সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

#আন্তর্জাতিকখবর

মাঝ আকাশে এক পাইলটকে ছু রি মারলেন আরেক পাইলট, হাইজ্যাকের আশঙ্কায় আতঙ্কিত যাত্রীরা
মাঝ আকাশে এক পাইলটকে ছু রি মারলেন আরেক পাইলট, হাইজ্যাকের আশঙ্কায় আতঙ্কিত যাত্রীরা

দুবাই থেকে ইসরায়েলের তেল আবিবগামী একটি যাত্রীবাহী বিমানে মাঝ আকাশে দুই পাইলটের মধ্যে তীব্র সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় বিমানটি দ্রুত উচ্চতা হারিয়ে জরুরি সংকেত পাঠায়। সম্ভাব্য হা ই জ্যাকের আশঙ্কায় ইসরায়েলি যুদ্ধবিমানও আকাশে পাঠানো হয়। পরে বিমানটি সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে নিরাপদে অবতরণ করে। বিমানে থাকা সব যাত্রী নিরাপদে রয়েছেন বলে জানানো হয়েছে।   ফ্লাইদুবাইয়ের এফজেড১০৭৩ ফ্লাইটটি বুধবার সকালে দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তেল আবিবের বেন গুরিয়ন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা হয়। বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স ৮ বিমানটি প্রায় আড়াই ঘণ্টা উড়ার পর ককপিটে পাইলটদের মধ্যে শারীরিক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।   ফ্লাইট ট্র্যাকিং তথ্য অনুযায়ী, বিমানটি প্রথমে সাধারণ জরুরি সংকেত পাঠায়। পরে এমন একটি সংকেতও পাঠানো হয়, যা বিমানে অবৈধ হস্তক্ষেপ বা সম্ভাব্য হা ই জ্যাকের পরিস্থিতি বোঝাতে ব্যবহৃত হয়। এরপর বিমানটি দ্রুত উচ্চতা হারিয়ে সৌদি আরবের দিকে ঘুরে যায়।   বিমানটি প্রায় ৩৩ হাজার ফুট উচ্চতা থেকে একপর্যায়ে প্রায় ১৭ হাজার ফুটে নেমে যায়। এত দ্রুত উচ্চতা কমে যাওয়ায় যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে বিমানটি তাবুকের দিকে যায় এবং সেখানে জরুরি অবতরণ করে।   ঘটনার শুরুতে সম্ভাব্য হা ই জ্যাক নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে ইসরায়েলি যুদ্ধবিমানও পাঠানো হয়। তবে পরে ইসরায়েলি কর্মকর্তারা জানান, বিমানটি হা ই জ্যাক হয়েছে—এমন নিশ্চিত প্রমাণ পাওয়া যায়নি। বরং দুই পাইলটের মধ্যে শারীরিক সংঘর্ষের পর জরুরি সংকেত পাঠানো হয়েছিল বলে জানানো হয়েছে।   বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ককপিটের সংঘর্ষের সময় একজন পাইলট ছু রি কা ঘা তে আহত হন এবং যাত্রীরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করেন। তবে এসব বিস্তারিত তথ্য এখনো বিমান সংস্থার পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়নি।   ফ্লাইদুবাই জানিয়েছে, ফ্লাইটটিতে একটি ঘটনা ঘটার পর সেটিকে তাবুকের দিকে ঘুরিয়ে নেওয়া হয় এবং সেখানে বিমানটি নিরাপদে অবতরণ করে। সব যাত্রী ও ক্রু নিরাপদে রয়েছেন। বিমান সংস্থাটি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে এবং নিশ্চিত তথ্য পাওয়া গেলে পরবর্তী আপডেট দেওয়া হবে।   ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরও জানিয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং বিমানে থাকা যাত্রীদের বিকল্প ফ্লাইটে দেশে ফেরানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে।   ঘটনার সঠিক কারণ এবং ককপিটে পাইলটদের মধ্যে কী নিয়ে সংঘর্ষ হয়েছিল, তা এখনো স্পষ্ট নয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি তদন্ত করছে। এ মুহূর্তে নিশ্চিত তথ্য হলো, বিমানটি সৌদি আরবের তাবুকে নিরাপদে অবতরণ করেছে এবং যাত্রীরা নিরাপদে রয়েছেন।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৬ ১৪:০
ইরাক থেকে শেষ মার্কিন সেনারা চলে যাওয়ার মধ্য দিয়ে শেষ হলো ১২ বছরের সামরিক মিশন
ইরাক থেকে সব মার্কিন সেনা প্রত্যাহার, শেষ হলো ১২ বছরের সামরিক মিশন

