ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতি অবৈধ ঘোষণা, ৩৯ দেশের আবেদনকারীদের পক্ষে রায় মার্কিন আদালতের
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ৩৯টি দেশের নাগরিকদের অভিবাসন-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন আবেদনের নিষ্পত্তি স্থগিত করে যে নীতি গ্রহণ করেছিল, তা অবৈধ বলে রায় দিয়েছেন এক মার্কিন ফেডারেল বিচারক।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুক্রবার রোড আইল্যান্ড অঙ্গরাজ্যের প্রভিডেন্সে অবস্থিত ফেডারেল আদালতের প্রধান বিচারক জন ম্যাককনেল এই রায় দেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা সংস্থা (ইউএসসিআইএস) ৩৯টি আফ্রিকান, এশীয়, লাতিন আমেরিকান এবং মধ্যপ্রাচ্যের দেশের নাগরিকদের লক্ষ্য করে একাধিক বেআইনি নীতি প্রয়োগ করেছিল।
মামলাটি দায়ের করে অভিবাসী সেবাদানকারী বিভিন্ন সংগঠন ও শ্রমিক ইউনিয়নের একটি জোট। গত মার্চ মাসে তারা আদালতের দ্বারস্থ হয়ে অভিযোগ করে যে, ২০২৫ সালের নভেম্বর থেকে ইউএসসিআইএস এমন কিছু নীতি কার্যকর করেছে, যার ফলে নির্দিষ্ট কয়েকটি দেশের নাগরিকদের অভিবাসন-সুবিধা সংক্রান্ত আবেদনগুলো কার্যত স্থগিত হয়ে যায়।
বিতর্কিত এসব ব্যবস্থার আওতায় আশ্রয় আবেদন, কাজের অনুমতিপত্র, স্থায়ী বসবাসের অনুমতি বা গ্রিন কার্ড এবং মার্কিন নাগরিকত্বের আবেদনগুলোর বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত দেওয়া হচ্ছিল না। সংশ্লিষ্ট দেশগুলো ট্রাম্পের ঘোষিত পূর্ণ বা আংশিক ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার তালিকায় ছিল। ট্রাম্প প্রশাসন এসব নিষেধাজ্ঞাকে জাতীয় নিরাপত্তা ও আবেদনকারীদের যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত বলে ব্যাখ্যা করেছিল।
রায়ে বিচারক ম্যাককনেল বলেন, এসব নীতি যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত অসংখ্য অভিবাসীর জীবনকে দীর্ঘ সময়ের জন্য অনিশ্চিত আইনি অবস্থার মধ্যে ফেলে দিয়েছিল। তাদের অনেকেই জানতেন না, তাদের আবেদন আদৌ নিষ্পত্তি হবে কি না কিংবা তাদের ভবিষ্যৎ অবস্থান কী হবে।
জন ম্যাককনেল সাবেক ডেমোক্র্যাট প্রেসিডেন্ট Barack Obama-এর মনোনীত বিচারক। তিনি তার পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করেন, প্রশাসনিক সংস্থাগুলো আইনের সীমার বাইরে গিয়ে কোনো গোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে এমন নীতি গ্রহণ করতে পারে না।
রায়ের পর যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিভাগ (ডিএইচএস) তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। তবে অভিবাসন অধিকারকর্মীরা এই সিদ্ধান্তকে হাজারো আবেদনকারীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ আইনি বিজয় হিসেবে দেখছেন।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদ থেকেই ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা ও কঠোর অভিবাসন নীতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাপক বিতর্ক রয়েছে। সমর্থকদের মতে, এসব পদক্ষেপ নিরাপত্তা জোরদার করতে সহায়ক, অন্যদিকে সমালোচকদের দাবি, নির্দিষ্ট দেশ ও জনগোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে নেওয়া এসব ব্যবস্থা বৈষম্যমূলক এবং যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের অভিবাসন ঐতিহ্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
