দীর্ঘ আট মাসের চুলচেরা বিশ্লেষণ ও বিতর্কের পর জনপরিসরে মুখ ঢাকা বা বোরকা পরিধান নিষিদ্ধের আইন চূড়ান্তভাবে অনুমোদন করেছে পর্তুগালের সংসদ। নতুন এই আইন অনুযায়ী, যেকোনো স্থানে জনসমক্ষে মুখ ঢেকে রাখা এখন থেকে বেআইনি বলে গণ্য হবে। কেউ এই নিয়ম লঙ্ঘন করলে তাকে প্রাথমিকভাবে ১৫০ থেকে ৭৫০ ইউরো পর্যন্ত জরিমানা গুনতে হবে। তবে ইচ্ছাকৃতভাবে বা জোরপূর্বক এই আইন অমান্য করলে জরিমানার পরিমাণ ৪০০ থেকে সর্বোচ্চ ৩ হাজার ইউরো পর্যন্ত হতে পারে। নতুন এই আইনে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, বয়স, লিঙ্গ, ধর্মীয় পরিচয় বা অন্য কোনো কারণে কাউকে জোরপূর্বক মুখ ঢাকতে বাধ্য করা যাবে না। গত শুক্রবার সংসদে অনুষ্ঠিত চূড়ান্ত সাধারণ ভোটে ডানপন্থী ও রক্ষণশীল দলগুলোর সমর্থনে বিলটি পাস হয়। শেগা, ইনিশিয়েটিভা লিবারেল, পিএসডি এবং সিডিএস-এর মতো দলগুলো এই বিলের পক্ষে ভোট দেয়। অন্যদিকে, বামপন্থী সংসদ সদস্যরা শুরু থেকেই এই আইনের তীব্র বিরোধিতা করে আসছিলেন। মূলত কট্টরপন্থী শেগা পার্টির নেতা আন্দ্রে ভেঞ্চুরার নেতৃত্বাধীন দলটি প্রথম এই প্রস্তাব সংসদে উত্থাপন করেছিল। চূড়ান্ত ভোটের আগে গত সপ্তাহে সাংবিধানিক বিষয়ক কমিটিতেও বিলটি সংখ্যাগরিষ্ঠের ভোটে অনুমোদিত হয়। জানা যায়, ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে বিলটি নীতিগতভাবে অনুমোদন পেয়েছিল এবং তারপর থেকেই এটি নিয়ে আলোচনা চলছিল। এরপর চলতি বছরের জুনে পিএসডি দল শেগার মূল প্রস্তাবের বিপরীতে একটি বিকল্প খসড়া উপস্থাপন করে, যেখানে সরাসরি ধর্মীয় কারণের চেয়ে জাতীয় নিরাপত্তাকে বেশি প্রাধান্য দেওয়া হয়। পরবর্তীতে শেগা তাদের আগের প্রস্তাবে প্রয়োজনীয় সংশোধন এনে নতুন খসড়া তৈরি করে। চূড়ান্ত আইনে মূলত জাতীয় নিরাপত্তা ও জনশৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থকেই জনপরিসরে মুখ ঢাকা নিষিদ্ধের প্রধান ভিত্তি হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
পর্তুগালে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিদেশি নাগরিকের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। দেশটির অভিবাসন ও সীমান্ত ব্যবস্থাপনা সংস্থা এআইএমএ (AIMA)-এর সর্বশেষ প্রাথমিক তথ্যে দেখা গেছে, বর্তমানে দেশটির প্রতি সাতজন বাসিন্দার মধ্যে একজন বিদেশি। ২০২৬ সালের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ১ কোটি ৭ লাখ জনসংখ্যার এই ইউরোপীয় দেশে এখন বৈধভাবে বসবাস করছেন ১৫ লাখেরও বেশি অভিবাসী, যা মোট জনসংখ্যার প্রায় ১৪ শতাংশ। মাত্র তিন বছর আগেও এই চিত্র ভিন্ন ছিল। ২০২৩ সালে পর্তুগালে বিদেশি বাসিন্দার সংখ্যা ছিল প্রায় ১০ লাখ ৪৪ হাজার, যা তখন মোট জনসংখ্যার প্রায় ১০ শতাংশের সমান। অর্থাৎ, অল্প সময়ের ব্যবধানে অভিবাসীর সংখ্যা প্রায় ৪৫ শতাংশ বেড়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এই প্রবৃদ্ধি