কিউবা

‘ব্ল্যাকআউটের’ ভেতর কিউবার সড়কে গাড়ি চলছে। ১৬ মার্চ ২০২৬। ছবি: রয়টার্স
যুক্তরাষ্ট্রের তেল অবরোধে তৃতীয়বারের মতো ব্ল্যাকআউট, অন্ধকারে কিউবা

কিউবার জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিড শনিবার পুরোপুরি অচল হয়ে পড়ে, ফলে দেশের তৃতীয়বারের মতো দেশব্যাপী বিদ্যুৎ বিপর্যয় দেখা দিল। এ পরিস্থিতি চলতি মার্চ মাসে ঘটেছে। প্রাথমিকভাবে কিউবার জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় এর কারণ উল্লেখ করেনি। পরে জানা যায়, কামাগুয়ে প্রদেশের নুয়েভিতাস তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র-এর একটি উৎপাদন ইউনিট আকস্মিকভাবে বিকল হয়ে যাওয়ায় এই বিপর্যয় ঘটে। এরপর গ্রিডের অন্যান্য মেশিনেও ধাপে ধাপে গোলযোগ দেখা দেয়।   সরকারি কর্তৃপক্ষ ‘মাইক্রো-আইল্যান্ড’ জেনারেটর ব্যবহার করে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, হাসপাতাল এবং পানি সরবরাহ সচল রাখার চেষ্টা করছে। তবে লোডশেডিং এবং বিদ্যুৎ-সংকট জনজীবন মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করছে। মানুষ দৈনন্দিন কাজকর্ম, রান্না-বান্না ও খাবারের সংরক্ষণে সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে। হাসপাতালগুলোও কিছু অস্ত্রোপচার বাতিল করতে বাধ্য হচ্ছে।   কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগুয়েল দিয়াজ-ক্যানেল বলেছেন, তিন মাস ধরে দেশটি বিদেশি সরবরাহকারীদের কাছ থেকে কোনো তেল পায়নি। কিউবা তার অর্থনীতি সচল রাখতে প্রয়োজনীয় জ্বালানির মাত্র ৪০ শতাংশ উৎপাদন করতে সক্ষম।   সরকার এই সংকটের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের তেল অবরোধ-কে দায়ী করেছে। এছাড়া ভেনেজুয়েলার সঙ্গে সম্পর্কের পরিবর্তনও সরবরাহে প্রভাব ফেলেছে, কারণ দীর্ঘদিনের মিত্র দেশ থেকে গুরুত্বপূর্ণ পেট্রোলিয়াম সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে। গত দুই বছরে কিউবার পুরোনো গ্রিড ব্যবস্থা নিয়মিতভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং জ্বালানি সংকটের কারণে প্রতিদিন ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং হচ্ছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২৩, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত।
‘অ্যান্টিলিসের মুক্তা’ দখল করতে কেন এত মরিয়া হয়ে উঠেছেন ট্রাম্প?

