কঙ্গো

দীর্ঘ ১৮ বছরের গবেষণার পর কঙ্গোর রেইনফরেস্টে কালো লোম ও উজ্জ্বল কমলা রঙের ঠোঁটের নতুন প্রজাতির বানর আবিষ্কার। ছবি: সংগৃহীত
কমলারঙা ঠোঁট, রহস্যময় ডাক, ১৮ বছর পর মিলল জঙ্গলে লুকিয়ে থাকা নতুন বানরের প্রজাতি

কঙ্গোর ঘন রেইনফরেস্টে দীর্ঘ ১৮ বছর ধরে গবেষণার পর বিজ্ঞানীরা কালো লোম ও উজ্জ্বল কমলা রঙের ঠোঁটবিশিষ্ট এক নতুন প্রজাতির বানরের সন্ধান পেয়েছেন। গবেষকদের মতে, আধুনিক যুগে সম্পূর্ণ নতুন কোনো প্রাইমেট বা বানরজাতীয় প্রাণী আবিষ্কার অত্যন্ত বিরল ঘটনা। গবেষণার ফলাফল সম্প্রতি বিজ্ঞানবিষয়ক সাময়িকী পিএলওএস ওয়ানে প্রকাশিত হয়েছে।   গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের লোমামি ন্যাশনাল পার্কে ২০০৮ সালে সংরক্ষণকর্মীরা প্রথম প্রাণীটিকে দেখতে পান। তবে তোলা ছবিটি স্পষ্ট না হওয়ায় সেটিকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। প্রায় এক দশক পর আবার ক্যামেরায় ধরা পড়লে গবেষকদের সন্দেহ হয়, এটি হয়তো আগে কখনও নথিভুক্ত না হওয়া একটি নতুন প্রজাতি।   স্থানীয় বালাঙ্গা জনগোষ্ঠী প্রাণীটির নাম দিয়েছে ‘লিকওয়েলি’। পরে গবেষণার মাধ্যমে এর বৈজ্ঞানিক নাম রাখা হয় ‘কোলোবাস কঙ্গোয়েনসিস’ বা ‘সি. কঙ্গোয়েনসিস’, যার নামকরণ করা হয়েছে কঙ্গো অববাহিকার নামে।   ফ্লোরিডা আটলান্টিক ইউনিভার্সিটির পিএইচডি গবেষক জুনিয়র আমবোকো এবং তার সহকর্মীরা ২০১৮ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত প্রাণীটির ওপর মাঠপর্যায়ে গবেষণা চালান। তারা বানরগুলোর চলাফেরা, ডাক, আচরণ পর্যবেক্ষণ করেন এবং জাতীয় উদ্যানসংলগ্ন ৫২টি গ্রামের বাসিন্দাদের কাছে ছবিও দেখান। তবে মাত্র আটটি গ্রামের মানুষ প্রাণীটিকে চিনতে পারেন। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এলাকায় এটি শিকার করে খাদ্য হিসেবে খাওয়া হয়।   গবেষণায় দেখা যায়, প্রায় ১৫ পাউন্ড ওজনের এই বানর গাছে ২০ সদস্য পর্যন্ত দলবদ্ধভাবে চলাফেরা করে। চকচকে কালো লোম, পশ্চাৎদেশে সাদা দাগ এবং মুখ ও নাকের চারপাশে উজ্জ্বল কমলা রঙের বৃত্তই এর সবচেয়ে আলাদা বৈশিষ্ট্য। অন্য কোলোবাস বানরের তুলনায় এর মাথার লোমের গঠনও ভিন্ন।   গবেষকদের ধারণা, মুখের কমলা রঙের এই চিহ্ন একই প্রজাতির সদস্যদের একে অপরকে শনাক্ত করতে অথবা সঙ্গী আকর্ষণে ভূমিকা রাখতে পারে। এছাড়া অন্য কোলোবাস বানরের তুলনায় এদের ডাকও আলাদা। গভীর গর্জন ও নাক দিয়ে বের হওয়া বিশেষ ধরনের শব্দ এদের অন্যতম বৈশিষ্ট্য।   গবেষণার সময় শিকারিদের কাছ থেকে জব্দ করা মৃত প্রাণীর নমুনা সংগ্রহ করে বিজ্ঞানীরা ডিএনএ বিশ্লেষণ করেন। পরে জাদুঘরে সংরক্ষিত অন্যান্য কোলোবাস বানরের নমুনার সঙ্গে তুলনা করে নিশ্চিত হন, এটি সত্যিই সম্পূর্ণ নতুন একটি প্রজাতি।   গবেষকদের তথ্য অনুযায়ী, গত ৭৫ বছরে আফ্রিকায় আবিষ্কৃত এটি মাত্র পঞ্চম নতুন বানর প্রজাতি। বিশ্লেষণে আরও জানা গেছে, এর নিকটতম আত্মীয় ব্ল্যাক কোলোবাস বানর থেকে প্রায় ৫০ লাখ বছর আগে এদের বিবর্তনগত বিচ্ছেদ ঘটে।   গবেষকরা প্রাণীটিকে ‘বিপন্ন’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করার সুপারিশ করেছেন। কারণ এটি খুব সীমিত এলাকায় বাস করে এবং বন উজাড় ও শিকারের কারণে এর অস্তিত্ব হুমকির মুখে রয়েছে।

