যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি কমিউনিটির বিস্তারের সঙ্গে সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীতেও বাড়ছে বাংলাদেশিদের অংশগ্রহণ। নিউইয়র্ক, মেরিল্যান্ড, ভার্জিনিয়া, মিশিগান, টেক্সাস ও ক্যালিফোর্নিয়াসহ বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে বর্তমানে বহু বাংলাদেশি-আমেরিকান পুলিশ বিভাগে কর্মরত রয়েছেন। ভালো বেতন, চাকরির নিরাপত্তা, সম্মানজনক পেশা এবং কমিউনিটির সেবার সুযোগ থাকায় অনেকের এ পেশার প্রতি আগ্রহ বাড়ছে।
তবে যুক্তরাষ্ট্রে পুলিশ অফিসার হতে হলে কিছু নির্দিষ্ট যোগ্যতা পূরণ করতে হয়। অধিকাংশ পুলিশ বিভাগে আবেদনকারীর বয়স কমপক্ষে ২১ বছর হতে হয়। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব অথবা কিছু ক্ষেত্রে বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা (গ্রিন কার্ডধারী) হওয়ার শর্ত থাকে। আবেদনকারীর হাই স্কুল ডিপ্লোমা বা GED থাকতে হয় এবং অনেক বিভাগ কলেজ শিক্ষাকে অতিরিক্ত যোগ্যতা হিসেবে বিবেচনা করে।
পুলিশ বিভাগে যোগ দিতে হলে প্রথমে লিখিত পরীক্ষা, শারীরিক সক্ষমতা পরীক্ষা, মেডিকেল পরীক্ষা এবং বিস্তারিত ব্যাকগ্রাউন্ড চেকের মধ্য দিয়ে যেতে হয়। এছাড়া মানসিক স্বাস্থ্য মূল্যায়ন ও সাক্ষাৎকারও গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচিত হয়। অনেক বিভাগে পলিগ্রাফ বা লাই ডিটেক্টর পরীক্ষাও নেওয়া হয়ে থাকে।
নির্বাচিত প্রার্থীদের পরে পাঠানো হয় পুলিশ একাডেমিতে। সেখানে কয়েক মাসব্যাপী প্রশিক্ষণে আইন, অস্ত্র পরিচালনা, জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলা, আত্মরক্ষামূলক কৌশল এবং কমিউনিটি পুলিশিং সম্পর্কে হাতে-কলমে শিক্ষা দেওয়া হয়। একাডেমি শেষে নতুন কর্মকর্তাদের মাঠ পর্যায়ে অভিজ্ঞ অফিসারের সঙ্গে কাজ করে বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করতে হয়।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীতে কর্মরত বাংলাদেশি কর্মকর্তারা বলছেন, বাংলা ভাষা জানা এবং বাংলাদেশি কমিউনিটির সংস্কৃতি সম্পর্কে ধারণা থাকায় কমিউনিটির সঙ্গে যোগাযোগে তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন। বিশেষ করে পারিবারিক সহিংসতা, সামাজিক বিরোধ বা কমিউনিটি সচেতনতা কার্যক্রমে বাংলাদেশি অফিসারদের উপস্থিতি ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
বেতন ও সুযোগ-সুবিধার দিক থেকেও পেশাটি আকর্ষণীয়। অঙ্গরাজ্য ও বিভাগের ভিত্তিতে একজন পুলিশ অফিসারের বার্ষিক আয় সাধারণত ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ ডলারের বেশি হতে পারে। এছাড়া স্বাস্থ্যবীমা, পেনশন, ওভারটাইম এবং অন্যান্য সরকারি সুবিধাও পাওয়া যায়।
তবে পুলিশ বিভাগে যোগ দিতে আগ্রহীদের জন্য পরিষ্কার ব্যক্তিগত রেকর্ড, শৃঙ্খলাপূর্ণ জীবনযাপন এবং শারীরিক সক্ষমতা বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে ছয় বছরের এক শিশুকন্যা ও তার বাবার মৃত্যুকে ঘিরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে। পুলিশ জানিয়েছে, পারামাট্টা নদীতে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক ঘটনায় ৪৭ বছর বয়সী মওলিক ধান্ধুকিয়া এবং তার ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার পর তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত শনিবার সিডনির কনকর্ড এলাকার কাছে একটি নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। তার সঙ্গে ছিলেন ছয় বছর বয়সী কন্যা। কিছু সময় পর নদীতে জরুরি পরিস্থিতির খবর পেয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে পুলিশ ও জরুরি সেবা সংস্থাগুলো। আরও পড়ুন...