বিশ্ব

গাজার মানুষের জন্য ফুটবল ম্যাচের টিকিটের পুরো অর্থ দান করল নরওয়ে

খেলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ১৭, ২০২৬ ০:৩
সামাজিক ও মানবিক দায়িত্ব পালনে এক অনন্য নজির স্থাপন করল নরওয়ে জাতীয় ফুটবল দল। ছবি: সংগৃহীত
সামাজিক ও মানবিক দায়িত্ব পালনে এক অনন্য নজির স্থাপন করল নরওয়ে জাতীয় ফুটবল দল। ছবি: সংগৃহীত

ফুটবল শুধু মাঠের লড়াই বা ট্রফি জয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, সামাজিক দায়বদ্ধতা পালনেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম এবার সেই বার্তাই নতুন করে তুলে ধরেছে নরওয়ে ফুটবল ফেডারেশন (এনএফএফ)। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের ইউরোপীয় বাছাইপর্বে ইসরায়েলের বিপক্ষে অনুষ্ঠিত ম্যাচের টিকিট বিক্রি থেকে পাওয়া পুরো অর্থ গাজার মানুষের জন্য মানবিক সহায়তা হিসেবে দান করেছে সংস্থাটি।

 

ওসলোর উলেভাল স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ওই ম্যাচে নরওয়ে ৫-০ গোলের বড় ব্যবধানে ইসরায়েলকে হারায়। তবে ম্যাচের ফলের চেয়েও বেশি আলোচনায় এসেছে নরওয়ে ফুটবল ফেডারেশনের মানবিক উদ্যোগ। টিকিট বিক্রি থেকে সংগৃহীত অর্থ আন্তর্জাতিক মানবিক চিকিৎসা সংস্থা ডক্টরস উইদাউট বর্ডারস (Médecins Sans Frontières–MSF)-এর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। সংস্থাটি গাজাসহ বিশ্বের বিভিন্ন সংঘাতপ্রবণ এলাকায় জরুরি চিকিৎসা ও মানবিক সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করে।

 

নরওয়ে ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি লিসা ক্লাভেনেস এক বিবৃতিতে বলেন, যুদ্ধের সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ। তাই সংকটাপন্ন মানুষের পাশে দাঁড়ানোকে তারা নিজেদের নৈতিক দায়িত্ব মনে করেন। তার ভাষায়, গাজায় প্রতিদিন জীবন রক্ষার কাজ করে যাচ্ছে এমন একটি সংস্থার হাতে এই অর্থ তুলে দিতে পেরে তারা গর্বিত।

 

তিনি আরও বলেন, ফুটবল মানুষের মধ্যে সংযোগ তৈরি করে। সেই শক্তিকে মানবিক কল্যাণে ব্যবহার করা গেলে খেলাধুলার প্রকৃত মূল্য আরও বাড়ে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে গাজার বেসামরিক মানুষের প্রতি সংহতি প্রকাশ করাই ছিল তাদের মূল উদ্দেশ্য।

 

মানবিক এই উদ্যোগে নরওয়ের একটি বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠানও অংশ নিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি অতিরিক্ত ৩০ লাখ নরওয়েজিয়ান ক্রোনার, যা প্রায় ৩ লাখ ৫ হাজার মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ, অনুদান দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। ফলে গাজার জন্য মানবিক সহায়তার মোট তহবিল আরও বড় আকার ধারণ করেছে।

 

আন্তর্জাতিক মানবিক সহায়তায় নরওয়ের ভূমিকা দীর্ঘদিনের। যুদ্ধ, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও শরণার্থী সংকটে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তন, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং আন্তর্জাতিক শান্তি প্রতিষ্ঠার বিভিন্ন উদ্যোগেও দেশটি নিয়মিত ভূমিকা রেখে আসছে।

 

এদিকে মাঠের খেলাতেও দারুণ পারফরম্যান্স দেখিয়েছে নরওয়ে। ২০২৬ বিশ্বকাপে তারা শেষ ষোলো পর্বে শক্তিশালী ব্রাজিলকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নেয়। তবে শেষ আটের লড়াইয়ে ইংল্যান্ডের কাছে ২-১ গোলে হেরে তাদের বিশ্বকাপ অভিযান শেষ হয়।

 

