- প্রচ্ছদ
- Opinion
সৌদিতে শিরচ্ছেদ! পোস্টমর্টেম
জুয়েল সাদাত
সাংবাদিক, কলামিস্ট - ফ্লোরিডা,যুক্তরাস্ট্র
সৌদিতে শিরচ্ছেদ! পোস্টমর্টেম
নজরুল ইসলাম ও সিতি আক্তার হারামের সন্নিকটে—খুবই কাছে, দুটি গেটের মাঝামাঝি একটি সিঁড়ির চিপায়—দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক কাজে লিপ্ত ছিলেন বলে দাবি করা হচ্ছে। বিষয়টি শুধু অনৈতিক আচরণ বা চুম্বনের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না; বরং তারা দীর্ঘদিন ধরে রাতের শিফটে এমন কাজ করে আসছিলেন। একজন পাহারাদার রেখে তারা এসব কাজ করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
যারা মৃত্যুদণ্ড নিয়ে সৌদি সরকারের সমালোচনা করছেন, আবেগপ্রবণ হয়ে দেশবাসীকে প্রভাবিত করছেন কিংবা সৌদিদের গালাগাল করছেন, তাদের অনেকেই হয়তো ঘটনার প্রকৃত বিবরণ জানেন না। এই সিতি ও নজরুলের যৌন কর্মকাণ্ডের বিষয়টি ভিডিওতে ধারণ করে একটি গ্রুপে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করা হচ্ছে। বিষয়টি চিন্তা করলেও আমার গা শিউরে ওঠে। যে শহরের মাটি পবিত্র, সেই পবিত্র হারাম এলাকার কাছাকাছি এমন অশ্লীলতা মেনে নেওয়া কতটা কঠিন, তা সহজেই অনুমেয়।
পবিত্র মক্কা ও মুসলমানদের আবেগ - মক্কার আকাশসীমায় প্রবেশের পর থেকেই মুসলিম জাহানের মানুষ জিকির শুরু করেন। সারা জীবনের স্বপ্ন থাকে সেখানে যাওয়ার, পবিত্র কাবা শরিফের সামনে হাজির হওয়ার।
লাব্বাইকা আল্লাহুম্মা লাব্বাইক, লাব্বাইকা লা শারিকা লাকা লাব্বাইক, ইন্নাল হাম্দা ওয়ান্নি’মাতা লাকা ওয়াল-মুল্ক, লা শারিকা লাক। বাংলা অর্থ: “আমি হাজির, হে আল্লাহ, আমি হাজির। আমি হাজির, তোমার কোনো শরিক নেই, আমি হাজির। নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা, সমস্ত নিয়ামত এবং সমস্ত রাজত্ব শুধু তোমারই। তোমার কোনো শরিক নেই।”
এই ভিডিওটি ভাইরাল হয়ে যাচ্ছিল বলে দাবি করা হয়েছে। সৌদি আরবের হারামের পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের একটি গ্রুপে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়েছিল। পরে পুলিশ দ্রুত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করে এবং তাদের মোবাইল ফোন থেকে ভিডিওটি মুছে ফেলে বলে বর্ণনা করা হচ্ছে। দাবি অনুযায়ী, ঘটনাটি ২০২৩ সালের। যারা ভিডিওটি দেখেছিলেন এবং শেয়ার করেছিলেন, তাদের অনেকেরই স্বল্পমেয়াদি সাজা হয়েছিল। এ ঘটনায় একাধিক ব্যক্তি দণ্ডিত হয়েছেন বলেও দাবি করা হচ্ছে। আল্লাহর ঘরের যাঁরা দায়িত্বে রয়েছেন, তাঁরা মুসলিম বিশ্বের সম্মানহানি ঠেকাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন—এমনটাই মনে করেন অনেকে।
এই ঘটনা সম্পর্কে সব তথ্য জানার পর মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হওয়া অস্বাভাবিক নয়। তবে অপরাধের বিচার অবশ্যই আইন ও যথাযথ বিচারপ্রক্রিয়ার মাধ্যমে হওয়া উচিত।
এবার আসুন, আইনি লড়াইয়ের প্রসঙ্গে: সৌদি আরবের সমালোচনা যতই করা হোক না কেন, আমার বিশ্বাস, দেশটির বিচারিক প্রক্রিয়ায় কী ঘটেছে, তা বোঝার জন্য আদালতের নথি ও রায় পর্যালোচনা করা জরুরি।
