বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, হঠাৎ রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় হওয়া কিছু ঘটনাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজন নেই। তিনি বলেন, রাজনীতিকে তার নিজস্ব গতিতে চলতে দিতে হবে এবং গণতন্ত্রকেও স্বাভাবিক নিয়মে এগোতে দেওয়া উচিত। বুধবার (১৮ মার্চ) রাতে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মির্জা ফখরুল বলেন, “এরা হঠাৎ হঠাৎ বেরিয়ে আসে। এগুলোকে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার কিছু নেই। রাজনীতি চলুক, গণতন্ত্র চলুক – তাদের নিজস্ব গতিতে।” তিনি আরও বলেন, “বিচ্ছিন্ন ঘটনা দেখে রাজনীতিকে থামানো বা গণতন্ত্রকে আটকে দেওয়ার কোনো মানে নেই। রাজনৈতিক প্রক্রিয়াকে স্বাভাবিকভাবে চলতে দেওয়া উচিত।” স্থানীয় সরকার মন্ত্রী উল্লেখ করেন, “এখন আওয়ামী লীগের কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। বাকিরা যারা আছে, তারা কাজ করবে। আওয়ামী লীগ কিছু চেষ্টা করলেও জনগণ তাদের রিজেক্ট করেছে। তাই লাভ হচ্ছে না।”
তুরস্কের রাজনীতির জনপ্রিয় মুখ এবং ইস্তাম্বুলের মেয়র একরেম ইমামোগলুর কারাবাসের এক বছর পূর্ণ হওয়ার দিনে বিশাল গণমিছিলে উত্তাল হয়ে উঠেছে শহরটি। দীর্ঘ এক বছর বিনাবিচারে বন্দি থাকার পর সম্প্রতি তাকে আদালতে তোলা হলে সরকারি আইনজীবী তার বিরুদ্ধে অবিশ্বাস্য ২,৪৩০ বছরের কারাদণ্ড দাবি করেন। প্রেসিডেন্ট রেচেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের প্রধান রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে পরিচিত এই নেতার বিরুদ্ধে আনা হয়েছে সন্ত্রাসবাদ ও দেশদ্রোহিতার অভিযোগ। তবে সমর্থকদের দাবি, এটি কেবল রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ছাড়া আর কিছুই নয়। জেল থেকে পাঠানো এক চিঠিতে ইমামোগলু বর্তমান শাসনব্যবস্থার ‘দুর্নীতির মানসিকতা’ নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছেন এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের প্রেক্ষাপটে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও সংসদ সদস্য নাহিদ ইসলাম বৃহস্পতিবার রাতের একটি ফেসবুক পোস্টে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, আমরা এক ঐতিহাসিক দিনের সাক্ষী হয়েছি। এক সময় ফ্যাসিবাদের বীজ বপন করা সংসদ, যা হাসি-ঠাট্টা, গান-বাজনা ও তোষামোদের কেন্দ্র হিসেবে পরিণত হয়েছিল, আজ গণতন্ত্রের পথে নতুন যাত্রা শুরু করেছে। নাহিদ ইসলাম আশা প্রকাশ করেন, সরকারি দলের মধ্যে শুভবুদ্ধির উদয় ঘটবে এবং গণভোটের মাধ্যমে গণরায়ের ভিত্তিতে সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়নের মাধ্যমে শহীদদের ঋণ পরিশোধের পথে এগোবে। তিনি আরও বলেন, শহীদদের রেখে যাওয়া বাংলাদেশ আমাদের কাছে একটি পবিত্র আমানত। আমরা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি, আমাদের শেষ শক্তি দিয়েও আমরা শহীদদের এই আমানত রক্ষা করব, ইনশাআল্লাহ। নাহিদ ইসলামের এই বক্তব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের কার্যক্রম ও ভবিষ্যৎ সংস্কার প্রক্রিয়ার প্রতি তাঁর আশাবাদ ব্যক্ত করছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে নির্বাচিত স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার ও সকল সংসদ সদস্যদের অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদ ও সমাজ উন্নয়নকর্মী ড. মুহাম্মদ ইউনূস। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) ভেরিফাইড ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে তিনি তাদের প্রতি আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান। জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে অধিবেশনের সূচনা বক্তব্য শোনার পর প্রফেসর ইউনূস বলেন, ত্রয়োদশ সংসদ দেশের সুশাসন, স্বচ্ছতা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ভিত্তিতে এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। তিনি আরও আশা প্রকাশ করেন, জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সংসদের কার্যকর অংশগ্রহণ দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রাকে আরও শক্তিশালী করবে।