সাম্প্রতিক এই রায় সেই বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করল এবং ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতির বৈধতা নিয়ে চলমান আইনি লড়াইয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের ব্রুকলিনে ইসলামিক স্টেট (আইএস) থেকে সামরিক প্রশিক্ষণ নেওয়ার অভিযোগে ২৭ বছর বয়সী হালিমা সালমানের বিচার চলছে। তিনি যুক্তরাষ্ট্রে আইএসের কথিত নারী সদস্য হিসেবে পূর্ণাঙ্গ ফেডারেল বিচারের মুখোমুখি হওয়া প্রথম নারী বলে সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে। প্রসিকিউটরদের দাবি, কিশোরী বয়সে পরিবারের সঙ্গে সিরিয়ায় আইএসের নিয়ন্ত্রিত এলাকায় যাওয়ার পর তিনি সংগঠনটির একটি নারী ইউনিটের কাছ থেকে অস্ত্র চালানোর প্রশিক্ষণ নেন। তবে হালিমা আদালতে বলেছেন, তাঁর বাবা তাঁকে সিরিয়ায় নিয়ে গিয়েছিলেন এবং পরে আইএস যোদ্ধার সঙ্গে বিয়েতে বাধ্য করেছিলেন। তিনি সংগঠনটির আদর্শ সমর্থন করেন না বলেও দাবি করেছেন। ব্রুকলিনে জন্ম নেওয়া হালিমার বাবা তুরস্কের নাগরিক এবং মা মার্কিন নাগরিক। আদালতে দেওয়া তাঁর সাক্ষ্য অনুযায়ী, ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বরে তাঁর বাবা পরিবারের সদস্যদের নিয়ে তুরস্কে যান। এর কয়েক মাস পর তাঁদের সিরিয়ায় আইএসের নিয়ন্ত্রিত এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। তখন হালিমার বয়স ছিল ১৭ বছর। পরবর্তী সময়ে ১৮ বছর বয়সে আইএস যোদ্ধা আবু আলীকে বিয়ে করেন তিনি। হালিমার ভাষ্য, এই বিয়েতে তাঁর সম্মতি ছিল না। বিয়ের সময় তাঁর বাবাকে পাঁচ হাজার ডলার দেন ওই যোদ্ধার পরিবারের সদস্যরা বলে আদালতে জানিয়েছেন তিনি। হালিমা আরও বলেন, ওই পরিস্থিতিতে তিনি ভীত ছিলেন এবং নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তায় ভুগছিলেন। মামলায় প্রসিকিউটররা আদালতে একটি ভিডিও উপস্থাপন করেছেন, যেখানে হালিমাকে সিরিয়ায় তাঁর স্বামীর বাড়িতে একে-৪৭ রাইফেল হাতে দেখা যায়। তাঁদের দাবি, আইএসের নুসাইবাহ কাতিবা নামের নারী ইউনিট তাঁকে অস্ত্র ব্যবহারের প্রশিক্ষণ দিয়েছিল। এ ছাড়া, আবু আলীর ফোন থেকে উদ্ধার করা একটি হাতে লেখা নথির ছবিও প্রমাণ হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রসিকিউটরদের ভাষ্য, নথিটি আইএসের পক্ষ থেকে দেওয়া প্রশিক্ষণসংক্রান্ত সনদ, যেখানে হালিমার কালাশনিকভ রাইফেল ব্যবহারের যোগ্যতার কথা উল্লেখ রয়েছে। তবে হালিমার আইনজীবীরা নথিটির সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এবং প্রশিক্ষণের প্রকৃতি, সময়কাল ও স্থান সম্পর্কে সরকারের পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত প্রমাণ দেওয়া হয়নি বলে যুক্তি দিয়েছেন। আদালতে নিজের পক্ষে সাক্ষ্য দিতে গিয়ে হালিমা বলেছেন, সিরিয়ায় তাঁর জীবন ছিল কঠোর নিয়ন্ত্রণের মধ্যে। কোথায় যাবেন, কী খাবেন, এমনকি কখন বাইরে বের হবেন, সে বিষয়েও তাঁর স্বাধীনতা ছিল না বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, আইএসের নিয়ন্ত্রিত এলাকা থেকে বেরিয়ে আসাও অত্যন্ত বিপজ্জনক ছিল। সেখানে প্রায় দুই বছর থাকার পর তিনি কুর্দি নেতৃত্বাধীন বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে থাকা বন্দিশিবিরে প্রায় পাঁচ বছর কাটান। ২০১৯ সালে আইএসের নিয়ন্ত্রণাধীন শেষ অঞ্চলগুলোর পতনের পর