পর্তুগালকে ইউরোপের অন্যতম অভিবাসীবান্ধব দেশে পরিণত করেছে। এই বৃদ্ধির ধারায় বাংলাদেশিদের উপস্থিতিও দিন দিন দৃশ্যমান হয়ে উঠছে। এআইএমএ-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে দেশটিতে বৈধভাবে বসবাসরত বাংলাদেশির সংখ্যা ছিল প্রায় ২৫ হাজার ৬৬৬ জন। তবে ২০২৬ সালে সেই সংখ্যা ৪০ হাজার ছাড়িয়ে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বর্তমানে যেসব আবেদন এআইএমএ-তে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে, সেগুলোর নিষ্পত্তি হলে বাংলাদেশি অভিবাসীর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, পর্তুগালের শ্রমবাজারে কর্মীর চাহিদা, তুলনামূলক সহজ ভিসা প্রক্রিয়া এবং দীর্ঘমেয়াদি বসবাস ও নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ—এই তিনটি কারণ বিদেশিদের কাছে দেশটিকে বিশেষভাবে আকর্ষণীয় করে তুলেছে। নির্মাণ, কৃষি, পর্যটন ও সেবাখাতে কর্মীর ঘাটতি থাকায় বিদেশি শ্রমিকদের জন্য সেখানে সুযোগও বাড়ছে। তবে এই সুযোগের পাশাপাশি কিছু ঝুঁকির কথাও তুলে ধরছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো থেকে যাওয়া অনেক আবেদনকারী দালালচক্র ও ভুয়া চাকরির প্রলোভনের শিকার হচ্ছেন। ফলে বিদেশে যাওয়ার আগে নির্ভরযোগ্য তথ্য যাচাই এবং সরকারি প্রক্রিয়া অনুসরণের পরামর্শ দিয়েছেন অভিবাসন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। সামগ্রিকভাবে, পর্তুগালে অভিবাসীদের ক্রমবর্ধমান উপস্থিতি দেশটির অর্থনীতি ও শ্রমবাজারে ইতিবাচক প্রভাব ফেললেও, সুশৃঙ্খল ও নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত করা এখন বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিচ্ছে।
ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে বিশ্বকাপে প্রত্যাশা অনুযায়ী পারফর্ম করতে না পারায় তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন পর্তুগালের তারকা ফুটবলার ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। তবে ম্যাচ শেষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গণমাধ্যমে দেওয়া বার্তায় তিনি দলকে ঘুরে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন। পর্তুগালের প্রথম ম্যাচটি ১-১ গোলে ড্র হয়। ম্যাচের শুরুতে জোয়াও নেভেসের গোলে এগিয়ে যায় পর্তুগাল। তবে বিরতির আগেই ইয়োয়ানে উইসার গোলে সমতায় ফেরে ডিআর কঙ্গো। দ্বিতীয়ার্ধে কোচ রবার্তো মার্টিনেজ একাধিক পরিবর্তন আনলেও রোনালদো পুরো ৯০ মিনিটই মাঠে থাকেন। ম্যাচে রোনালদোর পারফরম্যান্স ছিল নিষ্প্রভ। তিনি মাত্র ২৫টি টাচ করতে সক্ষম হন। তিনটি শট নিলেও একটিও লক্ষ্যে ছিল না। ফলে তার শুরুর একাদশে থাকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সমর্থকদের একটি অংশ। তবু এই ম্যাচের মাধ্যমে তিনি ইতিহাসে নাম লিখিয়েছেন। আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসির সঙ্গে টানা ষষ্ঠ বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া ফুটবলার হিসেবে তিনি অনন্য কীর্তি গড়েছেন। আন্তর্জাতিক ফুটবলে তার গোল সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৪৩, যা পর্তুগালের সর্বোচ্চ। ম্যাচ শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রোনালদো বলেন, শুরুটা প্রত্যাশা অনুযায়ী হয়নি। তবে তিনি দলের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদী। তিনি বলেন, “আমরা যেভাবে শুরু করতে চেয়েছিলাম, সেভাবে হয়নি। কিন্তু এটা এখনো শেষ হয়নি। মাথা উঁচু রেখে পরের ম্যাচে মনোযোগ দিতে হবে।” রোনালদোর এই বার্তাকে সমর্থকরা দলকে মানসিকভাবে চাঙা রাখার প্রচেষ্টা হিসেবে দেখছেন। অন্যদিকে কোচ রবার্তো মার্টিনেজ রোনালদোর ভূমিকা নিয়ে সমালোচনার জবাবে বলেন, এমন পরিস্থিতিতে বিশ্বের শীর্ষ গোলদাতাকে মাঠ থেকে সরিয়ে নেওয়া যুক্তিসংগত নয়, কারণ গোলের প্রয়োজন হলে অভিজ্ঞ ফরোয়ার্ডই সবচেয়ে কার্যকর বিকল্প। পর্তুগাল এখন গ্রুপ পর্বে পরবর্তী ম্যাচে উজবেকিস্তানের মুখোমুখি হবে। এরপর কলম্বিয়ার বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচ খেলবে দলটি।
এক পাশে ৪১ বছর বয়সী ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর আরেকটি বিশ্বকাপ রাঙানোর মিশন, আর অন্য পাশে দীর্ঘ ৫২ বছর পর বিশ্বমঞ্চে ফেরা ডিআর কঙ্গোর অস্তিত্বের লড়াই। ডালাসের মাঠে শক্তির বিচারে পর্তুগাল যোজন যোজন এগিয়ে থাকলেও মাঠের ফুটবলে তার ন্যূনতম প্রতিফলন দেখা যায়নি। ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকে পুরো ৯০ মিনিট কড়া পাহারায় বোতলবন্দী করে রাখার পাশাপাশি আক্রমণেও সমানে সমান পাল্লা দিয়েছে ডিআর কঙ্গো। সেই ভয়ডরহীন ফুটবলের সুবাদেই শক্তিশালী পর্তুগালকে ১–১ গোলে রুখে দিয়ে স্মরণীয় এক ড্র আদায় করে নিয়েছে আফ্রিকান দলটি। ম্যাচের শুরু থেকেই উইং ব্যবহার করে আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে পর্তুগাল। কঙ্গোর রক্ষণভাগকে প্রবল চাপে রেখে মাত্র ৬ মিনিটেই তারা প্রথম সাফল্যের দেখা পায়। বাঁ প্রান্ত থেকে পেদ্রো নেতোর বাড়ানো নিখুঁত এক ক্রসে ডি-বক্সের ভেতর লাফিয়ে উঠে চমৎকার হেডে বল জালে জড়ান জোয়াও নেভেস। কঙ্গোর পাঁচ ডিফেন্ডারের উপস্থিতিতেও তুলনামূলক কম উচ্চতার নেভেস যেভাবে হেডে গোলটি আদায় করেন, তা ছিল সত্যিই দেখার মতো। তবে শুরুতে এক গোল খেয়ে পিছিয়ে পড়ার পরও দমে যায়নি কঙ্গো। বরং খোলস ছেড়ে বেরিয়ে এসে তারা কাউন্টার অ্যাটাকে ওঠার চেষ্টা করতে থাকে এবং প্রথমার্ধের একেবারে শেষ মুহূর্তে তার ফলও পেয়ে যায়। নির্ধারিত সময় শেষে যোগ করা অতিরিক্ত সময়ের পঞ্চম মিনিটে এমবেম্বার কল্যাণে পাওয়া একটি কর্নার থেকে ছোট পাসে বল পান আর্থার মাসুয়াকু। তার দূরপাল্লার নিখুঁত ক্রসটি খুঁজে নেয় সম্পূর্ণ অরক্ষিত অবস্থায় থাকা ইয়োয়ান উইসাকে। দারুণ এক