আন্তর্জাতিক

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের মাঝেই কিউবা দখলের হুমকি দিলেন ট্রাম্প

শাহারিয়া নয়ন মার্চ ১৮, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান উত্তেজনার সময় হঠাৎ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্যারিবীয় দ্বীপরাষ্ট্র কিউবা নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেছেন, কিউবাকে ‘দখল’ করা তার জন্য অসম্ভব নয়, বরং এটি হতে পারে ‘একটি সম্মানের বিষয়’।

 

আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ট্রাম্পের এই বক্তব্য নিছক আবেগপ্রসূত নয়, বরং এটি একটি বৃহত্তর ভূ-রাজনৈতিক কৌশলের অংশ। যুক্তরাষ্ট্র ইরান যুদ্ধের সঙ্গে সঙ্গে কিউবা সংকটকে ব্যবহার করে ভিন্ন ভৌগোলিক অঞ্চলে রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করতে চাইছে।

 

কিউবার অর্থনৈতিক অবস্থা এই হুমকিকে আরও কার্যকর করে তুলেছে। যুক্তরাষ্ট্রের তেল অবরোধ ও ভেনেজুয়েলা থেকে তেল সরবরাহ বন্ধ হওয়ায় দেশটি বিদ্যুৎ, খাদ্য ও চিকিৎসা সংকটে পড়েছে। ট্রাম্প এই পরিস্থিতিকে ‘দুর্বল রাষ্ট্র’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন, তিনি চাইলে কিউবার ওপর ‘যেকোনো কিছু’ করতে পারেন।

 

বিশ্লেষকরা বলছেন, এখানে ‘দখল’ শব্দটি সরাসরি সামরিক অভিযান নির্দেশ করছে না। বরং এটি রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ, সরকার পরিবর্তন বা যুক্তরাষ্ট্রপন্থী কাঠামো প্রতিষ্ঠার ইঙ্গিত বহন করে।

 

রাশিয়া ইতিমধ্যেই কিউবার পাশে দাঁড়িয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপকে ‘সার্বভৌম রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ’ হিসেবে উল্লেখ করেছে। তারা কিউবারকে অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সহায়তা দিতে প্রস্তুত।

 

ট্রাম্প প্রশাসন কিছু বক্তব্যে ‘ফ্রেন্ডলি টেকওভার’ বা বন্ধুত্বপূর্ণ নিয়ন্ত্রণের কথাও উল্লেখ করেছে। অর্থাৎ সমঝোতার মাধ্যমে রাজনৈতিক পরিবর্তন, যুক্তরাষ্ট্রপন্থী অর্থনৈতিক কাঠামো বা শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তর হতে পারে।

 

বিশ্লেষকরা মনে করেন, ট্রাম্পের এই মন্তব্য আন্তর্জাতিক আইন, কূটনীতি ও বৈশ্বিক প্রতিক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত। মূলত এটি একটি কৌশলগত চাপ সৃষ্টির ভাষা, যার লক্ষ্য হলো আলোচনায় সুবিধা নেওয়া এবং প্রতিপক্ষকে দুর্বল করা।

 

ইরান যুদ্ধ ও কিউবা সংকট, যদিও দুটি ভিন্ন ইস্যু, বর্তমান বৈশ্বিক রাজনীতিতে একে অপরের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। ট্রাম্প প্রশাসনের নীতি স্পষ্ট: একাধিক অঞ্চলে একযোগে চাপ সৃষ্টি করে প্রতিপক্ষকে কোণঠাসা করা এবং বৈশ্বিক প্রভাব পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা।

জনপ্রিয় সংবাদ
ইরানের আকাশে ১৬টি চীনা সামরিক বিমানের রহস্য নিয়ে তোলপাড়

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে।   গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব।  বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

“এপস্টেইন ফাইলের দাবি: বাইডেনকে হত্যা করে ক্লোন বানানো হয়েছে?”

এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে   জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল।   এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে।   একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই।   “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান।   এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে।   সূত্র: Royanews  

১২ ঘণ্টারও কম সময়ে দেশে আবারও স্বর্ণের দামে বড় পতন

দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা।   শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে।   এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা।   নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা।   এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।

অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা: এবার মেইনে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযানের ঘোষণা

যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)।   ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে।   কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না।   তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে।   বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে।  সূত্র: ABC News

ভিসা নিয়ে বড় সুখবর দিলো যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।   রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে।   নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা।   ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল।   তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে।   এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস

Advertisement

আন্তর্জাতিক

View more
ছবি: সংগৃহীত
ইরান যুদ্ধের প্রতিবাদে পদত্যাগ শীর্ষ সন্ত্রাসবিরোধী কর্মকর্তার, ট্রাম্পকে সতর্কবার্তা

জাতীয় সন্ত্রাসবাদবিরোধী কেন্দ্রের (ন্যাশনাল কাউন্টারটেররিজম সেন্টার) পরিচালক জো কেন্ট প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন প্রশাসনের শীর্ষ পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। তিনি পদত্যাগপত্রে ইরানে চলমান যুদ্ধে সমর্থন না দেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করেন এবং ট্রাম্পকে তার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন।   নিজের পদত্যাগের ঘোষণা কেন্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট করা চিঠিতে দিয়েছেন। সেখানে তিনি লিখেছেন, “নিজের বিবেকের প্রতি দায়বদ্ধ থেকে আমি ইরানে চলমান যুদ্ধের প্রতি সমর্থন দিতে পারি না। ইরান আমাদের দেশের জন্য কোনো আসন্ন হুমকি ছিল না। ইসরায়েল এবং তাদের প্রভাবশালী মার্কিন লবির চাপেই আমরা এই যুদ্ধে যুক্ত হয়েছি।”   কেন্ট আরও উল্লেখ করেছেন, ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচারণা ও প্রথম মেয়াদে যে নীতি ও মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, সেগুলো তিনি সমর্থন করেন। তবে ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত বোঝা উচিত ছিল যে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধগুলো মূলত একটি ফাঁদ, যা আমেরিকান নাগরিকের জীবন ও দেশের সম্পদ ক্ষয় করেছে।   তিনি বলেন, “আমার অভিজ্ঞতা ও ১১ বার যুদ্ধময়দানে দায়িত্ব পালন করা একজন সৈনিক হিসেবে আমি এমন এক যুদ্ধে প্রজন্মকে পাঠাতে পারি না, যা জনগণের কল্যাণে নয় এবং এতে জীবনের কোনো ন্যায্যতা নেই। আমি প্রার্থনা করি, প্রেসিডেন্ট আবার ভেবে দেখবেন আমরা ইরানে কী করছি এবং কাদের স্বার্থে করছি।”   পদত্যাগপত্রে কেন্ট ট্রাম্পকে সতর্ক করেছেন, “সাহসী পদক্ষেপ নেওয়ার সময় এখন। আপনি চাইলে বর্তমান পথ থেকে সরে এসে আমাদের জাতির জন্য এক নতুন পথ তৈরি করতে পারেন, নতুবা আরও পতন ও বিশৃঙ্খলার দিকে দেশকে ঠেলে দিতে পারেন।”   কেন্ট চিঠিতে উল্লেখ করেছেন, তার প্রশাসনে কাজ করা এবং দেশের সেবা করতে পারা ছিল তার জন্য সম্মানের বিষয়।

শাহারিয়া নয়ন মার্চ ১৮, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত

ট্রাম্পের হুমকির মুখে ইউরোপীয় নেতারা: ‘ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে যুক্ত হবেন না আমরা’

ছবি: সংগৃহীত

ট্রাম্প বললেন, ইরানে স্থল সেনা পাঠাতে ভীত নন

ছবি: সংগৃহীত

ইসরায়েল দাবি: তেহরানের গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে আলি লারিজানি হত্যার চেষ্টা

ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্র-ইস’রায়েল নতজানু না হলে কোনো আলোচনার সুযোগ নেই: মোজতবা খামেনি

ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনা বা যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের কিছু মধ্যস্থতাকারী দেশ ইতিমধ্যে যুদ্ধবিরতি বা উত্তেজনা কমানোর প্রস্তাব দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে। তবে মোজতবা খামেনি তা সরাসরি নাকচ করেছেন।   তিনি বলেছেন, “যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যতক্ষণ পর্যন্ত পরাজয় স্বীকার করছে, নতজানু হচ্ছে এবং ক্ষতিপূরণ দিচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত কোনো আলোচনা হবে না।”   ওই কর্মকর্তা আরও জানান, প্রথম বৈঠকেই খামেনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেওয়ার বিষয়ে দৃঢ় ও কঠোর অবস্থান নেন। বৈঠকের স্থান ও খামেনির সরাসরি উপস্থিতি সম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।   এর আগে মধ্যপ্রাচ্যের মিত্র দেশগুলো গত সপ্তাহেও যুদ্ধ বন্ধের জন্য কূটনৈতিক আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছিল। তবে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাত তৃতীয় সপ্তাহে পৌঁছেছে। হরমুজ প্রণালিতে নিরাপত্তা দিতে মিত্র দেশগুলো এখনও সরাসরি এগোয়নি, ফলে জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা অব্যাহত রয়েছে।

শাহারিয়া নয়ন মার্চ ১৮, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের মাঝেই কিউবা দখলের হুমকি দিলেন ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে আয়ারল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী মাইকেল মার্টিনের বৈঠক। ছবি: সংগৃহীত

ট্রাম্পের সমালোচনার মুখে স্টারমারের পাশে আইরিশ প্রধানমন্ত্রী: ওভাল অফিসে কূটনৈতিক লড়াই

ছবি: সংগৃহীত

পশ্চিমবঙ্গে ২৯১ আসনে তৃণমূলের প্রার্থী ঘোষণা করে মমতা বললেন, দিল্লি কা লাড্ডু জিতবে না

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক গোয়েন্দা পরিচালক জো কেন্ট। ছবি: সংগৃহীত
গোয়েন্দা পরিচালক কেন্টের পদত্যাগ: ডানপন্থী শিবিরে ভাঙনের সুর?

আয়ারল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী মাইকেল মার্টিনের সাথে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সাবেক গোয়েন্দা পরিচালক জো কেন্টের পদত্যাগকে বেশ অবজ্ঞার সুরেই উড়িয়ে দিয়েছেন। ট্রাম্পের দাবি, কেন্ট নিরাপত্তার বিষয়ে যথেষ্ট কঠোর ছিলেন না এবং ইরান যে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় হুমকি নয়—কেন্টের এই মূল্যায়ন সম্পূর্ণ ভুল। তবে কেন্টের এই পদত্যাগ ও পরবর্তী সমালোচনাকে সাধারণ কোনো আমলাতান্ত্রিক বিদ্রোহ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বিশেষ বাহিনীর হয়ে একাধিক যুদ্ধক্ষেত্রে দায়িত্ব পালন করা এই অভিজ্ঞ সেনাসদস্য ট্রাম্পের কট্টর সমর্থক এবং 'মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন' (MAGA) আন্দোলনের অন্যতম মুখ ছিলেন। কেন্টের মূল অভিযোগটি বেশ বিস্ফোরক: তার দাবি, ইসরায়েলি লবিস্টরা ভুল তথ্য দিয়ে ট্রাম্পকে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে প্ররোচিত করেছে।  ডানপন্থী ও জাতীয়তাবাদী মার্কিন নাগরিকদের কাছে কেন্ট একজন অত্যন্ত শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিত্ব হওয়ায়, তার এই 'ড্যামিং স্টেটমেন্ট' বা গুরুতর অভিযোগ ট্রাম্পের নিজস্ব ভোটব্যাংকে বড় ধরনের ফাটল ধরাতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

শাহারিয়া নয়ন মার্চ ১৭, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত।

কাবুলের হাসপাতালে হামলার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান পাকিস্তানের

ছবি: সংগৃহীত

গাজায় ইসরায়েলি হামলায় শিশুসহ নিহত ৩, পশ্চিম তীরে গণ-গ্রেপ্তার

ছবি: সংগৃহীত

হরমুজ প্রণালিতে সামরিক অভিযানে অংশ নেবে না ফ্রান্স: ম্যাক্রোঁ

0 Comments