সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

পর্তুগাল

পর্তুগালে বোরকা-নিকাবসহ মুখঢাকা পোশাক পরলে গুনতে হবে ৩ হাজার ইউরো পর্যন্ত জরিমানা
পর্তুগালে বোরকা-নিকাবসহ মুখঢাকা পোশাক পরলে গুনতে হবে ৩ হাজার ইউরো পর্যন্ত জরিমানা

পর্তুগালে জনসমক্ষে এমনভাবে মুখ ঢাকা নিষিদ্ধ করে নতুন আইন কার্যকর করা হয়েছে, যার মাধ্যমে কোনো ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে। নতুন এই আইনের ফলে জনসমক্ষে বোরকা ও নিকাব পরা মুসলিম নারীরাও সরাসরি এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়ছেন, যা দেশটিতে নতুন করে তুমুল বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।   আইন অনুযায়ী, জনসমক্ষে পরিচয় গোপনকারী কোনো পোশাক বা উপকরণ ব্যবহার করলে অমান্যকারীদের ন্যূনতম ১৫০ থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ৩ হাজার ইউরো পর্যন্ত জরিমানা গুনতে হবে।   তবে এই আইনটি সব ক্ষেত্রে ঢালাওভাবে প্রযোজ্য হবে না। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিশেষ কিছু যৌক্তিক পরিস্থিতিতে মুখ ঢাকার ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে স্বাস্থ্যগত জরুরি প্রয়োজন, পেশাগত দায়িত্ব পালন, শিল্প ও সংস্কৃতির কোনো বিশেষ আয়োজন, বৈরী আবহাওয়া এবং ধর্মীয় উপাসনালয়ের ভেতরের কার্যক্রম।   মূলত জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং জরুরি প্রয়োজনে দ্রুত ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত করার সুবিধার্থেই এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছেন আইনের পক্ষের সমর্থক ও নীতিনির্ধারকরা।   অন্যদিকে, মানবাধিকারকর্মী ও সুশীল সমাজের একটি বড় অংশ এই নতুন আইনের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তাদের মতে, এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা সরাসরি মানুষের ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং নারীদের নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী পোশাক পরার মৌলিক অধিকারে হস্তক্ষেপ করে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করার নামে নির্দিষ্ট কোনো সম্প্রদায়ের পোশাকের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ মানবাধিকারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে মনে করছেন তারা।   পর্তুগালের এই পদক্ষেপের রেশ কাটতে না কাটতেই স্পেনের বালিয়ারিক দ্বীপপুঞ্জেও বোরকা ও নিকাব নিষিদ্ধ করার এক নতুন উদ্যোগ সামনে এসেছে। স্পেনের ডানপন্থী রাজনৈতিক দল ভক্স ও পিপলস পার্টির পক্ষ থেকে আনা এই প্রস্তাবে বলা হয়েছে, আইন বারবার লঙ্ঘন করলে সর্বোচ্চ ৩০ হাজার ইউরো পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে।   এমনকি কাউকে জোর করে বোরকা বা নিকাব পরতে বাধ্য করলে চার বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের কঠোর বিধানেরও প্রস্তাব করা হয়েছে। ইউরোপের বিভিন্ন দেশে মুখঢাকা পোশাক নিয়ে একের পর এক এমন আইন ও প্রস্তাবের ফলে জননিরাপত্তা, ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং ব্যক্তিগত মানবাধিকারের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার বিতর্কটি এখন পুরো মহাদেশ জুড়েই আরও জোরালো হয়ে উঠেছে।

ইসতিয়াক আহমেদ আগস্ট ১৮, ২০২৬ ১৪:০
প্রায় এক দশকের সম্পর্কের পর কোনো বিশাল আয়োজন ছাড়াই নিজেদের বাড়িতে খুব সীমিত পরিসরে বিয়ে করেছেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো ও জর্জিনা রদ্রিগেজ। ছবি: সংগৃহীত
শুধু সন্তানরাই ছিলেন অতিথি, একান্ত সাদামাটা আয়োজনে বিয়ে সারলেন রোনালদো-জর্জিনা

চাইলেই বিশ্বের সবচেয়ে জাঁকজমকপূর্ণ বিয়েগুলোর একটি আয়োজন করতে পারতেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো ও জর্জিনা রদ্রিগেজ। অর্থ, খ্যাতি কিংবা অতিথির তালিকায় তারকার অভাব ছিল না। কিন্তু প্রায় এক দশকের সম্পর্কের পর বিয়ের দিনটিতে তারা বেছে নিলেন ঠিক উল্টোটা। কোনো বিশাল আয়োজন বা রেড কার্পেট নয়, নিজেদের বাড়িতে খুব সীমিত পরিসরে বিয়ে করেছেন এই তারকা জুটি।    গত ১১ আগস্ট পর্তুগালের কাসকাইসে নিজেদের বাড়িতে বিয়ে করেন রোনালদো ও জর্জিনা। দিনটির আরেকটি বিশেষ তাৎপর্য ছিল, ঠিক এক বছর আগে ২০২৫ সালের ১১ আগস্ট নিজেদের বাগদানের ঘোষণা দিয়েছিলেন তারা। একই সঙ্গে প্রায় ১০ বছর আগে মাদ্রিদের একটি গুচি স্টোরে তাদের প্রথম পরিচয়ের স্মৃতিও জড়িয়ে আছে এই সময়ের সঙ্গে।    প্রকাশিত বিয়ের নথি নিয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সিভিল আনুষ্ঠানিকতায় চারজন সাক্ষী ছিলেন। তাদের মধ্যে ছিলেন জর্জিনার বোন ইভানা রদ্রিগেজ এবং রোনালদোর দীর্ঘদিনের বন্ধু মিগেল পাইশাও। তবে পুরো আয়োজনের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল তাদের পাঁচ সন্তান। বড় কোনো অতিথি তালিকার পরিবর্তে সন্তানদের নিয়েই ব্যক্তিগত মুহূর্তটি কাটাতে চেয়েছিলেন তারা।    সিভিল বিয়ের পর রোনালদো, জর্জিনা ও তাদের সন্তানরা যান পর্তুগালের বিখ্যাত ফাতিমা ধর্মীয় তীর্থস্থানে। সেখানে একটি ব্যক্তিগত ধর্মীয় অনুষ্ঠানে তাদের বিবাহিত জীবনের জন্য আশীর্বাদ নেওয়া হয়। অর্থাৎ প্রচলিত অর্থে বড় কোনো চার্চ ওয়েডিংয়ের পরিবর্তে ধর্মীয় অংশটিও রাখা হয়েছিল অত্যন্ত ব্যক্তিগত।    বিয়ের ছবি ও বিস্তারিত প্রকাশের বিশেষ সুযোগ পেয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ভোগ। সেখানে জর্জিনা জানিয়েছেন, তাদের জীবনে বাড়ি, গাড়ি, ভ্রমণ কিংবা বিলাসবহুল জিনিস পাওয়াটা কঠিন নয়। বরং এত পরিচিত জীবনে সত্যিকারের ব্যক্তিগত একটি মুহূর্ত পাওয়াই তাদের কাছে অনেক বেশি বিরল ও মূল্যবান হয়ে উঠেছে।    বিয়ের পোশাকেও ছিল তাদের সম্পর্কের শুরুর গল্পের ছোঁয়া। যে গুচি স্টোরে দুজনের প্রথম পরিচয় হয়েছিল, বিয়ের দিন দুজনেই সেই ফ্যাশন হাউসের তৈরি পোশাক পরেন। জর্জিনা প্রচলিত ভারী ওয়েডিং গাউনের পরিবর্তে সাদা সিল্কের পোশাক বেছে নেন, আর রোনালদো পরেছিলেন কাস্টম তৈরি হালকা রঙের স্যুট।    তবে অনুষ্ঠান ছোট হলেও জর্জিনার গয়নায় বিলাসিতার কমতি ছিল না। বিয়েতে তিনি শোপার্ডের অত্যন্ত মূল্যবান ডায়মন্ড জুয়েলারি পরেছিলেন। ফলে আয়োজন ছিল ব্যক্তিগত, কিন্তু তারকাজুটির নিজস্ব স্টাইলও ছিল স্পষ্ট।    রোনালদো ও জর্জিনার সম্পর্ক শুরু হয় ২০১৬ সালে। পরের বছর তারা প্রকাশ্যে একসঙ্গে আসেন। এরপর দীর্ঘ সময় ধরে তারা পরিবার গড়ে তুলেছেন, সন্তানদের বড় করেছেন এবং ব্যক্তিগত জীবনের সুখ-দুঃখ একসঙ্গে পার করেছেন। ২০২২ সালে যমজ সন্তানের জন্মের সময় তাদের নবজাতক ছেলে মারা যাওয়ার কঠিন অভিজ্ঞতাও একসঙ্গে সামলেছেন তারা।    দীর্ঘদিন ধরেই তাদের বিয়ে নিয়ে নানা জল্পনা ছিল। অবশেষে সেই বিয়েটা হলো এমনভাবে, যা তাদের তারকাখ্যাতির সঙ্গে যেন একেবারেই বিপরীত। বিশাল হলরুম, শত শত অতিথি কিংবা ক্যামেরার ভিড়ের বদলে নিজেদের বাড়ি, সন্তান এবং অল্প কয়েকজন কাছের মানুষকেই বেছে নিয়েছেন তারা।   বিশ্বের সবচেয়ে পরিচিত ক্রীড়া তারকাদের একজনের কাছে বিলাসিতা হয়তো প্রতিদিনের জীবনের অংশ। কিন্তু রোনালদো ও জর্জিনার বিয়ের আয়োজন দেখাল, তাদের কাছে সেই দিনের সবচেয়ে দামি বিষয়টি ছিল এমন কিছু, যা অর্থ দিয়ে সহজে কেনা যায় না - ব্যক্তিগতভাবে নিজেদের মুহূর্তটুকু উপভোগ করার সুযোগ।

তাবাস্সুম আগস্ট ১৮, ২০২৬ ১৪:০
রোনালদোর বিয়ের ভেবে ভেন্যুর সামনে ভিড়
রোনালদোর বিয়ের ভেবে ভেন্যুর সামনে ভিড়, শেষে বেরিয়ে এলেন অন্য নবদম্পতি

