সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

রেস্ট্রেইনিং অর্ডার লঙ্ঘনের অভিযোগে রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান ম্যাক্স মিলারের বিরুদ্ধে আদালতে নথি

তাবাস্সুম মোহাম্মদ প্রকাশ: জুন ৭, ২০২৬ ০:৫২
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও অঙ্গরাজ্যের রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান ম্যাক্স মিলার তার সাবেক স্ত্রী এমিলি মোরেনোর সঙ্গে সম্পর্কিত পারস্পরিক রেস্ট্রেইনিং অর্ডারের শর্ত লঙ্ঘন করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে একটি অডিও রেকর্ড গোপন করার অভিযোগও আনা হয়েছে, যা মামলার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

 

শুক্রবার আদালতে দাখিল করা এক নথিতে মোরেনোর আইনজীবীরা দাবি করেন, মিলার একটি সংবাদমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এমন বক্তব্য দিয়েছেন যা আদালতের জারি করা নিষেধাজ্ঞার পরিপন্থী হতে পারে। ওই নিষেধাজ্ঞায় উভয় পক্ষকেই একে অপরকে অপমান বা হয়রানি না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

 

আইনজীবীদের ভাষ্য অনুযায়ী, কংগ্রেসম্যান হিসেবে মিডিয়ার সঙ্গে কথা বলা বা নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করা নিষিদ্ধ নয়। তবে অভিযোগে বলা হয়, মিলার মিডিয়ায় বক্তব্য দিয়ে সাবেক স্ত্রীকে জনসমক্ষে হেয় করেছেন, যা আদালতের আদেশ লঙ্ঘনের পর্যায়ে পড়ে।

 

এমিলি মোরেনো যুক্তরাষ্ট্রের রিপাবলিকান সিনেটর বার্নি মোরেনোর কন্যা। ২০২২ সালে ম্যাক্স মিলারের সঙ্গে তার বিয়ে হয় এবং দুই বছর পর তাদের বিবাহবিচ্ছেদ ঘটে। বর্তমানে তাদের দুই বছর বয়সী কন্যাসন্তানের অভিভাবকত্ব নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে আইনি বিরোধ চলছে।


মামলায় পারিবারিক সহিংসতার অভিযোগও উঠেছে। এমিলি মোরেনো দাবি করেন, মিলার তার গায়ে গরম পানি ফেলেছিলেন। তবে ম্যাক্স মিলার এই অভিযোগ অস্বীকার করে এর বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করেছেন।

 

সাম্প্রতিক বিতর্কের প্রেক্ষাপটে মিলার একটি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে এসব অভিযোগ নিয়ে বক্তব্য দেন। সাক্ষাৎকারের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তিনি আরও কয়েকটি গণমাধ্যমেও নিজের অবস্থান তুলে ধরেন।

 

মোরেনোর আইনজীবীরা অভিযোগ করেন, ওই সাক্ষাৎকারে দেওয়া বক্তব্য আদালতের নিষেধাজ্ঞার শর্ত লঙ্ঘন করেছে এবং এর ফলে তাকে অবমাননার দায়ে অভিযুক্ত করা উচিত। পাশাপাশি আদালতে মিলারের আইনজীবী ব্যয়ের খরচ বহনের আবেদনও জানানো হয়েছে।


অন্যদিকে মিলারের মুখপাত্র ক্রিস ভ্লাস্টো দাবি করেন, কংগ্রেসম্যান কেবল নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন এবং মিথ্যা অভিযোগের বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষা নিয়েছেন। তার মতে, রেস্ট্রেইনিং অর্ডার ভঙ্গের অভিযোগ ভিত্তিহীন এবং এটি বিরোধী পক্ষের ব্যাখ্যা।

 

মোরেনোর আইনজীবীরা আরও দাবি করেন, একটি অডিও রেকর্ডে মিলারের মন্তব্য মামলার গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হতে পারে। সেই অডিও আদালতে উপস্থাপনের জন্য বাধ্য করার আবেদনও করা হয়েছে।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী ও তার স্ত্রী রুকমিলা জামান। ছবি: সংগৃহীত
স্ত্রীসহ সাবেক ভূমিমন্ত্রীর যুক্তরাষ্ট্রে থাকা সম্পদের তথ্য পাঠাল এফবিআই

সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী ও তার স্ত্রী রুকমিলা জামানের যুক্তরাষ্ট্রে থাকা ব্যাংক হিসাব, ব্যবসা ও সম্পত্তির নথি পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তাদের বিদেশে থাকা সম্পদের বিষয়ে তথ্য চেয়ে দুদকের আবেদনের পর মার্কিন কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআই এসব নথি সরবরাহ করেছে।   সোমবার দুদকের মুখপাত্র আকতারুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, সাইফুজ্জামান চৌধুরী ও তার স্ত্রীর বিদেশে থাকা সম্পদের বিষয়ে অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে মার্কিন কর্তৃপক্ষের কাছে তথ্য চাওয়া হয়েছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে এফবিআই তাদের যুক্তরাষ্ট্রে থাকা সম্পদের বিস্তারিত নথি ও তথ্য দুদককে দিয়েছে।   দুদক সূত্রে জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রে থাকা তাদের ব্যাংক হিসাব, ব্যবসা এবং স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের রেকর্ড এসব নথির মধ্যে রয়েছে। বিদেশে সম্পদ অর্জনের বৈধতা ও এর উৎস সম্পর্কে চলমান অনুসন্ধানে এসব তথ্য পর্যালোচনা করা হবে।   সাইফুজ্জামান চৌধুরী ২০১৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ভূমিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তার বিদেশে সম্পদ নিয়ে এর আগে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে বাংলাদেশে দুদক ও অন্যান্য সংস্থা তার সম্পদের বিষয়ে অনুসন্ধান চালিয়ে আসছে।   এর আগে আদালতের আদেশে সাইফুজ্জামান চৌধুরী ও তার স্ত্রী রুকমিলা জামানের বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। তাদের নামে বিদেশে থাকা সম্পদ জব্দ বা অবরুদ্ধ করার বিষয়েও বিভিন্ন সময়ে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।   এদিকে, ভারতের আদানি পাওয়ারের সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারের বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তিতে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ নিয়েও দুদকের অনুসন্ধান জোরদার হয়েছে। এ চুক্তির সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা এবং অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক মুখ্যসচিব ড. আহমেদ কায়কাউসের বিরুদ্ধেও অনুসন্ধানের সুপারিশ করেছে দুদকের সংশ্লিষ্ট টিম। সূত্র: ইত্তেফাক

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৬ ১০:২২
যুক্তরাষ্ট্রে এই সপ্তাহে শুরু হচ্ছে সোশ্যাল সিকিউরিটির সেপ্টেম্বর মাসের পেমেন্ট। ছবি: সংগৃহীত

সোশ্যাল সিকিউরিটি আপডেট, সর্বোচ্চ ৫,১৮১ ডলারের পেমেন্ট আসছে এই সপ্তাহে!

সাবেক মেয়র মিস্টি রবার্টস। ছবি: সংগৃহীত

১৬ বছরের কিশোরকে ধর্ষণের দায়ে ৯০ দিনের কারাদণ্ড শেষে মুক্ত সাবেক মার্কিন মেয়র

যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্বপ্রত্যাশীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ হলো নাগরিকত্ব পরীক্ষা। ছবি: সংগৃহীত

সিটিজেনশিপ টেস্টে ফেল করার ৪টি কারণ জানাল মার্কিন সরকার

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার ডেমোক্রেটিক সিনেটর অ্যাডাম শিফ। ছবি: সংগৃহীত
মুসলিমরা যুক্তরাষ্ট্রের সমাজ ও দেশের অবিচ্ছেদ্য অংশ, মুসলিমদের পাশে সিনেটর অ্যাডাম শিফ

যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে অনুষ্ঠিত জুয়িশ-আমেরিকান সামিটে মুসলিমবিরোধী বক্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন ক্যালিফোর্নিয়ার ডেমোক্রেটিক সিনেটর অ্যাডাম শিফ। তিনি বলেছেন, মুসলিম আমেরিকানরা দেশটির সমাজ ও রাষ্ট্রের অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং তিনি মুসলিম প্রতিবেশীদের পাশে রয়েছেন।   ৩০ আগস্ট লস অ্যাঞ্জেলেসের ওয়েস্টসাইডে ২০২৬ জুয়িশ-আমেরিকান সামিট অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনের আয়োজকদের প্রকাশিত কর্মসূচি অনুযায়ী, দিনব্যাপী ওই আয়োজনে ইহুদি পরিচয়, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সম্পর্ক, ইহুদিবিদ্বেষ, রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা ও বিভিন্ন সামাজিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। সম্মেলনে বক্তাদের মধ্যে ছিলেন মোসাব হাসান ইউসেফ, যিনি ‘দ্য গ্রিন প্রিন্স’ নামে পরিচিত।   সম্মেলনের শেষদিকে ইউসেফের সঙ্গে ‘বিইং জুইশ’ পডকাস্টের উপস্থাপক জোনাহ প্ল্যাটের একটি আলোচনা হয়। সেখানেই ইউসেফ যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিমদের উপস্থিতি নিয়ে তীব্র আপত্তিকর মন্তব্য করেন। তিনি নিজেকে করদাতা মার্কিন নাগরিক হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে তিনি মুসলিমদের দেখতে চান না এবং তাদের নিজ নিজ দেশে ফিরে যাওয়া উচিত।   লস অ্যাঞ্জেলেসভিত্তিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউসেফের বক্তব্যের কিছু অংশে উপস্থিত দর্শকদের একাংশ করতালি দেন। বক্তব্যের ভিডিও পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং তা নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়।   ঘটনার পর অ্যাডাম শিফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ইউসেফের বক্তব্যের সমালোচনা করেন। তিনি লেখেন, যুক্তরাষ্ট্রের মানুষ বিভিন্ন ধর্ম ও পরিচয় থেকে এসেছে এবং মুসলিম আমেরিকানরা দেশটির সমাজ ও দেশের অবিচ্ছেদ্য অংশ। একই সঙ্গে তিনি মুসলিম প্রতিবেশীদের পাশে থাকার কথা জানিয়ে ওই ধরনের ঘৃণাভিত্তিক বক্তব্যের নিন্দা জানান।   শিফের এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রে ইসলামোফোবিয়া ও বিভিন্ন ধর্মীয় ও জাতিগত গোষ্ঠীকে ঘিরে বিদ্বেষমূলক বক্তব্য নিয়ে নতুন করে বিতর্ক চলছে। লস অ্যাঞ্জেলেস টাইমসে প্রকাশিত একটি মতামতেও জুয়িশ-আমেরিকান সামিটে ইউসেফের বক্তব্যকে মুসলিমবিরোধী বিদ্বেষমূলক বক্তব্য হিসেবে সমালোচনা করা হয়েছে। লেখাটিতে মুসলিম ও ইহুদি উভয় সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে বিদ্বেষের বিরোধিতা করার আহ্বান জানানো হয়।   সম্মেলনের আয়োজকরা অবশ্য এটিকে ইহুদি আমেরিকানদের জন্য একটি ঐক্যবদ্ধ ও অনুপ্রেরণামূলক আয়োজন হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তাদের সরকারি ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, সম্মেলনটি যুক্তরাষ্ট্রের ইহুদি সম্প্রদায়ের বিভিন্ন শ্রেণি ও মতের মানুষের মধ্যে সংযোগ ও আলোচনার একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে আয়োজন করা হয়েছে।   ইউসেফের বক্তব্য নিয়ে মুসলিম অধিকার সংগঠনগুলোও প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। সান দিয়েগো জুইশ ওয়ার্ল্ডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মুসলিমদের অধিকার নিয়ে কাজ করা কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনস (সিএআইআর) ইউসেফের মন্তব্যের নিন্দা জানিয়ে সম্মেলনের আয়োজক ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে বক্তব্যটির নিন্দা এবং ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।   অ্যাডাম শিফ দীর্ঘদিন ধরে ক্যালিফোর্নিয়ার রাজনীতি ও যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। মুসলিম আমেরিকানদের পক্ষে তাঁর সাম্প্রতিক বক্তব্যে তিনি ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে কোনো জনগোষ্ঠীকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাদ দেওয়ার ধারণার বিরোধিতা করেছেন।   ঘটনাটি নিয়ে তৈরি বিতর্কে একদিকে যেমন মুসলিমবিরোধী বক্তব্যের সমালোচনা হচ্ছে, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং বিভিন্ন সম্প্রদায়ের প্রতি সহনশীলতার সীমা নিয়েও আলোচনা নতুন করে সামনে এসেছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৬ ৮:৫
সৌন্দর্য প্রতিযোগিতার পাশাপাশি পুলিশ হিসেবে নিজের ক্যারিয়ার গড়েছেন অ্যাশলিন। ছবি: সংগৃহীত