সংগঠনটির সদস্যদের পরিবারের অনেক নারী ও শিশুকে এসব শিবিরে রাখা হয়েছিল। হালিমার দাবি, তিনি বহুবার যুক্তরাষ্ট্রে ফেরার আবেদন করেছিলেন। ২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের সিরিয়া থেকে দেশে ফিরিয়ে আনার একটি উদ্যোগের অংশ হিসেবে হালিমা ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা যুক্তরাষ্ট্রে ফেরেন। নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। বর্তমানে পাঁচ লাখ ডলারের জামিনে নিউ হ্যাম্পশায়ারে আত্মীয়দের সঙ্গে বসবাস করছেন তিনি। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি জেনেশুনে একটি বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠনের কাছ থেকে সামরিক প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। এ অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হলে তাঁর সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। তাঁর পরিবারের অন্য সদস্যদের বিরুদ্ধে এ ঘটনায় কোনো অভিযোগ আনা হয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বুধবার, ২১ অক্টোবর, মামলার সমাপনী বক্তব্যে সরকারি কৌঁসুলিরা হালিমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের পক্ষে ভিডিও ও নথির বিষয়গুলো তুলে ধরেন। অন্যদিকে, তাঁর আইনজীবীরা বলেছেন, আইএসের এলাকায় অবস্থান করা বা একজন যোদ্ধাকে বিয়ে করার বিষয়টিই সামরিক প্রশিক্ষণ নেওয়ার অপরাধ প্রমাণ করে না। মামলার রায় এখনো ঘোষণা করা হয়নি। বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, প্রতিরক্ষাপক্ষের সমাপনী বক্তব্যের পর বিচারকদের আলোচনার মাধ্যমে রায় নির্ধারণের কথা রয়েছে। এই মামলার ফলাফল নির্ভর করবে হালিমা জেনেশুনে আইএসের কাছ থেকে সামরিক প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন কি না, সে বিষয়ে উপস্থাপিত প্রমাণ বিচারকরা কীভাবে মূল্যায়ন করেন তার ওপর। সূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট, কোর্টহাউস নিউজ সার্ভিস।
চালক অসুস্থ হয়ে পড়ায় নিয়ন্ত্রণহীন স্কুলবাস, দ্রুত বাস থামিয়ে প্রায় ২০ শিশুকে বাঁচালেন যুবক
ফেসবুকের তথ্য গোপনীয়তা নিয়ে প্রতারণার অভিযোগ, মেটাকে ২৫ বিলিয়ন ডলার জরিমানা
গ্রিন কার্ডের জন্য ভুয়া বিয়ের আয়োজন, ১০ বছরে ৬০ লাখ ডলার আয়ের অভিযোগ মার্কিন নারীর বিরুদ্ধে
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতা ইলহান ওমরকে তিরস্কার এবং দুটি গুরুত্বপূর্ণ কমিটি থেকে সরানোর প্রস্তাব আটকে দিতে ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে ভোট দিয়েছেন চার রিপাবলিকান সদস্য। ২০২৫ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত ভোটে ২১৪-২১৩ ব্যবধানে প্রস্তাবটি আলোচনার বাইরে রাখার সিদ্ধান্ত পাস হয়। রিপাবলিকান চার সদস্য হলেন মাইক ফ্লাড, জেফ হার্ড, টম ম্যাকক্লিনটক ও কোরি মিলস। তাঁদের ভোটের কারণে মাত্র এক ভোটের ব্যবধানে প্রস্তাবটি নিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়ার উদ্যোগ ব্যর্থ হয়। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদের সরকারি ভোটের নথিতে এ তথ্য উঠে এসেছে। প্রস্তাবটি উত্থাপন করেছিলেন সাউথ ক্যারোলাইনার রিপাবলিকান প্রতিনিধি ন্যান্সি মেস। এতে মিনেসোটার প্রতিনিধি ইলহান ওমরকে আনুষ্ঠানিকভাবে তিরস্কার করার পাশাপাশি শিক্ষা ও কর্মসংস্থানবিষয়ক কমিটি এবং বাজেট কমিটি থেকে সরিয়ে দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। রক্ষণশীল রাজনৈতিক কর্মী চার্লি কার্কের মৃত্যুর পর ওমরের মন্তব্য ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও পুনরায় প্রকাশ করাকে কেন্দ্র করে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়। মেসের অভিযোগ ছিল, ওমরের বক্তব্য কার্কের মৃত্যু নিয়ে অসম্মানজনক মনোভাব প্রকাশ করেছে। তবে ভোটের মাধ্যমে প্রতিনিধি পরিষদ প্রস্তাবটি আর এগিয়ে না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। প্রস্তাবটি আটকে দেওয়ার পক্ষে ২১৪ জন ভোট দেন, বিপক্ষে ভোট দেন ২১৩ জন। পক্ষে ভোট দেওয়া সদস্যদের মধ্যে ছিলেন ২১০ জন ডেমোক্র্যাট এবং চারজন রিপাবলিকান। অন্যদিকে, ভোটে অংশ নেওয়া ২১৩ জন বিপক্ষে অবস্থান নেন, যাঁদের সবাই রিপাবলিকান। পাঁচজন সদস্য ভোট দেননি। চার রিপাবলিকানের সমর্থন ছাড়া ফলাফল ভিন্ন হতে পারত এবং প্রস্তাবটি পরবর্তী পর্যায়ে যাওয়ার সুযোগ পেত। এই ভোটে মূলত প্রস্তাবটি বিবেচনা বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, সরাসরি ইলহান ওমরকে তিরস্কার করার পক্ষে বা বিপক্ষে চূড়ান্ত ভোট হয়নি। চার রিপাবলিকানের অবস্থানের পেছনে প্রক্রিয়াগত ও নীতিগত যুক্তিও উঠে আসে। ক্যালিফোর্নিয়ার প্রতিনিধি টম ম্যাকক্লিনটক মতপ্রকাশের স্বাধীনতার বিষয়টি সামনে আনেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ওমরের মন্তব্যের কঠোর সমালোচনা করা যেতে পারে, কিন্তু আপত্তিকর বক্তব্যও সাংবিধানিকভাবে সুরক্ষিত মতপ্রকাশের আওতায় থাকতে পারে। অন্যদিকে, নেব্রাস্কার প্রতিনিধি মাইক ফ্লাড বিষয়টি আনুষ্ঠানিক শাস্তিমূলক পদক্ষেপে নেওয়ার আগে প্রতিনিধি পরিষদের নীতিশাস্ত্রবিষয়ক কমিটির মাধ্যমে তদন্ত ও যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণের পক্ষে অবস্থান নেন। ফলে ভোটটি শুধু ওমরের মন্তব্য ঘিরে বিতর্কেই সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং আইনপ্রণেতাদের বক্তব্যের স্বাধীনতা এবং তাঁদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার পদ্ধতি নিয়েও প্রশ্ন সামনে আনে। চার্লি কার্ক ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের একজন পরিচিত রক্ষণশীল রাজনৈতিক কর্মী। ২০২৫ সালের ১০ সেপ্টেম্বর ইউটাহ ভ্যালি ইউনিভার্সিটি ক্যাম্পাসে এক অনুষ্ঠানে গুলিতে নিহত হন তিনি। তাঁর মৃত্যুর পর রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়। ইলহান ওমর কার্কের কিছু রাজনৈতিক অবস্থান ও বক্তব্যের সমালোচনা করেছিলেন, যা রিপাবলিকানদের একাংশের ক্ষোভের কারণ হয়। সেই প্রেক্ষাপটে ন্যান্সি মেসের আনা প্রস্তাবটি প্রতিনিধি পরিষদে ওঠে। তবে ভোটের ফলাফলে স্পষ্ট হয়, রিপাবলিকান দলের সব সদস্য এ বিষয়ে একই অবস্থান নেননি। ইলহান ওমর মিনেসোটা থেকে নির্বাচিত ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি এবং যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে প্রগতিশীল রাজনীতির পরিচিত মুখ। তাঁর বিরুদ্ধে তিরস্কারের প্রস্তাব আটকে যাওয়ায় দুটি কমিটিতে তাঁর সদস্যপদ বহাল রাখার উদ্যোগটি সফল হয়। ঘটনাটি প্রতিনিধি পরিষদে দলীয় বিভাজনের পাশাপাশি মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও রাজনৈতিক বক্তব্যের জবাবদিহি নিয়ে চলমান বিতর্ককেও সামনে এনেছে। সূত্র: যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদের ক্লার্কের দপ্তর, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস।