ইরাক থেকে সব মার্কিন সেনা প্রত্যাহার সম্পন্ন করেছে যুক্তরাষ্ট্র। বুধবার উত্তর ইরাকের ইরবিল বিমানঘাঁটি থেকে শেষ মার্কিন সেনারা চলে যাওয়ার মধ্য দিয়ে দেশটিতে আই এসবিরোধী ১২ বছরের সামরিক মিশনের সমাপ্তি হয়েছে।   ওয়াশিংটন ও বাগদাদের মধ্যে দুই বছর আগে হওয়া সমঝোতার ভিত্তিতেই এই প্রত্যাহার সম্পন্ন হয়। যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, এর মাধ্যমে যুদ্ধকালীন জোটের একটি অধ্যায়ের ইতি ঘটেছে এবং এখন দুই দেশের মধ্যে স্বাভাবিক দ্বিপক্ষীয় নিরাপত্তা সহযোগিতার দিকে এগিয়ে যাওয়া হবে।   মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের মুখপাত্র শন পারনেল জানিয়েছেন, ইরবিল বিমানঘাঁটি থেকে মার্কিন সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম সুশৃঙ্খলভাবে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তাঁর মতে, ১২ বছরের অভিযানে ইরাক ও পুরো অঞ্চলে আই এসকে একটি সংগঠিত সামরিক হুমকি হিসেবে পরাজিত করা হয়েছে।   ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জাইদি মার্কিন সেনা প্রত্যাহারকে দেশের সার্বভৌমত্বের ক্ষেত্রে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হিসেবে তুলে ধরেছেন। তিনি বলেছেন, ইরাকি নিরাপত্তা বাহিনী আই এসের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাবে। একই সঙ্গে রাষ্ট্রের বাইরে থাকা স শ স্ত্র গোষ্ঠীগুলোর হাতে থাকা অ স্ত্র নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টাও অব্যাহত থাকবে।   ইরাকে মার্কিন সামরিক উপস্থিতির ইতিহাস দীর্ঘ। ২০০৩ সালে সাদ্দাম হোসেনকে ক্ষমতাচ্যুত করতে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে সামরিক অভিযান শুরু হয়। ২০১১ সালে মার্কিন সেনারা ইরাক থেকে চলে যায়। তবে ২০১৪ সালে আই এস ইরাকের বিস্তীর্ণ এলাকা দখল করলে ইরাকি সরকারের আমন্ত্রণে মার্কিন নেতৃত্বাধীন বাহিনী আবার দেশটিতে ফিরে আসে।   পরবর্তী সময়ে আই এসের নিয়ন্ত্রণাধীন ভূখণ্ড অনেকটাই পুনরুদ্ধার করা হলেও সংগঠনটির কিছু সদস্য ও নেটওয়ার্ক এখনো সক্রিয় রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে ২০২৪ সালে ওয়াশিংটন ও বাগদাদ মার্কিন নেতৃত্বাধীন সামরিক মিশন ধীরে ধীরে বন্ধ করার বিষয়ে একমত হয়।   গত বছর ইরাকের বেশির ভাগ এলাকা থেকে মার্কিন সেনা সরিয়ে নেওয়া হলেও উত্তরাঞ্চলের কুর্দি এলাকায় কয়েক শ মার্কিন সেনা অবস্থান করছিলেন। বুধবার তাঁদেরও প্রত্যাহার সম্পন্ন হয়েছে।   তবে এই প্রত্যাহার নিয়ে ইরাকের কুর্দি অঞ্চলে উদ্বেগ রয়েছে। বিশেষ করে মার্কিন সেনাদের সঙ্গে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও সরিয়ে নেওয়া নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় কর্মকর্তারা। কুর্দি আঞ্চলিক সরকারের পেশমার্গা মন্ত্রণালয়ের দাবি, সাম্প্রতিক যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতের সময় ওই অঞ্চলে এক হাজারের বেশি ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষে প ণা স্ত্র হামলা হয়েছিল।   অন্যদিকে ইরানে মিত্র হিসেবে পরিচিত ইরাকি স শ স্ত্র গোষ্ঠীগুলো মার্কিন সেনা প্রত্যাহারকে স্বাগত জানিয়েছে। এসব গোষ্ঠীকে নিরস্ত্র করার বিষয়ে বাগদাদ সরকারের প্রচেষ্টা এখনো পুরোপুরি সফল হয়নি।   এর আগে ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে এসব গোষ্ঠীকে নিরস্ত্র করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হলেও সেই সময়সীমা পরে পিছিয়ে ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত করা হয়েছে।   ফলে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের মাধ্যমে ইরাকে একটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক অধ্যায়ের সমাপ্তি হলেও দেশটির সামনে নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে। আই এসের অবশিষ্ট হুমকি, স শ স্ত্র গোষ্ঠীগুলোর নিয়ন্ত্রণ এবং আঞ্চলিক শক্তিগুলোর প্রভাব—সবকিছুই এখন বাগদাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে থাকবে।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৬ ১৪:০
ইউরোপে সম্ভাব্য রুশ ড্রোন হা মলা নিয়ে নতুন সতর্কতার তথ্য সামনে এসেছে
ইউরোপে রুশ ড্রোন হা মলার শঙ্কা, স্পেন-ফ্রান্স-ইতালিকে সিআইএর সতর্কবার্তা