টেক্সাসে স্বামীর গুলিতে স্ত্রী নিহত, পরে পুলিশের গুলিতে স্বামী নিহত; দুই শিশুকে পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দুপুরের কিছু আগে মওলিক ধান্ধুকিয়ার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর প্রায় সাত ঘণ্টা ধরে শিশুটির সন্ধানে ব্যাপক অনুসন্ধান চালানো হয়। উদ্ধারকারীরা শেষ পর্যন্ত বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শিশুকন্যার মরদেহ নদী থেকে উদ্ধার করেন। ঘটনার তদন্তে সহায়তার জন্য আশপাশের বিভিন্ন সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। স্থানীয় একটি স্থাপনার সিসিটিভি ফুটেজও তদন্তকারীদের হাতে এসেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক শোকবার্তায় জানানো হয়েছে, আগামী শুক্রবার রাউস হিলের ক্যাসেলব্রুক ক্রেমেটোরিয়ামে বাবা ও মেয়ের যৌথ শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হবে। শোকবার্তায় লেখা হয়েছে, “দুই কোমল ও সদয় আত্মা, যারা চিরকাল আমাদের হৃদয়ে বেঁচে থাকবে। তাদের আত্মার শান্তি কামনা করছি।” তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার আগে কয়েক দফা নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। একবার তার স্ত্রী প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়াও তার সঙ্গে ছিলেন বলে জানা গেছে। আরও পড়ুন...টেক্সাসে বিস্ফোরণের আগুনে পুড়েও বাড়ি ও নাতি-নাতনিদের বাঁচালেন এক সাহসী দাদা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করেছে, যা তদন্তের অংশ হিসেবে পরীক্ষা করা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত এর বিষয়বস্তু প্রকাশ করা হয়নি। কেন এমন ঘটনা ঘটল, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে মৃত্যুর প্রায় দুই সপ্তাহ আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীর্ঘ একটি পোস্ট করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। সেখানে তিনি ২০০৫ সালে জিমে ব্যায়াম করার সময় ঘাড়ে পাওয়া আঘাতের কারণে দীর্ঘদিন ধরে ভোগা শারীরিক সমস্যার কথা উল্লেখ করেছিলেন। ওই পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, ঘাড়ের দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা তার জীবনের অনেক সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এমআরআই পরীক্ষায় তার মেরুদণ্ডের ঘাড়ের অংশে স্নায়ুর ওপর চাপের বিষয়টি ধরা পড়ে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। মওলিক ধান্ধুকিয়া পেশাগত জীবনে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কাজ করতেন। ২০২২ সাল থেকে তিনি সাউথ ইস্টার্ন সিডনি লোকাল হেলথ ডিস্ট্রিক্টে অ্যাপ্লিকেশন সাপোর্ট বিশ্লেষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এর আগে অস্ট্রেলিয়া ও ভারতে বিভিন্ন সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন। এই ঘটনার পর পরিবারটির জন্য সহায়তা তহবিলও গঠন করেছেন স্বজন ও পারিবারিক বন্ধুরা। তহবিল সংগ্রহের আহ্বানে বলা হয়েছে, প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়া একসঙ্গে তার স্বামী ও একমাত্র কন্যাকে হারিয়েছেন। এই কঠিন সময়ে তাকে আর্থিক ও মানসিক সহায়তা দেওয়ার জন্য সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে। ▶️ ট্রাম্পের লাখ ডলারের এইচ-১বি ভিসা ফি অবৈধ ঘোষণা মার্কিন আদালতের তহবিলের অর্থ শেষকৃত্যের ব্যয়, ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা এবং নিকট আত্মীয়দের যাতায়াত ও আবাসন খাতে ব্যবহার করা হবে বলে জানানো হয়েছে। নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশের সুপারিনটেনডেন্ট ক্রিস্টিন ম্যাকডোনাল্ড ঘটনাটিকে “পরিবার ও সমাজের জন্য এক গভীর ট্র্যাজেডি” হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, “এটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক একটি ঘটনা। আমরা সব দিক