- প্রচ্ছদ
- অন্যান্য
অন্যান্য
যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয় মোবাইল অর্থ লেনদেনের সেবা ক্যাশ অ্যাপ ব্যবহারকারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ খবর প্রকাশিত হয়েছে। নিরাপত্তা লঙ্ঘন ও অননুমোদিত লেনদেনসংক্রান্ত মামলায় ১৫ মিলিয়ন ডলারের সমঝোতার আওতায় অনুমোদিত দাবিদারদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা রয়েছে। নিউইয়র্কের ৮ অক্টোবরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অর্থ পাঠানোর প্রক্রিয়া ২০২৬ সালের অক্টোবর মাসে শুরু হওয়ার কথা। মামলাটিতে অভিযোগ করা হয়েছিল, ক্যাশ অ্যাপের মূল প্রতিষ্ঠান ব্লক ইনকরপোরেটেড গ্রাহকের তথ্য সুরক্ষায় যথাযথ ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়েছে। অভিযোগের মধ্যে সাবেক এক কর্মীর মাধ্যমে গ্রাহকের তথ্য অননুমোদিতভাবে ব্যবহারের ঘটনা এবং ২০২৩ সালে পুনর্ব্যবহৃত ফোন নম্বরের মাধ্যমে কিছু অ্যাকাউন্টে অননুমোদিত প্রবেশের বিষয়ও ছিল। তবে ক্যাশ অ্যাপ ও ব্লক কোনো অন্যায় করার কথা স্বীকার করেনি। এই সমঝোতার আওতায় নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে অননুমোদিত অর্থ উত্তোলন, প্রতারণামূলক লেনদেন কিংবা সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা সমস্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কিছু বর্তমান ও সাবেক গ্রাহক দাবি জমা দেওয়ার যোগ্য ছিলেন। অনুমোদিত দাবিদাররা নথিপত্র ও সমঝোতার শর্ত অনুযায়ী সর্বোচ্চ ২ হাজার ৫০০ ডলার পর্যন্ত নির্দিষ্ট ক্ষতির অর্থ ফেরত পেতে পারেন। তবে প্রত্যেকে এই পরিমাণ অর্থ পাবেন, এমন নিশ্চয়তা নেই। দাবি জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ছিল ১৮ নভেম্বর ২০২৪। তাই যাঁরা ওই সময়ের মধ্যে বৈধ দাবি জমা দেননি, তাঁরা এখন নতুন করে এই সমঝোতার অর্থ পাওয়ার আবেদন করতে পারবেন না। যাঁরা আগে আবেদন করেছেন, তাঁদের দাবি অনুমোদিত হয়েছে কি না এবং অর্থ পাঠানোর অবস্থা কী, তা যাচাই করা উচিত।
নিউইয়র্কে অভিবাসন অভিযান জোরদারের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করা কিছু পশ্চিম আফ্রিকান অভিবাসীকে আটকের ঘটনায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তাদের কয়েকজনকে এমন দেশে পাঠানোর পরিকল্পনার কথা জানানো হয়েছে, যেসব দেশের সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই। সাম্প্রতিক সময়ে নিউইয়র্কের ২৬ ফেডারেল প্লাজায় নিয়মিত অভিবাসনসংক্রান্ত সাক্ষাৎ বা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়ার জন্য ডেকে কয়েকজনকে আটক করেছে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও শুল্ক আইন প্রয়োগকারী সংস্থা। অভিবাসন অধিকারকর্মীদের ভাষ্য অনুযায়ী, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে কয়েকজন দীর্ঘদিন ধরে নিউইয়র্কে বসবাস করছেন। আটক হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে গৃহকর্মী, নার্সিং সহকারী, চুলের কাজের পেশাজীবী এবং বাড়িতে স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার কর্মীরাও রয়েছেন। তাদের কেউ কেউ প্রায় দুই দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন। বিষয়টির সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিক হলো, আটক হওয়া কয়েকজনের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর ক্ষেত্রে আগে থেকেই আইনি সুরক্ষা ছিল। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন আইনে কোনো ব্যক্তিকে নিজ দেশে ফেরত পাঠালে নির্যাতন বা নিপীড়নের আশঙ্কা থাকলে তাকে সেখানে ফেরত পাঠানো থেকে সুরক্ষা দেওয়া যায়। কিন্তু সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আদালতের একটি সিদ্ধান্তের পর ট্রাম্প প্রশাসন তৃতীয় দেশে অভিবাসীদের ফেরত পাঠানোর কার্যক্রম আবারও জোরদার করার সুযোগ পেয়েছে। এর ফলে এমন অভিবাসীরাও উদ্বেগে পড়েছেন, যাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানো আইনগতভাবে নিষিদ্ধ হলেও অন্য কোনো দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হতে পারে। নিউইয়র্কের সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনায় আটক ব্যক্তিদের পশ্চিম আফ্রিকার ঘানা বা অন্য কোনো দেশে পাঠানোর কথা বলা হয়েছে বলে তাদের পরিবার ও আইনজীবীরা জানিয়েছেন।