ইসরায়েলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তা বন্ধের পক্ষে ভোট দিলেন শতাধিক ডেমোক্র্যাট
ইসরায়েলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তা বন্ধের পক্ষে ভোট দিয়েছেন কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদের (হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস) শতাধিক ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতা। শেষ পর্যন্ত প্রস্তাবটি পাস না হলেও, এই ভোটাভুটি ডেমোক্র্যাটিক পার্টির অভ্যন্তরে ইসরায়েল ও গাজা যুদ্ধকে কেন্দ্র করে ক্রমবর্ধমান নীতিগত বিভাজনকে নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন ও আল-জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমালোচক হিসেবে পরিচিত রিপাবলিকান কংগ্রেস সদস্য টমাস ম্যাসি একটি সংশোধনী প্রস্তাব উত্থাপন করেন। ওই প্রস্তাবে ইসরায়েলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তা বন্ধের আহ্বান জানানো হয়।
ভোটাভুটিতে সংশোধনীটি ৩১৪ ভোটে নাকচ হয়। এর বিপক্ষে ভোট পড়ে ৩১৪টি এবং পক্ষে পড়ে ১০৪টি ভোট। তবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, পক্ষে দেওয়া ১০৪ ভোটের মধ্যে ১০৩ জনই ছিলেন ডেমোক্র্যাট এবং একজন ছিলেন রিপাবলিকান সদস্য।
অন্যদিকে ৯৮ জন ডেমোক্র্যাট প্রস্তাবটির বিপক্ষে ভোট দেন এবং ১০ জন ভোটদানে বিরত থাকেন। এই ফলাফল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির ভেতরে ইসরায়েল নীতি নিয়ে মতপার্থক্য আরও স্পষ্ট করেছে।
দলের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যেও ভিন্ন অবস্থান দেখা গেছে। প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাটদের সংখ্যালঘু নেতা হাকিম জেফরিস এবং পিট অ্যাগুইলার সংশোধনীর বিপক্ষে ভোট দেন। তবে দলের হুইপ ক্যাথরিন ক্লার্ক প্রস্তাবটির পক্ষে ভোট দিয়ে আলোচনার জন্ম দেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি ডেমোক্র্যাটিক পার্টির অবস্থানের একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত। মাত্র দুই বছর আগে একই ধরনের একটি প্রস্তাবে ইসরায়েলে সামরিক সহায়তা বন্ধের পক্ষে ভোট দিয়েছিলেন মাত্র ৩৭ জন ডেমোক্র্যাট। এবার সেই সংখ্যা বেড়ে ১০৩-এ পৌঁছেছে।
ভোটের পর কংগ্রেসনাল প্রোগ্রেসিভ ককাসের চেয়ারম্যান গ্রেগ ক্যাসার বলেন, প্রথমবারের মতো প্রতিনিধি পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠ ডেমোক্র্যাট সদস্য ইসরায়েলের কাছে কোটি কোটি ডলারের অস্ত্র ও সামরিক সহায়তা পাঠানোর পক্ষে ভোট দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।
তার দাবি, এই ভোট ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সরকারের প্রতি একটি স্পষ্ট রাজনৈতিক বার্তা বহন করে। তার ভাষায়, যুদ্ধ পরিচালনার ক্ষেত্রে নিঃশর্ত সমর্থনের সময় শেষ হয়ে আসছে এবং এই ভোট ভবিষ্যতের মার্কিন নীতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে।