ফুটবলের সাফল্যের পাশাপাশি মানবিক উদ্যোগের কারণে নরওয়ে ফুটবল ফেডারেশনের এই সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও প্রশংসা কুড়িয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, খেলাধুলা সামাজিক দায়বদ্ধতা পালনের একটি শক্তিশালী মাধ্যম হতে পারে নরওয়ের এই উদ্যোগ তারই একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

Advertisement

বিশ্ব

View more
পুলিশ ও নিরাপত্তাকর্মীরা ওয়াংচুককে সরিয়ে হাসপাতালে নিয়ে যায়
ভারতে ২১ দিন অনশনরত সোনম ওয়াংচুককে জোর করে হাসপাতালে নিল দিল্লি পুলিশ, আমরণ অনশনের ঘোষণা আন্দোলনকারীদের

ভারতের প্রখ্যাত সমাজকর্মী ও শিক্ষাবিদ সোনম ওয়াংচুককে অনশনের ২১তম দিনে শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করেছে দিল্লি পুলিশ।   ৫৯ বছর বয়সী ওয়াংচুক গত ২৮ জুন থেকে অনশন শুরু করেন। তিনি ভারতের যুব সংগঠন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়ে এই কর্মসূচি নেন। সংগঠনটি মে মাসে অনুষ্ঠিত বিভিন্ন জাতীয় পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ এবং পরীক্ষা ব্যবস্থায় সংস্কারের দাবি জানিয়ে আসছে।   শনিবার সকালে দিল্লির আন্দোলনস্থলে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়। পরে পুলিশ ও নিরাপত্তাকর্মীরা ওয়াংচুককে সেখান থেকে সরিয়ে হাসপাতালে নিয়ে যায়। ঘটনাস্থল থেকে আন্দোলনকারীদেরও সরে যেতে বলা হয় এবং কয়েকজনকে জোর করে সরিয়ে দেওয়ার ঘটনাও দেখা যায়।   দিল্লি পুলিশের ডেপুটি কমিশনার সচিন শর্মা জানান, দিল্লি হাইকোর্টের নির্দেশ, চিকিৎসকদের পরামর্শ এবং ওয়াংচুকের শারীরিক অবস্থার কথা বিবেচনা করেই তাকে সরকারি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন।   এর আগে দিল্লি হাইকোর্ট ওয়াংচুকের স্বাস্থ্য নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের নির্দেশ দিয়েছিল এবং প্রয়োজনে চিকিৎসা নিশ্চিত করতে প্রশাসনকে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছিল।   ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, হাসপাতালে নেওয়ার পর ওয়াংচুকের জ্ঞান ছিল এবং তার শারীরিক সূচক স্থিতিশীল রয়েছে।   তবে আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, পুলিশ জোরপূর্বক ওয়াংচুককে আন্দোলনস্থল থেকে সরিয়ে নিয়েছে। সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে বলেন, একজন অনশনরত ব্যক্তিকে এভাবে নিয়ে যাওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত। তিনি একই সঙ্গে অনির্দিষ্টকালের অনশন শুরু করার ঘোষণা দিয়েছেন।   আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন, ২০ জুলাই ভারতের পার্লামেন্টের বর্ষাকালীন অধিবেশন শুরু হলে তারা সংসদ অভিমুখে মিছিল করবেন। তাদের দাবি, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ, প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় জবাবদিহি এবং জাতীয় পরীক্ষাব্যবস্থায় কার্যকর সংস্কার।   উল্লেখ্য, লাদাখের বাসিন্দা সোনম ওয়াংচুক পরিবেশ সংরক্ষণ, শিক্ষা সংস্কার এবং লাদাখের সাংবিধানিক অধিকার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে আসছেন। গত বছর লাদাখে বিক্ষোভের ঘটনায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। কয়েক মাস কারাভোগের পর চলতি বছরের মার্চে তিনি মুক্তি পান। তিনি বরাবরই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন।

বায়জিদ হাসান প্রকাশ: জুলাই ১৮, ২০২৬ ১:২২
চলমান যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। ছবি: সংগৃহীত

বাহরাইনে যুক্তরাষ্ট্রের এআই ডেটা সেন্টার ধ্বংস করলো ইরান

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পাল্টাপাল্টি হামলায় হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত, হরমুজে তেলের ট্যাংকারে আগুন

ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে পাকিস্তান ও চীনের মধ্যে ৪৪০ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি মূল্যের ৯টি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

চীনের সঙ্গে বড় চুক্তি পাকিস্তানের, নিরাপত্তা নিয়ে আশ্বাস শাহবাজের

বাহরাইনে মার্কিন সামরিক স্থাপনায় হামলার দাবি করেছে ইরানের আইআরজিসি। ছবি: সংগৃহীত
ইরানের মিসাইল হামলায় বাহরাইনে মার্কিন নৌ-ড্রোন ঘাঁটি সম্পূর্ণ ধ্বংস

ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তারা বাহরাইনে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। আইআরজিসির ভাষ্য অনুযায়ী, এই হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের মানববিহীন সারফেস ভেসেল (ইউএসভি) বা ড্রোন নৌযানের একটি ঘাঁটি এবং একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) সামরিক কেন্দ্র ধ্বংস হয়েছে। তবে এই দাবির স্বাধীন কোনো যাচাই এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি এবং যুক্তরাষ্ট্র বা বাহরাইন সরকারও তাৎক্ষণিকভাবে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি।   শনিবার (১৮ জুলাই) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানায়, তাদের চলমান ‘অপারেশন নাসর-২’–এর ১৭তম ধাপে বাহরাইনে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের একটি ইউএসভি ডিপোতে হামলা চালানো হয়েছে। এতে স্থাপনাটি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে এবং সেখানে থাকা বিপুলসংখ্যক ড্রোন নৌযানে আগুন ধরে যায় বলে দাবি করা হয়। একই বিবৃতিতে আরও বলা হয়, একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় এমন একটি এআই কেন্দ্রও ধ্বংস করা হয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্র সামরিক লক্ষ্য নির্ধারণে ব্যবহার করত বলে আইআরজিসির দাবি।   আইআরজিসি দাবি করেছে, আগের রাতে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সেতু ও অন্যান্য বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলা চালিয়ে হতাহতের ঘটনা ঘটায় এর জবাব হিসেবেই এই প্রতিশোধমূলক অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে।   বিবৃতিতে আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের পরিবহন অবকাঠামো ও সেতুগুলোতে হামলা অব্যাহত রাখে, তাহলে ভবিষ্যতে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন মালিকানাধীন বা মার্কিন বিনিয়োগ রয়েছে—এমন শিল্প, তথ্যপ্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা–সম্পর্কিত স্থাপনাগুলোও লক্ষ্যবস্তু হতে পারে। একই সঙ্গে আইআরজিসি দাবি করেছে, যেসব দেশ যুক্তরাষ্ট্রকে সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে, তারা এসব সংঘাতের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগী হিসেবে বিবেচিত হবে।   তবে আইআরজিসির এসব দাবির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর (পেন্টাগন), মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) কিংবা বাহরাইন সরকারের পক্ষ থেকেও এই নির্দিষ্ট হামলার বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো নিশ্চিত তথ্য বা প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করা হয়নি। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোও উল্লেখ করেছে যে, ইরানের দাবির পক্ষে এখন পর্যন্ত স্বাধীন প্রমাণ পাওয়া যায়নি।   মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনার মধ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক হামলার অভিযোগ করছে। বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের পরিস্থিতিতে যেকোনো পক্ষের সামরিক দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই না হওয়া পর্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে মূল্যায়ন করা জরুরি।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ১৭, ২০২৬ ২৩:২৫
ফিলিস্তিনি বন্দিদের জন্য প্রস্তাবিত ‘কুমির কারাগার’ পরিকল্পনা নিয়ে নতুন আইনি পদক্ষেপ নিয়েছে ইসরায়েল। ছবি: সংগৃহীত

ফিলিস্তিনি বন্দিদের জন্য কুমিরঘেরা কারাগার তৈরি করছে ইসরায়েল

প্যারেন্টস অ্যান্ড গ্র্যান্ডপ্যারেন্টস প্রোগ্রামে নতুন আবেদন অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করেছে কানাডা সরকার। ছবি: সংগৃহীত

