সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে ট্রেনের কনটেইনারে ৭ অভিবাসীর মর্মান্তিক মৃ ত্যু, অভিযুক্ত ১১

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ২৫, ২০২৬ ১৬:৪৭
কোলাজ: আমেরিকা বাংলা
কোলাজ: আমেরিকা বাংলা

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যে মানব পাচার চক্রের নির্মম শিকার হয়ে মালবাহী ট্রেনের একটি বদ্ধ কনটেইনারে ৭ জন অভিবাসীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। প্রচণ্ড গরমে দমবন্ধ হয়ে মারা যাওয়ার এই অমানবিক ঘটনায় ১১ জন পাচারকারীর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করেছে মার্কিন কর্তৃপক্ষ। টেক্সাসের লারেডো শহরের একটি রেল ইয়ার্ডে শিপিং কনটেইনারের ভেতর থেকে ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরসহ ছয়জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এর আগে সান আন্তোনিওতে রেললাইনের পাশে ফেলে যাওয়া অবস্থায় আরও একজনের মৃতদেহ পাওয়া গিয়েছিল।

 

ওয়েস্টার্ন ডিস্ট্রিক্ট অব টেক্সাসের মার্কিন অ্যাটর্নি জাস্টিন আর. সিমন্স জানান, গত মে মাসে টেক্সাসের তীব্র গরমে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাহীন ও বায়ু চলাচলের বিন্দুমাত্র সুযোগ না থাকা একটি সিলগালা করা কনটেইনারে ওই অভিবাসীদের আটকে রাখা হয়েছিল। ডেল রিও সীমান্ত শহর থেকে সান আন্তোনিও যাওয়ার উদ্দেশ্যে তারা ওই ট্রেনে উঠেছিলেন।

 

কিন্তু সান আন্তোনিওতে পৌঁছানোর পর পাচারকারীরা কনটেইনারের দরজা খুললে একজন বাইরে পড়ে যান। তখন পাচারকারীরা তাকে সেখানে মৃত ভেবে ফেলে রেখেই দরজা বন্ধ করে পালিয়ে যায়। পরের দিন ট্রেনটি লারেডোতে পৌঁছালে সেখানকার এক কর্মী কনটেইনারের ভেতর থেকে একটি পা বেরিয়ে থাকতে দেখেন। এরপর ভেতরে তল্লাশি চালিয়ে বাকি ছয়টি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মৃত্যুর ঠিক আগে বাঁচার আকুতি নিয়ে এক অভিবাসী ভেতর থেকেই তার পরিবারকে ফোন করেছিলেন।

 

নিহত ওই অভিবাসীরা মূলত মেক্সিকো এবং হন্ডুরাসের নাগরিক। ওয়েব কাউন্টির চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের ধারণা, ওই দিন তাপমাত্রা প্রায় ৮৮ থেকে ৯২ ডিগ্রি ফারেনহাইট থাকায় অতিরিক্ত গরমে হিট স্ট্রোক বা 'হাইপারথার্মিয়া'র কারণেই তাদের মৃত্যু হয়েছে। মামলার অভিযোগপত্র থেকে জানা যায়, পাচারকারী চক্রের হাত ধরে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের জন্য ওই অভিবাসীরা প্রত্যেকে দেড় হাজার থেকে দশ হাজার ডলার পর্যন্ত পরিশোধ করেছিলেন। এই ঘটনায় অভিযুক্ত ১১ জনের বিরুদ্ধে অবৈধ অভিবাসী পরিবহন এবং এর ফলে মৃত্যুর কারণ হওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। ইতিমধ্যে চক্রের ৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যাদের মধ্যে চারজন মার্কিন নাগরিক ও দুজন স্থায়ী বাসিন্দাও রয়েছেন। বাকি দুজনকে খুঁজছে পুলিশ। অভিযোগ প্রমাণিত হলে এই পাচারকারীদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পর্যন্ত হতে পারে।

 

যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে প্রবেশের ক্ষেত্রে পণ্যবাহী ট্রেনের এমন ব্যবহার দীর্ঘদিনের একটি উদ্বেগজনক সমস্যা। মেক্সিকো সীমান্ত পার হওয়ার আগে ট্রেনগুলো ধীরগতিতে চললে বা থামলে পাচারকারীরা সুযোগ বুঝে অভিবাসীদের ভেতরে লুকিয়ে ফেলে। এর আগে ২০২২ সালে টেক্সাসেই একটি ট্রাকের ট্রেইলারে প্রচণ্ড গরমে শ্বাসরুদ্ধ হয়ে ৫৩ জন অভিবাসীর মৃত্যু হয়েছিল, যা ছিল যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে মানব পাচারের সবচেয়ে ভয়াবহ ট্র্যাজেডি। এছাড়া ২০২৩ সালেও টেক্সাসের নিপ্পা এলাকায় ট্রেনের বগি থেকে আরও দুই অভিবাসীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো সীমান্তে বাণিজ্য ও মানব পাচারের অন্যতম প্রধান রুট হিসেবে লারেডোকে ব্যবহার করে আসছে পাচারকারীরা, যা ঠেকাতে প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছে মার্কিন সীমান্তরক্ষী বাহিনী।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
যুক্তরাষ্ট্রের র‍্যান্ডলফ কাউন্টিতে অ্যাম্বুলেন্স সেবা বাঁচাতে কেনাকাটায় অতিরিক্ত ১০ সেন্ট ফি আরোপ
যুক্তরাষ্ট্রের র‍্যান্ডলফ কাউন্টিতে অ্যাম্বুলেন্স সেবা বাঁচাতে কেনাকাটায় অতিরিক্ত ১০ সেন্ট ফি আরোপ

যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যের র‍্যান্ডলফ কাউন্টিতে খুচরা কেনাকাটার ওপর নতুন একটি সারচার্জ বা অতিরিক্ত ফি আরোপ করা হয়েছে। স্থানীয় ইমার্জেন্সি মেডিকেল সার্ভিস (EMS) বা জরুরি অ্যাম্বুলেন্স সেবাকে চরম আর্থিক সংকট থেকে রক্ষা করতেই এই নজিরবিহীন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।   এই সিদ্ধান্তের ফলে এখন থেকে কাউন্টির সীমানায় থাকা ওয়ালমার্টের মতো বড় রিটেইল চেইন থেকে শুরু করে ছোট ছোট যেকোনো দোকানে প্রতিটি কেনাকাটার লেনদেনে ক্রেতাদের অতিরিক্ত ১০ সেন্ট সারচার্জ দিতে হবে। গত বুধবার র‍্যান্ডলফ কাউন্টি কমিশন 'স্পেশাল ইমার্জেন্সি অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস ফি' নামের এই নতুন কর ব্যবস্থাটি আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদন করে।   কাউন্টিতে প্রতিদিন গড়ে ৩০ থেকে ৪০টি জরুরি স্বাস্থ্যসেবার কল আসে। এই বিশাল চাপ সামলাতে ইএমএস কর্মীদের বেতন এবং চারটি অ্যাম্বুলেন্স ট্রাকের রক্ষণাবেক্ষণ বাবদ বিপুল অর্থের প্রয়োজন হয়। কাউন্টি কমিশন ইএমএস সেবার ব্যয় কমানো অথবা তহবিল বাড়ানোর মধ্যে যেকোনো একটি বেছে নেওয়ার বিষয়ে দীর্ঘ বিতর্কের পর তহবিল বাড়ানোর পক্ষেই রায় দেয়।   র‍্যান্ডলফ কাউন্টি কমিশনের প্রেসিডেন্ট ডেভিড কেসলিং জানান, অ্যাটর্নি জেনারেলের পরামর্শেই তারা লেনদেনের ওপর এই ফি আরোপের পথ বেছে নিয়েছেন। তিনি আরও জানান, রাজ্যের আইন অনুযায়ী কাউন্টি কমিশনের এই ফি নির্ধারণ এবং যেকোনো সময় তা বাতিল করার পূর্ণ ক্ষমতা রয়েছে।   আগামী ১ ডিসেম্বর থেকে নতুন এই ফি কার্যকর হবে এবং জানুয়ারিতে খুচরা বিক্রেতারা প্রথমবারের মতো সংগৃহীত অর্থ কাউন্টির নির্দিষ্ট ইএমএস তহবিলে জমা দেবেন। তবে কিছু ক্ষেত্রে এই ফি প্রযোজ্য হবে না; এর মধ্যে রয়েছে জ্বালানি তেল ক্রয়, প্রেসক্রিপশনের ওষুধ, স্বাস্থ্যসেবা, ব্যাংকিং পরিষেবা এবং ভেন্ডিং মেশিনের লেনদেন।   খুচরা বিক্রেতারা চাইলে মাসিক বা ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে এই অর্থ জমা দিতে পারবেন। তবে ক্রেতাদের জন্য স্বস্তির বিষয় হলো, কমিশন এটিকে একটি অস্থায়ী পদক্ষেপ হিসেবেই দেখছে। ডেভিড কেসলিং জানিয়েছেন, ইএমএস সেবা আর্থিকভাবে সম্পূর্ণ স্বনির্ভর না হওয়া পর্যন্ত, অর্থাৎ আগামী এক থেকে দুই বছরের জন্য এই ফি চালু রাখার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।