তবে ক্যাথরিন ক্লার্ক বলেছেন, রিপাবলিকানদের আনা সংশোধনীটি তার দৃষ্টিতে ত্রুটিপূর্ণ ছিল। কারণ এতে গাজার ফিলিস্তিনিদের জন্য মানবিক সহায়তাও বন্ধ করার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত ছিল। তা সত্ত্বেও তিনি যুক্তরাষ্ট্রের আইন ও মূল্যবোধের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ কর্মকাণ্ডের ক্ষেত্রে সামরিক সহায়তা পুনর্বিবেচনার বার্তা দিতেই প্রস্তাবটির পক্ষে ভোট দিয়েছেন।
অন্যদিকে ভোটদানে বিরত থাকা ডেমোক্র্যাট সদস্য জ্যারেড হাফম্যান বলেন, ডেমোক্র্যাটদের একটি বড় অংশের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্য নীতিতে পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা ক্রমেই জোরালো হচ্ছে।
দলের অভ্যন্তরে বিভাজন আরও গভীর না করতে ডেমোক্র্যাট নেতৃত্ব এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক ভোট নির্দেশনা বা 'হুইপ' জারি করেনি। ফলে সদস্যরা নিজ নিজ বিবেচনা অনুযায়ী ভোট দেওয়ার সুযোগ পান।
বিশ্লেষকদের মতে, সংশোধনীটি পাস না হলেও এই ভোটাভুটি মার্কিন রাজনীতিতে ইসরায়েলকে সামরিক সহায়তা এবং গাজা যুদ্ধ নিয়ে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির অবস্থানের পরিবর্তনশীল চিত্রকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে। আগামী দিনে এ ইস্যুতে কংগ্রেসে আরও বিতর্ক এবং নীতিগত পরিবর্তনের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
সূত্র: সিএনএন ও আল-জাজিরা।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যের গ্র্যান্ড ক্যানিয়নে আকস্মিক বন্যায় অন্তত ১৫ জন হাইকার ও ব্যাকপ্যাকার নিখোঁজ রয়েছেন। শনিবার স্থানীয় সময় দুপুর আড়াইটার দিকে ব্রাইট অ্যাঞ্জেল ক্যানিয়ন ও ফ্যান্টম র্যাঞ্চ এলাকায় হঠাৎ প্রবল বন্যা দেখা দিলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। এর মধ্যে ৬২ জনকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ন্যাশনাল পার্ক সার্ভিস (এনপিএস) জানিয়েছে, নিখোঁজদের পরিচয় এখনো নিশ্চিত করা যায়নি। তাদের মধ্যে কেউ ব্রাইট অ্যাঞ্জেল ক্রিক করিডোরে হাঁটছিলেন, কেউ ক্যাম্পে অবস্থান করছিলেন, আবার কেউ নর্থ কাইবাব ট্রেইল ধরে ফ্যান্টম র্যাঞ্চের দিকে যাচ্ছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধানে উদ্ধার তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। বন্যার ভয়াবহতা এতটাই বেশি ছিল যে ব্রাইট অ্যাঞ্জেল ক্রিকের ওপর থাকা প্রায় সব পায়ে হাঁটার সেতু ধ্বংস হয়ে গেছে। পানির প্রবল স্রোতে কাদা, পাথর, গাছপালা ও বিভিন্ন স্থাপনার ধ্বংসাবশেষ ভেসে গিয়ে কলোরাডো নদীতেও পড়ে। এতে নদীপথে চলাচলও সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এনপিএসের তথ্য