একটি অসুস্থ সময়ের প্রতিচ্ছবি!

মৃদুল রহমান

জুন ৫, ২০২৬ ২৩:১৭
প্রতীকী ছবি: রামিছা

প্রতীকী ছবি: রামিছা

জাতির বিবেক যখন প্রতিদিন ধর্ষিত হয়, তখন সখিনা-রামিসা-জাইমাদের ধর্ষকরা কেবল কিছু বিকৃত মুখের নাম নয়; তারা একটি অসুস্থ সময়ের প্রতিচ্ছবি।

 

অসভ্য আদিমতা, বর্বরতা, আইনের শাসনের দুর্বল প্রয়োগ, বিচার বিভাগের দীর্ঘসূত্রিতা, রাজনৈতিক প্রভাব, সামাজিক নৈতিকতার অবক্ষয়—এসবের বিষবাষ্প বহুদিন ধরেই সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে প্রবেশ করেছে। আজ যে আতঙ্ক আমাদের গ্রাস করছে, তা কোনো একদিনের সৃষ্টি নয়; এটি দীর্ঘদিনের অবহেলা, আপস এবং নীরবতার অনিবার্য পরিণতি।

 

ধর্ষণ কেবল কোনো নারীর শরীরের ওপর সংঘটিত অপরাধ নয়; ধর্ষণ ঘটে তখনও, যখন অন্যায়ের কাছে সত্য পরাজিত হয়, যখন বিচার অপেক্ষা করে পরিচয়ের জন্য, যখন অপরাধীর চেয়ে ভুক্তভোগীর চরিত্র নিয়ে বেশি আলোচনা হয়। তখন ক্ষতবিক্ষত হয় শুধু একটি জীবন নয়, সমগ্র জাতির নৈতিক মেরুদণ্ড।

 

বাংলাদেশে প্রতিটি আলোচিত ধর্ষণের ঘটনার পর আমরা ক্ষুব্ধ হই, মিছিল করি, সামাজিক মাধ্যমে ঝড় তুলি। তারপর সময়ের ধুলো সবকিছু ঢেকে দেয়। কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায়—যে সমাজ বারবার একই অপরাধের পুনরাবৃত্তি দেখে, একই শোক পালন করে, একই বিচারহীনতার সাক্ষী হয়, সে সমাজ কি সত্যিই নির্দোষ?

 

কারণ অপরাধীরা রাতারাতি জন্ম নেয় না। তারা বেড়ে ওঠে আমাদের নীরবতায়, আমাদের সচেতনতার অভাবে, মনুষ্যত্বের নির্বাসনে, মূর্খদের অন্ধত্বে, আমাদের সুবিধাবাদী বিবেকে। যখন অন্যায়কে পরিচয় দেখে বিচার করা হয়, যখন ক্ষমতাকে সত্যের ঊর্ধ্বে স্থান দেওয়া হয়, তখন প্রতিটি আপস ভবিষ্যতের কোনো রামিসা কিংবা জাইমার জন্য নতুন বিপদের বীজ বপন করে।

 

তাই আজ প্রশ্ন কেবল ধর্ষক কে—সেটি নয়। প্রশ্ন হলো, আমরা কেমন সমাজ নির্মাণ করেছি, যেখানে একজন ধর্ষক অপরাধ করার সাহস পায়, আর একজন ভুক্তভোগী ন্যায়বিচার পাওয়ার আগে ভয় পায়?

 

যতদিন না এই প্রশ্নের মুখোমুখি হওয়া যায়, ততদিন ধর্ষকরা বদলাবে, শিরোনাম বদলাবে, ভুক্তভোগীর নাম বদলাবে; কিন্তু ক্ষত একই থাকবে। কারণ তখন অপরাধ কোনো ব্যক্তির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না, তা একটি জাতির বিবেকের ওপর চলমান নৃশংস আক্রমণে পরিণত হয়।

 

এক সময় মানুষ ভাবত, বিপদ কেবল অন্যের ঘরে আসে। কিন্তু বাস্তবতা ক্রমশ এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে, যেখানে পুলিশ, প্রশাসক, বিচারক, মন্ত্রী, এমপি কিংবা ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে অবস্থানকারীদের সন্তানরাও যে সম্পূর্ণ নিরাপদ—সেই নিশ্চয়তা দেওয়ার সাহস আর কেউ দেখাতে পারে না। কারণ অপরাধ যখন সামাজিক ব্যাধিতে পরিণত হয়, তখন তার দাঁত-নখ কোনো পরিচয়, পদমর্যাদা কিংবা ক্ষমতার সীমারেখা মানে না।