"জন্ম থেকেই কিউবার নাম শুনে আসছি, এবার কোনো না কোনোভাবে আমরা কিউবা নিয়ে নেব।"— মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই একটি বাক্যেই নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে আন্তর্জাতিক রাজনীতির ময়দান।  গত মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিস থেকে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে কিউবা দখলের এক প্রকার প্রকাশ্য ঘোষণা দিলেন তিনি। সংকটে কিউবা: অন্ধকারে ডুবছে দ্বীপরাষ্ট্র বর্তমানে কিউবা ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ জ্বালানি সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বিদ্যুৎহীনতায় কিউবার বিস্তীর্ণ অঞ্চল এখন অন্ধকারে নিমজ্জিত। দেশটির প্রেসিডেন্ট মিগুয়েল দিয়াজ-ক্যানেল জানিয়েছেন, গত তিন মাসে কোনো জ্বালানি তেল কিউবায় প্রবেশ করতে পারেনি। ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর পতনের পর সেখান থেকে তেল আমদানিতে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা জারি হওয়ায় কিউবার পাওয়ার গ্রিডগুলো অচল হয়ে পড়েছে। সুর নরম থেকে চরম: ট্রাম্পের ৮ দিনের পরিবর্তন মাত্র আট দিন আগে গত ৯ই মার্চ ট্রাম্প কিউবার সংকট নিরসনে 'বন্ধুত্বপূর্ণ অধিগ্রহণে'র (Friendly Acquisition) প্রস্তাব দিয়েছিলেন। কিন্তু ১৭ই মার্চ তার সুর সম্পূর্ণ বদলে যায়। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, "আমরা কিউবাকে স্বাধীন করতে পারি, অধিগ্রহণ করতে পারি বা যা খুশি করতে পারি। সত্যি বলতে, ওরা এখন অত্যন্ত দুর্বল একটি রাষ্ট্র।" ইতিহাসের প্রেক্ষাপট: ২০০ বছরের আধিপত্যের লড়াই বিশেষজ্ঞদের মতে, কিউবার প্রতি ট্রাম্পের এই মনোভাব কেবল ব্যক্তিগত নয়, বরং এটি আমেরিকার দীর্ঘদিনের ভূ-রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষারই প্রতিফলন। ১৯০২ সালে কিউবা নামমাত্র স্বাধীনতা পেলেও মার্কিন 'প্ল্যাট সংশোধনী'র মাধ্যমে দেশটির অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ বজায় রাখে ওয়াশিংটন। পরবর্তীতে ফিদেল কাস্ত্রোর বিপ্লব এবং চে গেভারার গেরিলা যুদ্ধের মাধ্যমে কিউবা আমেরিকার প্রভাবমুক্ত হওয়ার চেষ্টা করলেও তা চিরস্থায়ী শত্রুতার জন্ম দেয়। ১৯৬১ সালের ব্যর্থ 'বে অফ পিগস' অভিযান থেকে শুরু করে বর্তমানের অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা—আমেরিকা সবসময়ই কিউবাকে একটি 'কমিউনিস্ট হুমকি' হিসেবে দেখে এসেছে। আদর্শগত যুদ্ধ ও মারকো রুবিও ফ্যাক্টর ট্রাম্পের বর্তমান প্রশাসনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মারকো রুবিও, যিনি নিজে একজন কিউবান শরণার্থীর সন্তান, কিউবায় সরকার পরিবর্তনের কট্টর সমর্থক। ট্রাম্প এমনকি রুবিওকে কিউবার ভবিষ্যৎ প্রেসিডেন্ট হিসেবে দেখার ইচ্ছাও প্রকাশ করেছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কিউবা এখন ট্রাম্পের কাছে একটি 'আদর্শগত যুদ্ধ' বা 'আইডিওলজিক্যাল ব্যাটল' হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভেনেজুয়েলার পর কিউবা কি তবে আমেরিকার পরবর্তী লক্ষ্য? ট্রাম্পের এই 'অধিগ্রহণ' বার্তার পর লাতিন আমেরিকার রাজনীতি কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়। সূত্র: বিবিসি।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ১৯, ২০২৬ 0
৫.৮ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল কিউবা
৫.৮ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল কিউবা

কিউবার দক্ষিণ-পূর্ব উপকূলে মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, স্থানীয় সময় রাত ১২টা ২৮ মিনিটে ৫.৮ মাত্রার এই কম্পন অনুভূত হয়।   ভূমিকম্পটির কেন্দ্র ছিল কিউবার পূর্ব প্রান্তের মাইসি মিউনিসিপালিটি থেকে প্রায় ৪৯ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণপশ্চিমে এবং এর গভীরতা ছিল ১১.৬ কিলোমিটার। ইউরোপীয়-ভূমধ্যসাগরীয় সিসমোলজিক্যাল সেন্টার প্রথমে এই ভূকম্পনের খবর নিশ্চিত করে। পরে ৪.৭ মাত্রার কিছু অনুকম্পনও রেকর্ড করা হয়।   কিউবার সিসমোলজিক্যাল সার্ভিস জানিয়েছে, সান্তিয়াগো ডি কিউবা ও গুয়ান্তানামো প্রদেশেও কম্পন বেশ তীব্রভাবে অনুভূত হয়েছে। তবে ইউএসজিএস জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে বড় ধরনের ক্ষতি বা প্রাণহানির ঝুঁকি কম, যা ‘সবুজ’ পর্যায় নির্দেশ করে।   প্রাকৃতিক এই দুর্যোগটি এমন এক সময়ে এসেছে যখন কিউবা বিদ্যুৎ সংকটের মধ্যে রয়েছে। সোমবার (১৬ মার্চ) থেকে পুরো দ্বীপটি বিদ্যুৎহীন অবস্থায় ছিল। এর পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত তেল অবরোধকে মূল কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। একই সময়ে কিউবায় রাজনৈতিক উত্তেজনা তুঙ্গে, যেখানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কিউবাকে দখল করার এবং প্রেসিডেন্ট মিগুয়েল দিয়াজ-ক্যানেলকে ক্ষমতা থেকে সরানোর অঙ্গীকার করেছেন।   ভূমিকম্পে তাৎক্ষণিক বড় ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। তবে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অস্থিরতার মাঝেই এই প্রাকৃতিক দুর্যোগ সাধারণ মানুষের মধ্যে নতুন আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।   সূত্র: রয়টার্স।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ১৮, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের মাঝেই কিউবা দখলের হুমকি দিলেন ট্রাম্প

মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান উত্তেজনার সময় হঠাৎ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্যারিবীয় দ্বীপরাষ্ট্র কিউবা নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেছেন, কিউবাকে ‘দখল’ করা তার জন্য অসম্ভব নয়, বরং এটি হতে পারে ‘একটি সম্মানের বিষয়’।   আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ট্রাম্পের এই বক্তব্য নিছক আবেগপ্রসূত নয়, বরং এটি একটি বৃহত্তর ভূ-রাজনৈতিক কৌশলের অংশ। যুক্তরাষ্ট্র ইরান যুদ্ধের সঙ্গে সঙ্গে কিউবা সংকটকে ব্যবহার করে ভিন্ন ভৌগোলিক অঞ্চলে রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করতে চাইছে।   কিউবার অর্থনৈতিক অবস্থা এই হুমকিকে আরও কার্যকর করে তুলেছে। যুক্তরাষ্ট্রের তেল অবরোধ ও ভেনেজুয়েলা থেকে তেল সরবরাহ বন্ধ হওয়ায় দেশটি বিদ্যুৎ, খাদ্য ও চিকিৎসা সংকটে পড়েছে। ট্রাম্প এই পরিস্থিতিকে ‘দুর্বল রাষ্ট্র’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন, তিনি চাইলে কিউবার ওপর ‘যেকোনো কিছু’ করতে পারেন।   বিশ্লেষকরা বলছেন, এখানে ‘দখল’ শব্দটি সরাসরি সামরিক অভিযান নির্দেশ করছে না। বরং এটি রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ, সরকার পরিবর্তন বা যুক্তরাষ্ট্রপন্থী কাঠামো প্রতিষ্ঠার ইঙ্গিত বহন করে।   রাশিয়া ইতিমধ্যেই কিউবার পাশে দাঁড়িয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপকে ‘সার্বভৌম রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ’ হিসেবে উল্লেখ করেছে। তারা কিউবারকে অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সহায়তা দিতে প্রস্তুত।   ট্রাম্প প্রশাসন কিছু বক্তব্যে ‘ফ্রেন্ডলি টেকওভার’ বা বন্ধুত্বপূর্ণ নিয়ন্ত্রণের কথাও উল্লেখ করেছে। অর্থাৎ সমঝোতার মাধ্যমে রাজনৈতিক পরিবর্তন, যুক্তরাষ্ট্রপন্থী অর্থনৈতিক কাঠামো বা শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তর হতে পারে।   বিশ্লেষকরা মনে করেন, ট্রাম্পের এই মন্তব্য আন্তর্জাতিক আইন, কূটনীতি ও বৈশ্বিক প্রতিক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত। মূলত এটি একটি কৌশলগত চাপ সৃষ্টির ভাষা, যার লক্ষ্য হলো আলোচনায় সুবিধা নেওয়া এবং প্রতিপক্ষকে দুর্বল করা।   ইরান যুদ্ধ ও কিউবা সংকট, যদিও দুটি ভিন্ন ইস্যু, বর্তমান বৈশ্বিক রাজনীতিতে একে অপরের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। ট্রাম্প প্রশাসনের নীতি স্পষ্ট: একাধিক অঞ্চলে একযোগে চাপ সৃষ্টি করে প্রতিপক্ষকে কোণঠাসা করা এবং বৈশ্বিক প্রভাব পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১৮, ২০২৬ 0
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত
ইরান ও কিউবার ভবিষ্যৎ নিয়ে বিস্ফোরক ঘোষণা ট্রাম্পের