ডিউটির পাশাপাশি সৌন্দর্য প্রতিযোগিতা, মিস আমেরিকার মুকুট জয়ের লড়াইয়ে পুলিশ কর্মকর্তা

বাড়িতে থেকে সন্তান দেখাশোনায় অভিভাবকদের ভাতা দেওয়ার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনের

বাড়িতে থেকে সন্তান দেখাশোনায় অভিভাবকদের ভাতা দেওয়ার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনের

আবেদন থেকে ভিসা পাওয়া পর্যন্ত খরচ কত বাংলাদেশীদের জন্য নতুন হিসাব

আমেরিকার ভিসা পেতে কত টাকা লাগে? আবেদন থেকে ভিসা পাওয়া পর্যন্ত খরচ কত বাংলাদেশীদের জন্য নতুন হিসাব

আমেরিকায় স্বচ্ছন্দে থাকতে বছরে কত আয় দরকার, নতুন হিসাব
আমেরিকায় স্বচ্ছন্দে থাকতে বছরে কত আয় দরকার, নতুন হিসাব

যুক্তরাষ্ট্রে জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ায় শুধু ৬ অঙ্কের বেতন পেলেই স্বচ্ছন্দে থাকা নিশ্চিত হচ্ছে না। ২০২৬ সালের এক নতুন বিশ্লেষণ বলছে, সন্তানহীন একক একজন প্রাপ্তবয়স্কের যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো অঙ্গরাজ্যে স্বচ্ছন্দে জীবনযাপন করতে বছরে অন্তত ৮০ হাজার ডলারের বেশি আয় প্রয়োজন। অঙ্গরাজ্যভেদে এই প্রয়োজন আরও অনেক বেশি। হাওয়াইয়ে একজনের জন্য প্রয়োজন প্রায় ১ লাখ ২৯ হাজার ডলার, আর নিউইয়র্কে প্রায় ১ লাখ ২৪ হাজার ডলার।    স্মার্টঅ্যাসেটের ২০২৬ সালের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, স্বচ্ছন্দে জীবনযাপনের জন্য প্রয়োজনীয় আয় নির্ধারণে আবাসন, খাবার, পরিবহন, হেলথ কেয়ারসহ মৌলিক খরচ বিবেচনা করা হয়েছে। এরপর ৫০/৩০/২০ বাজেট পদ্ধতি ব্যবহার করে প্রয়োজনীয় বার্ষিক প্রি-ট্যাক্স আয় হিসাব করা হয়েছে। এই পদ্ধতিতে আয়ের ৫০ শতাংশ প্রয়োজনীয় খরচ, ৩০ শতাংশ ইচ্ছাধীন ব্যয় এবং ২০ শতাংশ সঞ্চয় ও ঋণ পরিশোধের জন্য ধরা হয়েছে।    অর্থাৎ সর্বনিম্ন হিসাব অনুযায়ী, একজন একক ব্যক্তির মাসিক প্রি-ট্যাক্স আয় প্রায় ৬ হাজার ৮০০ ডলার বা তার বেশি হলে স্বচ্ছন্দে জীবনযাপনের লক্ষ্যে পৌঁছানো সম্ভব। তবে এটি কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির হাতে থাকা মাসিক বেতন নয়। কর ও অন্যান্য কর্তনের পর হাতে পাওয়া অর্থ এর চেয়ে কম হবে।   অঙ্গরাজ্যভেদে ব্যবধানও বড়। সবচেয়ে কম খরচের অঙ্গরাজ্য হিসেবে ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ায় একজন একক প্রাপ্তবয়স্কের জন্য বছরে প্রায় ৮১ হাজার ২৪৫ ডলার প্রয়োজন। বিপরীতে হাওয়াইয়ে প্রয়োজন ১ লাখ ২৯ হাজার ২ ডলার। নিউইয়র্কে প্রয়োজন ১ লাখ ২৪ হাজার ৩৪২ ডলার এবং ক্যালিফোর্নিয়ায় ১ লাখ ২৬ হাজার ৭৯৭ ডলার।    বাংলাদেশি প্রবাসীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গরাজ্যগুলোর মধ্যেও পার্থক্য রয়েছে। টেক্সাসে একজন একক প্রাপ্তবয়স্কের স্বচ্ছন্দে থাকার জন্য বছরে প্রায় ৯০ হাজার ৫৬৩ ডলার প্রয়োজন বলে গবেষণায় উঠে এসেছে। পেনসিলভেনিয়ায় প্রয়োজন প্রায় ৯৭ হাজার ১১ ডলার। নিউ জার্সিতে এই অঙ্ক প্রায় ১ লাখ ১৩ হাজার ৭৭৬ ডলার।    