আমেরিকা

অভিবাসন দমনে সিনেটে আইসের জন্য ৭০ বিলিয়ন ডলার ৫০-৪৮ ভোটে পাস

তাবাস্সুম মোহাম্মদ প্রকাশ: এপ্রিল ২২, ২০২৬ ২২:২৪
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

ওয়াশিংটন, ২৩ এপ্রিল:

 

যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ ও সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারে বড় পদক্ষেপ নিয়েছে মার্কিন সিনেট। ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (ICE) এবং সীমান্ত নিরাপত্তা কার্যক্রমের জন্য ৭০ বিলিয়ন ডলারের তহবিল পরিকল্পনা বৃহস্পতিবার সিনেটে ৫০-৪৮ ভোটে পাস হয়েছে।

 

এই অর্থের মাধ্যমে সীমান্তে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ, নতুন জনবল নিয়োগ, আটক কেন্দ্র সম্প্রসারণ এবং প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি ব্যবস্থার উন্নয়ন করা হবে বলে জানা গেছে। রিপাবলিকান আইনপ্রণেতারা এটিকে সীমান্ত সংকট মোকাবিলায় অত্যন্ত জরুরি পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

 

তাদের দাবি, দক্ষিণ সীমান্ত দিয়ে অনিয়ন্ত্রিত প্রবেশ এবং মানব পাচার ঠেকাতে আইস ও বর্ডার প্যাট্রোলের সক্ষমতা বাড়ানো এখন সময়ের দাবি।

 

অন্যদিকে, ডেমোক্র্যাট সদস্যদের একাংশ এই বিলের বিরোধিতা করেছেন। তাদের মতে, বিপুল এই অর্থ আটক ও বহিষ্কার কার্যক্রমে ব্যয় না করে অভিবাসন আদালত, আশ্রয় আবেদন প্রক্রিয়া এবং মানবিক সহায়তা খাতে বরাদ্দ বাড়ানো উচিত ছিল।

 

বিশ্লেষকদের মতে, সিনেটে বিলটি পাস হলেও এটি এখনো চূড়ান্ত আইন নয়। কার্যকর হতে হলে বিলটি হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসে অনুমোদন পেতে হবে এবং পরবর্তী প্রশাসনিক প্রক্রিয়াও সম্পন্ন করতে হবে।

 

সীমান্ত নিরাপত্তা ও অভিবাসন ইস্যু বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে অন্যতম বড় বিতর্কের বিষয়। আগামী নির্বাচন সামনে রেখে এই বিল নিয়ে দুই দলের রাজনৈতিক অবস্থান আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

নাহিদা বৃষ্টির লাশ পাওয়া নিয়ে শঙ্কা কেন? দুই কারণ জানাল পুলিশ

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দক্ষিণ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউএসএফ) নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক পরিণতির খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ জামিল লিমনের (২৭) মরদেহ উদ্ধার করা হলেও, পুলিশ ধারণা করছে নাহিদা বৃষ্টিকেও (২৭) নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। অভিযুক্ত ঘাতক ও লিমনের রুমমেট হিশাম আবুগারবিয়ার ফ্ল্যাটে ‘প্রচুর রক্ত’ পাওয়ার পর পুলিশ জানিয়েছে, বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভবত আর কখনোই সম্ভব হবে না।   নিহত বৃষ্টির বড় ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘১০ টাম্পা বে নিউজ’-কে জানান, শুক্রবার গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তকারীরা বাংলাদেশে তাদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, লিমন ও হিশামের শেয়ার করা ফ্ল্যাটে যে পরিমাণ রক্ত পাওয়া গেছে, তা থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে বৃষ্টি আর বেঁচে নেই। পুলিশের আশঙ্কা, হত্যার পর মরদেহটি সম্ভবত ছিন্নবিচ্ছিন্ন বা টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়েছে, যার ফলে এটি খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। গত শুক্রবার সকাল সোয়া ৬টার দিকে হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের পাশ থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই সকাল ৯টার দিকে ইউএসএফ ক্যাম্পাসের কাছে লেক ফরেস্ট এলাকায় অভিযুক্ত হিশাম আবুগারবিয়ার বাড়িতে অভিযান চালায় হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়। পুলিশ হিশামের বাড়িতে পৌঁছালে তিনি নিজেকে ঘরের ভেতর তালাবদ্ধ করে রাখেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট ‘সোয়াট’ (SWAT) তলব করা হয়। প্রায় ২০ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির পর হিশাম আত্মসমর্পণ করেন। তার বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা, তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করা এবং অবৈধভাবে মরদেহ সরানোর মতো ছয়টি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।   বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হিশাম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক। তিনি লিমনের রুমমেট হিসেবে একই ফ্ল্যাটে থাকতেন। অন্যদিকে, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি গবেষণারত নাহিদা বৃষ্টি গত ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন। লিমনের সাথে তার আগে প্রেমের সম্পর্ক থাকলেও বর্তমানে ছিল না বলে জানিয়েছেন বৃষ্টির পরিবার।   তদন্তকারীরা লিমনের মৃত্যু নিশ্চিত করলেও বৃষ্টির নিখোঁজ রহস্য ও তাকে হত্যার নৃশংসতা এখন পুরো ফ্লোরিডা ও বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া ফেলেছে।