তাবাস্সুম জুলাই ১৬, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
৫২ বছর পর বিশ্বমঞ্চে ফিরে রোনালদোর পর্তুগালকে রুখে দিল কঙ্গো

এক পাশে ৪১ বছর বয়সী ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর আরেকটি বিশ্বকাপ রাঙানোর মিশন, আর অন্য পাশে দীর্ঘ ৫২ বছর পর বিশ্বমঞ্চে ফেরা ডিআর কঙ্গোর অস্তিত্বের লড়াই। ডালাসের মাঠে শক্তির বিচারে পর্তুগাল যোজন যোজন এগিয়ে থাকলেও মাঠের ফুটবলে তার ন্যূনতম প্রতিফলন দেখা যায়নি। ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকে পুরো ৯০ মিনিট কড়া পাহারায় বোতলবন্দী করে রাখার পাশাপাশি আক্রমণেও সমানে সমান পাল্লা দিয়েছে ডিআর কঙ্গো।   সেই ভয়ডরহীন ফুটবলের সুবাদেই শক্তিশালী পর্তুগালকে ১–১ গোলে রুখে দিয়ে স্মরণীয় এক ড্র আদায় করে নিয়েছে আফ্রিকান দলটি।   ম্যাচের শুরু থেকেই উইং ব্যবহার করে আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে পর্তুগাল। কঙ্গোর রক্ষণভাগকে প্রবল চাপে রেখে মাত্র ৬ মিনিটেই তারা প্রথম সাফল্যের দেখা পায়। বাঁ প্রান্ত থেকে পেদ্রো নেতোর বাড়ানো নিখুঁত এক ক্রসে ডি-বক্সের ভেতর লাফিয়ে উঠে চমৎকার হেডে বল জালে জড়ান জোয়াও নেভেস। কঙ্গোর পাঁচ ডিফেন্ডারের উপস্থিতিতেও তুলনামূলক কম উচ্চতার নেভেস যেভাবে হেডে গোলটি আদায় করেন, তা ছিল সত্যিই দেখার মতো।   তবে শুরুতে এক গোল খেয়ে পিছিয়ে পড়ার পরও দমে যায়নি কঙ্গো। বরং খোলস ছেড়ে বেরিয়ে এসে তারা কাউন্টার অ্যাটাকে ওঠার চেষ্টা করতে থাকে এবং প্রথমার্ধের একেবারে শেষ মুহূর্তে তার ফলও পেয়ে যায়। নির্ধারিত সময় শেষে যোগ করা অতিরিক্ত সময়ের পঞ্চম মিনিটে এমবেম্বার কল্যাণে পাওয়া একটি কর্নার থেকে ছোট পাসে বল পান আর্থার মাসুয়াকু।   তার দূরপাল্লার নিখুঁত ক্রসটি খুঁজে নেয় সম্পূর্ণ অরক্ষিত অবস্থায় থাকা ইয়োয়ান উইসাকে। দারুণ এক লাফে পর্তুগিজ গোলরক্ষক দিয়োগো কস্তাকে পরাস্ত করে উইসা বল জালে জড়ান। আর তাতেই ৫২ বছর পর বিশ্বকাপে গোলের আনন্দে মাতোয়ারা হন কঙ্গোর ফুটবলাররা।   ১-১ সমতায় বিরতিতে যাওয়ার পর দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই কৌশল বদলান পর্তুগাল কোচ রবার্তো মার্তিনেস। তিনি বের্নার্দো সিলভাকে তুলে ফ্রান্সিসকো কনসিকাওকে মাঠে নামান। ৪৮ মিনিটে পেদ্রো নেতোর ক্রসে বক্সে কনসিকাও পড়ে গেলে পর্তুগাল পেনাল্টির আবেদন করলেও রেফারি তা নাকচ করে দেন। এরপর ৫৫ মিনিটে জোয়াও নেভেসের পাসে বল পেয়ে এক দুর্দান্ত ওভারহেড ভলিতে কঙ্গোর জালে বল পাঠান কানসেলো।   কিন্তু তিনি অফসাইড পজিশনে থাকায় ভিএআর সেই গোলটি বাতিল করে দেয়। পুরো ম্যাচেই ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকে কড়া পাহারায় রাখেন কঙ্গোর ডিফেন্ডার অ্যালেক্স তুয়ানজেবে ও এমবেম্বা। ৬৮ মিনিটে ব্রুনো ফের্নান্দেস সুবিধাজনক অবস্থানে থাকলেও রোনালদো নিজেই শট নিয়ে তা পোস্টের বাইরে মারেন। ৭৪ মিনিটেও রোনালদোর নেওয়া একটি শট তুয়ানজেবের দুর্দান্ত স্লাইডিং ট্যাকলে কর্নারের বিনিময়ে রক্ষা পায়।   রক্ষণ সামলানোর পাশাপাশি কাউন্টার অ্যাটাকে পর্তুগিজ রক্ষণভাগকে পুরো ম্যাচেই বেশ ভুগিয়েছে কঙ্গো। বিশেষ করে স্ট্রাইকার সেড্রিক বাকাম্বু একাই রুবেন দিয়াসদের বিরুদ্ধে প্রবল লড়াই চালিয়ে গেছেন। ৫৭ মিনিটে পর্তুগালের ডি-বক্সে ব্রুনো ফের্নান্দেসের কাছ থেকে বল কেড়ে নিয়ে বাকাম্বু শট নিলেও তা দুর্ভাগ্যবশত পোস্টে লেগে ফিরে আসে।   ৭৬ মিনিটে মাঝমাঠে বল পেয়ে নোয়া সাদিকি ফরোয়ার্ড ইয়োয়ান উইসাকে পাস বাড়ালে শেষ মুহূর্তে চমৎকার স্লাইডিংয়ে তা প্রতিহত করেন পর্তুগিজ ডিফেন্ডার থমাস আরাউহো। এর এক মিনিট পরেই বাকাম্বুর পাস থেকে গোলরক্ষককে একা পেয়েও পোস্টের বাইরে মারেন নোয়া সাদিকি। শেষ পর্যন্ত পর্তুগাল আর কঙ্গোর অফসাইড ট্র্যাপ ভাঙতে না পারায় হতাশাজনক ড্র নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় রোনালদোদের।

ইসতিয়াক আহমেদ জুন ১৭, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
বিশ্বকাপের প্রথম পরীক্ষায় রোনালদোর পর্তুগাল, একাদশে থাকছেন যারা

ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোর বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করতে যাচ্ছে পর্তুগাল। গ্রুপ ‘কে’র ম্যাচে আজ হিউস্টনে বাংলাদেশ সময় রাত ১১টায় মুখোমুখি হবে দুই দল। শক্তির বিচারে পর্তুগালকে এগিয়ে রাখা হলেও বিশ্বকাপের মঞ্চে কোনো প্রতিপক্ষকেই হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই।   অভিজ্ঞতা ও তারুণ্যের সমন্বয়ে গড়া শক্তিশালী দল নিয়েই মাঠে নামতে যাচ্ছে ইউরোপের অন্যতম পরাশক্তি। সম্ভাব্য একাদশে গোলপোস্টের নিচে থাকছেন নির্ভরযোগ্য গোলরক্ষক দিয়োগো কোস্তা।   রক্ষণভাগে দেখা যেতে পারে জোয়াও ক্যানসেলো, রুবেন দিয়াস, গনসালো ইনাসিও ও নুনো মেন্ডিসকে। অভিজ্ঞতা ও গতি মিলিয়ে এই চার ডিফেন্ডার পর্তুগালের রক্ষণকে শক্ত ভিত্তি দিতে পারেন।   মাঝমাঠে দলের অন্যতম ভরসা ব্রুনো ফার্নান্দেস, ভিতিনিয়া ও জোয়াও নেভেস। ক্লাব ফুটবলে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের কারণে এই ত্রয়ীর ওপরই আক্রমণ সাজানোর দায়িত্ব থাকবে। বিশেষ করে ব্রুনো ফার্নান্দেস ও ভিতিনিয়া ম্যাচের গতি নিয়ন্ত্রণ এবং সুযোগ তৈরি করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন।   আক্রমণভাগে সম্ভাব্যভাবে থাকছেন বার্নার্দো সিলভা, পেদ্রো নেতো এবং অধিনায়ক ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। ৪১ বছরে পা দেওয়ার দ্বারপ্রান্তে থাকা রোনালদো এখনও পর্তুগালের আক্রমণের অন্যতম প্রধান ভরসা। বিশ্বকাপ ইতিহাসে টানা ছয়টি আসরে গোল করার অনন্য কীর্তি গড়ার সুযোগও রয়েছে তার সামনে। ফলে কঙ্গোর বিপক্ষে ম্যাচে স্বাভাবিকভাবেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবেন পর্তুগিজ মহাতারকা।   কাগজে-কলমে পর্তুগাল এগিয়ে থাকলেও কঙ্গোর দলে রয়েছেন ইউরোপিয়ান লিগে খেলা বেশ কয়েকজন অভিজ্ঞ ফুটবলার। তাই জয় দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করতে পর্তুগালকে নিজেদের সেরাটা খেলতে হবে।   সম্ভাব্য একাদশ   পর্তুগাল: দিয়োগো কোস্তা, জোয়াও ক্যানসেলো, রুবেন দিয়াস, গনসালো ইনাসিও, নুনো মেন্ডিস, জোয়াও নেভেস, ব্রুনো ফার্নান্দেস, ভিতিনিয়া, বার্নার্দো সিলভা, ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো, পেদ্রো নেতো।   ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো: লিওনেল এমপাসি, অ্যারন ওয়ান-বিসাকা, মুকোকো কাপুয়াদি, অ্যাক্সেল তুয়ানজেবে, চানসেল এমবেম্বা, আর্থার মাসুয়াকু, স্যামুয়েল মুতুসামি, নোয়া সাদিকি, এনগালোয়েন মুকাউ, ইয়োয়ান উইসা, সেড্রিক বাকাম্বু।

Unknown জুন ১৬, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
৫১ বছর পর বিশ্বকাপে ফেরার অপেক্ষায় কঙ্গো, নতুন অধ্যায় লিখতে প্রস্তুত ‘দ্য লেপার্ড’রা