থেকে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছি এবং কোনো সম্ভাবনাই উপেক্ষা করা হবে না।” পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পেছনে পারিবারিক সহিংসতার কোনো উপাদান ছিল কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়নি। ঘটনার পর পুরো এলাকায় শোকের আবহ বিরাজ করছে। বাবা ও মেয়ের একসঙ্গে শেষকৃত্যের খবর আরও আবেগঘন পরিবেশ তৈরি করেছে। স্বজন ও পরিচিতজনরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের স্মরণ করে শোক প্রকাশ করছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যে সাত বছরের এক শিশুর উপস্থিত বুদ্ধি ও সাহসিকতা এক বছরের ছোট ভাইয়ের জীবন রক্ষা করেছে। পরিবারের বাড়ির সুইমিংপুলে পড়ে অচেতন হয়ে যাওয়া শিশুটিকে উদ্ধার করে দ্রুত সাহায্য চাওয়ার মাধ্যমে বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়িয়েছে সে। এ ঘটনার পর তাকে বিরল এক শেরিফ সম্মাননার জন্য মনোনীত করা হয়েছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি ঘটেছে গত ২১ জুন টেক্সাসের বার্লেসন এলাকায়। সেদিন জনসন কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের সদস্য ও জরুরি চিকিৎসাসেবা কর্মীরা কেট্রন রোডের একটি বাড়িতে ছুটে যান। খবর পেয়ে সেখানে পৌঁছে তারা দেখতে পান, এক বছর বয়সী লিয়াম নামে একটি শিশু বাড়ির সুইমিংপুলে পড়ে গিয়ে অচেতন অবস্থায় রয়েছে। জরুরি সেবাকর্মীরা ঘটনাস্থলেই শিশুটিকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন এবং পরে দ্রুত ফোর্ট ওর্থের কুক চিলড্রেনস মেডিকেল সেন্টারে নিয়ে যান। জনসন কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় জানিয়েছে, লিয়ামের শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়েছে এবং সে পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠবে বলে চিকিৎসকেরা আশাবাদী। তদন্তে জানা যায়, এই দুর্ঘটনায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে লিয়ামের সাত বছর বয়সী বড় ভাই প্যাট্রিক। কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, প্যাট্রিক প্রথমে তার ছোট ভাইকে পানিতে ভাসতে দেখে দ্রুত তাকে টেনে পুলের বাইরে নিয়ে আসে। এরপর সে মাকে বিষয়টি জানায়। শুধু তাই নয়, পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে পাশের বাড়িতেও দৌড়ে গিয়ে অতিরিক্ত সাহায্য চায়। পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, সংকটময় মুহূর্তে অনেক প্রাপ্তবয়স্ক মানুষও কী করবেন বুঝে উঠতে পারেন না। সেখানে সাত বছরের একটি শিশু যেভাবে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েছে, তা অসাধারণ। জনসন কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কেভেন জর্জ এক বিবৃতিতে বলেন, “সংকটের মুহূর্তে অনেক প্রাপ্তবয়স্ক মানুষও চাপে পড়ে স্থির হয়ে যান। কিন্তু প্যাট্রিক ঠিক তার উল্টোটা করেছে। সে মনোযোগ ধরে রেখেছে, দ্রুত কাজ করেছে এবং বয়সের তুলনায় অসাধারণ সাহস, সচেতনতা ও দৃঢ়তার পরিচয় দিয়েছে।” এই সাহসিকতার স্বীকৃতি হিসেবে প্যাট্রিককে শেরিফস কমেন্ডেশন অ্যাওয়ার্ডের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। শেরিফ কার্যালয়ের পুরস্কার কমিটি পরবর্তী বৈঠকে বিষয়টি পর্যালোচনা করবে। অনুমোদন পেলে তাকে আনুষ্ঠানিক সম্মাননা ও বিশেষ পদক প্রদান করা হবে। কর্তৃপক্ষের মতে, প্যাট্রিকের নিঃস্বার্থতা, সাহস এবং ছোট ভাইয়ের প্রতি ভালোবাসা সমাজের জন্য একটি অনুপ্রেরণামূলক উদাহরণ। তাঁর এই কাজ স্মরণ করিয়ে দেয় যে বীরত্বের কোনো নির্দিষ্ট বয়স নেই। শিশুদের পানিতে ডুবে যাওয়ার ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রে বড় ধরনের নিরাপত্তা উদ্বেগের একটি বিষয়। বিশেষ করে গ্রীষ্মকালে বাড়ির সুইমিংপুলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়ে যায়। তাই শিশুদের প্রতি সার্বক্ষণিক নজরদারি এবং পুলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করার পরামর্শ দিয়ে থাকেন বিশেষজ্ঞরা। তবে এমন এক সংকটময় পরিস্থিতিতে ছোট ভাইয়ের জীবন বাঁচাতে প্যাট্রিকের যে দ্রুততা ও সাহসিকতার পরিচয় মিলেছে, তা স্থানীয় সম্প্রদায়ের কাছেও প্রশংসিত হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও অনেকেই তাকে ‘ছোট্ট নায়ক’ হিসেবে আখ্যায়িত করছেন।