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেছেন, দেশ বর্তমানে একটি গণতান্ত্রিক পথে পদার্পণ করেছে এবং সশস্ত্র বাহিনী মুক্তিযোদ্ধাদের দেখানো আদর্শ ও পথ অনুসরণ করেই সামনে এগিয়ে যেতে চায়। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) ঢাকা সেনানিবাসে যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানে আয়োজিত এক বিশেষ ইফতার ও দোয়া মাহফিলে তিনি এসব কথা বলেন। গত ১৮ মাসের বিশেষ পরিস্থিতিতে সেনাবাহিনী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। বিগত দেড় বছরের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে সেনাপ্রধান বলেন, এই সময়টি দেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী গভীর দায়িত্ববোধ নিয়ে সবসময় জনগণের পাশে থেকে দেশের স্থিতিশীলতা রক্ষায় সচেষ্ট ছিল। তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে জানান যে, দেশ এখন একটি গণতান্ত্রিক ধারায় প্রবেশ করেছে এবং এই অগ্রযাত্রা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। অনুষ্ঠানে একাত্তরের রণাঙ্গনের বীর সেনারা সমবেত হয়ে তাদের স্মৃতিচারণা করেন। সেনাপ্রধান গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানসহ সব গণতান্ত্রিক আন্দোলনে শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন। তিনি মুক্তিযোদ্ধাদের জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান হিসেবে অভিহিত করে বলেন, তাদের ত্যাগ ও বীরত্বগাথা সেনাবাহিনীকে প্রতিনিয়ত অনুপ্রাণিত করে। ইফতার মাহফিলে উপস্থিত যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধারা দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং জাতীয় সংকটে সেনাবাহিনীর সময়োপযোগী ভূমিকার প্রশংসা করেন। অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে দেশ ও জাতির সমৃদ্ধি এবং শহীদদের আত্মার শান্তি কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়। এতে সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং বিপুল সংখ্যক যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা অংশগ্রহণ করেন।
নেপালে শান্তিপূর্ণ ও সফলভাবে সংসদীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ায় দেশটির সরকার এবং জনগণকে অভিনন্দন জানিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গত বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনকে নেপালের গণতান্ত্রিক যাত্রার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করেছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী তার শুভেচ্ছাবার্তায় বলেন, “সফল ও শান্তিপূর্ণভাবে সংসদীয় নির্বাচন আয়োজন করায় আমি নেপাল সরকার এবং জনগণকে অভিনন্দন জানাই। এই গুরুত্বপূর্ণ গণতান্ত্রিক অনুশীলন নেপালের জনগণের দৃঢ়তা ও দেশটির গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর শক্তির প্রতিফলন।” এবারের নির্বাচনে তরুণ প্রজন্মের অংশগ্রহণ লক্ষ্যণীয়, যেখানে প্রায় ৩৮ শতাংশ এমপির বয়স ৪০ বছরের নিচে। বাংলাদেশ ও নেপালের দীর্ঘস্থায়ী ঐতিহাসিক সম্পর্কের ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বন্ধুত্বপূর্ণ অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, “বাংলাদেশ নেপালের নতুন সরকার ও জনগণের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে প্রস্তুত। দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থ ও সহযোগিতা আরও সুদৃঢ় হবে।”