একটি ঘটনায় গাম্বিয়া থেকে আসা এক নারীকে আটকের পর ঘানায় পাঠানোর কথা বলা হয়েছিল। তার পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই নারী প্রায় দুই দশক আগে গাম্বিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্রে এসেছিলেন। নিজ দেশে ফিরে গেলে নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকির আশঙ্কায় তিনি আইনি সুরক্ষা পেয়েছিলেন। পরে আদালতে আবেদন করার পর তাকে মুক্তি দেওয়া হয়। এই ঘটনাগুলো ঘিরে নিউইয়র্কের অভিবাসন অধিকার সংগঠনগুলো সতর্কতা জারি করেছে। তাদের পরামর্শ, যেসব অভিবাসীকে অভিবাসন কর্তৃপক্ষ নির্দিষ্ট তারিখে ২৬ ফেডারেল প্লাজায় হাজির হতে বলেছে, তারা একা না গিয়ে আগে একজন অভিবাসন আইনজীবীর সঙ্গে পরামর্শ করুন।তৃতীয় দেশে অভিবাসী পাঠানোর নীতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রজুড়েও বিতর্ক চলছে। একটি সাম্প্রতিক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসন প্রায় ৩৫টি দেশের সঙ্গে এমন ব্যবস্থা তৈরি করেছে, যার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে থাকা অভিবাসীদের নিজ দেশের পরিবর্তে অন্য দেশে পাঠানো সম্ভব হচ্ছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর অভিযোগ, তৃতীয় কোনো দেশে পাঠানোর আগে অভিবাসীদের পর্যাপ্ত সময় ও আইনি সুযোগ দেওয়া হচ্ছে কি না, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের বক্তব্য, তৃতীয় দেশে পাঠানো একটি বৈধ অভিবাসন কার্যক্রম। প্রশাসনের কর্মকর্তাদের দাবি, যেসব অভিবাসী নিজ দেশে ফেরত যেতে পারেন না বা ফেরত যেতে অস্বীকার করেন, তাদের অন্য কোনো দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করা যেতে পারে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আদালত ট্রাম্প প্রশাসনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অভিবাসন নীতি নিয়েও শুনানি করতে যাচ্ছে। সেখানে প্রশ্ন উঠেছে, যুক্তরাষ্ট্রে থাকা কিছু অভিবাসীকে বহিষ্কার মামলার সময় জামিন শুনানির সুযোগ না দিয়েই আটক রাখা যাবে কি না।নিউইয়র্কে বসবাসরত বাংলাদেশি ও দক্ষিণ এশীয় অভিবাসীদের জন্যও এই পরিস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ। তবে বর্তমান তৃতীয় দেশে পাঠানোর ঘটনাগুলো মূলত পশ্চিম আফ্রিকার অভিবাসীদের কেন্দ্র করে সামনে এসেছে। তাই কোনো বাংলাদেশি একই ধরনের ঝুঁকিতে রয়েছেন—এমন সিদ্ধান্ত শুধু সাধারণ খবরের ভিত্তিতে নেওয়া উচিত নয়।
মুখ দেখে মনে হতে পারে রোদে পুড়ে লাল হয়ে গেছে। কিন্তু আমাজনের উয়াকারি বানরের উজ্জ্বল লাল মুখের কারণ তার ত্বক ও রক্তনালির বিশেষ গঠন। মুখের পাতলা ত্বকের নিচে ঘনভাবে ছড়িয়ে থাকা রক্তনালি এবং মেলানিন রঞ্জকের অনুপস্থিতি প্রাণীটিকে এমন চেহারা দিয়েছে। গবেষকদের মতে, এই রং তার শারীরিক অবস্থার সংকেতও বহন করতে পারে। আমাজন অববাহিকার মৌসুমি প্লাবিত বন উয়াকারির গুরুত্বপূর্ণ আবাস। সাদা উয়াকারির শরীরে লম্বা, হালকা রঙের লোম থাকলেও মাথা ও মুখ প্রায় লোমহীন। শরীরের লোমের সঙ্গে লাল মুখের এই বৈপরীত্য প্রাণীটিকে সহজেই আলাদা করে চেনায়। উয়াকারির বিভিন্ন ধরন রয়েছে; সবগুলোর শরীরের লোমের রং এক নয়। উয়াকারির সঙ্গে ‘ইংলিশ মাঙ্কি’ নামটিও যুক্ত রয়েছে। ইউনিভার্সিটি অব উইসকনসিনের ন্যাশনাল প্রাইমেট রিসার্চ সেন্টারের তথ্যপত্রে লাল উয়াকারির একটি প্রচলিত নাম হিসেবে স্প্যানিশ ‘মোনো ইংলেস’ উল্লেখ করা হয়েছে, যার অর্থ ইংরেজ বানর। তবে প্রাথমিক ইংরেজ অভিযাত্রীদের রোদে লাল হয়ে যাওয়া মুখ দেখে এই নাম দেওয়া হয়েছিল বলে যে গল্প প্রচলিত আছে, সেটিকে নিশ্চিত ঐতিহাসিক