যুক্তরাষ্ট্রে আবাসন সংকট মোকাবিলা এবং বাড়ির দাম ও ভাড়া নিয়ন্ত্রণে আনতে কংগ্রেসের উভয় কক্ষে ব্যাপক সমর্থন পাওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনপ্রস্তাব পাস হয়েছে। মঙ্গলবার প্রতিনিধি পরিষদে (হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস) বিলটি বিপুল ভোটে অনুমোদিত হওয়ার পর এখন তা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্বাক্ষরের অপেক্ষায় রয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘২১স্ট সেঞ্চুরি রোড টু হাউজিং অ্যাক্ট’ নামে পরিচিত এই বিলটি প্রতিনিধি পরিষদে ৩৫৮-৩২ ভোটে পাস হয়েছে। এর আগে সোমবার সিনেটেও বিলটি বিপুল দ্বিদলীয় সমর্থন লাভ করে। যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘদিন ধরে বাড়ির উচ্চমূল্য, আবাসনের ঘাটতি এবং ক্রমবর্ধমান ভাড়া সাধারণ মানুষের জন্য বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে প্রথমবারের মতো বাড়ি কিনতে আগ্রহী পরিবারগুলোর জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে পড়েছে। এই প্রেক্ষাপটে কয়েক মাসের আলোচনা ও দরকষাকষির পর ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান আইনপ্রণেতারা একটি সমঝোতায় পৌঁছে বিলটি চূড়ান্ত করেন। বিলটির মূল লক্ষ্য হলো নতুন আবাসন নির্মাণের গতি বাড়ানো, সরবরাহ বৃদ্ধি করা এবং আবাসন খাতে বিদ্যমান নানা প্রশাসনিক ও নিয়ন্ত্রক জটিলতা কমানো। একই সঙ্গে একক পরিবারভিত্তিক বাড়ি বড় করপোরেট বিনিয়োগকারীদের ব্যাপক হারে কেনার ওপর কিছু সীমাবদ্ধতা আরোপের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। আইনপ্রণেতাদের মতে, দীর্ঘ অনুমোদন প্রক্রিয়া, পরিবেশগত মূল্যায়নের জটিলতা এবং বিভিন্ন নিয়ন্ত্রক বাধার কারণে অনেক আবাসন প্রকল্প বাস্তবায়নে বিলম্ব হয়। নতুন আইন এসব প্রক্রিয়া সহজ করার মাধ্যমে দ্রুত বাড়ি নির্মাণে সহায়তা করবে। বিলটি প্রণয়নের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন দক্ষিণ ক্যারোলাইনার রিপাবলিকান সিনেটর টিম স্কট, ম্যাসাচুসেটসের ডেমোক্র্যাট সিনেটর এলিজাবেথ ওয়ারেন, আরকানসাসের রিপাবলিকান প্রতিনিধি ফ্রেঞ্চ হিল এবং ক্যালিফোর্নিয়ার ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি ম্যাক্সিন ওয়াটার্স। প্রতিনিধি পরিষদে বক্তব্য দিতে গিয়ে ফ্রেঞ্চ হিল বলেন, এই আইন ফেডারেল আবাসন কর্মসূচিগুলোকে আধুনিকায়ন করবে, অপ্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রক চাপ কমাবে এবং আবাসন নির্মাণের প্রক্রিয়াকে আরও দ্রুত করবে। তাঁর ভাষায়, বাড়তে থাকা চাহিদার সঙ্গে তাল মিলিয়ে আরও বেশি আবাসন নির্মাণের পথ খুলে দিতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর আগে চলতি মাসে হোয়াইট হাউসও কংগ্রেসকে বিলটি দ্রুত পাস করার আহ্বান জানিয়েছিল। প্রেসিডেন্টের কার্যালয় এক বিবৃতিতে এটিকে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বিস্তৃত ও গুরুত্বপূর্ণ আবাসনসংক্রান্ত আইনগুলোর একটি বলে উল্লেখ করে। তবে বিলের একটি আলোচিত অংশ, অর্থাৎ করপোরেট বিনিয়োগকারীদের ওপর বিধিনিষেধ আরোপের মাধ্যমে আবাসনের মূল্য কতটা কমানো সম্ভব হবে, তা নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। গবেষণা প্রতিষ্ঠান আরবান ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী, বড় প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের নিয়ন্ত্রণে থাকা একক পরিবারভিত্তিক ভাড়া বাড়ির পরিমাণ মোট বাজারের তুলনায় খুবই কম। এসব প্রতিষ্ঠান যুক্তরাষ্ট্রের একক পরিবারভিত্তিক ভাড়া বাসার প্রায় ৩ শতাংশের মালিক, যা মোট আবাসন মজুদের অর্ধ শতাংশেরও কম। রিয়েল এস্টেট প্রতিষ্ঠান রেডফিনের প্রধান অর্থনীতিবিদ ড্যারিল ফেয়ারওয়েদারের মতে, অনেকেই মনে করেন বড় বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাজার থেকে সরিয়ে দিলে বিপুল সংখ্যক বাড়ি সাধারণ ক্রেতাদের জন্য উন্মুক্ত হয়ে যাবে। কিন্তু বাস্তবে বিষয়টি এতটা সহজ নয়। তাঁর মতে, আবাসনের উচ্চমূল্যের পেছনে মূল কারণ হলো দীর্ঘদিনের সরবরাহ সংকট। বিশেষজ্ঞদের একটি বড় অংশও মনে করেন, নতুন বাড়ি নির্মাণ বাড়ানো ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন বাজারে স্থায়ী স্বস্তি ফিরিয়ে আনা কঠিন হবে। তবে আইনপ্রণেতারা বলছেন, এই বিল একাই পুরো সংকটের সমাধান নয়। তবু এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচনা, যা ভবিষ্যতে আরও বড় সংস্কারের ভিত্তি তৈরি করতে পারে। সিনেটর এলিজাবেথ ওয়ারেন বলেন, এই ভোট প্রমাণ করেছে যে সাধারণ মানুষের সমস্যা সমাধানে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাটরা চাইলে একসঙ্গে কাজ করতে পারেন। তাঁর মতে, দ্বিদলীয় উদ্যোগ মানেই দুর্বল বা আপসকামী আইন নয়, বরং কার্যকর সমাধানও হতে পারে। মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ আইন পাস হওয়াকে ওয়াশিংটনের রাজনৈতিক অঙ্গনে বিরল সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে। এখন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের স্বাক্ষরের পর এটি আইনে পরিণত হওয়ার আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের নর্থ টেক্সাসে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইস) কেন্দ্রে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় 'আন্তিফা' (Antifa) সেলের এক নেতার ১০০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। বেঞ্জামিন হানিল সং নামের ওই নেতাসহ এই হামলায় জড়িত মোট আটজনকে সম্মিলিতভাবে ৫৫০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে বাকি সাতজন পেয়েছেন ৪৫০ বছরের সাজা। আগামী ৪ জুলাই প্রেইরিল্যান্ড ডিটেনশন সেন্টারে হওয়া এই হামলার এক বছর পূর্ণ হওয়ার ঠিক আগেই এমন যুগান্তকারী রায় প্রদান করল মার্কিন বিচার বিভাগ। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে 'আন্তিফা' সংগঠনটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে 'অভ্যন্তরীণ সন্ত্রাসী সংগঠন' হিসেবে তালিকাভুক্ত করেন। ট্রাম্পের ওই কড়া আদেশের পর আন্তিফার সাথে জড়িত কোনো আসামির বিরুদ্ধে এটিই প্রথম বড় সাজার রায়। দণ্ডপ্রাপ্তরা মূলত দাঙ্গা সৃষ্টি, অস্ত্র ও বিস্ফোরকের ব্যবহার, সন্ত্রাসীদের বস্তুগত সহায়তা প্রদান এবং এক পুলিশ কর্মকর্তাকে হত্যার চেষ্টার মতো গুরুতর সব অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্লাঞ্চ এই রায় প্রসঙ্গে এক বিবৃতিতে বলেন, এই রায়ের মাধ্যমে একটি বিষয় স্পষ্ট যে, যেসব আন্তিফা সন্ত্রাসী আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও সরকারি স্থাপনায় হামলা চালাবে, তাদের অত্যন্ত দ্রুত ও কঠোর বিচারের মুখোমুখি হতে হবে। তিনি আরও যোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে এ ধরনের সহিংস চরমপন্থার কোনো স্থান নেই। যারা আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তাদের হুমকি দেয় কিংবা আইনের শাসনকে দুর্বল করার চেষ্টা করে, বিচার বিভাগ তাদের শিকড় উপড়ে ফেলতে আক্রমণাত্মক তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখবে।