মৃদুল রহমান
বিশিষ্ট কবি ,প্রাবন্ধিক ও কথাসাহিত্যিক রচস্টার, নিউইয়র্ক; যুক্তরাষ্ট্র
শুরুতেই মাননীয় সংসদ সদস্য জনাব হাসনাত আবদুল্লাহর ‘এমপিদের জন্য গাড়ী চাওয়া’ বক্তব্যের রেশ ধরে ফেসবুকে পাবলিক প্রতিক্রিয়ার কিছু চিত্র তুলে ধরছি—
একজন রাজনীতিবিদ লিখেছেন, ‘যেখানে উপজেলার সর্বনিম্ন পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তা/ এসি ল্যান্ড এসি গাড়ি পায়, সেখানে একজন এমপি সরকারি গাড়ি পেতেই পারে। কিন্তু হাসনাত আব্দুল্লাহর গাড়ি চাওয়ার উপস্থাপনা ছিল বিভ্রান্তিকর। সে এই গাড়ি চাওয়ার যুক্তি না দিয়ে রীতিমত ভিক্ষা চেয়েছে।
কেউ লিখেছেন, ‘গাড়ি চাইবেন চান, ইউএনও, সচিবদের টানেন কেন? তারা প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী। এমপিরা প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী নন। যিনি সংসদে গাড়ি চাই প্রসঙ্গ তুলেছেন তিনি কি নিজের ওজনটা ভুলে গেছেন। গাড়ি দশবার কেন,দুইশবার চান-কিন্তু নিজেদের ইউএনও সচিবদের স্তরে নামিয়ে আনেন কেন! লজ্জা করে না?
আবার কেউ কেউ স্ট্যাটাস দিয়েছেন, ‘সরকারি মালিকানাধীন গাড়ির সমস্ত খরচ তো সরকারকেই বহন করতে হবে নাকি সেই খরচ হাসনাত নিজের পকেট থেকে বহন করবেন ?
কেউ এভাবেও প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন, ‘যেদিক থেকেই হিসেব করেন অর্থ তো জনগণের ট্যাক্স থেকেই যাবে I সেটা ট্যাক্স ফ্রি গাড়ি আর সরকারি খরচে মেয়াদ শেষে ফিরিয়ে দেওয়া গাড়ি হোক!
সরকারি খরচে এমপিদের গাড়ি দেওয়ার চেয়ে ট্যাক্স ফ্রি গাড়ি দেওয়া সরকার ও দেশের জন্য বেশি লাভজনক কারন তখন গাড়ির মেরামতসহ অন্যান্য খরচ নিয়ে দুর্নীতি করার সুযোগ থাকবে না I আর সরকারি খরচে গাড়ি দিলে ৯০% এমপিরা গাড়ি মেরামতের নামে কোটি কোটি টাকা লোপাট করবে আর সংসদ সদস্যদের মেয়াদ শেষে গাড়িটি যখন সরকারকে ফিরিয়ে দেয়া হবে তখন সেটা গার্বেজ করা ছাড়া অন্য কোনো উপায় থাকবে না I
পাবলিক প্রতিক্রিয়া বলে কথা ! গণতন্ত্রে বাক-স্বাধীনতার তোপ বলে কথা। আলোচনা-সমালোচনা আছে মানেই গণতন্ত্র মুখের ঘুমটা খুলেছে অন্তত এতটুকু ধারণা করা যায়। তবে মূল বক্তব্য কিংবা বক্তার প্রকৃত বক্তব্য পরিবর্তন, পরিবর্ধন, সংযোজন-বিয়োজন করে ট্রল করায় গণতন্ত্রের আসল চেহারাটা লুকিয়ে যেতে পারে ।
সংসদ সদস্যদের জন্য গাড়ী কিংবা উপজেলা ভবনে সংসদ সদস্যদের জন্য বসার জায়গা বা অফিসের আবদার —এই সামান্য আবদারের মধ্যদিয়ে সংসদ আর সংসদের বাইরে যে আলোচনা শুরু হয়, তা খুব দ্রুতই সাধারণ প্রসঙ্গ থেকে বহুমাত্রিক সামাজিক ও রাজনৈতিক আলোচনায় রূপ নেয়। কোথাও এটি স্বাভাবিক প্রয়োজন হিসেবে দেখা হয়, কোথাও ব্যঙ্গের উপাদান হয়, আবার কোথাও নৈতিক প্রশ্নের জন্ম দেয়। আমাদের বাস্তবতায় এমন সরল বাক্যও অনেক সময় জটিল প্রতিক্রিয়ার কেন্দ্র হয়ে ওঠে।
মজার ব্যাপার হলো, কেউ কিছু চাইলে সেটা ‘লজ্জার’ কিন্তু না চাইলে সেটা আবার ‘অদক্ষতা’। এক অদ্ভুত ব্যালান্স; যেখানে চাওয়া - না চাওয়া দুটোই ঝুঁকিপূর্ণ। তাই হাসি, ব্যঙ্গ, আর তামাশার আড়ালে ব্যাপারটা দাঁড়ায় এমন—সবাই জানে কী চলছে, সবাই বোঝে কেন চলছে, কিন্তু প্রকাশ্যে সবাই শুধু বলে, ‘আরে না না, এটা তো স্বাভাবিক বিষয়!
