউইয়র্কের শীর্ষ অবস্থান কোনো একক মেয়র বা প্রশাসনের কারণে নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক ও কাঠামোগত শক্তির ফল। অক্সফোর্ড ইকোনমিকস শহরগুলোর অবস্থান নির্ধারণে পাঁচটি প্রধান বিষয় বিবেচনা করেছে। এগুলো হলো অর্থনীতি, মানবসম্পদ, জীবনযাত্রার মান, পরিবেশ এবং শাসনব্যবস্থা। এই পাঁচ সূচকের সমন্বিত স্কোরে নিউইয়র্ক পেয়েছে ১০০, যা তালিকার সর্বোচ্চ। নিউইয়র্কের সবচেয়ে শক্তিশালী অবস্থান অর্থনীতিতে। এই বিভাগে শহরটি পূর্ণ ১০০ স্কোর পেয়েছে। মানবসম্পদে স্কোর ৮৯ দশমিক ৫, জীবনযাত্রার মানে ৮০ দশমিক ৮, পরিবেশে ৭২ দশমিক ৮ এবং শাসনব্যবস্থায় ৭৫ দশমিক ৭। তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে লন্ডন, যার সামগ্রিক স্কোর ৯৮ দশমিক ৮। তৃতীয় প্যারিস, চতুর্থ সিয়াটল এবং পঞ্চম সান ফ্রান্সিসকো। শীর্ষ দশে আরও রয়েছে ডাবলিন, বোস্টন, সান হোসে, টোকিও এবং জুরিখ। অক্সফোর্ড ইকোনমিকস বলেছে, নিউইয়র্ক ও লন্ডন শীর্ষে থাকার অন্যতম বড় কারণ তাদের বিশাল অর্থনীতি এবং শক্তিশালী শ্রমবাজার। বিশেষ করে নিউইয়র্ক বিশ্বের বৃহত্তম মেট্রো অর্থনীতির অধিকারী। প্রতিষ্ঠানটির বিশ্লেষণ অনুযায়ী, শহরটির অর্থনৈতিক আকার টোকিও ও লস অ্যাঞ্জেলেসের তুলনায়ও উল্লেখযোগ্যভাবে বড়। গ্লোবাল সিটিজ ইনডেক্সে শুধু বর্তমান অবস্থা নয়, একটি শহরের দীর্ঘমেয়াদি সক্ষমতা, স্থিতিশীলতা এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনাও বিবেচনা করা হয়। অর্থনৈতিক আকার, কর্মসংস্থান, শিক্ষিত ও দক্ষ জনশক্তি, জীবনযাত্রার পরিবেশ, প্রাকৃতিক পরিস্থিতি এবং প্রশাসনিক কাঠামো মিলিয়ে প্রতিটি শহরের অবস্থান নির্ধারণ করা হয়। নিউইয়র্কের শীর্ষস্থান নিয়ে আলোচনায় মেয়র জোহরান মামদানির নামও উঠে এসেছে। তিনি ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি নিউইয়র্ক সিটির ১১২তম মেয়র হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তার নির্বাচনের আগে ও পরে বিভিন্ন সমালোচক আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন, তার কিছু নীতি শহরের অর্থনীতি ও ব্যবসার পরিবেশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তবে অক্সফোর্ড ইকোনমিকসের ২০২৬ সালের সূচক মামদানির প্রশাসনকে নিউইয়র্কের প্রথম হওয়ার কৃতিত্ব দেয়নি। প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, বিশ্বের শীর্ষ শহরগুলোর শক্তি বহু বছর ধরে গড়ে ওঠা অর্থনৈতিক ও সামাজিক কাঠামোর ওপর নির্ভর করে। কয়েক বছরের দুর্বল প্রবৃদ্ধি বা রাজনৈতিক পরিবর্তনও অনেক সময় এসব শহরের মৌলিক প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান দ্রুত বদলে দিতে পারে না। নিউইয়র্কের অর্থনৈতিক শক্তির বড় অংশ আসে ফাইন্যান্স, প্রফেশনাল সার্ভিস, টেকনোলজি, মিডিয়া, রিয়েল এস্টেট এবং অন্যান্য বড় খাত থেকে। বিশেষ করে