আমেরিকা

ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতি অবৈধ ঘোষণা, ৩৯ দেশের আবেদনকারীদের পক্ষে রায় মার্কিন আদালতের

মোহাম্মদ ইব্রাহিম প্রকাশ: জুন ৫, ২০২৬ ২০:২৭
ছবি: আমেরিকা বাংলা
ছবি: আমেরিকা বাংলা

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ৩৯টি দেশের নাগরিকদের অভিবাসন-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন আবেদনের নিষ্পত্তি স্থগিত করে যে নীতি গ্রহণ করেছিল, তা অবৈধ বলে রায় দিয়েছেন এক মার্কিন ফেডারেল বিচারক।

 

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুক্রবার রোড আইল্যান্ড অঙ্গরাজ্যের প্রভিডেন্সে অবস্থিত ফেডারেল আদালতের প্রধান বিচারক জন ম্যাককনেল এই রায় দেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা সংস্থা (ইউএসসিআইএস) ৩৯টি আফ্রিকান, এশীয়, লাতিন আমেরিকান এবং মধ্যপ্রাচ্যের দেশের নাগরিকদের লক্ষ্য করে একাধিক বেআইনি নীতি প্রয়োগ করেছিল।

 

মামলাটি দায়ের করে অভিবাসী সেবাদানকারী বিভিন্ন সংগঠন ও শ্রমিক ইউনিয়নের একটি জোট। গত মার্চ মাসে তারা আদালতের দ্বারস্থ হয়ে অভিযোগ করে যে, ২০২৫ সালের নভেম্বর থেকে ইউএসসিআইএস এমন কিছু নীতি কার্যকর করেছে, যার ফলে নির্দিষ্ট কয়েকটি দেশের নাগরিকদের অভিবাসন-সুবিধা সংক্রান্ত আবেদনগুলো কার্যত স্থগিত হয়ে যায়।

 

বিতর্কিত এসব ব্যবস্থার আওতায় আশ্রয় আবেদন, কাজের অনুমতিপত্র, স্থায়ী বসবাসের অনুমতি বা গ্রিন কার্ড এবং মার্কিন নাগরিকত্বের আবেদনগুলোর বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত দেওয়া হচ্ছিল না। সংশ্লিষ্ট দেশগুলো ট্রাম্পের ঘোষিত পূর্ণ বা আংশিক ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার তালিকায় ছিল। ট্রাম্প প্রশাসন এসব নিষেধাজ্ঞাকে জাতীয় নিরাপত্তা ও আবেদনকারীদের যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত বলে ব্যাখ্যা করেছিল।

 

রায়ে বিচারক ম্যাককনেল বলেন, এসব নীতি যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত অসংখ্য অভিবাসীর জীবনকে দীর্ঘ সময়ের জন্য অনিশ্চিত আইনি অবস্থার মধ্যে ফেলে দিয়েছিল। তাদের অনেকেই জানতেন না, তাদের আবেদন আদৌ নিষ্পত্তি হবে কি না কিংবা তাদের ভবিষ্যৎ অবস্থান কী হবে।

 

জন ম্যাককনেল সাবেক ডেমোক্র্যাট প্রেসিডেন্ট Barack Obama-এর মনোনীত বিচারক। তিনি তার পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করেন, প্রশাসনিক সংস্থাগুলো আইনের সীমার বাইরে গিয়ে কোনো গোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে এমন নীতি গ্রহণ করতে পারে না।

 

রায়ের পর যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিভাগ (ডিএইচএস) তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। তবে অভিবাসন অধিকারকর্মীরা এই সিদ্ধান্তকে হাজারো আবেদনকারীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ আইনি বিজয় হিসেবে দেখছেন।

 

ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদ থেকেই ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা ও কঠোর অভিবাসন নীতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাপক বিতর্ক রয়েছে। সমর্থকদের মতে, এসব পদক্ষেপ নিরাপত্তা জোরদার করতে সহায়ক, অন্যদিকে সমালোচকদের দাবি, নির্দিষ্ট দেশ ও জনগোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে নেওয়া এসব ব্যবস্থা বৈষম্যমূলক এবং যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের অভিবাসন ঐতিহ্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

 

সাম্প্রতিক এই রায় সেই বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করল এবং ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতির বৈধতা নিয়ে চলমান আইনি লড়াইয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

Advertisement

আমেরিকা

View more
ওভাল অফিসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে মার্কিন বাণিজ্য সচিব হাওয়ার্ড লুটনিক। ছবি:সংগৃহীত
অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে ৮৪ বিলিয়ন ডলারের জরিমানা আরোপ ট্রাম্প প্রশাসনের

যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে অবস্থানকারী অভিবাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান আরও জোরদার করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। দেশটির ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (DHS) জানিয়েছে, অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে মোট ৮৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের জরিমানা আরোপ করা হয়েছে।   ডিএইচএসের তথ্য অনুযায়ী, যেসব ব্যক্তি আদালতের চূড়ান্ত বহিষ্কার আদেশ (Final Order of Removal) পাওয়ার পরও যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করেননি, তাঁদের লক্ষ্য করেই এই জরিমানাগুলো জারি করা হয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন আইনে বহিষ্কার আদেশ অমান্য করে দেশে অবস্থান করলে প্রতিদিন নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ জরিমানা করার বিধান রয়েছে। সেই আইনের আওতায় দীর্ঘদিনের বকেয়া জরিমানা হিসাব করেই মোট অঙ্কটি নির্ধারণ করা হয়েছে।   ট্রাম্প প্রশাসন বলছে, এই পদক্ষেপের উদ্দেশ্য হলো অভিবাসন আইন কার্যকর করা এবং আদালতের নির্দেশ অমান্যকারীদের জবাবদিহির আওতায় আনা।   অন্যদিকে, অভিবাসন অধিকার নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংগঠন এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছে। তাদের দাবি, অধিকাংশ অভিবাসীর পক্ষেই এত বড় অঙ্কের জরিমানা পরিশোধ করা বাস্তবে সম্ভব নয়। ফলে এটি কার্যকর আর্থিক শাস্তির চেয়ে ভীতির পরিবেশ তৈরির কৌশল হিসেবেই বেশি ব্যবহৃত হতে পারে।   দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অভিবাসন নীতিতে একের পর এক কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে। সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার, গণহারে আটক অভিযান, দ্রুত বহিষ্কার কার্যক্রম এবং অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে আর্থিক শাস্তি—সব মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনার চেষ্টা চলছে।

সিদ্দিকুর রহমান প্রকাশ: জুলাই ২২, ২০২৬ ৫:৩৫
সিএনএনের ‘দ্য সিচুয়েশন রুম’ অনুষ্ঠানে উপস্থাপক উলফ ব্লিটজারের সঙ্গে আলাপকালে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স।

ইরানের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের যুদ্ধে যাওয়ার পদক্ষেপ সঠিক ছিল: মাইক পেন্স

Secretary of State Marco Rubio

ইরান আলোচনায় আন্তরিক নয়, সংকটের কূটনৈতিক সমাধানে এখনো প্রস্তুত যুক্তরাষ্ট্র: রুবিও

ছবি: সংগৃহীত

মিশিগানে প্রথমবারের মতো তিন দিনব্যাপী আউটডোর ওয়াজ মাহফিল ও কিরাত প্রতিযোগিতা সম্পন্ন

ছবি: সংগৃহীত
তীব্র গরমের চাপে যুক্তরাষ্ট্রের বিদ্যুৎ গ্রিড, যে ১৪ অঙ্গরাজ্যে লোডশেডিংয়ের সতর্কতা!

