সংবাদ চলতি গ্রীষ্মে আমেরিকার বাসিন্দারা যখন তাদের রান্নাঘর তাজা ফলমূল ও শাকসবজিতে ভরিয়ে তুলছেন, ঠিক তখনই দেশজুড়ে শত শত মানুষকে অসুস্থ করে তোলা একটি পরজীবী সম্পর্কে সতর্ক করছেন স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা।
যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের (সিডিসি) তথ্য অনুযায়ী, গত মে মাস থেকে ৩১টি অঙ্গরাজ্যে ৮৪০ জনেরও বেশি মানুষের সাইক্লোস্পোরিয়াসিস রোগে আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। এর বাইরেও দেশজুড়ে বিপুল সংখ্যক মানুষ এই রোগে আক্রান্ত হতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে; যেমন শুধুমাত্র মিশিগান অঙ্গরাজ্যেই পূর্ববর্তী রেকর্ড অনুযায়ী ১,৫০০-র বেশি মানুষ এই সংক্রমণে আক্রান্ত হয়েছিলেন। তদন্তকারীরা এখনও এই প্রাদুর্ভাবের মূল উৎস খুঁজে বের করার চেষ্টা করছেন।
সাইক্লোস্পোরিয়াসিস রোগটি মূলত 'সাইক্লোস্পোরা কায়োটেনেনসিস' নামক একটি অণুবীক্ষণিক পরজীবীর কারণে ঘটে থাকে, যা দূষিত খাবার বা পানি গ্রহণের মাধ্যমে মানুষের অন্ত্রে সংক্রমণ তৈরি করে। যুক্তরাষ্ট্রে সাধারণত দূষিত কৃষিপণ্যের মাধ্যমে এই পরজীবীটি ছড়ায়। তবে অন্যান্য অনেক পেটের রোগের মতো এই সংক্রমণটি একজন মানুষ থেকে অন্য মানুষের শরীরে ছড়ায় না।
দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার এক নারী, যিনি নিজের নাম প্রকাশ করতে অনিচ্ছুক, সম্প্রতি এই রোগ থেকে সুস্থ উঠেছেন। তিনি নিজের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে জানান, এটি তার জীবনের অন্য যেকোনো অসুস্থতার চেয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন ছিল। তিনি বলেন, "এটি আমার জীবনের সবচেয়ে ভয়াবহ অসুস্থতা ছিল। এর আগে আমি কখনো এতটা অসুস্থ বোধ করিনি।" তিনি তীব্র পেটব্যথা এবং খাবার ধরে রাখতে না পারার মতো বেশ কয়েক দিনের মারাত্মক গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল সমস্যায় ভুগেছিলেন। চিকিৎসা নেওয়ার আগে মাত্র এক সপ্তাহেই তার ওজন প্রায় ১০ পাউন্ড কমে গিয়েছিল। পরবর্তীতে রোগ নির্ণয়ের পর তাকে অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া হয় এবং তিনি দ্রুত সুস্থ হতে শুরু করেন।
পাকস্থলী ও অন্ত্র বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডক্টর আরিয়েল মালামুদ জানান, সংক্রমণের সাধারণত পাঁচ থেকে সাত দিন পর এর লক্ষণগুলো দেখা দেয়। সাধারণ লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে তীব্র ডায়রিয়া, বমি বমি ভাব, বমি, হালকা জ্বর এবং পেটব্যথা। চিকিৎসকদের মতে, সঠিক চিকিৎসা না পেলে এই লক্ষণগুলো কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে অথবা সাময়িকভাবে দূর হয়ে আবার ফিরে আসতে পারে। তবে সঠিক রোগ নির্ণয়ের পর অ্যান্টিবায়োটিক দিয়ে এর কার্যকর চিকিৎসা সম্ভব।
খাদ্য নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ ক্যান্ডিস ক্রিশ্চিয়ান জানান, বাড়িতে ফলমূল ও শাকসবজি ব্যবহারের ক্ষেত্রে সঠিক নিয়ম মেনে চললে এই রোগের ঝুঁকি কমানো সম্ভব। তিনি শসা বা তরমুজের মতো শক্ত প্রকৃতির ফল বা সবজি শুধু ধুয়ে না নিয়ে ভেজিটেবল ব্রাশ দিয়ে ভালো করে ঘষে পরিষ্কার করার পরামর্শ দেন। এছাড়াও খাওয়ার আগে প্রবাহিত পানিতে ভালো করে ধুয়ে নেওয়া, খোসা ছাড়ানো এবং সম্ভব হলে রান্না করে খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ যুক্তরাষ্ট্র নেবে এবং এটি পাহারা দেওয়ার জন্য ধনী দেশগুলোর কাছ থেকে অর্থ আদায় করা হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার ফক্স নিউজের ‘ফক্স অ্যান্ড ফ্রেন্ডস’ অনুষ্ঠানে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ মন্তব্য করেন। ট্রাম্প বলেন, “আমরাই প্রণালিটির অভিভাবক হব। এতদিন যুক্তরাষ্ট্র বিনা পারিশ্রমিকে এটি পাহারা দিয়েছে। এখন আর তা হবে না। আমাদের মানুষকে ঝুঁকিতে ফেলে এই দায়িত্ব পালন করলে তার বিনিময়ে অর্থ পাওয়া উচিত।” মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও দাবি করেন, হরমুজ প্রণালি পাহারা দেওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্র “অনেক অর্থ” পাবে এবং ধনী মিত্র দেশগুলো এ ব্যয় বহন করবে। তাঁর ভাষায়, “আমরা শুধু আমাদের ব্যয় ফেরত চাই।” ট্রাম্পের এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা আবারও তীব্র আকার ধারণ করেছে। সাম্প্রতিক সামরিক পাল্টাপাল্টি হামলার পর হরমুজ প্রণালি ঘিরে দুই দেশের বিরোধ আরও বেড়েছে। ইরান-সমর্থিত পক্ষগুলো প্রণালিটি কার্যত বন্ধ থাকার দাবি করলেও যুক্তরাষ্ট্র বলছে, আন্তর্জাতিক নৌ-চলাচলের জন্য এটি উন্মুক্ত এবং কোনো একক দেশের নিয়ন্ত্রণে নয়। সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে চলমান আলোচনারও সমালোচনা করেন। তিনি অভিযোগ করেন, দীর্ঘ আলোচনার পর যেসব বিষয়ে সমঝোতা হয়েছিল, ইরানি প্রতিনিধিরা পরে সেগুলো পরিবর্তনের প্রস্তাব দেয়। তবে কী ধরনের পরিবর্তন চাওয়া হয়েছিল, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত জানাননি। অন্যদিকে, ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানিয়েছেন, পরিস্থিতি আরও অবনতির হাত থেকে রক্ষা করতে কাতার, পাকিস্তান ও ওমানের মধ্যস্থতায় কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। বিশ্বের মোট সমুদ্রপথে পরিবাহিত অপরিশোধিত তেলের একটি বড় অংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হয়। ফলে এই জলপথে যেকোনো অস্থিরতা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার, তেলের দাম এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতে তাৎক্ষণিক প্রভাব ফেলতে পারে। সাম্প্রতিক উত্তেজনার মধ্যেই প্রণালিটি দিয়ে জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে এবং বিশ্ববাজারে তেলের দামও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর ক্যারোলিনার শার্লটের ক্যারোউইন্ডস বিনোদন পার্কের অন্যতম জনপ্রিয় রাইড ‘ফিউরি ৩২৫’ রক্ষণাবেক্ষণের কাজের জন্য বন্ধ করা হয়েছে। তবে এই রোলার কোস্টারে ঠিক কী ধরনের রক্ষণাবেক্ষণের কাজ করা হচ্ছে, সে বিষয়ে পার্ক কর্তৃপক্ষ নির্দিষ্ট করে কিছু জানায়নি। পুরস্কারজয়ী এই আকর্ষণটির অতীতেও বেশ কয়েকটি কাঠামোগত সমস্যা দেখা দিয়েছিল। ২০২৩ সালের জুলাই মাসে একজন দর্শনার্থী এই রাইডের স্টিল সাপোর্ট পিলারে একটি ফাটল লক্ষ্য করেন। সেই পিলারটি প্রতিস্থাপন করার পর, ওই মাসের শেষের দিকে আবারও আরেকটি ফাটল ধরা পড়ে। ২০২৪ সালের মার্চ মাসে প্রকাশিত নর্থ ক্যারোলিনা শ্রম বিভাগের এক প্রতিবেদনে জানা যায়, একমুখী বাঁকানোর ফলে সৃষ্ট ক্লান্তির কারণে এই ফাটলটি তৈরি হয়েছিল। রাইডটি কবে নাগাদ আবার চালু হবে তা এখনো জানা যায়নি। পার্কের একজন মুখপাত্র বলেন, "নিরাপত্তা আমাদের ব্যবসার মূল ভিত্তি, এবং এই প্রক্রিয়াগুলোতে কোনো তাড়াহুড়ো করা হবে না। আমরা যত দ্রুত সম্ভব এটি পুনরায় চালু করার আশা করছি।" গোল্ডেন টিকিট অ্যাওয়ার্ডসে টানা নবমবারের মতো এই রাইডটি বিশ্বের সেরা স্টিল কোস্টার হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। এটি উত্তর আমেরিকার সবচেয়ে উঁচু, দ্রুততম এবং দীর্ঘতম গিগাকোস্টার হিসেবে পরিচিত। বর্তমানে পার্কের অন্যান্য সব রাইড পূর্বনির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী সচল রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে ভিসা আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের তথ্য যাচাই আরও কঠোর করা হয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, ভিসা আবেদনপত্রে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের তথ্য গোপন করা, ভুল তথ্য দেওয়া বা অসম্পূর্ণ তথ্য প্রদান করলে আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হতে পারে। জাতীয় নিরাপত্তা, পরিচয় যাচাই এবং ভিসা জালিয়াতি প্রতিরোধের অংশ হিসেবে এই নীতির বাস্তবায়ন জোরদার করা হয়েছে। পররাষ্ট্র দপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী, ভিসা আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরে ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্টের ব্যবহারকারী নাম (হ্যান্ডেল) আবেদনপত্রে উল্লেখ করতে হবে। এছাড়া যেসব আবেদনকারীর ক্ষেত্রে অতিরিক্ত নিরাপত্তা যাচাই প্রয়োজন হবে, তাদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রকাশ্য কার্যক্রমও পর্যালোচনা করতে পারবেন কনস্যুলার কর্মকর্তারা। মার্কিন কর্মকর্তারা বলছেন, আবেদনকারীর পরিচয়, ভ্রমণের উদ্দেশ্য এবং দেওয়া তথ্যের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য অনলাইন উপস্থিতি মূল্যায়ন করা হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে প্রকাশ্যে থাকা পোস্ট, মন্তব্য, ছবি এবং অন্যান্য কার্যক্রম আবেদনপত্রে দেওয়া তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হতে পারে। নতুন নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, প্রয়োজন হলে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রোফাইল সাময়িকভাবে উন্মুক্ত (পাবলিক) রাখার অনুরোধ করা হতে পারে, যাতে কনস্যুলার কর্মকর্তারা প্রয়োজনীয় যাচাই সম্পন্ন করতে পারেন। কোনো তথ্য ইচ্ছাকৃতভাবে গোপন করা বা ভুয়া তথ্য দেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন আইনের অধীনে গুরুতর বিষয় হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। এ নীতি শিক্ষার্থী, বিনিময় কর্মসূচি, কর্মসংস্থানভিত্তিক এবং অন্যান্য অ-অভিবাসী ভিসার পাশাপাশি অভিবাসী ভিসার অনেক আবেদনকারীর ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হতে পারে। ফলে আবেদনকারীদের ভিসা ফরম পূরণের সময় সব তথ্য সঠিক ও সম্পূর্ণভাবে দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। ভিসা–সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা বলছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের তথ্য নিয়ে অতিরিক্ত যাচাইয়ের কারণে কিছু আবেদন নিষ্পত্তিতে আগের তুলনায় বেশি সময় লাগতে পারে। কোনো অসঙ্গতি ধরা পড়লে আবেদন প্রশাসনিক পর্যালোচনায় চলে যেতে পারে, যার ফলে ভিসা পাওয়ার সিদ্ধান্ত বিলম্বিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, ভিসা আবেদনকারীদের সৎ, নির্ভুল এবং পূর্ণাঙ্গ তথ্য প্রদান করা বাধ্যতামূলক। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের তথ্য গোপন করা বা বিভ্রান্তিকর তথ্য দেওয়া শুধু বর্তমান আবেদনই নয়, ভবিষ্যতের ভিসা আবেদনেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।