যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ডিয়ানা অঙ্গরাজ্যের গ্যারি শহরে গুলিবর্ষণের ঘটনায় ১০ বছর বয়সী এক কন্যাশিশুর মৃত্যু হয়েছে। বুধবার দুপুরে শহরের মেরিল্যান্ড স্ট্রিটের ৪২০০ ব্লকে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনাটি স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে গভীর শোকের সৃষ্টি করেছে এবং পুলিশ হত্যাকাণ্ডের তদন্ত শুরু করেছে।
গ্যারি পুলিশ জানায়, বুধবার স্থানীয় সময় দুপুর প্রায় ১২টা ৫০ মিনিটে একটি শিশুকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পাওয়ার খবর পেয়ে কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। সেখানে পৌঁছে জরুরি সেবাকর্মীরা শিশুটিকে বাঁচানোর চেষ্টা করলেও ঘটনাস্থলেই তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, এটি একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা এবং এ ঘটনায় জনসাধারণের জন্য তাৎক্ষণিক কোনো নিরাপত্তা ঝুঁকি নেই। তবে কী কারণে গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে বা কারা এর সঙ্গে জড়িত, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
ঘটনার পরপরই গ্যারি পুলিশ বিভাগের প্রধান ডেরিক ক্যানন গভীর শোক প্রকাশ করে বলেন, এটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক একটি ঘটনা, যেখানে একটি নিষ্পাপ শিশুর জীবন ঝরে গেছে। তিনি নিহত শিশুর পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান এবং তদন্তে সহযোগিতার জন্য প্রত্যক্ষদর্শী বা তথ্য জানা ব্যক্তিদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
সর্বশেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। তদন্তকারীরা ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করছেন এবং সম্ভাব্য সাক্ষীদের সঙ্গে কথা বলছেন। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তের স্বার্থে আপাতত অতিরিক্ত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হচ্ছে না।
উল্লেখ্য, চলতি মাসেই গ্যারি শহরে আরেকটি পৃথক গুলিবর্ষণের ঘটনায় ১০ বছর বয়সী এক ছেলে নিহত হয়েছিল। সাম্প্রতিক এসব ঘটনায় শহরটিতে শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার ইতিহাসে অন্যতম ভয়াবহ ‘ইটন অগ্নিকাণ্ডে’ ক্ষতিগ্রস্তদের নিজেদের বিশেষ ক্ষতিপূরণ কর্মসূচির আওতায় ৩১ কোটি ৪০ লাখ ডলারের বেশি অর্থ প্রদান করেছে ইউটিলিটি কোম্পানি ‘সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়া এডিসন’। এই বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ডে ৯ হাজার ৪০০টিরও বেশি ভবন সম্পূর্ণ ধ্বংস এবং প্রায় ১ হাজার ১০০টি ভবন আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ৯ মাস পর কোম্পানিটি এই দাবানল পুনরুদ্ধার ক্ষতিপূরণ কর্মসূচি চালু করেছিল। সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়া এডিসন জানিয়েছে, এই ক্ষতিপূরণের অর্থ ২ হাজার ১০০ জনেরও বেশি আবেদনকারীর মধ্যে বণ্টন করা হয়েছে। এর মধ্যে একাধিক সম্পত্তির মালিক এমন এক ব্যক্তিকে সর্বোচ্চ ১ কোটি ৫১ লাখ ডলার এবং অগ্নিকাণ্ডে সরাসরি আগুনে না পুড়লেও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এক ভাড়াটেকে সর্বনিম্ন ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত দেওয়া হয়েছে। কোম্পানিটির মূল প্রতিষ্ঠানের প্রেসিডেন্ট ও সিইও পেড্রো পিজারো বলেন, "প্রতিটি দাবির পেছনে একজন ব্যক্তি, পরিবার বা ব্যবসা রয়েছে যা ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে। আমরা ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে থাকতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।" কোম্পানিটি মোট ৭৪ কোটি ৩০ লাখ ডলারের ২ হাজার ১০০টিরও বেশি প্রস্তাব পাঠিয়েছে এবং অর্থ পাওয়া গ্রাহকদের ওপর চালানো এক জরিপে ৮২ শতাংশ মানুষ এই কর্মসূচির