তীব্র তাপপ্রবাহ ও রেকর্ড বিদ্যুৎ চাহিদার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যাঞ্চলের ১৪টি অঙ্গরাজ্যে ঘূর্ণায়মান লোডশেডিংয়ের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। বিদ্যুৎ সঞ্চালন ব্যবস্থার দায়িত্বে থাকা সংস্থা সাউথওয়েস্ট পাওয়ার পুল (এসপিপি) জানিয়েছে, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হওয়ায় জরুরি সতর্কতা জারি করা হয়েছে।  এসপিপি সোমবার সন্ধ্যায় সর্বোচ্চ পর্যায়ের ‘লেভেল থ্রি এনার্জি অ্যালার্ট’ জারি করে। এই সতর্কতার অর্থ হলো, বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতে সংস্থাটি তাদের প্রায় সব পরিচালন রিজার্ভ ব্যবহার করেছে। যদিও এখন পর্যন্ত কোনো এলাকায় পরিকল্পিত ঘূর্ণায়মান লোডশেডিং কার্যকর করতে হয়নি, পরিস্থিতি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। কয়েক ঘণ্টা পর পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলে সতর্কতার মাত্রা কমিয়ে আনা হয়।        এসপিপির বিদ্যুৎ সেবা আংশিক বা সম্পূর্ণভাবে যেসব অঙ্গরাজ্যে রয়েছে, সেগুলো হলো আরকানসাস, আইওয়া, কানসাস, লুইজিয়ানা, মিনেসোটা, মিসৌরি, মন্টানা, নেব্রাস্কা, নিউ মেক্সিকো, নর্থ ডাকোটা, ওকলাহোমা, সাউথ ডাকোটা, টেক্সাস ও ওয়াইওমিং।  সংস্থাটি জানিয়েছে, চলমান তাপপ্রবাহের কারণে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের ব্যবহার ব্যাপকভাবে বেড়ে যাওয়ায় বিদ্যুতের চাহিদা রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছেছে। একই সময়ে কয়েকটি বিদ্যুৎকেন্দ্র অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে উৎপাদন বন্ধ করে দেওয়ায় রিজার্ভ সক্ষমতা দ্রুত কমে যায় এবং পুরো বিদ্যুৎ ব্যবস্থার ওপর চাপ আরও বেড়ে যায়।  এসপিপি বলেছে, প্রয়োজন হলে নিয়ন্ত্রিত বা ঘূর্ণায়মান লোডশেডিংয়ের মাধ্যমে বৃহত্তর বিদ্যুৎ বিপর্যয় ঠেকানোর ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। এ ধরনের পদক্ষেপের উদ্দেশ্য হলো পুরো গ্রিড ধসে পড়া রোধ করা এবং দীর্ঘমেয়াদি বিদ্যুৎ বিভ্রাট এড়ানো।        এদিকে চলতি জুলাই মাসেই যুক্তরাষ্ট্রের আরও একটি বড় আঞ্চলিক বিদ্যুৎ গ্রিড পরিচালনাকারী সংস্থা মিডকন্টিনেন্ট ইন্ডিপেনডেন্ট সিস্টেম অপারেটর (এমআইএসও) একই ধরনের জরুরি সতর্কতা জারি করেছিল। সেখানে তাপপ্রবাহ, বিদ্যুৎকেন্দ্রের যান্ত্রিক সমস্যা এবং চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় পাইকারি বিদ্যুতের দামও অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পায়।  আবহাওয়াবিদদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে তাপপ্রবাহ অব্যাহত থাকলে বিদ্যুৎ ব্যবস্থার ওপর চাপ আরও বাড়তে পারে। তাই এসপিপি সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোর বাসিন্দাদের অপ্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ ব্যবহার কমানোর আহ্বান জানিয়েছে, যাতে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা স্থিতিশীল রাখা সম্ভব হয়।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ২২, ২০২৬ ০:৫১
ছবি: সংগৃহীত

একসময়ের শীর্ষে থাকা যুক্তরাষ্ট্র, পাসপোর্টের শক্তিতে এখন ৩৬ দেশের পেছনে

জর্ডানে ইরানের হামলায় নিহত সার্জেন্ট অ্যাঞ্জেল এস. র্যাম্পারসাডের পরিচয় প্রকাশ করেছে পেন্টাগন। ছবি: সংগৃহীত

ইরানের হামলায় নিহত ৩য় মার্কিন সেনা শনাক্ত করল পেন্টাগন, এ নিয়ে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৮

ক্যালিফোর্নিয়া ও মিনেসোটার জন্য নির্ধারিত ১ বিলিয়ন ডলারের বেশি মেডিকেইড অর্থ সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। ছবি: সংগৃহীত

ক্যালিফোর্নিয়া-মিনেসোটার মেডিকেইড তহবিল স্থগিত করল ট্রাম্প প্রশাসন, অনিশ্চয়তায় লাখো বয়স্ক ও প্রতিবন্ধীর স্বাস্থ্যসেবা

ইরান যুদ্ধের অতিরিক্ত অর্থায়নের বিরোধিতা করেছেন কংগ্রেসওম্যান ইয়াসামিন আনসারি। ছবি: সংগৃহীত
আর এক ডলারও নয়: ইরান যুদ্ধের অতিরিক্ত অর্থায়নের বিরুদ্ধে কংগ্রেসওম্যান ইয়াসামিন আনসারি