অনুযায়ী, ২৯ আগস্ট দুপুর আড়াইটার দিকে ব্রাইট অ্যাঞ্জেল ক্যানিয়ন ও ফ্যান্টম র্যাঞ্চ এলাকায় আকস্মিক বন্যা শুরু হয়। ৩০ আগস্ট সকাল পর্যন্ত ফ্যান্টম র্যাঞ্চ ও নর্থ কাইবাব ট্রেইলের নিচের অংশ থেকে ৬২ জনকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। আরও কয়েকজনকে কটনউড ক্যাম্পগ্রাউন্ড ও ফ্যান্টম র্যাঞ্চ এলাকা থেকে সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি চলছিল। উদ্ধার করা ব্যক্তিদের গ্র্যান্ড ক্যানিয়নের দক্ষিণ প্রান্তের মাসউইক লজ ক্যাফেটেরিয়ায় নেওয়া হয়, যেখানে আমেরিকান রেড ক্রস তাদের সহায়তা করছে। প্রথম দিকে পার্ক কর্তৃপক্ষ ২০ জনের বেশি মানুষ নিখোঁজ বা নিখোঁজের মতো অবস্থায় থাকতে পারেন বলে জানিয়েছিল। পরে যাচাইয়ের পর সেই সংখ্যা প্রায় ১৫ জনে নেমে আসে। তাদের মধ্যে কারা রয়েছেন বা তারা কোন এলাকার বাসিন্দা, তা এখনো স্পষ্ট নয়। ন্যাশনাল পার্ক সার্ভিস তাই নিখোঁজ ব্যক্তিদের সম্পর্কে তথ্য দিতে জনসাধারণের সহায়তা চেয়েছে। বিশেষ করে নর্থ কাইবাব ট্রেইলহেড থেকে ফ্যান্টম র্যাঞ্চ পর্যন্ত যাতায়াত করা হাইকার, ব্রাইট অ্যাঞ্জেল ক্যাম্পগ্রাউন্ডে অবস্থানকারী ব্যক্তি এবং ফ্যান্টম র্যাঞ্চের উত্তরে ‘দ্য বক্স’ নামে পরিচিত এলাকায় থাকা বা চলাচল করা ব্যক্তিদের বিষয়ে তথ্য চাওয়া হয়েছে। কারও পরিচিত ব্যক্তি ওই এলাকায় ছিলেন বলে জানা থাকলে তার নাম, আনুমানিক অবস্থান, ভ্রমণ পরিকল্পনা, দলের সদস্যসংখ্যা কিংবা পোশাক ও ব্যাগের বর্ণনা দিয়ে তথ্য জানাতে বলা হয়েছে। বন্যার সময়ের বিভিন্ন ভিডিওতে ক্যানিয়নের ভেতর দিয়ে কাদা ও পানির প্রবল স্রোত নেমে আসতে দেখা গেছে। বড় বড় পাথর, গাছের অংশ এবং অন্যান্য ধ্বংসাবশেষ পানির সঙ্গে ভেসে যায়। একজন হাইকার বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে জানান, বৃষ্টির পর তারা হঠাৎ করে খালে পানি বেড়ে যেতে, বিভিন্ন জায়গা থেকে জলপ্রপাতের মতো পানি নেমে আসতে এবং পাথর, কাদা ও ভূমিধস দেখতে পান। প্রবল স্রোতে ব্রাইট অ্যাঞ্জেল ক্রিকের গতিপথও বদলে গেছে। ন্যাশনাল পার্ক সার্ভিস জানিয়েছে, বন্যায় ক্যানিয়নের বিভিন্ন অবকাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনার মধ্যে রয়েছে সেতু, ট্রেইল, পানি ও অন্যান্য পরিষেবা অবকাঠামো। ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়ন এখনো চলছে। বন্যার পর ফ্যান্টম র্যাঞ্চ, ব্রাইট অ্যাঞ্জেল ক্যাম্পগ্রাউন্ড এবং পুরো নর্থ কাইবাব ট্রেইল পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ রাখা হয়েছে। কলোরাডো নদীর ওপরের ব্ল্যাক ব্রিজ ও সিলভার ব্রিজও বন্ধ রয়েছে। একই সঙ্গে নদীতে ধাতব কাঠামো ও অন্যান্য ধ্বংসাবশেষ পড়ে যাওয়ায় ওই এলাকায় নৌযান চলাচলও বন্ধ করা হয়েছে। এসব এলাকা কবে খুলবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো নির্দিষ্ট