বর্তমান সরকার গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে বদ্ধপরিকর বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, সে লক্ষ্যেই যথাসময়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন সম্পন্ন করতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ঠাকুরগাঁও শহরের হাজীপাড়া হাফেজিয়া মাদ্রাসার বহুতল ভবনের নির্মাণ কাজের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন। মন্ত্রী বলেন, গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে তৃণমূল পর্যায় থেকেই কাজ শুরু হয়েছে। দেশের বর্তমান পরিস্থিতি স্থিতিশীল এবং উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রয়েছে। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া সমুন্নত রাখাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, গত ১৭ ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব গ্রহণের পর আগের তুলনায় দেশের পরিস্থিতি অনেক ভালো হয়েছে। পুলিশ হত্যার তদন্ত প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পুরো বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নিজ আসনের মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, ঠাকুরগাঁওবাসীর অব্যাহত সমর্থনে তিনি সেবা করার সুযোগ পেয়েছেন এবং এই ভালোবাসার কাছে তিনি ঋণী। অনুষ্ঠানে জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমীন, স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে ছাত্রদের রক্ত আর আত্মত্যাগের ফসল এখন বিভিন্ন রাজনৈতিক দল নিজেদের করে নিচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছেন এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, অভ্যুত্থানে ছাত্রদের অবদান সবচেয়ে বেশি থাকলেও বারবার তাদের সাথে প্রতারণা করা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার রাজধানীর খামারবাড়িতে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে ‘জাতীয় ছাত্রশক্তি’র প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। সংস্কার পরিষদের শপথ গ্রহণ নিয়ে চলমান অচলাবস্থার কড়া সমালোচনা করে নাহিদ ইসলাম বলেন, নির্ধারিত দিনে শপথ না নেওয়া জনাদেশের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, "যদি সংস্কার পরিষদের শপথ না হয়, তবে এই জাতীয় সংসদের কোনো মূল্য থাকে না।" তার মতে, জনগণ কেবল ক্ষমতার পরিবর্তন নয়, বরং স্বৈরাচারী কাঠামোর আমূল সংস্কারের জন্যই ভোট দিয়েছে। কিন্তু বর্তমান সরকার বিচার, সংস্কার এবং অর্থনৈতিক প্রশ্নে জনআকাঙ্ক্ষার বিপরীতে হাঁটছে। বিচার প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলামকে অপসারণ করায় জনমনে সন্দেহ দানা বাঁধছে। এছাড়া ঋণখেলাপিদের পুনর্বাসনের অভিযোগ তুলে বর্তমান সরকারের তীব্র সমালোচনা করেন এই নেতা। নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, সংসদে যদি গঠনমূলক আলোচনার পরিবেশ না থাকে, তবে ছাত্র-জনতা আবারো রাজপথে নামতে বাধ্য হবে। এজন্য তিনি প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানান এবং অবিলম্বে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর পদে যোগ্য ব্যক্তিকে নিয়োগের দাবি জানান।
বাংলাদেশের রাজনীতি আজ এক গভীর ও তাৎপর্যপূর্ণ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। স্বাধীনতার পাঁচ দশক অতিক্রম করার পর রাষ্ট্রের চ্যালেঞ্জ এখন অস্তিত্ব রক্ষার নয়, বরং গুণগত রূপান্তরের। উন্নয়নকে টেকসই করা, গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি দেওয়া, সুশাসন নিশ্চিত করা এবং বৈশ্বিক পরিসরে আত্মমর্যাদাশীল অবস্থান তৈরি—এসবই জাতীয় রাজনীতির কেন্দ্রীয় প্রশ্ন হয়ে উঠেছে। অবকাঠামো উন্নয়ন, শিল্পায়ন ও দারিদ্র্য হ্রাসে অগ্রগতি সত্ত্বেও রাজনৈতিক মেরুকরণ, নির্বাচন নিয়ে বিতর্ক, দুর্নীতি ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা নিয়ে অনিশ্চয়তা রাজনীতির সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস সংগ্রাম, ত্যাগ ও জনসম্পৃক্ততার মধ্য দিয়ে গড়ে উঠেছে। ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ ও গণআন্দোলনের ধারাবাহিকতায় রাজনীতি জনগণের আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত ছিল। তবে স্বাধীনতার পর বাস্তব রাজনীতিতে আদর্শের জায়গায় অনেক সময় দলীয় স্বার্থ ও ক্ষমতার প্রতিযোগিতা প্রাধান্য পেয়েছে। এর ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে রাজনীতির প্রতি একদিকে প্রয়োজনীয়তা, অন্যদিকে সংশয় তৈরি হয়েছে। এখন প্রয়োজন রাজনীতিকে জনকল্যাণভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা, যেখানে নীতি, কর্মসূচি ও জবাবদিহি হবে আস্থার ভিত্তি। গণতন্ত্রের শক্তি কেবল ভোটের দিনে সীমাবদ্ধ নয়; বরং রাষ্ট্রীয় আচরণে তার প্রতিফলন জরুরি। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, স্বাধীন বিচারব্যবস্থা, সক্রিয় সংসদীয় চর্চা ও জবাবদিহিমূলক প্রশাসন মিলেই কার্যকর গণতান্ত্রিক কাঠামো গড়ে ওঠে। নির্বাচনী ব্যবস্থার গ্রহণযোগ্যতা রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার মূল শর্ত। নিরপেক্ষ ও আস্থাভাজন নির্বাচন ছাড়া রাজনৈতিক অস্থিরতা কমানো সম্ভব নয়। তাই নীতিনির্ভর রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা ও অংশগ্রহণমূলক সংস্কৃতি গড়ে তোলাই সময়ের দাবি। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক মেরুকরণ সামাজিক বিভাজন ও পারস্পরিক অবিশ্বাস বাড়িয়েছে। সংসদে কার্যকর বিতর্ক, বিরোধী মতের প্রতি সহনশীলতা এবং সংলাপভিত্তিক রাজনীতি একটি পরিণত রাজনৈতিক সংস্কৃতির লক্ষণ। বিরোধিতা শত্রুতা নয়, বরং বিকল্প নীতি প্রস্তাবের সুযোগ—এই ধারণা প্রতিষ্ঠা করা জরুরি। পাশাপাশি তরুণ প্রজন্মের সক্রিয় অংশগ্রহণ রাজনীতিতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে। নেতৃত্ব বিকাশের কাঠামো শক্তিশালী করা এবং তরুণদের নীতিনির্ধারণে যুক্ত করা রাজনীতিকে আধুনিক ও গতিশীল করতে সহায়ক হবে। অর্থনৈতিক অগ্রগতির সঙ্গে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার গভীর সম্পর্ক রয়েছে। শিল্পায়ন, অবকাঠামো উন্নয়ন ও প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি আয় বৈষম্য, কর্মসংস্থান ও সামাজিক নিরাপত্তার প্রশ্ন রাজনীতির কেন্দ্রীয় বিষয় হয়ে উঠছে। উন্নয়ন যদি সীমিত গোষ্ঠীর মধ্যে কেন্দ্রীভূত হয়, তবে সামাজিক অসন্তোষ বাড়ে। তাই বাজেট প্রণয়ন ও উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা, সংসদীয় তদারকি ও জবাবদিহি জোরদার করা প্রয়োজন। দুর্নীতি ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার প্রশ্ন রাজনীতির মান নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। প্রভাবশালীদের দায়মুক্তি নাগরিক আস্থা ক্ষুণ্ন করে। তাই প্রতিষ্ঠানগত সংস্কার, তদন্ত সংস্থার স্বাধীনতা, স্বচ্ছ প্রশাসন ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি অপরিহার্য। একই সঙ্গে গণমাধ্যম, নাগরিক সমাজ ও প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার গণতান্ত্রিক চর্চাকে শক্তিশালী করতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তন, নারীর অংশগ্রহণ, সংখ্যালঘু ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব, রাজনৈতিক দলের অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র এবং শিক্ষার মানোন্নয়ন—এসব মিলিয়ে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই রাজনৈতিক কাঠামো গড়ে তোলা সম্ভব। পরিবর্তনের এই সন্ধিক্ষণে দায়িত্বশীল নেতৃত্ব, সক্রিয় নাগরিক সমাজ ও সচেতন জনগণের সমন্বয়ে রাজনীতি যদি দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করতে পারে, তবে সংকটের বদলে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে। মো: আবদুর রহমান মিঞা লেখক, প্রাবন্ধিক ও গবেষক
গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং পেশাদারিত্ব বজায় রাখা গণতন্ত্রের অপরিহার্য অংশ হলেও বর্তমান সময়ে সংবাদপত্রের ওপর নির্লজ্জ হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে বলে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান। গতকাল বৃহস্পতিবার মিরপুরে এতিমদের সম্মানে আয়োজিত এক ইফতার মাহফিলে অংশ নিয়ে তিনি বলেন, স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপর যেকোনো ধরনের হুমকি জামায়াত কোনোভাবেই মেনে নেবে না এবং গণমাধ্যমের ওপর এ ধরনের নগ্ন হস্তক্ষেপ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। শফিকুর রহমান সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, রাজনৈতিক কারণে যেন কারো ওপর জুলুম বা অবিচার করা না হয়, সেদিকে কঠোর নজর রাখা প্রয়োজন। তিনি দেশের স্থিতিশীলতার স্বার্থে সরকারি ও বিরোধী দলের