প্রকাশ: অক্টোবর ২৫, ২০২৬ ৯:৪৪
যুক্তরাষ্ট্রে বছরে ৩ লাখ ডলারের বেশি আয় করেও আর্থিক চাপে রয়েছেন ৩৬ শতাংশ উচ্চ আয়ের মানুষ। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে বছরে ৩ লাখ ডলার আয়েও মাস শেষে টাকা থাকছে না অনেকের

গ্যালাপের জরিপে ২০২৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রে ১৮ থেকে ২৯ বছর বয়সীদের মাত্র ৪৪ শতাংশ জীবন নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে তরুণ প্রজন্মের সুখ কমছে, জীবনে সবচেয়ে অসন্তুষ্ট জেন জি

নিউইয়র্কের ম্যানহাটনে মাত্র ১,৮২০ ডলারে অ্যাপার্টমেন্ট কেনার সুযোগ, চলছে লটারি

নিউইয়র্কের ম্যানহাটনে মাত্র ১,৮২০ ডলারে অ্যাপার্টমেন্ট কেনার সুযোগ, চলছে লটারি

যুক্তরাষ্ট্রে চাকরি হারিয়েও মাসে ১ হাজার ডলার সাশ্রয়, তরুণীর অভিনব কৌশল
যুক্তরাষ্ট্রে চাকরি হারিয়েও মাসে ১ হাজার ডলার সাশ্রয়, তরুণীর অভিনব কৌশল