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের ইরান যুদ্ধের জন্য অতিরিক্ত প্রতিরক্ষা তহবিলের প্রস্তাবের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন অ্যারিজোনার ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসওম্যান ইয়াসামিন আনসারি। তিনি বলেছেন, নতুন সামরিক অর্থায়নের প্রস্তাব এলে ডেমোক্র্যাটদের জবাব হবে “হেল নো” এবং তিনি ব্যক্তিগতভাবে এ যুদ্ধের জন্য “আর এক ডলারও” বরাদ্দের পক্ষে নন।   ক্যাপিটল ভবনের সামনে সাংবাদিক স্কট ম্যাকফারলেনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আনসারি বলেন, “নতুন পেন্টাগন তহবিলের প্রস্তাবের জবাব হবে ‘হেল নো’। কোনো ডেমোক্র্যাট এই নীতিকে সমর্থন করবে না।”   তিনি অভিযোগ করেন, ট্রাম্প প্রশাসন একাধিকবার যুদ্ধ শেষ হওয়া বা সমঝোতা আসন্ন বলে দাবি করলেও বাস্তবে সংঘাত অব্যাহত রয়েছে। একই সাক্ষাৎকারে তিনি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মানসিক সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তবে ট্রাম্পের ডিমেনশিয়া রয়েছে—এমন কোনো চিকিৎসাগত বা সরকারি প্রমাণ প্রকাশিত হয়নি। এ মন্তব্য আনসারির ব্যক্তিগত রাজনৈতিক মতামত।   যুদ্ধের মানবিক মূল্য তুলে ধরে আনসারি বলেন, মার্কিন সেনারা এমন এক সংঘাতে জীবন ঝুঁকিতে ফেলছেন, যার উদ্দেশ্য তিনি স্পষ্টভাবে দেখতে পান না। তাই তিনি এ যুদ্ধের জন্য নতুন অর্থ বরাদ্দের বিরোধিতা করছেন।   ইরান যুদ্ধকে কেন্দ্র করে কংগ্রেসে রাজনৈতিক উত্তেজনা ইতোমধ্যে বেড়েছে। গত সপ্তাহে ডেমোক্র্যাটরা ইরান যুদ্ধ নিয়ে আপত্তি জানিয়ে ১ দশমিক ১৫ ট্রিলিয়ন ডলারের বার্ষিক প্রতিরক্ষা নীতিমালা বিলের অগ্রগতি আটকে দেয়। ডেমোক্র্যাটদের অভিযোগ, কংগ্রেসের পর্যাপ্ত অনুমোদন ও সুস্পষ্ট কৌশল ছাড়াই ট্রাম্প প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্রকে এই সংঘাতে জড়িয়েছে। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, প্রয়োজনীয় ৬০ ভোটের পরিবর্তে বিলটি ৫০–৪৬ ভোট পেয়ে প্রক্রিয়াগতভাবে আটকে যায়।   এদিকে রিপাবলিকান-নিয়ন্ত্রিত প্রতিনিধি পরিষদের বাজেট কমিটি ট্রাম্প প্রশাসনের প্রস্তাবিত ৯৫ বিলিয়ন ডলারের নতুন ব্যয় পরিকল্পনা এগিয়ে নিয়েছে। এতে আগামী এক দশকে প্রতিরক্ষা ও গোয়েন্দা কার্যক্রমের জন্য ৭৩ বিলিয়ন ডলার অতিরিক্ত বরাদ্দের প্রস্তাব রয়েছে। পরিকল্পনাটি প্রতিনিধি পরিষদে ভোটের জন্য তোলা হতে পারে।   নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে আনসারি সম্প্রতি এক বিবৃতিতে বলেন, তিনি ২০২৬ অর্থবছরের ন্যাশনাল ডিফেন্স অথরাইজেশন অ্যাক্টের বিরুদ্ধেও ভোট দিয়েছেন। তাঁর ভাষায়, দেশের জাতীয় নিরাপত্তা জোরদারের প্রয়োজন থাকলেও তা যেন জনকল্যাণমূলক খাতের ব্যয় কমিয়ে বা ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে না হয়।   ইরান যুদ্ধের ব্যয়, কৌশল এবং এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক বিতর্ক ক্রমেই তীব্র হচ্ছে। একদিকে ট্রাম্প প্রশাসন অতিরিক্ত প্রতিরক্ষা ব্যয়ের প্রয়োজনীয়তার কথা বলছে, অন্যদিকে বিরোধীরা যুদ্ধের মানবিক, অর্থনৈতিক ও সাংবিধানিক দিক নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ২১, ২০২৬ ২২:১৬
ভোটার নিবন্ধন ত্রুটির ঘটনায় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন গভর্নর মিকি শেরিল। ছবি: সংগৃহীত

মার্কিন নাগরিক না হয়েও ভোট দিয়েছেন এমন ৭ হাজার ভোটার এর নাম প্রকাশ! নিউ জার্সিতে চাঞ্চল্য

ওয়ালমার্টের নামে ভুয়া ফোনকল দিয়ে গ্রাহকদের লক্ষ্য করছে প্রতারক চক্র। ছবি: সংগৃহীত

ওয়ালমার্টের নামে ভুয়া রোবো কল, ৯০০ ডলার চুরির নতুন ফাঁদ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে তীব্র সতর্কতা

ঘটনাস্থলের নিরাপত্তা ক্যামেরার ফুটেজ ও অন্যান্য আলামত পরীক্ষা করছেন তদন্তকারীরা। ছবি: সংগৃহীত

৬৫ ডলারের পার্কিং ফি নিয়ে তর্ক! মুহূর্তেই তিনজনকে গুলি করে হত্যা, এরপর যা করলেন

0 Comments