Advertisement

আমেরিকা

View more
ছবিঃ নিউইয়র্ক পোস্ট
নিউইয়র্কের পার্কে গাছ ভেঙে পড়ে ৮৫ বছরের বৃদ্ধের মর্মান্তিক মৃত্যু

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের কুইন্স এলাকার ফরেস্ট পার্কে গাছ ভেঙে পড়ে ৮৫ বছর বয়সী এক পথচারীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। শনিবার রাতের এই আকস্মিক ও হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনাটি স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক শোকের ছায়া ফেলেছে।   নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগ (এনওয়াইপিডি) জানিয়েছে, শনিবার রাত সাড়ে ৮টার পরপরই ৯১১ নম্বরে একটি জরুরি কল পেয়ে পুলিশ ফরেস্ট পার্কে ছুটে যায়। সেখানে তারা ওই বৃদ্ধকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে। পরবর্তীতে জরুরি সেবাদানকারী কর্মীরা ঘটনাস্থলেই তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পুলিশ এখনো নিহত ব্যক্তির নাম-পরিচয় প্রকাশ করেনি।   শনিবার রাতে প্রচণ্ড ঝড়-বৃষ্টি ও দমকা হাওয়ার কারণে পার্কের বেশ কয়েকটি গাছ শিকড়সহ উপড়ে যায়। তবে এই দুর্ভাগ্যজনক প্রাণহানির ঘটনাটি সরাসরি সেই ঝড়ের কারণেই ঘটেছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। পুরো ঘটনার কারণ উদ্ঘাটনে বর্তমানে পুলিশের একটি তদন্ত চলমান রয়েছে।   নিউইয়র্কে বৈরী আবহাওয়ায় গাছ উপড়ে পড়ে হতাহতের এমন ঘটনা এটিই প্রথম নয়। এর আগে গত মেমোরিয়াল ডে-তে ব্রঙ্কসের মাউন্ট হোপ এলাকায় গাছ ভেঙে পড়ে ৪৯ বছর বয়সী এক নারী আহত হয়েছিলেন, যার জন্য ভেজা ও দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়াকে দায়ী করেছিল পুলিশ। গত ফেব্রুয়ারিতে উইন্টার স্টর্ম হারনান্ডোর তাণ্ডবের সময় ম্যানহাটনের হেলস কিচেন এলাকায় একটি গাছ উপড়ে পড়লে অল্পের জন্য রক্ষা পান এক শিশু ও এক সন্ন্যাসিনী।   এছাড়া গত বছর আপস্টেট নিউইয়র্কের ক্লার্ক মিলস এলাকায় প্রবল বৃষ্টি ও ইএফ-১ মাত্রার টর্নেডোর সময় ঘুমন্ত অবস্থায় ঘরের ওপর গাছ ভেঙে পড়ে এমিলি ও কেনি বিসন নামের ছয় বছর বয়সী দুই যমজ বোনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছিল।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ৭, ২০২৬ ১:৩৭
ছবি: সংগৃহীত