স্পেন, ফ্রান্স ও ইতালিতে সমুদ্রপথ থেকে ড্রোন হা মলার সম্ভাবনা নিয়ে ইউরোপের কয়েকটি দেশকে সতর্ক করা হয়েছে বলে একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। স্পেনের সংবাদপত্র ‘এল মুন্দো’-র বরাত দিয়ে ‘দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট’ জানিয়েছে, কথিত এই সতর্কবার্তায় রাশিয়ার সম্ভাব্য হা মলার বিষয়ে তথ্য রয়েছে। তবে ‘দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট’ জানিয়েছে, তারা ওই সিআইএ প্রতিবেদনের অস্তিত্ব স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি এবং এ বিষয়ে সিআইএর মন্তব্য চাওয়া হয়েছে।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, লিথুয়ানিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানিয়েছে, রাশিয়া সমুদ্র থেকে বিস্ফো রক বহনে সক্ষম ‘গেরবেরা’ ড্রোন ব্যবহার করে ইউরোপের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হা মলার চেষ্টা করতে পারে। সম্ভাব্য লক্ষ্য হিসেবে বন্দর, বিমানবন্দর কিংবা বাইরে থাকা বিভিন্ন সরঞ্জামের কথা বলা হয়েছে। এ ধরনের হা মলায় বড় ধরনের ধ্বং সযজ্ঞের বদলে আগুন লাগানো, সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত করা বা কোনো স্থাপনা সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়ার মতো উদ্দেশ্য থাকতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   গেরবেরা ড্রোনটি তুলনামূলক ছোট এবং কয়েক কেজি বিস্ফো রক বহন করতে পারে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ড্রোনটির পাল্লা প্রায় ৬০০ কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে এবং সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় প্রায় ১৬০ কিলোমিটার। সম্ভাব্য পরিকল্পনায় এসব ড্রোন বাণিজ্যিক জাহাজে থাকা কনটেইনারের মধ্যে লুকিয়ে সমুদ্র থেকে উৎ ক্ষেপণের কথা বলা হয়েছে।   স্পেন, ফ্রান্স ও ইতালিকে সম্ভাব্য লক্ষ্য হিসেবে উল্লেখ করার পেছনে দেশগুলোর রাজনৈতিক পরিস্থিতির কথাও প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে। তিন দেশেই ২০২৭ সালে নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ইউক্রেন যু দ্ধ নিয়ে ইউরোপীয় জনগণের মধ্যে তৈরি হওয়া ক্লান্তি ও রাজনৈতিক বিভাজনকে কাজে লাগানোর উদ্দেশ্যে এ ধরনের সীমিত হা মলা ব্যবহার করা হতে পারে। তবে এগুলো প্রতিবেদনে উল্লেখ করা বিশ্লেষণ ও আশঙ্কা, কোনো নিশ্চিত হা মলার তথ্য নয়।   