এমপিদের জন্য গাড়ী চাওয়া বা আবদার —এটা শুনলে প্রথমে একটু ব্যঙ্গ লাগে, কিন্তু বাস্তবে ছবিটা আরও জটিল আর একটু অস্বস্তিকরও।
উপজেলা পর্যায়ে যখন চেয়ারম্যান, ইউএনও, ওসি—সবাই অফিসিয়াল গাড়িতে চলাচল করেন, তখন এমপির ‘স্থানীয় উপস্থিতি’ অনেক সময় কাগজে-কলমে যতটা শক্তিশালী, বাস্তব চলাচলে ততটা দৃশ্যমান থাকে না। ফলে সেই ফাঁকটা মানুষের চোখে একটা তুলনা তৈরি করে—‘অন্যরা গাড়িতে, এমপি কেন নয়?
এখানেই শুরু হয় রাজনৈতিক ইমেজের খেলা। গাড়ি এখানে শুধু যানবাহন না; এটা এক ধরনের ‘স্টেটাস সিগনাল’, মানে আপনি কতটা দৃশ্যমান, কতটা প্রভাবশালী, সেটা অনেকেই চোখে দেখে মাপতে চায়। তাই কেউ কেউ এটাকে ধরে নেয় ‘না থাকা মানে কম থাকা’ হিসেবে।
কিন্তু অন্য দিকটাও আছে—এমপির গাড়ি না থাকা মানেই যে তিনি দুর্বল বা পিছিয়ে, সেটা সব সময় ঠিক নয়। অনেক সময় এটা ইচ্ছাকৃত সংযম, আবার অনেক সময় প্রশাসনিক কাঠামোর ভেতরে ভিন্ন ভিন্ন বরাদ্দ ও প্রোটোকলের পার্থক্য। সবাই একই লজিকে চলে না।
সমস্যাটা শুরু হয় যখন এই প্রশাসনিক গাড়িগুলো ধীরে ধীরে ‘সার্ভিস টুল’ থেকে ‘প্রভাবের প্রতীক’ হয়ে যায়। তখন কে কোন গাড়িতে যাচ্ছে, সেটা আর শুধু অফিসিয়াল সুবিধা থাকে না; এটা হয়ে যায় কে কতটা ‘ওজনদার’ তার এক ধরনের অলিখিত পরিমাপ।
আর এখানেই আসে সেই অলিখিত সংস্কৃতি; যেখানে উপঢৌকন, সুবিধা, প্রোটোকল সবকিছু একে অপরের সাথে মিশে যায়। প্রকাশ্যে কেউ বলবে না, কিন্তু ভেতরে একটা ধারণা কাজ করে—‘যার যত দৃশ্যমান সুবিধা, তার তত অদৃশ্য প্রভাব।
তাই এমপির গাড়ি থাকা বা না থাকা—এটা শুধু একটা প্রশাসনিক প্রশ্ন না। এটা অনেকটা স্থানীয় ক্ষমতার প্রতীকী ভাষা, যেখানে লোকে চোখ দিয়ে রাজনীতি পড়ে। শেষ পর্যন্ত বাস্তবতা হলো, গাড়ি থাকা-না থাকা দিয়ে দায়িত্বের মান মাপা যায় না। কিন্তু আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে অনেক সময় সেটাই হয়ে যায় সবচেয়ে সহজ, আর সবচেয়ে ভুল মাপকাঠি।
আমাদের প্রশাসনিক কাঠামোতে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বা সহকারী কমিশনার (ভূমি)—এদের জন্য সরকারি যানবাহন কোনো ব্যক্তিগত বিলাসিতা নয়। এটি মূলত দায়িত্ব পালনের একটি কার্যকর উপকরণ। মাঠ পর্যায়ে দ্রুত পৌঁছানো, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা এবং উন্নয়ন প্রকল্প তদারকি করার মতো কাজের জন্য যানবাহন একটি প্রয়োজনীয় সহায়তা হিসেবে কাজ করে। এই বাস্তবতায় গাড়িকে বিলাসিতা হিসেবে দেখার সুযোগ কম।
কিন্তু সমস্যা তৈরি হয় তখন, যখন এই কার্যকর উপকরণটি ধীরে ধীরে সামাজিক প্রতীকে পরিণত হয়। গাড়ি তখন আর শুধু চলাচলের মাধ্যম থাকে না, বরং এটি হয়ে ওঠে ক্ষমতা, অবস্থান এবং প্রভাবের দৃশ্যমান একটি চিহ্ন। ফলে একই গাড়ি প্রশাসনিক দৃষ্টিতে যতটা ব্যবহারিক, সামাজিক দৃষ্টিতে ততটাই প্রতীকী অর্থ বহন করতে শুরু করে।
এই প্রতীকী ব্যাখ্যার কারণেই অনেক সময় সাধারণ প্রশাসনিক বিষয়ও জনমনে ভিন্ন মাত্রার আলোচনার জন্ম দেয়। কে কোন গাড়িতে চলাচল করছে, সেটি অনেকের কাছে তার অবস্থান ও প্রভাবের পরিমাপক হিসেবে দেখা হয়। ফলে বাস্তব প্রয়োজন এবং সামাজিক ব্যাখ্যার মধ্যে একটি দূরত্ব তৈরি হয়।