রেস্ট্রেইনিং অর্ডার লঙ্ঘনের অভিযোগে রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান ম্যাক্স মিলারের বিরুদ্ধে আদালতে নথি

ছবি: সংগৃহীত

ড্রাইভিং লাইসেন্সেই থাকবে নাগরিকত্ব, ফ্লোরিডায় কড়া আইন আনলেন ডেসান্টিস

ছবি: সংগৃহীত

বিমানবন্দর-ক্যাফের ফ্রি চার্জার ব্যবহার করছেন? অজান্তেই চুরি হতে পারে ফোনের তথ্য

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি নিজের একটি মন্টেজ ভিডিও শেয়ার করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: ট্রুথ সোশ্যালের ভিডিও থেকে নেওয়া  সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দ
‘ডোনাল্ড, ডোনাল্ড ট্রাম্প’: নিজের গুণগানভরা মিউজিক ভিডিও পোস্ট, বিশ্ব তাকে ভালোবাসতে বাধ্য—দাবি ট্রাম্পের

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ডি-ডে’র ৮২তম বার্ষিকীর দিনে নিজের প্রশংসাসূচক একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নির্মিত মিউজিক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করায় নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন। সমালোচকদের প্রশ্ন, ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ এই দিনে নিহত সেনাদের স্মরণ না করে কেন তিনি ব্যক্তিগত প্রচারণামূলক কনটেন্ট প্রকাশ করলেন।   গত ৬ জুন নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ‘ট্রাম্প’ শিরোনামের একটি এআই মিউজিক ভিডিও পোস্ট করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ভিডিওটি তৈরি করেছেন নিউইয়র্কের এক কংগ্রেস প্রার্থী, যাকে সম্প্রতি সমর্থন দিয়েছেন ট্রাম্প।   ভিডিওটিতে বিশ্বজুড়ে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে। এতে দেখা যায়, ট্রাম্প সিংহের পিঠে চড়ে আছেন, মেক্সিকোর প্রেসিডেন্টের সঙ্গে খাবার খাচ্ছেন এবং হোয়াইট হাউসে একটি ইউএফসি লড়াইয়ে অংশ নিচ্ছেন। পুরো ভিডিওজুড়ে একটি গান বাজতে থাকে, যার কথায় বলা হয়—“আমি যেখানেই যাই, তারা ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ভালোবাসে।”   ডি-ডে বার্ষিকীর দিন কয়েক ঘণ্টা ধরে ট্রাম্পের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এটিই ছিল একমাত্র পোস্ট। পরে তিনি লিংকন মেমোরিয়াল রিফ্লেক্টিং পুলের সংস্কারকাজ নিয়ে একটি পোস্ট দেন। এরপর সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার প্রেসিডেন্সিয়াল লাইব্রেরিকে ব্যঙ্গ করে একটি এআই-নির্মিত ছবি শেয়ার করেন।   ছবিতে লাইব্রেরিটিকে জরাজীর্ণ অবস্থায় দেখানো হয়। ভবনের চারপাশে গৃহহীন মানুষের তাঁবু এবং উপরে আবর্জনার স্তূপও দেখানো হয়। ছবির ক্যাপশনে ট্রাম্প লেখেন, “বারাক হোসেন ওবামা লাইব্রেরি, ১০ বছর পর যখন এটি পুরোপুরি প্রস্তুত হবে!”   এরপর তিনি কৌতুক অভিনেত্রী রোজি ও’ডোনেলকে নিয়ে মন্তব্য করেন এবং হোয়াইট হাউসের নতুন বলরুম নির্মাণকাজ স্থগিত করা এক বিচারকের সমালোচনা করেন।   ডি-ডে নিয়ে নীরবতা ১৯৪৪ সালের ৬ জুন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ফ্রান্সের নরম্যান্ডি উপকূলে মিত্রবাহিনীর ঐতিহাসিক অবতরণকে ডি-ডে হিসেবে স্মরণ করা হয়। এটি যুদ্ধের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামরিক অভিযান হিসেবে বিবেচিত।   তবে এ বছর ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ডি-ডে’র নিহত সেনাদের স্মরণে কোনো পোস্ট দেননি।   অন্যদিকে কানাডার প্রধানমন্ত্রী, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট এবং যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ডি-ডে’র বীরদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। তবে ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন সদস্য এবং মার্কিন সরকারি সংস্থাগুলো দিবসটি উপলক্ষে আলাদা আলাদা স্মরণবার্তা প্রকাশ করেছে।   ডি-ডে উদযাপন উপলক্ষে ফ্রান্সে অবস্থানকালে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইউরোপের অভিবাসন নীতি নিয়েও মন্তব্য করেন।   তিনি বলেন, ইউরোপের বিভিন্ন উপকূলে অভিবাসীদের আগমন নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে এবং ইউরোপীয় দেশগুলোকে এ বিষয়ে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।   এই মন্তব্যকে ট্রাম্পের দীর্ঘদিনের অভিবাসনবিষয়ক অবস্থানের প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।   দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে ট্রাম্প ন্যাটো জোটের সদস্য দেশগুলোর প্রতি আরও কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। তার অভিযোগ, ইউরোপীয় মিত্ররা নিরাপত্তা ব্যয়ে যথেষ্ট দায়িত্ব নিচ্ছে না এবং যুক্তরাষ্ট্রের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে।   সম্প্রতি ইরান-সংক্রান্ত উত্তেজনার প্রেক্ষাপটেও ট্রাম্প কয়েকটি মিত্র দেশের অবস্থান নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ৬, ২০২৬ ১৭:১২
বামে বাংলাদেশি তরুণী নিশাত জান্নাত।  ছবি: সংগৃহীত

নিউইয়র্কে গার্বেজ ট্রাকের ধাক্কায় বাংলাদেশি তরুণী নিশাতের মৃত্যু, নয় সপ্তাহ পর চালক গ্রেপ্তার

অভিবাসন-সংক্রান্ত বিধিনিষেধ বাতিলের রায়ে ৩৯ দেশের আবেদনকারীদের জন্য স্বস্তি ফিরেছে ।  ছবি: সংগৃহীত

৩৯ দেশের অভিবাসীদের আশ্রয় আবেদন ও ভিসা প্রক্রিয়ায় নিষেধাজ্ঞা অবৈধ ঘোষণা মার্কিন আদালতের

ভার্জিনিয়ায় অনুষ্ঠিত হলো ‘বাংলা লিট ফেস্ট ২০২৬’

ভার্জিনিয়ায় অনুষ্ঠিত হলো ‘বাংলা লিট ফেস্ট ২০২৬’, সহস্রাধিক দর্শনার্থীর সমাগম

ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে রহস্যময় বস্তু ধ্বংসে ব্যবহার করা হয় ৫ লাখ ডলারের ক্ষেপণাস্ত্র, পরে জানা গেল সেটি ছিল গবেষণা বেলুন

যুক্তরাষ্ট্রের আকাশে শনাক্ত হওয়া একটি রহস্যময় উড়ন্ত বস্তুকে সম্ভাব্য নিরাপত্তা হুমকি মনে করে প্রায় ৫ লাখ ডলার মূল্যের ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে ভূপাতিত করেছিল মার্কিন সামরিক বাহিনী। তবে পরে তদন্তে উঠে আসে, সেটি আসলে একটি গবেষণামূলক বেলুন ছিল, যা একটি স্কাউট-সংশ্লিষ্ট বৈজ্ঞানিক কর্মসূচির অংশ হিসেবে পরিচালিত হচ্ছিল।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৩ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি মিশিগানের লেক হিউরন এলাকার আকাশে একটি অজ্ঞাত উড়ন্ত বস্তু শনাক্ত করে মার্কিন বিমান বাহিনী। বস্তুটির পরিচয় নিশ্চিত করা না গেলেও সেটিকে সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। পরে একটি এফ-১৬ যুদ্ধবিমান থেকে এআইএম-৯ সাইডউইন্ডার ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে সেটিকে ধ্বংস করা হয়।   সম্প্রতি এক নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা বিষয়ক সম্মেলনে মার্কিন সরকারের অল-ডোমেইন অ্যানোমালি রেজল্যুশন অফিসের (এএআরও) সাবেক পরিচালক শন কার্কপ্যাট্রিক জানান, পরে বিশ্লেষণে দেখা যায় ধ্বংস করা বস্তুটি কোনো সামরিক বা ভিনগ্রহীয় প্রযুক্তি ছিল না। বরং সেটি ছিল একটি ছোট গবেষণা বেলুন, যা বৈজ্ঞানিক তথ্য সংগ্রহের উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছিল। তার দাবি, বেলুনটি পৃথিবীকে সাত থেকে আটবার প্রদক্ষিণও করেছিল।   একই অনুষ্ঠানে এএআরওর সাবেক ভারপ্রাপ্ত পরিচালক টিম ফিলিপস বলেন, ২০২৩ সালের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের আকাশে চীনা নজরদারি বেলুন শনাক্ত হওয়ার পর দেশটির প্রতিরক্ষা ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো অত্যন্ত সতর্ক অবস্থানে চলে যায়। ফলে আকাশে শনাক্ত হওয়া যেকোনো অস্বাভাবিক বস্তুকেই সম্ভাব্য হুমকি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছিল। সেই প্রেক্ষাপটে কিছু সাধারণ গবেষণা বেলুন বা বেসামরিক উড়ন্ত যন্ত্রও সামরিক নজরদারির আওতায় পড়ে।   প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, ওই সময় আলাস্কার আকাশেও আরেকটি গবেষণা বেলুন ধ্বংসে ব্যয়বহুল ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছিল। তুলনামূলকভাবে স্বল্পমূল্যের গবেষণা বেলুন ধ্বংসে বিপুল অর্থ ব্যয়ের বিষয়টি পরে বিভিন্ন মহলে সমালোচনার জন্ম দেয়। অনেকেই প্রশ্ন তোলেন, পর্যাপ্ত যাচাই ছাড়া এমন সামরিক পদক্ষেপ কতটা যৌক্তিক ছিল।   বিশেষজ্ঞদের মতে, আধুনিক সামরিক রাডার ও নজরদারি প্রযুক্তি এখন এতটাই সংবেদনশীল যে অনেক সময় আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ বেলুন, বৈজ্ঞানিক যন্ত্র কিংবা অন্যান্য মানবসৃষ্ট ছোট উড়ন্ত বস্তুকেও অস্বাভাবিক বা রহস্যময় বস্তু হিসেবে শনাক্ত করা হতে পারে। এ কারণেই সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইউএফও বা বর্তমানে ব্যবহৃত পরিভাষা অনুযায়ী “অননুমোদিত অস্বাভাবিক আকাশীয় ঘটনা” সংক্রান্ত বহু ঘটনার পুনর্মূল্যায়ন শুরু হয়েছে।   বিশ্লেষকদের মতে, চীনা নজরদারি বেলুনকে ঘিরে সৃষ্ট জাতীয় নিরাপত্তা উদ্বেগের পর যুক্তরাষ্ট্র দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেখানোর নীতি গ্রহণ করেছিল। তবে লেক হিউরনের ঘটনাটি দেখিয়েছে, অতিরিক্ত সতর্কতার কারণে কখনও কখনও সাধারণ বৈজ্ঞানিক কার্যক্রমও সামরিক সন্দেহের মুখে পড়তে পারে। ঘটনাটি এখনও যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা নীতির আলোচনায় একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ: জুন ৬, ২০২৬ ২৩:৭
ছবি: আমেরিকা বাংলা

অনলাইনে প্রেম, শেষে প্রতারণা: অস্তিত্বহীন নারীর পেছনে হারালেন ৪ লাখ ডলারের বেশি

ছবি: কোলাজ আমেরিকা বাংলা

ডি-ডে দিবসে ওবামাকে কটাক্ষ করে এআই ছবি শেয়ার করলেন ট্রাম্প

ছবিঃ নিউইয়র্ক পোস্ট

নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ির ধাক্কায় এক নারীর মর্মান্তিক মৃত্যু

0 Comments