 

আমরা বছরের পর বছর অন্যায়ের সঙ্গে সহাবস্থান করেছি। সুবিধামতো প্রতিবাদ করেছি, সুবিধামতো নীরব থেকেছি। দল, মত, পরিচয় ও স্বার্থের পাল্লায় ন্যায়বিচারকে ওজন করেছি। ফলে পচন কেবল প্রতিষ্ঠানকে গ্রাস করেনি; আমাদের বিবেক, মূল্যবোধ এবং সামাজিক চেতনাকেও আক্রান্ত করেছে।

 

আজ চারদিকে যে দুর্গন্ধ, তা হঠাৎ সৃষ্টি হয়নি। সেই পচনের বীজ আমরা নিজেরাই বপন করেছি, নিজেরাই জল দিয়েছি, নিজেরাই তাকে মহীরুহ হতে দিয়েছি। এখন সেই গলিত বিবেকের দুর্গন্ধে নাক চেপে ধরে বিস্মিত হওয়ার ভান করা ছাড়া আমাদের আর কী-ই বা করার আছে?

 

সমাজ কিংবা রাষ্ট্রের সংকট তখনই ভয়াবহ হয়ে ওঠে, যখন অপরাধী শুধু আইনের ফাঁক খুঁজে পায় না, সমাজের নীরব সমর্থনও পেয়ে যায়। আর একটি জাতির সবচেয়ে বড় ট্র্যাজেডি তখনই ঘটে, যখন মানুষ অপরাধে নয়, অপরাধের পুনরাবৃত্তিতে অভ্যস্ত হয়ে পড়ে।

 

সুতরাং প্রশ্ন শুধু রামিসা বা জাইমাদের জন্য বিচার নয়; প্রশ্ন হলো, আমরা কি এখনও সেই নৈতিক শক্তিটুকু ধরে রেখেছি, যা একটি সভ্য সমাজকে বর্বরতার হাত থেকে রক্ষা করতে পারে? নাকি আমরা এমন এক প্রান্তে এসে দাঁড়িয়েছি, যেখানে বিবেকের মৃত্যু আর কেবল রূপক নয়, এক নির্মম বাস্তবতা?

 

তথাকথিত দেশপ্রেমিকদের অনেকেই আজ যেন ঘুণে ধরা ক্ষমতার চেয়ারটিকেই একমাত্র লক্ষ্য ভেবে উন্মত্ত প্রতিযোগিতায় মগ্ন। কিন্তু নতুন প্রজন্মের জন্য কোনো শুভ, সুন্দর ও অনুসরণীয় দৃষ্টান্ত রেখে যাওয়ার দূরদর্শিতা, রাজনৈতিক শিষ্টাচার কিংবা নৈতিকতার উত্তরাধিকার তারা কতটা প্রতিষ্ঠা করতে পারছেন?

 

যে রাজনীতি ক্ষমতাকে জনকল্যাণের পরিবর্তে ব্যক্তিগত বিলাসিতার উপকরণে পরিণত করে, তার পরিণতি প্রায়শই হয় করুণ—কখনও দেশান্তরি বা পলাতকের পরিচয় নিয়ে জীবনযাপন, কখনও বা লাঞ্ছিত ও বন্দী অবস্থায় ইতিহাসের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে থাকা। এমন পরিণতি কোনো সুস্থ সমাজ, আদর্শ রাষ্ট্র কিংবা প্রকৃত দেশপ্রেমিকের কাম্য হতে পারে না। তবু ইতিহাস বারবার দেখিয়েছে, ক্ষমতার মোহ যখন বিবেককে গ্রাস করে, তখন এই পরিণতিই হয়ে ওঠে অনিবার্য।

 

কোথায় আজ সুশীল সমাজ, প্রগতিবাদী বুদ্ধিজীবী, আর ছাত্রসমাজ? সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে ছড়িয়ে পড়া পচনের উৎকট দুর্গন্ধ কি তাদের নাকে পৌঁছায় না? নাকি ইন্দ্রিয়ানুভূতিগুলোও ধীরে ধীরে মস্তিষ্কের বিবেকবোধের মতো নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছে?

 

রামিসাদের জন্য কেন শাহবাগ উত্তাল হয় না? কেন প্রতিবাদের মিছিল পথে নামে না? কেন অন্যায়ের বিরুদ্ধে সেই বজ্রকণ্ঠ আজ এত নিস্তব্ধ? কোথায় হাদীর উত্তরসুরীরা—যারা অন্যায় দেখলে বিবেকের তাড়নায় রাস্তায় নেমে আসত, ন্যায়ের দাবিতে কণ্ঠ উঁচু করত?