এদিকে ইউরোপে রাশিয়ার সম্ভাব্য ‘হাইব্রিড’ তৎপরতা নিয়ে উদ্বেগ নতুন নয়। লিথুয়ানিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী কেসতুতিস বুদরিস জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে রয়টার্সকে বলেছেন, মিত্রদের গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী রাশিয়া ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোর ওপর গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো এবং অন্যান্য হাইব্রিড কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে চাপ বাড়ানোর চেষ্টা করতে পারে।   ডেনমার্কের প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থাও বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক মূল্যায়নে আগামী কয়েক মাসে রাশিয়ার হাইব্রিড তৎপরতা বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে। সংস্থাটির মতে, পশ্চিমা ও ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোর বিরুদ্ধে আরও ঘন ঘন হা মলা এবং আগের তুলনায় বেশি প্রভাব ফেলতে পারে—এমন কর্মকাণ্ডের ঝুঁকি রয়েছে।   জার্মানির লাইপজিগ/হালে বিমানবন্দরকে ঘিরে ড্রোনের একটি ঘটনা এবং পোল্যান্ডের আকাশসীমায় ড্রোন প্রবেশের ঘটনাগুলোও ইউরোপের নিরাপত্তা উদ্বেগ বাড়িয়েছে। পোল্যান্ডের কর্মকর্তারাও সাম্প্রতিক কিছু অগ্নিকাণ্ড, বিস্ফো রণ ও ড্রোন প্রবেশের ঘটনাকে সম্ভাব্য হাইব্রিড হা মলার সঙ্গে যুক্ত করেছেন। তবে এসব ঘটনার ক্ষেত্রে রাশিয়ার দায় সবক্ষেত্রে নিশ্চিত হয়নি।   ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক প্রধান কায়া কালাস বলেছেন, রাশিয়া ইউরোপকে ইউক্রেনকে সমর্থন করা থেকে বিরত রাখতে ভয় দেখানোর চেষ্টা করছে বলে মনে হচ্ছে। তার মতে, মস্কোর ওপর চাপ বাড়াতে আরও কঠোর নিষেধাজ্ঞার প্রয়োজন হতে পারে।   তবে এস্তোনিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্গুস সাখনা বলেছেন, ন্যাটোর ওপর আসন্ন রুশ হা মলা নিয়ে অতিরিক্ত আতঙ্ক ছড়ানো ঠিক হবে না। ফলে স্পেন, ফ্রান্স ও ইতালিতে সম্ভাব্য ড্রোন হা মলার যে তথ্য সামনে এসেছে, সেটিকে বর্তমানে একটি গোয়েন্দা সতর্কতা ও সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদিত সম্ভাবনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। নির্দিষ্ট হা মলার সময়, লক্ষ্য বা ব্যবহৃত জাহাজের বিষয়ে এখনো কোনো নিশ্চিত তথ্য প্রকাশ্যে আসেনি।  