প্রতি সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তবে ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতিনিধিত্বকারী আইনি সংস্থা ‘এলএ ফায়ার জাস্টিস’-এর অ্যাটর্নি ডগ বক্সার দাবি করেছেন, আবেদনকারীরা তাদের প্রাপ্য ক্ষতিপূরণের মাত্র অর্ধেক পাচ্ছেন। তিনি বলেন, "অগ্নিকাণ্ডের পর মানুষ মামলা করার চেয়ে মাথা গোঁজার ঠাঁই খোঁজা নিয়ে বেশি ব্যস্ত থাকে। কোম্পানিটি মূলত এমন অসহায় মানুষদের সুযোগ নিচ্ছে যাদের মাথা গোঁজার জন্য এখনই কিছু অর্থের জরুরি প্রয়োজন।" এই ক্ষতিপূরণ কর্মসূচির আওতায় আগামী ৩০ নভেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত আবেদন করা যাবে। তবে অর্থ গ্রহণ করলে আবেদনকারীরা ইউটিলিটি কোম্পানির বিরুদ্ধে কোনো আইনি ব্যবস্থা নিতে পারবেন না। সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়া এডিসন এই অগ্নিকাণ্ডের জন্য নিজেদের দায় স্বীকার করেনি এবং জানিয়েছে যে এই ক্ষতিপূরণ দেওয়া কোনো অপরাধ স্বীকার করা নয়। এদিকে ক্যালিফোর্নিয়ার ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ এই অগ্নিকাণ্ড সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়া এডিসনের যন্ত্রপাতির ত্রুটির কারণে লেগেছে দাবি করে ভুক্তভোগী, লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টি এবং মার্কিন বিচার বিভাগ বেশ কয়েকটি মামলা করেছে। জবাবে সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়া এডিসনও লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টিসহ অন্যান্য সংস্থার বিরুদ্ধে পাল্টা মামলা করে দাবি করেছে যে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো দায়িত্বশীল আচরণ করলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অনেক কমানো যেত।
উত্তর ডাকোটার একটি হাসপাতালের বিরুদ্ধে ৩৬ বছরেরও বেশি সময় আগে জন্মের সময় দুই নবজাতককে ভুল করে অদলবদল করার অভিযোগে মামলা করেছেন দুই পরিবার। ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। মামলায় বলা হয়েছে, ১৯৮৮ সালের ২৬ জানুয়ারি নর্থ ডাকোটার গ্র্যাফটনে অবস্থিত ইউনিটি মেডিকেল সেন্টারে একই দিনে মাত্র দুটি ছেলে শিশুর জন্ম হয়। তাদের একজন কাইল বাইলিন এবং অন্যজন জেরেমি মরিসন। অভিযোগ অনুযায়ী, হাসপাতালের কর্মীরা ভুলবশত দুই শিশুকে অদলবদল করে তাদের প্রকৃত বাবা–মায়ের পরিবর্তে অন্য পরিবারের কাছে পাঠিয়ে দেন। ফলে দুই শিশুই একে অপরের জৈবিক পরিবারের কাছে বেড়ে ওঠেন, কিন্তু কেউই বিষয়টি জানতে পারেননি। ঘটনার মোড় ঘুরে যায় দুই বছর আগে। বর্তমানে কলোরাডোতে বসবাসকারী জেরেমি মরিসন পারিবারিক ইতিহাস জানার উদ্দেশ্যে একটি ডিএনএ পরীক্ষা করান। পরীক্ষার ফলাফলে দেখা যায়, যাদের তিনি এতদিন নিজের বাবা–মা বলে জেনে এসেছেন, তারা তার জৈবিক বাবা–মা নন। পরবর্তীতে তার এক খালার ডিএনএ নমুনার সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হলে কাইল বাইলিনকে ওই পরিবারের জৈবিক সদস্য হিসেবে শনাক্ত করা হয়। এরপরই দুই পরিবার জানতে পারে, জন্মের সময় তাদের সন্তান অদলবদল হয়ে গিয়েছিল বলে তারা দাবি করছেন। মরিসন স্থানীয় গণমাধ্যমকে জানান, ছোটবেলা থেকেই তিনি অনুভব করতেন যে তিনি পরিবারের অন্য সদস্যদের মতো নন। তার ভাষায়, পরিবারের সবার চুল ছিল গাঢ় রঙের, কিন্তু তিনি ছিলেন সোনালি চুলের, যা তাকে আলাদা করে তুলত। তিনি আরও বলেন, যদি জন্মের পর প্রকৃত পরিবারের কাছেই ফিরতেন, তাহলে হয়তো আজ কলোরাডোতে থাকতেন না; বরং নিজের অজানা বড় ভাইয়ের সঙ্গে পারিবারিক খামারে কাজ করতেন। মামলায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, দুই পরিবারের বাবা–মা ইতোমধ্যে নিজেদের জৈবিক সন্তানদের সঙ্গে দেখা করেছেন। তবে কাইল বাইলিন ও জেরেমি মরিসনের এখনো একে অপরের সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়নি। অন্যদিকে ইউনিটি মেডিকেল