দীর্ঘ ৫১ বছরের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে বিশ্বকাপে ফেরার পথে ডেমোক্র্যাটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো। ফিফা বিশ্বকাপের প্লে-অফ টুর্নামেন্টের ফাইনালে জ্যামাইকাকে ১-০ গোলে হারিয়ে ১৯৭৪ সালের পর আবারও বিশ্বমঞ্চে ফেরার যোগ্যতা অর্জন করেছে দলটি। এই সাফল্যের মধ্য দিয়ে কঙ্গো ফুটবলে শুরু হয়েছে নতুন এক অধ্যায়।   ৩১ মার্চ গুয়াদালাজারায় অনুষ্ঠিত ফাইনালে জয় পাওয়ার পর দেশজুড়ে উৎসবের আবহ তৈরি হয়। কোচ সেবাস্টিয়ান দেশাব্রের অধীনে গড়ে ওঠা এই দলটি দীর্ঘ সময় পর আন্তর্জাতিক ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসরে ফিরতে যাচ্ছে। দলের তারকা খেলোয়াড়দের মধ্যে রয়েছেন সেড্রিক বাকাম্বু, শঁসেল এমবেম্বা ও আর্থার মাসুয়াকু। অভিজ্ঞতা ও তরুণ প্রতিভার সমন্বয়ে গঠিত এই স্কোয়াড নিয়ে বিশ্বকাপে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার প্রস্তুতি শুরু করেছে কঙ্গো।   কোচ সেবাস্টিয়ান দেশাব্রে ২০২২ সালের আগস্টে দায়িত্ব নেওয়ার পর দুটি বড় লক্ষ্য নির্ধারণ করেন। ২০২৫ আফ্রিকান কাপ অব নেশনস এবং ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে জায়গা করে নেওয়া। দুই লক্ষ্যেই সফল হয়ে তিনি আফ্রিকার ফুটবলে নিজের অবস্থান শক্ত করেছেন। ২০২৪ সালের আফ্রিকান কাপ অব নেশনসের সেমিফাইনালে দলের অগ্রযাত্রা তাকে আরও প্রশংসিত করে।   বিশ্বকাপে কঙ্গোর গ্রুপ পর্বের সূচি অনুযায়ী দলটি প্রথম ম্যাচে ১৭ জুন পর্তুগালের মুখোমুখি হবে হিউস্টন স্টেডিয়ামে। ২৩ জুন কলম্বিয়ার বিপক্ষে খেলবে গুয়াদালাজারা স্টেডিয়ামে। ২৭ জুন উজবেকিস্তানের বিপক্ষে শেষ গ্রুপ ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে আটলান্টায়।   কঙ্গো ডেমোক্র্যাটিক রিপাবলিক ১৯৭৪ সালে প্রথমবার বিশ্বকাপে অংশ নেয়। তখন দেশটির নাম ছিল জায়ার। সে আসরে তারা ছিল মধ্য আফ্রিকার একমাত্র প্রতিনিধি। মরক্কো ও জাম্বিয়াকে হারিয়ে বিশ্বকাপে জায়গা করে নেয় দলটি।   ১৯৭৪ বিশ্বকাপে কঙ্গো তিনটি ম্যাচ খেললেও কোনো জয় বা গোলের দেখা পায়নি। স্কটল্যান্ডের কাছে ২-০, যুগোস্লাভিয়ার কাছে ৯-০ এবং বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের কাছে ৩-০ ব্যবধানে হারে তারা। তবে ব্রাজিলের বিপক্ষে ম্যাচে দলটি লড়াকু পারফরম্যান্স প্রদর্শন করে।   দীর্ঘ বিরতির পর এবার নতুন ইতিহাস গড়ার লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামবে কঙ্গো। দলে রয়েছেন একঝাঁক অভিজ্ঞ ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে খেলা ফুটবলার। গোলরক্ষক, রক্ষণ, মিডফিল্ড ও আক্রমণভাগে ভারসাম্যপূর্ণ স্কোয়াড গড়ে তুলেছে দলটি।   বিশ্বকাপ ইতিহাসে প্রথমবারের মতো গোল করার সুযোগও সামনে রয়েছে তাদের। অতীতের শূন্য গোলের রেকর্ড ভেঙে নতুন অধ্যায় লিখতে চায় ‘দ্য লেপার্ড’রা।

Unknown জুন ৬, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

Top week

নিহত গুগল কর্মকর্তা শীতল রজেসিয়েন। ছবি: সংগৃহীত
আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রে গুগলের শীর্ষ ভারতীয় নারী কর্মকর্তাকে গুলি করে হত্যা করলেন স্বামী, ছেলেও হাসপাতালে

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ১২, ২০২৬ ১৪:০