সংসদ সদস্যদের ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও জটিল রূপ নেয়। তাদের মূল দায়িত্ব আইন প্রণয়ন এবং জাতীয় নীতি নির্ধারণ হলেও, বাস্তবে তারা স্থানীয় উন্নয়ন ও জনসংযোগের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে ওঠেন। এলাকার মানুষ অনেক সময় এমপিকে শুধুমাত্র জাতীয় প্রতিনিধি হিসেবে নয়, বরং স্থানীয় সমস্যা সমাধানের একটি কেন্দ্র হিসেবে দেখে। এই বাস্তবতায় তাদের চলাচলও অনেক সময় ‘উপস্থিতি ও দৃশ্যমানতার’ অংশ হয়ে যায়।
এই প্রেক্ষাপটে যাতায়াতের সুবিধা নিয়ে কোনো মন্তব্য বা প্রত্যাশা উঠলে তা শুধু প্রশাসনিক আলোচনায় সীমাবদ্ধ থাকে না, বরং সামাজিক ও রাজনৈতিক ব্যাখ্যার অংশ হয়ে যায়। একই বক্তব্য কোথাও স্বাভাবিক মনে হয়, আবার কোথাও অতিরিক্ত দাবি হিসেবে বিবেচিত হয়।
উপজেলা ভবনের ভেতরে এমপিদের জন্য বরাদ্দকৃত কক্ষও এই বাস্তবতার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এটি সাধারণত একটি অফিস কক্ষ হলেও অনেক সময় তা ধীরে ধীরে স্থানীয় যোগাযোগের একটি কেন্দ্র হয়ে ওঠে। সেখানে মানুষ আসবে, কেউ ফাইল নিয়ে আসবে, কেউ পরিচয় নিয়ে আসবে, কেউ আবার শুধুমাত্র উপস্থিতি জানাতে আসবে।
সকাল হলে সেখানে চা আসবে এবং পরিবেশ ধীরে ধীরে সক্রিয় হয়ে উঠবে। মানুষ আসতে থাকবে, কথাবার্তা শুরু হবে, এবং ধীরে ধীরে অফিসিয়াল ও অনানুষ্ঠানিক আলাপ একসাথে চলতে থাকবে। দুপুরের দিকে ভিড় বাড়তে থাকবে, এবং বিভিন্ন ধরনের আলোচনা একসাথে চলবে। কেউ কাজের কথা বলবে, কেউ অনুরোধ করবে, আবার কেউ সম্পর্কের ভিত্তিতে যোগাযোগ স্থাপন করবে।
বিকেলের দিকে পরিস্থিতি আরও জটিল রূপ নেবে, যেখানে বোঝা কঠিন হয়ে যাবে কোনটা আনুষ্ঠানিক আলোচনা আর কোনটা অনানুষ্ঠানিক প্রত্যাশা। এই পুরো পরিবেশে একটি কক্ষ শুধু অফিস থাকে না, বরং এটি ধীরে ধীরে সামাজিক ইন্টারঅ্যাকশনের একটি কেন্দ্রে পরিণত হয়।
এই বাস্তবতায় ‘চাওয়া’একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। সরাসরি কিছু চাওয়া অনেক সময় ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করা হয়, আবার না চাওয়াও অনেক সময় উদাসীনতা হিসেবে ধরা হয়। ফলে একটি অলিখিত সামাজিক ভাষা তৈরি হয়, যেখানে ইঙ্গিতই প্রধান মাধ্যম হয়ে ওঠে।
একইভাবে দৃশ্যমানতা এবং বাস্তব কার্যকারিতার মধ্যে একটি বড় পার্থক্য কাজ করে। গাড়ি, অফিস বা উপস্থিতি অনেক সময় দৃশ্যমান প্রতীক হিসেবে মূল্যায়িত হয়, কিন্তু প্রকৃত কাজ অনেক সময় অদৃশ্যভাবে সম্পন্ন হয়। এই পার্থক্যই অনেক ভুল বোঝাবুঝির জন্ম দেয়।
সামাজিক মাধ্যমে এই ধরনের বিষয় দ্রুত আলোচনার কেন্দ্র হয়ে ওঠে। একটি মন্তব্য মুহূর্তেই ব্যঙ্গ, সমালোচনা বা সমর্থনের কনটেন্টে পরিণত হয়। সহজ ব্যাখ্যা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে, কিন্তু জটিল বাস্তবতা অনেক সময় আড়ালে থেকে যায়।
শেষ পর্যন্ত এই পুরো বাস্তবতা কোনো একক ঘটনার ব্যাখ্যা নয়। এটি একটি বৃহত্তর সামাজিক কাঠামোর প্রতিফলন, যেখানে প্রশাসন, রাজনীতি এবং সমাজ একে অপরের সাথে গভীরভাবে যুক্ত। এখানে গাড়ি শুধু যানবাহন নয়, অফিস কক্ষ শুধু স্থান নয়, এবং বক্তব্য শুধু কথা নয়—সবকিছুই একটি বৃহত্তর অর্থ বহন করে।
এই সহাবস্থানের মধ্যেই আমাদের স্থানীয় প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতা গড়ে ওঠে, যেখানে দৃশ্যমানতা, কার্যকারিতা এবং সামাজিক ব্যাখ্যা সবসময় একসাথে চলতে থাকে, কিন্তু সবসময় এক অর্থে দাঁড়ায় না।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দক্ষিণ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউএসএফ) নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক পরিণতির খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ জামিল লিমনের (২৭) মরদেহ উদ্ধার করা হলেও, পুলিশ ধারণা করছে নাহিদা বৃষ্টিকেও (২৭) নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। অভিযুক্ত ঘাতক ও লিমনের রুমমেট হিশাম আবুগারবিয়ার ফ্ল্যাটে ‘প্রচুর রক্ত’ পাওয়ার পর পুলিশ জানিয়েছে, বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভবত আর কখনোই সম্ভব হবে না। নিহত বৃষ্টির বড় ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘১০ টাম্পা বে নিউজ’-কে জানান, শুক্রবার গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তকারীরা বাংলাদেশে তাদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, লিমন ও হিশামের শেয়ার করা ফ্ল্যাটে যে পরিমাণ রক্ত পাওয়া গেছে, তা থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে বৃষ্টি আর বেঁচে নেই। পুলিশের আশঙ্কা, হত্যার পর মরদেহটি সম্ভবত ছিন্নবিচ্ছিন্ন বা টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়েছে, যার ফলে এটি খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। গত শুক্রবার সকাল সোয়া ৬টার দিকে হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের পাশ থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই সকাল ৯টার দিকে ইউএসএফ ক্যাম্পাসের কাছে লেক ফরেস্ট এলাকায় অভিযুক্ত হিশাম আবুগারবিয়ার বাড়িতে অভিযান চালায় হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়। পুলিশ হিশামের বাড়িতে পৌঁছালে তিনি নিজেকে ঘরের ভেতর তালাবদ্ধ করে রাখেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট ‘সোয়াট’ (SWAT) তলব করা হয়। প্রায় ২০ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির পর হিশাম আত্মসমর্পণ করেন। তার বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা, তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করা এবং অবৈধভাবে মরদেহ সরানোর মতো ছয়টি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হিশাম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক। তিনি লিমনের রুমমেট হিসেবে একই ফ্ল্যাটে থাকতেন। অন্যদিকে, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি গবেষণারত নাহিদা বৃষ্টি গত ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন। লিমনের সাথে তার আগে প্রেমের সম্পর্ক থাকলেও বর্তমানে ছিল না বলে জানিয়েছেন বৃষ্টির পরিবার। তদন্তকারীরা লিমনের মৃত্যু নিশ্চিত করলেও বৃষ্টির নিখোঁজ রহস্য ও তাকে হত্যার নৃশংসতা এখন পুরো ফ্লোরিডা ও বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া ফেলেছে।