সময় জানানো হয়নি। আবহাওয়ার ঝুঁকিও এখনো কাটেনি। ন্যাশনাল পার্ক সার্ভিস জানিয়েছে, রোববার ও সোমবার আরও বজ্রঝড় এবং ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এতে নতুন করে আকস্মিক বন্যা, ধ্বংসাবশেষের স্রোত, পাথর ধস এবং ট্রেইল ও নদীর পরিস্থিতিতে দ্রুত পরিবর্তন ঘটতে পারে। এই বন্যার পেছনে গ্র্যান্ড ক্যানিয়নের দুর্গম ভূপ্রকৃতির পাশাপাশি গত বছরের ড্রাগন ব্রাভো দাবানলের প্রভাব নিয়েও আলোচনা হচ্ছে। ২০২৫ সালের ওই দাবানলে নর্থ রিমের বিস্তীর্ণ এলাকা পুড়ে যায়। ন্যাশনাল পার্ক সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত কয়েকটি জলাধার ও উপত্যকায় ভারী বৃষ্টির পর আকস্মিক বন্যা ও ধ্বংসাবশেষের স্রোতের ঝুঁকি বেড়ে গেছে। বিশেষ করে খাড়া ভূখণ্ডে অল্প সময়ের ভারী বৃষ্টিতেও পানি দ্রুত নিচের দিকে নেমে আসতে পারে। ড্রাগন ব্রাভো দাবানলের পর গ্র্যান্ড ক্যানিয়নের কর্মকর্তারা এ ধরনের বন্যার ঝুঁকি নিয়ে সতর্ক ছিলেন। ফ্ল্যাশ ফ্লাড বা আকস্মিক বন্যার আগাম সতর্কতা উন্নত করতে ফ্যান্টম র্যাঞ্চের উজানে অতিরিক্ত পানি প্রবাহ মাপার যন্ত্র ও অন্যান্য সেন্সর স্থাপন করা হয়েছিল। তবে এবারের বন্যার আকস্মিকতা ও স্রোতের শক্তি পরিস্থিতিকে অত্যন্ত কঠিন করে তুলেছে। গ্র্যান্ড ক্যানিয়নে এমন আকস্মিক বন্যা নতুন কোনো ঘটনা নয়। তবে ক্যানিয়নের গভীর ও খাড়া ভূপ্রকৃতির কারণে ওপরের দিকে বৃষ্টি হলেও নিচের অংশে হঠাৎ করে ভয়াবহ স্রোত তৈরি হতে পারে। ন্যাশনাল পার্ক সার্ভিস তাই দর্শনার্থীদের আবহাওয়ার সতর্কতা অনুসরণ করতে এবং বৃষ্টি না হলেও ক্যানিয়নের ভেতরের নদী, খাল বা নিচু এলাকায় অবস্থান না করার পরামর্শ দিয়ে থাকে। এদিকে উদ্ধারকারী দল নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধান অব্যাহত রেখেছে। পার্ক কর্তৃপক্ষ ও অ্যারিজোনা জননিরাপত্তা বিভাগ সমন্বয় করে উদ্ধার ও সরিয়ে নেওয়ার কাজ করছে। সর্বশেষ সরকারি তথ্যে কোনো আহত বা নিহতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে আরও বৃষ্টি ও নতুন করে বন্যার আশঙ্কা থাকায় উদ্ধার অভিযান অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে চালানো হচ্ছে। নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধানে সময় যত গড়াচ্ছে, তাদের পরিবার ও স্বজনদের উদ্বেগও বাড়ছে। দুর্গম ক্যানিয়নের ভেতরে বন্যার পর বদলে যাওয়া ভূপ্রকৃতি, ধ্বংস হওয়া সেতু এবং বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া পথ উদ্ধারকারীদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আপাতত সবার নজর নিখোঁজ হাইকারদের সন্ধান এবং নতুন করে কোনো প্রাণহানি ঠেকানোর দিকে। সংবাদসূত্র: যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল পার্ক সার্ভিস, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস এবং আল জাজিরা।