সেন্টার অভিযোগ অস্বীকার করেছে এবং আদালতের কাছে মামলাটি খারিজ করার আবেদন জানিয়েছে। হাসপাতালের আইনজীবীদের দাবি, সে সময় হাসপাতালের কর্মীরা প্রয়োজনীয় দক্ষতা ও সতর্কতার সঙ্গেই দায়িত্ব পালন করেছিলেন। হাসপাতাল আরও বলেছে, ঘটনার প্রায় চার দশক পেরিয়ে যাওয়ায় সংশ্লিষ্ট চিকিৎসা নথি ও কর্মীদের রেকর্ড আর সংরক্ষিত নেই। সে সময়ের প্রসূতি বিভাগের কোনো কর্মীও বর্তমানে হাসপাতালে কর্মরত নন। এক বিবৃতিতে হাসপাতাল জানিয়েছে, দুই ব্যক্তি যে জীবনের কোনো এক পর্যায়ে তাদের জৈবিক বাবা–মা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়েছিলেন, সেই বিষয়টি তারা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। তবে হাসপাতাল বা তার কর্মীদের দায়িত্বে এমন ঘটনা ঘটেছে—এমন কোনো প্রমাণ তাদের হাতে নেই বলে দাবি করা হয়েছে। বাদীপক্ষ আদালতের কাছে ৫০ হাজার ডলারের বেশি ক্ষতিপূরণ দাবি করেছে এবং জুরি ট্রায়ালের আবেদন জানিয়েছে। হাসপাতালও জুরি ট্রায়ালের দাবি তুলেছে।
একসময় ইরানে খ্রিস্টান ধর্মবিশ্বাসের কারণে কারাবন্দি হয়ে আন্তর্জাতিকভাবে আলোচনায় আসা মার্কিন-ইরানি পাদ্রি সাঈদ আবেদিনিকে তার পাঁচ বছর বয়সী মেয়েকে তুরস্কে থাকা মায়ের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের একটি ফেডারেল আদালত। আন্তর্জাতিক শিশু হেফাজত বিরোধে দেওয়া এই আদেশে আদালত বলেছে, শিশুটিকে মায়ের অনুমতি ছাড়া তুরস্ক থেকে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে আসা হয়েছিল। ভার্জিনিয়ার ওয়েস্টার্ন ডিস্ট্রিক্টের সিনিয়র ইউএস ডিস্ট্রিক্ট জজ নরম্যান মুন গত সপ্তাহে এ আদেশ দেন। আদালতের নথি অনুযায়ী, শিশুটির মা নিলুফার আরাগ, যিনি তুরস্কে বসবাসরত একজন ইরানি খ্রিস্টান শরণার্থী, অভিযোগ করেন যে ২০২৪ সালে তার অনুমতি ছাড়া মেয়েকে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যান আবেদিনি। আদালত শুনানি শেষে অভিযোগের পক্ষে পর্যাপ্ত প্রমাণ পাওয়ার কথা উল্লেখ করে শিশুটিকে মায়ের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেন। আদালত আরও উল্লেখ করেন, অতীতে আদালতের নির্দেশ অমান্যের ইতিহাস এবং ভবিষ্যতেও হেফাজতের আদেশ না মানার ইঙ্গিত থাকায় শিশুটিকে দ্রুত মায়ের কাছে হস্তান্তর করা প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন। মামলার তথ্য অনুযায়ী, সাঈদ আবেদিনি ও নিলুফার আরাগ তুরস্কে পরিচিত হন এবং কয়েক বছর একসঙ্গে বসবাস করেন। আবেদিনি দাবি করেন, তারা ধর্মীয় রীতিতে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হলেও আইনগতভাবে তাদের বিয়ে নিবন্ধিত ছিল না। এর আগে চলতি বছরের জুনে নিলুফার আরাগ যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে অভিযোগ দায়ের করে বলেন, তার মেয়েকে অবৈধভাবে তুরস্ক থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। সে সময় আদালত আবেদিনিকে শিশুটিকে যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে নেওয়া, অবস্থান গোপন করা এবং পাসপোর্ট ব্যবহার করার ওপরও নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিলেন। সাঈদ আবেদিনি ২০১২ সালে ইরানে গৃহভিত্তিক খ্রিস্টান উপাসনালয়ে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার হন এবং কয়েক বছর কারাভোগের পর ২০১৬ সালে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের বন্দি বিনিময় চুক্তির মাধ্যমে মুক্তি পান। পরে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে আসেন। আদালতের সর্বশেষ আদেশের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে চলা আন্তর্জাতিক শিশু হেফাজত বিরোধে নতুন মোড় এলো। তবে মামলার পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া এবং আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়ন নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানায়নি।