চাকরি হারানো কখনোই সুখকর অভিজ্ঞতা নয়। কিন্তু গত জানুয়ারিতে ৩৩ বছর বয়সী সিমোন অস্টিন যখন অফিস থেকে চাকরিচ্যুতির নোটিশ পান, তখন তা তার জন্য ছিল এক বিশাল ধাক্কা। নর্থ ক্যারোলাইনায় কেনা নতুন বাড়ির জন্য প্রতি মাসে ২ হাজার ৮০০ ডলারের মর্টগেজ এবং বাড়ি সাজানোর পেছনে হওয়া ক্রেডিট কার্ডের ঋণ—সব মিলিয়ে ছয় অঙ্কের আয়ের চাকরিটি হারানো তার জন্য চরম সংকটের জন্ম দেয়। তবে হতাশায় ডুবে না গিয়ে তিনি দ্রুত নিজের মাসিক বাজেট কাটছাঁট করার কাজে নেমে পড়েন। সম্প্রতি তিনি জানিয়েছেন, চাকরি হারানোর আগের তুলনায় বর্তমানে তিনি প্রতি মাসে অন্তত ১ হাজার ডলার কম খরচ করছেন।   খরচ কমানোর কৌশল হিসেবে অস্টিন শুরুতেই বিনোদন, বিভিন্ন সাবস্ক্রিপশন এবং শখের বশে কেনাকাটার মতো অপ্রয়োজনীয় ব্যয়গুলো পুরোপুরি ছেঁটে ফেলেন। এরপর তিনি প্রয়োজনীয় জিনিসগুলো কীভাবে আরও কম খরচে বা বিনা মূল্যে পাওয়া যায়, তার পথ খুঁজতে থাকেন।   অর্থের বিনিময়ে যোগব্যায়াম ক্লাসে যাওয়ার বদলে অনলাইনে ফ্রি ভিডিও দেখা এবং লাইব্রেরি থেকে বই ধার করার মতো বিনা মূল্যের শখগুলো তিনি বেছে নেন। পাশাপাশি নিজের নেটওয়ার্ক কাজে লাগিয়ে সুবিধাও আদায় করেছেন। যেমন, স্থানীয় একটি পাইলেটস স্টুডিওতে ভার্চুয়াল অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে কাজ করে তিনি এখন মাসে মাত্র ১০ ঘণ্টা শ্রমের বিনিময়ে ৩০০ ডলার আয়ের পাশাপাশি বিনা মূল্যে ক্লাস করার সুযোগ পাচ্ছেন।   অর্থ সঞ্চয়ের ক্ষেত্রে অস্টিনের সবচেয়ে বড় পরামর্শ হলো কেনাকাটার স্থান পরিবর্তন করা। দামি ব্র্যান্ডের বদলে অপেক্ষাকৃত সস্তা কিন্তু ভালো মানের বিকল্প খুঁজে বের করার ওপর জোর দেন তিনি। প্রসাধনীর ক্ষেত্রে সেফোরার মতো দামি ব্র্যান্ড ছেড়ে এখন তিনি সাশ্রয়ী ব্র্যান্ড ব্যবহার করছেন।   এছাড়া প্রয়োজনের অতিরিক্ত জিনিস একসঙ্গে মজুত না করে যখন যতটুকু দরকার, ঠিক ততটুকুই কিনছেন। স্থানীয় কৃষকদের বাজার থেকে মাত্র ২৫ ডলারে এক ব্যাগ সতেজ শাকসবজি কিনে নিত্যদিনের খরচ অনেকটাই কমিয়ে এনেছেন তিনি। অস্টিনের মতে, এই সংকটকাল অর্থ সম্পর্কে তার দৃষ্টিভঙ্গি পুরোপুরি বদলে দিয়েছে এবং ভবিষ্যতে নতুন চাকরি পেলেও তিনি এই সঞ্চয়ের অভ্যাসগুলো ধরে রাখবেন।   আশ্চর্যের বিষয় হলো, চাকরিহীন এই ১০ মাসে অস্টিনকে তার ৪০ হাজার ডলারের জরুরি তহবিলে একবারও হাত দিতে হয়নি। চাকরি থেকে পাওয়া শেষ বেতন, বোনাস ও বেকার ভাতার পাশাপাশি তার আয়ের মূল উৎস হয়ে ওঠে তার ইউটিউব চ্যানেল 'লাইফ অ্যান্ড নাম্বারস'।   চাকরি হারানোর অভিজ্ঞতা নিয়ে তৈরি করা তার একটি ভিডিও ভাইরাল হলে ইউটিউব ও টিকটকে তা লাখ লাখ ভিউ পায়। বিজ্ঞাপন, স্পনসরশিপ এবং ডিজিটাল পণ্য বিক্রি করে তিনি এই সময়ে ২৪ হাজার ডলারের বেশি আয় করেন। সঠিক পরিকল্পনা ও দৃঢ় মানসিকতার কারণে কোনো নতুন ঋণের বোঝায় না জড়িয়েই তিনি এই কঠিন সময় সাহসিকতার সঙ্গে পার করছেন।

প্রকাশ: অক্টোবর ২৫, ২০২৬ ৮:৩৩
নিউইয়র্কে ক্যাথলিক যাজকদের যৌ ন নিপীড়নের শিকার ১,৩০০ জন, ক্ষতিপূরণ ৮০ কোটি ডলারের বেশি

নিউইয়র্কে ক্যাথলিক যাজকদের যৌ ন নিপীড়নের শিকার ১,৩০০ জন, ক্ষতিপূরণ ৮০ কোটি ডলারের বেশি