নিউ ইয়র্কের জলাভূমিতে ছবি তুলতে গিয়ে তরুণীর ক্যামেরায় ধরা পড়লো রহস্যময় প্রাণী
মেরিল্যান্ডের মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত প্রবাসী বাংলাদেশি মা ও মেয়ের জানাজা আগামীকাল সোমবার
আটলান্টায় পার্কিং নিয়ে চালকদের ভোগান্তি কমাতে আসছে নতুন আইন, নাম ‘পার্কিং বিল অব রাইটস’
যুক্তরাষ্ট্রের কব কাউন্টিতে নিজের জন্মদিনের পার্টিতে সুইমিংপুলে ডুবে গিয়ে প্রায় মৃত্যুর মুখে ঢলে পড়েছিল দুই বছরের এক শিশু। তবে পার্টিতে উপস্থিত অতিথিদের তাৎক্ষণিক উপস্থিত বুদ্ধিতে শেষ পর্যন্ত শিশুটির প্রাণ রক্ষা পেয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, জ্ঞান ফেরার পর স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য শিশুটিকে দ্রুত স্থানীয় একটি হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। গত শনিবার রাত ৯টার পরপর কব কাউন্টির ৪৫০১ সার্কেল ৭৫ পার্কওয়েতে অবস্থিত স্টেডিয়াম ওয়াক অ্যাপার্টমেন্টে মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শিশুটির জন্মদিন উদ্যাপনের জন্যই সেখানে একটি পুল পার্টির আয়োজন করা হয়েছিল। উৎসবের আনন্দের মাঝেই হঠাৎ উপস্থিত লোকজন শিশুটিকে সুইমিংপুলের পানিতে অচেতন অবস্থায় ভাসতে দেখেন। তাকে দ্রুত পানি থেকে উদ্ধার করা হলেও প্রাথমিকভাবে তার শরীরে কোনো সাড়াশব্দ পাওয়া যাচ্ছিল না। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে পার্টিতে উপস্থিত কয়েকজন কালক্ষেপণ না করে শিশুটিকে সিপিআর (CPR) দেওয়া শুরু করেন। তাদের এই সময়োচিত পদক্ষেপের ফলেই অলৌকিকভাবে শিশুটি জ্ঞান ফিরে পায়। খবর পেয়ে কব কাউন্টি পুলিশের পাশাপাশি ম্যারিয়েটা ফায়ার সার্ভিসের জরুরি চিকিৎসা দলের (ইএমটি) সদস্যরাও ঘটনাস্থলে ছুটে যান এবং শিশুটির চিকিৎসায় সার্বিক সহায়তা করেন। পুলিশ নিশ্চিত করেছে যে, এই ঘটনার পেছনে কোনো ধরনের সন্দেহজনক বা অপরাধমূলক তৎপরতা নেই; এটি নিছকই একটি অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা।
ক্যালিফোর্নিয়ার ইরভাইনে চুরি করা ক্রেডিট কার্ড দিয়ে ৩৮ হাজার ডলারের কেনাকাটা, তিনজনকে খুঁজছে পুলিশ
ফিলাডেলফিয়ার ‘হাউস অব হররস’ নামের সেই বাড়িতে মিলল নারীকে শ্বাসরোধে হ ত্যার ভিডিও
যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিতাড়িত অভিবাসীদের নিজ দেশে না পাঠিয়ে আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে পাঠাচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন
যুক্তরাষ্ট্রে এইচ-১বি ভিসাধারী বিদেশি দক্ষ কর্মীদের নির্ভরশীল জীবনসঙ্গীদের (এইচ-৪ ভিসা) ওয়ার্ক পারমিট বা কাজের অনুমতি বাতিলের বিষয়টি বিবেচনা করছে ট্রাম্প প্রশাসন। এই প্রস্তাবনা কার্যকর হলে দেশটিতে এক দশকেরও বেশি সময় ধরে চলে আসা নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে, যা বহু প্রবাসী পরিবারের কর্মজীবন ও আর্থিক আয়ের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের 'অফিস অব ইনফরমেশন অ্যান্ড রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স'-এর ওয়েবসাইটে (Reginfo.gov) সম্প্রতি প্রস্তাবিত এই বিধিটি প্রকাশ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে মূলত ২০১৫ সালে ওবামা প্রশাসনের আমলে চালু হওয়া একটি নিয়মকে বাতিল করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যার আওতায় নির্দিষ্ট শর্তপূরণ সাপেক্ষে এইচ-৪ ভিসাধারীরা কাজের অনুমতি বা 'এমপ্লয়মেন্ট অথরাইজেশন ডকুমেন্ট' (ইএডি) পেয়ে আসছিলেন। বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, কোনো এইচ-১বি ভিসা থাকা কর্মীর গ্রিন কার্ডের আবেদন (ফর্ম আই-১৪০) অনুমোদিত হলে কিংবা গ্রিন কার্ড ব্যাকলগের কারণে ভিসার মেয়াদ ছয় বছরের বেশি বাড়ানো হলে, তাদের এইচ-৪ ভিসাধারী স্বামী বা স্ত্রী কাজের অনুমতির আবেদন করতে পারেন। নতুন প্রস্তাবটি চূড়ান্ত হলে প্রযুক্তি, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও অর্থায়নসহ বিভিন্ন পেশাগত খাতে কর্মরত হাজার হাজার দক্ষ এইচ-৪ ভিসাধারী তাদের কর্মসংস্থানের সুযোগ হারাবেন। বিশেষ করে যারা বছরের পর বছর ধরে কর্মসংস্থান-ভিত্তিক গ্রিন কার্ডের অপেক্ষায় রয়েছেন এবং পরিবারের ব্যয় নির্বাহে স্বামী-স্ত্রী উভয়ের আয়ের ওপর নির্ভরশীল, তাদের ওপর এটি সরাসরি নেতিবাচক আর্থিক চাপ তৈরি করবে। এই প্রস্তাবের সমর্থকরা দাবি করছেন, এইচ-৪ ক্যাটাগরির ওয়ার্ক পারমিট বাতিল করা হলে প্রায় ৬ লাখ কর্মসংস্থান স্থানীয় আমেরিকান কর্মীদের জন্য উন্মুক্ত হতে পারে। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এটি কেবলই একটি প্রাথমিক অনুমান এবং চূড়ান্ত নীতিমালার ওপর ভিত্তি করেই এর প্রকৃত অর্থনৈতিক প্রভাব স্পষ্ট হবে। তবে অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রস্তাবটি এখনো কার্যকর হয়নি এবং বর্তমান কার্ডধারীদের কাজের অনুমতি অবিলম্বে বাতিল হচ্ছে না। যেকোনো প্রশাসনিক প্রস্তাব চূড়ান্ত বিধিতে রূপ নেওয়ার আগে ফেডারেল প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে জনসাধারণের মতামত গ্রহণ ও পর্যালোচনার প্রয়োজন হয়। ফলে প্রশাসন থেকে চূড়ান্ত কোনো আদেশ জারি না হওয়া পর্যন্ত বর্তমান এইচ-৪ ইএডি কার্ডধারীরা তাঁদের নির্ধারিত মেয়াদ অনুযায়ী আগের নিয়মেই কাজ চালিয়ে যেতে পারবেন। অভিবাসন নীতিমালা কঠোর করার সামগ্রিক কৌশলের অংশ হিসেবেই ট্রাম্প প্রশাসন এই পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে।
মহাবিশ্বের অজানা রহস্যের খোঁজে নাসার ৪ বিলিয়ন ডলারের ‘রোমান’ টেলিস্কোপ উৎক্ষেপণ
মেরিল্যান্ডে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনা: বাংলাদেশি পরিবারের স্ত্রী ও বড় মেয়ে নিহত, স্বামী ও ছোট মেয়ে হাসপাতালে