ঘটনা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি। লাল মুখের বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা পাওয়া যায় ২০১৫ সালে রয়্যাল সোসাইটি ওপেন সায়েন্সে প্রকাশিত একটি গবেষণায়। সেখানে উয়াকারির মুখের ত্বক অন্য কয়েক ধরনের বানরের ত্বকের সঙ্গে তুলনা করা হয়। গবেষকেরা দেখেন, উয়াকারির মুখের বাইরের ত্বক তুলনামূলক পাতলা এবং সেখানে মেলানিনের দানা দেখা যায়নি। পাশাপাশি ত্বকের ঠিক নিচে ক্ষুদ্র রক্তনালির ঘনত্ব বেশি। এই রক্তনালিগুলো তুলনায় বড় এবং বেশি আঁকাবাঁকা। ফলে ত্বকের কাছাকাছি প্রবাহিত রক্তের রং বাইরে থেকে স্পষ্ট হয়। উয়াকারির মুখের লালচে ভাব মূলত এই বিশেষ গঠনের ফল। তাই প্রাণীটির স্বাভাবিক মুখের রংকে মানুষের সানবার্ন বা রোদে পোড়া ত্বকের সঙ্গে মিলিয়ে ব্যাখ্যা করা যথাযথ নয়। উজ্জ্বল লাল মুখ সুস্বাস্থ্যের লক্ষণ হতে পারে বলেও গবেষণায় আলোচনা করা হয়েছে। মুখের ত্বক দিয়ে রক্তের অবস্থার কিছু পরিবর্তন বাইরে থেকে বোঝা সম্ভব হওয়ায় এই ধারণার বৈজ্ঞানিক ভিত্তি রয়েছে। তবে গবেষকেরা সতর্ক করেছেন, মুখের লাল রং স্বাস্থ্য নির্দেশ করে, এই ধারণাটি তাঁদের গবেষণায় সরাসরি পরীক্ষা করা হয়নি। রংটি যৌন বা আচরণগত অবস্থার সংকেতও দিতে পারে। ফলে শুধু মুখ কতটা লাল, তা দেখে কোনো উয়াকারিকে নিশ্চিতভাবে সুস্থ বা অসুস্থ বলা যায় না।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্টার্স পরীক্ষায় ফার্স্টক্লাস ফার্স্ট হওয়া রুমা বেগমের জীবনের গল্প এখন নতুন করে সামনে এসেছে। একসময় শিক্ষাজীবনের অসাধারণ সাফল্যে যিনি ছিলেন আলোচিত, জীবনের শেষ প্রান্তে এসে তাঁর দিন কাটছে বরিশাল নগরীর কাউনিয়া এলাকার একটি বৃদ্ধাশ্রমে। বিষয়টি নিয়ে ১ অক্টোবর ২০২৬ প্রকাশিত প্রতিবেদনে তাঁর বর্তমান জীবনের নানা দিক তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই বৃদ্ধাশ্রমে বর্তমানে প্রায় ৭০ জন প্রবীণ নারী-পুরুষ বসবাস করছেন। তাঁদের একজন রুমা বেগম। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্টার্সে ফার্স্টক্লাস ফার্স্ট হওয়া রুমা একসময় মেধা, শিক্ষা ও ভবিষ্যতের স্বপ্ন নিয়ে এগিয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু বয়সের শেষ পর্যায়ে এসে তাঁর ঠিকানা হয়েছে স্বজনহীন এই আশ্রয়কেন্দ্র। বৃদ্ধাশ্রমে রুমার দিন কাটে অনেকটা নীরবে। সেখানে থাকা অন্যদের সঙ্গে কথা বলেন, মিশতে চেষ্টা করেন। তবে অতীতের কথা উঠলে তাঁর মধ্যে নীরবতা নেমে আসে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। একসময় শিক্ষাজীবনের সাফল্য ছিল তাঁর পরিচয়ের বড় অংশ, আর এখন জীবনের বড় শূন্যতা হয়ে দাঁড়িয়েছে আপনজনের সঙ্গের অভাব। রুমার মতো ওই বৃদ্ধাশ্রমে থাকা অন্য প্রবীণদের জীবনেও রয়েছে বিচ্ছিন্নতা ও একাকিত্বের নানা গল্প। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন আসমা, খাদেজা, অঞ্জলী, উষা রানী, বানু ও কহিনূর বেগম। কারও সন্তান ও পরিবারের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হয়েছে, আবার কেউ দীর্ঘদিনের পারিবারিক জীবন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে শেষ বয়সে বৃদ্ধাশ্রমে আশ্রয় নিয়েছেন। প্রতিবেদনে অঞ্জলী রানীর কথাও উঠে এসেছে। তাঁর চাওয়া খুব বেশি নয়। শেষ বয়সে সন্তানরা কাছে এসে কিছুক্ষণ বসুক, তাঁর সঙ্গে দুটো কথা বলুক—এটুকুই তাঁর প্রত্যাশা। সারাজীবন পরিবারের জন্য কাজ করার পর শেষ সময়ে আপনজনের সামান্য সময় ও সঙ্গকেই তিনি সবচেয়ে মূল্যবান মনে করছেন। বৃদ্ধাশ্রমটির প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক সাখাওয়াত জানান, সেখানে থাকা প্রায় ৭০ জন প্রবীণ মানুষের প্রত্যেকের জীবনেই রয়েছে আলাদা কষ্টের গল্প। কেউ সন্তানদের অবহেলার কারণে এখানে এসেছেন, আবার কেউ পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন। তাঁদের অনেকেই এখনো স্বজনদের ফিরে আসার অপেক্ষায় রয়েছেন। রুমা বেগমের জীবন তাই একদিকে শিক্ষাজীবনের সাফল্যের গল্প, অন্যদিকে বার্ধক্যের নিঃসঙ্গতার বাস্তব চিত্র। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো দেশের অন্যতম প্রধান শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মাস্টার্সে ফার্স্টক্লাস ফার্স্ট হওয়ার অর্জন তাঁর জীবনের উজ্জ্বল অধ্যায় হলেও শেষ বয়সে এসে সেই সাফল্যের চেয়ে আপন মানুষের সঙ্গের প্রয়োজনই যেন বড় হয়ে উঠেছে।
কুকুর শুধু মানুষের কথা শুনেই প্রতিক্রিয়া দেখায় না, মানুষের বলা কথাকে মস্তিষ্কে বিশ্লেষণও করতে পারে। হাঙ্গেরির গবেষকদের নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, কথা বোঝার ক্ষেত্রে কুকুরের মস্তিষ্ক এমন একটি প্রক্রিয়া ব্যবহার করে, যা এতদিন মূলত মানুষের ক্ষেত্রেই দেখা গেছে। হাঙ্গেরির ইএলটিই বিশ্ববিদ্যালয়ের নিউরোইথোলজি রিসার্চ গ্রুপের গবেষকরা ২০ জন মানুষ ও ২০টি পোষা কুকুরের মস্তিষ্কের প্রতিক্রিয়া তুলনা করেন। অংশগ্রহণকারীদের এমন কিছু ধারাবাহিক শব্দ শোনানো হয়, যেখানে শব্দগুলোর মধ্যে কোনো বিরতি বা আলাদা সংকেত ছিল না। অর্থাৎ, কথাগুলোকে আলাদা শব্দ হিসেবে চেনার জন্য মস্তিষ্ককে শব্দের ভেতরের কাঠামো খুঁজে নিতে হয়েছে। গবেষণায় মূলত ব্যঞ্জনধ্বনি ও স্বরধ্বনির ভূমিকা পরীক্ষা করা হয়। প্রথম ধরনের শব্দধারায় ব্যঞ্জনধ্বনির পুনরাবৃত্ত বিন্যাস ব্যবহার করে তিন সিলেবলের পরপর শব্দ তৈরি করা হয়। দ্বিতীয় ধরনের ধারায় একইভাবে স্বরধ্বনির পুনরাবৃত্তির মাধ্যমে শব্দের কাঠামো তৈরি করা হয়। আর তৃতীয় ধরনের ধারায় কোনো পুনরাবৃত্ত বিন্যাস ছিল না, ফলে সিলেবলগুলো এলোমেলোভাবে সাজানো ছিল। ইলেকট্রোএনসেফালোগ্রাফি বা ইইজি প্রযুক্তির মাধ্যমে গবেষকরা মানুষ ও কুকুরের মস্তিষ্কের বৈদ্যুতিক কার্যকলাপ পর্যবেক্ষণ করেন। এতে দেখা যায়, ব্যঞ্জনধ্বনির ওপর ভিত্তি করে তৈরি শব্দের ক্ষেত্রে মানুষ ও কুকুর—দুই প্রজাতির মস্তিষ্কেই তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। গবেষকদের মতে, ব্যঞ্জনধ্বনিনির্ভর শব্দধারায় কুকুরের মস্তিষ্ক মানুষের মস্তিষ্কের মতোই শব্দের ছন্দের সঙ্গে সমন্বয় করতে সক্ষম হয়েছে। স্বরধ্বনিনির্ভর বা এলোমেলো শব্দধারায় এমন শক্তিশালী সমন্বয় দেখা যায়নি। গবেষণায় আরও দেখা যায়, প্রতিটি শব্দ শুরুর প্রায় ৪০০ মিলিসেকেন্ড পর মানুষ ও কুকুরের মস্তিষ্কে বৈদ্যুতিক কার্যকলাপে একটি নির্দিষ্ট পরিবর্তন ঘটে। তবে এই পরিবর্তনটি কেবল ব্যঞ্জনধ্বনির কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে তৈরি শব্দের ক্ষেত্রেই স্পষ্ট ছিল। মানুষের ক্ষেত্রে এই সময়সীমা ধারাবাহিক কথাবার্তা থেকে আলাদা শব্দ শনাক্ত করার সঙ্গে সম্পর্কিত বলে আগে থেকেই জানা ছিল। গবেষণার সহ-প্রধান লেখক ও মনোবিজ্ঞানী কিংগা জি. টথ বলেন, কুকুরের মস্তিষ্কেও মানুষের মতো ব্যঞ্জনধ্বনির প্রতি এমন প্রবণতা দেখা যাওয়ার এটিই প্রথম প্রমাণ। গবেষকদের মতে, এই ফলাফল থেকে বোঝা যায়, কথাবার্তা বিশ্লেষণের কিছু গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য তৈরি হওয়ার জন্য মানুষের মতো জটিল ভাষাগত ক্ষমতা বা আগে থেকেই নির্ধারিত বিশেষ মস্তিষ্কের কাঠামো থাকা বাধ্যতামূলক নয়। গবেষক অ্যাটিলা অ্যান্ডিকসের মতে, কথাবার্তার নিয়মিত সংস্পর্শই হয়তো কুকুরের মস্তিষ্কের কার্যপ্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আনতে পারে। এর ফলে এমন কিছু ভাষা-প্রক্রিয়াকরণ ক্ষমতা তৈরি হতে পারে, যা এতদিন শুধু মানুষের মধ্যেই দেখা গেছে। তবে গবেষণাটি কুকুর মানুষের ভাষা মানুষের মতো সম্পূর্ণভাবে বোঝে—এমন দাবি করছে না। বরং গবেষণাটি দেখিয়েছে, মানুষের কথার ধারাবাহিক শব্দ থেকে গুরুত্বপূর্ণ কাঠামো শনাক্ত করার ক্ষেত্রে কুকুরের মস্তিষ্কের কিছু প্রক্রিয়া মানুষের সঙ্গে আশ্চর্যজনকভাবে মিল রয়েছে।
বারবার পানি খেতে ইচ্ছা করা, স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি প্রস্রাব হওয়া কিংবা রাতে ঘন ঘন প্রস্রাবের জন্য ঘুম ভেঙে যাওয়া অনেকেই সাধারণ সমস্যা হিসেবে দেখেন। তবে এসব লক্ষণ কখনো কখনো শরীরের গুরুত্বপূর্ণ কোনো সমস্যার ইঙ্গিত দিতে পারে। এর মধ্যে একটি বিরল রোগ হলো ডায়াবেটিস ইনসিপিডাস। চিকিৎসাবিজ্ঞানের তথ্য অনুযায়ী, ডায়াবেটিস ইনসিপিডাস সাধারণ ডায়াবেটিস বা টাইপ-১ ও টাইপ-২ ডায়াবেটিসের মতো নয়। দুটি রোগের নামের মধ্যে ‘ডায়াবেটিস’ শব্দটি থাকলেও তাদের কারণ ও চিকিৎসা আলাদা। ডায়াবেটিস ইনসিপিডাস কী? ডায়াবেটিস ইনসিপিডাস একটি বিরল হরমোনজনিত সমস্যা। এতে শরীরের পানি নিয়ন্ত্রণের স্বাভাবিক ব্যবস্থা ব্যাহত হয় এবং কিডনি অতিরিক্ত পানি প্রস্রাবের মাধ্যমে বের করে দেয়। এ রোগে ভ্যাসোপ্রেসিন বা অ্যান্টিডায়ুরেটিক হরমোনের ঘাটতি হতে পারে। আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে শরীরে হরমোন পর্যাপ্ত থাকলেও কিডনি সেটির প্রতি সঠিকভাবে সাড়া দেয় না। প্রধান লক্ষণ কী? ডায়াবেটিস ইনসিপিডাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দুটি লক্ষণ হলো অতিরিক্ত প্রস্রাব এবং তীব্র পিপাসা।রোগীর দিনে ও রাতে বারবার প্রস্রাব হতে পারে।সাধারণত প্রস্রাবের পরিমাণও অনেক বেশি হয় এবং প্রস্রাব বেশ হালকা বা পানির মতো হতে পারে। গুরুতর ক্ষেত্রে দিনে প্রায় ২০ লিটার পর্যন্ত প্রস্রাব হতে পারে। এর ফলে শরীর থেকে অতিরিক্ত পানি বেরিয়ে যাওয়ায় রোগীর বারবার পানি খেতে ইচ্ছা করে। অনেক সময় প্রচুর পানি পান করার পরও পিপাসার অনুভূতি পুরোপুরি কমে না।রাতে বারবার প্রস্রাব ও পানি পান করতে গিয়ে ঘুমের ব্যাঘাত ঘটতে পারে। দীর্ঘদিন এমন চললে ক্লান্তি ও দৈনন্দিন কাজে মনোযোগের সমস্যা দেখা দিতে পারে। কেন হয়? ডায়াবেটিস ইনসিপিডাসের কারণ একাধিক হতে পারে।মস্তিষ্কের হাইপোথ্যালামাস বা পিটুইটারি গ্রন্থির সমস্যা, মাথায় গুরুতর আঘাত, মস্তিষ্কের অস্ত্রোপচার, কিছু টিউমার, প্রদাহ বা সংক্রমণের কারণে ভ্যাসোপ্রেসিনের ঘাটতি হতে পারে। অন্যদিকে কিডনি ভ্যাসোপ্রেসিনের প্রতি সঠিকভাবে সাড়া না দিলেও এ সমস্যা হতে পারে। কিছু ওষুধ, রক্তে ক্যালসিয়ামের মাত্রা বেশি হওয়া, পটাশিয়ামের মাত্রা কমে যাওয়া এবং কিছু কিডনি-সংক্রান্ত সমস্যাও এর সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। সাধারণ ডায়াবেটিসের সঙ্গেও মিল রয়েছে বারবার পিপাসা ও প্রস্রাব হওয়া শুধু ডায়াবেটিস ইনসিপিডাসের লক্ষণ নয়। টাইপ-১ বা টাইপ-২ ডায়াবেটিসেও রক্তে অতিরিক্ত গ্লুকোজের কারণে ঘন ঘন প্রস্রাব ও অতিরিক্ত পিপাসা হতে পারে। তাই শুধু লক্ষণ দেখে রোগ নির্ণয় করা ঠিক নয়।এ কারণে দীর্ঘদিন ধরে অস্বাভাবিক পিপাসা, ঘন ঘন প্রস্রাব, অতিরিক্ত ক্লান্তি, অকারণে ওজন কমে যাওয়া বা ঝাপসা দেখার মতো সমস্যা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে রক্তে শর্করা পরীক্ষা করানোও গুরুত্বপূর্ণ। কীভাবে রোগ নির্ণয় করা হয়? চিকিৎসক প্রথমে রোগীর উপসর্গ ও চিকিৎসার ইতিহাস জানতে চান। এরপর প্রয়োজন অনুযায়ী প্রস্রাব ও রক্ত পরীক্ষা করা হয়।রক্তে সোডিয়ামসহ বিভিন্ন উপাদানের মাত্রা এবং প্রস্রাব কতটা পাতলা বা ঘন তা পরীক্ষা করা হতে পারে। প্রয়োজনে চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে ওয়াটার ডিপ্রাইভেশন টেস্ট করা হয়। এ পরীক্ষায় নির্দিষ্ট সময় তরল গ্রহণ বন্ধ রেখে শরীরের ওজন, প্রস্রাবের পরিমাণ এবং রক্ত ও প্রস্রাবের পরিবর্তন পর্যবেক্ষণ করা হয়।কিছু ক্ষেত্রে মস্তিষ্কের হাইপোথ্যালামাস বা পিটুইটারি গ্রন্থিতে কোনো সমস্যা আছে কি না দেখতে এমআরআই করা হতে পারে। চিকিৎসা কী? চিকিৎসা নির্ভর করে রোগের ধরন ও কারণের ওপর।কেন্দ্রীয় ধরনের ডায়াবেটিস ইনসিপিডাসে শরীরে কমে যাওয়া হরমোনের বিকল্প হিসেবে ডেসমোপ্রেসিন ব্যবহার করা হতে পারে। এটি ট্যাবলেট, নাকের স্প্রে বা নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে ইনজেকশনের মাধ্যমে দেওয়া যায়।কিডনি ভ্যাসোপ্রেসিনে সাড়া না দিলে চিকিৎসা পদ্ধতি ভিন্ন হয়। কারণ অনুযায়ী ওষুধ পরিবর্তন, পর্যাপ্ত তরল গ্রহণ, খাদ্যে লবণ ও প্রোটিন কমানো কিংবা নির্দিষ্ট ওষুধ ব্যবহারের প্রয়োজন হতে পারে। তবে এসব পরিবর্তন চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া করা উচিত নয়। পানিশূন্যতা সবচেয়ে বড় ঝুঁকি ডায়াবেটিস ইনসিপিডাসে অতিরিক্ত প্রস্রাবের কারণে শরীরে পানি ও ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে। পর্যাপ্ত পানি না পেলে দ্রুত পানিশূন্যতা দেখা দিতে পারে।মুখ শুকিয়ে যাওয়া, মাথা ঘোরা, দুর্বলতা, অতিরিক্ত ক্লান্তি, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া বা বিভ্রান্তির মতো লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া জরুরি। গুরুতর পানিশূন্যতা জীবনঝুঁকিও তৈরি করতে পারে। কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন? স্বাভাবিকের তুলনায় হঠাৎ প্রস্রাবের পরিমাণ বেড়ে গেলে, সারাক্ষণ পিপাসা লাগলে, রাতে বারবার প্রস্রাবের জন্য ঘুম ভেঙে গেলে কিংবা প্রচুর পানি পান করেও পিপাসা কম না হলে বিষয়টি অবহেলা করা উচিত নয়।কারণ এসব লক্ষণের পেছনে ডায়াবেটিস ইনসিপিডাস ছাড়াও ডায়াবেটিস মেলিটাসসহ বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে। তাই নিজে থেকে কোনো হরমোন বা ওষুধ শুরু না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করানোই নিরাপদ।
চোখের অস্ত্রোপচার করাই যেখানে বড় দক্ষতার কাজ, সেখানে অপারেশন থিয়েটারের বাইরে ৬২ বছর বয়সী চিকিৎসক ডেভিড মন্টেসান্তি করে দেখিয়েছেন আরও অবিশ্বাস্য এক কীর্তি। মাত্র এক মাসের ব্যবধানে তিনি দৌড়েছেন বিশ্বের অন্যতম কঠিন বোস্টন ম্যারাথনে এবং জয় করেছেন পৃথিবীর সর্বোচ্চ পর্বত মাউন্ট এভারেস্ট। পেশায় চক্ষু বিশেষজ্ঞ মন্টেসান্তির ছোটবেলা থেকেই ছিল বিজ্ঞান ও গবেষণার প্রতি আগ্রহ। কার্টুনের সুপারহিরো নয়, বরং ল্যাবে কাজ করা বিজ্ঞানীরাই তাকে বেশি আকৃষ্ট করতেন। পরে তিনি বায়োকেমিস্ট্রি ও মলিকিউলার বায়োলজিতে পিএইচডি করেন এবং শেষ পর্যন্ত চক্ষু চিকিৎসক হিসেবে ক্যারিয়ার গড়ে তোলেন। দৌড়ও তার দীর্ঘদিনের নেশা। তার লক্ষ্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিটি অঙ্গরাজ্যে অন্তত একটি করে ম্যারাথনে অংশ নেওয়া। গত এপ্রিল মাসে সেই তালিকায় যোগ হয় বিশ্বের সবচেয়ে পরিচিত ম্যারাথনগুলোর একটি বোস্টন ম্যারাথন। তবে ম্যারাথন শেষ করার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই তাকে রওনা হতে হয় অন্য এক অভিযানে—মাউন্ট এভারেস্টে ওঠার জন্য। এভারেস্ট জয়ের স্বপ্ন অবশ্য তার বহু বছরের। স্কুলে এক শিক্ষক একদিন বলেছিলেন, সবাই জীবনে অনেক কিছু হতে পারে, তবে সম্ভবত কেউই এভারেস্টে উঠতে পারবে না। সেই কথাই ছোটবেলা থেকে মন্টেসান্তির মনে গেঁথে যায়। পরে স্ত্রী ও অন্য পর্বতারোহীদের সঙ্গে বিভিন্ন পর্বতে ওঠার অভিজ্ঞতা তাকে আরও বড় চ্যালেঞ্জ নেওয়ার সাহস দেয়। এভারেস্ট অভিযানের প্রস্তুতিও ছিল কঠিন। ভারী সরঞ্জাম নিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সিঁড়ি বেয়ে অনুশীলন করেছেন তিনি। কম অক্সিজেনের পরিবেশের সঙ্গে শরীরকে মানিয়ে নিতে বিশেষ উচ্চতা-অনুকরণকারী তাঁবুতেও ঘুমিয়েছেন। ২০ এপ্রিল সকালে বোস্টন ম্যারাথনে অংশ নেন মন্টেসান্তি। ২৬.২ মাইলের দৌড় শেষ করতে তার সময় লাগে প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা। এরপর মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে শুরু হয় এভারেস্ট অভিযান। পর্বতের পথে সবচেয়ে বিপজ্জনক অংশগুলোর একটিতে প্রায় ১৫০ ফুট গভীর খাদ পার হতে পরপর পাঁচটি অ্যালুমিনিয়ামের মই ব্যবহার করতে হয়েছে তাকে। শেষ পর্যন্ত দীর্ঘ অভিযানের পর তিনি পৌঁছে যান এভারেস্টের চূড়ায়। মন্টেসান্তির দাবি, তিনি সম্ভবত প্রথম ব্যক্তি যিনি একই এক মাসের মধ্যে বোস্টন ম্যারাথন দৌড়েছেন এবং মাউন্ট এভারেস্টের চূড়ায় উঠেছেন। তবে এত বড় কীর্তিকেও জীবনের সবচেয়ে গর্বের মুহূর্ত মনে করেন না তিনি। এক দশকেরও বেশি আগে পেরুর আমাজন অঞ্চলে একটি চিকিৎসা অভিযানে অংশ নিয়েছিলেন মন্টেসান্তি। সেখানে অন্ধত্বের উচ্চ ঝুঁকিতে থাকা স্থানীয় মানুষের চিকিৎসা দিতে গিয়ে মাত্র ১২ বছর বয়সী এক কিশোরীর চোখে ছানি অস্ত্রোপচার করেছিলেন তিনি। অ্যানেস্থেশিয়া ছাড়াই সেই অস্ত্রোপচার হয়েছিল। অস্ত্রোপচারের পর মেয়েটি মায়ের দিকে তাকিয়ে উঠে দাঁড়ায় এবং হেঁটে তার কাছে যায়। সেই মুহূর্তে উপস্থিত সবাই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েছিলেন। মন্টেসান্তির কাছে সেটিই তার জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন। আর এখন ৬২ বছর বয়সেও থেমে থাকার কোনো ইচ্ছা নেই তার। সামনে কী করবেন—এই প্রশ্নের উত্তরে তার সহজ কথা, “আরও হাজার জীবন বাঁচানোর চেষ্টা করব, আর আনন্দ নিয়ে এগিয়ে যাব।”
প্রায় ৯০ বছর আগে আঁকা একটি ছবিতে এক আদিবাসী ব্যক্তির হাতে স্মার্টফোনের মতো একটি বস্তু দেখা যাওয়ার পর সামাজিক মাধ্যমে শুরু হয়েছে অদ্ভুত জল্পনা। কেউ কেউ দাবি করছেন, এটি যেন সময় ভ্রমণের কোনো প্রমাণ। তবে ইতিহাসবিদদের ব্যাখ্যা, বস্তুটি আসলে একটি আয়না হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। ‘মিস্টার পিনচন অ্যান্ড দ্য সেটলিং অব স্প্রিংফিল্ড’ নামের ম্যুরালটি এঁকেছিলেন ইতালীয়-আমেরিকান শিল্পী উমবের্তো রোমানো। ১৯৩৭ সালে তৈরি এই ছবিতে ১৭ শতকের ম্যাসাচুসেটসের স্প্রিংফিল্ডে ইংরেজ উপনিবেশবাদী ও স্থানীয় আদিবাসীদের পারস্পরিক সম্পর্ক তুলে ধরা হয়েছে। ছবিটির সামনের অংশে থাকা এক আদিবাসী ব্যক্তিকে একটি ছোট, আয়তাকার বস্তু হাতে নিয়ে সেটির দিকে তাকিয়ে থাকতে দেখা যায়। বস্তুটির পেছনের অংশ গাঢ় রঙের এবং চারপাশে চকচকে প্রান্ত থাকায় বর্তমান সময়ের স্মার্টফোনের সঙ্গে এর মিল খুঁজে পেয়েছেন সামাজিক মাধ্যমের ব্যবহারকারীরা। ছবিটি নতুন করে ভাইরাল হওয়ার পর কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছেন, ১৯৩৭ সালের একটি ছবিতে স্মার্টফোনের মতো বস্তু কীভাবে থাকতে পারে। সেখান থেকেই টাইম ট্রাভেল বা সময় ভ্রমণ নিয়ে নানা ষড়যন্ত্রতত্ত্ব ছড়িয়ে পড়ে। তবে ইতিহাসবিদদের ব্যাখ্যা এই জল্পনার চেয়ে অনেক বেশি সরল। তাদের মতে, বস্তুটি সম্ভবত একটি আয়না। ১৭ শতকের আমেরিকান উপনিবেশগুলোতে আয়না ছিল পরিচিত বাণিজ্যপণ্য। ছবিতে ওই ব্যক্তিকে নিজের প্রতিবিম্ব দেখার মতো ভঙ্গিতে বস্তুটির দিকে তাকিয়ে থাকতে দেখা যায়, যা আয়না হওয়ার ধারণাটিকেই সমর্থন করে। ম্যুরালটি ম্যাসাচুসেটসের একটি স্টেট অফিস ভবনে সংরক্ষিত রয়েছে। ভবনটি একসময় স্প্রিংফিল্ডের প্রধান পোস্ট অফিস ছিল। যুক্তরাষ্ট্রের গ্রেট ডিপ্রেশনের সময় শিল্পীদের কর্মসংস্থানের জন্য চালু হওয়া ফেডারেল আর্টস প্রজেক্টের অর্থায়নে পোস্ট অফিসটির জন্য তৈরি ছয়টি ম্যুরালের একটি ছিল এটি। ঐতিহাসিক তথ্য অনুযায়ী, শিল্পী রোমানো স্থানীয় ইতিহাসবিদ হ্যারি অ্যান্ড্রুজ রাইট এবং লেখক এসথার ফোর্বসের সঙ্গে পরামর্শ করে কাজটি তৈরি করেছিলেন। ছবিতে ১৬৩৬ থেকে ১৯৩৬ সাল পর্যন্ত ওই অঞ্চলের বিকাশ ও বসতি স্থাপনের ইতিহাসকে একটি দৃশ্যের মধ্যে তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে। ফলে ছবিতে আধুনিক স্মার্টফোন দেখা যাচ্ছে বলে যে দাবি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়েছে, তার পক্ষে কোনো ঐতিহাসিক প্রমাণ পাওয়া যায়নি। বরং শিল্পকর্মের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও বিশেষজ্ঞদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, রহস্যময় বস্তুটি একটি আয়নাই হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি।
