ঘরের মাঠে নিউজিল্যান্ডকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে টানা দ্বিতীয় ওয়ানডে সিরিজ জয় করল বাংলাদেশ। বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে সিরিজের ‘অঘোষিত ফাইনালে’ কিউইদের ৫৫ রানে হারিয়েছে টাইগাররা। গত মাসে পাকিস্তানকে হারানোর পর এটি বাংলাদেশের টানা দ্বিতীয় সিরিজ জয়, যা ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপে সরাসরি খেলার দৌড়ে দেশটিকে এক ধাপ এগিয়ে নিল।
ম্যাচে টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর ১০৬ রানের দুর্দান্ত সেঞ্চুরি এবং লিটন দাসের ৭৬ রানের ফিফটিতে ভর করে ২৬৫ রান সংগ্রহ করে বাংলাদেশ। চ্যালেঞ্জিং স্কোর তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে নিউজিল্যান্ড। কিউই অধিনায়ক টম ল্যাথাম ও ওপেনার নিক কেলি দ্রুত ফিরে গেলে সফরকারীরা চাপে পড়ে যায়।
শেষ দিকে ডেন ফক্সক্রফটের ৭২ বলে ৭৫ রানের মারকুটে ইনিংস হারের ব্যবধানই কমিয়েছে শুধু। ৪৪.৫ ওভারে ২১০ রানেই অলআউট হয় নিউজিল্যান্ড। বাংলাদেশের হয়ে বল হাতে তাণ্ডব চালিয়েছেন মোস্তাফিজুর রহমান; ৯ ওভারে মাত্র ৪৩ রান দিয়ে তিনি শিকার করেছেন ৫টি উইকেট। এছাড়া নাহিদ রানা ও মেহেদি হাসান মিরাজ দুটি করে উইকেট নেন।
টানা দুই সিরিজ জয়ে ২০২৭ বিশ্বকাপের টিকিট পাওয়ার লড়াইয়ে বড় সুবিধা পেল বাংলাদেশ। তবে সরাসরি মূল পর্বে খেলতে হলে আগামী বছরের ৩১ মার্চের মধ্যে আইসিসি র্যাংকিংয়ের শীর্ষ আটের মধ্যে থাকতে হবে টাইগারদের। অন্যথায় বাছাইপর্বের বাধা টপকে বিশ্বকাপে অংশ নিতে হবে মেহেদি হাসান মিরাজের নেতৃত্বাধীন এই দলটিকে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দক্ষিণ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউএসএফ) নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক পরিণতির খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ জামিল লিমনের (২৭) মরদেহ উদ্ধার করা হলেও, পুলিশ ধারণা করছে নাহিদা বৃষ্টিকেও (২৭) নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। অভিযুক্ত ঘাতক ও লিমনের রুমমেট হিশাম আবুগারবিয়ার ফ্ল্যাটে ‘প্রচুর রক্ত’ পাওয়ার পর পুলিশ জানিয়েছে, বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভবত আর কখনোই সম্ভব হবে না। নিহত বৃষ্টির বড় ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘১০ টাম্পা বে নিউজ’-কে জানান, শুক্রবার গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তকারীরা বাংলাদেশে তাদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, লিমন ও হিশামের শেয়ার করা ফ্ল্যাটে যে পরিমাণ রক্ত পাওয়া গেছে, তা থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে বৃষ্টি আর বেঁচে নেই। পুলিশের আশঙ্কা, হত্যার পর মরদেহটি সম্ভবত ছিন্নবিচ্ছিন্ন বা টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়েছে, যার ফলে এটি খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। গত শুক্রবার সকাল সোয়া ৬টার দিকে হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের পাশ থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই সকাল ৯টার দিকে ইউএসএফ ক্যাম্পাসের কাছে লেক ফরেস্ট এলাকায় অভিযুক্ত হিশাম আবুগারবিয়ার বাড়িতে অভিযান চালায় হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়। পুলিশ হিশামের বাড়িতে পৌঁছালে তিনি নিজেকে ঘরের ভেতর তালাবদ্ধ করে রাখেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট ‘সোয়াট’ (SWAT) তলব করা হয়। প্রায় ২০ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির পর হিশাম আত্মসমর্পণ করেন। তার বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা, তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করা এবং অবৈধভাবে মরদেহ সরানোর মতো ছয়টি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হিশাম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক। তিনি লিমনের রুমমেট হিসেবে একই ফ্ল্যাটে থাকতেন। অন্যদিকে, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি গবেষণারত নাহিদা বৃষ্টি গত ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন। লিমনের সাথে তার আগে প্রেমের সম্পর্ক থাকলেও বর্তমানে ছিল না বলে জানিয়েছেন বৃষ্টির পরিবার। তদন্তকারীরা লিমনের মৃত্যু নিশ্চিত করলেও বৃষ্টির নিখোঁজ রহস্য ও তাকে হত্যার নৃশংসতা এখন পুরো ফ্লোরিডা ও বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া ফেলেছে।
ব্রাজিল জাতীয় দলে দীর্ঘ আড়াই বছর পর ফিরেছেন নেইমার জুনিয়র। নানা চোট-আঘাত ও অনিশ্চয়তার সময় পার করে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের জন্য সেলেসাওদের স্কোয়াডে জায়গা করে নিয়েছেন দেশটির সর্বকালের অন্যতম সেরা এই ফরোয়ার্ড। একই সঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, আসন্ন বিশ্বকাপই হতে পারে তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষ বড় টুর্নামেন্ট। কোচ কার্লো আনচেলত্তি ব্রাজিল দলের দায়িত্ব নেওয়ার পর বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক ম্যাচে নেইমারকে দলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। তবে শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপের স্কোয়াডে জায়গা পেয়েছেন ৩৪ বছর বয়সী এই তারকা। ফিফার অফিসিয়াল ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট থেকে নেইমারের আগের তিনটি বিশ্বকাপের স্মরণীয় মুহূর্তের ছবি প্রকাশ করা হলে সেই পোস্টের মন্তব্যে তিনি লেখেন, “The Last Dance”। তার এই মন্তব্যকে ২০২৬ বিশ্বকাপের পর আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানানোর ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন সমর্থক ও ফুটবল বিশ্লেষকেরা। ২০১৪ সালে নিজ দেশে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো ব্রাজিলের হয়ে খেলেন নেইমার। সেই আসরে সেমিফাইনালে উঠেছিল সেলেসাওরা। এরপর ২০১৮ ও ২০২২ বিশ্বকাপেও অংশ নেন তিনি। তবে দুটি আসরেই কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বিদায় নিতে হয় ব্রাজিলকে। ২০০২ সালের পর আর বিশ্বকাপ জিততে পারেনি ব্রাজিল। ফলে ২৪ বছরের শিরোপা খরা কাটিয়ে দলকে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন করার লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নামতে চান নেইমার। বর্তমানে তিনি গ্রেড-২ কাফ ইনজুরি থেকে সেরে ওঠার প্রক্রিয়ায় রয়েছেন। এই চোটের কারণে পানামার বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে খেলতে পারেননি। সেই ম্যাচে ব্রাজিল ৬-২ গোলের বড় জয় পেয়েছিল। মিশরের বিপক্ষেও মাঠের বাইরে থাকতে হয়েছে তাকে। চোটের কারণে বিশ্বকাপের আগে পুরোপুরি ফিট হয়ে ওঠা নিয়ে কিছুটা অনিশ্চয়তা থাকলেও ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তি আশাবাদী। আনচেলত্তি জানিয়েছেন, কোচিং স্টাফের প্রত্যাশা বিশ্বকাপের শুরু থেকেই নেইমারকে শতভাগ ফিট অবস্থায় পাওয়া যাবে। মরক্কোর বিপক্ষে ব্রাজিলের উদ্বোধনী ম্যাচ কিংবা পরবর্তী ম্যাচে তিনি মাঠে ফিরতে পারেন বলেও আশা করা হচ্ছে। ব্রাজিল কোচ আরও বলেন, বিশ্বকাপের জন্য ঘোষিত বর্তমান স্কোয়াডে তিনি কোনো পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা করছেন না। যাদের দলে রাখা হয়েছে, তারাই পুরো টুর্নামেন্টে দলের অংশ থাকবেন। বিশ্বকাপের মঞ্চে এ পর্যন্ত ব্রাজিলের হয়ে ১৩ ম্যাচ খেলেছেন নেইমার। এসব ম্যাচে তিনি ৮ গোল করেছেন এবং ৩টি অ্যাসিস্ট করেছেন। বিশ্বকাপে তার সর্বশেষ গোলটি আসে ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে। অতিরিক্ত সময়ে করা সেই গোল ব্রাজিলকে এগিয়ে দিলেও শেষ পর্যন্ত ম্যাচটি ১-১ সমতায় শেষ হয়। পরে টাইব্রেকারে রদ্রিগো ও মার্কিনিওস পেনাল্টি মিস করলে বিদায় নিতে হয় পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের।