পরিবার নিয়ে থাকলে প্রয়োজনীয় আয় আরও বেড়ে যায়। দুই কর্মজীবী প্রাপ্তবয়স্ক ও দুই সন্তানের একটি পরিবারের স্বচ্ছন্দে জীবনযাপনের জন্য ৫০টি অঙ্গরাজ্যের মধ্যে ৪০টিতেই বছরে অন্তত ২ লাখ ডলার প্রয়োজন বলে গবেষণায় বলা হয়েছে। সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন ম্যাসাচুসেটসে, প্রায় ৩ লাখ ২৯ হাজার ৫৫৫ ডলার। বিপরীতে মিসিসিপিতে চার সদস্যের পরিবারের জন্য প্রয়োজন প্রায় ১ লাখ ৮৭ হাজার ৫৩৩ ডলার।    জীবনযাত্রার ব্যয়ের বড় অংশই যায় বাসস্থানে। যুক্তরাষ্ট্রের আদমশুমারি ব্যুরোর তথ্যের ভিত্তিতে ইউএসএফ্যাক্টস জানিয়েছে, ২০২৪ সালে ভাড়াটিয়া পরিবারের গড় মাসিক ভাড়া, ইউটিলিটিসহ, ছিল প্রায় ১ হাজার ৪৮৭ ডলার। একই সময়ে ভাড়াটিয়া পরিবারের গড় মাসিক আয় ছিল প্রায় ৪ হাজার ৫৩৭ ডলার। অর্থাৎ গড়ে আয়ের ৩২ দশমিক ৮ শতাংশ ভাড়ায় চলে গেছে।    তবে বাস্তবে কোনো পরিবার কত আয় করলে ভালোভাবে চলতে পারবে, তা শুধু অঙ্গরাজ্য দিয়ে নির্ধারণ করা যায় না। একই অঙ্গরাজ্যের মধ্যেও শহর ও এলাকার ভিত্তিতে রেন্ট, যাতায়াত, চাইল্ড কেয়ার, হেলথ ইন্স্যুরেন্স এবং অন্যান্য খরচে বড় পার্থক্য থাকতে পারে।   গবেষণাটির হিসাবও মূলত একটি আর্থিক মানদণ্ড, কোনো পরিবারের জন্য নির্দিষ্ট বেতনসীমা নয়। গবেষণায় ব্যবহৃত মৌলিক জীবনযাত্রার খরচের তথ্য নেওয়া হয়েছে এমআইটির লিভিং ওয়েজ ক্যালকুলেটর থেকে। এরপর ৫০/৩০/২০ বাজেট পদ্ধতির ভিত্তিতে স্বচ্ছন্দে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় আয় নির্ধারণ করা হয়েছে।    ফলে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন করে বসবাস শুরু করা বা অন্য অঙ্গরাজ্যে যাওয়ার পরিকল্পনা করা বাংলাদেশিদের জন্য শুধু বেতনের অঙ্ক নয়, বরং রেন্ট, কর, গাড়ি ও ইন্স্যুরেন্স, হেলথ কেয়ার, চাইল্ড কেয়ার এবং সঞ্চয়ের খরচ একসঙ্গে হিসাব করাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৬ ২:৫৭
পেনসিলভেনিয়ায় নতুন? চাকরি, শিক্ষা ও কমিউনিটি সহায়তার জন্য যেসব জায়গা চেনা ও জানা জরুরী

পেনসিলভেনিয়ায় নতুন? চাকরি, শিক্ষা ও কমিউনিটি সহায়তার জন্য যেসব জায়গা চেনা ও জানা জরুরী

এনওয়াইপিডির বিশেষ স্বীকৃতি পেলেন বাংলাদেশী সার্জেন্ট মোহাম্মদ হক

এনওয়াইপিডির বিশেষ স্বীকৃতি পেলেন বাংলাদেশী সার্জেন্ট মোহাম্মদ হক

যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক অঙ্গরাজ্যে জলাতঙ্ক নিয়ে সতর্কতা

যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক অঙ্গরাজ্যে জলাতঙ্ক নিয়ে সতর্কতা, বাড়ছে সংক্রমিত প্রাণীর সংখ্যা

0 Comments