নিউইয়র্কে শুটিং চলাকালে ছুরি হাতে হা মলার চেষ্টা, গ্রেপ্তার ২৩ বছরের যুবক

নিউইয়র্কে শুটিং চলাকালে ছুরি হাতে হা মলার চেষ্টা, গ্রেপ্তার ২৩ বছরের যুবক

নিউইয়র্কে নারী পুলিশকে রাত কাটানোর প্রস্তাব, ক্যাপ্টেনের বিরুদ্ধে যৌ ন হয়রানির মামলা

নিউইয়র্কে নারী পুলিশকে রাত কাটানোর প্রস্তাব, ক্যাপ্টেনের বিরুদ্ধে যৌ ন হয়রানির মামলা

যুক্তরাষ্ট্রে আটক অভিবাসীদের বন্ড হিয়ারিং ছাড়াই বন্দি রাখার পক্ষে আদালতের রায়
যুক্তরাষ্ট্রে আটক অভিবাসীদের বন্ড হিয়ারিং ছাড়াই বন্দি রাখার পক্ষে আদালতের রায়

যুক্তরাষ্ট্রে ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের হাতে আটক নির্দিষ্ট শ্রেণির অভিবাসীদের মুক্তির জন্য বন্ড হিয়ারিং দেওয়ার সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা নেই বলে রায় দিয়েছেন একটি ফেডারেল আপিল আদালত। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) নিউ অরলিন্সভিত্তিক ফিফথ সার্কিট কোর্ট অব আপিলসের ১৭ বিচারপতির মধ্যে ১০ জন এই সিদ্ধান্তের পক্ষে এবং সাতজন বিপক্ষে মত দেন। রায়টি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতির পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ আইনি সিদ্ধান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এর ফলে টেক্সাস, লুইজিয়ানা ও মিসিসিপিতে ইমিগ্রেশন হেফাজতে থাকা কিছু অভিবাসীর বন্ডের মাধ্যমে মুক্তি চাওয়ার সুযোগ আরও সীমিত হতে পারে।   বার্তা সংস্থা রয়টার্স -এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আদালতের সংখ্যাগরিষ্ঠ বিচারকেরা সিদ্ধান্ত দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রে আইনগতভাবে প্রবেশের অনুমতি না পাওয়া এবং ডিপোর্টেশন প্রক্রিয়ায় আটক থাকা সংশ্লিষ্ট অভিবাসীদের জন্য সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনী স্বয়ংক্রিয়ভাবে ব্যক্তিগত বন্ড হিয়ারিংয়ের অধিকার নিশ্চিত করে না। অর্থাৎ সংশ্লিষ্ট আইনের আওতায় আটক ব্যক্তিকে মুক্তি দেওয়া উচিত কি না, তা নির্ধারণের জন্য প্রত্যেক ক্ষেত্রে আলাদা শুনানি আয়োজনের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা নেই বলে আদালত মনে করেন।   রায়ের ফলে ট্রাম্প প্রশাসন নির্দিষ্ট অভিবাসীদের ডিপোর্টেশন মামলার নিষ্পত্তি চলাকালে বন্ড হিয়ারিং ছাড়াই আটক রাখার আইনি ভিত্তি পেয়েছে। তবে এই সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রে আটক সব অভিবাসীর ক্ষেত্রে একইভাবে প্রযোজ্য নয়। বিশেষ করে যাঁরা বৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছিলেন, পরে ভিসার মেয়াদ শেষ হয়েছে কিংবা অন্য ধরনের ইমিগ্রেশন মামলায় আটক হয়েছেন, তাঁদের আইনি পরিস্থিতি আলাদা হতে পারে। একইভাবে বন্ড হিয়ারিং না পাওয়ার অর্থ এই নয় যে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে ইতিমধ্যে ডিপোর্টেশনের চূড়ান্ত আদেশ দেওয়া হয়েছে।   এই মামলার সূত্রপাত টেক্সাসে আটক তিন অভিবাসীকে কেন্দ্র করে। তাঁরা হলেন মেক্সিকোর নাগরিক ইগনাসিও সোসনাভা রদ্রিগেজ ও আলেহান্দ্রো ভিয়েগাস অ্যাঞ্জেল এবং হন্ডুরাসের নাগরিক মিগেল অ্যাঞ্জেল গোমেজ আলভারাদো। আদালতের নথি অনুযায়ী, তাঁরা প্রত্যেকেই দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছিলেন। তাঁদের মধ্যে একজন ২২ বছরের বেশি সময় এবং অন্য দুজন ২০১১ ও ২০১২ সাল থেকে দেশটিতে ছিলেন। তাঁদের কয়েকজনের সন্তানও মার্কিন নাগরিক।   ২০২৫ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির মধ্যে ট্রাফিকসংক্রান্ত ঘটনায় স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে আটক হন ওই তিন ব্যক্তি। পরে তাঁদের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট বা আইসিইর হেফাজতে দেওয়া হয়। ডিপোর্টেশন প্রক্রিয়া চলাকালে বন্ড হিয়ারিংয়ের সুযোগ না পাওয়ায় তাঁরা ফেডারেল আদালতে মামলা করেন। তাঁদের যুক্তি ছিল, ব্যক্তিগত পরিস্থিতি বিবেচনা না করে দীর্ঘ সময় আটক রাখা সংবিধানের যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার অধিকার লঙ্ঘন করে।   প্রথমে নিম্ন আদালত তিন অভিবাসীর পক্ষে রায় দেন। বিচারকেরা সিদ্ধান্ত দেন, বন্ড হিয়ারিংয়ের সুযোগ না দিয়ে তাঁদের আটক রাখা সাংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘন করছে। পরে জুলাই মাসে ফিফথ সার্কিটের তিন বিচারপতির একটি প্যানেলও অভিবাসীদের পক্ষে অবস্থান নেয়। ওই রায়ে বলা হয়েছিল, সংশ্লিষ্ট অভিবাসীদের সর্বোচ্চ ৯০ দিনের মধ্যে বন্ড হিয়ারিংয়ের সুযোগ দিতে হবে। শুনানিতে বিচারক বিবেচনা করবেন, আটক ব্যক্তি সমাজের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ কি না এবং মুক্তি পেলে আদালতে হাজির না হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে কি না।   তবে ট্রাম্প প্রশাসন এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে। প্রশাসনের যুক্তি ছিল, যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন আইনের নির্দিষ্ট বিধান অনুযায়ী আইনগতভাবে প্রবেশের অনুমতি না পাওয়া ব্যক্তিদের ডিপোর্টেশন প্রক্রিয়া চলাকালে বাধ্যতামূলকভাবে আটক রাখা যায়। পরে ফিফথ সার্কিটের পূর্ণাঙ্গ বিচারক প্যানেল মামলাটি পুনরায় শুনানির সিদ্ধান্ত নেয়। গত ২৪ সেপ্টেম্বর শুনানি শেষে শুক্রবার আগের সিদ্ধান্ত বাতিল করে নতুন রায় দেওয়া হয়। এর ফলে জুলাই মাসে নির্ধারিত ৯০ দিনের মধ্যে বন্ড হিয়ারিংয়ের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতাও বাতিল হয়েছে।   সংখ্যাগরিষ্ঠ বিচারকদের পক্ষে রায় লেখেন ট্রাম্পের মনোনীত বিচারক কোরি উইলসন। তাঁর যুক্তি অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট অভিবাসীরা যুক্তরাষ্ট্রে আইনগতভাবে প্রবেশের অনুমতি না পাওয়ায় তাঁদের আটক ও মুক্তির বিষয়ে কংগ্রেসের নির্ধারিত অভিবাসন আইনের বিধান প্রযোজ্য। তিনি আরও বলেন, আটক ব্যক্তিরা চাইলে যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে যাওয়ার মাধ্যমে শারীরিক আটকাবস্থা থেকে মুক্তি পেতে পারেন। তবে এই বক্তব্য আদালতের আইনি যুক্তির অংশ। বাস্তবে প্রত্যেক আটক অভিবাসীর পক্ষে তাৎক্ষণিকভাবে দেশত্যাগ করা সম্ভব কি না, সেটি পৃথক প্রশ্ন।   অন্যদিকে সাতজন বিচারক এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেন। তাঁদের একজন বিচারক ডানা ডগলাস সতর্ক করে বলেন, নির্বাহী বিভাগের আটক রাখার ক্ষমতার ওপর যথাযথ বিচারিক নিয়ন্ত্রণ না থাকলে গুরুতর সাংবিধানিক উদ্বেগ তৈরি হতে পারে। আরেক বিচারক লেসলি সাউথউইক দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী ব্যক্তিদের সাংবিধানিক সুরক্ষা সীমিত হওয়ার বিষয়ে আপত্তি জানান। ভিন্নমত পোষণকারী বিচারকদের বক্তব্য অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তির অভিবাসনসংক্রান্ত অবস্থান তাঁর ব্যক্তিস্বাধীনতা ও ন্যায়সংগত আইনি প্রক্রিয়ার প্রশ্নকে সম্পূর্ণ অপ্রাসঙ্গিক করে দেয় না।   মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের জেনারেল কাউন্সেল জেমস পার্সিভাল আদালতের সিদ্ধান্তকে প্রশাসনের জন্য বড় আইনি সাফল্য হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তাঁর দাবি, ১৯৯৬ সালের অভিবাসন আইনে বাধ্যতামূলক আটকের যে বিধান রয়েছে, আদালতের সিদ্ধান্ত তার প্রয়োগকে সমর্থন করেছে। ট্রাম্প প্রশাসন দীর্ঘদিন ধরে যুক্তি দিয়ে আসছে, ডিপোর্টেশন প্রক্রিয়ার আওতায় থাকা নির্দিষ্ট অভিবাসীদের বন্ডে মুক্তি দেওয়ার পরিবর্তে আটক রাখা আইনসম্মত।   তবে অভিবাসীদের অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলো রায়ের সমালোচনা করেছে। ন্যাশনাল ইমিগ্রেশন প্রজেক্টের আইনজীবী এলি নর্টন বলেন, এই সিদ্ধান্তের ফলে প্রয়োজনীয় ব্যক্তিগত শুনানি ছাড়াই আরও বেশি মানুষ দীর্ঘ সময় আটক থাকার ঝুঁকিতে পড়তে পারেন। তাঁর মতে, এর প্রভাব শুধু আটক ব্যক্তিদের ওপর নয়, তাঁদের পরিবার ও কমিউনিটির ওপরও পড়বে। আমেরিকান ইমিগ্রেশন কাউন্সিলও রায়টিকে সাংবিধানিক সুরক্ষার ক্ষেত্রে উদ্বেগজনক সিদ্ধান্ত হিসেবে বর্ণনা করেছে।   রায়টির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো এর ভৌগোলিক এখতিয়ার। ফিফথ সার্কিট কোর্ট অব আপিলসের অধীনে রয়েছে টেক্সাস, লুইজিয়ানা ও মিসিসিপি। ফলে এই তিন অঙ্গরাজ্যের ফেডারেল আদালতে রায়টির সরাসরি প্রভাব রয়েছে। টেক্সাস ও লুইজিয়ানায় যুক্তরাষ্ট্রের বিপুলসংখ্যক অভিবাসন বন্দিশালা অবস্থিত। অন্য অঙ্গরাজ্য থেকে আটক ব্যক্তিদেরও এসব কেন্দ্রে স্থানান্তর করা হয়। তাই রায়টির প্রভাব শুধু ওই তিন অঙ্গরাজ্যে বসবাসকারী অভিবাসীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নাও থাকতে পারে।   এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট চলতি অক্টোবরেই বাধ্যতামূলক ইমিগ্রেশন ডিটেনশনসংক্রান্ত আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি প্রশ্ন পর্যালোচনার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সেখানে মূলত ফেডারেল অভিবাসন আইনের অধীনে বন্ড হিয়ারিংয়ের সুযোগ থাকা উচিত কি না, তা বিবেচনা করা হবে। তবে ফিফথ সার্কিটের শুক্রবারের রায়ে যে সাংবিধানিক প্রশ্নের সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়েছে, সুপ্রিম কোর্টের গৃহীত মামলাটি সরাসরি সেই একই প্রশ্নের ওপর নয়। ফলে সর্বোচ্চ আদালতের পরবর্তী সিদ্ধান্ত এবং অন্যান্য আদালতের রায়ের মধ্যে পার্থক্য থাকতে পারে।   যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী বাংলাদেশিসহ অভিবাসীদের জন্য এই রায় গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে যাঁরা আইনগতভাবে প্রবেশের অনুমতি ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে এসেছেন এবং বর্তমানে ডিপোর্টেশন প্রক্রিয়ার আওতায় রয়েছেন, তাঁদের বন্ড হিয়ারিং পাওয়ার সুযোগ সংশ্লিষ্ট আদালতের এখতিয়ার ও প্রযোজ্য আইনের ওপর নির্ভর করতে পারে। তবে সব গ্রিন কার্ডধারী, ভিসাধারী, অ্যাসাইলাম আবেদনকারী কিংবা আটক অভিবাসীর বন্ড পাওয়ার অধিকার একসঙ্গে বাতিল হয়েছে, এমন দাবি সঠিক নয়। প্রত্যেক ব্যক্তির প্রবেশের ইতিহাস, বর্তমান ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস এবং মামলার ধরন গুরুত্বপূর্ণ।   এ ছাড়া বন্ড হিয়ারিংয়ের সুযোগ সীমিত হওয়া মানেই সব ধরনের আইনি প্রতিকার বন্ধ হয়ে যাওয়া নয়। নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে আটক ব্যক্তিরা ফেডারেল আদালতে হেবিয়াস করপাসের আবেদনসহ অন্যান্য আইনগত পথ অনুসরণ করতে পারেন। তবে কোন প্রতিকার পাওয়া যাবে, তা মামলার পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে। তাই আইসিইর হেফাজতে থাকা ব্যক্তি বা তাঁর পরিবারের জন্য অভিজ্ঞ ইমিগ্রেশন আইনজীবীর মাধ্যমে মামলার অবস্থান যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ।   সব মিলিয়ে ফিফথ সার্কিটের নতুন রায় ট্রাম্প প্রশাসনের বাধ্যতামূলক ইমিগ্রেশন ডিটেনশন নীতির পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত। আগের ৯০ দিনের মধ্যে বন্ড হিয়ারিং দেওয়ার নির্দেশ বাতিল হওয়ায় টেক্সাস, লুইজিয়ানা ও মিসিসিপিতে সংশ্লিষ্ট অভিবাসীদের মুক্তির আবেদন আরও কঠিন হতে পারে। তবে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে সব অভিবাসীর বন্ড হিয়ারিং বন্ধ হয়ে গেছে, এমন নয়। সুপ্রিম কোর্টে চলমান আইনি প্রক্রিয়া এবং ভবিষ্যতের আদালতের সিদ্ধান্তের ওপর এই নীতির পরবর্তী অবস্থান নির্ভর করবে।

প্রকাশ: অক্টোবর ২৫, ২০২৬ ৭:৯
নিয়ন্ত্রণহীন স্কুলবাস থামিয়েছিলো যুবক

কুরআনের আয়াতে অনুপ্রাণিত হয়ে নিয়ন্ত্রণহীন স্কুলবাস থামিয়েছিলো যুবক, রক্ষা পেয়েছে ১৯ শিশু

সার্টিফায়েড হালাল খাবার চালুর উদ্যোগ

যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে মুসলিম শিক্ষার্থীদের জন্য সার্টিফায়েড হালাল খাবার চালুর উদ্যোগ

ক্তরাষ্ট্রে নভেম্বরের ভেটেরান্স ভাতা মিলবে অক্টোবরেই

যুক্তরাষ্ট্রে নভেম্বরের ভেটেরান্স ভাতা মিলবে অক্টোবরেই, নতুন পেমেন্টের তারিখ ঘোষণা

0 Comments