দাবি করা হচ্ছে, ২০২৩ সালের ঘটনা থেকে শুরু করে তিন বছরের মধ্যে বিচারপ্রক্রিয়ার বিভিন্ন ধাপ শেষ করে ২০২৬ সালে চূড়ান্ত দণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। নিম্ন আদালত থেকে সর্বোচ্চ আদালত পর্যন্ত বিচারপ্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে বলেও উল্লেখ করা হচ্ছে। আরও দাবি করা হচ্ছে, নিম্ন আদালতে প্রথমে তাঁদের ২০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। পরে আপিলের প্রক্রিয়ায় সেই রায় পরিবর্তিত হয়ে মৃত্যুদণ্ডে পরিণত হয়।
এই দাবি সত্য হলে, কোন আদালত কী যুক্তিতে আগের রায় পরিবর্তন করেছেন, তা জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সর্বোচ্চ আদালতের রায়ের প্রকৃত বিবরণ ছাড়া আদালত ক্ষুব্ধ হয়ে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো কঠিন।
তিনটি সরকারের কী করণীয় ছিল? ২০২৩ থেকে ২০২৬—এই সময়ে বাংলাদেশে একাধিক সরকার ও প্রশাসনিক পরিবর্তন হয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহরিয়ার হোসেন থেকে খলিলুর রহমান, হুমায়ুন কবির ও শ্যামা ওবায়েদ—সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। তবে তাঁরা প্রত্যেকে কখন কী তথ্য জানতেন, সে বিষয়ে নির্ভরযোগ্য নথি বা আনুষ্ঠানিক বক্তব্য থাকা জরুরি।
এটি কোনো সাধারণ দেনদরবারের বিষয় ছিল কি না, তা নির্ধারণের জন্য অপরাধের প্রকৃতি, সৌদি আরবের আইন, বিচারিক সিদ্ধান্ত এবং বাংলাদেশের কূটনৈতিক প্রচেষ্টার বিস্তারিত জানা প্রয়োজন। হারামের সন্নিকটে এমন অপরাধের অভিযোগ মুসলমানদের ধর্মীয় অনুভূতিতে গভীর আঘাত করতে পারে। মক্কা-মদিনায় গিয়ে অনেকেই স্বামী-স্ত্রী হিসেবে একসঙ্গে থাকার চেয়ে ইবাদতকে বেশি গুরুত্ব দেন। এই পবিত্র স্থানগুলোর সঙ্গে মুসলমানদের আবেগ, বিশ্বাস ও ভালোবাসা গভীরভাবে জড়িত।
আমাদের রাসুল (সা.)-এর স্মৃতিবিজড়িত স্থান এবং সাহাবিদের পদচারণায় ধন্য ভূমিতে যাওয়ার আকাঙ্ক্ষা কোটি কোটি মুসলমানের হৃদয়ে রয়েছে। পাঁচ ওয়াক্ত হারামে নামাজ পড়ার আশায় অনেকে অনেক টাকা খরচ করে হোটেল নেন। কারও জীবনে আর্থিক সামর্থ্য থাকে না, আবার কারও ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও সেখানে যাওয়ার সুযোগ হয় না।
সিতি ও নজরুলের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের বিবরণ শুনে অনেকের মনে যে কষ্ট ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে, তা অস্বীকার করার উপায় নেই। তবে অভিযোগ, প্রমাণ এবং আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের মধ্যে পার্থক্য বজায় রাখাও জরুরি।
হারামের পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের দায়িত্ব : সৌদি আরবের হারামে যাঁরা পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কাজ করেন, তাঁদের দায়িত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিন হাজার হাজার, এমনকি লাখো মুসল্লির চলাচলের স্থান পরিষ্কার রাখা নিঃসন্দেহে কঠোর পরিশ্রমের কাজ। অনেকে এই কাজের গুরুত্ব যথাযথভাবে উপলব্ধি করেন না। কেউ কেউ পরিচ্ছন্নতার সরঞ্জাম হাতে দাঁড়িয়ে থাকেন, নামাজ আদায় করেন না কিংবা মানুষের কাছে অর্থ চান—এমন দৃশ্যও কখনো দেখা যায় বলে অনেকে মন্তব্য করেন। তবে ব্যক্তিবিশেষের আচরণ দিয়ে সব কর্মীকে বিচার করা ঠিক নয়।
সৌদি আরবে যাওয়ার জন্য অনেক বাংলাদেশি বিপুল অর্থ ব্যয় করেন। সেখানে গিয়ে কেউ মাসে ১,৫০০ রিয়াল বেতন পান, আবার কেউ বখশিশ হিসেবে অতিরিক্ত অর্থও পেয়ে থাকেন। তবে এসব বেতন ও বখশিশের পরিমাণ কাজ, নিয়োগকর্তা এবং কর্মীর পরিস্থিতি অনুযায়ী ভিন্ন হতে পারে।
সৌদি আরবের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক : সৌদি আরবে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি কর্মী বসবাস করেন। তাঁদের শ্রম, কর্মসংস্থান ও প্রেরিত অর্থ বাংলাদেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এমন পরিস্থিতিতে একজন বা দুজন ব্যক্তিকে ঘিরে তৈরি হওয়া আবেগের পাশাপাশি বৃহত্তর জাতীয় স্বার্থ, প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা এবং দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কও বিবেচনায় রাখা জরুরি।
আমি পররাষ্ট্রমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরকে ব্যক্তিগতভাবে পছন্দ করি না। তবে তিনি যদি অপরাধের প্রকৃতি সম্পর্কে কোনো বক্তব্য দিয়ে থাকেন, তাহলে সেই বক্তব্যের যথার্থতা যাচাই করতে হবে প্রকৃত ঘটনা, প্রমাণ ও আদালতের নথির ভিত্তিতে। অভিযোগে ব্যভিচার, অশ্লীলতা ও পর্নোগ্রাফির প্রসঙ্গ উঠে এসেছে। একই সঙ্গে দাবি করা হচ্ছে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা নিজেরা ভিডিও তৈরি করেননি, বরং অন্য কেউ তাঁদের কর্মকাণ্ড ধারণ করেছিলেন। এসব বিষয়ের সত্যতা নির্ধারণে তদন্তের তথ্য ও আদালতের নথিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
আরও দাবি করা হচ্ছে, ঘটনার পর হারামের ভেতরে কর্মচারীদের মোবাইল ফোন ব্যবহারের বিষয়ে সতর্কতা জারি করা হয়েছে এবং সৌদি পুলিশ দক্ষতার সঙ্গে বিষয়টি সামাল দিয়েছে। ভিডিওটির কোনো কপি এখন আর নেই বলেও দাবি করা হচ্ছে। এসব তথ্যের স্বাধীন যাচাই প্রয়োজন।
শেষ কথা : পবিত্র মক্কা ও মদিনার প্রতি মুসলমানদের আবেগ, ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা অপরিসীম। এসব স্থানের মর্যাদা রক্ষা করা মুসলমানদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। একই সঙ্গে কোনো গুরুতর অপরাধের অভিযোগ সামনে এলে আবেগের পাশাপাশি তথ্য, প্রমাণ এবং ন্যায়বিচারকেও গুরুত্ব দিতে হবে।
কোনো ব্যক্তির অপরাধ প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী তাঁর বিচার হওয়া উচিত। তবে মৃত্যুদণ্ডের মতো চূড়ান্ত শাস্তি নিয়ে আলোচনা করার ক্ষেত্রে আদালতের প্রকৃত রায়, প্রমাণ এবং বিচারপ্রক্রিয়া সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া জরুরি। ঘটনার প্রকৃত সত্য জানা, গুজব এড়ানো এবং যাচাই করা তথ্যের ভিত্তিতে মতামত দেওয়াই আমাদের দায়িত্ব। আল্লাহ আমাদের সবাইকে সঠিক বুঝ দান করুন। আমিন।
0 Comments
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।