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি সিএনএন-এর ডানা ব্যাশকে দেওয়া এক বিশেষ ফোন সাক্ষাৎকারে ইরান এবং কিউবার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে তার প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন। সাক্ষাৎকারে তিনি বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও কৌশলগত সাফল্যের ওপর জোর দেন। প্রতিবেদনের মূল বিষয়গুলো নিচে তুলে ধরা হলো: ১. কিউবা শাসনের পতন আসন্ন: প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, কিউবার বর্তমান রাজনৈতিক ব্যবস্থার পতন এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। তিনি বলেন, "খুব শীঘ্রই কিউবার পতন হতে যাচ্ছে। তারা একটি চুক্তির জন্য মরিয়া হয়ে আছে।" তিনি আরও জানান, ইরান পরিস্থিতির সমাধান হওয়ার পর কিউবা নিয়ে কাজ করতে তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওকে বিশেষ দায়িত্ব দেবেন। ট্রাম্পের মতে, দীর্ঘ ৫০ বছর পর কিউবা এখন পরিবর্তনের জন্য প্রস্তুত এবং এটি তার প্রশাসনের একটি বড় সাফল্য হতে যাচ্ছে। ২. ইরানের জন্য শর্তহীন আত্মসমর্পণ: ইরান প্রসঙ্গে ট্রাম্প অত্যন্ত কঠোর বার্তা দিয়েছেন। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, "শর্তহীন আত্মসমর্পণ" (Unconditional Surrender) ছাড়া ইরানের সঙ্গে কোনো আলোচনা বা চুক্তি হবে না। ট্রাম্পের মতে, মার্কিন সামরিক পদক্ষেপের ফলে ইরানের নেতৃত্ব এখন "নিবীর্য" (neutered) হয়ে পড়েছে। ৩. ইরানের নতুন নেতৃত্ব ও ধর্মীয় শাসন: ইরানের ভবিষ্যৎ শাসক কে হবেন—সে বিষয়ে ট্রাম্প বলেন, তার মূল শর্ত হলো এমন এক নেতা যিনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখবেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ইরানের পরবর্তী শাসক যদি কোনো ধর্মীয় নেতাও হন, তাতে তার আপত্তি নেই, যদি সেই নেতা ন্যায়পরায়ণ হন এবং মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে কাজ করেন। ৪. ভেনেজুয়েলা মডেলের অনুকরণ: ইরানের পরিস্থিতি স্থিতিশীল করতে ট্রাম্প ভেনেজুয়েলার উদাহরণ টেনেছেন। তিনি বলেন, ভেনেজুয়েলায় যেভাবে মার্কিন হস্তক্ষেপে পরিবর্তন এসেছে এবং বর্তমানে সেখানে ডেলসি রদ্রিগেজের নেতৃত্বে কাজ চলছে, ইরানেও অনেকটা সেভাবেই পরিবর্তন আনা হবে। ৫. অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও ভোটার আইডি আইন: সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প কেবল বৈদেশিক নীতি নয়, বরং অভ্যন্তরীণ রাজনীতির গুরুত্বও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, যুদ্ধের পর তার প্রশাসনের সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার হবে 'সেভ আমেরিকা অ্যাক্ট' (SAVE America Act) বা কঠোর ভোটার আইডি আইন পাস করা। টেক্সাস সিনেট নির্বাচনে তার সমর্থনের ক্ষেত্রেও এই বিষয়টি নির্ণায়ক ভূমিকা পালন করবে বলে তিনি ইঙ্গিত দেন। ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই সাক্ষাৎকারটি আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে কিউবা ও ইরান নিয়ে তার আক্রমণাত্মক নীতি এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওকে কিউবা মিশনে নিয়োগ দেওয়ার পরিকল্পনা বিশ্ব রাজনীতিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব বিস্তারের নতুন সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ৭, ২০২৬ 0
রাজধানী হাভানায় পেট্রল পাম্পের দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা করছেন একজন বয়স্ক ব্যক্তি। ছবি: সংগৃহীত
মার্কিন চাপে কিউবা: খাদ্য–জ্বালানি সংকটে মানবিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা

খাদ্য ও জ্বালানির তীব্র সংকটে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে কিউবা। মার্কিন প্রশাসনের সাম্প্রতিক নীতি ও চাপের ফলে দেশটির অর্থনীতি কার্যত থমকে গেছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম CNN।   এক দশক আগে ২০১৫ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট Barack Obama কিউবার সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনঃস্থাপন করলে দেশটিতে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছিল। সে সময় মার্কিন পর্যটকদের ঢলে পর্যটন খাতে উল্লেখযোগ্য গতি আসে। তবে বর্তমান পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। প্রেসিডেন্ট Donald Trump–এর প্রশাসনিক নীতির ফলে কিউবা এখন জ্বালানি ও অর্থনৈতিক সংকটে পড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভেনেজুয়েলার ওপর মার্কিন পদক্ষেপ এবং মেক্সিকোর বিরুদ্ধে শুল্কচাপের কারণে কিউবায় তেলের সরবরাহ কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও শিল্প কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।   পর্যটন খাতে ধস জ্বালানি সংকটের প্রভাব পড়েছে পর্যটন খাতেও। জেট ফুয়েলের অভাবে রাশিয়া ও কানাডা থেকে ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। যুক্তরাজ্য ও কানাডা তাদের নাগরিকদের অপ্রয়োজনীয় কিউবা ভ্রমণ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে। বাতিল হয়েছে বার্ষিক ‘হাবানোস সিগার উৎসব’, যা দেশটির জন্য বড় বৈদেশিক মুদ্রার উৎস ছিল। জ্বালানি সংকটে খনি প্রতিষ্ঠান শেরিট ইন্টারন্যাশনালও কার্যক্রম স্থগিত করেছে।   জীবনযাত্রা অচল প্রায় এক কোটি মানুষের দেশ কিউবায় পরিস্থিতি ক্রমেই সংকটময় হয়ে উঠছে। বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের জন্য বহু স্কুল বন্ধ রাখা হয়েছে, কর্মীদের ছাঁটাই বা সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। সরকারি হাসপাতালগুলো সীমিত সেবা দিচ্ছে। জ্বালানি সংকটে আবর্জনা অপসারণ বন্ধ হয়ে অনেক এলাকায় ময়লার স্তূপ জমেছে। রাতে রাজধানী হাভানার অধিকাংশ এলাকা বিদ্যুৎ বিভ্রাটে অন্ধকারে ডুবে থাকে।   রাজনৈতিক অবস্থান মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী Marco Rubio বলেছেন, কিউবার সঙ্গে কোনো আলোচনা হলে তা কমিউনিস্ট নেতৃত্বের ক্ষমতা ছাড়ার বিষয়কে ঘিরেই হতে পারে। তাঁর মতে, দীর্ঘদিন ভর্তুকিনির্ভর কিউবার অর্থনৈতিক মডেল এখন দুর্বল হয়ে পড়েছে।   অন্যদিকে কিউবার প্রেসিডেন্ট Miguel Díaz-Canel জনগণকে ‘সৃজনশীল প্রতিরোধ’ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, জ্বালানি সংকটের কারণে খাদ্য পরিবহন ব্যাহত হতে পারে, তাই স্থানীয়ভাবে যা উৎপাদন সম্ভব তা-ই ব্যবহারের ওপর জোর দিতে হবে।   খাদ্য সংকট তীব্রতর কিউবার অধিকাংশ খাদ্য আমদানিনির্ভর। কিন্তু বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে হিমাগার সচল রাখা সম্ভব না হওয়ায় অনেক প্রতিষ্ঠান খাদ্য আমদানি বন্ধ করেছে। ফলে বাজারে ফল ও সবজির দাম দুই থেকে তিনগুণ বেড়ে গেছে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, চলমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে কিউবা একটি গভীর মানবিক সংকটের মুখে পড়তে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০২৬ 0
কানাডার অন্তত তিনটি বিমান সংস্থা কিউবাতে বিমান চলাচল বন্ধ করেছে
জ্বালানি সংকটে কিউবা: একের পর এক ফ্লাইট বাতিল করছে বিমান সংস্থাগুলো

কিউবায় চরম জ্বালানি সংকট! আমেরিকার কঠোর নিষেধাজ্ঞার প্রভাবে থমকে যাচ্ছে দেশটির পর্যটন ও যোগাযোগ ব্যবস্থা।   পরিস্থিতি এতটাই বেগতিক যে, কানাডার শীর্ষ তিন বিমান সংস্থা— এয়ার ট্রানস্যাট, ওয়েস্ট জেট এবং এয়ার কানাডা— দেশটিতে তাদের ফ্লাইট কার্যক্রম স্থগিত ঘোষণা করেছে।   বিপাকে পড়েছেন হাজার হাজার পর্যটক। এয়ার কানাডা জানিয়েছে, সেখানে আটকে পড়া প্রায় ৩,০০০ যাত্রীকে ফিরিয়ে আনতে তারা খালি বিমান পাঠানোর পরিকল্পনা করছে।   অন্যদিকে, জার্মানি তাদের নাগরিকদের জন্য জরুরি সতর্কবার্তা জারি করে বলেছে, অতিপ্রয়োজনীয় কাজ ছাড়া এই মুহূর্তে কিউবা ভ্রমণ এড়িয়ে চলাই শ্রেয়।

নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ১১, ২০২৬ 0
জনপ্রিয় সংবাদ
ইরানের আকাশে ১৬টি চীনা সামরিক বিমানের রহস্য নিয়ে তোলপাড়

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে।   গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব।  বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

“এপস্টেইন ফাইলের দাবি: বাইডেনকে হত্যা করে ক্লোন বানানো হয়েছে?”

এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে   জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল।   এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে।   একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই।   “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান।   এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে।   সূত্র: Royanews  

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

১২ ঘণ্টারও কম সময়ে দেশে আবারও স্বর্ণের দামে বড় পতন

দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা।   শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে।   এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা।   নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা।   এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।

বিয়ের মাধ্যমে আমেরিকার নাগরিকত্ব কি বন্ধ? ইউএস ইমিগ্রেশন ওয়েবসাইটে কী বলা আছে

সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্রে বিয়ের মাধ্যমে নাগরিকত্ব বা গ্রীন কার্ড পাওয়ার নিয়ম বন্ধ হয়ে গেছে। তবে মার্কিন ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ ইউএস সিটিজেনশিপ এন্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিস  এর অফিসিয়াল তথ্য অনুযায়ী এই দাবি সঠিক নয়। সংস্থাটি জানিয়েছে, বিয়ের মাধ্যমে এখনও গ্রীন কার্ড এবং পরে নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ রয়েছে, তবে আবেদনকারীদের নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলতে হবে এবং বর্তমানে যাচাই-বাছাই আগের তুলনায় বেশি কঠোর করা হয়েছে। ইউএসসিআইএসের নিয়ম অনুযায়ী, একজন মার্কিন নাগরিক বা গ্রীন কার্ডধারী তার স্বামী বা স্ত্রীর জন্য পারিবারিক ভিত্তিতে অভিবাসনের আবেদন করতে পারেন। এ ক্ষেত্রে প্রথমে বৈধ বিয়ের প্রমাণসহ আবেদন জমা দিতে হয়। আবেদন অনুমোদিত হলে বিদেশি স্বামী বা স্ত্রী গ্রীন কার্ড পেতে পারেন এবং স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে থাকার অনুমতি পাবেন। সাধারণত মার্কিন নাগরিককে বিয়ে করলে প্রক্রিয়া তুলনামূলক দ্রুত হয়, আর গ্রীন কার্ডধারীকে বিয়ে করলে অপেক্ষার সময় কিছুটা বেশি হতে পারে। গ্রীন কার্ড পাওয়ার পর নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করার নিয়মও আগের মতোই রয়েছে। ইমিগ্রেশন নীতিমালা অনুযায়ী, যদি কেউ মার্কিন নাগরিককে বিয়ে করে গ্রীন কার্ড পান এবং কমপক্ষে তিন বছর একসাথে বসবাস করেন, তাহলে তিনি নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারেন। আর যদি গ্রীন কার্ডধারীকে বিয়ে করেন, তাহলে সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে পাঁচ বছর পূর্ণ হলে নাগরিকত্বের আবেদন করা যায়। ইমিগ্রেশন বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে অনেক ক্ষেত্রে বেশি সাক্ষাৎকার নেওয়া হচ্ছে, অতিরিক্ত কাগজপত্র চাওয়া হচ্ছে এবং যৌথ ব্যাংক হিসাব, বাসার ঠিকানা, ট্যাক্স নথি ও পারিবারিক প্রমাণ জমা দিতে হচ্ছে। ভুয়া বিয়ের মাধ্যমে সুবিধা নেওয়া ঠেকাতে এই যাচাই-বাছাই বাড়ানো হয়েছে। এছাড়া আবেদন প্রক্রিয়ায় সময় বেশি লাগার কারণেও অনেকের মধ্যে ভুল ধারণা তৈরি হয়েছে যে বিয়ের মাধ্যমে নাগরিকত্ব বন্ধ হয়ে গেছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বিয়ের মাধ্যমে আমেরিকার নাগরিকত্ব বা গ্রীন কার্ড বন্ধ হয়নি। তবে বর্তমানে আবেদন প্রক্রিয়া কঠোর হয়েছে এবং প্রতিটি ক্ষেত্রে বৈধ বিবাহ, একসাথে বসবাস এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রমাণ করা বাধ্যতামূলক।

Top week

বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?
আমেরিকা

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক মার্চ ২৫, ২০২৬ 0