 

নাকি আমরা এমন এক সময়ে এসে দাঁড়িয়েছি, যেখানে প্রতিবাদের ভাষাও দলীয় পরিচয়ের কাছে জিম্মি, আর মানবিকতার মূল্য নির্ধারিত হয় ঘটনাপ্রবাহের রাজনৈতিক সুবিধা-অসুবিধা দিয়ে?

 

পরিশেষে বলতে হয়, ফুলে-ফসলে, নদী-নালায়, মানুষে-অমানুষে সমৃদ্ধ এই দেশটিকে যার যার খেয়াল-খুশিমতো ক্ষতবিক্ষত করে যান। বিবেককে নির্বাসনে পাঠিয়ে ক্ষমতা, লোভ আর স্বার্থের উল্লাসে মেতে থাকুন। তারপর কোনো একদিন সখিনা, রামিসা কিংবা অসংখ্য নিরপরাধ সন্তানের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদনে নিজেদেরই রক্ত, নিজেদেরই উত্তরাধিকার, নিজেদেরই নৈতিক পতনের ছাপ খুঁজে ফিরবেন। তখন হয়তো উপলব্ধি হবে—একটি জাতির ওপর সংঘটিত প্রতিটি অন্যায় শেষ পর্যন্ত ফিরে আসে সেই জাতিরই দরজায়।

0 Comments

জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

নাহিদা বৃষ্টির লাশ পাওয়া নিয়ে শঙ্কা কেন? দুই কারণ জানাল পুলিশ

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দক্ষিণ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউএসএফ) নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক পরিণতির খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ জামিল লিমনের (২৭) মরদেহ উদ্ধার করা হলেও, পুলিশ ধারণা করছে নাহিদা বৃষ্টিকেও (২৭) নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। অভিযুক্ত ঘাতক ও লিমনের রুমমেট হিশাম আবুগারবিয়ার ফ্ল্যাটে ‘প্রচুর রক্ত’ পাওয়ার পর পুলিশ জানিয়েছে, বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভবত আর কখনোই সম্ভব হবে না।   নিহত বৃষ্টির বড় ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘১০ টাম্পা বে নিউজ’-কে জানান, শুক্রবার গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তকারীরা বাংলাদেশে তাদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, লিমন ও হিশামের শেয়ার করা ফ্ল্যাটে যে পরিমাণ রক্ত পাওয়া গেছে, তা থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে বৃষ্টি আর বেঁচে নেই। পুলিশের আশঙ্কা, হত্যার পর মরদেহটি সম্ভবত ছিন্নবিচ্ছিন্ন বা টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়েছে, যার ফলে এটি খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। গত শুক্রবার সকাল সোয়া ৬টার দিকে হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের পাশ থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই সকাল ৯টার দিকে ইউএসএফ ক্যাম্পাসের কাছে লেক ফরেস্ট এলাকায় অভিযুক্ত হিশাম আবুগারবিয়ার বাড়িতে অভিযান চালায় হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়। পুলিশ হিশামের বাড়িতে পৌঁছালে তিনি নিজেকে ঘরের ভেতর তালাবদ্ধ করে রাখেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট ‘সোয়াট’ (SWAT) তলব করা হয়। প্রায় ২০ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির পর হিশাম আত্মসমর্পণ করেন। তার বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা, তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করা এবং অবৈধভাবে মরদেহ সরানোর মতো ছয়টি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।   বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হিশাম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক। তিনি লিমনের রুমমেট হিসেবে একই ফ্ল্যাটে থাকতেন। অন্যদিকে, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি গবেষণারত নাহিদা বৃষ্টি গত ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন। লিমনের সাথে তার আগে প্রেমের সম্পর্ক থাকলেও বর্তমানে ছিল না বলে জানিয়েছেন বৃষ্টির পরিবার।   তদন্তকারীরা লিমনের মৃত্যু নিশ্চিত করলেও বৃষ্টির নিখোঁজ রহস্য ও তাকে হত্যার নৃশংসতা এখন পুরো ফ্লোরিডা ও বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া ফেলেছে।

Top week

ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশ

ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাসের ভিসা প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন ব্যাখ্যা, নীতি অপরিবর্তিত থাকার স্পষ্টীকরণ

শাহারিয়া নয়ন মে ৩১, ২০২৬ ১৪:০ 0