বৈশ্বিক ফাইন্যান্স সেন্টার হিসেবে শহরটির দীর্ঘদিনের অবস্থান এখনো এর অর্থনৈতিক স্কোরকে শক্তিশালী রাখছে। তবে সূচকে নিউইয়র্ক সব ক্ষেত্রেই প্রথম নয়। পরিবেশ এবং শাসনব্যবস্থায় শহরটির স্কোর অর্থনীতি ও মানবসম্পদের তুলনায় কম। অর্থাৎ বিশ্বের সেরা সামগ্রিক শহর হলেও আবাসন ব্যয়, জীবনযাত্রার চাপ, পরিবেশ এবং প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জের মতো বিষয় এখনো নিউইয়র্কের সামনে রয়েছে। ২০২৬ সালের র্যাঙ্কিংয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, শীর্ষ তিন শহরের অবস্থান গত বছরের তুলনায় অপরিবর্তিত। নিউইয়র্ক প্রথম, লন্ডন দ্বিতীয় এবং প্যারিস তৃতীয় অবস্থান ধরে রেখেছে। অক্সফোর্ড ইকোনমিকস বলছে, এটি দেখায় যে বিশ্বের শীর্ষ শহরগুলোর অর্থনৈতিক ও মানবসম্পদভিত্তিক শক্তি দীর্ঘমেয়াদে বেশ স্থিতিশীল। বিশ্বের ১ হাজার শহরের মধ্যে নিউইয়র্কের আবারও প্রথম হওয়া শহরটির বৈশ্বিক গুরুত্বের একটি বড় স্বীকৃতি। বিশেষ করে অর্থনীতি ও মানবসম্পদে শক্তিশালী অবস্থান নিউইয়র্ককে বিশ্বের অন্যতম প্রধান ব্যবসা, কর্মসংস্থান এবং প্রতিভার কেন্দ্র হিসেবে ধরে রেখেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএর সাবেক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ডেভিড জে. রাশ ফেডারেল সরকারের প্রায় ১৯ কোটি ৪০ লাখ ডলার প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নেওয়ার দায় স্বীকার করেছেন। ভার্জিনিয়ার অ্যাশবার্নের বাসিন্দা ৪৯ বছর বয়সী রাশ মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ফেডারেল আদালতে ওয়্যার ফ্রডের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তার বাড়িতে অভিযান চালিয়ে এফবিআই ২৯৮টি স্বর্ণের বার, বিপুল নগদ অর্থ এবং বিলাসবহুল ঘড়ি উদ্ধার করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ জানিয়েছে, রাশ একটি ফেডারেল সংস্থায় জ্যেষ্ঠ নির্বাহী পর্যায়ে কর্মরত ছিলেন এবং তার টপ সিক্রেট ও সেনসিটিভ কম্পার্টমেন্টেড ইনফরমেশন নিরাপত্তা অনুমোদন ছিল। সিআইএ পরিচালক জন র্যাটক্লিফ নিশ্চিত করেছেন, সংস্থাটির অভ্যন্তরীণ তদন্তে সম্ভাব্য অপরাধ শনাক্ত হওয়ার পর বিষয়টি এফবিআইয়ের কাছে পাঠানো হয়। আদালতের নথি অনুযায়ী, রাশ নিজের সরকারি পদ ও নিরাপত্তা অনুমোদনকে কাজে লাগিয়ে কাল্পনিক সরকারি কর্তৃত্ব তৈরি করেন। এমনকি তিনি একটি ভুয়া স্পেশাল অ্যাকসেস প্রোগ্রামও দাঁড় করান, যার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের অর্থ নিজের নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন। বিচার বিভাগের হিসাবে, এই জালিয়াতির মাধ্যমে তিনি মোট প্রায় ১৯ কোটি ৩৫ লাখ ৯০ হাজার ৪০০ ডলার সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করেন। এর একটি অংশ দিয়ে তিনি বিপুল পরিমাণ স্বর্ণের বার কেনেন এবং প্রায় ১৪ কোটি ৫০ লাখ ডলার বিভিন্ন ওয়্যার ট্রান্সফারের মাধ্যমে সরিয়ে নেন। তদন্তকারীদের তথ্য অনুযায়ী, ওই অর্থ পরে ফ্লোরিডায় বিলাসবহুল রিয়েল এস্টেট, দামি ঘড়ি এবং অন্তত একটি গাড়ি কিনতে ব্যবহার করা হয়। সরকারি অর্থে কেনা স্বর্ণের বারগুলোর আনুমানিক মূল্য ছিল ৪ কোটি ৬০ লাখ ডলার। গত ১৯ মে এফবিআই রাশের বাড়িতে তল্লাশি চালায়। সেখানে ২৯৮টি স্বর্ণের বার, প্রায় ২১ লাখ ৬ হাজার ৫৫০ ডলার নগদ অর্থ, ১ লাখ ৪ হাজার ৭৯৫ ইউরো এবং বিপুলসংখ্যক বিলাসবহুল ঘড়ি উদ্ধার করা হয়। দোষ স্বীকারের চুক্তির অংশ হিসেবে রাশ উদ্ধার হওয়া স্বর্ণের বার ও নগদ অর্থ, প্রতারণার অর্থে কেনা সম্পত্তি, ৩০টি ঘড়ি এবং দুটি ২০২৬ মডেলের বিএমডব্লিউ আলপিনা গাড়ি সরকারের কাছে সমর্পণ করতে সম্মত হয়েছেন। এসব ঘড়ির অনেকগুলোই রোলেক্স। দুটি গাড়ির মধ্যে অন্তত একটির মূল্য প্রায় ১ লাখ ৭২ হাজার ডলার। বিচার বিভাগের নথিতে আরও বলা হয়েছে, রাশ নিজের শিক্ষাগত যোগ্যতা ও সামরিক অভিজ্ঞতা সম্পর্কেও মিথ্যা তথ্য দিয়ে জ্যেষ্ঠ সরকারি পদে পৌঁছেছিলেন। তার বিরুদ্ধে সরকারি ব্যবস্থার নিরাপত্তা প্রটোকলকে ব্যক্তিগত লাভের জন্য অপব্যবহারের অভিযোগও রয়েছে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাশের বিরুদ্ধে শ্রেণিবদ্ধ তথ্য বিদেশি এক কর্মকর্তাকে দেওয়ার ঘটনাও উঠে এসেছে। এ বিষয়টি জাতীয় নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগের কারণ হয়েছে এবং তদন্ত এখনো চলমান রয়েছে। সিআইএ পরিচালক জন র্যাটক্লিফ বলেছেন, সংস্থাটির অভ্যন্তরীণ তদন্তে সম্ভাব্য অপরাধ ধরা পড়ার পর তা দ্রুত এফবিআইকে জানানো হয়। তিনি বলেন, রাশ তার দায়িত্ব ও জনআস্থার অপব্যবহার করেছেন এবং তাকে জবাবদিহির আওতায় আনা উচিত। এফবিআই পরিচালক কাশ প্যাটেল বলেছেন, নিজের স্বীকারোক্তিতেই রাশ সরকারি অর্থ প্রতারণার মাধ্যমে নিয়েছিলেন এবং সেই অর্থ বিলাসবহুল কেনাকাটায় ব্যবহার করেছিলেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, কোনো সরকারি পদ, নিরাপত্তা অনুমোদন বা সরকারি সম্পদের প্রবেশাধিকার কাউকে আইনের ঊর্ধ্বে রাখে না। যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঞ্চও ঘটনাটিকে জনআস্থার গুরুতর অপব্যবহার হিসেবে উল্লেখ করেছেন। বিচার বিভাগের ন্যাশনাল সিকিউরিটি ডিভিশন বলেছে, এই প্রতারণা শুধু আর্থিক ক্ষতিই করেনি, গোয়েন্দা সংস্থার ওপর জনগণের আস্থাকেও ক্ষতিগ্রস্ত করার ঝুঁকি তৈরি করেছে। ডেভিড রাশের সাজা ঘোষণা করা হবে ২০২৭ সালের ২৮ জানুয়ারি ভার্জিনিয়ার আলেকজান্দ্রিয়ায়। ওয়্যার ফ্রডের অভিযোগে তার সর্বোচ্চ ২০ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। এর পাশাপাশি তিন বছরের সুপারভাইজড রিলিজ, ক্ষতিপূরণ, সম্পদ বাজেয়াপ্ত এবং জরিমানার মুখোমুখিও হতে পারেন তিনি। মামলাটির তদন্ত এখনো চলমান। যুক্তরাষ্ট্রের ডিরেক্টর অব ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স ইতোমধ্যে ইন্টেলিজেন্স কমিউনিটির ইন্সপেক্টর জেনারেলকে আলাদা তদন্ত শুরু করার অনুরোধ জানিয়েছেন।