সম্মিলিত অংশগ্রহণে রাষ্ট্র পরিচালনার ওপর জোর দেন। একইসঙ্গে তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, সরকার যদি জনস্বার্থে বিরোধী দলের গঠনমূলক পরামর্শ উপেক্ষা করে, তবে আগামীতে সংসদের ভেতরে ও বাইরে কঠোর প্রতিবাদ গড়ে তোলা হবে। সাংবাদিকতার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবিতে তিনি দেশবাসীকে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বাংলাদেশের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়, যখন অর্থনৈতিকভাবে হতাশা-গ্রস্ত তরুণ প্রজন্মের নেতৃত্বে গণবিক্ষোভের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের স্বৈরশাসক শেখ হাসিনার ক্ষমতা পতিত হয়। এক দশকের বেশি সময় ধরে ক্রমেই সংকুচিত হওয়া রাজনৈতিক পরিসর এবং ভয়ভীতিনির্ভর শাসনের অবসান ঘটে। এই মুহূর্তটি শুধু বাংলাদেশের সীমার মধ্যে নয়, আন্তর্জাতিক পর্যায়েও গণতন্ত্রের প্রতি নতুন আশা জাগায়। তবে গণতন্ত্র পুনর্গঠনের উচ্চ আশা এখন ফিকে হয়ে এসেছে। অভ্যুত্থানের পর সহিংসতা, ধর্মঘট, রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের দুর্বলতা নতুন নেতৃত্বের পথে বড় প্রতিবন্ধকতা হিসেবে দেখা দিয়েছে। নব্বইয়ের দশক থেকে বাংলাদেশের রাজনীতি আবর্তিত হয়েছে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ এবং খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন বিএনপির তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার চারপাশে। একসময় ক্ষমতার শান্তিপূর্ণ হস্তান্তর সম্ভব হতো নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মাধ্যমে। তবে ২০১১ সালে এই ব্যবস্থা বাতিল হওয়ার পর থেকে নির্বাচনে অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি এবং প্রতিদ্বন্দ্বী দমন বেড়েছে। নির্বাচনে এবার একটি নতুন প্রজন্মের ভোটার অংশগ্রহণ করছে। মোট ভোটারের প্রায় ৪৩% বয়স ১৮–৩৭ বছরের মধ্যে। জরিপে দেখা গেছে, তারা পুরনো দলীয় দ্বন্দ্বের চেয়ে আইনশৃঙ্খলা, চাকরি, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও নিরপেক্ষ শাসন নিয়ে বেশি আগ্রহী। ইসলামপন্থী রাজনৈতিক গোষ্ঠীও নতুন রাজনৈতিক শূন্যতার সুযোগে সক্রিয় হয়ে উঠেছে। জামায়াতে ইসলামী তাদের মধ্যপন্থী নীতি ও সাংগঠনিক শৃঙ্খলার মাধ্যমে ভোটারের সমর্থন বাড়াচ্ছে, অন্যদিকে চরমপন্থী গোষ্ঠী নারীদের পর্দার বিধান কঠোর করা, ধর্ম অবমাননার জন্য মৃত্যুদণ্ড আরোপ এবং ইসলামি খেলাফত প্রতিষ্ঠার দাবি তুলেছে। বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক সম্পর্কেও চ্যালেঞ্জ দেখা দিয়েছে। ভারতের সঙ্গে টানাপোড়েন এবং হিন্দু সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আন্তর্জাতিক সমালোচনার কারণ হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রেও নির্বাচন ও সরকারি সংস্থার স্বতন্ত্রতা নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক মার্কিন গণতন্ত্রকে দুর্বল করার আশঙ্কা তৈরি করছে। সাম্প্রতিকভাবে সুপ্রিম কোর্টের রায়ে ভবিষ্যতের নির্বাচনের জন্য আগের তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহাল হবে বলে জানানো হয়েছে। তবে বৃহস্পতিবারের নির্বাচন এবং গণভোটের মাধ্যমে এটি কার্যকর হচ্ছে না। গণভোটে একটি নতুন জাতীয় সংবিধান প্রস্তাবিত হয়েছে, যা সুষ্ঠু নির্বাচন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং নির্বাহী ক্ষমতার সীমাবদ্ধতা নিশ্চিত করবে। তবে এই লক্ষ্য বাস্তবায়ন কঠিন। বিএনপি ও অন্যান্য দলগুলোর বিরোধিতা, আইন ও সাংবিধানিক সংশোধনের প্রয়োজন এবং দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক সহযোগিতা না থাকায় বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক পুনর্গঠন এখনই ঝুঁকিপূর্ণ। অভ্যুত্থানের পর অর্থনীতি দুর্বল এবং বৈশ্বিক পরিবেশ চ্যালেঞ্জপূর্ণ। বাংলাদেশের অভ্যুত্থান আন্তর্জাতিকভাবে দেখিয়েছে যে স্বৈরশাসককে উৎখাত করা সম্ভব, কিন্তু রাষ্ট্রীয় কাঠামো দুর্বল হলে গণতন্ত্র পুনর্গঠন করা চ্যালেঞ্জিং এবং দীর্ঘমেয়াদি কাজ। নিউইয়র্ক টাইমস
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।