লাফে পর্তুগিজ গোলরক্ষক দিয়োগো কস্তাকে পরাস্ত করে উইসা বল জালে জড়ান। আর তাতেই ৫২ বছর পর বিশ্বকাপে গোলের আনন্দে মাতোয়ারা হন কঙ্গোর ফুটবলাররা। ১-১ সমতায় বিরতিতে যাওয়ার পর দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই কৌশল বদলান পর্তুগাল কোচ রবার্তো মার্তিনেস। তিনি বের্নার্দো সিলভাকে তুলে ফ্রান্সিসকো কনসিকাওকে মাঠে নামান। ৪৮ মিনিটে পেদ্রো নেতোর ক্রসে বক্সে কনসিকাও পড়ে গেলে পর্তুগাল পেনাল্টির আবেদন করলেও রেফারি তা নাকচ করে দেন। এরপর ৫৫ মিনিটে জোয়াও নেভেসের পাসে বল পেয়ে এক দুর্দান্ত ওভারহেড ভলিতে কঙ্গোর জালে বল পাঠান কানসেলো। কিন্তু তিনি অফসাইড পজিশনে থাকায় ভিএআর সেই গোলটি বাতিল করে দেয়। পুরো ম্যাচেই ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকে কড়া পাহারায় রাখেন কঙ্গোর ডিফেন্ডার অ্যালেক্স তুয়ানজেবে ও এমবেম্বা। ৬৮ মিনিটে ব্রুনো ফের্নান্দেস সুবিধাজনক অবস্থানে থাকলেও রোনালদো নিজেই শট নিয়ে তা পোস্টের বাইরে মারেন। ৭৪ মিনিটেও রোনালদোর নেওয়া একটি শট তুয়ানজেবের দুর্দান্ত স্লাইডিং ট্যাকলে কর্নারের বিনিময়ে রক্ষা পায়। রক্ষণ সামলানোর পাশাপাশি কাউন্টার অ্যাটাকে পর্তুগিজ রক্ষণভাগকে পুরো ম্যাচেই বেশ ভুগিয়েছে কঙ্গো। বিশেষ করে স্ট্রাইকার সেড্রিক বাকাম্বু একাই রুবেন দিয়াসদের বিরুদ্ধে প্রবল লড়াই চালিয়ে গেছেন। ৫৭ মিনিটে পর্তুগালের ডি-বক্সে ব্রুনো ফের্নান্দেসের কাছ থেকে বল কেড়ে নিয়ে বাকাম্বু শট নিলেও তা দুর্ভাগ্যবশত পোস্টে লেগে ফিরে আসে। ৭৬ মিনিটে মাঝমাঠে বল পেয়ে নোয়া সাদিকি ফরোয়ার্ড ইয়োয়ান উইসাকে পাস বাড়ালে শেষ মুহূর্তে চমৎকার স্লাইডিংয়ে তা প্রতিহত করেন পর্তুগিজ ডিফেন্ডার থমাস আরাউহো। এর এক মিনিট পরেই বাকাম্বুর পাস থেকে গোলরক্ষককে একা পেয়েও পোস্টের বাইরে মারেন নোয়া সাদিকি। শেষ পর্যন্ত পর্তুগাল আর কঙ্গোর অফসাইড ট্র্যাপ ভাঙতে না পারায় হতাশাজনক ড্র নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় রোনালদোদের।
আসন্ন উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপের জন্য ৪১ বছর বয়সী মহাতারকা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকে অধিনায়ক করে ২৬ সদস্যের চূড়ান্ত দল ঘোষণা করেছে পর্তুগাল। মঙ্গলবার পর্তুগিজ কোচ রবের্তো মার্তিনেস এই দল ঘোষণা করেন। ঘোষিত এই স্কোয়াডে বিশ্বমঞ্চে দারুণ কিছুর প্রত্যাশায় অভিজ্ঞ ও একঝাঁক তরুণ প্রতিভার চমৎকার সমন্বয় ঘটিয়েছেন তিনি। এবারের আসরেও রোনালদোর কাঁধেই থাকছে দলকে নেতৃত্ব দেওয়ার গুরুদায়িত্ব, যা তাঁর ফুটবল ক্যারিয়ারে আরও একটি অনন্য মাইলফলক যোগ করতে যাচ্ছে। ঘোষিত এই শক্তিশালী স্কোয়াডে রোনালদোর পাশাপাশি জায়গা পেয়েছেন ইউরোপীয় ফুটবলের পরীক্ষিত তারকা ব্রুনো ফার্নান্দেস, বার্নার্দো সিলভা, রাফায়েল লেয়াও, জোয়াও ফেলিক্স ও গনসালো রামোসের মতো ফরোয়ার্ডরা। দল ঘোষণার সময় কোচ মার্তিনেস এক আবেগঘন বার্তা দেন। গত বছর অকালে না-ফেরার দেশে চলে যাওয়া দলের ফরোয়ার্ড দিয়োগো জোটাকে সম্মান জানিয়ে প্রতীকীভাবে তাকে এই স্কোয়াডের ‘২৭তম সদস্য’ হিসেবে উল্লেখ করেন কোচ, যা ফুটবলপ্রেমীদের বেশ আবেগাপ্লুত করেছে। এবারের বিশ্বকাপে গ্রুপ ‘কে’-তে খেলবে সাবেক ইউরো চ্যাম্পিয়নরা, যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ কলম্বিয়া, উজবেকিস্তান ও ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো। আগামী ১৭ জুন হিউস্টনে কঙ্গোর বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে রোনালদোর দল। এরপর ২৩ জুন উজবেকিস্তান এবং ২৮ জুন মিয়ামিতে শক্তিশালী কলম্বিয়ার মুখোমুখি হবে তারা। ঘোষিত স্কোয়াডে গোলকিপার হিসেবে আছেন দিওগো কস্তা, জোসে সা, রুই সিলভা ও রিকার্দো ভেলহো। রক্ষণভাগ সামলানোর দায়িত্বে থাকছেন রুবেন দিয়াস, জোয়াও কানসেলো, নুনো মেন্দেস ও দিওগো দালোতের মতো বিশ্বমানের ডিফেন্ডাররা। এছাড়া মাঝমাঠ ও আক্রমণভাগের ধার বাড়াতে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর সঙ্গে থাকছেন ব্রুনো ফার্নান্দেস, ভিতিনহা, জোয়াও নেভেস, বার্নার্দো সিলভা, রাফায়েল লেয়াও, পেদ্রো নেতো ও গনসালো রামোস।
মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক সংঘাতের পর লেবাননে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ায় দেশটির পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে পর্তুগাল। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানায়, লেবাননের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইউসুফ রাজ্জি তাঁর পর্তুগিজ সমকক্ষ পাওলো রাঙ্গেল-এর সঙ্গে বৈঠক করেছেন। বৈঠকে লেবাননের বর্তমান পরিস্থিতি এবং দ্রুত পরিবর্তনশীল আঞ্চলিক প্রেক্ষাপট নিয়ে আলোচনা হয়। লেবাননের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতির পর দেশে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টা বৈঠকের গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় ছিল। বৈঠক শেষে পাওলো রাঙ্গেল বলেন, লেবাননের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি পর্তুগালের পূর্ণ সমর্থন রয়েছে। তিনি যুদ্ধবিরতিকে স্বাগত জানিয়ে আলোচনার মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান। রাঙ্গেলের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি করেছে, যার মাধ্যমে টেকসই সমাধান সম্ভব হতে পারে। এতে লেবাননে স্থিতিশীলতা বাড়বে এবং দীর্ঘদিনের সংঘাতের অবসান ঘটতে পারে। বিশ্লেষকেরা বলছেন, যুদ্ধবিরতির পর লেবাননকে ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কূটনৈতিক তৎপরতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে, যা ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সমাধানের ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।