মা-বাবা ও দাদা-দাদিকে স্থায়ীভাবে আনার নতুন আবেদন বন্ধ করল কানাডা

রণধীর জয়সওয়াল

শেখ হাসিনাকে ফেরত চেয়ে ঢাকার অনুরোধ খতিয়ে দেখছে ভারত: জয়সওয়াল

তীব্র তাপমাত্রার মধ্যে ইরানের রাজধানী তেহরানের একটি রাস্তায় মাথায় পানি ঢেলে নিজেকে ঠান্ডা করছেন এক ট্যাক্সিচালক
যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর ইরানে বিদ্যুৎ সংকট, তীব্র গরমে এসি বন্ধের আহ্বান সরকারের

যুক্তরাষ্ট্রের টানা বিমান হামলায় বিদ্যুৎ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর তীব্র গরমের মধ্যেই নাগরিকদের নির্দিষ্ট সময়ে এসি বন্ধ রাখার আহ্বান জানিয়েছে  ইরান সরকার। বিদ্যুৎ সরবরাহে চাপ কমাতে শুক্রবার দেশটির জ্বালানি মন্ত্রণালয় এ নির্দেশনা দেয়।   মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, দক্ষিণাঞ্চলের প্রদেশগুলোতে তীব্র তাপপ্রবাহের পাশাপাশি বিদ্যুৎ সরবরাহ-সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলো হামলার শিকার হওয়ায় বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় চাপ তৈরি হয়েছে। স্থিতিশীল বিদ্যুৎ সরবরাহ বজায় রাখতে নাগরিকদের ব্যস্ত সময়ে এসি ব্যবহার সীমিত রাখতে বলা হয়েছে।   তবে কোন ধরনের বিদ্যুৎ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বিদ্যুৎকেন্দ্র, সঞ্চালন লাইন নাকি অন্য কোনো স্থাপনা। সে বিষয়ে বিস্তারিত জানায়নি মন্ত্রণালয়।   আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, রাজধানী তেহরানে শুক্রবার তাপমাত্রা ১০০ ডিগ্রি ফারেনহাইট ছাড়িয়ে যায়। শনিবার ও রোববার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ১০২ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।   অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক হামলার অন্যতম লক্ষ্যবস্তু বন্দরনগরী বন্দর আব্বাসেও তাপমাত্রা ৯০ ডিগ্রি ফারেনহাইটের ওপরে থাকার পাশাপাশি রোববার ১০৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত উঠতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।   শুক্রবার রাতভর চালানো হামলায় বন্দর আব্বাসের সঙ্গে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করার উদ্দেশ্যে সড়ক ও রেলসেতুতে আঘাত হানা হয়। এছাড়া ওমান উপসাগর তীরবর্তী চাবাহার বন্দরের একটি টাওয়ার ধসে পড়েছে বলে জানিয়েছে ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএ। স্থলবেষ্টিত আফগানিস্তানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যপথ হিসেবে পরিচিত এই বন্দরটি ভারতের সহায়তায় পরিচালিত হচ্ছিল এবং অতীতেওh একাধিকবার মার্কিন হামলার লক্ষ্য হয়েছে।   এদিকে শুক্রবার ছিল ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের টানা ষষ্ঠ দিনের বিমান হামলা। ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দাবি, এসব হামলায় এখন পর্যন্ত অন্তত ৩৮ জন নিহত এবং ৪০০ জনের বেশি আহত হয়েছেন।

বায়জিদ হাসান প্রকাশ: জুলাই ১৭, ২০২৬ ১১:৪৬
ছবি: সংগৃহীত

একসঙ্গে মৃত্যুর সিদ্ধান্তে নদীতে ঝাঁপ দিলেন প্রেমিক, পালিয়ে গেলেন প্রেমিকা

ছবি: হাউস অব লর্ডসে নতুন দায়িত্বের পথে লন্ডনের মেয়র স্যার সাদিক খান।

লন্ডনের প্রথম মুসলিম মেয়র থেকে ব্রিটিশ পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষে: হাউস অব লর্ডসে স্যার সাদিক খানের নতুন যাত্রা

জেনিফার কাস্ত্রো ছবি: সংগৃহীত

জানালার আসন নিয়ে তুমুল বিতর্ক, এবার বিমান সংস্থা ও ভিডিওধারণকারীর বিরুদ্ধে মামলা

0 Comments