পর্তুগালের মাদেইরায় ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো ও জর্জিনা রদ্রিগেজের কথিত বিয়েকে ঘিরে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছিল। ৮ আগস্ট ফুঞ্চাল ক্যাথেড্রালে তাদের বিয়ের অনুষ্ঠান হতে পারে, এমন খবর ছড়িয়ে পড়ার পর ক্যাথেড্রালের সামনে জড়ো হন ভক্ত ও গণমাধ্যমকর্মীরা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেখানে দেখা গেল অন্য এক নবদম্পতিকে।   ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য সানের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, রোনালদো ও জর্জিনার বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা ৮ আগস্ট মাদেইরার ফুঞ্চালে সম্পন্ন হওয়ার কথা। বিয়ের পর অতিথিদের নিয়ে যাওয়ার কথা ছিল পাঁচ তারকা সাভয় প্যালেস হোটেলে। প্রতিবেদনটিতে আরও বলা হয়েছিল, সম্ভাব্য অনুষ্ঠানকে ঘিরে হোটেলটির দুটি তলা আগে থেকেই সংরক্ষণ করা হয়েছিল।   তবে রোনালদো ও জর্জিনার পক্ষ থেকে ৮ আগস্টের বিয়ের তারিখ বা ফুঞ্চাল ক্যাথেড্রালকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিয়ের স্থান হিসেবে নিশ্চিত করা হয়নি। এর আগে বিভিন্ন পর্তুগিজ সংবাদমাধ্যমও ২০২৬ সালের গ্রীষ্মে মাদেইরায় তাদের বিয়ের সম্ভাব্য আয়োজনের কথা জানিয়েছিল।   এই গুঞ্জনের মধ্যেই ক্যাথেড্রালের সামনে ভক্ত ও সংবাদকর্মীদের ভিড় বাড়তে থাকে। অনেকেই অপেক্ষা করছিলেন রোনালদো ও জর্জিনাকে বিয়ের পোশাকে দেখার জন্য।   কিন্তু ক্যাথেড্রাল থেকে বেরিয়ে আসা নবদম্পতি ছিলেন ফাবিও সান্তোস রামোস ও ফাতিমা নিকোল কুনহা তেইক্সেইরা। মাদেইরা অঞ্চলের এই দম্পতি বর্তমানে ফ্রান্সে বসবাস করেন।   ফলে রোনালদো-জর্জিনার বিয়ের আশায় জড়ো হওয়া মানুষজনের সামনে তৈরি হয় বেশ মজার এক পরিস্থিতি। ক্যামেরার সামনে দিয়ে যখন অন্য দম্পতি নববিবাহিত সাজে বেরিয়ে আসেন, তখন তাদের ঘিরেও মুহূর্তেই আগ্রহ তৈরি হয়।   ঘটনাটি নিয়ে অবশ্য ওই নবদম্পতির বিরক্ত হওয়ার কোনো লক্ষণ দেখা যায়নি। বরং ক্যাথেড্রালের বাইরে নিজেদের ঘিরে তৈরি হওয়া অতিরিক্ত আগ্রহের বিষয়টি তারা উপভোগ করেছেন বলেই বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।   রোনালদো ও জর্জিনার বিয়ে নিয়ে আগ্রহের শুরু অবশ্য অনেক আগেই। ২০২৫ সালের আগস্টে দীর্ঘদিনের সঙ্গী জর্জিনাকে বিয়ের প্রস্তাব দেন রোনালদো। এরপর থেকেই তাদের বিয়ের সম্ভাব্য সময় ও স্থান নিয়ে জল্পনা শুরু হয়।   রোনালদোর জন্মস্থান মাদেইরায় বিয়ের আয়োজনের খবর প্রকাশের পর সেই আগ্রহ আরও বেড়ে যায়। তবে তারকা এই জুটির ব্যক্তিগত অনুষ্ঠান নিয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসা পর্যন্ত বিয়ের নির্দিষ্ট তারিখ, স্থান ও আয়োজনের বিস্তারিত তথ্যকে নিশ্চিত হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।   ৮ আগস্টের ঘটনাটি তাই রোনালদো-জর্জিনার বিয়ে নয়, বরং তাদের বিয়ের গুঞ্জনকে ঘিরে তৈরি হওয়া এক মজার ভুল প্রত্যাশার ঘটনাই হয়ে থাকল।

নীলুফা নিশাত আগস্ট ৯, ২০২৬ ১৪:০
পর্তুগালে ‘অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়
পর্তুগালে ‘অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়’, ২ বাংলাদেশি গ্রেপ্তার

পর্তুগালের রাজধানী লিসবনে এক বিদেশিকে অপহরণ করে দুই দিন আটকে রেখে মারধর, হুমকি ও নির্যাতনের মাধ্যমে মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগে দুই বাংলাদেশিকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির জুডিশিয়ারি পুলিশ।   গ্রেপ্তার দুই বাংলাদেশির বয়স ৩৫ ও ৪৩ বছর। তবে তদন্তের স্বার্থে তাদের নাম প্রকাশ করা হয়নি। তাদের গ্রেপ্তারে পরিচালিত অভিযানের সাংকেতিক নাম দেওয়া হয়েছিল বাংলাদেশের মুদ্রা ‘টাকা’র নামে।   পর্তুগালের স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জরনাল দে নোতিসিয়াসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৭ জুন লিসবনের একটি সড়ক থেকে ভয়ভীতি দেখিয়ে ওই বিদেশিকে জোর করে একটি বাসায় নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তাকে বিভিন্ন স্থানে নেওয়া হলেও পুরো সময় আটকে রাখা হয়েছিল।   পর্তুগালের জুডিশিয়ারি পুলিশ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, আটকে রাখার সময় ভুক্তভোগীকে বারবার মারধর ও হুমকি দেওয়া হয়। একই সঙ্গে তার মুক্তির বিনিময়ে বড় অঙ্কের অর্থ দাবি করা হয়।   স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, শেষ পর্যন্ত মুক্তিপণের অর্থ পরিশোধের পর ভুক্তভোগীকে ছেড়ে দেওয়া হয়। নির্যাতনের কারণে পরে তাকে চিকিৎসা নিতে হয়। চিকিৎসা নেওয়ার পর তিনি পুলিশের কাছে অভিযোগ করেন।   অভিযোগ পাওয়ার পর জুডিশিয়ারি পুলিশের জাতীয় সন্ত্রাসবিরোধী ইউনিট তদন্ত শুরু করে। তদন্তে সন্দেহভাজনদের শনাক্ত করার পর অভিযান চালিয়ে দুই বাংলাদেশিকে গ্রেপ্তার করা হয়।   গ্রেপ্তারের পর তাদের প্রাথমিক বিচারিক শুনানির জন্য সংশ্লিষ্ট আদালত বা বিচার বিভাগীয় কর্তৃপক্ষের সামনে হাজির করা হবে। সেখানে তাদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া এবং প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।   লিসবনের তদন্ত ও প্রসিকিউশন বিভাগের পাবলিক প্রসিকিউটর অফিস ঘটনাটির তদন্ত অব্যাহত রেখেছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করবে।