২০১১ সালের ডিসেম্বরে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং ইলের মৃত্যুর পর দেশজুড়ে কঠোর রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছিল। রাষ্ট্রীয় প্রচারমাধ্যমে দেখা যায়, পিয়ংইয়ংয়ের সড়ক ও বিভিন্ন স্মৃতিস্তম্ভের সামনে হাজার হাজার মানুষ কাঁদছেন, চিৎকার করছেন এবং বুক চাপড়াচ্ছেন। তবে পরে প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে আসে, এই শোক শুধু আবেগের প্রকাশ ছিল না, বরং তা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত ও পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছিল। কিম জং ইল ২০১১ সালের ১৭ ডিসেম্বর মারা যান। তার মৃত্যুর খবর আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয় ১৯ ডিসেম্বর। উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া কমিটি ১৭ থেকে ২৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক শোকপর্ব ঘোষণা করে। ২৮ ডিসেম্বর পিয়ংইয়ংয়ে তার শেষকৃত্য এবং পরদিন কেন্দ্রীয় স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের সম্প্রচারে কিম জং ইলের শেষযাত্রার সময় তুষারে ঢাকা সড়কের দুই পাশে বিপুলসংখ্যক মানুষকে কাঁদতে দেখা যায়। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোও সে সময় পিয়ংইয়ংয়ের শোকানুষ্ঠানের দৃশ্য প্রচার করে। তবে উত্তর কোরিয়ার অভ্যন্তরীণ সূত্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ডেইলি এনকে পরে জানায়, এসব অনুষ্ঠানে মানুষের উপস্থিতি এবং আচরণ অনেক ক্ষেত্রেই সংগঠিত ও বাধ্যতামূলক ছিল। ডেইলি এনকের ২০১১ সালের ডিসেম্বরের একটি প্রতিবেদনে উত্তর কোরিয়ার অভ্যন্তরীণ সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়, কারখানা, কর্মস্থল ও স্থানীয় প্রশাসনিক ইউনিট থেকে নির্দিষ্ট সময় ধরে মানুষকে শোকানুষ্ঠানে অংশ নিতে পাঠানো হচ্ছিল। অনেকের জন্য স্মৃতিস্তম্ভে গিয়ে শ্রদ্ধা জানানো কার্যত বাধ্যতামূলক ছিল। সবচেয়ে আলোচিত অভিযোগ আসে শোকপর্ব শেষ হওয়ার পর। ২০১২ সালের জানুয়ারিতে ডেইলি এনকে উত্তর হামগিয়ং প্রদেশের একটি সূত্রের বরাত দিয়ে জানায়, যারা আয়োজিত শোকসভায় অংশ নেননি অথবা উপস্থিত হয়েও যথেষ্ট দুঃখ প্রকাশ করেননি, তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছিল। প্রতিবেদনটিতে দাবি করা হয়, কারও শোক যথেষ্ট আন্তরিক মনে না হলে তাকে অন্তত ছয় মাসের জন্য শ্রম প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে পাঠানো হতে পারে। একই সঙ্গে বিভিন্ন কর্মস্থল ও স্থানীয় ইউনিটে আত্মসমালোচনামূলক সভার আয়োজন করা হয়েছিল। যারা শোকানুষ্ঠানে অনুপস্থিত ছিলেন, তাদের