গ্যাসের দাম

ছবি: সংগৃহীত
হরমুজে মাইন আতঙ্কে তেলের বাজার টালমাটাল

বিশ্বের জ্বালানি করিডোরখ্যাত হরমুজ প্রণালী নিয়ন্ত্রণে রাখতে সেখানে মাইন পুঁতছে ইরান, এমন খবর ছড়িয়ে পড়ার পর প্রাকৃতিক গ্যাস ও তেলের বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। এর প্রভাব ইতোমধ্যে ইউরোপের বাজারেও পড়েছে, যেখানে গ্যাসের দাম বেড়েছে প্রায় ছয় শতাংশ।   মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত জ্বালানি সরবরাহে প্রভাব ফেলতে পারে এমন আশঙ্কা বাড়ার মধ্যেই এই প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। ইরান বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন রুট হরমুজ প্রণালীতে মাইন স্থাপন শুরু করেছে এমন অসমর্থিত খবর ছড়িয়ে পড়ার পর ইউরোপ ও যুক্তরাজ্যজুড়ে গ্যাসের দাম লাফিয়ে বাড়তে শুরু করে।   এই প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হলে ইউরোপ ও এশিয়ায় তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।   বুধবার (১১ মার্চ) সকালের লেনদেনে ইউরোপীয় গ্যাসের বেঞ্চমার্ক মূল্য প্রায় ৫ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়েছে। একই সময়ে ব্রিটিশ পাইকারি গ্যাসের প্রধান চুক্তির মূল্য বেড়েছে প্রায় ৬ শতাংশ।   এদিকে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, জলপথের কাছে মাইন স্থাপন করছিল বলে দাবি করে তারা ১৬টি ইরানি জাহাজ ‘নির্মূল’ করেছে। এতে করে উত্তেজনা আরও বেড়েছে।   এর আগে ইউএস ইন্টেলিজেন্স রিপোর্টের সঙ্গে পরিচিত দুই ব্যক্তির বরাত দিয়ে জানা যায়, ইরান হরমুজ প্রণালীতে মাইন স্থাপন শুরু করেছে। বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পথগুলোর একটি এই প্রণালী দিয়ে বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হয়।   সূত্রগুলো জানিয়েছে, মাইন স্থাপনের কাজ এখনো ব্যাপক আকারে শুরু হয়নি; গত কয়েক দিনে মাত্র কয়েক ডজন মাইন বসানো হয়েছে। তবে একটি সূত্রের মতে, ইরানের ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ ছোট নৌকা ও মাইন স্থাপনকারী যান এখনো অক্ষত রয়েছে, ফলে চাইলে তারা এই জলপথে কয়েকশ মাইন পেতে রাখতে পারে।   ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি), যারা ইরানের প্রথাগত নৌবাহিনীর পাশাপাশি কার্যত এই প্রণালী নিয়ন্ত্রণ করছে, তাদের কাছে মাইন স্থাপনকারী যান, বিস্ফোরক বোঝাই নৌকা এবং উপকূলীয় মিসাইল ব্যাটারিসহ শক্তিশালী সামরিক সক্ষমতা রয়েছে।   মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবার (১০ মার্চ) ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, ইরান যদি হরমুজ প্রণালীতে কোনো মাইন স্থাপন করে থাকে যদিও এ বিষয়ে তাদের কাছে কোনো রিপোর্ট নেই তাহলে সেগুলো অবিলম্বে সরিয়ে নেওয়া উচিত।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ১১, ২০২৬ 0
হরমুজ প্রণালী বন্ধে গ্যাস-তেলের দামে উল্লম্ফন

ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে সংঘাত ছড়িয়ে পড়েছে। বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি করিডোর হরমুজ প্রণালী ইসলামি প্রজাতন্ত্রের রেভল্যুশনারী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) বন্ধ করে দেওয়ায় জ্বালানির দাম দ্রুত বাড়ছে। ইউরোপের বাজারে গ্যাসের দাম ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে।   লন্ডন আইসিইর তথ্য অনুযায়ী, আইআরজিসির অবরোধসংক্রান্ত বিবৃতির পর ২০২৩ সালের জানুয়ারির পর প্রথমবারের মতো ইউরোপীয় এক্সচেঞ্জে গ্যাসের দাম প্রতি ১ হাজার ঘনমিটারে ৭০০ ডলার অতিক্রম করেছে। নেদারল্যান্ডসের টিটিএফ হাবে এপ্রিলের চুক্তির মূল্য প্রায় ৭১১ ডলারে পৌঁছেছে।   মঙ্গলবার (৩ মার্চ) স্থানীয় সময় সকাল ৭টা পর্যন্ত মস্কো এক্সচেঞ্জে লেনদেন শুরু হলে সূচক শূন্য দশমিক ৪৫ শতাংশ বেড়ে ২ হাজার ৮৪৮ দশমিক ৩ পয়েন্টে দাঁড়ায়। রাশিয়ার ডিরেক্ট ইনভেস্টমেন্ট ফান্ডের প্রধান নির্বাহী কিরিল দিমিত্রিভ বলেছেন, প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম দ্বিগুণ হতে পারে এবং তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়াতে পারে।   ভিটিবির বিনিয়োগ কৌশলবিদ স্তানিস্লাভ ক্লেশচেভের মতে, রুশ তেল ও গ্যাস কোম্পানির শেয়ারের ঊর্ধ্বগতিই মস্কো সূচককে ২ হাজার ৮০০ পয়েন্টের ওপরে তুলেছে।   কমেক্স এক্সচেঞ্জে ২০২৬ সালের মে সরবরাহের রুপার ফিউচার ৬ শতাংশের বেশি কমে প্রতি ট্রয় আউন্স ৮৩ দশমিক ০০৫ ডলারে নেমেছে। অন্যদিকে ২০২৬ সালের এপ্রিলের সোনার চুক্তির দাম সামান্য বেড়ে ৫ হাজার ৩১৬ ডলারে দাঁড়িয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা অব্যাহত থাকলে সোনার দাম ঐতিহাসিক উচ্চতায় পৌঁছাতে পারে।   বিশ্লেষকরা বলছেন, কাঁচামালের দাম বৃদ্ধিতে রাশিয়াসহ রপ্তানিকারক দেশগুলোর রাজস্ব সাময়িকভাবে বাড়তে পারে। হরমুজ প্রণালী দিয়ে কাতারের এলএনজি পরিবহনে বিঘ্ন ঘটায় রাশিয়ার এলএনজি রপ্তানিকারকদের আয় বাড়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।   ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংঘাত চার সপ্তাহের বেশি স্থায়ী হলে ইউরোপীয় ইউনিয়ন নতুন অর্থনৈতিক সংকটে পড়তে পারে। দীর্ঘস্থায়ী সামরিক উত্তেজনা ও জ্বালানি সরবরাহ হ্রাস পেলে ইউরোজোনে মুদ্রাস্ফীতি বাড়া এবং উৎপাদন কমে যাওয়ার আশঙ্কার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।   সূত্র: তাস।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ৩, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
কাতারের এলএনজি উৎপাদন বন্ধ, গ্যাসের দামে বড় লাফ

ইরানের হামলার পর কাতারের প্রধান এলএনজি রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান ‘কাতার এনার্জি’ উৎপাদন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে। এ সিদ্ধান্তের সরাসরি প্রভাবে ইউরোপীয় ও ব্রিটিশ পাইকারি বাজারে গ্যাসের দাম এক লাফে প্রায় ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে গেছে। জ্বালানি বাজারে এই অস্থিরতায় এশিয়া ও ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে এলএনজি আমদানির প্রতিযোগিতা নতুন করে তীব্র হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।   আইসিইর (ICE) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ইউরোপের প্রধান বাজার সূচক ডাচ টিটিএফ (TTF) হাবে ফ্রন্ট-মাস চুক্তিতে গ্যাসের দাম মেগাওয়াট প্রতি ঘণ্টায় ১৪.৫৬ ইউরো বেড়ে ৪৬.৫২ ইউরোতে দাঁড়িয়েছে, যা দিনের শুরুর তুলনায় প্রায় ৫০ শতাংশ বেশি। দিনের শুরুতে দাম ২৫ শতাংশ বাড়লেও কাতারের উৎপাদন স্থগিতের খবরে তা আরও ঊর্ধ্বমুখী হয়। ব্রিটিশ বাজারেও এপ্রিল মাসের চুক্তিতে গ্যাসের দাম প্রায় ৪০.৮৩ পেন্স বেড়ে প্রতি থার্ম ১১৯.৪০ পেন্সে পৌঁছেছে।   জ্বালানি গবেষণা সংস্থা উড ম্যাকেঞ্জির ভাইস প্রেসিডেন্ট মাসিমো ডি ওডোআদো বলেন, এলএনজি প্রবাহে এ ধরনের বিঘ্ন ঘটলে এশিয়া ও ইউরোপের মধ্যে কার্গো আমদানির জন্য তীব্র প্রতিযোগিতা শুরু হবে। এর প্রভাব ইতোমধ্যেই এশীয় বাজারে পড়তে শুরু করেছে। এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল এনার্জির তথ্য অনুযায়ী, এশীয় এলএনজি বেঞ্চমার্ক জে-কে-এম (JKM) সূচকে গ্যাসের দাম প্রায় ৩৯ শতাংশ বেড়ে প্রতি এমএমবিটিইউ ১৫.০৬৮ ডলারে দাঁড়িয়েছে।   বাজার বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের এই সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে জ্বালানি সংকট আরও তীব্র আকার ধারণ করতে পারে। আইসিইর পণ্য কৌশল বিভাগের প্রধান ওয়ারেন প্যাটারসন সতর্ক করে বলেন, কাতারি এলএনজি সরবরাহের ঘাটতি দীর্ঘ সময় চললে টিটিএফ হাবে গ্যাসের দাম মেগাওয়াট প্রতি ঘণ্টায় ৮০ থেকে ১০০ ইউরো পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। এতে বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ২, ২০২৬ 0
জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

ইরানের আকাশে ১৬টি চীনা সামরিক বিমানের রহস্য নিয়ে তোলপাড়

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে।   গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব।  বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

“এপস্টেইন ফাইলের দাবি: বাইডেনকে হত্যা করে ক্লোন বানানো হয়েছে?”

এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে   জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল।   এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে।   একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই।   “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান।   এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে।   সূত্র: Royanews  

Top week

ছবি: সংগৃহীত
আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা থাকলেই থাকা যাবে না—নতুন বার্তা মার্কিন দূতাবাসের

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ১২, ২০২৬ 0