প্যালেস্টাইনি মুসলিম কনটেন্ট ক্রিয়েটর নুসেইর ইয়াসিন, যিনি ‘নাস ডেইলি’ নামে পরিচিত, এবং ইহুদি মার্কিন লেখক ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর আইজা মেরক তাদের সম্পর্কের শুরুর গল্প প্রথমবারের মতো একসঙ্গে যুক্তরাজ্যের একটি সাক্ষাৎকারে তুলে ধরেছেন। ভিন্ন ধর্ম, পরিচয় ও রাজনৈতিক বাস্তবতার কারণে শুরু থেকেই সম্পর্কটি সহজ ছিল না। তবে দুজনের দাবি, এসব পার্থক্যের চেয়ে পারস্পরিক বোঝাপড়াই তাদের সম্পর্ককে এগিয়ে নিয়েছে। দুজনের পরিচয় করিয়ে দেন এক পারস্পরিক বন্ধু। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একে অপরের প্রোফাইল দেখার পর তারা ডিনারে দেখা করেন। সময়টিও ছিল বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ তাদের প্রথম দেখা হয় ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলার মাত্র দুই সপ্তাহ আগে। নুসেইর শুরু থেকেই সম্পর্কটিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখলেও আইজার ক্ষেত্রে বিষয়টি সময় নিয়ে গভীর হয়। নুসেইর জানান, প্রথম দেখার পরই তার মনে হয়েছিল আইজাকে তিনি ভবিষ্যৎ সঙ্গী হিসেবে দেখতে পারেন। অন্যদিকে আইজা বলেন, নির্দিষ্ট কোনো একটি মুহূর্তে তিনি প্রেমে পড়েননি। বরং ২০২৩ সালের যুদ্ধ ও এর পরের পরিস্থিতি নিয়ে তাদের দীর্ঘ আলোচনাই সম্পর্ককে আরও গভীর করে। কঠিন সময়ের মধ্যে নুসেইরের সঙ্গে কথা বলেই তিনি স্বস্তি পেতেন বলে জানান আইজা। তাদের সম্পর্ক অবশ্য সবার কাছে সহজভাবে গ্রহণযোগ্য হয়নি। আইজা জানান, এই সম্পর্কের কারণে তাকে একবার একটি শাবাতের খাবারের অনুষ্ঠান থেকে বের করে দেওয়া হয়েছিল। নুসেইরও পরিবারের এক দূরসম্পর্কের সদস্যের কাছ থেকে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া পেয়েছেন। তবে দুজনেরই দাবি, এমন প্রতিক্রিয়ার সংখ্যা খুবই কম। আইজা মেরক ক্যালিফোর্নিয়ার সান্তা বারবারায় বেড়ে উঠেছেন। তিনি জানিয়েছেন, সেখানে ইহুদি সম্প্রদায়ের সংখ্যা কম থাকায় ছোটবেলায় ইহুদিবিদ্বেষের নানা অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছেন। পরে নিউইয়র্ক ইউনিভার্সিটিতে চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন প্রযোজনা নিয়ে পড়াশোনা করেন। লেখালেখি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কাজের পাশাপাশি তিনি ইহুদি সম্প্রদায় ও মানসিক স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কনটেন্ট তৈরি করেন। অন্যদিকে নুসেইর ইয়াসিন উত্তর ইসরায়েলের আরাবা শহরে বেড়ে ওঠেন। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতি পড়ার সময় প্রথমবার একজন ইহুদি বন্ধুত্বের সম্পর্ক তৈরি করেছিলেন বলে তিনি জানান। ২০১৬ সালে চাকরি ছেড়ে ৬৪টি দেশ ঘুরে এক হাজার দিনের ভ্রমণ শুরু করেন এবং প্রতিদিন এক মিনিটের ভিডিও প্রকাশ করতে থাকেন। এভাবেই ‘নাস ডেইলি’ নামে তার বিশাল অনলাইন অনুসারী তৈরি হয়। বর্তমানে তার অনুসারীর সংখ্যা প্রায় ৬ কোটি ৮০ লাখ বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। দুজনের সম্পর্কের আরেকটি পার্থক্য ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে তাদের দৃষ্টিভঙ্গিতে। নুসেইর নিজের সম্পর্ক, জীবন ও অর্থনৈতিক অবস্থাসহ ব্যক্তিগত বিষয় প্রকাশ্যে বলতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। আইজা তুলনামূলকভাবে ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে বেশি গোপনীয়তা পছন্দ করেন। নুসেইরের ভাষায়, তাদের সম্পর্কের বড় চ্যালেঞ্জ ধর্ম বা রাজনীতি নয়, বরং একজনের অতিরিক্ত প্রকাশ্য জীবন আর অন্যজনের ব্যক্তিগত থাকতে চাওয়ার মধ্যে ভারসাম্য তৈরি করা। তারা এরই মধ্যে একসঙ্গে মিয়ামিতে বসবাস করছেন এবং নিজেদের সম্পর্ক ও দৈনন্দিন জীবন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন কনটেন্ট প্রকাশ করেছেন। তবে আইজা জানান, ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলা এখনো তার জন্য কিছুটা অস্বস্তিকর। নুসেইর ও আইজার সম্পর্ককে ঘিরে মূল আলোচনাটি শুধু ভিন্ন ধর্মের দুই মানুষের প্রেম নয়। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের পর ইসরায়েলি, ফিলিস্তিনি, ইহুদি ও মুসলিম পরিচয় নিয়ে তীব্র রাজনৈতিক ও সামাজিক বিভাজনের মধ্যেও তারা নিজেদের সম্পর্ককে ব্যক্তিগত বোঝাপড়া ও সহাবস্থানের একটি উদাহরণ হিসেবে দেখছেন। দুজনই বলেছেন, শেষ পর্যন্ত তাদের সম্পর্কের সমস্যাগুলো ধর্ম বা রাজনীতির চেয়ে সাধারণ মানুষের সম্পর্কের মতোই।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।