নীলুফা নিশাত আগস্ট ৮, ২০২৬ ১৪:০
গ্রামাঞ্চলে বসবাসের শর্তে বিদেশিদের হাজার হাজার ডলার দিচ্ছে পর্তুগাল
গ্রামাঞ্চলে বসবাসের শর্তে বিদেশিদের হাজার হাজার ডলার দিচ্ছে পর্তুগাল

মনোরম আবহাওয়া এবং সাশ্রয়ী জীবনযাত্রার জন্য প্রবাসীদের কাছে পর্তুগাল এমনিতেই দারুণ জনপ্রিয় একটি গন্তব্য। এবার বিদেশি ও প্রবাসীদের আকৃষ্ট করতে দেশটির সরকার নিয়ে এসেছে ‘এমপ্রেগো ইন্টেরিয়র মাইস’ নামের একটি বিশেষ প্রণোদনা প্রকল্প। এই প্রকল্পের আওতায় পর্তুগালের নির্দিষ্ট কিছু গ্রামাঞ্চলে স্থায়ীভাবে বসবাস এবং কাজের শর্ত পূরণ করলে আবেদনকারীদের হাজার হাজার ডলার আর্থিক সহায়তা বা অনুদান দেওয়া হচ্ছে। তবে যারা লিসবন বা পোর্তোর মতো বড় ও ব্যস্ত শহরে থাকতে চান, তারা এই অনুদান পাবেন না। এর বদলে আলেন্তেজো বা ট্যাগাস ভ্যালির মতো গ্রামীণ বা অভ্যন্তরীণ এলাকাগুলোতে বসবাস করলেই কেবল এই বিশাল আর্থিক সুবিধা মিলবে।   এই কর্মসূচির আওতায় আর্থিক সহায়তার পরিমাণ আবেদনকারীর নির্দিষ্ট পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে। তবে অনুদানের মূল পরিমাণ হিসেবে একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ ৩ হাজার ৭৫৯ ইউরো (প্রায় ৪ হাজার ৩৭৮ ডলার) পর্যন্ত পেতে পারেন। এর পাশাপাশি পরিবারের অন্য কোনো সদস্য সাথে গেলে জনপ্রতি আরও ২০ শতাংশ করে অনুদান যোগ হবে। অনুমোদনের ১০ কর্মদিবসের মধ্যে মোট অর্থের ৬০ শতাংশ এবং কাজ বা ব্যবসা শুরুর ১৩তম মাসে বাকি ৪০ শতাংশ অর্থ প্রদান করা হয়। নতুন কর্মসংস্থান খুঁজছেন এমন বেকার ব্যক্তি, প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে কাজ করা ফ্রিল্যান্সার বা রিমোট ওয়ার্কার এবং ২০১৫ সালের পর পর্তুগাল ছেড়ে অন্তত এক বছর বিদেশে থাকা প্রবাসীরা এই অনুদানের জন্য আবেদন করতে পারবেন।   তবে এই লোভনীয় সুবিধার একটি বড় শর্ত হলো, আবেদনকারীকে অবশ্যই অন্তত ১২ মাসের জন্য ওই অঞ্চলে স্থায়ীভাবে বসবাস করতে হবে। বিদেশিরা চাইলেই সরাসরি পর্তুগালে গিয়ে এই অনুদান পাবেন না; এর জন্য তাদের প্রথমে বৈধ রেসিডেন্সি বা বসবাসের আইনি অনুমতি থাকতে হবে। তবে যারা এই আর্থিক অনুদানের যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন না, তাদের জন্যও পর্তুগালে বসবাসের চমৎকার বিকল্প সুযোগ রয়েছে। বিশেষ করে ডিজিটাল নোম্যাড বা রিমোট ওয়ার্কাররা 'ডি৮' (D8) ভিসার মাধ্যমে পর্তুগালে যাওয়ার সুযোগ পান। এই ভিসার অধীনে এক বছরের অস্থায়ী বসবাস কিংবা চার মাসের প্রাথমিক রেসিডেন্সি ভিসা নিয়ে পরবর্তীতে সরকারি সংস্থা 'এআইএমএ'-এর (AIMA) মাধ্যমে স্থায়ী বসবাসের আবেদন করা যায়।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ২৫, ২০২৬ ১৪:০
ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত
ট্রাম্পের আমলে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার হিড়িক, ইউরোপমুখী হাজারো মার্কিনি

ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের নীতি, রাজনৈতিক মেরুকরণ, অভিবাসন অভিযান এবং নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে উদ্বেগের কারণে যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে ইউরোপে পাড়ি দিচ্ছেন রেকর্ডসংখ্যক মার্কিন নাগরিক। সাম্প্রতিক একাধিক তথ্য ও স্বাধীন অনুসন্ধানে দেখা গেছে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশত্যাগের প্রবণতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।   ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিপেনডেন্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র থেকে ইউরোপে স্থায়ীভাবে বসবাসের পরিকল্পনা করছেন এমন মানুষের সংখ্যা গত কয়েক বছরে উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। অনেকেই পর্তুগাল, স্পেন, ফ্রান্স, ইতালি ও আয়ারল্যান্ডকে নতুন ঠিকানা হিসেবে বেছে নিচ্ছেন। প্রতিবেদনে নিউইয়র্কের ৭৮ বছর বয়সী টি জে মালোনের উদাহরণ তুলে ধরা হয়েছে। তিনি চলতি বছরের শেষ দিকে পর্তুগালের আলগারভ অঞ্চলে চলে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান রাজনৈতিক পরিবেশ, বন্দুক সহিংসতা এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ তাকে এমন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছে।  দ্য ইন্ডিপেনডেন্টের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বিভিন্ন পরিসংখ্যান অনুযায়ী ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় এক লাখ ৫০ হাজার মানুষের নিট জনসংখ্যা হ্রাস ঘটেছে। ১৯৩০-এর দশকের মহামন্দার পর এটিই প্রথমবারের মতো দেশটি নিট অভিবাসন হ্রাসের মুখে পড়েছে।  প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, অনেক মার্কিন নাগরিকের কাছে উন্নত স্বাস্থ্যসেবা, তুলনামূলক নিরাপদ জীবন, কম রাজনৈতিক বিভাজন, উন্নত কর্মজীবন ও ব্যক্তিজীবনের ভারসাম্য এবং শান্ত পরিবেশ ইউরোপে যাওয়ার অন্যতম কারণ হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে ইউরোপের কয়েকটি দেশে দীর্ঘমেয়াদি ভিসা, অবসরজীবন ও দূর থেকে কাজের সুযোগও এই প্রবণতাকে উৎসাহিত করছে।    সাম্প্রতিক সময়ে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে মার্কিন নাগরিকদের আবাসন, নাগরিকত্ব ও দীর্ঘমেয়াদি বসবাসসংক্রান্ত আবেদনও বেড়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বিশেষ করে পর্তুগাল ও দক্ষিণ ইউরোপের কয়েকটি দেশ মার্কিন নাগরিকদের কাছে জনপ্রিয় গন্তব্যে পরিণত হয়েছে।    দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক পরিস্থিতির পাশাপাশি জীবনযাত্রার ব্যয়, স্বাস্থ্যসেবার খরচ এবং সামাজিক পরিবেশ নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। এসব কারণ একত্রে অনেক মার্কিন নাগরিককে নতুন জীবন শুরু করার জন্য ইউরোপের দিকে ঝুঁকতে উৎসাহিত করছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ১৮, ২০২৬ ১৪:০
পর্তুগালে পাস হলো বোরকা নিষিদ্ধের আইন
পর্তুগালে পাস হলো বোরকা নিষিদ্ধের আইন, জনসমক্ষে মুখ ঢাকলেই ৩ হাজার ইউরো জরিমানা

দীর্ঘ আট মাসের চুলচেরা বিশ্লেষণ ও বিতর্কের পর জনপরিসরে মুখ ঢাকা বা বোরকা পরিধান নিষিদ্ধের আইন চূড়ান্তভাবে অনুমোদন করেছে পর্তুগালের সংসদ। নতুন এই আইন অনুযায়ী, যেকোনো স্থানে জনসমক্ষে মুখ ঢেকে রাখা এখন থেকে বেআইনি বলে গণ্য হবে। কেউ এই নিয়ম লঙ্ঘন করলে তাকে প্রাথমিকভাবে ১৫০ থেকে ৭৫০ ইউরো পর্যন্ত জরিমানা গুনতে হবে। তবে ইচ্ছাকৃতভাবে বা জোরপূর্বক এই আইন অমান্য করলে জরিমানার পরিমাণ ৪০০ থেকে সর্বোচ্চ ৩ হাজার ইউরো পর্যন্ত হতে পারে। নতুন এই আইনে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, বয়স, লিঙ্গ, ধর্মীয় পরিচয় বা অন্য কোনো কারণে কাউকে জোরপূর্বক মুখ ঢাকতে বাধ্য করা যাবে না।   গত শুক্রবার সংসদে অনুষ্ঠিত চূড়ান্ত সাধারণ ভোটে ডানপন্থী ও রক্ষণশীল দলগুলোর সমর্থনে বিলটি পাস হয়। শেগা, ইনিশিয়েটিভা লিবারেল, পিএসডি এবং সিডিএস-এর মতো দলগুলো এই বিলের পক্ষে ভোট দেয়। অন্যদিকে, বামপন্থী সংসদ সদস্যরা শুরু থেকেই এই আইনের তীব্র বিরোধিতা করে আসছিলেন। মূলত কট্টরপন্থী শেগা পার্টির নেতা আন্দ্রে ভেঞ্চুরার নেতৃত্বাধীন দলটি প্রথম এই প্রস্তাব সংসদে উত্থাপন করেছিল। চূড়ান্ত ভোটের আগে গত সপ্তাহে সাংবিধানিক বিষয়ক কমিটিতেও বিলটি সংখ্যাগরিষ্ঠের ভোটে অনুমোদিত হয়।   জানা যায়, ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে বিলটি নীতিগতভাবে অনুমোদন পেয়েছিল এবং তারপর থেকেই এটি নিয়ে আলোচনা চলছিল। এরপর চলতি বছরের জুনে পিএসডি দল শেগার মূল প্রস্তাবের বিপরীতে একটি বিকল্প খসড়া উপস্থাপন করে, যেখানে সরাসরি ধর্মীয় কারণের চেয়ে জাতীয় নিরাপত্তাকে বেশি প্রাধান্য দেওয়া হয়। পরবর্তীতে শেগা তাদের আগের প্রস্তাবে প্রয়োজনীয় সংশোধন এনে নতুন খসড়া তৈরি করে। চূড়ান্ত আইনে মূলত জাতীয় নিরাপত্তা ও জনশৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থকেই জনপরিসরে মুখ ঢাকা নিষিদ্ধের প্রধান ভিত্তি হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ১৬, ২০২৬ ১৪:০
পর্তুগালে বিদেশির সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে
পর্তুগালে বিদেশির সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে, উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে বাংলাদেশির উপস্থিতি

পর্তুগালে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিদেশি নাগরিকের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। দেশটির অভিবাসন ও সীমান্ত ব্যবস্থাপনা সংস্থা এআইএমএ (AIMA)-এর সর্বশেষ প্রাথমিক তথ্যে দেখা গেছে, বর্তমানে দেশটির প্রতি সাতজন বাসিন্দার মধ্যে একজন বিদেশি।   ২০২৬ সালের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ১ কোটি ৭ লাখ জনসংখ্যার এই ইউরোপীয় দেশে এখন বৈধভাবে বসবাস করছেন ১৫ লাখেরও বেশি অভিবাসী, যা মোট জনসংখ্যার প্রায় ১৪ শতাংশ। মাত্র তিন বছর আগেও এই চিত্র ভিন্ন ছিল। ২০২৩ সালে পর্তুগালে বিদেশি বাসিন্দার সংখ্যা ছিল প্রায় ১০ লাখ ৪৪ হাজার, যা তখন মোট জনসংখ্যার প্রায় ১০ শতাংশের সমান। অর্থাৎ, অল্প সময়ের ব্যবধানে অভিবাসীর সংখ্যা প্রায় ৪৫ শতাংশ বেড়েছে।   বিশ্লেষকরা বলছেন, এই প্রবৃদ্ধি পর্তুগালকে ইউরোপের অন্যতম অভিবাসীবান্ধব দেশে পরিণত করেছে।   এই বৃদ্ধির ধারায় বাংলাদেশিদের উপস্থিতিও দিন দিন দৃশ্যমান হয়ে উঠছে। এআইএমএ-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে দেশটিতে বৈধভাবে বসবাসরত বাংলাদেশির সংখ্যা ছিল প্রায় ২৫ হাজার ৬৬৬ জন। তবে ২০২৬ সালে সেই সংখ্যা ৪০ হাজার ছাড়িয়ে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বর্তমানে যেসব আবেদন এআইএমএ-তে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে, সেগুলোর নিষ্পত্তি হলে বাংলাদেশি অভিবাসীর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।   অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, পর্তুগালের শ্রমবাজারে কর্মীর চাহিদা, তুলনামূলক সহজ ভিসা প্রক্রিয়া এবং দীর্ঘমেয়াদি বসবাস ও নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ—এই তিনটি কারণ বিদেশিদের কাছে দেশটিকে বিশেষভাবে আকর্ষণীয় করে তুলেছে। নির্মাণ, কৃষি, পর্যটন ও সেবাখাতে কর্মীর ঘাটতি থাকায় বিদেশি শ্রমিকদের জন্য সেখানে সুযোগও বাড়ছে।   তবে এই সুযোগের পাশাপাশি কিছু ঝুঁকির কথাও তুলে ধরছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো থেকে যাওয়া অনেক আবেদনকারী দালালচক্র ও ভুয়া চাকরির প্রলোভনের শিকার হচ্ছেন। ফলে বিদেশে যাওয়ার আগে নির্ভরযোগ্য তথ্য যাচাই এবং সরকারি প্রক্রিয়া অনুসরণের পরামর্শ দিয়েছেন অভিবাসন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।   সামগ্রিকভাবে, পর্তুগালে অভিবাসীদের ক্রমবর্ধমান উপস্থিতি দেশটির অর্থনীতি ও শ্রমবাজারে ইতিবাচক প্রভাব ফেললেও, সুশৃঙ্খল ও নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত করা এখন বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিচ্ছে।

নীলুফা নিশাত জুন ২৪, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
সমালোচনার জবাবে যা বললেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো

ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে বিশ্বকাপে প্রত্যাশা অনুযায়ী পারফর্ম করতে না পারায় তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন পর্তুগালের তারকা ফুটবলার ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। তবে ম্যাচ শেষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গণমাধ্যমে দেওয়া বার্তায় তিনি দলকে ঘুরে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন।   পর্তুগালের প্রথম ম্যাচটি ১-১ গোলে ড্র হয়। ম্যাচের শুরুতে জোয়াও নেভেসের গোলে এগিয়ে যায় পর্তুগাল। তবে বিরতির আগেই ইয়োয়ানে উইসার গোলে সমতায় ফেরে ডিআর কঙ্গো। দ্বিতীয়ার্ধে কোচ রবার্তো মার্টিনেজ একাধিক পরিবর্তন আনলেও রোনালদো পুরো ৯০ মিনিটই মাঠে থাকেন।   ম্যাচে রোনালদোর পারফরম্যান্স ছিল নিষ্প্রভ। তিনি মাত্র ২৫টি টাচ করতে সক্ষম হন। তিনটি শট নিলেও একটিও লক্ষ্যে ছিল না। ফলে তার শুরুর একাদশে থাকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সমর্থকদের একটি অংশ।   তবু এই ম্যাচের মাধ্যমে তিনি ইতিহাসে নাম লিখিয়েছেন। আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসির সঙ্গে টানা ষষ্ঠ বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া ফুটবলার হিসেবে তিনি অনন্য কীর্তি গড়েছেন। আন্তর্জাতিক ফুটবলে তার গোল সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৪৩, যা পর্তুগালের সর্বোচ্চ।   ম্যাচ শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রোনালদো বলেন, শুরুটা প্রত্যাশা অনুযায়ী হয়নি। তবে তিনি দলের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদী। তিনি বলেন, “আমরা যেভাবে শুরু করতে চেয়েছিলাম, সেভাবে হয়নি। কিন্তু এটা এখনো শেষ হয়নি। মাথা উঁচু রেখে পরের ম্যাচে মনোযোগ দিতে হবে।”   রোনালদোর এই বার্তাকে সমর্থকরা দলকে মানসিকভাবে চাঙা রাখার প্রচেষ্টা হিসেবে দেখছেন। অন্যদিকে কোচ রবার্তো মার্টিনেজ রোনালদোর ভূমিকা নিয়ে সমালোচনার জবাবে বলেন, এমন পরিস্থিতিতে বিশ্বের শীর্ষ গোলদাতাকে মাঠ থেকে সরিয়ে নেওয়া যুক্তিসংগত নয়, কারণ গোলের প্রয়োজন হলে অভিজ্ঞ ফরোয়ার্ডই সবচেয়ে কার্যকর বিকল্প।   পর্তুগাল এখন গ্রুপ পর্বে পরবর্তী ম্যাচে উজবেকিস্তানের মুখোমুখি হবে। এরপর কলম্বিয়ার বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচ খেলবে দলটি।

Unknown জুন ১৯, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
৫২ বছর পর বিশ্বমঞ্চে ফিরে রোনালদোর পর্তুগালকে রুখে দিল কঙ্গো

এক পাশে ৪১ বছর বয়সী ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর আরেকটি বিশ্বকাপ রাঙানোর মিশন, আর অন্য পাশে দীর্ঘ ৫২ বছর পর বিশ্বমঞ্চে ফেরা ডিআর কঙ্গোর অস্তিত্বের লড়াই। ডালাসের মাঠে শক্তির বিচারে পর্তুগাল যোজন যোজন এগিয়ে থাকলেও মাঠের ফুটবলে তার ন্যূনতম প্রতিফলন দেখা যায়নি। ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকে পুরো ৯০ মিনিট কড়া পাহারায় বোতলবন্দী করে রাখার পাশাপাশি আক্রমণেও সমানে সমান পাল্লা দিয়েছে ডিআর কঙ্গো।   সেই ভয়ডরহীন ফুটবলের সুবাদেই শক্তিশালী পর্তুগালকে ১–১ গোলে রুখে দিয়ে স্মরণীয় এক ড্র আদায় করে নিয়েছে আফ্রিকান দলটি।   ম্যাচের শুরু থেকেই উইং ব্যবহার করে আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে পর্তুগাল। কঙ্গোর রক্ষণভাগকে প্রবল চাপে রেখে মাত্র ৬ মিনিটেই তারা প্রথম সাফল্যের দেখা পায়। বাঁ প্রান্ত থেকে পেদ্রো নেতোর বাড়ানো নিখুঁত এক ক্রসে ডি-বক্সের ভেতর লাফিয়ে উঠে চমৎকার হেডে বল জালে জড়ান জোয়াও নেভেস। কঙ্গোর পাঁচ ডিফেন্ডারের উপস্থিতিতেও তুলনামূলক কম উচ্চতার নেভেস যেভাবে হেডে গোলটি আদায় করেন, তা ছিল সত্যিই দেখার মতো।   তবে শুরুতে এক গোল খেয়ে পিছিয়ে পড়ার পরও দমে যায়নি কঙ্গো। বরং খোলস ছেড়ে বেরিয়ে এসে তারা কাউন্টার অ্যাটাকে ওঠার চেষ্টা করতে থাকে এবং প্রথমার্ধের একেবারে শেষ মুহূর্তে তার ফলও পেয়ে যায়। নির্ধারিত সময় শেষে যোগ করা অতিরিক্ত সময়ের পঞ্চম মিনিটে এমবেম্বার কল্যাণে পাওয়া একটি কর্নার থেকে ছোট পাসে বল পান আর্থার মাসুয়াকু।   তার দূরপাল্লার নিখুঁত ক্রসটি খুঁজে নেয় সম্পূর্ণ অরক্ষিত অবস্থায় থাকা ইয়োয়ান উইসাকে। দারুণ এক লাফে পর্তুগিজ গোলরক্ষক দিয়োগো কস্তাকে পরাস্ত করে উইসা বল জালে জড়ান। আর তাতেই ৫২ বছর পর বিশ্বকাপে গোলের আনন্দে মাতোয়ারা হন কঙ্গোর ফুটবলাররা।   ১-১ সমতায় বিরতিতে যাওয়ার পর দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই কৌশল বদলান পর্তুগাল কোচ রবার্তো মার্তিনেস। তিনি বের্নার্দো সিলভাকে তুলে ফ্রান্সিসকো কনসিকাওকে মাঠে নামান। ৪৮ মিনিটে পেদ্রো নেতোর ক্রসে বক্সে কনসিকাও পড়ে গেলে পর্তুগাল পেনাল্টির আবেদন করলেও রেফারি তা নাকচ করে দেন। এরপর ৫৫ মিনিটে জোয়াও নেভেসের পাসে বল পেয়ে এক দুর্দান্ত ওভারহেড ভলিতে কঙ্গোর জালে বল পাঠান কানসেলো।   কিন্তু তিনি অফসাইড পজিশনে থাকায় ভিএআর সেই গোলটি বাতিল করে দেয়। পুরো ম্যাচেই ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকে কড়া পাহারায় রাখেন কঙ্গোর ডিফেন্ডার অ্যালেক্স তুয়ানজেবে ও এমবেম্বা। ৬৮ মিনিটে ব্রুনো ফের্নান্দেস সুবিধাজনক অবস্থানে থাকলেও রোনালদো নিজেই শট নিয়ে তা পোস্টের বাইরে মারেন। ৭৪ মিনিটেও রোনালদোর নেওয়া একটি শট তুয়ানজেবের দুর্দান্ত স্লাইডিং ট্যাকলে কর্নারের বিনিময়ে রক্ষা পায়।   রক্ষণ সামলানোর পাশাপাশি কাউন্টার অ্যাটাকে পর্তুগিজ রক্ষণভাগকে পুরো ম্যাচেই বেশ ভুগিয়েছে কঙ্গো। বিশেষ করে স্ট্রাইকার সেড্রিক বাকাম্বু একাই রুবেন দিয়াসদের বিরুদ্ধে প্রবল লড়াই চালিয়ে গেছেন। ৫৭ মিনিটে পর্তুগালের ডি-বক্সে ব্রুনো ফের্নান্দেসের কাছ থেকে বল কেড়ে নিয়ে বাকাম্বু শট নিলেও তা দুর্ভাগ্যবশত পোস্টে লেগে ফিরে আসে।   ৭৬ মিনিটে মাঝমাঠে বল পেয়ে নোয়া সাদিকি ফরোয়ার্ড ইয়োয়ান উইসাকে পাস বাড়ালে শেষ মুহূর্তে চমৎকার স্লাইডিংয়ে তা প্রতিহত করেন পর্তুগিজ ডিফেন্ডার থমাস আরাউহো। এর এক মিনিট পরেই বাকাম্বুর পাস থেকে গোলরক্ষককে একা পেয়েও পোস্টের বাইরে মারেন নোয়া সাদিকি। শেষ পর্যন্ত পর্তুগাল আর কঙ্গোর অফসাইড ট্র্যাপ ভাঙতে না পারায় হতাশাজনক ড্র নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় রোনালদোদের।

ইসতিয়াক আহমেদ জুন ১৭, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকে অধিনায়ক করে পর্তুগালের বিশ্বকাপ দল ঘোষণা

আসন্ন উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপের জন্য ৪১ বছর বয়সী মহাতারকা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকে অধিনায়ক করে ২৬ সদস্যের চূড়ান্ত দল ঘোষণা করেছে পর্তুগাল। মঙ্গলবার পর্তুগিজ কোচ রবের্তো মার্তিনেস এই দল ঘোষণা করেন। ঘোষিত এই স্কোয়াডে বিশ্বমঞ্চে দারুণ কিছুর প্রত্যাশায় অভিজ্ঞ ও একঝাঁক তরুণ প্রতিভার চমৎকার সমন্বয় ঘটিয়েছেন তিনি।   এবারের আসরেও রোনালদোর কাঁধেই থাকছে দলকে নেতৃত্ব দেওয়ার গুরুদায়িত্ব, যা তাঁর ফুটবল ক্যারিয়ারে আরও একটি অনন্য মাইলফলক যোগ করতে যাচ্ছে।   ঘোষিত এই শক্তিশালী স্কোয়াডে রোনালদোর পাশাপাশি জায়গা পেয়েছেন ইউরোপীয় ফুটবলের পরীক্ষিত তারকা ব্রুনো ফার্নান্দেস, বার্নার্দো সিলভা, রাফায়েল লেয়াও, জোয়াও ফেলিক্স ও গনসালো রামোসের মতো ফরোয়ার্ডরা। দল ঘোষণার সময় কোচ মার্তিনেস এক আবেগঘন বার্তা দেন।   গত বছর অকালে না-ফেরার দেশে চলে যাওয়া দলের ফরোয়ার্ড দিয়োগো জোটাকে সম্মান জানিয়ে প্রতীকীভাবে তাকে এই স্কোয়াডের ‘২৭তম সদস্য’ হিসেবে উল্লেখ করেন কোচ, যা ফুটবলপ্রেমীদের বেশ আবেগাপ্লুত করেছে।   এবারের বিশ্বকাপে গ্রুপ ‘কে’-তে খেলবে সাবেক ইউরো চ্যাম্পিয়নরা, যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ কলম্বিয়া, উজবেকিস্তান ও ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো। আগামী ১৭ জুন হিউস্টনে কঙ্গোর বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে রোনালদোর দল। এরপর ২৩ জুন উজবেকিস্তান এবং ২৮ জুন মিয়ামিতে শক্তিশালী কলম্বিয়ার মুখোমুখি হবে তারা।   ঘোষিত স্কোয়াডে গোলকিপার হিসেবে আছেন দিওগো কস্তা, জোসে সা, রুই সিলভা ও রিকার্দো ভেলহো। রক্ষণভাগ সামলানোর দায়িত্বে থাকছেন রুবেন দিয়াস, জোয়াও কানসেলো, নুনো মেন্দেস ও দিওগো দালোতের মতো বিশ্বমানের ডিফেন্ডাররা। এছাড়া মাঝমাঠ ও আক্রমণভাগের ধার বাড়াতে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর সঙ্গে থাকছেন ব্রুনো ফার্নান্দেস, ভিতিনহা, জোয়াও নেভেস, বার্নার্দো সিলভা, রাফায়েল লেয়াও, পেদ্রো নেতো ও গনসালো রামোস।

ইসতিয়াক আহমেদ মে ১৯, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
যুদ্ধবিরতির পর লেবাননের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি পর্তুগালের

মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক সংঘাতের পর লেবাননে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ায় দেশটির পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে পর্তুগাল। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানায়, লেবাননের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইউসুফ রাজ্জি তাঁর পর্তুগিজ সমকক্ষ পাওলো রাঙ্গেল-এর সঙ্গে বৈঠক করেছেন।   বৈঠকে লেবাননের বর্তমান পরিস্থিতি এবং দ্রুত পরিবর্তনশীল আঞ্চলিক প্রেক্ষাপট নিয়ে আলোচনা হয়। লেবাননের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতির পর দেশে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টা বৈঠকের গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় ছিল।   বৈঠক শেষে পাওলো রাঙ্গেল বলেন, লেবাননের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি পর্তুগালের পূর্ণ সমর্থন রয়েছে। তিনি যুদ্ধবিরতিকে স্বাগত জানিয়ে আলোচনার মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।   রাঙ্গেলের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি করেছে, যার মাধ্যমে টেকসই সমাধান সম্ভব হতে পারে। এতে লেবাননে স্থিতিশীলতা বাড়বে এবং দীর্ঘদিনের সংঘাতের অবসান ঘটতে পারে।   বিশ্লেষকেরা বলছেন, যুদ্ধবিরতির পর লেবাননকে ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কূটনৈতিক তৎপরতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে, যা ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সমাধানের ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।

Unknown এপ্রিল ১৬, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

মার্কিন নাগরিকত্ব

যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকরা যে ৪ ধরনের আত্মীয়কে পারিবারিক ভিসায় নিতে পারেন, জেনে নিন

বায়জিদ হাসান আগস্ট ২৮, ২০২৬ ১৪:০