অলি উল্লাহ আল মাসুদ সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬ ১৪:০
ইউক্রেনের ড্রোন হা ম লার পর মস্কোর একটি তেল শো ধ না গার থেকে ধোঁয়া উঠছে
মস্কোতে ইউক্রেনের ‘সবচেয়ে বড়’ ড্রোন হা ম লা, এক রাতে উড়ল হাজারের বেশি ড্রোন

রাশিয়ার রাজধানী মস্কোকে লক্ষ্য করে বড় ধরনের ড্রোন হা ম লা চালিয়েছে ইউক্রেন। রুশ কর্মকর্তাদের দাবি, এক রাতেই রাশিয়ার বিভিন্ন এলাকায় এক হাজারের বেশি ইউক্রেনীয় ড্রোন ধ্বং স করা হয়েছে। মস্কোর মেয়র সের্গেই সোবিয়ানিন এই হামলাকে রাজধানীর ওপর এখন পর্যন্ত ‘সবচেয়ে বড়’ ড্রোন হা ম লা হিসেবে বর্ণনা করেছেন। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশজুড়ে ১ হাজার ১০০টি ইউক্রেনীয় ড্রোন ধ্বং স করা হয়েছে। এর মধ্যে মস্কোর দিকে এগিয়ে আসা প্রায় ৪৫০টি ড্রোন ধ্বং স করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মেয়র সোবিয়ানিন। তবে রুশ কর্মকর্তাদের পৃথক হিসাবে শনিবার থেকে মোট ১ হাজার ৬০০টির বেশি ড্রোন ধ্বং সের দাবি করা হয়েছে।   হা ম লায় মস্কোর একটি তেল শো ধ না গারের একটি অংশ ক্ষ তি গ্র স্ত হয়েছে। একটি আবাসিক ভবনেও ড্রোন আ ঘা ত হানার কথা জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। মস্কো অঞ্চলের গভর্নর আন্দ্রেই ভোরোবিয়ভের তথ্য অনুযায়ী, এই ঘটনায় দুইজন নি হত এবং ২০ জন আ হ ত হয়েছেন। নি হতদের মধ্যে ৭৪ বছর বয়সী এক ব্যক্তি ও ৪৪ বছর বয়সী এক নারী রয়েছেন।   রামেনস্কি জেলার একটি ২১ তলা আবাসিক ভবন থেকে ৭০ শিশুসহ প্রায় ৪০০ বাসিন্দাকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। হামলার পর মস্কোর তেল শো ধ না গার এলাকা থেকে ধোঁয়া উঠতে দেখা যায়।   ঘটনাটি ঘটে রাশিয়ার সংসদীয় নির্বাচনের তৃতীয় ও শেষ দিনে। মেয়র সোবিয়ানিন দাবি করেছেন, নির্বাচন ব্য হ ত করাই এই হা ম লার উদ্দেশ্য ছিল। তবে ইউক্রেন তাৎক্ষণিকভাবে ওই অ ভি যোগের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।   অন্যদিকে, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, এই অ ভি যা নে বিভিন্ন ধরনের ড্রোন ও ক্ষে প ণা স্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে এবং তেল ও সরবরাহ অবকাঠামোকে লক্ষ্য করা হয়েছে।   রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে চলমান যু দ্ধে সাম্প্রতিক সময়ে ড্রোন আ ক্র মণের মাত্রা বেড়েছে। একই রাতে রাশিয়ার ড্রোন হা ম লায় ইউক্রেনের কিয়েভ অঞ্চলেও চারজন নি হত হয়েছেন বলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬ ১৪:০
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলেকজান্ডার ডোব্রিন্ট , ছবি: কোলাজ আমেরিকা বাংলা
যেকোনো সময় হামলা’ আশঙ্কায় নিরাপত্তায় সর্বোচ্চ কড়াকড়ি, জার্মানিতে বড় সতর্কতা

সম্ভাব্য হামলার পরিকল্পনা সম্পর্কে গোয়েন্দা তথ্য ও সতর্কবার্তা বেড়ে যাওয়ায় জার্মানির নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে ‘উচ্চ হুমকির পর্যায়ে’ উন্নীত করা হয়েছে। দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলেকজান্ডার ডোব্রিন্ট বলেছেন, এখন জার্মানিতে যেকোনো সময় হামলার ঝুঁকি বিবেচনায় রেখেই নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিতে হবে।    শনিবার জার্মান সংবাদপত্র ভেল্ট আম জোনটাগে প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে ডোব্রিন্ট বলেন, আগে নিরাপত্তা ঝুঁকিকে ‘বিমূর্ত’ বা সম্ভাব্য হুমকি হিসেবে দেখা হলেও নতুন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরিস্থিতি এখন আরও গুরুতর বলে বিবেচিত হচ্ছে।   তিনি বলেন, “আমাদের দেশের বিরুদ্ধে হামলার পরিকল্পনা স্পষ্টভাবে শনাক্ত করা যাচ্ছে।” সম্ভাব্য হুমকির লক্ষ্য হতে পারে জার্মানির গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এবং নির্দিষ্ট ব্যক্তি।   তবে কোনো নির্দিষ্ট স্থানে আসন্ন হামলার তথ্য রয়েছে কি না, কিংবা সতর্কতার মাত্রা বাড়ানোর পর সাধারণ মানুষের চলাচল ও জনসমাগমে কী ধরনের অতিরিক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে—সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত জানানো হয়নি। রয়টার্সের অনুরোধের পরও জার্মান স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে সঙ্গে সঙ্গে কোনো মন্তব্য দেয়নি।    ডোব্রিন্টের ভাষ্য অনুযায়ী, দেশীয় ও বিদেশি গোয়েন্দা সূত্র থেকে পাওয়া তথ্য, সম্ভাব্য নাশকতা, গুপ্তচরবৃত্তি এবং হামলার প্রস্তুতির ইঙ্গিত বিবেচনা করেই নিরাপত্তা পরিস্থিতির নতুন মূল্যায়ন করা হয়েছে। তবে এই ঘোষণা দেশে জরুরি অবস্থা জারি বা কোনো নির্দিষ্ট হামলা অনিবার্য—এমন অর্থ বহন করে না। বরং কর্তৃপক্ষকে সার্বক্ষণিক প্রস্তুতি ও বাড়তি সতর্কতা বজায় রাখতে বলা হচ্ছে।    সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জার্মানিতে একাধিক প্রাণঘাতী হামলার ঘটনা ঘটেছে। ২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসে পূর্বাঞ্চলীয় মাগডেবুর্গ শহরের একটি ঐতিহাসিক বড়দিনের বাজারে ভাড়া করা বিএমডব্লিউ গাড়ি নিয়ে মানুষের ভিড়ে উঠে পড়েন সৌদি আরবের এক চিকিৎসক। ওই ঘটনায় ছয়জন নিহত এবং কয়েকশ মানুষ আহত হন। গত মাসে তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন জার্মানির একটি আদালত।    এর আগে ২০২৪ সালে পশ্চিমাঞ্চলীয় সোলিঙ্গেন শহরের একটি উৎসবে ছুরি হামলায় তিনজন নিহত এবং আরও ১০ জন আহত হন। ইসলামিক স্টেটের আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে হামলাটি চালানোর অভিযোগে এক সিরীয় নাগরিককে গত বছর দোষী সাব্যস্ত করেন জার্মান আদালত।   স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নতুন সতর্কবার্তার পর দেশটির গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, সরকারি প্রতিষ্ঠান, জনসমাগম এবং নিরাপত্তা-সংশ্লিষ্ট অবকাঠামোতে নজরদারি আরও জোরদার হতে পারে। তবে সাধারণ মানুষের জন্য নতুন কোনো বিধিনিষেধ বা বিশেষ নির্দেশনা শনিবার পর্যন্ত ঘোষণা করা হয়নি।

বায়জিদ হাসান জুলাই ১৭, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

ইমার্জেন্সি স্নো শভলার পদে ঘণ্টায় ৩০ ডলার পারিশ্রমিক পাবেন কর্মীরা

নিউইয়র্কে তুষার সরানোর কাজে ঘণ্টায় ৩০ ডলার, আজ রেজিস্ট্রেশন

অক্টোবর ১৬, ২০২৬ ১৪:০