ক্যালিফোর্নিয়ায় ডোরড্যাশ চালককে পিটিয়ে হ ত্যার অভিযোগ, টেসলার ডিকিতে মিলেছিল লা শ
যুক্তরাষ্ট্রের ডাক বিভাগে ১২ কোটি ৬০ লাখ ডলারের জালিয়াতি, পাকিস্তানে গ্রেপ্তার মূল অভিযুক্ত
গাড়ি চালানোর সময় প র্নোগ্রাফি দেখতে মগ্ন ছিলেন চালক! মুহূর্তের অসতর্কতায় ভয়াবহ দুর্ঘটনা, প্রাণ গেল এক যাত্রীর
যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষা গ্রহণে আগ্রহী বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য নিউইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ে (এনওয়াইইউ) স্নাতকোত্তর পর্যায়ে স্কলারশিপ ও আর্থিক সহায়তার দারুণ সুযোগ রয়েছে। মেধাভিত্তিক বৃত্তি, বিভাগীয় অনুদান এবং বিশেষ ফেলোশিপের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা এই সুবিধা পেতে পারেন। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব স্নাতকোত্তর প্রোগ্রামে সম্পূর্ণ অর্থায়নের সুযোগ না থাকায় আবেদনের আগে শিক্ষার্থীদের নিজ নিজ পছন্দের প্রোগ্রামের শর্তাবলি ভালোভাবে যাচাই করে নেওয়া জরুরি। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব প্রফেশনাল স্টাডিজের (এনওয়াইইউ এসপিএস) ২০২৬–২৭ শিক্ষাবর্ষের ‘ডিস্টিংগুইশড স্কলারস অ্যাওয়ার্ড’-এর আওতায় মেধাভিত্তিক বৃত্তির সুযোগ রয়েছে। এই স্কলারশিপে নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা দুই বছরে ৭ হাজার থেকে ১১ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত সহায়তা পাবেন। ভর্তির আবেদনের ভিত্তিতেই শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন করা হবে, ফলে এর জন্য আলাদা কোনো আবেদনের প্রয়োজন নেই। অন্যদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের টিশ স্কুল অব দ্য আর্টসের নির্দিষ্ট কিছু প্রোগ্রামে ‘করিগান ফেলোশিপ’-এর মতো সুবিধাও রয়েছে। এই ফেলোশিপের আওতায় সম্পূর্ণ টিউশন ফি, স্বাস্থ্যবিমা, ৯ মাসের জীবনযাত্রার উপবৃত্তি, অতিরিক্ত ১ হাজার ডলারের অনুদান এবং ২ হাজার ডলারের আবাসন সহায়তাসহ ব্যাপক আর্থিক সুবিধা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। স্কুল ও প্রোগ্রামভেদে আবেদনের সময়সীমায় ভিন্নতা রয়েছে। এনওয়াইইউ এসপিএসের বসন্তকালীন ২০২৭ সেমিস্টারের চূড়ান্ত আবেদনের শেষ তারিখ ১৫ নভেম্বর ২০২৬। গ্রীষ্মকালীন সেমিস্টারের নিয়মিত আবেদন ১৫ জানুয়ারি এবং চূড়ান্ত আবেদন ১৫ মার্চ ২০২৭ পর্যন্ত করা যাবে। এছাড়া, শরৎকালীন ভর্তির প্রথম অগ্রাধিকার সময়সীমা ১ নভেম্বর ২০২৬ এবং নিয়মিত আবেদনের শেষ তারিখ ১ মে ২০২৭। ভর্তিচ্ছু বাংলাদেশি আবেদনকারীদের শিক্ষাগত যোগ্যতা ও ইংরেজি দক্ষতার প্রমাণপত্র, পার্সোনাল স্টেটমেন্ট, সুপারিশপত্রসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে হবে। ভিসা প্রক্রিয়ার জটিলতা এড়াতে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের পর্যাপ্ত সময় হাতে রেখে দ্রুত আবেদন করার পরামর্শ দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
নিউইয়র্কে বাংলাদেশি রেস্তোরাঁকর্মী ইউসুফ হ ত্যা, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ১১ দফা অভিযোগ
যুক্তরাষ্ট্রে ট্রান্সজেন্ডার বন্দীদের চিকিৎসা বন্ধে ট্রাম্প প্রশাসনের আবেদন খারিজ সুপ্রিম কোর্টে