ইউরোপের মাটিতে সান মারিনোকে ২-১ গোলে হারিয়ে ঐতিহাসিক জয় পেয়েছে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দল। তবে ম্যাচ শেষ হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে সান মারিনো ফুটবলের একটি ফেসবুক পোস্ট। ওই পোস্টে বাংলাদেশকে ‘চোর’ আখ্যা দিয়ে ম্যাচ পরিচালনা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়েছে। ম্যাচ শেষে একটি ছবি পোস্ট করে সান মারিনো ফুটবল লিখেছে, “বাংলাদেশ আমাদের নিজেদের স্টেডিয়ামে একটি সম্পূর্ণ বৈধ গোল থেকে বঞ্চিত করেছে। চোর, অন্যান্য সব এশিয়ান দলের মতোই।” অন্য একটি পোস্টে তারা আরও অভিযোগ করে বলে, “তারা কেবল একটি মাত্র ক্যামেরা বসিয়েছিল এবং সবচেয়ে বড় কথা, তারা ভিএআর (VAR)-এ গিয়ে সেটি দেখারও প্রয়োজন মনে করেনি। আমাদের নিজেদের স্টেডিয়ামেই আমাদের সঙ্গে ডাকাতি করা হলো। তারা একেকজন চোর।” অন্যদিকে মাঠের খেলায় স্বাগতিক সান মারিনোকে ২-১ গোলে হারিয়েছে বাংলাদেশ। ফিফা র্যাংকিংয়ের তলানিতে থাকা সান মারিনো ইউরোপের দল হওয়ায় জার্মানি, স্পেনের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে নিয়মিত খেলার সুযোগ পায়। সেই হিসেবে ইউরোপের মাটিতে ইউরোপীয় দলের বিপক্ষে বাংলাদেশের এই জয় বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। এটি ইউরোপের মাটিতে ইউরোপীয় কোনো দলের বিপক্ষে বাংলাদেশের প্রথম জয়। এর আগে ২০০০ সালে ইংল্যান্ডে ভারতের বিপক্ষে খেললেও জয় পায়নি বাংলাদেশ। ২০০১ সালে ভারতে বসনিয়ার বিপক্ষে ২-০ গোলে হেরেছিল লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। ম্যাচে বাংলাদেশের জয়ের নায়ক ছিলেন ডিফেন্ডার তপু বর্মণ। দুই অর্ধে একটি করে গোল করে দলকে জয় এনে দেন তিনি। দুটি গোলই আসে তার হেড থেকে। দ্বিতীয়ার্ধে জামাল ভূঁইয়া মাঠ ছাড়ার পর অধিনায়কের আর্মব্যান্ডও তার হাতেই ছিল। প্রথমার্ধে ১-১ সমতা নিয়ে বিরতিতে যায় দুই দল। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে বাংলাদেশের কোচ থমাস ডুলি সামিত সোম, জায়ান আহমেদ ও সোহেল রানা জুনিয়রকে মাঠে নামান। সামিত ও জায়ান নামার পর বাংলাদেশের আক্রমণের গতি বাড়ে। একপর্যায়ে বাংলাদেশও একটি গোল থেকে বঞ্চিত হয়। ফয়সাল আহমেদ ফাহিমের শট সাইড পোস্টে লেগে ফিরে আসে। ম্যাচের শেষ ১৫ মিনিটের দিকে বিশ্বনাথ ঘোষকে মাঠে নামান ডুলি। সাধারণত ফুলব্যাক হিসেবে খেললেও এদিন তাকে রাইট উইংয়ে খেলানো হয়। জয়সূচক গোলে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন তিনি। ৮৬ মিনিটে ডান প্রান্ত থেকে হামজা চৌধুরীর ফ্রি-কিক পেয়ে বিশ্বনাথ ভলি করেন। সে সময় তপু বর্মণ মাটিতে পড়ে ছিলেন। উঠে দাঁড়ানোর সময় তার মাথায় বল লেগে জালে জড়িয়ে যায় এবং বাংলাদেশ ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। নির্ধারিত সময়ের পর চতুর্থ রেফারি চার মিনিট অতিরিক্ত সময় যোগ করেন। শেষ মুহূর্তে সান মারিনো গোলের চেষ্টা চালালেও সফল হতে পারেনি। একবার বাংলাদেশের গোলরক্ষক মিতুল মারমার হাত ফসকে বল গোললাইনের কাছে চলে গেলেও তা পুরোপুরি লাইন অতিক্রম করেনি। ফলে গোল হজমের হাত থেকে রক্ষা পায় বাংলাদেশ। শেষ দুই মিনিট নিরাপদে পার করে ঐতিহাসিক জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ। সান মারিনো ইতালির ভেতরে অবস্থিত একটি ক্ষুদ্র রাষ্ট্র। ইতালিতে বসবাসরত বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি প্রবাসী রোম, ভেনিসসহ বিভিন্ন শহর থেকে ম্যাচটি দেখতে স্টেডিয়ামে উপস্থিত হন। গ্যালারির বড় অংশজুড়েই ছিল বাংলাদেশি সমর্থকদের উপস্থিতি। ফলে অ্যাওয়ে ম্যাচ হলেও মাঠজুড়ে ছিল অনেকটা হোম ম্যাচের আবহ। তবে ম্যাচের শুরুটা বাংলাদেশের জন্য সহজ ছিল না। প্রথম দিকে বলের দখল ও আক্রমণে এগিয়ে ছিল সান মারিনো। প্রায় ১০ মিনিট পর বাংলাদেশ ম্যাচে নিজেদের গুছিয়ে নেয়। ১৯ মিনিটে হামজা চৌধুরীর ফ্রি-কিক থেকে শেখ মোরসালিনের বাড়ানো বলে হেড করে বাংলাদেশকে এগিয়ে দেন তপু বর্মণ। গ্যালারিতে উপস্থিত বাংলাদেশি সমর্থকদের উল্লাসে মুখর হয়ে ওঠে স্টেডিয়াম। তবে সেই আনন্দ দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। ৩৩তম মিনিটে তপু বর্মণের ভুলে সুযোগ পায় সান মারিনো। বেরাদি ডান দিক দিয়ে এগিয়ে গিয়ে কাটব্যাক করলে বক্সের মধ্যে ফাঁকা জায়গায় থাকা নিকোলাস শট নেন। বাংলাদেশের গোলরক্ষক মিতুল মারমা বল স্পর্শ করলেও তা জালে জড়িয়ে যায়। প্রথমার্ধেই আবারও এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছিল বাংলাদেশ। শেখ মোরসালিনের বাড়ানো বল পেয়ে সাদ উদ্দিন গোলরক্ষকের মুখোমুখি হয়েও শট পোস্টের ওপর দিয়ে মারেন। শেষ পর্যন্ত দ্বিতীয়ার্ধে তপু বর্মণের দ্বিতীয় গোলেই ইউরোপের মাটিতে প্রথম জয় নিশ্চিত করে বাংলাদেশ।
২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ শুরুর আগে টিকিটের আকাশছোঁয়া দাম নিয়ে তুমুল সমালোচনা চললেও মেক্সিকোর ১৪ হাজার দর্শক একেবারে বিনামূল্যে উদ্বোধনী ম্যাচ দেখার সুযোগ পাচ্ছেন। দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে আদালতের রায়ে তারা নিজেদের ঐতিহাসিক অধিকার ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছেন। আগামী ১২ জুন মেক্সিকো সিটির আজটেকা স্টেডিয়ামে স্বাগতিক মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকার ম্যাচ দিয়ে এই বিশ্বকাপের পর্দা উঠবে। এই ঘটনার সূত্রপাত প্রায় ৬০ বছর আগে। ১৯৬০-এর দশকে আজটেকা স্টেডিয়ামটি নির্মাণের সময় অর্থসংকটে পড়ে কর্তৃপক্ষ ৬০০টি বক্স ও প্রায় ৮ হাজার গ্যালারি আসন আগাম বিক্রি করে। তখন ক্রেতাদের শর্ত দেওয়া হয়েছিল যে, ২০৬৫ সাল পর্যন্ত এই স্টেডিয়ামে আয়োজিত যেকোনো ইভেন্ট তারা অতিরিক্ত কোনো টিকিট ছাড়াই দেখতে পারবেন। বর্তমানে এই সুবিধাভোগীদের মোট আসনসংখ্যা প্রায় ১৪ হাজার। এর আগে ১৯৮৬ বিশ্বকাপেও ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা এই আসনগুলোর ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিতে চেয়ে ব্যর্থ হয়েছিল। ২০২৬ বিশ্বকাপের আগে আবারও ফিফা ও স্টেডিয়াম পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান আসনগুলো নিজেদের টিকিট বিক্রির আওতায় আনার চেষ্টা করলে আসন মালিকদের সংগঠন আদালতের দ্বারস্থ হয়। শেষ পর্যন্ত আদালত আসন মালিকদের পক্ষেই রায় দেয় এবং এই আসনগুলো বিক্রি করতে না পারায় স্টেডিয়াম কর্তৃপক্ষকে প্রায় ৫৪ মিলিয়ন ইউরো ক্ষতিপূরণও দিতে হয়েছে। আসন মালিকদের সংগঠনের মহাসচিব রবার্তো রুয়ানো ওর্তেগা আদালতের এই স্বীকৃতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তবে বিশ্বকাপের এক সপ্তাহ আগে পর্যন্ত ইলেকট্রনিক টিকিট হাতে না পৌঁছানোয় তিনি সতর্ক করে বলেছেন, স্টেডিয়ামে প্রবেশ করতে দেওয়া না হলে তারা আবারও বলপ্রয়োগের আইনি ব্যবস্থা চাইবেন। সমস্ত নাটকীয়তার মধ্যেও ১৪ হাজার আসনের মালিকরা ফ্রিতে এই বিশ্বমঞ্চের উদ্বোধনী ম্যাচ উপভোগ করবেন বলে দৃঢ় বিশ্বাস রাখছেন।