দেশদ্রোহী এবং যাদের আচরণ যথেষ্ট শোকাহত মনে হয়নি, তাদের প্রতিক্রিয়াশীল হিসেবে চিহ্নিত করার অভিযোগও উঠে আসে। তবে উত্তর কোরিয়া অত্যন্ত বন্ধ ও তথ্যনিয়ন্ত্রিত রাষ্ট্র হওয়ায় এসব শাস্তির পূর্ণাঙ্গ সরকারি নথি স্বাধীনভাবে যাচাই করা কঠিন। ফলে ডেইলি এনকের এসব তথ্যকে অভ্যন্তরীণ সূত্রনির্ভর প্রতিবেদন হিসেবেই দেখা প্রয়োজন। শেষকৃত্যের দিন পোশাক নিয়েও কঠোর নির্দেশনার অভিযোগ ছিল। ডেইলি এনকের একটি প্রতিবেদনে পিয়ংইয়ংয়ের এক সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়, ২৮ ডিসেম্বরের শোকযাত্রায় অংশগ্রহণকারীদের টুপি, গ্লাভস ও স্কার্ফ না পরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তখন পিয়ংইয়ংয়ের তাপমাত্রা হিমাঙ্কের নিচে ছিল। প্রতিবেদনটিতে আরও বলা হয়, শোকযাত্রার সারির পেছনে পর্যবেক্ষক রাখা হয়েছিল। তবে এই দাবির সব অংশ স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। একই সময়ের কিছু ছবি ও আন্তর্জাতিক সংবাদ প্রতিবেদনে কিছু অংশগ্রহণকারীকে শীতের পোশাক পরতেও দেখা যায়। ফলে পোশাকসংক্রান্ত নির্দেশনার প্রয়োগ কতটা সর্বজনীন ছিল, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। উত্তর কোরিয়ায় শোকপর্বে বিনোদন, মদ্যপান এবং উচ্চস্বরে উৎসবধর্মী কর্মকাণ্ড বন্ধ রাখার নির্দেশ ছিল বলেও সে সময় একাধিক সংবাদমাধ্যম জানায়। বাজার কার্যক্রম সীমিত বা বন্ধ রাখার কথাও ডেইলি এনকের অভ্যন্তরীণ সূত্রভিত্তিক প্রতিবেদনে উঠে আসে। আরও কঠোর কিছু দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লেও সেগুলোর সবগুলো নির্ভরযোগ্যভাবে প্রমাণিত নয়। বিশেষ করে নিজের পরিবারের কেউ মারা গেলে প্রকাশ্যে কাঁদা নিষিদ্ধ ছিল কিংবা শোকের নিয়ম ভাঙলেই মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হতো, এমন দাবির পক্ষে নির্ভরযোগ্য ও স্বাধীন প্রমাণ সীমিত। তাই এসব বিষয়কে নিশ্চিত তথ্য হিসেবে উপস্থাপন করা ঠিক হবে না। তবে তুলনামূলকভাবে শক্তভাবে নথিবদ্ধ যে বিষয়টি হলো, কিম জং ইলের মৃত্যুর পর উত্তর কোরিয়ায় শোক ছিল রাষ্ট্রীয়ভাবে সংগঠিত, পর্যবেক্ষিত এবং রাজনৈতিক আনুগত্যের সঙ্গে যুক্ত। ডেইলি এনকের পরবর্তী প্রতিবেদনগুলোতে অভিযোগ করা হয়, শোকপর্বে অনুপস্থিতি, মদ্যপান, সরকারের সমালোচনা বা শোকের আবহ ভঙ্গ করার অভিযোগে কাউকে শ্রমশিবিরে পাঠানো, দলীয় পদ হারানো কিংবা দূরবর্তী এলাকায় নির্বাসনের মতো শাস্তিও দেওয়া হয়েছে। কিম জং ইলের শেষকৃত্য শুধু একজন নেতার মৃত্যুর আনুষ্ঠানিকতা ছিল না। এটি একই সঙ্গে ক্ষমতা তার ছেলে কিম জং উনের হাতে হস্তান্তরের একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হয়ে ওঠে। শেষযাত্রায় কিম জং উনকে বাবার কফিনবাহী গাড়ির পাশে হাঁটতে দেখা যায়। এরপর দ্রুতই তিনি উত্তর কোরিয়ার নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হন।